বাংলাদেশে জাহাজ সংঘর্ষ মামলা ও স্যালভেজ দাবি: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে জাহাজ সংঘর্ষ মামলা দুই পথে চলে: নৌপরিবহন অধিদপ্তর বা তদন্ত আদালতের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সরকারি তদন্ত, এবং অ্যাডমিরালটি কোর্ট (Admiralty Court) হিসেবে বসা হাইকোর্ট বিভাগে ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি দাবি। দেওয়ানি দাবির সঙ্গে সাধারণত অপর জাহাজটি আটকের আবেদন থাকে, এবং আদালত বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী প্রতিটি জাহাজের দোষের অনুপাতে দায় ভাগ করে দেয়।
স্যালভেজ (উদ্ধার) ও টোয়েজ (টানা) দাবিও একই অ্যাডমিরালটি পথে চলে; তবে ছোট স্যালভেজ বিরোধ যায় জেলা জজের কাছে।
- কোথা থেকে শুরু
- দুর্ঘটনার রিপোর্ট ও তদন্তের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর (প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট, চট্টগ্রাম)…
- মূল আইন
- অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০, ধারা ৩(২)(ঘ)-(চ), (ঝ), (ঞ), ৪, ৫ ও ৮; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩, ধারা ৩৬৮-৩৭৯…
- সাধারণ সময়কাল
- দুর্ঘটনার রিপোর্ট: অবিলম্বে। প্রাথমিক তদন্ত: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। আটক ও জামানত: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ।…
- কে মামলা করতে পারেন
- ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও তার মালামালের মালিক, স্থলাভিষেকের (subrogation) সূত্রে তাদের বিমাকারী, জেটি ও পাইপলাইনের মতো…
জাহাজ সংঘর্ষ মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দুর্ঘটনার ঠিক পরেসহায়তা, রেকর্ড ও দুর্ঘটনার রিপোর্ট
সংঘর্ষের পর প্রত্যেক মাস্টারকে, নিজের জাহাজের বিপদ না ঘটিয়ে সম্ভব হলে, অপর জাহাজের পাশে থেকে সাহায্য করতে হবে এবং জাহাজের নাম ও বন্দর বিনিময় করতে হবে, অফিশিয়াল লগে সংঘর্ষের বিবরণ লিখতে হবে, এবং সরকার-নিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে নৌ-দুর্ঘটনার নোটিশ দিতে হবে, যিনি প্রিন্সিপাল অফিসারকে জানান। সাহায্য না করলে কারাদণ্ড এবং মাস্টারের সনদ স্থগিত হতে পারে, আর রিপোর্ট না করলে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা জরিমানা। উপকূলের কাছে চরে আটকে যাওয়া ও গুরুতর ক্ষতির ক্ষেত্রেও একই রিপোর্টের দায়িত্ব প্রযোজ্য।
কোথায়: নৌপরিবহন অধিদপ্তর (প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট) · সময়: অবিলম্বে · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭২-৩৭৩; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪১৫ · কাগজপত্র: অফিশিয়াল লগের এন্ট্রি, দুর্ঘটনার রিপোর্ট, মাস্টারের নোট অব প্রোটেস্ট
পরামর্শ: লগের এন্ট্রি পরে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অসতর্ক বা দেরিতে করা এন্ট্রি মালিকের মামলার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
ধাপ ২ · দুর্ঘটনার ঠিক পরেনৌচালনার প্রমাণ সংরক্ষণ
সংঘর্ষের মামলা নিষ্পত্তি হয় কারিগরি প্রমাণের ভিত্তিতে, তাই মালিকের আইনজীবী ও পিঅ্যান্ডআই করেসপন্ডেন্ট দ্রুত তা সুরক্ষিত করেন। ভয়েজ ডেটা রেকর্ডারের তথ্য মুছে যাওয়ার আগেই সংরক্ষণ করতে হবে, এবং ইলেকট্রনিক চার্ট, রাডার ও AIS রেকর্ড, ইঞ্জিন ও ব্রিজের লগ, কোর্স রেকর্ডারের প্রিন্টআউট এবং VHF রেকর্ডিং ডাউনলোড করা হয়। স্মৃতি টাটকা থাকতেই ক্রুদের বিবৃতি নেওয়া হয় এবং ক্ষতির সার্ভে করা হয়। বন্দর ও পাইলটের রেকর্ড এবং উপকূলীয় রাডার বা VTS-এর তথ্য লিখিতভাবে চাওয়া হয়।
কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: প্রথম ২৪-৭২ ঘণ্টা · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭৯(৫); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৬৮-৩৬৯ (সংঘর্ষ প্রতিরোধ বিধিমালা) · কাগজপত্র: VDR ও ECDIS ডেটা, ডেক ও ইঞ্জিন লগবুক, AIS ট্র্যাক, ক্ষতির সার্ভে রিপোর্ট
পরামর্শ: প্রথম দিনেই লিখিত নোটিশ দিয়ে প্রিন্সিপাল অফিসার ও অপর পক্ষকে তাদের VDR-ও সংরক্ষণ করতে বলুন।
ধাপ ৩ · সরকারি তদন্তপ্রিন্সিপাল অফিসারের প্রাথমিক তদন্ত
নৌ-দুর্ঘটনার খবর পেলে প্রাথমিক তদন্ত করা যেতে পারে, এবং সরকার নির্দেশ দিলে তা করতেই হবে। উপকূলে বা উপকূলের কাছে দুর্ঘটনা হলে ঘটনাস্থলের বা নিকটবর্তী প্রিন্সিপাল অফিসার, অথবা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো সার্ভেয়ার তদন্ত করেন, এবং সরকার অন্য কাউকেও নিয়োগ করতে পারে। তদন্তকারী জাহাজে উঠে পরিদর্শন করতে, সাক্ষীদের তলব করে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং লগবুক ও কাগজপত্র চাইতে পারেন। প্রতিবেদন সরকারের কাছে যায় এবং পরবর্তী যেকোনো ব্যবস্থার ভিত্তি হয়।
কোথায়: নৌপরিবহন অধিদপ্তর (প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট) · সময়: ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪১৬ · কাগজপত্র: সাক্ষীদের প্রতি সমন, লগবুক ও চার্ট, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন
পরামর্শ: তদন্ত দেওয়ানি বিচার নয়, তবে এখানে দেওয়া বক্তব্য প্রায়ই ক্ষতিপূরণের মামলায় আবার ব্যবহার হয়। সাক্ষীদের ভালোভাবে প্রস্তুত করুন।
ধাপ ৪ · সরকারি তদন্তবিচারিক তদন্ত বা মেরিন কোর্ট
সরকার বিচারিক তদন্ত প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত নিলে একজন কর্মকর্তা এ উদ্দেশ্যে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন, এবং তিনি তদন্ত করতে বাধ্য। আদালত মাস্টার, মেট বা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা বা অসদাচরণের অভিযোগের বিচার করতে পারে এবং সিদ্ধান্ত সরকারকে জানায়, যা সনদ বাতিল বা স্থগিত করতে পারে। অভ্যন্তরীণ নৌযানের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবিলম্বে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেন, এবং অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেরিন কোর্টে হতে পারে। মেরিন কোর্ট অ্যাসেসরদের নিয়ে বসে এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।
কোথায়: তদন্ত আদালত (বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট) বা মেরিন কোর্ট · সময়: ৩-১৮ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪১৭, ৪১৮, ৪২৫ ও ৪৩৪; অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর ধারা ৪৫-৫৩ · কাগজপত্র: ঘটনার বিবরণী (স্টেটমেন্ট অব দ্য কেস), রেকর্ড করা সাক্ষ্য, সরকারের কাছে আদালতের প্রতিবেদন
পরামর্শ: তদন্তে দায়িত্ব নির্ধারিত হয় কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্দেশ্যে। মালিকদের দেওয়ানি দায় আলাদাভাবে অ্যাডমিরালটি কোর্ট নির্ধারণ করে।
ধাপ ৫ · দাবি, আটক ও জামানতদাবি সাজানো ও সময়সীমা যাচাই
আইনজীবী অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর আওতায় দাবির খাতগুলো চিহ্নিত করেন: জাহাজের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি (ধারা ৩(২)(ঘ)), জাহাজের লাগা ক্ষতি (ঙ), প্রাণহানি বা ব্যক্তিগত আঘাত (চ), এবং স্যালভেজ (ঝ) বা টোয়েজ (ঞ)। বাংলাদেশে জাহাজ সংঘর্ষ মামলা সংঘর্ষের দুই বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে। ধারা ৫ আরও বলে, ব্যক্তির বিরুদ্ধে (in personam) মামলা কেবল তখনই চলবে, যখন বিবাদী বাংলাদেশে বসবাস বা ব্যবসা করেন, সংঘর্ষ বাংলাদেশের জলসীমা বা বন্দরে ঘটেছে, অথবা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমা আগে থেকেই আদালতে আছে।
কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ঘ)-(চ), (ঝ), (ঞ); অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৫; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৩৬; Kuwait Oil Tanker Co বনাম LCT Shakti Sanchar, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ২৪/২০২১ (২৭ নভেম্বর ২০২৫) · কাগজপত্র: দাবির তফসিল, মেরামতের প্রাক্কলন, তামাদির হিসাব
পরামর্শ: দুই বছরের হিসাব চলে আরজি বিচারকের সামনে উপস্থাপনের তারিখ পর্যন্ত, দপ্তরে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত নয়। ২০২৫ সালে শেষ দিনে জমা দেওয়া কিন্তু কয়েক বছর পরে প্রথম তালিকাভুক্ত হওয়া একটি মোকদ্দমা খারিজ হয়েছে।
ধাপ ৬ · দাবি, আটক ও জামানতস্যালভেজ দাবি: জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ
উপকূলে বা উপকূলের কাছে জীবন, জাহাজ, মালামাল বা ভগ্নাবশেষ রক্ষাকারী উদ্ধারকারী সব পরিস্থিতি বিবেচনায় মালিকের কাছ থেকে যুক্তিসংগত অর্থ পাওয়ার অধিকারী, এবং জীবন রক্ষার পারিশ্রমিক অন্য স্যালভেজের আগে অগ্রাধিকার পায়। অর্থের পরিমাণ নিয়ে বিরোধ হলে দাবি ১ লাখ টাকা বা তার কম হলে আবেদন যায় জেলা জজের কাছে, বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। একাধিক উদ্ধারকারীর মধ্যে পারিশ্রমিক বণ্টনও সেই আদালতই করে। বড় স্যালভেজ দাবি সাধারণত উদ্ধার করা জাহাজ ও মালামালের বিরুদ্ধে (in rem) অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা হিসেবে আনা হয়।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (১ লাখ টাকা পর্যন্ত স্যালভেজ) · সময়: ৩-২৪ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৬৮; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ঝ) ও (৪) · কাগজপত্র: স্যালভেজ চুক্তি বা সেবার লগ, উদ্ধার করা সম্পত্তির মূল্যায়ন, আবেদন বা আরজি
পরামর্শ: সরকারি ও নৌবাহিনীর জাহাজও স্যালভেজ দাবি করতে পারে (ধারা ৪৬৮(৩)), কিন্তু তাদের নিজেদের জাহাজ আটক করা যায় না (২০০০ সালের আইনের ধারা ৯)।
ধাপ ৭ · দাবি, আটক ও জামানতঅ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা দায়ের
দাবিদার অ্যাডমিরালটি কোর্টে সত্যপাঠসহ আরজি দাখিল করেন: অপর জাহাজের বিরুদ্ধে in rem এবং তার মালিক, ব্যবস্থাপক ও মাস্টারের বিরুদ্ধে in personam, আর বন্দর ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে মোকাবিলা বিবাদী (pro forma) হিসেবে যুক্ত করা হয়। আরজিতে নৌচালনার বিস্তারিত বিবরণ, সংঘর্ষ প্রতিরোধ বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্ত ত্রুটি এবং ক্ষতির হিসাব থাকে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালত বলেছে, আরজি গ্রহণের জন্য সভাপতিত্বকারী বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হলেই কেবল তামাদির সময় থামে, তাই দুই বছরের মধ্যেই আরজি বিচারকের সামনে মুভ করতে হবে। কোর্ট ফি সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৬-৮; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৩)-(৪); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩ · কাগজপত্র: সত্যপাঠসহ আরজি, আটকের আবেদন ও হলফনামা, কোর্ট ফি
পরামর্শ: জাহাজের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি মেরিটাইম লিয়েন (maritime lien) সৃষ্টি করে, তাই অপরাধী জাহাজটি পরে বিক্রি হয়ে গেলেও in rem মামলা তার পিছু ছাড়ে না।
ধাপ ৮ · দাবি, আটক ও জামানতআটক ও জামানত
মোকদ্দমা গ্রহণের সময় আদালত অপরাধী জাহাজটি আটকের আদেশ দিতে পারে, এবং মার্শাল আদেশটি বন্দরকে জানান। মালিক মার্শালের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে জাহাজ ছাড়িয়ে নেন। ২০২৬ সালের মার্চে প্রায় ৮.৭৮ কোটি টাকার একটি নদী-সংঘর্ষ মামলায় আদালত ঋণদাতার কাছে বন্ধক রাখা হাল বিমা পলিসিকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করেনি, ৩ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিতে জাহাজটি ছেড়ে দিয়েছে এবং মোকদ্দমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মালিককে জাহাজটি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: কয়েক দিন থেকে ৩ সপ্তাহ · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪; অ্যাডমিরালটি বিধিমালা, ১৯১২-এর বিধি ২৩ ও ৩১ (আটক ও জামানত); Sabera Begum বনাম M.V. Titu 54, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ১৩/২০২৬ (১৫ মার্চ ২০২৬) · কাগজপত্র: আটকের আদেশ, ব্যাংক গ্যারান্টি, মুক্তির আদেশ
পরামর্শ: অপর জাহাজটি বিদেশি হলে এবং অল্প সময়ের জন্য বন্দরে এলে, বাংলাদেশে জামানত পাওয়ার একমাত্র বাস্তব উপায় হতে পারে আটক।
ধাপ ৯ · দাবি, আটক ও জামানতফোরাম ও এখতিয়ারের প্রশ্ন
মালিকেরা প্রায়ই ইংল্যান্ডের আদালত বা সালিশ বেছে নিয়ে সংঘর্ষ-এখতিয়ার চুক্তি সই করেন। একই সংঘর্ষ নিয়ে একই পক্ষগুলোর মধ্যে বিদেশে আগে থেকেই মামলা চললে ধারা ৫(২) অনুযায়ী তা প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে in personam মামলা চলে না, তবে বিবাদী আদালতের এখতিয়ার মেনে নিলে ধারা ৫(৪) এই বাধা তুলে দেয়। ২০২৫ সালের মামলায় আদালত বলেছে, এমন চুক্তিতে আবদ্ধ দাবিদারেরও সময়মতো আরজি উপস্থাপন করে তারপর দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০-এর অধীনে স্থগিতাদেশ চাওয়া উচিত, সময় পার হতে দেওয়া উচিত নয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৫(১)-(৫); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ · কাগজপত্র: সংঘর্ষ-এখতিয়ার চুক্তি, স্থগিতাদেশের আবেদন
পরামর্শ: এখানে মামলা করার প্রয়োজন হতে পারলে বিদেশি ফোরামের চুক্তির ভরসায় বাংলাদেশের তামাদির তারিখ কখনো পার হতে দেবেন না।
ধাপ ১০ · বিচার ও দায় বণ্টনআরজি-জবাব, পাল্টা দাবি ও বিমাকারী
অপর মালিক লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং প্রায় সবসময় পাল্টা দাবিও করেন, কারণ সাধারণত দুটি জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রত্যেকে অন্যকে দোষ দেয়। যে বিমাকারীরা ক্ষতির অংশবিশেষ পরিশোধ করেছেন, তাঁরা পরিশোধিত অর্থের পরিমাণে সহ-বাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি ও পাইপলাইনে জাহাজের ধাক্কা নিয়ে মোকদ্দমায় আদালত বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিমাকারীকে পক্ষভুক্ত করেছে। যেকোনো জাহাজের মালামালের মালিকেরা নিজেদের দাবি আনতে পারেন, যা প্রায়ই একসঙ্গে শুনানি হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ১০; Anlima Energy Ltd বনাম M.V. Ansary-1, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৩/২০২৪ (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) · কাগজপত্র: লিখিত জবাব ও পাল্টা দাবি, স্থলাভিষেকপত্র (লেটার অব সাবরোগেশন), পক্ষভুক্তির আবেদন
পরামর্শ: দাবি ও পাল্টা দাবি একসঙ্গে শুনানির আবেদন করুন; এতে একই নৌচালনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত এড়ানো যায়।
ধাপ ১১ · বিচার ও দায় বণ্টনবিচারে নৌচালনার সাক্ষ্য
বিচারে অ্যাডমিরালটি কোর্ট জাহাজের ডেটা ও লগ, মাস্টার, অফিসার ও পাইলটদের সাক্ষ্য এবং বিশেষজ্ঞ মাস্টার মেরিনারদের মতামতের ভিত্তিতে সংঘর্ষের ঘটনা পুনর্গঠন করে। আদালত দেখে কোন জাহাজ সংঘর্ষ প্রতিরোধ বিধিমালার কোন নিয়ম ভেঙেছে, যেমন নিরাপদ গতি, পর্যবেক্ষণ, পথ অতিক্রম বা ওভারটেকিং। ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী জবানবন্দি হলফনামায় দেওয়া হয়। অফিশিয়াল লগে যথাযথভাবে করা এন্ট্রি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত প্রাসঙ্গিক পটভূমি, তবে আদালত তার সামনে থাকা সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই দোষ নির্ধারণ করে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৬৯ ও ৩৭৯(৫); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৫ (বিশেষজ্ঞ) · কাগজপত্র: বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ও প্লট, সাক্ষ্যের হলফনামা, VDR ট্রান্সক্রিপ্ট
পরামর্শ: যে বিশেষজ্ঞ VDR-এর মূল ডেটা পরীক্ষা করেছেন, তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দেখে কাজ করা বিশেষজ্ঞের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
ধাপ ১২ · বিচার ও দায় বণ্টনদোষের অনুপাতে দায় বণ্টন
দুই বা ততোধিক জাহাজ দোষী হলে জাহাজ, তার মালামাল ও জাহাজে থাকা সম্পত্তির ক্ষতির দায় প্রতিটি জাহাজের দোষের মাত্রার অনুপাতে ভাগ হয়, আর মাত্রা নির্ধারণ করা না গেলে সমান ভাগে। যে জাহাজের দোষ কোনো ক্ষতিতে ভূমিকা রাখেনি, সে তার কোনো অংশ বহন করে না। প্রাণহানি ও ব্যক্তিগত আঘাতের ক্ষেত্রে মালিকেরা যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী, এবং যিনি নিজের অংশের বেশি পরিশোধ করেন তিনি বাড়তি অর্থ অন্যদের কাছ থেকে আদায় করতে পারেন। তাই বাংলাদেশে জাহাজ সংঘর্ষ মামলা প্রায়ই সব-বা-কিছুই-না নয়, বরং শতাংশ হারে ভাগাভাগিতে শেষ হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির ১-৩ মাস পর · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭৬; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭৭-৩৭৮ · কাগজপত্র: দোষ নির্ধারণসহ রায়
পরামর্শ: ধারা ৩৭৬(২) অনুযায়ী দোষের কারণে হওয়া স্যালভেজ ও অন্যান্য খরচ আদায়যোগ্য ক্ষতির অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
ধাপ ১৩ · দায়সীমা ও আদায়ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও ডিক্রি
এরপর আদালত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে: মেরামতের যুক্তিসংগত খরচ বা সম্পূর্ণ ক্ষতির ক্ষেত্রে জাহাজের মূল্য, সার্ভে ও টোয়েজের খরচ, মেরামতকালীন আয়ের ক্ষতি, মালামাল ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষতি, এবং মৃত্যু ও আঘাতের ক্ষতিপূরণ, সুদসহ। প্রত্যেক দাবিদারের প্রাপ্য তার নিজের দোষের অংশ অনুযায়ী কমে যায়। ডিক্রি জাহাজের বিরুদ্ধে in rem এবং মালিকদের বিরুদ্ধে in personam কার্যকর হয়, এবং প্রথমে জাহাজ ছাড়ানোর জন্য দেওয়া জামানত থেকে পরিশোধ করা হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৪ (সুদ); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭৬ · কাগজপত্র: মেরামতের হিসাব, চার্টার ও আয়ের রেকর্ড, স্বাক্ষরিত ডিক্রি
পরামর্শ: শুরু থেকেই মেরামতের ইনভয়েস ও অফ-হায়ারের রেকর্ড রাখুন; ব্যবহার করতে না পারার ক্ষতি প্রায়ই সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বিতর্কিত খাত।
ধাপ ১৪ · দায়সীমা ও আদায়মালিকের দায়ের সীমা
মালিকের নিজের প্রকৃত দোষ বা জ্ঞাতসারে (actual fault or privity) ক্ষতি না হয়ে থাকলে মালিক জাহাজের গ্রস টনেজের ভিত্তিতে মোট দায় সীমিত করতে পারেন: মৃত্যু বা আঘাতের দাবি থাকলে প্রতি টনে ৫,০০০ টাকা, আর কেবল সম্পত্তির দাবির ক্ষেত্রে প্রতি টনে ১,৫০০ টাকা, যেখানে প্রতি টনে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত দাবি অগ্রাধিকার পায়। এই উদ্দেশ্যে চার্টারার, ব্যবস্থাপক ও পরিচালনাকারীরা মালিক হিসেবে গণ্য হন। একাধিক দাবি থাকলে মালিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ, আনুপাতিক হারে বণ্টন এবং অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬-১৮ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৭১-৪৭২ ও ৪৭৬ · কাগজপত্র: দায়সীমার আবেদন, টনেজ সনদ, দাবির তালিকা
পরামর্শ: ১৯৮৩ সালের সীমাগুলো মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি। দাবিদারেরা মালিকের নিজের দোষ প্রমাণ করে দায়সীমা ভাঙতে পারেন, যেমন অপর্যাপ্ত জনবল বা রক্ষণাবেক্ষণ।
ধাপ ১৫ · দায়সীমা ও আদায়জামানত বা নিলাম থেকে আদায়
ডিক্রিদার অ্যাডমিরালটি এখতিয়ারে জারি মামলা দায়ের করেন, যাতে ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে, অথবা জামানত দেওয়া না হলে মার্শালের পরিচালিত আদালতের নিলামের অর্থ থেকে, পরিশোধ পাওয়া যায়। একই জাহাজের বিরুদ্ধে অন্য দাবিদারদেরও দাবি থাকলে আদালত তাদের মধ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করে। অ্যাডমিরালটির সাধারণ নীতি অনুযায়ী জাহাজের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতির মেরিটাইম লিয়েন নিবন্ধিত বন্ধকের আগে অগ্রাধিকার পায়, আর ধারা ৪৭৯ অনুযায়ী ক্রুদের বেতন অন্য সব লিয়েনের আগে।
কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: ১-১২ মাস · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৭); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৭৯; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, সার্টিফায়েড ডিক্রি, মার্শালের প্রতিবেদন
পরামর্শ: গ্যারান্টির মেয়াদ শেষের তারিখ দেখে রাখুন; আপিল চলাকালে নবায়নের নির্দেশ দিতে আদালতকে অনুরোধ করুন।
যদি এমন হয়…? জাহাজ সংঘর্ষ মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কোনো পক্ষ অ্যাডমিরালটি কোর্টের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করলে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল)
অ্যাডমিরালটি কোর্টের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের ভেতরে কোনো আপিল নেই, তাই ডিক্রি, দোষ বণ্টন বা দায়সীমার আদেশে অসন্তুষ্ট পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে আপিলের অনুমতির জন্য সিভিল পিটিশন দায়ের করে। অনুমতি মিললে আপিল বিভাগ প্রধানত আইনের প্রশ্নে আপিল শোনে, যেমন সংঘর্ষ প্রতিরোধ বিধিমালা বা ধারা ৩৭৬-এর সঠিক প্রয়োগ। জারি স্থগিতের আবেদন আলাদাভাবে করতে হয়, এবং এর মধ্যে জামানত সাধারণত বহাল থাকে।
দায়েরের জন্য ৬০ দিন; ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ ডিক্রি বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করে, এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
জেলা জজের স্যালভেজ আদেশের বিরুদ্ধে কি রিভিশন করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
জেলা জজের বিরুদ্ধে রিভিশন
মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৬৮-এ ছোট স্যালভেজ বিরোধে জেলা জজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান নেই। তাই আইনের এমন ভুলের অভিযোগে, যার ফলে ভুল সিদ্ধান্ত হয়ে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে, কোনো পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন (revision) চাইতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগ নিজেই আদেশ সংশোধন করতে পারে বা বিষয়টি ফেরত পাঠাতে পারে। অ্যাডমিরালটি কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হয় না, কারণ সেই আদালত নিজেই হাইকোর্ট বিভাগ।
দ্রুত দায়ের করুন; ৬-১৮ মাসবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৬৮(৪)-(৬)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) - 2জেলা জজ আদালত (১ লাখ টাকা পর্যন্ত স্যালভেজ)
নির্দেশ দেওয়া হলে নিম্ন আদালতে পুনঃশুনানি
হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ বাতিল করে বিষয়টি ফেরত পাঠালে জেলা জজ চিহ্নিত বিষয়গুলোতে স্যালভেজ বিরোধ আবার শোনেন, পারিশ্রমিক বা উদ্ধারকারীদের মধ্যে তার বণ্টন নতুন করে নির্ধারণ করেন এবং খরচ কে বহন করবে তা ঠিক করেন। নতুন আদেশে নতুন কোনো আইনগত ভুল থাকলেই কেবল আবার রিভিশন চলে।
২-৬ মাসবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৬৮(৫)-(৬)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: স্যালভেজ পারিশ্রমিক হাইকোর্ট বিভাগ বা নিম্ন আদালতের পুনঃশুনানিতে বহাল বা সংশোধিত হয়।
সিদ্ধান্ত বা তদন্ত কি পুনর্বিবেচনা করা যায়?
- 1নৌপরিবহন অধিদপ্তর (প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট)
সরকারের আদেশে তদন্তের পুনঃশুনানি
তদন্তের পর যে মাস্টার, মেট বা ইঞ্জিনিয়ারের সনদ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে, তিনি মামলার পুনঃশুনানির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য পাওয়া গেলে বা ন্যায়বিচার ব্যাহত হলে সরকারকে পুনঃশুনানির আদেশ দিতেই হবে। অন্যথায় ওই অধ্যায়ের অধীনে সরকারের আদেশ চূড়ান্ত এবং কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না, তাই কেবল সীমিত কারণে রিট পিটিশন করা সম্ভব।
৩-১২ মাসবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৩৯বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৪২ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
অ্যাডমিরালটি রায়ের রিভিউ
দেওয়ানি দিকে কোনো পক্ষ বিশ দিনের মধ্যে আদেশ ৪৭-এর অধীনে একই অ্যাডমিরালটি বেঞ্চে রায়ের রিভিউ (review) চাইতে পারে, নথিতে স্পষ্ট ভুল থাকলে বা যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে হাজির করা যায়নি এমন নতুন সাক্ষ্য পাওয়া গেলে। রিভিউ মানে নৌচালনার বিষয়ে মূল প্রশ্নের নতুন শুনানি নয়।
দায়েরের জন্য ২০ দিন; ১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৬২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: উত্থাপিত সীমিত কারণে তদন্তের সিদ্ধান্ত বা রায় বহাল বা সংশোধিত হয়।
স্যালভেজ বিরোধে জেলা জজ আইন নিয়ে নিশ্চিত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ১১৩-এর অধীনে রেফারেন্স
স্যালভেজ বিরোধ নিষ্পত্তিকারী জেলা জজের কোনো আইনগত প্রশ্নে যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলে, যেমন কোনো সেবা স্যালভেজ নাকি নিছক টোয়েজ, বা সরকারি উদ্ধারকারীকে কীভাবে বিবেচনা করা হবে, তিনি দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬-এর অধীনে বিষয়টি বিবৃত করে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স পাঠাতে পারেন। অ্যাডমিরালটি কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্য প্রধান বিচারপতি ২০০০ সালের আইনের ধারা ৮-এর শর্তাংশ অনুযায়ী বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করতে পারেন।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নের উত্তর দেয়, এবং সেই ভিত্তিতে স্যালভেজ বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
আপিল বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
পুনর্বিচারের জন্য অ্যাডমিরালটি কোর্টে ফেরত
অ্যাডমিরালটি কোর্ট যদি তামাদি, ধারা ৫ বা বিদেশি এখতিয়ার চুক্তির মতো প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে আরজি নাকচ করে বা মোকদ্দমা স্থগিত রাখে, আর আপিল বিভাগ তাতে একমত না হয়, তাহলে আপিল বিভাগ আদেশ বাতিল করে মূল বিষয়ে বিচারের জন্য মোকদ্দমা ফেরত পাঠাতে পারে। ফেরতের আদেশে উল্লেখ থাকে অ্যাডমিরালটি কোর্টকে কী নির্ধারণ করতে হবে, এবং এতে আটক বা জামানত পুনর্বহাল হতে পারে।
আপিলের রায়ের সঙ্গেবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
বিচার এবং দ্বিতীয়বার ওপরে ওঠা
অ্যাডমিরালটি কোর্ট মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করে, নৌচালনার সাক্ষ্য নেয়, দোষ বণ্টন করে এবং ক্ষতিপূরণের ডিক্রি দেয়। পরাজিত পক্ষ এবার মূল বিষয়ে আবার আপিল বিভাগের অনুমতি চাইতে পারে, ফলে ফেরত পাঠানো জাহাজ সংঘর্ষ মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে দুবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।
১-৩ বছরবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭৬বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মূল বিষয়ে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়, এবং অনুমতি সাপেক্ষে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।
মাস্টারের বিরুদ্ধে কি ফৌজদারি মামলা হতে পারে?
- 1তদন্ত আদালত (বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট) বা মেরিন কোর্ট
নৌচালনা-সংক্রান্ত অপরাধে বিচার
তদন্ত ছাড়াও, সংঘর্ষের পর সাহায্য না করা মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭২(২)-এর অধীনে অপরাধ। অভ্যন্তরীণ নৌযানের ক্ষেত্রে সরকার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেরিন কোর্টে বিচারের নির্দেশ দিতে পারে, যা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং ক্ষতিপূরণের আদেশও দিতে পারে। প্রাণহানি ঘটলে পুলিশ দণ্ডবিধির অধীনেও মামলা নিতে পারে। দণ্ডাদেশ দেওয়ানি দাবির নিষ্পত্তি করে না, তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রায়ই আবার ব্যবহার হয়।
কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৭২(২)অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর ধারা ৪৬-৫২দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৮০ ও ৩০৪ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ফৌজদারি দায় আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়, এবং এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ উচ্চতর ফৌজদারি আদালতে যায়।
সংঘর্ষের দাবি কি আপসে মীমাংসা করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
মালিক ও বিমাকারীদের মধ্যে মীমাংসা
বিমাকৃত জাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের দাবি সাধারণত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিনিময়ের পর পিঅ্যান্ডআই ক্লাব ও হাল বিমাকারীরা দোষের একটি সম্মত শতাংশের ভিত্তিতে মীমাংসা করে। পক্ষগুলো মীমাংসাপত্র দাখিল করে, এবং আদালত আদেশ ২৩ বিধি ৩-এর অধীনে আপসের ডিক্রি দেয় ও গ্যারান্টি অবমুক্তির আদেশ দেয়, যা মার্শাল জানিয়ে দেন। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক-এর অধীনে মধ্যস্থতাও করা যায়।
কয়েক মাস, যেকোনো পর্যায়েদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সম্মত অনুপাতে দাবি পরিশোধ হয় এবং জামানত অবমুক্ত হয়।
জাহাজ সংঘর্ষ মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে জাহাজ সংঘর্ষ মামলার একটি প্রশাসনিক ও একটি বিচারিক স্তরবিন্যাস আছে। প্রশাসনিক দিকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার প্রাথমিক তদন্ত করেন, এবং সরকার বিচারিক তদন্তের জন্য দুর্ঘটনাটি বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে পারে। অভ্যন্তরীণ নৌযানের ক্ষেত্রে ঢাকার মেরিন কোর্ট অপরাধের বিচার করে। এই সংস্থাগুলো দায়িত্ব ও সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, ক্ষতিপূরণের নয়। দেওয়ানি দিকে ক্ষতিপূরণ, স্যালভেজ ও টোয়েজের দাবি অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২) অনুযায়ী সামুদ্রিক দাবি, তাই মূল্যমানের কোনো সীমা ছাড়াই এগুলো অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে শুরু হয়।
একমাত্র ব্যতিক্রম ১ লাখ টাকা বা তার কম স্যালভেজ বিরোধ, যা মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৬৮ অনুযায়ী জেলা জজের কাছে যায় এবং হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনযোগ্য। অ্যাডমিরালটি কোর্ট তথ্য নির্ধারণ করে ও দোষ বণ্টন করে। হাইকোর্ট বিভাগের ভেতরে কোনো আপিল নেই, তাই পরবর্তী ধাপ আপিল বিভাগ, অনুমতি সাপেক্ষে, প্রধানত আইনের প্রশ্নে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত (১ লাখ টাকা পর্যন্ত স্যালভেজ)
- প্রথম দফার আদালততদন্ত আদালত (বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট) বা মেরিন কোর্ট
- শুরু · আদালতের বাইরেনৌপরিবহন অধিদপ্তর (প্রিন্সিপাল অফিসার, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট) · দাবিদারের আইনজীবী · অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চট্টগ্রাম
কোর্ট বিল্ডিং, কোতোয়ালী, চট্টগ্রামচট্টগ্রামের জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, দায়রা মামলা) এবং চট্টগ্রাম জেলার প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ।
চট্টগ্রামের আদালতগুলো কোতোয়ালীর পাহাড়চূড়ার কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় বসে। রাস্তার ঠিকানা কোনো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। জাতীয় বিচার বিভাগীয় পোর্টাল থেকে জাজশিপের নিজস্ব পাতা খুঁজে নিন। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
মেরিন কোর্ট, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক আসন নিশ্চিত নয়)অভ্যন্তরীণ নৌযান অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর অধীন অপরাধের বিচার করে, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌযান দুর্ঘটনা থেকে উদ্ভূত অপরাধও আছে।
মেরিন কোর্ট অভ্যন্তরীণ নৌযান অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর ধারা ৪৭-এর অধীন একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে গঠিত হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকায় একটি মেরিন কোর্ট আছে; এর সঠিক আসন নিশ্চিত করা যায়নি। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর (ডিওএস)
মতিঝিল, ঢাকানৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন সামুদ্রিক প্রশাসন: জাহাজ নিবন্ধন ও সার্ভে, নাবিকদের সনদ, নৌ-দুর্ঘটনার তদন্ত, এবং বাণিজ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন আইন প্রয়োগ।
যাচাইয়ের সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি, তাই রাস্তার ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। মাঠপর্যায়ের অফিসের মধ্যে আছে চট্টগ্রামের মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট ও সরকারি শিপিং অফিস, এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, ভৈরব ও চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ নৌযানের রেজিস্ট্রার ও সার্ভেয়ারের অফিস। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
দাবিদারের আইনজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- নৌ-দুর্ঘটনা (Shipping casualty)
- জাহাজ-সংশ্লিষ্ট ডুবি, চরে আটকানো, গুরুতর ক্ষতি বা প্রাণহানি, যা ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী রিপোর্ট করতে হয় এবং যার তদন্ত হতে পারে।
- প্রিন্সিপাল অফিসার (Principal Officer)
- মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি দুর্ঘটনার রিপোর্ট গ্রহণ করেন ও প্রাথমিক তদন্ত করেন।
- সংঘর্ষ প্রতিরোধ বিধিমালা (Collision Regulations)
- জাহাজ চালনা, বাতি, সংকেত ও নিরাপদ নৌচালনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক নিয়ম, যা ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৩৬৮-৩৬৯ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রযোজ্য।
- দায় বণ্টন (Apportionment)
- ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৩৭৬ অনুযায়ী প্রতিটি জাহাজের দোষের অনুপাতে জাহাজগুলোর মধ্যে দায় ভাগ করা।
- স্যালভেজ (Salvage)
- বিপদ থেকে স্বেচ্ছায় জীবন, জাহাজ, মালামাল বা ভগ্নাবশেষ রক্ষার পারিশ্রমিক, যা সব পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত হয়।
- দায়ের সীমা (Limitation of liability)
- মালিকের নিজের প্রকৃত দোষ বা জ্ঞাতসারে ক্ষতি না হলে জাহাজের টনেজের ভিত্তিতে মোট দায় সীমিত রাখার মালিকের অধিকার।
- ভয়েজ ডেটা রেকর্ডার (Voyage data recorder)
- জাহাজের ‘ব্ল্যাক বক্স’, যা ব্রিজের অডিও, রাডার, অবস্থান ও নৌচালনার অন্যান্য তথ্য রেকর্ড করে।
- মেরিন কোর্ট (Marine Court)
- বিশেষজ্ঞ অ্যাসেসরসহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত, যা অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর অধীন অপরাধের বিচার করে।
জাহাজ সংঘর্ষ মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে জাহাজ সংঘর্ষ মামলা কোথায় দায়ের করতে হয়?
সংঘর্ষের দাবি করার সময়সীমা কত?
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তদন্তে কি ঠিক হয় কে ক্ষতিপূরণ দেবে?
দুটি জাহাজই দোষী হলে কী হয়?
অপর জাহাজের মালিক কি দায় সীমিত করতে পারেন?
স্যালভেজ বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি হয়?
সংঘর্ষের পর কি অপর জাহাজটি আটক করা যায়?
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও সংঘর্ষ কোন আইনে চলে?
আইন ও উৎস
- Admiralty Court Act 2000 (Act 43 of 2000) — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- Bangladesh Merchant Shipping Ordinance 1983 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- Inland Shipping Ordinance 1976 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- Limitation Act 1908 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- High Court Division, Kuwait Oil Tanker Co S.A.K. v LCT Shakti Sanchar, Admiralty Suit No. 24 of 2021 (27 November 2025)
- High Court Division, Sabera Begum v M.V. Titu 54, Admiralty Suit No. 13 of 2026 (15 March 2026)
- High Court Division, Anlima Energy Ltd v M.V. Ansary-1, Admiralty Suit No. 3 of 2024 (19 January 2026)
- The Daily Star — Legal framework for safety on waterways
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।