রাজউক ভবন ভাঙার রিট: নোটিশ থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
রাজউক ভবন ভাঙার রিট হলো হাইকোর্ট বিভাগে করা সেই চ্যালেঞ্জ, যা কোনো মালিক বা দখলদার আনেন যখন রাজউক বা অন্য কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই কোনো ভবন বা তার অংশ ভেঙে ফেলা, সিলগালা করা বা কাজ বন্ধের আদেশ দেয়।
প্রক্রিয়া শুরু হয় রাজউকের নিজস্ব কারণ দর্শানোর কার্যধারা এবং ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ (Building Construction Act 1952)-এর অধীন ৩০ দিনের সংবিধিবদ্ধ আপিল দিয়ে, কারণ দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার বারিত; এরপর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ। হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল বিভাগে লিভ চাইতে পারেন, এবং আপিল বিভাগ নিজের রায় রিভিউও করতে পারেন।
- কোথা থেকে শুরু
- কারণ দর্শানোর পর্যায়ে রাজউক (অথরাইজড অফিসার বা ইমারত নির্মাণ কমিটি); এরপর সংবিধিবদ্ধ আপিল কর্তৃপক্ষ; তারপর অনুচ্ছেদ…
- মূল আইন
- ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩, ৩খ, ৬, ৭, ৯, ১২-১৫; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৬৭ নং আইন)-এর ধারা ৩৪, ৫৪…
- সাধারণ সময়কাল
- কারণ দর্শানো ও রাজউকের আদেশ: ২-৬ সপ্তাহ। সংবিধিবদ্ধ আপিল: ১-৬ মাস। রিট মোশন ও স্থগিতাদেশ: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ…
- কে মামলা করতে পারেন
- নোটিশে নাম থাকা ভবনের মালিক, দখলদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাঁর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত এমন ফ্ল্যাট ক্রেতা বা…
রাজউক ভবন ভাঙার রিট: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · নোটিশ ও কারণ দর্শানোরাজউকের কারণ দর্শানোর নোটিশ
প্রক্রিয়া সাধারণত শুরু হয় যখন রাজউকের অথরাইজড অফিসার বা ইমারত নির্মাণ কমিটি মালিক, দখলদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর নোটিশ জারি করে। এতে অভিযোগ করা হয় যে ভবনটি, বা কোনো অতিরিক্ত তলা বা সম্প্রসারণ, অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত হয়েছে, এবং জানতে চাওয়া হয় কেন তা অপসারণ করা হবে না বা কাজ বন্ধ করা হবে না। নোটিশে জবাব দেওয়ার জন্য অন্তত সাত দিন সময় দিতে হয়। কাজ কেন বন্ধ করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বলা হলে, নোটিশ জারির তারিখ থেকে চূড়ান্ত আদেশ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়।
কোথায়: রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সময়: জবাবের জন্য অন্তত ৭ দিন · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩খ(১), (২) ও (৭) · কাগজপত্র: কারণ দর্শানোর নোটিশ, খাম বা নোটিশ জারির তারিখের প্রমাণ
পরামর্শ: নির্দিষ্ট কাজটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন। কাজ বন্ধের নোটিশের পরও কাজ চালালে পরবর্তী যেকোনো পিটিশন দুর্বল হয় এবং তা নিজেই অপরাধ হতে পারে।
ধাপ ২ · নোটিশ ও কারণ দর্শানোঅনুমোদন আর নির্মিত ভবন মিলিয়ে দেখুন
আইনজীবী অনুমোদিত নকশা, অনুমোদনপত্র এবং কোনো অকুপেন্সি সার্টিফিকেট থাকলে তা সাইটের ভবনের সঙ্গে তলা ধরে ধরে মিলিয়ে দেখেন। মূল প্রশ্ন হলো বৈধ অনুমোদন ছিল কি না, কোন কোন বিচ্যুতির অভিযোগ আছে, এবং সেগুলো আইনসম্মতভাবে নিয়মিত করা যায় কি না। ভবন ভাঙার আদেশ দেওয়া যায় কেবল চারটি কারণে: কাজটি মহাপরিকল্পনা বা উন্নয়ন পরিকল্পনা লঙ্ঘন করে, তা অনুমোদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় না, তা সংলগ্ন জমি, ভবন বা রাস্তার জন্য অযৌক্তিক অসুবিধা সৃষ্টি করে, অথবা তা কখনোই অনুমোদনযোগ্য ছিল না। এই পর্যায়ে প্রায়ই প্রকৌশলী বা স্থপতির প্রতিবেদন করানো হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩(১) (পূর্বানুমোদন); রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৪ (অথরাইজড অফিসার বা কমিটির অনুমোদন ছাড়া রাজউকের এলাকায় নির্মাণ নিষিদ্ধ); ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩খ(৫) (ভবন ভাঙার কারণ) · কাগজপত্র: অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্র, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (যদি থাকে), মালিকানা দলিল ও নামজারির রেকর্ড, ভবনের ছবি
পরামর্শ: জবাব দেওয়ার আগে সাইটে তলার সংখ্যা অনুমোদিত নকশার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। অতিরিক্ত তলাই নোটিশের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
ধাপ ৩ · নোটিশ ও কারণ দর্শানোজবাব ও ব্যক্তিগত শুনানি
জবাবে প্রতিটি অভিযোগের উত্তর কাগজপত্রসহ দেওয়া হয়: অনুমোদন ও তার তারিখ, কোনো সংশোধিত অনুমোদন, অভিযুক্ত বিচ্যুতি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকার প্রমাণ, এবং প্রয়োজনে নিয়মিতকরণের প্রস্তাব। আদেশ দেওয়ার আগে অথরাইজড অফিসার বা কমিটিকে দর্শানো কারণ বিবেচনা করতে হয় এবং শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে হয়। কাজ বন্ধ করা হলে এবং তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো হলে, কারণ দর্শানোর পনেরো দিনের মধ্যে আদেশ দিতে হয়। প্রকৃত শুনানি না দেওয়া পরবর্তী রাজউক ভবন ভাঙার রিটে একটি প্রায়ই উত্থাপিত যুক্তি।
কোথায়: রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩খ(৩) ও (৪) · কাগজপত্র: সংযুক্তিসহ লিখিত জবাব, প্রকৌশলী বা স্থপতির প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন, দাখিলের প্রাপ্তিস্বীকার
পরামর্শ: রাজউকের গ্রহণ ডেস্কে জবাব জমা দিয়ে সিলযুক্ত কপি রাখুন। সময়মতো কারণ দর্শানোর এটিই প্রমাণ।
ধাপ ৪ · নোটিশ ও কারণ দর্শানোকারণসংবলিত ভবন ভাঙা বা কাজ বন্ধের আদেশ
প্রয়োজনীয় তদন্তের পর রাজউক হয় নোটিশ প্রত্যাহার করে, নয়তো কারণ উল্লেখ করে লিখিত আদেশ দেয়, যাতে মালিক, দখলদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন বা তার নির্দিষ্ট অংশ অপসারণ বা ভেঙে ফেলতে, অথবা আর কোনো কাজ না করতে বলা হয়। অপসারণের আদেশের সঙ্গে রাজউক ভবন খালি করার নোটিশও দেয়। সময়মতো খালি না করলে যে কাউকে সংক্ষিপ্তভাবে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ করা যায়। ভুল বিবরণ দিয়ে নেওয়া বা শর্ত ভঙ্গ করা অনুমোদন রাজউক বাতিলও করতে পারে। এসব আদেশ কেবল সংবিধিবদ্ধ আপিল সাপেক্ষে চূড়ান্ত এবং দেওয়ানি আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না।
কোথায়: রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সময়: কাজ বন্ধ করা হলে, কারণ দর্শানোর ১৫ দিনের মধ্যে · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩খ(৩); ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৬ (উচ্ছেদ); ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৯ (বাতিল); ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১৪ (দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার বারিত) · কাগজপত্র: কারণসংবলিত ভবন ভাঙা বা কাজ বন্ধের আদেশ, ভবন খালি করার নোটিশ, অনুমোদন বাতিলের আদেশ (যদি থাকে)
পরামর্শ: আদেশটি হাতে পাওয়ার তারিখ নয়, আদেশের তারিখটি লিখে রাখুন। ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ আদেশের তারিখ থেকে গণনা হয়।
ধাপ ৫ · কর্তৃপক্ষের ভেতরের প্রতিকার৩০ দিনের মধ্যে সংবিধিবদ্ধ আপিল
১৯৫২ সালের আইনের ধারা ৩, ৩ক, ৩খ, ৩গ, ৩ঘ, ৪, ৫, ৬ বা ৯-এর অধীন প্রতিটি আদেশের বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় নির্ধারিত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের কাছে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়। রাজউকের এলাকায় এটি একটি আপিল কমিটি; সঠিক ফোরামের জন্য সর্বশেষ বিধিমালা যাচাই করুন। আপিলে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়, আদেশ ও জবাব সংযুক্ত করা হয়, এবং নিষ্পত্তি পর্যন্ত আদেশ স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়। দেওয়ানি আদালতের দিক থেকে আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আগে এই আপিল ব্যবহার করা জরুরি, কারণ হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত প্রত্যাশা করেন যে বিদ্যমান সংবিধিবদ্ধ প্রতিকার আগে কাজে লাগানো হয়েছে।
কোথায়: সংবিধিবদ্ধ আপিল কর্তৃপক্ষ (রাজউক আপিল কমিটি) · সময়: ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; নিষ্পত্তি ১-৬ মাসে · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১৫; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২) (বিকল্প প্রতিকার) · কাগজপত্র: আপিলের স্মারকলিপি, আদেশের সার্টিফায়েড বা সত্যায়িত কপি, জবাব ও সংযুক্তি, আদেশ স্থগিতের আবেদন
পরামর্শ: রিট করার পরিকল্পনা থাকলেও ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করুন। আপিল না করাই সবচেয়ে সাধারণ কারণ, যার জন্য রিট বেঞ্চ মালিককে ফিরিয়ে দেন।
ধাপ ৬ · কর্তৃপক্ষের ভেতরের প্রতিকারনিয়মিতকরণের কথা বিবেচনা করুন
ভবন ভাঙার চারটি কারণের কোনোটিই প্রযোজ্য না হলে আইন মালিককে নিয়মিতকরণের মাধ্যমে ভবনটি রাখার সুযোগ দেয়। মালিককে রাজউক নির্ধারিত ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়, রাজউকের নির্দেশিত সংযোজন বা পরিবর্তন নির্ধারিত সময়ে করতে হয়, এবং নির্ধারিত ফির দশ গুণ দিয়ে অনুমোদন নিতে হয়। মালিক সময়মতো এসব ধাপ সম্পন্ন না করলে রাজউক অপসারণের আদেশ দিতে পারে। বিচ্যুতি সীমিত হলে, যেমন সেটব্যাক বা ছোট সম্প্রসারণ, নিয়মিতকরণ প্রায়ই সবচেয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী সমাধান।
কোথায়: রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩খ(৫)-এর শর্তাংশ ও ধারা ৩খ(৬) · কাগজপত্র: নিয়মিতকরণের আবেদন, সংশোধিত নকশা, জরিমানা ও ফি পরিশোধের রসিদ
পরামর্শ: জবাবেই বিকল্প হিসেবে নিয়মিতকরণের প্রস্তাব দিন। এতে সদিচ্ছা প্রকাশ পায় এবং বিষয়টি আদালতে গেলে বিরোধের পরিধি কমে।
ধাপ ৭ · কর্তৃপক্ষের ভেতরের প্রতিকাররাজউকের বিরুদ্ধে মামলার আগে পূর্ব নোটিশ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬৩ অনুযায়ী ওই আইন বা তার বিধিমালার অধীন রাজউক, এর চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত কার্যধারা দায়েরের আগে, প্রস্তাবিত অভিযোগ, মামলা বা রিট পিটিশনের কপিসহ এক মাসের লিখিত পূর্ব নোটিশ দিতে হয়। নোটিশে মামলার কারণ, অভিযোগকারীর নাম-ঠিকানা এবং প্রার্থিত প্রতিকার উল্লেখ থাকতে হয়। ১৯৫২ সালের আইনের অধীন আদেশের বিরুদ্ধে রিটের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য কি না তা নিষ্পন্ন হয়নি, তাই নিরাপদ পথ হলো নোটিশ দিয়ে প্রাপ্তির প্রমাণ রাখা।
ভবন ভাঙা আসন্ন হলে এবং এক মাস অপেক্ষা করা সম্ভব না হলে পিটিশনে জরুরি অবস্থা ও কী নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা ব্যাখ্যা করা উচিত, কারণ বেঞ্চ বিষয়টির জবাব প্রত্যাশা করবেন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ মাস (জরুরি অবস্থা দেখানো না গেলে) · আইন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬৩ · কাগজপত্র: খসড়া পিটিশনসহ ধারা ৬৩-এর নোটিশ, প্রাপ্তির প্রমাণ
পরামর্শ: আদেশ হওয়ামাত্র সংবিধিবদ্ধ আপিলের পাশাপাশি নোটিশটি দিন, যাতে আপিল চলার সময়েই এক মাস পূর্ণ হয়।
ধাপ ৮ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশরিট পিটিশনের খসড়া, হলফ ও দাখিল
পিটিশনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার, রাজউক, এর চেয়ারম্যান এবং অথরাইজড অফিসার বা কমিটিকে প্রতিপক্ষ করা হয়। এতে অনুমোদন, নোটিশ, জবাব, আদেশ ও কোনো আপিলের বিবরণ থাকে, প্রতিটি কাগজ সংযুক্ত করে। সাধারণ যুক্তিগুলো হলো: বৈধ নোটিশ না দেওয়া, প্রকৃত শুনানি না দেওয়া, কারণ ছাড়া আদেশ, ধারা ৩খ(৫)-এর অধীন ভবন ভাঙার কারণ প্রমাণিত না হওয়া, বা নিয়মিতকরণের আবেদন উপেক্ষা করা। পিটিশনটি হলফনামা কমিশনারের সামনে হলফনামার মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয় এবং কোর্ট ফি, ওকালতনামা ও স্থগিতাদেশের আবেদনসহ দাখিল করা হয়।
কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের হলফনামা ও ফাইলিং শাখা · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও (২)(ক)(অ); সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: সংযুক্তিসহ রিট পিটিশন, হলফকৃত হলফনামা, স্থগিতাদেশের আবেদন, ওকালতনামা, কোর্ট ফি
পরামর্শ: আলাদা স্বার্থসম্পন্ন ফ্ল্যাট ক্রেতা বা ডেভেলপারের পিটিশনার হিসেবে যুক্ত হওয়া বা নাম থাকা উচিত, যাতে স্থগিতাদেশ তাঁদেরও সুরক্ষা দেয়।
ধাপ ৯ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশমোশন শুনানি, রুল নিশি ও স্থগিতাদেশ
এই শ্রেণির রিট শোনেন এমন দ্বৈত বেঞ্চে পিটিশনটি মোশন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বেঞ্চ যুক্তিগ্রাহ্য মামলা দেখলে রুল নিশি জারি করে রাজউককে কারণ দর্শাতে বলেন কেন আদেশটিকে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া দেওয়া বলে ঘোষণা করা হবে না। প্রায়ই ভবন ভাঙার আদেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করা হয় বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, কখনো এই শর্তে যে আর কোনো নির্মাণকাজ হবে না। আদেশটি পরিকল্পনা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বলে সাধারণত আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বক্তব্য শোনা হয়। রাজউক ভবন ভাঙার রিটে এটিই নির্ণায়ক মুহূর্ত।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: কার্যতালিকায় ১-২১ দিন থাকার পর ১ দিনের শুনানি · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ); গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(৪) (অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ) · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, স্থগিতাদেশের আবেদন, ছবি ও প্রকৌশলীর প্রতিবেদন
পরামর্শ: এমন সুস্পষ্ট শর্তে স্থগিতাদেশ চান, যার ভিত্তিতে রাজউক ও ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নিতে পারেন, যেমন ‘ভবন ভাঙা ছয় মাসের জন্য স্থগিত; নির্মাণের বিষয়ে স্থিতাবস্থা’।
ধাপ ১০ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশরাজউকের ওপর রুল ও স্থগিতাদেশ জারি
আদালতের দপ্তর প্রত্যেক প্রতিপক্ষকে রুলের নোটিশ দেয়, এবং পিটিশনার দ্রুত তলবানা (requisites) দাখিল করেন। বাস্তবে পিটিশনারের আইনজীবী স্থগিতাদেশের সার্টিফায়েড কপি রাজউকের চেয়ারম্যান, অথরাইজড অফিসার, জোনাল অফিস এবং উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনা থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাতে হাতে পৌঁছে দিয়ে প্রাপ্তির সিল নেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য। স্থগিতাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হয়, তাই মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রেখে তার আগেই মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হয়।
কোথায়: রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সময়: ১-৪ সপ্তাহ; প্রতি ৩-৬ মাসে মেয়াদ বৃদ্ধি · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: স্থগিতাদেশের সার্টিফায়েড কপি, প্রতিটি দপ্তরের প্রাপ্তির সিল, তলবানা ও ডাক খরচ
পরামর্শ: স্থগিতাদেশের একটি কপি ভবনে রাখুন। উচ্ছেদকারী দল প্রায়ই আগাম সতর্কতা ছাড়াই আসে।
ধাপ ১১ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশরাজউকের বিরোধিতামূলক হলফনামা ও পরিদর্শন
রাজউক বিরোধিতামূলক হলফনামার (affidavit-in-opposition) মাধ্যমে জবাব দেয়, সাধারণত পরিদর্শন প্রতিবেদন, অনুমোদিত নকশা, ছবি ও শুনানির রেকর্ড সংযুক্ত করে। পিটিশনার হলফনামায় পাল্টা জবাব দেন। রিট বেঞ্চ হলফনামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন এবং বিতর্কিত তথ্য এড়িয়ে চলেন, তাই আদালত বিচ্যুতি পরিমাপের জন্য যৌথ পরিদর্শন বা রাজউক, কোনো প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান বা কমিটির বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনের নির্দেশ দিতে পারেন। রাজউক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদনও করতে পারে, যেমন ভবনটি কাঠামোগতভাবে অনিরাপদ, বা বন্যাপ্রবাহ এলাকায় বা সরকারি জমিতে নির্মিত বলে দাবি করা হলে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-৮ মাস · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: বিরোধিতামূলক হলফনামা, জবাবি হলফনামা, পরিদর্শন বা বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন (যদি থাকে)
পরামর্শ: রাজউকের প্রতিবেদনের প্রতিটি পরিমাপের জবাব নিজের প্রকৌশলীর হিসাব দিয়ে হলফনামায় দিন। জবাব না দেওয়া বক্তব্য সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়।
ধাপ ১২ · চূড়ান্ত শুনানি ও রায়চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষা
হলফনামা সম্পূর্ণ হলে রুলটি বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় ওঠার অপেক্ষায় থাকে। রিট বেঞ্চ সময়ে সময়ে পুনর্গঠিত হয়, তাই বিষয়টি আবার তালিকাভুক্ত করতে হতে পারে। যেকোনো পক্ষ দ্রুত শুনানির আবেদন করতে পারেন: ভবনটি বিপজ্জনক দাবি করে রাজউক, অথবা স্থগিতাদেশের কারণে বিক্রি, ব্যাংক ঋণ বা বসবাস আটকে থাকলে মালিক। পুরো সময় স্থগিতাদেশ বহাল রাখতে হয়, এবং মালিকের উচিত নয় নতুন তলা যোগ করা বা আদেশে নিষিদ্ধ কোনো কাজ চালানো, কারণ তাতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬ মাস-৪ বছর · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: দ্রুত শুনানির আবেদন (প্রয়োজনে), স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন, সংকলিত পেপার বুক
পরামর্শ: প্রতিটি স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষের তারিখ লিখে রাখুন। স্থগিতাদেশের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে রাজউক ধারা ৭-এর অধীন তার আদেশ কার্যকর করতে পারে।
ধাপ ১৩ · চূড়ান্ত শুনানি ও রায়চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (অ্যাবসলিউট) বা খারিজ
চূড়ান্ত শুনানিতে উভয় পক্ষ হলফনামার ভিত্তিতে যুক্তি দেন। আদেশটি বৈধ নোটিশ বা শুনানি ছাড়া, কারণ ছাড়া, অথবা ধারা ৩খ(৫)-এর কোনো কারণ ছাড়া দেওয়া হলে বেঞ্চ রুলটি চূড়ান্ত (absolute) করে আদেশটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। প্রায়ই রাজউককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা বা নিয়মিতকরণের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্মাণকাজ স্পষ্টতই বেআইনি হলে, যেমন সরকারি জমিতে বা মহাপরিকল্পনা লঙ্ঘন করে, রুল খারিজ হয় এবং স্থগিতাদেশের অবসান ঘটে। রাজউক ভবন ভাঙার রিটের রায় অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী রাজউকের ওপর বাধ্যতামূলক।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ দিন শুনানি; রায় একই দিনে বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ); গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১ ও অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তি ও নজির, রায়
পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিল বিভাগে লিভ পিটিশনের সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা হয়।
ধাপ ১৪ · আদেশ পালন বা ভবন ভাঙাআদেশ পালন, অথবা ভবন ভাঙা ও খরচ
মালিক জিতলে আইনজীবী রায়ের সার্টিফায়েড কপি রাজউকে পৌঁছে দেন এবং পুনর্বিবেচনা বা নিয়মিতকরণের নির্দেশনা অনুসরণ করেন। মালিক হেরে গেলে এবং আপিল বিভাগ থেকে স্থগিতাদেশ না পেলে, রাজউক প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে নির্দিষ্ট অংশ অপসারণ বা ভেঙে ফেলতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-র ধারা ৩৮৬-এর অধীন জরিমানা আদায়ের মতো করে এর খরচ মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হয়। যাঁরা ভবন খালি করেননি তাঁদের সংক্ষিপ্তভাবে উচ্ছেদ করা যায়। বড় মামলায় আদালত কখনো ভবন ভাঙার সময়সূচি ঠিক করে দেন এবং খরচ মালিককে বহনের নির্দেশ দেন।
কোথায়: রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৭(১); ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৬(২); রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬৫(২) (অপসারণের খরচ মালিকের কাছ থেকে আদায়); গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, রাজউকের প্রতি পত্র, ভবন ভাঙার তারিখের নোটিশ (যদি থাকে)
পরামর্শ: হেরে গেলে রাজউক ভবন ভাঙার তারিখ ঠিক করার আগেই চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চান, পরে নয়।
যদি এমন হয়…? রাজউক ভবন ভাঙার রিট যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন
হেরে যাওয়া পক্ষ, মালিক হোক বা রাজউক, প্রথমে হাইকোর্ট বিভাগের রায় স্থগিতের জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আবেদন করেন। চেম্বার জজ তা স্থগিত করতে পারেন, প্রায়ই আর নির্মাণকাজ না করার মতো শর্তে; আবেদন নামঞ্জুর করতে পারেন; অথবা বিষয়টি পূর্ণ আদালতে পাঠাতে পারেন। স্থগিতাদেশ সাধারণত লিভ পিটিশনের শুনানি পর্যন্ত বহাল থাকে। স্থগিতাদেশ না থাকলে রাজউক ভবন ভাঙার কাজে এগোতে পারে, অথবা তাকে রায় মানতে হয়।
১-৮ সপ্তাহআপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ৫ বিধি ২(২০) ও বিধি ৪আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল ও আপিল
রায়ের ষাট দিনের মধ্যে সংক্ষেপে আইনের প্রশ্নগুলো উল্লেখ করে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) দাখিল করতে হয়। আইনের গুরুতর প্রশ্ন বা গুরুতর ভুল দেখানো গেলেই কেবল লিভ মঞ্জুর হয়। লিভ মঞ্জুর হলে মামলাটি দেওয়ানি আপিল হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং নথির ভিত্তিতে শুনানি হয়। ২০১৬ সালের জুনে আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশ বহাল রাখেন।
১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১, ২ ও ১০
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী তাঁর সিদ্ধান্ত রাজউক ও সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।
আপিল বিভাগ কি তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন রিভিউ পিটিশন
কোনো পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগকে নিজের রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর অনুরূপ কারণে, যেমন নথিতে প্রকাশ্য ভুল। আবেদনে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর ও কারণসংবলিত সার্টিফিকেট থাকতে হয়, এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত জমা দিতে হয়। কেবল একবারই রিভিউ করা যায়। ভবন ভাঙার রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএর রিভিউ ২০১৭ সালের মার্চে খারিজ হয়।
৩-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১, ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয় এবং রায় বহাল থাকে, অথবা দেখানো নির্দিষ্ট ভুলটি সংশোধন করা হয়।
হাইকোর্টের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারপতির কাছে রেফারেন্স
রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারপতির হয়। তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন রায় দিলে, যেমন একজন রুল চূড়ান্ত করতে চান আর অন্যজন খারিজ করতে চান, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যায়, যিনি তা তৃতীয় একজন বিচারপতির কাছে পাঠান। তৃতীয় বিচারপতি বিতর্কিত বিষয়গুলো শোনেন, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। ততদিন সাধারণত স্থগিতাদেশ বহাল থাকে। এরপর হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল বিভাগে লিভ চাইতে পারেন।
৩-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, ১২ এসসিওবি [২০১৯] এইচসিডি ৩৯ (12 SCOB [2019] HCD 39)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, এবং লিভ পেলে মামলা আপিল বিভাগে যেতে পারে।
আদালত বিষয়টি রাজউকে ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি
রাজউকের নতুন শুনানি ও সিদ্ধান্ত
অনেক সময় ভবনটি থাকবে কি না, হাইকোর্ট বিভাগ তা নিজে নির্ধারণ করেন না। যথাযথ শুনানি বা কারণের অভাবে আদেশটি বাতিল করে বিষয়টি ফেরত পাঠান, এবং রাজউককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিককে শুনানি দিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে, বা বিচারাধীন নিয়মিতকরণের আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। এরপর রাজউককে ধারা ৩খ-এর অধীন মামলাটি আবার বিবেচনা করতে হয়। রাজউক নোটিশ প্রত্যাহার করতে, নিয়মিতকরণের অনুমতি দিতে, বা নতুন কারণসংবলিত ভবন ভাঙার আদেশ দিতে পারে।
১-৩ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩খ(৩) ও (৫) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রাজউক আবার মালিকের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিলে নতুন চ্যালেঞ্জ
নতুন প্রতিকূল আদেশ একটি নতুন সিদ্ধান্ত। মালিককে আবার ত্রিশ দিনের সংবিধিবদ্ধ আপিলের কথা বিবেচনা করতে হয়, এরপর নতুন রিট পিটিশনের মাধ্যমে, অথবা রাজউক আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করলে নিষ্পন্ন মামলায় আবেদনের মাধ্যমে, হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে আসতে পারেন। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ সীমিত থাকে নতুন সিদ্ধান্তটি বৈধ কি না তার মধ্যে, আগের ত্রুটিতে নয়।
৬-২৪ মাসইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১৫গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রাজউকের নতুন সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যদি না তা আবার বেআইনি প্রমাণিত হয়; সেক্ষেত্রে মামলা আবার হাইকোর্ট বিভাগে ওঠে।
এর বদলে কি দেওয়ানি মামলা, রিভিশন বা ফৌজদারি পথ আছে?
- 1রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি
দেওয়ানি মামলা ও রিভিশন বারিত
১৯৫২ সালের আইনের ধারা ১৪ রাজউকের আদেশকে কেবল সংবিধিবদ্ধ আপিল সাপেক্ষে চূড়ান্ত করে এবং কোনো দেওয়ানি আদালতকে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে নিষেধ করে। তাই ভবন ভাঙার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দেওয়ানি মামলা সাধারণত নাকচ হয়, এবং তার সঙ্গে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীন দেওয়ানি রিভিশনও। হাইকোর্ট বিভাগের রিট রায়ের বিরুদ্ধেও রিভিশন চলে না। একমাত্র বিচারিক পথ হলো রিট, তারপর আপিল বিভাগ।
প্রযোজ্য নয়ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১৪ ও ধারা ১৫দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫ - 2মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট / ভ্রাম্যমাণ আদালত
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি বিচার
অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ ১৯৫২ সালের আইনের ধারা ১২-এর অধীন অপরাধও: অথরাইজড অফিসার বা কমিটির অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অন্তত ৫০,০০০ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ড। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৪ অনুযায়ী অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা। এসব অপরাধ জামিনযোগ্য এবং মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার হয়। সাধারণ ফৌজদারি আপিল ও রিভিশনের পথ প্রযোজ্য।
৬-২৪ মাসইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১২ ও ধারা ১৩(২)রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৪ ও ৫৮-৬১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দেওয়ানি আদালত এখানে হস্তক্ষেপ করে না; পরিকল্পনা-সংক্রান্ত আদেশ কেবল আপিল ও রিটে যাচাই হয়, আর কোনো ফৌজদারি বিচার আলাদাভাবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলে।
স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও রাজউক ভবন ভাঙলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আদালত অবমাননার আবেদন ও ক্ষতিপূরণ
জারি করা স্থগিতাদেশ লঙ্ঘন করে রাজউক বা উচ্ছেদকারী দল কাজ করলে মালিক হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার আবেদন করেন, স্থগিতাদেশ, প্রাপ্তির সিল ও ভবন ভাঙার ছবি সংযুক্ত করে। আদালত দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার রুল জারি করেন, যাঁদের ব্যাখ্যা দিতে হয়। বেঞ্চ অবমাননার জন্য শাস্তি দিতে পারেন এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। অবমাননার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল করা যায়।
২-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কর্মকর্তাদের অবমাননার জন্য জবাবদিহি করতে হয়, এবং আদালত ক্ষতিপূরণ বা অন্য প্রতিকারের আদেশ দিতে পারেন।
রাজউক ভবন ভাঙার রিট যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
রাজউক ভবন ভাঙার রিট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যায়, মাঝে কোনো জেলা আদালত নেই। প্রথম ফোরাম রাজউক নিজেই: এর অথরাইজড অফিসার বা ইমারত নির্মাণ কমিটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং আদেশ দেয়। দ্বিতীয়টি ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় নির্ধারিত আপিল কর্তৃপক্ষ, যার কাছে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয় এবং দেওয়ানি আদালতের দিক থেকে যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১৪ দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার বারিত করেছে। কোনো আর্থিক সীমা নেই: ভবনের আকার বা মূল্য ফোরাম বদলায় না।
এরপর হাইকোর্ট বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন আদেশের বৈধতা যাচাই করেন, মৌখিক সাক্ষ্য নয়, হলফনামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে। আদালত পরিকল্পনার গুণাগুণ নতুন করে শোনেন না, বরং দেখেন পদ্ধতি ও সংবিধিবদ্ধ কারণগুলো অনুসরণ করা হয়েছে কি না। এর রায়ের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া পক্ষকে আপিল বিভাগের লিভ নিতে হয়, যা আইনের প্রশ্ন শোনেন এবং অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন একবার নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতমহানগর ম্যাজিস্ট্রেট / ভ্রাম্যমাণ আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · রাজউক: অথরাইজড অফিসার / ইমারত নির্মাণ কমিটি · সংবিধিবদ্ধ আপিল কর্তৃপক্ষ (রাজউক আপিল কমিটি) · সুপ্রিম কোর্টের হলফনামা ও ফাইলিং শাখা
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), প্রধান কার্যালয়
রাজউক ভবন, মতিঝিল, ঢাকাটাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৫৩ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার অধীন ঢাকা এলাকায় ভবনের নকশা ও ভূমি ব্যবহার অনুমোদন করে, এবং অননুমোদিত নির্মাণের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয় ও উচ্ছেদ (ভেঙে ফেলা) কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যাচাইয়ের সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি, তাই রাস্তার ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। নকশা অনুমোদন ও প্রয়োগ সংক্রান্ত অনেক বিষয় রাজউকের আঞ্চলিক (জোনাল) অফিসে নিষ্পত্তি হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অথরাইজড অফিসার (Authorised Officer)
- ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর অধীন কোনো এলাকায় অনুমোদন দেওয়া ও আইন কার্যকর করার জন্য নিযুক্ত কর্মকর্তা; রাজউকের এলাকায় এ ক্ষমতা প্রায়ই ইমারত নির্মাণ কমিটি প্রয়োগ করে।
- অনুমোদন (Sanction)
- রাজউকের এলাকায় ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, সম্প্রসারণ বা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন।
- কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show-cause notice)
- ধারা ৩খ-এর অধীন নোটিশ, যাতে মালিককে অন্তত সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় কেন ভবন অপসারণ বা কাজ বন্ধ করা হবে না।
- নিয়মিতকরণ (Regularisation)
- ভবন ভাঙার কোনো কারণ প্রযোজ্য না হলে জরিমানা দিয়ে, নির্দেশিত পরিবর্তন করে এবং ফির দশ গুণ দিয়ে অনুমোদন নিয়ে অননুমোদিত ভবন রাখার ব্যবস্থা।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যাতে রাজউককে কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন তার আদেশকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
- স্থিতাবস্থা (Status quo)
- অন্তর্বর্তী নির্দেশ যে কোনো পক্ষ অবস্থার পরিবর্তন করবে না, সাধারণত যার অর্থ ভবন ভাঙা হবে না এবং নতুন নির্মাণও হবে না।
- চেম্বার জজ (Chamber Judge)
- আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন শোনেন।
- বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ (Detailed Area Plan, DAP)
- রাজউকের পরিকল্পনা, যা ভূমি ব্যবহারের জোন ও ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) নির্ধারণ করে; এর বিপরীতে নির্মাণ ভবন ভাঙার একটি কারণ।
রাজউক ভবন ভাঙার রিট: সাধারণ প্রশ্ন
রাজউক কি নোটিশ ছাড়াই আমার ভবন ভেঙে দিতে পারে?
রাজউকের ভবন ভাঙা ঠেকাতে কি দেওয়ানি মামলা করা যায়?
রাজউকের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কত দিন?
রিট করার আগে কি রাজউককে নোটিশ দিতে হয়?
হাইকোর্ট কত দ্রুত ভবন ভাঙা থামাতে পারেন?
অননুমোদিত অতিরিক্ত তলা কি নিয়মিত করা যায়?
রিটে হেরে গেলে কী হয়?
রাজউক ভবন ভাঙার রিট নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Building Construction Act 1952 (E.B. Act No. II of 1953), ss.2, 3, 3B, 6, 7, 9, 12-15 — FAOLEX
- Bangladesh Gazette, 10 April 2026 — Rajdhani Unnayan Kartripakkha Act 2026 (Act No. 67 of 2026) (Bangla)
- RAJUK Construction Permit system — Frequently asked questions (appeal and enforcement)
- Constitution of Bangladesh, Article 102 — Laws of Bangladesh
- Constitution of Bangladesh, Article 103 — Laws of Bangladesh
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988 — Supreme Court of Bangladesh
- Dhaka Tribune, 5 March 2017 — SC: BGMEA building must go (review dismissed)
- The Business Standard, 19 October 2025 — DAP amendment approved, building height limits raised
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।