সন্তানের হেফাজতের মামলা: বাংলাদেশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পূর্ণ যাত্রা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/পারিবারিক

সন্তানের হেফাজতের মামলা: বাংলাদেশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পূর্ণ যাত্রা

বাংলাদেশে সন্তানের হেফাজতের মামলা (child custody case) পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (Family Courts Act 2023)-এর অধীনে পারিবারিক আদালতে শুনানি হয়। এ উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালত অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ (Guardians and Wards Act 1890)-এর অধীনে জেলা আদালত হিসেবে কাজ করে এবং সিদ্ধান্ত দেয় সন্তান কার কাছে থাকবে, অভিভাবক কে হবেন এবং অপর মা বা বাবা কতটা সাক্ষাৎ পাবেন।

আদালত পক্ষদের ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করেন, যেমন মুসলিম আইনে মায়ের হিজানতের অধিকার, তবে সন্তানের কল্যাণই চূড়ান্ত মানদণ্ড। এই যাত্রায় রয়েছে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা, অন্তর্বর্তী হেফাজত, বিচার, ডিক্রি ও তা কার্যকরকরণ, পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল, হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন এবং হেবিয়াস কর্পাস।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
হেফাজত ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রাথমিক পরামর্শ
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৭টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
সন্তান সাধারণত যেখানে বসবাস করে সেখানকার পারিবারিক আদালত (সভাপতিত্বে সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ); প্রজ্ঞাপিত…
মূল আইন
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (ধারা ৪-৮, ১১-২১, ২৫, ২৭-২৮); অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ (ধারা ৭, ৯, ১০, ১২, ১৭, ১৯, ২৫, ২৬)…
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: অন্তর্বর্তী হেফাজতের আদেশ ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসে; পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত…
কে মামলা করতে পারেন
মা বা বাবা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি অথবা ব্যক্তিগত আইনে অধিকারপ্রাপ্ত অন্য আত্মীয়, কিংবা সন্তানের কল্যাণে আগ্রহী যেকোনো…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

সন্তানের হেফাজতের মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. সন্তানের হেফাজতের মামলা: ধাপ ১, হেফাজত ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রাথমিক পরামর্শ
    ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগে

    হেফাজত ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রাথমিক পরামর্শ

    বাংলাদেশে যেকোনো সন্তানের হেফাজতের মামলার শুরুতে আইনজীবী প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা দুটি প্রশ্ন আলাদা করেন: হেফাজত (সন্তান কার সঙ্গে থাকবে) এবং অভিভাবকত্ব (আইনগত সিদ্ধান্ত কে নেবেন এবং সম্পত্তি কে দেখবেন)। মুসলিম আইনে বাবা স্বাভাবিক অভিভাবক, আর মায়ের রয়েছে হিজানত, অর্থাৎ ছেলের সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত শারীরিক হেফাজতের অধিকার। বাংলাদেশের আদালত এসব নিয়মকে কেবল সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখেন; সন্তানের কল্যাণই চূড়ান্ত মানদণ্ড। আইনজীবী বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো জরুরি ঝুঁকিও যাচাই করেন।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৭; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৯; আবু বকর সিদ্দিক বনাম এস.এম.এ. বকর, ৩৮ ডিএলআর (এডি) ১০৬ (Abu Bakar Siddique v S.M.A. Bakar, 38 DLR (AD) 106) · কাগজপত্র: সন্তানের জন্মনিবন্ধন সনদ, বিয়ে ও তালাকের কাগজপত্র, সন্তান বর্তমানে কোথায় ও কীভাবে থাকছে তার প্রমাণ

    পরামর্শ: সন্তানকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা থাকলে প্রথম সাক্ষাতেই তা বলুন; সবকিছুর আগে জরুরি আবেদনটি করতে হবে।

  2. সন্তানের হেফাজতের মামলা: ধাপ ২, লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা
    ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগে

    লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা

    সংশোধিত আইনগত সহায়তা আইনের অধীনে প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত পারিবারিক বিরোধ, হেফাজতসহ, মামলা দায়েরের আগে প্রথমে মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে হয়। লিগ্যাল এইড অফিসার মা-বাবা দুজনকেই ডেকে হেফাজত, সাক্ষাতের সময় ও ভরণপোষণ নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন। চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারের প্রত্যয়িত সমঝোতা আদালতের ডিক্রির মতো কার্যকর। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়, যা মামলার সঙ্গে দাখিল করতে হয়; মধ্যস্থতায় ব্যয়িত সময় তামাদির হিসাবে ধরা হয় না। আপনার জেলা প্রজ্ঞাপিত কি না যাচাই করুন।

    কোথায়: জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ ও ২১গ এবং তফসিল (আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬, ২০২৬ সালের ৪৫ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আবেদন, জাতীয় পরিচয়পত্র, মধ্যস্থতার প্রতিবেদন বা সমঝোতা

    পরামর্শ: মধ্যস্থতা বিনা খরচে ও গোপনে হয়। এখানে সম্মতিতে ঠিক করা সাক্ষাতের সূচি চাপিয়ে দেওয়া সূচির চেয়ে বেশি মানা হয়।

  3. সন্তানের হেফাজতের মামলা: ধাপ ৩, আবেদন প্রস্তুত করুন এবং আদালত বেছে নিন
    ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগে

    আবেদন প্রস্তুত করুন এবং আদালত বেছে নিন

    সন্তান সাধারণত যেখানে বসবাস করে সেখানকার পারিবারিক আদালতে আবেদন করতে হয়। এতে সন্তানের নাম, লিঙ্গ, ধর্ম, জন্মতারিখ ও বাসস্থান, বর্তমানে কার হেফাজতে আছে, নিকটাত্মীয়রা কারা, সন্তানের কোনো সম্পত্তি আছে কি না, এবং প্রার্থিত আদেশটি কেন সন্তানের কল্যাণে, তা উল্লেখ করা হয়। আরজিতে সাক্ষী ও নির্ভরযোগ্য দলিলের তালিকা থাকে, সঙ্গে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য কপি। মামলা যেমনই হোক, কোর্ট ফি নির্দিষ্টভাবে ২০০ টাকা।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৯ ও ১০; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭(১) · কাগজপত্র: আরজি বা দরখাস্ত, সাক্ষীদের তালিকা, দলিলপত্রের তালিকা, ২০০ টাকা কোর্ট ফি

    পরামর্শ: আরজির সঙ্গে দাখিল বা তালিকাভুক্ত না করা দলিল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া পরে বাদ দেওয়া হতে পারে।

  4. সন্তানের হেফাজতের মামলা: ধাপ ৪, পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের
    ধাপ ৪ · মামলা দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী আদেশ

    পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের

    সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের সভাপতিত্বে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা হয় এবং তা অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের পারিবারিক মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পারিবারিক আদালত অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে কাজ করলে জেলা আদালত হিসেবে গণ্য হয় এবং ওই আইনের পদ্ধতি অনুসরণ করে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালতও চালু আছে। আদালত বিবাদীর হাজিরার জন্য সাধারণত ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি তারিখ ধার্য করেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: দাখিলে ১ দিন · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৪, ৫(ঙ) ও ২৭; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৫ক (২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত) · কাগজপত্র: দাখিলকৃত আরজি, সমন জারির জন্য কপি, প্রসেস ফি ও ডাক খরচ

    পরামর্শ: অপর পক্ষের সঠিক ইমেইল ঠিকানা দিন; ২০২৩ সালের আইন ইমেইলে সমন জারির সুযোগ দেয়।

  5. ধাপ ৫: জরুরি অন্তর্বর্তী হেফাজত ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
    ধাপ ৫ · মামলা দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী আদেশ

    জরুরি অন্তর্বর্তী হেফাজত ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

    দায়েরের সঙ্গে বা তার পরপরই আবেদনকারী অন্তর্বর্তী আদেশ চাইতে পারেন। আদালত সন্তান যাঁর কাছে আছে তাঁকে সন্তানকে হাজির করার নির্দেশ দিতে, মা বা বাবার একজনকে সাময়িক হেফাজত দিতে, অন্তর্বর্তী সাক্ষাৎ নির্ধারণ করতে, এবং সন্তানকে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে বা বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন। সন্তান ঝুঁকিতে থাকলে আদালত মামলা যাতে নিষ্ফল না হয় সেজন্য যেকোনো পর্যায়ে হলফনামার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে পারেন। আদালত-নিযুক্ত অভিভাবক অনুমতি ছাড়া সন্তানকে এখতিয়ারের বাইরে নিতে পারেন না।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: কয়েক দিন থেকে ৩ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১২ ও ২৬ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ অন্তর্বর্তী হেফাজতের আবেদন, জরুরি অবস্থার প্রমাণ (টিকিট, বার্তা)

    পরামর্শ: বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রকৃত ঝুঁকি থাকলে সন্তানের পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখার আদেশ সুনির্দিষ্টভাবে চান।

  6. ধাপ ৬: সমন ও নোটিশ
    ধাপ ৬ · মামলা দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী আদেশ

    সমন ও নোটিশ

    আদালত জারিকারক এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে, এবং ঠিকানা দেওয়া থাকলে ইমেইলে, বিবাদীর প্রতি সমন জারি করেন। অভিভাবকত্ব আইন অনুযায়ী সন্তানের মা-বাবা, হেফাজতকারী ব্যক্তি এবং আদালত যাঁদের শোনা উচিত মনে করেন তাঁদেরও নোটিশ দেওয়া হয়, এবং তা আদালতে ও সন্তানের বাসস্থানে টাঙিয়ে দেওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডাকযোগে জারি সম্পন্ন বলে গণ্য হয়, তাই এড়িয়ে চলা কোনো পক্ষের কারণে মামলা অনির্দিষ্টকাল আটকে থাকে না।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১১ · কাগজপত্র: সমন, রেজিস্ট্রি ডাকের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, জারির ফেরত প্রতিবেদন

    পরামর্শ: অপর পক্ষের ঠিকানা হালনাগাদ রাখুন; ত্রুটিপূর্ণ জারিই শুরুর দিকে মুলতবির সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

  7. ধাপ ৭: লিখিত জবাব
    ধাপ ৭ · আরজি-জবাব ও আপস-মীমাংসা

    লিখিত জবাব

    ধার্য তারিখে উভয় পক্ষ হাজির হন এবং বিবাদী সাক্ষীদের তালিকা ও নির্ভরযোগ্য দলিলসহ লিখিত জবাব দাখিল করেন। যুক্তিসংগত কারণ দেখালে আদালত সর্বোচ্চ একুশ দিনের আরেকটি তারিখ দিতে পারেন। যথাযথ জারির পরও বিবাদী হাজির না হলে আদালত একতরফাভাবে এগোতে পারেন; পর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে ত্রিশ দিনের মধ্যে আবেদন করলে একতরফা ডিক্রি রদ করা যায়। আরজি-জবাব পরে সংশোধন করা যায়, তবে মামলা বিলম্বিত করার জন্য নয়।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮, ৯ ও ১০ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, বিবাদীর সাক্ষী-তালিকা, বিবাদীর দলিলপত্র

    পরামর্শ: সন্তানের কল্যাণ নিয়ে প্রতিটি অভিযোগের জবাব বিন্দু ধরে ধরে দিন; নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগে নীরব থাকলে তা স্বীকারোক্তির মতো দেখায়।

  8. ধাপ ৮: প্রাক-বিচার শুনানি ও আপস-মীমাংসা
    ধাপ ৮ · আরজি-জবাব ও আপস-মীমাংসা

    প্রাক-বিচার শুনানি ও আপস-মীমাংসা

    লিখিত জবাবের ত্রিশ দিনের মধ্যে আদালত প্রাক-বিচার শুনানি করেন। বিচারক আরজি, লিখিত জবাব ও দলিলপত্র পরীক্ষা করেন, প্রয়োজনে পক্ষদের সরাসরি শোনেন, বিরোধের বিষয়গুলো চিহ্নিত করেন এবং আপসের চেষ্টা করেন, যেমন সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসবে সাক্ষাৎসহ যৌথ ব্যবস্থা। সমঝোতা হলে আদালত আপসের ডিক্রি দেন। না হলে বিচার্য বিষয় গঠন করে ত্রিশ দিনের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। কার্যক্রম রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) হতে পারে।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১১, ১২ ও ১৫ · কাগজপত্র: বিচার্য বিষয় গঠনের আদেশ, আপসের শর্ত (সম্মত হলে)

    পরামর্শ: যেকোনো পক্ষ রুদ্ধদ্বার শুনানি চাইতে পারেন। উভয়ে চাইলে আদালতকে রুদ্ধদ্বার কক্ষেই শুনানি করতে হবে।

  9. ধাপ ৯: মামলা চলাকালে অন্তর্বর্তী সাক্ষাৎ
    ধাপ ৯ · আরজি-জবাব ও আপস-মীমাংসা

    মামলা চলাকালে অন্তর্বর্তী সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশে সন্তানের হেফাজতের মামলায় সাধারণত কয়েক মাস লাগে, তাই আদালত প্রায়ই অন্তর্বর্তী সাক্ষাতের আদেশ দেন, যাতে হেফাজতবিহীন মা বা বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক বজায় থাকে। আদেশে সাধারণত আদালত প্রাঙ্গণে, কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বা নিরপেক্ষ স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে সাক্ষাৎ, কখনো তত্ত্বাবধানে, এবং ফোন বা ভিডিও কলের ব্যবস্থা থাকে। বারবার সাক্ষাতে বাধা দেওয়া আদালত লক্ষ করেন, এবং চূড়ান্তভাবে কল্যাণ মূল্যায়নের সময় তা বাধাদানকারীর বিপক্ষে যেতে পারে।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: পেতে ২-৬ সপ্তাহ; মামলা চলাকালে অব্যাহত থাকে · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১২ · কাগজপত্র: সাক্ষাতের আবেদন, প্রস্তাবিত সূচি

    পরামর্শ: প্রতিটি সাক্ষাৎ হয়েছে বা হয়নি, তারিখসহ তার একটি সাধারণ খাতা রাখুন; পরে এটি কাজের সাক্ষ্য হয়।

  10. ধাপ ১০: সাক্ষ্য
    ধাপ ১০ · বিচার

    সাক্ষ্য

    বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সন্তানের হেফাজতের মামলায় প্রত্যেক পক্ষ তাঁদের সাক্ষী হাজির করেন, সাধারণত মা-বাবা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, প্রতিবেশী, শিক্ষক বা চিকিৎসক। পারিবারিক আদালত নিজের কার্যপদ্ধতি নিজেই ঠিক করেন: সাক্ষীরা নিজের ভাষায় কথা বলেন, তাঁদের জেরা করা যায়, এবং আদালত হলফনামার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দিতে পারেন। আদালত অপমানজনক বা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন থামাতে এবং নিজে প্রশ্ন করতে পারেন। সমান্তরাল ও পুনরাবৃত্ত মামলা-সংক্রান্ত নিয়ম ছাড়া দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC) ও সাক্ষ্য আইন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রযোজ্য নয়, তাই আদালত কল্যাণের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ঘটনার ওপর মনোযোগ দেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ ও ২৮ · কাগজপত্র: সাক্ষীদের হলফনামা, স্কুল ও চিকিৎসার রেকর্ড, ছবি ও বার্তা

    পরামর্শ: ধারা ১৩(২) অনুযায়ী বিচার্য বিষয় গঠনের তিন দিনের মধ্যে অনিচ্ছুক সাক্ষীকে তলবের জন্য আদালতকে অনুরোধ করুন।

  11. ধাপ ১১: সন্তানের কথা শোনা
    ধাপ ১১ · বিচার

    সন্তানের কথা শোনা

    সন্তান যুক্তিসংগত পছন্দ গঠনের মতো বয়সী হলে আদালত তা বিবেচনা করতে পারেন। বিচারকেরা সাধারণত মা-বাবা দুজনের অনুপস্থিতিতে খাস কামরায় সন্তানের সঙ্গে একান্তে কথা বলে তার দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা, আবেগের বন্ধন ও ইচ্ছা বোঝার চেষ্টা করেন। পছন্দটি বিবেচনা করা হয়, কিন্তু অন্ধভাবে মানা হয় না: আদালত সন্তানের বয়স, লিঙ্গ ও ধর্ম, মা ও বাবা প্রত্যেকের চরিত্র ও সামর্থ্য, প্রতিটি বাড়ির স্থিতিশীলতা এবং প্রস্তাবিত অভিভাবকের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কও বিবেচনা করেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১টি শুনানি · আইন: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৭(২)-(৩) · কাগজপত্র: সাক্ষাৎকার লিপিবদ্ধ করার আদেশ, স্কুলের প্রতিবেদন

    পরামর্শ: সন্তানকে শিখিয়ে-পড়িয়ে দেবেন না। বিচারকেরা মুখস্থ উত্তর ধরে ফেলেন, এবং তা সংশ্লিষ্ট মা বা বাবার জন্য খারাপ ফল বয়ে আনে।

  12. ধাপ ১২: আপস-মীমাংসার চূড়ান্ত চেষ্টা ও রায়
    ধাপ ১২ · সিদ্ধান্ত ও তা কার্যকরকরণ

    আপস-মীমাংসার চূড়ান্ত চেষ্টা ও রায়

    সাক্ষ্যগ্রহণের পর পারিবারিক আদালত আপসের আরেকটি চেষ্টা করেন। তা ব্যর্থ হলে রায় ঘোষণা করেন এবং সাত দিনের মধ্যে পক্ষদের নোটিশ দেন। বাংলাদেশে এই সন্তানের হেফাজতের মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত দেন কে হেফাজত পাবেন, অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করা হবে কি না, অপর পক্ষের সাক্ষাতের অধিকার কী হবে এবং বাসস্থান বা ভ্রমণের মতো কোনো শর্ত থাকবে কি না। আদালত বলেছেন, কল্যাণ হিজানতের বয়সসীমার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে, তাই পুনর্বিবাহিত মা বা বাবাও হেফাজত পেতে পারেন, যদি তা সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: সাক্ষ্যগ্রহণের পর একই দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪ ও ১৬; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৭ ও ১৭ · কাগজপত্র: স্বাক্ষরিত রায়

    পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে জাবেদা নকলের আবেদন করুন; ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ রায়ের দিন থেকে গণনা হয়, কেবল নকল তোলার সময় বাদ যায়।

  13. ধাপ ১৩: ডিক্রি
    ধাপ ১৩ · সিদ্ধান্ত ও তা কার্যকরকরণ

    ডিক্রি

    আদালত নির্ধারিত ফরমে ডিক্রি প্রস্তুত করে ডিক্রি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করেন। হেফাজতের ডিক্রি জমির ডিক্রির মতো চূড়ান্ত নয়: কল্যাণ বদলাতে পারে বলে মা বা বাবা যে কেউ পরে নতুন ঘটনার ভিত্তিতে হেফাজত বা সাক্ষাতের ব্যবস্থা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। আদালত-নিযুক্ত অভিভাবককে সন্তানকে এখতিয়ারের বাইরে নিতে আদালতের অনুমতি নিতে হয়, এবং অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের জন্য তাঁকে অপসারণ করা যায়।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(১); অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১২, ২৬ ও ৩৯ · কাগজপত্র: ডিক্রির জাবেদা নকল, রায়ের জাবেদা নকল

    পরামর্শ: সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণের সময় জাবেদা নকল সঙ্গে রাখুন; বিমানবন্দর ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তা দেখতে চাইতে পারে।

  14. ধাপ ১৪: হেফাজতের আদেশ কার্যকর করা
    ধাপ ১৪ · সিদ্ধান্ত ও তা কার্যকরকরণ

    হেফাজতের আদেশ কার্যকর করা

    অপর পক্ষ সন্তানকে হস্তান্তরে অস্বীকার করলে ডিক্রিদার পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন, যা দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা নিয়ে অর্থ-বহির্ভূত ডিক্রি কার্যকর করে। অভিভাবকত্ব আইনের অধীনে আদালত সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন এবং তা কার্যকর করতে পুলিশের সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেটের তল্লাশি ও উদ্ধারের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। আদালতের কাজে বাধা দেওয়া পারিবারিক আদালত অবমাননা হিসেবেও শাস্তিযোগ্য, যদিও জরিমানা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। উদ্ধার সাধারণত সন্তানের প্রতি যত্ন রেখে, প্রায়ই আদালতেই, সম্পন্ন করা হয়।

    কোথায়: স্থানীয় থানা · সময়: ২ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(৬); অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ২৫; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)-এর ধারা ১০০; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৩ · কাগজপত্র: ডিক্রি জারির আবেদন, প্রত্যয়িত ডিক্রি, উদ্ধারের আদেশ

    পরামর্শ: সন্তানকে থানা থেকে দূরে রাখতে আদালত প্রাঙ্গণে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে আদালতকে অনুরোধ করুন।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? সন্তানের হেফাজতের মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · পারিবারিক আদালত → পারিবারিক আপিল আদালত

মা বা বাবা হেফাজতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হবে?

  1. 1
    পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)

    পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল

    পারিবারিক আদালতের যেকোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশ, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে জেলা আদালত হিসেবে দেওয়া আদেশসহ, পারিবারিক আপিল আদালতে আপিলযোগ্য; পৃথক আদালত গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এটি জেলা জজের আদালত। নকল তোলার সময় বাদ দিয়ে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়, তবে যুক্তিসংগত কারণে আদালত সময় বাড়াতে পারেন। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন।

    ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করুনপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮, ১৯(১), (২) ও (৬) এবং ২৭(২)
  2. 2
    পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)

    আপিলের শুনানি

    আপিল আদালত ঘটনা ও আইন উভয় বিষয়ে পুনঃশুনানি করেন, আপিল বিচারাধীন থাকাকালে অন্তর্বর্তী হেফাজতের আদেশ দিতে পারেন, এবং সিদ্ধান্ত বহাল, পরিবর্তন বা উল্টে দিতে পারেন। তাঁর আদেশ পারিবারিক আদালতে পাঠানো হয়, যা সে অনুযায়ী ডিক্রি সংশোধন করে। অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে সরাসরি আপিলের পুরোনো ব্যবস্থা আর প্রযোজ্য নয়।

    ৬-২৪ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯(৫) ও ২১অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ৪৭ (পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭(২) দ্বারা প্রতিস্থাপিত)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পারিবারিক আপিল আদালত হেফাজতের আদেশ বহাল রাখেন বা পরিবর্তন করেন, এবং পারিবারিক আদালত তা কার্যকর করেন।

রিভিশন · পারিবারিক আপিল আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ কি আপিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন

    পারিবারিক আপিল আদালতের পর আর কোনো আপিল নেই। বাস্তবে, বহু প্রতিবেদিত সিদ্ধান্তে দেখা যায়, হাইকোর্ট বিভাগ হেফাজত ও অভিভাবকত্বের মামলায় পারিবারিক আপিল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন গ্রহণ করেন। আদালত রুল জারি করেন, অন্তর্বর্তী হেফাজত বা সাক্ষাতের আদেশ দিতে পারেন, এবং পরীক্ষা করেন কল্যাণ উপেক্ষা করার মতো কোনো আইনগত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে কি না।

    প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে দায়ের করুন; ৬ মাস থেকে ৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২০

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ হেফাজতের আদেশ বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, অথবা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠান।

রিভিউ · পারিবারিক আদালত

পারিবারিক আদালত কি নিজের হেফাজতের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?

  1. 1
    পারিবারিক আদালত

    পরিস্থিতি বদলালে পুনর্বিবেচনা

    পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ বাদ দিয়েছে, তাই আদেশ ৪৭-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক রিভিউ সাধারণ পথ নয়। বরং হেফাজতের আদেশ সন্তানের কল্যাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে বলে মা বা বাবা নতুন ঘটনার ভিত্তিতে, যেমন পুনর্বিবাহ, স্থানান্তর, অবহেলা বা সন্তানের বয়স বাড়া, হেফাজত, সাক্ষাৎ বা অভিভাবকত্ব পরিবর্তনের, অথবা সন্তানের প্রতি দুর্ব্যবহারকারী বা অবহেলাকারী অভিভাবককে অপসারণের আবেদন করতে পারেন।

    ৩-১২ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১২, ২৫ ও ৩৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পারিবারিক আদালত সন্তানের বর্তমান কল্যাণের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবস্থা বহাল রাখেন বা পরিবর্তন করেন।

বিকল্প পথ · পারিবারিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ → পারিবারিক আদালত

হেফাজতের মামলায় কি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্সের সুযোগ আছে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    দেওয়ানি কার্যবিধির রেফারেন্স নয়; বরং সাংবিধানিক প্রত্যাহার

    পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ বাদ দেওয়ায় এর ধারা ১১৩-এর অধীনে রেফারেন্সের সুযোগ নেই। নিকটতম বিকল্প হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১০: অধস্তন আদালতের কোনো মামলায় সংবিধানের ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠলে হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি প্রত্যাহার করে সেই প্রশ্ন নিষ্পত্তি করতে এবং পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে শেষ করার জন্য রায়সহ মামলাটি ফেরত পাঠাতে পারেন।

    ৬ মাস থেকে ২ বছরপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১০

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলাটি পারিবারিক আদালতে ফিরে আসে, যা হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা নিষ্পত্তি করে।

রিমান্ড (ফেরত) · পারিবারিক আদালত → পারিবারিক আপিল আদালত → পারিবারিক আদালত → পারিবারিক আপিল আদালত

মামলা পারিবারিক আদালতে ফেরত পাঠানো হলে কী হবে?

  1. 1
    পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)

    নতুন করে কল্যাণ মূল্যায়নের জন্য ফেরত

    পারিবারিক আদালত কল্যাণ বিবেচনা না করে কেবল হিজানতের বয়সের ভিত্তিতে হেফাজতের সিদ্ধান্ত দিলে, সন্তানের পছন্দ বিবেচনা না করলে, অথবা প্রয়োজনীয় কোনো পক্ষের শুনানি ছাড়া সিদ্ধান্ত দিলে, পারিবারিক আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্তটি রদ করে নির্দেশনাসহ মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন, যেমন সন্তানের সাক্ষাৎকার নেওয়া বা প্রতিটি বাড়ি সম্পর্কে নতুন সাক্ষ্য নেওয়া।

    ১-৩ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯(৫)অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ধারা ১৭
  2. 2
    পারিবারিক আদালত

    পুনঃশুনানি ও নতুন সিদ্ধান্ত

    পারিবারিক আদালত নির্দেশিত বিষয়গুলোর পুনঃশুনানি করেন, এ সময় অন্তর্বর্তী হেফাজত বহাল রাখেন বা সমন্বয় করেন, এবং নতুন রায় দেন। সেই নতুন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আবার ত্রিশ দিনের মধ্যে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল এবং এরপর হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়, তাই মামলাটি যে সিঁড়ি বেয়ে নেমেছিল সেই সিঁড়ি বেয়েই আবার ওপরে ওঠে।

    ৩-১২ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪, ১৯ ও ২১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পারিবারিক আদালত হেফাজত নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দেন, যা আবারও আপিলযোগ্য।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

হেফাজতের মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি

    রিভিশন বা হেবিয়াস কর্পাসে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করেন। কেবল গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নেই অনুমতি দেওয়া হয়। আপিল বিভাগ সন্তানের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করতে পারেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক; কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে ত্রিশ দিনের মধ্যে রিভিউ চলে।

    ৬০ দিনের মধ্যে দায়ের করুন; ৬ মাস থেকে ৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩, ১০৫ ও ১১১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ ও ২৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং পারিবারিক আদালত তা কার্যকর করেন।

বিকল্প পথ · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

এই মুহূর্তে কোনো সন্তানকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হলে কী করবেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস

    আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো সন্তানকে আটকে রাখা হলে, যেমন আইনসম্মত হেফাজতকারী মা বা বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হলে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(i)-এর অধীনে রিট পিটিশন দায়ের করা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে সন্তানকে আদালতে হাজির করার আদেশ দেন এবং সন্তানের কল্যাণের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী হেফাজতের সিদ্ধান্ত দেন, যেমনটি আপিল বিভাগ আবদুল জলিল বনাম শ্যারন লাইলী বেগম জলিল মামলায় করেছিলেন। এরপর আদালত মা-বাবাকে পারিবারিক আদালতে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দিতে পারেন।

    কয়েক দিন থেকে কয়েক মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(i)মো. আবদুল জলিল বনাম শ্যারন লাইলী বেগম জলিল, ৫০ ডিএলআর (এডি) ৫৫ (Md. Abdul Jalil v Sharon Laily Begum Jalil, 50 DLR (AD) 55)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সন্তানকে হাজির করে অন্তর্বর্তী হেফাজতে দেওয়া হয়, আর দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্নটি পারিবারিক আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় বা আপিলে নিষ্পত্তি হয়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

সন্তানের হেফাজতের মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে সন্তানের হেফাজতের মামলা শুরু হয় সন্তান সাধারণত যেখানে বসবাস করে সেখানকার পারিবারিক আদালতে। দেওয়ানি মামলার মতো এখানে মূল্যভিত্তিক কোনো সীমা নেই: প্রজ্ঞাপিত জেলায় মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার পর হেফাজত ও অভিভাবকত্বের প্রতিটি মামলা যায় সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের সভাপতিত্বে পারিবারিক আদালতে। আপিল যায় ত্রিশ দিনের মধ্যে পারিবারিক আপিল আদালতে, যা জেলা জজের আদালত; জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন। এই আপিল ঘটনা ও আইন উভয় বিষয়ে পুনঃশুনানি, এবং এটি এখন অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে সরাসরি আপিলের পুরোনো ব্যবস্থার স্থান নিয়েছে।

এরপর হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করেন, যা ন্যায়বিচার ব্যাহতকারী আইনগত ভুলের মধ্যে সীমিত, এবং পৃথকভাবে সন্তানকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার ক্ষেত্রে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন শোনেন। আপিল বিভাগ কেবল অনুমতিসাপেক্ষে বিষয়গুলো শোনেন।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)
  4. প্রথম দফার আদালতপারিবারিক আদালত
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · স্থানীয় থানা
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

প্রথম দফার আদালত

পারিবারিক আদালত, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ / পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর অধীন বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলা শুনানি করে।

পারিবারিক আদালত (Family Court) হলো সিভিল জজ (সিভিল জজ) আদালত। জাজশিপ পোর্টালে পারিবারিক আদালত-০৫, ঢাকা-র উল্লেখ আছে, এবং ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের নিচতলায় দেখানো হয়েছে; প্রতিটি নম্বরযুক্ত পারিবারিক আদালতের সঠিক কক্ষ প্রকাশিত নয়, তাই কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে পারিবারিক আদালত আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর

৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।

জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

মামলা দায়েরের আগে
০.৫–৩ মাস
মামলা দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী আদেশ
০.৫–৩ মাস
আরজি-জবাব ও আপস-মীমাংসা
১–৪ মাস
বিচার
৩–১২ মাস
সিদ্ধান্ত ও তা কার্যকরকরণ
১–৬ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৬–২৮ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: অন্তর্বর্তী হেফাজতের আদেশ ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসে; পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত ৬-২৪ মাসে; আপিল ও রিভিশনসহ ২-৫ বছর বা তারও বেশি
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

হিজানত (Hizanat)
মুসলিম আইনে ছোট সন্তানের শারীরিক হেফাজতের অধিকার, যা ছেলের সাত বছর এবং মেয়ের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের থাকে, তবে সন্তানের কল্যাণসাপেক্ষে।
ব্যক্তির অভিভাবক (Guardian of the person)
সন্তানের লালন-পালন ও সিদ্ধান্তের ওপর আইনগত কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তি; মুসলিম আইনে বাবা স্বাভাবিক অভিভাবক।
নাবালকের কল্যাণ (Welfare of the minor)
হেফাজতের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সর্বপ্রধান বিবেচ্য বিষয়, যা বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রত্যেক তত্ত্বাবধায়কের চরিত্র ও সামর্থ্য এবং সন্তানের নিজের পছন্দের ভিত্তিতে বিচার করা হয় (অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের ধারা ১৭)।
অন্তর্বর্তী হেফাজত (Interim custody)
মামলা বিচারাধীন থাকাকালে সন্তান কোথায় থাকবে সে বিষয়ে সাময়িক আদেশ (অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের ধারা ১২; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১)।
সাক্ষাৎ (Visitation)
হেফাজতবিহীন মা বা বাবার জন্য আদালতের নির্ধারিত সাক্ষাতের সময়, কখনো তত্ত্বাবধানে।
পারিবারিক আপিল আদালত (Family Appellate Court)
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮-এর অধীনে পারিবারিক আদালতের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিকারী জেলা জজের আদালত।
হেবিয়াস কর্পাস (Habeas corpus)
অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যাতে কাউকে, সন্তানসহ, আটককারী ব্যক্তিকে তাঁকে হাজির করে আটকের যৌক্তিকতা দেখাতে বলা হয়।
রুদ্ধদ্বার কক্ষে (In camera)
জনসাধারণের জন্য বন্ধ, একান্তে অনুষ্ঠিত শুনানি, যা পারিবারিক আদালত আদেশ দিতে পারেন এবং উভয় পক্ষ চাইলে দিতে বাধ্য।
প্রশ্নোত্তর

সন্তানের হেফাজতের মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

সন্তানের হেফাজত কে পায়?
সন্তানের হেফাজতের মামলায় আদালত সন্তানের কল্যাণ দেখে সিদ্ধান্ত দেন। ব্যক্তিগত আইন সূচনাবিন্দু দেয়: মুসলিম আইনে ছেলের সাত বছর এবং মেয়ের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের হিজানত থাকে, আর বাবা স্বাভাবিক অভিভাবক। আপিল বিভাগ বলেছেন, কল্যাণ এসব নিয়মের ঊর্ধ্বে স্থান পেতে পারে, তাই ঘটনার ভিত্তিতে মা বা বাবা যে কেউ হেফাজত পেতে পারেন।
হেফাজতের মামলা কোন আদালতে হয়?
সন্তান সাধারণত যে এলাকায় বসবাস করে সেখানকার পারিবারিক আদালতে। অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের ক্ষেত্রে এটি অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর অধীনে জেলা আদালত হিসেবে কাজ করে। এর সভাপতিত্ব করেন একজন সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ, যাঁদের আগে সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বলা হতো। আপিল যায় পারিবারিক আপিল আদালতে।
আগে কি মধ্যস্থতার চেষ্টা করতেই হবে?
সংশোধিত আইনগত সহায়তা আইনের অধীনে প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে হেফাজতসহ পারিবারিক বিরোধ মামলা দায়েরের আগে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে হয়। সেখানে প্রত্যয়িত সমঝোতা ডিক্রির মতো কার্যকরযোগ্য। আপনার জেলা এর আওতায় কি না, লিগ্যাল এইড অফিস বা আপনার আইনজীবীর কাছে জেনে নিন।
কত দ্রুত অন্তর্বর্তী হেফাজত পাওয়া যায় বা সন্তানকে বিদেশে নেওয়া ঠেকানো যায়?
ঝুঁকি প্রকৃত হলে খুব দ্রুত। পারিবারিক আদালত যেকোনো পর্যায়ে হলফনামার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারেন, যার মধ্যে সাময়িক হেফাজত, সন্তানকে হাজির করা এবং এখতিয়ার বা দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রকৃত জরুরি অবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন আরেকটি দ্রুত পথ।
মা আবার বিয়ে করলে কি হেফাজত হারান?
আপনা-আপনি নয়। প্রথাগত মুসলিম আইনে নিষিদ্ধ সম্পর্কের বাইরের কাউকে মা বিয়ে করলে হিজানত শেষ হয়, কিন্তু বাংলাদেশের আদালত কল্যাণকেই চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে প্রয়োগ করেন, এবং হাইকোর্ট বিভাগ এই মত সমর্থন করেছেন যে মায়ের কাছে থাকা সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো হলে পুনর্বিবাহ চূড়ান্ত বাধা নয়। আদালত নতুন পরিবারকে সামগ্রিকভাবে দেখেন।
বিচারক কি আমার সন্তানের কথা শুনবেন?
সন্তান যুক্তিসংগত পছন্দ গঠনের মতো বয়সী হলে আদালত অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের ধারা ১৭(৩)-এর অধীনে তা বিবেচনা করতে পারেন। বিচারকেরা সাধারণত সন্তানের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। পছন্দটি কয়েকটি বিবেচ্য বিষয়ের একটি, এবং শিখিয়ে-পড়িয়ে আনা সন্তানের বিষয়ে আদালত সতর্ক থাকেন।
সন্তানের হেফাজতের মামলায় কত সময় লাগে?
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী, সন্তানের হেফাজতের মামলায় অন্তর্বর্তী আদেশ পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে, এবং পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত সাধারণত ছয় থেকে চব্বিশ মাসের মধ্যে আসে। ২০২৩ সালের আইন হাজিরা ও প্রাক-বিচার শুনানির জন্য ত্রিশ দিনের মতো সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ সময়সীমা দিয়েছে, তবে মুলতবি প্রায়ই হয়। আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনে আরও এক থেকে তিন বছর লাগতে পারে।
হেফাজতের আদেশ কি পরে পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ। হেফাজত সন্তানের কল্যাণের ওপর নির্ভর করে, যা সন্তান বড় হওয়া ও পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে পাল্টায়। মা বা বাবা যে কেউ নতুন ঘটনার ভিত্তিতে, যেমন স্থানান্তর, অবহেলা, পুনর্বিবাহ বা সন্তানের নিজের ইচ্ছা, হেফাজত বা সাক্ষাতের ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করতে পারেন, এবং সন্তানের প্রতি অবহেলাকারী বা দুর্ব্যবহারকারী অভিভাবককে আদালত অপসারণ করতে পারেন।

আইন ও উৎস

  1. Family Courts Act 2023 (Act No. 26 of 2023)
  2. Guardians and Wards Act 1890
  3. Constitution of the People's Republic of Bangladesh
  4. Civil Courts Act 1887 (s.25A, 2026 renaming of civil judges)
  5. High Court Division, Civil Revision No. 3958 of 2024 (hizanat and welfare of minors)
  6. High Court Division, Civil Revision No. 267 of 2023 (custody, Family Appeal from Dhaka)
  7. High Court Division, Civil Revision No. 3850 of 2023 (custody of minor children)
  8. The Business Standard: Family Courts Bill 2023 passed in parliament
  9. UNB: Govt moves to fast-track lower court cases (Legal Aid Services (Amendment) Act 2026, e-family courts)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp