বাংলাদেশে আদালত অবমাননা মামলা: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে আদালত অবমাননা মামলা সাধারণত করা হয় যখন কোনো ব্যক্তি বা সরকারি দপ্তর হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ উপেক্ষা করে, এবং আদালতকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদেশ পালন নিশ্চিত করতে ও প্রয়োজনে শাস্তি দিতে অনুরোধ করা হয়। সাধারণ পথ হলো অবমাননার পিটিশন, কারণ দর্শানোর রুল, অবমাননাকারীর জবাব বা নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা, শুনানি এবং চূড়ান্ত আদেশ।
শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির আপিল বিভাগে অধিকার হিসেবে আপিলের সুযোগ আছে, আর বিচারিক আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়টি দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) অনুযায়ী সেই আদালতেই নিষ্পত্তি হয়।
- কোথা থেকে শুরু
- প্রধান বিচারপতি কর্তৃক অবমাননার এখতিয়ারপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ (হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ভঙ্গের ক্ষেত্রে)…
- মূল আইন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ), ১০৫, ১০৭(৩), ১০৮, ১০৯; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ (২০১৩ সালের আইন বিষয়ে টীকা দেখুন); দেওয়ানি…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: দাখিলের ১-৪ সপ্তাহের মধ্যে রুল; বেশির ভাগ মামলা ২-৯ মাসের মধ্যে শেষ হয়…
- কে মামলা করতে পারেন
- মূল মামলার যেকোনো পক্ষ, অথবা আদেশ পালন না করায় যাঁর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবেও (suo motu)…
আদালত অবমাননা মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দাখিলের আগেআদেশ ও তা ভঙ্গের বিষয় নিশ্চিত করুন
যেকোনো আদালত অবমাননা মামলায় প্রথম প্রশ্ন হলো, স্পষ্ট কোনো আদেশ এবং তার স্পষ্ট লঙ্ঘন আছে কি না। আইনজীবী রায় বা আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে দেখেন ঠিক কী করতে বলা হয়েছিল, কাকে এবং কবের মধ্যে। কেবল দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলেই অবমাননা হয়। আদেশ অস্পষ্ট হলে, আপিল বিভাগ তা স্থগিত করে থাকলে, অথবা কর্তৃপক্ষকে কিছুটা বিবেচনার সুযোগ দেওয়া থাকলে অবমাননার পিটিশন ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আদেশ পালনের সময় আসলেই পার হয়েছে কি না, আইনজীবী তাও যাচাই করেন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৭ দিন · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ২ · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, কোনো স্থগিতাদেশ বা সংশোধনী আদেশ, ঘটনার সময়ক্রম
পরামর্শ: দাখিলের আগে কোনো লিভ পিটিশন ও স্থগিতাদেশ আছে কি না, আপিল বিভাগের কার্যতালিকা দেখে নিন।
ধাপ ২ · দাখিলের আগেআদেশ জারি ও পালনের দাবি
প্রতিপক্ষ আদেশ সম্পর্কে সত্যিই জানেন, পিটিশনার তা নিশ্চিত করেন। সার্টিফায়েড কপি একটি সংযুক্তিপত্রসহ হাতে হাতে বা রেজিস্ট্রি ডাকে নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কোম্পানির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং প্রাপ্তিস্বীকার নেওয়া হয়। সময় পার হয়ে গেলে আইনজীবী সাধারণত স্বল্প সময়ের মধ্যে আদেশ পালনের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠান। অনেক সরকারি দপ্তর তখনই ব্যবস্থা নেয় যখন নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হওয়ার মুখে পড়েন, তাই নোটিশে দায়িত্বপ্রাপ্ত পদধারীর নাম ও পদবি উল্লেখ করা উচিত। জানার প্রমাণ অপরিহার্য, কারণ যে আদেশ কেউ কখনো দেখেননি, তার জন্য আদালত তাঁকে অবমাননাকারী সাব্যস্ত করবেন না।
