পারিবারিক সহিংসতা মামলা: সুরক্ষা, বসবাস ও ক্ষতিপূরণ আদেশ, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/পারিবারিক

পারিবারিক সহিংসতা মামলা: সুরক্ষা, বসবাস ও ক্ষতিপূরণ আদেশ, ধাপে ধাপে

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর অধীনে বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা মামলা হলো জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়ানি ধাঁচের একটি দ্রুত আবেদন, যা করেন কোনো নারী বা শিশু, অথবা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ। ম্যাজিস্ট্রেট একই দিনে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ দিতে পারেন, এবং পরে বসবাস, ক্ষতিপূরণ, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতের আদেশ দিতে পারেন। আদেশ লঙ্ঘন করা অপরাধ, এবং আপিল যায় চিফ জুডিশিয়াল বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
নিরাপদ স্থানে যান ও ঘটনার রেকর্ড রাখুন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৯টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সেবা প্রদানকারী বা তাঁর পক্ষে অন্য যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক জুডিশিয়াল…
মূল আইন
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৩; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: অন্তর্বর্তী আদেশ কয়েক দিনের মধ্যে; চূড়ান্ত আদেশ ৩ থেকে ৯ মাস (আইনের লক্ষ্য…
কে মামলা করতে পারেন
পরিবারের কোনো সদস্যের দ্বারা সহিংসতার শিকার যেকোনো বয়সের নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু (ধারা ২(৬)); আবেদন করতে পারেন…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

পারিবারিক সহিংসতা মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. পারিবারিক সহিংসতা মামলা: ধাপ ১, নিরাপদ স্থানে যান ও ঘটনার রেকর্ড রাখুন
    ধাপ ১ · তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও সহায়তা

    নিরাপদ স্থানে যান ও ঘটনার রেকর্ড রাখুন

    এই আইন পারিবারিক সম্পর্কের কারও দ্বারা শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন এবং আর্থিক ক্ষতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। পারিবারিক সম্পর্ক বলতে রক্তের সম্পর্ক, বিবাহ, দত্তক বা যৌথ পরিবার বোঝায়। মানসিক নির্যাতনের মধ্যে আছে অপমান, হুমকি, হয়রানি এবং চলাফেরা বা যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ। আর্থিক ক্ষতির মধ্যে আছে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, বিয়ের উপহার বা স্ত্রীধন থেকে বঞ্চিত করা, অথবা নারীর সম্মতি ছাড়া তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করা। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ ফোন করুন। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯। ছবি, মেসেজ, চিকিৎসার কাগজ এবং প্রতিটি ঘটনার তারিখসহ নোট রাখুন, কারণ বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা মামলায় এগুলোই প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    কোথায়: যৌথ বাসগৃহ বা আশ্রয়কেন্দ্র · সময়: অবিলম্বে · আইন: পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ (DVPPA)-এর ধারা ৩; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২(৬), (১০) ও (১১) · কাগজপত্র: আঘাতের ছবি, মেসেজ ও কলের স্ক্রিনশট, তারিখসহ ঘটনার নোট, বিবাহ সনদ (কাবিননামা)

    পরামর্শ: এই আইনে কেবল একজন নারী বা শিশুই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হতে পারেন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার পুরুষকে দণ্ডবিধি বা অন্য আইনের আশ্রয় নিতে হয়।

  2. পারিবারিক সহিংসতা মামলা: ধাপ ২, পুলিশের জানানো ও সহায়তার দায়িত্ব
    ধাপ ২ · তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও সহায়তা

    পুলিশের জানানো ও সহায়তার দায়িত্ব

    কোনো পুলিশ কর্মকর্তা পারিবারিক সহিংসতার কথা জানলে বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে তাঁকে ভুক্তভোগীকে এই আইনের অধীনে তাঁর অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে। কর্মকর্তাকে চিকিৎসা, প্রয়োগকারী কর্মকর্তার সেবা, বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা এবং অন্যান্য আইনের প্রতিকার সম্পর্কেও জানাতে হবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিককে অনুরোধ পেলে তাঁর চিকিৎসা করতে হবে, এবং আশ্রয়কেন্দ্রকে তাঁকে আশ্রয় দিতে হবে। ঘটনায় জখম, যৌতুকের জন্য সহিংসতা বা ধর্ষণের মতো অপরাধও প্রকাশ পেলে পুলিশের উচিত ফৌজদারি মামলার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা এজাহার (FIR) লিপিবদ্ধ করা।

    কোথায়: থানা · সময়: একই দিন · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৪; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৮-৯; ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ১৫৪ · কাগজপত্র: সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর বা এজাহারের কপি, চিকিৎসার জন্য রেফারেল, মেডিকেল সার্টিফিকেট

    পরামর্শ: জিডি বা এজাহারের নম্বর লিখিতভাবে চেয়ে নিন। এতে আদালত বুঝতে পারেন যে সহিংসতার খবর দ্রুত জানানো হয়েছিল।

  3. পারিবারিক সহিংসতা মামলা: ধাপ ৩, প্রয়োগকারী কর্মকর্তা বা সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন
    ধাপ ৩ · তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও সহায়তা

    প্রয়োগকারী কর্মকর্তা বা সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন

    প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সাধারণত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, অথবা সরকার কোনো থানা, জেলা বা মহানগর এলাকার জন্য নিযুক্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা। কর্মকর্তা আদালতে ঘটনার প্রতিবেদন দেন, পুলিশকে জানান, নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠান, তাঁর সম্মতিতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করেন, এবং বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পেতে সাহায্য করেন। তাঁর অনুরোধে কর্মকর্তা আদালতে সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেন। সেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করা স্বীকৃত এনজিও নির্ধারিত ফরমে ঘটনা লিপিবদ্ধ করে তার কপি আদালত ও প্রয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে পারে।

    কোথায়: প্রয়োগকারী কর্মকর্তা (উপজেলা বা মেট্রোপলিটন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা) · সময়: ১-৭ দিন · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫-৭; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৩৩; আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৩ · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে ঘটনার প্রতিবেদন, ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন, আশ্রয়কেন্দ্রে রেফারেল

    পরামর্শ: প্রয়োগকারী কর্মকর্তা একজন সরকারি কর্মচারী। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া আদালতের আদেশ পালনে অস্বীকৃতি বা অবহেলার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় (ধারা ৩৪)।

  4. পারিবারিক সহিংসতা মামলা: ধাপ ৪, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন দাখিল করুন
    ধাপ ৪ · আবেদন ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা

    ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন দাখিল করুন

    বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা মামলা শুরু হয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা ঢাকার মতো মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদনের মাধ্যমে। নারী যেখানে বসবাস করেন, প্রতিপক্ষ যেখানে বসবাস করেন, সহিংসতা যেখানে ঘটেছে, অথবা তিনি সাময়িকভাবে যেখানে আছেন, যেমন বাবা-মায়ের বাড়ি বা আশ্রয়কেন্দ্রে, সেখানে আবেদন করা যায়। এতে সম্পর্ক, ঘটনাগুলো এবং চাওয়া আদেশগুলো উল্লেখ থাকে: সুরক্ষা, বসবাস, ক্ষতিপূরণ, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজত। আবেদন পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে শুনানির তারিখ ধার্য করতে হয়।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: এক দিনে দাখিল; ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শুনানির তারিখ · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১১(১)-(৩); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১২; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২১(১) · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে আবেদন, হলফনামা বা সত্যায়িত বিবৃতি, মেডিকেল সার্টিফিকেট, ছবি ও মেসেজ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিয়ের কাগজপত্র

    পরামর্শ: প্রয়োজনীয় সব আদেশ প্রথম আবেদনেই চান। ক্ষতিপূরণ পরে আলাদা দরখাস্তে যোগ করা যায়, তবে দেরিতে প্রমাণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

  5. ধাপ ৫: অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ
    ধাপ ৫ · আবেদন ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা

    অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ

    কাগজপত্রে সহিংসতা ঘটেছে বা ঘটার সম্ভাবনা আছে বলে দেখা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিপক্ষের বক্তব্য না শুনে একতরফাভাবে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ দিতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে নোটিশ জারির সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়, কেন স্থায়ী আদেশ দেওয়া হবে না। নোটিশ জারি হয় রেজিস্টার্ড ডাক, জারিকারক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে। জারিকারক, পুলিশ বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদেশ জারি করে আদালতে জারির প্রত্যয়ন দিতে হয়।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: প্রায়ই দাখিলের দিনই বা কয়েক দিনের মধ্যে · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৩(১)-(২); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৫(১)-(৪); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২(১) · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ, কারণ দর্শানোর নোটিশ, জারির প্রতিবেদন

    পরামর্শ: অন্তর্বর্তী আদেশের একটি কপি সবসময় সঙ্গে রাখুন এবং স্থানীয় থানায় একটি কপি দিন। কপি বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

  6. ধাপ ৬: শুনানি: সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি, গোপনীয়তা ও সরেজমিন তদন্ত
    ধাপ ৬ · শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ

    শুনানি: সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি, গোপনীয়তা ও সরেজমিন তদন্ত

    ফৌজদারি কার্যবিধির ২২তম অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে দুই পক্ষের শুনানি হয়। পক্ষগুলোর সম্মতিতে, অথবা আদালত নিজে প্রয়োজন মনে করলে, গোপনীয়তা রক্ষায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) শুনানি করতে পারেন। আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন তদন্তের আদেশ দিতে পারেন, যা প্রায়ই প্রয়োগকারী কর্মকর্তা করেন। প্রতিপক্ষ নোটিশ উপেক্ষা করলে, অথবা একবার হাজির হয়ে পরে আর না এলে, আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। আবেদনকারীর অনুপস্থিতির কারণে মামলা খারিজ হলে তিনি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একবার তা পুনরুজ্জীবনের আবেদন করতে পারেন।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ১-৩ মাস ধরে শুনানি · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২২(১)-(২); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৩-২৪; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৬-২৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬০ · কাগজপত্র: প্রতিপক্ষের লিখিত জবাব, সাক্ষীদের জবানবন্দি, সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন, পুনরুজ্জীবনের দরখাস্ত (অনুপস্থিতির কারণে খারিজ হলে)

    পরামর্শ: যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে হলে বা শিশুরা সাক্ষ্য দিলে রুদ্ধদ্বার শুনানির আবেদন করুন।

  7. ধাপ ৭: সুরক্ষা আদেশ
    ধাপ ৭ · শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ

    সুরক্ষা আদেশ

    দুই পক্ষের শুনানির পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন যে সহিংসতা ঘটেছে বা ঘটার সম্ভাবনা আছে, তবে তিনি সুরক্ষা আদেশ দেন, যা বাংলাদেশে যেকোনো পারিবারিক সহিংসতা মামলার কেন্দ্রীয় প্রতিকার। এই আদেশে প্রতিপক্ষকে আর কোনো সহিংসতা ঘটানো বা তাতে সহায়তা করা থেকে, এবং নারীর কর্মস্থল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা তিনি সচরাচর যান এমন স্থানে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা যায়। এতে সরাসরি, লিখিত, ফোন, মোবাইল, ইমেইল বা অন্য যেকোনো উপায়ে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা যায়, এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের ও তাঁকে সাহায্যকারী যে কাউকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।

    সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করে আদালত তা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সুরক্ষা আদেশ বলবৎ থাকে।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: শুনানি শেষে; লক্ষ্য নোটিশের ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৪; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৯(১); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৮ · কাগজপত্র: সুরক্ষা আদেশ, থানা ও প্রয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো কপি

    পরামর্শ: আদেশে যেন সোশ্যাল মিডিয়া ও আত্মীয়দের মাধ্যমে পাঠানো বার্তাসহ যোগাযোগের প্রতিটি ধরন উল্লেখ থাকে, তা নিশ্চিত করুন।

  8. ধাপ ৮: বসবাসের আদেশ ও জিনিসপত্র ফেরত
    ধাপ ৮ · শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ

    বসবাসের আদেশ ও জিনিসপত্র ফেরত

    যৌথ বাসগৃহে বসবাসের অধিকার নারীর আছে। আদালত প্রতিপক্ষকে বাড়ির যে অংশে নারী থাকেন সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন, তাঁকে উচ্ছেদ করা বন্ধ করতে পারেন, প্রয়োগকারী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন, অথবা বিকল্প বাসস্থানের ভাড়া দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। আদালত তাঁকে প্রয়োগকারী কর্মকর্তার সঙ্গে গিয়ে কাগজপত্র, পাসপোর্ট, চেকবই, সঞ্চয়পত্র, গয়না ও অন্যান্য জিনিসপত্র সংগ্রহের অনুমতিও দিতে পারেন। নিরাপত্তার প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে সাময়িকভাবে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। বসবাসের আদেশে বাড়ির মালিকানা বদলায় না।

    কোথায়: যৌথ বাসগৃহ বা আশ্রয়কেন্দ্র · সময়: সুরক্ষা আদেশের সঙ্গে, অথবা জরুরি হলে আগেই · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১০; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫(১)-(৭); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২(২) (যৌথ বাসগৃহ) · কাগজপত্র: বসবাসের আদেশ, সংগ্রহ করার জিনিসপত্রের তালিকা, প্রতিপক্ষের সম্পাদিত মুচলেকা

    পরামর্শ: ধারা ১৫(৬) অনুযায়ী পুলিশকে লিখিত নির্দেশ দিতে আদালতকে অনুরোধ করুন, যাতে আপনি জিনিসপত্র আনতে ফিরে গেলে কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন।

  9. ধাপ ৯: ক্ষতিপূরণ ও ভরণপোষণের আদেশ
    ধাপ ৯ · শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ

    ক্ষতিপূরণ ও ভরণপোষণের আদেশ

    নারী মূল আবেদনে বা পরে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং তাঁর সম্পত্তির ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। আদালতকে ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হয়। আদালত আঘাত ও কষ্ট, চিকিৎসার খরচ, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, উপার্জনের ক্ষতি, হারানো সম্পত্তির মূল্য এবং ইতোমধ্যে ব্যয়িত অর্থ বিবেচনা করেন। আদালত তাঁর ও সন্তানদের জন্য তাঁর অভ্যস্ত জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী মাসিক বা এককালীন ভরণপোষণের আদেশও দিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট কত টাকা দিতে পারেন তার কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ক্ষতিপূরণের আবেদনের ৬ মাসের মধ্যে · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৬(১)-(৮); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২১(২); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২(৫) · কাগজপত্র: চিকিৎসার বিল, হারানো আয়ের প্রমাণ, নিয়ে যাওয়া সম্পত্তির তালিকা ও মূল্য, প্রতিপক্ষের বেতন বা আয়ের বিবরণ

    পরামর্শ: প্রতিপক্ষ বেতনভোগী হলে নিয়োগকর্তার নাম ও ঠিকানা আদালতকে দিন, যাতে আদেশের একটি কপি সেখানে যায়।

  10. ধাপ ১০: সন্তানের সাময়িক নিরাপদ হেফাজত
    ধাপ ১০ · শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ

    সন্তানের সাময়িক নিরাপদ হেফাজত

    যেকোনো পর্যায়ে, এবং অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, ম্যাজিস্ট্রেট নারীর সন্তানকে তাঁর বা তাঁর পক্ষে কাজ করা অন্য আবেদনকারীর সাময়িক নিরাপদ হেফাজতে দিতে পারেন। আদেশে প্রতিপক্ষ দেখা করতে পারবেন কিনা, কখন ও কীভাবে, তা নির্ধারণ করা যায়। এটি স্বল্পমেয়াদি নিরাপত্তামূলক আদেশ। দীর্ঘমেয়াদি হেফাজত ও অভিভাবকত্ব অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত আইনের অধীনে পারিবারিক আদালত নির্ধারণ করেন। বাস্তবে ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতের আদেশ প্রায়ই পারিবারিক আদালতের মামলার পাশাপাশি চলে।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: প্রথম শুনানিতেই দেওয়া যায় · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৭; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২(৮) ও (১৮); অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ · কাগজপত্র: সন্তানের জন্মসনদ, স্কুলের রেকর্ড, সাক্ষাতের শর্তসহ নিরাপদ হেফাজতের আদেশ

    পরামর্শ: পারিবারিক আদালতেও হেফাজতের মামলা করলে সেই আদালতকে ধারা ১৭-এর আদেশের একটি কপি দিন।

  11. ধাপ ১১: নিষ্পত্তি ও বদলির সময়সীমা
    ধাপ ১১ · শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ

    নিষ্পত্তি ও বদলির সময়সীমা

    ক্ষতিপূরণের দাবি ছাড়া প্রতিটি আবেদন নোটিশ জারির ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়। লিপিবদ্ধ কারণে আদালত আরও ১৫ কার্যদিবস, এবং তারপর আরও ৭ কার্যদিবস নিতে পারেন, প্রতিবার আপিল আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়ে। এরপর আদালতকে প্রতি সাত দিনে আপিল আদালতে লিখিত অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হয়। কোনো পক্ষের আবেদনে বা নিজ উদ্যোগে আপিল আদালত মামলাটি অন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বদলি করতে পারেন, যিনি এটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে পর্যায়ে ছিল সেখান থেকে চালিয়ে যাবেন। পরিস্থিতি বদলালে পক্ষগুলো যেকোনো সময় আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের আবেদন করতে পারেন।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ৬০ + ১৫ + ৭ কার্যদিবস (প্রায় ৪ মাস) · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২০(১)-(৫); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৯(২) · কাগজপত্র: বদলির আবেদন, আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের আবেদন

    পরামর্শ: মামলা ঝুলে থাকলে ধারা ২০-এর সময়সীমা উল্লেখ করে সিএমএম বা সিজেএমের কাছে আবেদন একটি কার্যকর উপায়।

  12. ধাপ ১২: সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন অপরাধ
    ধাপ ১২ · কার্যকরকরণ ও আদেশ লঙ্ঘন

    সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন অপরাধ

    প্রতিপক্ষ সুরক্ষা আদেশ বা এর কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে তিনি অপরাধ করেন। শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড, এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর, সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। এই আইনের অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য, তাই পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে, এবং পক্ষগুলো মীমাংসা করতে পারেন। শাস্তির বদলে আদালত সমাজসেবামূলক কাজের আদেশ দিতে পারেন এবং প্রতিপক্ষের উপার্জনের একটি অংশ নারী ও সন্তানদের দিতে বলতে পারেন।

    কোথায়: থানা · সময়: সঙ্গে সঙ্গে জানান; বিচার ২-৬ মাস · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৩০; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৯; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৩১ · কাগজপত্র: সুরক্ষা আদেশের কপি, লঙ্ঘনের প্রমাণ, নালিশ বা এজাহার

    পরামর্শ: যত ছোটই হোক, প্রতিটি লঙ্ঘন তারিখসহ জানান। বারবার লঙ্ঘনের ধারা পুনরাবৃত্ত অপরাধের শাস্তির পক্ষে যায়।

  13. ধাপ ১৩: ক্ষতিপূরণ ও ভরণপোষণ আদায়
    ধাপ ১৩ · কার্যকরকরণ ও আদেশ লঙ্ঘন

    ক্ষতিপূরণ ও ভরণপোষণ আদায়

    ক্ষতিপূরণের আদেশের কপি পক্ষগুলোর কাছে, প্রতিপক্ষ যে থানা এলাকায় থাকেন সেই থানায়, এবং তিনি চাকরিজীবী হলে তাঁর নিয়োগকর্তার কাছে পাঠানো হয়। তিনি টাকা না দিলে আদালত তাঁর নিয়োগকর্তাকে মজুরি, বেতন বা অন্যান্য পাওনা থেকে নির্দিষ্ট অংশ কেটে নারীকে বা তাঁর ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। অপরিশোধিত ক্ষতিপূরণ সার্টিফিকেট মামলার মাধ্যমে সরকারি দাবি হিসেবেও আদায় করা যায়। আদেশ পালন হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব প্রয়োগকারী কর্মকর্তার।

    কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ১-৬ মাস · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৬(৭)-(১০); পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৬(১)(ঝ); সরকারি দাবি আদায় আইন, ১৯১৩ · কাগজপত্র: ক্ষতিপূরণের আদেশ, নিয়োগকর্তার কর্তনের বিবরণী, সার্টিফিকেট মামলার কাগজপত্র

    পরামর্শ: বেতন থেকে কর্তন সাধারণত সার্টিফিকেট মামলার চেয়ে দ্রুত হয়। প্রথম কিস্তি বাদ পড়লেই তা চান।

  14. ধাপ ১৪: সমান্তরাল ফৌজদারি ও পারিবারিক মামলা
    ধাপ ১৪ · সমান্তরাল ফৌজদারি ও পারিবারিক মামলা

    সমান্তরাল ফৌজদারি ও পারিবারিক মামলা

    এই আইন অন্যান্য আইনের অতিরিক্ত, বিকল্প নয়। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য মৃত্যু, গুরুতর জখম বা সাধারণ জখম ঘটালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১-এর অধীনে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। সেখানে সাধারণ জখমের শাস্তি দুই থেকে পাঁচ বছর। ধর্ষণ, আক্রমণ ও হুমকির জন্য ওই আইন বা দণ্ডবিধির অধীনে, এবং যৌতুক দাবির জন্য যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর অধীনে মামলা করা যায়। দেনমোহর, ভরণপোষণ ও হেফাজত পারিবারিক আদালতেও দাবি করা যায়। এই আইনের অধীনে জেনেশুনে মিথ্যা আবেদন করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (সমান্তরাল ফৌজদারি মামলা) · সময়: ট্রাইব্যুনালের মামলায় প্রায়ই ২-৫ বছর · আইন: পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৩৫; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১; পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ৩২; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ · কাগজপত্র: এজাহার বা নালিশি দরখাস্ত, মেডিকেল সার্টিফিকেট, দেনমোহর দাবির জন্য কাবিননামা

    পরামর্শ: সব মামলায় ঘটনার বিবরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন। আবেদন ও এজাহারের মধ্যে অসংগতিই আসামিপক্ষের আক্রমণের প্রথম লক্ষ্য।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? পারিবারিক সহিংসতা মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · ম্যাজিস্ট্রেট → সিএমএম / সিজেএম (আপিল)

ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে কী হয়?

  1. 1
    চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ২৮-এর অধীনে আপিল আদালত)

    চিফ মেট্রোপলিটন বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল

    ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা-ই থাকুক, এই আইনের অধীনে আপিল আদালত হলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা মহানগর এলাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা জজ নন। যেকোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদেশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারেন। দাখিলের ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হয়, এবং যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একবারের বেশি বদলি করা উচিত নয়। আপিল আদালত স্থগিত না করলে আদেশগুলো বলবৎ থাকে।

    ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল; ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তিপারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৮(১)-(৩)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সিএমএম বা সিজেএম আদেশটি বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করেন, এবং তা কার্যকর করার জন্য মামলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত যায়।

রিভিশন · ম্যাজিস্ট্রেট → সিএমএম / সিজেএম (আপিল) → দায়রা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিলের সিদ্ধান্ত কি রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়?

  1. 1
    মহানগর দায়রা জজ বা দায়রা জজ (রিভিশন)

    দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশন

    সব ম্যাজিস্ট্রেটই দায়রা জজের অধস্তন ফৌজদারি আদালত। কোনো পক্ষ যদি বলেন সিএমএম বা সিজেএম বেআইনিভাবে, অযথাযথভাবে বা অনিয়মিতভাবে কাজ করেছেন, তবে তিনি মহানগর দায়রা জজ বা দায়রা জজের কাছে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন। তিনি দায়রা জজের কাছে আবেদন করলে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত তাঁর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত। এরপর তিনি হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন করতে পারেন না।

    সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে দাখিল; নিষ্পত্তি ৩-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫(১)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক(১)-(২)পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২২(১)
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক

    দায়রা জজের বদলে কোনো পক্ষ সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করতে পারেন। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী আবেদন করা যায়। উদাহরণ হলো, প্রতিপক্ষ যখন বলেন আবেদনটি আসলে সহিংসতার কোনো উপাদান ছাড়াই ছদ্মবেশী সম্পত্তি বিরোধ। রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগ আদেশটি স্থগিত করতে পারেন।

    কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রুল; নিষ্পত্তি ৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আদেশটি বহাল, সংশোধিত বা বাতিল হয়, এবং কার্যকর করার জন্য মামলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত যায়।

রিভিউ · ম্যাজিস্ট্রেট → ম্যাজিস্ট্রেট → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

ম্যাজিস্ট্রেট কি নিজের আদেশ রিভিউ বা পরিবর্তন করতে পারেন?

  1. 1
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

    রিভিউ নয়, পরিস্থিতি বদলালে পরিবর্তন

    ফৌজদারি আদালত করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া নিজের স্বাক্ষরিত রায় রিভিউ করতে পারেন না। তবে এই আইন যেকোনো পক্ষকে পরিস্থিতি বদলের কারণে, যেমন মীমাংসা বা নতুন ঘটনার পর, একই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আদেশ পরিবর্তন, মেয়াদ বৃদ্ধি, সংশোধন বা বাতিলের আবেদনের সুযোগ দেয়। আদালত দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে লিখিত কারণ দেন। প্রকৃত রিভিউয়ের ক্ষমতা কেবল আপিল বিভাগের, অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে, নিজের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে।

    পরিবর্তন: ১-৩ মাস; আপিল বিভাগে রিভিউ: ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলপারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৯(২)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ পরিবর্তন করেন বা অপরিবর্তিত রাখেন; কঠোর অর্থে রিভিউ আছে কেবল আপিল বিভাগে।

রেফারেন্স · ম্যাজিস্ট্রেট → নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগে কি কোনো রেফারেন্স হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    সমান্তরাল যৌতুক-মৃত্যুর মামলায় ডেথ রেফারেন্স

    পারিবারিক সহিংসতার আবেদন নিষ্পত্তিকারী ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন না, এবং ২০১০ সালের আইনের অধীনে কোনো রেফারেন্স পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ১১(ক)-এর অধীনে যৌতুকের জন্য মৃত্যুর সমান্তরাল মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়। সেই অনুমোদন ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা যায় না। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো আপিল ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়।

    ডেথ রেফারেন্স যেকোনো আপিলের সঙ্গে শুনানি হয়, প্রায়ই ২-৫ বছরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সমান্তরাল ফৌজদারি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, লঘু বা বাতিল করেন।

রিমান্ড (ফেরত) · ম্যাজিস্ট্রেট → সিএমএম / সিজেএম (আপিল) → ম্যাজিস্ট্রেট → সিএমএম / সিজেএম (আপিল)

আপিল আদালত মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ২৮-এর অধীনে আপিল আদালত)

    আদেশ বাতিল ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত

    ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ নোটিশ জারি ছাড়া সিদ্ধান্ত দিলে, সাক্ষ্য নিতে অস্বীকার করলে, বা কোনো কারণ না দিলে, সিএমএম বা সিজেএম আদেশ বাতিল করে নির্দেশনাসহ নতুন শুনানির জন্য আবেদনটি ফেরত পাঠাতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির আপিল ক্ষমতা প্রযোজ্য হওয়ায় আপিল আদালত নিজে মূল বিষয় নিষ্পত্তি না করে অধিকতর তদন্তের আদেশও দিতে পারেন। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা সাধারণত বহাল থাকে।

    আপিল শেষেপারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২২(১)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৮(৩)
  2. 2
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

    ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নতুন শুনানি

    ম্যাজিস্ট্রেট ফেরত পাঠানো বিষয়গুলোতে আবেদনটির আবার শুনানি নেন, বাদ পড়া সাক্ষ্য বা সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন, এবং কারণসহ নতুন আদেশ দেন। ধারা ২০-এর নিষ্পত্তির সময়সীমা আবার প্রযোজ্য হয়, এবং যেকোনো বিলম্ব আদালতকে আপিল আদালতে জানাতে হয়। এই সময়ে দুই পক্ষেরই আদেশ পরিবর্তনের আবেদনের অধিকার বহাল থাকে।

    ১-৪ মাসপারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২০পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৪
  3. 3
    চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ২৮-এর অধীনে আপিল আদালত)

    সিএমএম বা সিজেএমের কাছে দ্বিতীয় দফা আপিল

    নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আবার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল করা যায়, যিনি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবেন। এরপর ওপরে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন, অথবা যেকোনো ফৌজদারি বিষয়ের মতো ধারা ৫৬১ক।

    দাখিলের ৬০ কার্যদিবসের মধ্যেপারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০-এর ধারা ২৮(২)-(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নতুন শুনানির পর মামলা আবার আপিল আদালতে ওঠে এবং এরপর রিভিশনের মাধ্যমে ওপরে যেতে পারে।

আপিলের অনুমতি · ম্যাজিস্ট্রেট → সিএমএম / সিজেএম (আপিল) → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মামলা কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল)

    হাইকোর্ট বিভাগ কোনো রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর আবেদন নিষ্পত্তি করলে পরাজিত পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন দাখিল করতে পারেন। পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে অনুমতি কম দেওয়া হয়, সাধারণত কেবল যখন সাধারণ গুরুত্বসম্পন্ন আইনের প্রশ্ন ওঠে, যেমন যৌথ বাসগৃহের অর্থ বা কে পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

    ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; অনুমতির পর্যায় ৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (ফৌজদারি লিভ পিটিশন)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ আইনের প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করেন, এবং ম্যাজিস্ট্রেট চূড়ান্ত আদেশ কার্যকর করেন।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

পারিবারিক সহিংসতা মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা মামলা শুরু হয় সর্বনিম্ন ফৌজদারি আদালতে, তবে এর নিষ্পত্তি হয় ফৌজদারি বিচার হিসেবে নয়, সুরক্ষামূলক আবেদন হিসেবে। আদালত নির্ধারিত হয় স্থান ও বিষয়বস্তু দিয়ে, টাকার অঙ্ক দিয়ে নয়। নারী যেখানে বসবাস করেন, প্রতিপক্ষ যেখানে বসবাস করেন, সহিংসতা যেখানে ঘটেছে বা তিনি সাময়িকভাবে যেখানে আছেন, সেখানকার যেকোনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার আছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার কোনো আর্থিক সীমা নেই।

আপিল আদালত আইন নিজেই নির্ধারণ করে দিয়েছে: চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনা ও আইন দুই বিষয়েই পুনরায় শুনানি করেন। এর ওপরে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য। রিভিশন চলে দায়রা জজের কাছে, যাঁর সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর জন্য চূড়ান্ত, অথবা হাইকোর্ট বিভাগে, এবং হাইকোর্ট বিভাগের ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে সহজাত ক্ষমতাও আছে। আপিল বিভাগ কেবল অনুমতি সাপেক্ষে শুনানি করেন। সমান্তরাল যৌতুক, আক্রমণ বা ধর্ষণের মামলা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ পর্যন্ত নিজস্ব পথে চলে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ২৮-এর অধীনে আপিল আদালত) · মহানগর দায়রা জজ বা দায়রা জজ (রিভিশন)
  4. প্রথম দফার আদালতমেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (সমান্তরাল ফৌজদারি মামলা)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেযৌথ বাসগৃহ বা আশ্রয়কেন্দ্র · থানা · প্রয়োগকারী কর্মকর্তা (উপজেলা বা মেট্রোপলিটন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা)
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।

আপিল পর্যায়

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।

মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।

প্রথম দফার আদালত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার, এসিড-সংক্রান্ত ও অন্যান্য অপরাধের বিচার করে।

ঢাকায় ১ থেকে ৯ নং ট্রাইব্যুনাল আছে; প্রতিটিতে জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সভাপতিত্ব করেন এবং এগুলো ঢাকা জাজশিপের তালিকাভুক্ত। ঢাকার আদালত এলাকায় এগুলোর সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি এমন ট্রাইব্যুনাল আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

যৌথ বাসগৃহ বা আশ্রয়কেন্দ্র

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

থানা

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

প্রয়োগকারী কর্মকর্তা (উপজেলা বা মেট্রোপলিটন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও সহায়তা
০–১ মাস
আবেদন ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা
০–১ মাস
শুনানি ও চূড়ান্ত আদেশ
২–৯ মাস
কার্যকরকরণ ও আদেশ লঙ্ঘন
১–৬ মাস
সমান্তরাল ফৌজদারি ও পারিবারিক মামলা
১২–৬০ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১৫–৭৭ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: অন্তর্বর্তী আদেশ কয়েক দিনের মধ্যে; চূড়ান্ত আদেশ ৩ থেকে ৯ মাস (আইনের লক্ষ্য ৬০ কার্যদিবস); আপিল ২ থেকে ৬ মাস
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি (Aggrieved person)
পরিবারের কোনো সদস্যের দ্বারা পারিবারিক সহিংসতার শিকার বা ঝুঁকিতে থাকা নারী বা শিশু।
পারিবারিক সহিংসতা (Domestic violence)
পারিবারিক সম্পর্কের কোনো ব্যক্তির দ্বারা শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতি (ধারা ৩)।
প্রয়োগকারী কর্মকর্তা (Enforcement officer)
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা অন্য নিযুক্ত কর্মকর্তা, যিনি আদালত ও ভুক্তভোগীকে সহায়তা করেন।
অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ (Interim protection order)
শুনানি পর্যন্ত সহিংসতা বন্ধ রাখতে ধারা ১৩ অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে দেওয়া একতরফা আদেশ।
সুরক্ষা আদেশ (Protection order)
ধারা ১৪-এর অধীনে চূড়ান্ত আদেশ, যা সহিংসতা, যোগাযোগ এবং নারী যেসব স্থানে যান সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
বসবাসের আদেশ (Residence order)
ধারা ১৫-এর অধীনে আদেশ, যা যৌথ বাসগৃহে নারীর বসবাসের অধিকার সুরক্ষা করে বা বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করে।
যৌথ বাসগৃহ (Shared household)
যে বাড়িতে নারী পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে প্রতিপক্ষের সঙ্গে থাকেন বা থাকতেন, তার মালিক বা ভাড়াটিয়া যে-ই হোন।
সেবা প্রদানকারী (Service provider)
সরকার-স্বীকৃত এনজিও বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা ঘটনা লিপিবদ্ধ করে এবং চিকিৎসা সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।
প্রশ্নোত্তর

পারিবারিক সহিংসতা মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা মামলা কে করতে পারেন?
২০১০ সালের আইনের অধীনে কেবল যেকোনো বয়সের নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুই পারিবারিক সহিংসতা মামলায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হতে পারেন, এবং সহিংসতা হতে হবে পারিবারিক সম্পর্কের কারও দ্বারা। আবেদন করতে পারেন তিনি নিজে, প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, স্বীকৃত সেবা প্রদানকারী বা তাঁর পক্ষে অন্য যেকোনো ব্যক্তি। পুরুষ এবং পরিবারের বাইরের সহিংসতা অন্যান্য আইনের আওতায় পড়ে।
ঢাকায় কোন আদালতে এই মামলা হয়?
ঢাকা শহরে পারিবারিক সহিংসতা মামলা শোনেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। মহানগর এলাকার বাইরে শোনেন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আপনি যেখানে থাকেন, প্রতিপক্ষ যেখানে থাকেন, সহিংসতা যেখানে ঘটেছে, অথবা আপনি সাময়িকভাবে যেখানে আছেন, যেমন বাবা-মায়ের বাড়ি বা আশ্রয়কেন্দ্র, সেখানে আবেদন করতে পারেন।
কত দ্রুত সুরক্ষা পাওয়া যায়?
খুব দ্রুত। দাখিলের সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে শুনানির তারিখ ধার্য করতে হয়, এবং কাগজপত্রে সহিংসতা ঘটেছে বা ঘটার সম্ভাবনা আছে দেখা গেলে আদালত একতরফাভাবে, প্রায়ই দাখিলের দিনই, অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আদেশ দিতে পারেন। এরপর প্রতিপক্ষ নোটিশ জারির সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শান।
স্বামীকে কি বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা যায়?
হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে। ধারা ১৫(৩) অনুযায়ী আপনার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিপক্ষকে সাময়িকভাবে যৌথ বাসগৃহ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। উপযুক্ত নিরাপদ বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা হলে, অথবা প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আদেশটি শেষ হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালত তাঁকে আপনার অংশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন বা অন্যত্র ভাড়া দেওয়ার আদেশ দেন। এতে মালিকানা প্রভাবিত হয় না।
পারিবারিক সহিংসতা মামলা কি স্বামীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা?
শুরুতে নয়। পারিবারিক সহিংসতা মামলার আবেদনে শাস্তি নয়, সুরক্ষামূলক আদেশ চাওয়া হয়। তবে সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন করা অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় মাস, অথবা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর, এবং পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে। যৌতুকের জন্য সহিংসতা, আক্রমণ বা ধর্ষণের জন্য আলাদা ফৌজদারি মামলা সমান্তরালভাবে চলতে পারে।
চিকিৎসার খরচ ও ভরণপোষণের টাকা কি পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। ম্যাজিস্ট্রেট আঘাত, কষ্ট, চিকিৎসার খরচ, উপার্জনের ক্ষতি ও হারানো সম্পত্তির জন্য কোনো ঊর্ধ্বসীমা ছাড়াই ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। ক্ষতিপূরণের আবেদন ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়। আদালত আপনার ও সন্তানদের জন্য মাসিক বা এককালীন ভরণপোষণের আদেশও দিতে পারেন, এবং প্রতিপক্ষের নিয়োগকর্তাকে তাঁর বেতন থেকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
হেরে গেলে কোথায় আপিল করব?
আইনের ধারা ২৮ অনুযায়ী আপিল যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা মহানগর এলাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, দায়রা জজের কাছে নয়। যেকোনো পক্ষ আদেশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারেন। আপিল ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর মাধ্যমে।
পারিবারিক সহিংসতা মামলা করতে কি কোনো খরচ লাগে?
খুবই সামান্য। আদালত প্রতিটি আদেশের কপি বিনামূল্যে দেন। আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীনে লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও বিনা খরচে পারিবারিক সহিংসতা মামলা দায়েরে প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে সাহায্য করতে হয়। আপনি সরকারি আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন ১৬৪৩০-এও ফোন করতে পারেন। নিজে বেসরকারি আইনজীবী নিলে তাঁর ফিই মূল খরচ।

আইন ও উৎস

  1. Domestic Violence (Prevention and Protection) Act 2010 (Laws of Bangladesh)
  2. Domestic Violence (Prevention and Protection) Act 2010 (mirror text)
  3. Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000, as amended by Act No. 85 of 2026 (Laws of Bangladesh)
  4. Code of Criminal Procedure 1898, as amended (Laws of Bangladesh)
  5. Legal Aid Act 2000 (Laws of Bangladesh)
  6. Department of Women Affairs, Bangladesh
  7. National Legal Aid Services Organisation
  8. Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp