বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: ভুল আরএস, বিএস বা সিটি জরিপ খতিয়ান সংশোধন, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/ভূমি ও সম্পত্তি

বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: ভুল আরএস, বিএস বা সিটি জরিপ খতিয়ান সংশোধন, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা হলো চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপি (রেকর্ড-অব-রাইটস), যেমন আরএস, বিএস বা সিটি জরিপ খতিয়ানের ভুল এন্ট্রি সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক অনুযায়ী দায়ের করা মামলা। এর শুনানি করেন ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল হিসেবে আসীন একজন যুগ্ম জেলা জজ, এবং আপিল যায় ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে, যা ২০২৩ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে অবশেষে কার্যকর হয়েছে।

সময়সীমা সংক্ষিপ্ত, এবং ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশিত রেকর্ড সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
মাঠ জরিপ ও তসদিকে অংশ নিনদাগ ৪১২
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৩টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
জরিপ চলাকালে জরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প; চূড়ান্ত প্রকাশের পর জেলার ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল (একজন যুগ্ম জেলা জজ)
মূল আইন
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩-১৪৪খ এবং অধ্যায় ১৭ক-এর ধারা ১৪৫ক-১৪৫ঝ (২০০৪ সালের ৯ নং আইন দ্বারা…
সাধারণ সময়কাল
আইন: চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে (ধারা ১৪৫ক(৭ক))। বাস্তবে বিপুল…
কে মামলা করতে পারেন
সর্বশেষ চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপির কোনো এন্ট্রি বা বাদ পড়ায় সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি, যেমন মালিক, ওয়ারিশ…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৩টি ধাপ

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: ধাপ ১, মাঠ জরিপ ও তসদিকে অংশ নিন
    ধাপ ১ · জরিপ চলাকালে

    মাঠ জরিপ ও তসদিকে অংশ নিন

    সরকার ধারা ১৪৪ অনুযায়ী জরিপের আদেশ দিলে জরিপ দল প্রতিটি দাগের নকশা তৈরি করে এবং মালিক, দখলদার ও জমির শ্রেণি লিপিবদ্ধ করে। তসদিক (অ্যাটেস্টেশন) পর্যায়ে ভূমিমালিকদের একটি খসড়া এন্ট্রি দেওয়া হয়, যাকে প্রায়ই পর্চা বা খসড়া খতিয়ান বলা হয়। ভুল সংশোধনের এটিই সবচেয়ে কম খরচের সময়। মালিকদের উচিত উপস্থিত থেকে দলিল, উত্তরাধিকারের কাগজ, নামজারি খতিয়ান ও খাজনার রসিদ দেখানো এবং প্রতিটি দাগ নম্বর, পরিমাণ ও নাম যাচাই করা। বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলার অনেক বিরোধ শুরু হয় কেউ ক্যাম্পে উপস্থিত না থাকার কারণে।

    কোথায়: জরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প (রাজস্ব কর্মকর্তা) · সময়: ক্যাম্প চলাকালে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪(১)-(৪); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ · কাগজপত্র: স্বত্বের দলিল ও বায়া দলিল, আগের সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ান, নামজারি খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, উত্তরাধিকার সনদ বা ওয়ারিশ সনদ

    পরামর্শ: তসদিকের স্লিপটি রেখে দিন। এতে সে সময় কী লিপিবদ্ধ হয়েছিল তা দেখা যায়, এবং পরে প্রমাণ করা যায় যে ভুলটি পরবর্তী কোনো পর্যায়ে ঢুকেছে।

  2. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: ধাপ ২, খসড়া রেকর্ডে আপত্তি দিন
    ধাপ ২ · জরিপ চলাকালে

    খসড়া রেকর্ডে আপত্তি দিন

    প্রস্তুতের পর রাজস্ব কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের জন্য খসড়া স্বত্বলিপি প্রকাশ করেন এবং যেকোনো এন্ট্রি বা বাদ পড়ার বিষয়ে আপত্তি গ্রহণ ও বিবেচনা করতে বাধ্য। নির্ধারিত ফরমে সমর্থক কাগজপত্রসহ আপত্তি দাখিল করা হয়, এবং কর্মকর্তা পক্ষগুলোকে শুনে সিদ্ধান্ত দেন। মামলার তুলনায় এই পর্যায় দ্রুত ও কম খরচের, এবং এখানকার আদেশ বিরোধের একটি লিখিত রেকর্ড তৈরি করে, যা পরে ট্রাইব্যুনাল পরীক্ষা করতে পারেন। আপত্তি ও আদেশের সার্টিফায়েড কপি রাখুন।

    কোথায়: জরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প (রাজস্ব কর্মকর্তা) · সময়: ক্যাম্প নির্ধারিত প্রকাশকালের মধ্যে · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪(৫); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ · কাগজপত্র: আপত্তির দরখাস্ত, খসড়া এন্ট্রির সার্টিফায়েড কপি, স্বত্ব ও দখলের সমর্থক কাগজপত্র

  3. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: ধাপ ৩, জরিপ চলাকালেই আপত্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল
    ধাপ ৩ · জরিপ চলাকালে

    জরিপ চলাকালেই আপত্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল

    আপত্তির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বিধিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে, অর্থাৎ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিচে নয় এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তার কাছে, আপিল করতে পারেন। আপিল কর্মকর্তা খসড়া সংশোধন করতে পারেন। সব আপত্তি ও আপিল নিষ্পত্তি হলেই কেবল রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রণীত হয়। এই অভ্যন্তরীণ ধাপগুলো ব্যবহার করা ট্রাইব্যুনালে মামলার আইনগত পূর্বশর্ত নয়, তবে প্রায়ই মামলা ছাড়াই ভুলটি সমাধান হয়ে যায়।

    কোথায়: জরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প (রাজস্ব কর্মকর্তা) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪(৬); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ · কাগজপত্র: আপিলের দরখাস্ত, আপত্তির আদেশের সার্টিফায়েড কপি

  4. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: ধাপ ৪, চূড়ান্ত প্রকাশ: সময় গণনা শুরু
    ধাপ ৪ · জরিপ চলাকালে

    চূড়ান্ত প্রকাশ: সময় গণনা শুরু

    এরপর রাজস্ব কর্মকর্তা রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেন এবং চূড়ান্ত প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করে একটি সনদ দেন। এই প্রকাশই রেকর্ড যথাযথভাবে প্রস্তুত হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ। ধারা ১৪৪ক অনুযায়ী সাক্ষ্য দ্বারা ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি এন্ট্রি সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়। চূড়ান্ত প্রকাশের তারিখ থেকেই ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলার এক বছরের তামাদি মেয়াদ শুরু হয়, তাই মালিকদের নিজের মৌজার গেজেট বা সনদের তারিখ জেনে নিতে হবে।

    কোথায়: জরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প (রাজস্ব কর্মকর্তা) · সময়: প্রতি মৌজার জন্য একটি তারিখ · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪(৭)-(৮); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪ক · কাগজপত্র: চূড়ান্ত প্রকাশের গেজেট বা নোটিশ, ধারা ১৪৪(৮) অনুযায়ী সনদ, চূড়ান্ত খতিয়ান ও মৌজা নকশার সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: খতিয়ানের কপি ছাপার তারিখের ওপর নির্ভর করবেন না। তামাদি গণনা হয় রেকর্ডের চূড়ান্ত প্রকাশের তারিখ থেকে।

  5. ধাপ ৫: সার্টিফায়েড রেকর্ড সংগ্রহ ও দাবির পরিকল্পনা
    ধাপ ৫ · ট্রাইব্যুনালে দায়ের

    সার্টিফায়েড রেকর্ড সংগ্রহ ও দাবির পরিকল্পনা

    দায়েরের আগে আইনজীবী চূড়ান্ত খতিয়ান ও নকশা, আগের জরিপের খতিয়ান, নামজারির রেকর্ড এবং খাজনার রসিদের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করেন। এগুলো পাওয়া যায় রেকর্ড রুম বা ভূমি অফিস থেকে। দাবিটি সঠিকভাবে সাজাতে হবে। ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করেন এন্ট্রিটি ভুল কি না এবং সংশোধনের আদেশ দেন, এবং কেবল চূড়ান্ত প্রকাশ থেকে উদ্ভূত মামলাই শোনেন। স্বত্ব, বণ্টন বা দখল নিয়ে বৃহত্তর বিরোধের জন্য দেওয়ানি মামলার প্রয়োজন হতে পারে। বিক্রি বা উত্তরাধিকারের পর সাধারণ নামজারি ধারা ১৪৩ অনুযায়ী এসি ল্যান্ডের কাছে একটি আলাদা প্রক্রিয়া।

    কোথায়: উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড) · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৪); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫চ · কাগজপত্র: চূড়ান্ত খতিয়ান ও মৌজা নকশার সার্টিফায়েড কপি, আগের খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস), নামজারি মামলার নথি ও ডিসিআর, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল

  6. ধাপ ৬: এক বছরের মধ্যে মামলা দায়ের
    ধাপ ৬ · ট্রাইব্যুনালে দায়ের

    এক বছরের মধ্যে মামলা দায়ের

    সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জেলার ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে আরজি দাখিল করেন। তা দাখিল করতে হবে চূড়ান্ত প্রকাশের, অথবা ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা পরে হলে তার, এক বছরের মধ্যে। বিলম্বের কারণে সন্তুষ্ট হলে ট্রাইব্যুনাল পরের বছরে মামলা গ্রহণ করতে পারেন। দুই বছর পর মামলা তামাদিতে বারিত হয়। আরজিতে ভুল এন্ট্রি ও সঠিক এন্ট্রি চিহ্নিত করে ঘোষণা এবং রেকর্ড সংশোধনের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়। সাধারণত সরকারকে এবং ভুলভাবে রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষভুক্ত করা হয়।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: চূড়ান্ত প্রকাশের ১ বছরের মধ্যে (বিলম্ব মওকুফসহ সর্বোচ্চ ২ বছর) · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৬)-(৭); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৮); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫চ · কাগজপত্র: জমির তফসিলসহ আরজি (মৌজা, জেএল নং, খতিয়ান, দাগ, পরিমাণ), দ্বিতীয় বছরে দাখিল হলে বিলম্বের ব্যাখ্যাসহ দরখাস্ত, কোর্ট ফি, ওকালতনামা

    পরামর্শ: যখনই সম্ভব প্রথম বছরের মধ্যেই দায়ের করুন। দ্বিতীয় বছরে বিলম্ব মওকুফ বিবেচনাধীন, এবং প্রমাণ দিয়ে তার যৌক্তিকতা দেখাতে হয়।

  7. ধাপ ৭: কোর্ট ফি ও মূল্যায়ন
    ধাপ ৭ · ট্রাইব্যুনালে দায়ের

    কোর্ট ফি ও মূল্যায়ন

    বাদী আরজির ওপর কোর্ট ফি পরিশোধ করেন। মামলায় কেবল রেকর্ড ভুল মর্মে ঘোষণা এবং সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া হলে তা সাধারণত ঘোষণামূলক হিসেবে গণ্য হয় এবং কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত ফি লাগে। দখল পুনরুদ্ধার বা অন্য আনুষঙ্গিক প্রতিকার যোগ করা হলে মূল্যানুপাতিক ফি লাগতে পারে। চর্চা ভিন্ন ভিন্ন, তাই দায়েরের আগে রেজিস্ট্রির মত যাচাই করা উচিত। কম ফি দিলে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ অনুযায়ী আরজি ফেরত বা নাকচ হতে পারে।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: দায়েরের দিনই · আইন: কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর দ্বিতীয় তফসিল; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ · কাগজপত্র: কোর্ট ফি স্ট্যাম্প বা ই-চালান, আরজিতে মূল্যায়নের বিবরণ

  8. ধাপ ৮: সমন ও লিখিত জবাব
    ধাপ ৮ · ট্রাইব্যুনালে দায়ের

    সমন ও লিখিত জবাব

    ট্রাইব্যুনাল বিবাদীদের ওপর সমন জারি করেন। ২০২৬ সালে সংশোধিত দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী ডাক, কুরিয়ার, এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমেও জারি করা যায়। জেলা প্রশাসক বা সরকারি কৌঁসুলির (জিপি) মাধ্যমে সরকার এবং বেসরকারি বিবাদীরা এন্ট্রির পক্ষে লিখিত জবাব দাখিল করেন। সাক্ষী তলব, দলিল উপস্থাপনের আদেশ, হলফনামায় সাক্ষ্য গ্রহণ, সরকারি রেকর্ড তলব ও কমিশন জারিতে ট্রাইব্যুনালের দেওয়ানি কার্যবিধির ক্ষমতা আছে। বিচারক মামলাটি নিজের কাছে রাখতে পারেন, অথবা ২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী নিযুক্ত সিনিয়র সিভিল জজ বা সিভিল জজের (বর্তমানে সিনিয়র সিভিল জজ বা সিভিল জজ) কাছে বদলি করতে পারেন।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ২-৬ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঘ(১); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৩ক)-(৩গ); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ ও আদেশ ৮ · কাগজপত্র: প্রসেস ফি ও ঠিকানা, লিখিত জবাব, বদলির আদেশ, যদি থাকে

  9. ধাপ ৯: বিচার্য বিষয় গঠন
    ধাপ ৯ · সাক্ষ্য ও শুনানি

    বিচার্য বিষয় গঠন

    বিচারক আরজি ও জবাব পড়ে বিচার্য বিষয় গঠন করেন। সাধারণ বিচার্য বিষয়গুলো হলো মামলাটি তামাদির মধ্যে কি না, স্বত্বলিপির এন্ট্রি ভুল কি না, স্বত্ব ও দখল কার, এবং বাদী প্রার্থিত সংশোধন পাওয়ার অধিকারী কি না। তামাদি বা মামলাটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে কি না, এমন প্রাথমিক প্রশ্ন আগে নিষ্পত্তি হতে পারে। এরপর উভয় পক্ষ সাক্ষী ও দলিলের তালিকা দাখিল করে, যার মধ্যে থাকে তাদের নির্ভরযোগ্য স্বত্বলিপির এন্ট্রির সার্টিফায়েড কপি।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ (ট্রাইব্যুনালের চর্চায় অনুসৃত); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৬) · কাগজপত্র: আদালত কর্তৃক গঠিত বিচার্য বিষয়, সাক্ষী ও দলিলের তালিকা

  10. ধাপ ১০: অনুমান খণ্ডনের সাক্ষ্য
    ধাপ ১০ · সাক্ষ্য ও শুনানি

    অনুমান খণ্ডনের সাক্ষ্য

    ধারা ১৪৪ক এন্ট্রিকে সঠিক বলে ধরে নেয়, তাই প্রমাণের দায় বাদীর। সাক্ষ্যের মধ্যে সাধারণত থাকে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ও স্বত্বের ধারাবাহিকতা, আগের জরিপের খতিয়ান, নামজারির রেকর্ড ও খাজনার রসিদ, সঙ্গে প্রতিবেশী বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মতো দীর্ঘ দখলের সাক্ষী। ট্রাইব্যুনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে মূল জরিপের কাগজ ও তসদিকের রেকর্ড তলব করতে পারেন। বাস্তবে প্রায়ই মাঠে দাগটি মেপে মিলিয়ে দেখতে একজন জরিপ-অভিজ্ঞ কমিশনার নিয়োগ করা হয়। এরপর বিবাদীরা তাদের সাক্ষ্য দেয় এবং উভয় পক্ষ জেরা করে।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৬-১৮ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪ক; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঘ(১)(ক)-(ঙ); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ৯ (ট্রাইব্যুনালের চর্চায় যেভাবে ব্যবহৃত) · কাগজপত্র: প্রদর্শিত দলিল ও খতিয়ান, তলবকৃত জরিপ রেকর্ড, কমিশনারের প্রতিবেদন ও ফিল্ড বুক

  11. ধাপ ১১: ১৮০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শুনানি
    ধাপ ১১ · সাক্ষ্য ও শুনানি

    ১৮০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শুনানি

    সাক্ষ্যের পর আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ বিলম্ব কমাতে ২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে বিচার শেষ করতে হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা লাখের ঘরে। আদালত এখনো মুলতবি দেন, তাই পক্ষগুলোর উচিত সাক্ষী ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় সময়ের দরখাস্তের বিরোধিতা করা। বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা প্রায়ই এই পর্যায়ে দলিলগুলো যথাযথভাবে প্রদর্শিত হয়েছে কি না তার ওপর নির্ভর করে।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: চূড়ান্ত শুনানির তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৭ক) · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তিতর্ক, ধারা ১৪৪ক খণ্ডন সংক্রান্ত নজির

  12. ধাপ ১২: রায়: ঘোষণা ও সংশোধনের নির্দেশ
    ধাপ ১২ · রায় ও রেকর্ড সংশোধন

    রায়: ঘোষণা ও সংশোধনের নির্দেশ

    ট্রাইব্যুনাল রায় ও ডিক্রি দেন। বাদী সফল হলে ট্রাইব্যুনাল আপত্তিকৃত এন্ট্রিকে ভুল ঘোষণা করেন এবং সংশ্লিষ্ট অফিসকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বত্বলিপি সংশোধনের নির্দেশ দেন। অন্যান্য প্রয়োজনীয় আদেশও দিতে পারেন, যেমন দাগ নম্বর বা পরিমাণ সম্পর্কে। মিথ্যা সাক্ষ্যের উদ্দেশ্যে এই কার্যধারা একটি বিচারিক কার্যধারা। আপিলে আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালের রায় চূড়ান্ত, এবং এরপর রেকর্ড অফিসকে নির্দেশ অনুযায়ী স্বত্বলিপির এন্ট্রি সংশোধন করতে হবে।

    কোথায়: ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল · সময়: শুনানির কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায় · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৮); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঘ(২); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঙ · কাগজপত্র: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি

  13. ধাপ ১৩: বাস্তবে রেকর্ড সংশোধন করিয়ে নিন
    ধাপ ১৩ · রায় ও রেকর্ড সংশোধন

    বাস্তবে রেকর্ড সংশোধন করিয়ে নিন

    বিজয়ী পক্ষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বা সরাসরি রেকর্ড সংরক্ষণকারী অফিসে ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি পাঠান। তা সাধারণত উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস এবং জেলা রেকর্ড রুম, আর চলমান জরিপের ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট অফিস। কর্মকর্তা খতিয়ান ও নকশা সংশোধন করেন, এবং এরপর ধারা ১৪৩ অনুযায়ী নামজারি হতে পারে। অফিস ব্যবস্থা না নিলে পক্ষ নির্দেশনার জন্য আবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন, অথবা শেষ উপায় হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে ম্যান্ডামাস চাইতে পারেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা সম্পূর্ণ হয়।

    কোথায়: উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৮); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ · কাগজপত্র: ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, সংশোধনের আবেদন, সংশোধিত খতিয়ানের কপি

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল → আপিল ট্রাইব্যুনাল

হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল করলে কী হবে?

  1. 1
    ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল

    ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল

    ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি তিন মাসের মধ্যে আপিল করতে পারেন। বিলম্বের কারণে সন্তুষ্ট হলে আপিল ট্রাইব্যুনাল আরও তিন মাসের মধ্যে তা গ্রহণ করতে পারেন। ২০২৩ সালের সংশোধনীর পর থেকে আলাদা বিচারক নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জেলা জজ আপিল ট্রাইব্যুনাল হিসেবে কাজ করেন, এবং অতিরিক্ত জেলা জজদের কাছে আপিল পাঠাতে পারেন। আপিলে তথ্য ও আইন উভয়ই পুনর্বিবেচনা করা হয়।

    ৩ মাসের মধ্যে দায়ের; নিষ্পত্তি ৬-২৪ মাসরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫খ(১)-(৬)রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধন) আইন, ২০২৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল ট্রাইব্যুনাল রায় বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করেন, এবং ধারা ১৪৫ঙ অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

বিকল্প পথ · আপিল ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ কি আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত রিভিশন করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আইনে রিভিশন নেই: অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট

    অধ্যায় ১৭ক হাইকোর্ট বিভাগে কোনো রিভিশনের সুযোগ দেয়নি, এবং ধারা ১৪৫ঙ আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করেছে। এর পদ্ধতিগত ক্ষমতা আসে ধারা ১৪৫ঘ থেকে, পুরো দেওয়ানি কার্যবিধি থেকে নয়। সাধারণ পথ হলো অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশন, যা এখতিয়ারের অভাব, বেআইনিতা বা স্বাভাবিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘনে সীমিত। ২০২৩ সালের সংশোধনীর পর হাইকোর্ট বিভাগ কিছু রিট আবেদনকারীকে এর বদলে নতুন আপিল ফোরামে পাঠিয়েছেন।

    ৬-২৪ মাসরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঙসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিট খারিজ হয়, অথবা সিদ্ধান্তটি বেআইনি ঘোষিত হয়ে নতুন বিবেচনার জন্য ফেরত যায়।

রিভিউ · ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল

ট্রাইব্যুনাল কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?

  1. 1
    ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল

    রিভিউর ক্ষমতা অনিশ্চিত

    ধারা ১৪৫ঘ ট্রাইব্যুনালের দেওয়ানি কার্যবিধির ক্ষমতাগুলোর তালিকা দিয়েছে, যেমন সমন, উদ্ঘাটন, হলফনামা, রেকর্ড ও কমিশন, এবং আদেশ ৪৭ অনুযায়ী রিভিউ তার মধ্যে নেই। তাই রিভিউ চলে কি না তা অনিশ্চিত, এবং হাইকোর্ট বিভাগের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা উচিত। করণিক বা গাণিতিক ত্রুটি সাধারণত সংশোধন করা যায়। আইন বা তথ্যের প্রকৃত ভুলের ক্ষেত্রে নিরাপদ পথ হলো তিন মাসের মধ্যে আপিল করা।

    নির্ভরযোগ্য নয়; বরং আপিল করুনরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঘ(১)রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫খ(৫)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বাস্তবে ভুল সংশোধন হয় রিভিউর বদলে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলের মাধ্যমে।

বিকল্প পথ · ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ

ট্রাইব্যুনাল কি আইনগত প্রশ্ন ওপরে রেফার করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    রেফারেন্সের কোনো পদ্ধতি নেই

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স ধারা ১৪৫ঘ-তে দেওয়া ক্ষমতার মধ্যে নেই, এবং অধ্যায় ১৭ক-এর নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ আপিলের পথ আছে। ট্রাইব্যুনালকে আইনগত প্রশ্নটি নিজেই নিষ্পত্তি করতে হবে। যে পক্ষ এতে হেরে যায়, সে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলে এবং প্রয়োজনে হাইকোর্ট বিভাগে রিটে বিষয়টি তোলে।

    প্রযোজ্য নয়রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঘরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫জ

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আইনগত প্রশ্ন নিষ্পত্তি হয় আপিল ও রিটের মাধ্যমে, রেফারেন্সের মাধ্যমে নয়।

রিমান্ড (ফেরত) · ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল → আপিল ট্রাইব্যুনাল → ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল → আপিল ট্রাইব্যুনাল

আপিল ট্রাইব্যুনাল মামলা ফেরত পাঠালে কী হবে?

  1. 1
    ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল

    রায় বাতিল ও মামলা ফেরত

    ট্রাইব্যুনাল যদি কেবল তামাদির প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দিয়ে ভুল করে থাকেন, তলবকৃত জরিপ রেকর্ড বিবেচনা করতে অস্বীকার করে থাকেন, অথবা দাগের পরিচয় নিয়ে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও তা মাপানোর ব্যবস্থা না করে থাকেন, তাহলে আপিল ট্রাইব্যুনাল রায় বাতিল করতে পারেন। নির্দেশনাসহ মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হয়, যেমন সাক্ষ্য গ্রহণ বা স্থানীয় তদন্তের জন্য। নথি যথেষ্ট হলে আদালত সাধারণত চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করাই পছন্দ করেন।

    আপিলের অংশরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫খরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ঘ(১)(ঙ)
  2. 2
    ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল

    পুনর্বিচার ও নতুন রায়, তারপর নতুন আপিল

    ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে নির্দেশনা পালন করেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন এবং নতুন রায় দেন। বিচার শেষ করার ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা আবার প্রযোজ্য হয়। হেরে যাওয়া পক্ষ নতুন রায়ের তিন মাসের মধ্যে আপিল ট্রাইব্যুনালে নতুন আপিল করতে পারে, ফলে মামলা আবার ওপরে আসতে পারে।

    ৬-১২ মাসরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক(৭ক)রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫খ(৫)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলাটি ট্রাইব্যুনাল পর্যায়ে আবার নিষ্পত্তি হয় এবং আপিল ট্রাইব্যুনালে ফিরতে পারে।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    রিটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি

    ট্রাইব্যুনাল বা আপিল ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত কোনো রিট হাইকোর্ট বিভাগ নিষ্পত্তি করলে হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল বিভাগ রুলসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করতে পারে। আপিল বিভাগ কেবল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে অনুমতি দেন। এর রায় সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক, এবং অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউর সুযোগ খুবই সীমিত।

    ১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে রেকর্ডের এন্ট্রি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলার সাধারণ দেওয়ানি আদালতের বাইরে নিজস্ব পথ আছে। চূড়ান্ত প্রকাশের আগে ভুলগুলো জরিপের ভেতরেই নিষ্পত্তি হয়: ধারা ১৪৪(৫) অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে আপত্তি, তারপর ধারা ১৪৪(৬) অনুযায়ী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বা ঊর্ধ্বতনের কাছে আপিল। রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হলে জমির মূল্য যা-ই হোক, একমাত্র ফোরাম ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল, অর্থাৎ একজন যুগ্ম জেলা জজ। ধারা ১৪৫চ দেওয়ানি আদালতকে বারিত করেছে, এবং ২০২৩ সালের সংশোধনী সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজদের, বর্তমানে যাঁদের সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল থেকে বদলি হওয়া মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়েছে।

আপিল চলে তিন মাসের মধ্যে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে, অর্থাৎ একজন জেলা জজের কাছে, যিনি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে আপিল পাঠাতে পারেন। এই আপিলে তথ্য ও আইন উভয়ই পুনর্বিবেচনা করা হয়, এবং ধারা ১৪৫ঙ অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়া যায় কেবল অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিটের মাধ্যমে, এখতিয়ার ও বৈধতার প্রশ্নে। আপিল বিভাগ বিষয়টি শোনেন কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি সাপেক্ষে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল
  4. প্রথম দফার আদালতভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল
  5. শুরু · আদালতের বাইরেজরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প (রাজস্ব কর্মকর্তা) · উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড)
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫খ-এর অধীন ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে।

ঠিকানা কোনো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য ট্রাইব্যুনাল কোথায় বসে, তা ঢাকা জাজশিপ অফিস বা সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

প্রথম দফার আদালত

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৫ক-এর অধীন চূড়ান্ত জরিপের স্বত্বলিপি (খতিয়ান) সংক্রান্ত বিরোধ শুনানি করে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জাজশিপের আদালতের তালিকায় এর নাম আছে; সঠিক ভবন ও তলা প্রকাশিত নয়, তাই ঠিকানা হিসেবে ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে জেলা জাজশিপগুলোতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বসে।

শুরু · আদালতের বাইরে

জরিপ ও সেটেলমেন্ট ক্যাম্প (রাজস্ব কর্মকর্তা)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

জরিপ চলাকালে
৩–২৪ মাস
ট্রাইব্যুনালে দায়ের
১–৬ মাস
সাক্ষ্য ও শুনানি
৬–৩০ মাস
রায় ও রেকর্ড সংশোধন
১–৬ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১১–৬৬ মাস · সামগ্রিক: আইন: চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে (ধারা ১৪৫ক(৭ক))। বাস্তবে বিপুল মামলাজটের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মামলায় সাধারণত ১ থেকে ৪ বছর লাগে, আর আপিলে আরও ১ থেকে ২ বছর
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

স্বত্বলিপি বা খতিয়ান (Record-of-rights)
ধারা ১৪৪ অনুযায়ী জরিপে প্রস্তুত সরকারি রেকর্ড, যেখানে প্রতিটি দাগের মালিক, অংশ, দখল ও জমির শ্রেণি তালিকাভুক্ত থাকে।
সিএস, এসএ, আরএস, বিএস (CS, SA, RS, BS)
ধারাবাহিক জরিপসমূহ: ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, স্টেট অ্যাকুইজিশন জরিপ, রিভিশনাল সার্ভে ও বাংলাদেশ সার্ভে। সিটি জরিপ মহানগর এলাকা কভার করে।
চূড়ান্ত প্রকাশ (Final publication)
ধারা ১৪৪(৭) অনুযায়ী সমাপ্ত রেকর্ডের সরকারি প্রকাশ। এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে মামলার এক বছরের তামাদি মেয়াদ শুরু হয়।
শুদ্ধতার অনুমান (Presumption of correctness)
ধারা ১৪৪ক অনুযায়ী সাক্ষ্য দ্বারা অন্যথা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশিত এন্ট্রি সঠিক বলে গণ্য হয়।
ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল (Land Survey Tribunal)
রেকর্ডের চূড়ান্ত প্রকাশ থেকে উদ্ভূত মামলা শোনার জন্য ধারা ১৪৫ক অনুযায়ী নিযুক্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন যুগ্ম জেলা জজ।
ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল (Land Survey Appellate Tribunal)
ধারা ১৪৫খ অনুযায়ী আপিল ফোরাম, বর্তমানে একজন জেলা জজ বা যে অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে আপিল বদলি করা হয়।
মৌজা ও জেএল নম্বর (Mouza and JL number)
রাজস্ব গ্রামের একক এবং তার জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর, যা প্রতিটি রেকর্ডে জমি শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
নামজারি (Mutation)
বিক্রি বা উত্তরাধিকারের পর ধারা ১৪৩ অনুযায়ী এসি ল্যান্ডের কাছে রেকর্ড হালনাগাদ করা। এটি জরিপের ভুল সংশোধন থেকে আলাদা।
প্রশ্নোত্তর

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা করার শেষ সময় কবে?
ধারা ১৪৫ক(৬) অনুযায়ী স্বত্বলিপি চূড়ান্তভাবে প্রকাশের তারিখ থেকে, অথবা ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা পরে হলে সেই তারিখ থেকে, এক বছর। বিলম্বের কারণ গ্রহণযোগ্য মনে করলে ট্রাইব্যুনাল পরের বছরে দায়ের করা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা গ্রহণ করতে পারেন। দুই বছর পর প্রতিকারের সুযোগ হারিয়ে যায়, তাই শুরুতেই নিজের মৌজার চূড়ান্ত প্রকাশের তারিখ যাচাই করুন।
এর বদলে কি সাধারণ দেওয়ানি আদালতে যেতে পারি?
সর্বশেষ স্বত্বলিপির চূড়ান্ত প্রকাশ থেকে উদ্ভূত বিরোধের ক্ষেত্রে পারবেন না। ধারা ১৪৫চ ট্রাইব্যুনালের এলাকার মধ্যে দেওয়ানি আদালতকে বারিত করেছে, এবং ধারা ১৪৫ক(৫) পুরোনো দেওয়ানি মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেছে। স্বত্ব, বণ্টন বা দখল নিয়ে বৃহত্তর বিরোধের ফোরাম এখনো দেওয়ানি আদালত, তবে জরিপের ভুল এন্ট্রি নিজে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালেই চ্যালেঞ্জ করতে হবে।
বিচারক কে?
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন যুগ্ম জেলা জজ, অথবা নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন যুগ্ম জেলা জজ। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ উদ্দেশ্যে নিযুক্ত সিনিয়র সিভিল জজ বা সিভিল জজদের কাছে মামলা বদলি করতে পারেন। ২০২৬ সালের দেওয়ানি আদালত সংশোধনী অনুযায়ী এই পদগুলোর নাম এখন সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ।
রেকর্ড কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিতে যায় বলে মনে হয়?
কারণ ধারা ১৪৪ক ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি এন্ট্রিকে সঠিক বলে ধরে নেয়। বাদীকে শক্তিশালী সাক্ষ্য আনতে হয়, যেমন রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, আগের খতিয়ান, নামজারির কাগজ, খাজনার রসিদ ও দখলের সাক্ষী, এবং প্রায়ই জরিপ-অভিজ্ঞ কমিশনারের পরিমাপ। দুর্বল বা প্রদর্শিত না হওয়া দলিলই এসব মামলা ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
আপিল কোথায় যায় এবং কত দিন সময় পাব?
রায়ের তিন মাসের মধ্যে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে, যা ধারা ১৪৫খ অনুযায়ী যথেষ্ট কারণে আরও তিন মাস বাড়ানো যায়। জেলা জজ এখন আপিল ট্রাইব্যুনাল হিসেবে বসেন এবং অতিরিক্ত জেলা জজদের কাছে আপিল বদলি করতে পারেন। ২০২৩ সালের সংশোধনীর আগে এই আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো কার্যকর ছিল না, ফলে অনেক বিচারপ্রার্থী রিট পিটিশনের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
আপিলের পর কি হাইকোর্ট বিভাগ আমার মামলা শুনতে পারেন?
কেবল অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশনের মাধ্যমে, কারণ ধারা ১৪৫ঙ আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করেছে এবং আইনে কোনো রিভিশনের বিধান নেই। হাইকোর্ট বিভাগ এখতিয়ার, বৈধতা ও ন্যায্যতা দেখেন, সাক্ষ্যের নতুন মূল্যায়ন করেন না। সেখান থেকে অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন আপিল বিভাগে যেতে পারে।
মামলায় জিতলেই কি খতিয়ান আপনা-আপনি বদলে যায়?
না। ডিক্রি এন্ট্রিটিকে ভুল ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট অফিসকে সংশোধনের নির্দেশ দেয়, কিন্তু কাউকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। এসি ল্যান্ড বা রেকর্ড রুমে সার্টিফায়েড কপি পাঠান, সংশোধনের বিষয়ে খোঁজ রাখুন, এবং প্রয়োজনে তারপর নামজারির আবেদন করুন। কর্মকর্তারা ডিক্রি উপেক্ষা করলে নির্দেশনার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন বা ম্যান্ডামাস চান।
বাস্তবে মামলাটি শেষ হতে কত সময় লাগবে?
২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। ২০২১ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছিল, সারা দেশে ট্রাইব্যুনালগুলোতে প্রায় ৩.৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, তাই ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলায় দায়ের, আরজি-জবাব ও সাক্ষ্যগ্রহণে প্রায়ই সেই পর্যায়ের আগেই এক থেকে তিন বছর লেগে যায়। আপিলে সাধারণত আরও এক থেকে দুই বছর লাগে।

আইন ও উৎস

  1. The State Acquisition and Tenancy Act 1950, Laws of Bangladesh
  2. The State Acquisition and Tenancy Act 1950, mirror text
  3. State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act 2023 (Act No. 24 of 2023), FAOLEX summary
  4. Bill placed in parliament seeking to ease case backlog (Dhaka Tribune, June 2023)
  5. Riddled with backlogs, land tribunals cry out for appellate courts (The Business Standard, August 2021)
  6. Absence of appeal court, judge crisis cripple land survey tribunals (Prothom Alo English)
  7. High Court Division, W.P. No. 5142 of 2019 (Land Survey Tribunal, Jessore; appeal now lies to the Appellate Tribunal)
  8. The Court-fees Act 1870

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp