বাংলাদেশে আয়কর আপিল: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে আয়কর আপিল চলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর বিংশ অংশের অধীনে। এর শুরু হয় যখন উপ কর কমিশনার (DCT) কর নির্ধারণী আদেশ ও দাবিনামা জারি করেন; করদাতা প্রথমে কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিল করেন, তারপর কর আপিল ট্রাইব্যুনালে (Taxes Appellate Tribunal), এবং শেষে আইনের প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স পাঠান।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে অর্থ আইন, ২০২৬ অগ্রিম জমার হার বিরোধপূর্ণ করের ১%, ৩% ও ১০% নির্ধারণ করেছে এবং তা মওকুফের বিবেচনামূলক ক্ষমতা বাতিল করেছে। আপিলের পথের পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) এবং কমিশনারের রিভিশনও চলে।
- কোথা থেকে শুরু
- উপ কর কমিশনারের কর সার্কেল (কর নির্ধারণ), তারপর কর কমিশনার (আপিল)
- মূল আইন
- আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ১২ নং আইন), বিংশ অংশ (ধারা ২৮৫-৩০৮), অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত; সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩
- সাধারণ সময়কাল
- নির্দেশক হিসেবে ট্রাইব্যুনাল পর্যায় শেষ হতে ১-৩ বছর; এরপর হাইকোর্টে রেফারেন্স ও আপিল বিভাগে আপিল হলে আরও ২-৬ বছর
- কে মামলা করতে পারেন
- আয়কর কর্তৃপক্ষের কোনো আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো করদাতা; রাজস্বের পক্ষে উপ কর কমিশনার (কমিশনারের অনুমোদনসাপেক্ষে)
বাংলাদেশে আয়কর আপিল: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · কর নির্ধারণ ও দাবিনামারিটার্ন অডিট বা শুনানির জন্য নির্বাচিত
বেশির ভাগ বিরোধ শুরু হয় ধারা ১৮০-এর অধীনে রিটার্ন দাখিলের পর, যখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেটি অডিটের জন্য বাছাই করে, অথবা উপ কর কমিশনার সিদ্ধান্ত নেন যে করদাতাকে হাজির হতে বা সাক্ষ্য দিতে হবে। অডিট পদ্ধতিতে কমিশনার একটি অনুসন্ধান দল ও একটি অডিট দল নিয়োগ করেন, এবং ডিসিটি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে করদাতাকে জানান। অনুসন্ধান দল ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়, যা আরও সর্বোচ্চ ৬০ দিন বাড়ানো যায়। এ পর্যায়ে করদাতা যা কিছু দাখিল করেন, তা পরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ আপিল কর্তৃপক্ষ নতুন সাক্ষ্য গ্রহণে অনাগ্রহী।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: ২-৬ মাস · আইন: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮০; ধারা ১৮২(১)-(৫); ধারা ১৮৩(৩) · কাগজপত্র: আয়ের রিটার্ন ও প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক বিবরণী ও খতিয়ান বই (লেজার), অডিট বা শুনানির নোটিশ
পরামর্শ: প্রতিটি নোটিশের লিখিত জবাব দিন এবং দাখিলের প্রমাণ রাখুন। প্রথম আপিলে বেশির ভাগ হারের কারণ এমন সাক্ষ্য, যা কখনো ডিসিটির সামনে উপস্থাপনই করা হয়নি।
ধাপ ২ · কর নির্ধারণ ও দাবিনামাউপ কর কমিশনারের কাছে শুনানি
ডিসিটি করদাতার শুনানি নেন সরাসরি বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে, এবং কোন বিষয়ে শুনানি হবে ও নির্দেশ না মানলে কী হবে তা উল্লেখ করে আরও সাক্ষ্য তলব করতে পারেন। করদাতাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে ডিসিটি কোনো খরচ অগ্রাহ্য করতে পারেন না। করদাতা নোটিশ উপেক্ষা করলে ডিসিটি বেস্ট জাজমেন্ট (best-judgment) ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করতে পারেন, যা আপিলে উল্টানো কঠিন। তফসিল ও মিলকরণসহ লিখিত বক্তব্য দেওয়াই সাধারণ রীতি।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ১৮৩(৩)-(৬) ও (৮); ধারা ১৮৪; ধারা ৩২৭ (ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি) · কাগজপত্র: লিখিত বক্তব্য, মিলকরণ বিবরণী ও সমর্থনমূলক ভাউচার, প্রতিনিধির ক্ষমতাপত্র
ধাপ ৩ · কর নির্ধারণ ও দাবিনামাকর নির্ধারণী আদেশ
শুনানির পর ডিসিটি লিখিত বা ইলেকট্রনিক কর নির্ধারণী আদেশ জারি করেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা করদাতাকে জানাতে বাধ্য। বেস্ট জাজমেন্ট আদেশও ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হয়। আদেশে নির্ধারিত আয়, অগ্রাহ্য খরচ ও করের হিসাব দেখানো থাকে। সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন এবং প্রতিটি বিরোধপূর্ণ খাত চিহ্নিত করুন। নির্ধারিত কর ও আপনার স্বীকৃত কর দায়ের পার্থক্যের ভিত্তিতেই আপিলের অগ্রিম জমা হিসাব করা হবে।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: জারির ৩০ দিনের মধ্যে আদেশ জানানো · আইন: ধারা ১৮৩(৭); ধারা ১৮৪(৪) · কাগজপত্র: কর নির্ধারণী আদেশ, হিসাব শিট
ধাপ ৪ · কর নির্ধারণ ও দাবিনামাদাবিনামা
কর প্রদেয় হলে ডিসিটি পরিমাণ, পরিশোধের শেষ তারিখ ও পরিশোধের পদ্ধতি উল্লেখ করে দাবিনামা (notice of demand) জারি করেন। প্রথম আপিলের ৪৫ দিন গণনা হয় এই নোটিশ জারির দিন থেকে, আদেশের তারিখ থেকে নয়। শেষ তারিখের আগে করদাতা ডিসিটির কাছে বাড়তি সময় বা কিস্তির আবেদন করতে পারেন। কর পরিশোধ না হলে করদাতা খেলাপি করদাতা হয়ে যান। তবে আইনের অধীনে কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন থাকাকালে ডিসিটি করদাতাকে খেলাপি গণ্য করতে পারেন না।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: নোটিশে উল্লিখিত পরিশোধের তারিখ · আইন: ধারা ২১৪(১) ও (৪)-(৬); ধারা ২৮৭(৪)(ক) · কাগজপত্র: দাবিনামা, নোটিশ জারির তারিখের প্রমাণ
পরামর্শ: দাবিনামা প্রকৃতপক্ষে কোন তারিখে হাতে পেয়েছেন, তা লিখে রাখুন। পরের প্রতিটি সময়সীমা সেদিন থেকেই গণনা হয়।
ধাপ ৫ · প্রথম আপিলপথ বেছে নিন: আপিল, রিভিশন নাকি এডিআর
কোন পথ উপযুক্ত, পরামর্শক তা ঠিক করেন। বেশির ভাগ বিরোধপূর্ণ কর নির্ধারণের জন্য প্রথম আপিল উপযুক্ত। কমিশনারের রিভিশন সস্তা ও দ্রুত, কিন্তু আপিল করার সময় থাকলে বা আপিল বিচারাধীন থাকলে তা পাওয়া যায় না। আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যায় এমন বিরোধের জন্য এডিআর উপযুক্ত। কোম্পানির ক্ষেত্রে, ধারা ২১৩-এর অধীনে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছেই যেতে হয়। অন্যান্য মামলা অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছে যেতে পারে, এবং বোর্ড আপিল বণ্টন বা স্থানান্তর করতে পারে।
বাংলাদেশে আয়কর আপিল ভালোভাবে শুরু হয় দ্বিমতের প্রতিটি খাতের ওপর লেখা আপিলের কারণ দিয়ে।
কোথায়: কর আইনজীবী বা আয়কর পেশাজীবী · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: ধারা ২৮৫(৩); ধারা ২৮৬(১)-(৪); ধারা ২৯৭ · কাগজপত্র: কর নির্ধারণী আদেশ, দাবিনামা, আপিলের কারণের খসড়া
ধাপ ৬ · প্রথম আপিল১% অগ্রিম জমা দিন
অর্থ আইন, ২০২৬-এর পর থেকে ডিসিটির আদেশে নির্ধারিত কর ও করদাতার স্বীকৃত কর দায়ের পার্থক্যের ১% পরিশোধ না করলে কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলে না। ২০২৬-এর আগে প্রথম আপিলে কোনো জমা লাগত না, কেবল শর্ত ছিল যে স্বীকৃত কর (বা রিটার্ন দাখিল না হয়ে থাকলে নির্ধারিত করের ১০%) পরিশোধিত হতে হবে। অনুমোদিত চালান বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পরিশোধ করুন এবং আপিল নথির জন্য রসিদ রাখুন। স্বীকৃত কর দায় তো রিটার্নের সঙ্গেই পরিশোধ হয়ে যাওয়ার কথা। তা না হলে রিভিশন ও এডিআরও বন্ধ।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: দাখিলের আগে · আইন: অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত ধারা ২৮৬(৫); ধারা ২৮৫(৪)(খ); ধারা ২৯৮(৫) · কাগজপত্র: ১% জমার ট্রেজারি চালান বা ই-পেমেন্ট রসিদ, স্বীকৃত কর দায় পরিশোধের প্রমাণ
ধাপ ৭ · প্রথম আপিল৪৫ দিনের মধ্যে প্রথম আপিল দাখিল
নির্ধারিত ফরমে আপিল প্রস্তুত করে সত্যায়ন করা হয় এবং দাবিনামা জারির, বা অন্য ক্ষেত্রে আদেশ জারির, ৪৫ দিনের মধ্যে ২০০ টাকা ফিসহ দাখিল করা হয়। করদাতা যথেষ্ট কারণ দেখাতে পারলে আপিল কর্তৃপক্ষ দেরিতে করা আপিল গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা বিবেচনামূলক এবং এর ওপর ভরসা করা উচিত নয়। কিছু শ্রেণির মামলায় বোর্ড ইলেকট্রনিক দাখিল বাধ্যতামূলক করতে পারে। আপিলের কারণে প্রতিটি বিরোধপূর্ণ সংযোজন থাকা উচিত, কারণ পরে নতুন কারণ তোলা যায় কেবল তখনই, যদি তা বাদ দেওয়া ইচ্ছাকৃত বা অযৌক্তিক না হয়।
কোথায়: কর কমিশনার (আপিল) · সময়: ৪৫ দিনের মধ্যে · আইন: ধারা ২৮৭(১)-(৫); ধারা ২৮৮(৪) · কাগজপত্র: সত্যায়নসহ আপিল ফরম, আপিলের কারণ ও ঘটনার বিবরণী, আদেশ ও দাবিনামার কপি, ফি ও জমার চালান
ধাপ ৮ · প্রথম আপিলপ্রথম আপিলের শুনানি
কর কমিশনার (আপিল) একটি তারিখ ঠিক করে আপিলকারী ও উপ কর কমিশনারকে নোটিশ দেন, এবং দুই পক্ষই সরাসরি বা প্রতিনিধির মাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারেন। আপিল কর্তৃপক্ষ শুনানি মুলতবি করতে, নিজে অনুসন্ধান করতে বা ডিসিটিকে আরও অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারেন। ডিসিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়নি এমন নতুন দলিল কেবল তখনই গ্রহণ করা হয়, যদি আপিলকারী আগে উপস্থাপন না করার যথেষ্ট কারণ দেখান। কর নির্ধারণ বা জরিমানা বাড়ানোর আগে কর্তৃপক্ষকে আপিলকারীকে কারণ দর্শানোর ন্যায্য সুযোগ দিতে হয়।
কোথায়: কর কমিশনার (আপিল) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ধারা ২৮৮(১)-(৬); ধারা ২৮৯(৩) · কাগজপত্র: দলিলের পেপার বুক, লিখিত যুক্তি, যেসব নজিরের ওপর নির্ভর করা হয়েছে
ধাপ ৯ · প্রথম আপিলপ্রথম আপিলের আদেশ
কর কমিশনার (আপিল) কর নির্ধারণ বহাল রাখতে, কমাতে, বাড়াতে, রদ করতে বা বাতিল করতে পারেন, এবং জরিমানা বহাল, রদ, বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন। লিখিত আদেশে নিষ্পত্তির বিষয়, সিদ্ধান্ত ও কারণ উল্লেখ থাকতে হয়। আদেশটি ৩০ দিনের মধ্যে আপিলকারী, ডিসিটি, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার ও কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। আপিল দাখিলের মাস শেষ হওয়ার পর ১৫০ দিনের মধ্যে কোনো আদেশ না হলে আপিলটি মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়। কারণ বা কারণ দর্শানোর ধাপ অনুপস্থিত থাকলে আপিলকারী ধারা ৩৩০-এর অধীনে সংশোধনের আবেদন করতে পারেন।
কোথায়: কর কমিশনার (আপিল) · সময়: দাখিলের মাস শেষ হওয়ার পর থেকে আইনগত ১৫০ দিন · আইন: ধারা ২৮৯(১), (৪) ও (৬)-(৭); ধারা ৩৩০ (অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা যুক্ত সংশোধনের পথ) · কাগজপত্র: আপিল আদেশ
ধাপ ১০ · ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় আপিলকর আপিল ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় আপিল
এরপরও সংক্ষুব্ধ করদাতা প্রথম আপিলের আদেশ জারির ৬০ দিনের মধ্যে কর আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন। যথেষ্ট কারণ থাকলে ট্রাইব্যুনাল দেরিতে করা আপিল গ্রহণ করতে পারে। জুলাই ২০২৬ থেকে করদাতাকে আগে প্রথম আপিলের আদেশে নির্ধারিত কর ও স্বীকৃত কর দায়ের পার্থক্যের ৩% পরিশোধ করতে হয়। সেই জমা কমানোর কমিশনারের ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত ফরমে ১,০০০ টাকা ফিসহ আপিল দাখিল করা হয়।
কোথায়: কর আপিল ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৬০ দিনের মধ্যে · আইন: অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত ধারা ২৯১(১), (২) ও (৫)-(৭) · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালের আপিল ফরম, ডিসিটি ও প্রথম আপিলের আদেশের সার্টিফায়েড কপি, ৩% জমার চালান, ফি জমার রসিদ
পরামর্শ: ৩%-এর অঙ্ক সাবধানে মিলিয়ে নিন। পুরো জমা ছাড়া দাখিল করা আপিল অরক্ষণীয় গণ্য হতে পারে।
ধাপ ১১ · ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় আপিলট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে শুনানি
কর আপিল ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চগুলো, প্রতিটিতে অন্তত দুজন সদস্য, আপিলের শুনানি করে, এবং অন্তত একজন সদস্য বোর্ডের সদস্য বা কর কমিশনার। অন্য সদস্যরা সাবেক জেলা জজ বা অভিজ্ঞ কর পেশাজীবী হতে পারেন। দুই পক্ষের বক্তব্যই শোনা হয়। ট্রাইব্যুনাল বিস্তারিত তথ্য চাইতে বা উপ কর কমিশনারকে আরও অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারে। দুই সদস্য একমত না হলে বিষয়টি আরও সদস্যের কাছে যায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতেই সিদ্ধান্ত হয়। ট্রাইব্যুনালই ঘটনা নিষ্পত্তির শেষ ফোরাম, তাই এ পর্যায়ের মধ্যেই ঘটনাগত রেকর্ড পূর্ণাঙ্গ হওয়া উচিত।
কোথায়: কর আপিল ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৩-৯ মাস · আইন: ধারা ১৩-১৭; ধারা ২৯২(২) · কাগজপত্র: পেপার বুক, লিখিত বক্তব্য, অনুসন্ধান প্রতিবেদন, যদি থাকে
ধাপ ১২ · ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় আপিলট্রাইব্যুনালের আদেশ
দুই পক্ষের শুনানির পর ট্রাইব্যুনালকে এমন আদেশ দিতে হয়, যাতে আপিলের বিষয়, সিদ্ধান্ত ও কারণ উল্লেখ থাকে। অর্থ আইন, ২০২৬ ট্রাইব্যুনাল কীভাবে আপিল নিষ্পত্তি করবে ও আদেশ জানাবে, তা-ও নতুন করে সাজিয়েছে। আদেশটি ৩০ দিনের মধ্যে আপিলকারী, ডিসিটি ও কমিশনারের কাছে যায়। করদাতার আপিল দাখিলের মাস শেষ হওয়ার পর ১৮০ দিনের মধ্যে, বা তৃতীয় সদস্য যুক্ত হলে ২৪০ দিনের মধ্যে, নিষ্পত্তি না হলে তা মঞ্জুর ও নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হয়। রেফারেন্সের বিধান সাপেক্ষে, ঘটনার প্রশ্নে ট্রাইব্যুনালের আদেশই চূড়ান্ত।
কোথায়: কর আপিল ট্রাইব্যুনাল · সময়: আইনগত ১৮০-২৪০ দিন · আইন: অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত ধারা ২৯২(১) ও (৪)-(৬) · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালের আদেশ, সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১৩ · আদেশ কার্যকর ও কর আদায়ডিসিটি আদেশ কার্যকর করেন
কর কমিশনার (আপিল) বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর উপ কর কমিশনার আপিল আদেশ অনুযায়ী কর পুনর্গণনা করে সংশোধিত দাবিনামা বা ফেরতের আদেশ জারি করেন। কোনো ফার্ম বা সংঘের কর নির্ধারণ বদলালে অংশীদার বা সদস্যদের কর নির্ধারণও সমন্বয় করা হয়। কর্তৃপক্ষ আদেশ কার্যকর না করলে করদাতার উচিত আদেশ সংযুক্ত করে ডিসিটিকে লেখা, এবং প্রয়োজনে কমিশনারের কাছে বিষয়টি তোলা। আপিল আদেশ থেকে প্রাপ্য ফেরত সাধারণত শুনানির পর আগে অন্যান্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ২১৪(১)-(৩); ধারা ২৮৯(৫); ধারা ২৯২(৩) · কাগজপত্র: আপিল আদেশ কার্যকরের আদেশ, সংশোধিত দাবিনামা বা ফেরতের আদেশ
ধাপ ১৪ · আদেশ কার্যকর ও কর আদায়ভুল সংশোধন
যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনাল নিজ উদ্যোগে বা করদাতার আবেদনে, আদেশের চার বছরের মধ্যে, নিজের আদেশে স্পষ্ট কোনো ভুল সংশোধন করতে পারে। করদাতা কোনো ভুল দেখিয়ে দিলে এবং পরবর্তী অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত কিছু করা না হলে সংশোধন হয়েছে বলে গণ্য হয়। দায় বাড়ায় এমন যেকোনো সংশোধনের আগে শুনানি লাগে। আপিল আদেশে কারণ বা কারণ দর্শানোর ধাপ না থাকলে অর্থ আইন, ২০২৬ এই পথও ব্যবহার করে।
কোথায়: উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ধারা ৩৩০(১)-(৪) · কাগজপত্র: সংশোধনের আবেদন, ভুল চিহ্নিত করা আদেশের কপি
ধাপ ১৫ · আদেশ কার্যকর ও কর আদায়অপরিশোধিত কর আদায়
চূড়ান্তভাবে প্রদেয় অথচ অপরিশোধিত কর কর আদায় কর্মকর্তার (Tax Recovery Officer) মাধ্যমে আদায় করা যায়, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি ক্রোকসহ। কর আদায় কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে ধারা ২৯০-এ উল্লিখিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার (২০২৩ সালের মূল পাঠে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার) কাছে আপিল করা যায়, এবং সেই আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। হাইকোর্ট বিভাগ স্থগিতাদেশ না দিলে হাইকোর্টে রেফারেন্স পরিশোধ স্থগিত করে না। তাই বাংলাদেশে আয়কর আপিলে আইনি পরিকল্পনার পাশাপাশি নগদ প্রবাহের পরিকল্পনাও দরকার।
কোথায়: কর কমিশনার (কর অঞ্চল) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ধারা ২১৪(৫); ধারা ২১৭; ধারা ২৯০; ধারা ২৯৪(৪) · কাগজপত্র: বকেয়ার সনদ, আদায়ের আদেশ, কমিশনারের কাছে আপিল
যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে আয়কর আপিল যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কর বিভাগ আপিল করলে কী হয়?
- 1কর আপিল ট্রাইব্যুনাল
ট্রাইব্যুনালে রাজস্ব বিভাগের আপিল
কর কমিশনার (আপিল) কর নির্ধারণ কমালে বা বাতিল করলে উপ কর কমিশনার কমিশনারের পূর্বানুমোদন নিয়ে কর আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। কমিশনারকে আদেশ জানানোর ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হয়। করদাতা হন প্রতিপক্ষ, এবং তাঁর জবাব ও পেপার বুক দাখিল করা উচিত। কর আপিল ট্রাইব্যুনালে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আপিল সাধারণত একসঙ্গে শোনা হয়।
৬০ দিনের মধ্যে দাখিল; ৬-১২ মাসে নিষ্পত্তিধারা ২৯১(৪) ও (৫)ধারা ২৯২(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রাজস্ব বিভাগের আপিলে ট্রাইব্যুনালের আদেশ ঘটনার প্রশ্নে চূড়ান্ত, হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স সাপেক্ষে।
আপিলের চেয়ে সস্তা কোনো বিকল্প আছে কি?
- 1কর কমিশনার (কর অঞ্চল)
কমিশনারের রিভিশন
করদাতা ২০০ টাকা ফি দিয়ে ও স্বীকৃত কর দায় পরিশোধ করে ৬০ দিনের মধ্যে অধস্তন কর্তৃপক্ষের আদেশ রিভিশনের জন্য কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারেন। কমিশনার করদাতার ক্ষতি হয় এমন কোনো আদেশ দিতে পারেন না। আপিল বিচারাধীন থাকলে বা আপিল করার সময় থাকলে রিভিশন চলে না, যদি না আপিলের অধিকার পরিত্যাগ করা হয়। কমিশনার ৬০ দিনের মধ্যে কোনো আদেশ না দিলে আবেদনটি মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়।
৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিধারা ২৮৫(১)-(৭) - 2কর কমিশনার (কর অঞ্চল)
রাজস্বের পক্ষে রিভিশন
আলাদাভাবে, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার ডিসিটির এমন আদেশ, যা ভুল এবং রাজস্বের স্বার্থের পরিপন্থী, করদাতার শুনানি নিয়ে চার বছরের মধ্যে রিভিশন করতে পারেন। উদাহরণ: ভুল খাতে শ্রেণিকৃত আয়, আইনের ভুল ব্যাখ্যা, বা অনুসন্ধান ছাড়া দেওয়া ছাড়। এমন আদেশের বিরুদ্ধেও কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিল করা যায়।
আদেশের ৪ বছরের মধ্যেধারা ২১৩(১)-(৫)ধারা ২৮৬(২)(খ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আদেশটি করদাতার পক্ষে রিভিশন হয়, মঞ্জুর বলে গণ্য হয়, অথবা আপিলের পথে ছেড়ে দেওয়া হয়।
একই কর্তৃপক্ষ কি তার আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে?
- 1কর আপিল ট্রাইব্যুনাল
সংশোধন, পূর্ণাঙ্গ রিভিউ নয়
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭-এর মতো রিভিউয়ের কোনো সাধারণ ক্ষমতা আইন কর আপিল ট্রাইব্যুনালকে দেয়নি। ট্রাইব্যুনাল কেবল স্বপ্রণোদিত হয়ে বা আবেদনক্রমে চার বছরের মধ্যে নিজের আদেশে স্পষ্ট ভুল সংশোধন করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল সকারণ আদেশ দিতে ব্যর্থ হলে অর্থ আইন, ২০২৬ স্পষ্টভাবে ধারা ৩৩০-এর অধীনে আবেদনের সুযোগ দিয়েছে। মূল বিষয়ে নতুন করে যুক্তি দিতে হলে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স দরকার।
১-৬ মাসঅর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সম্প্রসারিত ধারা ৩৩০(১)ধারা ২৯২(৫)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ট্রাইব্যুনালের আদেশ সংশোধিত হয় বা বহাল থাকে, এবং আইনের যেকোনো প্রশ্ন রেফারেন্সের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে যায়।
আইনের প্রশ্ন কীভাবে হাইকোর্টে পৌঁছায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
৯০ দিনের মধ্যে রেফারেন্স আবেদন
করদাতা বা কমিশনার ট্রাইব্যুনালের আদেশ থেকে উদ্ভূত আইনের প্রশ্ন আদেশ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স করতে পারেন, এবং তামাদি আইনের ধারা ৫ এখানে প্রযোজ্য। করদাতাকে ২,০০০ টাকা ফি এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী কর ও স্বীকৃত দায়ের পার্থক্যের ১০% পরিশোধ করতে হয়। অর্থ আইন, ২০২৬ এটি মওকুফের বোর্ডের ক্ষমতা বাতিল করেছে। সংশ্লিষ্ট আদেশগুলোর তিনটি সার্টিফায়েড কপি লাগে।
৯০ দিনের মধ্যে দাখিলঅর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত ধারা ২৯৩(১) ও (৩)-(৭) - 2কর আপিল ট্রাইব্যুনাল
রায় ট্রাইব্যুনালে ফেরত যায়
অন্তত দুজন বিচারপতির একটি বেঞ্চ যতদূর সম্ভব দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৮ প্রয়োগ করে রেফারেন্সের শুনানি করেন এবং কারণসহ আইনের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন। রায়টি সিলমোহরসহ কর আপিল ট্রাইব্যুনালে যায়, এবং ট্রাইব্যুনালকে সে অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তির আদেশ দিতে হয়। এর মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগ আদায় স্থগিত না করলে কর প্রদেয় থাকে।
হাইকোর্টে ১-৪ বছর; ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী কাজ ১-৩ মাসধারা ২৯৪(১)-(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা ট্রাইব্যুনালে ফেরত যায়, যা হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর অনুযায়ী তা নিষ্পত্তি করে।
কর নির্ধারণ রদ করে নতুন করে করা হলে কী হয়?
- 1উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল)
নতুন কর নির্ধারণের জন্য রদ
কর কমিশনার (আপিল) কর নির্ধারণ রদ করতে পারেন, যে ক্ষমতা অর্থ আইন, ২০২৬ আগের সীমিত ক্ষেত্র, অর্থাৎ ধারা ৩৩৫-এর অধীনে যথাযথভাবে নোটিশ জারি না হওয়ার বাইরেও বিস্তৃত করেছে; আর কর আপিল ট্রাইব্যুনাল যথাযথ মনে করে এমন যেকোনো আদেশ দিতে পারে। তখন নথিটি পুনর্বিবেচনার জন্য নিচে উপ কর কমিশনারের কাছে ফেরত যায়, যাঁকে নতুন শুনানি নিয়ে, সাক্ষ্য আবার বিবেচনা করে নতুন কর নির্ধারণী আদেশ ও দাবিনামা জারি করতে হয়। আগের দাবি বাতিল হয়ে যায়।
৩-৯ মাস২০২৬ সালে সংশোধিত ধারা ২৮৯(১)(ক) ও (২)ধারা ২৯২(১) - 2কর কমিশনার (আপিল)
নতুন আদেশ আবার ওপরে ওঠে
নতুন কর নির্ধারণ একটি নতুন আপিলযোগ্য আদেশ। করদাতা তখনো একমত না হলে মামলা নতুন দাবিনামার ৪৫ দিনের মধ্যে, নতুন ১% জমাসহ, আবার কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছে যায়, তারপর ৩% জমাসহ কর আপিল ট্রাইব্যুনালে। তামাদি ও জমার ধাপগুলো নতুন করে শুরু হয়, তাই করদাতার উচিত সঙ্গে সঙ্গে নতুন তারিখগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখা।
৬-১৮ মাসধারা ২৮৬(১) ও (৫)ধারা ২৮৭(৪)ধারা ২৯১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নতুন কর নির্ধারণ আপিলে নিষ্পত্তি হয়, এবং মামলা দ্বিতীয়বার ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।
এডিআরের মাধ্যমে কি বিরোধ মেটানো যায়?
- 1এডিআর সহায়তাকারী (এনবিআর কর্তৃক নিযুক্ত)
সহায়তাকারীর মাধ্যমে এডিআর
স্বীকৃত কর দায় পরিশোধ করেছেন এমন করদাতা আপিল কর্তৃপক্ষ, ট্রাইব্যুনাল, ট্রাইব্যুনাল-পরবর্তী পর্যায় বা সুপ্রিম কোর্টে (আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে) বিচারাধীন বিরোধের জন্য এডিআরের আবেদন করতে পারেন। রিট বিরোধ এর বাইরে। এনবিআর-নিযুক্ত একজন সহায়তাকারী করদাতা ও কমিশনারের প্রতিনিধিকে আলোচনায় বসান। একই বছরের রাজস্ব বিভাগের আপিল বা রেফারেন্স স্থগিত থাকে। ৩ মাসের মধ্যে সমঝোতা না হলে মামলা আপিলের পথে ফিরে যায়, এবং এডিআরের সময় তামাদি থেকে বাদ যায়।
সর্বোচ্চ ৩ মাসঅর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত ধারা ২৯৭-৩০৬ - 2এডিআর সহায়তাকারী (এনবিআর কর্তৃক নিযুক্ত)
বাধ্যতামূলক সমঝোতা চুক্তি
স্বাক্ষরিত চুক্তি দুই পক্ষের জন্যই বাধ্যতামূলক এবং প্রতারণা বা মিথ্যা উপস্থাপনের মাধ্যমে আদায় করা না হলে কোনো কর্তৃপক্ষ, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যায় না। সম্মত কর সর্বোচ্চ ছয় মাসের সম্মত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। করদাতা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ডিসিটি সরাসরি আদায় করেন এবং জরিমানা আরোপ করতে পারেন।
সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধসংশোধিত ধারা ৩০৪(৩)ধারা ৩০৫(১) ও (১ক)ধারা ৩০৭(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বাধ্যতামূলক চুক্তির মাধ্যমে বিরোধ শেষ হয়, অথবা আপিল আবার শুরু হয়।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিল
রেফারেন্সে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল চলে, যদি হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি আপিলযোগ্য বলে সনদ দেন। অন্যথায় পক্ষটি অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করেন। দেওয়ানি কার্যবিধির আপিলের বিধান যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হয়, এবং আদায় স্থগিত না হলে কর প্রদেয় থাকে। অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে আপিল বিভাগে রিভিউ কেবল নথিতে স্পষ্ট ভুলের মধ্যে সীমিত।
২-৫ বছরধারা ২৯৫(১)-(৪)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত, এবং ট্রাইব্যুনাল ও ডিসিটি তা কার্যকর করে।
বাংলাদেশে আয়কর আপিল যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে আয়কর আপিল চারটি স্তর পেরোয়, এবং করের পরিমাণে পথ বদলায় না, তবে জমার অঙ্ক বদলায়। উপ কর কমিশনার কর নির্ধারণ করেন। প্রথম আপিল যায় কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছে, অথবা কোম্পানি নয় এমন কিছু মামলায় অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)-এর কাছে, যিনি ঘটনা ও আইন নতুন করে শোনেন এবং কর নির্ধারণ বহাল রাখতে, কমাতে, বাড়াতে, রদ করতে বা বাতিল করতে পারেন। দ্বিতীয় আপিল যায় কর আপিল ট্রাইব্যুনালে, যা রাজস্ব সদস্য এবং সাবেক বিচারক বা পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত মিশ্র বেঞ্চ এবং ঘটনা নিষ্পত্তির চূড়ান্ত সংস্থা।
ট্রাইব্যুনালের পর কেবল আইনের প্রশ্ন আরও ওপরে নেওয়া যায়, হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতির বেঞ্চে রেফারেন্সের মাধ্যমে, যা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিষ্পত্তির জন্য মামলা ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠায়। আপিল বিভাগে আপিল চলে হাইকোর্টের সনদ বা লিভ সাপেক্ষে। অর্থ আইন, ২০২৬-এর পর থেকে এই তিন পর্যায়ে জমার হার বিরোধপূর্ণ করের ১%, ৩% ও ১০%।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল
- প্রথম দফার আদালতকর কমিশনার (আপিল)
- শুরু · আদালতের বাইরেকর আইনজীবী বা আয়কর পেশাজীবী · উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল) · কর কমিশনার (কর অঞ্চল) · এডিআর সহায়তাকারী (এনবিআর কর্তৃক নিযুক্ত)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনাল)
জাতীয় রাজস্ব ভবন (১০ম তলা), প্লট এফ-১/এ, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীন কমিশনার (আপিল)-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আয়কর আপিল শুনানি করে; আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স করা যায়।
ট্রাইব্যুনালের ঢাকা বিভাগের বেঞ্চগুলো (১-৫) এনবিআর ভবনের ১০ম তলায় বসে। চট্টগ্রামেও একটি বেঞ্চ আছে।
কর কমিশনার (আপিল)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কর আইনজীবী বা আয়কর পেশাজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
উপ কর কমিশনার (কর সার্কেল)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কর কমিশনার (কর অঞ্চল)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রাজস্ব ভবন
জাতীয় রাজস্ব ভবন, প্লট এফ-১/এ, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের সদর দপ্তর; নীতি, রুলিং ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা।
ভবনের ঠিকানা নেওয়া হয়েছে কর আপিল ট্রাইব্যুনালের সরকারি যোগাযোগ পাতা থেকে, যা একই এনবিআর ভবনে অবস্থিত। সাধারণ করদাতারা এনবিআর সদর দপ্তর নয়, নিজ নিজ কর অঞ্চল বা ভ্যাট/কাস্টমস কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- ডিসিটি (DCT)
- উপ কর কমিশনার: কর সার্কেলের কর্মকর্তা, যিনি রিটার্নের কর নির্ধারণ করেন ও দাবিনামা জারি করেন।
- স্বীকৃত কর দায় (Admitted tax liability)
- করদাতা যে করকে প্রদেয় বলে মেনে নেন, সাধারণত রিটার্নে দেখানো ও পরিশোধিত কর।
- অগ্রিম জমা (Pre-deposit)
- আপিল বা রেফারেন্স গ্রহণের আগে বিরোধপূর্ণ করের যে শতাংশ পরিশোধ করতে হয়: জুলাই ২০২৬ থেকে ১%, ৩% ও ১০%।
- বেস্ট জাজমেন্ট কর নির্ধারণ (Best-judgment assessment)
- করদাতা নোটিশ মানতে ব্যর্থ হলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিসিটির করা কর নির্ধারণ।
- মঞ্জুর বলে গণ্য (Deemed allowed)
- কর্তৃপক্ষ আইনগত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হওয়ায় করদাতার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরা আপিল।
- রেফারেন্স (Reference)
- ট্রাইব্যুনালের আদেশ থেকে উদ্ভূত আইনের প্রশ্নের উত্তর চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে করা আবেদন।
- এডিআর (ADR)
- ধারা ২৯৬-৩০৮ (বিংশ অংশের তৃতীয় অধ্যায়) অনুযায়ী বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি: করদাতা ও কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে সহায়তাকারীর মাধ্যমে আলোচনা।
- রদ (Set aside)
- কর নির্ধারণ বাতিল করা, যাতে তা নতুন করে করা যায়; এখন আপিল কর্তৃপক্ষের জন্য স্পষ্টভাবে এই সুযোগ আছে।
বাংলাদেশে আয়কর আপিল: সাধারণ প্রশ্ন
আয়করের প্রথম আপিলের শেষ সময় কত দিন?
২০২৬ সালে আপিল করতে কত টাকা জমা দিতে হবে?
বাংলাদেশে আয়কর আপিল কি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়?
আপিলে কি নতুন কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়?
আপিল চলাকালে কি পুরো দাবির টাকা দিতে হবে?
রিট নিয়ে কি সরাসরি হাইকোর্টে যাওয়া যায়?
কখন এডিআর করা ভালো?
বাংলাদেশে আয়কর আপিলে আমার পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন?
আইন ও উৎস
- Income Tax Act 2023 (English text, National Board of Revenue)
- Finance Act 2026 (Bangladesh Gazette, 30 June 2026), amending Part 20 of the Income Tax Act 2023
- NBR: Income tax acts and rules
- Budget proposes lower deposits for tax appeals (The Daily Star)
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 103 and 105)
- Supreme Court of Bangladesh: judgments and cause lists
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।