ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা হলো নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের মালিকের করা একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা, যার সঙ্গে প্রায়ই পাসিং অফের দাবিও যুক্ত থাকে; এর উদ্দেশ্য প্রতিযোগীকে অভিন্ন বা প্রতারণামূলকভাবে সদৃশ চিহ্ন ব্যবহার থেকে বিরত রাখা এবং ক্ষতিপূরণ বা মুনাফা আদায় করা।
ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী এই মামলা জেলা জজের আদালতের নিচে দায়ের করা যায় না, আর ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় জেলা জজ পদমর্যাদার বাণিজ্যিক আদালত চালু হলে ট্রেডমার্ক বিরোধ সেখানে যায়, অন্যথায় জেলা জজের আদালতে। নিবন্ধন বৈধ কিনা সেই বিরোধ সংশোধনের (rectification) জন্য রেজিস্ট্রার বা হাইকোর্ট বিভাগে যায়।
- কোথা থেকে শুরু
- সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য গঠিত ও চালু থাকলে বাণিজ্যিক আদালত (জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ); অন্যথায় জেলা জজের আদালত
- মূল আইন
- ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৪-২৭, ৪২, ৫১, ৭৩-৮৬, ৯৬-১০২; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(১৬), ৪, ৬-১০; দেওয়ানি…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: দায়েরের ১-৩ মাসের মধ্যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা; সাধারণ জেলা জজ আদালতে বিচার…
- কে মামলা করতে পারেন
- নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী, অথবা আইনের শর্ত সাপেক্ষে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী; অনিবন্ধিত চিহ্নের ক্ষেত্রে কেবল পাসিং অফের মামলা…
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা করার আগেচিহ্নের ওপর আপনার অধিকার নিশ্চিত করুন
ব্র্যান্ডের মালিক ও অ্যাডভোকেট প্রথমে অধিকারের শক্তি যাচাই করেন। ধারা ২৫ অনুযায়ী নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত পণ্য বা সেবার জন্য চিহ্নটি ব্যবহারের একচেটিয়া অধিকার দেয়, এবং ধারা ২৬ অনুযায়ী ব্যবসার ক্ষেত্রে অভিন্ন বা প্রতারণামূলকভাবে সদৃশ চিহ্নের ব্যবহার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য। ধারা ২৪ অনিবন্ধিত চিহ্নের ক্ষেত্রে লঙ্ঘনের মামলা নিষিদ্ধ করে, তবে মালিক সুনাম, মিথ্যা উপস্থাপন ও ক্ষতি প্রমাণ করে পাসিং অফের মামলা করতে পারেন। আইনজীবী নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেন, নবায়নের অবস্থা ও শ্রেণি যাচাই করেন, এবং বাংলাদেশে বিক্রি, বিজ্ঞাপন ও সুনামের প্রমাণ জোগাড় করেন।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৪, ২৫, ২৬; ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২২ (নিবন্ধনের মেয়াদ ও নবায়ন) · কাগজপত্র: নিবন্ধন সনদ, নবায়নের রেকর্ড, বিক্রি ও বিজ্ঞাপনের প্রমাণ
পরামর্শ: রেজিস্টারের এন্ট্রি হালনাগাদ আছে কিনা দেখুন; নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হলে আপনার হাতে কেবল পাসিং অফের পথই থাকে।
ধাপ ২ · মামলা করার আগেঅনুসন্ধান করুন ও প্রমাণ সংগ্রহ করুন
কোনো চিঠি পাঠানোর আগে মালিক লঙ্ঘনমূলক ব্যবহারের প্রমাণ সংগ্রহ করেন: তারিখযুক্ত ক্যাশ মেমোসহ টেস্ট পারচেজ, দোকানের প্রদর্শনী ও মোড়কের ছবি, অনলাইন লিস্টিংয়ের স্ক্রিনশট, এবং প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও পরিবেশকদের বিবরণ। অনুসন্ধানকারীরা প্রায়ই সাক্ষীর সামনে কেনাকাটা করেন এবং পণ্যগুলো সিলমোহর করে রাখেন। এই প্রমাণ আরজি এবং যেকোনো জরুরি আবেদন দুটিকেই সমর্থন করে, এবং বাংলাদেশের আদালত আসল পণ্যের পাশে প্রকৃত লঙ্ঘনমূলক পণ্যটি দেখতে চান।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৬; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৯-৬৫ · কাগজপত্র: টেস্ট পারচেজের চালান, সিলমোহরকৃত নমুনা, ছবি ও স্ক্রিনশট, সাক্ষীদের বিবৃতি
পরামর্শ: প্রমাণ হাতে পাওয়ার আগে লঙ্ঘনকারীকে সতর্ক করবেন না; সতর্কবার্তার পর মজুত সাধারণত উধাও হয়ে যায়।
ধাপ ৩ · মামলা করার আগেসতর্কীকরণ নোটিশ (cease-and-desist) পাঠান
জব্দের আদেশের জন্য আকস্মিকতা প্রয়োজন না হলে অ্যাডভোকেট একটি সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠান, যাতে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক, লঙ্ঘনমূলক ব্যবহার এবং দাবিগুলো উল্লেখ থাকে: ব্যবহার বন্ধ করা, মজুত প্রত্যাহার করা, উৎস ও পরিমাণ প্রকাশ করা, এবং লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া। আক্রমণাত্মক চিঠির চেয়ে সংযত চিঠি নিরাপদ, কারণ প্রাপক পরে এর ওপর নির্ভর করতে পারেন। অনেক বিরোধ এই পর্যায়েই একটি অঙ্গীকারনামা ও মোড়ক পরিবর্তনের মাধ্যমে শেষ হয়, যা স্বাক্ষরিত মীমাংসাপত্রে লিপিবদ্ধ করা উচিত।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ২-৪ সপ্তাহ · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৫, ২৬, ৯৭ · কাগজপত্র: সতর্কীকরণ নোটিশ, প্রাপ্তির প্রমাণ, অঙ্গীকারনামার খসড়া
পরামর্শ: একতরফা নিষেধাজ্ঞা বা জব্দের আদেশ চাওয়ার ইচ্ছা থাকলে চিঠি পাঠাবেন না; সতর্কবার্তা সেই উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিতে পারে।
ধাপ ৪ · মামলা করার আগেপ্রয়োজন হলে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(১৬) অনুযায়ী ট্রেডমার্ক বিরোধ 'বাণিজ্যিক বিরোধ'। ধারা ৭(১) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রক্রিয়া নির্ধারণকারী বিধিমালা থাকলে, মামলা দায়েরের আগে বাদীকে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যদি না মোকদ্দমায় জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার চাওয়া হয়। বেশিরভাগ লঙ্ঘনের মামলায় জরুরি নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়, তাই সরাসরি দায়ের করা যায়। মধ্যস্থতায় মীমাংসা হলে তা লিখিত হয়, পক্ষগণ ও মধ্যস্থতাকারী স্বাক্ষর করেন, এবং আদালত তা ডিক্রি হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে পারেন।
কোথায়: মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা · সময়: সর্বোচ্চ ৩০-৬০ দিন · আইন: বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(১৬), ৭ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার অনুরোধ, মীমাংসার চুক্তিপত্র, যদি হয়
পরামর্শ: আরজিতে ব্যাখ্যা করুন কেন জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার প্রয়োজন, যাতে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা প্রযোজ্য না হয়।
ধাপ ৫ · দায়ের ও জরুরি প্রতিকারআদালত নির্বাচন ও মোকদ্দমার মূল্যায়ন
ট্রেডমার্ক আইনের ধারা ৯৬ জেলা জজের নিচের কোনো আদালতে লঙ্ঘন বা পাসিং অফের মোকদ্দমা নিষিদ্ধ করে। যেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়েছে, সেখানে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পরিচালিত ওই আদালতই বাণিজ্যিক আদালত আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী এখতিয়ার পায়, এবং বিচারাধীন মোকদ্দমা সেখানে বদলি হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনে ৭৫টি বাণিজ্যিক আদালত গঠন করা হয়েছে, যার তিনটি ঢাকা মহানগরের জন্য; তাই আপনার এলাকার আদালত মামলা শুনানি শুরু করেছে কিনা যাচাই করুন। না করে থাকলে মোকদ্দমা যাবে জেলা জজের আদালতে।
আঞ্চলিক এখতিয়ার দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২০ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়: যেখানে বিবাদী ব্যবসা করেন বা যেখানে লঙ্ঘন ঘটে। বাদী প্রতিকারের মূল্য নির্ধারণ করে মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি পরিশোধ করেন।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: ১-৩ দিন · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৬; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪, ৮; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২০; কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(৪) · কাগজপত্র: মূল্যায়ন বিবরণী, কোর্ট ফি স্ট্যাম্প
পরামর্শ: আপনার এলাকার বাণিজ্যিক আদালত ইতোমধ্যে মামলা শুনছে কিনা জেলা জজের দপ্তরে নিশ্চিত হয়ে নিন; না শুনলে জেলা জজের আদালতে মামলা দায়ের করুন।
ধাপ ৬ · দায়ের ও জরুরি প্রতিকারআরজি দাখিল করুন
আরজি দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১ অনুসরণ করে তৈরি হয়। এতে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক ও নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ থাকে, বাদীর ব্যবহার ও সুনাম দেখানো হয়, বিবাদীর চিহ্ন এবং তা কেন অভিন্ন বা প্রতারণামূলকভাবে সদৃশ তা বর্ণনা করা হয়, এবং বিকল্প হিসেবে পাসিং অফের দাবিও তুলে ধরা হয়। এতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ অথবা বাদীর পছন্দে মুনাফার হিসাব (account of profits), এবং লঙ্ঘনমূলক লেবেল ও পণ্য হস্তান্তর বা ধ্বংসের আদেশ চাওয়া হয়, যার সবই ধারা ৯৭ অনুমোদন করে। লঙ্ঘনের তিন বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়, তবে ব্যবহার চলমান থাকলে নতুন করে মামলার কারণ সৃষ্টি হয়।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: প্রস্তুতিতে ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১; ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৭(১); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৪০ ও ধারা ২৩ · কাগজপত্র: আরজি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা বোর্ড রেজল্যুশন, নিবন্ধন সনদ, নমুনা ও চালান
পরামর্শ: ক্ষতিপূরণ নাকি মুনাফার হিসাব, তা শুরুতেই বেছে নিন; আইন বাদীকে এই বিকল্প দিয়েছে।
ধাপ ৭ · দায়ের ও জরুরি প্রতিকারঅস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করুন
আরজির সঙ্গে বাদী দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ১ ও ২ অনুযায়ী মোকদ্দমা নিষ্পত্তি পর্যন্ত চিহ্নের ব্যবহার বন্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আদালত প্রাথমিক মামলা (prima facie case), সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য এবং অপূরণীয় ক্ষতি বিবেচনা করেন। জরুরি ক্ষেত্রে নোটিশ ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন (ad interim) নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়, তবে আদেশ ৩৯ বিধি ৩ অনুযায়ী আদালতকে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয় এবং বাদীকে দ্রুত বিবাদীর ওপর নোটিশ জারি করতে হয়। আদালত সাধারণত বিবাদীর কারণ দর্শানোর জন্য অল্প দিনের মধ্যে তারিখ ধার্য করেন, এরপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কিনা সে বিষয়ে দুই পক্ষের শুনানি নেন।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কয়েক দিনে; প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক শুনানি ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ১-৩; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: নিষেধাজ্ঞার আবেদন, হলফনামা, চিহ্নগুলোর পাশাপাশি তুলনা
পরামর্শ: বিলম্বসহ প্রাসঙ্গিক সবকিছু প্রকাশ করুন; তথ্য গোপন করে পাওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারযোগ্য।
ধাপ ৮ · দায়ের ও জরুরি প্রতিকারজব্দ বা পরিদর্শনের আদেশ চান
বাংলাদেশে আইনগতভাবে অ্যান্টন পিলার আদেশ (Anton Piller order) নেই, তবে একই ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ৭ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পত্তি আটক, সংরক্ষণ বা পরিদর্শনের আদেশ দিতে পারেন, এবং আদেশ ২৬ বিধি ৯ অনুযায়ী একজন লোকাল কমিশনার নিয়োগ করতে পারেন, যিনি প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন, তালিকা তৈরি করবেন এবং লঙ্ঘনমূলক মজুত জব্দ বা সিলগালা করবেন। এসব আদেশ সাধারণত আরজির সঙ্গে একতরফাভাবে চাওয়া হয়। কমিশনারের প্রতিবেদন ও তালিকা লঙ্ঘনের মাত্রার মূল প্রমাণ হয়ে ওঠে।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: কয়েক দিনের মধ্যে আদেশ; বাস্তবায়ন ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ৭; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ৯; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: আদেশ ৩৯ বিধি ৭ ও আদেশ ২৬ বিধি ৯ অনুযায়ী আবেদন, কমিশনারের প্রতিবেদন ও তালিকা
পরামর্শ: জব্দ করা পণ্যের জন্য পরিবহন ও গুদাম প্রস্তুত রাখুন; কমিশনার একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা চাইবেন।
ধাপ ৯ · জবাব ও মামলা ব্যবস্থাপনাসমন ও লিখিত জবাব
আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ অনুযায়ী সমন জারি করেন। বিবাদী আদেশ ৮ অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিল করেন, যেখানে সাধারণত সাদৃশ্য অস্বীকার করা হয়, সৎ সমান্তরাল ব্যবহার বা পূর্ববর্তী ব্যবহারের দাবি করা হয়, অথবা বলা হয় বাদীর চিহ্নটি বর্ণনামূলক বা অবৈধ। বিবাদী ধারা ৯৭(২)-এর ওপরও নির্ভর করতে পারেন, যা নিবন্ধনের কথা না জানা এবং জানার পর ব্যবহার বন্ধ করা নির্দোষ লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ বা মুনাফা আদায় নিষিদ্ধ করে, এবং ধারা ২৭-এর অনুমোদিত ব্যবহারের ওপরও। বিবাদীরা প্রায়ই এই পর্যায়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদনও করেন।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ ও ৮; ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৭, ৯৭(২) · কাগজপত্র: সমন, লিখিত জবাব, বিবাদীর কাগজপত্র
পরামর্শ: বিবাদী নির্দোষ হওয়ার দাবি করলে আগের নোটিশের (চিঠির) প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ধাপ ১০ · জবাব ও মামলা ব্যবস্থাপনাবৈধতার চ্যালেঞ্জ ও মোকদ্দমা স্থগিত
কোনো পক্ষ অপর পক্ষের নিবন্ধন অবৈধ দাবি করলে ধারা ৯৮ অনুযায়ী সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি মোকদ্দমায় নয়, হাইকোর্ট বিভাগে সংশোধনের আবেদনে হতে হবে। ধারা ১০২ অনুযায়ী সংশোধনের মামলা আগে থেকেই বিচারাধীন থাকলে আদালত তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থগিত রাখতে পারেন; বিচারাধীন না থাকলে এবং দাবিটি প্রাথমিকভাবে টেকসই হলে আদালত একটি বিচার্য বিষয় গঠন করে তিন মাসের জন্য মোকদ্দমা মুলতবি রাখেন, যাতে পক্ষটি হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। সময়মতো আবেদন না করলে বৈধতার দাবি পরিত্যক্ত বলে গণ্য হয়।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: ৩ মাস, অথবা সংশোধনের নিষ্পত্তি পর্যন্ত · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৮, ১০২ · কাগজপত্র: বৈধতা নিয়ে বিচার্য বিষয়, সংশোধনের আবেদনের প্রমাণ
পরামর্শ: বিবাদীর বৈধতার দাবি মোকদ্দমাকে অনেক দেরি করিয়ে দিতে পারে; এই সময়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে আদালতকে অনুরোধ করুন।
ধাপ ১১ · জবাব ও মামলা ব্যবস্থাপনামোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা ও বিচার্য বিষয়
বাণিজ্যিক আদালতে লিখিত জবাবের পর প্রথম শুনানি হলো বাণিজ্যিক আদালত আইনের ধারা ৯(৪) অনুযায়ী মোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা শুনানি। বিচারক বিচার্য বিষয় গঠন করেন, ঘটনা ও আইনের প্রশ্ন আলাদা করেন, শুধু কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি সম্ভব কিনা ঠিক করেন, সাক্ষীর সংখ্যা সীমিত করেন এবং সময়সূচি নির্ধারণ করেন। চূড়ান্ত শুনানির আগে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ তিনবার সময় চাইতে পারেন। সাধারণ জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ অনুযায়ী বিচার্য বিষয় গঠিত হয়, এবং আদালত ধারা ৮৯ক অনুযায়ী পক্ষগুলোকে মধ্যস্থতায় পাঠাতে পারেন।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: ১-২ মাস · আইন: বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৯(৪)-(৫); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক · কাগজপত্র: বিচার্য বিষয়, সময়সূচির আদেশ, সাক্ষীর তালিকা
পরামর্শ: নকল সুস্পষ্ট হলে বাণিজ্যিক আদালত আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত রায়ের (summary judgment) আবেদন বিবেচনা করুন।
ধাপ ১২ · বিচার ও ডিক্রিবিচার ও সাক্ষ্য
বাদীর সাক্ষীরা, সাধারণত কোম্পানির একজন কর্মকর্তা, অনুসন্ধানকারী এবং কখনো কখনো একজন ব্যবসায়ী সাক্ষী, নিবন্ধন, সুনাম, লঙ্ঘনমূলক পণ্য এবং কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা প্রমাণ করেন। এরপর বিবাদীর সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেন। আদালত চিহ্নগুলোকে সামগ্রিকভাবে তুলনা করেন, অসম্পূর্ণ স্মৃতিসম্পন্ন একজন সাধারণ ক্রেতার দৃষ্টিকোণ থেকে, পণ্য, বাণিজ্যের মাধ্যম ও ক্রেতার ধরন বিবেচনায় নিয়ে। বাণিজ্যিক আদালতে চূড়ান্ত শুনানি ধার্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়, এবং মৌখিক সাক্ষ্য অপ্রয়োজনীয় হলে আদালত হলফনামার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: সাধারণ আদালতে ৬-২৪ মাস; বাণিজ্যিক আদালতে কম · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬ ও ১৮; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৯(৬), (৮); ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৬ · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনী: আসল ও লঙ্ঘনমূলক পণ্য, কমিশনারের প্রতিবেদন
পরামর্শ: আদালতে পণ্যের বাস্তব নমুনা আনুন; বিচারকেরা প্রতারণামূলক সাদৃশ্য পড়ে নয়, দেখে বিচার করেন।
ধাপ ১৩ · বিচার ও ডিক্রিরায় ও ডিক্রি
বিচার শেষে আদালত রায় ও ডিক্রি দেন। বাদী জয়ী হলে ডিক্রিতে সাধারণত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ বা মুনাফার হিসাব, এবং লঙ্ঘনমূলক লেবেল ও চিহ্ন ধ্বংস বা মুছে ফেলার আদেশ থাকে। সাধারণ নিয়ম হিসেবে বাণিজ্যিক আদালতকে পরাজিত পক্ষকে কোর্ট ফি ও আইনজীবীর ফিসহ খরচ দেওয়ার আদেশ দিতে হয়, এবং প্রদত্ত অর্থের ওপর সুদ যোগ করতে পারে। বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সাধারণত সামান্য হয়; নিষেধাজ্ঞাই সাধারণত সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিকার।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: যুক্তিতর্কের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায় · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৭; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৯(১১)-(১২); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি, সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; আপিলের সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
ধাপ ১৪ · কার্যকরকরণ ও সমান্তরাল প্রতিকারনিষেধাজ্ঞা ও অর্থের ডিক্রি জারি
বিবাদী চিহ্নটি ব্যবহার অব্যাহত রাখলে বাদী ডিক্রি জারির আবেদন করেন। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩২ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি অমান্যকারী পক্ষকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রেখে, তার সম্পত্তি ক্রোক করে, অথবা উভয়ভাবে কার্যকর করা হয়। প্রদত্ত অর্থ সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের মাধ্যমে আদায় করা হয়। বাণিজ্যিক আদালত ধারা ৯(১৩) অনুযায়ী দায়িক এবং যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাকে সম্পদ খুঁজে বের করার জন্য তথ্য দিতেও আদেশ দিতে পারে।
কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩২; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৯(১৩) · কাগজপত্র: জারির আবেদন, চলমান লঙ্ঘনের প্রমাণ, সম্পদের বিবরণ
পরামর্শ: ডিক্রির পর প্রতিটি লঙ্ঘন তারিখযুক্ত কেনাকাটা ও ছবি দিয়ে নথিভুক্ত করুন।
ধাপ ১৫ · কার্যকরকরণ ও সমান্তরাল প্রতিকারসমান্তরাল ফৌজদারি নালিশ
নকল পণ্য তৈরিও অপরাধ। মিথ্যা ট্রেডমার্ক বা মিথ্যা বাণিজ্যিক বিবরণ প্রয়োগ করা, অথবা এমন পণ্য বিক্রি করা ধারা ৭৩ ও ৭৪ অনুযায়ী ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড, ৫০,০০০ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয়, এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে শাস্তি আরও বেশি। কেবল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এসব অপরাধের বিচার করতে পারেন, এবং অপরাধের তিন বছর বা উদ্ঘাটনের দুই বছরের মধ্যে, যেটি আগে হয়, নালিশ করতে হয়। নকলকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা কার্যকর, তবে এতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (ফৌজদারি নালিশ) · সময়: নালিশ কয়েক দিনে; বিচার ১-৩ বছর · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৩, ৭৪, ৮৩(২), ৮৬ · কাগজপত্র: নালিশি দরখাস্ত, জব্দ তালিকা, টেস্ট পারচেজের প্রমাণ
পরামর্শ: ফৌজদারি অভিযান দেওয়ানি মোকদ্দমার সঙ্গে সমন্বয় করুন, যাতে জব্দ করা মজুত দুই মামলাতেই প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।
ধাপ ১৬ · কার্যকরকরণ ও সমান্তরাল প্রতিকাররেজিস্টার হালনাগাদ করুন ও বাজারে নজর রাখুন
হাইকোর্ট বিভাগ সংশোধনের আদেশ দিলে তার রায়ের সার্টিফায়েড কপি রেজিস্ট্রারের কাছে যায়, যিনি ধারা ৯৯(৩) অনুযায়ী রেজিস্টার সংশোধন করতে বাধ্য। ব্র্যান্ডের মালিকের উচিত বিভ্রান্তিকরভাবে সদৃশ চিহ্নের নতুন আবেদন বিজ্ঞাপিত হলে তার বিরোধিতা করা, লাইসেন্সধারীদের নিবন্ধিত ব্যবহারকারী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা, এবং নবায়ন হালনাগাদ রাখা। বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলায় সাফল্য শক্তিশালী প্রতিরোধক, তবে চিহ্নটি সুরক্ষিত রাখতে বাজার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
কোথায়: পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (রেজিস্ট্রার) · সময়: চলমান · আইন: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৯(৩); ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৮ (বিরোধিতা) · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, বিরোধিতার নোটিশ, নবায়নের আবেদন
পরামর্শ: নকল আবেদনের জন্য ট্রেডমার্কস জার্নালে নজর রাখুন।
যদি এমন হয়…? ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
পরাজিত পক্ষ আপিল করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম আপিল
বাণিজ্যিক আদালতের ক্ষেত্রে আপিল চলে কেবল চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে এবং তা ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে দাখিল করতে হয়, যেখানে প্রধান বিচারপতি বাণিজ্যিক আপিল বেঞ্চ গঠন করেন। সাধারণ জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালত আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম আপিল করা যায়। প্রথম আপিল ঘটনা ও আইন দুই বিষয়েই পূর্ণাঙ্গ পুনঃশুনানি, এবং আদালত শর্তসাপেক্ষে ডিক্রি স্থগিত করতে পারেন।
৬০ বা ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল; নিষ্পত্তি ১-৩ বছরেবাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২০দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৬ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন (লিভ টু আপিল) দাখিল করতে পারেন। আইনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বা গুরুতর ভুল দেখানো গেলে তবেই অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি মঞ্জুর হলে পেপার বুকের ভিত্তিতে আপিলের শুনানি হয়। প্রতারণামূলক সাদৃশ্য নিয়ে নিম্ন আদালতগুলোর একই রকম সিদ্ধান্তে আপিল বিভাগ কদাচিৎ হস্তক্ষেপ করে, তাই অনুমতির আবেদনে আইনের ভুলের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
অনুমতি ৩-১২ মাস; আপিল ১-২ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিরোধ শেষ হয় আপিল বিভাগে, অথবা অনুমতি নামঞ্জুর হলে হাইকোর্ট বিভাগেই।
নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুরের মতো কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ কি চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রিভিশন বা বিবিধ আপিল
বাণিজ্যিক আদালতের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত আইনের ধারা ৬(১) চূড়ান্ত রায় ছাড়া অন্য কিছুর বিরুদ্ধে আপিল নিষিদ্ধ করে, তবে দেওয়ানি কার্যবিধির নীতি অনুযায়ী রিভিশন ও রিভিউয়ের সুযোগ রাখে; তাই নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৬০ দিনের মধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। সাধারণ জেলা জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।
৬০ দিনের মধ্যে দাখিল; অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ কয়েক দিনে; নিষ্পত্তি ৩-১২ মাসবাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ) - 2বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত
আবার বিচারিক আদালতে
হাইকোর্ট বিভাগ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল, প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে পারেন, অথবা বিচারিক আদালতকে আবার শুনানির নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর সেই ভিত্তিতে বাণিজ্যিক আদালত বা জেলা জজ আদালতে মোকদ্দমা চলতে থাকে, এবং প্রায়ই আদালতকে দ্রুত বিচার শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মোকদ্দমার বাকি অংশে বিচারিক আদালতকে প্রাথমিক মামলা সম্পর্কে হাইকোর্ট বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হয়।
বিচার অবিলম্বে আবার শুরু হয়দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অন্তর্বর্তী অবস্থান হাইকোর্ট বিভাগ নির্ধারণ করে দেন এবং নিম্ন আদালতে বিচার চলতে থাকে।
একই আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত
আদেশ ৪৭ অনুযায়ী রিভিউ
যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আবিষ্কৃত হলে, নথির ওপর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ভুল থাকলে, বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণে কোনো পক্ষ একই আদালতে রায় বা আদেশ রিভিউয়ের আবেদন করতে পারেন। বাণিজ্যিক আদালত আইন দেওয়ানি কার্যবিধির নীতি অনুযায়ী রিভিউয়ের সুযোগ স্পষ্টভাবে বহাল রেখেছে। ডিক্রি বা আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে হয়, এবং সম্ভব হলে একই বিচারক শুনানি করেন।
৯০ দিনের মধ্যে দাখিল; নিষ্পত্তি ১-৩ মাসেদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬(১)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
উচ্চ আদালতে রিভিউ
হাইকোর্ট বিভাগও একইভাবে আদেশ ৪৭ অনুযায়ী নিজের আপিল রায় রিভিউ করতে পারেন, এবং আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারেন। রিভিউ দ্বিতীয় আপিল নয়, এবং রিভিউ দাখিল করলে আপিলের সময় বাড়ে না। আবেদনের সঙ্গে রায়ের সার্টিফায়েড কপি দিতে হয়।
১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: স্পষ্ট ভুল বা নতুন প্রমাণ দেখানো না গেলে রায় বহাল থাকে।
আইনের কোনো প্রশ্ন কি হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ অনুযায়ী রেফারেন্স
মোকদ্দমায় আইনের কোনো সন্দেহজনক প্রশ্ন উঠলে, যেমন ধারা ২৭-এর কোনো ব্যতিক্রমের পরিধি বা বিচারাধীন মোকদ্দমার ওপর বাণিজ্যিক আদালত আইনের প্রভাব, বিচারিক আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ অনুযায়ী বিষয়টি বিবৃত করে হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন। মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোনো আইনের বৈধতার প্রশ্ন আদালতকে অবশ্যই রেফার করতে হয়। এই সময়ে মোকদ্দমা স্থগিত থাকে বা শর্তসাপেক্ষে নিষ্পত্তি হয়।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ১-৫ - 2বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত
বিচারিক আদালত সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করেন
হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে রায়ের একটি কপি বিচারিক আদালতে পাঠান, এবং বিচারিক আদালতকে সেই উত্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করতে হয়। ট্রেডমার্ক মামলায় রেফারেন্স বিরল, তবে আইন সত্যিই অমীমাংসিত হলে কাজে আসে। পক্ষগুলো চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক নিয়মে আপিল করতে পারেন।
উত্তর পাওয়ার পর বিচার আবার শুরু হয়দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিচারিক আদালত আইনের প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর অনুযায়ী মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করেন।
হাইকোর্ট বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ডিক্রি বাতিল ও পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত (রিমান্ড)
বিচারিক আদালত প্রাথমিক কোনো বিষয়ের ওপর মামলা নিষ্পত্তি করলে, কমিশনারের প্রতিবেদনের মতো প্রমাণ ভুলভাবে গ্রহণ না করলে, অথবা পাসিং অফ বা বৈধতা নিয়ে প্রয়োজনীয় বিচার্য বিষয় গঠন না করলে, হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩ বা ২৫ অনুযায়ী ডিক্রি বাতিল করে মোকদ্দমাটি পূর্ণ পুনর্বিচারের জন্য বা নির্দিষ্ট বিষয়ে, প্রায়ই সময়সীমা বেঁধে, নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন।
আপিল নিষ্পত্তির সময়দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৫ - 2বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত
পুনর্বিচার ও আবার উচ্চ আদালতে
বিচারিক আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন বা বিষয়গুলো আবার শোনেন এবং নতুন ডিক্রি দেন। পরাজিত পক্ষ আবার হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন, এবং সেখান থেকে আপিল বিভাগের অনুমতি চাইতে পারেন; ফলে মামলা স্তরবিন্যাসে নিচে নেমে আবার ওপরে উঠতে পারে। রিমান্ডের আদেশে অন্য কিছু বলা না থাকলে ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য সাধারণত বহাল থাকে।
পুনর্বিচার ৬-১৮ মাস; পরবর্তী আপিল ১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২০সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে মোকদ্দমার পুনর্বিচার হয় এবং তা আবার হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে উঠতে পারে।
খোদ নিবন্ধনকেই চ্যালেঞ্জ করা হলে কী হয়?
- 1পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (রেজিস্ট্রার)
রেজিস্ট্রারের কাছে সংশোধন
মামলার বাইরে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রেজিস্ট্রার, অর্থাৎ ডিপিডিটির মহাপরিচালকের কাছে ধারা ৪২ অনুযায়ী অব্যবহারের কারণে চিহ্ন অপসারণের, অথবা ধারা ৫১ অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল বা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন, যেমন ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে। রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধারা ১০০ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।
৬-২৪ মাসট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪২, ৫১, ১০০ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে সংশোধন
লঙ্ঘনের মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকলে ধারা ৯৮ অনুযায়ী যেকোনো সংশোধনের আবেদন হাইকোর্ট বিভাগে দাখিল করতে হয়। এর শুনানি হয় দেওয়ানি কার্যবিধির পদ্ধতিতে, রেজিস্ট্রার হাজির হতে পারেন, এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপি রেজিস্টার সংশোধনের জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে পরবর্তী আপিল করা যায়।
১-৩ বছরট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৮, ৯৯, ১০৩সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রেজিস্টার সংশোধিত বা নিশ্চিত হয়, এবং এরপর সেই ভিত্তিতে লঙ্ঘনের মোকদ্দমা এগোয়।
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা বেশিরভাগ দেওয়ানি মোকদ্দমার চেয়ে উঁচু স্তরে শুরু হয়। মূল্য যা-ই হোক, ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৬ জেলা জজের নিচে মামলা দায়ের নিষিদ্ধ করে, এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাণিজ্যিক আদালত আইন ট্রেডমার্ক বিরোধ পাঠায় জেলা বা অতিরিক্ত জেলা জজ পরিচালিত বাণিজ্যিক আদালতে, যেখানে সেগুলো চালু আছে। দেওয়ানি আদালত আইনের আর্থিক সীমা এখানে আদালত বদলায় না। বিচারিক আদালত থেকে আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়: বাণিজ্যিক আদালত থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এবং কেবল চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে; অথবা সাধারণ জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রথম আপিল হিসেবে।
অন্তর্বর্তী আদেশ বাণিজ্যিক আদালতের ক্ষেত্রে রিভিশনের মাধ্যমে, আর সাধারণ আদালতের ক্ষেত্রে বিবিধ আপিলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। প্রথম আপিলে ঘটনা ও আইন দুটিই পুনরায় শোনা হয়। মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকলে রেজিস্টার সংশোধনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের মূল এখতিয়ারও আছে। এরপর আপিল বিভাগ কেবল অনুমতি সাপেক্ষে, মূলত আইনের প্রশ্নে, আপিল শোনেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়বাণিজ্যিক আদালত / জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (ফৌজদারি নালিশ)
- শুরু · আদালতের বাইরেঅ্যাডভোকেটের চেম্বার · পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (রেজিস্ট্রার) · মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
বাণিজ্যিক আদালত, ঢাকা
ঢাকা (আসন নিশ্চিত নয়)বাণিজ্যিক বিরোধ শুনানির জন্য বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ২৩ নং আইন)-এর অধীন গঠিত বিশেষায়িত আদালত।
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রতিস্থাপন করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা মহানগরের জন্য তিনটি বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়েছে, কিন্তু এগুলো বিচারকাজ শুরু করেছে কি না বা কোথায় বসে, কোনো সরকারি সূত্র তা নিশ্চিত করেনি। ততদিন বাণিজ্যিক মামলা ঢাকা জজ কোর্টের (১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা) সাধারণ দেওয়ানি আদালতে দায়ের করুন। দায়েরের আগে বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
অ্যাডভোকেটের চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT)
শিল্প ভবন (৫ম তলা), ৯১ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য পরীক্ষা ও নিবন্ধন করে, এবং রেজিস্ট্রারের সামনে বিরোধিতা (opposition) ও সংশোধনের আবেদন শুনানি করে।
ঠিকানাটি ডব্লিউআইপিও (WIPO)-এর সরকারি আইপি-অফিস ডিরেক্টরি থেকে নেওয়া; dpdt.gov.bd পাঠযোগ্যভাবে কোনো রাস্তার ঠিকানা প্রকাশ করেনি।
মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক (Registered trademark)
- ডিপিডিটির রক্ষিত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত চিহ্ন, যা মালিককে নিবন্ধিত পণ্য বা সেবার জন্য একচেটিয়া অধিকার দেয়।
- লঙ্ঘন (Infringement)
- অনুমতি ছাড়া ব্যবসায় নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের অভিন্ন বা প্রতারণামূলকভাবে সদৃশ চিহ্ন ব্যবহার।
- পাসিং অফ (Passing off)
- নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত চিহ্নের ক্ষেত্রে করা যায় এমন দাবি যে বিবাদী নিজের পণ্যকে বাদীর পণ্য হিসেবে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করছেন।
- প্রতারণামূলকভাবে সদৃশ (Deceptively similar)
- অন্য চিহ্নের এত কাছাকাছি যে একজন সাধারণ ক্রেতার বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunction)
- মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীর কার্যকলাপ বন্ধ রাখার আদালতের আদেশ।
- লোকাল কমিশনার (Local commissioner)
- প্রাঙ্গণ পরিদর্শন, তালিকা তৈরি এবং পণ্য জব্দ বা সিলগালা করার জন্য আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি।
- মুনাফার হিসাব (Account of profits)
- ক্ষতিপূরণের বিকল্প, যেখানে লঙ্ঘনকারীকে লঙ্ঘন থেকে অর্জিত মুনাফা হস্তান্তর করতে হয়।
- সংশোধন (Rectification)
- ট্রেডমার্ক রেজিস্টারের কোনো এন্ট্রি সংশোধন, বাতিল বা অপসারণ।
- বাণিজ্যিক আদালত (Commercial Court)
- ট্রেডমার্কসহ বাণিজ্যিক বিরোধের জন্য বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর অধীনে গঠিত জেলা জজ পদমর্যাদার বিশেষায়িত আদালত।
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা কোন আদালতে হয়?
ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত না হলে কি মামলা করা যায়?
লঙ্ঘনকারীকে কত দ্রুত থামানো যায়?
আদালত কী কী প্রতিকার দিতে পারেন?
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা করার সময়সীমা কত?
বিবাদী বলছেন আমার নিবন্ধন অবৈধ। এখন কী হবে?
ফৌজদারি মামলাও কি করা উচিত?
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলায় আপিল কীভাবে হয়?
আইন ও উৎস
- Trademarks Act 2009 (Act No. XIX of 2009), as amended
- Commercial Courts Act 2026 (Act No. 23 of 2026)
- The Code of Civil Procedure, 1908
- The Civil Courts Act, 1887 (as amended to 2026)
- The Limitation Act, 1908
- Department of Patents, Designs and Trademarks
- The Daily Star: Commercial courts open a new chapter in reform
- The Daily Star Law Review: Review the Commercial Court Ordinance 2026
- Financial Express: Commercial court ordinance issued
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।