প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা হলো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত বা বরখাস্ত কর্মচারীর দরখাস্ত, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৭ ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় এবং চাকরির শর্তাবলি, শৃঙ্খলা বা পেনশন সংক্রান্ত কোনো আদেশ চ্যালেঞ্জ করে।
কর্মচারীকে প্রথমে বিভাগীয় আপিল বা রিভিউয়ের সুযোগ থাকলে তা ব্যবহার করতে হয়, তারপর ছয় মাসের মধ্যে দাখিল করতে হয়; এরপর প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল এবং সবশেষে আপিল বিভাগে লিভ চাওয়া যায়। অনুচ্ছেদ ১১৭(২) ট্রাইব্যুনালগুলোকে একচেটিয়া এখতিয়ার দেওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত এসব বিষয়ে রিট পিটিশন গ্রহণ করে না।
- কোথা থেকে শুরু
- উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ, তারপর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (কর্মরত বা…
- মূল আইন
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৭, ১০২(৫) ও ১০৩; প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০ (১৯৮১ সালের ৭ নং আইন); সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল)…
- সাধারণ সময়কাল
- নির্দেশক সময়: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ১-৩ বছর, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে ১-৩ বছর এবং আপিল বিভাগে আরও ১-৩ বছর
- কে মামলা করতে পারেন
- প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, অথবা আইনের তফসিলভুক্ত কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরিতে নিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তি…
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · বিভাগীয় পর্যায়বিষয়টি চাকরি সংক্রান্ত কি না যাচাই
প্রথম প্রশ্ন হলো, অভিযোগটি পেনশনসহ চাকরির শর্তাবলি নিয়ে, নাকি সরকারি কর্মচারী হিসেবে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া কোনো ব্যবস্থা নিয়ে। উদাহরণ: চাকরিচ্যুতি, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, বেতন নির্ধারণ, পেনশন বন্ধ বা আনুতোষিক থেকে অর্থ আদায়। ব্যক্তিকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে, অথবা আইনের তফসিলভুক্ত কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরিতে নিযুক্ত হতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত, বরখাস্ত ও অপসারিত কর্মচারীরা এর আওতায় পড়েন, কিন্তু প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সাবেক বাংলাদেশ রাইফেলসের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যরা পড়েন না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৭(১); প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ২(কক) ও ধারা ৪(১), (৩) · কাগজপত্র: নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক, চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ, প্রাসঙ্গিক চাকরি বিধিমালা ও গেজেট প্রজ্ঞাপন
পরামর্শ: কোম্পানির কর্মচারী এবং তফসিলভুক্ত নয় এমন সংস্থার কর্মচারী, যেমন নিজস্ব আইনে পরিচালিত কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ট্রাইব্যুনালের আওতার বাইরে পড়তে পারেন। সবার আগে এটি যাচাই করুন।
ধাপ ২ · বিভাগীয় পর্যায়বিভাগীয় কার্যধারা ও কারণ দর্শানো
বেশির ভাগ মামলা শুরু হয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা দিয়ে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গঠন করে কর্মচারীকে জবাব দেওয়ার সময় দেয়, সাধারণত ১০ কর্মদিবস, যা অনুরোধে বাড়ানো যায়, এবং ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না জানতে চায়। গুরুদণ্ডের মামলায় সাধারণত অন্তত কর্মচারীর সমপদমর্যাদার একজন তদন্ত কর্মকর্তা থাকেন। মামলা চলাকালে কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে। প্রতিটি জবাব লিখিত হওয়া উচিত এবং প্রতিটি অভিযোগের উত্তর দেওয়া উচিত।
কোথায়: নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৫ (অপসারণ ও বরখাস্তের জন্য) · কাগজপত্র: অভিযোগনামা বা কারণ দর্শানোর নোটিশ, লিখিত জবাব, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ, যদি থাকে
পরামর্শ: যেসব কাগজের ওপর নির্ভর করা হয়েছে সেগুলোর এবং তদন্ত প্রতিবেদনের কপি চান। কাগজ না দেওয়া পরে চ্যালেঞ্জের একটি সাধারণ কারণ।
ধাপ ৩ · বিভাগীয় পর্যায়চূড়ান্ত বিভাগীয় আদেশ
জবাব, কোনো শুনানি ও কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত আদেশ দেয়। এতে তিরস্কার বা বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের মতো লঘুদণ্ড, অথবা পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর, অপসারণ বা চাকরিচ্যুতির মতো গুরুদণ্ড আরোপ হতে পারে। শৃঙ্খলার বাইরে সিদ্ধান্তটি পদোন্নতি নামঞ্জুর, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পেনশন অস্বীকার বা অর্থ আদায়ের আদেশ হতে পারে। আদেশের তারিখ ও আপনার হাতে পাওয়ার তারিখ লিখে রাখুন, কারণ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের ছয় মাসের সময়সীমা আদেশের তারিখ থেকেই গোনা শুরু হতে পারে।
কোথায়: নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮; প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৪(২) · কাগজপত্র: চূড়ান্ত আদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন, প্রাপ্তির তারিখের প্রমাণ
ধাপ ৪ · বিভাগীয় পর্যায়আগে বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ
কোনো আইন বা চাকরি বিধিমালা উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে আদেশটি বাতিল, পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ দিলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার আগে কর্মচারীকে সেই পথ ব্যবহার করতে হয়। সেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দরখাস্ত স্থগিত থাকে। বাস্তবে এর অর্থ চাকরি বিধিমালায় অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বিভাগীয় আপিল দাখিল করা, অথবা আদেশটি রাষ্ট্রপতি বা সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ দিয়ে থাকলে রিভিউয়ের আবেদন করা। কারণ ও সংযুক্তিসহ দাখিল করুন এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা ডাকযোগে পাঠানোর প্রমাণ রাখুন।
কোথায়: উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ (বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ) · সময়: চাকরি বিধিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে · আইন: ধারা ৪(২)-এর প্রথম শর্তাংশ; সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ (আপিল ও রিভিউ সংক্রান্ত বিধান) · কাগজপত্র: বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ দরখাস্ত, চ্যালেঞ্জকৃত আদেশের কপি, দাখিলের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা ডাকের প্রমাণ
ধাপ ৫ · বিভাগীয় পর্যায়দুই মাসে নামঞ্জুর বলে গণ্য
উচ্চতর কর্তৃপক্ষ দাখিলের দুই মাসের মধ্যে আপিল বা রিভিউ নিষ্পত্তি না করলে, কর্মচারী প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে এলে তা নামঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়। কর্মচারীকে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হয় না। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিলে সময়সীমার সূচনাবিন্দু হিসেবে সেই আদেশ মূল আদেশের স্থান নেয়। বিভাগীয় আপিলের তারিখযুক্ত কপি রাখুন, কারণ ট্রাইব্যুনাল যাচাই করবে এই ধাপ নেওয়া হয়েছে কি না।
কোথায়: উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ (বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ) · সময়: ২ মাস · আইন: ধারা ৪(২)-এর দ্বিতীয় শর্তাংশ (১৯৯৭ সালে সংযোজিত) · কাগজপত্র: দাখিলের তারিখসহ বিভাগীয় আপিলের কপি, আপিলের সিদ্ধান্ত, যদি থাকে
ধাপ ৬ · প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দাখিলছয় মাসের সময়সীমা হিসাব করা
আদেশ, সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থার ছয় মাসের মধ্যে, অথবা বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ প্রয়োজন হলে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ছয় মাসের মধ্যে, দরখাস্ত না করলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করবে না। এই পর্যায়ে বিলম্ব মওকুফের কোনো সাধারণ ক্ষমতা আইনে নেই। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে প্রতিটি মামলায় সঠিকভাবে সময় গণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে বিভাগ একাধিক চিঠি দিয়েছে বা ধাপে ধাপে পেনশন বন্ধ করেছে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ সপ্তাহ · আইন: ধারা ৪(২)-এর তৃতীয় শর্তাংশ · কাগজপত্র: আদেশ ও আপিলের সময়রেখা, তারিখসহ সব আদেশের কপি
পরামর্শ: সন্দেহ থাকলে আগেভাগে দাখিল করুন। এক দিন দেরিতে দাখিল করা শক্তিশালী মামলাও সরাসরি নামঞ্জুর হতে পারে।
ধাপ ৭ · প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দাখিলদরখাস্ত দাখিল
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কর্মস্থলের ওপর আঞ্চলিক এখতিয়ারসম্পন্ন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। ঢাকায় কয়েকটি ট্রাইব্যুনাল বসে, অন্যগুলো বিভাগীয় শহরে। দরখাস্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারকে এবং আদেশদাতা কর্তৃপক্ষকে প্রতিপক্ষ করা হয়। এতে ঘটনা, কারণ ও প্রার্থিত প্রতিকার উল্লেখ থাকে, যেমন আদেশ বাতিল, বকেয়াসহ চাকরিতে পুনর্বহাল বা পেনশন ছাড়। ফরম, ফি ও নিবন্ধন আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী হয়।
কোথায়: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল · সময়: দাখিলে ১-২ দিন · আইন: ধারা ৩(২)-(৩); ধারা ৪(১)-(২); ধারা ১২(২)(ক)-(খ) · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত, ওকালতনামা, চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ ও বিভাগীয় আপিল, চাকরির রেকর্ড, নির্ধারিত কোর্ট ফি
ধাপ ৮ · প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে দাখিলনিবন্ধন, নোটিশ ও লিখিত জবাব
নিবন্ধনের পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিপক্ষদের নোটিশ দেয়। মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সাধারণত সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) বা মনোনীত কর্মকর্তার মাধ্যমে, চাকরির নথিসহ লিখিত জবাব দাখিল করে। এই পর্যায়ে প্রায়ই কয়েক মাস লাগে, কারণ মাঠ অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠাতে হয়। দরখাস্তকারী প্রত্যুত্তর দাখিল করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল একজন একক সদস্য নিয়ে বসে, যিনি কর্মরত বা সাবেক জেলা জজ। এই পর্যায়ের বিলম্ব দরখাস্তকারীর ক্ষতি করে না, কারণ ছয় মাস গোনা হয় কেবল দাখিল পর্যন্ত।
কোথায়: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল · সময়: ২-৬ মাস · আইন: ধারা ৩(৩); ধারা ৭(৮); ধারা ১২(২)(গ)-(ঘ) · কাগজপত্র: নোটিশ, লিখিত জবাব, চাকরির নথি ও ব্যক্তিগত নথি
ধাপ ৯ · শুনানি ও রায়সাক্ষ্য ও রেকর্ড
শুনানির উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালের দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা রয়েছে। এটি সাক্ষী তলব করে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে, দলিল উদ্ঘাটন ও উপস্থাপনের আদেশ দিতে, হলফনামায় সাক্ষ্য নিতে, সরকারি রেকর্ড তলব করতে এবং কমিশন জারি করতে পারে। বেশির ভাগ মামলা নির্ভর করে কাগজপত্রের ওপর: অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, চাকরি বিধিমালা এবং পদ্ধতি মানা হয়েছিল কি না। ট্রাইব্যুনাল বিধিমালায় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে, আর কোনোটি প্রযোজ্য না হলে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত পদ্ধতি।
কোথায়: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: ধারা ৭(১)-(২); ধারা ৭(৮)-এর শর্তাংশ · কাগজপত্র: হলফনামা, তলবকৃত রেকর্ড, তদন্তের কার্যবিবরণী
ধাপ ১০ · শুনানি ও রায়সংশোধন ও প্রতিস্থাপন
ট্রাইব্যুনাল যেকোনো পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে দরখাস্তকারীকে দরখাস্ত সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে, যেমন পরবর্তী কোনো আদেশ যুক্ত করতে। পেনশনযোগ্য চাকরির কোনো বরখাস্ত বা অপসারিত দরখাস্তকারী মামলা চলাকালে মারা গেলে মামলার অধিকার বহাল থাকে। পেনশন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী আইনগত প্রতিনিধিকে মৃত্যুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিস্থাপনের আবেদন করতে হয়। চাকরিচ্যুতি বেআইনি ঘোষিত হলে পরিবার এমনভাবে পেনশন সুবিধা পায়, যেন কর্মচারী চাকরিচ্যুতির তারিখে মারা গেছেন বা অবসরে গেছেন।
কোথায়: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল · সময়: মৃত্যুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিস্থাপন · আইন: ধারা ৭খ; ধারা ৭ক(১)-(৩) · কাগজপত্র: সংশোধনের দরখাস্ত, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদসহ প্রতিস্থাপনের দরখাস্ত
ধাপ ১১ · শুনানি ও রায়ট্রাইব্যুনালের রায়
শুনানির পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল দরখাস্ত মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করে। এটি কোনো দণ্ড বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করতে, বকেয়াসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দিতে, পেনশন ছাড়ের আদেশ দিতে বা জ্যেষ্ঠতা সংশোধন করতে পারে। এর সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল ও আপিল বিভাগের কোনো আদেশ সাপেক্ষে পক্ষগণের জন্য বাধ্যতামূলক। অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপি তুলুন, কারণ তিন মাসের আপিলের মেয়াদ কপি পাওয়ার তারিখ থেকে নয়, সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে গোনা হয়।
কোথায়: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল · সময়: এই স্তরে সব মিলিয়ে: ১-৩ বছর · আইন: ধারা ৪(১); ধারা ৮(২) · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১২ · বাস্তবায়নবিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়ন
সফল কর্মচারী রায়ের সার্টিফায়েড কপি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন, যেমন পুনর্বহাল, বকেয়া পরিশোধ, পেনশন নির্ধারণ বা কাল্পনিক জ্যেষ্ঠতাসহ পদোন্নতি। চাকরিচ্যুতি, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসর বাতিল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নতুন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিলে চাকরি বিধিমালা সাধারণত মূল দণ্ডের তারিখ থেকে নতুন আদেশ পর্যন্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত বলে গণ্য করে। লিখিতভাবে তাগিদ দিন এবং প্রতিটি অনুরোধের প্রমাণ রাখুন।
কোথায়: নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ধারা ৮(২); সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ (সাময়িক বরখাস্ত ও পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিধান) · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, বাস্তবায়নের আবেদন, বেতন বা পেনশন নির্ধারণের কাগজপত্র
ধাপ ১৩ · বাস্তবায়নরায় কার্যকরকরণ ও আদালত অবমাননা
আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত জারির পদ্ধতি নির্ধারণ করে। বিভাগ চূড়ান্ত রায় উপেক্ষা করলে কর্মচারী জারির আবেদন করতে পারেন এবং গুরুতর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালকে তার নিজের বা কোনো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কর্তৃত্বের অবমাননার জন্য শাস্তি দিতে বলতে পারেন; এই ক্ষমতা আপিল ট্রাইব্যুনাল হাইকোর্ট বিভাগের মতোই প্রয়োগ করে। কোনো ট্রাইব্যুনাল বাধা সৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানাও করতে পারে।
কোথায়: প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল · সময়: ২-১২ মাস · আইন: ধারা ১২(২)(চ); ধারা ১০ক(১); ধারা ৯ · কাগজপত্র: জারি বা অবমাননার দরখাস্ত, বিভাগে রায় পৌঁছানোর প্রমাণ
ধাপ ১৪ · বাস্তবায়নপেনশন ও বকেয়া পরিশোধ
বকেয়া, আনুতোষিক বা পেনশনের চূড়ান্ত পরিশোধে সাধারণত নতুন মঞ্জুরি, হিসাব অফিসের পুনর্হিসাব ও অডিট ছাড়পত্র লাগে। অবসরপ্রাপ্ত দরখাস্তকারীদের উচিত সমান্তরালভাবে পেনশনের কাগজপত্র প্রস্তুত করা, যাতে রায় চূড়ান্ত হলে কিছু আটকে না থাকে। বিভাগ আপিল করলে আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিশোধ প্রায়ই স্থগিত থাকে। কোনো স্থগিতাদেশ না থাকলে দরখাস্তকারী আপিল ট্রাইব্যুনালকে অন্তর্বর্তী প্রতিপালনের নির্দেশ দিতে বলতে পারেন। টাকা প্রকৃতপক্ষে জমা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বিল ও মঞ্জুরিপত্রের কপি রাখুন।
কোথায়: নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ · সময়: ২-৬ মাস · আইন: ধারা ৪(১) (পেনশনের অধিকার); ধারা ৮(১)-(২) · কাগজপত্র: পেনশন আবেদন ফরম, শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র (এলপিসি), না-দাবি প্রত্যয়নপত্র
যদি এমন হয়…? প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কোনো পক্ষ আপিল করলে কী হবে?
- 1প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল
তিন মাসের মধ্যে আপিল
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি, কর্মচারী বা সরকার, সিদ্ধান্তের তিন মাসের মধ্যে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। পর্যাপ্ত কারণ দেখালে বিলম্বিত আপিল ছয় মাস পর্যন্ত গ্রহণ করা যায়, কিন্তু এর পরে কখনোই নয়। আপিল ট্রাইব্যুনাল এক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে অন্যটিতে মামলা স্থানান্তরও করতে পারে।
৩ মাসের মধ্যে (কারণ দেখালে ৬ মাস পর্যন্ত)ধারা ৬(১), (২) ও (২ক) - 2প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল
তিন সদস্যের আপিল ট্রাইব্যুনাল
আপিল ট্রাইব্যুনালে একজন চেয়ারম্যান থাকেন, যিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বা বিচারপতি হওয়ার যোগ্য, একজন সদস্য যিনি কর্মরত বা সাবেক যুগ্মসচিব বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা, এবং একজন কর্মরত বা সাবেক জেলা জজ। সংখ্যাগরিষ্ঠের মত প্রাধান্য পায়, এবং একজন সদস্য উপস্থিত হতে না পারলে চেয়ারম্যান ও অন্য সদস্য একমত হলে আপিল নিষ্পত্তি করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তটি বহাল, বাতিল, পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে, যা আপিল বিভাগ সাপেক্ষে চূড়ান্ত।
১-৩ বছরধারা ৫(২)-(৩)ধারা ৬(৩)ধারা ৭(৩ক)-(৩খ) (৩খ, ২০১১ সালে প্রতিস্থাপিত)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পক্ষগণ ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক, কেবল আপিল বিভাগ সাপেক্ষে।
মামলা নিচে ফেরত গিয়ে আবার উপরে এলে কী হয়?
- 1নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ
নতুন বিভাগীয় কার্যধারা
পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে, যেমন যথাযথ তদন্ত না হওয়া বা দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ না দেওয়া, চাকরিচ্যুতি বা অপসারণ বাতিল হলে কর্তৃপক্ষ কর্মচারীকে সরাসরি পুনর্বহাল না করে কার্যধারা নতুন করে শুরু করতে পারে। তখন মূল দণ্ডের তারিখ থেকে নতুন আদেশ পর্যন্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত বলে গণ্য করা হয়। বিভাগ নতুন তদন্ত করে নতুন আদেশ দেয়।
৩-১২ মাসসরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ (সাময়িক বরখাস্ত ও পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিধান)ধারা ৪(২) - 2প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল
নতুন দরখাস্ত আবার উপরে যায়
নতুন আদেশটি একটি নতুন আদেশ। কর্মচারীকে আবার কোনো বিভাগীয় আপিলের সুযোগ থাকলে তা ব্যবহার করতে হয়, তারপর ছয় মাসের মধ্যে নতুন দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। সিদ্ধান্তটি তিন মাসের মধ্যে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে নেওয়া যায়। কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করলে আপিল ট্রাইব্যুনাল বাস্তবে কখনো কখনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পুনঃশুনানির জন্য মামলাটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠায়।
১-৩ বছরধারা ৪(২)-এর শর্তাংশসমূহধারা ৬(২)-(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নতুন আদেশ আবার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং প্রয়োজনে আপিল ট্রাইব্যুনালের মধ্য দিয়ে উপরে যায়।
এর বদলে কি রিট বা রিভিশন নিয়ে হাইকোর্টে যেতে পারি?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রিট ও রিভিশন বারিত
অনুচ্ছেদ ১১৭(২) বলে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হলে এর এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে কোনো আদালত কার্যধারা গ্রহণ করতে পারবে না। ধারা ১০ কোনো আদালতকে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে নিষেধ করে। অনুচ্ছেদ ১০২(৫)-ও এই ট্রাইব্যুনালগুলোকে রিট এখতিয়ারের বাইরে রেখেছে। ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এ কারণে পেনশন বন্ধ নিয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর রিট রক্ষণীয় নয় বলে রায় দিয়েছে। কোনো আইনের বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ করার মতো সংকীর্ণ ব্যতিক্রম বিরল।
প্রযোজ্য নয়সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৭(২)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(৫)প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ১০
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কর্মচারীকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালেই যেতে হবে, এবং ভুল রিটে ব্যয় হওয়া সময় ছয় মাসের গণনা থামায় না।
সিদ্ধান্ত কি রিভিউ করা যায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
বিভাগীয় ও আপিল বিভাগের রিভিউ
আইনটি ট্রাইব্যুনালগুলোকে রিভিউয়ের কোনো সাধারণ ক্ষমতা দেয়নি, যদিও অনুচ্ছেদ ১১৭(২) সংসদকে তা প্রদানের সুযোগ দেয়। রিভিউ আছে অন্য দুটি জায়গায়। বিভাগীয় পর্যায়ে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে রিভিউয়ের আবেদন ধারা ৪(২) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে গণ্য হয়। একেবারে শীর্ষে, কোনো পক্ষ অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ চাইতে পারেন, সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে, তবে কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের জন্য।
বিভাগীয়: চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী; আপিল বিভাগে রিভিউ: ৩০ দিনধারা ৪(২)-এর শর্তাংশসমূহসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৭(২)-এর শর্তাংশসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
মামলা কি অন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যায়?
- 1প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল
স্থানান্তরের জন্য রেফারেন্স
আইনে হাইকোর্ট বিভাগে আইনগত প্রশ্ন রেফার করার কোনো বিধান নেই। তবে ন্যায়সংগত ও সুবিধাজনক হলে যেকোনো পর্যায়ে কোনো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল মামলাটি অন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে রেফার করতে পারে, অথবা কোনো পক্ষ এর জন্য দরখাস্ত করতে পারেন। আপিল ট্রাইব্যুনাল ট্রাইব্যুনালগুলোর কাজ পরিদর্শন করতে এবং বিধিমালা নীরব থাকলে পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারে।
১-৩ মাসধারা ৭(৭), ২০১১ সালে প্রতিস্থাপিতধারা ৭গধারা ৭(৮)-এর শর্তাংশ
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: যে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে মামলা চলতে থাকে।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে যায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি (লিভ)
অনুচ্ছেদ ১০৩ হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে যেভাবে প্রযোজ্য, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রেও সেভাবে প্রযোজ্য। পরাজিত পক্ষ সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করেন, এবং আপিল বিভাগ বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। সিপিএলএ নং ২৭৭১/২০১৮-এ আপিল বিভাগ আপিল ট্রাইব্যুনালের এমন একটি রায় বাতিল করেছে, যা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশন বন্ধ বহাল রেখেছিল। আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে লিভ মঞ্জুর হয়।
১-৪ বছরপ্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৬কসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ধারা ৮(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালগুলো ও সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক।
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা অনুচ্ছেদ ১১৭-এর অধীনে সৃষ্ট একটি বিশেষ সোপান অনুসরণ করে, যা সাধারণ দেওয়ানি আদালত ও রিট এখতিয়ারের বাইরে। কর্মচারীর গ্রেড বা জড়িত অর্থের পরিমাণ কোনোটিই ফোরাম বদলায় না। বিভাগীয় প্রতিকার আগে: বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ করতে হয়, আর দুই মাস নীরবতা নামঞ্জুর হিসেবে গণ্য হয়। এরপর ছয় মাসের মধ্যে দরখাস্ত যায় সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে, যেখানে একজন একক সদস্য থাকেন, যিনি কর্মরত বা সাবেক জেলা জজ। সেই ট্রাইব্যুনাল তথ্য ও আইন দুটোরই নিষ্পত্তি করে এবং সাক্ষ্য বিষয়ে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা রাখে।
তিন মাসের মধ্যে, বা কারণ দেখালে ছয় মাসের মধ্যে, ঢাকায় প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল চলে: এটি তিন সদস্যের একটি সংস্থা, যার চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি। এটি নথির ভিত্তিতে বিষয়টি পুনরায় শোনে এবং সিদ্ধান্ত বহাল, বাতিল, পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে। শেষ ধাপ হলো ধারা ৬ক দ্বারা প্রযোজ্য অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন। হাইকোর্ট বিভাগকে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল
- প্রথম দফার আদালতপ্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ · উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ (বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল
আব্দুল গণি রোড, ঢাকা-১০০০প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৬ক-এর অধীন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে। এর পরে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৭(২) অনুযায়ী আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন (জাগোনিউজ২৪, ২০১৬) অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালটি ১৯৮২ সালে ঢাকার আব্দুল গণি রোডে কাজ শুরু করে; বর্তমান সরকারি ঠিকানা পাওয়া যায়নি, তাই যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
আব্দুল গণি রোড, ঢাকা-১০০০প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর অধীন সরকারি কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি (বেতন, পদোন্নতি, পেনশন, শৃঙ্খলা) সংক্রান্ত আবেদন শুনানি করে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন (জাগোনিউজ২৪, ২০১৬) অনুযায়ী দেশের সাতটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তিনটি ঢাকার আব্দুল গণি রোডে; ভবন নম্বর বা বর্তমান সরকারি ঠিকানা পাওয়া যায়নি। অন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালগুলো বিভাগীয় শহরে বসে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
নিয়োগকারী বিভাগ / শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ (বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অনুচ্ছেদ ১১৭ (Article ১১৭)
- সংবিধানের যে বিধান সংসদকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয় এবং অন্য আদালতকে সেসব বিষয় গ্রহণে বাধা দেয়।
- প্রজাতন্ত্রের কর্ম (Service of the Republic)
- সরকারের অধীনে বেসামরিক চাকরি, অবসরপ্রাপ্ত, বরখাস্ত বা অপসারিত ব্যক্তিসহ, তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী ছাড়া।
- সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ (Statutory public authority)
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইনের তফসিলভুক্ত কোনো করপোরেশন বা সংস্থা, যার কর্মচারীরাও ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন।
- বিভাগীয় আপিল (Departmental appeal)
- চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল, যা ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার আগে দাখিল করতে হয়।
- নামঞ্জুর বলে গণ্য (Deemed disallowed)
- দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ দাখিলের উদ্দেশ্যে নামঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়।
- প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল (Administrative Appellate Tribunal)
- ঢাকায় অবস্থিত তিন সদস্যের আপিল সংস্থা, যা সব প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে আপিল শোনে।
- লিভ পিটিশন (Leave petition)
- আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে করা সিভিল পিটিশন।
- গুরুদণ্ড (Major penalty)
- পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর, অপসারণ বা চাকরিচ্যুতির মতো গুরুতর শৃঙ্খলামূলক শাস্তি, যার জন্য পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে কে মামলা করতে পারেন?
আগে কি বিভাগীয় আপিল করতেই হবে?
সময়সীমা কত?
হাইকোর্ট বিভাগে কেন রিট পিটিশন করা যায় না?
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলার নিষ্পত্তি কে করেন?
মামলা চলাকালে দরখাস্তকারী মারা গেলে কী হয়?
জিতলে কি আমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল হব?
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- The Administrative Tribunals Act 1980 (laws.sayed.app mirror of Laws of Bangladesh)
- The Administrative Tribunals Act 1980 (Laws of Bangladesh, official)
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 102, 103, 105, 117, 135)
- Mohammad Solaiman v Government of Bangladesh (HCD, Writ Petition 4116 of 2010, 23.11.2025): pension writ not maintainable under Article 117
- Md. Sanaullah v Government of Bangladesh (AD, CPLA 2771 of 2018, order of 25.04.2022): from Administrative Appellate Tribunal
- Government Servants (Discipline and Appeal) Rules 2018 (Bangladesh Gazette, S.R.O. 110-Law/2018)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।