টাকা আদায়ের মামলা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পুরো যাত্রা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/দেওয়ানি

টাকা আদায়ের মামলা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পুরো যাত্রা

টাকা আদায়ের মামলা বা মানি স্যুট (money suit) হলো পাওনা টাকা, অপরিশোধিত মূল্য বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের দেওয়ানি দাবি। দাবিকৃত অঙ্ক যে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে, সেখানে মূল্যানুপাতিক (অ্যাড ভ্যালোরেম) কোর্ট ফি দিয়ে মামলাটি দায়ের করতে হয়। মামলা চলে সমন, লিখিত জবাব, বাধ্যতামূলক আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা, হলফনামায় সাক্ষ্য ও রায়ের ধাপ পেরিয়ে; টাকার ডিক্রিতে আদালতের বিবেচনায় সুদ যুক্ত হয়।

দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম অথবা দেওয়ানি কারাবাসের মাধ্যমে ডিক্রি জারি করা হয়, আর মামলার মূল্য অনুযায়ী আপিল যায় জেলা জজ অথবা হাইকোর্ট বিভাগে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
সঠিক আদালত ও দাবি বেছে নিন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৬টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৭টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
বিবাদী যেখানে বসবাস করেন বা যেখানে নালিশের কারণ উদ্ভূত হয়েছে, সেখানকার দেওয়ানি আদালত: সিভিল জজ (১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত…
মূল আইন
দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮ (ধারা ২০, ৩৪, ৩৫ক, ৩৮, ৬০, ৮৯ক, ১১৫; আদেশ ৭, ৮, ৩৭, ৩৮, ২১, ৪১, ৪৭; ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা…
সাধারণ সময়কাল
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মামলা: প্রথম আদালতে প্রায় ২-৫ বছর। আত্মপক্ষ সমর্থনের অনুমতি নামঞ্জুর হলে আদেশ ৩৭-এর সংক্ষিপ্ত…
কে মামলা করতে পারেন
যেকোনো পাওনাদার, বিক্রেতা, ঋণদাতা, ঠিকাদার বা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ, ব্যক্তি বা কোম্পানি, দেনাদার বা অন্যায়কারীর (এবং…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৬টি ধাপ

টাকা আদায়ের মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. টাকা আদায়ের মামলা: ধাপ ১, সঠিক আদালত ও দাবি বেছে নিন
    ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগে

    সঠিক আদালত ও দাবি বেছে নিন

    খসড়া করার আগে আইনজীবী ঠিক করেন সাধারণ টাকা আদায়ের মামলাই সঠিক পথ কি না। ঋণ আদায়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অর্থঋণ আদালতেই যেতে হবে। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এ তালিকাভুক্ত চব্বিশটি শ্রেণির কোনো একটির বিরোধ, যেমন পণ্য বিক্রয়, নির্মাণ বা বণিকদের লেনদেন, যায় বাণিজ্যিক আদালতে, সাধারণত বিধিতে যেখানে প্রয়োজন সেখানে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার পর। চেক ডিজঅনার হলে হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের অধীনে ফৌজদারি নালিশও করা যায়। ব্যক্তিগত ঋণ, অপরিশোধিত ফি, টাকা ফেরত, চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণ ও টর্টের দাবি সাধারণ দেওয়ানি আদালতেই থাকে।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ), ধারা ৪ ও ধারা ৭(১); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫; হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮ · কাগজপত্র: চুক্তি, ইনভয়েস বা ঋণের কাগজপত্র, পরিশোধ ও খেলাপের সারসংক্ষেপ

    পরামর্শ: ভুল আদালতে বাণিজ্যিক বিরোধ দায়ের করলে কয়েক মাস নষ্ট হয়; আগে ২০২৬ সালের আইনের চব্বিশটি শ্রেণি মিলিয়ে নিন।

  2. টাকা আদায়ের মামলা: ধাপ ২, তামাদির মেয়াদ যাচাই করুন
    ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগে

    তামাদির মেয়াদ যাচাই করুন

    বেশিরভাগ টাকার দাবি তিন বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়: ধার দেওয়া টাকার ক্ষেত্রে ঋণের তারিখ থেকে; অনিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে ভঙ্গের তারিখ থেকে; আর বিক্রীত পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত সরবরাহ বা পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ থেকে। নিবন্ধিত লিখিত চুক্তিতে মেয়াদ ছয় বছর। সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিল অব এক্সচেঞ্জ, হুন্ডি ও প্রমিসরি নোটের মামলা এক বছরের মধ্যে করতে হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দেনাদারের স্বাক্ষরিত লিখিত ঋণ স্বীকৃতি, অথবা দেনাদারের হাতের লেখায় দেখানো আংশিক পরিশোধ, নতুন করে মেয়াদ শুরু করে।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ দিন · আইন: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৫, ৫২, ৫৭, ১১৫ ও ১১৬; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ ও ধারা ২০ · কাগজপত্র: তামাদির হিসাব, লিখিত স্বীকৃতি বা আংশিক পরিশোধের যেকোনো রেকর্ড

    পরামর্শ: দেনাদার ঋণ স্বীকার করেছেন এমন ইমেইল বা মেসেজ ধারা ১৯-এর শর্ত পূরণ করলে মেয়াদ নতুন করে শুরু হতে পারে। এটি সংরক্ষণ করুন।

