বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
সংসদ নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র পথ হলো বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা: পরাজিত প্রার্থী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO)-এর পঞ্চম অধ্যায়ের অধীনে নির্বাচনী আদালত হিসেবে বসা হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী দরখাস্ত (election petition) দাখিল করেন। দরখাস্তটির বিচার দেওয়ানি মামলার মতো হয়; হাইকোর্ট বিভাগ নির্বাচন বাতিল করতে বা অন্য কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারেন, আর আপিল বিভাগে আপিল চলে কেবল লিভ (অনুমতি) সাপেক্ষে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বিরোধ যায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে।
- কোথা থেকে শুরু
- হাইকোর্ট বিভাগ (নির্বাচনী দরখাস্ত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নির্ধারিত একক বেঞ্চ, যাকে প্রায়ই নির্বাচনী…
- মূল আইন
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৫; গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (অনুচ্ছেদ ৩৯, ৪২, ৪৯-৭২); দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮ (কার্যপদ্ধতি, যতদূর…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: হাইকোর্ট বিভাগে ৬-১৮ মাস (আইনে ৬ মাসের কথা বলা আছে), লিভ ও আপিল আপিল…
- কে মামলা করতে পারেন
- কেবল সেই নির্বাচনের একজন প্রার্থী (আরপিওর অনুচ্ছেদ ৪৯(১))। ভোটার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংগঠন নির্বাচনী দরখাস্ত…
বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দাখিলের আগেআইনগত কোনো ভিত্তি আছে কি না যাচাই করুন
বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা শুরু হয় সাক্ষ্যপ্রমাণের কঠোর যাচাই দিয়ে। পরাজিত প্রার্থী একজন অ্যাডভোকেটের সঙ্গে বসে দেখেন, তাঁর অভিযোগ আইনে স্বীকৃত ভিত্তিগুলোর সঙ্গে মেলে কি না। আরপিওর অনুচ্ছেদ ৬৩ অনুযায়ী নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর (returned candidate) নির্বাচন বাতিল হতে পারে অবৈধ মনোনয়ন, মনোনয়নের দিনে যোগ্যতার অভাব বা অযোগ্যতা, প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টের দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ, কিংবা অনুচ্ছেদ ৪৪খ(৩)-এর সীমার বেশি ব্যয়ের কারণে। আদেশ অমান্য বা ব্যাপক দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করলে অনুচ্ছেদ ৬৫ পুরো নির্বাচন বাতিল করে। ভোট সুষ্ঠু হয়নি, এমন সাধারণ অভিযোগ যথেষ্ট নয়: আইনজীবীর দরকার সুনির্দিষ্ট ঘটনা, নাম, তারিখ ও ভোটকেন্দ্র।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ১-৭ দিন · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৫(খ); গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৯(১), ৬৩, ৬৫ · কাগজপত্র: প্রার্থীর নিজের মনোনয়নপত্র, কেন্দ্রভিত্তিক ঘটনার নোট, এজেন্টদের প্রতিবেদন
পরামর্শ: কেবল প্রার্থীই দরখাস্ত করতে পারেন। আপনি প্রার্থী না হলে আপনার জন্য নির্বাচনী দরখাস্তের পথ খোলা নেই।
ধাপ ২ · দাখিলের আগেনির্বাচনের সার্টিফায়েড রেকর্ড সংগ্রহ করুন
প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে একীভূত ফলাফল বিবরণী ও নির্বাচনের রিটার্নের সত্যায়িত কপির আবেদন করেন, যা অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার দিতে বাধ্য। সংরক্ষিত অন্যান্য প্যাকেট, যেমন মুড়ি, চিহ্নিত ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপারের হিসাব, অনুচ্ছেদ ৪৩ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিয়ে পরিদর্শন ও কপি করা যায়। তবে ব্যালট পেপার জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত নয়। সেগুলো এক বছর রিটার্নিং অফিসারের কাছে সিলগালা অবস্থায় থাকে এবং কেবল হাইকোর্ট বিভাগের আদেশেই খোলা যায়; এ কারণে পুনর্গণনা দরকার হলে দরখাস্তে সেই আদেশ চাইতে হয়।
কোথায়: নির্বাচন কমিশন / রিটার্নিং অফিসার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪০, ৪২, ৪৩ · কাগজপত্র: সার্টিফায়েড কপির আবেদন, ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শিট, একীভূত ফলাফল বিবরণী
পরামর্শ: গণনার পরপরই রেকর্ড চান; দেরি করলে ৪৫ দিনের দাখিলের সময় থেকে দিন কমে যায়।
ধাপ ৩ · দাখিলের আগেগেজেট থেকে সময়সীমা ঠিক করুন
ভোটের দিন থেকে সময় গণনা হয় না। ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন অনুচ্ছেদ ৩৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে। অনুচ্ছেদ ৪৯(২)-এর অধীনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ সেই গেজেট প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। আইনজীবী গেজেট প্রজ্ঞাপন সংগ্রহ করে শেষ তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখেন। দেরিতে দাখিল হওয়া দরখাস্ত অনুচ্ছেদ ৪৯ পালিত না হওয়ায় অনুচ্ছেদ ৫৮ অনুযায়ী খারিজ হয়, আর দেরি মাফ করার কোনো সাধারণ ক্ষমতা আদালতের নেই।
কোথায়: নির্বাচন কমিশন / রিটার্নিং অফিসার · সময়: একই দিন · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৯(৪); গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৯(২), ৫৮(ক) · কাগজপত্র: নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর নামসহ বাংলাদেশ গেজেট প্রজ্ঞাপন
পরামর্শ: ৪৫ দিনকে চূড়ান্ত ধরে নিন। তামাদি আইনের অধীনে বিলম্ব মওকুফের ওপর ভরসা করবেন না।
ধাপ ৪ · দরখাস্তের খসড়া ও দাখিলপূর্ণ বিবরণসহ দরখাস্তের খসড়া
অ্যাডভোকেট অনুচ্ছেদ ৫১-এর শর্ত মেনে দরখাস্তের খসড়া করেন। এতে মূল ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে হয়, এবং দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিটি অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ দিতে হয়: কে করেছেন, কখন ও কোথায়। প্রার্থিত প্রতিকার উল্লেখ করতে হয়, যা কেবল তিনটি ঘোষণার একটি হতে পারে: নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল; তা বাতিল এবং দরখাস্তকারী বা অন্য কোনো প্রার্থী যথাযথভাবে নির্বাচিত; অথবা পুরো নির্বাচন বাতিল। প্রতিটি পৃষ্ঠা, তফসিল ও সংযুক্তি দরখাস্তকারী স্বাক্ষর করেন এবং দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৫ অনুযায়ী প্লিডিং হিসেবে সত্যায়ন করেন। অস্পষ্ট প্লিডিংই দরখাস্ত ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫১(১)-(৩); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৫ · কাগজপত্র: নির্বাচনী দরখাস্ত, ভোটকেন্দ্র ও ঘটনার তফসিল, সত্যায়ন (ভেরিফিকেশন)
পরামর্শ: পরে সংশোধনী দিয়ে নতুন ভিত্তি যোগ করা যায় না (অনুচ্ছেদ ৫৭(৩)), তাই এখনই সব ভিত্তি অন্তর্ভুক্ত করুন।
ধাপ ৫ · দরখাস্তের খসড়া ও দাখিলপ্রয়োজনীয় সব প্রতিপক্ষকে যুক্ত করুন
অনুচ্ছেদ ৫০ অনুযায়ী দরখাস্তকারীকে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রতিপক্ষ করতে হয়, সঙ্গে এমন যেকোনো প্রার্থীকে যাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ আছে। একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকেও বাদ দেওয়া মারাত্মক, কারণ অনুচ্ছেদ ৫৮(ক) অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ৫০ না মানা দরখাস্ত খারিজ করতে হাইকোর্ট বিভাগ বাধ্য। নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসার বাধ্যতামূলক প্রতিপক্ষ নন, যদিও রেকর্ডের জন্য প্রায়ই তাঁদের যুক্ত করা হয় এবং বাস্তবে তাঁদের বক্তব্যও শোনা হয়। কেউ যেন বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে আইনজীবী প্রত্যাহারের পর প্রকাশিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখেন।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫০, ৫৮(ক) · কাগজপত্র: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা, নোটিশ জারির ঠিকানা
পরামর্শ: মনোনয়নের তালিকা নয়, প্রত্যাহারের তারিখের পরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ব্যবহার করুন।
ধাপ ৬ · দরখাস্তের খসড়া ও দাখিলদরখাস্ত দাখিল ও জামানত জমা
