বাংলাদেশে কার্গো দাবি মামলা: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/অ্যাডমিরালটি ও শিপিং

বাংলাদেশে কার্গো দাবি মামলা: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

সমুদ্রযাত্রায় হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত বা কম খালাস হওয়া পণ্যের জন্য বাংলাদেশে কার্গো দাবি মামলা সাধারণত অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ছ) বা (জ)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা হিসেবে আনা হয়, প্রায়ই পণ্যবাহী জাহাজটি আটকের আবেদনসহ। বন্দর, ডিপো, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা সড়ক পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে দাবি সামুদ্রিক দাবি নয়; সেগুলো যায় বাণিজ্যিক আদালত (Commercial Court) বা সাধারণ দেওয়ানি আদালতে।

আদালতে যাওয়ার আগেই অধিকাংশ মামলার ভাগ্য ঠিক করে দেয় দ্রুত নোটিশ, যৌথ সার্ভে এবং এক বছরের তামাদি।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
খালাসের সময় পণ্য যাচাই
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
জাহাজ ও পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে দাবির জন্য অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে বসা হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকা; বন্দর, ডিপো, সিঅ্যান্ডএফ…
মূল আইন
অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০, ধারা ৩-৮; সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫ (Carriage of Goods by Sea Act) এবং এর তফসিলের হেগ রুলস…
সাধারণ সময়কাল
নোটিশ ও সার্ভে: কয়েক দিন। পরিবহনকারী বা পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সঙ্গে দর-কষাকষি: ১-৬ মাস। অ্যাডমিরালটি বা বাণিজ্যিক…
কে মামলা করতে পারেন
কনসাইনি বা বিল অব লেডিংয়ের ধারক, পরিবহন চুক্তিতে নাম থাকা পণ্যের মালিক, অথবা দাবি পরিশোধের পর পণ্যের বিমাকারী…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

কার্গো দাবি মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. কার্গো দাবি মামলা: ধাপ ১, খালাসের সময় পণ্য যাচাই
    ধাপ ১ · খালাসের সময়

    খালাসের সময় পণ্য যাচাই

    প্রমাণ তৈরি হয় বা হারিয়ে যায় জেটিতেই। চট্টগ্রাম বা মোংলায় জাহাজ পণ্য খালাস করার সময় প্রাপকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের উচিত ট্যালিতে উপস্থিত থাকা, ম্যানিফেস্ট ও বিল অব লেডিংয়ের সঙ্গে পরিমাণ মিলিয়ে দেখা, এবং কোনো ঘাটতি বা দৃশ্যমান ক্ষতি থাকলে তা বন্দরের ল্যান্ডিং বা শর্ট-ল্যান্ডিং কাগজে এবং ডেলিভারি রসিদে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না নিশ্চিত করা। কোনো মন্তব্য ছাড়া সই করা পরিষ্কার রসিদ পরে প্রাথমিক প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায় যে পরিবহনকারী বর্ণনা অনুযায়ী পণ্য বুঝিয়ে দিয়েছে।

    কোথায়: বন্দর কর্তৃপক্ষের শেড ও জেটি (চট্টগ্রাম বা মোংলা) · সময়: খালাস চলাকালে · আইন: হেগ রুলসের অনুচ্ছেদ ৩, নিয়ম ৪ ও ৬ (সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫-এর তফসিল) · কাগজপত্র: বিল অব লেডিং (Bill of lading), ম্যানিফেস্ট ও ট্যালি শিট, বন্দরের ল্যান্ডিং বা শর্ট-ল্যান্ডিং রেকর্ড, মন্তব্যসহ ডেলিভারি রসিদ

    পরামর্শ: ব্যতিক্রমগুলো লিখে রাখতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে লিখিত নির্দেশ দিন; সময়ের চাপে এজেন্টরা প্রায়ই পরিষ্কার রসিদে সই করে ফেলেন।

  2. কার্গো দাবি মামলা: ধাপ ২, ক্ষতির লিখিত নোটিশ দিন
    ধাপ ২ · খালাসের সময়

    ক্ষতির লিখিত নোটিশ দিন

    বাংলাদেশে কার্গো দাবির ক্ষেত্রে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার আগে বা সময়ে, অথবা ক্ষতি দৃশ্যমান না হলে তিন দিনের মধ্যে, পরিবহনকারী বা তার স্থানীয় এজেন্টকে ক্ষতি বা লোকসানের সাধারণ ধরন উল্লেখ করে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ না দিলে পণ্য সরিয়ে নেওয়াই যথাযথ ডেলিভারির প্রাথমিক প্রমাণ হয়ে যায়। বন্দর দায়ী হতে পারে মনে হলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে প্রস্তাবিত দাবির লিখিত নোটিশ দিতে হবে, এবং সেই নোটিশের এক মাস পার না হলে বন্দরের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। বিমাকারীকেও অবিলম্বে নোটিশ দেওয়া উচিত।

    কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: ডেলিভারির ৩ দিনের মধ্যে · আইন: হেগ রুলসের অনুচ্ছেদ ৩, নিয়ম ৬; চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ধারা ৫৬; মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ধারা ৫৬ · কাগজপত্র: পরিবহনকারীর প্রতি দাবির নোটিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের ধারা ৫৬-এর অধীনে নোটিশ, বিমাকারীর প্রতি নোটিশ

    পরামর্শ: ধারা ৫৬(২) অনুযায়ী বন্দরের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অধিকার জন্মানোর দুই মাসের মধ্যে করতে হয়, তাই বন্দরের হেফাজতে ক্ষতির সন্দেহ হলেই তারিখটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন।

