বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া: পুরো যাত্রাপথ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর দ্বাদশ অধ্যায়ে নির্ধারিত। করদাতা কোনো দাবিনামা বা জরিমানা প্রথমে কমিশনার (আপিল)-এর কাছে, এরপর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে (CEVAT Tribunal) চ্যালেঞ্জ করেন, এবং সবশেষে আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে অর্থ আইন, ২০২৬ জমার পরিমাণ ১০% থেকে কমিয়ে প্রথম দুই স্তরের প্রতিটিতে বিরোধীয় করের (জরিমানা ব্যতীত) ১% এবং হাইকোর্টে ২% করেছে।
যেসব বিরোধ আইনগত প্রশ্নের ওপর নির্ভর করে না, সেগুলোর জন্য প্রতিটি পর্যায়ে ধারা ১২৫-এর অধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পাওয়া যায়।
- কোথা থেকে শুরু
- ভ্যাট বিভাগ বা সার্কেল এবং ভ্যাট কমিশনারেট (কারণ দর্শানো নোটিশ ও চূড়ান্ত দাবিনামা), এরপর কমিশনার (আপিল)
- মূল আইন
- মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সালের ৪৭ নং আইন)-এর ধারা ৭৩, ৯০, ৯৫, ১২১-১২৫ ও ১৩১, অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা…
- সাধারণ সময়কাল
- ট্রাইব্যুনাল পর্যায় শেষ হতে নির্দেশক ১-৩ বছর; হাইকোর্টে আপিল ও আপিল বিভাগ পর্যায় থাকলে আরও ২-৫ বছর যোগ করুন
- কে মামলা করতে পারেন
- ভ্যাট-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি; ভ্যাট কর্মকর্তারাও আপিল করতে পারেন
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · নিরীক্ষা, কারণ দর্শানো ও দাবিনামানিরীক্ষা বা তদন্ত
অনেক ভ্যাট বিরোধ শুরু হয় কমিশনারেট, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বা অন্য কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত দপ্তরের নিরীক্ষা থেকে। জুলাই ২০২৬ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত ও অবহিত হলে সংশোধিত আইনে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে (প্রতিবেদন অনুযায়ী ২ মাস, আরও ১ মাস বাড়ানো যায়) দলিলাদি হস্তান্তর করতে হবে। এরপর দলিল দাখিলের এক বছরের মধ্যে নিরীক্ষা শেষ করার কথা। দলিল উপস্থাপন না করলে কর্তৃপক্ষ লিখিত কারণসহ সর্বোত্তম বিচারের (best judgment) ভিত্তিতে নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। ইআরপি সফটওয়্যার বা এনবিআর-অনুমোদিত ভ্যাট সফটওয়্যারে রাখা রেকর্ড সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট · সময়: দলিলের জন্য সর্বোচ্চ ২-৩ মাস; নিরীক্ষা ১ বছরের মধ্যে · আইন: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৯০, অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত; ধারা ১০৭, ২০২৬ সালে সংশোধিত · কাগজপত্র: নিরীক্ষা নোটিশ, ভ্যাট রিটার্ন (মূসক-৯.১), ক্রয় ও বিক্রয় রেজিস্টার, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক বিবরণী
পরামর্শ: ২ মাসের মধ্যে দলিল উপস্থাপন করুন এবং কী কী হস্তান্তর করেছেন তার প্রাপ্তিস্বীকৃত তালিকা রাখুন। সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক সিদ্ধান্ত আপিলে উল্টানো অনেক কঠিন।
ধাপ ২ · নিরীক্ষা, কারণ দর্শানো ও দাবিনামাপ্রাথমিক কারণ দর্শানো নোটিশ
কমিশনার বা ধারা ৮৬-এর অধীন উপযুক্ত কর্মকর্তা কোনো রিটার্ন নিয়ে সন্দেহ করলে, অপরিশোধিত বা ফাঁকি দেওয়া কর পেলে, অথবা কোনো ফেরত ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করলে, প্রদেয় কর প্রস্তাব করে প্রাথমিক কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেন। ধারা ৮৫-এর অধীন জরিমানাও একই নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সাধারণত কর মেয়াদের ৫ বছর পর, অথবা শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ৩ বছর পর, কোনো নির্ধারণ করা যায় না। প্রতারণা, রিটার্ন দাখিল না করা, গোপন করা বা মিথ্যা চালানপত্রের ক্ষেত্রে, অথবা আদালত বা ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশোধিত নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়।
কোথায়: ভ্যাট বিভাগ / সার্কেল অফিস · সময়: নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে জবাব · আইন: ধারা ৭৩(১), (২ক) ও (৩); ধারা ৮৫; ধারা ৮৬ · কাগজপত্র: প্রাথমিক কারণ দর্শানো নোটিশ, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা কার্যপত্র
ধাপ ৩ · নিরীক্ষা, কারণ দর্শানো ও দাবিনামালিখিত আপত্তি ও শুনানি
করদাতা নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে লিখিত আপত্তি দাখিল করেন এবং শুনানির অধিকারী। আপত্তিতে প্রতিটি বিষয়ের জবাব থাকা উচিত: উৎপাদ কর হিসাব, উপকরণ কর রেয়াত ও হ্রাসকারী সমন্বয়, সরবরাহের শ্রেণিবিন্যাস, দাবিকৃত অব্যাহতি এবং তামাদি। চালানপত্র, মূসক ফরম ও সমন্বয় বিবরণী দিয়ে এর সমর্থন দেওয়া উচিত। এ পর্যায়ে না তোলা যুক্তি পরে তোলা কঠিন, কারণ আপিল কর্তৃপক্ষগুলো সাধারণত ন্যায়নির্ণয়ের নথির ওপর নির্ভর করে। করদাতা খণ্ডন না করলে কমিশনারের হলফনামা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়।
কোথায়: ভ্যাট বিভাগ / সার্কেল অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ৭৩(২); ধারা ১২৩; ধারা ১৩০ (ভ্যাট পরামর্শক) · কাগজপত্র: কারণ দর্শানো নোটিশের লিখিত জবাব, মূসক-৬.৩ চালানপত্র ও মূসক-৬.৬ সনদ, হিসাবের সঙ্গে রিটার্নের সমন্বয় বিবরণী
ধাপ ৪ · নিরীক্ষা, কারণ দর্শানো ও দাবিনামাচূড়ান্ত আদেশ ও দাবিনামা
কর্মকর্তা আপত্তির ১২০ দিনের মধ্যে, অথবা আপত্তি দাখিল না হলে নোটিশের ১২০ দিনের মধ্যে নোটিশটি চূড়ান্ত করেন। চূড়ান্ত আদেশে নির্ধারিত করের কারণ ও ভিত্তি, অর্থের পরিমাণ, জারির অন্তত ১৫ কার্যদিবস পরের একটি পরিশোধের তারিখ, এবং আপিলের সময় ও স্থান উল্লেখ থাকতে হবে। জারির তারিখের পাশাপাশি ইস্যুর তারিখও লিখে রাখুন, কারণ প্রথম আপিলের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে গণনা হয়। এই আদেশ দিয়েই বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কোথায়: ভ্যাট বিভাগ / সার্কেল অফিস · সময়: আপত্তির ১২০ দিনের মধ্যে · আইন: ধারা ৭৩(২)(ক)-(গ) · কাগজপত্র: চূড়ান্ত আদেশ (চূড়ান্তকৃত কারণ দর্শানো নোটিশ), দাবিনামা
ধাপ ৫ · কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিলসঠিক ফোরাম বাছাই
ফোরাম নির্ভর করে আদেশটি কে দিয়েছেন তার ওপর। অতিরিক্ত কমিশনার বা তার নিম্নপদস্থ কোনো ভ্যাট কর্মকর্তার আদেশের আপিল যায় কমিশনার (আপিল)-এর কাছে। কমিশনার, কমিশনার (আপিল), মহাপরিচালক বা সমপদমর্যাদার কর্মকর্তার আদেশের আপিল সরাসরি আপিলাত ট্রাইব্যুনালে যায়। বকেয়ার জন্য ধারা ৯৫-এর অধীন জব্দ বা বিক্রয়ের আদেশ, এবং আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমস আইনের ধারা ৮২ ও ৯৮-এর অধীন শুল্ক আদেশ এসব আপিলের আওতাবহির্ভূত। কোনো আইনগত প্রশ্ন জড়িত না থাকলে যেকোনো পর্যায়ে ধারা ১২৫-এর অধীন এডিআর একটি বিকল্প।
কোথায়: আইনজীবী বা ভ্যাট পরামর্শক · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ধারা ১২১(১); ধারা ১২২(১); ধারা ১২৫ · কাগজপত্র: স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার পদবিসহ চূড়ান্ত আদেশ, আপিলের কারণের খসড়া
ধাপ ৬ · কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিল১% জমা প্রদান
কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিলকারী করদাতাকে দাখিলের সময় আপত্তিকৃত আদেশে উল্লিখিত করের ১%, যেকোনো জরিমানা ব্যতীত, জমা দিতে হবে। অর্থ আইন, ২০২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে এটি ১০% থেকে কমিয়েছে। আপিলকারী ভ্যাট কর্মকর্তাদের কিছু জমা দিতে হয় না। সঠিক অর্থনৈতিক কোডে ট্রেজারি চালান বা ই-পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করুন এবং প্রমাণ আপিলের সঙ্গে সংযুক্ত করুন। কম বা অনুপস্থিত জমা আপিল শুনানি না হওয়ার একটি সাধারণ কারণ।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট · সময়: দাখিলের দিন বা তার আগে · আইন: ধারা ১২১(২), অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত · কাগজপত্র: ১% জমার ট্রেজারি চালান বা ই-পেমেন্টের রসিদ
ধাপ ৭ · কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিল৯০ দিনের মধ্যে দাখিল
সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের ওপর এখতিয়ারসম্পন্ন কমিশনার (আপিল)-এর কাছে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল দাখিল করা হয়। সময়সীমা সিদ্ধান্ত বা আদেশ ইস্যুর তারিখ থেকে ৯০ দিন। বিলম্বের সুস্পষ্ট কারণ ছিল বলে কমিশনার (আপিল) সন্তুষ্ট হলে আরও ৬০ দিনের মধ্যে দাখিলের অনুমতি দিতে পারেন, তবে এর বেশি নয়। আপিল স্মারকে তথ্য, আপিলের কারণ, প্রার্থিত প্রতিকার ও জমার বিবরণ থাকা উচিত।
কোথায়: কমিশনার (আপিল), কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট · সময়: ৯০ দিনের মধ্যে (আরও সর্বোচ্চ ৬০ দিন) · আইন: ধারা ১২১(১) ও (২)-এর শর্তাংশ; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ৯৮(১) · কাগজপত্র: আপিল স্মারক ও আপিলের কারণ, আদেশের সার্টিফায়েড কপি, জমার চালান, ভ্যাট পরামর্শক বা আইনজীবীর ক্ষমতাপত্র
ধাপ ৮ · কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিলকমিশনার (আপিল)-এর সামনে শুনানি
কমিশনার (আপিল) আপিল পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে উভয় পক্ষকে জানান। উভয় পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। কমিশনার (আপিল) আরও যাচাই বা অনুসন্ধান করতে, নথি যাচাই করতে, অথবা তদন্তের জন্য এক বা একাধিক সদস্যের কমিটি নিয়োগ করতে পারেন। করদাতা খণ্ডন না করলে কমিশনারের হলফনামা চূড়ান্ত, তাই করদাতার উচিত বিভাগের প্রতিটি যুক্তির জবাব দেয় এমন দলিল নিয়ে আসা।
কোথায়: কমিশনার (আপিল), কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট · সময়: ২-৮ মাস · আইন: ধারা ১২১(৩) ও (৫); ধারা ১২৩; বিধি ৯৮(২)-(৪) · কাগজপত্র: পেপার বুক, লিখিত বক্তব্য, খণ্ডনমূলক প্রমাণ
ধাপ ৯ · কমিশনার (আপিল)-এর কাছে আপিলএক বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত
কমিশনার (আপিল) সিদ্ধান্তটি বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন, অথবা অন্য কোনো যথাযথ আদেশ দিতে পারেন, তবে নতুন করে বিবেচনার জন্য মামলাটি ফেরত পাঠাতে পারেন না। এক বছরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হলে তা আপিলকারীর অনুকূলে মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়, যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা যুদ্ধের মতো ঘোষিত জরুরি অবস্থায় সরকার সময় বাড়াতে পারে। আদেশে স্বাক্ষর হওয়ামাত্র সার্টিফায়েড কপি চান, কারণ পরবর্তী আপিলের মেয়াদ গণনা শুরু হয়ে যায়।
কোথায়: কমিশনার (আপিল), কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট · সময়: দাখিলের ১ বছরের মধ্যে · আইন: ধারা ১২১(৩), (৩ক), (৪) ও (৬) · কাগজপত্র: আপিল আদেশ
ধাপ ১০ · ট্রাইব্যুনালে আপিলআপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল
কমিশনার (আপিল)-এর আদেশে, অথবা সরাসরি ট্রাইব্যুনালে যায় এমন কমিশনার-স্তরের আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ জারির ৯০ দিনের মধ্যে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করে। যুক্তিসংগত কারণে ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট আরও ৬০ দিন সময় দিতে পারেন। জুলাই ২০২৬ থেকে করদাতাকে আপত্তিকৃত আদেশে উল্লিখিত করের ১%, জরিমানা ব্যতীত, জমা দিতে হবে। আগের বিধান অনুযায়ী কমিশনার (আপিল)-এর আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকারী করদাতাকে নতুন কোনো জমা দিতে হতো না; প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ সালের সংস্কার এই স্তরেও ১% প্রযোজ্য করেছে, তাই দাখিলের সময় প্রণীত আইনের ভাষা যাচাই করুন।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৯০ দিনের মধ্যে (আরও সর্বোচ্চ ৬০ দিন) · আইন: ধারা ১২২(১) ও এর শর্তাংশ; ধারা ১২২(২), অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালে আপিল স্মারক, নিম্নতর উভয় আদেশের সার্টিফায়েড কপি, ১% জমার চালান, আগের জমার রসিদ
ধাপ ১১ · ট্রাইব্যুনালে আপিলআদায় স্থগিতের আবেদন
আপিলাত ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করে এমন যেকোনো আদেশ দিতে পারে, যার মধ্যে কর আদায় স্থগিতের অন্তর্বর্তী আদেশও রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হলে বা ট্রাইব্যুনাল আগেই প্রত্যাহার না করলে স্থগিতাদেশ দেওয়ার ৬ মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা অকার্যকর হয়ে যায়। আদায়-সংক্রান্ত বিধানের অধীনে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা সরবরাহ বন্ধের মুখে থাকা করদাতাদের দাখিলের সময়ই স্থগিতাদেশের আবেদন করা এবং মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখা উচিত। ৬ মাসের পর আরও সুরক্ষা অনিশ্চিত এবং এর জন্য হাইকোর্ট বিভাগে যেতে হতে পারে।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: ধারা ১২২(৩)-(৪); ধারা ৯৫(৫) · কাগজপত্র: স্থগিতাদেশের আবেদন, গৃহীত আদায় পদক্ষেপের প্রমাণ
পরামর্শ: স্থগিতাদেশ কোন তারিখে অকার্যকর হবে তার জন্য রিমাইন্ডার রাখুন। ১৮১তম দিনে আদায় আবার শুরু হলে অনেক প্রতিষ্ঠান অবাক হয়।
ধাপ ১২ · ট্রাইব্যুনালে আপিলট্রাইব্যুনালে শুনানি
জ্যেষ্ঠ কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলা জজ বা দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত আপিলাত ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ আপিল শুনানি করে। ট্রাইব্যুনাল নিজের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী এর কার্যধারা বিচারিক কার্যধারা, এবং দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC) অনুযায়ী এটি দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য, তাই এটি সাক্ষী ও দলিল তলব করতে পারে। তথ্য পরীক্ষাকারী এটিই শেষ সংস্থা। প্রতিটি তথ্যগত যুক্তি ও দলিল এর সামনে উপস্থাপন করা উচিত, কারণ হাইকোর্ট বিভাগ কেবল আইনগত প্রশ্ন শোনেন।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৬-১৮ মাস · আইন: ধারা ১২২(৬)-(৭); কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২২৫ ও ধারা ২২৮ (ট্রাইব্যুনাল গঠন) · কাগজপত্র: পেপার বুক, লিখিত যুক্তি, যেসব রায়ের ওপর নির্ভর করা হয়েছে
ধাপ ১৩ · ট্রাইব্যুনালে আপিলট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত
আপিলাত ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি করে। দুই বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে আপিল মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়, তবে মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধের সময় সরকার সময় বাড়াতে পারে, এবং তা ভূতাপেক্ষও হতে পারে। আপিলাত ট্রাইব্যুনালের আদেশ উভয় পক্ষকে পাঠানো হয়। যে পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে আইনগত প্রশ্ন তুলতে চায়, তার উচিত অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করা, কারণ ২% জমা ও দাখিল একসঙ্গে প্রস্তুত রাখতে হবে।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল · সময়: দাখিলের ২ বছরের মধ্যে · আইন: ধারা ১২২(৫), (৫ক) ও (৫খ) · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালের আদেশ, সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১৪ · আদেশ কার্যকর ও আদায়আদেশ কার্যকর ও জমা ফেরত
আপিল সম্পূর্ণ বা আংশিক সফল হলে কমিশনারেট সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে কর নির্ধারণ সংশোধন করে। এটি স্বাভাবিক ৫ বছরের সীমার বাইরেও অনুমোদিত, কারণ এতে আপিল বা আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত হয়। এরপর জমার অর্থ সমন্বয় বা ফেরত দেওয়া হয়। আদেশের অনুলিপিসহ লিখিত আবেদন করুন এবং তদারকি করুন, কারণ ফেরত প্রায়ই ধীরগতির হয়। যেকোনো আদেশের করণিক বা গাণিতিক ভুল একজন ভ্যাট কর্মকর্তা যেকোনো সময় সংশোধন করতে পারেন।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ধারা ৭৩(৩)(গ); ধারা ১৩১ · কাগজপত্র: আদেশ কার্যকর করার আবেদন, আপিল আদেশের অনুলিপি, ফেরতের দাবি
ধাপ ১৫ · আদেশ কার্যকর ও আদায়বকেয়া আদায়
চূড়ান্তভাবে প্রদেয় অথচ অপরিশোধিত কর বকেয়ায় পরিণত হয়, এবং কমিশনার বা বকেয়া আদায় কর্মকর্তা আদায় শুরু করেন। তাঁরা অন্য রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা অর্থ কর্তন করতে, করদাতার হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধে ব্যাংককে নির্দেশ দিতে, ব্যবসায়িক স্থাপনা থেকে সরবরাহ বন্ধ করতে এবং ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) লক করতে পারেন। ধারা ৯৫-এর অধীন জব্দ ও বিক্রয়ের আদেশের বিরুদ্ধে এই আইনে আপিল করা যায় না। জমা পরিশোধ ও স্থগিতাদেশ বহাল রেখে সময়মতো বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া ব্যবহার করাই এসব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রধান সুরক্ষা।
কোথায়: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট · সময়: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: ধারা ৯৫(১)-(৫); ধারা ১২১(১) (আওতাবহির্ভূত আদেশ) · কাগজপত্র: বকেয়ার নোটিশ বা সনদ, ব্যাংক হিসাব ক্রোকের আদেশ
যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
ভ্যাট বিভাগ আপিল করলে কী হয়?
- 1কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল
বিভাগীয় আপিল
কমিশনার (আপিল)-এর আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ভ্যাট কর্মকর্তাও কোনো জমা ছাড়াই ৯০ দিনের মধ্যে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। তখন করদাতা প্রতিপক্ষ হন এবং পেপার বুকসহ জবাব দাখিল করা উচিত। উভয় পক্ষ আপিল করলে ট্রাইব্যুনাল সাধারণত আপিলগুলো একসঙ্গে শোনে। এক বছর পর করদাতার অনুকূলে গণ্য মঞ্জুরিও বিভাগ চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
