বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা: পুরো যাত্রাপথ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা হলো পারিবারিক আদালতে কোনো স্বামী বা স্ত্রীর দায়ের করা মামলা, যেখানে আদালতকে অনুরোধ করা হয় যে অপর পক্ষ, যিনি আইনসংগত কারণ ছাড়া দাম্পত্য জীবন থেকে সরে গেছেন, তাঁকে ফিরে এসে আবার দাম্পত্য জীবন শুরুর আদেশ দেওয়া হোক।
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এই প্রতিকার বহাল রেখেছে, তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ব্যাপক, আদালতকে দুবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করতে হয়, এবং ডিক্রি কেবল পরোক্ষভাবে সম্পত্তি ক্রোক করে জারি করা যায়, কখনো কাউকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে নয়। আপিল যায় পারিবারিক আপিল আদালতে, তারপর রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে এবং অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে।
- কোথা থেকে শুরু
- যেখানে মামলার কারণ উদ্ভূত হয়েছে, অথবা যেখানে স্বামী-স্ত্রী বাস করেন বা সর্বশেষ একসঙ্গে বাস করেছেন, সেখানকার পারিবারিক…
- মূল আইন
- পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫(খ) ও ধারা ৬-১৯; মুসলিম বিবাহ আইন; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-৮
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: ডিক্রি পর্যন্ত ৬ থেকে ১৮ মাস; আপিল ও রিভিশনে আরও ১ থেকে ৪ বছর
- কে মামলা করতে পারেন
- যেকোনো স্বামী বা স্ত্রী, যাঁর সঙ্গী আইনসংগত কারণ ছাড়া একসঙ্গে বসবাস থেকে সরে গেছেন (ঐতিহাসিকভাবে স্বামী; হাইকোর্ট…
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগেপ্রতিকারটি উপযুক্ত কি না যাচাই করুন
স্বামী বা স্ত্রী মৌলিক উপাদানগুলো যাচাই করতে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করেন। একটি বৈধ ও বহাল বিবাহ থাকতে হবে, এবং অপর পক্ষকে একসঙ্গে বসবাস থেকে সরে যেতে হবে। সরে যাওয়াটিও হতে হবে আইনসংগত কারণ ছাড়া। আইনজীবী চলে যাওয়ার কারণগুলো দেখেন, কারণ এসব মামলার বেশিরভাগই নির্ধারিত হয় আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিতে। বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা প্রায়ই চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে, অথবা স্ত্রীর দেনমোহর বা তালাকের দাবির জবাবে দায়ের করা হয়। আইনজীবীর উচিত তা খোলাখুলি বলা।
বিবাহ ভেঙে গিয়ে থাকলে, যে ডিক্রি শারীরিকভাবে কার্যকর করা যায় না তার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা বা তালাক মক্কেলের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫(খ) · কাগজপত্র: কাবিননামা বা বিবাহ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বার্তা বা চিঠি, ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া দেনমোহর, ভরণপোষণ বা তালাকের মামলার বিবরণ
পরামর্শ: আগে যাচাই করুন অপর পক্ষ ইতিমধ্যে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন কি না; তালাক কার্যকর হলে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো বিবাহই আর থাকে না।
ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগেস্বামী বা স্ত্রীকে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানান
মামলার আগে, প্রায়ই আইনজীবীর মাধ্যমে, ভদ্রভাবে লিখিত অনুরোধ পাঠিয়ে ফিরে আসতে বলা প্রচলিত ও বিবেচনাপ্রসূত। তাতে উপযুক্ত বাসস্থানের প্রস্তাব থাকা উচিত এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধ বা পরিশোধের প্রস্তাব থাকা উচিত। পরে আদালত দেখেন আবেদনকারী সরল বিশ্বাসে কাজ করেছেন কি না এবং অপর পক্ষকে নিরাপদ ও যথাযথ বাসস্থানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না। হুমকিমূলক নোটিশ সাধারণত বিবাদীপক্ষকেই সাহায্য করে। তাৎক্ষণিক দেনমোহর অপরিশোধিত থাকায় স্ত্রী চলে গিয়ে থাকলে মামলার আগে তা পরিশোধ বা জমা দিলে তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তিটি দূর হয়। প্রাপ্তির প্রমাণ রাখুন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৪ সপ্তাহ · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১০ (চাওয়ামাত্র তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য) · কাগজপত্র: ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি বা আইনি নোটিশ, দেনমোহর পরিশোধ বা প্রস্তাবের প্রমাণ, ডাক রসিদ ও প্রাপ্তিস্বীকার কার্ড
পরামর্শ: শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসার দাবির চেয়ে আলাদা ও নিরাপদ বাসস্থানের আন্তরিক প্রস্তাব আদালতের কাছে বেশি গুরুত্ব পায়।
ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগেলিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (যেখানে কার্যকর)
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫-এর বিষয়গুলোর একটি, যা আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর তফসিলে রয়েছে। যেসব জেলায় ধারা ২১খ কার্যকর, সেখানে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে প্রথমে মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে হয়। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলেই কেবল মামলা করা যায়, এবং আরজির সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। প্রথম প্রজ্ঞাপনটি ৩১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০টি জেলায় প্রযোজ্য হয়েছে এবং তাতে ঢাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তাই সর্বশেষ তালিকা যাচাই করুন। প্রত্যয়িত মধ্যস্থতা চুক্তি চূড়ান্ত এবং ডিক্রির মতো কার্যকর।
কোথায়: জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ ও ধারা ২১গ (২০২৬ সালের ৪৫ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর তফসিলের ক্রমিক ১ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আবেদন, বিবাহের কাগজপত্র, মধ্যস্থতা চুক্তি বা ব্যর্থতার প্রতিবেদন
পরামর্শ: মধ্যস্থতায় বাসস্থান, দেনমোহর ও ভরণপোষণ একসঙ্গে নিষ্পত্তি করা যায়, যা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রিতে সম্ভব নয়।
ধাপ ৪ · দায়ের ও আত্মপক্ষ সমর্থনপারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল
বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা আরজির মাধ্যমে দায়ের করা হয় সেই এলাকার পারিবারিক আদালতে, যেখানে মামলার কারণ উদ্ভূত হয়েছে, অথবা যেখানে স্বামী-স্ত্রী বাস করেন বা সর্বশেষ একসঙ্গে বাস করেছেন। স্ত্রী যেখানে সাধারণত বাস করেন সেখানে মামলা করার বিশেষ বিধান কেবল তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলায় প্রযোজ্য, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারে নয়। আরজিতে বিবাহ এবং সরে যাওয়ার তারিখ ও পরিস্থিতি উল্লেখ থাকে। এতে আইনসংগত কারণের অনুপস্থিতি এবং প্রার্থিত প্রতিকারও দেখাতে হয়। সঙ্গে লাগে সাক্ষীর তফসিল, দলিলের তালিকা, জারির জন্য কপি এবং ২০০ টাকা কোর্ট ফি। ভুল আদালতে দাখিল করা আরজি সঠিক আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়া হয়।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(১)-(৮); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫ · কাগজপত্র: সাক্ষীর তফসিলসহ আরজি, দলিলের তালিকা, আরজির কপি, ২০০ টাকা কোর্ট ফি, ওকালতনামা, প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতার প্রতিবেদন
পরামর্শ: যেখানে সর্বশেষ একসঙ্গে বাস করেছেন সেখানকার আদালতে মামলা করুন; নিজের বাড়ির এলাকায় মামলা করা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় এখতিয়ার সংক্রান্ত একটি সাধারণ ভুল।
ধাপ ৫ · দায়ের ও আত্মপক্ষ সমর্থনসমন, নোটিশ ও হাজিরা
পারিবারিক আদালত হাজিরার একটি তারিখ নির্ধারণ করেন, সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে। আদালত অপর পক্ষের ওপর সমন এবং প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্টার্ড ডাকে নোটিশ জারি করেন, আর ইমেইল ঠিকানা দেওয়া থাকলে ইমেইলেও। সেই তারিখে বিবাদীকে সাক্ষী ও দলিলের তফসিলসহ লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়। আদালত আরও সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দিতে পারেন। যথাযথ জারির পরও বিবাদী হাজির না হলে আদালত একতরফাভাবে এগোতে পারেন। পর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে একতরফা ডিক্রি বাতিল করা যায়।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০ · কাগজপত্র: সমন, রেজিস্টার্ড নোটিশ, সাক্ষীর তফসিলসহ লিখিত জবাব
পরামর্শ: বিবাদীর কখনো সমন উপেক্ষা করা উচিত নয়; একতরফা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি পরে ভরণপোষণের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে।
ধাপ ৬ · দায়ের ও আত্মপক্ষ সমর্থনআত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি
লিখিত জবাবে বিবাদী কেন চলে গেছেন তা উল্লেখ করেন। আদালত কয়েকটি আইনসংগত কারণ স্বীকার করেন। প্রধানটি হলো নিষ্ঠুরতা: শারীরিক নির্যাতন, অব্যাহত মানসিক নির্যাতন, অসতীত্বের মিথ্যা অভিযোগ বা যৌতুকের দাবি। আরেকটি হলো তাৎক্ষণিক দেনমোহর অপরিশোধিত থাকা, কারণ তা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত একজন মুসলিম স্ত্রী একসঙ্গে বসবাসে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহও কারণ হিসেবে গণ্য। ভরণপোষণ না দেওয়া বা অনিরাপদ বাসস্থানও তাই। বিবাদীর উচিত প্রতিটি কারণ তারিখ ও সমর্থক কাগজপত্রসহ উল্লেখ করা। যৌতুক বা নির্যাতনের অভিযোগ, মেডিকেল প্রতিবেদন বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রমাণ কাজে লাগে।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: লিখিত জবাবের সঙ্গে দাখিল · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮(২)-(৪); মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬; মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২ (যে কারণগুলো আইনসংগত কারণ হিসেবেও গণ্য) · কাগজপত্র: মেডিকেল প্রতিবেদন, সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগের কপি, দ্বিতীয় বিবাহের প্রমাণ, বার্তা ও সাক্ষী
পরামর্শ: লিখিত জবাবে যে যুক্তি উল্লেখ করা হয়নি তা পরে তোলা কঠিন; শুরুতেই প্রতিটি কারণ ও প্রতিটি দলিল তালিকাভুক্ত করুন।
ধাপ ৭ · দায়ের ও আত্মপক্ষ সমর্থনসংশ্লিষ্ট কার্যধারা: তালাক, বিবাহবিচ্ছেদ বা দেনমোহরের দাবি
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা খুব কমই একা থাকে। এমন মামলার মুখোমুখি স্ত্রী নিজে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করতে পারেন, অথবা মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। তাঁর তালাকের অর্পিত ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) থাকলে তিনি তা প্রয়োগ করে চেয়ারম্যানকে নোটিশ পাঠাতে পারেন। সালিশি পরিষদের মাধ্যমে পক্ষগুলো আপস না করলে সাধারণত চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়। বিবাহ বিচ্ছিন্ন হলে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা অকার্যকর হয়ে যায়। পারিবারিক আদালত প্রায়ই একই স্বামী-স্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো একসঙ্গে শুনানি করেন।
কোথায়: সালিশি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি কর্পোরেশন) · সময়: মামলার পাশাপাশি চলে · আইন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭ ও ধারা ৮; মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ · কাগজপত্র: তালাকের নোটিশ ও চেয়ারম্যানের প্রাপ্তিস্বীকার, সংশ্লিষ্ট মামলার আরজির কপি, মামলাগুলো একসঙ্গে শুনানির আবেদন
পরামর্শ: প্রতিটি সংশ্লিষ্ট মামলার কথা আদালতকে জানান; সমান্তরাল মামলায় পরস্পরবিরোধী ডিক্রি পরে রিভিশনের একটি সাধারণ কারণ।
ধাপ ৮ · আপস-মীমাংসা ও বিচারবিচার-পূর্ব শুনানি ও আপস-মীমাংসা
লিখিত জবাবের ৩০ দিনের মধ্যে আদালত বিচার-পূর্ব শুনানি করেন। বিচারক আরজি-জবাব ও কাগজপত্র পরীক্ষা করেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সরাসরি শুনতে পারেন এবং প্রকৃত বিরোধের বিষয়গুলো চিহ্নিত করেন। আদালতকে তাঁদের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করতে হয়। দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় এই চেষ্টা অন্য যেকোনো পারিবারিক মামলার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিকারটিই হলো পুনর্মিলন। মীমাংসায় প্রায়ই থাকে আলাদা বাসস্থান, দেনমোহর পরিশোধ ও মাসিক খরচ। আপস ব্যর্থ হলে আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ঠিক করেন। শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে হতে পারে, এবং উভয় পক্ষ চাইলে তা রুদ্ধদ্বার কক্ষেই হতে হবে।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-৪ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১১; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২ · কাগজপত্র: আরজি ও লিখিত জবাব, প্রস্তাবিত আপস-শর্ত
পরামর্শ: স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সশরীরে উপস্থিত থাকা উচিত; তাঁদের সঙ্গে বিচারকের সরাসরি কথোপকথনই এই পর্যায়ের মূল বিষয়।
ধাপ ৯ · আপস-মীমাংসা ও বিচারসাক্ষ্য ও জেরা
প্রত্যেক পক্ষ নিজের সাক্ষী হাজির করে, যাঁরা সাধারণত স্বামী-স্ত্রী নিজেরা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং কখনো নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) বা চিকিৎসক। সাক্ষ্য হলফনামায় দেওয়া যায়, তারপর সাক্ষীকে জেরা করা হয়। আবেদনকারীকে বিবাহ, সরে যাওয়া এবং আইনসংগত কারণের অনুপস্থিতি দেখাতে হয়। এরপর বিবাদী নিষ্ঠুরতা, অপরিশোধিত দেনমোহর বা উল্লিখিত অন্য কারণ প্রমাণ করেন। বিচারক অশালীন, কুৎসাপূর্ণ বা অপমানের উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন থামাতে পারেন। বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় এই সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে অন্তরঙ্গ বিষয়ে অভিযোগ সাধারণ। কোনো সাক্ষীকে তলব করাতে চাইলে বিচার্য বিষয় গঠনের তিন দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে হয়।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ৩-৯ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২২ · কাগজপত্র: সাক্ষ্যের হলফনামা, চিকিৎসা ও পুলিশের রেকর্ড, বার্তা ও ছবি, দেনমোহরের রসিদ
পরামর্শ: আদালত উভয় পক্ষের আচরণ দেখেন; যে আবেদনকারী নিজেই নির্যাতন করেছেন বা ভরণপোষণ দেননি, তিনি খুব কমই সফল হন।
ধাপ ১০ · আপস-মীমাংসা ও বিচারদ্বিতীয় আপস-মীমাংসার চেষ্টা
সব সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হলে আদালতকে আবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করতে হয়। পরস্পরের সাক্ষ্য শোনার পর কিছু দম্পতি আবার একসঙ্গে থাকার শর্তে একমত হন। অন্যরা শর্তসাপেক্ষে আলাদা হতে রাজি হন, যেমন দেনমোহর পরিশোধসহ তালাক। যেকোনো ফল আপসমূলে ডিক্রি হিসেবে লিপিবদ্ধ করা যায়, যা অন্য যেকোনো ডিক্রির মতো কার্যকর। শর্তের মধ্যে থাকতে পারে আলাদা বাসস্থান, নির্দিষ্ট মাসিক খরচ এবং নির্যাতন না করার অঙ্গীকার। কোনো মীমাংসা না হলে আদালত রায়ের দিকে এগোন।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪(১); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৫ · কাগজপত্র: উভয়ের স্বাক্ষরিত আপসনামা, অঙ্গীকারনামা
পরামর্শ: সম্মত প্রতিটি শর্ত আপসমূলে ডিক্রিতেই লিপিবদ্ধ করুন; পাশাপাশি দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা যায় না।
ধাপ ১১ · রায় ও ডিক্রিরায়
বিবাদী আইনসংগত কারণ ছাড়া সরে গেছেন কি না, বিচারক তা নির্ধারণ করেন। আবেদনকারী সরে যাওয়া প্রমাণ করলেও আদালতের বিবেচনার ক্ষমতা থাকে। একসঙ্গে বসবাস বাধ্য করা অন্যায্য হলে আদালত ডিক্রি দিতে অস্বীকার করতে পারেন, অথবা আগে তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধের মতো শর্তে ডিক্রি দিতে পারেন। নেলী জামান বনাম গিয়াসউদ্দিন খান মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, অনিচ্ছুক স্ত্রীর বিরুদ্ধে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার সাংবিধানিক সমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই আদালত এসব দাবি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করেন। রায়ে নিষ্পত্তিকৃত বিষয় ও কারণ উল্লেখ করতে হবে। পক্ষগুলোকে তা অবিলম্বে বা সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪(২); পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬; নেলী জামান বনাম গিয়াসউদ্দিন খান, ৩৪ DLR ২২১ (HCD) · কাগজপত্র: রায়, রায়ের নোটিশ
পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ সিদ্ধান্তের দিন থেকে শুরু হয়, কেবল নকল তোলার সময় বাদ যায়।
ধাপ ১২ · রায় ও ডিক্রিডিক্রি প্রস্তুত
মামলা সফল হলে আদালত নির্ধারিত ফরমে ডিক্রি প্রস্তুত করে ডিক্রি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করেন। দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রিতে সাধারণত বিবাদীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে এসে আবেদনকারীর সঙ্গে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়, এবং আদালতের আরোপিত শর্তগুলো পুনরুল্লেখ করা হতে পারে। মামলা খারিজ হলে ডিক্রিতে তা লিপিবদ্ধ থাকে। যেভাবেই হোক, পরবর্তী কার্যধারায় ডিক্রিটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। যে স্ত্রী আইনসংগত কারণ ছাড়া এই ডিক্রি মানতে অস্বীকার করেন, তিনি সেই সময়ের ভরণপোষণের দাবি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন। যে স্বামীর মামলা ব্যর্থ হয়, তিনি প্রায়ই এরপর দেনমোহর বা ভরণপোষণের দাবির মুখোমুখি হন।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(১) · কাগজপত্র: ডিক্রি, ডিক্রি রেজিস্টারের এন্ট্রি, সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: ডিক্রির শর্তগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন; যে আবেদনকারী শর্ত পূরণ করেন না, তিনি অপর পক্ষের অমান্যতার অভিযোগ করতে পারেন না।
ধাপ ১৩ · ডিক্রির পরসীমিত জারি: ক্রোক, জোরজবরদস্তি নয়
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি টাকার ডিক্রি নয়, তাই পারিবারিক আদালত একে দেওয়ানি আদালতের মতো অর্থবহির্ভূত ডিক্রি হিসেবে জারি করেন। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্যকারী স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে একমাত্র বলপ্রয়োগমূলক ব্যবস্থা সম্পত্তি ক্রোক। ক্রোক এক বছর বহাল থাকার পরও ডিক্রি মানা না হলে সম্পত্তি বিক্রি করে ডিক্রিদারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়। ডিক্রি স্বামীর বিরুদ্ধে হলে আদালত এর বদলে স্ত্রীকে নিয়মিত অর্থ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন। কোনো আইন পুলিশ বা আদালতকে কাউকে শারীরিকভাবে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেয় না।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ৩-১৮ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(৬); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩২ ও ৩৩ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, ক্রোকযোগ্য সম্পত্তির তফসিল
পরামর্শ: দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি জারি ধীর এবং খুব কমই বিবাহ ফিরিয়ে আনে; বেশিরভাগ ডিক্রিদার মীমাংসায় দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ডিক্রিটি ব্যবহার করেন।
ধাপ ১৪ · ডিক্রির পরফিরে আসা, মীমাংসা বা বিচ্ছেদ
ডিক্রির পর সাধারণত তিনটি ঘটনা ঘটে। স্বামী-স্ত্রী আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করতে পারেন, প্রায়ই সম্মত শর্তে। তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করতে পারেন, যা সাধারণত দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ ও সন্তানের ভরণপোষণ পরিশোধসহ তালাকে শেষ হয়। অথবা বিবাদী ডিক্রি উপেক্ষা করতে পারেন, তখন আবেদনকারী জারির পথে যাবেন কি না সিদ্ধান্ত নেন। তাই বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা প্রায়ই আদালতকক্ষের বাইরে শেষ হয়। ডিক্রিটি পরে ভরণপোষণ ও আচরণের প্রশ্নে এবং সন্তানের হেফাজতের যেকোনো বিরোধে প্রাসঙ্গিক থাকে, যেখানে আদালত প্রত্যেক অভিভাবকের আচরণ দেখেন।
কোথায়: পারিবারিক আদালত · সময়: ১-১২ মাস · আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৫; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭ · কাগজপত্র: মীমাংসা চুক্তি, বিচ্ছেদ হলে তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের কাগজ, লিপিবদ্ধ হলে আপসমূলে ডিক্রি
পরামর্শ: পরবর্তী যেকোনো মীমাংসায় দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রির বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত, যাতে তা আর পুনরুজ্জীবিত করা না যায়।
যদি এমন হয়…? দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল করলে কী হবে?
- 1পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)
পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল
রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো পক্ষ পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করতে পারেন, যা আলাদা আদালত প্রজ্ঞাপিত না হওয়া পর্যন্ত জেলা জজের আদালত। সার্টিফায়েড কপি পেতে প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে, এবং যথেষ্ট কারণে আদালত সময় বাড়াতে পারেন। আপিলের মেমোরেন্ডামে কারণ ও পক্ষগুলোর উল্লেখ থাকতে হবে, আপিলকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করতে হবে। জেলা জজ এটি অতিরিক্ত বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন।
দায়েরে ১ মাস; নিষ্পত্তিতে ৬-১৮ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯(১)-(৪) ও ধারা ১৯(৬) - 2পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)
তথ্য ও আইনের পুনঃশুনানি
আপিল আদালত নথির ভিত্তিতে পুরো মামলা পুনর্বিবেচনা করেন, নিষ্ঠুরতা, দেনমোহর ও আইনসংগত কারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ। আদালত ডিক্রি বহাল রাখতে, বাতিল করতে বা সংশোধন করতে পারেন, যেমন আগে তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধের শর্ত যোগ করে। কোনো পক্ষ যাতে আপিল ব্যর্থ করতে না পারে, সেজন্য আদালত অন্তর্বর্তী আদেশও দিতে পারেন। এর সিদ্ধান্ত পারিবারিক আদালতে পাঠানো হয়, যিনি সে অনুযায়ী নিজের ডিক্রি ও রেজিস্টার সংশোধন করেন।
শুনানির ১-২ মাস পরপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯(৫)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিলের সিদ্ধান্ত বিচারিক আদালতের ডিক্রির স্থান নেয় এবং পারিবারিক আদালতের রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয়।
হাইকোর্ট বিভাগ কি সিদ্ধান্ত রিভিশন করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আইনগত প্রশ্নে দেওয়ানি রিভিশন
দ্বিতীয় আপিলের সুযোগ নেই। সংক্ষুব্ধ পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। তাঁকে দেখাতে হবে যে পারিবারিক আপিল আদালত আইনগত ভুল করেছেন, যার ফলে ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। উদাহরণ: আত্মপক্ষের যুক্তি হিসেবে তাৎক্ষণিক দেনমোহর সংক্রান্ত আইন ভুলভাবে পড়া, বা নিষ্ঠুরতার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করা। হাইকোর্ট বিভাগ বিচারিক আদালতের মতো সাক্ষ্য পুনর্মূল্যায়ন করেন না। আদালত রুল জারি করে এর মধ্যে জারি স্থগিত রাখতে পারেন।
রুল ১-৩ মাসে; নিষ্পত্তি ১-৩ বছরেদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
অন্তর্বর্তী আদেশ ও অনুমতি
পারিবারিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে, যেমন অন্তর্বর্তীকালীন বাসস্থানের ব্যবস্থা নিয়ে, প্রথমে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করতে হয়। এরপর হাইকোর্ট বিভাগে আরও চ্যালেঞ্জের জন্য অনুমতি লাগে, যা দেওয়া হয় কেবল এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে, যার ফলে ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(৪)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রুল চূড়ান্ত বা খারিজ হয়, অথবা মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত যায়।
আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারেন?
- 1পারিবারিক আদালত
পারিবারিক আদালতে রিভিউ নেই
পারিবারিক আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ অনুযায়ী রিভিউর ক্ষমতা নেই। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ ধারা ১০ ও ১১ ছাড়া তাঁদের কার্যধারায় কার্যবিধির প্রয়োগ বাদ দিয়েছে। ভুল সংশোধন করতে হবে আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমে। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো ৩০ দিনের মধ্যে ডিফল্টে খারিজ হওয়া মামলা পুনরুজ্জীবন বা একতরফা ডিক্রি বাতিল।
প্রযোজ্য নয়পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮(১)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৫)-(৬) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ
হাইকোর্ট বিভাগে কার্যবিধি প্রযোজ্য, তাই এর রিভিশন রায় ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ অনুযায়ী রিভিউ করা যায়। কারণগুলো হলো নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল, বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ। আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন। রিভিউ ছদ্মবেশী আপিল নয় এবং খুব কমই মঞ্জুর হয়।
২-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মূল রায় প্রায় সবসময়ই বহাল থাকে।
পারিবারিক আদালত কি আইনগত প্রশ্ন ওপরে রেফার করতে পারেন?
- 1পারিবারিক আদালত
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ অনুযায়ী রেফারেন্স নেই
দেওয়ানি আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের মতামতের জন্য বিষয় বিবৃত করতে পারেন। পারিবারিক আদালত তা পারেন না, কারণ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮ এর কার্যধারা থেকে কার্যবিধি বাদ দিয়েছে। অপরিশোধিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রীর একসঙ্গে বসবাসে অস্বীকৃতিকে ন্যায্য করে কি না, এমন প্রশ্ন পারিবারিক আদালত নিজেই নিষ্পত্তি করেন। এগুলো হাইকোর্ট বিভাগে পৌঁছায় কেবল আপিল এবং তারপর রিভিশনের মাধ্যমে।
প্রযোজ্য নয়পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮(১)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আইনগত প্রশ্ন ওপরে যায় কেবল আপিল ও রিভিশনের মাধ্যমে।
মামলা নিচে ফেরত পাঠানো হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নতুন সিদ্ধান্তের জন্য পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
নিম্ন আদালতগুলো উল্লিখিত কোনো আত্মপক্ষের যুক্তি বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত দিলে, বা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করলে, হাইকোর্ট বিভাগ উভয় সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন। এরপর নির্দেশনাসহ মামলাটি পারিবারিক আদালতে ফেরত পাঠান, যেমন স্ত্রী চলে যাওয়ার আগে তাৎক্ষণিক দেনমোহর চাওয়া ও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল কি না তা নির্ধারণের জন্য। বিচারে ত্রুটি থাকলে পারিবারিক আপিল আদালতও একইভাবে পারিবারিক আদালতে মামলা ফেরত পাঠাতে পারেন।
রিভিশন নিষ্পত্তির সময় আদেশদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯(৫) - 2পারিবারিক আদালত
নিম্ন আদালতে পুনর্বিচার ও আবার ওপরে ওঠা
পারিবারিক আদালত ফেরত পাঠানো বিষয়গুলোতে মামলা পুনরায় শুরু করেন, নির্দেশ থাকলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন এবং নতুন রায় ও ডিক্রি দেন। সেই ডিক্রির বিরুদ্ধেও আবার পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল এবং হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়। ফেরত পাঠানোয় প্রক্রিয়ার একাংশ আবার শুরু হয় বলে পক্ষগুলো প্রায়ই এই বিরতিতে আলোচনা করে।
৬-১৮ মাসপারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩-১৭পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে নতুন ডিক্রি হয়, যা আবার আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে যেতে পারে।
মামলা কি আপিল বিভাগে পৌঁছাতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি
হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন (লিভ পিটিশন) দাখিল করতে পারেন। অনুমতি দেওয়া হয় কেবল গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন থাকলে বা গুরুতর অবিচার হলে। অনুমতি মিললে যে বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার ওপর দেওয়ানি আপিল হিসেবে শুনানি হয়। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অধস্তন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল রিভিউ সাপেক্ষে।
প্রতিকারটি কি নিজেই সংবিধানসম্মত?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
সাংবিধানিক বিতর্ক
সমালোচকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ককে একসঙ্গে বসবাসে বাধ্য করার আদালতের আদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২-এর সমতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নেলী জামান মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ প্রতিকারটিকে সেকেলে বলেছেন এবং অনিচ্ছুক স্ত্রীর বিরুদ্ধে তা কার্যকর করা সাংবিধানিক সমতার পরিপন্থী বলে মত দিয়েছেন। তবুও সংসদ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫(খ)-তে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার বহাল রেখেছে। বিধানটিকেই চ্যালেঞ্জ করতে হলে অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশন দায়ের করতে হবে।
পরিবর্তনশীলবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ১০২পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫(খ)নেলী জামান বনাম গিয়াসউদ্দিন খান, ৩৪ DLR ২২১ (HCD)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: প্রতিকারটি আইনে বহাল আছে, তবে আদালত তা সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করেন এবং কখনো শারীরিক বলপ্রয়োগে নয়।
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা শুরু হয় পারিবারিক আদালতে, যেখানে একজন সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ সভাপতিত্ব করেন। এই পদগুলোর আগের নাম ছিল সহকারী জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ, এবং পরিবর্তনটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। কোনো টাকা দাবি করা হয় না, তাই আর্থিক এখতিয়ারের সীমার প্রশ্ন ওঠে না, এবং প্রতিটি মামলা একই স্তরে শুরু হয়। প্রথম আপিল যায় পারিবারিক আপিল আদালতে, যা আলাদা আদালত প্রজ্ঞাপিত না হওয়া পর্যন্ত জেলা জজের আদালত। এই আদালত নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন উভয় বিষয় পুনরায় শোনেন এবং আপিলটি অতিরিক্ত বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন।
অধিকাংশ তালাকের ডিক্রি ও ছোট অঙ্কের দেনমোহরের ডিক্রির মতো নয়, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় আইনে আপিলে কোনো বাধা নেই। জেলার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী দেওয়ানি রিভিশনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধান করেন, যা ন্যায়বিচার ব্যাহত করা আইনগত ভুলে সীমিত। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে যাওয়া যায়। এই শেষ ধাপটি বিবেচনামূলক এবং আইনসংগত কারণের পরিধি বা প্রতিকারটির সাংবিধানিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নের জন্য সংরক্ষিত।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়পারিবারিক আপিল আদালত (জেলা জজ)
- প্রথম দফার আদালতপারিবারিক আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সালিশি পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি কর্পোরেশন)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
পারিবারিক আদালত, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাপারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ / পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর অধীন বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলা শুনানি করে।
পারিবারিক আদালত (Family Court) হলো সিভিল জজ (সিভিল জজ) আদালত। জাজশিপ পোর্টালে পারিবারিক আদালত-০৫, ঢাকা-র উল্লেখ আছে, এবং ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের নিচতলায় দেখানো হয়েছে; প্রতিটি নম্বরযুক্ত পারিবারিক আদালতের সঠিক কক্ষ প্রকাশিত নয়, তাই কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে পারিবারিক আদালত আছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, জনসন রোড, ঢাকাআইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীন যাঁদের আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তাঁদের বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও প্যানেল আইনজীবী দেয়, এবং মামলার আগে ও চলাকালে মধ্যস্থতা পরিচালনা করে।
অফিসের প্রধান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, যিনি ঢাকা জাজশিপের একজন সিনিয়র সিভিল জজ; কক্ষ ও তলা নিশ্চিত করা যায়নি। আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের ২০২৬ সালের সংশোধনীর অধীন প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে কিছু বিরোধে মামলার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক। জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন: ১৬৪৩০। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
ডিএসসিসি: নগর ভবন, ঢাকা-১০০০; ডিএনসিসি: গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, প্লট ২৩-২৬, রোড ৪৬, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২পৌর সংস্থা: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, এবং অঞ্চল/ওয়ার্ড অফিসের মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর অধীন সালিশি পরিষদের (চেয়ারম্যানের) কাজ।
ডিএনসিসির ওয়েবসাইট: https://dncc.gov.bd। তালাকের নোটিশ ও সালিশি পরিষদের বিষয়গুলো প্রধান কার্যালয়ে নয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হয়। ম্যাপ লিংকটি ডিএসসিসির নগর ভবন দেখায়; ডিএনসিসির জন্য গুলশানের ঠিকানা খুঁজুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of conjugal rights)
- এমন ডিক্রি, যা আইনসংগত কারণ ছাড়া দাম্পত্য জীবন থেকে সরে যাওয়া স্বামী বা স্ত্রীকে ফিরে এসে আবার দাম্পত্য জীবন শুরুর নির্দেশ দেয়।
- আইনসংগত কারণ (Lawful cause)
- আলাদা থাকার এমন কারণ যা আইন স্বীকার করে, যেমন নিষ্ঠুরতা, অপরিশোধিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর বা অনুমতিহীন দ্বিতীয় বিবাহ। এটি পূর্ণাঙ্গ আত্মপক্ষের যুক্তি।
- তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt dower)
- চাওয়ামাত্র পরিশোধযোগ্য দেনমোহর। তা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত একজন মুসলিম স্ত্রী একসঙ্গে বসবাসে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
- তালাক-ই-তৌফিজ (Talaq-e-tafweez)
- স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অর্পিত তালাকের ক্ষমতা, সাধারণত কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে, যা স্ত্রী নোটিশ দিয়ে প্রয়োগ করতে পারেন।
- একতরফা ডিক্রি (Ex parte decree)
- যথাযথ জারির পর বিবাদীর অনুপস্থিতিতে দেওয়া ডিক্রি। পর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে তা বাতিল করা যায়।
- ক্রোক (Attachment)
- সম্পত্তি আটকে রাখার আদালতের আদেশ, যাতে মালিক তা হস্তান্তর করতে না পারেন। দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি জারির এটিই একমাত্র বলপ্রয়োগমূলক উপায়।
- পারিবারিক আপিল আদালত (Family Appellate Court)
- জেলা জজ পদমর্যাদার আদালত, যা পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনেন।
- অকার্যকর (Infructuous)
- আর কোনো ফল দিতে অক্ষম। বিবাহ বিচ্ছিন্ন হলে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা অকার্যকর হয়ে যায়।
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
স্ত্রী কি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারেন?
আদালত কি আমার স্বামী বা স্ত্রীকে জোর করে ফিরিয়ে আনতে পারেন?
দেনমোহর না দেওয়া কি আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি হতে পারে?
আমার মামলা কোন আদালতে হবে?
মামলা চলাকালে স্ত্রী তালাক দিলে কী হবে?
ডিক্রি মানতে অস্বীকার করলে কি অন্য পরিণতি আছে?
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রির বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?
অমুসলিমরাও কি একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন?
আইন ও উৎস
- Family Courts Act 2023 (Act 26 of 2023), Bangladesh Legal Database
- Muslim Family Laws Ordinance 1961, Bangladesh Legal Database
- Dissolution of Muslim Marriages Act 1939, Bangladesh Legal Database
- Code of Civil Procedure 1908, Bangladesh Legal Database
- Legal Aid Services (Amendment) Act 2026 (Act 45 of 2026), Bangladesh Legal Database
- The Daily Star: Analysis of the Family Courts Act 2023 (restitution and Nelly Zaman)
- High Court Division, Civil Revision No. 3076 of 2019 (Family Court jurisdiction under s.5)
- High Court Division, Civil Revision No. 3941 of 2022 (revision with leave from Family Appeal)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।