  3. টাকা আদায়ের মামলা: ধাপ ৩, দাবির লিগ্যাল নোটিশ পাঠান
    ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগে

    দাবির লিগ্যাল নোটিশ পাঠান

    সাধারণ টাকা আদায়ের মামলায় লিগ্যাল নোটিশ আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, তবে এটি প্রচলিত চর্চা। নোটিশে পাওনার পরিমাণ, দাবির ভিত্তি, চুক্তিভিত্তিক সুদ (যদি থাকে) ও একটি সময়সীমা, প্রায়ই পনেরো থেকে ত্রিশ দিন, উল্লেখ করা হয় এবং সতর্ক করা হয় যে এরপর মামলা হবে। এতে সুদের হিসাবের জন্য দাবির তারিখ নির্ধারিত হয়, আপসের সুযোগ তৈরি হয় এবং প্রায়ই এমন স্বীকৃতি বা আত্মপক্ষ সমর্থন আসে, যা আরজির রূপ ঠিক করে দেয়। বিবাদী সরকার বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা হলে কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুযায়ী দুই মাসের নোটিশ দেওয়া উচিত।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮০; চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৩ · কাগজপত্র: লিগ্যাল নোটিশ, রেজিস্ট্রি ডাক ও কুরিয়ারের রসিদ, জবাব (যদি থাকে)

    পরামর্শ: আপনার জানা প্রতিটি ঠিকানায়, ইমেইলসহ, নোটিশ পাঠান। বিচারে প্রাপ্তির প্রমাণই দাবির সাক্ষ্য।

  4. টাকা আদায়ের মামলা: ধাপ ৪, দাবির মূল্য নির্ধারণ, কোর্ট ফি পরিশোধ ও আদালত বাছাই
    ধাপ ৪ · মামলা দায়ের ও দাবি সুরক্ষা

    দাবির মূল্য নির্ধারণ, কোর্ট ফি পরিশোধ ও আদালত বাছাই

    টাকা আদায়ের মামলায় মামলার মূল্য হলো দাবিকৃত অঙ্ক, মামলা দায়ের পর্যন্ত সুদসহ। এই অঙ্কই কোর্ট-ফি আইনের ধারা ৭(i) ও তফসিল ১ অনুযায়ী মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি নির্ধারণ করে, তফসিলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত ক্রমহ্রাসমান হারে, এবং আদালতও ঠিক করে দেয়। সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ তার বেশি অঙ্কের দাবি শোনেন। বিবাদী যেখানে বসবাস বা ব্যবসা করেন, অথবা যেখানে নালিশের কারণ উদ্ভূত হয়েছে, সেখানে মামলা করতে হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ সপ্তাহ · আইন: কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(i) ও তফসিল ১; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫ ও ধারা ২০ · কাগজপত্র: হিসাব বিবরণী, সুদের হিসাব, কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প

    পরামর্শ: সুদ আলাদাভাবে ও স্বচ্ছভাবে দাবি করুন। বাড়িয়ে ধরা অঙ্ক কোর্ট ফি বাড়ায় এবং পুরো হিসাবকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।

  5. ধাপ ৫: আরজি দাখিল করুন
    ধাপ ৫ · মামলা দায়ের ও দাবি সুরক্ষা

    আরজি দাখিল করুন

    আরজিতে থাকে পক্ষগণের পরিচয়, পাওনা বা ক্ষতির উদ্ভবের ঘটনা, নালিশের কারণ কবে উদ্ভূত হয়েছে, এখতিয়ার প্রমাণকারী তথ্য, খাতওয়ারি বিভাজনসহ দাবিকৃত সঠিক অঙ্ক, দাবিকৃত সুদ ও তার ভিত্তি এবং প্রার্থিত প্রতিকার। যে দলিলের ভিত্তিতে বাদী মামলা করছেন তা আরজির সঙ্গে দাখিল করা হয়, অন্যগুলোর তালিকা দেওয়া হয়। আদালত টাকা আদায়ের মামলাটি নিবন্ধন করে সমন জারির আদেশ দেন। জামিনদার ও যৌথ দেনাদারদের পক্ষভুক্ত করা যায়, যাতে একটি ডিক্রিই সবার ওপর বাধ্যকর হয়।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-২ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৬; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৭ বিধি ১, ২ ও ১৪ · কাগজপত্র: সত্যপাঠসহ আরজি, চুক্তি, ইনভয়েস, প্রমিসরি নোট বা ঋণ স্বীকৃতিপত্র, হিসাব বিবরণী, লিগ্যাল নোটিশ ও তার জবাব, কোর্ট ফি ও প্রসেস ফি

    পরামর্শ: প্রতিটি ক্ষতির খাত এখনই দাবি করুন। যে প্রতিকার চাওয়া যেত কিন্তু বাদ পড়েছে, তার জন্য পরে নতুন মামলা আদেশ ২ বিধি ২ দ্বারা বারিত।

  6. ধাপ ৬: বিকল্প: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত মামলা
    ধাপ ৬ · মামলা দায়ের ও দাবি সুরক্ষা

    বিকল্প: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত মামলা

    দাবি যদি বিল অব এক্সচেঞ্জ, হুন্ডি বা প্রমিসরি নোটের ওপর ভিত্তি করে হয়, বাদী এর বদলে আদেশ ৩৭-এর অধীনে সংক্ষিপ্ত মামলা (summary suit) করতে পারেন, যা জেলায় কেবল জেলা আদালতে প্রযোজ্য। সমন হয় বিশেষ ফরমে, আর বিবাদী অনুমতি ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন না। প্রকৃত আত্মপক্ষ সমর্থনের কারণ প্রকাশ করে হলফনামা দিলে তবেই অনুমতি দেওয়া হয়, এবং তা আদালতে টাকা জমার শর্তসাপেক্ষ হতে পারে। অনুমতি নামঞ্জুর হলে বা চাওয়া না হলে বাদী আসল ও সুদের ডিক্রি পান, যা সঙ্গে সঙ্গে জারি করা যায়।

    কোথায়: জেলা জজ আদালত · সময়: অনুমতি নামঞ্জুর হলে ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৭ বিধি ১ থেকে ৩; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৫ · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে আরজি, মূল দলিল, পরিশিষ্ট খ-এর ফরম নং ৪-এ সমন

    পরামর্শ: সংক্ষিপ্ত পদ্ধতির এক বছরের তামাদি সাধারণ মামলার চেয়ে অনেক কম। তা পেরিয়ে গেলে সাধারণ পদ্ধতিতে মামলা করুন।

  7. ধাপ ৭: রায়ের আগে ক্রোক
    ধাপ ৭ · মামলা দায়ের ও দাবি সুরক্ষা

    রায়ের আগে ক্রোক

    ভবিষ্যৎ ডিক্রি বাধাগ্রস্ত করতে বিবাদী যদি সম্পত্তি হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলতে, অথবা আদালতের এখতিয়ার বা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে উদ্যত হন, বাদী আবেদন করতে পারেন যেন বিবাদীকে জামানত দিতে বলা হয় অথবা রায়ের আগেই নির্দিষ্ট সম্পত্তি ক্রোক করা হয়। আবেদনের সমর্থনে হলফনামায় শুধু আশঙ্কা নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্য দেখাতে হবে। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে শর্তসাপেক্ষ ক্রোকের আদেশ দিয়ে বিবাদীকে কারণ দর্শাতে বলতে পারেন। একইভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া যায়।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৮ বিধি ১, ৫ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯ বিধি ১(খ) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ আবেদন, ক্রোকযোগ্য সম্পত্তির তফসিল, হস্তান্তর বা চলে যাওয়ার অভিপ্রায়ের প্রমাণ

    পরামর্শ: অন্যায় ক্রোকের জন্য ধারা ৯৫ অনুযায়ী বাদীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। প্রকৃত প্রমাণ থাকলে তবেই আবেদন করুন।

  8. ধাপ ৮: বিবাদীর ওপর সমন জারি
    ধাপ ৮ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা

    বিবাদীর ওপর সমন জারি

    আদালত তার জারিকারকের মাধ্যমে এবং রেজিস্ট্রি ডাক বা কুরিয়ারে আরজির কপিসহ সমন পাঠান, আর ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবাসহ ইলেকট্রনিক মাধ্যমও ব্যবহার করতে পারেন। বিবাদীকে খুঁজে পাওয়া না গেলে বা তিনি সমন এড়িয়ে গেলে আদালত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তিসহ বিকল্প পদ্ধতিতে জারির আদেশ দিতে পারেন। কোম্পানি বিবাদীর ক্ষেত্রে তার নিবন্ধিত কার্যালয় বা প্রধান ব্যবসাস্থলে সমন জারি করা হয়।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫ বিধি ৯, ৯ক ও ২০ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৯ বিধি ২ · কাগজপত্র: সমন, প্রসেস ফি, বিবাদীর সঠিক ঠিকানা, ফোন নম্বর ও ইমেইল

    পরামর্শ: মামলা দায়েরের আগে আরজেএসসি (RJSC)-তে কোম্পানির নিবন্ধিত কার্যালয় খুঁজে নিন, যাতে ভুল ঠিকানার কারণে সমন জারি বিলম্বিত না হয়।

  9. ধাপ ৯: লিখিত জবাব ও সেট-অফ
    ধাপ ৯ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা

    লিখিত জবাব ও সেট-অফ

    সমন জারির ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীকে লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে, যুক্তিসংগত কারণে তা সর্বোচ্চ ষাট কার্যদিবস পর্যন্ত বাড়ানো যায়; এরপর মামলা একতরফাভাবে চলে। সাধারণ আত্মপক্ষ সমর্থনগুলো হলো: টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, টাকাটি ঋণ নয় বরং উপহার বা বিনিয়োগ ছিল, তামাদি, ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বা সেবা, অথবা বাদীই আগে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। বাদীর কাছে বিবাদীর নির্দিষ্ট পাওনা থাকলে বিবাদী আইনগত সেট-অফ দাবি করতে পারেন, যা পাল্টা দাবির মতো গণ্য হয় এবং এর জন্য আলাদা কোর্ট ফি লাগে।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: সমন জারি থেকে ৩০-৬০ কার্যদিবস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৮ বিধি ১, ৬ ও ১০ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, বিবাদীর দলিলপত্র, সেট-অফের কোর্ট ফি (দাবি করা হলে)

    পরামর্শ: ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল না হলে দেরি না করে আদালতকে একতরফা শুনানিতে যেতে বলুন।

  10. ধাপ ১০: আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা
    ধাপ ১০ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা

    আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা

    লিখিত জবাব দাখিল ও পক্ষগণ হাজির হওয়ার পর আদালতকে নিজে বিরোধটি মধ্যস্থতা করতে হবে, অথবা পক্ষগণের আইনজীবী, জেলা জজের প্যানেলভুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। মধ্যস্থতা ষাট দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে, যা আরও ত্রিশ দিন বাড়ানো যায়। পক্ষগণ আপস করলে আদালত সাত দিনের মধ্যে আপস ডিক্রি দেন, এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিশন চলে না, এবং আদালত কোর্ট ফি ফেরতের সনদ দেন। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে মামলা আবার চলে, আর যে বিচারক ব্যর্থ মধ্যস্থতা পরিচালনা করেছেন তিনি বিচার শোনেন না।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ২-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ৩ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার প্রতিবেদন, আপস চুক্তি, কোর্ট ফি ফেরতের সনদ

    পরামর্শ: টাকার দাবিতে প্রায়ই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত আপস হলো অগ্রিম তারিখের চেক বা জামিনদার দিয়ে সুরক্ষিত কিস্তির পরিকল্পনা।

  11. ধাপ ১১: বিচার্য বিষয়, উদ্ঘাটন ও স্বীকৃতি
    ধাপ ১১ · বিচার ও ডিক্রি

    বিচার্য বিষয়, উদ্ঘাটন ও স্বীকৃতি

    আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করেন, যেমন টাকাটি ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল কি না, কত টাকা বাকি আছে এবং দাবিটি তামাদিতে বারিত কি না। যেকোনো পক্ষ প্রশ্নমালা (ইন্টারোগেটরি), দলিল উদ্ঘাটন ও পরিদর্শন এবং ঘটনা বা দলিল স্বীকারের নোটিশ ব্যবহার করতে পারেন। বিবাদী আরজি-জবাবে বা লিখিতভাবে স্পষ্টভাবে পাওনা স্বীকার করে থাকলে বাদী বিচারের অপেক্ষা না করে সেই অঙ্কের জন্য স্বীকৃতির ভিত্তিতে রায় চাইতে পারেন; তখন শুধু বিরোধপূর্ণ অবশিষ্ট অংশের বিচার বাকি থাকে।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৪ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১১ বিধি ১ ও ১২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১২ বিধি ৬ · কাগজপত্র: গঠিত বিচার্য বিষয়, প্রশ্নমালা ও উদ্ঘাটনের আবেদন, স্বীকৃতির ভিত্তিতে রায়ের আবেদন

    পরামর্শ: বিবাদী পাওনার কোনো অংশ স্বীকার করলেই আদেশ ১২ বিধি ৬ ব্যবহার করুন। এতে সেই অংশ আগেভাগেই জারিযোগ্য ডিক্রিতে পরিণত হয়।

  12. ধাপ ১২: হলফনামায় সাক্ষ্য ও জেরা
    ধাপ ১২ · বিচার ও ডিক্রি

    হলফনামায় সাক্ষ্য ও জেরা

    জবানবন্দি এখন হলফনামায় দেওয়া হয়, যা আগে থেকেই অপর পক্ষকে দেওয়া হয়, এবং সাক্ষীকে আদালতে জেরা করা হয়। বাদী লেনদেন ও হিসাব প্রমাণ করেন, প্রায়ই যিনি লেনদেনটি সামলেছেন তাঁর মাধ্যমে এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট, খতিয়ান বই ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে। চূড়ান্ত শুনানির আগে আদালত প্রত্যেক পক্ষকে সর্বোচ্চ চারবার মুলতবি দিতে পারেন, এরপর খরচ ছাড়া আর নয়, এবং চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে শুনানি শেষ করা উচিত।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ৬-১৮ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক ও ১৯; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) ও (৪); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৪ (হিসাবের বই) · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, খতিয়ান বই, ইনভয়েস, চিঠিপত্র, সাক্ষীর সমন

    পরামর্শ: সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩৪ অনুযায়ী শুধু হিসাবের বই দিয়ে পাওনা প্রমাণ হয় না; সাক্ষী ও দলিল দিয়ে তা সমর্থন করুন।

  13. ধাপ ১৩: রায় এবং সুদসহ টাকার ডিক্রি
    ধাপ ১৩ · বিচার ও ডিক্রি

    রায় এবং সুদসহ টাকার ডিক্রি

    যুক্তিতর্কের পর আদালতকে সাত দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে, প্রতিটি বিচার্য বিষয় কারণসহ নিষ্পত্তি করে। টাকা আদায়ের মামলার ডিক্রিতে উল্লেখ থাকে আসল অঙ্ক, চুক্তি বা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য হলে মামলা-পূর্ব সুদ, মামলা দায়ের থেকে ডিক্রি পর্যন্ত আদালতের বিবেচনায় যুক্তিসংগত হারে সুদ, এবং পরিশোধ পর্যন্ত পরবর্তী সুদ। ডিক্রিতে ডিক্রি-পরবর্তী সুদের উল্লেখ না থাকলে তা নামঞ্জুর বলে গণ্য হয়। আদালত কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি দিতে পারেন, আর মিথ্যা বা হয়রানিমূলক দাবি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ আরোপ হতে পারে।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: শুনানির পর ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৩৪ ও ধারা ৩৫ক; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ বিধি ১, ৫, ৫ক ও ১১ · কাগজপত্র: রায়, সাত দিনের মধ্যে প্রস্তুত ডিক্রি

    পরামর্শ: প্রার্থনায় ও যুক্তিতর্কে স্পষ্টভাবে ডিক্রি-পরবর্তী সুদ চান। এ বিষয়ে নীরব ডিক্রি নতুন মামলা করে সংশোধন করা যায় না।

  14. ধাপ ১৪: জারি মামলা দায়ের করুন
    ধাপ ১৪ · জারি: টাকা আদায়

    জারি মামলা দায়ের করুন

    দায়িক (জাজমেন্ট-ডেটর) টাকা না দিলে ডিক্রিদার ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে জারি মামলা দায়ের করেন, যাতে সুদসহ প্রাপ্য অঙ্ক এবং চাওয়া জারির পদ্ধতি উল্লেখ থাকে: সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম, পাওনা বা বেতন ক্রোক, অথবা আটক। ডিক্রিদার আদালতকে দায়িকের সম্পদ সম্পর্কে শপথের অধীনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলতে পারেন। আবেদন সাধারণত ডিক্রি বা আপিল ডিক্রির তিন বছরের মধ্যে করা হয়, এবং কোনোভাবেই বারো বছরের পরে নয়।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৩৮ ও ধারা ৪৮; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১০, ১১ ও ৪১; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২ · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে জারির আবেদন, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, দায়িকের সম্পদের তফসিল

    পরামর্শ: দায়ের করার আগে সম্পদ খুঁজে বের করুন: জমির রেকর্ড, যানবাহন নিবন্ধন, শেয়ার ও ব্যাংক হিসাব জানা থাকলে জারি অনেক দ্রুত হয়।

  15. ধাপ ১৫: সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম
    ধাপ ১৫ · জারি: টাকা আদায়

    সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম

    আদালত ব্যাংক বা দেনাদারের প্রতি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ দিয়ে দায়িকের ব্যাংক স্থিতি ও অন্যান্য পাওনা ক্রোক করতে, নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বেতনের অংশ ক্রোক করতে এবং ঘোষণার পর প্রকাশ্য নিলামে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করতে পারেন। নিলাম ক্রেতা সঙ্গে সঙ্গে মূল্যের এক-চতুর্থাংশ এবং অবশিষ্ট অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেন। আদালত পুলিশ ও অন্যান্য নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে প্রতিপালন প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দিতে পারেন। কিছু সম্পত্তি, যেমন প্রয়োজনীয় পোশাক ও পেশার যন্ত্রপাতি, ক্রোক করা যায় না।

    কোথায়: দেনাদারের ব্যাংক বা নিয়োগকর্তা (গার্নিশি) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৬০ ও ধারা ৬৪; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ৪৬, ৪৮, ৫৪, ৬৪, ৬৬, ৮৪ ও ৮৫; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৪ক · কাগজপত্র: ক্রোকের আদেশ, ব্যাংক বা নিয়োগকর্তার প্রতি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ, বিক্রয় ঘোষণা, বিক্রয় সনদ

    পরামর্শ: নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশে স্বাক্ষর হওয়া মাত্রই নিজে ব্যাংকে তা পৌঁছে দিন। দেনাদার মামলার কথা জানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাকা সরে যেতে পারে।

  16. ধাপ ১৬: ইচ্ছাকৃত খেলাপির দেওয়ানি কারাবাস
    ধাপ ১৬ · জারি: টাকা আদায়

    ইচ্ছাকৃত খেলাপির দেওয়ানি কারাবাস

    টাকার ডিক্রি দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটকের মাধ্যমেও জারি করা যায়। ২০২৬ সালে যুক্ত বিধি অনুযায়ী আটক সর্বোচ্চ ছয় মাস অথবা পরিশোধ পর্যন্ত, যেটি আগে হয়, চলতে পারে, এবং ভরণপোষণের খরচ সরকার বহন করে। ডিক্রির অঙ্কের অন্তত ২৫ শতাংশ জমা দিয়ে বাকিটা ষাট দিনের মধ্যে পরিশোধের মুচলেকা দিলে দায়িককে মুক্তি দিতে হবে, তবে খেলাপ করলে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা যায়। নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি, দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তি এবং মূল দেনাদারের স্থলাভিষিক্ত ওয়ারিশদের আটক করা যায় না; বয়স্ক, অসুস্থ, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদেরও নয়।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ৩০ ও ৩০ক (বিধি ৩০ক ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৫, ধারা ৫৬ ও ধারা ৫৮ · কাগজপত্র: গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন, কারণ দর্শানোর জবাব, অবশিষ্ট পরিশোধের মুচলেকা

    পরামর্শ: আটক করলে দেনা মওকুফ হয় না। এটি ব্যবহার করুন দায়িককে জামানতসমর্থিত কিস্তির ব্যবস্থায় আনতে।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? টাকা আদায়ের মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · সিভিল জজ → জেলা জজ

হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল করলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    জেলা জজের কাছে মানি আপিল

    সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, আর যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে মামলার মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে জেলা জজের কাছে, নকল তোলার সময় বাদ দিয়ে ত্রিশ দিনের মধ্যে। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন, এবং আপিল আদালতকে আপিলটি নিজে মধ্যস্থতা করতে বা মধ্যস্থতায় পাঠাতে হবে। আপিলে ঘটনা ও আইন দুটিই পুনরায় শোনা হয়। আদালত আদেশ না দিলে আপিল জারি স্থগিত করে না, আর স্থগিতাদেশ সাধারণত ডিক্রির অঙ্ক বা জামানত জমা দেওয়ার শর্তে দেওয়া হয়।

    ১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯গদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালত টাকার ডিক্রি বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, এবং ঘটনা সম্পর্কে তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

রিভিশন · সিভিল জজ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিল ডিক্রি আইনগতভাবে ভুল হলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন

    দ্বিতীয় আপিল নেই। জেলা জজের আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (civil revision) করেন, এই ভিত্তিতে যে আইনের ভুলের ফলে ভুল ডিক্রি হয়েছে এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। বিচারিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন প্রথমে ধারা ১১৫(২)-এর অধীনে জেলা জজের কাছে যায়, তারপর কেবল গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে।

    ১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১), (২) ও (৪)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০০-১০৩ (১৯৭৮ সালে বিলুপ্ত)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ রুলটি খারিজ করেন অথবা চূড়ান্ত করে ডিক্রি সংশোধন করেন।

রিভিউ · সিভিল জজ → সিভিল জজ

একই আদালত কি তার ডিক্রি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?

  1. 1
    সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

    আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ

    যে পক্ষ আপিল করেননি তিনি নব্বই দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতকে ডিক্রি রিভিউ (review) করতে বলতে পারেন, এই ভিত্তিতে যে যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য পাওয়া গেছে, নথিতে দৃশ্যমান ভুল বা ত্রুটি রয়েছে, অথবা অন্য পর্যাপ্ত কারণ আছে। সাধারণ উদাহরণ হলো সুদের হিসাবে গাণিতিক ভুল অথবা রায়ের পরে পাওয়া কোনো পরিশোধের রসিদ। করণিক ভুল ধারা ১৫২-এর অধীনে আরও সহজে সংশোধন করা যায়।

    ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫২তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ নামঞ্জুর হয়, অথবা নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিক্রি সংশোধন করা হয়।

রেফারেন্স · সিভিল জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → সিভিল জজ

কোনো আইনগত প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের মতামত প্রয়োজন হলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ধারা ১১৩-এর অধীনে রেফারেন্স

    চলমান মামলায় এমন আইনগত প্রশ্ন উঠলে, যাতে আদালতের যুক্তিসংগত সন্দেহ রয়েছে, অথবা কোনো আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে, বিচারিক আদালত বিষয়টি বিবৃত করে মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন। টাকার দাবিতে এটি উঠতে পারে, যেমন সুদের ওপর নতুন কোনো আইনের প্রভাব বা কোন আদালতের এখতিয়ার রয়েছে সে প্রশ্নে। বিচারিক আদালত মামলা চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু উত্তরের ওপর নির্ভরশীল কোনো ডিক্রি দিতে পারেন না।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ১ থেকে ৩
  2. 2
    সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

    মতামত অনুযায়ী ডিক্রি

    মতামত ফেরত এলে বিচারিক আদালত সে অনুযায়ী এবং বাকি ঘটনাগত বিচার্য বিষয়, যেমন প্রাপ্য অঙ্ক ও সুদের হার, বিবেচনা করে মামলা নিষ্পত্তি করেন। এরপর ডিক্রির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক নিয়মে আপিল চলে, ফলে রেফারেন্সে নিষ্পত্তি হয়নি এমন কারণে মামলা আবার উচ্চ আদালতে উঠতে পারে।

    ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের মতামত অনুযায়ী প্রথম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়।

রিমান্ড (ফেরত) · জেলা জজ → সিভিল জজ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিল আদালত মামলা ফেরত পাঠালে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    নির্দিষ্ট বিচার্য বিষয়ে পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত

    বিচারিক আদালত যদি তামাদি বা এখতিয়ারের মতো প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে মামলা খারিজ করে থাকেন এবং জেলা জজ সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেন, তাহলে বাকি বিচার্য বিষয়ের বিচারের জন্য মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত (রিমান্ড) পাঠানো হতে পারে। ২০২৬ সাল থেকে নথিতে থাকা সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রেই, যেমন কখনো পরীক্ষা করা হয়নি এমন হিসাব, ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানোর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, কারণ জেলা জজের আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল নেই; একে ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে সিভিল রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

    আপিল রায়ের সঙ্গে আদেশদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৪ ও ২৫ (বিধি ২৪ ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৩ বিধি ১(u) ও ধারা ১১৫(১)
  2. 2
    সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

    পুনর্বিচার ও নতুন ডিক্রি

    বিচারিক আদালত মূল নম্বরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন, ফেরত পাঠানো বিচার্য বিষয়ে সাক্ষ্য নেন এবং নতুন ডিক্রি দেন। আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য বহাল থাকে। নতুন ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল চলে, এবং সেখান থেকে মামলা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে ফিরতে পারে, তাই ফেরত পাঠানোয় এক থেকে দুই বছর বাড়তে পারে।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা পুনর্বিচারের জন্য নিচে যায় এবং আবার জেলা জজ ও প্রয়োজনে হাইকোর্ট বিভাগ পর্যন্ত ওঠে।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    লিভ টু আপিলের সিভিল পিটিশন

    প্রথম আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে লিভ টু আপিলের সিভিল পিটিশন দাখিল করেন। গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন বা সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি মিললে নথির ভিত্তিতে সিভিল আপিল হিসেবে মামলার শুনানি হয়। চেম্বার জজের কাছে জারি স্থগিতের আবেদন করা যায়, সাধারণত টাকা জমার শর্তে। আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে ত্রিশ দিনের মধ্যে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।

    ১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত; এরপর প্রথম আদালতে ডিক্রি জারি করা হয়।

আপিল · যুগ্ম জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

দাবি ৫ কোটি টাকার বেশি হলে, বা বাণিজ্যিক আদালত সিদ্ধান্ত দিলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম আপিল বা বাণিজ্যিক আপিল

    যুগ্ম জেলা জজ ৫ কোটি টাকার বেশি দাবিতে সিদ্ধান্ত দিলে প্রথম আপিল নব্বই দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায় এবং দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হয়। বাণিজ্যিক আদালতের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির নির্ধারিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চে ষাট দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়; এর অন্যান্য আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না, সেগুলো কেবল রিভিশন বা রিভিউয়ের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

    ২-৬ বছরদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১(১)(খ)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৬বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩(৪) ও ধারা ৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ ঘটনা ও আইন দুটির ভিত্তিতে মামলা পুনরায় শোনেন, এরপর হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারেন।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

টাকা আদায়ের মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

টাকা আদায়ের মামলা শুরু হয় সর্বনিম্ন সেই দেওয়ানি আদালতে, যার আর্থিক এখতিয়ার দাবিকৃত অঙ্ককে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২১ সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি শোনেন; এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজের সীমাহীন এখতিয়ার রয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধনী সিভিল জজদের নাম পরিবর্তন করেছে, কিন্তু সীমা অপরিবর্তিত রেখেছে। হস্তান্তরযোগ্য দলিলের সংক্ষিপ্ত মামলা কেবল জেলা আদালতে চলে। বাণিজ্যিক বিরোধ মূল্য যা-ই হোক বাণিজ্যিক আদালতে যায়, আর ব্যাংক ঋণ অর্থঋণ আদালতে।

আপিল মূল্য অনুসরণ করে: সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজের কাছে, যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জেলা জজের কাছে এবং এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। প্রথম আপিলে ঘটনা ও আইন দুটিই পুনরায় শোনা হয়। দ্বিতীয় আপিল নেই; হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনে আইনের ভুল সংশোধন করেন, আর সবশেষে অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগ মামলা শোনেন।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
  4. প্রথম দফার আদালতসিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · যুগ্ম জেলা জজ আদালত
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · দেনাদারের ব্যাংক বা নিয়োগকর্তা (গার্নিশি)
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

দেনাদারের ব্যাংক বা নিয়োগকর্তা (গার্নিশি)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

মামলা দায়েরের আগে
০.৫–২ মাস
মামলা দায়ের ও দাবি সুরক্ষা
০.৫–২ মাস
আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা
৩–৮ মাস
বিচার ও ডিক্রি
১০–৩৬ মাস
জারি: টাকা আদায়
৩–১৮ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১৭–৬৬ মাস · সামগ্রিক: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মামলা: প্রথম আদালতে প্রায় ২-৫ বছর। আত্মপক্ষ সমর্থনের অনুমতি নামঞ্জুর হলে আদেশ ৩৭-এর সংক্ষিপ্ত মামলা: কয়েক মাস। আপিল ও রিভিশন: আরও ২-৬ বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

টাকা আদায়ের মামলা (Money suit)
পাওনা, মূল্য বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পরিশোধ চেয়ে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা।
মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি (Ad valorem court fee)
কোর্ট-ফি আইনের তফসিল ১-এর ক্রমহ্রাসমান হার অনুযায়ী দাবিকৃত অঙ্কের অনুপাতে হিসাব করা কোর্ট ফি।
আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary jurisdiction)
কোনো আদালত সর্বোচ্চ যে মূল্যের মামলা বিচার করতে পারেন; সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজের জন্য তা দেওয়ানি আদালত আইনের ধারা ১৯ দ্বারা নির্ধারিত।
সংক্ষিপ্ত মামলা (Summary suit)
আদেশ ৩৭-এর অধীনে বিল অব এক্সচেঞ্জ, হুন্ডি বা প্রমিসরি নোটের ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির মামলা, যেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনে বিবাদীর অনুমতি লাগে।
রায়ের আগে ক্রোক (Attachment before judgment)
মামলা চলাকালে বিবাদীর সম্পত্তি আটকে রাখার আদালতের আদেশ, যাতে তা ডিক্রি পূরণের জন্য পাওয়া যায়।
ডিক্রিদার (Decree-holder)
যাঁর পক্ষে ডিক্রি দেওয়া হয়েছে এবং যিনি তা জারি করাতে পারেন।
দায়িক (Judgment-debtor)
যাঁর বিরুদ্ধে টাকার ডিক্রি দেওয়া হয়েছে।
সেট-অফ (Set-off)
বিবাদীর কাছে বাদীর দেনা, যা বিবাদী দাবি থেকে বাদ দিতে বলেন।
প্রশ্নোত্তর

টাকা আদায়ের মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে টাকা আদায়ের মামলা কোন আদালতে হয়?
বিবাদী যেখানে বসবাস বা কাজ করেন, অথবা যেখানে নালিশের কারণ উদ্ভূত হয়েছে, সেখানকার দেওয়ানি আদালতে টাকা আদায়ের মামলা হয়; আদালত বাছাই হয় দাবিকৃত অঙ্ক অনুযায়ী: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ। তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক বিরোধ যায় বাণিজ্যিক আদালতে, আর ব্যাংক ঋণ অর্থঋণ আদালতে।
কোর্ট ফি কত লাগে?
এটি মূল্যানুপাতিক: কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর তফসিল ১-এর ক্রমহ্রাসমান হার অনুযায়ী দাবিকৃত অঙ্কের একটি শতাংশ, আরজির জন্য তফসিলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা সাপেক্ষে। ধারা ৮৯ক-এর অধীনে আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতায় মামলা নিষ্পত্তি হলে আদালত কোর্ট ফি ফেরতের সনদ দেন। দায়েরের আগে সর্বশেষ তফসিল যাচাই করুন।
টাকা আদায়ের মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
ঢাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টাকা আদায়ের মামলা প্রথম আদালতে সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছর লাগে, আর আপিল ও রিভিশনে আরও কয়েক বছর যোগ হতে পারে। আত্মপক্ষ সমর্থনের অনুমতি নামঞ্জুর হলে সংক্ষিপ্ত মামলা কয়েক মাসেই শেষ হতে পারে, এবং অনেক দাবি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি হয়। এগুলো নির্দেশক সময়সীমা।
মামলার আগে কি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক?
বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ টাকা আদায়ের মামলায় বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি প্রচলিত চর্চা এবং দাবির কার্যকর সাক্ষ্য। সরকার বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলায় কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুযায়ী দুই মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হয়, এবং নোটিশ ছাড়া মামলা করলে বাদী মামলার খরচ হারাতে পারেন।
রায়ের আগে কি দেনাদারের সম্পদ আটকানো যায়?
হ্যাঁ, যদি হলফনামা দিয়ে দেখাতে পারেন যে ভবিষ্যৎ ডিক্রি ব্যর্থ করতে বিবাদী সম্পত্তি হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলছেন, অথবা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে উদ্যত। আদালত আদেশ ৩৮-এর অধীনে রায়ের আগে জামানত চাইতে বা নির্দিষ্ট সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন। ভিত্তিহীন আবেদনে ক্ষতিপূরণের ঝুঁকি রয়েছে।
টাকার ওপর কি সুদ পাওয়া যাবে?
কার্যবিধির ধারা ৩৪ অনুযায়ী আদালত সুদ দিতে পারেন: মামলা-পূর্ব চুক্তিভিত্তিক বা আইনসংগত সুদ, দায়ের থেকে ডিক্রি পর্যন্ত যুক্তিসংগত সুদ, এবং পরিশোধ পর্যন্ত পরবর্তী সুদ। প্রতিটি সময়ের সুদ স্পষ্টভাবে দাবি করুন। ডিক্রিতে ডিক্রি-পরবর্তী সুদের উল্লেখ না থাকলে তা নামঞ্জুর বলে গণ্য হয় এবং পরে দাবি করা যায় না।
ডিক্রির পরও দেনাদার টাকা না দিলে কী করবেন?
জারি মামলা দায়ের করুন। আদালত ব্যাংক হিসাব ও বেতন ক্রোক করতে, সম্পত্তি নিলামে তুলতে এবং ২০২৬ সালে যুক্ত বিধি অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারেন। তিনি অন্তত ২৫ শতাংশ জমা দিয়ে বাকি অংশের মুচলেকা দিলে মুক্তি পান।
কখন এর বদলে বাণিজ্যিক আদালতে যাওয়া উচিত?
যখন বিরোধটি বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২-এর চব্বিশটি শ্রেণির কোনো একটিতে পড়ে, যেমন পণ্য বা সেবা বিক্রয়, নির্মাণ বা বণিকদের লেনদেন, এবং ওই এলাকায় বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনে কোনো ন্যূনতম মূল্য নির্ধারিত নেই। ওই শ্রেণির বাইরের টাকা আদায়ের মামলা, যেমন ব্যক্তিগত ঋণ, সাধারণ দেওয়ানি আদালতেই থাকে।

আইন ও উৎস

  1. Code of Civil Procedure 1908 (as amended by Act No. XXXVI of 2026) — Laws of Bangladesh
  2. Code of Civil Procedure 1908, First Schedule, updated April 2026 — Laws of Bangladesh
  3. Civil Courts Act 1887 (ss.19 and 21, as amended 2021 and 2026) — Laws of Bangladesh
  4. Court-fees Act 1870, Schedule I as substituted in 2010 — Laws of Bangladesh
  5. Limitation Act 1908 — Laws of Bangladesh
  6. Commercial Courts Act 2026 (Act No. 23 of 2026) — Laws of Bangladesh (Bangla text)
  7. The Daily Star, 1 April 2026 — A review of the Commercial Court Ordinance 2026
  8. The Daily Star, 7 July 2026 — Over 46 lakh cases pending across courts in Bangladesh: Law Minister

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp