স্বত্ব ঘোষণার মামলা: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
স্বত্ব ঘোষণার মামলায় (declaration of title suit) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (Specific Relief Act)-এর ধারা ৪২ অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতকে ঘোষণা দিতে বলা হয় যে একটি নির্দিষ্ট জমির মালিক আপনি, সাধারণত আনুষঙ্গিক প্রতিকারসহ, যেমন দখল পুনরুদ্ধার বা প্রতিপক্ষের দলিল বা খতিয়ানের এন্ট্রি আপনার ওপর বাধ্যকর নয় মর্মে ঘোষণা।
মামলা শুরু হয় সেই দেওয়ানি আদালতে যার আর্থিক এখতিয়ার সম্পত্তির মূল্যের সঙ্গে মেলে, এরপর আরজি-জবাব, মধ্যস্থতা, সাক্ষ্য ও ডিক্রির ধাপ পেরিয়ে আপিলে জেলা জজের কাছে এবং রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে। নিচের প্রতিটি ধাপে দেখানো হয়েছে কে কাজ করেন, কোন কাগজ লাগে এবং পেছনের আইন কী।
- কোথা থেকে শুরু
- জমি যেখানে অবস্থিত সেখানকার প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত: সিভিল জজ (১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্য), সিনিয়র সিভিল জজ…
- মূল আইন
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (ধারা ৪২); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (CPC); দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ (ধারা ১৮, ১৯, ২১
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা: বিচারিক পর্যায়ে ২-৬ বছর; আপিল, রিভিশন ও আপিল বিভাগ পেরোলে ৫-১২ বছর বা…
- কে মামলা করতে পারেন
- জমিতে অধিকার বা স্বত্ব দাবি করেন এবং সেই স্বত্ব অস্বীকারের মুখে পড়েছেন এমন যে কেউ, যেমন ওয়ারিশ, ক্রেতা ও শরিক
স্বত্ব ঘোষণার মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দাখিলের আগেআইনজীবীর সঙ্গে স্বত্ব যাচাই
স্বত্ব ঘোষণার মামলার খসড়া করার আগে জমি-সংক্রান্ত আপনার কাছে থাকা প্রতিটি কাগজ নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করুন। আইনজীবী সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস খতিয়ান থেকে প্রতিটি দলিল, উত্তরাধিকার ও নামজারি হয়ে আপনার পর্যন্ত স্বত্বের ধারাবাহিকতা (chain of title) খুঁজে বের করেন, এবং ঠিক কে ও কীভাবে আপনার স্বত্ব অস্বীকার করছে তা চিহ্নিত করেন। মূল সিদ্ধান্ত হলো কোন প্রতিকার চাওয়া হবে। আরও প্রতিকার চাওয়া সম্ভব হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২ শুধু ঘোষণা চাওয়া বারিত করে, তাই দখলচ্যুত বাদীকে সাধারণত দখল পুনরুদ্ধারের প্রার্থনা যোগ করতে হয়, আর প্রতিপক্ষের দলিলের জন্য বাতিলের প্রার্থনা লাগতে পারে।
তামাদিও এখানেই যাচাই করা হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২ (শর্তাংশ); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর তফসিল ১-এর অনুচ্ছেদ ১২০, ১৪২ ও ১৪৪ · কাগজপত্র: মালিকানা দলিল ও বায়া দলিল, খতিয়ানের কপি, নামজারির কাগজপত্র, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রসিদ (ডিসিআর)
পরামর্শ: দখলে না থাকলে 'শুধু ঘোষণার' মামলা করবেন না। কেবল ধারা ৪২-এর শর্তাংশের কারণেই মামলা ব্যর্থ হতে পারে।
ধাপ ২ · দাখিলের আগেভূমি রেকর্ডের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ
আইনজীবীর মুহুরি মামলা যেসব রেকর্ডের ওপর নির্ভর করে তার প্রতিটির সার্টিফায়েড কপির আবেদন করেন: জেলা রেকর্ড রুম থেকে সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ, এসি ল্যান্ড অফিস থেকে নামজারি মামলার নথি ও ডিসিআর, এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিবন্ধিত দলিল ও ভলিউম এন্ট্রির সার্টিফায়েড কপি। এই সার্টিফায়েড কপিগুলো গ্রহণযোগ্য সরকারি দলিল। চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপির (record-of-rights) এন্ট্রি অপ্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়, তাই আপনার বিপক্ষে ভুল এন্ট্রি থাকলে শুধু অস্বীকার করলে চলবে না, সাক্ষ্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
কোথায়: রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪ক; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৭ ও ৭৪-৭৭; রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫৭ · কাগজপত্র: খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি, মৌজা ম্যাপের অংশ, দলিলের সার্টিফায়েড কপি, নামজারি মামলার নথির কপি
পরামর্শ: আপনার একমাত্র অভিযোগ যদি চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত জরিপ রেকর্ডে ভুল এন্ট্রি হয়, তাহলে প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৫ক অনুযায়ী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালই সঠিক ফোরাম হতে পারে।
ধাপ ৩ · দাখিলের আগেমামলার মূল্যায়ন ও আদালত নির্বাচন
এখতিয়ারের জন্য মামলার মূল্য ধরা হয় জমির বাজারমূল্যে। এই মূল্যই বিচারিক আদালত ঠিক করে: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ, সবই জমি যে জেলায় অবস্থিত সেখানে। কোর্ট ফি আলাদা বিষয়: শুধু ঘোষণার জন্য নির্ধারিত ৩০০ টাকা, আর আনুষঙ্গিক প্রতিকার বা দখলসহ ঘোষণার জন্য উল্লিখিত মূল্যের ওপর মূল্যানুপাতিক ফি। প্রতিকারের কম মূল্যায়ন করলে ঘাটতি ফি দেওয়ার আদেশ বা আরজি নামঞ্জুর হতে পারে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর ধারা ১৬; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৮, ১৯ (২০২১, ২০২৬ সালে সংশোধিত); কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(৪)(গ), ধারা ৭(৫), তফসিল ২-এর অনুচ্ছেদ ১২(iii); মামলার মূল্যায়ন আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ৮; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ · কাগজপত্র: মূল্যায়নের বিবরণী, কোর্ট ফি স্ট্যাম্প
পরামর্শ: ২ নভেম্বর ২০২৫ থেকে (দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬) সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজকে সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ বলা হয়। ২০২১ সালে নির্ধারিত আর্থিক এখতিয়ার বদলায়নি।
ধাপ ৪ · দাখিল ও আরজি-জবাবআরজি দাখিল
আইনজীবী বাদীর স্বাক্ষরিত ও সত্যায়িত আরজি দাখিল করেন, সঙ্গে জেলা, উপজেলা, মৌজা, জেএল নম্বর, খতিয়ান, দাগ ও পরিমাণসহ জমির এমন নির্ভুল তফসিল থাকে যাতে ডিক্রি জারি করা যায়। স্বত্ব ঘোষণার মামলায় আরজিতে স্বত্বের ধারাবাহিকতা, অস্বীকারের তারিখ ও ধরন, মামলার কারণ এবং প্রার্থিত প্রতিকার উল্লেখ থাকে। নির্ভরযোগ্য কাগজপত্রের একটি তালিকা সংযুক্ত করা হয়। আদালত মামলাটি স্বত্ব মামলা (title suit) হিসেবে নিবন্ধন করেন, কোর্ট ফি ও এখতিয়ার যাচাই করেন এবং বিবাদীর হাজিরার তারিখ ধার্য করেন।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: দাখিলে ১ দিন; নিবন্ধনে ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৪-১৫; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১, ৩ ও ১৪ · কাগজপত্র: জমির তফসিলসহ আরজি, ওকালতনামা, কাগজপত্রের তালিকা, কোর্ট ফি, প্রত্যেক বিবাদীর জন্য কপি
পরামর্শ: অস্পষ্ট জমির তফসিল পরে ডিক্রি জারি অসম্ভব হয়ে পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি।
ধাপ ৫ · দাখিল ও আরজি-জবাববিবাদীদের ওপর সমন জারি
আদালত প্রত্যেক বিবাদীর ওপর সমন জারি করেন, হালনাগাদ খতিয়ানে যাঁদের নাম আছে তাঁদেরসহ, এবং সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকলে জেলা প্রশাসকের ওপরও। সমন যায় আদালতের জারিকারক ও রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে, এবং ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর বাদীর খরচে এসএমএস, ভয়েস কল, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও ই-মেইলেও পাঠানো যায়। ব্যক্তিগতভাবে জারি ব্যর্থ হলে আদালত পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে বিকল্প জারির আদেশ দিতে পারেন। সরকার বিবাদী হলে সাধারণত দাখিলের আগে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুযায়ী দুই মাসের নোটিশ দিতে হয়।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ৯, ৯ক ও ২০ (২০২৬ সালে সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮০ · কাগজপত্র: সমন, ডাক ও জারির ফেরত প্রতিবেদন, ধারা ৮০-এর নোটিশ (সরকার পক্ষ হলে)
পরামর্শ: শরিক ওয়ারিশের মতো আবশ্যকীয় পক্ষ বাদ পড়া মামলা খারিজের একটি সাধারণ কারণ। রেকর্ডে স্বার্থ আছে এমন সবাইকে পক্ষ করুন।
ধাপ ৬ · অন্তর্বর্তী সুরক্ষা ও মধ্যস্থতাঅস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা
মামলা চলাকালে বিবাদী যদি জমি বিক্রি করতে, তাতে স্থাপনা নির্মাণ করতে বা আপনাকে দখলচ্যুত করতে চেষ্টা করে, বাদী হলফনামাসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (temporary injunction) আবেদন করেন। আদালত দেখেন প্রাথমিকভাবে মামলা প্রতীয়মান কি না, সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য এবং অপূরণীয় ক্ষতি। সাধারণত আগে অপর পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়; বিলম্বে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলে তবেই নোটিশ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া যায়। আদালত এর বদলে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিতে পারেন। আদেশ অমান্য করলে সম্পত্তি ক্রোক এবং ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাবাস হতে পারে।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২ সপ্তাহ থেকে ৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ১-৪; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪(গ) ও ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ নিষেধাজ্ঞার আবেদন, ছবি বা স্থানীয় পরিদর্শন প্রতিবেদন
পরামর্শ: নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ওপর আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(r) অনুযায়ী জেলা জজের কাছে আপিল চলে।
ধাপ ৭ · দাখিল ও আরজি-জবাবলিখিত জবাব ও বিচার্য বিষয় গঠন
সমন জারির ত্রিশ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাদীকে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়; পরে দাখিল কেবল যুক্তিসংগত কারণে এবং সাধারণত খরচ দিয়ে অনুমোদিত। বিবাদী প্রতিটি অভিযোগের জবাব দেন, নিজের স্বত্ব তুলে ধরেন এবং তামাদি, পক্ষ বাদ পড়া, মূল্যায়ন বা ধারা ৪২-এর বাধার প্রশ্ন তুলতে পারেন। এরপর আদালত আরজি ও জবাব পড়েন, প্রয়োজনে পক্ষদের পরীক্ষা করেন এবং তথ্য ও আইনের বিচার্য বিষয় (issues) গঠন করেন, যেমন বাদীর স্বত্ব আছে কি না, তিনি দখলে আছেন কি না এবং মামলাটি চলমানযোগ্য কি না।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৮ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১ ও ৫; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ১ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, বিবাদীর কাগজপত্র, বিচার্য বিষয় গঠনের আদেশ
পরামর্শ: অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আদেশ ৮ বিধি ৫ অনুযায়ী ঢালাও অস্বীকারকে স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
ধাপ ৮ · অন্তর্বর্তী সুরক্ষা ও মধ্যস্থতাআদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা
লিখিত জবাব দাখিল হলে আদালতকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হয়, নিজে অথবা পক্ষদের তাঁদের আইনজীবী, লিগ্যাল এইড অফিসার বা জেলা জজের প্যানেলের মধ্যস্থতাকারীর কাছে পাঠিয়ে। মধ্যস্থতা সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়, যা ত্রিশ দিন বাড়ানো যায়। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে বিরোধে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই এখানে মীমাংসা করেন, যেমন অংশ নির্ধারণ বা বিক্রিতে সম্মত হয়ে। মীমাংসা হলে আপস ডিক্রি (compromise decree) হয়। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে এতে বলা কোনো কথা বিচারে ব্যবহার করা যায় না, এবং মামলা চলতে থাকে।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার প্রতিবেদন, মীমাংসা চুক্তি (হলে)
পরামর্শ: ধারা ৮৯ক অনুযায়ী মধ্যস্থতায় মীমাংসা হলে আরজিতে দেওয়া কোর্ট ফি ফেরত পাওয়া যায়।
ধাপ ৯ · বিচারঅ্যাডভোকেট কমিশনারের স্থানীয় তদন্ত
বিরোধ যেখানে জমির পরিচয়, সীমানা বা দখল নিয়ে, সেখানে আদালত সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করেন, কখনো আমিনসহ। কমিশনার মৌজা ম্যাপের সঙ্গে মিলিয়ে দাগগুলো মাপেন, কে দখলে আছেন এবং কী স্থাপনা আছে তা লিপিবদ্ধ করেন, এবং নকশাসহ প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেকোনো পক্ষ আপত্তি দিতে পারে, এবং কমিশনারকে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করা যায়। প্রতিবেদন সাক্ষ্য, তবে আদালত তা মানতে বাধ্য নন।
কোথায়: রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ৯-১০ · কাগজপত্র: কমিশনের আবেদন, কমিশন প্রতিবেদন ও নকশা, প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি
পরামর্শ: নিজের আমিন ও সাক্ষী নিয়ে স্থানীয় পরিদর্শনে উপস্থিত থাকুন। পরে তোলা আপত্তির গুরুত্ব কম।
ধাপ ১০ · বিচারপক্ষদের সাক্ষ্য
চূড়ান্ত শুনানিতে (peremptory hearing) বাদী প্রথমে স্বত্ব প্রমাণ করেন। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর পক্ষদের জবানবন্দি (examination-in-chief) হলফনামায় দেওয়া হয়, এরপর আদালতে সাক্ষীকে জেরা করা হয়। বাদী সার্টিফায়েড দলিল, খতিয়ান, নামজারির রেকর্ড ও খাজনার রসিদ প্রদর্শনী হিসেবে দাখিল করেন, এবং দখল প্রমাণে প্রতিবেশী বা বিক্রেতাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকেন। এরপর বিবাদী সাক্ষ্য দেন। চূড়ান্ত শুনানির আগে কোনো পক্ষের অনুরোধে চারটির বেশি মুলতবি দেওয়া যায় না; এর পরের মুলতবিতে খরচ দিতে হয় এবং তা কঠোরভাবে সীমিত। বিতর্কিত স্বাক্ষর হস্তলিপি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো যেতে পারে।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ১-৪; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত, ৮ মে ২০২৫ থেকে কার্যকর); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) (২০২৬ সালে সংশোধিত); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৪৫, ৭৩ ও ১০১-১০৩ · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনী হিসেবে চিহ্নিত দলিল ও খতিয়ান, সাক্ষীর সমন
পরামর্শ: স্বত্ব প্রমাণের দায় বাদীর। বিবাদীর মামলার দুর্বলতা আপনার নিজের স্বত্বের ধারাবাহিকতার ফাঁক পূরণ করে না।
ধাপ ১১ · বিচারযুক্তিতর্ক
সাক্ষ্য শেষ হলে উভয় পক্ষের আইনজীবী প্রদর্শনী, প্রত্যেক সাক্ষীর জবানবন্দি এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের নজির উল্লেখ করে একটি একটি করে বিচার্য বিষয়ে যুক্তি দেন। সাধারণ প্রশ্নগুলো হলো বাদী অবিচ্ছিন্ন স্বত্বের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছেন কি না, স্বত্বলিপির অনুমান খণ্ডিত হয়েছে কি না, মামলা তামাদি বা বিরুদ্ধ দখলের (adverse possession) কারণে বারিত কি না, এবং ধারা ৪২-এর শর্তাংশ প্রযোজ্য কি না। প্রায়ই লিখিত যুক্তিতর্কও দাখিল করা হয়।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ২ · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তিতর্ক, উদ্ধৃত রায়ের কপি
পরামর্শ: আপনার স্বত্বের ধারাবাহিকতার প্রতিটি প্রদর্শনী নম্বরে বিচারিক আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন; বিচারকেরা নথিতে যা প্রমাণিত তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দেন।
ধাপ ১২ · ডিক্রি ও বাস্তবায়নরায়
আদালত প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করেন, তখনই অথবা শুনানির সাত দিনের মধ্যে কোনো পরবর্তী তারিখে, প্রতিটি বিচার্য বিষয়ে কারণসহ সিদ্ধান্ত দিয়ে। স্বত্ব ঘোষণার মামলায় বাদী সফল হলে আদালত তফসিলভুক্ত জমিতে বাদীর স্বত্ব ঘোষণা করেন এবং প্রমাণিত আনুষঙ্গিক প্রতিকার দেন, যেমন খাস দখল পুনরুদ্ধার, অথবা প্রতিপক্ষের দলিল বা খতিয়ানের এন্ট্রি বাধ্যকর নয় মর্মে ঘোষণা। আদালত খরচও দিতে পারেন। মামলা আংশিকভাবেও ডিক্রি হতে পারে।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: যুক্তিতর্কের দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১, ৪ ও ৫; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২ · কাগজপত্র: স্বাক্ষরিত রায়
পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিলের সময় ডিক্রি থেকে গণনা হয়, এবং দ্রুত আবেদন করলেই কেবল নকলের সময় বাদ যায়।
ধাপ ১৩ · ডিক্রি ও বাস্তবায়নডিক্রি প্রস্তুত
ডিক্রি রায় থেকে আলাদাভাবে প্রস্তুত হয় এবং রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হয়। এতে প্রতিকার, জমির তফসিল ও খরচ উল্লেখ থাকে। ডিক্রির ভুল দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫২ অনুযায়ী সংশোধন করা যায়। শুধু স্বত্ব ঘোষণার ডিক্রি জারির প্রয়োজন হয় না, তবে তা পক্ষগণ ও তাঁদের মাধ্যমে দাবিদারদের ওপর বাধ্যকর এবং রেকর্ড হালনাগাদে ব্যবহার হয়। দখল বা অন্য আনুষঙ্গিক প্রতিকার দেওয়া হলে ডিক্রিদার জারির পথে যান।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ৬ ও ৭; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫২ · কাগজপত্র: ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, রায়ের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: ডিক্রি সংগ্রহের আগে এর জমির তফসিল আরজির সঙ্গে শব্দে শব্দে মিলিয়ে নিন।
ধাপ ১৪ · ডিক্রি ও বাস্তবায়নদখলের ডিক্রি জারি
ডিক্রিতে দখল পুনরুদ্ধারের আদেশ থাকলে ডিক্রিদার জারির আবেদন করেন, যা ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর মূল মামলার মধ্যেই চালানো যায়। আদালত দখল বুঝিয়ে দেওয়ার রিট (writ of delivery of possession) জারি করেন, এবং আদালতের নাজির জমিতে গিয়ে দায়িককে সরিয়ে ডিক্রিদারকে দখল বুঝিয়ে দেন, আদালত নির্দেশ দিলে পুলিশের সহায়তায়। চূড়ান্ত ডিক্রির তিন বছরের মধ্যে, অথবা সার্টিফায়েড কপি নিবন্ধিত হলে ছয় বছরের মধ্যে, জারির আবেদন করতে হয়।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ৩ মাস থেকে ২ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩৫, ৯৭ ও ১০৪ (বিধি ১০৪ ২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর তফসিল ১-এর অনুচ্ছেদ ১৮২ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, দখল বুঝিয়ে দেওয়ার রিট, নাজিরের ফেরত প্রতিবেদন
পরামর্শ: স্বতন্ত্র স্বত্ব দাবিকারী তৃতীয় পক্ষ প্রায়ই জারিতে বাধা দেয়; জারিকারী আদালত আদেশ ২১ বিধি ৯৭-১০১ অনুযায়ী সেসব দাবি নিষ্পত্তি করেন।
ধাপ ১৫ · ডিক্রি ও বাস্তবায়ননামজারি ও রেকর্ড সংশোধন
চূড়ান্ত ডিক্রি পেলে বিজয়ী পক্ষ নিজের নামে খতিয়ানের নামজারির জন্য এসি ল্যান্ডের কাছে আবেদন করেন এবং নিজের নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেন। এসি ল্যান্ডের আদেশের ভিত্তি হয় ডিক্রি, এবং ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থায় রেকর্ড হালনাগাদ হয়। ডিক্রিতে প্রতিপক্ষের দলিল বাতিল ঘোষিত হলে একটি কপি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠানো হয়, যাতে নিবন্ধিত ভলিউমে তা উল্লেখ থাকে। এই ধাপ আদালতের জয়কে ভবিষ্যৎ বিক্রি বা বন্ধকের জন্য পরিষ্কার রেকর্ডে রূপান্তর করে।
কোথায়: রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩; ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ · কাগজপত্র: ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, নামজারির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর রসিদ
পরামর্শ: দ্বিতীয় দফার ঝামেলা এড়াতে আপিলের মেয়াদ পেরোনোর পর, বা আপিল শেষ হওয়ার পর, নামজারির আবেদন করুন।
যদি এমন হয়…? স্বত্ব ঘোষণার মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
পরাজিত পক্ষ আপিল করলে কী হয়?
- 1জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)
জেলা জজের কাছে স্বত্ব আপিল
পরাজিত পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে ডিক্রির সার্টিফায়েড কপিসহ আপিলের মেমোরেন্ডাম দাখিল করেন। সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে; যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে মামলার মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে জেলা জজের কাছে, অন্যথায় নব্বই দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে। জেলা জজ প্রায়ই আপিলটি একজন অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে বদলি করেন।
৩০ দিনের মধ্যে দায়ের; শুনানি ১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৬দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২ ও ১৫৬ - 2জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)
তথ্য ও আইনের ওপর পুনঃশুনানি
প্রথম আপিল হলো পূর্ণ পুনঃশুনানি। আপিল আদালত সাক্ষ্য নতুন করে পরীক্ষা করেন এবং আইনের পাশাপাশি তথ্যগত সিদ্ধান্তও উল্টে দিতে পারেন। নথি যথেষ্ট হলে এখন মামলা ফেরত না পাঠিয়ে নিজেকেই সিদ্ধান্ত দিতে হয়। কেবল সংকীর্ণ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন। আপিল দায়ের করলে ডিক্রি আপনা-আপনি স্থগিত হয় না; স্থগিতাদেশ চাইতে হয়।
১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ৫, ২৪, ২৭ ও ৩১দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ ডিক্রি বহাল, রদ বা পরিবর্তন করেন, এবং এরপর মামলা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে।
হাইকোর্ট বিভাগ কি আপিল ডিক্রি রিভিশন করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী সিভিল রিভিশন
বাংলাদেশে দ্বিতীয় আপিল নেই: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০০-১০৩ ১৯৭৮ সালে বাদ দেওয়া হয়েছে। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আপিল ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশনের আবেদন করেন। তামাদি আইনের কোনো অনুচ্ছেদ মেয়াদ নির্ধারণ করেনি, তবে হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত প্রায় নব্বই দিনের মধ্যে দাখিল আশা করেন এবং যেকোনো বিলম্বের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে দায়েরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রুল, স্থগিতাদেশ ও শুনানি
একটি ডিভিশন বেঞ্চ বা একক বেঞ্চ মোশন শোনেন এবং সন্তুষ্ট হলে অপর পক্ষকে কারণ দর্শাতে বলে রুল জারি করেন, প্রায়ই স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থাসহ। চূড়ান্ত শুনানিতে আদালত কেবল দেখেন ডিক্রিতে এমন কোনো আইনগত ভুল আছে কি না যাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে, যেমন সাক্ষ্য ভুল পড়া। আদালত রুল চূড়ান্ত করেন বা খারিজ করেন।
১-৫ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ আপিল ডিক্রি বহাল রাখেন, বাতিল করেন, অথবা নতুন সিদ্ধান্তের জন্য মামলা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠান।
একই আদালত কি নিজের ডিক্রি রিভিউ করতে পারেন?
- 1প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)
রিভিউর আবেদন
যে পক্ষ আপিল করেননি, তিনি যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে দাখিল করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আবিষ্কার, নথির ওপর সুস্পষ্ট ভুল, বা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে একই আদালতকে ডিক্রি রিভিউ করতে বলতে পারেন। রিভিউ ছদ্মবেশী আপিল নয়। আবেদন করতে হয় নব্বই দিনের মধ্যে। মঞ্জুর হলে আদালত বিষয়টি পুনরায় শোনেন; রিভিউ নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না।
৯০ দিনের মধ্যে দায়ের; ২-৬ মাসে নিষ্পত্তিদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১, ৪ ও ৭তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি বহাল থাকে, অথবা আদালত নিজেই মামলা পুনরায় খুলে শোনেন।
বিচারিক আদালত কখন হাইকোর্ট বিভাগে কোনো প্রশ্ন রেফার করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আইনের প্রশ্নে রেফারেন্স
স্বত্ব মামলায় রেফারেন্স বিরল। আইনের কোনো প্রশ্নে, বিশেষত কোনো আইনের বৈধতা নিয়ে, যেমন যে ভূমি আইনের ওপর মামলাটি নির্ভর করে, যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলে আদালত মামলার বিবরণ লিখে হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন। ইতিমধ্যে মামলা স্থগিত থাকে। হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মামলা ফেরত পাঠান, এবং বিচারিক আদালত সেই মতামত অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি করেন।
৬ মাস থেকে ২ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা বিচারিক আদালতে ফিরে যায়, যা হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর প্রয়োগ করে মামলা নিষ্পত্তি করেন।
মামলা পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হলে কী হয়?
- 1জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)
আপিল আদালত পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠান
বিচারিক আদালত যদি তামাদির মতো কোনো প্রাথমিক বিষয়ে মামলা নিষ্পত্তি করে থাকেন এবং আপিলে তা উল্টে যায়, আপিল আদালত বাকি বিচার্য বিষয়ে বিচারের জন্য মামলা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন। নির্দিষ্ট বিচার্য বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্যও পাঠাতে পারেন। ২০২৬ সাল থেকে নথির সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে নিজেই সিদ্ধান্ত দিতে হয়, তাই এই প্রতিকার এখন সংকীর্ণ। জেলা জজের রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, কারণ আদেশ ৪৩ বিধি ১(u) কেবল তখনই আপিলের সুযোগ দেয় যখন আপিল ডিক্রিটি নিজে আপিলযোগ্য; এর বদলে হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশনে তা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
জারি করতে ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৪ ও ২৫ (বিধি ২৪ ২০২৬ সালে সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) - 2প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)
পুনর্বিচার ও আবার আপিলে
বিচারিক আদালত মূল নম্বরেই মামলাটি পুনরায় গ্রহণ করেন, নির্দেশিত অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন এবং ফেরত পাঠানো বিচার্য বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করেন, আগের সাক্ষ্যকে নথির অংশ হিসেবে গণ্য করে। নতুন ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল চলে, ফলে মামলা একই সিঁড়ি বেয়ে আবার ওপরে ওঠে।
৬ মাস থেকে ২ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিচারিক আদালত নতুন ডিক্রি দেন, যার বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল করা যায়।
মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির জন্য সিভিল পিটিশন
রিভিশন বা প্রথম আপিলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। আপিল বিভাগ কেবল আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে অনুমতি দেন। অনুমতি দেওয়া হলে পিটিশনটি সিভিল আপিলে পরিণত হয় এবং নথির ভিত্তিতে শুনানি হয়।
৬০ দিনের মধ্যে দায়ের; ১-৪ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রিভিউ
আপিল বিভাগের রায় সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। ত্রিশ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা যায়, তবে কেবল নথির ওপর সুস্পষ্ট ভুল থাকলেই তা সফল হয়। রিভিউ শেষ হলে স্বত্বের প্রশ্নটি সব আদালতের জন্য চূড়ান্তভাবে নিষ্পন্ন হয়, এবং ডিক্রি জারির জন্য বিচারিক আদালতে ফিরে যায়।
৩০ দিনের মধ্যে রিভিউসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং মামলা জারির জন্য বিচারিক আদালতে ফিরে যায়।
স্বত্ব ঘোষণার মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
মামলা শুরু হয় জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী নির্বাচিত দেওয়ানি আদালতে: দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৮ ও ১৯ অনুযায়ী ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ। সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে। যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় মামলার মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে জেলা জজের কাছে, এর বেশি হলে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে। প্রথম আপিলে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পূর্ণ পুনঃশুনানি হয়।
বাংলাদেশে দ্বিতীয় আপিল নেই; পরের ধাপ হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন, যা কেবল ন্যায়বিচার ব্যাহতকারী আইনগত ভুল সংশোধন করে। শেষ গন্তব্য অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগ। স্বত্ব ঘোষণার মামলায় প্রতিটি উচ্চতর আদালত রায় বহাল রাখতে, উল্টে দিতে বা মামলা নিচে ফেরত পাঠাতে পারেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)
- প্রথম দফার আদালতপ্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- খতিয়ান (Khatian)
- একটি জোতের স্বত্বলিপির এন্ট্রি, যেখানে মালিক, দাগ ও অংশ তালিকাভুক্ত থাকে; ধারাবাহিক জরিপে (সিএস, এসএ, আরএস, বিএস) প্রস্তুত।
- আনুষঙ্গিক প্রতিকার (Consequential relief)
- ঘোষণার ফলে আসে এমন অতিরিক্ত প্রতিকার, যেমন দখল পুনরুদ্ধার বা নিষেধাজ্ঞা; তা চাওয়া সম্ভব হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২ শুধু ঘোষণা চাওয়া বারিত করে।
- খাস দখল (Khas possession)
- জমির প্রকৃত বাস্তব দখল, ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে বা কাগজে-কলমে দখলের বিপরীতে।
- স্বত্বের ধারাবাহিকতা (Chain of title)
- দলিল, উত্তরাধিকার ও রেকর্ডের অবিচ্ছিন্ন ক্রম, যা মূল রেকর্ডভুক্ত মালিককে বর্তমান দাবিদারের সঙ্গে যুক্ত করে।
- মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি (Ad valorem court fee)
- কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর তফসিল ১ অনুযায়ী প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যের শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত কোর্ট ফি।
- অ্যাডভোকেট কমিশনার (Advocate commissioner)
- জমি পরিদর্শন ও পরিমাপ করে সীমানা ও দখল সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী।
- সিভিল রিভিশন (Civil revision)
- নিম্ন আদালতের ডিক্রিতে ন্যায়বিচার ব্যাহতকারী আইনগত ভুল সংশোধনের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন।
- পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত (Remand)
- বিচার্য বিষয় নতুন করে নিষ্পত্তির জন্য মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানোর আপিল আদেশ।
স্বত্ব ঘোষণার মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
স্বত্ব ঘোষণার মামলা কী?
কোন আদালতে মামলা করব?
কোর্ট ফি কত?
মামলা দায়েরের কি কোনো সময়সীমা আছে?
দখলে না থাকলে কি স্বত্ব ঘোষণা পাওয়া যায়?
হাইকোর্ট বিভাগে কি দ্বিতীয় আপিল আছে?
স্বত্ব ঘোষণার মামলা শেষ হতে কত দিন লাগে?
ডিক্রি হলে কি খতিয়ান আপনা-আপনি বদলে যায়?
আইন ও উৎস
- Specific Relief Act 1877
- Civil Courts Act 1887
- Code of Civil Procedure 1908
- Limitation Act 1908
- Court-fees Act 1870
- State Acquisition and Tenancy Act 1950
- High Court Division, First Appeal No. 221 of 2020 (declaration of title and recovery of khas possession)
- High Court Division, Civil Revision No. 5422 of 2023 (declaration of title)
- UNB: Govt moves to fast-track lower court cases (CPC Amendment Act 2026)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।