  3. কার্গো দাবি মামলা: ধাপ ৩, পণ্যের যৌথ সার্ভে
    ধাপ ৩ · খালাসের সময়

    পণ্যের যৌথ সার্ভে

    একজন স্বাধীন মেরিন সার্ভেয়ার পণ্য পরিদর্শন করেন, আদর্শভাবে পরিবহনকারী বা পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সার্ভেয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে, যাতে পরে ফলাফলকে একতরফা বলে উড়িয়ে দেওয়া না যায়। সার্ভেতে পণ্যের অবস্থা, পরিমাণ, প্যাকিং, সম্ভাব্য কারণ, যেমন সমুদ্রের পানি, অতিরিক্ত তাপ, দূষণ বা চুরি, এবং ক্ষতির মাত্রা লিপিবদ্ধ হয়। নমুনা নিয়ে সিল করা হয়। পক্ষগুলো একমত হতে না পারলে মোকদ্দমা দায়েরের পর আদালতের কাছে স্থানীয় তদন্ত বা সার্ভের আদেশ চাওয়া যায়।

    কোথায়: পণ্যের বিমাকারী ও মেরিন সার্ভেয়ার · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: হেগ রুলসের অনুচ্ছেদ ৩, নিয়ম ৬; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ৯ (স্থানীয় তদন্ত) · কাগজপত্র: ছবিসহ সার্ভে রিপোর্ট, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, পরিবহনকারীকে সার্ভেতে আমন্ত্রণ

    পরামর্শ: পরিবহনকারীকে লিখিতভাবে সার্ভেতে আমন্ত্রণ জানান। যে সার্ভেতে তাদের উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তার গুরুত্ব অনেক বেশি।

  4. কার্গো দাবি মামলা: ধাপ ৪, বিবাদী ও প্রযোজ্য শর্তাবলি চিহ্নিত করা
    ধাপ ৪ · দাবি প্রস্তুত ও উপস্থাপন

    বিবাদী ও প্রযোজ্য শর্তাবলি চিহ্নিত করা

    এরপর আইনজীবী নির্ধারণ করেন ক্ষতির সময় পণ্য কার হেফাজতে ছিল। চুক্তিভিত্তিক পরিবহনকারী হলো যে পক্ষ বিল অব লেডিং ইস্যু করেছে, যা শিপিং লাইন, চার্টারার বা ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার হতে পারে; জাহাজের মালিক হলো প্রকৃত পরিবহনকারী। বন্দর তার শেডে থাকা পণ্যের জন্য জিম্মাদার (bailee) হিসেবে দায়ী, আর ডিপো ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নিজেদের অবহেলার জন্য দায়ী। বিল অব লেডিংয়ের শর্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ: ক্লজ প্যারামাউন্ট, প্যাকেজভিত্তিক দায়সীমা, এখতিয়ার ও সালিশের শর্ত।

    কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫-এর ধারা ২; চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ধারা ১৩(২); চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫১-১৫২ · কাগজপত্র: বিল অব লেডিংয়ের পূর্ণ শর্তাবলি (সামনে ও পেছনে), অন্তর্ভুক্ত থাকলে চার্টারপার্টি, বিক্রয় চুক্তি ও ঋণপত্র (এলসি)

    পরামর্শ: ১৯২৫ সালের আইন অনুযায়ী হেগ রুলস আইনগতভাবে কেবল বাংলাদেশের বন্দর থেকে পাঠানো চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমদানির ক্ষেত্রে সাধারণত বিল অব লেডিংয়ে অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে এই নিয়ম প্রযোজ্য হয়।

  5. ধাপ ৫: বিমা দাবি ও স্থলাভিষেক
    ধাপ ৫ · দাবি প্রস্তুত ও উপস্থাপন

    বিমা দাবি ও স্থলাভিষেক

    অধিকাংশ আমদানিকারক পণ্যের বিমা করেন, প্রায়ই ঋণপত্রের শর্ত হিসেবে। কনসাইনি বিমাকারীর কাছে দাবি দাখিল করেন, বিমাকারী সার্ভে ও পলিসির শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করে স্থলাভিষেকপত্র (letter of subrogation) নেয়। এরপর বিমাকারী কনসাইনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিবহনকারী বা জিম্মাদারের বিরুদ্ধে নিজের নামে, অথবা বিমাগ্রহীতাকে সহ-বাদী করে, দাবি চালায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অ্যাডমিরালটি কোর্ট ক্ষতির অংশবিশেষ পরিশোধকারী একটি বিমাকারীকে সেই পরিমাণে সহ-বাদী হিসেবে একটি অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমায় যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিয়েছে; সেই মামলাটি ছিল একটি জেটির ক্ষতি নিয়ে।

    কোথায়: পণ্যের বিমাকারী ও মেরিন সার্ভেয়ার · সময়: ১-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ১০; Anlima Energy Ltd বনাম M.V. Ansary-1, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৩/২০২৪ (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) · কাগজপত্র: বিমা পলিসি বা সার্টিফিকেট, দাবির বিল, স্থলাভিষেকপত্র

    পরামর্শ: স্থলাভিষেকপত্র সতর্কভাবে খসড়া করুন। আদালত একে কেবল পরিশোধিত অর্থের পরিমাণে অধিকার হস্তান্তর হিসেবে পড়ে।

  6. ধাপ ৬: দাবি উপস্থাপন ও তামাদির সময় রক্ষা
    ধাপ ৬ · দাবি প্রস্তুত ও উপস্থাপন

    দাবি উপস্থাপন ও তামাদির সময় রক্ষা

    সার্ভে, ইনভয়েস ও হিসাবসহ দাবি পরিবহনকারী বা তার পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের কাছে উপস্থাপন করা হয়; সাধারণত হারানো পণ্যের সিআইএফ মূল্য ও সার্ভে খরচ, প্যাকেজভিত্তিক দায়সীমা সাপেক্ষে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ এক বছর: ডেলিভারির এক বছরের মধ্যে মামলা না হলে হেগ রুলস অনুযায়ী পরিবহনকারী দায়মুক্ত হয়, এবং তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩০ ও ৩১-ও পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে এক বছর সময় দেয়। বিদেশি আইনের অধীনে পরিবহনকারীর দেওয়া সময় বৃদ্ধি বাংলাদেশের সময়ের হিসাব থামাতে না-ও পারে।

    কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: ১-৬ মাস, এক বছরের তামাদির মধ্যে · আইন: হেগ রুলসের অনুচ্ছেদ ৩, নিয়ম ৬; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৩০ ও ৩১; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ (স্বীকৃতি) · কাগজপত্র: হিসাবসহ দাবিপত্র, সার্ভে রিপোর্ট, বাণিজ্যিক ইনভয়েস, সময় বৃদ্ধির কোনো চুক্তি থাকলে

    পরামর্শ: আদালত ফোরামের আইন হিসেবে তামাদি আইন প্রয়োগ করে। চিঠিপত্রের ভরসায় এক বছর পার হয়ে যাওয়া ফাইল হেরে যায়।

  7. ধাপ ৭: সামুদ্রিক দাবির জন্য অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা দায়ের
    ধাপ ৭ · দায়ের ও জামানত

    সামুদ্রিক দাবির জন্য অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা দায়ের

    দাবি জাহাজ বা পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে হলে আরজি দাখিল করা হয় অ্যাডমিরালটি কোর্টে; জাহাজে বহন করা পণ্যের ক্ষতি বা হারানোর জন্য ধারা ৩(২)(ছ) এবং পরিবহন চুক্তি থেকে উদ্ভূত দাবির জন্য ধারা ৩(২)(জ)-এর ভিত্তিতে। মোকদ্দমা পরিবহনকারী ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে (in personam) চলতে পারে, এবং মোকদ্দমা দায়েরের সময় দায়ী ব্যক্তি পণ্যবাহী জাহাজ বা তার সহোদর জাহাজের (sister ship) মালিক হলে ধারা ৪(৪) অনুযায়ী জাহাজের বিরুদ্ধে (in rem) চলতে পারে। কোর্ট ফি সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ছ) ও (জ); অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৪); অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৬-৮ · কাগজপত্র: সত্যপাঠসহ আরজি, সংযুক্ত বিল অব লেডিং ও সার্ভে, কোর্ট ফি

    পরামর্শ: ভুল ডেলিভারির দাবি, যেমন মূল বিল অব লেডিং ছাড়া পণ্য ছেড়ে দেওয়া, সামুদ্রিক দাবি হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আদালত একটি আরজি ফেরত দিয়েছে, যেখানে দাবিদার এমন দাবিকে ঋণ হিসেবে নতুন করে সাজিয়েছিলেন, কারণ ঋণ সামুদ্রিক দাবি নয়।

  8. ধাপ ৮: জাহাজ আটক বা জামানত আদায়
    ধাপ ৮ · দায়ের ও জামানত

    জাহাজ আটক বা জামানত আদায়

    পণ্যবাহী জাহাজ, অথবা একই মালিকের সহোদর জাহাজ, বন্দরে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে কার্গো দাবি আদায় করা সবচেয়ে সহজ। অ্যাডমিরালটি কোর্ট মোকদ্দমা গ্রহণের সময় আটকের আদেশ দিতে পারে, এবং মালিক সাধারণত জাহাজ ছাড়াতে মার্শালের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি দেন। অনেক দাবিতে আবার চুক্তির মাধ্যমে জামানত নেওয়া হয়: দাবিদার আটক না করার বিনিময়ে পিঅ্যান্ডআই ক্লাব বা মালিক গ্যারান্টি বা লেটার অব আন্ডারটেকিং দেয়। জামানত না থাকলে বিদেশি মালিকের বিরুদ্ধে ডিক্রি আদায় কঠিন হতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: কয়েক দিন থেকে ৩ সপ্তাহ · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৪); অ্যাডমিরালটি বিধিমালা, ১৯১২-এর বিধি ২৩ ও ৩১ (আটক ও জামানত) · কাগজপত্র: আটকের আবেদন ও হলফনামা, ব্যাংক গ্যারান্টি বা লেটার অব আন্ডারটেকিং

    পরামর্শ: মূল দাবির পাশাপাশি সুদ ও খরচও জামানতের আওতায় আনতে বলুন।

  9. ধাপ ৯: অ-সামুদ্রিক দাবি: বাণিজ্যিক আদালত বা দেওয়ানি আদালত
    ধাপ ৯ · দায়ের ও জামানত

    অ-সামুদ্রিক দাবি: বাণিজ্যিক আদালত বা দেওয়ানি আদালত

    বন্দর, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, গুদাম বা সড়ক পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে দাবি সাধারণত সামুদ্রিক দাবি নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়ে থাকলে এগুলো সেখানে যেতে পারে, কারণ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এ পণ্য পরিবহন একটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক বিরোধ। এই আইন হাইকোর্ট বিভাগের আদি এখতিয়ারভুক্ত বিষয় বাদ রেখেছে, তাই প্রকৃত অ্যাডমিরালটি কার্গো দাবি অ্যাডমিরালটি কোর্টেই থাকে। অন্যথায় দাবির মূল্যমান অনুযায়ী উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে যায়: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ (Civil Judge, সাবেক সহকারী জজ), ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ (সাবেক সিনিয়র সহকারী জজ), আর এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ।

    কোথায়: বাণিজ্যিক আদালত (অথবা মূল্যমান অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত) · সময়: মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতাসহ ১-২ মাস · আইন: বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(৪), ধারা ৪ ও ধারা ৭(১); দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ (২০২৬ সালে সংশোধিত); চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ধারা ৫৬ · কাগজপত্র: আরজি, মধ্যস্থতার রেকর্ড (প্রয়োজন হলে), বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি নোটিশ ও জবাব

    পরামর্শ: বন্দর পণ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর কেবল দশ দিন জিম্মাদার হিসেবে দায়ী থাকে (ধারা ১৩(২)-এর শর্তাংশ), তাই খালাসে দেরি হলে ঝুঁকি আমদানিকারকের ঘাড়ে চলে যায়।

  10. ধাপ ১০: এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি
    ধাপ ১০ · দায়ের ও জামানত

    এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি

    বিবাদীরা প্রায়ই দাবিটি সামুদ্রিক নয় দাবি করে আদেশ ৭ বিধি ১০-এর অধীনে আরজি ফেরতের আবেদন করেন। ২০২৬ সালের মার্চে আদালত জাহাজীকরণের আগে চট্টগ্রামের একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে পুড়ে যাওয়া রপ্তানি পণ্য নিয়ে একটি বিমাকারীর মোকদ্দমা ফেরত দিয়েছে; আদালত বলেছে, ডিপোটি জিম্মাদার ছিল এবং তখনো কোনো বিল অব লেডিং বা সম্পন্ন পরিবহন চুক্তি ছিল না। বিপরীতে, ২০২৬ সালের মে মাসে আদালত বলেছে, ঢাকার আদালতে বিরোধ পাঠানোর শর্ত তার অ্যাডমিরালটি এখতিয়ার বাতিল করে না। বিদেশি এখতিয়ার ও সালিশের শর্তেও একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১০ ও ১১; Falvey Insurance Group বনাম BM Container Depot Ltd, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ২৬/২০২৫ (১০ মার্চ ২০২৬); Sea Lead Shipping Pte Ltd বনাম Everbest Logistics Ltd, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৫৯/২০২৫ (১৩ মে ২০২৬); Metrocem Cement Ltd বনাম M.V. Haji Kayes, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ১৫/২০২৫ (২০ জুলাই ২০২৬) · কাগজপত্র: আদেশ ৭ বিধি ১০ বা ১১-এর অধীনে আবেদন, লিখিত আপত্তি

    পরামর্শ: ক্ষতির মুহূর্তে পণ্য কোথায় এবং কোন চুক্তির অধীনে ছিল, সেই প্রশ্ন করেই ফোরাম বেছে নিন।

  11. ধাপ ১১: লিখিত জবাব ও পরিবহনকারীর আত্মপক্ষ
    ধাপ ১১ · বিচার

    লিখিত জবাব ও পরিবহনকারীর আত্মপক্ষ

    পরিবহনকারী লিখিত জবাব দিয়ে উত্তর দেয়। সাধারণ আত্মপক্ষগুলো হলো: পণ্য যে অবস্থায় ডেলিভারি হয়েছে সেই অবস্থাতেই জাহাজে তোলা হয়েছিল; ক্ষতিটি হেগ রুলসের কোনো ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, যেমন সমুদ্রের বিপদ, অপর্যাপ্ত প্যাকিং বা পণ্যের অন্তর্নিহিত ত্রুটি; জাহাজকে সমুদ্রোপযোগী রাখতে যথাযথ তৎপরতা দেখানো হয়েছিল; দাবি তামাদিতে বারিত; অথবা দায় প্যাকেজপ্রতি সীমিত। এরপর প্রমাণের দায় পক্ষগুলোর মধ্যে আসা-যাওয়া করে: পরিষ্কার বিল অব লেডিং জাহাজীকরণের সময় পণ্য ভালো অবস্থায় থাকার প্রাথমিক প্রমাণ।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১ ও ৫; হেগ রুলসের অনুচ্ছেদ ৩, নিয়ম ৪ এবং অনুচ্ছেদ ৪, নিয়ম ১, ২ ও ৫ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, মেটস রিসিট ও লোডিং রিপোর্ট, স্টোয়েজ প্ল্যান ও লগবুকের উদ্ধৃতি

    পরামর্শ: শুরুতেই পরিবহনকারীর লোডিং ও যাত্রার রেকর্ড চেয়ে নিন; কার্গো দাবি প্রায়ই পরিবহনকারীর নিজের কাগজপত্রেই জেতা যায়।

  12. ধাপ ১২: সাক্ষ্য ও শুনানি
    ধাপ ১২ · বিচার

    সাক্ষ্য ও শুনানি

    বিচার্য বিষয় গঠন করা হয়, এবং ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী সাক্ষীরা হলফনামায় জবানবন্দি দেন, তারপর তাঁদের জেরা করা হয়। সাধারণত মূল সাক্ষী সার্ভেয়ার, আর কনসাইনির কর্মকর্তা বাণিজ্যিক কাগজপত্র ও বিল অব লেডিং প্রমাণ করেন। বিদেশি কাগজপত্রের প্রত্যয়িত অনুবাদ লাগে, এবং বিদেশি সাক্ষীদের কমিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যায়। বাণিজ্যিক আদালতেও একই কার্যবিধি প্রযোজ্য, তবে দ্রুততার আইনি তাগিদ আছে এবং শুনানি ভার্চুয়ালি হতে পারে। জাহাজে পণ্য রাখার ব্যবস্থা ও যাত্রাপথের ঘটনা ব্যাখ্যার জন্য পরিবহনকারীর মাস্টার বা এজেন্টকে তলব করা হতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৪ · কাগজপত্র: সাক্ষ্যের হলফনামা, প্রদর্শিত কাগজপত্র, বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন

    পরামর্শ: সার্ভেয়ার হাজির হতে না পারলে তা বড় সমস্যা; দূর থেকে বা কমিশনের মাধ্যমে সাক্ষ্যের ব্যবস্থা আগেই ঠিক করে নিন।

  13. ধাপ ১৩: রায় ও ডিক্রি
    ধাপ ১৩ · ডিক্রি ও আদায়

    রায় ও ডিক্রি

    দাবি সফল হলে আদালত ক্ষতিপূরণের ডিক্রি দেয়, সাধারণত গন্তব্যে হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের মূল্য বা তার ইনভয়েস মূল্য, সঙ্গে সার্ভে খরচ ও সুদ, প্রমাণিত প্যাকেজভিত্তিক দায়সীমা সাপেক্ষে। বাংলাদেশে অ্যাডমিরালটি কার্গো দাবিতে ডিক্রি জাহাজের বিরুদ্ধে in rem এবং পরিবহনকারী বা মালিকের বিরুদ্ধে in personam কার্যকর হয়। দাবি ব্যর্থ হলে জামানত অবমুক্ত হয়। প্রতিটি পর্যায়েই মীমাংসা সাধারণ ঘটনা, এবং তা আপসের ডিক্রি হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির ১-৩ মাস পর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৪ (সুদ) · কাগজপত্র: রায়, স্বাক্ষরিত ডিক্রি

    পরামর্শ: মুদ্রা ও বিনিময় হারের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে আদালতকে অনুরোধ করুন; বৈদেশিক মুদ্রার দাবি নিয়ে জারির সময় প্রায়ই বিরোধ হয়।

  14. ধাপ ১৪: ডিক্রি অনুযায়ী আদায়
    ধাপ ১৪ · ডিক্রি ও আদায়

    ডিক্রি অনুযায়ী আদায়

    আগে থেকে দেওয়া জামানতের বিরুদ্ধে আদায় সবচেয়ে দ্রুত। ডিক্রিদার জারি মামলা দায়ের করে মার্শালের কাছে রাখা ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন করতে, অথবা জাহাজ বিক্রি হয়ে থাকলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে পরিশোধ করতে আদালতকে অনুরোধ করেন। জামানত না থাকলে আদেশ ২১-এর অধীনে বাংলাদেশে বিবাদীর সম্পদের বিরুদ্ধে in personam জারি চলে, যা এমন বিদেশি পরিবহনকারীর ক্ষেত্রে ধীর হতে পারে যার এখানে উপস্থিতি কেবল একজন স্থানীয় এজেন্ট। এ কারণেই দাবির শক্তির চেয়ে জামানত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: জামানত থাকলে ১-৬ মাস; না থাকলে আরও বেশি · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০ ও ১১; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২-১৮৩ (ডিক্রির ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য তা যাচাই করুন) · কাগজপত্র: জারির আবেদন, সার্টিফায়েড ডিক্রি, ব্যাংক গ্যারান্টি

    পরামর্শ: স্থানীয় এজেন্ট পরিবহনকারীর ডিক্রির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী নন; বিচারের আগেই জামানতের পরিকল্পনা করুন।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? কার্গো দাবি মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · বাণিজ্যিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ

কোনো পক্ষ বাণিজ্যিক আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    বাণিজ্যিক আপিল বেঞ্চে আপিল

    বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬ অনুযায়ী বাণিজ্যিক আদালতের কেবল চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলে, এবং আপিল ষাট দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, যেখানে প্রধান বিচারপতি বাণিজ্যিক আপিল বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চ নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনে। দাবিটির বিচার সাধারণ দেওয়ানি আদালতে হয়ে থাকলে আপিল মূল্যমান অনুসরণ করে: যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আপিল যায় জেলা জজের কাছে, এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে।

    দায়েরের জন্য ৬০ দিন; ১-২ বছরবাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩(৪) ও ধারা ৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালত ডিক্রি বহাল, পরিবর্তন বা রদ করে, অথবা মামলা ফেরত পাঠায়।

রিভিশন · বাণিজ্যিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ → বাণিজ্যিক আদালত

বাণিজ্যিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ কি চ্যালেঞ্জ করা যায়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন

    বাণিজ্যিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ, যেমন নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুর, সংশোধনী নাকচ বা সার্ভের আদেশ, আপিলযোগ্য নয়, তবে ধারা ৬(১)-এর শর্তাংশ কার্যবিধির নীতি অনুযায়ী রিভিশনের (revision) সুযোগ দেয়। দরখাস্ত ষাট দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, এবং দেখাতে হয় যে আইনের ভুলের কারণে সিদ্ধান্তে ভুল হয়ে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। অ্যাডমিরালটি কোর্টের বিরুদ্ধে কোনো রিভিশন চলে না, কারণ সেটি নিজেই হাইকোর্ট বিভাগ।

    দায়েরের জন্য ৬০ দিন; ৩-১২ মাসবাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬(১)-এর শর্তাংশ ও ধারা ৬(২)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)
  2. 2
    বাণিজ্যিক আদালত (অথবা মূল্যমান অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত)

    বিচারিক আদালতে ফেরত

    রিভিশন নিষ্পত্তির পর নথি ফেরত যায় এবং বাণিজ্যিক আদালত হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অনুযায়ী এগোয়, যেমন সার্ভের আবেদন আবার শোনে বা সংশোধনীর অনুমতি দেয়। রিভিশন চলাকালে বিচার স্থগিত রাখতে চাইলে তা সুনির্দিষ্টভাবে চাইতে হবে, নইলে নিচের আদালতে মোকদ্দমা চলতে থাকে।

    নির্দেশনা অনুযায়ীদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অন্তর্বর্তী আদেশ সংশোধিত বা বহাল হয়, এবং নিচের আদালতে বিচার আবার শুরু হয়।

রিভিউ · হাইকোর্ট বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

একই আদালত কি নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ

    কোনো পক্ষ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতকেই রিভিউ (review) করতে বলতে পারে, যদি নথিতে স্পষ্ট ভুল থাকে, যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে হাজির করা যায়নি এমন নতুন সাক্ষ্য পাওয়া যায়, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকে। অ্যাডমিরালটি কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সময়সীমা বিশ দিন, কারণ সেটি আদি এখতিয়ারে হাইকোর্ট বিভাগ। বাণিজ্যিক আদালত বা দেওয়ানি আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে সময়সীমা নব্বই দিন, এবং ২০২৬ সালের আইনের ধারা ৬ রিভিউর সুযোগ স্পষ্টভাবে বহাল রেখেছে।

    দায়েরের জন্য ২০ বা ৯০ দিন; ১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৬২ ও ১৭৩বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬(১)-এর শর্তাংশ

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি বহাল বা সংশোধিত হয়, এবং পরাজিত পক্ষ তবুও উচ্চতর আদালতে যেতে পারে।

রেফারেন্স · বাণিজ্যিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ → বাণিজ্যিক আদালত

বিচারিক আদালত আইন নিয়ে নিশ্চিত না হলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আইনগত প্রশ্নের রেফারেন্স

    কোনো অধস্তন আদালতের আইনগত প্রশ্নে যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬-এর অধীনে বিষয়টি বিবৃত করে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স পাঠাতে পারে। কার্গো দাবিতে এমন প্রশ্ন হতে পারে, যেমন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আমদানির বিল অব লেডিংয়ে হেগ রুলস প্রযোজ্য কি না, বা বন্দরের দশ দিনের দায়সীমা কীভাবে কাজ করে। হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির জন্য ফেরত পাঠায়।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিচারিক আদালত হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর প্রয়োগ করে দাবি নিষ্পত্তি করে।

রিমান্ড (ফেরত) · বাণিজ্যিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ → বাণিজ্যিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিল আদালত মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    পুনর্বিচারের জন্য বাণিজ্যিক আদালতে ফেরত

    বিচারিক আদালত তামাদি বা রক্ষণীয়তার মতো প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করলে এবং আপিল আদালত তা উল্টে দিলে, মূল বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো যায়। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর নথিতে যথেষ্ট সাক্ষ্য থাকলে আপিল আদালতের নিজেরই মামলা নিষ্পত্তি করা উচিত, তাই ফেরত পাঠানো এখন ব্যতিক্রম। ফেরতের আদেশে আপত্তি থাকলে পক্ষটি আপিল নয়, ধারা ১১৫-এর অধীনে রিভিশনের মাধ্যমে তা চ্যালেঞ্জ করে।

    আপিলের রায়ের সঙ্গেদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৪ ও ২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫
  2. 2
    বাণিজ্যিক আদালত (অথবা মূল্যমান অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত)

    নতুন সিদ্ধান্ত ও দ্বিতীয়বার ওপরে ওঠা

    নির্দেশ থাকলে বাণিজ্যিক আদালত আরও সাক্ষ্য নেয় এবং বাকি বিচার্য বিষয়ে, যেমন পরিবহনকারীর আত্মপক্ষ বা ক্ষতির পরিমাণ, নতুন রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবার ষাট দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে, এবং সেখান থেকে অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে আপিল চলে, ফলে ফেরত পাঠানো কার্গো দাবি দুবার আদালতের স্তর বেয়ে উঠতে পারে।

    ৬-১৮ মাসবাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিচের আদালতে মূল বিষয়ে দাবি নিষ্পত্তি হয়, এবং আবার হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল)

    মামলা অ্যাডমিরালটি কোর্টে নিষ্পত্তি হোক বা আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চে, শেষ পথ হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে আপিল বিভাগ। সাধারণ মামলায় পরাজিত পক্ষকে ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতির জন্য সিভিল পিটিশন দায়ের করতে হয়। অনুমতি দেওয়া হয় প্রধানত আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে, যেমন ধারা ৩(২)-এর পরিধি বা এখতিয়ার-শর্তের প্রভাব। জারি স্থগিতের আবেদন করা হয় চেম্বার জজের কাছে।

    দায়েরের জন্য ৬০ দিন; ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ (রিভিউ)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত এবং সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

আপস-মীমাংসা · আইনজীবী → বিমাকারী → বাণিজ্যিক আদালত

বিচার ছাড়াই কি দাবি মীমাংসা করা যায়?

  1. 1
    পণ্যের বিমাকারী ও মেরিন সার্ভেয়ার

    আলোচনা বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে মীমাংসা

    সার্ভে ও তামাদির সময় নিশ্চিত হয়ে গেলে অধিকাংশ কার্গো দাবি পরিবহনকারীর পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সঙ্গে মীমাংসা হয়ে যায়। জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার লাগে না এমন বাণিজ্যিক মোকদ্দমার আগে, বিধিতে ব্যবস্থা থাকলে, ধারা ৭-এর অধীনে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক, এবং মোকদ্দমা চলাকালে মধ্যস্থতা সাধারণত ত্রিশ দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়, যা আরও ত্রিশ দিন বাড়ানো যায়। স্বাক্ষরিত মধ্যস্থতা-মীমাংসা ডিক্রি হিসেবে গণ্য হয়। অ্যাডমিরালটি কোর্টে মীমাংসা আদেশ ২৩ বিধি ৩-এর অধীনে আপসের ডিক্রি হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।

    ১-৬ মাসবাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৭দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯কদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মীমাংসা অনুযায়ী দাবিদার অর্থ পান এবং জামানত অবমুক্ত হয়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

কার্গো দাবি মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে কার্গো দাবি মামলা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তরে শুরু হতে পারে। সমুদ্রপথে বহন করা পণ্যের জন্য জাহাজ, জাহাজের মালিক বা চুক্তিভিত্তিক পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে দাবি অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ছ) বা (জ) অনুযায়ী সামুদ্রিক দাবি, তাই মূল্যমানের কোনো সীমা ছাড়াই এবং আটকের সুযোগসহ এগুলো অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে বসা হাইকোর্ট বিভাগে শুরু হয়। বন্দর, ডিপো, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও সড়ক পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে দাবি সাধারণ জিম্মা বা চুক্তিভিত্তিক দাবি।

এগুলো যায় বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়ে থাকলে সেখানে, নইলে আর্থিক এখতিয়ার অনুযায়ী উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, আর এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ। বাণিজ্যিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ষাট দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল হয়, এবং আপিল বেঞ্চ তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনে। অ্যাডমিরালটি কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের ভেতরে আপিল চলে না। যেকোনো পথেই হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগ মামলা শোনে কেবল অনুমতি সাপেক্ষে, প্রধানত আইনের প্রশ্নে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. প্রথম দফার আদালতবাণিজ্যিক আদালত (অথবা মূল্যমান অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত)
  4. শুরু · আদালতের বাইরেবন্দর কর্তৃপক্ষের শেড ও জেটি (চট্টগ্রাম বা মোংলা) · পণ্যের বিমাকারী ও মেরিন সার্ভেয়ার · দাবিদারের আইনজীবী
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

প্রথম দফার আদালত

বাণিজ্যিক আদালত, ঢাকা

ঢাকা (আসন নিশ্চিত নয়)

বাণিজ্যিক বিরোধ শুনানির জন্য বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ২৩ নং আইন)-এর অধীন গঠিত বিশেষায়িত আদালত।

বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রতিস্থাপন করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা মহানগরের জন্য তিনটি বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়েছে, কিন্তু এগুলো বিচারকাজ শুরু করেছে কি না বা কোথায় বসে, কোনো সরকারি সূত্র তা নিশ্চিত করেনি। ততদিন বাণিজ্যিক মামলা ঢাকা জজ কোর্টের (১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা) সাধারণ দেওয়ানি আদালতে দায়ের করুন। দায়েরের আগে বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)

বন্দর, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করে: জাহাজ ভেড়ানো, বন্দর মাশুল, পণ্য হ্যান্ডলিং ও সংরক্ষণ; বন্দরে থাকা জাহাজ আটক ও মুক্তির আদালতের আদেশ কার্যকর করে এবং অপরিশোধিত বন্দর মাশুলের জন্য পণ্য আটকে রাখতে পারে।

যাচাইয়ের সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি, তাই ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। অ্যাডমিরালটি আটকাদেশ বন্দর নয়, হাইকোর্ট বিভাগ জারি করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।

শুরু · আদালতের বাইরে

পণ্যের বিমাকারী ও মেরিন সার্ভেয়ার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

দাবিদারের আইনজীবী

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

খালাসের সময়
০.১–১ মাস
দাবি প্রস্তুত ও উপস্থাপন
১–৮ মাস
দায়ের ও জামানত
০.২৫–৩ মাস
বিচার
৯–৩৬ মাস
ডিক্রি ও আদায়
১–১২ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১১.৩৫–৬০ মাস · সামগ্রিক: নোটিশ ও সার্ভে: কয়েক দিন। পরিবহনকারী বা পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সঙ্গে দর-কষাকষি: ১-৬ মাস। অ্যাডমিরালটি বা বাণিজ্যিক মোকদ্দমা থেকে ডিক্রি: প্রায় ১-৪ বছর। আপিল: আরও ১-৩ বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

বিল অব লেডিং (Bill of lading)
পরিবহনকারী পণ্যের প্রাপ্তিরসিদ হিসেবে যে দলিল ইস্যু করে; এটি পরিবহন চুক্তির প্রমাণ এবং সাধারণত পণ্যের মালিকানার দলিল।
হেগ রুলস (Hague Rules)
পরিবহনকারীর দায়িত্ব, আত্মপক্ষ, প্যাকেজভিত্তিক দায়সীমা ও এক বছরের তামাদি বিষয়ক আন্তর্জাতিক নিয়ম, যা সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫-এর তফসিলে দেওয়া আছে।
ক্লজ প্যারামাউন্ট (Clause paramount)
বিল অব লেডিংয়ের এমন শর্ত, যা চুক্তির মাধ্যমে হেগ বা হেগ-ভিসবি রুলস প্রযোজ্য করে।
শর্ট-ল্যান্ডিং (Short-landing)
বিল অব লেডিং বা ম্যানিফেস্টে দেখানো পরিমাণের চেয়ে কম পণ্য খালাস হওয়া।
যৌথ সার্ভে (Joint survey)
পণ্যের স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ ও পরিবহনকারী, উভয়ের সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের পরিদর্শন।
স্থলাভিষেক (Subrogation)
ক্ষতি পরিশোধের পর বিমাগ্রহীতার স্থলে দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে দাবি চালানোর বিমাকারীর অধিকার।
পিঅ্যান্ডআই ক্লাব (P&I club)
জাহাজমালিকদের পারস্পরিক বিমা প্রতিষ্ঠান, যা পণ্য-সংক্রান্ত দায় কভার করে এবং প্রায়ই দাবির জন্য জামানত দেয়।
জিম্মাদার (Bailee)
অন্যের পণ্য হেফাজতে রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যেমন বন্দর, ডিপো বা গুদাম, যাকে পণ্যের যুক্তিসংগত যত্ন নিতে হয়।
প্রশ্নোত্তর

কার্গো দাবি মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে কার্গো দাবি মামলা কোথায় দায়ের করব?
যাত্রাপথে পণ্য পরিবহনকারীর হেফাজতে থাকার সময় ক্ষতি হলে অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ছ) বা (জ)-এর অধীনে ঢাকায় হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা হিসেবে কার্গো দাবি মামলা দায়ের করুন। বন্দর, ডিপো, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা ট্রাকচালক দায়ী হলে দাবিটি বাণিজ্যিক আদালত বা সাধারণ দেওয়ানি আদালতে যাবে।
বাংলাদেশে কার্গো দাবির সময়সীমা কত?
সাধারণত এক বছর। ডেলিভারির এক বছরের মধ্যে মামলা না হলে হেগ রুলস অনুযায়ী পরিবহনকারী দায়মুক্ত হয়, এবং তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩০ ও ৩১-ও পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে এক বছর সময় দেয়। চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্গো দাবি মামলা এক মাসের নোটিশ দেওয়ার পর মামলার অধিকার জন্মানোর দুই মাসের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
পরিবহনকারীকে কি নোটিশ দিতে হয়?
হ্যাঁ। পণ্য সরিয়ে নেওয়ার আগে বা সময়ে, অথবা ক্ষতি দৃশ্যমান না হলে তিন দিনের মধ্যে, বন্দরে পরিবহনকারী বা তার এজেন্টকে ক্ষতি বা লোকসানের লিখিত নোটিশ দিন। নোটিশ না দিলে দাবি বাতিল হয় না, তবে পণ্য সরিয়ে নেওয়াই বর্ণনা অনুযায়ী পণ্য ডেলিভারি হওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ হয়ে যায়।
হারানো পণ্যের জন্য কি বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী?
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ২০২২ সালের আইনের ধারা ১৩(২) অনুযায়ী হেফাজতে থাকা পণ্যের জন্য জিম্মাদার হিসেবে দায়ী। বন্দর পণ্যের দায়িত্ব নেওয়ার দশ দিন পর এই দায় শেষ হয়, তাই খালাসে দেরি হলে ঝুঁকি আমদানিকারকের ঘাড়ে যায়। বন্দরের বিরুদ্ধে মামলা করতে এক মাসের আগাম নোটিশ এবং দুই মাসের মধ্যে মামলা দায়ের প্রয়োজন।
আমার পণ্যবাহী জাহাজটি কি আটক করা যায়?
হ্যাঁ, যদি পণ্যবাহী জাহাজ, অথবা একই ব্যক্তির মালিকানাধীন সহোদর জাহাজ, বাংলাদেশের জলসীমায় থাকে এবং মালিকই ব্যক্তিগতভাবে (in personam) দায়ী ব্যক্তি হন। মোকদ্দমা গ্রহণের সময় অ্যাডমিরালটি কোর্ট আটকের আদেশ দিতে পারে, এবং মালিক সাধারণত ছাড়ানোর জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি দেন। চুক্তিভিত্তিক পরিবহনকারীর কাছে চার্টারে থাকা জাহাজ প্রায়ই চার্টারারের দায়ের জন্য আটক করা যায় না।
সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫ কি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
নিজস্ব জোরে নয়। ধারা ২ হেগ রুলস কেবল বাংলাদেশের বন্দর থেকে পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করে। আমদানির ক্ষেত্রে সাধারণত বিল অব লেডিংয়ের ক্লজ প্যারামাউন্টের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় হেগ বা হেগ-ভিসবি রুলস প্রযোজ্য হয়। চুক্তি যে আইনই বেছে নিক, বাংলাদেশের আদালতে বাংলাদেশের তামাদি আইনই প্রযোজ্য।
আমার বিমাকারী কি দাবি করতে পারে?
হ্যাঁ। পরিশোধের পর বিমাকারী স্থলাভিষেকপত্র নেয় এবং এককভাবে বা বিমাগ্রহীতার সঙ্গে সহ-বাদী হয়ে পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। ২০২৬ সালে অ্যাডমিরালটি কোর্ট একটি বিমাকারীকে তার পরিশোধিত অর্থের পরিমাণে সহ-বাদী হিসেবে যুক্ত করেছে। কনসাইনিদের উচিত নিজেদের বিমাবহির্ভূত ক্ষতি, যেমন ডিডাক্টিবল, একই মোকদ্দমায় রাখা।
পণ্যের ক্ষতিপূরণ কীভাবে হিসাব করা হয়?
সাধারণত হারানো পরিমাণের জন্য গন্তব্যে পণ্যের মূল্য বা ইনভয়েস মূল্য, অথবা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের মূল্যহ্রাস, সঙ্গে সার্ভে খরচ ও সুদ। হেগ রুলস বা বিল অব লেডিং অনুযায়ী প্রযোজ্য প্যাকেজভিত্তিক দায়সীমার ওপর পরিবহনকারী নির্ভর করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য বিক্রি করে পাওয়া অর্থ বাদ দেওয়া হয়।

আইন ও উৎস

  1. Admiralty Court Act 2000 (Act 43 of 2000) — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  2. Carriage of Goods by Sea Act 1925 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  3. Chattogram Port Authority Act 2022 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  4. Commercial Courts Act 2026 (Act 23 of 2026) — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  5. Limitation Act 1908 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  6. High Court Division, Falvey Insurance Group v BM Container Depot Ltd, Admiralty Suit No. 26 of 2025 (10 March 2026)
  7. High Court Division, Sea Lead Shipping Pte Ltd v Everbest Logistics Ltd, Admiralty Suit No. 59 of 2025 (13 May 2026)
  8. High Court Division, Anlima Energy Ltd v M.V. Ansary-1, Admiralty Suit No. 3 of 2024 (19 January 2026)
  9. High Court Division, Metrocem Cement Ltd v M.V. Haji Kayes, Admiralty Suit No. 15 of 2025 (20 July 2026)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp