নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা: দাবি থেকে অর্থ আদায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা মূলত বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (Bangladesh Merchant Shipping Ordinance 1983) দ্বারা পরিচালিত। এই অধ্যাদেশ মাস্টার ও ক্রুদের জাহাজের ওপর মেরিটাইম লিয়েন (maritime lien) দেয়, যা ব্যাংকের বন্ধকসহ অন্য সব লিয়েন ও দায়ের আগে স্থান পায়। ছোট বিরোধ শিপিং মাস্টার বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে পারে, আর বড় দাবি হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডমিরালটি মামলা হিসেবে আনা হয়, সাধারণত জাহাজ আটকসহ এবং মাত্র ১০০ টাকা কোর্ট ফিতে।
বেতন না পাওয়া ক্রুরা প্রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে জাহাজ বিক্রির অর্থ থেকে পাওনা পান।
- কোথা থেকে শুরু
- ডিসচার্জ, নিষ্পত্তি ও ছোট বিরোধের জন্য শিপিং অফিসের (চট্টগ্রাম) শিপিং মাস্টার; সংক্ষিপ্ত আদায়ের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট…
- মূল আইন
- বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১০, ১৩৬, ১৪১-১৫৮, ২২০, ৪৭৭-৪৭৯, ৪৯২-৪৯৩; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা…
- সাধারণ সময়কাল
- ডিসচার্জের ৫ দিনের মধ্যে বেতন পরিশোধযোগ্য। শিপিং মাস্টার বা ম্যাজিস্ট্রেট: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। জাহাজ আটকসহ…
- কে মামলা করতে পারেন
- যেকোনো নাবিক বা শিক্ষানবিশ, মাস্টার (যাঁর খরচাদির জন্যও লিয়েন আছে), অথবা তাঁদের পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি…
নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · ডিসচার্জ ও পাওনা দাবিকত পাওনা তা হিসাব করুন
শুরুর বিন্দু হলো ক্রু চুক্তি (crew agreement), যাতে জাহাজ, সমুদ্রযাত্রা বা মেয়াদ, পদ ও বেতন উল্লেখ থাকতে হয়, সঙ্গে মালিক বা ম্যানেজারের সঙ্গে কোনো নিয়োগপত্র বা সার্ভিস চুক্তি। চাকরি থেকে ছাড়ার আগে মাস্টারকে প্রত্যেক নাবিককে বেতন ও কর্তনের পূর্ণ ও সঠিক হিসাব দিতে হয়। নাবিক ও আইনজীবী সেই হিসাব চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন এবং বকেয়া মাস, ওভারটাইম, ছুটির বেতন ও নাবিক নিজে বহন করেছেন এমন দেশে ফেরার খরচ যোগ করেন, যা বেতন হিসেবেই আদায়যোগ্য।
কোথায়: নাবিকের আইনজীবী · সময়: ১-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১১৩; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪১; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৩৬(২) · কাগজপত্র: ক্রু চুক্তি বা নিয়োগপত্র, ম্যানেজারের সঙ্গে সার্ভিস চুক্তি, কন্টিনিউয়াস ডিসচার্জ সার্টিফিকেট (সিডিসি), বেতনের হিসাব বা পোর্টেজ বিল
পরামর্শ: প্রতিটি পোর্টেজ বিল ও বেতন স্লিপের কপি রাখুন। ২০২৬ সালের ক্রিস্টাল গোল্ড মামলায় কর্মকর্তারা মূলত এ কারণেই জেতেন যে তাঁদের কাগজপত্র সাক্ষ্যের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল।
ধাপ ২ · ডিসচার্জ ও পাওনা দাবিডিসচার্জের সময় পাওনা দাবি করুন
ডিসচার্জের পর মাস্টার বা মালিককে পাঁচ দিনের মধ্যে নাবিকের বেতন পরিশোধ করতে হয়, এবং ডিসচার্জের সময় নাবিক বকেয়ার এক-চতুর্থাংশ অগ্রিম পাওয়ার অধিকারী। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পরিশোধে দেরি হলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত বেতন চলতে থাকে, এবং শিপিং মাস্টার প্রতিদিনের দেরির জন্য সর্বোচ্চ দুই দিনের বেতন দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। লিখিত দাবি, এবং পরে আইনজীবীর নোটিশ, খেলাপ ও পাওনার পরিমাণ রেকর্ড করে। ধারা ৪৭৭ অনুযায়ী কোনো চুক্তি নাবিকের লিয়েন বা প্রতিকার কেড়ে নিতে পারে না।
কোথায়: নাবিকের আইনজীবী · সময়: ডিসচার্জের ৫ দিন পর, তারপর ২-৪ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪৬; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৭৭ · কাগজপত্র: লিখিত দাবি, আইনজীবীর নোটিশ, জবাব (যদি থাকে)
পরামর্শ: লিখিত হিসাব ছাড়া চাকরি ছাড়ার সইয়ের বিনিময়ে পরে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মেনে নেবেন না; এতে পরবর্তী দাবি দুর্বল হয়।
ধাপ ৩ · ডিসচার্জ ও পাওনা দাবিশিপিং মাস্টারের সামনে নিষ্পত্তি
বাংলাদেশে শিপিং মাস্টারের সামনে কোনো নাবিককে ডিসচার্জ করা হলে, আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দিলে, শিপিং মাস্টারের মাধ্যমে বা তাঁর উপস্থিতিতে বেতন পরিশোধ করতে হয়। নিষ্পত্তির সময় নাবিক একটি রিলিজে (release) সই করেন, যাতে মাস্টার বা মালিকও সই করেন এবং শিপিং মাস্টার সত্যায়ন করেন; এটি ওই সমুদ্রযাত্রার সব দাবির পারস্পরিক অবসান ঘটায়। এই পদ্ধতি প্রযোজ্য হলে কোনো মাস্টার বা মালিক অন্যভাবে বেতন দিলে তা জরিমানাযোগ্য অপরাধ।
কোথায়: শিপিং মাস্টার (শিপিং অফিস, চট্টগ্রাম) · সময়: ডিসচার্জের সময় · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪৫; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪৭ · কাগজপত্র: বেতনের হিসাব, নির্ধারিত ফরমে রিলিজ, শিপিং মাস্টারের পরিশোধ বিবরণী
পরামর্শ: কোনো অঙ্ক নিয়ে বিরোধ থাকলে কখনোই রিলিজে সই করবেন না; সত্যায়িত হলে তা ওই সমুদ্রযাত্রার সব দাবি নিষ্পত্তি করে দেয়।
ধাপ ৪ · শিপিং মাস্টার ও ম্যাজিস্ট্রেটশিপিং মাস্টারের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি
বাংলাদেশের কোনো বন্দরে মাস্টার, মালিক বা এজেন্ট এবং ক্রুদের মধ্যে বেতন নিয়ে বিরোধ শিপিং মাস্টারের কাছে দেওয়া যায়। অঙ্ক ৫০০ টাকার বেশি না হলে যেকোনো পক্ষ এটি দাবি করতে পারেন; বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে লিখিতভাবে সম্মত হতে হয়। শিপিং মাস্টারের রোয়েদাদ চূড়ান্ত এবং ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়, তবে আদালতের জন্য বেশি উপযুক্ত কোনো প্রশ্ন তিনি গ্রহণ না-ও করতে পারেন। আনুষ্ঠানিক আবেদন ছাড়াও শিপিং মাস্টারকে একটি চিঠি দিলে প্রায়ই মালিককে পরিশোধের সরকারি অনুরোধ যায়।
কোথায়: শিপিং মাস্টার (শিপিং অফিস, চট্টগ্রাম) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১০; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪৮; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪৯ (জাহাজের কাগজপত্র) · কাগজপত্র: লিখিত আবেদন, ক্রু চুক্তি, রোয়েদাদ
পরামর্শ: ৫০০ টাকার বাধ্যতামূলক সীমা আজকের দিনে খুবই সামান্য, তাই প্রকৃত অঙ্কের ক্ষেত্রে শিপিং মাস্টার কেবল উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতিতেই কাজ করেন।
ধাপ ৫ · শিপিং মাস্টার ও ম্যাজিস্ট্রেটবিদেশে আটকে পড়া: দেশে ফেরা ও কনস্যুলার সহায়তা
চুক্তির মেয়াদের আগে নাবিকের সম্মতি ছাড়া বিদেশে চাকরি শেষ হলে মাস্টার বা মালিককে তাঁর ভরণপোষণ দিতে এবং যথাযথ রিটার্ন পোর্টে ফেরত পাঠাতে হয়; সেই খরচ নিজে বহন করলে তিনি তা বেতন হিসেবে আদায় করতে পারেন। জাহাজ বিধ্বস্ত, নিখোঁজ বা পরিত্যক্ত হলে তিনি রিটার্ন পোর্টে পৌঁছানো পর্যন্ত, অথবা তা দীর্ঘতর হলে দুই মাসের বেতন পাওয়ার অধিকারী, সঙ্গে হারানো মালামালের জন্য অন্তত দুই মাসের বেতন। বাংলাদেশ ২০১৪ সালে সামুদ্রিক শ্রম কনভেনশন, ২০০৬ অনুসমর্থন করেছে, এবং নিকটতম বাংলাদেশ মিশন দেশে ফেরায় সহায়তা করতে পারে।
কোথায়: বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (কনস্যুলার কর্মকর্তা) · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৩৬; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৫৩; সামুদ্রিক শ্রম কনভেনশন, ২০০৬, রেগুলেশন ২.৫ · কাগজপত্র: পাসপোর্ট ও সিডিসি, চাকরিচ্যুতি বা পরিত্যাগের প্রমাণ, যাতায়াত ও ভরণপোষণের রসিদ
পরামর্শ: চাকরিচ্যুতির পর খাবার, থাকা ও বিমান টিকিটের প্রতিটি রসিদ রাখুন; এগুলো বেতন দাবির অংশ হয়।
ধাপ ৬ · শিপিং মাস্টার ও ম্যাজিস্ট্রেটম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সংক্ষিপ্ত দাবি
বেতন পরিশোধযোগ্য হওয়ামাত্র নাবিক, বা তাঁর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কেউ, যেখানে তাঁর চাকরি শেষ হয়েছে, যেখানে তাঁকে ডিসচার্জ করা হয়েছে, বা যেখানে দায়ী ব্যক্তি থাকেন সেখানকার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মামলা করতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ চূড়ান্ত। মাস্টার, মালিক বা এজেন্ট টাকা না দিলে তাঁদের অস্থাবর সম্পত্তি, অথবা জাহাজ ও তার সরঞ্জাম ক্রোক ও বিক্রি করে অঙ্কটি আদায় করা যায়। বাংলাদেশে উপস্থিতি বা জাহাজ আছে এমন মালিকের বিরুদ্ধে মাঝারি অঙ্কের দাবির জন্য এই পথ উপযুক্ত।
কোথায়: ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সংক্ষিপ্ত বেতন দাবি) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৫৭; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৯২-৪৯৩ · কাগজপত্র: বেতনের জন্য অভিযোগ, ক্রু চুক্তি ও হিসাব, ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ
পরামর্শ: ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ জাহাজের বিরুদ্ধে কার্যকর করা যায়, কিন্তু অ্যাডমিরালটি আটকের মতো এটি বিক্রি ও অগ্রাধিকারের ওপর আদালতের নিয়ন্ত্রণ দেয় না।
ধাপ ৭ · অ্যাডমিরালটি মামলা ও জাহাজ আটকঅ্যাডমিরালটি পথ বেছে নিন
ধারা ১৫৮ অনুযায়ী মালিক দেউলিয়া না হলে, জাহাজ আদালতের আদেশে আটক বা বিক্রি না হলে, অথবা ম্যাজিস্ট্রেট দাবিটি রেফার না করলে দেওয়ানি আদালতে বেতনের মামলা করা যায় না। তাই বাংলাদেশে বড় অঙ্কের নাবিকের বকেয়া বেতন মামলার স্বাভাবিক পথ হলো জাহাজ আটকসহ অ্যাডমিরালটি মামলা। ধারা ৩(২)(ঢ) অনুযায়ী বেতন একটি মেরিটাইম দাবি, ধারা ৪(৬) সম্পূর্ণ বা আংশিক বেতনের দাবিতে in rem মামলার সুযোগ দেয়, এবং কোর্ট ফি ১০০ টাকা। তামাদির মেয়াদ সমুদ্রযাত্রা শেষ হওয়া থেকে তিন বছর, কর্মরত নাবিক হিসেবে কাটানো সময় বাদ দিয়ে।
কোথায়: নাবিকের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৫৮; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ঢ), ৪(৬) ও ৭; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১০১; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ২২০ · কাগজপত্র: তামাদির হিসাব, জাহাজের অবস্থান ও বিবরণ
পরামর্শ: একই জাহাজের ক্রুরা একটি মামলায় একসঙ্গে বাদী হতে পারেন, এতে খরচ বাঁচে এবং সাক্ষ্যও সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
ধাপ ৮ · অ্যাডমিরালটি মামলা ও জাহাজ আটকঅ্যাডমিরালটি মামলা দায়ের
অ্যাডমিরালটি কোর্টে জাহাজের বিরুদ্ধে in rem এবং নিবন্ধিত মালিক, ম্যানেজার ও পরিচালনাকারীর বিরুদ্ধে in personam আরজি দাখিল করা হয়, বন্দর ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে মোকাবিলা বিবাদী (pro forma defendant) করে। আরজিতে নিয়োগ, জাহাজে চাকরি, বকেয়া সময়কাল ও অঙ্ক উল্লেখ করা হয় এবং দাবিটি মেরিটাইম লিয়েন মর্মে ঘোষণা চাওয়া হয়। আপিল বিভাগ নিশ্চিত করেছেন যে ক্রুদের বেতন দাবি ধারা ৪(৬)-এর অধীন in rem মামলার আওতায় পড়ে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৬; কিয়ং হে মেরিটাইম কোং লিমিটেড বনাম বিএফ গ্লোরি, ২১ বিএলসি (এডি) ৪০ (21 BLC (AD) 40); দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-র আদেশ ১ বিধি ১ · কাগজপত্র: সত্যপাঠকৃত আরজি, জাহাজ আটকের আবেদন, ১০০ টাকা কোর্ট ফি, বাদীরা বিদেশে থাকলে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা)
পরামর্শ: বৈদেশিক মুদ্রায় বেতনের দাবিতে দাখিলের সময় ব্যবহৃত বিনিময় হার উল্লেখ করুন; আদালত সমপরিমাণ টাকায় ডিক্রি দেন।
ধাপ ৯ · অ্যাডমিরালটি মামলা ও জাহাজ আটকজাহাজ আটক
মামলা গ্রহণের সময় আদালত জাহাজ আটকের আদেশ দিতে পারেন, এবং মার্শাল আদেশটি বন্দর, কাস্টমস ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে জানান। ক্রুদের বেতন হাইকোর্ট বিভাগে কার্যকরযোগ্য একটি মেরিটাইম লিয়েন, যা মালিকানা বদলের পরও জাহাজের সঙ্গে থাকে, তাই জাহাজের বিরুদ্ধেই আটক চাওয়া যায়। আটক বা পরিত্যক্ত জাহাজে ক্রুরা তখনো থাকলে তাঁরা বা বন্দর কর্তৃপক্ষ রসদ, নিরাপদ জনবল ও দেশে ফেরা নিয়ে আদালতের নির্দেশনা চাইতে পারেন।
কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: একই দিন থেকে কয়েক দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৩) ও (৬); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৭৭; অ্যাডমিরালটি বিধিমালা, ১৯১২ (হলফনামার ভিত্তিতে আটকের পরোয়ানা) · কাগজপত্র: আটকের আদেশ, বন্দরের প্রতি মার্শালের পত্র, নির্দেশনার আবেদন
পরামর্শ: জাহাজটি অন্য মামলায় আগেই আটক থাকলে দ্রুত মামলা করুন এবং যেকোনো বিক্রি ও বণ্টনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করুন।
ধাপ ১০ · বিচার ও ডিক্রিমালিকের জবাব ও পাল্টা দাবি (সেট-অফ)
মালিকেরা প্রায়ই অসদাচরণ, জাহাজ ত্যাগ বা চুরির অভিযোগ তুলে বেতন বাজেয়াপ্তি বা সেট-অফ দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। কোনো ফৌজদারি মামলা না হলেও বাজেয়াপ্তি বা কর্তনের প্রশ্ন বেতন মামলার মধ্যেই নিষ্পত্তি করা যায়। মাস্টার দাবি করলে আদালত মাস্টার ও মালিকের মধ্যে খরচাদিসহ সব হিসাব নিষ্পত্তি করতে পারেন। অভিযোগ সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়: ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আদালত একজন মাস্টার ও চিফ ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে চুরি ও অসদাচরণের অভিযোগ নাকচ করেন, কারণ মালিক কোনো সাক্ষী হাজির করেননি।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ২০৫; বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৭৮(৩); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, মালিকের নির্ভর করা কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, জবাবি সাক্ষ্য
পরামর্শ: আরজি-জবাব সাক্ষ্য নয়। অসদাচরণের অভিযোগের মুখে নাবিকের উচিত মালিককে সাক্ষী দিয়ে তা প্রমাণ করতে বাধ্য করা।
ধাপ ১১ · বিচার ও ডিক্রিবেতন দাবি প্রমাণ
নাবিকেরা সাক্ষ্য দেন, ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এখন হলফনামায়, এবং তাঁদের জেরা করা হয়। সাধারণ প্রদর্শনী হলো নিয়োগপত্র, ক্রু বা সার্ভিস চুক্তি, সিডিসি ও পাসপোর্ট, পোর্টেজ বিল, শিপিং মাস্টার ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে লেখা চিঠি, এবং আইনজীবীর নোটিশ ও তার কোনো জবাব। মালিক হাজির না হলে আদালত একতরফাভাবে এগোতে পারেন, তবুও অঙ্ক যাচাই করেন: ২০২৫ সালে আদালত বকেয়া বেতন মঞ্জুর করেন কিন্তু দাবিকৃত আইনি খরচ নামঞ্জুর করেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৩-১৮ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৬ (একতরফা শুনানি); মো. শাহজাহান খান বনাম এমটি ফজলে রাব্বি, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ১৮/২০১৭ (২৭ অক্টোবর ২০২৫) · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনী (এক্সিবিট), বিনিময় হারের প্রমাণ
পরামর্শ: যে নাবিকেরা আবার সমুদ্রে চলে গেছেন তাঁরা দূর থেকে বা কমিশনের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে পারেন; আগেভাগেই তাঁদের প্রাপ্যতা পরিকল্পনা করুন।
ধাপ ১২ · বিচার ও ডিক্রিডিক্রি ও লিয়েনের ঘোষণা
আদালত প্রমাণিত বেতনের জন্য জাহাজের বিরুদ্ধে in rem এবং মালিক, ম্যানেজার ও পরিচালনাকারীর বিরুদ্ধে in personam, যৌথ ও পৃথকভাবে, খরচ ও সুদসহ ডিক্রি দেন; সাম্প্রতিক ডিক্রিগুলোতে বার্ষিক ৬% ও ১০% সুদ দেওয়া হয়েছে। আদালত এটাও ঘোষণা করেন যে দাবিটি জাহাজের ওপর মেরিটাইম লিয়েন। যথাযথ কাগজপত্রসহ নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা সাধারণত সফল হয়; আসল প্রশ্ন হলো তা পরিশোধের জন্য কোনো জাহাজ বা তহবিল আছে কি না।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির ১-৩ মাস পর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৪; মো. জাকির হোসেন বনাম এম.ভি. ক্রিস্টাল গোল্ড, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৬৯/২০১৫ (৭ জুলাই ২০২৬) · কাগজপত্র: রায়, স্বাক্ষরিত ডিক্রি
পরামর্শ: ডিক্রিতে স্পষ্টভাবে লেখার আবেদন করুন যে অর্থ মালিকদের পাশাপাশি জাহাজ বা তার বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকেও পরিশোধযোগ্য।
ধাপ ১৩ · বিক্রি, অগ্রাধিকার ও অর্থ পরিশোধজাহাজ বিক্রি
মালিক টাকাও না দিলে বা জামানতও না দিলে ক্রুরা হাইকোর্ট বিভাগের কাছে মার্শালের মাধ্যমে জাহাজের মূল্যায়ন ও বিক্রির আদেশ চাইতে পারেন, জাহাজের অবনতি ঘটতে থাকলে রায়ের আগেই। অনেক পরিত্যক্ত জাহাজ অন্য পাওনাদারের মামলায় বিক্রি হয়; তখন ক্রুরা বিক্রয় তহবিলের বিরুদ্ধে দাবি করেন। বিচারিক বিক্রিতে জাহাজ সব দাবিমুক্ত হয়ে হস্তান্তরিত হয়, এবং বেতনের মেরিটাইম লিয়েন মার্শালের হিসাবে থাকা অর্থে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে তার অগ্রাধিকার বহাল থাকে।
কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: ২-৯ মাস · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৭); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৯ · কাগজপত্র: বিক্রির আবেদন, মূল্যায়ন, নিলাম বিজ্ঞপ্তি
পরামর্শ: যে ক্রুরা দেশে ফিরে গেছেন তাঁদের উচিত আইনজীবীর কাছে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেখে যাওয়া, যাতে তাঁদের ছাড়াই বিক্রি ও অর্থ পরিশোধ এগোতে পারে।
ধাপ ১৪ · বিক্রি, অগ্রাধিকার ও অর্থ পরিশোধবন্ধক ও অন্য দাবির ওপর অগ্রাধিকার
ধারা ৪৭৯ নাবিকের লিয়েনকে জাহাজের ওপর অন্য সব লিয়েন বা দায়ের ওপর অগ্রাধিকার দেয়, এবং মাস্টারের লিয়েন এর পরেই, নাবিকেরা ছাড়া সবার আগে। অর্থাৎ আটক ও বিক্রির খরচ বাদ দেওয়ার পর বিক্রয় তহবিল থেকে ক্রুদের মেরিটাইম লিয়েন ব্যাংকের নিবন্ধিত বন্ধক, সরবরাহকারী ও মেরামতকারীদের আগে পরিশোধ করা হয়। একাধিক মামলা প্রতিযোগিতা করলে মার্শাল সব দাবির প্রতিবেদন দেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ বণ্টনের নির্দেশ দেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-১২ মাস · আইন: বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪৭৯; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৭) · কাগজপত্র: মার্শালের প্রতিবেদন, অগ্রাধিকারের আবেদন, ডিক্রি
পরামর্শ: বেতনের দাবি ক্ষতিপূরণ বা আইনি খরচের মতো অন্য খাত থেকে আলাদা রাখতে হবে, কারণ সেগুলো বেতনের অগ্রাধিকার পায় না।
ধাপ ১৫ · বিক্রি, অগ্রাধিকার ও অর্থ পরিশোধডিক্রি জারি ও অর্থ পরিশোধ
ক্রুরা অ্যাডমিরালটি এখতিয়ারে জারি মামলা দায়ের করেন, এবং আদালত মার্শালকে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা জামানত থেকে, সাধারণত স্বল্প সময়ের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে, পরিশোধের নির্দেশ দেন। তহবিল অপর্যাপ্ত হলেও বাংলাদেশে মালিক বা ম্যানেজারের অন্য সম্পদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যায়। বিদেশে থাকা নাবিকদের অর্থ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাই তাঁদের ফিরে আসতে হয় না।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০ ও ১১; মো. ইউসুফ আলী বনাম এম.ভি. হার্টি ফ্যালকন, জারি মামলা নং ১/২০২৫ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
পরামর্শ: শুনানির আগে মার্শালের হিসাবের স্থিতি দেখে নিন; অন্য দাবিদারদের আগের পরিশোধের পর সামান্যই অবশিষ্ট থাকতে পারে।
যদি এমন হয়…? নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
মালিক অ্যাডমিরালটি ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি (লিভ)
অ্যাডমিরালটি কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের ভেতরে কোনো আপিল নেই। মালিক, বা ক্রুরা হেরে গেলে তাঁরা, অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীন ষাট দিনের মধ্যে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করবেন, এবং আপিল বিভাগ মূলত আইনের প্রশ্ন নিষ্পত্তি করেন, যেমন কোনো নির্দিষ্ট পরিশোধ লিয়েনের জন্য বেতন হিসেবে গণ্য হয় কি না। বিক্রয় তহবিল থেকে পরিশোধ স্থগিতের জন্য চেম্বার জজের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়।
দাখিলের জন্য ৬০ দিন; ১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং সেই অনুযায়ী তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধ করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের বেতন-সংক্রান্ত আদেশ কি চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ফৌজদারি রিভিশন
ধারা ১৫৭ সংক্ষিপ্ত বেতন দাবিতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশকে চূড়ান্ত করে, তাই আপিল চলে না। ম্যাজিস্ট্রেট এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে কাজ করেছেন বা স্পষ্ট আইনগত ভুল করেছেন বলে মনে করলে কোনো পক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-র রিভিশন বিধানের অধীন দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ আদেশটি বাতিল বা ফেরত পাঠাতে পারেন, তবে তথ্যের পুনঃশুনানি করেন না।
দ্রুত দাখিল করুন; ৩-১২ মাসবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৫৭ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫, ৪৩৯ ও ৪৩৯ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বহাল থাকে, সংশোধিত হয়, অথবা নতুন সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত যায়।
অ্যাডমিরালটি কোর্ট কি তাঁর ডিক্রি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আদেশ ৪৭-এর অধীন রিভিউ
যেকোনো পক্ষ একই অ্যাডমিরালটি বেঞ্চকে নথিতে প্রকাশ্য ভুল, যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও আগে দাখিল করা যায়নি এমন নতুন সাক্ষ্য, বা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন। অ্যাডমিরালটি কোর্ট মূল এখতিয়ারে হাইকোর্ট বিভাগ বলে আবেদনটি বিশ দিনের মধ্যে করতে হয়। যে মালিক হাজির হননি তিনি এর বদলে আদেশ ৯ বিধি ১৩-এর অধীন একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন করতে পারেন।
দাখিলের জন্য ২০ দিন; ১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৬২দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ১৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি বহাল বা সংশোধিত হয়, এবং মামলাটি তবুও আপিল বিভাগে যেতে পারে।
ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন দাবিটি উচ্চতর আদালতের বিষয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আদালতে রেফারেন্স
ধারা ১৫৮(গ) অনুযায়ী অধ্যাদেশের অধীন কাজ করা ম্যাজিস্ট্রেট বেতনের দাবি আদালতে রেফার করতে পারেন, যাতে দেওয়ানি কার্যধারার বাধা উঠে যায়। এটি মেরিটাইম লিয়েন-সমর্থিত বড় বা জটিল দাবির জন্য উপযুক্ত, যেখানে আটক, বিক্রি ও অগ্রাধিকারের প্রয়োজন। আলাদাভাবে, তামাদির উদ্দেশ্যে কোনো নাবিক কর্মরত নাবিক ছিলেন কি না, তা নিয়ে কোনো আদালতের সংশয় থাকলে প্রশ্নটি শিপিং মাস্টারের কাছে পাঠাতে পারেন, যাঁর সনদ চূড়ান্ত।
১-৩ মাসবাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৫৮(গ)বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ২২১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দাবিটি অ্যাডমিরালটি কোর্টে চলতে থাকে, আটক ও বিক্রির সুযোগসহ।
আপিল বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
পুনর্বিচারের জন্য অ্যাডমিরালটি কোর্টে ফেরত
অ্যাডমিরালটি কোর্ট কোনো প্রাথমিক প্রশ্নে মামলা খারিজ করলে, যেমন দাবিটি ধারা ৩(২)(ঢ)-এর অর্থে বেতন নয় বা তামাদিতে বারিত, এবং আপিল বিভাগ ভিন্নমত পোষণ করলে, তিনি সিদ্ধান্তটি বাতিল করে মামলাটি বিচারের জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন। মামলা নিচে ফেরত যাওয়ার সময় ক্রুদের জন্য সংরক্ষিত আটক, জামানত বা বিক্রয় তহবিলের অংশ সাধারণত বহাল থাকে।
আপিলের রায়ের সঙ্গেগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)(ঢ) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
বিচার ও আবার ওপরে যাওয়ার পথ
অ্যাডমিরালটি কোর্ট বেতন দাবির সাক্ষ্য শোনেন, তা মেরিটাইম লিয়েন বহন করে কি না নির্ধারণ করেন এবং নতুন ডিক্রি দেন। হেরে যাওয়া পক্ষ আবার আপিল বিভাগে লিভের আবেদন করতে পারেন, তাই ক্রুরা অর্থ পাওয়ার আগে ফেরত পাঠানো মামলা স্তরবিন্যাসে নিচে নেমে আবার ওপরে উঠতে পারে।
৬-২৪ মাসঅ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৬)গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বেতন দাবি গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয় এবং লিভ পেলে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।
নাবিক কি এর বদলে শ্রম আদালতে যেতে পারেন?
- 1শ্রম আদালত
শ্রম আইনের সীমিত ভূমিকা
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১(৪) নাবিকদের আইনটির আওতা থেকে বাদ দেয়, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ অধ্যায় ছাড়া, যেগুলো দুর্ঘটনাজনিত জখমের ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্প সম্পর্ক, এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রম আদালত নিয়ে। চতুর্দশ অধ্যায় প্রযোজ্য বলে যুক্তি দেওয়া যায় যে নাবিক কোনো নিষ্পত্তি বা চুক্তির অধীন অধিকার কার্যকর করতে ধারা ২১৩ ব্যবহার করতে পারেন, তবে বেতনের ক্ষেত্রে এটি পরীক্ষিত নয়। ব্যক্তিগত বেতন দাবি সাধারণত ওপরে বর্ণিত মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশের পথ অনুসরণ করে, আর জখমের ক্ষতিপূরণ ও সমষ্টিগত বিরোধ শ্রম আদালতে যায়।
বিভিন্নবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১(৪)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৬৩ (মাস্টার ও নাবিক)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বেতনের দাবি যায় শিপিং মাস্টার, ম্যাজিস্ট্রেট বা অ্যাডমিরালটি কোর্টে; জখমের ক্ষতিপূরণ শ্রম আদালতে যেতে পারে।
বেতন দাবি কি আপসে নিষ্পত্তি করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আটকের পর আপস নিষ্পত্তি
জাহাজ আটক প্রায়ই মালিক বা তাঁদের অর্থদাতাদের আলোচনার টেবিলে আনে, এবং জাহাজ ছাড়াতে প্রায়ই বেতনের দাবি পরিশোধ করা হয়। আপস নিষ্পত্তি আদেশ ২৩ বিধি ৩-এর অধীন আপস ডিক্রি হিসেবে রেকর্ড করা হয়, এবং শিপিং মাস্টারের মাধ্যমে বা তাঁর উপস্থিতিতে অর্থ পরিশোধ করা যায়, যাতে যথাযথ রিলিজ সই হয়। এরপর আদালত আটকাদেশ প্রত্যাহার করেন।
কয়েক দিন থেকে কয়েক মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ১৪৫ ও ১৪৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ক্রুরা পাওনা পান, রিলিজ সই হয় এবং জাহাজ মুক্ত হয়।
নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা তিনটি স্তরে চালানো যায়। সবচেয়ে নিচে শিপিং মাস্টার, যিনি ডিসচার্জ ও পরিশোধ তদারকি করেন, রিলিজ সত্যায়ন করেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেন: ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে, এর বেশি হলে কেবল উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতিতে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশের ধারা ১৫৭-এর অধীন বেতনের দাবি সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করতে পারেন; তাঁর আদেশ চূড়ান্ত, জাহাজের বিরুদ্ধে ক্রোকের মাধ্যমে কার্যকরযোগ্য, এবং কেবল ফৌজদারি রিভিশনে চ্যালেঞ্জযোগ্য। জাহাজ আটক বা বিক্রি না হলে, মালিক দেউলিয়া না হলে, বা ম্যাজিস্ট্রেট রেফার না করলে ধারা ১৫৮ বেতনের দাবিকে সাধারণ দেওয়ানি আদালতের বাইরে রাখে।
তাই বড় দাবি অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, যার কোনো আর্থিক সীমা নেই, কোর্ট ফি মাত্র ১০০ টাকা, যিনি জাহাজ আটক ও বিক্রি করতে পারেন এবং নাবিকদের লিয়েনকে অন্য সব লিয়েন ও দায়ের আগে স্থান দেন। অ্যাডমিরালটি কোর্ট তথ্য ও আইন দুটোই নিষ্পত্তি করেন। এর ডিক্রি একই বেঞ্চ রিভিউ করতে পারেন, আর চ্যালেঞ্জ করা যায় কেবল লিভ নিয়ে আপিল বিভাগে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সংক্ষিপ্ত বেতন দাবি) · শ্রম আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেনাবিকের আইনজীবী · শিপিং মাস্টার (শিপিং অফিস, চট্টগ্রাম) · বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (কনস্যুলার কর্মকর্তা) · অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রাম
কোর্ট বিল্ডিং এলাকা, কোতোয়ালী, চট্টগ্রামচট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে, জামিন, রিমান্ড ও নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজ, চট্টগ্রামের কাছে পাঠায়।
মহানগর এলাকার বাইরের থানার মামলা যায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রামের কাছে। রাস্তার ঠিকানা কোনো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
শ্রম আদালত, ঢাকা (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রম আদালত)
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীন ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত শ্রম বিরোধ, মজুরি ও ক্ষতিপূরণ দাবি এবং অপরাধের বিচার করে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের গেজেট (শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সাইটে প্রকাশিত) প্রথম শ্রম আদালত, ঢাকা নিশ্চিত করে এবং থানাভিত্তিকভাবে ঢাকার প্রতিটি শ্রম আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে, কিন্তু কোনো সরকারি রাস্তার ঠিকানা পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও অন্যান্য কেন্দ্রেও শ্রম আদালত বসে।
নাবিকের আইনজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
সরকারি শিপিং অফিস, চট্টগ্রাম
সি.জি.ও. বিল্ডিং নং-১, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম-৪১০০বাংলাদেশি নাবিকদের নিবন্ধন ও সরবরাহ করে, সাইন-অন ও সাইন-অফ এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধ তদারক করে, এবং জাহাজমালিক ও নাবিকদের বিরোধে সালিশ করে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের একটি মাঠ অফিস, প্রধান শিপিং মাস্টার। ঠিকানাটি অফিসের সরকারি ব্রোশিওর অনুযায়ী।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (হাইকমিশন, দূতাবাস ও কনস্যুলেট)
আপনি যে দেশে থাকেন, সেই দেশের বাংলাদেশ মিশন (একক কোনো ঠিকানা নেই)বিদেশে স্বাক্ষরিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, হলফনামা ও অন্যান্য দলিল সত্যায়ন করে, যাতে সেগুলো বাংলাদেশের আদালত বা অফিসে ব্যবহার করা যায়।
যে দেশে দলিলে স্বাক্ষর করবেন, সেই দেশের দায়িত্বে থাকা মিশন ব্যবহার করুন; মিশনের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। বিদেশে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণত ব্যবহারের আগে বাংলাদেশে (আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) স্ট্যাম্প ও প্রত্যয়ন করাতে হয়। সাক্ষাতের সময়, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য মিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট দেখুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- শিপিং মাস্টার (Shipping Master)
- শিপিং অফিসের কর্মকর্তা, যিনি নাবিকদের নিয়োগ ও ডিসচার্জ তদারকি করেন, বেতন নিষ্পত্তি সত্যায়ন করেন এবং ছোট বিরোধ নিষ্পত্তি করেন।
- ক্রু চুক্তি (Crew agreement)
- মাস্টার ও ক্রুদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র, যাতে সমুদ্রযাত্রা, পদ, বেতন ও রসদের উল্লেখ থাকে, সরকার অনুমোদিত ফরমে।
- পোর্টেজ বিল (Portage bill)
- সমুদ্রযাত্রায় প্রত্যেক ক্রু সদস্যের অর্জিত বেতন, কর্তন ও বকেয়া স্থিতির হিসাব।
- সিডিসি (CDC)
- কন্টিনিউয়াস ডিসচার্জ সার্টিফিকেট, নাবিকের সমুদ্রসেবার রেকর্ড।
- মেরিটাইম লিয়েন / সামুদ্রিক পূর্বস্বত্ব (Maritime lien)
- আইনবলে জাহাজের সঙ্গে যুক্ত দাবি, যা বিক্রির পরও জাহাজকে অনুসরণ করে এবং আটকের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়; ক্রুদের বেতন এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ।
- রিলিজ / দায়মুক্তিপত্র (Release)
- নিষ্পত্তির সময় শিপিং মাস্টারের সামনে স্বাক্ষরিত দলিল, যা সমুদ্রযাত্রার সব দাবির অবসান ঘটায়।
- পরিত্যাগ (Abandonment)
- ক্রুদের বেতন, ভরণপোষণ বা দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে মালিকের ব্যর্থতা, যাতে তাঁরা জাহাজে বা তীরে সহায়তাহীন অবস্থায় থাকেন।
- রিটার্ন পোর্ট (Return port)
- বিদেশে চাকরি শেষ হওয়া নাবিককে মালিকের খরচে যে বন্দরে ফেরত পাঠাতে হয়।
নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা কোথা থেকে শুরু করব?
বেতনের দাবি করার সময়সীমা কত?
ক্রুদের বেতন কি ব্যাংকের বন্ধকের আগে পরিশোধ হয়?
অ্যাডমিরালটি কোর্টে কোর্ট ফি কত?
বিদেশি নাবিক কি বাংলাদেশে মামলা করতে পারেন?
বিদেশে আমাকে পরিত্যাগ করা হলে কী করব?
অসদাচরণের অভিযোগ তুলে কি মালিক বেতন দিতে অস্বীকার করতে পারেন?
নাবিকের বকেয়া বেতন মামলা কি শ্রম আদালতে করা যায়?
আইন ও উৎস
- Bangladesh Merchant Shipping Ordinance 1983 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- Admiralty Court Act 2000 (Act 43 of 2000) — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- Limitation Act 1908 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- Bangladesh Labour Act 2006 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
- High Court Division, Md. Zakir Hossain v M.V. Crystal Gold, Admiralty Suit No. 69 of 2015 (7 July 2026)
- High Court Division, Md. Shah Jahan Khan v MT Fadl-e-Rabbi, Admiralty Suit No. 18 of 2017 (27 October 2025)
- High Court Division, Md. Yousuf Ali v M.V. Hearty Falcon, Execution Case No. 1 of 2025 (16 March 2025)
- The Financial Express, 14 May 2017 — Improving the lot of Bangladeshi seafarers (MLC 2006 ratified on 6 November 2014)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।