ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি পিটিশন, যার মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর অধীন বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, অথবা ইতিমধ্যে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পরিশোধে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা হয়। নোটিশ জারি না হলে, আপত্তি উপেক্ষা করা হলে, ভুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিলে, জরিপে আইন মানা না হলে অথবা প্রক্রিয়াটি অসৎ উদ্দেশ্যে (mala fides) কলুষিত হলে আদালত হস্তক্ষেপ করেন।
তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে বিরোধ আইনে নির্ধারিত আরবিট্রেটরের কাছে যায়, এবং আইনের ধারা ৪৭ দেওয়ানি মামলা ও নিষেধাজ্ঞা (injunction) চাওয়া নিষিদ্ধ করেছে।
- কোথা থেকে শুরু
- জেলা প্রশাসক (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) কর্তৃক ধারা ৪-এর অধীনে জারি করা প্রাথমিক নোটিশ, তারপর ধারা ৫-এর আপত্তি, এবং আইনের…
- মূল আইন
- স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ২১ নং আইন), ধারা ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১১, ১৩, ১৪, ৩০, ৩৬ ও ৪৭; বাংলাদেশের…
- সাধারণ সময়কাল
- আপত্তির পর্যায়: প্রায় ১-৩ মাস। রিট মোশন ও স্থিতাবস্থা: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। রুলের চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ১-৫…
- কে মামলা করতে পারেন
- জমিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি: রেকর্ডীয় মালিক, ওয়ারিশ, শরিক, বৈধ দখলদার এবং অধিগ্রহণের ফলে যাঁদের অধিকার…
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · নোটিশ, আপত্তি ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তধারা ৪-এর নোটিশ জারি হলো
জমির অবস্থা ভিডিও ও স্থিরচিত্রে রেকর্ড করার পর জেলা প্রশাসক ২০১৭ সালের আইনের ধারা ৪-এর অধীনে প্রাথমিক নোটিশ জারি করেন এবং তা জমিতে বা জমির কাছে টাঙিয়ে দেন; এখান থেকেই অধিগ্রহণ শুরু হয়। কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি চাওয়া হলে প্রক্রিয়া শুরুর আগেই সরকারের পূর্বানুমোদন লাগে। মালিকের উচিত নোটিশের ছবি তোলা, তারিখ লিখে রাখা এবং রেকর্ডীয় মালিকের ওপর নোটিশ জারি হয়েছে কি না তা যাচাই করা। পরবর্তী প্রতিটি সুরক্ষার প্রবেশপথ এই নোটিশ, আর নোটিশ না দেওয়া বা ভুল ব্যক্তিকে দেওয়াই ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলার সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
কোথায়: অধিগ্রহণাধীন জমি (জরিপ ও দখল) · সময়: একই দিন · আইন: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪(১)-(২); স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪(৩)(ক) · কাগজপত্র: ধারা ৪-এর নোটিশের ছবি, নোটিশ টাঙানো বা জারির তারিখ, স্থাপনা, ফসল ও গাছের নিজস্ব ছবি
পরামর্শ: এখনই জমির তারিখযুক্ত একটি নিজস্ব ভিডিও করে রাখুন। স্থাপনাগুলো অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে, পরে এমন দাবি উঠলে এটিই তার জবাব।
ধাপ ২ · নোটিশ, আপত্তি ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তমালিকানার কাগজ জোগাড় ও রিটের ভিত্তি যাচাই
আইনজীবী দেখেন মামলা করার অধিকার (locus standi) আছে কি না এবং কোন ফোরামে যেতে হবে। এ জন্য মালিকানার কাগজ লাগে: দলিল, রেকর্ড-অব-রাইটস বা খতিয়ান, নামজারির রেকর্ড এবং ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ। এরপর আইনজীবী অভিযোগটি শ্রেণিভুক্ত করেন। প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে আপত্তি, যেমন নোটিশ না দেওয়া, আপত্তি উপেক্ষা করা, ভুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, বেআইনি জরিপ বা অসৎ উদ্দেশ্য, রিটের বিষয়। রোয়েদাদের অঙ্ক কম হয়েছে, এমন অভিযোগ যায় আইনে নির্ধারিত আরবিট্রেটরের কাছে। ধারা ৪৭ এই আইনের অধীন আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা ও নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ করেছে, তাই দেওয়ানি মামলার পথ খোলা নেই।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪৭; বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ৪২; বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২) · কাগজপত্র: মালিকানার দলিল ও খতিয়ান, নামজারির রেকর্ড ও খাজনার রসিদ, অধিগ্রহণের নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র
পরামর্শ: প্রতিটি সংযুক্তি যাচাই করুন। ২০২৫ সালে আপিল বিভাগ এমন একটি রিট রায় বাতিল করেছেন, যা একটি দলিলের ওপর নির্ভর করেছিল এবং আদালত সেটিকে কাল্পনিক বলে পেয়েছিলেন।
ধাপ ৩ · নোটিশ, আপত্তি ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তজমি, স্থাপনা ও ফসলের যৌথ তালিকা
নোটিশের পর জেলা প্রশাসক প্রত্যাশী সংস্থা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলে একটি যৌথ তালিকা তৈরি করেন, যেখানে জমির অধিকার এবং প্রতিটি স্থাপনা, ফসল ও গাছ লিপিবদ্ধ হয়। ভিডিও রেকর্ডের পরে অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এমন স্থাপনা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করতে পারেন; কমিশনার পনেরো কর্মদিবসের মধ্যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে দশ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেন, এবং আইনে সেই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলা হয়েছে। ধারা ৪-এর অধীনে বেআইনি তদন্ত পরে রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়, যেমনটি হাইকোর্ট বিভাগ ২০২৬ সালে একটি মহাসড়ক প্রকল্পে করেছেন।
কোথায়: অধিগ্রহণাধীন জমি (জরিপ ও দখল) · সময়: ১-২ মাস · আইন: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪(৩)(খ) ও (৪)-(১১); মো. হুমায়ুন কবির বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ১৫৫৮৭/২০২৫ (১৪ জুলাই ২০২৬) · কাগজপত্র: যৌথ তালিকা, বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল, স্থাপনা নির্মাণের তারিখের প্রমাণ
পরামর্শ: যৌথ জরিপে নিজে উপস্থিত থাকুন এবং কেবল সঠিক তথ্যে সই করুন। কোনো আপত্তি থাকলে তালিকাতেই লিখে দিন।
ধাপ ৪ · নোটিশ, আপত্তি ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তধারা ৫-এর অধীনে আপত্তি
ধারা ৪-এর নোটিশের পনেরো কর্মদিবসের মধ্যে যেকোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আপত্তি দিতে পারেন: যেমন জমিটির প্রয়োজন নেই, অন্য জমি বেশি উপযুক্ত, বা প্রস্তাবিত এলাকা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। উপাসনালয়, কবরস্থান বা শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত জমি সাধারণত ধারা ৪(১৩)-এর অধীনে সুরক্ষিত। জেলা প্রশাসককে আপত্তিকারীর বক্তব্য শুনতে হবে, প্রয়োজনে আরও তদন্ত করতে হবে এবং আপত্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ত্রিশ কর্মদিবসের মধ্যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে পনেরো কর্মদিবসের মধ্যে, প্রতিবেদন দিতে হবে। পরে রিট করলে, কর্তৃপক্ষ মালিককে উপেক্ষা করেছে তার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ প্রায়ই এই সময়মতো দেওয়া আপত্তি।
কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা · সময়: ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আপত্তি; ৩০ (বা ১৫) কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন · আইন: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৫(১)-(২); স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪(১৩) · কাগজপত্র: কারণসহ লিখিত আপত্তি, দাখিলের প্রমাণ, শুনানির নোটিশ ও শুনানির রেকর্ড
পরামর্শ: রিট করবেন বলে আপত্তি দেওয়া বাদ দেবেন না। বেঞ্চ প্রথমেই দেখেন আইনে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
ধাপ ৫ · নোটিশ, আপত্তি ও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তঅধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত
জেলা প্রশাসক জমির পরিমাণ অনুযায়ী নথি ও প্রতিবেদন সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান: পঞ্চাশ বিঘার (১৬.৫ একর) কম হলে বিভাগীয় কমিশনার, যিনি পনেরো কর্মদিবসের মধ্যে, বা লিখিত কারণে ত্রিশ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেন; এর বেশি হলে ভূমি মন্ত্রণালয়, ষাট কর্মদিবসের মধ্যে। কেউ আপত্তি না দিলে জেলা প্রশাসক একাই, সাধারণত দশ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেন এবং সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়, তাই জনস্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলা রিটে অসৎ উদ্দেশ্য বা ক্ষমতার ছদ্ম-প্রয়োগ (colourable exercise of power) দেখাতে হয়। আইনে উল্লেখ নেই এমন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বাতিল (void)।
কোথায়: বিভাগীয় কমিশনার (৫০ বিঘার বেশি হলে ভূমি মন্ত্রণালয়) · সময়: ১০-৬০ কর্মদিবস · আইন: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৫(৩) ও ধারা ৬(১)-(২); ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লি. বনাম জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ, 13 SCOB [2020] HCD 40 · কাগজপত্র: অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত, আপত্তি বিষয়ে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন
পরামর্শ: সিদ্ধান্তের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন এবং কে সই করেছেন তা দেখুন। সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কে, সেটি নিজেই একটি জোরালো যুক্তি হতে পারে।
ধাপ ৬ · রিট দায়ের ও স্থিতাবস্থারিট পিটিশনের খসড়া তৈরি
পিটিশনে আইনের নির্দিষ্ট যে ধাপটি লঙ্ঘিত হয়েছে তা চিহ্নিত করা হয় এবং আদালতের কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন নোটিশ, পিটিশনারের জমি অন্তর্ভুক্তি, তদন্ত প্রতিবেদন বা অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তকে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়; আইনের পাশাপাশি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৪২-ও উল্লেখ করা হয়। সাধারণত প্রতিপক্ষ (respondents) হন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এবং প্রত্যাশী সংস্থা। পুরো একটি জাতীয় প্রকল্পকে আক্রমণ করার চেয়ে একটি প্লট বা একটি প্রতিবেদনকে লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরের ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা অনেক বেশি সফল হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ); বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৪২ · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া ও সংযুক্তি, মালিকানার কাগজপত্র, নোটিশ, আপত্তি ও সিদ্ধান্ত, জরিপ বা তদন্ত প্রতিবেদন
পরামর্শ: পুরো প্রকল্প বাতিল নয়, বরং একটি প্লট বাদ দেওয়া, নতুন জরিপ বা নির্দিষ্ট অঙ্ক পরিশোধের প্রার্থনা করুন।
ধাপ ৭ · রিট দায়ের ও স্থিতাবস্থাহলফনামা, দাখিল ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ
পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টে হলফনামার মাধ্যমে সত্যায়িত করে ভূমি রেকর্ডের সার্টিফায়েড কপিসহ রিট শাখায় দাখিল করা হয়। কয়েকজন সহ-মালিক একসঙ্গে পিটিশন করলে প্রত্যেকে সই করেন অথবা একজন হলফকারীকে ক্ষমতা দেন। অধিগ্রহণ সাধারণত কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য হয় বলে, উন্নয়নকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনো অন্তর্বর্তী আদেশের আগে অনুচ্ছেদ ১০২(৪) অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ দিতে হয়। আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ জারি করেন এবং ভূমি অধিগ্রহণ রিটের জন্য নির্ধারিত বেঞ্চে মামলাটি তালিকাভুক্ত করান।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(৪); বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: শপথকৃত হলফনামা, ওকালতনামা, ভূমি রেকর্ডের সার্টিফায়েড কপি, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ জারির প্রাপ্তিস্বীকার
পরামর্শ: সর্বশেষ বেঞ্চ তালিকা যাচাই করুন। ভূমি রিট নির্ধারিত বেঞ্চে যায়, আর বেঞ্চ পুনর্গঠিত হলে তা বদলে যায়।
ধাপ ৮ · রিট দায়ের ও স্থিতাবস্থামোশন শুনানি
মোশন শুনানিতে আইনজীবী নথিতেই স্পষ্ট ত্রুটি দেখান: অপরিচিত ব্যক্তির ওপর নোটিশ জারি, আপত্তি দাখিল হলেও শুনানি না হওয়া, ক্ষমতাহীন কর্মকর্তার সই করা সিদ্ধান্ত, অথবা কার্যক্রম শুরুর কয়েক দশক পরে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ। সরকারপক্ষের আইন কর্মকর্তা যুক্তি দিতে পারেন যে প্রকল্পটি জরুরি, মালিক আপত্তি দেননি, অথবা আসল অভিযোগ টাকার অঙ্ক নিয়ে। বেঞ্চ কেবল দেখেন বিবেচনাযোগ্য বিষয় আছে কি না, এবং হয় পিটিশন খারিজ করেন, নয়তো রুল নিশি জারি করেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিলের ১-২১ দিনের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২; মিসেস নিলুফার হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ১৫৩৭৬/২০২৩ (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, অধিগ্রহণের ঘটনাক্রম
পরামর্শ: নোটিশ জারির সময়েই আদালতে যান, বুলডোজার আসার পর নয়। চলমান কাজ বন্ধ করতে আদালত সতর্ক থাকেন।
ধাপ ৯ · রিট দায়ের ও স্থিতাবস্থারুল নিশি ও দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা
সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলেন, কেন চ্যালেঞ্জকৃত পদক্ষেপটিকে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না। সবচেয়ে মূল্যবান অন্তর্বর্তী আদেশ সাধারণত পিটিশনারের জমির দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা (status quo) বজায় রাখার নির্দেশ, কখনো কখনো শুধু ওই প্লটের ক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিতসহ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলায় রুল বিচারাধীন থাকাকালে বছরের পর বছর স্থিতাবস্থার আদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। শুরুতেই আদেশ না পেলে প্রকল্প এত দূর এগিয়ে যেতে পারে যে আদালত আর তা উল্টাবেন না।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনই; কয়েক মাস পরপর মেয়াদ বাড়ানো হয় · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২); ড. নজমুস সাকিব বনাম বাংলাদেশ, রিট পিটিশন নং ৮১৪১/২০১৪ (৩০ এপ্রিল ২০২৬) · কাগজপত্র: স্থিতাবস্থার নির্দেশসহ রুল নিশি জারির আদেশ
