ডিক্রি জারি মামলা: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/দেওয়ানি

ডিক্রি জারি মামলা: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

ডিক্রি জারি মামলা হলো সেই পর্যায়, যেখানে মামলায় জয়ী পক্ষ, অর্থাৎ ডিক্রিদার (decree-holder), দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮-এর দ্বিতীয় খণ্ড ও আদেশ ২১ অনুযায়ী কাগুজে ডিক্রিকে টাকা, সম্পত্তি বা দখলে রূপ দিতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। জারিকারী আদালত সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারে, পুলিশের সহায়তায় দখল বুঝিয়ে দিতে পারে, অথবা দায়িককে (judgment-debtor) সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারে।

২০২৬ সালের সংশোধনী মূল মামলার নথিতেই দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ দিয়েছে এবং নতুন কিছু হাতিয়ার যোগ করেছে, তবে কঠোর সময়সীমা এখনো প্রযোজ্য।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
ডিক্রি ও সময়সীমা যাচাই
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৬টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৮টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
যে আদালত ডিক্রি দিয়েছে (সাধারণত প্রথম দেওয়ানি আদালত: সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ), অথবা দেওয়ানি…
মূল আইন
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (দ্বিতীয় খণ্ড, ধারা ৩৬-৭৪, ধারা ৯৪ক ও আদেশ ২১, দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত)…
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টাকা বা দখলের জারিতে ৬ মাস থেকে ৩ বছর; তৃতীয় পক্ষের…
কে মামলা করতে পারেন
ডিক্রিদার, ডিক্রির হস্তান্তরগ্রহীতা, অথবা মৃত ডিক্রিদারের আইনগত প্রতিনিধি
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৬টি ধাপ

ডিক্রি জারি মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. ডিক্রি জারি মামলা: ধাপ ১, ডিক্রি ও সময়সীমা যাচাই
    ধাপ ১ · দাখিলের আগে

    ডিক্রি ও সময়সীমা যাচাই

    ডিক্রি জারি মামলা শুরুর আগে আইনজীবী শুধু রায় নয়, ডিক্রিটি নিজে পড়ে নিশ্চিত হন ঠিক কী আদেশ দেওয়া হয়েছে: টাকা, দখল, নিষেধাজ্ঞা নাকি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। এরপর তিনি তামাদি যাচাই করেন। তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮২ ডিক্রির তারিখ থেকে, আর আপিল হয়ে থাকলে আপিল ডিক্রির তারিখ থেকে, তিন বছর সময় দেয়; ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি রেজিস্ট্রি করা থাকলে ছয় বছর। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮ ডিক্রির বারো বছর পর নতুন কোনো দরখাস্ত নিষিদ্ধ করে। আইনজীবী কোনো স্থগিতাদেশ আছে কি না এবং ধারা ৩৭ ও ৩৮ অনুযায়ী কোন আদালত ডিক্রি জারি করতে পারে, তাও দেখেন।

    কোথায়: ডিক্রিদারের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৭-৩৮; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮৩ · কাগজপত্র: ডিক্রি ও রায়ের সার্টিফায়েড কপি, আপিলের রায় বা স্থগিতাদেশ, যদি থাকে, আগের জারি মামলার নথি, যদি থাকে

    পরামর্শ: লোকে যে বারো বছরের কথা বলে, সেটি সর্বোচ্চ সীমা। সাধারণ সময়সীমা তিন বছর, তাই দেরি করবেন না।

  2. ডিক্রি জারি মামলা: ধাপ ২, দায়িকের সম্পদ খুঁজে বের করা
    ধাপ ২ · দাখিলের আগে

    দায়িকের সম্পদ খুঁজে বের করা

    নাগাল পাওয়ার মতো কিছু থাকলে তবেই ডিক্রি জারি সফল হয়। টাকার ডিক্রির ক্ষেত্রে ডিক্রিদারের দল দায়িকের নামে থাকা জমি ও ফ্ল্যাটের খোঁজে সাব-রেজিস্ট্রি রেকর্ড তল্লাশি করে, খতিয়ান ও নামজারির রেকর্ড দেখে, এবং ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, যানবাহন ও দায়িকের পাওনা দেনার তথ্য সংগ্রহ করে। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৬০-এ কী ক্রোক করা যায় আর কী অব্যাহতিপ্রাপ্ত, তার তালিকা আছে, যেমন প্রয়োজনীয় পোশাক, কারিগরের যন্ত্রপাতি ও বেতনের একটি অংশ। সম্পদ অন্য জেলায় থাকলে ধারা ৩৯ অনুযায়ী ডিক্রি জারির জন্য সেখানে পাঠানো যায়।

    কোথায়: সাব-রেজিস্ট্রি ও ভূমি রেকর্ড অফিস · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৯; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৬০ · কাগজপত্র: দায়মুক্তি তল্লাশির ফলাফল, খতিয়ান ও নামজারির রেকর্ড, কোম্পানির শেয়ার রেজিস্টারের উদ্ধৃতি, ক্রোকযোগ্য সম্পত্তির তফসিল

    পরামর্শ: প্রতিটি প্লট মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও চৌহদ্দি দিয়ে বর্ণনা করুন। অস্পষ্ট তফসিল আপত্তি ও বিলম্ব ডেকে আনে।

  3. ডিক্রি জারি মামলা: ধাপ ৩, জারির দরখাস্ত দাখিল
    ধাপ ৩ · দাখিল ও নোটিশ

    জারির দরখাস্ত দাখিল

    ডিক্রিদার আদেশ ২১ বিধি ১০ অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে দরখাস্ত করেন। লিখিত দরখাস্তটি স্বাক্ষরিত ও সত্যায়িত হতে হয় এবং আদেশ ২১ বিধি ১১(২) অনুযায়ী ছক আকারে মামলা নম্বর, পক্ষগণ, ডিক্রির তারিখ, কোনো আপিল, ইতোমধ্যে প্রাপ্ত অর্থ, দাবিকৃত অঙ্ক বা প্রতিকার এবং প্রার্থিত জারির পদ্ধতি উল্লেখ করতে হয়। দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর পর বিধি ১০৪ আদালতকে মূল মামলার নথিতে, অথবা নথি উচ্চ আদালতে থাকলে একটি পার্ট-ফাইলে, দরখাস্ত গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক জারির আদেশ দেওয়ার সুযোগ দেয়।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: দাখিলে ১ দিন; প্রথম আদেশ পর্যন্ত ১-৪ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১১(২); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪ (২০২৬ সালে সংযোজিত); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৮ · কাগজপত্র: ছক আকারে জারির দরখাস্ত, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, ওকালতনামা, সম্পত্তির তফসিল, কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প

  4. ডিক্রি জারি মামলা: ধাপ ৪, আদালতের যাচাই ও নিবন্ধন
    ধাপ ৪ · দাখিল ও নোটিশ

    আদালতের যাচাই ও নিবন্ধন

    পেশকার ও বিচারক আদেশ ২১-এর বিধি ১১ থেকে ১৪ অনুযায়ী দরখাস্ত যাচাই করেন। ডিক্রির অঙ্ক বা জমির যথাযথ বর্ণনার মতো বিবরণ না থাকলে আদালত দরখাস্ত নামঞ্জুর করতে পারে, অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিক্রিদারকে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে পারে। সংশোধিত দরখাস্ত মূল তারিখেই দাখিল হয়েছে বলে গণ্য হয়, যা তামাদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গৃহীত হলে বিষয়টি নিজস্ব নম্বরে জারি মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং আদালত পরবর্তী তারিখ ধার্য করে।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১৭; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১১-১৪ · কাগজপত্র: প্রয়োজনে সংশোধিত দরখাস্ত, প্রসেস ফি (তলবানা)

  5. ধাপ ৫: দায়িকের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ
    ধাপ ৫ · দাখিল ও নোটিশ

    দায়িকের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ

    ডিক্রির দুই বছরের বেশি পরে দরখাস্ত করা হলে, অথবা কোনো পক্ষের আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে করা হলে, জারিকারী আদালতকে আদেশ ২১ বিধি ২২ অনুযায়ী নোটিশ জারি করে দায়িককে জানতে চাইতে হয় কেন ডিক্রি জারি করা হবে না। একই পক্ষের বিরুদ্ধে আগের কোনো দরখাস্তে দেওয়া সর্বশেষ আদেশের দুই বছরের মধ্যে দরখাস্ত এলে নোটিশ লাগে না। নোটিশ দিলে অযৌক্তিক বিলম্ব হবে মনে করলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে নোটিশ মওকুফ করতে পারে। নোটিশ ছাড়া দেওয়া আদেশ বহাল থাকে, যদি না দায়িক উল্লেখযোগ্য ক্ষতি দেখাতে পারেন।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ২২ (দুই বছর, ১৯৮৩ সালে সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫০ · কাগজপত্র: আদেশ ২১ বিধি ২২-এর নোটিশ, জারির রিটার্ন

  6. ধাপ ৬: দায়িকের আপত্তি
    ধাপ ৬ · দাখিল ও নোটিশ

    দায়িকের আপত্তি

    দায়িক হাজির হয়ে আপত্তি করলে জারিকারী আদালত আপত্তিটি বিবেচনা করে আদেশ ২১ বিধি ২৩ অনুযায়ী যথাযথ আদেশ দেয়। সাধারণ আপত্তিগুলো হলো: ডিক্রির টাকা পরিশোধ বা আদালতের বাইরে সমন্বয় হয়ে গেছে, দরখাস্ত তামাদিতে বারিত, অথবা ভুল ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলছে। আদালতের বাইরের পরিশোধ কেবল বিধি ২ অনুযায়ী প্রত্যয়িত বা লিপিবদ্ধ হলেই গণ্য হয়। বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৭ বিলুপ্ত করা হয়েছে, তাই আপত্তি আদেশ ২১-এর অবশিষ্ট পদ্ধতির মধ্যেই তুলতে হয়। আদালত বিধি ২৬ বা ২৯ অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে জারি স্থগিতও করতে পারে।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ২৩; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ২; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ২৬ ও ২৯; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৭ (১৯৮৩ সালের ৪৮ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বিলুপ্ত) · কাগজপত্র: লিখিত আপত্তি, পরিশোধ বা সমন্বয়ের প্রমাণ, ডিক্রিদারের জবাব

    পরামর্শ: ধারা ৪৭ নিয়ে ভারতীয় ভাষ্যগুলো বাংলাদেশের আইন প্রতিফলিত করে না। নির্দিষ্ট বিধির অধীনে আপত্তি সাজান।

  7. ধাপ ৭: সম্পত্তি ক্রোক
    ধাপ ৭ · ক্রোক ও আপত্তি

    সম্পত্তি ক্রোক

    টাকার ডিক্রির ক্ষেত্রে জারিকারী আদালত ক্রোকের আদেশ দেয়। আদেশ ২১ বিধি ৫৪ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয় এমন আদেশে, যা দায়িককে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দায়বদ্ধ করতে নিষেধ করে। আদেশটি স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়, সম্পত্তিতে ও আদালত ভবনে লটকানো হয় এবং রাজস্বদায়ী জমির ক্ষেত্রে কালেক্টরের কাছে পাঠানো হয়। অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়, বিধি ৪৬ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশে দেনা ও শেয়ার ক্রোক করা হয়, আর আদালত বা সরকারি কর্মকর্তার কাছে থাকা টাকা বিধি ৫২ অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে ক্রোক করা হয়। ধারা ৬৪ অনুযায়ী ক্রোকের পর যেকোনো ব্যক্তিগত হস্তান্তর ডিক্রিদারের বিরুদ্ধে বাতিল।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৪৩, ৪৬, ৫২ ও ৫৪; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৬৪ · কাগজপত্র: ক্রোকের আদেশ, ঘোষণা ও জারির রিটার্ন, জব্দকৃত অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা

  8. ধাপ ৮: সম্পদ বিষয়ে দায়িককে জিজ্ঞাসাবাদ
    ধাপ ৮ · ক্রোক ও আপত্তি

    সম্পদ বিষয়ে দায়িককে জিজ্ঞাসাবাদ

    সম্পদ লুকানো থাকলে ডিক্রিদার আদেশ ২১ বিধি ৪১ অনুযায়ী জারিকারী আদালতকে অনুরোধ করতে পারেন, যাতে দায়িকের কাছে কারা দেনাদার এবং ডিক্রি পূরণের মতো কী সম্পত্তি বা সামর্থ্য তাঁর আছে, সে বিষয়ে তাঁকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দায়িক কোম্পানি হলে যেকোনো কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়, অন্য ব্যক্তিদেরও তলব করা যায়। আদালত হিসাবের খাতা ও কাগজপত্র হাজির করার আদেশও দিতে পারে। উত্তর থেকে প্রায়ই এমন ব্যাংক স্থিতি, পাওনা বা শেয়ারের খোঁজ মেলে যা সম্পদ তল্লাশিতে ধরা পড়েনি, এবং সেগুলো নতুন করে ক্রোক করা যায়।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৪১ · কাগজপত্র: আদেশ ২১ বিধি ৪১-এর দরখাস্ত, সমন, হাজির করা খাতা ও কাগজপত্র

  9. ধাপ ৯: ক্রোককৃত সম্পত্তিতে তৃতীয় পক্ষের দাবি
    ধাপ ৯ · ক্রোক ও আপত্তি

    ক্রোককৃত সম্পত্তিতে তৃতীয় পক্ষের দাবি

    ক্রোককৃত সম্পত্তি দায়িকের নয় বলে দাবি করা তৃতীয় পক্ষ, যেমন ক্রেতা, শরিক বা পরিবারের সদস্য, আদেশ ২১ বিধি ৫৮ অনুযায়ী দাবি বা আপত্তি দাখিল করতে পারেন। জারিকারী আদালত দাবিদারকে মামলার পক্ষের মতো গণ্য করে তদন্ত করে এবং বিজ্ঞাপিত বিক্রয় স্থগিত রাখতে পারে। দাবিদারকে প্রমাণ করতে হয় যে ক্রোকের তারিখে সম্পত্তিতে তাঁর স্বার্থ বা দখল ছিল। আদালত বিধি ৬০ অনুযায়ী সম্পত্তি অবমুক্ত করে, বিধি ৬১ অনুযায়ী দাবি নামঞ্জুর করে, অথবা বিধি ৬২ অনুযায়ী বন্ধক সাপেক্ষে ক্রোক বহাল রাখে।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৫৮-৬২; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(ii) ও (iii) · কাগজপত্র: আদেশ ২১ বিধি ৫৮-এর দাবি দরখাস্ত, মালিকানার দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ, দখলের প্রমাণ

    পরামর্শ: বিক্রয়ের আগেই দাবি দাখিল করুন। বিলম্বিত দাবি কোনো তদন্ত ছাড়াই নামঞ্জুর হতে পারে।

  10. ধাপ ১০: বিক্রয় ঘোষণা (নিলাম ইশতেহার)
    ধাপ ১০ · বিক্রয় ও দখল

    বিক্রয় ঘোষণা (নিলাম ইশতেহার)

    ক্রোককৃত সম্পত্তি বিক্রয় করতে হলে জারিকারী আদালত উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে আদেশ ২১ বিধি ৬৬ অনুযায়ী বিক্রয় ঘোষণা প্রস্তুত করে। এতে নিলামের সময় ও স্থান, সম্পত্তি, কোনো দায়ভার, আদায়যোগ্য অঙ্ক এবং ক্রেতার জানা দরকার এমন অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকে। এটি বিধি ৬৭ অনুযায়ী প্রকাশ করা হয় এবং আদালত নির্দেশ দিলে সরকারি গেজেট বা স্থানীয় পত্রিকায়ও প্রকাশ করা হয়। বিধি ৬৮ অনুযায়ী আদালত ভবনে ঘোষণা লটকানোর অন্তত ত্রিশ দিন পর, আর অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে পনেরো দিন পর, বিক্রয় করা যায়, যদি না দায়িক লিখিতভাবে সম্মতি দেন।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৬৬-৬৮ · কাগজপত্র: বিক্রয় ঘোষণার খসড়া, মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য, পত্রিকায় প্রকাশের প্রমাণ

    পরামর্শ: অবমূল্যায়িত বা ভুল ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্রয়ের পরে নয়, খসড়া পর্যায়েই আপত্তি তুলুন।

  11. ধাপ ১১: প্রকাশ্য নিলাম
    ধাপ ১১ · বিক্রয় ও দখল

    প্রকাশ্য নিলাম

    বিধি ৬৫ অনুযায়ী আদালতের একজন কর্মকর্তা প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় পরিচালনা করেন। বিধি ৭২ অনুযায়ী আদালতের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ডিক্রিদার দর হাঁকতে পারেন না। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দরদাতাকে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যের পঁচিশ শতাংশ জমা দিতে হয়, না দিলে সঙ্গে সঙ্গে আবার নিলাম হয়; আর বিধি ৮৫ অনুযায়ী বিক্রয়ের পর পনেরোতম দিনে আদালত বন্ধ হওয়ার আগে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হয়। খেলাপ হলে বিধি ৮৬ অনুযায়ী জমা বাজেয়াপ্ত হতে পারে এবং সম্পত্তি আবার বিক্রয় করা হয়।

    ত্রিশ দিনের বেশি মুলতবি হওয়া বিক্রয়ের জন্য নতুন ঘোষণা লাগে, আর এর আগেই দেনা ও খরচ পরিশোধের প্রস্তাব দিলে বিক্রয় বন্ধ হয়ে যায়।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: নিলামে ১ দিন; পূর্ণ পরিশোধে ১৫ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৬৫, ৬৯, ৭২ ও ৮৪-৮৬ · কাগজপত্র: দরপত্র তালিকা, জমার রসিদ, বাকি টাকা পরিশোধের চালান

  12. ধাপ ১২: বিক্রয় রদ বা নিশ্চিতকরণ
    ধাপ ১২ · বিক্রয় ও দখল

    বিক্রয় রদ বা নিশ্চিতকরণ

    বিক্রয়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে মালিক বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি ক্রেতার জন্য মূল্যের পাঁচ শতাংশ এবং ডিক্রিদারের জন্য ঘোষণায় উল্লিখিত অঙ্ক জমা দিয়ে আদেশ ২১ বিধি ৮৯ অনুযায়ী বিক্রয় রদ করাতে পারেন। বিকল্পভাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিক্রয়ের প্রকাশনা বা পরিচালনায় গুরুতর অনিয়ম বা প্রতারণার ভিত্তিতে বিধি ৯০ অনুযায়ী দরখাস্ত করতে পারেন, তবে তাঁকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি দেখাতে হবে। কোনো দরখাস্ত সফল না হলে আদালত বিধি ৯২ অনুযায়ী বিক্রয় নিশ্চিত করে এবং তা চূড়ান্ত হয়। এরপর ক্রেতা বিধি ৯৪ অনুযায়ী বিক্রয় সনদ পান।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৮৯-৯৪; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৬৬ (৩০ দিন); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(j) · কাগজপত্র: বিধি ৮৯ বা ৯০-এর দরখাস্ত, জমার চালান, বিক্রয় সনদ

  13. ধাপ ১৩: দখল হস্তান্তর
    ধাপ ১৩ · বিক্রয় ও দখল

    দখল হস্তান্তর

    দখলের ডিক্রির ক্ষেত্রে জারিকারী আদালত আদেশ ২১ বিধি ৩৫ অনুযায়ী ডিক্রিদারকে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেয় এবং ডিক্রির দ্বারা আবদ্ধ যে ব্যক্তি সরতে অস্বীকার করেন তাঁকে উচ্ছেদ করে। বিক্রয় সনদধারী নিলাম ক্রেতা বিধি ৯৫ অনুযায়ী দখল পান। কেউ বাধা দিলে ডিক্রিদার বা ক্রেতা বিধি ৯৭ অনুযায়ী ত্রিশ দিনের মধ্যে অভিযোগ করেন। দায়িক ন্যায্য কারণ ছাড়া বাধা দিলে আদালত আবেদনকারীকে দখল দেয়, কিন্তু প্রকৃত তৃতীয় পক্ষ সরল বিশ্বাসে দখল দাবি করলে অভিযোগ খারিজ করে। দখলচ্যুত ব্যক্তি বিধি ১০০ অনুযায়ী দরখাস্ত করতে পারেন, আর পরাজিত পক্ষ বিধি ১০৩ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করতে পারেন।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩৫, ৯৫ ও ৯৭-১০৩; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৬৫ ও ১৬৭ · কাগজপত্র: দখল হস্তান্তরের পরোয়ানা, নাজিরের প্রতিবেদন, বিধি ৯৭ বা ১০০-এর অভিযোগ

  14. ধাপ ১৪: জারিতে পুলিশের সহায়তা
    ধাপ ১৪ · বিক্রয় ও দখল

    জারিতে পুলিশের সহায়তা

    মাঠপর্যায়ে বাধাই প্রধান বাস্তব প্রতিবন্ধক। দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংযোজিত ধারা ৯৪ক জারিকারী আদালতকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে আদালত-নির্ধারিত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিপালন প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। আদেশ ২১ বিধি ১০৪(২) আরও বলে, ডিক্রিদার বা ক্রেতা বাধাপ্রাপ্ত হলে আদালত তার নিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে এবং প্রয়োজনে পুলিশকে তাঁদের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।

    কোথায়: স্থানীয় থানা · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক (২০২৬ সালে সংযোজিত); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪(২) · কাগজপত্র: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক-এর আদেশ, প্রতিপালন প্রতিবেদন

  15. ধাপ ১৫: গ্রেপ্তার ও দেওয়ানি আটক
    ধাপ ১৫ · আটক ও ডিক্রি পূরণ

    গ্রেপ্তার ও দেওয়ানি আটক

    টাকার ডিক্রি অপরিশোধিত থাকলে ডিক্রিদার দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটকের আবেদন করতে পারেন। জারিকারী আদালতকে প্রথমে ধারা ৫১ এবং আদেশ ২১ বিধি ৩৭ ও ৪০ অনুযায়ী দায়িককে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হয়, এবং কেবল লিপিবদ্ধ কারণে আটকের আদেশ দেওয়া যায়, যেমন অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পদ হস্তান্তর বা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিশোধে অস্বীকৃতি। বিধি ৩০ক অনুযায়ী সরকারি খরচে সর্বোচ্চ ছয় মাস আটক রাখা যায়। অন্তত পঁচিশ শতাংশ পরিশোধ করে বাকিটা ষাট দিনের মধ্যে দেওয়ার মুচলেকা দিলে মুক্তি মেলে। আটকে দেনা মুছে যায় না।

    কোথায়: দেওয়ানি কারাগার · সময়: আদেশ পর্যন্ত ১-৩ মাস; সর্বোচ্চ ৬ মাস আটক · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫১; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫৫, ৫৬ ও ৫৮; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩০ক, ৩৭ ও ৪০ · কাগজপত্র: গ্রেপ্তারের দরখাস্ত, বিধি ৩৭-এর কারণ দর্শানোর নোটিশ, আটকের পরোয়ানা, মুক্তি পেলে বাকি টাকার মুচলেকা

    পরামর্শ: নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি, দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তি এবং মূল দায়িকের স্থলাভিষিক্ত উত্তরাধিকারীদের বিধি ৩০ক অনুযায়ী আটক করা যায় না, আর ধারা ৫৬ টাকার ডিক্রির জন্য বৃদ্ধা, অসুস্থ, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীকে আটক নিষিদ্ধ করে।

  16. ধাপ ১৬: টাকা প্রদান ও মামলা নিষ্পত্তি
    ধাপ ১৬ · আটক ও ডিক্রি পূরণ

    টাকা প্রদান ও মামলা নিষ্পত্তি

    বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও আদালতে জমা হওয়া টাকা খরচ বাদ দিয়ে ডিক্রিদারকে দেওয়া হয়। সম্পদ আদালতে আসার আগে একাধিক ডিক্রিদার একই দায়িকের বিরুদ্ধে দরখাস্ত করে থাকলে ধারা ৭৩ অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করতে হয়। ডিক্রি পুরোপুরি পূরণ হলে জারিকারী আদালত তা লিপিবদ্ধ করে জারি মামলা নিষ্পত্তি করে। আংশিক আদায় হলে বকেয়া রেখেই মামলা নিষ্পত্তি হতে পারে, এবং পরে তামাদির মেয়াদের মধ্যে নতুন দরখাস্ত করা যায়।

    কোথায়: জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৭৩; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১-২; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২ · কাগজপত্র: টাকা উত্তোলনের দরখাস্ত, ডিক্রি পূরণের দরখাস্ত, চূড়ান্ত আদেশ

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? ডিক্রি জারি মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · জারিকারী আদালত → জেলা জজ → জারিকারী আদালত

কোনো পক্ষ জারির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    আদেশ ৪৩-এর অধীনে বিবিধ আপিল (মিস আপিল)

    কেবল আদেশ ৪৩ বিধি ১-এ তালিকাভুক্ত জারির আদেশের বিরুদ্ধেই আপিল করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে বিধি ৬০ ও ৬১ অনুযায়ী ক্রোক থেকে সম্পত্তি অবমুক্ত করা বা দাবি নামঞ্জুরের আদেশ, এবং বিধি ৭২ বা ৯২ অনুযায়ী বিক্রয় রদ করা বা রদ করতে অস্বীকারের আদেশ। আপিল যায় সেই আদালতে, যেখানে ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শোনা হতো, সাধারণত জেলা জজের কাছে। ত্রিশ দিনের মধ্যে, আর হাইকোর্ট বিভাগে গেলে নব্বই দিনের মধ্যে, দাখিল করতে হয়।

    দাখিলে ৩০ দিন; নিষ্পত্তিতে ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৪দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৬দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(ii), (iii) ও (j)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২ ও ১৫৬
  2. 2
    জেলা জজ আদালত

    স্থগিতাদেশ ও শুনানি

    আপিল দাখিল করলেই জারি আপনা-আপনি বন্ধ হয় না। আপিলকারী আদেশ ৪৩ বিধি ২-এর মাধ্যমে প্রযোজ্য আদেশ ৪১ বিধি ৫ অনুযায়ী আপিল আদালতের কাছে স্থগিতাদেশ চান, প্রায়ই জামানতের মতো শর্তে। শুনানিতে আপিল আদালত তথ্য ও আইন দুটোই পুনঃপরীক্ষা করে আদেশটি বহাল, রদ বা পরিবর্তন করতে পারে। এরপর নথি জারিকারী আদালতে ফেরত যায়, যা আপিল আদালতের আদেশ অনুযায়ী অগ্রসর হয়।

    স্থগিতাদেশে ১-৩ মাস; শুনানি তালিকা অনুযায়ীদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ২দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালতের আদেশ অনুযায়ী জারিকারী আদালতে জারি মামলা আবার চলে।

রিভিশন · জারিকারী আদালত → জেলা জজ → হাইকোর্ট

আদেশটি আপিলযোগ্য না হলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    জেলা জজের কাছে দেওয়ানি রিভিশন

    জারির অনেক আদেশ, যার মধ্যে বাধা ও দখলচ্যুতি সংক্রান্ত বিধি ৯৭ থেকে ১০১-এর বেশির ভাগ আদেশও রয়েছে, আদেশ ৪৩-এ তালিকাভুক্ত নয়। সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজের এমন আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ধারা ১১৫(২) অনুযায়ী জেলা জজের কাছে রিভিশন করতে পারেন। কারণ হতে হবে এমন আইনগত ভুল, যার ফলে আদেশে ত্রুটি হয়েছে এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। জেলা জজ মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন।

    ৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(২) ও (৩)
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের অনুমতি (লিভ)

    জেলা জজের রিভিশনাল আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আরেকটি রিভিশন চলে কেবল তখনই, যখন আইনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে এমন ভুল হয়েছে যা ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত ও ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়েছে, এবং হাইকোর্ট বিভাগ সে কারণে লিভ মঞ্জুর করে। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ নিজেদের জারি কার্যক্রমে যে আদেশ দেন, তার বিরুদ্ধে ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যেতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত রুল জারি করে এবং কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে।

    ৬-২৪ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) ও (৪)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিশনাল আদেশ নিম্ন আদালতে পাঠানো হয় এবং জারিকারী আদালত সংশোধিত ভিত্তিতে কার্যক্রম চালায়।

রিভিউ · জারিকারী আদালত → জারিকারী আদালত

জারিকারী আদালত কি নিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে?

  1. 1
    জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ

    যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও পাওয়া যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আবিষ্কার, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে কোনো পক্ষ ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১ অনুযায়ী একই জারিকারী আদালতকে আদেশ রিভিউ করতে বলতে পারেন। দরখাস্ত নব্বই দিনের মধ্যে করতে হয়। রিভিউ ছদ্মবেশী আপিল নয়। আদালত রিভিউ মঞ্জুর করলে অপর পক্ষ আদেশ ৪৩ বিধি ১(w) অনুযায়ী সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।

    দরখাস্তে ৯০ দিন; নিষ্পত্তিতে ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১ ও ৪তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(w)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: একই জারিকারী আদালত আদেশটি বহাল রাখে বা সংশোধন করে।

রেফারেন্স · জারিকারী আদালত → হাইকোর্ট → জারিকারী আদালত

জারিতে আইনের কোনো সন্দেহজনক প্রশ্ন উঠলে কী হয়?

  1. 1
    জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    হাইকোর্ট বিভাগের জন্য বিষয় বিবৃতি (রেফারেন্স)

    আদেশ ৪৬ বিধি ১ স্পষ্টভাবে জারিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ডিক্রিটি আপিলযোগ্য না হলে এবং তা জারির সময় আইনের বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন প্রথার এমন প্রশ্ন উঠলে, যাতে জারিকারী আদালতের যুক্তিসংগত সন্দেহ আছে, আদালত নিজে থেকে বা কোনো পক্ষের দরখাস্তে ঘটনা ও সন্দেহের বিষয় নিজের মতামতসহ বিবৃত করে ধারা ১১৩ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারে।

    প্রস্তুত করতে ১-২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ১
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর

    পক্ষগণ চাইলে হাইকোর্ট বিভাগ তাঁদের শুনে প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করে। জারিকারী আদালত জারি স্থগিত রাখতে বা চালিয়ে যেতে পারে, তবে রেফারেন্সে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ডিক্রি বা আদেশ জারি করা যায় না। সেই রায় নিম্ন আদালতে পাঠানো হয় এবং জারিকারী আদালত তার সঙ্গে সংগতি রেখে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ২ ও ৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ আইনের প্রশ্নটির মীমাংসা করে এবং সেই ভিত্তিতে জারি চলে।

রিমান্ড (ফেরত) · জারিকারী আদালত → জেলা জজ → জারিকারী আদালত → জেলা জজ

আপিল আদালত বিষয়টি ফেরত পাঠালে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরতের আদেশ (রিমান্ড)

    তৃতীয় পক্ষের দাবি সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে জেলা জজ দেখতে পারেন যে জারিকারী আদালত তদন্ত না করে প্রাথমিক কোনো বিষয়ের ভিত্তিতে দাবির নিষ্পত্তি করেছে, অথবা ভুলভাবে সাক্ষ্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আপিল আদালত আদেশটি রদ করে বিচার্য বিষয় উল্লেখ করে দাবিটি নতুন তদন্তের জন্য ফেরত পাঠাতে পারে। আদেশ ৪১ বিধি ২৪-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর নথির সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো সীমিত হওয়া উচিত।

    রায়ের দিনই আদেশদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ২দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩ ও ২৪ (২০২৬ সালে সংশোধিত)
  2. 2
    জারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    জারিকারী আদালতে নতুন তদন্ত

    জারিকারী আদালত দাবিটি মূল নম্বরে নিজের নথিতে পুনর্বহাল করে, আপিল আদালতের নির্দেশিত সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং সম্পত্তি অবমুক্ত করে বা দাবি নামঞ্জুর করে নতুন আদেশ দেয়। আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য ন্যায্য ব্যতিক্রম সাপেক্ষে নথিতে থেকে যায়। দাবির পুনর্নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিক্রয় সাধারণত স্থগিত থাকে।

    ৩-৯ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৫৮-৬১দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩
  3. 3
    জেলা জজ আদালত

    নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আবার আপিল

    নতুন আদেশটি নিজেই আদেশ ৪৩ বিধি ১(ii) বা (iii) অনুযায়ী আপিলযোগ্য, তাই পরাজিত পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আবার জেলা জজের কাছে যেতে পারেন। জেলা জজের ফেরত পাঠানোর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কারণ ধারা ১০৪(২) আপিলে দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল নিষিদ্ধ করে; এটি কেবল ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

    দাখিলে ৩০ দিন; ৬-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(ii) ও (iii)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৪(২)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ফেরতের পর দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়, এবং জারি এগিয়ে যায় বা সম্পত্তি অবমুক্ত হয়।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট → আপিল বিভাগ

বিরোধটি কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল

    জারি থেকে উদ্ভূত দেওয়ানি রিভিশন বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করতে পারেন। আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮ অনুযায়ী সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে পিটিশন দাখিল করতে হয়। কেবল আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে লিভ মঞ্জুর হয়। লিভ মঞ্জুর হলে সিভিল আপিলের শুনানি হয়।

    দাখিলে ৬০ দিন; নিষ্পত্তিতে ১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রিভিউ

    অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। নিজের রায়ের রিভিউ চলে কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী, সীমিত কারণে, এর রুলসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। এরপর নথি জারিকারী আদালতে পাঠানো হয়, যাতে জারি সম্পন্ন বা নিষ্পত্তি করা যায়।

    রিভিউ: দাখিলে প্রায় ৩০ দিনগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং নথি জারিকারী আদালতে ফেরত যায়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

ডিক্রি জারি মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

ডিক্রি জারি মামলা শুরু হয় সেই আদালতে যেখানে ডিক্রিটি প্রথম দেওয়া হয়েছিল, আপিলে তা বহাল থাকলেও: সিভিল জজ (১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা), সিনিয়র সিভিল জজ (২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত) বা যুগ্ম জেলা জজ (কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই)। দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের নাম পরিবর্তন করে এই নাম রাখা হয়েছে।

ধারা ১০৬ অনুযায়ী আপিলযোগ্য জারির আদেশ ডিক্রির পথ অনুসরণ করে: সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের আদেশ, এবং মামলার মূল্যমান ৫ কোটি টাকার বেশি না হলে যুগ্ম জেলা জজের আদেশ, জেলা জজের কাছে যায়; বেশি মূল্যমানের বিষয় যায় হাইকোর্ট বিভাগে। আপিল আদালত তথ্য ও আইন দুটোই পুনরায় শুনতে পারে। আপিলযোগ্য নয় এমন আদেশ রিভিশনে জেলা জজের কাছে যায়, তারপর কেবল লিভ সাপেক্ষে, শুধু আইনগত ভুলের প্রশ্নে, হাইকোর্ট বিভাগে। আপিল বিভাগ কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী লিভ সাপেক্ষে মামলা শোনে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
  4. প্রথম দফার আদালতজারিকারী আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেডিক্রিদারের আইনজীবী · সাব-রেজিস্ট্রি ও ভূমি রেকর্ড অফিস · স্থানীয় থানা · দেওয়ানি কারাগার
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

ডিক্রিদারের আইনজীবী

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

সাব-রেজিস্ট্রি ও ভূমি রেকর্ড অফিস

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

স্থানীয় থানা

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

দেওয়ানি কারাগার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

দাখিলের আগে
০.৫–২ মাস
দাখিল ও নোটিশ
২–৮ মাস
ক্রোক ও আপত্তি
২–১২ মাস
বিক্রয় ও দখল
৩–১২ মাস
আটক ও ডিক্রি পূরণ
১–৮ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৮.৫–৪২ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টাকা বা দখলের জারিতে ৬ মাস থেকে ৩ বছর; তৃতীয় পক্ষের দাবি, আপিল বা রিভিশন এলে আরও বেশি
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

ডিক্রিদার (Decree-holder)
যাঁর পক্ষে ডিক্রি দেওয়া হয়েছে বা জারিযোগ্য আদেশ হয়েছে।
দায়িক (Judgment-debtor)
যাঁর বিরুদ্ধে ডিক্রি দেওয়া হয়েছে এবং যাঁকে তা পূরণ করতে হবে।
জারিকারী আদালত (Executing court)
যে আদালত ডিক্রি দিয়েছে, অথবা যে আদালতে তা জারির জন্য পাঠানো হয়েছে।
ক্রোক (Attachment)
আদালতের আদেশ, যা সম্পত্তি আটকে দেয়, যাতে বিক্রয়ের আগে দায়িক তা হস্তান্তর বা দায়বদ্ধ করতে না পারেন।
বিক্রয় ঘোষণা (Sale proclamation)
নিলামের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি, যাতে সম্পত্তি, দায়ভার ও আদায়যোগ্য অঙ্কের বর্ণনা থাকে।
নাজির (Nazir)
প্রসেস, ক্রোক ও দখল হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা আদালতের কর্মকর্তা।
দেওয়ানি কারাগার (Civil prison)
অপরিশোধের কারণে দায়িককে আটক রাখা, যা ফৌজদারি দণ্ড নয় এবং এতে দেনা বাতিল হয় না।
বিক্রয় সনদ (Sale certificate)
স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চূড়ান্ত হলে নিলাম ক্রেতাকে দেওয়া সনদ।
প্রশ্নোত্তর

ডিক্রি জারি মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে ডিক্রি জারির সময়সীমা কত?
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮২ অনুযায়ী সাধারণত ডিক্রির তারিখ থেকে, বা আপিল ডিক্রির তারিখ থেকে, তিন বছর; ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি রেজিস্ট্রি করা থাকলে ছয় বছর। জারির সহায়তায় নেওয়া আইনসম্মত পদক্ষেপে সময় নতুন করে গোনা শুরু হয়। আলাদাভাবে, দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮ ডিক্রির বারো বছরের বেশি পরে নতুন ডিক্রি জারি মামলা নিষিদ্ধ করে, তবে দায়িক প্রতারণা বা বলপ্রয়োগে জারি ঠেকিয়ে রাখলে ভিন্ন কথা।
মামলায় জেতার পর কি আলাদা জারি মামলা করতে হয়?
সব সময় নয়। দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর পর আদেশ ২১ বিধি ১০৪ আদালতকে মূল মামলার নথিতে, অথবা নথি উচ্চ আদালতে থাকলে একটি পার্ট-ফাইলে, জারির দরখাস্ত গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক জারির আদেশ দেওয়ার সুযোগ দেয়। অনেক আদালত এখনো এটিকে আলাদা ডিক্রি জারি মামলা হিসেবে নিবন্ধন করে, তবে দরখাস্ত সরাসরি মূল মামলার নথিতে দেওয়া যায়।
দায়িককে কি দেওয়ানি কারাগারে পাঠানো যায়?
হ্যাঁ, অপরিশোধিত টাকার ডিক্রির ক্ষেত্রে, তবে কেবল কারণ দর্শানোর শুনানির পর এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পদ হস্তান্তর বা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিশোধে অস্বীকৃতির মতো লিপিবদ্ধ কারণে। বিধি ৩০ক অনুযায়ী সরকারি খরচে সর্বোচ্চ ছয় মাস আটক রাখা যায়। অন্তত পঁচিশ শতাংশ জমা দিয়ে বাকিটা ষাট দিনের মধ্যে দেওয়ার মুচলেকা দিলে মুক্তি মেলে। আটকের পরও দেনা থেকে যায়।
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৭ কি বাংলাদেশে প্রযোজ্য?
না। ১৯৮৩ সালের ৪৮ নং অধ্যাদেশ দ্বারা দেওয়ানি কার্যবিধি থেকে ধারা ৪৭ বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাই ডিক্রি জারি মামলায় আপত্তি তুলতে হয় অবশিষ্ট পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে, যেমন বিধি ২২ ও ২৩, বিধি ৫৮-এর দাবি, বিক্রয় সংক্রান্ত বিধি ৮৯ থেকে ৯০ এবং দখল সংক্রান্ত বিধি ৯৭ থেকে ১০১।
অন্যের দেনার জন্য আমার সম্পত্তি ক্রোক হয়েছে। কী করব?
যত দ্রুত সম্ভব, এবং যেকোনো অবস্থায় বিক্রয়ের আগে, আদেশ ২১ বিধি ৫৮ অনুযায়ী দাবি বা আপত্তি দাখিল করুন। ক্রোকের তারিখে আপনি সম্পত্তির মালিক বা দখলদার ছিলেন তার প্রমাণ আনুন, যেমন দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ বা ইউটিলিটি বিল। ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত মনে হলে আদালত দাবির তদন্ত করতে অস্বীকার করতে পারে। দাবি সংক্রান্ত আদেশ আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুযায়ী আপিলযোগ্য।
নিলাম বিক্রয় কীভাবে রদ করা যায়?
বিক্রয়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে মালিক বিধি ৮৯ অনুযায়ী ক্রেতার জন্য মূল্যের পাঁচ শতাংশ এবং ডিক্রিদারের জন্য ঘোষণায় উল্লিখিত অঙ্ক জমা দিতে পারেন। বিকল্পভাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিধি ৯০ অনুযায়ী বিক্রয়ের প্রকাশনা বা পরিচালনায় গুরুতর অনিয়ম বা প্রতারণা প্রমাণ করতে পারেন, তবে কেবল যদি তাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়ে থাকে। এ বিষয়ে প্রদত্ত আদেশ আপিলযোগ্য।
দখল নিতে পুলিশ কি সাহায্য করবে?
হ্যাঁ। ২০২৬ সালে যুক্ত ধারা ৯৪ক জারিকারী আদালতকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে আদালত-নির্ধারিত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে এবং প্রতিপালন প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। আদেশ ২১ বিধি ১০৪(২) অনুযায়ী ডিক্রিদার বা নিলাম ক্রেতা বাধাপ্রাপ্ত হলে আদালত পুলিশকে তাঁদের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে। আগে আদালতের আদেশ লাগবে; শুধু ডিক্রি দেখে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে না।
অন্য জেলায় কি ডিক্রি জারি করা যায়?
হ্যাঁ। ধারা ৩৯ অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানকারী আদালত দায়িক যেখানে বাস করেন, কাজ করেন বা সম্পত্তি রাখেন, অথবা ডিক্রিভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেখানকার আদালতে ডিক্রি পাঠাতে পারে। গ্রহণকারী আদালত নিজে ডিক্রি দিলে যে ক্ষমতা পেত, সেই একই ক্ষমতা পায় এবং ফলাফল প্রত্যয়ন করে ফেরত পাঠায়। সম্পদ ঢাকার বাইরে থাকলে ডিক্রি জারি মামলায় এটি খুবই সাধারণ।

আইন ও উৎস

  1. Code of Civil Procedure 1908, Laws of Bangladesh
  2. CPC section 47 [Omitted], Laws of Bangladesh
  3. CPC section 94A, direction in execution (inserted 2026), Laws of Bangladesh
  4. Limitation Act 1908, Laws of Bangladesh
  5. Civil Courts (Amendment) Act 2026, Laws of Bangladesh
  6. High Court Division, Civil Revision No. 1672 of 2021 (execution proceedings)
  7. Supreme Court of Bangladesh

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp