জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা: আরজি থেকে দখল বুঝে পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দুই রকম হতে পারে: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (Specific Relief Act 1877)-এর ধারা ৯-এর অধীন সংক্ষিপ্ত মামলা, যা বেদখলের ছয় মাসের মধ্যে দায়ের করতে হয় এবং কেবল পূর্ববর্তী দখলের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়; অথবা ধারা ৮-এর অধীন স্বত্বভিত্তিক মামলা, যা বারো বছরের মধ্যে দায়ের করা যায়, সাধারণত স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনাসহ।
দুটিরই বিচার হয় জমির মূল্য অনুযায়ী নির্ধারিত দেওয়ানি আদালতে; আরজি-জবাব, মধ্যস্থতা, সাক্ষ্য ও ডিক্রির পর্যায় পেরিয়ে প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তায় জারির মাধ্যমে তা শেষ হয়। ধারা ৯-এর ডিক্রি কেবল রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়; ধারা ৮-এর ডিক্রির বিরুদ্ধে মূল্য অনুযায়ী জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।
- কোথা থেকে শুরু
- জমি যে এলাকায় অবস্থিত সেখানকার দেওয়ানি আদালত: সিভিল জজ (মূল্য ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত), সিনিয়র সিভিল জজ (২৫ লাখ টাকা…
- মূল আইন
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (ধারা ৮, ৯, ৩৯, ৪২); দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)…
- সাধারণ সময়কাল
- ধারা ৯-এর মামলা: প্রায় ১-৩ বছর। ধারা ৮-এর স্বত্ব মোকদ্দমা: প্রথম আদালতে প্রায় ৩-৭ বছর, সঙ্গে আপিল ও রিভিশনে ২-৬ বছর…
- কে মামলা করতে পারেন
- ধারা ৯: যিনি বেদখল হয়েছেন (সরকারের বিরুদ্ধে নয়)। ধারা ৮: স্বত্বের ভিত্তিতে দখল পাওয়ার অধিকারী যে কেউ, ওয়ারিশ ও…
জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগেধারা ৯ নাকি ধারা ৮-এর মামলা, তা বেছে নিন
প্রথম প্রশ্ন হলো বেদখলের তারিখ। মক্কেলকে সম্মতি ছাড়া এবং আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ছয় মাসেরও কম সময় আগে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৯-এর অধীন সংক্ষিপ্ত মামলা করা যায়: আদালত কেবল দেখেন বাদী দখলে ছিলেন কি না এবং তাঁকে বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে কি না; স্বত্ব এখানে অপ্রাসঙ্গিক। ছয় মাস পেরিয়ে গেলে মক্কেলকে বারো বছরের মধ্যে ধারা ৮-এর অধীন স্বত্বের ভিত্তিতে মামলা করতে হয়।
আইনজীবী দ্রুততর উপায়ও বিবেচনা করেন, যেমন ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর অধীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন, যা দখল-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একসঙ্গে চলতে পারে না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৮ ও ধারা ৯; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৩ ও অনুচ্ছেদ ১৪২; ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ · কাগজপত্র: দখল ও বেদখলের লিখিত সময়ক্রম, ছবি ও সাক্ষীদের নাম
পরামর্শ: বেদখলের দিনই তারিখটি লিখে রাখুন। থানায় অভিযোগ বা স্থানীয় সালিশে ছয় মাসের মেয়াদ থেমে থাকে না।
ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগেস্বত্ব ও রেকর্ড-অব-রাইটসের প্রমাণ সংগ্রহ করুন
ধারা ৮-এর মামলা জেতা যায় কাগজপত্রে। আইনজীবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে স্বত্বের ধারাবাহিক দলিলের সার্টিফায়েড কপি, এসি ল্যান্ড অফিস থেকে রেকর্ড-অব-রাইটস (সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান), নামজারির রেকর্ড ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ, এবং মৌজা নকশা সংগ্রহ করেন। স্বত্বের ধারাবাহিকতায় ফাঁক, যেমন অনিবন্ধিত উত্তরাধিকার বা রেকর্ডে না ওঠা বিক্রি, এখনই চিহ্নিত করা হয় যাতে তা আরজিতে উল্লেখ করে প্রমাণ করা যায়। ধারা ৯-এর মামলায় বরং সাম্প্রতিক বাস্তব দখলের প্রমাণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
কোথায়: এসি ল্যান্ড অফিস ও রেকর্ড রুম · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ ও ধারা ১১০; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩ ও ধারা ১৪৪ক · কাগজপত্র: স্বত্ব দলিলের সার্টিফায়েড কপি, সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান, নামজারি সনদ ও ডিসিআর, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ, মৌজা নকশা
পরামর্শ: যথাযথ হেফাজত থেকে আসা ত্রিশ বছরের বেশি পুরোনো রেকর্ড সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯০ অনুযায়ী খাঁটি বলে অনুমিত হয়, তাই ফটোকপি নয়, সার্টিফায়েড কপি নিন।
ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগেতামাদি, পক্ষ ও সঠিক প্রতিকার যাচাই করুন
আইনজীবী প্রযোজ্য তামাদি অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেন (ধারা ৯-এর জন্য ছয় মাস; ধারা ৮-এর জন্য বেদখল থেকে, অথবা বিবাদীর দখল যখন থেকে বিরুদ্ধ হয়েছে তখন থেকে বারো বছর) এবং প্রয়োজনীয় প্রত্যেক বিবাদীকে চিহ্নিত করেন, জমির ওপর নিবন্ধিত দলিলধারী যে কাউকেসহ। বিবাদী স্বত্ব অস্বীকার করলে আরজিতে খাস দখল পুনরুদ্ধারসহ স্বত্ব ঘোষণা এবং কোনো প্রতিকূল দলিল বাতিলের প্রার্থনা করতে হয়, কারণ আরও প্রতিকার চাওয়া সম্ভব হলে ধারা ৪২-এর শর্তাংশ শুধু ঘোষণার মামলা বারিত করে। আদেশ ২ বিধি ২ অনুযায়ী এখন বাদ দেওয়া প্রতিকারের জন্য পরে আর মামলা করা যায় না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ ও অনুচ্ছেদ ১৪৪; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৯ ও ধারা ৪২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২ বিধি ২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮০ (সরকারকে নোটিশ) · কাগজপত্র: বিবাদীদের খসড়া তালিকা, প্রতিকারের খসড়া প্রার্থনা, দখলদারকে ঐচ্ছিক আইনি নোটিশ
পরামর্শ: সরকার বিবাদী হলে সময় থাকলে আগে ধারা ৮০-এর অধীন দুই মাসের নোটিশ দিন; নোটিশ ছাড়া মামলা করলে মামলার খরচ হারাতে পারেন। সরকারের বিরুদ্ধে ধারা ৯-এর মামলা আদৌ করা যায় না।
ধাপ ৪ · দায়ের ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষামামলার মূল্যমান নির্ধারণ ও কোর্ট ফি পরিশোধ
জমির মূল্যই কোর্ট ফি এবং কোন আদালত মামলাটি শুনবেন—দুটোই ঠিক করে। দখলের মামলার মূল্যমান ধরা হয় জমির বাজারমূল্যে, এবং কোর্ট-ফি আইনের ধারা ৭ ও প্রথম তফসিল অনুযায়ী তফসিলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত ক্রমহ্রাসমান হারে মূল্যানুপাতিক ফি লাগে। ওই মূল্যই বিচারিক আদালত নির্ধারণ করে: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ মামলা শোনেন। কার্যবিধির ধারা ১৫ অনুযায়ী মামলা সর্বনিম্ন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়ের করতে হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ সপ্তাহ · আইন: কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(৫) ও প্রথম তফসিল; মামলা মূল্যায়ন আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ৮; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫ · কাগজপত্র: মূল্যমানের বিবরণী, বাজারমূল্যের প্রমাণ (সাম্প্রতিক বিক্রয় দলিল, মৌজা রেট), কোর্ট ফি স্ট্যাম্প
পরামর্শ: ফি বাঁচাতে কম মূল্য দেখাবেন না। বিবাদী আপত্তি করবেন, আদালত ঘাটতি দাবি করতে পারেন, এবং কম মূল্যায়নে মামলা ভুল আদালতে চলে যেতে পারে।
ধাপ ৫ · দায়ের ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষাজমি যেখানে, সেখানে আরজি দাখিল করুন
যে দেওয়ানি আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারে জমিটি অবস্থিত, সেখানে আরজি দাখিল করা হয়। এতে তফসিলে মৌজা, খতিয়ান, দাগ ও চৌহদ্দি দিয়ে জমির বর্ণনা থাকে; বাদীর স্বত্ব বা দখল, বেদখলের তারিখ ও ধরন, মামলার কারণ এবং প্রতিকার উল্লেখ থাকে, অবৈধ দখলের সময়ের অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফাসহ (mesne profits)। আদালত এটি স্বত্ব মোকদ্দমা হিসেবে নিবন্ধন করে সমন জারির আদেশ দেন। বাংলাদেশে জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় জমির তফসিলই সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়, তাই দাগ নম্বর রেকর্ডের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: দাখিলে ১-২ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৬ ও ধারা ২৬; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৭ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৭ বিধি ১৪ · কাগজপত্র: জমির তফসিলসহ আরজি, সত্যপাঠ ও হলফনামা, দলিলের তালিকা ও সার্টিফায়েড কপি, কোর্ট ফি, প্রসেস ফি ও প্রত্যেক বিবাদীর জন্য কপি
পরামর্শ: দলিলগুলো এখনই আরজির সঙ্গে দিন। আরজির সঙ্গে দাখিল বা তালিকাভুক্ত না হওয়া দলিলের জন্য পরে আদালতের অনুমতি লাগে।
ধাপ ৬ · দায়ের ও অন্তর্বর্তী সুরক্ষাঅস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা রিসিভার চান
মামলা চলাকালে বিবাদী যাতে জমিতে নির্মাণ, বিক্রি বা জমির আরও ক্ষতি করতে না পারেন, সে জন্য বাদী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আদালত প্রাথমিক মামলা (prima facie case), সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য ও অপূরণীয় ক্ষতি বিবেচনা করেন, এবং শুনানি পর্যন্ত প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন (ad interim) আদেশ দিতে পারেন। কোনো পক্ষেরই জমি দখলে রাখা উচিত না হলে আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন। বিবাদীও নিজের নিষেধাজ্ঞার আবেদন করতে পারেন, এবং আদেশ পরিবর্তন করা যায়। আদেশ অমান্য করলে সম্পত্তি ক্রোক ও দেওয়ানি কারাগারে আটকের শাস্তি হতে পারে।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯ বিধি ১, ২(৩) ও ৩; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪০ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৪ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ নিষেধাজ্ঞার আবেদন, নির্মাণ বা দখলের ছবি, কারণ দর্শানোর জবাব
পরামর্শ: যে নিষেধাজ্ঞা দখলদার বদলে দেয় তার চেয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সহজ। প্রমাণ যতটুকু সমর্থন করে, ততটুকুই চান।
ধাপ ৭ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতাপ্রত্যেক বিবাদীর ওপর সমন জারি
আদালত আরজির কপিসহ সমন ইস্যু করেন। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে জারিকারকের পাশাপাশি রেজিস্টার্ড ডাক, কুরিয়ার এবং এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংসহ ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও সমন জারি করা যায়। কোনো বিবাদী সমন এড়িয়ে গেলে আদালত বিকল্প পদ্ধতিতে জারির আদেশ দিতে পারেন, পত্রিকায় প্রকাশসহ। নিবন্ধিত স্বার্থসম্পন্ন প্রত্যেকের ওপর সমন জারি করতে হবে; যে মালিককে কখনো পক্ষ করা হয়নি, তাঁর ওপর ডিক্রি বাধ্যতামূলক নয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫ বিধি ১, ৯, ৯ক ও ২০ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত) · কাগজপত্র: সমন, প্রসেস ফি, বিবাদীদের সঠিক ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
পরামর্শ: আরজিতে মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিন, যাতে শুরু থেকেই ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জারির আদেশ হতে পারে।
ধাপ ৮ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতাবিবাদীর লিখিত জবাব দাখিল
সমন জারির ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যেক বিবাদীকে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়। যুক্তিসংগত কারণে আদালত পরের তারিখ দিতে পারেন, তবে ষাট কার্যদিবসের বেশি নয়; এরপর ওই বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা একতরফাভাবে চলে। জবাবে সাধারণত বাদীর স্বত্ব অস্বীকার করা হয়, বিবাদীর নিজের দলিল বা উত্তরাধিকার দাবি করা হয়, বারো বছরের বিরুদ্ধ দখলের কথা বলা হয়, অথবা মামলাটি তামাদি, পক্ষের ত্রুটি বা কম মূল্যায়নের কারণে বারিত বলে দাবি করা হয়। নির্ভর করা দলিলগুলো জবাবের সঙ্গেই দাখিল করতে হয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: সমন জারি থেকে ৩০-৬০ কার্যদিবস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৮ বিধি ১ ও ১০; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৪৪ ও ধারা ২৮ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, বিবাদীর দলিল ও তালিকা
পরামর্শ: বিরুদ্ধ দখলের দাবিতে শুরুর তারিখ এবং প্রকাশ্য, বৈরী দখলের তথ্য উল্লেখ করতে হয়। শুধু দাবি করলে তা বিচারে খুব কমই টেকে।
ধাপ ৯ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতাআদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা
লিখিত জবাব দাখিল হলে এবং পক্ষরা হাজির হলে আদালতকে হয় নিজে মধ্যস্থতা করতে হয়, নয়তো বিরোধটি পক্ষদের আইনজীবী, প্যানেল মধ্যস্থতাকারী বা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে হয়। মধ্যস্থতা ষাট দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়, ত্রিশ দিন বাড়ানো যায়। আপস হলে তা আপস ডিক্রি হিসেবে রেকর্ড হয়, যার বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিশন চলে না, এবং আদালত পরিশোধিত কোর্ট ফি ফেরতের সনদ দেন। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে মামলা যেখানে ছিল সেখান থেকে আবার চলে। দখলের মামলা সাধারণত মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতার আওতাভুক্ত বিরোধের মধ্যে পড়ে না।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ২-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ৩ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতা চুক্তি বা প্রতিবেদন, আপসনামা (আপস হলে)
পরামর্শ: অপরিচিত অনুপ্রবেশকারীর মামলার চেয়ে শরিক ও পারিবারিক দখল-বিরোধে আপস বেশি হয়। চৌহদ্দি বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসুন।
ধাপ ১০ · বিচার ও ডিক্রিবিচার্য বিষয় গঠন ও স্থানীয় তদন্তের আদেশ
আদালত আরজি-জবাব পরীক্ষা করে বিচার্য বিষয় গঠন করেন, যেমন বাদীর স্বত্ব আছে কি না, তিনি বেদখল হয়েছেন কি না ও কবে, মামলাটি তামাদিতে বারিত কি না, এবং বিবাদী বিরুদ্ধ দখলের মাধ্যমে স্বত্ব অর্জন করেছেন কি না। বিবাদী কোন দাগ দখল করে আছেন বা চৌহদ্দি কোথায়, তা নিয়ে বিরোধ হলে আদালত জমি পরিদর্শন করে নকশাসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার বা জরিপজ্ঞ কমিশনার (আমিন) নিয়োগ করেন। পক্ষরা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি দিতে পারেন।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ২-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৪ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৯ ও ১০ · কাগজপত্র: গঠিত বিচার্য বিষয়, কমিশনের আবেদন, কমিশনারের প্রতিবেদন ও মাঠ নকশা
পরামর্শ: জমির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকলে আগেভাগেই কমিশনের আবেদন করুন। একজন ভালো কমিশনারের নকশা অনেক সময় মামলার ফয়সালা করে দেয়।
ধাপ ১১ · বিচার ও ডিক্রিহলফনামায় সাক্ষ্য ও জেরা
২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে পক্ষের জবানবন্দি হলফনামায় দেওয়া হয়, যার কপি আগে অপর পক্ষকে দিতে হয়, এবং এরপর সাক্ষীকে আদালতে জেরা করা হয়। বাদী প্রতিবেশী ও জমির বিক্রেতার মতো সাক্ষীদের মাধ্যমে স্বত্বের দলিল, দখল ও বেদখল প্রমাণ করেন। এরপর বিবাদী সাক্ষ্য দেন। চূড়ান্ত (peremptory) শুনানির আগে আদালত কোনো পক্ষকে চারবারের বেশি মুলতবি দিতে পারেন না, এবং এর পরে খরচ ছাড়া কোনো মুলতবি নয়; চূড়ান্ত শুনানির জন্য ধার্য তারিখ থেকে ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে শুনানি শেষ করা উচিত।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪, ৪ক ও ১৯; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) ও (৪) · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শিত দলিল, সাক্ষীর সমন
পরামর্শ: তারিখ ও চৌহদ্দি নিয়ে জেরার জন্য সাক্ষীদের প্রস্তুত করুন। দাগের অসংগত বর্ণনাই দখলের দাবি ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
ধাপ ১২ · বিচার ও ডিক্রিযুক্তিতর্ক ও রায়
সাক্ষ্যের পর উভয় পক্ষের আইনজীবী বিচার্য বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আদালতকে রায় ঘোষণা করতে হয় এবং কারণসহ প্রতিটি বিচার্য বিষয় আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করতে হয়। ধারা ৮-এর মামলায় আদালত নির্ধারণ করেন কার স্বত্ব আছে এবং বাদী খাস দখল পুনরুদ্ধারের অধিকারী কি না। ধারা ৯-এর মামলায় কেবল দখল ও বেদখলের বিষয় নিষ্পত্তি হয়, স্বত্বের প্রশ্ন খোলা থাকে। খরচ সাধারণত বিজয়ী পক্ষ পান, এবং মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা জবাবের জন্য সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ আরোপ হতে পারে।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ বিধি ১, ৪ ও ৫; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৩৫ ও ধারা ৩৫ক · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তি (ঐচ্ছিক), রায়
পরামর্শ: প্রদর্শনীর পৃষ্ঠা নম্বরসহ সংক্ষিপ্ত লিখিত যুক্তি দাখিল করুন। অনেক রায় লেখেন এমন বিচারকেরা সাক্ষ্যের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পছন্দ করেন।
ধাপ ১৩ · বিচার ও ডিক্রিদখল ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফার ডিক্রি
রায়ের সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রস্তুত করতে হয়। এতে চৌহদ্দি বা জরিপ নম্বর দিয়ে জমি শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট বর্ণনা থাকে। বাদী অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা দাবি করে থাকলে আদালত অতীতের সময়ের জন্য তা ডিক্রি দিতে, তদন্তের নির্দেশ দিতে, এবং দখল বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যৎ মুনাফার আদেশ দিতে পারেন। বাংলাদেশে জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলার ডিক্রিই সেই দলিল, যা বেলিফ মাঠে কার্যকর করবেন, তাই তফসিলের যেকোনো ভুল এখনই ধারা ১৫২-এর অধীন সংশোধন করা উচিত।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ বিধি ৫ক, ৯ ও ১২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(১২) ও ধারা ১৫২ · কাগজপত্র: ডিক্রি, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: জারির আবেদনের আগে ডিক্রির তফসিল আরজি ও কমিশনারের নকশার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
ধাপ ১৪ · জারি: জমি ফেরত পাওয়াজারির আবেদন
ডিক্রিদার ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে ডিক্রির বিবরণ দিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রার্থনায় জারি মামলা দায়ের করেন। আবেদনটি সাধারণত ডিক্রি বা আপিল ডিক্রির তিন বছরের মধ্যে করতে হয়, সর্বোচ্চ বারো বছর। প্রয়োজন হলে দায়িককে নোটিশ দেওয়া হয় এবং আপত্তি শোনা হয়। আপিল আদালত স্থগিতাদেশ না দিলে আপিল জারি স্থগিত করে না; স্থগিতাদেশ সাধারণত শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়।
কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৩৮ ও ধারা ৪৮; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১০ ও ১১; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২ · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে জারির আবেদন, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, জমির তফসিল
পরামর্শ: আপিল শেষ হওয়ার অপেক্ষা করবেন না। স্থগিতাদেশ না থাকলে জারি চলতে পারে, আর দেরি কেবল দখলদারেরই সুবিধা করে।
ধাপ ১৫ · জারি: জমি ফেরত পাওয়াপুলিশি সহায়তায় দখল বুঝিয়ে দেওয়া
আদালতের নাজির বা বেলিফ জমিতে গিয়ে ডিক্রি দ্বারা আবদ্ধ যে কেউ জমি ছাড়তে অস্বীকার করলে তাঁকে সরিয়ে দেন এবং ডিক্রিদারকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে লিখিতভাবে তা রেকর্ড করেন। বাধা দেওয়া হলে ২০২৬ সালে সংযোজিত ধারা ৯৪ক অনুযায়ী আদালত পুলিশ ও অন্যান্য নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পালনের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারেন। স্বাধীন স্বত্ব দাবি করা কোনো তৃতীয় পক্ষ দখল বুঝিয়ে দেওয়ায় বাধা দিলে জারিকারী আদালত আদেশ ২১-এর অধীন সেই দাবি নিষ্পত্তি করেন। এরপর নামজারি ও কর পরিশোধের মাধ্যমে দখল সুসংহত করা উচিত।
কোথায়: থানা (জারিতে সহায়তা) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ৩৫ এবং ৯৭ থেকে ১০১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংযোজিত) · কাগজপত্র: দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরোয়ানা, পুলিশি সহায়তার আদেশ, দখল বুঝিয়ে দেওয়া সম্পর্কে বেলিফের প্রতিবেদন
পরামর্শ: দখল পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে নিজের নামে নামজারির আবেদন করুন এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন। রেকর্ডে পুরোনো দখলদারের নাম থেকে গেলে নতুন বিরোধের সুযোগ তৈরি হয়।
যদি এমন হয়…? জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ ধারা ৮-এর ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?
- 1জেলা জজ আদালত
জেলা জজের কাছে স্বত্ব আপিল
সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, এবং মামলার মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধেও জেলা জজের কাছে। নকলের সময় বাদ দিয়ে ডিক্রির ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হয়। জেলা জজ এটি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন। প্রথম আপিলে তথ্য ও আইন দুটোরই পূর্ণ পুনঃশুনানি হয়; আদালত সীমিত ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে পারেন এবং আপিলটি নিজে মধ্যস্থতা করতে বা মধ্যস্থতায় পাঠাতে হয়।
১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯গ
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ ডিক্রি বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, এবং তাঁর তথ্যগত সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্যায়গুলোর জন্য চূড়ান্ত।
ডিক্রি আইনগতভাবে ভুল হলে, বা তা ধারা ৯-এর ডিক্রি হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন
ধারা ৯-এর ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ চলে না, তাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ হলো ধারা ১১৫(১)-এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন। ধারা ৮-এর মামলায় জেলা জজের আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধেও একই পথ। একক বিচারপতি শোনেন কোনো আইনগত ভুলের কারণে ভুল ডিক্রি ও ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে কি না। রুল জারি হলে নিম্ন আদালতের নথি তলব করা হয়। রিভিশন সাক্ষ্যের পুনঃশুনানি নয়, এবং দ্রুত দাখিল করুন: ব্যাখ্যাহীন বিলম্ব মারাত্মক।
১-৪ বছরসুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রুল খারিজ হয়ে ডিক্রি অক্ষত থাকে, অথবা রুল চূড়ান্ত হয়ে ডিক্রি বাতিল বা সংশোধিত হয়।
মামলার মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি হলে কী হবে, আর দ্বিতীয় আপিল আছে কি?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম আপিল (উচ্চমূল্যের মামলা)
৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মামলা যুগ্ম জেলা জজ নিষ্পত্তি করলে প্রথম আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়, নব্বই দিনের মধ্যে। দ্বৈত বেঞ্চ বিচারিক নথি থেকে প্রস্তুত পেপার বুকের ভিত্তিতে তথ্য ও আইনের পুনঃশুনানি করেন। জারি স্থগিতের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়, এবং তা সাধারণত জামানত বা জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার মতো শর্তেই দেওয়া হয়।
৩-৮ বছরদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১(১)(খ)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৬দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ৫ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
দ্বিতীয় আপিল নেই; এর জায়গা নিয়েছে রিভিশন
কার্যবিধির যে ধারা ১০০ থেকে ১০৩-এ দ্বিতীয় আপিলের বিধান ছিল, তা আইন সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ দ্বারা বিলুপ্ত হয়েছে। তাই জেলা জজের কাছে স্বত্ব আপিলে হেরে যাওয়া পক্ষের দ্বিতীয় আপিলের সুযোগ নেই। এর বিকল্প হলো ধারা ১১৫(১)-এর অধীন দেওয়ানি রিভিশন, যা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটানো আইনগত ভুলের মধ্যে সীমিত। ধারা ১১৫(২)-এর অধীন জেলা জজের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের জন্য ধারা ১১৫(৪)-এর অধীন অনুমতি লাগে।
১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০০-১০৩ (আইন সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ দ্বারা বিলুপ্ত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১), (২) ও (৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: উচ্চমূল্যের মামলা প্রথম আপিলে হাইকোর্ট বিভাগে যায়; বাকি সব মামলা সেখানে যায় কেবল রিভিশনে, তথ্যের ওপর দ্বিতীয় আপিলে কখনো নয়।
বিচারিক আদালত কি নিজের ডিক্রি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত
আদেশ ৪৭-এর অধীন রিভিউ
যে পক্ষ আপিল করেননি তিনি একই আদালতে ডিক্রি রিভিউয়ের আবেদন করতে পারেন: যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও দাখিল করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আবিষ্কার, নথিতে প্রকাশ্য ভুল বা ত্রুটি, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে। ধারা ৯-এর মামলায় রিভিউ চলে না, কারণ ধারা ৯ স্পষ্টভাবে তা বারিত করেছে। আবেদনটি নব্বই দিনের মধ্যে করতে হয় এবং প্রথমে এটি গ্রহণযোগ্য কি না তা শোনা হয়।
২-৯ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ নামঞ্জুর হয়, অথবা নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিক্রি পুনরায় খুলে পুনঃশুনানি হয়।
আইনের কোনো প্রশ্নে বিচারিক আদালত নিশ্চিত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে আইনের প্রশ্নের রেফারেন্স
বিচারাধীন মামলায় কোনো আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, বা এমন কোনো বিষয় ওঠে যাতে আদালতের যুক্তিসংগত সংশয় আছে, তাহলে বিচারিক আদালত ঘটনা বিবৃত করে মতামতের জন্য তা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে পারেন। আদালত মামলা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে উত্তর না আসা পর্যন্ত তার ওপর নির্ভরশীল ডিক্রি দিতে পারেন না। দখলের মামলায় রেফারেন্স বিরল, তবে হয়, যেমন স্বত্বের ওপর ন্যস্তকরণ বা অধিগ্রহণ আইনের প্রভাব নিয়ে।
৬-২৪ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ১ থেকে ৩ - 2সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত
মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
হাইকোর্ট বিভাগ তাঁর মতামত ফেরত পাঠান, এবং বিচারিক আদালত সেই অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি করেন, অবশিষ্ট তথ্যগত বিচার্য বিষয় সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে। এরপর ডিক্রির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক নিয়মে আপিল করা যায়, তাই রেফারেন্সে আসেনি এমন বিষয়ে মামলা আবার ওপরের আদালতে উঠতে পারে।
মতামত পাওয়ার ১-৩ মাস পরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের মতামত অনুযায়ী প্রথম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়।
আপিল আদালত মামলা নিচে ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1জেলা জজ আদালত
পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরতের আদেশ
বিচারিক আদালত তামাদির মতো কোনো প্রাথমিক প্রশ্নে মামলা নিষ্পত্তি করলে এবং আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দিলে, অবশিষ্ট বিচার্য বিষয়ে বিচারের জন্য মামলাটি নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন। ২০২৬ সাল থেকে নথিতে থাকা সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রে, যেমন কমিশন প্রতিবেদন অনুপস্থিত বা কোনো বিচার্য বিষয়ের বিচারই হয়নি। জেলা জজের ফেরতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, কারণ তাঁর আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল নেই; এটি ধারা ১১৫(১)-এর অধীন দেওয়ানি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করতে হয়।
আপিলের রায়ের সঙ্গে আদেশদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৪ ও ২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৩ বিধি ১(u) ও ধারা ১১৫(১) - 2সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত
সিভিল জজ আদালতে পুনর্বিচার
বিচারিক আদালত মামলাটি মূল নম্বরে পুনরুজ্জীবিত করেন, অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন বা ফেরত পাঠানো বিচার্য বিষয়ের বিচার করেন, এবং নতুন ডিক্রি দেন। আগে রেকর্ড করা সাক্ষ্য ফেরতের পরও সাক্ষ্য হিসেবে থাকে। নতুন ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল করা যায়, এবং সেখান থেকে মামলা রিভিশনে আবার হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা নিচে যায়, ঘাটতির বিষয়ে পুনর্বিচার হয়, এবং আবার জেলা জজ ও সম্ভবত হাইকোর্ট বিভাগে ওঠে।
মামলা কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল
রিভিশন বা প্রথম আপিলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) দাখিল করেন। আইনের গুরুতর প্রশ্ন বা সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠ দেখানো গেলে লিভ মঞ্জুর হয়। মঞ্জুর হলে মামলাটি নথির ভিত্তিতে দেওয়ানি আপিল হিসেবে শোনা হয়। চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া যায়। আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন ত্রিশ দিনের মধ্যে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
১-৪ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫; আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত; এরপর প্রথম আদালতে ডিক্রি জারি হয়।
জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা শুরু হয় সর্বনিম্ন এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে, যা জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী ঠিক হয়: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ। এই সীমা এসেছে ২০২১ সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ থেকে; ২০২৬ সালের সংশোধনী কেবল সিভিল জজদের নাম বদলে সিভিল জজ করেছে। সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যের মামলায় যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধেও; এর বেশি হলে প্রথম আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে।
প্রথম আপিলে তথ্য ও আইনের পূর্ণ পুনঃশুনানি হয়। দ্বিতীয় আপিল নেই: জেলা জজের পর একমাত্র পথ আইনগত ভুলের ভিত্তিতে দেওয়ানি রিভিশন। ধারা ৯-এর ডিক্রির বিরুদ্ধে আদৌ আপিল চলে না, সরাসরি রিভিশনে যেতে হয়। সবশেষে লিভ নিয়ে আপিল বিভাগ মামলা শোনেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতসিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · যুগ্ম জেলা জজ আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · এসি ল্যান্ড অফিস ও রেকর্ড রুম · থানা (জারিতে সহায়তা)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর
৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকাঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।
জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- খাস দখল (Khas possession)
- ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে দখলের বিপরীতে মালিকের নিজের প্রকৃত বাস্তব দখল।
- ধারা ৯-এর মামলা (Section 9 suit)
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন গত ছয় মাসের মধ্যে বেআইনিভাবে হারানো দখল পুনরুদ্ধারের সংক্ষিপ্ত মামলা, যা স্বত্বের তদন্ত ছাড়াই নিষ্পত্তি হয়।
- অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা (Mesne profits)
- অবৈধ দখলদার জমি থেকে যে আয় পেয়েছেন বা পেতে পারতেন, যা ডিক্রির সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে আদায়যোগ্য।
- বিরুদ্ধ দখল (Adverse possession)
- বারো বছরের প্রকাশ্য, অবিচ্ছিন্ন, বৈরী দখল, যার পর তামাদি আইনের ধারা ২৮ অনুযায়ী মালিকের অধিকার বিলুপ্ত হয়।
- খতিয়ান (Khatian)
- রেকর্ড-অব-রাইটসের ভুক্তি, যাতে দেখা যায় কোনো জমি কার দখলে, পরপর জরিপে (সিএস, এসএ, আরএস, সিটি জরিপ) প্রস্তুত।
- অ্যাডভোকেট কমিশনার / আমিন (Advocate commissioner)
- জমি পরিদর্শন করে তার পরিচয়, চৌহদ্দি ও দখল সম্পর্কে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি।
- দেওয়ানি রিভিশন (Civil revision)
- যেখানে আপিল চলে না, সেখানে ডিক্রির আইনগত ভুল সংশোধনের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগের কার্যধারা।
- নাজির (Nazir)
- পরোয়ানা কার্যকর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত আদালতের কর্মকর্তা, দখল বুঝিয়ে দেওয়াসহ।
জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
ধারা ৮ আর ধারা ৯-এর মামলার মধ্যে পার্থক্য কী?
জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় কত সময় লাগে?
কোন আদালতে মামলা করব?
কত কোর্ট ফি দিতে হবে?
আমি কি নিজেই জমি আবার দখলে নিতে পারি?
জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় কি দ্বিতীয় আপিল আছে?
ডিক্রির পরও দখলদার জমি না ছাড়লে কী করব?
আপিল করলে কি জারি থেমে যায়?
আইন ও উৎস
- Specific Relief Act 1877 (ss.8, 9, 39, 42) — Laws of Bangladesh
- Code of Civil Procedure 1908 (as amended by Act No. XXXVI of 2026) — Laws of Bangladesh
- Code of Civil Procedure 1908, First Schedule, updated April 2026 — Laws of Bangladesh
- Civil Courts Act 1887 (ss.19, 21, 25A, as amended 2021 and 2026) — Laws of Bangladesh
- Limitation Act 1908 (s.28, Arts. 3, 142, 144, 152, 156, 182) — Laws of Bangladesh
- Court-fees Act 1870, Schedule I as substituted in 2010 — Laws of Bangladesh
- Land Crime Prevention and Remedy Act 2023 (Act No. 36 of 2023) — Laws of Bangladesh
- High Court Division, Belayet Hossain Bellal v Md Syedul Haque, First Appeal No. 285 of 2017 (26 February 2026)
- High Court Division, Md Badsha Mia v Rushiya Begum, Civil Revision No. 4720 of 2015 (7 November 2024)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।