পরামর্শ: স্থিতাবস্থার আদেশের মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখুন এবং মেয়াদ ফুরানোর আগেই বাড়ানোর আবেদন করুন।
ধাপ ১০ · রিট দায়ের ও স্থিতাবস্থাজেলা প্রশাসকের ওপর আদেশ জারি
আইনজীবী আদেশের সার্টিফায়েড কপি জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রত্যাশী সংস্থার কাছে পৌঁছে দেন, প্রাপ্তির সিল সংরক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় তলবানা (requisites) দাখিল করেন, যাতে দপ্তর রুলের নোটিশ জারি করতে পারে। পরে স্থিতাবস্থা ভঙ্গ হলে তা প্রমাণের জন্য মালিক জমির তারিখযুক্ত ছবির রেকর্ড রাখেন। আদেশ সত্ত্বেও জেলা প্রশাসক দখল নিতে এগোলে পিটিশনার বিষয়টি বেঞ্চে উল্লেখ করে আদালত অবমাননার কার্যক্রম চাইতে পারেন।
কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা · সময়: ১-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১১২; বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, প্রাপ্তির সিল, জমির তারিখযুক্ত ছবি
পরামর্শ: প্রত্যাশী সংস্থা ও তাদের ঠিকাদারের ওপরও আদেশ জারি করুন। মাঠের কাজ প্রায়ই তারাই করে, জেলা প্রশাসক নন।
ধাপ ১১ · রুল শুনানি ও রায়জবাবি হলফনামা ও নথিপত্র
জেলা প্রশাসক ও প্রত্যাশী সংস্থা হলফনামার মাধ্যমে রুলের জবাব দেন এবং নোটিশ, নোটিশ জারির প্রমাণ, যৌথ তালিকা, আপত্তি শুনানির রেকর্ড, অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত ও রোয়েদাদ সংযুক্ত করেন। সাধারণত তাঁদের নথিপত্রই মামলার ফল নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের একটি মহাসড়ক মামলায় প্রতিপক্ষরা কোনো জবাব দাখিল করেননি এবং কোনো নথি হাজির করেননি; তখন আদালত পিটিশনারদের এই বক্তব্য গ্রহণ করেন যে তাঁদের ভবনগুলো অধিগ্রহণ কার্যক্রমের আগেই নির্মিত। পিটিশনার প্রতিটি তথ্যগত বিষয়ের জবাব দেন, এবং পরবর্তী ঘটনা, যেমন অর্থ পরিশোধ বা প্রকল্পে পরিবর্তন, নিয়ে যেকোনো পক্ষ সম্পূরক হলফনামা দিতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-১২ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা (affidavit-in-opposition), প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply), সম্পূরক হলফনামা
পরামর্শ: জবাবে নোটিশ জারির বিষয়ে কিছু বলা না থাকলে অধিগ্রহণের নথি হাজির করার নির্দেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করুন।
ধাপ ১২ · রুল শুনানি ও রায়শুনানির অপেক্ষা
ভূমি অধিগ্রহণের রুল চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রায়ই বছরের পর বছর অপেক্ষা করে, কারণ বেঞ্চগুলোর মামলার তালিকা দীর্ঘ এবং মাঝে মাঝে বেঞ্চ পুনর্গঠিত হয়। পুরো সময়জুড়ে পিটিশনারকে সময়মতো মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করে স্থিতাবস্থার আদেশ সচল রাখতে হয়। এর মধ্যে ঘটনা রুলকে ছাপিয়ে যেতে পারে: প্লটটি এড়াতে প্রকল্পের নকশা বদলানো হতে পারে, প্রত্যাশী সংস্থা টাকা জমা না দেওয়ায় অধিগ্রহণ বাতিল হয়ে যেতে পারে, অথবা সরকার অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিলম্বে প্রকৃত ক্ষতি হলে যেকোনো পক্ষ দ্রুত শুনানির আবেদন করতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ বছর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৭(৩); স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ১৪ · কাগজপত্র: মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন, দ্রুত শুনানির আবেদন (প্রয়োজনে)
পরামর্শ: জমি যেমন আছে তেমনই রাখুন। রুল বিচারাধীন থাকাকালে সেখানে নির্মাণ করলে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয় এবং স্থিতাবস্থাও ভঙ্গ হতে পারে।
ধাপ ১৩ · রুল শুনানি ও রায়চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ (discharged)
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলায় প্রতিকার সাধারণত পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। আদালত পিটিশনারের জমি অন্তর্ভুক্তিকে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা হয়েছে বলে ঘোষণা করতে পারেন, তবে কর্তৃপক্ষকে আইন কঠোরভাবে মেনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ রাখতে পারেন; সঠিক বিধান অনুযায়ী নতুন তদন্ত ও তারপর আইনানুগ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারেন; অকার্যকর একটি অধিগ্রহণ মামলা বাতিল করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিতে পারেন; অথবা প্লটটি রক্ষায় নকশায় ছোট পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন। রুল খারিজ হলে স্থিতাবস্থার আদেশ আর থাকে না এবং অধিগ্রহণ এগিয়ে চলে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ শুনানি দিবস; রায় একই দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক); বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১১১ · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: রায়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরুর কোনো সুযোগ রাখা হয়েছে কি না পড়ে দেখুন। জয় স্থায়ী সুরক্ষা না দিয়ে কেবল সময় ও দর-কষাকষির সুবিধা দিতে পারে।
ধাপ ১৪ · রায় বাস্তবায়ন ও ক্ষতিপূরণঅপরিশোধিত ক্ষতিপূরণের জন্য ম্যান্ডামাস
অনেক পিটিশন অধিগ্রহণকে আদৌ চ্যালেঞ্জ করে না, বরং নির্ধারিত হলেও ছাড় না হওয়া ক্ষতিপূরণ পরিশোধ চায়, প্রায়ই দখল নেওয়ার বহু বছর পর। ক্ষতিপূরণের বিধানসংবলিত আইনের অধীনেই কেবল সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা যায়, সংবিধানের এই নিশ্চয়তার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ ঢাকার জেলা প্রশাসককে তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাঙামাটিতে আটকে রাখা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পিটিশনারকে দেখাতে হয় যে প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত ও স্বীকৃত, এবং পরিশোধ না করার কোনো ব্যাখ্যা নেই।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬ মাস-২ বছর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ৪২(২); মো. লেহাজ উদ্দিন বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৪৯৫৯/২০২২ (১৭ জানুয়ারি ২০২৪); ইমন তঞ্চঙ্গ্যা বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ১৭২৪/২০২০ (৩০ জুলাই ২০২৬) · কাগজপত্র: রোয়েদাদের নোটিশ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী তালিকা, অর্থ পরিশোধ দাবি করে চিঠিপত্র, দখল নেওয়ার প্রমাণ
পরামর্শ: দায়েরের আগে জেলা প্রশাসককে লিখে অর্থ পরিশোধ দাবি করুন। উত্তর না পাওয়া দাবিপত্র ম্যান্ডামাসের পক্ষে কাজে আসে।
ধাপ ১৫ · রায় বাস্তবায়ন ও ক্ষতিপূরণরায় বাস্তবায়ন ও আপত্তিসহ অর্থ গ্রহণ
বিজয়ী পিটিশনার রায়ের সার্টিফায়েড কপি জেলা প্রশাসক ও প্রত্যাশী সংস্থার কাছে পৌঁছে দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে মালিকের উচিত অঙ্ক নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়ে (under protest) তা গ্রহণ করা, কারণ কোনো আপত্তি ছাড়া অর্থ নিলে পরে আর আরবিট্রেটরের কাছে আবেদন করা যায় না। অঙ্ক নিয়ে বিরোধ থাকলে মালিক রোয়েদাদের নোটিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ কর্মদিবসের মধ্যে আরবিট্রেটরের কাছে আবেদন করতে পারেন; এটি রিট থেকে আলাদা একটি পথ।
কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা · সময়: ১-৬ মাস · আইন: স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ১১(২); স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৩০(১); বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, আপত্তি লিখে সই করা অর্থপ্রাপ্তির রসিদ, আরবিট্রেশন আবেদন (অঙ্ক নিয়ে বিরোধ থাকলে)
পরামর্শ: রসিদের ওপরেই আপত্তি লিখুন এবং একটি কপি রাখুন। মালিকেরা এই ভুলটিই সবচেয়ে বেশি করেন, অথচ এটি সহজেই এড়ানো যায়।
যদি এমন হয়…? ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা
জেলা প্রশাসকের নতুন তদন্ত
কোনো জরিপ বা তদন্তে আইনের মানদণ্ড উপেক্ষিত হলে হাইকোর্ট বিভাগ প্রতিবেদনটিকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং জেলা প্রশাসককে সঠিক বিধান অনুযায়ী নতুন তদন্ত করে আইনানুগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মহাসড়ক মামলায় আদালত ধারা ৪(৩)(ক) ও ৪(৭)-এর অধীনে নতুন তদন্তের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসককে মালিকদের নোটিশ দিতে হবে এবং স্থাপনাগুলো কবে নির্মিত হয়েছে তার প্রমাণ দাখিলের সুযোগ দিতে হবে।
২-৬ মাসস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৪(৩)(ক) ও ৪(৭)মো. হুমায়ুন কবির বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ১৫৫৮৭/২০২৫ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আবার হাইকোর্ট বিভাগে
নতুন তদন্তেও আইন বা আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত হলে মালিক নতুন রিট পিটিশন দায়ের করে, অথবা আদালত মূল মামলা খোলা রাখলে সেখানেই আবেদন করে, আবার হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে যেতে পারেন। দ্বিতীয় শুনানি সাধারণত সংক্ষিপ্ত হয়, কারণ আদালত একটি স্পষ্ট নথির ভিত্তিতে কেবল নিজের আগের নির্দেশনা মানা হয়েছে কি না তা যাচাই করেন।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১১২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ধাপটি নিচের পর্যায়ে আইনানুগভাবে নতুন করে সম্পন্ন হয় এবং চ্যালেঞ্জ হলে হাইকোর্ট বিভাগ আবার তা পর্যালোচনা করেন।
সরকার বা মালিক আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন
প্রকল্প আটকে রাখা কোনো রায় বা স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করতে সরকার বা প্রত্যাশী সংস্থা প্রায়ই চেম্বার জজের কাছে আবেদন করে। চেম্বার জজ তা স্থগিত করতে পারেন, আবেদন নাকচ করতে পারেন, অথবা পূর্ণ বেঞ্চে পাঠাতে পারেন, এবং দ্রুত শুনানির নির্দেশও দিতে পারেন। মালিকের উচিত হাজির থাকা এবং প্রয়োজন হলে কেবল পিটিশনারের প্লটে সীমিত একটি আদেশের প্রস্তাব দেওয়া।
১-৮ সপ্তাহবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (চেম্বার জজ) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
লিভ টু আপিলের পিটিশন ও দেওয়ানি আপিল
পরাজিত পক্ষ সাধারণত রায়ের ষাট দিনের মধ্যে দেওয়ানি লিভ টু আপিলের পিটিশন (civil petition for leave to appeal) দাখিল করে। লিভ মঞ্জুর হলে আইনগত প্রশ্নে দেওয়ানি আপিলের শুনানি হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে আপিল বিভাগ জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের চারটি আপিল মঞ্জুর করে ২০১৪ সালের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায় বাতিল করেন, যে রায়ে একটি অধিগ্রহণ বাতিল করা হয়েছিল; কারণ রিট পিটিশনগুলো একটি কাল্পনিক দলিলের ওপর নির্ভর করেছিল।
১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বনাম ইন্টারবাল্ক ওভারসিজ এসএ বাংলাদেশ লি., দেওয়ানি আপিল নং ১৭১-১৭৪/২০১৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন, সংশোধন করেন বা উল্টে দেন, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী সেই রায় সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
আদালত বা জেলা প্রশাসক কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নিচের পর্যায়ে ও হাইকোর্ট বিভাগে সীমিত রিভিউ
২০১৭ সালের আইনে জেলা প্রশাসকের রোয়েদাদ রিভিউ করার কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি; আইন সাপেক্ষে সেটিকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আরবিট্রেটরের রোয়েদাদও কেবল আপিলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়। রিট বেঞ্চ দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৪৭-এর নীতি প্রয়োগ করে কেবল নথিতে স্পষ্ট ভুল অথবা নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন। রিভিউ মূল বিষয়ে দ্বিতীয় শুনানি নয়।
১-৬ মাসস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৮দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে কোনো পক্ষ রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগকে তাঁর নিজের রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন, তবে নথিতে স্পষ্ট ভুলের মতো সীমিত কারণে। পিটিশনের সঙ্গে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের যুক্তিসহ সার্টিফিকেট এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত লাগে, আর রিভিউ কেবল একবারই করা যায়। এর মাধ্যমে অধিগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে যুক্তিতর্ক করা যায় না।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয়, অথবা নির্দিষ্ট ভুলটি সংশোধন করে রায় শুদ্ধ করা হয়।
দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়, এবং দেওয়ানি আদালতে রেফারেন্স আছে কি?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারপতির কাছে রেফারেন্স
রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারপতির হয়। তাঁরা ভিন্নমত পোষণ করলে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি তৃতীয় একজন বিচারপতির কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ১৮৯৪-এর মতো রোয়েদাদ দেওয়ানি আদালতে রেফারেন্স করার ব্যবস্থা এখন আর নেই; ২০১৭ সালের আইন অঙ্ক নিয়ে বিরোধ নিজস্ব আরবিট্রেটরের কাছে পাঠায় এবং সালিস আইন, ২০০১-এর প্রয়োগ বাদ দিয়েছে।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৩০ ও ধারা ৩৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, এবং মামলা আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে।
রিভিশন আছে কি, আর অঙ্ক নিয়ে বিরোধ কোথায় যায়?
- 1২০১৭ সালের আইনের অধীন আরবিট্রেটর (যুগ্ম জেলা জজ বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার)
অঙ্কের জন্য সালিশি পথ
এই আইনের অধীন আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে কোনো দেওয়ানি রিভিশন চলে না। অঙ্ক নিয়ে বিরোধ রোয়েদাদের নোটিশের পঁয়তাল্লিশ কর্মদিবসের মধ্যে আরবিট্রেটরের কাছে যায়। আরবিট্রেটরকে নব্বই কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয় এবং তিনি কোনো মালিকের ক্ষতিপূরণ রোয়েদাদের চেয়ে দশ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারেন না; বর্ধিত অংশের ওপর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বছরে দশ শতাংশ হারে অতিরিক্ত অর্থ প্রযোজ্য।
৩-৬ মাসস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৩০, ৩১(২), ৩৩ ও ৩৪(২)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫ - 2আরবিট্রেশন আপিল ট্রাইব্যুনাল (কর্মরত বা সাবেক জেলা জজ)
আরবিট্রেশন আপিল ট্রাইব্যুনাল, তারপর রিট
আরবিট্রেটরের রোয়েদাদের বিরুদ্ধে আপিল যায় আরবিট্রেশন আপিল ট্রাইব্যুনালে, যা একজন কর্মরত বা সাবেক জেলা জজ নিয়ে গঠিত; ট্রাইব্যুনালকে ষাট কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয় এবং তা সর্বোচ্চ আরও দশ শতাংশ বাড়াতে পারে। আইন অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, তাই এরপর একমাত্র পথ হলো এখতিয়ারের অভাব বা আইনে নির্ধারিত সূত্র লঙ্ঘনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগে রিট।
২-৬ মাসস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৩৬(১)-(৬)বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সালিস ও আপিলের মাধ্যমে অঙ্ক নির্ধারিত হয়; কেবল আইনগত ভুলের ক্ষেত্রেই রিট চলে।
প্রত্যাশী সংস্থা টাকা জমা না দিলে কী হয়?
- 1জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা
অধিগ্রহণ বাতিল বা প্রত্যাহার
প্রাক্কলন পাওয়ার একশো বিশ কর্মদিবসের মধ্যে প্রত্যাশী সংস্থা প্রাক্কলিত ক্ষতিপূরণ জমা না দিলে পুরো অধিগ্রহণ বাতিল হয়ে যায় এবং জেলা প্রশাসককে গেজেটে ঘোষণা প্রকাশ করতে হয়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে জেলা প্রশাসক ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আগে অধিগ্রহণ বাতিলও করতে পারেন। বাতিল হওয়া প্রক্রিয়ার কারণে হওয়া ক্ষতি ও যুক্তিসংগত খরচের জন্য মালিকেরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন, আর ঘোষণা দেওয়া না হলে রিটের মাধ্যমে তা আদায় করা যায়।
প্রাক্কলনের প্রায় ৬ মাস পরস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৮(৪) ও ১৪(১)-(৩)বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জমি অধিগ্রহণমুক্ত হয়, অথবা হাইকোর্ট বিভাগ অধিগ্রহণ বাতিল হওয়ার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা একটি প্রশাসনিক ভিত্তি থেকে ওপরে ওঠে। চতুর্থ স্তরে জেলা প্রশাসক ধারা ৪-এর নোটিশ জারি করেন, যৌথ তালিকা তৈরি করেন এবং আপত্তি শোনেন। অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন পঞ্চাশ বিঘার (১৬.৫ একর) কম হলে বিভাগীয় কমিশনার, আর এর বেশি হলে ভূমি মন্ত্রণালয়; অর্থাৎ টাকার অঙ্ক নয়, জমির পরিমাণই ফোরাম ঠিক করে। অঙ্ক নিয়ে বিরোধ আলাদা পথে চলে: প্রথমে অন্তত যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার আরবিট্রেটর, তারপর আরবিট্রেশন আপিল ট্রাইব্যুনাল, অর্থাৎ একজন জেলা জজ, আইন অনুযায়ী যাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত; দুই পর্যায়েই সর্বোচ্চ দশ শতাংশ বৃদ্ধির সীমা আছে।
ধারা ৪৭ দেওয়ানি মামলা ও নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ করেছে, আর দেওয়ানি রিভিশনও নেই। বাকি থাকে অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ, যা জমির নতুন মূল্যায়ন না করে হলফনামার ভিত্তিতে বৈধতা, নোটিশ, এখতিয়ার ও সরল বিশ্বাস যাচাই করে। এর রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ অনুমতি (leave) নিয়ে আপিল বিভাগে যায়, যেখানে আইনগত প্রশ্ন নতুন করে শোনা হয় এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়বিভাগীয় কমিশনার (৫০ বিঘার বেশি হলে ভূমি মন্ত্রণালয়) · আরবিট্রেশন আপিল ট্রাইব্যুনাল (কর্মরত বা সাবেক জেলা জজ)
- প্রথম দফার আদালত২০১৭ সালের আইনের অধীন আরবিট্রেটর (যুগ্ম জেলা জজ বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার)
- শুরু · আদালতের বাইরেঅধিগ্রহণাধীন জমি (জরিপ ও দখল) · আইনজীবীর চেম্বার · জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)ভূমি রাজস্ব বিষয়ে আপিল ও রিভিশন শুনানি করে (যেমন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নামজারি ও রেকর্ড সংক্রান্ত আপিল) এবং ঢাকা বিভাগের জেলা প্রশাসনগুলো তদারক করে।
সরকারি সাইট (dhakadiv.gov.bd) থেকে তথ্য আনা যায়নি; ঠিকানা নিশ্চিত নয়। আটটি বিভাগের প্রতিটিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
অধিগ্রহণাধীন জমি (জরিপ ও দখল)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- প্রত্যাশী সংস্থা (Requiring body)
- যে মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ বা অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
- ধারা ৪-এর নোটিশ (Section ৪ notice)
- অধিগ্রহণের প্রস্তাবের প্রাথমিক নোটিশ; এর তারিখ ধরেই বাজারমূল্য নির্ধারিত হয় এবং আপত্তির সময় শুরু হয়।
- যৌথ তালিকা (Joint list)
- জেলা প্রশাসক প্রত্যাশী সংস্থা ও মালিকদের সঙ্গে মিলে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থাপনা, ফসল ও গাছের যে তালিকা তৈরি করেন।
- রোয়েদাদ (Award)
- মোট ক্ষতিপূরণ ও প্রত্যেক দাবিদারের অংশ সম্পর্কে জেলা প্রশাসকের বিবরণী।
- স্থিতাবস্থার আদেশ (Status quo order)
- রুল বিচারাধীন থাকাকালে জমির দখল যেমন আছে তেমন রাখতে পক্ষদের প্রতি অন্তর্বর্তী আদেশ।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- হাইকোর্ট বিভাগের একটি আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুর করা হবে না।
- ম্যান্ডামাস (Mandamus)
- আইন যা করতে বলে, যেমন নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পরিশোধ, তা করতে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ।
- আরবিট্রেটর (Arbitrator)
- অন্তত যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারিক কর্মকর্তা, যিনি ২০১৭ সালের আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন।
- অসৎ উদ্দেশ্য (Mala fides)
- অসৎ বিশ্বাস বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য; জনস্বার্থ ধরে নেওয়া হলেও এর কারণে অধিগ্রহণ বেআইনি হতে পারে।
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
কখন ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা করা যায়?
এর বদলে কি দেওয়ানি মামলা করা বা নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়?
অধিগ্রহণে আপত্তি জানানোর সময়সীমা কত দিন?
মামলা চলাকালে আদালত কি প্রকল্প বন্ধ রাখতে পারেন?
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলায় জিতলে কি অধিগ্রহণ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়?
হাইকোর্ট বিভাগ কি বিলম্বিত ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আদেশ দিতে পারেন?
আপত্তি ছাড়া ক্ষতিপূরণ নিলে কী হয়?
ভূমি অধিগ্রহণ রিট মামলা নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Acquisition and Requisition of Immovable Property Act 2017 — Laws of Bangladesh
- Acquisition and Requisition of Immovable Property Act 2017 (mirror text)
- Constitution of Bangladesh (Articles 42, 102, 103, 105) — Laws of Bangladesh
- High Court Division, Dr Nozmus Sakib v Bangladesh, Writ Petition No 8141 of 2014 (30 April 2026)
- High Court Division, Mrs Nilufar Hossain v Government of Bangladesh, Writ Petition No 15376 of 2023 (22 February 2024)
- High Court Division, Md Homayun Kabir v Government of Bangladesh, Writ Petition No 15587 of 2025 (14 July 2026)
- High Court Division, East West Property Development (Pvt) Ltd v DC Manikganj, 13 SCOB [2020] HCD 40
- Appellate Division, Deputy Commissioner, Chittagong v Interbulk Overseas SA Bangladesh Ltd, Civil Appeal Nos 171-174 of 2015 (21 May 2025)
- High Court Division, Md Lehaz Uddin v Government of Bangladesh, Writ Petition No 4959 of 2022 (17 January 2024)
- High Court Division, Emon Tanchangya v Government of Bangladesh, Writ Petition No 1724 of 2020 (30 July 2026)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।