কোথায়: অভিযুক্ত অবমাননাকারীর দপ্তর (মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা কোম্পানি) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ (কর্তৃপক্ষসমূহ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করবে) · কাগজপত্র: সংযুক্তিপত্র, রেজিস্ট্রি ডাকের রসিদ ও প্রাপ্তিস্বীকার, আদেশ পালনের নোটিশ
পরামর্শ: প্রাপ্তিস্বীকার কার্ড বা সিলযুক্ত প্রাপ্তির কপি সংরক্ষণ করুন; এটিই আপনার মামলার মূল ভিত্তি।
ধাপ ৩ · দাখিলের আগেসঠিক ফোরাম বেছে নিন
কার আদেশ ভঙ্গ হয়েছে তার ওপর ফোরাম নির্ভর করে। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ভঙ্গ হলে অনুচ্ছেদ ১০৮-এর অধীনে সেই বিভাগেই যেতে হয়। দেওয়ানি আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়টি দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) অনুযায়ী একটি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিবিধ মামলায় সেই আদালতই নিষ্পত্তি করে; ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, এর জন্য অবমাননার পিটিশন সঠিক পথ নয়। অন্যান্য অধস্তন আদালতের অবমাননা ১৯২৬ সালের আইনের ধারা ২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ গ্রহণ করতে পারেন, যদি না তা দণ্ডবিধির অধীনে অপরাধ হয়, যেমন ধারা ২২৮ অনুযায়ী আদালতকে অপমান, যার বিচার ফৌজদারি আদালতে হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ২(১), (৩); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩); দণ্ডবিধির ধারা ২২৮ · কাগজপত্র: ফোরাম বিশ্লেষণের নোট
পরামর্শ: ভুল ফোরামে, বা অবমাননার এখতিয়ার নেই এমন বেঞ্চে দাখিল করলে কেবল রক্ষণীয়তার প্রশ্নেই রুল খারিজ হতে পারে।
ধাপ ৪ · অবমাননার পিটিশন দাখিলঅবমাননার পিটিশনের খসড়া তৈরি
পিটিশনটি মূল রিট পিটিশন, আপিল বা রিভিশন থেকে উদ্ভূত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮-এর অধীনে একটি আবেদন হিসেবে তৈরি করা হয়। এতে থাকে আদেশটি, তা জানানোর তারিখ, আদেশ পালন আদায়ে নেওয়া পদক্ষেপ এবং অমান্যের সুনির্দিষ্ট কাজ বা নিষ্ক্রিয়তা। প্রত্যেক অভিযুক্ত অবমাননাকারীর নাম ও পদবি ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখ করা হয়। পিটিশনের সঙ্গে হলফনামা থাকে, যাতে আদেশ, জারির প্রমাণ ও আদেশ পালনের নোটিশ সংযুক্ত করা হয়, এবং রুল ও আদেশ পালনের নির্দেশ প্রার্থনা করা হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ · কাগজপত্র: অবমাননার পিটিশন, হলফনামা, সংযুক্তি: আদেশ, জারির প্রমাণ, নোটিশ
পরামর্শ: শুধু মন্ত্রণালয় নয়, নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম দিন; আদালত দপ্তরকে নয়, মানুষকে শাস্তি দেন।
ধাপ ৫ · অবমাননার পিটিশন দাখিলঅবমাননা বেঞ্চে দাখিল ও মোশন
পিটিশনটি হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয় এবং প্রধান বিচারপতি অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)-এর অধীনে যে বেঞ্চকে অবমাননার বিষয় দিয়েছেন, সেখানে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে একটি ডিভিশন বেঞ্চ একটি অবমাননা রুল খারিজ করেন, কারণ তা এমন বেঞ্চ জারি করেছিলেন যার ওই এখতিয়ার ছিল না; তাই বেঞ্চের দায়িত্ব বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ। আদেশটি রিট মামলায় হলে, অবমাননার পিটিশন সাধারণত ওই বিষয়ে রিট বা অবমাননার এখতিয়ারপ্রাপ্ত বেঞ্চে শুনানি হয়। সরকারি কর্মকর্তারা জড়িত থাকলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ দেওয়া হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: প্রথম তালিকাভুক্তি পর্যন্ত ১-৩ সপ্তাহ · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩); সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: দাখিলকৃত পিটিশন, ওকালতনামা, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ জারি
পরামর্শ: প্রতি মেয়াদে সর্বশেষ বেঞ্চ তালিকা যাচাই করুন; দায়িত্ব বণ্টন নিয়মিত বদলায়।
ধাপ ৬ · রুল ও জবাবকারণ দর্শানোর রুল জারি
প্রাথমিকভাবে মামলা আছে বলে সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করে নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলেন, কেন আদেশ অমান্যের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না। বেঞ্চ প্রায়ই প্রতিপক্ষদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদেশ পালন করে আদেশ পালনের হলফনামা দাখিলের নির্দেশও দেন, এবং ধার্য তারিখে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার আদেশ দিতে পারেন। অনেক মামলা এখানেই শেষ হয়, কারণ রুল জারি হলেই সাধারণত আদেশ পালিত হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: প্রথম শুনানিতে · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: রুলের আদেশ, আদেশ পালনের নির্দেশ
পরামর্শ: শুধু রুল নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদেশ পালনের নির্দেশও চান।
ধাপ ৭ · রুল ও জবাবপ্রত্যেক অবমাননাকারীর ওপর রুল জারি
আদালতের প্রক্রিয়ায় এবং বাস্তবে পিটিশনারের আইনজীবীর মাধ্যমেও প্রত্যেক নির্দিষ্ট অবমাননাকারীর ওপর রুলের নোটিশ জারি করা হয়। অবমাননা আধা-ফৌজদারি প্রকৃতির বলে ব্যক্তিগতভাবে জারি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আদালতের দপ্তর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নোটিশ পাঠাতে পারে; অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কেও জানানো হয়। ধার্য তারিখের আগেই পিটিশনার জারির প্রমাণ দাখিল করেন, যাতে সে কারণে শুনানি মুলতবি না হয়। কোনো অবমাননাকারী অবসরে গেলে বা বদলি হলে পিটিশনার বর্তমান পদধারীকে যুক্ত করার আবেদন করেন, কারণ আদেশ পালনের দায়িত্ব পদের সঙ্গেই হস্তান্তরিত হয়।
কোথায়: অভিযুক্ত অবমাননাকারীর দপ্তর (মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা কোম্পানি) · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: রুলের নোটিশ, জারির প্রমাণ
পরামর্শ: বর্তমানে পদে থাকা কর্মকর্তার ওপর নোটিশ জারি করুন; বদলি হয়ে থাকলে নতুন পদধারীকে যুক্ত করুন।
ধাপ ৮ · রুল ও জবাবজবাব: কারণ দর্শানো, আদেশ পালন বা ক্ষমাপ্রার্থনা
অবমাননাকারী তিনভাবে সাড়া দেন। তিনি আদেশ পালনের হলফনামা দাখিল করে দেখাতে পারেন যে আদেশ এখন পালিত হয়েছে। তিনি কারণ দর্শাতে পারেন, এই যুক্তিতে যে আদেশ অস্পষ্ট ছিল, পালন করা অসম্ভব ছিল, বা তা স্থগিত ছিল। অথবা তিনি নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারেন, সাধারণত আদেশ পালনের সঙ্গে। শর্তযুক্ত বা সীমাবদ্ধ ক্ষমাপ্রার্থনা, অথবা যে ক্ষমাপ্রার্থনা লঙ্ঘনকে ন্যায্য প্রমাণের চেষ্টা করে, তাকে আদৌ ক্ষমাপ্রার্থনা হিসেবে গণ্য করা হয় না। দাবিকৃত আদেশ পালন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পিটিশনার প্রত্যুত্তর হলফনামা দাখিল করতে পারেন।
কোথায়: অভিযুক্ত অবমাননাকারীর দপ্তর (মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা কোম্পানি) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ৩-এর শর্তাংশ · কাগজপত্র: আদেশ পালনের হলফনামা (affidavit-in-compliance), জবাবি হলফনামা (affidavit-in-opposition), ক্ষমাপ্রার্থনার হলফনামা, প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply)
পরামর্শ: "আদেশ পালন" আসলেই আদেশের সঙ্গে মেলে কি না দেখুন; আংশিক বা নামমাত্র পালন প্রায়ই দেখা যায়।
ধাপ ৯ · রুল ও জবাবঅবমাননাকারীর ব্যক্তিগত হাজিরা
গুরুতর ক্ষেত্রে, বা আদেশ পালনে দেরি হলে, বেঞ্চ অবমাননাকারীকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার আদেশ দেন। সচিব ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়মিতই তলব করা হয়। ব্যক্তিগত হাজিরা প্রায়ই নির্ণায়ক হয়: কর্মকর্তা বিলম্বের ব্যাখ্যা দেন, তারিখসহ অঙ্গীকার দেন, বা প্রকাশ্য আদালতে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। অবমাননার কার্যক্রম বাদ দেবেন নাকি এগিয়ে নেবেন, তা ঠিক করার আগে বেঞ্চ আদেশ পালন তদারকির জন্য শুনানি মুলতবি করতে পারেন। কর্মকর্তাদের উচিত নথি ও বাস্তবসম্মত আদেশ পালনের তারিখ নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আসা।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাসে ১-৩টি শুনানি · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: ব্যক্তিগত হাজিরার আদেশ, অঙ্গীকারনামা (দেওয়া হলে)
পরামর্শ: ব্যক্তিগত হাজিরার আদেশের পর হাজির না হওয়াকে নিজেই অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখা হয়।
ধাপ ১০ · শুনানি ও সিদ্ধান্তইচ্ছাকৃত অমান্যের বিষয়ে শুনানি
শুনানিতে পিটিশনারকে দেখাতে হয় যে আদেশ স্পষ্ট ছিল, অবমাননাকারী তা জানতেন এবং অমান্য ইচ্ছাকৃত ছিল। অবমাননার ফলে কারাদণ্ড হতে পারে বলে আদালত কঠোর প্রমাণ আশা করেন। অবমাননাকারী না জানা, অসম্ভবতা, অস্পষ্টতা বা সরল বিশ্বাসে ভুল বোঝার যুক্তি দেন। বেঞ্চ ঘটনার সময়ক্রম ও হলফনামাগুলো দেখেন। শাস্তির চেয়ে আদেশ পালনই সাধারণত আদালতের মূল উদ্বেগ। যে অবমাননাকারী এর মধ্যে পুরোপুরি আদেশ পালন করেছেন, এই পর্যায়ে তাঁর অবস্থান অনেক শক্ত।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: রুলের ১-৩ মাস পর · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ · কাগজপত্র: পেপার বুক, জারি ও আদেশ পালন না করার সময়ক্রম, নজির
পরামর্শ: জারির তারিখ ও সময়সীমাসহ একটি স্পষ্ট সময়ক্রম সারণি ইচ্ছাকৃত অমান্য সহজে দেখিয়ে দেয়।
ধাপ ১১ · শুনানি ও সিদ্ধান্তআদালত ক্ষমাপ্রার্থনা বিবেচনা করেন
আদালত সিদ্ধান্ত নেন নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করবেন কি না। ১৯২৬ সালের আইনের ধারা ৩-এর শর্তাংশ অনুযায়ী আদালতের সন্তুষ্টি অনুযায়ী ক্ষমাপ্রার্থনা করলে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া বা শাস্তি মওকুফ করা যায়। আন্তরিক, তাৎক্ষণিক ও আদেশ পালনসহ ক্ষমাপ্রার্থনা আদালত গ্রহণ করেন; ধারাবাহিক অবজ্ঞার পর কেবল শাস্তি এড়াতে করা ক্ষমাপ্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রকাশিত সিদ্ধান্তে দুই ধরনের ফলই দেখা যায়: সতর্ক করে কর্মকর্তাদের অব্যাহতি, এবং ক্ষমাপ্রার্থনা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এক কর্মকর্তার কারাদণ্ড।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানিতে · আইন: আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ৩-এর শর্তাংশ · কাগজপত্র: ক্ষমাপ্রার্থনার হলফনামা, আদেশ পালনের প্রমাণ
পরামর্শ: অবমাননাকারীর জন্য: আগে আদেশ পালন, তারপর ক্ষমাপ্রার্থনা। আদেশ পালন ছাড়া ক্ষমাপ্রার্থনা কমই কাজে আসে।
ধাপ ১২ · শুনানি ও সিদ্ধান্তচূড়ান্ত আদেশ: অব্যাহতি, সতর্কীকরণ বা শাস্তি
বেঞ্চ হয় রুল খারিজ করেন, সতর্ক করে বা না করে অবমাননাকারীকে অব্যাহতি দেন, নয়তো রুল চূড়ান্ত করে শাস্তি দেন। ১৯২৬ সালের আইনের ধারা ৩ ঐতিহাসিকভাবে শাস্তি সীমিত রেখেছিল ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ২,০০০ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে। একে রহিত করা আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩-কে ২০১৩ সালেই হাইকোর্ট বিভাগ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন, এবং আদালত এখন মূলত অনুচ্ছেদ ১০৮-এর ওপর নির্ভর করেন। ফলে আইনি সীমা নিয়ে বিতর্ক আছে; ২০২৩ সালের একটি প্রকাশিত মামলায় আদালত ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা করেন। আদালত সাধারণত আদেশ পালনের নির্দেশও আবার দেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির দিনই বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ৩; আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী বনাম সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২০১৩), ২০১৩ সালের আইন বিষয়ে · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: চূড়ান্ত আদেশে আদেশ পালনের নতুন সময়সীমা চান, যাতে পরবর্তী অবজ্ঞা স্পষ্টতই নতুন অবমাননা হয়।
ধাপ ১৩ · শাস্তি ও আদেশ পালনদণ্ড কার্যকর
কারাদণ্ডের আদেশ হলে আদালত সাধারণত অবমাননাকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন, যেমন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মুখ্য মহানগর হাকিমের (CMM) কাছে; না করলে পরোয়ানা জারি হয়। জরিমানা আদালতের নির্দেশমতো পরিশোধ করতে হয়, এবং প্রমাণ হিসেবে পরিশোধের রসিদ আদালতে দাখিল করা উচিত। অবমাননাকারী সঙ্গে সঙ্গে আপিল বিভাগে আপিল করে আপিল বিচারাধীন থাকাকালে দণ্ড স্থগিত বা জামিনের জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করতে পারেন।
কোথায়: কারাগার / হেফাজত · সময়: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রায়ই ৭-৩০ দিন · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ) · কাগজপত্র: দণ্ডাদেশ, আত্মসমর্পণের কাগজপত্র, জরিমানার রসিদ
পরামর্শ: আত্মসমর্পণের তারিখের আগেই আপিল ও স্থগিতাদেশের আবেদন দাখিল করুন।
ধাপ ১৪ · শাস্তি ও আদেশ পালনমূল আদেশ পালন
শাস্তি মূল দায় বাতিল করে না। দপ্তরকে তখনো রায় বাস্তবায়ন করতে হয়, যেমন কর্মচারীকে পুনর্বহাল, অর্থ ছাড় বা লাইসেন্স প্রদান। পিটিশনার আদেশ পালন তদারক করেন এবং প্রয়োজনে সম্পূরক আবেদন নিয়ে বেঞ্চে ফিরে যান। সরকারি দপ্তর জড়িত মামলায় অবমাননার রুলই প্রায়ই সেই কার্যকর হাতিয়ার, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত রায় বাস্তবায়িত হয়। পিটিশনারের উচিত প্রতিপক্ষের আদেশ পালনের হলফনামা, অফিস আদেশ ও পরিশোধের রেকর্ড সংরক্ষণ করা, কারণ আবার অবমাননার পিটিশন প্রয়োজন হলে এগুলোই প্রমাণ।
কোথায়: অভিযুক্ত অবমাননাকারীর দপ্তর (মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা কোম্পানি) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: রায় বাস্তবায়নের অফিস আদেশ, আদেশ পালনের প্রতিবেদন
পরামর্শ: বাস্তবায়নের অফিস আদেশ লিখিতভাবে নিন এবং বিষয়টি পরিচ্ছন্নভাবে নিষ্পত্তির জন্য তা আদালতে দাখিল করুন।
ধাপ ১৫ · শাস্তি ও আদেশ পালনঅবমাননার রুল নিষ্পত্তি
আদেশ পুরোপুরি পালিত হলে এবং কোনো শাস্তি থাকলে তার নিষ্পত্তি হলে বেঞ্চ আদেশ পালনের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে অবমাননার মামলা নিষ্পত্তি করেন। মূল মামলা, যেমন কোনো আপিল, তখনো বিচারাধীন থাকলে অবমাননার আদেশ তার পাশাপাশি থাকে। একই আদেশ পরে আবার ভঙ্গ হলে নতুন অবমাননার পিটিশন লাগে। বিরোধ আবার মাথাচাড়া দিলে আদেশ পালনের কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ নথি দুই পক্ষকেই সুরক্ষা দেয়; দীর্ঘদিন চলা চাকরি বা জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালত অবমাননা মামলায় এমনটি প্রায়ই ঘটে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২টি শুনানি · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আদেশ
পরামর্শ: চূড়ান্ত আদেশে আদেশ পালনের কাগজপত্র লিপিবদ্ধ করতে বেঞ্চকে অনুরোধ করুন।
যদি এমন হয়…? আদালত অবমাননা মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
অবমাননাকারী শাস্তি পেয়ে আপিল করলে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
৩০ দিনের মধ্যে অধিকার হিসেবে আপিল
হাইকোর্ট বিভাগ নিজের অবমাননার জন্য শাস্তি দিলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ) আপিল বিভাগে অধিকার হিসেবে আপিলের সুযোগ দেয়। কোনো লিভ লাগে না। আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ২৩ অনুযায়ী আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফায়েড কপিসহ আপিল দাখিল করতে হয়, এবং আপিলকারী সাধারণত চেম্বার জজের কাছে দণ্ড স্থগিত বা জামিন চান।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; কয়েক দিনের মধ্যে স্থগিতাদেশের শুনানিসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ১ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের শুনানি
আপিল বিভাগ পরীক্ষা করেন আদেশ স্পষ্ট ছিল কি না, অমান্য ইচ্ছাকৃত ছিল কি না এবং দণ্ড যথাযথ ছিল কি না। আদালত দণ্ড বহাল রাখতে, কমাতে, বাতিল করতে, অথবা আপিল পর্যায়ে ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ কেবল অবমাননাকারীকে অব্যাহতি বা সতর্ক করে থাকলে পিটিশনারের অধিকার হিসেবে আপিলের সুযোগ নেই; তাঁকে অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)-এর অধীনে লিভ নিতে হয়।
৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ), (৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: শাস্তির বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল রিভিউ সাপেক্ষে।
বিচারিক আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ হলে কী করবেন?
- 1যুগ্ম জেলা জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
বিচারিক আদালতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিবিধ মামলা
কোনো পক্ষ দেওয়ানি আদালতের, যেমন সিভিল জজ (পূর্বে সহকারী জজ), সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ একই আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩)-এর অধীনে আবেদন করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত অমান্যকারী পক্ষের সম্পত্তি ক্রোক করতে এবং ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন। ক্রোক এক বছরের বেশি থাকতে পারে না; এরপর সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।
৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩)-(৪) - 2জেলা জজ আদালত
ঊর্ধ্বতন আদালতে আপিল বা রিভিশন
বিধি ২-এর অধীনে আদেশ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(r) অনুযায়ী আপিলযোগ্য, মামলার মূল্যমান অনুযায়ী জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে; যুগ্ম জেলা জজের মামলার ক্ষেত্রে সীমা ৫ কোটি টাকা। যেখানে আপিল চলে না, সেখানে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন করা যায়। ঊর্ধ্বতন আদালত আদেশ বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন।
৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(r)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ঊর্ধ্বতন আদালতের নির্দেশনাসহ নিষেধাজ্ঞার বিরোধ বিচারিক আদালতে ফিরে যায়।
আদালত কি অবমাননার রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে সীমিত পুনর্বিবেচনা
শাস্তিপ্রাপ্ত অবমাননাকারী একই বেঞ্চের কাছে আদেশ প্রত্যাহার বা সংশোধনের আবেদন করতে পারেন, যেমন রায়ের পর ক্ষমাপ্রার্থনা করে এবং পূর্ণ আদেশ পালন দেখিয়ে; সন্তোষজনক ক্ষমাপ্রার্থনায় আদালত শাস্তি মওকুফ করতে পারেন। অবমাননার রায়ের আনুষ্ঠানিক রিভিউয়ের সুযোগ সীমিত, এবং ৩০ দিনের মধ্যে অধিকার হিসেবে আইনগত আপিলই সাধারণত নিরাপদ পথ। রিভিউয়ের আবেদন করলেও আপিলের ৩০ দিনের মেয়াদ চলতে থাকে।
১-২ মাসআদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ৩-এর শর্তাংশসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
আপিল বিভাগ আপিল নিষ্পত্তির পর কোনো পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ চাইতে পারেন, নথিতে স্পষ্ট ভুল বা দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর মতো ভিত্তিতে। রিভিউ আপিলের পুনঃশুনানি নয়। আবেদনের সঙ্গে রায়ের সার্টিফায়েড কপি দিতে হয়।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; ১-৬ মাসে নিষ্পত্তিসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউতে কদাচিৎ ফল বদলায়, তবে আদেশ পালনসহ ক্ষমাপ্রার্থনায় শাস্তি মওকুফ হতে পারে।
নিম্ন আদালতের আদেশ অমান্য বা আদালতকে অপমান করা হলে কী হয়?
- 1যুগ্ম জেলা জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
অধস্তন আদালত অবমাননার বিষয় পাঠায়
অধস্তন আদালতের নিজের অবমাননার জন্য শাস্তি দেওয়ার সাধারণ ক্ষমতা নেই। তার আদেশ অমান্য হলে সে নিজে, বা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগে আনতে পারেন; ১৯২৬ সালের আইনের ধারা ২(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন আদালতের অবমাননার ক্ষেত্রেও নিজের অবমাননার মতোই ক্ষমতা আছে। আদালতের উপস্থিতিতে আদালতকে অপমানের মতো অপরাধ, যা দণ্ডবিধির ধারা ২২৮-এর অধীনে পড়ে, ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ধারা ৪৭৬ ও ৪৮০ অনুযায়ী নিষ্পত্তি হয়।
১-৩ মাসআদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ২(১), (৩)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৭৬, ৪৮০দণ্ডবিধির ধারা ২২৮ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রুল ও ফলাফল নিচে ফেরত
হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে অভিযুক্ত অবমাননাকারীর বক্তব্য শুনে আদেশ দেন। অধস্তন আদালতের কার্যক্রম চলতে থাকে, এবং হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা সেই আদালতে ফেরত পাঠানো হয়, যাতে তার আদেশ কার্যকর করা যায়। অবমাননাকারী শাস্তি পেলে অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)-এর অধীনে আপিল বিভাগে অধিকার হিসেবে আপিলের সুযোগ স্বাভাবিক নিয়মেই থাকে।
২-৬ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ অবমাননার বিষয় নিষ্পত্তি করেন এবং মামলা নিম্ন আদালতে চলতে থাকে।
আপিল বিভাগ অবমাননার বিষয়টি ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আদেশ বাতিল ও ফেরত
আপিল বিভাগ যদি দেখেন যে অবমাননাকারীর ওপর যথাযথভাবে নোটিশ জারি হয়নি, কারণ দর্শানোর ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি, বা বেঞ্চের অবমাননার এখতিয়ার ছিল না, তবে আদেশ বাতিল করে উপযুক্ত বেঞ্চে নতুন শুনানির জন্য বিষয়টি পুনর্বিচারের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ফেরত পাঠাতে পারেন। ফেরত পাঠানোর আদেশে সাধারণত পুনঃশুনানির পরিধি নির্ধারিত থাকে এবং সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হতে পারে।
আপিল নিষ্পত্তির সময়সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
নতুন শুনানি ও পুনরায় আপিল
যথাযথ জারি ও জবাবের পর হাইকোর্ট বিভাগ রুলের পুনঃশুনানি করে নতুন আদেশ দেন। আবার শাস্তি দিলে অবমাননাকারী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে অধিকার হিসেবে নতুন আপিল করতে পারেন, ফলে মামলা আবার ওপরে উঠতে পারে। প্রায়ই ফেরত পাঠানোর পর্যায়েই বিষয়টি শেষ হয়, কারণ এর মধ্যে কর্মকর্তা আদেশ পালন করেন।
পুনঃশুনানি ১-৪ মাস; পুনরায় আপিল ৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগে অবমাননার বিষয় নতুন করে নিষ্পত্তি হয় এবং আপিল বিভাগে ফিরতে পারে।
রুলের পর অবমাননাকারী আদেশ পালন করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আদেশ পালনের ভিত্তিতে রুল খারিজ
রুল জারির পর অবমাননাকারী পুরোপুরি আদেশ পালন করে আদেশ পালনের হলফনামা দাখিল করলে, প্রায়ই নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাসহ, বেঞ্চ সাধারণত রুল খারিজ করেন, কখনো সতর্ক করে বা খরচসহ। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হওয়ার আগে পিটিশনারের উচিত সতর্কভাবে দেখা যে আদেশ পালন পূর্ণাঙ্গ। একই আদেশ পরে ভঙ্গ হলে নতুন অবমাননার পিটিশন লাগবে, তাই আদেশ পালনের বিষয়টি আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ থাকা দরকার।
১-৩ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬-এর ধারা ৩-এর শর্তাংশ
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আদেশ বাস্তবায়িত হয় এবং শাস্তি ছাড়াই অবমাননার কার্যক্রম শেষ হয়।
আদালত অবমাননা মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
অবমাননার মামলা সাধারণ নিয়মে আদালতের সিঁড়ি বেয়ে ওঠে না, কারণ যে আদালতের আদেশ ভঙ্গ হয়েছে সাধারণত সেই আদালতই বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ভঙ্গ হলে সরাসরি সেই বিভাগে যেতে হয়, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮-এর অধীনে কোর্ট অব রেকর্ড হিসেবে কাজ করে। দেওয়ানি মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ হলে বিচারিক আদালত নিজেই দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) অনুযায়ী তা নিষ্পত্তি করে; মামলার মূল্যমান ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। অন্যান্য অধস্তন আদালতের অবমাননা হাইকোর্ট বিভাগে নেওয়া যায়, তবে দণ্ডবিধির অপরাধগুলো যায় ফৌজদারি আদালতে।
শাস্তি প্রদানকারী হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে অধিকার হিসেবে আপিল চলে, যেখানে ইচ্ছাকৃত অমান্যের ঘটনা ও আইন দুটিই পর্যালোচনা হয়; অবমাননাকারী অব্যাহতি পেলে পিটিশনারকে লিভ নিতে হয়। আদালত অবমাননা মামলার শেষ ধাপ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতযুগ্ম জেলা জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · অভিযুক্ত অবমাননাকারীর দপ্তর (মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা কোম্পানি) · কারাগার / হেফাজত
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
অভিযুক্ত অবমাননাকারীর দপ্তর (মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা কোম্পানি)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কারাগার / হেফাজত
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- আদালত অবমাননা (Contempt of court)
- আদালতের আদেশ অমান্য করে বা আদালতের কর্তৃত্ব খর্ব করে এমন আচরণ।
- দেওয়ানি অবমাননা (Civil contempt)
- আদালতের রায়, আদেশ বা অঙ্গীকার ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা।
- অবমাননাকারী (Contemnor)
- যে ব্যক্তি অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- কারণ দর্শানোর আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় কেন অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না।
- নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা (Unconditional apology)
- অজুহাত বা শর্ত ছাড়া ক্ষমাপ্রার্থনা, যার ফলে অব্যাহতি বা শাস্তি মওকুফ হতে পারে।
- আদেশ পালনের হলফনামা (Affidavit-in-compliance)
- আদেশ কীভাবে পালিত হয়েছে তা দেখিয়ে শপথকৃত বিবৃতি।
- কোর্ট অব রেকর্ড (Court of record)
- এমন উচ্চ আদালত যার কার্যক্রম লিপিবদ্ধ থাকে এবং যা নিজের অবমাননার জন্য শাস্তি দিতে পারে, যেমন অনুচ্ছেদ ১০৮-এ বলা হয়েছে।
- স্বতঃপ্রণোদিত (Suo motu)
- আদালতের নিজ উদ্যোগে গৃহীত ব্যবস্থা।
আদালত অবমাননা মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
কখন আদালত অবমাননা মামলা শুরু করা উচিত?
এখন কোন আইনে অবমাননার বিচার হয়?
আদালত অবমাননা মামলায় কী শাস্তি হতে পারে?
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেই কি অবমাননাকারী সবসময় রেহাই পান?
সরকারের একজন সচিবের বিরুদ্ধে কি অবমাননার মামলা হতে পারে?
কেউ দেওয়ানি আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। আমি কি হাইকোর্টে যাব?
অবমাননাকারী কি আপিল করতে পারেন?
আদালত অবমাননা মামলা নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Arts 103, 105, 107, 108, 109)
- The Contempt of Courts Act, 1926
- HCD, Civil Rule No. 01 (Contempt) (R) of 2025 (Order XXXIX rule 2(3) and bench jurisdiction)
- HCD, Contempt Petition No. 735 of 2019 (apology accepted with caution, 2025)
- HCD, Contempt Petition No. 374 of 2024 (unconditional apology by author and publisher)
- Prothom Alo: Ex-chief judicial magistrate sentenced to 30-day jail for contempt
- Financial Express: Rajuk chairman seeks unconditional apology to HC
- Dhaka University Law Journal: The Contempt of Courts Act 2013 and Asaduzzaman Siddiqui
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।