হাইকোর্ট বিভাগের যে শাখা নির্বাচনী দরখাস্ত দেখে, সেখানে দরখাস্তটি দাখিল করা হয়, সঙ্গে প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য একটি করে কপি, যার প্রতিটি অনুচ্ছেদ ৪৯(৩) অনুযায়ী দরখাস্তকারী সত্য কপি হিসেবে সত্যায়ন করেন। একই সময়ে দরখাস্তকারী হাইকোর্ট বিভাগের জমার নিয়ম মেনে অনুচ্ছেদ ৪৯(৪)-এর অধীনে খরচের জামানত হিসেবে ৫,০০০ টাকা জমা দেন। ফাইলিং শাখা কাগজপত্র যাচাই করে একটি নির্বাচনী দরখাস্ত নম্বর দেয় এবং প্রধান বিচারপতি নির্বাচনী বিষয়ের জন্য যে বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন সেখানে তা উপস্থাপন করে। কপি বা জামানত না থাকলে অনুচ্ছেদ ৫৮(ক) অনুযায়ী খারিজ হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ দিন · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৯(২)-(৪); সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) (প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বেঞ্চ নির্ধারণ) · কাগজপত্র: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য সত্যায়িত কপিসহ দরখাস্ত, জামানত জমার চালান/রসিদ, ওকালতনামা
পরামর্শ: জমার রসিদ যত্ন করে রাখুন; অনুচ্ছেদ ৭২(৩) অনুযায়ী টাকা ফেরত পেতে এটি লাগবে।
ধাপ ৭ · প্লিডিংস ও প্রাথমিক শুনানিপ্রতিপক্ষদের নোটিশ ও লিখিত জবাব
অনুচ্ছেদ ৫৭ যতদূর সম্ভব দেওয়ানি মামলার কার্যপদ্ধতি প্রযোজ্য করে, তাই মামলায় যেমন সমন জারি হয়, তেমনি আদালত প্রতিপক্ষদের প্রতি নোটিশ জারি করেন, এবং প্রতিপক্ষরা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে প্রতিটি অভিযোগের উত্তরে লিখিত জবাব দাখিল করেন। নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থী সাধারণত ঘটনা অস্বীকার করেন এবং প্রাথমিক আপত্তি তোলেন, যেমন দরখাস্ত দেরিতে হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে যুক্ত করা হয়নি বা বিবরণ অনুপস্থিত। এ পর্যায়ে বেঞ্চ রিটার্নিং অফিসার বা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নির্বাচনের রেকর্ডও তলব করতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(১); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ ও ৮ · কাগজপত্র: নোটিশ, লিখিত জবাব, রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে তলবকৃত রেকর্ড
পরামর্শ: প্রতিপক্ষদের লিখিত জবাবে এমন কোনো স্বীকারোক্তি আছে কি না দেখুন, যা বিচারে কাজে লাগাতে পারেন।
ধাপ ৮ · প্লিডিংস ও প্রাথমিক শুনানিরক্ষণীয়তা নিয়ে প্রাথমিক আপত্তি
অনেক নির্বাচনী দরখাস্তের নিষ্পত্তি কোনো সাক্ষ্য নেওয়ার আগেই হয়ে যায়। নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থী অনুচ্ছেদ ৪৯ (সময়, কপি, জামানত), অনুচ্ছেদ ৫০ (প্রতিপক্ষ) বা অনুচ্ছেদ ৫১ (মূল ঘটনা, বিবরণ, সত্যায়ন) লঙ্ঘনের কারণে অনুচ্ছেদ ৫৮-এর অধীনে দরখাস্ত খারিজের আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ এসব বিষয়ে দুই পক্ষের শুনানি নেন। আপত্তি টিকে গেলে দরখাস্ত খারিজ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিভ নিয়ে আপিল বিভাগে যাওয়া যায়। আপত্তি নামঞ্জুর হলে মামলা বিচার্য বিষয় ও বিচারের পর্যায়ে যায়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৮; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ (সাদৃশ্য অনুসারে) · কাগজপত্র: অনুচ্ছেদ ৫৮-এর অধীনে আবেদন, জবাব
পরামর্শ: বেশির ভাগ কারিগরি ত্রুটি কেবল ৪৫ দিন শেষ হওয়ার আগেই শোধরানো যায়; এরপর সেগুলো মারাত্মক।
ধাপ ৯ · প্লিডিংস ও প্রাথমিক শুনানিনির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর পাল্টা অভিযোগ
দরখাস্তে আদালতকে দরখাস্তকারী বা অন্য কোনো প্রার্থীকে যথাযথভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করতে বলা হলে নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থী বা অন্য কোনো পক্ষ পাল্টা প্রমাণ করতে পারেন যে ওই ব্যক্তির নির্বাচনও বাতিলযোগ্য হতো। এ জন্য বিচার শুরুর ১৪ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগকে নোটিশ দিতে, মামলার বিবৃতি দাখিল করতে এবং একই ৫,০০০ টাকা জামানত জমা দিতে হয়। সেই বিবৃতিকে নির্বাচনী দরখাস্তের মতোই গণ্য করা হয়, তাই বিবরণ ও সত্যায়নের একই নিয়ম এতে প্রযোজ্য।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: বিচার শুরুর ১৪ দিনের মধ্যে · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬১(১)-(২) · কাগজপত্র: পাল্টা অভিযোগের নোটিশ, মামলার বিবৃতি, জামানতের রসিদ
পরামর্শ: যে দরখাস্তকারী নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণা করাতে চান, তাঁর নিজের মনোনয়ন ও ব্যয়ও যাচাই হবে, এটি ধরে নিন।
ধাপ ১০ · প্লিডিংস ও প্রাথমিক শুনানিবিচার্য বিষয় গঠন ও সংশোধনী
বেঞ্চ প্লিডিংস থেকে বিচার্য বিষয় গঠন করেন, যেমন নির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ ঘটেছিল কি না, নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থী ব্যয়সীমা ছাড়িয়েছিলেন কি না, বা আইন অমান্য ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছিল কি না। আদালত শর্তসাপেক্ষে ও ফি দিয়ে সংশোধনীর অনুমতি দিতে পারেন, তবে কেবল ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে; চ্যালেঞ্জের কোনো নতুন ভিত্তি আনা যায় না। আদালত যেকোনো সময় খরচের জন্য বাড়তি জামানতের আদেশও দিতে পারেন, আর তা না দিলে দরখাস্ত খারিজ হয়। এই পর্যায়ে সাক্ষী ও দলিলের সময়সূচি ঠিক করা হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(৩)-(৪); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪; গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৮(খ) · কাগজপত্র: বিচার্য বিষয়, সংশোধনীর আবেদন, যদি থাকে, সাক্ষী ও দলিলের তালিকা
পরামর্শ: সাক্ষীর তালিকা আগেভাগে দাখিল করুন; তুচ্ছ বা অপ্রাসঙ্গিক সাক্ষী আদালত নাকচ করতে পারেন।
ধাপ ১১ · বিচার ও সাক্ষ্যব্যালট পেপার হাজির ও পরিদর্শন
মামলা যদি ভোট গণনার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে, তাহলে দরখাস্তকারী অনুচ্ছেদ ৪২-এর অধীনে সংরক্ষিত সিলগালা ব্যালট প্যাকেট ও সংশ্লিষ্ট কাগজ হাজির করার এবং যুক্তিসংগত হলে আদালতের তত্ত্বাবধানে যাচাই বা পুনর্গণনার আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ এমন আদেশ সহজে দেন না: দরখাস্তকারীকে প্লিডিংস ও রেকর্ড থেকে প্রাথমিকভাবে মামলা দেখাতে হয়। প্যাকেটগুলো এক বছর রাখা হয়, তারপর হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্ন নির্দেশ না দিলে নষ্ট করা হয়, তাই দরখাস্ত বিচারাধীন হলেই দ্রুত আবেদন করতে হয়।
কোথায়: নির্বাচন কমিশন / রিটার্নিং অফিসার · সময়: ১-৩ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪২(৩), ৪৩; গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(১) · কাগজপত্র: হাজির ও পরিদর্শনের আবেদন, সিলগালা ব্যালট প্যাকেট, ব্যালট পেপারের হিসাব
পরামর্শ: এক বছরের পরেও প্যাকেট সংরক্ষণের নির্দেশনার জন্য শুরুতেই আদালতের কাছে আবেদন করুন।
ধাপ ১২ · বিচার ও সাক্ষ্যসাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী দেওয়ানি বিচারের মতো সাক্ষ্য নেওয়া হয়। দরখাস্তকারীর সাক্ষী, সাধারণত পোলিং এজেন্ট, ভোটার ও কর্মকর্তা, জবানবন্দি দেন ও জেরার মুখোমুখি হন, তারপর প্রতিপক্ষদের সাক্ষী। বেঞ্চ শুধু সাক্ষ্যের সারমর্মের একটি স্মারক লিপিবদ্ধ করতে পারেন এবং অপ্রাসঙ্গিক বা মামলা বিলম্বিত করতে ডাকা সাক্ষীকে নাকচ করতে পারেন। স্ট্যাম্পবিহীন বা অনিবন্ধিত হওয়ার কারণেই কোনো দলিল বাদ পড়ে না। সাক্ষীকে আত্ম-অভিযুক্তকারী প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হয়, তবে কাউকে জিজ্ঞাসা করা যায় না তিনি কাকে ভোট দিয়েছেন; সত্য উত্তর দেওয়া সাক্ষী দায়মুক্তির সনদ পেতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২-৮ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(১)-(২); গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬০(১)-(৫); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬ ও ১৮ · কাগজপত্র: হলফনামা বা জবানবন্দি, প্রদর্শনী (এক্সিবিট), সরকারি সাক্ষীদের প্রতি সমন
পরামর্শ: পরে মনে করে বলা কথার চেয়ে পোলিং এজেন্টদের তাৎক্ষণিক লিখিত প্রতিবেদনের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ধাপ ১৩ · বিচার ও সাক্ষ্যযুক্তিতর্ক, মুলতবি ও প্রত্যাহার
সাক্ষ্যের পর দুই পক্ষ প্রতিটি বিচার্য বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। অনুচ্ছেদ ৫৭(৫) ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন না হলে মুলতবি নিষিদ্ধ করে, আর অনুচ্ছেদ ৫৭(৬) হাইকোর্ট বিভাগকে যত দ্রুত সম্ভব দরখাস্তের বিচার করতে এবং দাখিলের ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করতে বলে। বাস্তবে অনেক দরখাস্তে বেশি সময় লাগে। দরখাস্তকারী কেবল আদালতের অনুমতি নিয়ে দরখাস্ত প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং তখন তাঁকে প্রতিপক্ষদের খরচ দিতে আদেশ দেওয়া হয়। একমাত্র দরখাস্তকারীর মৃত্যুতে দরখাস্ত বাতিল (abate) হয়ে যায়, আর কোনো দরখাস্তকারী হাজির না হলে অনুপস্থিতির কারণে খারিজ হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(৫)-(৬); গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১ · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তি, নজিরের সংকলন, প্রত্যাহারের আবেদন, যদি থাকে
পরামর্শ: নিয়মমাফিক মুলতবি চাইবেন না; বেঞ্চ সেগুলো নাকচ করবেন, এটাই প্রত্যাশিত।
ধাপ ১৪ · রায় ও পরবর্তী ধাপনির্বাচনী আদালতের রায়
বিচার শেষে হাইকোর্ট বিভাগ অনুচ্ছেদ ৬২-এর অধীনে চারটি আদেশের একটি দেন: দরখাস্ত খারিজ; নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা; তা বাতিল এবং দরখাস্তকারী বা অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যথাযথভাবে নির্বাচিত ঘোষণা (কেবল অনুচ্ছেদ ৬৪ অনুযায়ী সন্তুষ্ট হলে যে ওই ব্যক্তি নির্বাচিত ঘোষিত হওয়ার অধিকারী ছিলেন); অথবা পুরো নির্বাচন বাতিল ঘোষণা। নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর সম্মতি বা যোগসাজশ ছাড়া সংঘটিত দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপের জন্য তাঁর নির্বাচন বাতিল করা যায় না, যদি তিনি সব যুক্তিসংগত সতর্কতা নিয়ে থাকেন। আদেশ দেওয়ার তারিখ থেকেই কার্যকর হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: সাধারণত যুক্তিতর্কের ২-৮ সপ্তাহ পর রায় · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬২(১), ৬৩, ৬৪, ৬৫; গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬৭(৩) · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: রায়ের দিনই সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; লিভের ৩০ দিন রায় ঘোষণার দিন থেকে গণনা হয়।
ধাপ ১৫ · রায় ও পরবর্তী ধাপনির্বাচন কমিশন আদেশ কার্যকর করে
হাইকোর্ট বিভাগ তার সিদ্ধান্তের সারমর্ম নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেন, তারপর আদেশের প্রত্যয়িত কপি পাঠান, যা নির্বাচন কমিশন সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে। নির্বাচন বাতিল ঘোষিত হলে আসনটি শূন্য হয় এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩(৪) অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হয়। বিচারে যদি দেখা যায় এমন সমান ভোট যা একটি ভোটে নিষ্পত্তি হতো, তাহলে আদালত কমিশনকে জানান, এবং আপিলের সময় শেষ হলে বা আপিলে সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে কমিশন ওই প্রার্থীদের মধ্যে নতুন ভোটের আদেশ দেয়।
কোথায়: নির্বাচন কমিশন / রিটার্নিং অফিসার · সময়: ২-৬ সপ্তাহ; আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬৬, ৬৭(১)-(২); সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩(৪) · কাগজপত্র: আদেশের প্রত্যয়িত কপি, গেজেট প্রজ্ঞাপন
পরামর্শ: আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ উপনির্বাচন আটকে দিতে পারে, তাই লিভ পিটিশনের দিকে নজর রাখুন।
ধাপ ১৬ · রায় ও পরবর্তী ধাপখরচ, জামানত ফেরত ও আদায়
চূড়ান্ত আদেশ দেওয়ার সময় আদালত কে খরচ দেবেন, তা-ও ঠিক করেন। বিজয়ী পক্ষ ছয় মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে লিখিত আবেদন করে পরাজিত পক্ষের জামানত থেকে টাকা নেন। ব্যবহৃত না হওয়া জামানত যিনি জমা দিয়েছেন তাঁর আবেদনে ফেরত দেওয়া হয়। জামানতে খরচ না কুলালে খরচের আদেশ ডিক্রির মতো কার্যকর করা যায়, যে জেলায় পরিশোধকারী পক্ষ থাকেন বা সম্পত্তির মালিক, কিংবা যেখানে নির্বাচনী এলাকা অবস্থিত, সেখানকার মূল এখতিয়ারসম্পন্ন প্রধান দেওয়ানি আদালত, অর্থাৎ জেলা জজ আদালতের মাধ্যমে।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (খরচ আদায়) · সময়: ৬ মাসের মধ্যে আবেদন; জারিতে ৩-১২ মাস · আইন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭২(১)-(৪); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ · কাগজপত্র: জামানত থেকে অর্থ প্রদানের আবেদন, জারির আবেদন, খরচের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: আগে জামানত থেকে আবেদন করুন; আইন কেবল সেভাবে আদায় না হওয়া খরচের জন্যই জারির সুযোগ দেয়।
যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করলে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
৩০ দিনের মধ্যে লিভ পিটিশন
হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল অনুচ্ছেদ ৬২(৩) ছাড়া, যা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগ দেয়, তবে কেবল সেই বিভাগ লিভ মঞ্জুর করলে। সংক্ষুব্ধ পক্ষ সার্টিফায়েড কপি ও আপিলের কারণসহ সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করেন, এবং চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চাইতে পারেন। আইনের এই ৩০ দিন আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ১৩-এর ৬০ দিনের চেয়ে কম, এবং কম সময়সীমাটিই প্রযোজ্য।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; লিভ শুনানি ১-৬ মাসগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬২(৩)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের শুনানি
লিভ মঞ্জুর হলে পেপার বুকের ভিত্তিতে আপিলের শুনানি হয়। আপিল বিভাগ আইন এবং হাইকোর্ট বিভাগের সাক্ষ্য মূল্যায়ন, দুটিই খতিয়ে দেখতে পারেন, তবে সাক্ষীদের সরাসরি দেখা বিচারিক বেঞ্চের ঘটনাগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপে ধীর। আদালত আদেশ বহাল রাখতে, উল্টে দিতে বা পরিবর্তন করতে, অথবা নতুন শুনানির জন্য মামলাটি ফেরত পাঠাতে পারেন।
৬-১৮ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৭ ও ১৯ (হাজিরা ও সংক্ষিপ্ত বিবৃতি)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত, কেবল রিভিউ সাপেক্ষে, এবং নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।
নির্বাচনী আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কি রিভিশন করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দেওয়ানি রিভিশন চলে না
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন কেবল অধস্তন আদালতের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে চলে। সংসদীয় মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ নিজেই বিচারিক আদালত, তাই এর অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে, যেমন পুনর্গণনা নামঞ্জুর বা প্রাথমিক আপত্তি নাকচ, কোনো রিভিশন চলে না। অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশনও করা যায় না, কারণ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৫(খ) অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন কেবল নির্বাচনী দরখাস্তের মাধ্যমেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। এর বদলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদেশটির বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ চান, অথবা চূড়ান্ত আপিলে বিষয়টি তোলেন।
লিভ পিটিশন: ১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৫(খ)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অন্তর্বর্তী আদেশ নিয়ে আপত্তি রিভিশন বা রিটের মাধ্যমে নয়, লিভ নিয়ে আপিল বিভাগে যায়।
আদালত কি নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর কোনো পক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ ও আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ২৬-এর অধীনে রিভিউর আবেদন করতে পারেন। রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফায়েড কপিসহ আবেদন করতে হয়, এবং দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর অনুরূপ ভিত্তিতেই কেবল সফল হয়: নথিতে স্পষ্ট ভুল, আগে হাজির করা যায়নি এমন গুরুত্বপূর্ণ নতুন সাক্ষ্যের সন্ধান, বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ। এটি দ্বিতীয় আপিল নয়।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; ১-৬ মাসে নিষ্পত্তিসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
নির্বাচনী বেঞ্চের কাছে রিভিউয়ের সুযোগ সীমিত
অনুচ্ছেদ ৫৭-এর মাধ্যমে প্রযোজ্য দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ তার নিজের নির্বাচনী রায় রিভিউ করতে পারেন কি না, তা অনিশ্চিত, কারণ অনুচ্ছেদ ৬২(২) আপিলের পথ ছাড়া এর সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করে। তাই আইনজীবীরা রিভিউ আবেদনে সময় নষ্টের ঝুঁকি না নিয়ে সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে লিভ পিটিশন দাখিল করেন।
লিভের ৩০ দিনের সময়সীমা পেরোতে দেবেন নাগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(১), ৬২(২)-(৩)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউতে ফলাফল কদাচিৎ বদলায়; সংশোধনের মূল পথ হলো আপিলের লিভ।
উচ্চতর আদালতে কি রেফারেন্স পাঠানো হয়?
- 1নির্বাচন কমিশন / রিটার্নিং অফিসার
রেফারেন্স নয়, বরং কমিশনকে অবহিতকরণ
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬-এর অধীনে রেফারেন্স হলো অধস্তন আদালতের পক্ষে হাইকোর্ট বিভাগের কাছে আইনের প্রশ্ন জানতে চাওয়ার উপায়। নির্বাচনী দরখাস্তে এর কোনো জায়গা নেই, কারণ হাইকোর্ট বিভাগ নিজেই বিচারিক ফোরাম। এর বদলে আছে আইনগত প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব: বেঞ্চ অনুচ্ছেদ ৬৭ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত জানান, এবং সমান ভোট পাওয়া গেলে অনুচ্ছেদ ৬৬ অনুযায়ী কমিশনকে জানান, যাতে কমিশন সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে নতুন ভোটের আদেশ দিতে পারে।
রায়ের কয়েক দিনের মধ্যে; আপিলের সময় শেষে নতুন ভোটদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬৬, ৬৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা ওপরে রেফারেন্সে নয়, নির্বাচন কমিশনের আদেশ কার্যকর করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
আপিল বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
রায় বাতিল ও মামলা ফেরত
আপিল বিভাগ যদি দেখেন নির্বাচনী বেঞ্চ প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে ভুলভাবে দরখাস্ত খারিজ করেছেন, অথবা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বা ব্যালট পেপার পরিদর্শন নাকচ করেছেন, তাহলে রায় বাতিল করে নির্দিষ্ট বিচার্য বিষয়ে বিচার বা পুনর্বিচারের জন্য দরখাস্তটি হাইকোর্ট বিভাগে ফেরত পাঠাতে পারেন, প্রায়ই সময়সীমা বেঁধে দিয়ে।
ফেরতের আদেশ: আপিল নিষ্পত্তির সময়সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫ (নীতি)গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
নতুন শুনানি ও আবার আপিলের লিভ
নির্বাচনী বেঞ্চ বাড়তি সাক্ষ্য নেন বা বিচার্য বিষয় নতুন করে শোনেন, আবারও অনুচ্ছেদ ৫৭(৬) অনুযায়ী দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে, এবং নতুন রায় দেন। পরাজিত পক্ষ আবার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে লিভ চাইতে পারেন, ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মামলা আবার ওপরে উঠতে পারে।
পুনর্বিচার ৩-৯ মাস; আবার লিভ ১-৬ মাসগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫৭(৬)গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৬২(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দরখাস্ত পুনর্বিচারের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ফেরত যায়, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আবার আপিল বিভাগে আসতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী হয়?
- 1স্থানীয় সরকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল
স্থানীয় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিরোধ হাইকোর্ট বিভাগ শোনেন না। নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দরখাস্ত করতে হয়, আর ট্রাইব্যুনালকে ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের মামলায়ও দাখিলের ৩০ দিন ও নিষ্পত্তির ১৮০ দিনের একই সীমা প্রযোজ্য। কেবল প্রার্থীই দরখাস্ত করতে পারেন, এবং সাধারণ দেওয়ানি আদালত এই বিরোধ গ্রহণ করতে পারে না।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিস্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ২২-২৩(৩)স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৭-৩৮(২)ওই আইনগুলোর অধীনে প্রণীত নির্বাচন বিধিমালা - 2নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল
নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল
পরাজিত পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন, যেখানে একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও একজন নির্বাহী কর্মকর্তা থাকেন। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে ১২০ দিনের মধ্যে এবং সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয়। এর সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, যেমন ট্রাইব্যুনাল এখতিয়ার ছাড়া কাজ করলে, হাইকোর্ট বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
৩০ দিনের মধ্যে আপিল; ১২০-১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিস্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৩(৪)-(৬)স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৮(৩)-(৪)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে সাধারণত স্থানীয় বিরোধের অবসান ঘটে, হাইকোর্ট বিভাগে কেবল সীমিত রিট পর্যালোচনার সুযোগ থাকে।
বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বেশির ভাগ মামলার মতো নয়, নির্বাচনী দরখাস্ত শুরু হয় প্রায় শীর্ষে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৫ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৯ সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি বিরোধ সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠায়, যেখানে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নির্ধারিত একজন বিচারপতি দেওয়ানি মামলার মতো এর বিচার করেন, সাক্ষীদের কথা শোনেন এবং ঘটনা ও আইন দুটিরই নিষ্পত্তি করেন। এখানে কোনো আর্থিক মূল্যমান নেই এবং কোনো নিম্ন আদালতও জড়িত নয়, কেবল পরে জেলা জজ খরচের আদেশ কার্যকর করতে পারেন।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করা পিটিশনে আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর না করলে হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত; লিভ মঞ্জুর হলে আপিলে আইন ও সাক্ষ্যের মূল্যায়ন নতুন করে দেখা যায়, এবং মামলা পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো যায়। অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ শেষ ধাপ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদা সিঁড়ি অনুসরণ করে: জেলা পর্যায়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল, তারপর নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল, যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল ব্যতিক্রমী রিট পর্যালোচনা ছাড়া। কোন সিঁড়ি প্রযোজ্য তা জানাই বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলার প্রথম ধাপ।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল · জেলা জজ আদালত (খরচ আদায়)
- প্রথম দফার আদালতস্থানীয় সরকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল
- শুরু · আদালতের বাইরেঅ্যাডভোকেটের চেম্বার · নির্বাচন কমিশন / রিটার্নিং অফিসার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
অ্যাডভোকেটের চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (নির্বাচন ভবন)
নির্বাচন ভবন, প্লট ই-১৪/জেড, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭নির্বাচন পরিচালনা করে, ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য সংরক্ষণ করে এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করে।
নির্বাচনী দরখাস্ত (election petition) কমিশন নিজে শোনে না; সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল শুনানি করে। হেল্পলাইন ১০৫ (প্রকাশিত সময়: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা)।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থী (Returned candidate)
- রিটার্নিং অফিসার যে প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন এবং যাঁর নাম গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (Contesting candidate)
- বৈধভাবে মনোনীত এমন প্রার্থী, যিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি; সবাইকে প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত করতে হয়।
- দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ (Corrupt or illegal practice)
- আরপিওর ষষ্ঠ অধ্যায়ে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত আচরণ, যেমন ঘুষ, অনুচিত প্রভাব বা ছদ্মবেশে ভোট দেওয়া।
- খরচের জামানত (Security for costs)
- দরখাস্তের সঙ্গে জমা দেওয়া ৫,০০০ টাকা, যা দরখাস্তকারী হারলে প্রতিপক্ষদের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়।
- পাল্টা অভিযোগ (Recrimination)
- অনুচ্ছেদ ৬১-এর অধীনে নির্বাচিত ঘোষিত প্রার্থীর পাল্টা মামলা যে দরখাস্তকারীর নিজের নির্বাচনও বাতিলযোগ্য হতো।
- আপিলের অনুমতি (Leave to appeal)
- আপিলের শুনানির আগে আপিল বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি।
- নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল (Election Tribunal)
- হাইকোর্ট বিভাগের নির্বাচনী বেঞ্চের প্রচলিত নাম, এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আদালতের আনুষ্ঠানিক নাম।
- দরখাস্ত বাতিল হয়ে যাওয়া (Abatement)
- একমাত্র দরখাস্তকারীর মৃত্যুতে দরখাস্তের স্বয়ংক্রিয় অবসান।
বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা কে করতে পারেন?
দরখাস্ত দাখিলের শেষ সময় কবে?
বাংলাদেশে নির্বাচনী মামলা করতে কত খরচ হয়?
আদালত কি আমাকেই নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারেন?
মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
নির্বাচনী মামলার মাধ্যমে কি ভোট পুনর্গণনা করানো যায়?
নির্বাচন বাতিল ঘোষিত হলে কী হয়?
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কি একই পদ্ধতি?
আইন ও উৎস
- The Representation of the People Order, 1972 (P.O. No. 155 of 1972), as amended to 2026
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 102-105, 123, 125)
- Local Government (Union Parishad) Act 2009 (ss.22-23)
- Local Government (City Corporation) Act 2009 (ss.37-40)
- The Code of Civil Procedure, 1908
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
- Daily Observer: High Court forms election tribunal; petitions within 45 days of Gazette (June 2026)
- The Daily Star law analysis: election petitions and tribunals
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।