কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/বাণিজ্যিক

কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়া যায় কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮ ও ২২৯-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত একীভূতকরণ বা বন্দোবস্তের স্কিমের (scheme of amalgamation) মাধ্যমে।

আদালত প্রথমে সদস্য ও পাওনাদারদের সভা আহ্বানের আদেশ দেন, প্রতিটি সভায় মূল্যের দিক থেকে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় স্কিমটি অনুমোদিত হতে হয়, এবং এরপর আদালত, প্রায়ই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো নিয়ন্ত্রকদের বক্তব্য শুনে, স্কিমটি অনুমোদন করবেন কিনা সিদ্ধান্ত নেন। অনুমোদন আদেশের মাধ্যমে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরিত হয়, তবে এর সার্টিফায়েড কপি রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করার পরেই তা কার্যকর হয়।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
কাঠামো বেছে নিন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৭টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
কোম্পানিগুলোর বোর্ডের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র; এরপর হাইকোর্ট বিভাগের (কোম্পানি বেঞ্চ), ঢাকা, সংবিধিবদ্ধ…
মূল আইন
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (ধারা ৩, ২২৮-২৩০); ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (ধারা ৭৬-৭৭); ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: প্রস্তুতিতে ২-৬ মাস; আদালত-আহূত সভায় ১-৩ মাস; নিয়ন্ত্রক বা আপত্তিকারী অংশ…
কে মামলা করতে পারেন
কোম্পানি, যেকোনো পাওনাদার বা সদস্য, অথবা অবসায়নাধীন কোম্পানির অবসায়ক (ধারা ২২৮(১)); বাস্তবে হস্তান্তরকারী ও…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: ধাপ ১, কাঠামো বেছে নিন
    ধাপ ১ · কাঠামো নির্ধারণ ও ছাড়পত্র

    কাঠামো বেছে নিন

    বাংলাদেশে একীভূতকরণ সাধারণত ধারা ২২৮-এর অধীনে স্কিম হিসেবে করা হয়, আর ধারা ২২৯ হস্তান্তরকারী কোম্পানির ব্যবসা, সম্পত্তি ও দায় হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানিতে হস্তান্তর এবং অবসায়ন ছাড়াই হস্তান্তরকারী কোম্পানির বিলুপ্তির প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। উপদেষ্টারা ঠিক করেন কোন কোম্পানি টিকে থাকবে, হস্তান্তরকারীর শেয়ারহোল্ডাররা কী পাবেন, এবং সদস্য ও পাওনাদারদের কোন কোন শ্রেণি প্রভাবিত হবে। করের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ: আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী যোগ্য একীভূতকরণ মূলধনী মুনাফা কর থেকে মুক্ত হয় কেবল তখনই, যখন হস্তান্তরকারীর শেয়ারের মূল্যের কমপক্ষে ৭৫% ধারকেরা একীভূত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হন।

    কোথায়: কোম্পানিগুলোর আইনজীবী ও উপদেষ্টা · সময়: ১-২ মাস · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮-২২৯; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫ ও অষ্টম তফসিল অংশ ১ · কাগজপত্র: কাঠামো-সংক্রান্ত প্রস্তাবপত্র, শেয়ারহোল্ডিং ও পাওনাদারদের তালিকা, উভয় কোম্পানির সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাব

  2. কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: ধাপ ২, মূল্যায়ন, শেয়ার বিনিময় অনুপাত ও বোর্ডের অনুমোদন
    ধাপ ২ · কাঠামো নির্ধারণ ও ছাড়পত্র

    মূল্যায়ন, শেয়ার বিনিময় অনুপাত ও বোর্ডের অনুমোদন

    স্বাধীন মূল্যায়নকারী বা নিরীক্ষকেরা উভয় কোম্পানির মূল্যায়ন করে একটি শেয়ার বিনিময় অনুপাত সুপারিশ করেন। বোর্ড খসড়া স্কিম অনুমোদন করে, যাতে নির্ধারিত তারিখ, সম্পদ ও দায়ের হস্তান্তর, শেয়ার বরাদ্দ, কর্মীদের বিষয়, বিচারাধীন মামলা এবং হস্তান্তরকারীর বিলুপ্তি নির্ধারিত থাকে। দুর্বল মূল্যায়ন পরে আপত্তি ডেকে আনে: ডিসেম্বর ২০২০-এ অনুমোদিত বিএসআরএম একীভূতকরণে সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক আপত্তি তুলেছিল যে হস্তান্তরকারীর নিট সম্পদ ঐতিহাসিক ব্যয়ের বদলে পুনর্মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল। স্পষ্ট ও সুপ্রতিষ্ঠিত মূল্যায়নই বাংলাদেশে কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদনের ভিত্তি।

    কোথায়: হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(১); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(১)(ক)-(চ) · কাগজপত্র: মূল্যায়ন প্রতিবেদন, একীভূতকরণের খসড়া স্কিম, বোর্ড রেজল্যুশন

  3. কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: ধাপ ৩, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র
    ধাপ ৩ · কাঠামো নির্ধারণ ও ছাড়পত্র

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র

    খাতভিত্তিক বিধিই ঠিক করতে পারে স্কিমটি আদৌ এগোতে পারবে কিনা। ব্যাংক কোম্পানির ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক যদি প্রত্যয়ন না করে যে আপস বা বন্দোবস্তটি কার্যকরযোগ্য এবং ব্যাংকের পাওনাদারদের স্বার্থবিরোধী নয়, তবে হাইকোর্ট বিভাগ তা বা তার কোনো পরিবর্তন অনুমোদন করতে পারেন না। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে হয়, যা আদালতে হাজির হয়ে আপত্তিও তুলেছে। প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ২১ প্রতিযোগিতার ক্ষতি করে এমন সংযুক্তি নিষিদ্ধ করে, তাই সংযুক্তি-সংক্রান্ত প্রবিধান ও দাখিলের সীমা কার্যকর আছে কিনা যাচাই করুন।

    টেলিযোগাযোগের মতো লাইসেন্সপ্রাপ্ত খাতে খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রকের অনুমোদনও লাগে।

    কোথায়: খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, এনবিআর) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৬(১); প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ২১ · কাগজপত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র (ব্যাংকের ক্ষেত্রে), বিএসইসির সঙ্গে পত্রালাপ (তালিকাভুক্ত কোম্পানি), প্রয়োজন হলে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত দাখিল

    পরামর্শ: আবেদনের আগেই নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনুমোদনের শুনানিতে নিয়ন্ত্রকের আপত্তিই বিলম্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

  4. কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: ধাপ ৪, সভা আহ্বানের আবেদন
    ধাপ ৪ · আদালত-আহূত সভা

    সভা আহ্বানের আবেদন

    ধারা ৩ হাইকোর্ট বিভাগকে 'আদালত' হিসেবে নির্ধারণ করে, এবং কোম্পানিগুলো ধারা ২২৮(১) অনুযায়ী এর কোম্পানি বেঞ্চে সংক্ষিপ্ত আবেদন দাখিল করে। কোম্পানি, যেকোনো পাওনাদার বা সদস্য, অথবা অবসায়নাধীন কোম্পানির অবসায়ক আবেদন করতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে স্কিম, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, হিসাব ও বোর্ড রেজল্যুশন সংযুক্ত থাকে, এবং স্কিমের কারণে যাদের অধিকার প্রভাবিত হয় সেই প্রতিটি শ্রেণির সদস্য ও পাওনাদারের সভা আহ্বানের আদেশ চাওয়া হয়। শ্রেণি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল শ্রেণির সভা পরবর্তী অনুমোদনকে দুর্বল করে দিতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিলে ১ দিন; প্রথম আদেশ পর্যন্ত ২-৬ সপ্তাহ · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩; কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(১) · কাগজপত্র: হলফনামা দ্বারা সত্যায়িত সংক্ষিপ্ত আবেদন, একীভূতকরণের স্কিম, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত হিসাব, বোর্ড রেজল্যুশন, ওকালতনামা

  5. ধাপ ৫: সভার জন্য নির্দেশনা
    ধাপ ৫ · আদালত-আহূত সভা

    সভার জন্য নির্দেশনা

    কোম্পানি বেঞ্চ তার নির্দেশিত পদ্ধতিতে সভা আহ্বান, অনুষ্ঠান ও পরিচালনার আদেশ দেন। নির্দেশনায় সাধারণত তারিখ, স্থান ও রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়, একজন স্বাধীন চেয়ারম্যান, প্রায়ই একজন অ্যাডভোকেট, নিয়োগ করা হয়, নোটিশ ও প্রক্সির ফরম ঠিক করা হয়, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়, এবং কোরাম নির্ধারণ করা হয়। চেয়ারম্যানকে কখন প্রতিবেদন দিতে হবে তাও বলা থাকে। আবেদন বিচারাধীন থাকাকালে ধারা ২২৮(৫) অনুযায়ী আদালত উপযুক্ত মনে করা শর্তে কোম্পানির বিরুদ্ধে যেকোনো মোকদ্দমা বা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারেন, যা পাওনাদারদের আদালতে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে স্কিমকে রক্ষা করে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: আদেশ একই দিনে; সার্টিফায়েড কপি ১-৩ সপ্তাহে · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(১); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(৫) · কাগজপত্র: সভা আহ্বানের আদেশ, নোটিশ ও প্রক্সির ফরম, বিজ্ঞাপনের খসড়া

  6. ধাপ ৬: সদস্য ও পাওনাদারদের প্রতি নোটিশ
    ধাপ ৬ · আদালত-আহূত সভা

    সদস্য ও পাওনাদারদের প্রতি নোটিশ

    আদালতের নির্দেশিত ফরম ও পদ্ধতিতে প্রতিটি শ্রেণির প্রত্যেক সদস্য ও পাওনাদারের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়, সঙ্গে স্কিমের একটি কপি এবং সাধারণত এর প্রভাব, শেয়ার বিনিময় অনুপাত ও পরিচালকদের কোনো স্বার্থ ব্যাখ্যা করে একটি বিবৃতি। যাদের ঠিকানা অজানা, তাদের কাছে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়। চেয়ারম্যান, অথবা চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে কোম্পানি, প্রেরণের প্রমাণ সংরক্ষণ করেন। যে সদস্য ও পাওনাদার উপস্থিত থাকতে পারবেন না তারা প্রক্সির মাধ্যমে ভোট দিতে পারেন, তাই নোটিশের সঙ্গে প্রক্সি ফরমও পাঠানো হয়।

    কোথায়: সদস্য ও পাওনাদারদের আদালত-আহূত সভা · সময়: সাধারণত সভার অন্তত ২১ দিন আগে, অথবা নির্দেশ অনুযায়ী · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(১); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৮৫(১)(ক)-(খ) · কাগজপত্র: স্কিম ও ব্যাখ্যামূলক বিবৃতিসহ নোটিশ, প্রক্সি ফরম, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, প্রেরণের হলফনামা

  7. ধাপ ৭: সভা ও তিন-চতুর্থাংশ ভোট
    ধাপ ৭ · আদালত-আহূত সভা

    সভা ও তিন-চতুর্থাংশ ভোট

    প্রতিটি সভায় চেয়ারম্যান উপস্থিতি ও প্রক্সি নথিভুক্ত করেন, স্কিমটি ব্যাখ্যা করেন এবং তা ভোটে দেন, সাধারণত পোলের মাধ্যমে। ধারা ২২৮(২) অনুযায়ী স্কিমটি সশরীরে বা প্রক্সির মাধ্যমে উপস্থিত ও ভোটদানকারী পাওনাদার, বা সদস্য, বা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মূল্যের দিক থেকে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হতে হয়। কোনো শ্রেণি অনুমোদন না দিলে সেই আকারে স্কিমটি অনুমোদন করা যায় না। এরপর চেয়ারম্যান পোলের কাগজসহ উপস্থিতি ও ফলাফল উল্লেখ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    কোথায়: সদস্য ও পাওনাদারদের আদালত-আহূত সভা · সময়: ১ দিন; প্রতিবেদন ১-৩ সপ্তাহের মধ্যে · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(২) · কাগজপত্র: উপস্থিতি ও প্রক্সির রেজিস্টার, পোলের কাগজ, চেয়ারম্যানের প্রতিবেদন

  8. ধাপ ৮: অনুমোদনের আবেদন ও নিয়ন্ত্রকদের প্রতি নোটিশ
    ধাপ ৮ · অনুমোদনের শুনানি

    অনুমোদনের আবেদন ও নিয়ন্ত্রকদের প্রতি নোটিশ

    সভার পর কোম্পানিগুলো অনুমোদনের আবেদন করে। কোম্পানি বেঞ্চ সাধারণত শুনানির নোটিশ বিজ্ঞাপিত করার নির্দেশ দেন, যাতে যেকোনো সদস্য বা পাওনাদার হাজির হতে পারেন, এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ পাঠাতে বলেন, যেমন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিএসআরএম মামলায় আদালত-নিযুক্ত নিরীক্ষকদেরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। প্রতিটি কর্তৃপক্ষ শুনানির আগে তাদের পর্যবেক্ষণ বা আপত্তি দাখিল করতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(২); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(১) · কাগজপত্র: অনুমোদনের আবেদন, চেয়ারম্যানের প্রতিবেদন, শুনানির বিজ্ঞাপন, কর্তৃপক্ষের প্রতি নোটিশ

  9. ধাপ ৯: আপত্তি
    ধাপ ৯ · অনুমোদনের শুনানি

    আপত্তি

    ভিন্নমত পোষণকারী সদস্য, পাওনাদার ও নিয়ন্ত্রকেরা অনুমোদনের বিরোধিতা করতে পারেন। সাধারণ আপত্তিগুলো হলো: শ্রেণিগুলো ভুলভাবে গঠিত হয়েছে, মূল্যায়ন সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি অন্যায্য, সংখ্যাগরিষ্ঠরা আনুষঙ্গিক উদ্দেশ্যে ভোট দিয়েছেন, অথবা পাওনাদারদের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। বিএসআরএম একীভূতকরণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আপত্তি তুলেছিল যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কিন্তু উভয় কোম্পানির ব্যাংক এর পক্ষে আছে উল্লেখ করে আদালত স্কিমটি অনুমোদন করেন। আপত্তিকারীদের উচিত সাধারণ অভিযোগ নয়, প্রমাণসহ হলফনামা দাখিল করা।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ মাস · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(২) · কাগজপত্র: হলফনামায় আপত্তি, কোম্পানিগুলোর জবাব, নিয়ন্ত্রকদের পর্যবেক্ষণ

  10. ধাপ ১০: অনুমোদনের শুনানি
    ধাপ ১০ · অনুমোদনের শুনানি

    অনুমোদনের শুনানি

    আদালত যাচাই করেন যে আইনি ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়েছে, প্রতিটি শ্রেণি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভোট দিয়েছে, এবং স্কিমটি এমন যা প্রতিটি শ্রেণির একজন যুক্তিসংগত সদস্য অনুমোদন করতে পারেন। আদালত আরও দেখেন স্কিমটি বৈধ এবং জনস্বার্থবিরোধী নয় কিনা। আদালত স্কিম নামঞ্জুর করতে পারেন, অথবা অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের ধারা সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারেন, যেমন ২০১৮ সালে সামিট পাওয়ার একীভূতকরণে দিয়েছিলেন। বিশেষায়িত নিয়ন্ত্রকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হলে আদালত সিদ্ধান্তের আগে তা চাইতে পারেন, যেমন রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-৮ মাস · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(২); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯ · কাগজপত্র: লিখিত বক্তব্য, নির্দেশ দেওয়া হলে সংশোধিত স্কিম, নিয়ন্ত্রকদের প্রতিবেদন

  11. ধাপ ১১: অনুমোদন আদেশ
    ধাপ ১১ · অনুমোদনের শুনানি

    অনুমোদন আদেশ

    অনুমোদন আদেশ বা পরবর্তী কোনো আদেশের মাধ্যমে আদালত হস্তান্তরকারীর ব্যবসা, সম্পত্তি ও দায়ের সম্পূর্ণ বা আংশিক হস্তান্তর, হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানি কর্তৃক শেয়ার বা অন্যান্য স্বার্থ বরাদ্দ, বিচারাধীন আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, অবসায়ন ছাড়াই হস্তান্তরকারীর বিলুপ্তি, ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য ব্যবস্থা এবং আনুষঙ্গিক যেকোনো বিষয়ের বিধান করতে পারেন। ধারা ২২৯(২) অনুযায়ী আদেশের বলে সম্পত্তি ও দায় হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানিতে ন্যস্ত হয়। আদালত শর্তও যোগ করতে পারেন, যেমন বিএসআরএম আদেশে পরিচালকদের তিন বছর শেয়ার বিক্রি, দান বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: আদেশ একই দিনে; সার্টিফায়েড কপি ১-৪ সপ্তাহে · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(১)(ক)-(চ); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(২) · কাগজপত্র: স্কিম সংযুক্ত অনুমোদন আদেশ, সার্টিফায়েড কপি

  12. ধাপ ১২: আরজেএসসিতে আদেশ দাখিল করুন
    ধাপ ১২ · দাখিল ও বাস্তবায়ন

    আরজেএসসিতে আদেশ দাখিল করুন

    ধারা ২২৮(৩) অনুযায়ী রেজিস্ট্রারের কাছে সার্টিফায়েড কপি দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আদেশটি কার্যকর হয় না, এবং এরপর জারি করা স্মারকলিপির প্রতিটি কপির সঙ্গে এর একটি কপি সংযুক্ত করতে হয়। ধারা ২২৯(৩) অনুযায়ী আদেশ-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কোম্পানিকে চৌদ্দ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য সার্টিফায়েড কপি দাখিল করতে হয়, অন্যথায় জরিমানা হয়। এই দাখিলের মুহূর্তেই বাংলাদেশে কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন আইনগতভাবে কার্যকর হয়, তাই কোম্পানিগুলোর উচিত দ্রুত দাখিল করে আরজেএসসির প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নেওয়া।

    কোথায়: যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর · সময়: আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(৩)-(৪); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(৩) · কাগজপত্র: অনুমোদন আদেশের সার্টিফায়েড কপি, সংশ্লিষ্ট ফরম ও ফি পরিশোধের রসিদ, হালনাগাদ স্মারকলিপির কপি

  13. ধাপ ১৩: স্কিম বাস্তবায়ন করুন
    ধাপ ১৩ · দাখিল ও বাস্তবায়ন

    স্কিম বাস্তবায়ন করুন

    হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানি অনুমোদিত অনুপাতে হস্তান্তরকারীর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বরাদ্দ করে এবং তার রেজিস্টার ও আরজেএসসির রিটার্ন হালনাগাদ করে। বর্তমান তফসিল অনুযায়ী স্ট্যাম্প শুল্ক ও রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে জমি ও ভবন ভূমি অফিসে হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির নামে লিপিবদ্ধ করা হয়। ব্যাংক হিসাব, লাইসেন্স, চুক্তি, কর্মী ও কর নিবন্ধন স্থানান্তর করা হয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর অষ্টম তফসিল অনুযায়ী হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানি ধারা ৭০ সাপেক্ষে হস্তান্তরকারীর লোকসান ও অশোষিত অবচয় পরবর্তী বছরে বহন করতে পারে, তবে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তের ওপর অবচয় দাবি করতে পারে না।

    কোথায়: হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(১)-(২); আয়কর আইন, ২০২৩-এর অষ্টম তফসিল অংশ ১ অনুচ্ছেদ ২-৪ · কাগজপত্র: শেয়ার বরাদ্দের রেকর্ড, নামজারি ও রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র, কর-সংক্রান্ত দাখিল, ব্যাংক ও চুক্তির অপর পক্ষের প্রতি নোটিশ

  14. ধাপ ১৪: হস্তান্তরকারী কোম্পানির বিলুপ্তি
    ধাপ ১৪ · দাখিল ও বাস্তবায়ন

    হস্তান্তরকারী কোম্পানির বিলুপ্তি

    অনুমোদন আদেশে অবসায়ন ছাড়াই হস্তান্তরকারী কোম্পানির বিলুপ্তির বিধান থাকলে, দাখিল করা আদেশের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার বিলুপ্তি লিপিবদ্ধ করেন, এবং হস্তান্তরকারীর নাম সক্রিয় রেজিস্টার থেকে বাদ যায়। আদেশে বিধান থাকলে বিচারাধীন মোকদ্দমা হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির পক্ষে বা বিপক্ষে চলতে থাকে। যে শেয়ারহোল্ডার অংশ নেননি, তাঁকে আদেশে ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য রাখা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির পরবর্তী বার্ষিক রিটার্নে বর্ধিত সদস্য সংখ্যা ও মূলধন প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

    কোথায়: যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর · সময়: দাখিলের ১-৩ মাস পর · আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(১)(গ)-(ঙ); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩৬ · কাগজপত্র: আরজেএসসির বিলুপ্তির রেকর্ড, হস্তান্তরগ্রহীতার হালনাগাদ তফসিল ১০ (Schedule X)

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · কোম্পানি বেঞ্চ → আপিল বিভাগ

কোনো আপত্তিকারী বা কোম্পানিগুলো আপিল করলে কী হয়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে আপিল

    ধারা ২২৮(৭) অনুযায়ী আদি এখতিয়ারে ধারা ২২৮-এর অধীনে দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সেই আদালতে আপিল করা যায়, যে আদালত ওই আদালতের আপিল শোনে; হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে তা আপিল বিভাগ। সংসদের কোনো আইনে আপিলের বিধান থাকলে অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(ঘ) অধিকারবলে আপিলের সুযোগ দেয়, কিন্তু ধারা ২২৮(৭) তেমন বিধান কিনা, তা নিষ্পত্তি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা যাচাই করতে পারিনি। তাই সতর্ক পথ হলো ধারা ২২৮(৭)-এর ওপরও নির্ভর করে ষাট দিনের মধ্যে লিভ টু আপিলের জন্য সিভিল পিটিশন দাখিল করা। আদেশ বা আরজেএসসিতে তা দাখিলের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয় চেম্বার জজের কাছে।

    দাখিলে ৬০ দিন; ১-৩ বছরকোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(৭)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(ঘ) ও (৩)সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ অনুমোদন বা নামঞ্জুরের আদেশ বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করেন।

বিকল্প পথ · কোম্পানি বেঞ্চ → আপিল বিভাগ

সিভিল রিভিশন কি করা যায়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    কোম্পানি বেঞ্চের বিরুদ্ধে রিভিশন চলে না

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী সিভিল রিভিশন অধস্তন আদালতের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে চলে, খোদ হাইকোর্ট বিভাগের বিরুদ্ধে নয়। কোম্পানি বেঞ্চের পদ্ধতিগত আদেশ, যেমন সভার শ্রেণি নিয়ে নির্দেশনা বা মোকদ্দমা স্থগিতের আদেশ, চ্যালেঞ্জ করা হয় বেঞ্চকে সেগুলো সংশোধনের অনুরোধ করে, অথবা ধারা ২২৮(৭)-এর আপিলের পথ বা অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে লিভ পিটিশন ব্যবহার করে আপিল বিভাগে গিয়ে।

    আদেশের পরপরইদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(৭)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কোম্পানি বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ যায় আপিল বিভাগে।

রিভিউ · কোম্পানি বেঞ্চ → কোম্পানি বেঞ্চ

কোম্পানি বেঞ্চ কি নিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    রিভিউ বা পরবর্তী আদেশ

    নতুন প্রমাণ, নথির ওপর স্পষ্ট ভুল বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণে কোনো পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১ অনুযায়ী রিভিউ চাইতে পারেন, যা ধারা ১৪১-এর মাধ্যমে কোম্পানি কার্যক্রমে প্রযোজ্য। তবে বেশি প্রচলিত হলো কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে পরবর্তী আদেশ চাওয়া, কারণ ধারা ২২৯(১) আদালতকে অনুমোদন আদেশ বা পরবর্তী যেকোনো আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিধান করার ক্ষমতা দেয়, যেমন সম্পদের তফসিল সংশোধন বা বাদ পড়া কোনো দায়ের নিষ্পত্তি।

    ১-৪ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪১কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৯(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অনুমোদন আদেশ বহাল, সংশোধিত বা সম্পূরিত হয়।

রেফারেন্স · কোম্পানি বেঞ্চ → নিয়ন্ত্রক সংস্থা → কোম্পানি বেঞ্চ

আদালত স্কিমটি কোনো নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, এনবিআর)

    খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রকের মূল্যায়ন

    স্কিমে সাধারণ কোম্পানি আইনের বাইরের প্রশ্ন উঠলে কোম্পানি বেঞ্চ সিদ্ধান্তের আগে কোনো নিয়ন্ত্রককে এর প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশ দিতে পারেন। রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণে আদালত টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রককে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবং নিয়ন্ত্রক তার নিজস্ব আইনের অধীনে গণশুনানি করেছিল। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র অনুমোদনের পূর্বশর্ত।

    ১-৬ মাসকোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(২)ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৬(১)
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত

    নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদন কোম্পানি বেঞ্চে ফেরত আসে, বেঞ্চ এ বিষয়ে পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনেন এবং এরপর স্কিমটি অনুমোদন, শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন বা নামঞ্জুর করেন। প্রতিবেদনের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে, তবে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি ন্যায্যতা বা শ্রেণিগুলো যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে কিনা, এমন কোম্পানি আইনের প্রশ্নে এটি আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক নয়।

    ১-৩ মাসকোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮-২২৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিয়ন্ত্রকের মূল্যায়ন সামনে রেখে আদালত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেন।

রিমান্ড (ফেরত) · কোম্পানি বেঞ্চ → আপিল বিভাগ → কোম্পানি বেঞ্চ → আপিল বিভাগ

আপিল বিভাগ স্কিমটি ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত

    আপিল বিভাগ যদি দেখেন, যেমন, পাওনাদারদের কোনো শ্রেণির সঙ্গে আলাদাভাবে পরামর্শ করা হয়নি বা কোনো নিয়ন্ত্রকের আপত্তি বিবেচনা করা হয়নি, তবে আপিল বিভাগ অনুমোদন বাতিল করে বিষয়টি ফেরত পাঠাতে পারেন। এরপর কোম্পানি বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট শ্রেণির নতুন সভার আদেশ দিতে, নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদন চাইতে এবং সংশোধিত নথির ভিত্তিতে অনুমোদনের আবেদন আবার শুনতে পারেন।

    ৬-১৮ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(১)-(২)
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    নতুন আদেশের পর আবার উচ্চ আদালতে

    নতুন অনুমোদন বা নামঞ্জুরের বিরুদ্ধে আবার ধারা ২২৮(৭) অনুযায়ী আপিল বিভাগে আপিল করা যায়। আরজেএসসিতে আদেশ দাখিল না হওয়া পর্যন্ত স্কিম কার্যকর হয় না বলে পক্ষগুলো প্রায়ই পরবর্তী আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দাখিল স্থগিত রাখতে সম্মত হন, যা কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদনে এক বছর বা তার বেশি সময় যোগ করতে পারে।

    দাখিলে ৬০ দিন; ১-২ বছরকোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২২৮(৩) ও (৭)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পূর্ণাঙ্গ নথির ভিত্তিতে স্কিমটি পুনর্বিবেচিত হয় এবং আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।

বিকল্প পথ · আইনজীবী → নিয়ন্ত্রক সংস্থা → কোম্পানি বেঞ্চ

ধারা ২২৮-এর স্কিমের বাইরে কি একীভূতকরণের অন্য পথ আছে?

  1. 1
    খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, এনবিআর)

    ব্যাংক রেজল্যুশন ও অধিগ্রহণ প্রস্তাব

    দুর্বল ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর উত্তরসূরি হিসেবে ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংসদে পাস হওয়া এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সংশোধিত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংককে সাধারণ আদালত-স্কিমের বাইরে সংকটগ্রস্ত ব্যাংককে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে হস্তান্তর বা একীভূত করাসহ বিভিন্ন ক্ষমতা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৭ সরকারি মরাটোরিয়ামের অধীন কোনো ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে একীভূতকরণের স্কিম প্রণয়নের সুযোগও দেয়। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ার অধিগ্রহণ আদালত-অনুমোদিত স্কিম নয়, বিএসইসির অধিগ্রহণ (টেকওভার) বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

    ভিন্ন ভিন্নব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ (১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংসদে পাস; সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সংশোধিত)ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৭
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ধারা ২৩০ অনুযায়ী ভিন্নমত পোষণকারীদের শেয়ার বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ

    অন্য কোম্পানিতে শেয়ার হস্তান্তরের কোনো স্কিম বা চুক্তি ১২০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের মূল্যের তিন-চতুর্থাংশের ধারকেরা অনুমোদন করলে, হস্তান্তরগ্রহীতা পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ভিন্নমত পোষণকারী শেয়ারহোল্ডারদের নোটিশ দিতে পারে যে সে একই শর্তে তাঁদের শেয়ার অধিগ্রহণ করবে। ভিন্নমত পোষণকারী শেয়ারহোল্ডার নোটিশের ৩০ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণ বন্ধের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।

    ১২০ + ৬০ + ৩০ দিনকোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২৩০(১)-(৫)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: লক্ষ্য কোম্পানির জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার অধীনে অধিগ্রহণ এগোয়, এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য আদালতের পথ খোলা থাকে।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন শুরু হয় হাইকোর্ট বিভাগে। এখানে মূল্যমানের কোনো সীমা নেই, কোনো নিম্ন আদালতও নেই: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩ হাইকোর্ট বিভাগকে 'আদালত' হিসেবে নির্ধারণ করে, এবং ঢাকায় এর কোম্পানি বেঞ্চ সংবিধিবদ্ধ আদি এখতিয়ারে ধারা ২২৮ ও ২২৯-এর আবেদন শোনেন। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এতে কোনো পরিবর্তন আনে না, কারণ হাইকোর্ট বিভাগের আদি এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো এর বাইরে। আদালতের প্রক্রিয়ার আগে ও চলাকালে কাজ হয় বোর্ডগুলোতে, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে।

কোম্পানি বেঞ্চ সভার আদেশ দেন এবং এরপর মৌখিক সাক্ষ্য নয়, হলফনামা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেন। এখানে কোনো রিভিশন বা আদালতের অভ্যন্তরীণ আপিল নেই। ধারা ২২৮(৭) হাইকোর্ট বিভাগের আপিল শোনে এমন আদালতে, অর্থাৎ আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগ দেয়, যা বাস্তবে ষাট দিনের মধ্যে লিভ পিটিশনের মাধ্যমে চাওয়া হয়; আপিল বিভাগ স্তরবিন্যাসের শীর্ষে থেকে মূলত আইনের প্রশ্ন নিষ্পত্তি করেন।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. শুরু · আদালতের বাইরেকোম্পানিগুলোর আইনজীবী ও উপদেষ্টা · হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ · খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, এনবিআর) · সদস্য ও পাওনাদারদের আদালত-আহূত সভা · যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

শুরু · আদালতের বাইরে

কোম্পানিগুলোর আইনজীবী ও উপদেষ্টা

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

বাংলাদেশ ব্যাংক (প্রধান কার্যালয়)

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০

কেন্দ্রীয় ব্যাংক: ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা।

যাচাইয়ের সময় bb.org.bd রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল। অবস্থানটি কেবল পরোক্ষ সূত্র থেকে নেওয়া, তাই সরকারি সাইটে ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি মতিঝিল অফিস ও আঞ্চলিক অফিসও আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

সদস্য ও পাওনাদারদের আদালত-আহূত সভা

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC)

টিসিবি ভবন (৭ম তলা), ১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীন কোম্পানি, অংশীদারি ফার্ম ও সোসাইটি নিবন্ধন করে এবং বার্ষিক রিটার্ন ও আইনগত দাখিলাগুলো গ্রহণ করে।

প্রধান কার্যালয় (ঢাকা)। বেশির ভাগ দাখিল অনলাইনে হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতেও আরজেএসসির অফিস আছে। পিএবিএক্স +৮৮ ০২ ৫৫০১৩৭৭৬।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

কাঠামো নির্ধারণ ও ছাড়পত্র
২–৬ মাস
আদালত-আহূত সভা
১–৩ মাস
অনুমোদনের শুনানি
৪–১২ মাস
দাখিল ও বাস্তবায়ন
১–৬ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৮–২৭ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: প্রস্তুতিতে ২-৬ মাস; আদালত-আহূত সভায় ১-৩ মাস; নিয়ন্ত্রক বা আপত্তিকারী অংশ নিলে অনুমোদন পেতে ৪-১২ মাস; বাস্তবায়নে ১-৬ মাস
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

একীভূতকরণের স্কিম (Scheme of amalgamation)
ধারা ২২৮-২২৯-এর অধীনে আদালত-অনুমোদিত পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে একটি কোম্পানির ব্যবসা অন্যটিতে চলে যায় এবং প্রথমটি বিলুপ্ত হয়।
হস্তান্তরকারী কোম্পানি (Transferor company)
যে কোম্পানির ব্যবসা, সম্পত্তি ও দায় স্কিমের অধীনে হস্তান্তরিত হয়।
হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানি (Transferee company)
যে কোম্পানি ব্যবসাটি গ্রহণ করে এবং সাধারণত হস্তান্তরকারীর সদস্যদের শেয়ার ইস্যু করে।
আদালত-আহূত সভা (Court-convened meeting)
ধারা ২২৮(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত সদস্য বা পাওনাদারদের সভা।
মূল্যের তিন-চতুর্থাংশ (Three-fourths in value)
ধারা ২২৮(২)-এ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা: সশরীরে বা প্রক্সির মাধ্যমে ভোটদানকারীদের প্রতিনিধিত্বকৃত মূল্যের তিন-চতুর্থাংশের ধারক।
অনুমোদন (Sanction)
আদালত কর্তৃক স্কিমের অনুমোদন, যা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির সব সদস্য ও পাওনাদারের জন্য স্কিমটিকে বাধ্যতামূলক করে।
নির্ধারিত তারিখ (Appointed date)
স্কিমে উল্লিখিত যে তারিখ থেকে ব্যবসা হস্তান্তর হিসাবগতভাবে কার্যকর হয়।
বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ (Squeeze-out)
তিন-চতুর্থাংশের সম্মতির পর ধারা ২৩০ অনুযায়ী ভিন্নমত পোষণকারী শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ।
প্রশ্নোত্তর

কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন কে দেয়?
কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন দেন হাইকোর্ট বিভাগ, যাকে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩ কোম্পানি বিষয়ে 'আদালত' হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এর কোম্পানি বেঞ্চ ধারা ২২৮ অনুযায়ী সভার আদেশ দেন এবং স্কিম অনুমোদন করবেন কিনা সিদ্ধান্ত নেন। খাত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও প্রতিযোগিতা কমিশনের মতো নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদনও লাগতে পারে।
সভায় কত সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে?
ধারা ২২৮(২) অনুযায়ী আদালত-আহূত সভায় সশরীরে বা প্রক্সির মাধ্যমে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্য বা পাওনাদার, বা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মূল্যের দিক থেকে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় স্কিমটি গৃহীত হতে হয়। প্রতিটি প্রভাবিত শ্রেণি আলাদাভাবে ভোট দেয়, এবং কোনো শ্রেণি অনুমোদন না দিলে সেই আকারে স্কিমটি অনুমোদন করা যায় না।
ব্যাংক একীভূতকরণে কি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে?
হ্যাঁ। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৭৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক যদি প্রত্যয়ন না করে যে আপস বা বন্দোবস্তটি কার্যকরযোগ্য এবং ব্যাংকের পাওনাদারদের স্বার্থবিরোধী নয়, তবে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যাংক কোম্পানি-সংক্রান্ত কোনো আপস বা বন্দোবস্ত অনুমোদন করতে পারেন না। দুর্বল ব্যাংককে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতও করতে পারে।
একীভূতকরণ কখন কার্যকর হয়?
কেবল তখনই, যখন অনুমোদন আদেশের সার্টিফায়েড কপি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে দাখিল করা হয়। ধারা ২২৮(৩) বলে, তার আগে আদেশটি কার্যকর নয়, এবং ধারা ২২৯(৩) চৌদ্দ দিনের মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতা দেয়। এরপর আদেশের বলে সম্পত্তি ও দায় হস্তান্তরগ্রহীতা কোম্পানিতে ন্যস্ত হয়।
শেয়ারহোল্ডার বা নিয়ন্ত্রক কি আপত্তি করতে পারেন?
হ্যাঁ। সদস্য, পাওনাদার ও নোটিশপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের শুনানিতে হাজির হয়ে বিরোধিতা করতে পারেন। আদালত নিয়ন্ত্রকের আপত্তি সত্ত্বেও স্কিম অনুমোদন করেছেন, অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের ধারা সংশোধন করতে বলেছেন, এবং সিদ্ধান্তের আগে খাতভিত্তিক নিয়ন্ত্রককে স্কিমের প্রভাব মূল্যায়ন করতে বলেছেন।
একীভূতকরণে কি কর দিতে হয়?
আয়কর আইন, ২০২৩-এর অষ্টম তফসিল অনুযায়ী যোগ্য একীভূতকরণে মূলধনী সম্পদ হস্তান্তরে কোনো মূলধনী মুনাফা কর আরোপিত হয় না, তবে শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া নগদ বা শেয়ার-বহির্ভূত অন্য প্রতিদান করযোগ্য। হস্তান্তরকারীর শেয়ারের মূল্যের কমপক্ষে ৭৫% ধারককে একীভূত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হতে হবে। ধারা ৭০ সাপেক্ষে লোকসান পরবর্তী বছরে বহন করা যায়।
অনুমোদন আদেশের বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?
হ্যাঁ। কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদন-সংক্রান্ত ধারা ২২৮-এর আদেশের বিরুদ্ধে ধারা ২২৮(৭) হাইকোর্ট বিভাগের আপিল শোনে এমন আদালতে, অর্থাৎ আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগ দেয়। এই আপিল অধিকারবলে চলে নাকি অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে অনুমতি লাগে, তা নিষ্পত্তি হয়নি, তাই সতর্ক পথ হলো ষাট দিনের মধ্যে লিভ পিটিশন দাখিল করা। এর মধ্যে আদেশ দাখিল হওয়া উচিত না হলে চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চান।
কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদনে কত সময় লাগে?
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক হিসেবে, কোম্পানি একীভূতকরণের অনুমোদনে প্রস্তুতি ও নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্রে দুই থেকে ছয় মাস, আদালত-আহূত সভায় এক থেকে তিন মাস, এবং নিয়ন্ত্রক বা আপত্তিকারী অংশ নিলে অনুমোদনের শুনানিতে চার থেকে বারো মাস লাগে। আদেশ দাখিলের পর বাস্তবায়নে আরও ছয় মাস পর্যন্ত লাগতে পারে।

আইন ও উৎস

  1. Companies Act 1994 (কোম্পানী আইন, ১৯৯৪), Bangla authoritative text, Laws of Bangladesh
  2. Companies Act 1994, Bangla text with 2020 amendments (mirror)
  3. Bank Company Act 1991 (ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১), Laws of Bangladesh mirror
  4. The Daily Star: Role of the Supreme Court in the amalgamation process
  5. The Financial Express: High Court okays BSRM merger scheme
  6. The Business Standard: Bank Resolution Bill passed in parliament amid opposition objections
  7. The Daily Observer: draft combination regulation under section 21 of the Competition Act
  8. National Board of Revenue (Income Tax Act 2023)
  9. Registrar of Joint Stock Companies and Firms

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp