বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন (writ petition), যার মাধ্যমে দেশত্যাগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধকে বেআইনি ঘোষণা করার প্রার্থনা করা হয়; সাধারণত এটি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া বা কোনো সংস্থার এমন নিষেধাজ্ঞা, যা কোনো আদালত অনুমোদন করেনি।
অনুচ্ছেদ ৩৬ নাগরিকদের দেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের অধিকার দেয়, যা কেবল আইন দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধসাপেক্ষ, এবং আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি নির্বাহী বিধিনিষেধ তিন কর্মদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিশ্চিত হতে হবে। আদালত নিজেই নিষেধাজ্ঞা দিলে পথ হলো রিট নয়, সেই আদালতে আবেদন এবং তারপর ফৌজদারি রিভিশন।
- কোথা থেকে শুরু
- সাধারণত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কে শুরু হয়, তারপর হয় আদেশদানকারী আদালত (প্রায়ই সিনিয়র বিশেষ জজ, ঢাকা), নয়তো রিট…
- মূল আইন
- বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩১, ৩৬, ৪৪, ১০২, ১০৩, ১০৫ ও ১১২; বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩ (অনুচ্ছেদ ৩, ৬, ৭, ১০, ১১ ও ১২)…
- সাধারণ সময়কাল
- অন্তর্বর্তী ভ্রমণ-অনুমতি: দায়েরের পর কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। রুলের চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ৬ মাস থেকে ৩ বছর। আপিল…
- কে মামলা করতে পারেন
- যাঁকে আটকানো হয়েছে বা যাঁর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তিনি নাগরিক বা বিদেশি যা-ই হোন; ব্যক্তি বিদেশে থাকলে কোনো…
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · বিমানবন্দরে এবং নিষেধাজ্ঞার উৎস শনাক্তকরণইমিগ্রেশনে আটকানো বা অফলোড
বেশির ভাগ মানুষ বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার কথা জানতে পারেন ইমিগ্রেশন কাউন্টারে, যখন কর্মকর্তা বলেন পাসপোর্টের বিপরীতে একটি নির্দেশনা আছে এবং বোর্ডিং পাস বাতিল করা হয়। কর্মকর্তা বিশেষ শাখার (Special Branch) ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্য, যাঁরা আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অন্য কোনো সংস্থা বা পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে করা এন্ট্রি অনুযায়ী কাজ করেন। যাত্রীর উচিত সময়, কাউন্টার, ফ্লাইট, কর্মকর্তার নাম ও পদবি এবং তিনি কী বলেছেন তা লিখে রাখা, এবং বিনয়ের সঙ্গে আইনগত ভিত্তি ও অনুরোধকারী কর্তৃপক্ষের নাম জানতে চাওয়া। অন্য বন্দর, অন্য পাসপোর্ট বা স্থলসীমান্ত দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পাসপোর্ট আদেশের অধীনে নিজেই অপরাধ হতে পারে।
কোথায়: ইমিগ্রেশন ডেস্ক (বিশেষ শাখা), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর · সময়: একই দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৬; বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ৩, ১১ ও ১২ · কাগজপত্র: পাসপোর্ট ও ভিসা, বোর্ডিং পাস ও টিকিট, আটকানোর লিখিত বিবরণ (সময়, কর্মকর্তা, ব্যবহৃত কথা)
পরামর্শ: কাউন্টারে তর্ক করবেন না। আটকানোর শান্ত, লিখিত বিবরণই পরবর্তী যেকোনো পিটিশনের সবচেয়ে কাজের প্রমাণ।
ধাপ ২ · বিমানবন্দরে এবং নিষেধাজ্ঞার উৎস শনাক্তকরণকে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তা শনাক্ত করুন
প্রতিকার সম্পূর্ণভাবে উৎসের ওপর নির্ভর করে, তাই আইনজীবী প্রথমে বিধিনিষেধটির ধরন নির্ণয় করেন। এটি হতে পারে আদালতের আদেশ, সাধারণত দুদকের আবেদনে সিনিয়র বিশেষ জজের দেওয়া, অথবা ফৌজদারি মামলায় জামিনের শর্ত; পাসপোর্ট আদেশের অনুচ্ছেদ ৭-এর অধীনে জব্দ বা বাতিল করা পাসপোর্ট; বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিদেশি আইনের ধারা ৩-এর অধীনে আদেশ; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৪৩-এর অধীনে কর পরিশোধ সনদ (tax clearance certificate) না থাকা; ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকাভুক্তি; অথবা কোনো আদেশ ছাড়াই পুলিশ বা সংস্থার অনানুষ্ঠানিক আটকাদেশ। কেবল শেষোক্তটি এবং আইনের বাইরে নেওয়া নির্বাহী পদক্ষেপই বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট-এর স্বাভাবিক বিষয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ৬ ও ৭; বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ধারা ৩; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৪৩; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২) (সমান কার্যকর কোনো প্রতিকার না থাকা) · কাগজপত্র: দুদকের কোনো নোটিশ, এজাহার (FIR), নালিশি দরখাস্ত বা জামিন আদেশ, কর নথি ও ওয়ার্ক পারমিট (বিদেশির জন্য), খেলাপি তালিকাভুক্তি নিয়ে ব্যাংকের চিঠিপত্র
পরামর্শ: কর পরিশোধ সনদের সমস্যা কর সার্কেলে কয়েক দিনেই মেটে। একটি সনদেই যা ঠিক হয়, তা নিয়ে মামলা করবেন না।
ধাপ ৩ · বিমানবন্দরে এবং নিষেধাজ্ঞার উৎস শনাক্তকরণআদেশনামা খোঁজা ও সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার কোনো সরকারি নিবন্ধন বই নেই। তাই আইনজীবী যেসব আদালতে ব্যক্তির নাম থাকতে পারে, সেগুলোর কার্যতালিকা ও আদেশনামা (order sheet) খোঁজেন, দুদকের বিষয়ে শুরু করেন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত থেকে, এবং দেশত্যাগে বিধিনিষেধ বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশসংবলিত যেকোনো আদেশের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেন। আদেশনামায় তারিখ, আবেদনকারী, উল্লিখিত কারণ এবং ব্যক্তির শুনানি হয়েছিল কি না তা থাকে। কোনো আদালতের আদেশ না থাকলে সেই অনুপস্থিতিই রিটের কেন্দ্রীয় তথ্য, কারণ আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো জরুরি নির্বাহী বিধিনিষেধ তিন কর্মদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিশ্চিত হতে হবে।
কোথায়: সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা (অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ফৌজদারি আদালত) · সময়: ২-১০ দিন · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম মো. আতাউর রহমান (আপিল বিভাগ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১; পূর্ণাঙ্গ রায় ডিসেম্বর ২০২১); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৬ · কাগজপত্র: সার্টিফায়েড কপির আবেদন, আদেশনামা ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আদেশের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: দুদকের আবেদন ও আদেশ — দুটিরই কপি চান। আবেদন থেকেই প্রায়ই বোঝা যায় পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির দাবি কতটা দুর্বল।
ধাপ ৪ · বিমানবন্দরে এবং নিষেধাজ্ঞার উৎস শনাক্তকরণকর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবি
কোনো আদালতের আদেশ পাওয়া না গেলে আইনজীবী বিশেষ শাখার ইমিগ্রেশন উইং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অনুরোধকারী বলে সন্দেহভাজন যেকোনো সংস্থাকে চিঠি দিয়ে জানতে চান কোনো বিধিনিষেধ নথিভুক্ত আছে কি না, কোন আইনগত ভিত্তিতে এবং কার আদেশে, এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাসপোর্ট-সংক্রান্ত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে লিখিত আদেশ ও কারণ চাওয়া হয়, যা পাসপোর্ট আদেশের অনুচ্ছেদ ৭(৪) অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করে সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। এই চিঠি ও প্রাপ্তির প্রমাণ হাইকোর্ট বিভাগকে দেখায় যে ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছিল এবং তা প্রত্যাখ্যাত বা উপেক্ষিত হয়েছে।
কোথায়: অনুরোধকারী কর্তৃপক্ষ (দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিশেষ শাখা, পাসপোর্ট অফিস) · সময়: ৩-১৪ দিন · আইন: বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ৭(৪); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩১ · কাগজপত্র: ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ (notice demanding justice), কুরিয়ার বা হাতে হাতে পৌঁছানোর রসিদ, কোনো জবাব
পরামর্শ: ভ্রমণ জরুরি হলে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার স্বল্প সময়সীমা যুক্তিসংগত। ভ্রমণের তারিখ এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ, তা উল্লেখ করুন।
ধাপ ৫ · আদেশদানকারী আদালতনিষেধাজ্ঞা আরোপকারী আদালতে আবেদন
কোনো বিশেষ জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ বিধিনিষেধ আরোপ করলে বা তা জামিনের শর্ত করলে হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত আশা করে যে ব্যক্তি প্রথমে সেই আদালতেই তা প্রত্যাহার বা পরিবর্তনের আবেদন করবেন। আবেদনে একটি নির্দিষ্ট ভ্রমণকাল ও ফেরার তারিখ, বিদেশের ঠিকানা, নোটিশ পেলে হাজির হওয়ার অঙ্গীকার, একজন স্থানীয় প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনে জামানতের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দুদকের উল্লিখিত কারণ, সাধারণত পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি, এর জবাব দেওয়া হয় সহযোগিতা, স্থায়ী বাসস্থান এবং পারিবারিক বা ব্যবসায়িক বন্ধনের প্রমাণ দিয়ে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২৬ সালের সংশোধনী জামিনের সঙ্গে শর্ত যুক্ত করার স্পষ্ট অনুমতি দিয়েছে, যা নিয়ন্ত্রিত ভ্রমণের জন্য উপযোগী।
কোথায়: সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা (অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ফৌজদারি আদালত) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৬; দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম মো. আতাউর রহমান (আপিল বিভাগ, ২০২১); ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (জামিনের শর্ত) · কাগজপত্র: আদেশ প্রত্যাহার বা পরিবর্তনের আবেদন, ভ্রমণসূচি, ফিরতি টিকিট এবং আমন্ত্রণপত্র বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত চিঠি, অঙ্গীকারনামা ও প্রস্তাবিত শর্ত
পরামর্শ: আবেদনেই শর্তের প্রস্তাব দিন। আদালত বিচারপ্রক্রিয়া রক্ষা করে; ফিরে আসার বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা দেখালে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
ধাপ ৬ · আদেশদানকারী আদালতপ্রত্যাহার বা পরিবর্তনের আবেদনের ওপর আদেশ
আদালত উভয় পক্ষকে শুনে হয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে, শর্তসাপেক্ষে একবার ভ্রমণের অনুমতি দেয়, নয়তো আবেদন নামঞ্জুর করে। অনুমতির আদেশে সাধারণত যাওয়া ও ফেরার তারিখ নির্ধারণ করা হয়, পরে পাসপোর্ট আদালতে ফেরত দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় এবং একটি কপি বিশেষ শাখার ইমিগ্রেশন উইংয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত কারণ না দেখিয়ে, ব্যক্তির শুনানি না নিয়ে বা এখতিয়ার ছাড়া নামঞ্জুর করলে আদেশটি ফৌজদারি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে নেওয়া যায়। আদালতের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রিট সাধারণত খারিজ হয়, কারণ রিভিশনই সমান কার্যকর প্রতিকার।
কোথায়: সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা (অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ফৌজদারি আদালত) · সময়: একই দিন থেকে ২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১ক); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২) · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, ইমিগ্রেশনে পাঠানো কপি
পরামর্শ: আদেশের সার্টিফায়েড কপি তুলে বিমানবন্দরে সঙ্গে রাখুন। ইমিগ্রেশন কাগজ দেখে কাজ করে, মুখের কথায় নয়।
ধাপ ৭ · রিট দায়ের, মোশন ও অন্তর্বর্তী অনুমতিরিট পিটিশনের খসড়া
বিধিনিষেধের পেছনে কোনো আদালতের আদেশ না থাকলে, অথবা তা আইনের বাইরের কোনো নির্বাহী পদক্ষেপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে, আইনজীবী রিট পিটিশনের খসড়া করেন। নাগরিকের ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ৩৬ এবং বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ৩১ উল্লেখ করে অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ)-এর অধীনে ঘোষণা চাওয়া হয় যে বিধিনিষেধটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া আরোপিত, সঙ্গে দেশত্যাগে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা। প্রতিপক্ষ হিসেবে সাধারণত থাকেন স্বরাষ্ট্রসচিব, বিশেষ শাখা ও এর ইমিগ্রেশন উইং, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং অনুরোধকারী সংস্থা। পিটিশনে ভ্রমণের সময়সীমা ব্যাখ্যা করা হয় এবং ফিরে আসার অঙ্গীকারের মতো শর্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৫ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও ১০২(২)(ক); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩৬; হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বনাম বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) (পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সংবিধিবদ্ধ আপিল রিটের জন্য বাধা নয়) · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া ও সংযুক্তি, বিমানবন্দরে আটকানোর প্রমাণ, ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ ও জবাব, ভ্রমণের প্রয়োজনের প্রমাণ (ভিসা, চিকিৎসা, চাকরি)
পরামর্শ: আবেদনকারীর বিরুদ্ধে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার কথা প্রকাশ করুন। তথ্য গোপন করা জরুরি মোশনে হারার সবচেয়ে দ্রুত উপায়।
ধাপ ৮ · রিট দায়ের, মোশন ও অন্তর্বর্তী অনুমতিহলফনামা, দায়ের ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ
পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টে একজন হলফনামা কমিশনারের সামনে শপথকৃত হলফনামা (affidavit) দ্বারা সত্যায়িত হয়। আবেদনকারী বিদেশে থাকলে যথাযথভাবে সম্পাদিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (power of attorney) থাকা কোনো আত্মীয় বা মোক্তার হলফ করতে পারেন। আইনজীবী রিট শাখায় পিটিশন দায়ের করেন এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে একটি কপি পৌঁছে দেন, যাতে সরকারের পক্ষে একজন ল' অফিসার উপস্থিত হতে পারেন। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট সাধারণত জরুরি হওয়ায় আইনজীবী এ ধরনের রিটের এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চে ক্রমের বাইরে (out of turn) বিষয়টি তালিকাভুক্ত করার আবেদন করেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক (Chapter XIA); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) (বেঞ্চ) · কাগজপত্র: শপথকৃত হলফনামা, ওকালতনামা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আবেদনকারী বিদেশে থাকলে), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ পৌঁছানোর রসিদ
পরামর্শ: টিকিট বা হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংযুক্ত করুন। নথিতে কেন অপেক্ষা করা যাবে না তা দেখা গেলেই বেঞ্চ ক্রমের বাইরে বিষয় তালিকাভুক্ত করে।
ধাপ ৯ · রিট দায়ের, মোশন ও অন্তর্বর্তী অনুমতিজরুরি মোশন শুনানি
মোশন শুনানিতে অ্যাডভোকেট সংক্ষেপে দেখান যে আবেদনকারীকে কোনো আদালতের আদেশ বা আইনসম্মত উৎস ছাড়াই আটকানো হয়েছে, ন্যায়বিচারের দাবির কোনো জবাব আসেনি এবং ভ্রমণ সময়-সংবেদনশীল। ল' অফিসার বলতে পারেন যে কোনো সংস্থা তদন্ত করছে বা এর মধ্যে কোনো আদালত আদেশ দিয়েছে। বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় বিবেচনাযোগ্য মামলা আছে কি না। বিশেষ জজ বা অন্য কোনো আদালতের আদেশ বেরিয়ে এলে বেঞ্চ সম্ভবত পিটিশন খারিজ করে আবেদনকারীকে সেই আদালত বা রিভিশনের পথ দেখাবে, যেমনটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে কর আপিল ট্রাইব্যুনালের একজন সাবেক কর্মকর্তার পিটিশনে করা হয়েছিল।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দায়েরের ১-১০ দিন পর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২ · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলোর সংক্ষিপ্ত নোট
পরামর্শ: ল' অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশনা নিতে অনুরোধ করুন। কোনো আদালতের আদেশ নেই — একই দিনের এমন বক্তব্যই প্রায়ই মোশনের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
ধাপ ১০ · রিট দায়ের, মোশন ও অন্তর্বর্তী অনুমতিরুল নিশি ও অন্তর্বর্তী ভ্রমণ-অনুমতি
সন্তুষ্ট হলে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট-এর বেঞ্চ রুল নিশি (Rule Nisi) জারি করে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে যে কেন বিধিনিষেধটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া আরোপিত মর্মে ঘোষণা করা হবে না, এবং কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীর ভ্রমণে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রতিকার দিতে পারে। অন্তর্বর্তী অনুমতি প্রায়ই শর্তসাপেক্ষ: নির্দিষ্ট যাত্রা, বিদেশের ঠিকানা প্রকাশ, ফিরে আসার বা তলব করলে হাজির হওয়ার অঙ্গীকার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লন্ডনগামী ফ্লাইট থেকে অফলোড হওয়া এক কোম্পানি পরিচালকের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ এটিই করেছিল, এবং পরে দুদকের বিধিনিষেধকে বেআইনি ঘোষণা করে, কারণ কোনো আদালত তা অনুমোদন করেনি।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনই · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও ১০২(২)(ক)(আ); তাফসির মোহাম্মদ আউয়াল মামলা (হাইকোর্ট বিভাগ, রায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২) · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ রুল নিশি জারির আদেশ
পরামর্শ: প্রতিটি শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলুন। শর্ত ভঙ্গ মামলা নষ্ট করে এবং আদালত অবমাননার ঝুঁকি তৈরি করে।
ধাপ ১১ · ভ্রমণ ও আদেশ পালনইমিগ্রেশনে আদেশ পৌঁছানো ও ভ্রমণ
আইনজীবী স্বাক্ষরিত আদেশ সংগ্রহ করে বিশেষ শাখার ইমিগ্রেশন উইং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অনুরোধকারী সংস্থায় সার্টিফায়েড কপি পৌঁছে দেন এবং প্রাপ্তির সিল সংরক্ষণ করেন। যাত্রী একটি কপি বিমানবন্দরে সঙ্গে নিয়ে যান। যাত্রীকে ছাড়ার আগে ইমিগ্রেশন কর্মীরা সাধারণত তাঁদের সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাই ফ্লাইটের এক দিন বা তার বেশি আগে আদেশ পৌঁছে দিলে দ্বিতীয়বার অফলোড এড়ানো যায়। আদেশে ফেরার তারিখ বা হাজিরার শর্ত থাকলে আবেদনকারী আদালতে দাখিলের জন্য ফেরার প্রমাণ, যেমন সিলযুক্ত পাসপোর্ট পৃষ্ঠা, সংরক্ষণ করেন।
কোথায়: ইমিগ্রেশন ডেস্ক (বিশেষ শাখা), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর · সময়: ভ্রমণের ১-৩ দিন আগে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২ (কর্তৃপক্ষগুলো সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করবে) · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, প্রত্যেক প্রতিপক্ষের প্রাপ্তির সিল, যাওয়া ও ফেরার প্রমাণ
পরামর্শ: আদেশটি কেবল বিমানবন্দরের ডেস্কে নয়, ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরেও দিন। এন্ট্রি কেন্দ্রীয়ভাবে মোছা হয়।
ধাপ ১২ · রুল শুনানি ও রায়জবাবি হলফনামা ও প্রত্যুত্তর
প্রতিপক্ষরা জবাবি হলফনামার (affidavit-in-opposition) মাধ্যমে রুলের জবাব দেয়। দুদক বা পুলিশ সাধারণত অনুসন্ধান বা তদন্তের ব্যাখ্যা দেয় এবং আটকানোর পরে পাওয়া আদালতের আদেশ সংযুক্ত করতে পারে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট আদেশ বা বিদেশি আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। আবেদনকারী প্রত্যুত্তরে আটকানো ও আদালতের অনুমোদনের মধ্যবর্তী কোনো ফাঁক এবং তিন কর্মদিবসের শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা তুলে ধরেন। পরে আদালতের আদেশ নেওয়া হলে বিরোধ বেআইনি আটকের সময়কালে সীমিত হতে পারে, অথবা আবেদনকারীকে আদেশদানকারী আদালতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা, প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply), পরবর্তী ঘটনা নিয়ে সম্পূরক হলফনামা
পরামর্শ: জবাবি হলফনামার প্রতিটি তথ্যগত দাবির উত্তর দিন। হলফনামায় দেওয়া যে বক্তব্যের জবাব দেওয়া হয় না, তা সাধারণত সত্য বলে গৃহীত হয়।
ধাপ ১৩ · রুল শুনানি ও রায়শুনানির তালিকার জন্য রুলের অপেক্ষা
হলফনামা দাখিল সম্পূর্ণ হলে রুলটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠার অপেক্ষায় থাকে। বেঞ্চ মাঝে মাঝে পুনর্গঠিত হয়, তাই বিষয়টি আবার তালিকাভুক্ত করতে হতে পারে। অন্তর্বর্তী অনুমতি কেবল একটি যাত্রার জন্য হলে আবেদনকারী পরবর্তী প্রতিটি যাত্রার আগে বেঞ্চের কাছে নতুন অনুমতি বা অন্তর্বর্তী আদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। এর মধ্যে কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করলে পিটিশন অকার্যকর (infructuous) হয়ে যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে রুল নিষ্পত্তি করা হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬ মাস-৩ বছর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: মেয়াদ বৃদ্ধি বা নতুন অনুমতির আবেদন, আগের শর্ত পালনের প্রমাণ
পরামর্শ: প্রতিবার ফেরার প্রমাণ দ্রুত দাখিল করুন। শর্ত পালনের পরিষ্কার রেকর্ডই পরবর্তী অনুমতির সেরা যুক্তি।
ধাপ ১৪ · রুল শুনানি ও রায়চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ
চূড়ান্ত শুনানিতে বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় বিধিনিষেধের কোনো আইনসম্মত উৎস ছিল কি না। আতাউর রহমান মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া আরোপিত দুদকের নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি ঘোষণা করে, এবং আপিল বিভাগ বলে যে যেকোনো জরুরি বিধিনিষেধ তিন কর্মদিবসের মধ্যে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিশ্চিত হতে হবে। রুল চূড়ান্ত হলে আদালত বিধিনিষেধকে আইনগত প্রভাবহীন ঘোষণা করে এবং আইনসম্মত ভিত্তি ছাড়া ভ্রমণে বাধা না দিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। রুল খারিজ হলে যেকোনো অন্তর্বর্তী আদেশ বাতিল হয়ে যায়। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট শেষ হয় এমন একটি রায়ে, যা অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী ইমিগ্রেশনের জন্য বাধ্যতামূলক।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২টি শুনানির দিন; রায় একই দিনে বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ); মো. আতাউর রহমান বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৮২৪/২০২১; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১১ · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: রায়টি অবিলম্বে ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরে পৌঁছে দিন এবং এন্ট্রি মুছে ফেলা হয়েছে মর্মে লিখিত নিশ্চয়তা চান।
যদি এমন হয়…? বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
বিশেষ জজ নিষেধাজ্ঞা তুলতে অস্বীকার করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন
বিশেষ জজ কারণ না দেখিয়ে, ব্যক্তির শুনানি না নিয়ে বা এখতিয়ার ছাড়া অনুমতি নামঞ্জুর করলে আদেশটি হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশনের (criminal revision) মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১ক) বিশেষ জজের আপিল আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগকে রিভিশনের ক্ষমতা দেয়, যা কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯-এর অধীনে প্রয়োগ করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট নিষেধাজ্ঞা দিলে দায়রা জজের কাছেও রিভিশন চলে। উপযুক্ত ক্ষেত্রে মূল কার্যধারাটিই ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, এবং বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী ভ্রমণ-অনুমতি দিতে পারে।
১-৬ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১) ও (১ক)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫, ৪৩৯ ও ৪৩৯কফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতের দেওয়া ভ্রমণ-বিধিনিষেধ হাইকোর্ট বিভাগ বহাল রাখে, পরিবর্তন করে বা বাতিল করে।
হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়টি বিশেষ জজের কাছে ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা (অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ফৌজদারি আদালত)
বিশেষ জজ আদালতে নতুন শুনানি
রিভিশনে যদি দেখা যায় বিচারিক আদালত ব্যক্তির শুনানি না নিয়ে বা কারণ লিপিবদ্ধ না করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তবে হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই আদেশটি বাতিল করে আদালতকে নতুন করে আবেদন শুনানির নির্দেশ দেয়, কখনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। বিশেষ জজ তখন বিদ্যমান নথি ও নতুন উপকরণের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে আবার শোনেন এবং কারণসহ আদেশ দেন, যা তখনো ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
২-৮ সপ্তাহফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৯বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আবার হাইকোর্ট বিভাগে
নতুন আদেশও প্রতিকূল হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ, অভিযুক্ত বা দুদক, নতুন রিভিশনে আবার হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে। এবার হাইকোর্ট বিভাগ পূর্ণ নথির ভিত্তিতে একটি কারণসংবলিত আদেশ পরীক্ষা করে, তাই দ্বিতীয় দফা সাধারণত সংক্ষিপ্ত হয় এবং মূল প্রশ্ন হয় বিধিনিষেধটি পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির তুলনায় যুক্তিসংগত ও আনুপাতিক কি না।
১-৬ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১ক)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে বিধিনিষেধের বিষয়ে আবার সিদ্ধান্ত হয় এবং চ্যালেঞ্জ হলে হাইকোর্ট বিভাগ আবার তা পর্যালোচনা করে।
পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন
সরকার বা দুদক প্রায়ই হাইকোর্ট বিভাগের রায় বা অন্তর্বর্তী আদেশ স্থগিতের জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আবেদন করে। চেম্বার জজ স্থগিত করতে পারেন, আবেদন নাকচ করতে পারেন অথবা বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে পাঠাতে পারেন। ভ্রমণের অনুমতির আদেশ স্থগিত হলে স্বল্প নোটিশে যাত্রা থেমে যেতে পারে, তাই আবেদনের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত থাকা উচিত।
১-৬ সপ্তাহবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (চেম্বার জজ) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির আবেদন ও আপিল
রিটের রায় চ্যালেঞ্জ করা হয় আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশনের (civil petition for leave to appeal) মাধ্যমে, সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে, যদি না হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত মর্মে সার্টিফিকেট দেয়; ফৌজদারি রিভিশনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হয় ত্রিশ দিনের মধ্যে অনুমতির জন্য ফৌজদারি পিটিশনের মাধ্যমে। ২০২১ সালে দুদকের চ্যালেঞ্জে আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশিকা সংশোধন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে অনুমোদনের নিয়ম নির্ধারণ করে। অনুমতি মিললে আইনের প্রশ্নে আপিল শুনানি হয় এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৪-এর অধীনে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারে।
৬ মাস-২ বছরবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩(২) ও (৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে, পরিবর্তন করে বা উল্টে দেয়, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী এর রায় সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
একই আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ ও এর সীমা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭-এর নীতি প্রয়োগ করে রিট বেঞ্চ নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের জন্য নিজের রায় রিভিউ (review) করতে পারে। ফৌজদারি রিভিশনের আদেশ ভিন্ন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ অনুযায়ী করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া স্বাক্ষরিত রায় আদালত পরিবর্তন করতে পারে না, তাই রিভিশনের আদেশ এর বদলে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৯ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী কোনো পক্ষ রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগের কাছে তার নিজের রায়ের রিভিউ চাইতে পারে, তবে সীমিত কারণে, যেমন নথিতে সুস্পষ্ট ভুল। আবেদনের সঙ্গে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের যুক্তিসহ সার্টিফিকেট এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত লাগে, এবং কেবল একবারই রিভিউ করা যায়। এটি দ্বিতীয় আপিল নয়।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয়, অথবা চিহ্নিত নির্দিষ্ট ভুলটি সংশোধন করে রায় সংশোধিত হয়।
রিট বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারপতির কাছে প্রেরণ
রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারপতির সমন্বয়ে বসে। তাঁরা ভিন্ন রায় দিলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়, যিনি তা একজন তৃতীয় বিচারপতির কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। অন্তর্বর্তী আদেশে ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া ভ্রমণ-বিধিনিষেধ আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দিলে সাধারণত তৃতীয় বিচারপতির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত উঠানোই থাকে।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, ১২ SCOB [২০১৯] HCD ৩৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, এরপর যেকোনো পক্ষ আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে।
ইমিগ্রেশন আদালতের আদেশ উপেক্ষা করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আদালত অবমাননার আবেদন
আদেশ পৌঁছানো সত্ত্বেও যাত্রীকে আবার আটকানো হলে আইনজীবী আদেশ, প্রাপ্তির সিল ও দ্বিতীয়বার আটকানোর বিবরণ সংযুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন। আদালত দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার রুল জারি করে। কর্মকর্তারা সাধারণত এন্ট্রি মুছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন; না করলে তাঁরা শাস্তির মুখোমুখি হন, এবং অবমাননার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অধিকার হিসেবেই আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।
২-১২ সপ্তাহবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৮আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: এন্ট্রি মুছে ফেলা হয় এবং যাত্রী দেশ ছাড়েন, অথবা কর্মকর্তারা আদালত অবমাননার কার্যধারার মুখোমুখি হন।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট-এর দুটি সম্ভাব্য সিঁড়ি আছে, এবং কোনটি প্রযোজ্য তা নির্ধারণ করে বিধিনিষেধের উৎস। আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলে, সাধারণত দুদকের আবেদনে সিনিয়র বিশেষ জজ বা জামিনের শর্তের মাধ্যমে কোনো ফৌজদারি আদালত, ব্যক্তি প্রথমে সেই আদালতে, অর্থাৎ তৃতীয় স্তরের বিচারিক আদালতে, তা প্রত্যাহার বা পরিবর্তনের আবেদন করেন। নামঞ্জুর হলে ফৌজদারি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়া যায়, এবং হাইকোর্ট বিভাগ আদেশটি বাতিল করতে পারে বা নতুন করে কারণসহ সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত পাঠাতে পারে।
কোনো আদালত আদেশ না দিলে মামলা সরাসরি অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে শুরু হয়, কারণ কোনো নিম্ন আদালতের নির্বাহী পদক্ষেপ বাতিল ঘোষণার ক্ষমতা নেই। এখানে কোনো আর্থিক সীমা নেই। রিট আদালত হলফনামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয় এবং বৈধতা পর্যালোচনা করে, তদন্তের মূল বিষয় নয়। যেকোনো পথেই পরাজিত পক্ষ অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগে যায়, যেখানে আইনের প্রশ্ন আবার শোনা হয় এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারে।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতসিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা (অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ফৌজদারি আদালত)
- শুরু · আদালতের বাইরেইমিগ্রেশন ডেস্ক (বিশেষ শাখা), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর · আইনজীবীর চেম্বার · অনুরোধকারী কর্তৃপক্ষ (দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিশেষ শাখা, পাসপোর্ট অফিস)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা
ঢাকার আদালত এলাকা, জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) দায়ের করা দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলার বিচার করে।
মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন (মূল ভবন, ৪০-৪৫ জনসন রোড)। নম্বরযুক্ত স্পেশাল জজ আদালতগুলোর এজলাসের অবস্থান প্রকাশিত নয়, এবং আলোচিত মামলায় অন্যত্র অস্থায়ী আদালতও বসেছে; কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় একজন সিনিয়র স্পেশাল জজ (দায়রা জজ) ও স্পেশাল জজ আছেন।
ইমিগ্রেশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (স্পেশাল ব্রাঞ্চ)
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কুর্মিটোলা, ঢাকাযাত্রীদের বিদেশযাত্রা ও আগমনের সময় পাসপোর্ট ও ভিসা পরীক্ষা করে এবং বিমানবন্দরে আদালতের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বহির্গমন বিধিনিষেধ কার্যকর করে।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পরিচালনা করে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বা "স্টপ লিস্ট"-এ নাম থাকা নিয়ে প্রশ্ন ইমিগ্রেশন ডেস্কে নয়, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদর দপ্তরে নিষ্পত্তি হয়। ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটটি সরকারি; বিমানবন্দরের অবস্থান কেবল এলাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধান কার্যালয়
সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর অধীন দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করে এবং স্পেশাল জজ আদালতে বিচারের জন্য মামলা দায়ের করে।
এলাকা নিশ্চিত (সেগুনবাগিচা, ঢাকা ১০০০), কিন্তু রাস্তার নম্বর সরকারি সাইটে যাচাই করা যায়নি, কারণ সাইটটি নিরাপদভাবে খোলা যায়নি। বিচার বিভাগীয় পোর্টালের ডিরেক্টরিতে চেয়ারম্যানের দপ্তরের ঠিকানা "১ম ১২ তলা সরকারি ভবন (৫ম তলা), ঢাকা-১০০০"। দুদক হটলাইন ১০৬।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা (Travel ban)
- যেকোনো ব্যবস্থা যা কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধা দেয়, যেমন আদালতের আদেশ, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত পদক্ষেপ, বিদেশি আইনের অধীনে নির্দেশ, কর পরিশোধ সনদের শর্ত বা ইমিগ্রেশনের অনানুষ্ঠানিক আটকাদেশ।
- অফলোড (Offloading)
- ইমিগ্রেশন বা বোর্ডিং পর্যায়ে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া, সাধারণত পাসপোর্টের বিপরীতে থাকা কোনো নির্দেশনার কারণে।
- অনুচ্ছেদ ৩৬ (Article ৩৬)
- জনস্বার্থে আইন দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধসাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের বাংলাদেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের সাংবিধানিক অধিকার।
- তিন কর্মদিবসের নিয়ম (Three-working-day rule)
- আপিল বিভাগের এই নির্দেশনা যে জরুরি নির্বাহী ভ্রমণ-বিধিনিষেধ তিন কর্মদিবসের মধ্যে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিশ্চিত হতে হবে।
- বিশেষ জজ (Special Judge)
- যে ফৌজদারি আদালত দুর্নীতির মামলার বিচার করে এবং ভ্রমণে বিধিনিষেধের আবেদনসহ দুদকের আবেদন শোনে।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- হাইকোর্ট বিভাগের এমন আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলা হয় যে কেন প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুর করা হবে না।
- অন্তর্বর্তী ভ্রমণ-অনুমতি (Interim permission to travel)
- মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীকে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া একটি সাময়িক আদেশ, প্রায়ই শর্তসাপেক্ষ।
- ফৌজদারি রিভিশন (Criminal revision)
- বেআইনি, অনুচিত বা এখতিয়ারবিহীন হওয়ার কারণে নিম্ন ফৌজদারি আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট: সাধারণ প্রশ্ন
কখন বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট সঠিক প্রতিকার?
আদালতের আদেশ ছাড়া দুদক কি আমার বিদেশযাত্রা আটকাতে পারে?
হাইকোর্ট বিভাগ কত দ্রুত আমাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে?
বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেই কি দেশ ছাড়তে পারব?
বিদেশি নাগরিক কি বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট করতে পারেন?
রিট করার আগে কি পাসপোর্ট আদেশের অধীনে আপিল করতেই হবে?
আদেশ থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন আবার আটকালে কী হবে?
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রিট-এ সব মিলিয়ে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Constitution of Bangladesh (Articles 31, 36, 102, 103, 105, 112) — Laws of Bangladesh
- Bangladesh Passport Order 1973 — Special Branch immigration rules page
- Income Tax Act 2023 (s.243 tax clearance) — National Board of Revenue
- The Daily Star, 4 December 2021 — Appellate Division full verdict on ACC travel bans (court confirmation within three working days)
- The Financial Express — 'Right to leave one's country never been considered absolute right: HC' (Tafsir Awal judgment)
- UNB — High Court rejects ex-NBR official Matiur's writ petition to travel abroad (November 2024)
- Dhaka Tribune — HC questions why three women were stopped from travelling abroad (September 2026)
- The Daily Star — Court imposes travel ban on ex-minister Nowfel's wife in graft case (September 2026)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।