বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/সাংবিধানিক

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট বা জনস্বার্থমূলক মামলা (public interest litigation) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার ব্যবহার করে এমন কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যায়ের প্রতিকার চায়, যা বহু মানুষকে প্রভাবিত করে, যেমন নদী দখল, দূষণ, অনিরাপদ সরকারি সেবা বা রাষ্ট্রের বেআইনি কাজ। ১৯৯৬ সালে ড.

মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের পর থেকে, সরল বিশ্বাসে কাজ করা ও পর্যাপ্ত স্বার্থসম্পন্ন যেকোনো নাগরিক বা সংগঠন ব্যক্তিগত ক্ষতি ছাড়াই মামলা করতে পারেন। আদালত রুল জারি করেন, প্রায়ই অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ, এবং চলমান ম্যান্ডামাস (continuing mandamus) হিসেবে বছরের পর বছর মামলাটি চালু রাখতে পারেন, আদেশ পালনের প্রতিবেদন তলব করেন এবং আদেশ উপেক্ষিত হলে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেন; আপিল বিভাগে আপিল যায় অনুমতি (লিভ) সাপেক্ষে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
মামলার অধিকার (লোকাস স্ট্যান্ডাই) প্রতিষ্ঠা
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন বিশেষ মূল এখতিয়ার), সংশ্লিষ্ট শ্রেণির রিটের জন্য প্রধান বিচারপতি…
মূল আইন
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ক, ২১, ২৭, ৩১, ৩২, ৪৪, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১০৫, ১০৭, ১০৮, ১১১ ও ১১২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ…
সাধারণ সময়কাল
মোশন ও রুল: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ১-৫ বছর। চলমান ম্যান্ডামাস ও আদেশ পালনের তদারকি…
কে মামলা করতে পারেন
যেকোনো নাগরিক, সমিতি বা এনজিও, যারা সরল বিশ্বাসে কোনো জনস্বার্থের পক্ষে দাঁড়ায় এবং যাদের পর্যাপ্ত স্বার্থ আছে; অযাচিত…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: ধাপ ১, মামলার অধিকার (লোকাস স্ট্যান্ডাই) প্রতিষ্ঠা
    ধাপ ১ · দায়েরের আগে

    মামলার অধিকার (লোকাস স্ট্যান্ডাই) প্রতিষ্ঠা

    অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী একজন 'সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি' আবেদন করতে পারেন। ১৯৯৬ সালে নিষ্পত্তি হওয়া ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান মামলা, ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশে আপিল বিভাগ বলেন, এটি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: পর্যাপ্ত স্বার্থসম্পন্ন যে নাগরিক বা সমিতি সরল বিশ্বাসে কোনো জনস্বার্থের পক্ষে দাঁড়ায়, সে জনগণের ক্ষতির জন্য মামলা করতে পারে। সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি কোনো স্বার্থ নেই এমন অযাচিত হস্তক্ষেপকারী বা পথচারী এর যোগ্য নন। আইনজীবী আবেদনকারীর পূর্ব কার্যক্রম, উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তিগত অভিসন্ধি না থাকার বিষয়টি যাচাই করেন, কারণ প্রতিপক্ষ সবার আগে মামলার অধিকার (locus standi) নিয়েই প্রশ্ন তুলবে।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার ও আবেদনকারী সংগঠন · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও (২)(ক); ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ (১৯৯৭) ১৭ বিএলডি (এডি) ১, ২৫ জুলাই ১৯৯৬ তারিখে নিষ্পত্তি · কাগজপত্র: সংগঠনের গঠনতন্ত্র বা স্মারকলিপি, পিটিশন অনুমোদনকারী রেজোলিউশন, বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারীর কাজের রেকর্ড

    পরামর্শ: কোনো ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকলে তা খোলাখুলি প্রকাশ করুন। গোপন ব্যক্তিগত অভিসন্ধিই জনস্বার্থের পিটিশন হারানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায়।

  2. বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: ধাপ ২, জনআইনের লঙ্ঘন ও সঠিক প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করা
    ধাপ ২ · দায়েরের আগে

    জনআইনের লঙ্ঘন ও সঠিক প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করা

    রিট চলে কেবল প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। পিটিশনে দেখাতে হবে যে কোনো মৌলিক অধিকার, যেমন জীবনের অধিকার, যাকে আদালত স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অধিকারসহ ব্যাখ্যা করেন, অথবা কোনো সাংবিধানিক বা আইনগত দায়িত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনজীবী চিহ্নিত করেন কোন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিটি করপোরেশন বা সংস্থার ওপর আইনগত দায়িত্ব রয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বা প্রধান কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন। বেসরকারি দূষণকারী বা দখলদারদেরও প্রতিপক্ষ করা যায়, যাতে আদেশ তাদের ওপরও বাধ্যতামূলক হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার ও আবেদনকারী সংগঠন · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(৫); বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২ ও ১৮ক; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৪ · কাগজপত্র: সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি, গেজেট প্রজ্ঞাপন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিহ্নিতকারী সাংগঠনিক কাঠামো

    পরামর্শ: ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তার নাম দিন। সাধারণভাবে কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা কার্যকর করা কঠিন।

  3. বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: ধাপ ৩, গবেষণা ও প্রমাণ সংগ্রহ
    ধাপ ৩ · দায়েরের আগে

    গবেষণা ও প্রমাণ সংগ্রহ

    অনুচ্ছেদ ১০২-এর পিটিশন হলফনামা ও দলিলের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়, তাই জনস্বার্থের পিটিশনে মজবুত প্রমাণভিত্তি দরকার: সরকারি তথ্য, বিশেষজ্ঞ বা বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন, জরিপ, তারিখ ও স্থানসহ ছবি, মানচিত্র এবং প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। সরকারি সংস্থার কাছে থাকা তথ্য তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী চাওয়া যায়, এবং প্রত্যাখ্যানও নিজেই একটি কাজের প্রমাণ। আদালত কেবল সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন, এবং বিরোধপূর্ণ তথ্যগত প্রশ্ন রিট এখতিয়ারের জন্য উপযুক্ত নয়, তাই স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য উপকরণ গুরুত্বপূর্ণ।

    কোথায়: সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: বিশেষজ্ঞ বা বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন ও জবাব, তারিখযুক্ত ছবি ও মানচিত্র, প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

    পরামর্শ: এমন প্রমাণ সংগ্রহ করুন যা পাঁচ বছর পরও বিশ্বাসযোগ্য থাকবে, কারণ জনস্বার্থের মামলা প্রায়ই এত দীর্ঘ সময় তদারকি করা হয়।

  4. বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: ধাপ ৪, ন্যায়বিচার চেয়ে নোটিশ (ডিমান্ড অব জাস্টিস)
    ধাপ ৪ · দায়েরের আগে

    ন্যায়বিচার চেয়ে নোটিশ (ডিমান্ড অব জাস্টিস)

    ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়ার আগে আবেদনকারী সাধারণত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে আইনগত দায়িত্ব, লঙ্ঘনের প্রমাণ এবং একটি যুক্তিসংগত সময়সীমা জানান এবং প্রাপ্তির প্রমাণ রাখেন। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে মামলার প্রয়োজন নাও হতে পারে। দাবি উপেক্ষা বা প্রত্যাখ্যান করলে নোটিশ ও জবাব (যদি থাকে) সংযুক্তি হিসেবে দেখায় যে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জরুরি ক্ষেত্রে, যেমন কোনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আসন্ন ভাঙন বা গাছ কাটার ক্ষেত্রে, এই ধাপ সংক্ষিপ্ত বা বাদ দেওয়া যায়।

    কোথায়: সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ) · কাগজপত্র: ন্যায়বিচার চেয়ে নোটিশ, প্রাপ্তির প্রমাণ, জবাব (যদি থাকে)

    পরামর্শ: আইনগত ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে নোটিশটি দিন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অনুলিপি দিন।

  5. ধাপ ৫: পিটিশন ও প্রার্থিত নির্দেশনার খসড়া
    ধাপ ৫ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    পিটিশন ও প্রার্থিত নির্দেশনার খসড়া

    পিটিশনে ব্যাখ্যা করা হয় বিষয়টি কেন জনগুরুত্বপূর্ণ, আবেদনকারী ও তার স্বার্থের বিবরণ দেওয়া হয়, সংযুক্তিসহ ক্রমিক অনুচ্ছেদে তথ্য তুলে ধরা হয় এবং আইনগত ভিত্তি উল্লেখ করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রস্তাব করা: রুলের ধরন, ঘোষণা, এবং সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য নির্দেশনা, যেমন কমিটি গঠন, স্থাপনা অপসারণ, শোধনাগার স্থাপন, বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদেশ পালনের প্রতিবেদন দাখিল। অস্পষ্ট প্রার্থনায় অস্পষ্ট আদেশ আসে, যা কার্যকর করা কঠিন। পিটিশনে এটিও ব্যাখ্যা করা হয় কেন অন্য কোনো প্রতিকার পর্যাপ্ত নয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার ও আবেদনকারী সংগঠন · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও (২); সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া, সংযুক্তির সূচি, অন্তর্বর্তী নির্দেশনার খসড়া

    পরামর্শ: প্রতিটি নির্দেশনায় প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা চান। প্রতিবেদনই জনস্বার্থের মামলাকে সচল রাখে।

