বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর করতে হয় দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, CPC)-এর অধীনে দুটি পথের যেকোনো একটিতে।
যে দেশকে পারস্পরিক ভূখণ্ড (reciprocating territory) হিসেবে প্রজ্ঞাপিত করা হয়েছে, সেই দেশের উচ্চতর আদালতের অর্থ-ডিক্রি জেলা জজ আদালতে দাখিল করে ধারা ৪৪ক-এর অধীনে দেশীয় ডিক্রির মতোই জারি করা যায়; অন্য যেকোনো বিদেশি রায়ের ক্ষেত্রে সেই রায়ের ভিত্তিতে নতুন করে মামলা করতে হয়, যেখানে ধারা ১৩-এর ছয়টি ব্যতিক্রমের কোনোটি প্রযোজ্য না হলে রায়টি পক্ষগণের মধ্যে চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
উভয় ক্ষেত্রেই ফলাফল কার্যকর হয় সাধারণ জারি প্রক্রিয়ায়; আপিল ও রিভিশন যায় হাইকোর্ট বিভাগে এবং অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে।
- কোথা থেকে শুরু
- পথ ক (পারস্পরিক ভূখণ্ড, অর্থ-ডিক্রি): যে জেলায় দায়িক (judgment-debtor) বাস করেন বা তাঁর সম্পদ আছে, সেই জেলার জেলা জজ…
- মূল আইন
- দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(৫)-(৬), ১৩, ১৪, ২০, ৪৪ক, ১১৫ ও আদেশ ২১ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); সাক্ষ্য আইন…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: আপত্তি সীমিত হলে ধারা ৪৪ক-এর জারিতে ৬ মাস থেকে ২ বছর; রায়ের ভিত্তিতে…
- কে মামলা করতে পারেন
- রায়-পাওনাদার (ডিক্রিদার), তার স্বত্বনিয়োগী (assignee) বা আইনগত প্রতিনিধি; সাধারণত যথাযথভাবে প্রত্যয়িত পাওয়ার অব…
বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দাখিলের আগেআপনার হাতে কোন ধরনের বিদেশি সিদ্ধান্ত আছে, তা চিহ্নিত করুন
বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর করার প্রথম প্রশ্ন হলো, দলিলটি আসলে কী। 'বিদেশি রায়' (foreign judgment) বলতে বোঝায় বাংলাদেশের বাইরের এমন কোনো আদালতের রায়, যার এখানে কোনো কর্তৃত্ব নেই। ধারা ৪৪ক কেবল নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের ডিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কর, জরিমানা বা দণ্ডের ক্ষেত্রে নয়, এবং সালিশি রোয়েদাদের ক্ষেত্রে কখনোই নয়। নিষেধাজ্ঞা, ঘোষণামূলক ডিক্রি ও হেফাজত-সংক্রান্ত আদেশ সরাসরি জারি করা যায়ই না। আইনজীবী আরও যাচাই করেন রায়টি নিজ দেশে চূড়ান্ত কি না, কোন আদালত তা দিয়েছে, দায়িক হাজির হয়েছিলেন বা তাঁর ওপর সমন জারি হয়েছিল কি না, এবং বাংলাদেশে দায়িকের সম্পদ কোথায় আছে।
কোথায়: বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(৫) ও (৬); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৪ক-এর ব্যাখ্যা ৩ · কাগজপত্র: বিদেশি রায় ও ডিক্রি, আরজি-জবাবসহ মামলার কাগজপত্র এবং দায়িকের ওপর সমন জারির প্রমাণ, বাংলাদেশে দায়িকের জানা সম্পদের তালিকা
পরামর্শ: আপনার হাতে সালিশি রোয়েদাদ থাকলে, এমনকি তা কোনো বিদেশি আদালত অনুমোদন করে থাকলেও, এর বদলে সালিশ আইন, ২০০১-এর পথ ব্যবহার করুন।
ধাপ ২ · দাখিলের আগেদেশটি পারস্পরিক ভূখণ্ড কি না, যাচাই করুন
ধারা ৪৪ক-এর অধীনে সরাসরি জারির সুযোগ কেবল তখনই আছে, যখন সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশি দেশটিকে পারস্পরিক ভূখণ্ড ঘোষণা করেছে, এবং কেবল সেই প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত 'উচ্চতর আদালত'-এর ডিক্রির ক্ষেত্রে। ২০০৩ সালের সংশোধনীর পর থেকে যুক্তরাজ্যেরও আর কোনো আইনগত মর্যাদা নেই; সবকিছু প্রজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে। প্রজ্ঞাপিত দেশগুলোর কোনো একীভূত সরকারি তালিকা প্রকাশিত হয় না, এবং কোন কোন দেশ (আদৌ যদি থাকে) এর আওতায় আছে, তা নিয়ে প্রকাশিত ভাষ্যে মতভেদ আছে; তাই পথ বেছে নেওয়ার আগে আইনজীবীর উচিত বাংলাদেশ গেজেট ও আইন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নেওয়া।
দেশ বা আদালতটি আওতাভুক্ত না হলে পাওনাদারকে রায়ের ভিত্তিতে মামলার পথেই যেতে হবে।
কোথায়: বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৪ক(১) ও ব্যাখ্যা ২; দেওয়ানি কার্যবিধি (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সালের ৪০ নং আইন) · কাগজপত্র: যে গেজেট প্রজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে তার কপি
পরামর্শ: অন্য কোনো দেশের পারস্পরিক ভূখণ্ডের তালিকার ওপর নির্ভর করবেন না; কেবল বাংলাদেশের নিজস্ব প্রজ্ঞাপনই গণ্য হয়।
ধাপ ৩ · দাখিলের আগেতামাদির সময়সীমা হিসাব করুন
বিদেশি রায়ের ভিত্তিতে মামলা রায়ের তারিখ থেকে ছয় বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। ধারা ৪৪ক-এর অধীনে সরাসরি জারির ক্ষেত্রে ডিক্রিটি জেলা আদালতের ডিক্রির মতো জারি হয়, এবং সাধারণত তামাদি আইনের জারি-সংক্রান্ত সময়সীমা বিদেশি ডিক্রির তারিখ থেকে গণনা করে প্রয়োগ করা হয়। বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় নিরাপদ পথ হলো বিদেশি ডিক্রির বা জারির সহায়ক সর্বশেষ পদক্ষেপের তিন বছরের মধ্যে দাখিল করা। কোনো অবস্থাতেই ডিক্রির বারো বছর পরে জারি শুরু করা যায় না।
কোথায়: বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার · সময়: অবিলম্বে · আইন: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১১৭ (ছয় বছর); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৮ · কাগজপত্র: বিদেশি রায়ের তারিখ, কোনো আপিল বা পরিশোধের তারিখ
পরামর্শ: দেরি করাই সবচেয়ে সাধারণ এড়ানোযোগ্য ব্যর্থতা; বিদেশে আপিলের বিষয়গুলো গুছিয়ে আনার সময়েই বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করুন।
ধাপ ৪ · দাখিলের আগেসার্টিফায়েড কপি, অ্যাপোস্টিল ও অনুবাদ সংগ্রহ করুন
পাওনাদার বিদেশি আদালত থেকে ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি এবং ধারা ৪৪ক-এর জন্য সেই আদালতের একটি সনদ সংগ্রহ করেন, যেখানে কত টাকা পরিশোধ বা সমন্বয় হয়েছে তা উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে (Apostille Convention) যোগ দিয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর; ফলে কনভেনশনের অন্য কোনো সদস্য দেশের সরকারি দলিল বৈধকরণের বদলে সেই দেশের কর্তৃপক্ষের অ্যাপোস্টিল দিয়ে প্রত্যয়ন করা যায়। বিদ্যমান কয়েকটি সদস্য দেশ বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানিয়েছে, এবং সেসব দেশের সঙ্গে এখনো বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বৈধকরণ লাগে। ইংরেজি বা বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার দলিলের প্রত্যয়িত অনুবাদ প্রয়োজন।
কোথায়: বিদেশি অ্যাপোস্টিল কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ মিশন (বৈধকরণ) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৪ক(২); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৪; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৮(৬) ও ৮৬; হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন, ১৯৬১ (বাংলাদেশের জন্য ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর) · কাগজপত্র: ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, পরিশোধের সনদ (ধারা ৪৪ক(২)), অ্যাপোস্টিল বা বৈধকরণ, প্রত্যয়িত অনুবাদ
পরামর্শ: অ্যাপোস্টিল না বৈধকরণ, তা বেছে নেওয়ার আগে HCCH-এর স্ট্যাটাস টেবিলে দেখে নিন, রায় প্রদানকারী দেশটি বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি করেছে কি না।
ধাপ ৫ · দাখিলের আগেবাংলাদেশি আইনজীবী ও অ্যাটর্নি নিয়োগ করুন
বিদেশি পাওনাদার ওকালতনামার মাধ্যমে নিযুক্ত একজন বাংলাদেশি আইনজীবীর মাধ্যমে কাজ করেন, এবং সাধারণত একজন স্থানীয় অ্যাটর্নিও রাখেন, যিনি আরজি-জবাবে স্বাক্ষর ও সত্যপাঠ করতে এবং সাক্ষ্য দিতে পারেন। কোম্পানি হলে অ্যাটর্নিকে ক্ষমতা দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (board resolution) নেওয়া হয়। বিদেশে স্বাক্ষরিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাংলাদেশ মিশন বা নোটারির সামনে সম্পাদন করতে হয়, তারপর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যয়ন ও স্ট্যাম্প করাতে হয়। অ্যাটর্নির ক্ষমতায় ত্রুটি থাকায় আদালত মামলা নাকচ করেছেন, এমন নজির আছে; তাই এই ধাপে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।
কোথায়: বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩ বিধি ১-২ ও ৪; পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৫ · কাগজপত্র: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, ওকালতনামা
পরামর্শ: অ্যাটর্নির উচিত ঘটনা ব্যক্তিগতভাবে জানা বা দলিলের ওপর নির্ভর করা; কেবল মূল ব্যক্তি (principal) যা জানেন, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি সাক্ষ্য দিতে পারেন না।
ধাপ ৬ · পথ ক: ধারা ৪৪ক-এর অধীনে জারিজেলা আদালতে ডিক্রি জারির জন্য দাখিল করুন
পথ ক-তে পাওনাদার যে জেলায় দায়িক বাস করেন বা সম্পদ রাখেন, সেই জেলার জেলা জজ আদালতে প্রচলিত ফরমে জারির আবেদনের সঙ্গে ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি ও পরিশোধের সনদ দাখিল করেন। দাখিলের পর থেকে ডিক্রিটি এমনভাবে জারি করা যায়, যেন জেলা আদালতই তা দিয়েছেন। আবেদনে পাওনা অর্থ, দাবিকৃত সুদ, টাকায় রূপান্তর এবং কোন পদ্ধতিতে জারি চাওয়া হচ্ছে (যেমন নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা জমি ক্রোক) তা উল্লেখ করা হয়। জেলা জজ নিজে শুনানি করতে পারেন অথবা অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল) · সময়: ২-৪ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৪ক(১)-(২); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১০-১১ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, বিদেশি ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, পরিশোধের সনদ, সম্পদের তফসিল
পরামর্শ: আবেদনে সুনির্দিষ্ট সম্পদের নাম দিন; 'ডিক্রির অর্থ আদায় করা হোক' ধরনের সাধারণ প্রার্থনা ক্রোক প্রক্রিয়াকে ধীর করে।
ধাপ ৭ · পথ ক: ধারা ৪৪ক-এর অধীনে জারিদায়িককে নোটিশ
জারি এগোনোর আগে আদালত সাধারণত দায়িককে নোটিশ দেন, কেন ডিক্রি জারি করা হবে না তার কারণ দর্শাতে; ডিক্রির এক বছরের বেশি পরে আবেদন করা হলে এই নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমেও প্রসেস জারি করা যায়, যা দায়িক বা তার পরিচালকেরা বিদেশে থাকলে সহায়ক। দায়িক হাজির না হলে বা কারণ না দর্শালে আদালত জারি এগিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন। সম্পদ সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকলে পাওনাদার নোটিশের সঙ্গেই তাৎক্ষণিক ক্রোকের আবেদন করতে পারেন।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ২২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫ বিধি ৯(৩) (২০২৬ সালে সংশোধিত) · কাগজপত্র: কারণ দর্শানোর নোটিশ, ইলেকট্রনিক জারিসহ নোটিশ জারির প্রমাণ
পরামর্শ: শুরুতেই দায়িকের জানা সব ঠিকানা, ই-মেইল ও ফোন নম্বর আদালতকে দিন।
ধাপ ৮ · পথ ক: ধারা ৪৪ক-এর অধীনে জারিধারা ১৩-এর ভিত্তিতে আপত্তি
দায়িক যদি দেখাতে পারেন যে ডিক্রিটি ধারা ১৩-এর কোনো ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, তাহলে জেলা আদালত জারি নাকচ করতে বাধ্য: উপযুক্ত এখতিয়ার না থাকা; গুণাগুণের ভিত্তিতে না হওয়া; আন্তর্জাতিক আইনের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন স্বীকার করতে অস্বীকৃতি; স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন; প্রতারণা; অথবা বাংলাদেশের আইন লঙ্ঘনের ওপর প্রতিষ্ঠিত দাবি। প্রমাণের দায় দায়িকের। সার্টিফায়েড কপি দাখিল করা হলে আদালত ধরে নেন যে বিদেশি আদালতের এখতিয়ার ছিল। আদালত মূল বিরোধের গুণাগুণ নতুন করে শোনেন না, আর বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে এটাই এই পথের প্রধান সুবিধা।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৪ক(৩); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৩(ক)-(চ); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৪ · কাগজপত্র: লিখিত আপত্তি, বিদেশি মামলার আরজি-জবাব ও সমন জারির রেকর্ড, প্রাসঙ্গিক হলে বিদেশি আইনের সাক্ষ্য
পরামর্শ: ধারা ৪৪ক(৩)-এ এখনো ধারা ৪৭-এর উল্লেখ আছে, যা ১৯৮৩ সালে বিলুপ্ত হয়েছে; বাস্তবে আপত্তিগুলো আদেশ ২১-এর জারি কার্যক্রমের মধ্যেই শুনানি হয়।
ধাপ ৯ · পথ খ: রায়ের ভিত্তিতে মামলাপথ খ: বিদেশি রায়ের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করুন
ধারা ৪৪ক প্রযোজ্য না হলে পাওনাদার নতুন একটি অর্থ আদায়ের মামলা করেন, যার নালিশের কারণ (cause of action) হলো বিদেশি রায়টি। মামলা দায়ের হয় যেখানে বিবাদী বাস করেন বা ব্যবসা পরিচালনা করেন। মামলার মূল্যমান দিয়ে আদালত নির্ধারিত হয়: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, এবং এর ওপরে যুগ্ম জেলা জজ; বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর করার বেশির ভাগ মামলা এই শেষ শ্রেণিতে পড়ে। মূল বিরোধটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক বিরোধ হলে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাণিজ্যিক আদালত চালু থাকলে, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার পর মামলাটি সেখানে যায়।
কোথায়: রায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৩ ও ধারা ২০; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ (২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত); বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ), ধারা ৪ ও ধারা ৭; কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(i) · কাগজপত্র: আরজি, সার্টিফায়েড ও অ্যাপোস্টিলকৃত বিদেশি রায়, অনুবাদ, কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
পরামর্শ: বিকল্প হিসেবে মূল নালিশের কারণটিও আরজিতে উল্লেখ করুন, যাতে আদালত রায়টিকে ধারা ১৩-এর কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় পেলেও দাবি টিকে থাকে।
ধাপ ১০ · পথ খ: রায়ের ভিত্তিতে মামলারায়ের আগেই সম্পদ জব্দ করুন
মামলা বছরের পর বছর চলতে পারে, তাই বাদী প্রায়ই দায়েরের সময়েই রায়ের পূর্বে ক্রোকের (attachment before judgment) আবেদন করেন। আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে বিবাদী সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে সরিয়ে যেকোনো ডিক্রিতে বাধা দিতে বা বিলম্ব ঘটাতে চান, তাহলে বিবাদীকে জামানত দিতে নির্দেশ দিতে বা নির্দিষ্ট সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমেও নির্দিষ্ট জমি, শেয়ার বা ব্যাংক স্থিতির হস্তান্তর ঠেকানো যায়। সাম্প্রতিক হস্তান্তর বা পরিচালকদের বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রমাণ আবেদনকে শক্তিশালী করে।
কোথায়: রায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৮ বিধি ৫-৬; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯ বিধি ১-২ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ আবেদন, সম্পদ সরিয়ে ফেলার ঝুঁকির প্রমাণ, সম্পত্তির তফসিল
পরামর্শ: প্রথম শুনানিতেই অন্তর্বর্তীকালীন (ad interim) আদেশ চান; বিবাদীকে নোটিশ দেওয়াই অনেক সময় হস্তান্তরের সূত্রপাত ঘটায়।
ধাপ ১১ · পথ খ: রায়ের ভিত্তিতে মামলাজবাব, বিচার্য বিষয় ও বিচার
বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করেন, সাধারণত ধারা ১৩-এর এক বা একাধিক ব্যতিক্রমের ওপর নির্ভর করে; যেমন, তিনি কখনো বিদেশি আদালতের এখতিয়ার মেনে নেননি বলে এখতিয়ারের অভাব, গুণাগুণের ভিত্তিতে নয় এমন একতরফা রায়, অথবা প্রতারণা। আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করেন, মামলাটি মধ্যস্থতায় পাঠাতে পারেন, এবং হলফনামার মাধ্যমে জবানবন্দিসহ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বিদেশি আইন ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করতে হয়, সরকারি আইন প্রতিবেদন বা বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যের মাধ্যমে। ধারা ১৩ রায়টিকে তার সরাসরি নিষ্পত্তি করা বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত করে, তাই কোনো ব্যতিক্রম প্রতিষ্ঠিত না হলে গুণাগুণের পুনর্বিচার হয় না।
কোথায়: রায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৪ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৩; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৮ ও ৪৫ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, হলফনামায় জবানবন্দি, বিদেশি আইন প্রতিবেদন বা বিশেষজ্ঞ মতামত
পরামর্শ: সমন জারি ও রায়ের চূড়ান্ততা ব্যাখ্যা করে বিদেশি আইনজীবীর একটি সংক্ষিপ্ত হলফনামা প্রস্তুত রাখুন; এতে সবচেয়ে সাধারণ আপত্তিগুলোর জবাব মেলে।
ধাপ ১২ · পথ খ: রায়ের ভিত্তিতে মামলারায় ও বাংলাদেশি ডিক্রি
বাদী সফল হলে আদালত নিজের নামে খরচসহ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের তারিখ থেকে সুদসহ অর্থ-ডিক্রি দেন। বৈদেশিক মুদ্রার অঙ্কটি ডিক্রিতে কীভাবে প্রকাশ করা হবে এবং কোন তারিখে রূপান্তর হবে, তা আদালত নির্ধারণ করেন। এই পর্যায় থেকে পাওনাদারের হাতে একটি সাধারণ বাংলাদেশি ডিক্রি থাকে, যা অন্য যেকোনো ডিক্রির মতো জারি করা যায় এবং তার বিরুদ্ধে আর ধারা ১৩-এর আপত্তি তোলা যায় না। ধারা ১৩-এর কোনো ভিত্তিতে মামলা খারিজ হলে, তামাদিতে বারিত না হলে পাওনাদার তখনও মূল দাবি নিয়ে এগোতে পারেন।
কোথায়: রায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: বিচার শেষের ১-৩ মাস পর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ বিধি ১, ৪ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৩৪ · কাগজপত্র: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: ডিক্রিতে রূপান্তরের হার ও তারিখ উল্লেখ করতে আদালতকে অনুরোধ করুন; এতে জারির সময় পরবর্তী বিরোধ এড়ানো যায়।
ধাপ ১৩ · সম্পদের বিরুদ্ধে জারিদায়িকের সম্পদ ক্রোক ও বিক্রি করুন
যেকোনো পথেই ডিক্রি কার্যকর হয় আদেশ ২১-এর মাধ্যমে। আদালত নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ দিয়ে ব্যাংক হিসাব ও পাওনা ক্রোক করতে পারেন, শেয়ার ও জমি ক্রোক করতে পারেন, দায়িক বা তার কর্মকর্তাদের সম্পদ সম্পর্কে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন, এবং ক্রোককৃত সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করতে পারেন। ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যায়, এবং ২০২৬ সাল থেকে আদালত পুলিশের সহায়তা চাইতে পারেন। ২০২৬ সাল থেকে মামলার ডিক্রি মূল মামলার নথিতেই জারির আবেদন করা যায়। ধারা ৪৪ক-এর জারি যে জেলা আদালতে দাখিল হয়েছে, সেখানেই থাকে।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল) · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫১, ৫৫ ও ৬০; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ৪১, ৪৬, ৫৪, ৬৪-৬৬ ও ১০৪ (বিধি ১০৪ ২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৪ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত) · কাগজপত্র: ক্রোকের আদেশ, বিক্রয় ঘোষণাপত্র, নিলামের কাগজপত্র
পরামর্শ: ব্যাংক স্থিতি ও পাওনা সবচেয়ে দ্রুত নাগালে আসে; জমির নিলামে আপত্তি বেশি ওঠে এবং সময়ও বেশি লাগে।
ধাপ ১৪ · অর্থ আদায়আদায়কৃত অর্থ গ্রহণ ও বিদেশে পাঠানো
জারিতে আদায় হওয়া অর্থ আদালতে জমা হয় এবং পরে আবেদনের ভিত্তিতে ডিক্রিদারের আইনজীবী বা অ্যাটর্নিকে পরিশোধ করা হয়। বিদেশি পাওনাদার অর্থ বিদেশে নিতে চাইলে একটি অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠান, যে ব্যাংক বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিধি প্রয়োগ করে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়; ব্যাংক চাইলে কর ছাড়পত্রও লাগে। ডিক্রির দাবি পূর্ণ হলে আদালত সম্পূর্ণ পরিশোধ লিপিবদ্ধ করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শেষ হয়; বিদেশি আদালতে পরিশোধের তথ্য জানানো প্রয়োজন হলে পাওনাদারকে তা জানাতে হবে।
কোথায়: বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১-২; বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ · কাগজপত্র: অর্থ উত্তোলনের আবেদন, আদালতের আদেশ ও চেক, অর্থ প্রেরণের আবেদন, চাওয়া হলে কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র
পরামর্শ: অর্থ প্রেরণকারী ব্যাংকের কাছ থেকে আগেভাগেই কাগজপত্রের তালিকা জেনে নিন; অর্থ প্রেরণের প্রশ্নে শেষ ধাপ যেন আটকে না যায়।
যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল করলে কী হবে?
- 1জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল)
মামলার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল
সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, আর যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে মামলার মূল্যমান ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে জেলা জজের কাছে, ত্রিশ দিনের মধ্যে। ৫ কোটি টাকার ওপরে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে, নব্বই দিনের মধ্যে। বাণিজ্যিক আদালতের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয় হাইকোর্ট বিভাগে, ষাট দিনের মধ্যে। প্রথম আপিলে ধারা ১৩-এর প্রশ্নসহ ঘটনা ও আইন দুটোই নতুন করে শুনানি হয়।
দাখিলে ৩০-৯০ দিন; নিষ্পত্তিতে ১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (২০২১ সালে সংশোধিত)বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬(২)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২ ও ১৫৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
জারির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল
ধারা ৪৪ক-এর জারিতে কার্যবিধি যেসব আদেশকে আপিলযোগ্য করেছে, যেমন ক্রোককৃত সম্পত্তির দাবি বা বিক্রয় রদ-সংক্রান্ত আদেশ, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল জেলা জজ থেকে হাইকোর্ট বিভাগে যায়। আপিল করলেই জারি আপনা-আপনি বন্ধ হয় না। আপিলকারীকে সাধারণত স্থগিতাদেশ চাইতে হয়, এবং আদালত সচরাচর আগে ডিক্রির অর্থ বা জামানত জমা দিতে বলেন।
১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০৪ ও আদেশ ৪৩ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি বা জারির আদেশ বহাল, পরিবর্তিত বা রদ হয়, এবং মামলা রিভিশন, আপিলের অনুমতি বা জারির দিকে এগোয়।
জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল না চললে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন
বিদেশি ডিক্রি জারি মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করে দেওয়া জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল না চললে, ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়া যায়। ভিত্তি হতে হবে এমন আইনগত ভুল, যার ফলে ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হয়েছে; যেমন ধারা ১৩-এর ব্যতিক্রমগুলোর ভুল ব্যাখ্যা। জারি স্থগিতের আদেশসহ রুল জারি হতে পারে। মামলার ক্ষেত্রেও জেলা জজের আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধে একই পথ প্রযোজ্য, কারণ দ্বিতীয় আপিলের সুযোগ নেই।
১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ (discharged) হয়, এবং সে অনুযায়ী জারি আবার চলে বা শেষ হয়।
আদালত কি নিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল)
আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ
যে পক্ষ আপিল করেননি, তিনি নব্বই দিনের মধ্যে একই আদালতকে তার আদেশ বা ডিক্রি রিভিউ করতে বলতে পারেন। ভিত্তিগুলো সংকীর্ণ: যথাযথ তৎপরতা সত্ত্বেও আগে পাওয়া যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য (যেমন পরবর্তী কোনো বিদেশি আপিল রায়ে ডিক্রি রদ হওয়া), নথিদৃষ্টে স্পষ্ট ভুল, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ। বিদেশে বিদেশি ডিক্রি রদ হয়ে গেলে দায়িকের উচিত দ্রুত জারি স্থগিতের আবেদনও করা।
দাখিলে ৯০ দিন; ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আদেশ সংশোধিত হয়, অথবা রিভিউ নামঞ্জুর হয় এবং আপিল বা রিভিশনের পথ খোলা থাকে।
বিদেশি রায় সম্পর্কে কোনো আইনগত প্রশ্ন অস্পষ্ট হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স
বিচারিক আদালতের যদি কোনো আইনগত প্রশ্নে প্রকৃত সংশয় থাকে, যেমন কোনো বাংলাদেশি কোম্পানির ওপর বিদেশি আদালতের আন্তর্জাতিক এখতিয়ার ছিল কি না বা কোনো গেজেট প্রজ্ঞাপন কীভাবে পড়তে হবে, তাহলে আদালত বিষয়টি বিবৃত করে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স পাঠাতে পারেন। রেফারেন্স বিরল। এর মধ্যে অন্য বিচার্য বিষয়ে মামলা চলতে পারে, তবে উত্তরের ওপর নির্ভরশীল কোনো ডিক্রি দেওয়া হয় না।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩ - 2রায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ)
মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
হাইকোর্ট বিভাগ মতামত ফেরত পাঠালে বিচারিক আদালত সেই মতামত এবং বাকি ঘটনাবলির ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি করেন, যেমন বিদেশে আংশিক পরিশোধের পর এখনো কত পাওনা। এর ডিক্রি সাধারণ নিয়মে আপিলযোগ্য, তাই রেফারেন্সে নিষ্পত্তি হয়নি এমন বিষয়ে বিরোধটি আবার উচ্চতর আদালতের দিকে যেতে পারে।
১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের উত্তরের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়।
আপিল আদালত মামলাটি ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ডিক্রি রদ ও পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত (রিমান্ড)
বিচারিক আদালত যদি প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে মামলা খারিজ করে থাকেন, যেমন ভুলভাবে ধরে নিয়ে যে একতরফা রায় কখনো 'গুণাগুণের ভিত্তিতে' হতে পারে না, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দিতে পারেন। ২০২৬ সাল থেকে নথি পর্যাপ্ত হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রে, যেমন বিদেশি আইন বা সমন জারির অপরীক্ষিত সাক্ষ্য।
আপিলের রায়ের সঙ্গেদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫ (বিধি ২৪ ২০২৬ সালে সংশোধিত) - 2রায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ)
পুনর্বিচার ও নতুন ডিক্রি
বিচারিক আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন, নির্দেশিত অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন এবং নতুন ডিক্রি দেন। আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য গণ্য হতে থাকে। উচ্চ মূল্যমানের মামলায় নতুন ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়, তাই ফেরত পাঠানোয় সাধারণত এক থেকে দুই বছর যোগ হয়। জেলা জজ ফেরত পাঠালে তা আপিলে নয়, ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করতে হয়।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ১১৫(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে নতুন ডিক্রি হয়, যা আপিলে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসতে পারে।
মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন (সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল)
আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করেন। আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকলে অনুমতি দেওয়া হয়, যেমন বিদেশি একতরফা রায়ের ক্ষেত্রে ধারা ১৩-এর 'উপযুক্ত এখতিয়ার' বা 'স্বাভাবিক ন্যায়বিচার'-এর অর্থ। চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া যায়, সাধারণত অর্থ জমা দেওয়ার শর্তে। আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত এবং অধস্তন সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।
সিদ্ধান্তটি বিদেশি সালিশি রোয়েদাদ হলে কী হবে?
- 1জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল)
সালিশ আইন, ২০০১-এর অধীনে কার্যকরকরণ
ধারা ৪৪ক স্পষ্টভাবে সালিশি রোয়েদাদকে বাদ দিয়েছে, এমনকি কোনো বিদেশি আদালত রোয়েদাদটিকে রায়ে রূপান্তর করে থাকলেও। বিদেশি সালিশি রোয়েদাদ বরং জেলা জজ আদালতে আবেদনের মাধ্যমে, মূল বা প্রত্যয়িত রোয়েদাদ ও সালিশি চুক্তিসহ, কার্যবিধির অধীনে সেই আদালতের ডিক্রির মতো জারি করে কার্যকর করা হয়। স্বীকৃতি কেবল ধারা ৪৬-এর সীমিত ভিত্তিতে নাকচ করা যায়, যেমন অক্ষমতা, নোটিশের অভাব বা জননীতি (public policy)।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৪ক-এর ব্যাখ্যা ৩(খ)সালিশ আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৫-৪৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে আপিল বা রিভিশন
বিদেশি রোয়েদাদ স্বীকৃতি বা কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানানো আদেশের বিরুদ্ধে ধারা ৪৮-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। কার্যকরকরণ মঞ্জুর করা আদেশের বিরুদ্ধে আইনে কোনো আপিলের বিধান নেই, তাই পরাজিত দায়িক সাধারণত এর বদলে ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন চান। হাইকোর্ট বিভাগ একই সংকীর্ণ ভিত্তি প্রয়োগ করেন এবং সালিশের গুণাগুণ নতুন করে শোনেন না। এরপর চ্যালেঞ্জ কেবল অনুমতি সাপেক্ষে, আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে, আপিল বিভাগে যায়।
১-৩ বছরসালিশ আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৮(গ)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রোয়েদাদটি জারির মাধ্যমে কার্যকর হয়, অথবা ধারা ৪৬-এর কোনো ভিত্তিতে নাকচ হয়।
বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর করার দুটি প্রবেশপথ আছে। প্রজ্ঞাপিত পারস্পরিক ভূখণ্ডের উচ্চতর আদালতের অর্থ-ডিক্রি সরাসরি জেলা জজ আদালতে দাখিল করে ধারা ৪৪ক-এর অধীনে জারি করা হয়; জেলা জজ কেবল ধারা ১৩-এর ভিত্তিতেই তা নাকচ করতে পারেন। অন্য প্রতিটি বিদেশি রায়ের জন্য নতুন মামলা লাগে, এবং ২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ মূল্যমান অনুযায়ী আদালত নির্ধারণ করে: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, এবং এর ওপরে যুগ্ম জেলা জজ। তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক বিরোধ যায় বাণিজ্যিক আদালতে, যেখানে তা চালু আছে।
যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জেলা জজের কাছে এবং এর ওপরে হাইকোর্ট বিভাগে যায়; বাণিজ্যিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ষাট দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায়। প্রথম আপিলে ঘটনা ও আইন দুটোই নতুন করে শুনানি হয়। অন্যথায় হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ১১৫-এর অধীনে রিভিশনে আইনগত ভুল সংশোধন করেন। সবশেষে, কেবল অনুমতি সাপেক্ষে, আপিল বিভাগ বিষয়টি শোনেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত (ধারা ৪৪ক-এর জারি ও আপিল)
- প্রথম দফার আদালতরায়ের ভিত্তিতে মামলার জন্য প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সাধারণত যুগ্ম জেলা জজ) · বাণিজ্যিক আদালত (তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক বিরোধ)
- শুরু · আদালতের বাইরেবিদেশি আদালত ও বিদেশে অবস্থানরত রায়-পাওনাদার · বিদেশি অ্যাপোস্টিল কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ মিশন (বৈধকরণ) · বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
বাণিজ্যিক আদালত, ঢাকা
ঢাকা (আসন নিশ্চিত নয়)বাণিজ্যিক বিরোধ শুনানির জন্য বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ২৩ নং আইন)-এর অধীন গঠিত বিশেষায়িত আদালত।
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রতিস্থাপন করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা মহানগরের জন্য তিনটি বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়েছে, কিন্তু এগুলো বিচারকাজ শুরু করেছে কি না বা কোথায় বসে, কোনো সরকারি সূত্র তা নিশ্চিত করেনি। ততদিন বাণিজ্যিক মামলা ঢাকা জজ কোর্টের (১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা) সাধারণ দেওয়ানি আদালতে দায়ের করুন। দায়েরের আগে বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।
বিদেশি আদালত ও বিদেশে অবস্থানরত রায়-পাওনাদার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (হাইকমিশন, দূতাবাস ও কনস্যুলেট)
আপনি যে দেশে থাকেন, সেই দেশের বাংলাদেশ মিশন (একক কোনো ঠিকানা নেই)বিদেশে স্বাক্ষরিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, হলফনামা ও অন্যান্য দলিল সত্যায়ন করে, যাতে সেগুলো বাংলাদেশের আদালত বা অফিসে ব্যবহার করা যায়।
যে দেশে দলিলে স্বাক্ষর করবেন, সেই দেশের দায়িত্বে থাকা মিশন ব্যবহার করুন; মিশনের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। বিদেশে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণত ব্যবহারের আগে বাংলাদেশে (আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) স্ট্যাম্প ও প্রত্যয়ন করাতে হয়। সাক্ষাতের সময়, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য মিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট দেখুন।
বাংলাদেশি আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- বিদেশি রায় (Foreign judgment)
- বাংলাদেশের বাইরের এমন কোনো আদালতের রায়, যার বাংলাদেশে কোনো কর্তৃত্ব নেই (দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(৫)-(৬))।
- পারস্পরিক ভূখণ্ড (Reciprocating territory)
- ধারা ৪৪ক-এর উদ্দেশ্যে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত কোনো দেশ বা ভূখণ্ড, যার উচ্চতর আদালতের অর্থ-ডিক্রি সরাসরি জারি করা যায়।
- উচ্চতর আদালত (Superior court)
- গেজেট প্রজ্ঞাপনে নাম উল্লেখিত পারস্পরিক ভূখণ্ডের আদালতগুলো; সেই দেশের অন্য আদালতের ডিক্রি এর আওতায় পড়ে না।
- চূড়ান্ত রায় (Conclusive judgment)
- দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৩ অনুযায়ী, ছয়টি ব্যতিক্রমের কোনোটি প্রযোজ্য না হলে বিদেশি রায় তার সরাসরি নিষ্পত্তি করা বিষয়ে পক্ষগণের ওপর বাধ্যতামূলক।
- রায়ের ভিত্তিতে মামলা (Suit on the judgment)
- বাংলাদেশে নতুন একটি দেওয়ানি মামলা, যার নালিশের কারণ বিদেশি রায়টি নিজেই।
- অ্যাপোস্টিল (Apostille)
- ১৯৬১ সালের হেগ কনভেনশনের অধীনে উৎস দেশে জারি করা একটি সনদ, যা সরকারি দলিলের কনস্যুলার বৈধকরণের স্থলাভিষিক্ত হয়।
- রায়ের পূর্বে ক্রোক (Attachment before judgment)
- বিবাদী ভবিষ্যৎ ডিক্রিতে বাধা দিতে পারেন এমন আশঙ্কা থাকলে মামলা চলাকালে তার সম্পত্তি জব্দ রাখার আদেশ।
- ডিক্রিদার (Decree-holder)
- যে ব্যক্তি ডিক্রি কার্যকর করার অধিকারী; ঋণগ্রস্ত পক্ষকে বলা হয় দায়িক (judgment-debtor)।
বাংলাদেশে বিদেশি রায় কার্যকর: সাধারণ প্রশ্ন
যেকোনো বিদেশি রায় কি বাংলাদেশে সরাসরি কার্যকর করা যায়?
যুক্তরাজ্য কি পারস্পরিক ভূখণ্ড?
দায়িক কী কী আপত্তি তুলতে পারেন?
একতরফা রায় কি কার্যকর করা যায়?
মামলা শুরু করার জন্য কত সময় পাওয়া যায়?
অ্যাপোস্টিল লাগবে, নাকি দূতাবাসে বৈধকরণ করাতে হবে?
ঢাকায় কোন আদালত আমাদের মামলা শুনবেন?
আদায়ের পর টাকা কি বিদেশে পাঠানো যায়?
আইন ও উৎস
- Code of Civil Procedure 1908 (ss.2, 13, 14, 44A and Order XXI)
- Limitation Act 1908
- Evidence Act 1872 (ss.38, 78, 85, 86)
- Civil Courts Act 1887
- Commercial Courts Act 2026 (Act 23 of 2026)
- Arbitration Act 2001
- HCCH status table, Apostille Convention (Bangladesh: accession 29 July 2024, in force 30 March 2025)
- High Court Division, Writ Petition No. 12985 of 2021 (power of attorney executed abroad held invalid for non-compliance with Rule 10(5), Power of Attorney Rules 2015)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।