অগ্রক্রয় মামলা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পুরো যাত্রা
অগ্রক্রয় মামলা (pre-emption case) হলো এমন প্রতিকার, যার মাধ্যমে কোনো শরিক যৌথ মালিকানার জমির যে অংশ অন্য শরিক বাইরের কারও কাছে বিক্রি করেছেন, তা দেওয়ানি আদালতে আবেদন করে এবং মূল্যের সঙ্গে আইনে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ জমা দিয়ে কিনে নিতে পারেন।
কৃষিজমির ক্ষেত্রে এই অধিকার রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬-এ রয়েছে; ২০০৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে তা কেবল উত্তরাধিকারসূত্রে শরিকদের প্রাপ্য, এবং দুই মাসের মধ্যে প্রয়োগ করতে হয়, কোনো অবস্থাতেই নিবন্ধনের তিন বছর পরে নয়। অকৃষি জমি চলে অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪ অনুযায়ী, যেখানে মেয়াদ চার মাস।
- কোথা থেকে শুরু
- যে দেওয়ানি আদালত জমিটির দখলের মামলা বিচার করতে পারেন, সেখানে অগ্রক্রয়ের বিবিধ মামলা (প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ৯৬(১৪))।…
- মূল আইন
- রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০, ধারা ৮৯, ৯০ ও ৯৬ (২০০৬ সালে প্রতিস্থাপিত); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯, ধারা ২৩ ও…
- সাধারণ সময়কাল
- প্রথম আদালতে: প্রায় ১-৪ বছর। বিবিধ আপিল: প্রায় ১-২ বছর। হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন: প্রায় ১-৩ বছর (ঢাকার সাধারণ…
- কে মামলা করতে পারেন
- কৃষিজমি: জোতের উত্তরাধিকারসূত্রে শরিক প্রজা, যিনি ধারা ৯০ অনুযায়ী কেনার যোগ্য। অকৃষি জমি: জমির শরিক প্রজা।…
অগ্রক্রয় মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · বিক্রির খবর জানা ও যোগ্যতা যাচাইঅগ্রক্রয়ের অধিকার আছে কি না নিশ্চিত করুন
আইনজীবী প্রথমে দেখেন কোন আইন প্রযোজ্য। রায়তি জোত হিসেবে ধারণকৃত কৃষিজমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ৯৬-এর আওতায় পড়ে; শহুরে ও অন্যান্য অকৃষি জমি অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ২৪-এর আওতায়। ধারা ৯৬-এর অধীনে কেবল জোতের উত্তরাধিকারসূত্রে শরিক প্রজা আবেদন করতে পারেন, এবং তা-ও কেবল তখন, যখন ক্রেতা আগে থেকে শরিক নন। বসতভিটা এর বাইরে। ২০০৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের ধারা ৯৬-এর অধীনে কোনো অধিকার নেই। নিকটাত্মীয়কে হেবা (দান), বিনিময়, বণ্টন বা ওয়াক্ফের মাধ্যমে হস্তান্তরে অকৃষি জমির অগ্রক্রয়ের অধিকার জন্মায় না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১), (১৬) ও (১৮); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(১) ও (১১) · কাগজপত্র: মক্কেলের উত্তরাধিকারের কাগজপত্র, যৌথ জোত দেখানো খতিয়ান
পরামর্শ: যে শরিক উত্তরাধিকারসূত্রে নয়, কিনে জোতে শরিক হয়েছেন, তিনি ২০০৬-পরবর্তী ধারা ৯৬-এর অধীনে কৃষিজমি অগ্রক্রয় করতে পারেন না।
ধাপ ২ · বিক্রির খবর জানা ও যোগ্যতা যাচাইবিক্রয় দলিল ও নোটিশ সংগ্রহ করুন
আবেদনকারীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বিক্রয় দলিলের সার্টিফায়েড কপি দরকার, কারণ দলিলে উল্লিখিত পণমূল্যের ওপর জমার অঙ্ক হিসাব হয়। কৃষি জোতের কোনো অংশ বিক্রি হলে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাকে শরিকদের ওপর বিক্রির নোটিশ জারি করতে হয়; অকৃষি জমির ক্ষেত্রে ধারা ২৩-এর অধীনে একই রকম নোটিশ জারি হয়। ওই নোটিশ জারির তারিখ, অথবা আবেদনকারী প্রথম যেদিন বিক্রির কথা জেনেছেন, সেদিন থেকে তামাদির মেয়াদ শুরু হয়, তাই তারিখটি নির্দিষ্ট করে প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
কোথায়: সাব-রেজিস্ট্রি অফিস (বিক্রয় দলিলের রেকর্ড) · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৮৯; অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৩ · কাগজপত্র: নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের সার্টিফায়েড কপি, প্রাপ্ত বিক্রয় নোটিশ (যদি থাকে), জানার তারিখ প্রতিষ্ঠার প্রমাণ
পরামর্শ: জানার তারিখের জন্য স্মৃতির ওপর নির্ভর করবেন না। বিবাদীরা প্রায়ই দাবি করেন যে আবেদনকারী আগেই বিক্রির কথা জানতেন।
ধাপ ৩ · বিক্রির খবর জানা ও যোগ্যতা যাচাইসময়সীমা হিসাব করুন
অগ্রক্রয় মামলা ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ সময়। কৃষিজমির ক্ষেত্রে ধারা ৮৯-এর নোটিশ জারির দুই মাসের মধ্যে, অথবা নোটিশ জারি না হলে জানার তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে, এবং কোনো অবস্থাতেই বিক্রয় দলিল নিবন্ধনের তিন বছর পরে নয়। অকৃষি জমির ক্ষেত্রে মেয়াদ ধারা ২৩-এর নোটিশ জারি বা জানার তারিখ থেকে চার মাস। এগুলো আইনের বিশেষ মেয়াদ, তাই অগ্রক্রয় মামলার জন্য তামাদি আইনের সাধারণ এক বছরের অনুচ্ছেদ কোনো কাজে আসে না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: একই দিন · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১) ও দ্বিতীয় শর্তাংশ; অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(১) · কাগজপত্র: তামাদি হিসাবের নোট, নিবন্ধনের তারিখসহ দলিলের কপি
পরামর্শ: দুই মাস গুনুন সেই সবচেয়ে আগের তারিখ থেকে, যেদিন আপনি জানতেন বলে প্রতিপক্ষ প্রমাণ করতে পারে; আপনার পছন্দের তারিখ থেকে নয়।
ধাপ ৪ · মধ্যস্থতা, জমা ও দায়েরপ্রজ্ঞাপিত জেলায় লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতা
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অগ্রক্রয়ের বিরোধ রয়েছে। যেসব জেলায় ধারাটি কার্যকর করা হয়েছে, সেখানে আবেদনকারীকে প্রথমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে হয়, যা ক্রেতা ও বিক্রেতাকে মধ্যস্থতায় ডাকে। তাঁরা অংশটি পুনরায় বিক্রি করতে রাজি হলে প্রত্যয়িত চুক্তিটি ডিক্রির মতো কার্যকর হয়। রাজি না হলে অফিস ব্যর্থতার সনদ দেয়, যা আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ২০২৬ থেকে ত্রিশটি জেলা প্রজ্ঞাপিত হয়েছে; এই লেখার সময় ঢাকা তার মধ্যে ছিল না।
কোথায়: জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সময়: প্রায় ১ মাস (সর্বশেষ বিধিমালা যাচাই করুন) · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ থেকে ধারা ২১ঙ (২০২৬ সালের ৪৫ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); এস.আর.ও. নং ২৮৮/২০২৬ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আবেদন, বিক্রয় দলিলের কপি, মধ্যস্থতা ব্যর্থতার সনদ
পরামর্শ: আইনে মধ্যস্থতার সময় তামাদি থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে দুই মাসের সময়সীমা থাকায় অবিলম্বে লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করুন এবং তারিখযুক্ত রসিদ সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৫ · মধ্যস্থতা, জমা ও দায়েরআইন অনুযায়ী জমার অঙ্ক হিসাব করুন
কৃষিজমির ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে দায়েরের সময় তিনটি অঙ্ক জমা দিতে হয়: নোটিশ বা বিক্রয় দলিলে উল্লিখিত পণমূল্য; ওই অঙ্কের ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ; এবং দলিলের তারিখ থেকে দায়েরের তারিখ পর্যন্ত পণমূল্যের ওপর বার্ষিক ৮ শতাংশ হারে সরল সুদ। অকৃষি জমির ক্ষেত্রে জমার অঙ্ক হলো নোটিশে উল্লিখিত পণমূল্য বা মূল্য এবং ৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ। যেকোনো ঘাটতিই মারাত্মক: আইনে বলা আছে, আবেদনের সঙ্গে জমা না দিলে আবেদন খারিজ হবে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৩)(ক), (খ) ও (গ); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(২) · কাগজপত্র: জমার হিসাবপত্র, অর্থের উৎস
পরামর্শ: সুদের হিসাব ঊর্ধ্বমুখী রাউন্ড করুন এবং দিনের হিসাব আবার মিলিয়ে নিন। সামান্য কম জমার কারণেও অনেক শক্তিশালী মামলা হেরে গেছে।
ধাপ ৬ · মধ্যস্থতা, জমা ও দায়েরট্রেজারি চালানে টাকা জমা দিন
জমার টাকা নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে চালানে সরকারি ট্রেজারি হিসাবে, যে আদালতে মামলা দায়ের হবে তার নামে জমা দেওয়া হয়, অথবা আদালতের চর্চা অনুযায়ী আদালতে প্রদান করা হয়। আইনগত জমা যে আবেদনের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে চালানের কপি আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। মামলা শেষ হওয়া পর্যন্ত টাকা আদালতে থাকে: আবেদন মঞ্জুর হলে তা ক্রেতাকে দেওয়া হয়, আর ব্যর্থ হলে আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়া হয়।
কোথায়: ট্রেজারি ব্যাংক (চালানের মাধ্যমে জমা) · সময়: ১-২ দিন · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৩) ও (৯)(গ) ও (ঘ) · কাগজপত্র: ট্রেজারি চালান, ব্যাংক রসিদ, জমার জন্য আদালতের আদেশ বা অনুমতি (যেখানে প্রয়োজন)
পরামর্শ: সম্ভব হলে একই দিনে জমা ও দায়ের করুন, যাতে নথিতে দেখা যায় যে আবেদন 'করার সময়েই' জমা দেওয়া হয়েছে।
ধাপ ৭ · মধ্যস্থতা, জমা ও দায়েরঅগ্রক্রয়ের বিবিধ মামলা দায়ের করুন
যে আদালতের জমিটির দখলের মামলা বিচারের এখতিয়ার থাকত, সেখানে আবেদন দায়ের করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি এলাকার সিভিল জজের (পূর্বতন সহকারী জজ) আদালত; ১৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জমি যায় সিনিয়র সিভিল জজের কাছে, আর ২৫ লাখ টাকার বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজের কাছে। এটি মোকদ্দমা হিসেবে নয়, বিবিধ মামলা হিসেবে নিবন্ধিত ও শুনানি হয়। ক্রেতা এবং উত্তরাধিকারসূত্রে অন্য সব শরিককে পক্ষভুক্ত করতে হবে, আর বিক্রেতাকে সাধারণত মোকাবিলা বিবাদী (proforma party) হিসেবে যুক্ত করা হয়। আবেদনে জোত, বিক্রীত অংশ, দলিল এবং আবেদনকারীর শরিক হওয়ার বিবরণ থাকে।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১ দিন · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(২) ও (১৪); দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৪১ · কাগজপত্র: জমির তফসিলসহ অগ্রক্রয়ের আবেদন, বিক্রয় দলিলের সার্টিফায়েড কপি, খতিয়ান ও উত্তরাধিকারের কাগজপত্র, ট্রেজারি চালান, মধ্যস্থতা ব্যর্থতার সনদ (যেখানে প্রয়োজন), কোর্ট ফি
পরামর্শ: প্রয়োজনীয় কোনো শরিককে বাদ দেওয়া একটি সাধারণ কিন্তু এড়ানো যায় এমন ত্রুটি। খতিয়ানের প্রত্যেক ওয়ারিশকে মিলিয়ে নিন।
ধাপ ৮ · বিবিধ মামলার শুনানিক্রেতা ও শরিকদের প্রতি নোটিশ
জমাসহ আবেদন পাওয়ার পর আদালত ক্রেতা ও অন্য পক্ষগণের প্রতি হাজিরার তারিখ ধার্য করে নোটিশ দেন। আদালত ক্রেতাকে জানাতে বলেন বিক্রির পর তিনি আর কী কী টাকা দিয়েছেন, যেমন খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর, অথবা দায়মুক্তি বা জমির উন্নয়নে কী খরচ করেছেন। কৃষিজমির ক্ষেত্রে যোগ দিতে ইচ্ছুক অন্য শরিকেরা মূল মেয়াদের মধ্যে অথবা নোটিশ জারির দুই মাসের মধ্যে, যেটি আগে, আবেদন করতে পারেন; অকৃষি জমির ক্ষেত্রে চার মাস অথবা নোটিশের এক মাসের মধ্যে, যেটি পরে। যিনি যোগ দেন না তিনি অধিকার হারান।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৪) ও (৬); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৩) ও (৪) · কাগজপত্র: নোটিশ, ক্রেতার অতিরিক্ত পরিশোধের বিবরণী, অন্য শরিকদের পক্ষভুক্তির আবেদন
পরামর্শ: যে ক্রেতা জমিতে নির্মাণ করেছেন তিনি উন্নয়ন খরচ দাবি করবেন। রসিদ চান, এবং আদালত যে অতিরিক্ত অঙ্ক নির্ধারণ করবেন তা জমার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
ধাপ ৯ · বিবিধ মামলার শুনানিক্রেতার লিখিত আপত্তি
ক্রেতা লিখিত আপত্তি দাখিল করেন, যাতে সাধারণত দাবি করা হয় যে আবেদনকারী উত্তরাধিকারসূত্রে শরিক নন, ক্রেতা নিজেই শরিক, জমিটি বসতভিটা, আবেদনকারী আগেই বিক্রির কথা জানতেন বলে আবেদন তামাদিতে বারিত, জমা কম হয়েছে, অথবা আবেদনকারী অধিকার পরিত্যাগ করেছেন বা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছেন। ক্রেতা এ-ও দাবি করতে পারেন যে প্রকৃত মূল্য দলিলে উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল, যা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জমা ও ক্ষতিপূরণ এর ওপরই হিসাব হয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১)-এর শর্তাংশ ও (১৬); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৮ (ধারা ১৪১ দ্বারা প্রযোজ্য) · কাগজপত্র: লিখিত আপত্তি, ক্রেতার দলিলপত্র
পরামর্শ: অধিকার পরিত্যাগ ও সম্মতির আপত্তি ঘটনানির্ভর। অগ্রক্রয় করতে চাইলে কিছুতে স্বাক্ষর করবেন না, বিক্রয় দলিলে সাক্ষীও হবেন না।
ধাপ ১০ · বিবিধ মামলার শুনানিসাক্ষ্য ও তদন্ত
উভয় পক্ষ সাক্ষ্য দেন। আবেদনকারী উত্তরাধিকার, যৌথ জোত, বিক্রি এবং জানার তারিখ প্রমাণ করেন। ক্রেতা তাঁর আপত্তি এবং পরিশোধিত খাজনা, দায়মুক্তি বা উন্নয়ন খরচের দাবি প্রমাণ করেন। এরপর আদালত আইনের নির্দেশমতো ওই অঙ্কগুলো সম্পর্কে তদন্ত করেন। অকৃষি জমির ক্ষেত্রে আবেদনকারী নোটিশে উল্লিখিত পণমূল্য নিয়ে আপত্তি করলে আদালত প্রকৃত পরিশোধিত মূল্য তদন্ত করেন। ২০২৬ সাল থেকে জবানবন্দি হলফনামায় দেওয়া হয়, এরপর জেরা হয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ৪-১৮ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৫); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৩) ও (৬); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনী, খাজনা ও উন্নয়নের রসিদ
পরামর্শ: এলাকায় বিক্রির খবর কবে জানাজানি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেশী ও স্থানীয় তহশিলদার ভালো সাক্ষী হতে পারেন।
ধাপ ১১ · বিবিধ মামলার শুনানিআদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত জমা
তদন্তের পর আদালত পরিশোধিত খাজনা, দায়মুক্তি বা উন্নয়ন বাবদ ক্রেতার প্রাপ্য যে অতিরিক্ত অঙ্ক পান, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে আবেদনকারীকে নির্দেশ দেন। অকৃষি জমির ক্ষেত্রে ওই অঙ্কের সঙ্গে বার্ষিক সোয়া ছয় শতাংশ সুদ যোগ হয়। একাধিক শরিক যোগ দিলে আদালত মোট অঙ্ক তাঁদের মধ্যে ভাগ করে প্রত্যেককে নিজ অংশ জমা দিতে আদেশ দেন; কোনো সহ-আবেদনকারী সময়মতো জমা না দিলে তাঁর আবেদন খারিজ হয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৫), (৭) ও (৮); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৩) ও (৪)(খ) · কাগজপত্র: অতিরিক্ত জমা নির্ধারণের আদেশ, অতিরিক্ত ট্রেজারি চালান
পরামর্শ: টাকা প্রস্তুত রাখুন। অতিরিক্ত জমার সময়সীমা কম, আর তা পার হলে মামলা শেষ।
ধাপ ১২ · আদেশ, বিক্রয় দলিল ও দখলঅগ্রক্রয় মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশ
এরপর আদালত আদেশ দেন। আবেদনকারী যোগ্য হলে এবং প্রতিটি জমা সময়মতো দিয়ে থাকলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন, একাধিক সফল আবেদনকারী থাকলে তাঁদের মধ্যে অংশ ভাগ করে দেন, অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের আদেশ দেন এবং জমা থেকে ক্রেতাকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ধারা ৯৬-এর অধীনে আদালত ক্রেতাকে ষাট দিনের মধ্যে কর, শুল্ক বা নিবন্ধন ফি ছাড়াই সফল আবেদনকারীদের অনুকূলে বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনেরও নির্দেশ দেন। আবেদন ব্যর্থ হলে জমা টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: শুনানির পর ১-২ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৯); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৫) ও (৭) · কাগজপত্র: চূড়ান্ত আদেশ, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: একই দিনে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন: আপিলের মেয়াদ আদেশের তারিখ থেকেই গোনা শুরু হয়।
ধাপ ১৩ · আদেশ, বিক্রয় দলিল ও দখলবিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন
ধারা ৯৬ অনুযায়ী ক্রেতাকে ষাট দিনের মধ্যে সফল শরিকদের অনুকূলে বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করতে হয়। তিনি তা না করলে আদালত নিজেই দলিল সম্পাদন করে পরবর্তী ষাট দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করেন। নিবন্ধনের তারিখ থেকে ক্রেতার স্বত্ব, অধিকার ও স্বার্থ অগ্রক্রয়কারীর ওপর বর্তায়, বিক্রির পরে সৃষ্ট দায়মুক্ত অবস্থায়। অকৃষি জমির ক্ষেত্রে আলাদা দলিল ছাড়াই আদালতের আদেশের তারিখ থেকেই স্বত্ব বর্তায়।
কোথায়: সাব-রেজিস্ট্রি অফিস (বিক্রয় দলিলের রেকর্ড) · সময়: ২-৪ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৯)(ঙ), (১০) ও (১১); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৮) · কাগজপত্র: অগ্রক্রয়কারীর অনুকূলে বিক্রয় দলিল, আদেশের সার্টিফায়েড কপি, নিবন্ধনের কাগজপত্র
পরামর্শ: ধারা ৯৬(৯)(ঙ) অনুযায়ী আদালতের আদেশে সম্পাদিত দলিল নিবন্ধনে কোনো কর, শুল্ক বা ফি দিতে হয় না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিষয়টি উল্লেখ করুন।
ধাপ ১৪ · আদেশ, বিক্রয় দলিল ও দখলদখল হস্তান্তর ও নামজারি
সফল অগ্রক্রয়কারী আবার আবেদন করলে আদালত তাঁর নাজিরের মাধ্যমে, প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তায়, তাঁর ওপর বর্তানো জমির দখল তাঁকে বুঝিয়ে দিতে পারেন। এরপর অগ্রক্রয়কারীর উচিত রেকর্ড-অব-রাইটসের নামজারির জন্য এসি ল্যান্ড অফিসে আবেদন করা এবং নিজের নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা। একাধিক অগ্রক্রয়কারীর মধ্যে অংশ ভাগ করলেই জোত বিভক্ত হয় না, তাই সঠিক সীমানা নির্ধারণে পরে বাঁটোয়ারার প্রয়োজন হতে পারে।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ) · সময়: ২-৬ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১২) ও (১৩); অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৮)(iii); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৪ক · কাগজপত্র: দখল হস্তান্তরের আবেদন, নিবন্ধিত বিক্রয় দলিল বা আদেশ, নামজারির আবেদন
পরামর্শ: দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করুন। রেকর্ডে বাইরের ক্রেতার নাম থেকে গেলে নতুন বিরোধ ও তৃতীয় পক্ষের কাছে পুনরায় বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়।
যদি এমন হয়…? অগ্রক্রয় মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হবে?
- 1জেলা জজ আদালত
জেলা জজের কাছে বিবিধ আপিল
ধারা ৯৬-এর অধীনে যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণ দেওয়ানি আপিল আদালতে আপিল চলে, যা সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ক্ষেত্রে জেলা জজ, আর যুগ্ম জেলা জজের ক্ষেত্রে মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে জেলা জজ। নকল তোলার সময় বাদ দিয়ে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন। আপিলে তামাদি ও জমাসহ নথির ভিত্তিতে ঘটনা ও আইন দুটিই পুনরায় শোনা হয়।
১-২ বছররাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১৫)অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ২৪(৯)দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ আদেশটি বহাল, রদ বা সংশোধন করেন; ঘটনা সম্পর্কে তাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
আপিল আদেশ আইনগতভাবে ভুল হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন
দ্বিতীয় আপিল নেই। বিবিধ আপিলে জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (civil revision) করেন। একক বিচারক বিবেচনা করেন যে আইনের কোনো ভুল, যেমন ২০০৬ সালের সংশোধনী, তামাদির শর্তাংশ বা জমার বিধানের ভুল ব্যাখ্যা, ভুল আদেশ ও ন্যায়বিচারের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে কি না। রুল জারি হলে নথি তলব করা হয়, এবং ইতিমধ্যে অগ্রক্রয়কারীকে জমি নিয়ে লেনদেন থেকে বিরত রাখা হতে পারে।
১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০০-১০৩ (১৯৭৮ সালে বিলুপ্ত)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রুল খারিজ হয়ে আপিল আদেশ বহাল থাকে, অথবা রুল চূড়ান্ত হয়ে আদেশ সংশোধন বা বাতিল হয়।
বিচারিক আদালত কি তার আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ)
আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ
যে পক্ষ আপিল করেননি তিনি নব্বই দিনের মধ্যে একই আদালতকে আদেশটি রিভিউ (review) করতে বলতে পারেন, নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য পাওয়া গেলে, নথিতে দৃশ্যমান ভুল বা ত্রুটি থাকলে, অথবা অন্য পর্যাপ্ত কারণে। ধারা ১৪১ অনুযায়ী কার্যবিধির পদ্ধতি বিবিধ কার্যধারায় প্রযোজ্য। রিভিউয়ের পরিসর সংকীর্ণ এবং মামলা নতুন করে যুক্তিতর্কের জন্য ব্যবহার করা যায় না; জমা বা অংশ বণ্টনের গাণিতিক ভুল এ ধরনের সংশোধনযোগ্য ভুল।
২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৪১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ নামঞ্জুর হয়, অথবা নির্দিষ্ট বিষয়ে আদেশ সংশোধন করা হয়।
আদালতের কোনো আইনগত প্রশ্নে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স
মামলায় এমন আইনগত প্রশ্ন উঠলে, যাতে আদালতের যুক্তিসংগত সন্দেহ রয়েছে, যেমন ২০০৬ সালের সংশোধনী কার্যকর হওয়ার কাছাকাছি সময়ে নিবন্ধিত বিক্রিতে তা প্রযোজ্য কি না, আদালত বিষয়টি বিবৃত করে ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬-এর অধীনে মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন। আদালত শুনানি চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু উত্তর না আসা পর্যন্ত এর ওপর নির্ভরশীলভাবে মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন না।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ১ থেকে ৩রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১৮) - 2সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ)
মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
হাইকোর্ট বিভাগের মতামত ফেরত এলে বিচারিক আদালত সে অনুযায়ী বিবিধ মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং বাকি ঘটনাগত বিচার্য বিষয়, যেমন জানার তারিখ ও অতিরিক্ত জমা, নিষ্পত্তি করেন। এরপর চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক নিয়মে জেলা জজের কাছে আপিল চলে, এবং মামলা আবার উচ্চ আদালতে উঠতে পারে।
১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মতামত অনুযায়ী প্রথম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়, এবং আপিলের স্বাভাবিক পথ আবার খুলে যায়।
আপিল আদালত মামলা ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1জেলা জজ আদালত
পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
বিচারিক আদালত যদি তামাদির মতো প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে আবেদন নামঞ্জুর করে থাকেন এবং জেলা জজ সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেন, তাহলে আপিল আদালত অন্য বিচার্য বিষয়, যেমন ক্রেতার উন্নয়ন খরচের তদন্ত, নিষ্পত্তির জন্য মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত (রিমান্ড) পাঠাতে পারেন। আদেশ ৪১ বিধি ২৪-এর ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী নথিতে যথেষ্ট সাক্ষ্য থাকলে আপিল আদালতকে নিজেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। ফেরত পাঠানোর আদেশে আপত্তিকারী পক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন না, কারণ জেলা জজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর আপিল চলে না; পথ হলো ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে সিভিল রিভিশন।
আপিল রায়ের সঙ্গে আদেশদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩ ও ২৪ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৩ বিধি ১(u) ও ধারা ১১৫(১) - 2সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ)
নতুন সিদ্ধান্ত এবং আবার উচ্চ আদালতে
বিচারিক আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন, ফেরত পাঠানো বিচার্য বিষয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত জমার নির্দেশ দেন এবং নতুন আদেশ দেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আবার ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলা জজের কাছে আপিল চলে, এবং জেলা জজের কাছ থেকে বিষয়টি আরও একবার রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে।
৬-১২ মাসরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(৫) ও (৯)রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৯৬(১৫)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সম্পূর্ণ নথিসহ মামলা জেলা জজের কাছে এবং প্রয়োজনে হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে যায়।
মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
লিভ টু আপিলের সিভিল পিটিশন
হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনাল রায়ের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে লিভ টু আপিলের সিভিল পিটিশন দাখিল করতে পারেন। আপিল বিভাগ কেবল তখনই অনুমতি দেন, যখন গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন ওঠে, যেমন উত্তরাধিকারসূত্রে শরিক হওয়ার শর্তের পরিধি বা তিন বছরের চূড়ান্ত সীমা কীভাবে গোনা হবে। অনুমতি মিললে নথির ভিত্তিতে সিভিল আপিলের শুনানি হয়। আপিল বিভাগ ত্রিশ দিনের মধ্যে দাখিল করা আবেদনে অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫; আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং আইনগত প্রশ্নে সব আদালতের জন্য বাধ্যকর।
অগ্রক্রয় মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
অগ্রক্রয় মামলা শুরু হয় বিবিধ মামলা হিসেবে সেই দেওয়ানি আদালতে, যিনি জমিটির দখলের মামলা বিচার করতে পারেন; তা দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী জমির মূল্য দিয়ে নির্ধারিত হয়: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমির জন্য সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ এবং তার বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ। ধারা ৯৬(১৫) ও ধারা ২৪(৯) সাধারণ দেওয়ানি আপিল আদালতে একটি আপিলের অধিকার দেয়। সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজের ক্ষেত্রে, এবং মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে যুগ্ম জেলা জজের ক্ষেত্রে, তা জেলা জজ; এর বেশি হলে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে।
আপিল হলো নথির ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ পুনঃশুনানি। ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় আপিল বিলুপ্ত হয়েছে, তাই জেলা জজের পর একমাত্র প্রতিকার আইনের ভুলের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন। সবার ওপরে আপিল বিভাগ, যা কেবল অনুমতি সাপেক্ষে মামলা শোনে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতসিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পূর্বতন সহকারী জজ / সিনিয়র সিভিল জজ)
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · সাব-রেজিস্ট্রি অফিস (বিক্রয় দলিলের রেকর্ড) · জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · ট্রেজারি ব্যাংক (চালানের মাধ্যমে জমা)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস (বিক্রয় দলিলের রেকর্ড)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ট্রেজারি ব্যাংক (চালানের মাধ্যমে জমা)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অগ্রক্রয় (Pre-emption)
- বাইরের কারও কাছে বিক্রীত যৌথ জমির অংশ একই মূল্যে এবং ক্ষতিপূরণসহ কিনে নেওয়ার জন্য শরিকের আইনগত অধিকার।
- শরিক প্রজা (Co-sharer tenant)
- যিনি বিক্রেতার সঙ্গে একই জোতে অবিভক্ত অংশের মালিক।
- উত্তরাধিকারসূত্রে শরিক (Co-sharer by inheritance)
- যে শরিকের অংশ উত্তরাধিকারসূত্রে এসেছে; ২০০৬ সাল থেকে কেবল এমন শরিকই ধারা ৯৬-এর অধীনে কৃষিজমি অগ্রক্রয় করতে পারেন।
- রায়তি জোত (Raiyati holding)
- রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের অধীনে রায়তের (সরাসরি সরকারের অধীন প্রজা) ধারণকৃত কৃষিজমি।
- বসতভিটা (Homestead)
- পরিবারের বসবাসের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত জমি; ধারা ৯৬(১৬) অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের বাইরে।
- পণমূল্য (Consideration)
- বিক্রয় দলিলে উল্লিখিত মূল্য, যার ওপর জমা ও ক্ষতিপূরণ হিসাব করা হয়।
- বিবিধ মামলা (Miscellaneous Case)
- যে রূপে দেওয়ানি আদালতে অগ্রক্রয়ের আবেদন নিবন্ধিত ও বিচার করা হয়।
- ট্রেজারি চালান (Treasury challan)
- আদালতের নামে সরকারি ট্রেজারিতে টাকা জমা দেওয়ার সরকারি ফরম।
অগ্রক্রয় মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে অগ্রক্রয় মামলা কে করতে পারেন?
সময়সীমা কত?
কত টাকা জমা দিতে হবে?
অগ্রক্রয় মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
বসতভিটা কি অগ্রক্রয় করা যায়?
আগে কি মধ্যস্থতা করা বাধ্যতামূলক?
হেরে গেলে আমার টাকার কী হবে?
মুসলিম আইনের অগ্রক্রয় (শুফা) কি এখনো আছে?
আইন ও উৎস
- State Acquisition and Tenancy Act 1950, s.96 — Laws of Bangladesh
- Non-Agricultural Tenancy Act 1949, ss.23-24 — Laws of Bangladesh
- Code of Civil Procedure 1908 (as amended by Act No. XXXVI of 2026) — Laws of Bangladesh
- Civil Courts Act 1887 (ss.19 and 21, as amended 2021 and 2026) — Laws of Bangladesh
- Limitation Act 1908 — Laws of Bangladesh
- Legal Aid Services Act 2000, s.21B (inserted by Act No. 45 of 2026) — Laws of Bangladesh
- Prothom Alo, 28 April 2026 — Disputes covered by mandatory legal aid mediation (Bangla)
- Daily Observer, 21 July 2026 — Mandatory pre-litigation mediation extended to more districts
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।