  6. ধাপ ৬: হলফনামা সম্পাদন ও দায়ের
    ধাপ ৬ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    হলফনামা সম্পাদন ও দায়ের

    আবেদনকারীর একজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি সুপ্রিম কোর্টে কমিশনার অব অ্যাফিডেভিটসের সামনে হলফনামা সম্পাদন করেন, যাতে উল্লেখ থাকে কোন তথ্য ব্যক্তিগত জ্ঞান থেকে, কোনটি নথি ও গবেষণা থেকে, আর কোনটি নিবেদন। পিটিশন, সংযুক্তি, কোর্ট ফি ও ওকালতনামা রিট শাখায় দাখিল করা হয়, যাচাই করে নম্বর দেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য অনুলিপি প্রস্তুত করা হয়। অনুচ্ছেদ ১০২-এর পিটিশন হলফনামার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয় বলে এখন দাখিল করা সংযুক্তিগুলোই বাস্তবে পুরো মামলার সাক্ষ্য, তাই প্রতিটি প্রতিবেদন ও ছবি পাঠযোগ্য, তারিখযুক্ত ও উৎসসহ হওয়া উচিত।

    কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের হলফনামা ও ফাইলিং শাখা · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: হলফকৃত হলফনামা, পিটিশন ও সংযুক্তি, কোর্ট ফি, ওকালতনামা, জারির অনুলিপি

    পরামর্শ: হলফকারীকে এমন কেউ হতে হবে যিনি গবেষণার দায় নিতে পারেন। মিথ্যা বা অসতর্ক হলফনামা উদ্দেশ্য ও সংগঠন উভয়েরই ক্ষতি করে।

  7. ধাপ ৭: অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ ও পিটিশন মোশন
    ধাপ ৭ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ ও পিটিশন মোশন

    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে একটি অনুলিপি জারি করা হয়, এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণির রিটের জন্য নির্ধারিত বেঞ্চে পিটিশনটি মোশন করা হয়। কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ উন্নয়ন কর্মসূচি বা জনস্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারলে অ্যাটর্নি জেনারেলকে যুক্তিসংগত নোটিশ দিয়ে আগে শুনতে হবে। মোশনে আবেদনকারীর অ্যাডভোকেট মামলার অধিকার ও যুক্তিগ্রাহ্য একটি জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যায় দেখান। বেঞ্চ পিটিশন নামঞ্জুর করতে পারেন, রুল নিশি জারি করতে পারেন, অথবা সিদ্ধান্তের আগে প্রতিপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২১ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(৪); বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের জারি-রসিদ, পিটিশন ও হলফনামা

    পরামর্শ: সর্বশেষ বেঞ্চ তালিকা যাচাই করুন। পরিবেশ বা জনআইন এখতিয়ারের বেঞ্চ সময়ে সময়ে বদলায়।

  8. ধাপ ৮: অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ রুল নিশি
    ধাপ ৮ · রুল, অন্তর্বর্তী নির্দেশনা ও তদন্ত

    অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ রুল নিশি

    সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করেন, যাতে প্রতিপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন তাদের নিষ্ক্রিয়তা বা কাজকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটে মোশনের আদেশে প্রায়ই অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও থাকে, যেমন বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ করা, নদী জরিপ করা, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা, অথবা নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা। চূড়ান্ত শুনানির অনেক আগেই এসব অন্তর্বর্তী নির্দেশনা প্রতিকারের বড় অংশ অর্জন করতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনেই · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক) ও (৩) · কাগজপত্র: রুল ও অন্তর্বর্তী নির্দেশনা জারির আদেশ

    পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফায়েড কপি নিন এবং প্রাপ্তির সিলসহ উল্লিখিত প্রত্যেক কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে জারি করুন।

  9. ধাপ ৯: আদালতের নির্দেশে তদন্ত বা কমিটি
    ধাপ ৯ · রুল, অন্তর্বর্তী নির্দেশনা ও তদন্ত

    আদালতের নির্দেশে তদন্ত বা কমিটি

    জনস্বার্থের মামলা প্রায়ই তথ্যের ওপর নির্ভর করে বলে হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই তদন্তের নির্দেশ দেন: জেলা প্রশাসকের জরিপ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত, অথবা সরকারি সংস্থা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন। তুরাগ নদী মামলায় দখলদার কারখানা নিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদনই রায়ের ভিত্তি হয়েছিল। প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়, এবং পক্ষগুলো এর বিরুদ্ধে আপত্তি দিতে পারে।

    কোথায়: আদালত-নিযুক্ত তদন্ত বা বিশেষজ্ঞ কমিটি (যেমন জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিশেষজ্ঞ) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২); বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: তদন্ত বা কমিটির প্রতিবেদন, প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি

    পরামর্শ: কেবল প্রতিপক্ষ সংস্থার কর্মকর্তা নয়, কমিটিতে একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রাখার আবেদন করুন।

  10. ধাপ ১০: জবাবি হলফনামা ও আদেশ পালন
    ধাপ ১০ · রুল, অন্তর্বর্তী নির্দেশনা ও তদন্ত

    জবাবি হলফনামা ও আদেশ পালন

    প্রতিপক্ষ কর্তৃপক্ষ জবাবি হলফনামা (affidavit-in-opposition) বা আদেশ পালনের হলফনামার (affidavit-in-compliance) মাধ্যমে উত্তর দেয়, তারা কী করেছে এবং তাদের আইনগত অবস্থান কী তা ব্যাখ্যা করে। ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি পক্ষ, যেমন কারখানার মালিক, ডেভেলপার বা ইজারাদার, পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করে নিজস্ব হলফনামা দাখিল করতে পারে, প্রায়ই আবেদনকারীর মামলার অধিকার বা তথ্য চ্যালেঞ্জ করে। আবেদনকারী জবাব দেন এবং পরিস্থিতি বদলালে অনুমতি নিয়ে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করতে পারেন। এ পর্যায়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশনার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তন করা হতে পারে, এবং বেঞ্চ আরও প্রতিবেদন তলব করতে পারেন। অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী পরে যুক্ত হওয়া কর্তৃপক্ষকেও আদালত নতুন নির্দেশনা দিতে পারেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-১২ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা, আদেশ পালনের হলফনামা, পক্ষভুক্তির আবেদন, প্রত্যুত্তরের হলফনামা

    পরামর্শ: প্রতিটি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা একটি সারণিতে অনুসরণ করুন: কে, কী, সময়সীমা, অবস্থা। বেঞ্চের কাছে এটি অত্যন্ত মূল্যবান।

  11. ধাপ ১১: চূড়ান্ত শুনানি
    ধাপ ১১ · চূড়ান্ত শুনানি ও রায়

    চূড়ান্ত শুনানি

    রুলটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য কার্যতালিকায় এলে আবেদনকারীর অ্যাডভোকেট হলফনামা, প্রতিবেদন ও সংযুক্তির ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যায়টি তুলে ধরেন, এবং প্রতিপক্ষ ও পক্ষভুক্ত পক্ষরা জবাব দেয়। আদালত অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শুনতে পারেন, যারা প্রায়ই সহায়তার জন্য আমন্ত্রিত জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট বা বিশেষজ্ঞ। বেঞ্চ সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব, লঙ্ঘনের প্রমাণ এবং কোন নির্দেশনা বাস্তবসম্মত ও কার্যকরযোগ্য তা বিবেচনা করেন। বড় জনস্বার্থের মামলায় শুনানি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ বছর পর ১-১০ দিনের শুনানি · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ · কাগজপত্র: লিখিত বক্তব্য, সংকলিত প্রতিবেদন ও নজির

    পরামর্শ: আদেশ পালনের একটি বাস্তবসম্মত সময়সূচি প্রস্তাব করুন। যা আসলে করা সম্ভব, আদালত তা আদেশ দিতে বেশি আগ্রহী।

  12. ধাপ ১২: রায়: ঘোষণা ও নির্দেশনা
    ধাপ ১২ · চূড়ান্ত শুনানি ও রায়

    রায়: ঘোষণা ও নির্দেশনা

    হাইকোর্ট বিভাগ রুল চূড়ান্ত (absolute) করেন বা খারিজ করেন। সফল রায়ে নিষ্ক্রিয়তাকে বেআইনি ঘোষণা করা হতে পারে, কর্তৃপক্ষকে দখল উচ্ছেদ, দূষণকারী শিল্প স্থানান্তর বা বিদ্যমান আইন প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, এবং কখনো কখনো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে আদালত তুরাগ নদীকে আইনি সত্তা (legal person) ঘোষণা করে এর সুরক্ষার নির্দেশ দেন। ট্যানারি মামলায় যেসব কারখানা স্থানান্তরিত হয়নি তাদের কাছ থেকে দৈনিক ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন। অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ব্যাখ্যা অধস্তন আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক, এবং অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী সব কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির দিন থেকে কয়েক মাস পর পর্যন্ত · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২); বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১ ও ১১২ · কাগজপত্র: নির্দেশনাসহ রায়, সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: কার্যকর নির্দেশনাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং প্রতিটি সময়সীমা ডায়েরিতে লিখে রাখুন; পরবর্তী আদেশ পালন ও আদালত অবমাননার আবেদনের ভিত্তি এগুলোই।

  13. ধাপ ১৩: চলমান ম্যান্ডামাস ও আদেশ পালনের প্রতিবেদন
    ধাপ ১৩ · আদেশ পালন ও চলমান ম্যান্ডামাস

    চলমান ম্যান্ডামাস ও আদেশ পালনের প্রতিবেদন

    অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন অনেক জনস্বার্থের মামলায় আদালত নথি বন্ধ করেন না। চলমান ম্যান্ডামাস হিসেবে বিষয়টি চালু রাখেন, কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট বিরতিতে অগ্রগতির প্রতিবেদন দিতে বলেন এবং আরও আদেশের জন্য মামলাটি কার্যতালিকায় আনেন। ২০১৯ সালে দায়ের হওয়া ঢাকার বায়ুদূষণ-সংক্রান্ত পিটিশন এর একটি উদাহরণ: জানুয়ারি ২০২৫-এ হাইকোর্ট বিভাগ আগের নয়টি নির্দেশনা সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের এই পর্যায় বছরের পর বছর চলতে পারে।

    কোথায়: সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: আদেশ পালনের প্রতিবেদন, আদেশ পালন বিষয়ে আবেদনকারীর মন্তব্য, সম্পূরক আদেশ

    পরামর্শ: মাঠপর্যায়ে তদারকি করুন এবং প্রতিটি আদেশ পালনের প্রতিবেদনের বিপরীতে প্রমাণভিত্তিক জবাব দাখিল করুন; চ্যালেঞ্জ না করা প্রতিবেদন যেমন আছে তেমনই গ্রহণ করা হয়।

  14. ধাপ ১৪: আরও নির্দেশনা ও সম্পূরক আবেদন
    ধাপ ১৪ · আদেশ পালন ও চলমান ম্যান্ডামাস

    আরও নির্দেশনা ও সম্পূরক আবেদন

    তথ্য বদলালে আবেদনকারী বা কর্তৃপক্ষ আরও নির্দেশনা, সময়সীমা পরিবর্তন বা স্পষ্টীকরণের জন্য আবেদন করতে পারে। আদালত নির্দেশনার পরিধি বাড়াতে পারেন, যেমন একটি নদী থেকে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো পর্যন্ত, অথবা খেলাপি কারখানার ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা উৎপাদন বন্ধের আদেশ দিয়ে নির্দেশনা কঠোর করতে পারেন। কর্তৃপক্ষ বারবার আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে আবেদনকারী নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির আবেদন করতে পারেন। এসব আবেদন মূল অনুচ্ছেদ ১০২-এর পিটিশনের মধ্যেই থাকে, তাই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত একই বেঞ্চ বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটটির নিয়ন্ত্রণ রাখেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: চলমান · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: আরও নির্দেশনার আবেদন, আদেশ পালন না করার প্রমাণ, হালনাগাদ প্রতিবেদন

    পরামর্শ: প্রতিটি শুনানিতে পুরো মামলা আবার না বলে ছোট ও সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপ চান।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

সরকার বা পক্ষভুক্ত কোনো পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (চেম্বার জজসহ)

    স্থগিতাদেশের আবেদন ও আপিলের অনুমতি

    পরাজিত পক্ষ, প্রায়ই সরকার বা ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রায় স্থগিতের জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করে এবং ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করে, যদি না হাইকোর্ট বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত মর্মে সনদ দিয়ে থাকেন। অনুমতি মঞ্জুর হলে পূর্ণ বেঞ্চে আপিলের শুনানি হয়। তুরাগ মামলায় আপিল বিভাগ ২০২০ সালে মিলগুলোর আপিল নিষ্পত্তি করেন, নদীর জমি উদ্ধার বহাল রেখে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের একটি অংশ বাদ দেন।

    ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২) ও (৩)সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ নির্দেশনাগুলো বহাল রাখেন, পরিবর্তন করেন বা বাতিল করেন, এবং এর রায় সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

রিভিউ · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

আদালত কি নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ

    দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৪৭-এর নীতি প্রয়োগ করে হাইকোর্ট বিভাগকে নিজের রিট রায় রিভিউ করতে বলা যায়। রিভিউ সীমাবদ্ধ থাকে নথিতে সুস্পষ্ট ভুল, অথবা আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিষয়ে; এটি নতুন শুনানি নয়। পরিস্থিতি বদলানোর কারণে চলমান নির্দেশনা সমন্বয়ের অনুরোধ বরং তদারকি বেঞ্চের কাছেই করতে হয়।

    ৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১ (নীতি প্রয়োগ)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (চেম্বার জজসহ)

    অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন রিভিউ

    কোনো পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগকে নিজের রায় রিভিউ করতে বলতে পারে, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর অনুরূপ ভিত্তিতে, যেমন নথিতে সুস্পষ্ট ভুল। পিটিশনে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর থাকতে হবে, যিনি কারণসহ মতামতে প্রত্যয়ন করবেন যে রিভিউ যৌক্তিক, এবং কেবল একবারই রিভিউ করা যায়।

    ৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১, ২, ৪ ও ৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নথিতে সুস্পষ্ট ভুল দেখানো না গেলে রায় বহাল থাকে।

রেফারেন্স · হাইকোর্ট বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    তৃতীয় বিচারপতির কাছে রেফারেন্স

    রিট বেঞ্চ সাধারণত দুজন বিচারপতি নিয়ে বসেন। রুল বিষয়ে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন রায় দিলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির সামনে উপস্থাপন করা হয়, যিনি শুনানির জন্য তৃতীয় একজন বিচারপতি মনোনীত করেন, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর পরাজিত পক্ষ স্বাভাবিক পথে আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে। রেফারেন্স নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্দেশনাগুলো বহাল রাখা যেতে পারে।

    ৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থার নিষ্পত্তি করেন, এবং মামলাটি আপিল বিভাগে যেতে পারে।

রিমান্ড (ফেরত) · আপিল বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

আপিল বিভাগ মামলাটি ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (চেম্বার জজসহ)

    প্রাথমিক প্রশ্নে সিদ্ধান্তের পর পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত

    হাইকোর্ট বিভাগ যদি মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়ে মামলার অধিকারের মতো প্রাথমিক প্রশ্নে জনস্বার্থের পিটিশন নামঞ্জুর করেন, তবে আপিল বিভাগ তা বাতিল করে পিটিশনটি শুনানির জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন। ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান মামলায় ঠিক এটিই ঘটেছিল: হাইকোর্ট বিভাগ বলেছিলেন পরিবেশ আইনজীবী সমিতির মামলার অধিকার নেই, আর আপিল বিভাগ তা উল্টে দিয়ে মূল বিষয়ে শুনানির জন্য পিটিশনটি ফেরত পাঠান।

    আপিলের রায়ের সঙ্গে আদেশবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ (১৯৯৭) ১৭ বিএলডি (এডি) ১, ২৫ জুলাই ১৯৯৬ তারিখে নিষ্পত্তি
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    মূল বিষয়ে শুনানি ও আবার ওপরে

    হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনটি পুনরুজ্জীবিত করেন, মূল বিষয়ে শুনানি করে নতুন রায় দেন, যাতে অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত নির্দেশনা থাকতে পারে। যেকোনো পক্ষ আবার আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে, ফলে মামলাটি আবার ওপরে উঠতে পারে, এবার মামলার অধিকার নয়, মূল বিষয়ের ওপর।

    ৬-৩৬ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পিটিশনটি মূল বিষয়ে নিষ্পত্তি হয় এবং অনুমতি সাপেক্ষে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।

বিকল্প পথ · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

জনস্বার্থের রায়ের বিরুদ্ধে কি রিভিশন বা একই আদালতের ভেতরে আপিল চলে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (চেম্বার জজসহ)

    রিভিশন নেই; যেতে হবে ওপরে

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর দেওয়ানি রিভিশন চলে অধস্তন আদালতের বিরুদ্ধে, হাইকোর্ট বিভাগের নিজের বিরুদ্ধে নয়, এবং এক রিট বেঞ্চ থেকে আরেক রিট বেঞ্চে কোনো আপিল নেই। তাই জনস্বার্থের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিশন চাইতে পারে না। পথগুলো হলো আপিল বিভাগে অনুমতি, নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের ভিত্তিতে সংকীর্ণ রিভিউ, অথবা পরিস্থিতি বদলালে চলমান নির্দেশনা পরিবর্তনের জন্য একই বেঞ্চে আবেদন।

    রায়ের পরপরইদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: চ্যালেঞ্জ যায় আপিল বিভাগে, আর ব্যবহারিক সমন্বয় যায় তদারকি বেঞ্চে।

বিকল্প পথ · কর্তৃপক্ষ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা উপেক্ষা করলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আদালত অবমাননার কার্যধারা

    কর্তৃপক্ষ বা পক্ষভুক্ত পক্ষ নির্দেশনা অমান্য করলে আবেদনকারী আদেশ, জারির প্রমাণ ও আদেশ পালন না করার প্রমাণ সংযুক্ত করে আদালত অবমাননার পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে অবমাননার রুল জারি করেন, এবং তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে তলব করতে পারেন। কর্মকর্তারা সাধারণত আদেশ পালন করেন বা ক্ষমা চান; না করলে আদালত তাঁদের শাস্তি দিতে পারেন। অবমাননার দণ্ডের বিরুদ্ধে অধিকারবলে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।

    ২-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কর্তৃপক্ষ আদেশ পালন করে, অথবা দায়ী কর্মকর্তারা আদালত অবমাননার শাস্তির মুখোমুখি হন।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট আদালত ব্যবস্থার শীর্ষ থেকেই শুরু হয়। অনুচ্ছেদ ১০২-এর এখতিয়ার কেবল হাইকোর্ট বিভাগের, তাই কোনো নিম্ন আদালত, আর্থিক সীমা বা মূল্যায়ন নেই। মামলা চলবে কি না তা নির্ধারণ করে বিষয়বস্তু ও আবেদনকারী: প্রতিপক্ষকে সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে কর্মরত ব্যক্তি হতে হবে, আবেদনকারীর পর্যাপ্ত স্বার্থ থাকতে হবে ও সরল বিশ্বাসে কাজ করতে হবে, আর চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় যায় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে। হাইকোর্ট বিভাগ মৌখিক সাক্ষ্য নয়, হলফনামা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন, এবং চলমান ম্যান্ডামাসের মাধ্যমে বছরের পর বছর আদেশ পালন তদারকি করতে পারেন। কোনো রিভিশন বা একই আদালতের ভেতরে আপিল নেই।

আপিল বিভাগ অনুমতি সাপেক্ষে আপিল শোনেন, অথবা হাইকোর্ট বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত মর্মে সনদ দিলে বা অবমাননার দণ্ড দিলে অধিকারবলে। আপিল বিভাগ আইনগত প্রশ্ন নতুন করে শোনেন, অনুচ্ছেদ ১০৪ অনুযায়ী পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন, অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী এর রায় সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (চেম্বার জজসহ)
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার ও আবেদনকারী সংগঠন · সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর) · আদালত-নিযুক্ত তদন্ত বা বিশেষজ্ঞ কমিটি (যেমন জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিশেষজ্ঞ) · সুপ্রিম কোর্টের হলফনামা ও ফাইলিং শাখা
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার ও আবেদনকারী সংগঠন

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা

ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)

জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

দায়েরের আগে
১–৩ মাস
দায়ের ও মোশন শুনানি
০.২৫–১ মাস
রুল, অন্তর্বর্তী নির্দেশনা ও তদন্ত
২–১২ মাস
চূড়ান্ত শুনানি ও রায়
৬–৬০ মাস
আদেশ পালন ও চলমান ম্যান্ডামাস
৬–১২০ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১৫.২৫–১৯৬ মাস · সামগ্রিক: মোশন ও রুল: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ১-৫ বছর। চলমান ম্যান্ডামাস ও আদেশ পালনের তদারকি: প্রায়ই ২-১০ বছর। আপিল বিভাগে লিভ ও আপিল: ১-৩ বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

জনস্বার্থমূলক মামলা (Public interest litigation)
নিছক ব্যক্তিগত ক্ষতির বদলে জনগণ বা এর একটি অংশকে প্রভাবিত করে এমন অন্যায়ের প্রতিকারে আনা মামলা।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি (Person aggrieved)
মামলার অধিকার নির্ধারণে অনুচ্ছেদ ১০২-এর মানদণ্ড, যার মধ্যে জনস্বার্থে পর্যাপ্ত স্বার্থসম্পন্ন সরল বিশ্বাসী আবেদনকারীও অন্তর্ভুক্ত।
রুল নিশি (Rule Nisi)
প্রতিপক্ষকে কারণ দর্শানোর আদেশ, কেন প্রার্থিত প্রতিকার দেওয়া হবে না।
চলমান ম্যান্ডামাস (Continuing mandamus)
এমন একটি চর্চা, যেখানে আদালত রায়ের পরও মামলা চালু রাখেন এবং নিয়মিত প্রতিবেদন ও আরও নির্দেশনার মাধ্যমে আদেশ পালন তদারকি করেন।
অন্তর্বর্তী নির্দেশনা (Interim directions)
রুল বিচারাধীন থাকাকালে দেওয়া আদেশ, যেমন কমিটি গঠন বা কোনো কার্যক্রম বন্ধ করা।
অ্যামিকাস কিউরি (Amicus curiae)
জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্নে সহায়তার জন্য আদালত কর্তৃক আমন্ত্রিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞ।
স্বতঃপ্রণোদিত (Suo motu)
পিটিশন ছাড়াই আদালতের নিজ উদ্যোগে নেওয়া ব্যবস্থা, যেমন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
আদালত অবমাননা (Contempt)
আদালতের আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা, যা অনুচ্ছেদ ১০৮ ও আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ অনুযায়ী দণ্ডনীয়।
প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে জনস্বার্থে মামলা কে করতে পারেন?
১৯৯৬ সালে ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরল বিশ্বাসে কাজ করা ও বিষয়টিতে পর্যাপ্ত স্বার্থসম্পন্ন যেকোনো নাগরিক, সমিতি বা এনজিও বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট করতে পারেন। অনধিকারচর্চাকারী বা গোপন ব্যক্তিগত অভিসন্ধিসম্পন্ন কেউ এর যোগ্য নন। হেবিয়াস কর্পাস ও কো ওয়ারেন্টোর ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন, এবং হাইকোর্ট বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবেও ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কোন ধরনের বিষয়ে বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট করা যায়?
যেসব বিষয়ে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বহু মানুষকে প্রভাবিত করে এমন সাংবিধানিক বা আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোই বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের উপযুক্ত বিষয়: নদী দখল, শিল্পদূষণ, বায়ুর মান, অনিরাপদ ভবন, বন্দীদের অধিকার, জনস্বাস্থ্য ও অনুরূপ বিষয়। ব্যক্তিদের মধ্যে জমির মালিকানার মতো বিরোধপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর বিরোধ সাধারণত উপযুক্ত নয়, এবং চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় যায় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে।
মামলা দায়েরের কি কোনো সময়সীমা আছে?
কোনো আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, তবে বিলম্ব গুরুত্বপূর্ণ। চলমান দূষণ বা দখলের মতো চলমান অন্যায়ের ক্ষেত্রে অন্যায় প্রতিদিন নতুন করে ঘটে, তাই বিলম্ব ততটা সমস্যা নয়। কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হলে দ্রুত পিটিশন দাখিল করা উচিত এবং কোনো ফাঁক থাকলে হলফনামায় তা ব্যাখ্যা করা উচিত।
আদালত কি তদন্তের আদেশ দিতে পারেন?
হ্যাঁ। হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা বিশেষজ্ঞ কমিটিকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তাদের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেন। তুরাগ নদী মামলায় কারখানার দখল নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদন রায়ের ভিত্তি হয়েছিল। পক্ষগুলো এ ধরনের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করতে পারে।
চলমান ম্যান্ডামাস কী?
রায়ের পর মামলা বন্ধ না করে আদালত তা চালু রাখেন, কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট বিরতিতে আদেশ পালনের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন এবং প্রয়োজনমতো আরও নির্দেশনা দেন। পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলায় এটি সাধারণ, যেমন ঢাকার বায়ুদূষণ ও হাজারীবাগ ট্যানারি মামলা, এবং বছরের পর বছর চলতে পারে।
বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটে কত সময় লাগে?
অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ মোশন ও রুল কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে আসতে পারে। বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে সাধারণত এক থেকে পাঁচ বছর লাগে, এবং এরপরও বহু বছর আদেশ পালনের তদারকি চলতে পারে। আপিল বিভাগে আপিলে আরও এক থেকে তিন বছর যোগ হয়। এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা।
সরকার আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করলে কী হবে?
অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী সব কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য। নির্দেশনা উপেক্ষিত হলে আবেদনকারী আদালত অবমাননার পিটিশন দাখিল করতে পারেন, এবং হাইকোর্ট বিভাগ দায়ী কর্মকর্তাদের তলব করে আদেশ পালন বা ব্যাখ্যা না দিলে শাস্তি দিতে পারেন। অবমাননার দণ্ডের বিরুদ্ধে অধিকারবলে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।
পরাজিত পক্ষ কি আপিল করতে পারে?
হ্যাঁ, আপিল বিভাগে। হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত মর্মে সনদ না দিলে ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করতে হবে। চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া যায়। আপিল বিভাগ নির্দেশনাগুলো বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন এবং অনুচ্ছেদ ১০৪ অনুযায়ী পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন।

আইন ও উৎস

  1. Constitution of Bangladesh (Articles 102-105, 108, 111 and 112) — laws.sayed.app mirror of Laws of Bangladesh
  2. Appellate Division, Dr Mohiuddin Farooque v Bangladesh (Flood Action Plan case), (1997) 17 BLD (AD) 1, decided 25 July 1996 — ELAW
  3. The Daily Star — SC clears the way for recovering Turag land (4 February 2020)
  4. The Financial Express — HC orders action to curb air pollution in Dhaka in 7 days (12 January 2025)
  5. The Daily Star — Pay fine until relocation (Hazaribagh tanneries, 16 June 2016)
  6. Contempt of Courts Act 1926 — laws.sayed.app mirror
  7. Supreme Court of Bangladesh — official website (cause lists, bench lists and judgments)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp