বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/পারিবারিক

বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া নির্ভর করে কে, কীভাবে বিয়ে ভাঙছেন তার ওপর। মুসলমান স্বামীর তালাক, স্ত্রীর অর্পিত ক্ষমতাবলে তালাক-ই-তাফউইজ কিংবা খুলা, সবই চলে চেয়ারম্যান বা মেয়রকে লিখিত নোটিশ, সালিসি পরিষদ এবং নব্বই দিনের অপেক্ষার মধ্য দিয়ে। স্বামীর সহযোগিতা না পেলে স্ত্রী মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন।

দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজতের দাবিও একই পারিবারিক আদালতে করা হয়; এর বিরুদ্ধে আপিল যায় পারিবারিক আপিল আদালতে এবং রিভিশন হাইকোর্ট বিভাগে। হিন্দু আইনে বিবাহবিচ্ছেদের বিধান নেই, আর খ্রিস্টানদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় জেলা জজের কাছে দরখাস্তের মাধ্যমে, যা হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন করেন।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
পথ ও প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন নির্ধারণ
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৬টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৮টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে লিখিত নোটিশ (তালাক, তাফউইজ, খুলা); অথবা সিভিল জজ বা…
মূল আইন
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (ধারা ২, ৭-১০); মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ২৬ নং…
সাধারণ সময়কাল
নোটিশের মাধ্যমে তালাক: প্রায় ৩-৪ মাস। পারিবারিক আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মামলা: প্রথম আদালতে মোটামুটি ৮-২৪ মাস…
কে মামলা করতে পারেন
স্বামী (তালাক); অর্পিত অধিকারপ্রাপ্ত স্ত্রী (তালাক-ই-তাফউইজ); সমঝোতার ভিত্তিতে যেকোনো পক্ষ (খুলা, মুবারাত); ১৯৩৯ সালের…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৬টি ধাপ

ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ১, পথ ও প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন নির্ধারণ
    ধাপ ১ · কোনো কিছু দাখিলের আগে

    পথ ও প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন নির্ধারণ

    প্রথম বৈঠকেই ঠিক হয় কোন আইনি পথ প্রযোজ্য। মুসলমান দম্পতির ক্ষেত্রে বিকল্পগুলো হলো: স্বামীর তালাক; কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণ করা থাকলে স্ত্রীর তালাক-ই-তাফউইজ; সমঝোতার ভিত্তিতে খুলা বা মুবারাত; অথবা পারিবারিক আদালতে স্ত্রীর মামলা। হিন্দু দম্পতি তাঁদের ব্যক্তিগত আইনে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন না, আর খ্রিস্টান দম্পতি বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসরণ করেন। আইনজীবী এটিও দেখেন যে দেনমোহর, ভরণপোষণ বা হেফাজতের দাবি দাখিল করতে হবে কি না, কারণ বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়ায় বিবাহবিচ্ছেদের চেয়ে প্রায়ই অর্থ ও সন্তানের প্রশ্নই বড় হয়ে ওঠে।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭ ও ধারা ৮; মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ · কাগজপত্র: কাবিননামা বা বিবাহ রেজিস্টারের সংশ্লিষ্ট অংশের সার্টিফায়েড কপি, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ

    পরামর্শ: আগে কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘর পড়ুন। স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণ করা থাকলে তিনি মামলা না করেই নোটিশের মাধ্যমে নিজেই বিয়ে ভাঙতে পারেন।

  2. ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ২, বিয়ে, দেনমোহর ও আয়ের প্রমাণ সংগ্রহ
    ধাপ ২ · কোনো কিছু দাখিলের আগে

    বিয়ে, দেনমোহর ও আয়ের প্রমাণ সংগ্রহ

    কোনো নোটিশ বা আরজির খসড়া করার আগে আইনজীবী এমন সব প্রমাণ জোগাড় করেন, যা পরে কাজে লাগবে। এর মধ্যে আছে দেনমোহরের পরিমাণ ও বিয়ের সময় কত পরিশোধ হয়েছে তা দেখানো নিবন্ধিত কাবিননামা; প্রত্যেক পক্ষ কোথায় থাকেন তার প্রমাণ (যা দিয়ে উপযুক্ত চেয়ারম্যান ও পারিবারিক আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারিত হয়); ভরণপোষণের জন্য স্বামীর আয়ের প্রমাণ; আর স্ত্রী ১৯৩৯ সালের আইনে মামলা করতে চাইলে নিষ্ঠুরতা, পরিত্যাগ বা ভরণপোষণ না দেওয়ার যেকোনো রেকর্ড। কোনো পক্ষ বিদেশে থাকলে একজন প্রতিনিধি যাতে কাজ করতে পারেন, সেজন্য মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা অনুমতিপত্র তৈরি ও সত্যায়িত করা হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১০; মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(২), (৪) ও (৮) · কাগজপত্র: দেনমোহরের বিবরণসহ কাবিননামা, বসবাসের প্রমাণ, স্বামীর বেতন স্লিপ, ব্যাংক বিবরণী বা ব্যবসার রেকর্ড, নিষ্ঠুরতা প্রমাণে মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশে অভিযোগ বা বার্তা, মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (কোনো পক্ষ বিদেশে থাকলে)

    পরামর্শ: ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ধারা ১০ অনুযায়ী কাবিননামায় দেনমোহর পরিশোধের পদ্ধতি উল্লেখ না থাকলে পুরো দেনমোহরই চাওয়ামাত্র পরিশোধযোগ্য। দলিলে আসলে কী লেখা আছে, তা খেয়াল করুন।

  3. ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ৩, লিখিত তালাক নোটিশের খসড়া ও স্বাক্ষর
    ধাপ ৩ · নোটিশের মাধ্যমে তালাক (তালাক, তাফউইজ, খুলা)

    লিখিত তালাক নোটিশের খসড়া ও স্বাক্ষর

    যে স্বামী যেকোনো রূপে তালাক উচ্চারণ করেন, তাঁকে যত দ্রুত সম্ভব চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীকে তার একটি কপি পাঠাতে হবে। অর্পিত অধিকার প্রয়োগকারী স্ত্রী, কিংবা খুলা বা মুবারাতের মাধ্যমে বিয়ে ভাঙা দম্পতিও একই ব্যবস্থা ব্যবহার করেন, কারণ ধারা ৮ প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ ধারা ৭ প্রযোজ্য করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ বলেন যে পারস্পরিক খুলাতেও নোটিশ বাধ্যতামূলক, এবং নোটিশ ছাড়া খুলা বাতিল। নোটিশ না দেওয়া একটি অপরাধও, যার শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৭ দিন · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭(১) ও (২); মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৮; মো. পারভেজ হোসেন বনাম মোসা. সোহানা সোহগী, হাইকোর্ট বিভাগ, দেওয়ানি রিভিশন নং ৯৭৩/২০২১ (১৬ নভেম্বর ২০২৫) · কাগজপত্র: স্বাক্ষরিত তালাক নোটিশ (বা তাফউইজ বা খুলার নোটিশ), খুলা বা মুবারাতের সমঝোতা চুক্তি, যদি থাকে, কাবিননামার কপি

    পরামর্শ: স্ত্রীর কপি পৌঁছানোর প্রমাণ, যেমন রেজিস্টার্ড ডাকের রসিদ, রেখে দিন। স্ত্রীকে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বহু বছর পরও বিরোধ হওয়া সাধারণ ঘটনা।

  4. ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ৪, চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে নোটিশ পৌঁছানো
    ধাপ ৪ · নোটিশের মাধ্যমে তালাক (তালাক, তাফউইজ, খুলা)

    চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে নোটিশ পৌঁছানো

    নোটিশ যায় ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ধারা ২(খ)-তে সংজ্ঞায়িত 'চেয়ারম্যান'-এর কাছে: ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, অথবা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জন্য নিযুক্ত ব্যক্তি। ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশন তাদের অঞ্চল বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে এই নোটিশ গ্রহণ করে। অফিস থেকে তারিখযুক্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নেওয়া উচিত, কারণ নব্বই দিন গোনা হয় চেয়ারম্যান যেদিন নোটিশ পান সেদিন থেকে, তালাক উচ্চারণ বা নোটিশ স্বাক্ষরের দিন থেকে নয়।

    কোথায়: সালিসি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি করপোরেশন) · সময়: ১ দিন · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২(খ); মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭(১) ও (৩) · কাগজপত্র: মূল নোটিশ, প্রাপ্তিস্বীকারের জন্য কপি, উপযুক্ত এলাকা প্রমাণে ঠিকানার প্রমাণ

    পরামর্শ: দাখিলের আগে অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন স্ত্রীর ঠিকানা কোন অঞ্চলের আওতায়; ভুল অফিসে পাঠানো নোটিশ পরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

  5. ধাপ ৫: সালিসি পরিষদের পুনর্মিলনের চেষ্টা
    ধাপ ৫ · নোটিশের মাধ্যমে তালাক (তালাক, তাফউইজ, খুলা)

    সালিসি পরিষদের পুনর্মিলনের চেষ্টা

    নোটিশ পাওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে চেয়ারম্যান এবং প্রত্যেক পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি সালিসি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করতে হয়। এর একমাত্র আইনগত কাজ পক্ষগুলোর মধ্যে পুনর্মিলনের চেষ্টা করা। কোনো পক্ষ প্রতিনিধি মনোনয়ন না দিলেও পরিষদ গঠন করা যায়। পরিষদ দেনমোহর বা হেফাজত নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয় না, তবে সভায় প্রত্যেক পক্ষের অবস্থানের একটি কাজে লাগার মতো রেকর্ড তৈরি হয়। দম্পতির পুনর্মিলন হলে নব্বই দিন শেষ হওয়ার আগেই তালাক প্রত্যাহার করা যায়।

    কোথায়: সালিসি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি করপোরেশন) · সময়: নোটিশের ৩০ দিনের মধ্যে; সভা চলে ১-২ মাস · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭(৪); মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২(ক) (সালিসি পরিষদ) · কাগজপত্র: পরিষদের নোটিশ, প্রতিনিধি মনোনয়ন, লিখিত সমঝোতা প্রস্তাব, যদি থাকে

    পরামর্শ: বিবাহবিচ্ছেদে সম্মতি থাকলেও সভায় উপস্থিত থাকুন। অনুপস্থিতিতে তালাক আটকায় না, তবে পরে দেনমোহর বা ভরণপোষণের মামলায় এই রেকর্ড কাজে লাগে।

  6. ধাপ ৬: নব্বই দিন পর তালাক কার্যকর
    ধাপ ৬ · নোটিশের মাধ্যমে তালাক (তালাক, তাফউইজ, খুলা)

    নব্বই দিন পর তালাক কার্যকর

    আগে প্রত্যাহার না হলে চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার নব্বই দিন পর তালাক কার্যকর হয়। স্ত্রী গর্ভবতী হলে নব্বই দিন শেষ হওয়া বা গর্ভাবস্থা শেষ হওয়া, এর মধ্যে যেটি পরে ঘটে, তখন তালাক কার্যকর হয়। ততদিন বিয়ে বহাল থাকে এবং স্ত্রী স্বাভাবিক ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী থাকেন। কার্যকর তালাকের পর এটি তৃতীয় কার্যকর তালাক না হলে দম্পতি মধ্যবর্তী কোনো বিয়ে ছাড়াই পরস্পরকে আবার বিয়ে করতে পারেন। অনেক অফিস অনুরোধে মেয়াদ শেষে তালাক কার্যকরের সনদ দেয়।

    কোথায়: সালিসি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি করপোরেশন) · সময়: ৯০ দিন (স্ত্রী গর্ভবতী হলে আরও বেশি) · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭(৩), (৫) ও (৬) · কাগজপত্র: পৌঁছানোর তারিখসহ প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, তালাক কার্যকরের সনদের আবেদন

    পরামর্শ: যেকোনো সমঝোতার অর্থ পরিশোধ কার্যকর হওয়ার তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে করুন, অথবা এসক্রোতে রাখুন, যাতে পরে প্রত্যাহার হওয়া তালাকের জন্য কাউকে টাকা দিতে না হয়।

  7. ধাপ ৭: নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক নিবন্ধন
    ধাপ ৭ · নোটিশের মাধ্যমে তালাক (তালাক, তাফউইজ, খুলা)

    নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক নিবন্ধন

    নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি রেকর্ড তৈরি হয়, যার ওপর দূতাবাস, পাসপোর্ট অফিস ও পরবর্তী আদালত নির্ভর করে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার আবেদনের ভিত্তিতে তালাক নিবন্ধন করেন এবং পক্ষগুলোকে রেজিস্টারের সংশ্লিষ্ট অংশের সত্যায়িত কপি দেন। তালাক-ই-তাফউইজের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারকে আগে ক্ষমতা অর্পণের দলিল বা অর্পণ দেখানো বিবাহ রেজিস্টারের সত্যায়িত কপি দেখতে হয়। নিবন্ধন নিজে তালাককে বৈধ করে না, আর অনিবন্ধিত তালাক আপনা-আপনি বাতিলও নয়; কিন্তু কাগজপত্রের ঘাটতিই বিদেশি কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশি তালাক স্বীকৃতি না দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

    কোথায়: নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) অফিস · সময়: ১-৭ দিন · আইন: মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬; মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ · কাগজপত্র: চেয়ারম্যানের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা তালাক কার্যকরের সনদ, কাবিননামা, জাতীয় পরিচয়পত্র, নির্ধারিত নিবন্ধন ফি

    পরামর্শ: যে এলাকায় তালাক কার্যকর হয়েছে, সেই এলাকার এখতিয়ারসম্পন্ন নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে যান; ২০২৬ সালের হাইকোর্ট বিভাগের একটি মামলায় খুলা নাকচ হওয়ার একটি কারণ ছিল অসম্পর্কিত রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন।

  8. ধাপ ৮: বাধ্যতামূলক লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতা (প্রজ্ঞাপিত জেলায়)
    ধাপ ৮ · মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আদালতে মামলা দাখিল

    বাধ্যতামূলক লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতা (প্রজ্ঞাপিত জেলায়)

    স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতের ডিক্রি দরকার হলে, অথবা কোনো পক্ষ দেনমোহর, ভরণপোষণ বা হেফাজত দাবি করলে, বিরোধটি পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫-এর আওতায় পড়ে। যেসব জেলায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ কার্যকর করা হয়েছে, সেখানে দাবিদারকে প্রথমে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে হয়। প্রত্যয়িত সমঝোতা ডিক্রির সমান কার্যকর; মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে অফিস একটি সনদ দেয়, যা আরজির সঙ্গে দাখিল করতে হয়। ৩১ জুলাই ২০২৬ থেকে ত্রিশটি জেলা প্রজ্ঞাপিত হয়েছে; এ লেখার সময় ঢাকা তার মধ্যে ছিল না, তাই সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন যাচাই করুন।

    কোথায়: জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সময়: প্রায় ১ মাস (বিধিমালায় স্বল্প সময়সীমা দেওয়া আছে; সর্বশেষ বিধিমালা যাচাই করুন) · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ থেকে ২১ঙ (২০২৬ সালের ৪৫ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); এস.আর.ও. নং ২৮৮/২০২৬; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আবেদন, কাবিননামা, মধ্যস্থতা ব্যর্থতার সনদ (সমঝোতা না হলে)

    পরামর্শ: লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতায় ব্যয়িত সময় তামাদি থেকে বাদ যায়, তবে তা প্রমাণের জন্য তারিখযুক্ত আবেদনের রসিদ রেখে দিন।

  9. ধাপ ৯: পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল
    ধাপ ৯ · মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আদালতে মামলা দাখিল

    পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল

    স্ত্রীর আইনজীবী বিবাহবিচ্ছেদের আরজি দাখিল করেন, যার সঙ্গে প্রায়ই অপরিশোধিত দেনমোহর, নিজের ও সন্তানদের ভরণপোষণ এবং হেফাজতের দাবি যুক্ত থাকে। পারিবারিক আদালতের সভাপতিত্ব করেন একজন সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ (২০২৬ সালের দেওয়ানি আদালত সংশোধনীর আগ পর্যন্ত যাঁদের বলা হতো সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ)। আরজিতে ১৯৩৯ সালের আইনের ধারা ২-এর কারণগুলো উল্লেখ থাকে, যেমন দুই বছর ভরণপোষণ না দেওয়া, তিন বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালন না করা, নিষ্ঠুরতা, কিংবা ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় বিয়ে। এতে সাক্ষীদের তালিকা থাকে এবং নির্ভরযোগ্য দলিলগুলো সংযুক্ত করা হয়। একটি নির্দিষ্ট কোর্ট ফি দিতে হয়।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: খসড়া ও দাখিলে ১-২ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৪(২) ও ধারা ৬; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫ (কোর্ট ফি); মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৫ক (সিভিল জজদের পদবি পরিবর্তন) · কাগজপত্র: দাবির তফসিলসহ আরজি, সাক্ষীদের তালিকা, কাবিননামা ও নির্ভরযোগ্য দলিলপত্র, লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতা ব্যর্থতার সনদ (প্রয়োজন হলে), কোর্ট ফি

    পরামর্শ: প্রযোজ্য প্রতিটি কারণ এবং আপনার প্রতিটি দাবি আরজিতে উল্লেখ করুন। কারণ (৯), অর্থাৎ 'মুসলিম আইনে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত অন্য যেকোনো কারণ', স্বামী সম্মতি না দিলে আদালতের মাধ্যমে খুলার ভিত্তি।

  10. ধাপ ১০: সমন জারি ও লিখিত জবাব দাখিল
    ধাপ ১০ · মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আদালতে মামলা দাখিল

    সমন জারি ও লিখিত জবাব দাখিল

    পারিবারিক আদালত আইনে অনুমোদিত পদ্ধতিতে, রেজিস্টার্ড ডাকসহ, স্বামীর প্রতি সমন ও নোটিশ জারি করেন। হাজির হয়ে তিনি আরজির জবাবে লিখিত জবাব দাখিল করেন। যথাযথভাবে সমন জারির পরও স্বামী হাজির না হলে আদালত একতরফাভাবে মামলা চালাতে পারেন; একতরফা ডিক্রির ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি তা রদের আবেদন করতে পারেন। স্ত্রী হাজির না হলে মামলা অনুপস্থিতির কারণে খারিজ হতে পারে, এবং খারিজের ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি পুনরুজ্জীবনের আবেদন করতে পারেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৫) ও (৬) · কাগজপত্র: সমন ও নোটিশ, লিখিত জবাব, বিবাদীর সাক্ষী ও দলিলের তালিকা

    পরামর্শ: কর্মস্থলসহ স্বামীর জানা সব ঠিকানা আদালতকে দিন। ত্রুটিপূর্ণ সমন জারিই একতরফা ডিক্রি পরে রদ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

  11. ধাপ ১১: অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ বা হেফাজতের আদেশের আবেদন
    ধাপ ১১ · মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আদালতে মামলা দাখিল

    অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ বা হেফাজতের আদেশের আবেদন

    পারিবারিক মামলা এক বছর বা তার বেশি সময় নিতে পারে, অথচ সংসারের টাকা দরকার এখনই। ২০২৩ সালের আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী কোনো পক্ষ যাতে মামলার উদ্দেশ্য ব্যর্থ করতে না পারে সেজন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে সন্তুষ্ট হলে পারিবারিক আদালত যথাযথ মনে করা যেকোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারেন। বাস্তবে এর মধ্যে পড়ে সন্তানদের অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ, সন্তান কোথায় থাকবে বা দেখা-সাক্ষাতের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা এবং সম্পত্তি সংরক্ষণের আদেশ। বিচার চলাকালে পারিবারিক আদালতের নির্ধারিত অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ হাইকোর্ট বিভাগ বহাল রেখেছেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ (পারিবারিক আদালত জেলা আদালত হিসেবে কাজ করে: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন, সন্তানের প্রয়োজন ও স্কুলের খরচের প্রমাণ, অপর পক্ষের আয়ের প্রমাণ

    পরামর্শ: আগেভাগে আবেদন করুন। শেষে বড় অঙ্কের বকেয়ার আদেশ দেওয়ার চেয়ে শুরুতেই পরিমিত অন্তর্বর্তী সহায়তা নির্ধারণে আদালত বেশি আগ্রহী।

  12. ধাপ ১২: বিচার-পূর্ব শুনানি ও পুনর্মিলনের চেষ্টা
    ধাপ ১২ · পারিবারিক আদালতে বিচার

    বিচার-পূর্ব শুনানি ও পুনর্মিলনের চেষ্টা

    লিখিত জবাবের পর পারিবারিক আদালত বিচার-পূর্ব শুনানি করেন। আদালত আরজি, লিখিত জবাব ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করে বিরোধের বিষয়গুলো নির্ধারণ করেন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপস বা পুনর্মিলনের চেষ্টা করেন। দেনমোহর, ভরণপোষণ বা হেফাজত নিয়ে পক্ষগুলো একমত হলে আদালত সেই শর্তে আপস ডিক্রি দিতে পারেন। সমঝোতা না হলে আদালত বিচারের তারিখ ধার্য করেন। কোনো পক্ষ চাইলে বা আদালত প্রয়োজন মনে করলে পারিবারিক আদালতের শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) হতে পারে।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১১ (বিচার-পূর্ব কার্যক্রম); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২ (রুদ্ধদ্বার শুনানি); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৫ (আপস ডিক্রি) · কাগজপত্র: সমঝোতা প্রস্তাব, আপসের শর্তের খসড়া (একমত হলে)

    পরামর্শ: সশরীরে উপস্থিত থাকুন। এ পর্যায়ে বিচারক প্রায়ই সরাসরি স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন, আর ভরণপোষণ নিয়ে যুক্তিসংগত প্রস্তাব মামলাটি কয়েক মাস আগেই শেষ করে দিতে পারে।

  13. ধাপ ১৩: বিচার: উভয় পক্ষের সাক্ষ্য
    ধাপ ১৩ · পারিবারিক আদালতে বিচার

    বিচার: উভয় পক্ষের সাক্ষ্য

    বিচারে প্রত্যেক পক্ষ নিজের সাক্ষী হাজির করে, শুরু হয় বাদীকে দিয়ে। পারিবারিক আদালত সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করেন, হলফনামার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দিতে পারেন এবং জেরার সুযোগ দেন। স্ত্রী যে কারণের ওপর নির্ভর করছেন তার পেছনের তথ্য তাঁকে প্রমাণ করতে হবে, যেমন স্বামী দুই বছর ভরণপোষণ দেননি, কিংবা ধারা ২(৮)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন। দেনমোহরের অঙ্ক নির্ধারিত হয় কাবিননামা ও কত পরিশোধ হয়েছে তার প্রমাণের ভিত্তিতে। ভরণপোষণের ক্ষেত্রে আদালত স্বামীর সামর্থ্য ও পরিবারের যুক্তিসংগত প্রয়োজন বিবেচনা করেন।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ (হলফনামায় সাক্ষ্য-সংক্রান্ত ধারা ১৩(৬)সহ); মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৮) · কাগজপত্র: প্রদর্শনী: কাবিননামা, রসিদ, মেডিকেল ও পুলিশ রেকর্ড, আয়ের প্রমাণ, সাক্ষীর প্রতি সমন

    পরামর্শ: যাঁরা ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন, যেমন প্রতিবেশী বা আত্মীয়, তাঁদের সাক্ষ্য চরিত্র নিয়ে সাধারণ বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

  14. ধাপ ১৪: পুনর্মিলনের শেষ চেষ্টা ও রায়
    ধাপ ১৪ · পারিবারিক আদালতে বিচার

    পুনর্মিলনের শেষ চেষ্টা ও রায়

    সাক্ষ্য শেষ হলে রায় লেখার আগে আদালত আপসের জন্য আরেকবার চেষ্টা করেন। তা সফল না হলে আদালত প্রতিটি দাবি নিষ্পত্তি করে রায় ঘোষণা করেন: বিয়ে বিচ্ছেদ হলো কি না এবং কোন কারণে, প্রাপ্য দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বকেয়া, এবং হেফাজত বা দেখা-সাক্ষাতের ব্যবস্থা। বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি হলে আদালত সাত দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে এর সার্টিফায়েড কপি পাঠান, এবং চেয়ারম্যান তা পাওয়ার নব্বই দিন পর বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়ার এই ধাপটি পক্ষগুলো প্রায়ই খেয়াল করেন না।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: সাক্ষ্য শেষ হওয়ার ১-২ মাস পর · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬(২) ও (৩) (চেয়ারম্যানের কাছে কপি; নব্বই দিন) · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি

    পরামর্শ: রায়ের দিনই রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিলের সময় গোনা হয় ডিক্রি থেকে, কেবল কপি সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে।

  15. ধাপ ১৫: আদালতের বিবাহবিচ্ছেদ রেকর্ড করা
    ধাপ ১৫ · ডিক্রি, নিবন্ধন ও বাস্তবায়ন

    আদালতের বিবাহবিচ্ছেদ রেকর্ড করা

    বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি কার্যকর হলে পক্ষগুলো ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করেন: ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি এবং পাওয়া গেলে নব্বই দিন পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যানের নিশ্চয়তাপত্র। অনেকে রেজিস্টারে তালাক অন্তর্ভুক্ত করতে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছেও ডিক্রি উপস্থাপন করেন। যাঁরা বিদেশে থাকেন বা যাঁদের স্বামী/স্ত্রী বিদেশি, বিদেশি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করার আগে তাঁদের ডিক্রি ও সনদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সত্যায়ন বা অ্যাপোস্টিল করাতে হতে পারে।

    কোথায়: নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) অফিস · সময়: ডিক্রি কার্যকর হওয়ার ২-৬ সপ্তাহ পর · আইন: মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬(৩) · কাগজপত্র: ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, চেয়ারম্যানের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র

    পরামর্শ: যে দেশে কাগজ জমা দেবেন, সেখানকার কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসকে আগেই জিজ্ঞেস করুন কোন ধরনের সত্যায়ন বা বৈধকরণ লাগবে, যাতে কাগজপত্র একবারেই প্রস্তুত হয়।

  16. ধাপ ১৬: দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়ন
    ধাপ ১৬ · ডিক্রি, নিবন্ধন ও বাস্তবায়ন

    দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়ন

    আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বামী পরিশোধ না করলে স্ত্রী এক বছরের মধ্যে ডিক্রি জারির জন্য একই পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন, দেওয়ানি অর্থ-ডিক্রি হিসেবে অথবা ম্যাজিস্ট্রেটের আরোপিত জরিমানার মতো করে। আদালত তাঁর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম, বেতন বা ব্যাংক হিসাব ক্রোক, পরোয়ানা জারি, অথবা কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি দিতে পারেন। ভরণপোষণের ডিক্রি মাসে মাসে চলে, তাই বকেয়া পরবর্তী আবেদনে আদায় করা যায়। বিয়ে বহাল থাকাকালীন ভরণপোষণের জন্য ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৯ অনুযায়ী সালিসি পরিষদের পথ একটি বিকল্প: এর সনদ বকেয়া ভূমি রাজস্বের মতো আদায়যোগ্য।

    কোথায়: পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(৩) থেকে (৮); মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৯ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, স্বামীর সম্পত্তি, নিয়োগকর্তা ও ব্যাংকের বিবরণ

    পরামর্শ: জারির আবেদনে নিয়োগকর্তা ও ব্যাংকের নাম উল্লেখ করুন। সাধারণ অনুরোধের চেয়ে নির্দিষ্ট বেতন বা হিসাবের ক্ষেত্রে আদালত দ্রুত ব্যবস্থা নেন।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · পারিবারিক আদালত → জেলা জজ

কোনো পক্ষ পারিবারিক আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করতে চাইলে কী হয়?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত (পারিবারিক আপিল আদালত)

    পারিবারিক আপিল আদালতে পারিবারিক আপিল

    কপি সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে ডিক্রির ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলা জজ পদমর্যাদার আদালত, অর্থাৎ পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করা যায়; যথেষ্ট কারণ থাকলে আদালত সময় বাড়াতে পারেন। বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না, কেবল ১৯৩৯ সালের আইনের ধারা ২(৮)(ঘ)-এর কারণে দেওয়া ডিক্রি ছাড়া; ৫০,০০০ টাকা বা তার কম দেনমোহরের ডিক্রির বিরুদ্ধেও আপিল চলে না। ভরণপোষণ ও হেফাজতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন। আপিলে নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পুনঃশুনানি হয়।

    ৬-১৮ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮ ও ধারা ১৯(১), (২) ও (৬)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭(২) (অভিভাবকত্বের আদেশ)মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৮)(ঘ)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পারিবারিক আপিল আদালত ডিক্রিটি বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন; তথ্যগত বিষয়ে এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন সাপেক্ষে।

রিভিশন · পারিবারিক আদালত → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিলের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে ভুল হলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন

    পরাজিত পক্ষ পারিবারিক আপিল আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশনের আবেদন করতে পারেন। একক বিচারক শোনেন যে আইনের এমন কোনো ভুল আছে কি না, যার ফলে ডিক্রিতে ভুল হয়ে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। রুল জারি হলে অপর পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং নথি তলব করা হয়। রিভিশন সাক্ষ্যের পুনঃশুনানি নয়, আর জারি স্থগিত করা আদালতের বিবেচনাধীন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক খুলা ও ভরণপোষণ-সংক্রান্ত রায়গুলো রিভিশনেই এসেছে।

    ১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ রুল খারিজ করে আপিল ডিক্রি বহাল রাখেন, অথবা রুল চূড়ান্ত করে ডিক্রি সংশোধন বা রদ করেন।

রিভিউ · হাইকোর্ট বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ

একই আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনাল রায়ের রিভিউ

    কোনো পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর সংকীর্ণ কারণে হাইকোর্ট বিভাগকে দেওয়ানি রিভিশনে দেওয়া নিজের রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন: যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের সন্ধান, নথির মুখে স্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ। রিভিউ দ্বিতীয় আপিল নয়। পারিবারিক আদালতের নিজের কোনো সাধারণ রিভিউ ক্ষমতা নেই: ২০২৩ সালের আইনের ধারা ২৮ ধারা ১০ ও ১১ ছাড়া দেওয়ানি কার্যবিধিকে পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম থেকে বাদ রেখেছে।

    ৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩ (৯০ দিন)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ নাকচ হয়, অথবা রায় সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিভিশনের পুনঃশুনানি হয়।

রেফারেন্স · আইনজীবী → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → জেলা জজ

খ্রিস্টানদের বিবাহবিচ্ছেদে কী হয়, যেখানে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স আইনেই নির্ধারিত?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত (পারিবারিক আপিল আদালত)

    বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুযায়ী জেলা জজের কাছে দরখাস্ত

    খ্রিস্টান স্বামী বা স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯-এর ধারা ১০-এ বর্ণিত দোষভিত্তিক কারণে জেলা আদালতে দরখাস্ত করেন, যেমন ব্যভিচার, অথবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে ধর্মান্তর ও পুনর্বিবাহ, কিংবা নিষ্ঠুরতা বা দুই বছরের পরিত্যাগের সঙ্গে ব্যভিচার। পারস্পরিক সম্মতির কোনো কারণ নেই। জেলা জজ সাক্ষ্য শুনে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দিতে পারেন। মামলা চলাকালে আইনের প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে রেফারও করা যায়।

    ১-২ বছরবিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯-এর ধারা ১০বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯-এর ধারা ৮ ও ধারা ৯
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন

    জেলা জজের বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি নিজে থেকে কার্যকর হয় না। ধারা ১৭ অনুযায়ী তা হাইকোর্ট বিভাগকে অনুমোদন করতে হয়, সম্ভব হলে তিন বিচারকের বেঞ্চে। হাইকোর্ট বিভাগ অতিরিক্ত তদন্ত বা সাক্ষ্যের নির্দেশ দিতে পারেন, যা জেলা জজ গ্রহণ করে প্রত্যয়নসহ ফেরত পাঠান; এরপর হাইকোর্ট বিভাগ ডিক্রি অনুমোদন করেন বা অনুমোদন দিতে অস্বীকার করেন। হিন্দু দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সুযোগই নেই; হিন্দু স্ত্রীর প্রতিকার হলো ১৯৪৬ সালের আইন অনুযায়ী পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ।

    ৬-২৪ মাসবিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯-এর ধারা ১৭হিন্দু বিবাহিত নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণের অধিকার আইন, ১৯৪৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ জেলা জজের ডিক্রি অনুমোদন করলেই কেবল বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।

রিমান্ড (ফেরত) · হাইকোর্ট বিভাগ → পারিবারিক আদালত → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

উচ্চ আদালত নতুন শুনানির জন্য মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠান

    নিম্ন আদালত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তি না করলে, গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য নাকচ করলে, বা আইনের ভুল পাঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিলে হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনে ডিক্রিগুলো রদ করে নির্দিষ্ট বিষয়ে পুনঃশুনানির নির্দেশসহ মামলাটি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতে পুনর্বিচারের জন্য ফেরত (remand) পাঠাতে পারেন। ফেরত পাঠানো শেষ উপায়: নথি যথেষ্ট হলে উচ্চ আদালত নিজেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন, এটাই প্রত্যাশিত।

    রায়ের দিনই আদেশদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১) ('যেরূপ উপযুক্ত মনে করে সেরূপ আদেশ')পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮(১) (পারিবারিক আদালতে আদেশ ৪১ প্রযোজ্য নয়)
  2. 2
    পারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ)

    পারিবারিক আদালতে নতুন শুনানি

    পারিবারিক আদালত মামলাটি মূল নম্বরে নিজের নথিতে পুনঃস্থাপন করেন এবং নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন বা বিচার্য বিষয়টি শোনেন। আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য নথিতেই থাকে। এরপর ফেরত পাঠানো বিষয়ে নতুন রায় ও ডিক্রি দেওয়া হয়। সেই নতুন ডিক্রির বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিলের স্বতন্ত্র অধিকার থাকে, এবং সেখান থেকে মামলাটি রিভিশনে আবার হাইকোর্ট বিভাগে উঠতে পারে।

    ৪-১২ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ ও ধারা ১৬পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সম্পূর্ণ নথি নিয়ে মামলাটি আবার ওপরে ওঠে, সাধারণত পারিবারিক আপিল আদালতে বা দ্বিতীয় রিভিশনে শেষ হয়।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মামলাটি কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন

    হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনাল রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন (civil petition for leave to appeal) দাখিল করেন। আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বা ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যত্যয় দেখানো গেলেই কেবল অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি মঞ্জুর হলে পিটিশনটি দেওয়ানি আপিলে পরিণত হয় এবং নথির ভিত্তিতে শুনানি হয়। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিতের জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করা যায়। আপিল বিভাগ পরে অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী সংকীর্ণ কারণে ত্রিশ দিনের মধ্যে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।

    ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয় আদালতের বাইরে। মুসলিম তালাক, অর্পিত ক্ষমতাবলে তালাক-ই-তাফউইজ বা খুলার জন্য কোনো বিচারকের প্রয়োজনই নেই: নোটিশ যায় চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে, সালিসি পরিষদ পুনর্মিলনের চেষ্টা করে, আর নব্বই দিন পর তালাক কার্যকর হয়। আদালত যুক্ত হয় কেবল তখন, যখন স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দরকার হয়, অথবা দেনমোহর, ভরণপোষণ বা হেফাজত নিয়ে বিরোধ থাকে। এসব দাবি শোনেন সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের সভাপতিত্বে পরিচালিত পারিবারিক আদালত, যেখানে মূল্যের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।

একটি আপিল চলে জেলা জজ পদমর্যাদার পারিবারিক আপিল আদালতে, যেখানে নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইনের পুনঃশুনানি হয়; তবে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি (একটি কারণ ছাড়া) এবং ৫০,০০০ টাকা বা তার কম দেনমোহরের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না। এর ওপরে হাইকোর্ট বিভাগ কেবল আইনের ভুলের প্রশ্নে দেওয়ানি রিভিশন শোনেন, আর আপিল বিভাগ অনুমতি সাপেক্ষে আপিল শোনেন। খ্রিস্টানদের বিবাহবিচ্ছেদ শুরু হয় জেলা জজের কাছে, এবং তা হাইকোর্ট বিভাগকে অনুমোদন করতে হয়।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত (পারিবারিক আপিল আদালত)
  4. প্রথম দফার আদালতপারিবারিক আদালত (সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · সালিসি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি করপোরেশন) · নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) অফিস · জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা)
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

প্রথম দফার আদালত

পারিবারিক আদালত, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ / পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর অধীন বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলা শুনানি করে।

পারিবারিক আদালত (Family Court) হলো সিভিল জজ (সিভিল জজ) আদালত। জাজশিপ পোর্টালে পারিবারিক আদালত-০৫, ঢাকা-র উল্লেখ আছে, এবং ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের নিচতলায় দেখানো হয়েছে; প্রতিটি নম্বরযুক্ত পারিবারিক আদালতের সঠিক কক্ষ প্রকাশিত নয়, তাই কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে পারিবারিক আদালত আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

ডিএসসিসি: নগর ভবন, ঢাকা-১০০০; ডিএনসিসি: গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, প্লট ২৩-২৬, রোড ৪৬, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২

পৌর সংস্থা: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, এবং অঞ্চল/ওয়ার্ড অফিসের মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর অধীন সালিশি পরিষদের (চেয়ারম্যানের) কাজ।

ডিএনসিসির ওয়েবসাইট: https://dncc.gov.bd। তালাকের নোটিশ ও সালিশি পরিষদের বিষয়গুলো প্রধান কার্যালয়ে নয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হয়। ম্যাপ লিংকটি ডিএসসিসির নগর ভবন দেখায়; ডিএনসিসির জন্য গুলশানের ঠিকানা খুঁজুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) অফিস

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

কোনো কিছু দাখিলের আগে
০.৫–১.৫ মাস
নোটিশের মাধ্যমে তালাক (তালাক, তাফউইজ, খুলা)
৩–৪ মাস
মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আদালতে মামলা দাখিল
১–৪ মাস
পারিবারিক আদালতে বিচার
৫–১৮ মাস
ডিক্রি, নিবন্ধন ও বাস্তবায়ন
১–১২ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১০.৫–৩৯.৫ মাস · সামগ্রিক: নোটিশের মাধ্যমে তালাক: প্রায় ৩-৪ মাস। পারিবারিক আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মামলা: প্রথম আদালতে মোটামুটি ৮-২৪ মাস; আপিল ও রিভিশনে গেলে আরও ১-৩ বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

তালাক (Talaq)
মুসলমান স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ। বাংলাদেশে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ পৌঁছানোর নব্বই দিন পরই কেবল তা কার্যকর হয়।
তালাক-ই-তাফউইজ (Talaq-e-tafweez)
স্বামীর অর্পিত অধিকার প্রয়োগ করে স্ত্রী কর্তৃক বিবাহবিচ্ছেদ, যা সাধারণত কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে লিপিবদ্ধ থাকে।
খুলা (Khula)
স্ত্রীর অনুরোধে স্বামীর সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ, সাধারণত স্ত্রী তাঁর দেনমোহরের কিছু অংশ বা পুরোটা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে।
সালিসি পরিষদ (Arbitration Council)
তালাকের নোটিশের পর পুনর্মিলনের চেষ্টার জন্য চেয়ারম্যান বা মেয়র কর্তৃক প্রত্যেক পক্ষের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত পরিষদ।
দেনমোহর বা মোহর (Dower, mahr or denmohar)
বিয়ের সময় স্বামী স্ত্রীকে যে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাৎক্ষণিক (মু'আজ্জাল) দেনমোহর চাওয়ামাত্র পরিশোধযোগ্য; বিলম্বিত (মু'অজ্জাল) দেনমোহর তালাক বা মৃত্যুতে প্রাপ্য হয়।
কাবিননামা (Kabinnama)
নিবন্ধিত মুসলিম বিবাহ চুক্তি, যাতে দেনমোহর, তালাকের অধিকার অর্পণ ও অন্যান্য শর্ত লিপিবদ্ধ থাকে।
পারিবারিক আপিল আদালত (Family Appellate Court)
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শোনেন এমন জেলা জজ পদমর্যাদার আদালত।
ইদ্দত (Iddat)
তালাকের পরবর্তী অপেক্ষার সময়, যে সময়ে সাবেক স্ত্রী মুসলিম আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।
রুল (Rule)
নিম্ন আদালতের ডিক্রি কেন রদ করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে অপর পক্ষকে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ; দেওয়ানি রিভিশনের প্রথম ধাপ।
প্রশ্নোত্তর

ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে মুসলমানদের তালাকের জন্য কি আদালতে যেতে হয়?
না। তালাক, অর্পিত ক্ষমতাবলে তালাক-ই-তাফউইজ বা সমঝোতার খুলা চেয়ারম্যান বা মেয়রকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং নব্বই দিন পর কার্যকর হয়। স্বামী সহযোগিতা না করায় স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করলে, অথবা দেনমোহর, ভরণপোষণ বা হেফাজত নিয়ে বিরোধ থাকলেই কেবল পারিবারিক আদালত যুক্ত হয়।
বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগে?
নব্বই দিনের মেয়াদসহ নোটিশের মাধ্যমে তালাকে সাধারণত তিন থেকে চার মাস লাগে। ঢাকায় পারিবারিক আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মামলা প্রথম আদালতে সাধারণত আট মাস থেকে দুই বছর নেয়, আর আপিল ও রিভিশনে আরও এক থেকে তিন বছর যোগ হতে পারে। ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়ায় এগুলো নির্দেশক সময়সীমা; বিচার-পূর্ব পর্যায়ে সমঝোতা হলে অনেক দ্রুত শেষ হয়।
স্বামী চেয়ারম্যানকে কখনো নোটিশ না পাঠালে কী হবে?
হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন যে খুলাসহ যেকোনো রূপের তালাকের জন্য ধারা ৭ অনুযায়ী নোটিশ বাধ্যতামূলক, এবং নোটিশ ছাড়া তালাক অকার্যকর। সেক্ষেত্রে বিয়ে আইনত বহাল থাকে, আর তার সঙ্গে স্ত্রীর ভরণপোষণের দাবিও বহাল থাকে। নোটিশ না দেওয়া কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় একটি অপরাধও।
স্বামীর সম্মতি ছাড়া কি স্ত্রী তালাক দিতে পারেন?
হ্যাঁ, দুইভাবে। কাবিননামায় তাঁকে তালাকের অধিকার অর্পণ করা থাকলে তিনি নিজেই নোটিশ দিতে পারেন। নইলে তিনি মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২ অনুযায়ী দুই বছর ভরণপোষণ না দেওয়া, নিষ্ঠুরতা বা মুসলিম আইনে বৈধ যেকোনো কারণে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন।
তালাক চাইলে কি স্ত্রী দেনমোহর হারান?
আপনা-আপনি নয়। তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত, উভয় ধরনের অপরিশোধিত দেনমোহর তাঁর সম্পত্তি থাকে এবং পারিবারিক আদালতে আদায়যোগ্য। তিনি রাজি হলেই কেবল তা ছেড়ে দেন, সাধারণত খুলার বিনিময় হিসেবে। যেকোনো দাবি-ত্যাগ লিখিত, সুনির্দিষ্ট ও স্বেচ্ছায় স্বাক্ষরিত হওয়া উচিত, কারণ স্ত্রীকে দেনমোহর থেকে বঞ্চিত করে এমন সমঝোতা আদালত খুঁটিয়ে দেখেন।
পারিবারিক আদালতে মামলার আগে কি মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক?
যেসব জেলায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ প্রজ্ঞাপিত হয়েছে, সেখানে হ্যাঁ: ধারা ৫-এর আওতাভুক্ত পারিবারিক বিরোধ প্রথমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে নিতে হয়। ৩১ জুলাই ২০২৬ থেকে ত্রিশটি জেলা প্রজ্ঞাপিত হয়েছে, আর এ লেখার সময় ঢাকা তার একটি ছিল না। আপনার জেলার সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন যাচাই করুন।
পারিবারিক আদালতের বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?
সাধারণত না। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল নিষিদ্ধ করেছে, কেবল ১৯৩৯ সালের আইনের ধারা ২(৮)(ঘ)-এর কারণে দেওয়া ডিক্রি ছাড়া। ৫০,০০০ টাকা বা তার কম দেনমোহরের ডিক্রির বিরুদ্ধেও আপিল চলে না। ভরণপোষণ ও হেফাজতের ডিক্রির বিরুদ্ধে ত্রিশ দিনের মধ্যে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করা যায়।
হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া কেমন?
বাংলাদেশে হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে বিবাহবিচ্ছেদের বিধান নেই, তাই হিন্দু স্ত্রীর প্রতিকার হলো ১৯৪৬ সালের আইন অনুযায়ী পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ। খ্রিস্টানদের ডিভোর্স মামলার প্রক্রিয়া চলে বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুযায়ী: দোষভিত্তিক কারণে জেলা জজের কাছে দরখাস্ত, আর হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন করলেই কেবল ডিক্রি কার্যকর হয়।

আইন ও উৎস

  1. Muslim Family Laws Ordinance 1961 (ss.2 and 7-10) — Laws of Bangladesh
  2. Dissolution of Muslim Marriages Act 1939 — Laws of Bangladesh
  3. Family Courts Act 2023 (Act No. 26 of 2023) — Laws of Bangladesh
  4. Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act 1974 — Laws of Bangladesh
  5. Divorce Act 1869 (ss.10 and 17) — Laws of Bangladesh
  6. Legal Aid Services Act 2000, s.21B (inserted by Act No. 45 of 2026) — Laws of Bangladesh
  7. Civil Courts Act 1887 (s.25A, as amended by Act No. 12 of 2026) — Laws of Bangladesh
  8. High Court Division, Md Parvej Hossain v Mst Shohana Shohgi, Civil Revision No. 973 of 2021 (16 November 2025)
  9. High Court Division, Md Mizanur Rahman v Mosammot Rasheda Khatun, Civil Revision No. 4266 of 2015 (16 July 2026)
  10. Daily Observer, 21 July 2026 — Mandatory pre-litigation mediation extended to more districts

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp