ফৌজদারি মামলা বাতিল: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা বাতিল (কোয়াশিং) করে হাইকোর্ট বিভাগ, ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী; এই ধারা যেকোনো আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখে। আদালত কেবল আপিল বিভাগ নির্ধারিত সংকীর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে, যেমন অভিযোগগুলো হুবহু সত্য ধরে নিলেও কোনো অপরাধ প্রকাশ পায় না, আইনগত বাধা আছে, অথবা দেওয়ানি বিরোধকে অপরাধের রূপ দেওয়া হয়েছে।
বেঞ্চ রুল জারি করলে সাধারণত বিচার স্থগিত করে, এবং পরাজিত পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে লিভ চাইতে পারেন।
- কোথা থেকে শুরু
- হাইকোর্ট বিভাগ (ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ার), ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী ফৌজদারি বিবিধ মামলা হিসেবে…
- মূল আইন
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (ধারা ২৪১ক, ২৬৫গ, ৩৪৫, ৩৬৯, ৪৩৫, ৪৩৯, ৪৩৯ক, ৫৬১ক), ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ১১ নং…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: দাখিলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রুল ও স্থগিতাদেশ পাওয়া যায়; চূড়ান্ত শুনানি…
- কে মামলা করতে পারেন
- যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন (অথবা ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে দণ্ডের পরেও); আদালতের প্রক্রিয়ার…
ফৌজদারি মামলা বাতিল: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা মূল্যায়নপ্রতিষ্ঠিত কারণগুলোর সঙ্গে মামলা মিলিয়ে দেখা
ধারা ৫৬১ক কার্যবিধির অধীন আদেশ কার্যকর করা, যেকোনো আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করা এবং অন্যভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখে। আপিল বিভাগ এর প্রয়োগ সীমিত করেছে। আলী আক্কাস বনাম এনায়েত হোসেন মামলায়, আবদুল কাদের চৌধুরী বনাম রাষ্ট্র মামলা অনুসরণ করে, আপিল বিভাগ পাঁচটি পরিস্থিতির তালিকা দিয়েছে: ঘটনা এতটাই অযৌক্তিক যে স্বীকৃত তথ্যেও কোনো মামলা দাঁড়ায় না; কার্যক্রম প্রক্রিয়ার অপব্যবহার; আইনগত বাধা; অভিযোগ হুবহু সত্য ধরে নিলেও কোনো অপরাধ প্রকাশ পায় না; এবং কোনো আইনগত সাক্ষ্য নেই, অথবা সাক্ষ্য স্পষ্টতই অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ।
আইনজীবী যাচাই করেন কোন শ্রেণি প্রযোজ্য, যদি আদৌ কোনোটি প্রযোজ্য হয়।
কোথায়: অভিযুক্তের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; আলী আক্কাস বনাম এনায়েত হোসেন, ১৭ বিএলডি (এডি) ৪৪ = ২ বিএলসি (এডি) ১৬; আবদুল কাদের চৌধুরী বনাম রাষ্ট্র, ২৮ ডিএলআর (এডি) ৩৮ · কাগজপত্র: এজাহার (FIR) বা নালিশি দরখাস্ত, পুলিশ প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র (চার্জশিট), দাখিল হয়ে থাকলে, বিচারিক আদালতের আদেশসমূহ, যদি থাকে
পরামর্শ: বাস্তববাদী হোন। প্রতিরক্ষা যদি সাক্ষীর প্রয়োজন হয় এমন বিতর্কিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে, হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত তা বিচারের জন্য রেখে দেয়।
ধাপ ২ · মামলা মূল্যায়নঅপরাধের রূপ দেওয়া দেওয়ানি বিরোধ চিহ্নিত করা
বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা বাতিলের অনেক দরখাস্তের উৎস ব্যবসা, জমি বা পারিবারিক বিরোধ, যেগুলোকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ বা অনধিকার প্রবেশের মামলায় রূপ দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বিভাগ দেখে, পুরো অভিযোগ পড়লে শুরু থেকেই অসৎ উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়, নাকি কেবল প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, অপরিশোধিত দেনা বা বিতর্কিত মালিকানা, যার স্থান দেওয়ানি আদালতে। চুক্তি, ইতোমধ্যে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা বা অভিযোগ দায়েরের সময়ের মতো কাগজপত্র দেখাতে পারে যে ফৌজদারি মামলাটি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।
কোথায়: অভিযুক্তের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক (প্রক্রিয়ার অপব্যবহার); ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ৪২৩৯৩/২০২২ (হাইকোর্ট বিভাগ, ১১.০৬.২০২৩) · কাগজপত্র: চুক্তি বা দলিল, দেওয়ানি মামলার কাগজপত্র, পক্ষগণের মধ্যে চিঠিপত্র
ধাপ ৩ · মামলা মূল্যায়নবিচারিক আদালত থেকে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ
দরখাস্তের সঙ্গে এজাহার বা নালিশি দরখাস্ত, পুলিশ প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র, আমলে গ্রহণের (cognizance) আদেশ এবং অভিযোগ গঠন বা অব্যাহতি নামঞ্জুরের কোনো আদেশ থাকলে তার সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করতে হয়। আইনজীবী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতের নকলখানায় আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ মূলত এসব কাগজের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দেয়, তাই কাগজ না থাকলে দরখাস্ত দুর্বল হয়। জরুরি স্থগিতাদেশ প্রয়োজন হলে আদালত পরে সার্টিফায়েড কপি দাখিলের অঙ্গীকারসহ ফটোকপি গ্রহণ করতে পারে।
কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ (পুলিশ প্রতিবেদন) · কাগজপত্র: এজাহার বা নালিশের সার্টিফায়েড কপি, অভিযোগপত্র, আমলে গ্রহণের আদেশ, অভিযোগ গঠনের আদেশ, মামলার আদেশনামা
ধাপ ৪ · মামলা মূল্যায়নপর্যায় বিবেচনা: তদন্ত নাকি আমলে গ্রহণ
ধারা ৫৬১ক যেকোনো পর্যায়ে প্রয়োগ করা যায়। শের আলী বনাম রাষ্ট্র মামলায় আপিল বিভাগ বলেছে, আদালতের এখতিয়ার না থাকলে, ঘটনায় কোনো অপরাধ প্রকাশ না পেলে বা দণ্ড কোনো সাক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত না হলে এই ক্ষমতায় কার্যক্রম, এমনকি দণ্ডও, বাতিল করা যায়। তবে পুলিশ তদন্ত চলাকালে হাইকোর্ট বিভাগ হস্তক্ষেপে ধীর, যদি না এজাহারে প্রথম দৃষ্টিতেই কোনো অপরাধ প্রকাশ না পায় বা আইনগত বাধা থাকে। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর ধারা ১৭৩খ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট সময় না বাড়ালে ষাট কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়, এবং ধারা ১৭৩ক অনুযায়ী অপর্যাপ্ত সাক্ষ্য দেখানো অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া যায়।
তাই প্রায়ই পুলিশ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করে আমলে গ্রহণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করাই ভালো।
কোথায়: থানা বা তদন্তকারী সংস্থা · সময়: পরিবর্তনশীল · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; শের আলী বনাম রাষ্ট্র, ৪৬ ডিএলআর (এডি) ৬৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক ও ১৭৩খ (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংযোজিত, ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর) · কাগজপত্র: কেস ডায়েরির উদ্ধৃতি, পাওয়া গেলে, পুলিশ প্রতিবেদন
ধাপ ৫ · মামলা মূল্যায়নআগে হাজির হয়ে জামিন নেওয়া
পলাতক অভিযুক্তকে হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত সহায়তা করে না। দাখিলের আগে অভিযুক্ত সাধারণত বিচারিক আদালত বা আমলে গ্রহণকারী আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন, অথবা আগে থেকেই জামিনে থাকেন। অভিযুক্ত হেফাজতে থাকলে সমান্তরালভাবে জামিন চাওয়া যায়। জামিনে থাকার আরেকটি সুবিধা হলো, পরে রুল খারিজ হলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ছাড়াই বিচারে আত্মপক্ষ সমর্থন চালিয়ে যেতে পারেন। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর আদালত জামিনে শর্ত আরোপ করতে পারে এবং অনুমতি দিলে অনলাইনে জামিননামা গ্রহণ করতে পারে।
কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৬-৪৯৮; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(২) ও ধারা ৪৯৯(৩) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংযোজিত) · কাগজপত্র: জামিননামা, জামিনের আদেশ, হাজিরার প্রমাণ
ধাপ ৬ · দাখিল ও রুলধারা ৫৬১ক-এর দরখাস্তের খসড়া
আইনজীবী রাষ্ট্র এবং এজাহারকারী বা নালিশকারীকে প্রতিপক্ষ করে ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী একটি ফৌজদারি বিবিধ দরখাস্তের খসড়া করেন। এতে ঘটনা, মামলার পর্যায়, আপিল বিভাগের শ্রেণিগুলোর উল্লেখসহ কারণসমূহ এবং কার্যক্রম বাতিল ও এর মধ্যে তা স্থগিত রাখার প্রার্থনা থাকে। এর সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টে সম্পাদিত হলফনামা থাকে এবং সার্টিফায়েড কপিগুলো সংযুক্ত করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে একটি কপি জারি করা হয়।
কোথায়: অভিযুক্তের আইনজীবী · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক · কাগজপত্র: ধারা ৫৬১ক-এর দরখাস্ত, হলফনামা, সংযুক্তিসমূহ, ওকালতনামা, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের জন্য সার্ভিস কপি
ধাপ ৭ · দাখিল ও রুলমোশন শুনানি: রুল ও স্থগিতাদেশ
প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ফৌজদারি বিবিধ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চে দরখাস্তটি তালিকাভুক্ত হয়। মোশন শুনানিতে রাষ্ট্রের পক্ষে একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হাজির হন। বেঞ্চ যুক্তিগ্রাহ্য মামলা দেখলে রুল জারি করে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে কেন কার্যক্রম বাতিল করা হবে না, এবং সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করে, যা বাড়ানো যায়। কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ না পেলে সংক্ষিপ্তভাবে দরখাস্ত খারিজ করে দেয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিলের ১-৪ সপ্তাহ পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: রুল জারির আদেশ, স্থগিতাদেশ
ধাপ ৮ · দাখিল ও রুলবিচারিক আদালতে স্থগিতাদেশ জানানো
স্থগিতাদেশ বিচারিক আদালতে, অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দায়রা আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, পাঠানো হয়, এবং অভিযুক্তের আইনজীবী সেখানে এর সার্টিফায়েড কপি দাখিল করেন। এরপর বিচারিক আদালত মামলা মুলতবি রাখে এবং স্থগিতাদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত আর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। স্থগিতাদেশ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয় বলে আইনজীবীকে সময়মতো মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হয়; মেয়াদ শেষ হলে বিচারিক আদালত মামলা চালিয়ে যাবে। আগে দেওয়া জামিন সাধারণত বহাল থাকে।
কোথায়: দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক · কাগজপত্র: স্থগিতাদেশের সার্টিফায়েড কপি, বিচারিক আদালতকে অবহিত করার দরখাস্ত
পরামর্শ: স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ স্থগিতাদেশই অভিযুক্তের বিপদে পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি।
ধাপ ৯ · প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শুনানিরুল জারি ও পাল্টা হলফনামা
রুল এজাহারকারী বা নালিশকারীর ওপর এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ওপর জারি করা হয়। এজাহারকারী মামলায় কেন অপরাধ প্রকাশ পায় তা ব্যাখ্যা করে পাল্টা হলফনামা দাখিল করতে পারেন, প্রায়ই অতিরিক্ত কাগজপত্রসহ। অভিযুক্ত সম্পূরক হলফনামার মাধ্যমে জবাব দিতে পারেন। এর মধ্যে আবেদনের ভিত্তিতে বেঞ্চ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ায়। এজাহারকারীর ওপর জারি করা না গেলে আদালত বিকল্প জারির নির্দেশ দিতে পারে, যেমন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক · কাগজপত্র: জারির হলফনামা, পাল্টা হলফনামা, সম্পূরক হলফনামা, স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির দরখাস্ত
ধাপ ১০ · প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শুনানিরুলের চূড়ান্ত শুনানি
রুলটি শুনানির তালিকায় এলে বেঞ্চ অভিযুক্ত, রাষ্ট্র ও এজাহারকারীর বক্তব্য শোনে। বেঞ্চ মূলত এজাহার বা নালিশ, পুলিশ প্রতিবেদন এবং প্রশ্নাতীত প্রকৃতির দলিল দেখে, বিতর্কিত তথ্য সম্পর্কে প্রতিরক্ষার ভাষ্য নয়। আবদুর রশিদ মুন্সী বনাম রাষ্ট্র (২০২৫) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ রুল খারিজ করে, কারণ বিরোধটিতে এমন তথ্যগত প্রশ্ন ছিল যা কেবল বিচারেই নিষ্পত্তি সম্ভব। তাই বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা বাতিল সবচেয়ে বেশি সফল হয় স্পষ্ট আইনগত প্রশ্নে, অথবা যেখানে নথিতেই অপব্যবহার সুস্পষ্ট।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: রুলের ১-৩ বছর পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ৫০৬৬৮/২০১৪ (হাইকোর্ট বিভাগ, ১৩.০৩.২০২৫); আবদুল কাদের চৌধুরী বনাম রাষ্ট্র, ২৮ ডিএলআর (এডি) ৩৮ · কাগজপত্র: পেপার বুক, লিখিত যুক্তি, নজিরসমূহ
ধাপ ১১ · প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শুনানিরায়: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ
বেঞ্চ সন্তুষ্ট হলে রুল চূড়ান্ত করে কার্যক্রম বাতিল করে, কখনো কখনো কেবল কয়েকজন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে বা কয়েকটি অপরাধের ক্ষেত্রে। মো. নুরুল হাকিম বনাম রাষ্ট্র (২০২৩) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ চট্টগ্রামের একজন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালতে বিচারাধীন একটি চেক ডিজঅনার মামলা আদালতের প্রক্রিয়ার নিছক অপব্যবহার হিসেবে বাতিল করে, যেখানে ঋণ বিরোধে চেকগুলো জামানত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। সন্তুষ্ট না হলে বেঞ্চ রুল খারিজ করে, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এবং প্রায়ই বিচারিক আদালতকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। রুল খারিজ হলে দোষ সাব্যস্ত হয় না; অভিযুক্ত বিচারে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ পান।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: রায়ের দিন; সার্টিফায়েড কপি ১-৪ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ৪২৩৯৩/২০২২ (হাইকোর্ট বিভাগ, ১১.০৬.২০২৩) · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১২ · রায়ের পরবাতিল হলে: নিম্ন আদালতে মামলা বন্ধ
হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ বিচারিক আদালতে পাঠানো হয় এবং অভিযুক্তের আইনজীবী এর সার্টিফায়েড কপি দাখিল করেন। বিচারিক আদালত কার্যক্রম বাতিলের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে, অভিযুক্তকে জামিননামা থেকে অব্যাহতি দেয় এবং মামলা বন্ধ করে। আলামত হিসেবে জব্দ কোনো সম্পত্তি দরখাস্তের ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া যায়। এজাহারকারী লিভ পিটিশন দাখিল করলে আপিল বিভাগ কোনো স্থগিতাদেশ দেয় কি না, সেদিকে অভিযুক্তের নজর রাখা উচিত।
কোথায়: দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-২ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭ (সম্পত্তির বিলিবন্দোবস্ত) · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, জামিননামা থেকে অব্যাহতির দরখাস্ত, জব্দকৃত সম্পত্তি ফেরতের দরখাস্ত
ধাপ ১৩ · রায়ের পরখারিজ হলে: বিচার আবার শুরু
রুল খারিজ হলে বিচারিক আদালত যেখানে থেমেছিল সেখান থেকে মামলা আবার শুরু করে। অভিযোগ গঠন এখনো না হয়ে থাকলে অভিযুক্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন যুক্তি দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধারা ২৪১ক বা দায়রা আদালতে ধারা ২৬৫গ অনুযায়ী অব্যাহতির আবেদন করতে পারেন। অভিযোগ গঠন হয়ে গেলে মামলা সাক্ষ্যগ্রহণে যায় এবং অভিযুক্ত স্বাভাবিক পদ্ধতিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে নাকচ হওয়া যুক্তিগুলো সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচারে আবারও তোলা যায়।
কোথায়: দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল · সময়: কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ · কাগজপত্র: অব্যাহতির দরখাস্ত, প্রতিরক্ষার কাগজপত্র
ধাপ ১৪ · রায়ের পরআপসযোগ্য অপরাধে আপস
কিছু মামলা বাতিলের মাধ্যমে নয়, মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হয়। অপরাধটি ধারা ৩৪৫ অনুযায়ী আপসযোগ্য হলে পক্ষগণ বিচারিক আদালতে আপস করতে পারেন, ধারাটি যেখানে চায় সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে, এবং আপসের ফল খালাসের সমান। ২০২৬ সালের সংশোধনী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়া (দণ্ডবিধির ধারা ১৪৩) অপরাধটি তালিকায় যোগ করেছে এবং আদালতকে পক্ষগণকে মীমাংসায় সহায়তা করার বা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে। আপস-অযোগ্য অপরাধে ব্যক্তিগত মীমাংসা নিজে থেকে মামলা শেষ করে না, তবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে কি না সে প্রশ্নে তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫(২) ও (৮) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত) · কাগজপত্র: আপসনামা, যৌথ হলফনামা
ধাপ ১৫ · রায়ের পরমিথ্যা মামলার পর প্রতিকার
মামলা বাতিল হলে, অথবা পরে অভিযুক্ত অব্যাহতি বা খালাস পেলে, আইনজীবী মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে কী করা যায় তা বিবেচনা করেন। ধারা ২৫০ অনুযায়ী, নালিশ বা তথ্যের ভিত্তিতে আনা যে মামলা মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক প্রমাণিত হয়েছে, তাতে অব্যাহতি বা খালাস দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে এখন নালিশকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ বিবেচনা করতে হয়; ২০২৬ সালের সংশোধনী এটি বাধ্যতামূলক করেছে এবং সর্বোচ্চ অঙ্ক বাড়িয়েছে। দণ্ডবিধির ধারা ২১১ অনুযায়ী মিথ্যা অভিযোগের জন্য আলাদা নালিশ, অথবা বিদ্বেষপ্রসূত মামলার (malicious prosecution) জন্য দেওয়ানি মামলাও সম্ভব হতে পারে। প্রতিটির নিজস্ব শর্ত আছে, তাই দাখিলের আগে আইনি পরামর্শ প্রয়োজন।
কোথায়: অভিযুক্তের আইনজীবী · সময়: পরিবর্তনশীল · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২১১ · কাগজপত্র: বাতিল বা অব্যাহতির আদেশের সার্টিফায়েড কপি, মিথ্যা ও বিদ্বেষের প্রমাণ
যদি এমন হয়…? ফৌজদারি মামলা বাতিল যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হবে?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ ও স্থগিতাদেশ
ধারা ৫৬১ক-এর রায়ের বিরুদ্ধে অধিকারবলে আপিল চলে না। পরাজিত পক্ষ, অভিযুক্ত, এজাহারকারী বা রাষ্ট্র যে-ই হোক, রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করেন। বাতিল হওয়া মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে চাওয়া এজাহারকারী বা রাষ্ট্র, অথবা বিচার স্থগিত রাখতে চাওয়া অভিযুক্ত, চেম্বার জজের কাছে জরুরি স্থগিতাদেশ চাইতে পারেন।
দাখিলে ৩০ দিনগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
লিভ, ফৌজদারি আপিল ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
লিভ মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ ফৌজদারি আপিল শুনে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল বা রদ করে। ধারা ৫৬১ক বিষয়ে এর সিদ্ধান্তগুলো, যেমন আবদুল কাদের চৌধুরী, শের আলী ও আলী আক্কাস, অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর মামলা হয় শেষ হয়, নয়তো বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে ফেরত যায়।
৬-২৪ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত: মামলা হয় চিরতরে বাতিল হয়, নয়তো বিচারের জন্য ফেরত যায়।
এর বদলে কি ফৌজদারি রিভিশন করা উচিত?
- 1দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
দায়রা জজের কাছে রিভিশন
ম্যাজিস্ট্রেটের আমলে গ্রহণ, অভিযোগ গঠন বা অব্যাহতি নামঞ্জুরের আদেশ দায়রা জজের কাছে ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ক অনুযায়ী, অথবা হাইকোর্ট বিভাগে ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ অনুযায়ী, ফৌজদারি রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়। ধারা ৪৩৯ক(২) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির দায়ের করা রিভিশনে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত, তাই হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন বারিত।
৩-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক(১)-(২) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যর্থ রিভিশনের পর ধারা ৫৬১ক
ধারা ৪৩৯ক-এর বাধা রিভিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সহজাত ক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়। দায়রা জজ রিভিশন নামঞ্জুর করলেও উপযুক্ত ক্ষেত্রে, যেমন কার্যক্রম স্পষ্টতই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হলে, ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়া যায়। তবে একই যুক্তিতে ছদ্মবেশী দ্বিতীয় রিভিশন হিসেবে ধারা ৫৬১ক ব্যবহার করতে আদালত দেবে না।
ধারা ৫৬১ক-এর দরখাস্তের মতোইফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১কফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক(২)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অভিযুক্ত হয় রিভিশনে সফল হন, নয়তো প্রক্রিয়ার প্রকৃত অপব্যবহারের ভিত্তিতে ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আসেন।
হাইকোর্ট বিভাগ কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ৩৬৯: করণিক ভুল ছাড়া রিভিউ নেই
কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ বলে, কোনো আদালত রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তা পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারে না। তাই ধারা ৫৬১ক-এর দরখাস্ত নিষ্পত্তিকারী হাইকোর্ট বিভাগসহ কোনো ফৌজদারি আদালত রিভিউয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় শুনতে পারে না। একই কারণে দ্বিতীয় ধারা ৫৬১ক দরখাস্ত সাধারণত গ্রহণ করা হয় না, তাই প্রতিকার হলো লিভ পিটিশন।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ
আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ত্রিশ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউ পিটিশন দাখিল করা যায়। ফৌজদারি কার্যক্রমে আপিল বিভাগ রুলস কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের ভিত্তিতে রিভিউয়ের সুযোগ দেয়। রিভিউ আপিলের পুনঃশুনানি নয় এবং কদাচিৎ মঞ্জুর হয়।
দাখিলে ৩০ দিন; ৩-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের রায় কেবল আপিল বিভাগই পরিবর্তন করতে পারে, যা নিজে কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের জন্য রিভিউ করতে পারে।
দুই বিচারপতি ভিন্নমত দিলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারপতি বা বৃহত্তর বেঞ্চ
ধারা ৫৬১ক-এর দরখাস্ত দুই বিচারপতির দ্বৈত বেঞ্চে শোনা হয়। তাঁরা ভিন্ন রায় দিলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পেশ করা হয়, যিনি তা তৃতীয় একজন বিচারপতির কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মত রুলের নিষ্পত্তি করে। ধারা ৫৬১ক-এর পরিধি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আগের কোনো সিদ্ধান্তে বেঞ্চের সন্দেহ থাকলে তারা প্রধান বিচারপতিকে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ করতে পারে। এমন যেকোনো প্রশ্নে শেষ কথা আপিল বিভাগের।
৩-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতির মতামতের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রুলের নিষ্পত্তি হয়, যা আপিল বিভাগে লিভ সাপেক্ষ।
আপিল বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
রায় রদ ও রুল পুনঃশুনানির জন্য ফেরত
হাইকোর্ট বিভাগ যদি এজাহারকারীকে না শুনে, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বিবেচনা না করে, অথবা আপিল বিভাগের দৃষ্টিতে আইনত ভুল কোনো কারণে রুলের নিষ্পত্তি করে থাকে, তাহলে আপিল বিভাগ রায় রদ করে রুলটি নতুন শুনানির জন্য ফেরত পাঠাতে পারে। এর মধ্যে আপিল বিভাগ বিচার স্থগিত রাখতে পারে বা বিচার চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
রায়ের সময়গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রুলের নতুন শুনানি
ফৌজদারি বিবিধ মামলাটি পুনর্বহাল হয় এবং আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আবার শোনা হয়, সাধারণত প্রধান বিচারপতি নির্ধারিত কোনো বেঞ্চে। আপিল বিভাগ যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে, সেগুলোতে পক্ষগণ সম্পূরক হলফনামা দাখিল করতে পারেন, এবং বেঞ্চ রুল চূড়ান্ত বা খারিজ করে নতুন রায় দেয়।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১কগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) - 3সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
প্রয়োজনে নতুন লিভ পিটিশন
নতুন রায়ের বিরুদ্ধে আবার ত্রিশ দিনের মধ্যে ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করা যায়। দ্বিতীয়বার যাওয়া অস্বাভাবিক, কারণ ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা সাধারণত বিরোধের বিষয় সংকুচিত করে দেয়। এরপর মামলা হয় শেষ হয়, যেমনটি যেকোনো সফল ফৌজদারি মামলা বাতিলের ক্ষেত্রে হয়, নয়তো বিচারিক আদালতে ফেরত যায়।
দাখিলে ৩০ দিনগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ আবার রুলের নিষ্পত্তি করে, যা আরও একটি লিভ পিটিশন সাপেক্ষ।
আগে কি বিচারিক আদালতে অব্যাহতি চাওয়া উচিত?
- 1দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
ধারা ২৪১ক বা ২৬৫গ অনুযায়ী অব্যাহতি
অভিযোগ গঠনের আগে বিচারিক আদালতকে নথি বিবেচনা করতে হয় এবং উভয় পক্ষকে শুনতে হয়। অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২৪১ক অনুযায়ী অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন; অগ্রসর হওয়ার পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে দায়রা আদালত ধারা ২৬৫গ অনুযায়ী তা করে। অব্যাহতি প্রায়ই ধারা ৫৬১ক-এর চেয়ে দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল, এবং বিচারিক আদালত নথি আরও বিস্তারিতভাবে দেখতে পারে।
১-৬ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১কফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
অব্যাহতি নামঞ্জুরের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ
অব্যাহতি নামঞ্জুর হয়ে অভিযোগ গঠিত হলে অভিযুক্ত রিভিশনের মাধ্যমে, অথবা আপিল বিভাগের কোনো শ্রেণি প্রযোজ্য হলে ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই চায় বিচারিক আদালত আগে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনা করুক, তবে সেই ধাপ বাদ পড়েছে বলে ধারা ৫৬১ক বারিত হয় না। চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হলে নিম্ন আদালতে বিচার চলতে থাকে।
৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১কশের আলী বনাম রাষ্ট্র, ৪৬ ডিএলআর (এডি) ৬৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অভিযুক্ত হয় বিচারিক আদালতে অব্যাহতি পান, নয়তো হাইকোর্ট বিভাগে জেতেন, অথবা বিচারে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন।
ফৌজদারি মামলা বাতিল যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা বাতিল হয় প্রথম স্তরে। ধারা ৫৬১ক সহজাত ক্ষমতা কেবল হাইকোর্ট বিভাগকে দিয়েছে, তাই কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ মামলা বাতিল করতে পারেন না; তাঁরা কেবল অভিযোগ গঠনের আগে ধারা ২৪১ক বা ধারা ২৬৫গ অনুযায়ী অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন। বিচার হতে পারে মুখ্য মহানগর হাকিম বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে, দায়রা আদালতে বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, এবং কোনটিতে হবে তা নির্ধারণ করে অপরাধের ধরন, কোনো আর্থিক মূল্যমান নয়। হাইকোর্ট বিভাগের নিচে অন্তর্বর্তী আদেশ ফৌজদারি রিভিশনের মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জ করা যায়, প্রথমে দায়রা জজের কাছে, যাঁর সিদ্ধান্ত ধারা ৪৩৯ক অনুযায়ী রিভিশনে চূড়ান্ত, অথবা সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে।
২০২৬ সালের কার্যবিধি সংশোধনী ধারা ৫৬১ক, ২৪১ক, ২৬৫গ এবং ৪৩৫ থেকে ৪৩৯ক অপরিবর্তিত রেখেছে। একটি দ্বৈত বেঞ্চ নথির ভিত্তিতে ধারা ৫৬১ক-এর দরখাস্ত শোনে। এটি সাক্ষ্য নেয় না বা বিতর্কিত তথ্য সম্পর্কে প্রতিরক্ষার ভাষ্য বিচার করে না। এর রায়ের বিরুদ্ধে অধিকারবলে আপিল নেই। পরাজিত পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ দাখিল করেন, এবং সেই আদালতের সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য আইন নির্ধারণ করে।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
- প্রথম দফার আদালতমুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেঅভিযুক্তের আইনজীবী · থানা বা তদন্তকারী সংস্থা
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
অভিযুক্তের আইনজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর
৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকাঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।
জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- মামলা বাতিল (Quashing)
- হাইকোর্ট বিভাগের এমন আদেশ, যা বিচারের আগে বা চলাকালে ফৌজদারি কার্যক্রমের অবসান ঘটায়, কারণ তা চালিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বা অন্যায় হবে।
- ধারা ৫৬১ক (Section ৫৬১A)
- ফৌজদারি কার্যবিধির সেই বিধান, যা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখে।
- প্রক্রিয়ার অপব্যবহার (Abuse of process)
- ফৌজদারি মামলাকে তার উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করা, যেমন দেওয়ানি বিরোধে প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়া।
- রুল (Rule)
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যা প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে কেন কার্যক্রম বাতিল করা হবে না।
- কার্যক্রম স্থগিত (Stay of proceedings)
- রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচার বন্ধ রাখার অস্থায়ী আদেশ, সাধারণত নির্দিষ্ট ও বর্ধনযোগ্য মেয়াদের জন্য।
- অব্যাহতি (Discharge)
- অভিযোগ গঠনের আগে বিচারিক আদালত কর্তৃক অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া, ধারা ২৪১ক (ম্যাজিস্ট্রেট) বা ধারা ২৬৫গ (দায়রা আদালত) অনুযায়ী।
- আমলে গ্রহণ (Cognizance)
- বিচারিক আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধ আমলে নেওয়া, যাতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
- ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (Criminal petition for leave to appeal)
- হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে করা দরখাস্ত, যা ত্রিশ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়।
ফৌজদারি মামলা বাতিল: সাধারণ প্রশ্ন
হাইকোর্ট বিভাগ কখন ফৌজদারি মামলা বাতিল করে?
ব্যবসায়িক বিরোধকে প্রতারণার মামলা বানানো হলে কি তা বাতিল করা যায়?
কোন পর্যায়ে ৫৬১ক ধারায় দরখাস্ত করা যায়?
দরখাস্ত বিচারাধীন থাকলে কি বিচার বন্ধ থাকবে?
মামলা বাতিল আর অব্যাহতির মধ্যে পার্থক্য কী?
এজাহারকারী কি মামলা বাতিলের আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন?
দরখাস্ত ব্যর্থ হলে কি আমি দোষী সাব্যস্ত হব?
ফৌজদারি মামলা বাতিল করতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Code of Criminal Procedure 1898, Laws of Bangladesh
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act 11 of 2026), text (mirror)
- Code of Criminal Procedure 1898, text with amendments (mirror)
- Md. Nurul Hakim v State, Criminal Misc. Case No. 42393 of 2022 (HCD, 11.06.2023)
- Abdur Rashid Munshi v State, Criminal Misc. Case No. 50668 of 2014 (HCD, 13.03.2025)
- Begum Khaleda Zia v State, Criminal Misc. Case No. 20335 of 2017 (HCD), discussing Abdul Quader Chowdhury, 28 DLR (AD) 38
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Laws of Bangladesh
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।