আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন: পুরো যাত্রাপথ, ধাপে ধাপে
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ এবং আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ বিভাগের কাছে তার নিজের রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন। এটি ত্রিশ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়, যুক্তিসহ সার্টিফিকেটসহ একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর লাগে, এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত দিতে হয়। এটি সফল হয় কেবল সীমিত কারণে, যেমন নথিতে সুস্পষ্ট ভুল।
মাত্র একবার রিভিউ করা যায়, এবং এটি দ্বিতীয় আপিল নয়, যদিও বিরল ক্ষেত্রে আদালত অনুমতি দিয়ে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।
- কোথা থেকে শুরু
- আপিল বিভাগের রায় বা আদেশের পর (আপিলের অনুমতি নামঞ্জুরের আদেশসহ); দরখাস্ত দাখিল হয় আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিতে এবং যতদূর…
- মূল আইন
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯, ১০৩, ১০৪, ১০৫, ১১১ ও ১১২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি…
- সাধারণ সময়কাল
- দাখিল: রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে। শুনানি: প্রায় ৩-১৮ মাস, সাংবিধানিক মামলায় কখনো আরও বেশি (ঢাকার সাধারণ চর্চা…
- কে মামলা করতে পারেন
- যে কার্যধারায় রায় বা আদেশ দেওয়া হয়েছে তার যেকোনো পক্ষ, সরকারসহ; আদালত স্বপ্রণোদিত হয়েও রিভিউ করতে পারেন
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · রায়ের পরআপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেন
রিভিউ (review) সম্ভব কেবল আপিল বিভাগের নিজের ঘোষিত রায় বা দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে। তা হতে পারে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আপিলের চূড়ান্ত রায়, রিট আপিলের রায়, অথবা আপিলের অনুমতির পিটিশন খারিজের আদেশ। দাখিলের ত্রিশ দিনের মেয়াদ গণনা শুরু হয় রায় ঘোষণা বা আদেশ দেওয়ার দিন থেকে, সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার দিন থেকে নয়। তাই আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন বেঞ্চ রায় দেওয়ার দিন থেকেই সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা।
কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ · সময়: রায় ঘোষণার দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২ · কাগজপত্র: রায় ঘোষণার তারিখের নোট, সংক্ষিপ্ত আদেশ বা রায়ের কার্যকর অংশ
পরামর্শ: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর না হলেও সঙ্গে সঙ্গে রায় ঘোষণা থেকে ত্রিশতম দিনটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন।
ধাপ ২ · রায়ের পরসার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ
প্রতিটি রিভিউ দরখাস্তের সঙ্গে আপত্তিকৃত রায় বা আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করতে হয়। অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড অবিলম্বে রেজিস্ট্রিতে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করেন। গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পূর্ণাঙ্গ যুক্তিসহ রায় কখনো সংক্ষিপ্ত আদেশের কয়েক সপ্তাহ বা মাস পরে প্রকাশিত হয়। বিধি অনুযায়ী দরখাস্তের সঙ্গে সার্টিফায়েড কপি থাকতে হবে, এবং নকল তোলার সময়ের জন্য কোনো ব্যতিক্রম নেই। ত্রিশতম দিনের মধ্যে কপি প্রস্তুত না হলে নিরাপদ পথ হলো সময়মতো দাখিল করে পরে কপি দাখিলের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা। তা মঞ্জুর হবে কি না, আদালতের বিষয়।
কোথায়: আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি · সময়: ১-৮ সপ্তাহ · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৩ · কাগজপত্র: সার্টিফায়েড কপির আবেদন, রায় বা আদেশের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: ত্রিশ দিন ফুরিয়ে আসতে থাকলে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষা করবেন না। যা আছে তা দিয়েই দাখিল করে ব্যাখ্যা দিন।
ধাপ ৩ · রিভিউর প্রস্তুতিরিভিউর কারণগুলো যাচাই
দেওয়ানি কার্যধারায় কারণগুলো দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর মতো। সেগুলো হলো যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা সাক্ষ্য আবিষ্কার, নথিতে সুস্পষ্ট ভ্রম বা ভুল, অথবা একই ধরনের অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ। ফৌজদারি কার্যধারায় একমাত্র কারণ নথিতে সুস্পষ্ট ভুল। রিভিউ পুনঃশুনানি নয়। ইতিমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত বিষয় নিয়ে আবার যুক্তি দেওয়া, অথবা শুনানিতেই তোলা যেত এমন নতুন যুক্তি তোলা ব্যর্থ হবে।
কোথায়: অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ও সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১ · কাগজপত্র: রায়, আপিলের নথি ও সংক্ষিপ্ত বিবৃতি (কনসাইজ স্টেটমেন্ট), নতুন আবিষ্কৃত কোনো দলিল
পরামর্শ: এমন ভুল চিহ্নিত করুন যা দীর্ঘ যুক্তি ছাড়াই রায় ও নথি পড়ে দেখানো যায়। 'সুস্পষ্ট' বলতে এটাই বোঝায়।
ধাপ ৪ · রিভিউর প্রস্তুতিমামলায় যুক্তি উপস্থাপনকারী আইনজীবী দরখাস্ত তৈরি করেন
আদালতের বিশেষ অনুমতি ছাড়া রিভিউ দরখাস্ত তৈরি করতে হবে সেই আইনজীবীকে, যিনি যে মামলায় রায় হয়েছে তার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত অব্যাহতি না দিলে সেই আইনজীবীকে রিভিউর শুনানিতেও উপস্থিত থাকতে হবে। এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো রিভিউ যেন শুনানিতে বাস্তবে যা ঘটেছে তার ভিত্তিতে হয়। অন্য আইনজীবী চাইলে পক্ষকে কারণ ব্যাখ্যা করে বিশেষ অনুমতির আবেদন করতে হবে, যেমন আগের আইনজীবী মারা গেলে বা আর পাওয়া না গেলে।
কোথায়: অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ও সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৬ · কাগজপত্র: রিভিউ দরখাস্তের খসড়া, বিশেষ অনুমতির আবেদন (নতুন আইনজীবী খসড়া করলে)
পরামর্শ: আইনজীবী বদলালে পরে নয়, দাখিলের সময়ই বিশেষ অনুমতির আবেদন করুন।
ধাপ ৫ · রিভিউর প্রস্তুতিসিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর ও যুক্তিসহ সার্টিফিকেট
সিনিয়র অ্যাডভোকেট, অর্থাৎ আদালতের সিনিয়র অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্ত কোনো আইনজীবী, স্বাক্ষর না করলে কোনো রিভিউ দরখাস্ত গ্রহণ করা হয় না। সিনিয়র অ্যাডভোকেটকে সংক্ষেপে যেসব বিষয়ে রিভিউ চাওয়া হচ্ছে তা উল্লেখ করতে হবে এবং যুক্তিসহ মতামত আকারে একটি সার্টিফিকেট দিতে হবে যে আদালতের আইন ও প্রথা অনুযায়ী রিভিউ যৌক্তিক হবে। এটি একটি পেশাগত ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে: একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট নিজের মর্যাদা দিয়ে এই দাবির পেছনে দাঁড়ান যে প্রকৃতপক্ষে রিভিউযোগ্য ভুল আছে।
কোথায়: অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ও সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ২-৭ দিন · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৪ ও ৫; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১ বিধি ৩(১)(r) (সিনিয়র অ্যাডভোকেট) · কাগজপত্র: দরখাস্তে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর, রিভিউ যৌক্তিক মর্মে যুক্তিসহ সার্টিফিকেট
পরামর্শ: এক লাইনের সাদামাটা সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়। বিধি অনুযায়ী যুক্তিসহ মতামত লাগে।
ধাপ ৬ · রিভিউর প্রস্তুতিনতুন সাক্ষ্য ও সমর্থক হলফনামা
রিভিউ নতুন সাক্ষ্য আবিষ্কারের ভিত্তিতে হলে নির্ভরযোগ্য দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করতে হবে। একটি হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে কোন পরিস্থিতিতে সেগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে এবং যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও কেন আগে উপস্থাপন করা যায়নি। আদালত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেন। যে সাক্ষ্য হাতে ছিল কিন্তু ব্যবহার করা হয়নি, অথবা যা ফল বদলাত না, তা রিভিউর যৌক্তিকতা দেয় না। দরখাস্তের অন্য যেসব তথ্যগত বক্তব্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় না, সেগুলোও হলফনামা দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
কোথায়: অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ও সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ৩-১৪ দিন · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৩; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ · কাগজপত্র: নতুন দলিলের সার্টিফায়েড কপি, আবিষ্কার সংক্রান্ত হলফনামা, সমর্থক হলফনামা
পরামর্শ: দলিলটি কবে ও কীভাবে পাওয়া গেছে তার তারিখ দিন। আবিষ্কারের অস্পষ্ট বিবরণ নাকচ হয়।
ধাপ ৭ · দাখিল ও অন্তর্বর্তী আদেশ১০,০০০ টাকা জামানতসহ ত্রিশ দিনের মধ্যে দাখিল
রায় ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে সার্টিফায়েড কপি, সিনিয়র অ্যাডভোকেটের সার্টিফিকেট, হলফনামা (যদি থাকে) এবং প্রয়োজনীয় কপিসহ রেজিস্ট্রিতে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। আদেশ ২৬ বিধি ৯ অনুযায়ী পক্ষকে ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত দিতে হবে, যা রিভিউ খারিজ হলে বাজেয়াপ্ত হয়। দাখিলের পরপরই আবেদনকারীকে অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে হবে এবং নোটিশের একটি কপি রেজিস্ট্রিতে পৃষ্ঠাঙ্কন করে দিতে হবে। দেরিতে দাখিলের জন্য হলফনামাসহ বিলম্ব মওকুফের আবেদন লাগে; আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশনের কার্যধারায় বিলম্বের বিষয়ে আদালত কঠোর।
কোথায়: আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি · সময়: রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২ ও ৯ · কাগজপত্র: রিভিউ দরখাস্ত ও কপি, ১০,০০০ টাকা নগদ জামানতের রসিদ, অপর পক্ষকে নোটিশ ও রেজিস্ট্রিতে পৃষ্ঠাঙ্কন, বিলম্ব মওকুফের আবেদন (দেরি হলে)
পরামর্শ: দাখিলের দিনই অপর পক্ষকে নোটিশ জারি করে প্রমাণ রাখুন। এটি বাদ পড়লে শুনানির তালিকায় উঠতে দেরি হয়।
ধাপ ৮ · দাখিল ও অন্তর্বর্তী আদেশরেজিস্ট্রির যাচাই ও এক-রিভিউ নিয়ম
রেজিস্ট্রি যাচাই করে দরখাস্তটি আদেশ ২৬ মেনে চলছে কি না, যার মধ্যে আছে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর ও সার্টিফিকেট, সার্টিফায়েড কপি এবং জামানত। একই বিষয়ে আগের কোনো রিভিউ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না তাও দেখা হয়। প্রথম রিভিউ দরখাস্ত চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পর আর কোনো রিভিউ চলে না, এবং রেজিস্ট্রি তা গ্রহণ করবে না। ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডকে জানানো হয়। সাধারণ বিধি অনুযায়ী রেজিস্ট্রার অসার বা কুৎসাপূর্ণ পিটিশন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন, যার বিরুদ্ধে চৌদ্দ দিনের মধ্যে আদালতে মোশন করা যায়।
কোথায়: আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৮; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৫ · কাগজপত্র: রেজিস্ট্রির আপত্তি নোট (যদি থাকে), সংশোধিত কাগজপত্র
পরামর্শ: প্রতিটি কারণ প্রথম রিভিউতেই দিন। দ্বিতীয় সুযোগ থাকবে না।
ধাপ ৯ · দাখিল ও অন্তর্বর্তী আদেশরিভিউ চলাকালে রায় স্থগিত
রিভিউ দাখিল করলেই রায় স্থগিত হয় না। রায়ে যদি অপরিবর্তনীয় কিছু করতে বলা হয়, যেমন উচ্ছেদ, দখলচ্যুতি, অর্থ পরিশোধ বা সাজা কার্যকর, তাহলে আবেদনকারী রিভিউ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ চান। দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যধারায় জারি স্থগিতের আবেদন চেম্বার জজের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে, তবে রিভিউর ক্ষেত্রে চেম্বার জজ প্রায়ই বিষয়টি রায় প্রদানকারী বেঞ্চে পাঠান। রিভিউ চলাকালে স্থগিতাদেশ কদাচিৎ দেওয়া হয়, কারণ রায়টি সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়।
কোথায়: আপিল বিভাগের চেম্বার জজ · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ৫ বিধি ২(২০), ২(২১) ও ৪; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ স্থগিতাদেশের আবেদন, রিভিউ দরখাস্তের কপি
পরামর্শ: রিভিউর শুনানির আগেই কী অপূরণীয় ক্ষতি হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করুন।
ধাপ ১০ · শুনানি ও সিদ্ধান্তএকই বেঞ্চে শুনানির তালিকাভুক্তি
যতদূর সম্ভব, রিভিউ সেই বেঞ্চেই তালিকাভুক্ত হয় যিনি রায় দিয়েছেন, কারণ নিজেদের সিদ্ধান্তে ভুল আছে কি না তা দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত অবস্থানে সেই বিচারপতিরাই। কোনো বিচারপতি অবসরে গেলে বা বেঞ্চ পুনর্গঠন সম্ভব না হলে প্রধান বিচারপতি অন্য বেঞ্চ মনোনীত করেন। তালিকাভুক্তিতে কয়েক মাস লাগতে পারে, এবং আলোচিত সাংবিধানিক মামলায় রিভিউ পিটিশন কখনো শুনানির আগে কয়েক বছর অপেক্ষা করেছে। দরখাস্ত প্রস্তুতকারী আইনজীবীকে সাধারণত শুনানির ডাক পড়লে উপস্থিত থাকতে হয়।
কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ · সময়: ৩-১৮ মাস · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৬ ও ৭; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: কার্যতালিকার এন্ট্রি, দ্রুত শুনানির আবেদন (জরুরি হলে)
পরামর্শ: রিভিউ তালিকাভুক্ত হলে প্রতিদিন কার্যতালিকা দেখুন। ডাক পড়লে চাপ না দিলে রিভিউ খারিজ হতে পারে।
ধাপ ১১ · শুনানি ও সিদ্ধান্তরিভিউর প্রাথমিক শুনানি
প্রথম শুনানিতে বেঞ্চ বিবেচনা করেন দরখাস্তে আদেশ ২৬-এর আওতাভুক্ত কোনো কারণ আছে কি না। বেশিরভাগ রিভিউ পিটিশন এই পর্যায়েই খারিজ হয়, প্রায়ই সংক্ষিপ্ত আদেশে, কারণ সেগুলো আপিলের যুক্তি আবার তুলতে চায়। বেঞ্চ যুক্তিগ্রাহ্য কোনো ভুল দেখলে অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে পূর্ণ শুনানির জন্য মুলতবি রাখতে পারেন। উভয় পক্ষ উপস্থিত থাকলে আদালত সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ শুনে নিষ্পত্তি করতে পারেন। আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশনের ভাগ্য সাধারণত এই প্রথম শুনানিতেই নির্ধারিত হয়।
কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ · সময়: ১-২ শুনানির দিন · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১ ও ৭; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ · কাগজপত্র: রিভিউ দরখাস্ত ও সার্টিফিকেট, রিভিউর জন্য উপস্থাপিত রায়, ভুলের সংক্ষিপ্ত নোট
পরামর্শ: প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই রায়ের ভেতরে দৃশ্যমান ভুলটি দিয়ে শুরু করুন। বেঞ্চ মামলাটি আগে থেকেই জানেন।
ধাপ ১২ · শুনানি ও সিদ্ধান্তঅনুমতি মঞ্জুর ও পূর্ণ পুনর্বিবেচনা
ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, সাধারণত সাংবিধানিক গুরুত্বের মামলায়, আদালত মনে করেন রিভিউতে এমন প্রশ্ন উঠেছে যার জন্য পূর্ণ যুক্তিতর্ক প্রয়োজন। আদালত অনুমতি দিয়ে বিষয়টি আপিল হিসেবে নতুন করে শোনেন, প্রায়ই পূর্ণ বেঞ্চে। ২৭ আগস্ট ২০২৫ আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনকারী ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা নিজের ২০১১ সালের রায়ের বিরুদ্ধে কয়েকটি রিভিউ পিটিশনে অনুমতি দেন। যুক্তিতর্ক শুনে ২০ নভেম্বর ২০২৫ আদালত রায় দেন। আদালত ২০১১ সালের রায় পুরোপুরি বাতিল করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানগুলো ভবিষ্যৎমুখী প্রয়োগের জন্য পুনর্বহাল করেন। এমন মামলা এখনো বিরল।
কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ · সময়: অনুমতির পর ৩-১২ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১১ বিধি ২ · কাগজপত্র: রিভিউতে অনুমতি মঞ্জুরের আদেশ, সংক্ষিপ্ত বিবৃতি ও পেপার বুক
পরামর্শ: অনুমতি মঞ্জুর হলে পূর্ণাঙ্গ আপিলের মতো প্রস্তুতি নিন: সংক্ষিপ্ত বিবৃতি, নজির ও পেপার বুক।
ধাপ ১৩ · শুনানি ও সিদ্ধান্তরিভিউর সিদ্ধান্ত
আদালত রিভিউ খারিজ করতে পারেন; সেক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং রায় বহাল থাকে। আদালত তা মঞ্জুর করে দেখানো ভুলের ভিত্তিতে রায় প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে পারেন। যুক্তি বা নির্দেশনায় পরিবর্তন এনেও নিষ্পত্তি করতে পারেন। যেমন, ২০ অক্টোবর ২০২৪ ছয় সদস্যের একটি বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের রিভিউ নিষ্পত্তি করেন, এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতেই থাকে। রিভিউর রায় আপিল বিভাগের অন্য যেকোনো রায়ের মতো সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ · সময়: একই দিন, অথবা রায় অপেক্ষমাণ রাখা হলে কয়েক মাসের মধ্যে · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৯; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১ · কাগজপত্র: রিভিউর আদেশ বা রায়, সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: রিভিউ খারিজ হলে সাধারণত মামলা চিরতরে শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ, যেমন রায় পালন বা মীমাংসা, আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন।
ধাপ ১৪ · সিদ্ধান্তের প্রভাবপ্রেরণ ও রায় পালন
রেজিস্ট্রার আপিল বিভাগের ডিক্রি বা আদেশ, রিভিউতে বহাল বা সংশোধিত যেভাবেই হোক, যে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলাটি এসেছে সেখানে পাঠান। এটি এমনভাবে জারি ও কার্যকর হয় যেন হাইকোর্ট বিভাগ তা দিয়েছেন, এবং প্রত্যেক নির্বাহী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে হয়। রিভিউতে রায় পরিবর্তিত হলে পক্ষগুলো ও কর্তৃপক্ষকে নতুন শর্ত মেনে চলতে হবে। রিভিউ চলাকালে দেওয়া যেকোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ শেষ হয়ে যায়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১০ বিধি ৯ ও ১০; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: রিভিউ সিদ্ধান্তের সার্টিফায়েড কপি, কর্তৃপক্ষ বা জারিকারী আদালতের কাছে প্রেরণপত্র
পরামর্শ: রিভিউ সিদ্ধান্তের সার্টিফায়েড কপি দ্রুত জারিকারী আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান, বিশেষত স্থগিতাদেশ শেষ হয়ে গেলে।
যদি এমন হয়…? আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
রিভিউর আগে মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1আপিল বিভাগের চেম্বার জজ
হাইকোর্ট বিভাগ থেকে লিভ পিটিশন বা আপিল
বেশিরভাগ মামলা আপিল বিভাগে পৌঁছায় ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন, অথবা ত্রিশ দিনের মধ্যে ফৌজদারি পিটিশনের মাধ্যমে, প্রায়ই চেম্বার জজের স্থগিতাদেশসহ। অধিকারবলে আপিল চলে কেবল সাংবিধানিক সার্টিফিকেট, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা, অথবা আদালত অবমাননার দণ্ডের ক্ষেত্রে। চূড়ান্ত আপিল রায়ের পাশাপাশি অনুমতি নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধেও রিভিউ করা যায়।
কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২) ও (৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১ ও আদেশ ২৪ বিধি ২ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের রায়
অনুমতির পর নথির ভিত্তিতে আপিল হিসেবে মামলার শুনানি হয়। গুণাগুণের প্রশ্নে আপিল বিভাগের রায়ই শেষ কথা, এবং এর ঘোষিত আইন প্রতিটি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। এরপর অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউই একমাত্র অবশিষ্ট প্রতিকার, এবং তা দেখানো যায় এমন ভুলের মধ্যে সীমিত, গুণাগুণের ওপর নতুন যুক্তি নয়।
১-৫ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা আপিল বিভাগের রায় বা আদেশে শেষ হয়, যা পরে রিভিউর বিষয় হয়।
দ্বিতীয় রিভিউ কি করা যায়, নাকি আদালত নিজেই ভুল সংশোধন করতে পারেন?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
দ্বিতীয় রিভিউ নেই; করণিক ভুলের সংশোধন
প্রথম রিভিউ দরখাস্ত চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পর আর কোনো রিভিউ চলে না, এবং রেজিস্ট্রি তা গ্রহণ করবে না। রিভিউ খারিজ হলে রায় চূড়ান্ত। তবুও আদালত আদেশ ২৬ বিধি ১ অনুযায়ী স্বপ্রণোদিত হয়ে রিভিউ করতে পারেন, এবং রায়ে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি এবং গাণিতিক বা করণিক ভুল সংশোধন করতে পারেন, যাতে তা প্রকৃত সিদ্ধান্তকে প্রতিফলিত করে। কোনোটিই গুণাগুণের প্রশ্ন আবার খোলার পথ নয়।
প্রযোজ্য নয়আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১ ও ৮আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১০ বিধি ২ (করণিক ও অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: প্রথম রিভিউর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত; কেবল করণিক ত্রুটি সংশোধন বা আদালতের স্বপ্রণোদিত রিভিউ রায় পরিবর্তন করতে পারে।
রিভিউর জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ প্রয়োজন হলে কী হবে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
বৃহত্তর বেঞ্চের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে রেফারেন্স
রিভিউ শুনানিকারী বেঞ্চ যদি মনে করেন বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, যেমন রায়টি আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে বা সাংবিধানিক গুরুত্বের প্রশ্ন তুললে, তাহলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান, যিনি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেন। পিটিশন শুনানিকারী বিচারপতিরা সমানভাবে বিভক্ত হলে প্রধান বিচারপতি তা অন্য একজন বিচারপতি বা বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠাতে পারেন।
৩-১২ মাসআপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১১ বিধি ১ ও ২বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বৃহত্তর বেঞ্চ রিভিউ শুনে নিষ্পত্তি করেন, এবং সেই সিদ্ধান্তই আদালতের সিদ্ধান্ত।
রিভিউ সফল হয়ে মামলা ফেরত পাঠানো হলে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
রায় প্রত্যাহার ও মামলা ফেরত
রিভিউ মঞ্জুর হলে আদালত নিজের রায় প্রত্যাহার করে নিজেই আপিলের পুনঃশুনানি করতে পারেন, অথবা নিজের ও হাইকোর্ট বিভাগের উভয় রায় বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্তের জন্য পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা পক্ষ উপেক্ষিত হলে এমন হতে পারে। আদেশে উল্লেখ থাকে হাইকোর্ট বিভাগ বা নিম্ন আদালতকে কী নিষ্পত্তি করতে হবে।
রিভিউ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আদেশবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
নিম্ন আদালতে নতুন শুনানি ও অনুমতি নিয়ে আবার আপিল বিভাগে
হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়টি পুনরুজ্জীবিত করে নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে নিষ্পত্তি করেন। এর নতুন রায় একটি নতুন সিদ্ধান্ত, তাই হেরে যাওয়া পক্ষ স্বাভাবিক সময়সীমার মধ্যে আবার আপিলের অনুমতির পিটিশন দাখিল করে মামলাটি আপিল বিভাগে ফিরিয়ে আনতে পারে, এবার সংশোধিত ভিত্তিতে।
৬-২৪ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলাটি নিম্ন আদালতে নতুন করে নিষ্পত্তি হয় এবং নতুন লিভ পিটিশনে আবার আপিল বিভাগে আসতে পারে।
রিভিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি কোনো আপিল বা রিভিশন আছে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
কোনো আপিল, রিভিশন বা আর কোনো পিটিশন নেই
আপিল বিভাগ চূড়ান্ত আদালত, তাই এর রিভিউ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলে না, এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ বা ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-র ধারা ৪৩৯ অনুযায়ী রিভিশন কেবল অধস্তন আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপিল বিভাগ রুলসে রিভিউর পর আর কোনো পিটিশনের বিধান নেই। পূর্ণ ন্যায়বিচারের ক্ষমতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১০৪ কেবল আদালতে বিচারাধীন মামলায় প্রযোজ্য এবং চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া মামলা আবার খোলে না।
প্রযোজ্য নয়বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৮দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং তা মেনে চলতে হবে।
মৃত্যুদণ্ডের মামলায় ফৌজদারি রিভিউ খারিজ হলে কী হয়?
- 1বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা)
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন
ফৌজদারি মামলায় রিভিউ চলে কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের জন্য। অনুমতি, আপিল ও রিভিউ শেষ হলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন, যাঁর অনুচ্ছেদ ৪৯ অনুযায়ী মার্জনা, দণ্ড বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা লঘু করার ক্ষমতা আছে। আপিল বিভাগ রুলস এই ধারাক্রম স্বীকার করে: মৃত্যুদণ্ডের লিভ পিটিশনে প্রযোজ্য স্বয়ংক্রিয় স্থগিতাদেশ রিভিউ ও প্রাণভিক্ষাসহ সব প্রতিকার শেষ হওয়ার পর দাখিল করা পিটিশনে প্রযোজ্য নয়।
কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ৫-এর শর্তাংশআপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষা মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করেন; বিচারিক পথ রিভিউতেই শেষ হয়েছে।
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন বাংলাদেশের আদালত-কাঠামোর শেষ বিচারিক ধাপ। এটি দাখিলের সময় মামলাটি সাধারণত বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল থেকে জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ হয়ে অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি সাপেক্ষে বা অধিকারবলে আপিল বিভাগে পৌঁছেছে। রিভিউর ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক বা বিষয়ভিত্তিক সীমা প্রযোজ্য নয়। আপিল বিভাগের যেকোনো রায় বা আদেশ, দেওয়ানি বা ফৌজদারি, সাংবিধানিক বা বাণিজ্যিক, বিধি সাপেক্ষে অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউ করা যায়। রিভিউ নিষ্পত্তি করেন একই আদালত, আদর্শভাবে একই বেঞ্চ, তাই এটি ওপরের দিকে যায় না। এটি তথ্য বা আইনের পুনঃশুনানি নয়।
দেওয়ানি মামলায় কারণগুলো দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর অনুরূপ; ফৌজদারি মামলায় কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলই যথেষ্ট। মাত্র একবার রিভিউ করা যায়, এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিশন চলে না, যদিও বিরল সাংবিধানিক মামলায় আদালত অনুমতি দিয়ে পুরো প্রশ্নটি পুনর্বিবেচনা করেছেন।
- আপিল বিভাগআপিল বিভাগের চেম্বার জজ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- শুরু · আদালতের বাইরেঅ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ও সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বার · আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি · বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ও সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- রিভিউ (Review)
- সীমিত কারণে অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী আপিল বিভাগ কর্তৃক নিজের রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা।
- নথিতে সুস্পষ্ট ভুল (Error apparent on the face of the record)
- দীর্ঘ যুক্তি ছাড়াই রায় ও নথি থেকে স্পষ্ট এমন ভুল; ফৌজদারি মামলায় রিভিউর একমাত্র কারণ।
- সিনিয়র অ্যাডভোকেট (Senior Advocate)
- আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্ত আইনজীবী; প্রতিটি রিভিউ দরখাস্তে এমন একজনের স্বাক্ষর ও সার্টিফিকেট লাগে।
- যুক্তিসহ সার্টিফিকেট (Reasoned certificate)
- আদালতের আইন ও প্রথা অনুযায়ী রিভিউ কেন যৌক্তিক তা ব্যাখ্যা করে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের লিখিত মতামত।
- নগদ জামানত (Cash security)
- রিভিউর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ১০,০০০ টাকা জমা, যা রিভিউ খারিজ হলে বাজেয়াপ্ত হয়।
- অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড (Advocate-on-Record)
- আপিল বিভাগের আইনজীবী, যিনি কোনো পক্ষের পক্ষে কাজ করতে ও রেজিস্ট্রিতে কাগজপত্র দাখিল করতে অধিকারী।
- রিভিউতে অনুমতি (Leave on review)
- যে রিভিউতে পূর্ণ যুক্তিতর্কের প্রয়োজন এমন প্রশ্ন ওঠে, তা আপিল হিসেবে পূর্ণ শুনানির অনুমতি দেওয়ার আদেশ।
- ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা (Prerogative of mercy)
- বিচারিক প্রতিকার শেষ হওয়ার পর দণ্ড মার্জনা, লঘু বা মওকুফ করার জন্য অনুচ্ছেদ ৪৯ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা।
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন: সাধারণ প্রশ্ন
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন করার সময়সীমা কত?
কোন কোন কারণে আপিল বিভাগ নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?
রিভিউ দরখাস্তে কাকে স্বাক্ষর করতে হয়?
রিভিউ দাখিল করতে কত খরচ হয়?
রিভিউ দাখিল করলে কি রায় কার্যকর হওয়া থেমে যায়?
আপিল বিভাগে কি একাধিক রিভিউ পিটিশন করা যায়?
আপিল বিভাগ কি কখনো রিভিউতে নিজের রায় বদলেছেন?
আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Constitution of Bangladesh, Articles 49, 103-105 and 107-112 — Laws of Bangladesh
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988, Order XXVI (Review) — Supreme Court of Bangladesh
- Code of Civil Procedure 1908, Order XLVII rule 1 — Laws of Bangladesh
- Dhaka Tribune — Appellate Division disposes of review petition on 16th amendment verdict (20 October 2024)
- The Daily Star — SC verdict on 16th Amendment: Government seeks review
- Dhaka Tribune — SC sets judgment date in caretaker government appeal after leave on review (November 2025)
- UNB, 11 November 2025 — Caretaker govt: top court sets Nov 20 for delivering judgment
- Prothom Alo, 20 November 2025 — Caretaker government provisions revived; Attorney General's briefing on the Appellate Division verdict
- Dhaka Tribune, 5 March 2017 — SC: BGMEA building must go (review dismissed)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।