৯০ দিনের মধ্যে দাখিল; ৬-২৪ মাসে নিষ্পত্তিধারা ১২২(১) ও (২)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ট্রাইব্যুনাল বিভাগীয় আপিল নিষ্পত্তি করে, এবং এর আদেশ আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে।
আইনগত প্রশ্ন কীভাবে হাইকোর্টে পৌঁছায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আইনগত প্রশ্নে আপিল
ট্রাইব্যুনাল বা বোর্ডের আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি, অথবা অন্তত কমিশনার বা মহাপরিচালক পদমর্যাদার ভ্যাট কর্মকর্তা, আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন। করদাতাকে দাখিলের সময় করের ২%, জরিমানা ব্যতীত, জমা দিতে হবে, যা ২০২৬ সালে ১০% থেকে কমানো হয়েছে। যতদূর সম্ভব দেওয়ানি কার্যবিধি প্রযোজ্য এবং তামাদি আইনের ধারা ৫ প্রযোজ্য। আইনে আলাদা কোনো মেয়াদ নির্ধারিত নেই, তাই আইনজীবীর উচিত প্রযোজ্য তামাদি নিশ্চিত করে দ্রুত দাখিল করা।
দ্রুত দাখিল করুন; শুনানি ১-৪ বছরধারা ১২৪(১)-(৩)ধারা ১২৪(৪), অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত - 2হাইকোর্ট বিভাগ
দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি
আপিলটি একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হয়, সাধারণত বিশেষ সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ারে। আদালত শর্তসাপেক্ষে আদায় স্থগিত করতে পারেন। আদালত তথ্য নতুন করে শোনেন না। দেখেন ট্রাইব্যুনাল আইনের ভুল প্রয়োগ করেছে কি না, আইনের ভুল পাঠ করেছে কি না, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করেছে কি না, বা এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে কাজ করেছে কি না; এরপর আদেশটি মঞ্জুর, খারিজ বা পরিবর্তন করতে পারেন।
১-৪ বছরধারা ১২৪(২)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে আইনগত প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়, যা ট্রাইব্যুনাল ও কমিশনারেটের জন্য বাধ্যতামূলক।
হাইকোর্টে কি এখনো রিভিশন চলে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রিভিশনের জায়গায় আপিল
২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার পথ ছিল রিভিশন। অর্থ আইন, ২০২১ একে আইনগত প্রশ্নে আপিলে রূপান্তর করেছে, তাই আলাদা কোনো রিভিশন চলে না। এই আইনি আপিলের সুযোগ থাকলে সাধারণত রিট পিটিশন নামঞ্জুর করা হয়, যদি না আদেশটি এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে, অসৎ উদ্দেশ্যে বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে দেওয়া হয়ে থাকে।
প্রযোজ্য নয়ধারা ১২৪, অর্থ আইন, ২০২১-এর ধারা ৫৬ দ্বারা সংশোধিতসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: চ্যালেঞ্জটি রিভিশন বা রিট হিসেবে নয়, ধারা ১২৪-এর আপিল হিসেবে চলে।
ট্রাইব্যুনাল বা কমিশনার কি নিজের আদেশ রিভিউ করতে পারেন?
- 1কমিশনার (আপিল), কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট
কেবল করণিক সংশোধন
ভ্যাট আইন কমিশনার (আপিল) বা ট্রাইব্যুনালকে মূল বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত রিভিউ করার কোনো সাধারণ ক্ষমতা দেয়নি। আইন বা বিধিমালার অধীনে করা যেকোনো কাজে করণিক বা গাণিতিক ভুল একজন ভ্যাট কর্মকর্তা যেকোনো সময় সংশোধন করতে পারেন। মূল বিষয়ে মতভেদ থাকলে তা পরবর্তী ফোরামে, অথবা কোনো আইনগত প্রশ্ন জড়িত না থাকলে এডিআরে নিতে হবে।
কয়েক সপ্তাহধারা ১৩১ধারা ১২১(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: করণিক ভুল সংশোধন হয়, এর বেশি কিছু হলে তা পরবর্তী আপিল স্তরে যায়।
মামলা কি নিচে ফেরত গিয়ে আবার ওপরে আসতে পারে?
- 1কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল
পুনঃশুনানির জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
কমিশনার (আপিল)-এর জন্য নতুন বিবেচনার উদ্দেশ্যে মামলা ফেরত পাঠানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। ফেরত পাঠানো হয় ওপরের স্তরে। হাইকোর্ট বিভাগ যদি দেখেন যে ট্রাইব্যুনাল ভুল আইনগত ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বা সাক্ষ্য উপেক্ষা করেছে, তবে যতদূর সম্ভব দেওয়ানি কার্যবিধির নীতি প্রয়োগ করে আদেশটি বাতিল করে পুনরায় শুনানির জন্য আপিলটি ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠাতে পারেন। দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ আদেশ ৪১ বিধি ২৪-এর 'পারিবেন' শব্দটি 'করিবেন' করায়, নথির সাক্ষ্য পর্যাপ্ত হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে, তাই নথিতে প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রেই কেবল ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল বিদ্যমান নথির ভিত্তিতে আপিলটি পুনরায় শুনে আবার নিষ্পত্তি করে।
ফেরত পাঠানো শুনানি: ৬-১৮ মাসধারা ১২১(৪)-এর শর্তাংশধারা ১২৪(২)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৪, দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত (যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
নতুন আপিলে আবার ওপরে
আপিলাত ট্রাইব্যুনালের নতুন সিদ্ধান্ত একটি নতুন আদেশ। আইনগত প্রশ্নে তখনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ ধারা ১২৪ অনুযায়ী আবার হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে, এবং আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দিলে আবার ২% জমা দিতে হবে। আদালত সাধারণত ফেরত পাঠানোর আদেশে পুনঃশুনানির সময়সীমা বেঁধে দেন, এবং পক্ষগুলোর উচিত দ্রুত শুনানির তারিখের জন্য চাপ দেওয়া।
১-৩ বছরধারা ১২৪(১) ও (৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ট্রাইব্যুনালের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যদি না আবার হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা হয়।
বিরোধটি কি এডিআরের মাধ্যমে মীমাংসা করা যায়?
- 1এডিআর সহায়তাকারী (ভ্যাট)
এডিআরের জন্য আবেদন
করদাতা মূসক-১৭.১ ফরমে কমিশনার, কমিশনার (আপিল), ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট, অথবা সুপ্রিম কোর্টের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে আবেদন করতে পারেন, এনবিআরের প্যানেল থেকে একজন সহায়তাকারীর (facilitator) নাম উল্লেখ করে। একজন বিভাগীয় সহায়তাকারী মনোনীত হন এবং নির্ধারিত কার্যদিবসের মধ্যে নথি পাঠানো হয়। জালিয়াতি, ফৌজদারি অপরাধ বা আইনগত প্রশ্ন জড়িত বিরোধ এর আওতাবহির্ভূত। এডিআর চলাকালে মামলাটি যেখানে আছে সেখানেই থাকে।
প্রায় ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরুধারা ১২৫(১)-(২) ও ব্যাখ্যামূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ৯৯-১০১ ও ১০৬ - 2এডিআর সহায়তাকারী (ভ্যাট)
মীমাংসা অথবা আবার আপিলে ফেরা
কাগজপত্র পাওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সহায়তাকারীকে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করতে হবে। সম্মত মীমাংসা কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে মামলাটি আইন অনুযায়ী চলতে থাকে, এবং আপিলের মেয়াদ গণনায় এডিআরে ব্যয়িত সময় বাদ দেওয়া হয়।
সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবসধারা ১২৫(৩)-(৪)বিধি ৯৯(১১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিরোধটি বাধ্যতামূলক মীমাংসায় শেষ হয়, অথবা বিচারাধীন আপিলে ফিরে যায়।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল)
ধারা ১২৪-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করে। অনুমতি মঞ্জুর হলে আইনগত প্রশ্নে আপিলের শুনানি হয়। আদায় স্থগিত করা আদালতের বিবেচনাধীন। অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন রিভিউ নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
২-৫ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং কমিশনারেটের জন্য বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়ায় ন্যায়নির্ণয়কারী কর্মকর্তার ওপরে তিনটি সংবিধিবদ্ধ স্তর এবং এরপর সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে, এবং বিরোধীয় অর্থের পরিমাণ ফোরাম নির্ধারণ করে না। নির্ধারণ করে আদেশদানকারী কর্মকর্তার পদমর্যাদা। অতিরিক্ত কমিশনার বা তার নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার আদেশ প্রথমে যায় কমিশনার (আপিল)-এর কাছে, যিনি তথ্য ও আইন নতুন করে শোনেন কিন্তু ফেরত পাঠাতে পারেন না। কমিশনার বা মহাপরিচালক পর্যায়ের আদেশ সরাসরি যায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে, যা অন্য সবার জন্য দ্বিতীয় আপিল স্তরও। ট্রাইব্যুনালই চূড়ান্ত তথ্য-নির্ধারক সংস্থা এবং দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য।
ট্রাইব্যুনাল থেকে কেবল আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল চলে, যা যতদূর সম্ভব দেওয়ানি কার্যবিধির পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি করেন। এরপর অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে আপিল যায়। জুলাই ২০২৬ থেকে করদাতারা তিনটি সংবিধিবদ্ধ স্তরে বিরোধীয় করের যথাক্রমে ১%, ১% ও ২% জমা দেন, আগে যা ছিল ১০%।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল
- প্রথম দফার আদালতকমিশনার (আপিল), কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবী বা ভ্যাট পরামর্শক · ভ্যাট বিভাগ / সার্কেল অফিস · কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট · এডিআর সহায়তাকারী (ভ্যাট)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর অধীন কমিশনার ও কমিশনার (আপিল)-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাস্টমস, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বিষয়ে আপিল শুনানি করে; আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স বা আপিল করা যায়।
ঠিকানা নিশ্চিত করা যায়নি: ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি এবং এনবিআরের প্রয়োজনীয় লিংকের পাতায় কোনো ঠিকানা নেই। যাওয়ার আগে এনবিআর থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
কমিশনার (আপিল), কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
আইনজীবী বা ভ্যাট পরামর্শক
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ভ্যাট বিভাগ / সার্কেল অফিস
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
এডিআর সহায়তাকারী (ভ্যাট)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- মূসক (Mushak)
- মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) বাংলা সংক্ষিপ্ত নাম, যা মূসক-৬.৩ (চালানপত্র) ও মূসক-৯.১ (রিটার্ন)-এর মতো নম্বরযুক্ত ভ্যাট ফরমের নামেও ব্যবহৃত হয়।
- প্রাথমিক কারণ দর্শানো নোটিশ (Primary show-cause notice)
- ধারা ৭৩-এর অধীনে ভ্যাট দাবি প্রস্তাব করে করদাতার আপত্তি আহ্বানকারী প্রথম নোটিশ।
- কমিশনার (আপিল) (Commissioner (Appeal))
- অতিরিক্ত কমিশনার বা নিম্নপদস্থ ভ্যাট কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষ।
- আপিলাত ট্রাইব্যুনাল (CEVAT Tribunal)
- কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, যা দ্বিতীয় আপিল এবং কমিশনার-স্তরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শোনে।
- মঞ্জুর বলে গণ্য (Deemed granted)
- কর্তৃপক্ষ আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় আপিলকারীর অনুকূলে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য আপিল।
- জমা (Deposit)
- আপিল দাখিলের সময় পরিশোধিত বিরোধীয় করের (জরিমানা ব্যতীত) শতাংশ: জুলাই ২০২৬ থেকে ১%, ১% ও ২%।
- বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR)
- ধারা ১২৫-এর অধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি: সহায়তাকারীর মাধ্যমে মীমাংসা, তবে আইনগত প্রশ্ন বা অপরাধ-সংক্রান্ত বিরোধ ব্যতীত।
- বকেয়া আদায় কর্মকর্তা (Debt Recovery Officer)
- ব্যাংক হিসাব ক্রোক, সরবরাহ বন্ধ ও অনুরূপ ব্যবস্থার মাধ্যমে বকেয়া আদায়ের জন্য ধারা ৯৫-এর অধীনে নিযুক্ত ভ্যাট কর্মকর্তা।
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া শুরু করার সময়সীমা কত?
২০২৬ সালের পরিবর্তনের পর কত টাকা জমা দিতে হবে?
কমিশনার (আপিল)-কে বাদ দিয়ে কি সরাসরি যাওয়া যায়?
সময়মতো আপিল নিষ্পত্তি না হলে কী হয়?
আপিল চলাকালে কি আমার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হবে?
আপিলের বদলে কি রিট করা যায়?
কখন এডিআর ভালো বিকল্প?
বাংলাদেশে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়ায় কে আমার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন?
আইন ও উৎস
- Value Added Tax and Supplementary Duty Act 2012 (English, consolidated by NBR S.R.O. 440-Law/2025)
- Value Added Tax and Supplementary Duty Rules 2016 (NBR)
- Finance Act 2026 (Bangladesh Gazette, 30 June 2026), amending the VAT and SD Act 2012
- Budget proposes lower deposits for tax appeals (The Daily Star)
- Customs Act 2023 (English, NBR), ss.225-228 on the Appellate Tribunal
- Commissioner of Customs v CEVAT Appellate Tribunal (HCD, Writ Petition 10279 of 2025): writ not maintainable where statutory appeal exists
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 102, 103, 105)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।