বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দাবি: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দাবি সাধারণত একই সঙ্গে তিনটি পথে চলে: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ, চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, এবং টর্ট আইন ও মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫ (Fatal Accidents Act) অনুযায়ী চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা।
সময়মতো দাবি করলে তহবিল দ্রুত নির্ধারিত অঙ্ক পরিশোধ করে, আর দেওয়ানি মোকদ্দমায় আয় ও নির্ভরশীলতার প্রকৃত ক্ষতি আদায় করা যায়, তবে তাতে কয়েক বছর লাগে। বীমা দাবি ও আপিল আরও কিছু পথ খুলে দেয়।
- কোথা থেকে শুরু
- থানা (এজাহার) এবং বিআরটিএ-তে আর্থিক সহায়তা তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড; দাবির মূল্য অনুযায়ী সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা…
- মূল আইন
- সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫২-৬২, ৯৮, ১০৫, ১১৪, ১১৭, ১২৫; সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৪২-১৫৩; মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: ট্রাস্টি বোর্ডের অর্থ পরিশোধে ২-১২ মাস; ফৌজদারি বিচারে ১-৪ বছর; দেওয়ানি…
- কে মামলা করতে পারেন
- আহত ব্যক্তি; মৃত্যুর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীগণ বা মনোনীত আইনগত প্রতিনিধি (তহবিলের দাবি), এবং স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা ও…
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দুর্ঘটনার ঠিক পরেচিকিৎসা, সুরতহাল ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত রেকর্ড
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬২ অনুযায়ী চালক ও কন্ডাক্টরকে নিকটতম থানায় জানাতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে হবে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দাবির পরবর্তী প্রতিটি ধাপ চিকিৎসা-সংক্রান্ত রেকর্ডের ওপর নির্ভর করে, তাই পরিবারের উচিত ভর্তির কাগজ, চিকিৎসার রেকর্ড, বিল এবং আঘাতের মেডিকেল সার্টিফিকেট সংরক্ষণ করা। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৪ অনুযায়ী সুরতহাল করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তহবিল, ফৌজদারি মামলা ও দেওয়ানি মোকদ্দমার জন্য মূল প্রমাণ।
কোথায়: থানা · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৪ · কাগজপত্র: হাসপাতালে ভর্তি ও ছাড়পত্রের কাগজ, মেডিকেল সার্টিফিকেট, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, বিল ও রসিদ
পরামর্শ: হাসপাতালের কাছে এমন একটি ইনজুরি সার্টিফিকেট চান, যাতে আঘাতের ধরন এবং তা স্থায়ী কি না উল্লেখ থাকে।
ধাপ ২ · দুর্ঘটনার ঠিক পরেএজাহার (FIR) দায়ের
দুর্ঘটনা যে থানা এলাকায় ঘটেছে, সেই থানায় ভুক্তভোগী বা পরিবারের কোনো সদস্য ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ অনুযায়ী প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহার দায়ের করেন। সাধারণ অপরাধগুলো হলো সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ১০৫ অনুযায়ী বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটানো, যার শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, এবং ধারা ৯৮ অনুযায়ী বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষতি ঘটানো। ধারা ১১৭ অনুযায়ী দুটিই জামিন-অযোগ্য। এজাহারে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সময় ও স্থান এবং সাক্ষীদের কথা লিপিবদ্ধ থাকা উচিত।
কোথায়: থানা · সময়: একই দিন থেকে কয়েক দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪; সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৯৮, ১০৫, ১১৭; দণ্ডবিধির ধারা ২৭৯, ৩০৪খ, ৩৩৭, ৩৩৮ · কাগজপত্র: এজাহারের কপি, গাড়ির নম্বর ও ছবি, সাক্ষীদের নাম
পরামর্শ: পুলিশ এজাহার নিতে অস্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্ত (সিআর মামলা) দায়ের করুন।
ধাপ ৩ · আর্থিক সহায়তা তহবিলে দাবিআর্থিক সহায়তা তহবিলে আবেদন
সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ৫২ ও ৫৩ অনুযায়ী একটি আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠিত হয়েছে, যার অর্থ আসে মোটরযান মালিকদের চাঁদা, সরকারি অনুদান ও জরিমানা থেকে, এবং যা পরিচালনা করে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। আহত ব্যক্তি, অথবা মৃত ভুক্তভোগীর উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধি, ধারা ৫৯ অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এ শুরুতে দুর্ঘটনার পর ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল; সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ঘটা দুর্ঘটনার জন্য তা ৯০ দিনে বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারম্যান জরুরি চিকিৎসার অর্থও ছাড় করতে পারেন।
কোথায়: ট্রাস্টি বোর্ড, আর্থিক সহায়তা তহবিল (বিআরটিএ) · সময়: ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন (সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ঘটা দুর্ঘটনার জন্য ৯০ দিন) · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৯; সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৫০ · কাগজপত্র: নির্ধারিত আবেদন ফরম, এজাহারের কপি, মেডিকেল সার্টিফিকেট বা মৃত্যু সনদ, উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ সনদের প্রমাণ, জাতীয় পরিচয়পত্র
পরামর্শ: যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করুন এবং বিআরটিএ থেকে বর্তমান সময়সীমা নিশ্চিত হয়ে নিন; দেরিতে করা দাবি নাকচ হয়েছে।
ধাপ ৪ · আর্থিক সহায়তা তহবিলে দাবিট্রাস্টি বোর্ডের তদন্ত ও সিদ্ধান্ত
সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৫০ অনুযায়ী চেয়ারম্যান আবেদনের ১০ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন, কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়, এবং ট্রাস্টি বোর্ড প্রতিবেদনের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়। বিধি ১৪৯ ন্যূনতম অঙ্ক নির্ধারণ করেছে: মৃত্যুর ক্ষেত্রে অন্তত ৫ লাখ টাকা, অঙ্গহানি বা স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টিকারী আঘাতে ৩ লাখ টাকা, এবং সেরে ওঠার সম্ভাবনা আছে এমন আঘাতে ১ লাখ টাকা। সরকারের অনুমোদন নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড এই অঙ্ক পরিবর্তন করতে পারে। সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, স্থানীয় তদন্ত প্রতিবেদন আসতে দেরি হলে বিলম্ব হয়।
কোথায়: ট্রাস্টি বোর্ড, আর্থিক সহায়তা তহবিল (বিআরটিএ) · সময়: নির্দেশকভাবে ২-১২ মাস · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৬(১)(ক); সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৪৯, ১৫০ · কাগজপত্র: তদন্ত প্রতিবেদন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত
পরামর্শ: আবেদনের রসিদ রেখে দিন এবং লিখিতভাবে খোঁজ নিন; প্রথম আলো খবর দিয়েছে যে আবেদনকারীরা কোনো হালনাগাদ তথ্য ছাড়াই অপেক্ষা করছেন।
ধাপ ৫ · আর্থিক সহায়তা তহবিলে দাবিঅর্থ গ্রহণ
দাবি অনুমোদিত হলে আহত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীদের চেকের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়। তহবিল কেবল মৃত্যু বা শারীরিক আঘাতের জন্য অর্থ দেয়; ধারা ৬০(৩) অনুযায়ী গাড়ির নিজের ক্ষতির জন্য এ থেকে দাবি করা যায় না। তহবিলের অর্থ পাওয়া পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমার পথ বন্ধ করে না, যদিও দ্বৈত আদায় এড়াতে আদালত তা বিবেচনায় নিতে পারেন। প্রথম আলো ২০২৬ সালের এপ্রিলে খবর দিয়েছে যে ২০২৩ সাল থেকে সড়কে মৃত্যু ও আহতের অল্প একটি অংশই তহবিলের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
কোথায়: ট্রাস্টি বোর্ড, আর্থিক সহায়তা তহবিল (বিআরটিএ) · সময়: সিদ্ধান্তের কয়েক সপ্তাহ পর · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫২, ৬০(৩) · কাগজপত্র: অর্থ পরিশোধের চেক, রসিদ
পরামর্শ: প্রাপ্ত অর্থের প্রমাণ রেখে দিন; যেকোনো দেওয়ানি মোকদ্দমায় তা প্রকাশ করতে হবে।
ধাপ ৬ · চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাতদন্ত, গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র
পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্ত করে, যা ধারা ১১৪ অনুযায়ী সড়ক পরিবহন আইনের অপরাধে প্রযোজ্য। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, গাড়ি জব্দ করে, চালকের লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসের কাগজ পরীক্ষা করে এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে। চালককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে; দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রধান অপরাধগুলো জামিন-অযোগ্য হওয়ায় জামিন আদালতের বিবেচনাধীন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ অনুযায়ী পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেন, হয় অভিযোগপত্র (চার্জশিট), নয়তো চূড়ান্ত প্রতিবেদন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পরিবার নারাজি পিটিশন দাখিল করতে পারে।
কোথায়: থানা · সময়: ১-৬ মাস · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ১১৪, ১১৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ · কাগজপত্র: জব্দ তালিকা, ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র, অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন, নারাজি পিটিশন, প্রয়োজন হলে
পরামর্শ: তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে জব্দ তালিকা ও গাড়ির কাগজপত্রের কপি চেয়ে নিন; দেওয়ানি মোকদ্দমার জন্য মালিক শনাক্ত করতে এগুলো কাজে লাগে।
ধাপ ৭ · চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাফৌজদারি বিচার ও জরিমানা থেকে ক্ষতিপূরণ
ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নেন, অভিযোগ গঠন করেন এবং চালকের বিচার করেন। দোষী সাব্যস্ত হলে চালকের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ৯৮ অনুযায়ী আদালত জরিমানার পুরো বা আংশিক অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন, এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৫-ও জরিমানা থেকে ক্ষতিপূরণের সুযোগ দেয়। প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় ফৌজদারি ক্ষতিপূরণ সাধারণত সামান্য, তাই এটি দেওয়ানি দাবির পরিপূরক, বিকল্প নয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়া দেওয়ানি মোকদ্দমায় অবহেলার শক্ত প্রমাণ, যদিও চূড়ান্ত নয়।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ১-৪ বছর · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৯৮; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৫; সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০৫ · কাগজপত্র: অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, রায় ও দণ্ড
পরামর্শ: ধারা ৯৮ ও ১০৫-এর দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত অপরাধ ধারা ১১৭-এ আপসযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়, তাই ব্যক্তিগত সমঝোতা নিজে থেকে ফৌজদারি মামলা শেষ করে না।
ধাপ ৮ · বীমা ও দেওয়ানি মোকদ্দমাদেওয়ানি দাবি মূল্যায়ন ও এক বছরের সময়সীমা
আইনজীবী মূল্যায়ন করেন কে দায়ী: অবহেলার জন্য চালক, এবং মালিক, যিনি সাধারণত চাকরির দায়িত্ব পালনরত চালকের জন্য প্রতিনিধিত্বমূলক দায় (vicarious liability) বহন করেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রে মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫-এর ধারা ১ অনুযায়ী নির্বাহক, প্রশাসক বা প্রতিনিধি স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তানদের পক্ষে মোকদ্দমা করেন, এবং কেবল একটি মোকদ্দমাই করা যায়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ রহিত করায়, ইতোমধ্যে বিচারাধীন মামলা ছাড়া, ওই অধ্যাদেশের অধীন মোটর দুর্ঘটনা দাবি ট্রাইব্যুনালের অবসান হয়েছে; তাই নতুন ক্ষতিপূরণের দাবি সাধারণ দেওয়ানি আদালতে যায়।
তামাদির মেয়াদ স্বল্প: তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী মৃত্যুর তারিখ থেকে এক বছর, আর অনুচ্ছেদ ২২ অনুযায়ী আঘাতের তারিখ থেকে এক বছর।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫-এর ধারা ১, ২, ৩, ৪; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ২১, ২২; সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ১২৫ (মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ রহিতকরণ) · কাগজপত্র: নির্ভরশীলদের তালিকা, আয়ের প্রমাণ: বেতন স্লিপ, আয়কর রিটার্ন, ব্যবসার রেকর্ড, উত্তরাধিকার সনদ বা ওয়ারিশ সনদ
পরামর্শ: প্রথম দিন থেকেই এক বছরের সময়সীমা ডায়েরিতে লিখে রাখুন; দেওয়ানি দাবি ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটিই।
ধাপ ৯ · বীমা ও দেওয়ানি মোকদ্দমানোটিশ ও বীমা দাবি
আইনজীবী গাড়ির মালিক, চালক ও কোনো বীমাকারী থাকলে তাকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠান। সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী যাত্রী বীমা ঐচ্ছিক এবং মালিককে কেবল গাড়িটির বীমা করতে হয়, তাই তৃতীয় পক্ষের কোনো বীমাকারী না-ও থাকতে পারে; পলিসি যাচাই করুন। কোনো পলিসি দাবিটি কাভার করলে বীমা আইন, ২০১০-এর ধারা ৭২ অনুযায়ী সব কাগজপত্র পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বীমাকারীকে অর্থ দিতে হয়, নইলে সুদ দিতে হয়। অঙ্ক নিয়ে ছোট বিরোধ ধারা ৭১ অনুযায়ী আইডিআরএ-তে পাঠানো যায়। বিরোধপূর্ণ বীমা দাবি বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর আওতায় পড়ে।
কোথায়: বীমা কোম্পানি / আইডিআরএ · সময়: ১-৪ মাস · আইন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬০; বীমা আইন, ২০১০-এর ধারা ৭১, ৭২; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(১৯) · কাগজপত্র: আইনি নোটিশ, বীমা পলিসির বিবরণ, সহায়ক কাগজপত্রসহ দাবি ফরম
পরামর্শ: বীমাকারীকে লেখার আগে পুলিশের জব্দ তালিকা বা গাড়ির কাগজ থেকে পলিসি নম্বর সংগ্রহ করুন।
ধাপ ১০ · বীমা ও দেওয়ানি মোকদ্দমাসঠিক আদালতে মোকদ্দমা দাখিল
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫ অনুযায়ী মোকদ্দমাটি বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দাখিল করতে হবে। দেওয়ানি আদালত আইনের সংশোধনীর পর সিভিল জজ (পূর্বে সহকারী জজ) ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ এর বেশি যেকোনো মূল্যের মোকদ্দমা শোনেন। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে অথবা বিবাদীরা যেখানে থাকেন, সেখানে মোকদ্দমা করা যায়। মারাত্মক দুর্ঘটনা আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী আরজিতে যাঁদের পক্ষে দাবি করা হচ্ছে তাঁদের পূর্ণ বিবরণ এবং দাবির ধরন উল্লেখ করতে হবে। দাবিকৃত অঙ্কের ওপর মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি দিতে হয়।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা) · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫, ২০; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৮, ১৯; মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫-এর ধারা ৩; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১ · কাগজপত্র: আরজি, কোর্ট ফি, ওকালতনামা, দলিলপত্রের তালিকা
পরামর্শ: দাবির মূল্য বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করুন; এই মূল্যই আদালত এবং পরে আপিলের ফোরাম দুটোই ঠিক করে।
ধাপ ১১ · বীমা ও দেওয়ানি মোকদ্দমালিখিত জবাব ও মধ্যস্থতা
চালক, মালিক ও বীমাকারীর প্রতি সমন জারি হয়। বিবাদীরা লিখিত জবাব দাখিল করেন, সাধারণত অবহেলা অস্বীকার করে, ভুক্তভোগীকে দায়ী করে, মালিকানা নিয়ে আপত্তি তুলে বা দাবিকৃত আয় চ্যালেঞ্জ করে। লিখিত জবাবের পর দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক অনুযায়ী আদালতকে মামলাটি মধ্যস্থতায় পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করতে হয়, এবং অনেক দাবি এ পর্যায়েই নিষ্পত্তি হয়, বিশেষত যখন মালিক বা বীমাকারী বড় অঙ্কের ডিক্রি এড়াতে চান। এরপর আদালত অবহেলা, দায় ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে বিচার্য বিষয় গঠন করেন।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা) · সময়: ৩-৯ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫, ৮, ১৪; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, মধ্যস্থতা প্রতিবেদন, বিচার্য বিষয়
পরামর্শ: মধ্যস্থতার আগে ক্ষতিপূরণের একটি স্পষ্ট তফসিল তৈরি রাখুন, যাতে প্রস্তাবগুলো পূর্ণ দাবির সঙ্গে তুলনা করা যায়।
ধাপ ১২ · বিচার, ডিক্রি ও আদায়অবহেলা ও ক্ষতির সাক্ষ্য
বাদী প্রত্যক্ষদর্শী, এজাহার, পুলিশ প্রতিবেদন এবং কোনো ফৌজদারি রায় থাকলে তার মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও অবহেলা প্রমাণ করেন, আর বিআরটিএ-র রেকর্ডের মাধ্যমে গাড়ির মালিকানা প্রমাণ করেন। ক্ষতি প্রমাণিত হয় আয়ের কাগজপত্র, নিয়োগকর্তার সাক্ষ্য, চিকিৎসার বিল এবং প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে চিকিৎসকদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে। মৃত্যুর দাবিতে আদালত মৃত ব্যক্তির বয়স, আয়, নির্ভরশীলদের প্রয়োজন এবং সম্ভাব্য কর্মজীবন বিবেচনা করেন। বিবাদীরা ভুক্তভোগীর আংশিক অবহেলা (contributory negligence) নিয়ে জেরা করেন, যেমন অসতর্কভাবে রাস্তা পার হওয়া পথচারী, যা ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কমিয়ে দিতে পারে।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা) · সময়: ১-৩ বছর · আইন: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬, ১৮; মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫-এর ধারা ১ · কাগজপত্র: ফৌজদারি রেকর্ডের সার্টিফায়েড কপি, বিআরটিএ-র মালিকানা রেকর্ড, আয় ও করের কাগজপত্র, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাক্ষ্য
পরামর্শ: বিআরটিএ-র রেজিস্ট্রেশন রেকর্ডের সত্যায়িত কপি নিন; গাড়ির মালিক কে, তা নিয়ে বিরোধ সাধারণ ঘটনা।
ধাপ ১৩ · বিচার, ডিক্রি ও আদায়রায় ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ
আদালত দায় নির্ধারণ করেন এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ণয় করেন। মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন অনুযায়ী আদালত পরিবারের ক্ষতির অনুপাতে ক্ষতিপূরণ দেন, যা আদালতের নির্দেশমতো তাঁদের মধ্যে ভাগ হয়, এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির যেকোনো আর্থিক ক্ষতিও যোগ করতে পারেন। আদালত নির্ভরশীলতার ক্ষতি, চিকিৎসা ও দাফন-কাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ এবং কিছু ক্ষেত্রে যত্ন ও সাহচর্যের ক্ষতি বিবেচনা করেন। বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মামলায় ২০১৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগ বাসমালিক, চালক ও বীমাকারীর বিরুদ্ধে পরিবারকে প্রায় ৪.৬১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেন, যা দেখায় যে আয় ভালোভাবে প্রমাণিত হলে পূর্ণ মূল্যের ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা) · সময়: যুক্তিতর্কের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায় · আইন: মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫-এর ধারা ১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি, সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: অবিলম্বে ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; জারি ও যেকোনো আপিলের জন্য এটি লাগবে।
ধাপ ১৪ · বিচার, ডিক্রি ও আদায়ডিক্রি জারি
বিবাদীরা অর্থ পরিশোধ না করলে ডিক্রিদার দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ অনুযায়ী জারি মামলা দায়ের করেন। আদালত দায়িকের সম্পত্তি, গাড়ি বা ব্যাংক হিসাবসহ, ক্রোক ও নিলাম করতে পারেন, এবং সীমিত ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাবাসের আদেশ দিতে পারেন। বাস কোম্পানি ও মালিকেরা প্রায়ই অন্যের নামে সম্পদ রাখেন, তাই আগেভাগে সম্পদ খুঁজে বের করা জরুরি। ডিক্রি অনুযায়ী কোনো বীমাকারী দায়ী হলে সাধারণত অর্থ আদায় সহজ হয়। ডিক্রিতে দেওয়া সুদ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা) · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫১ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, সম্পদের বিবরণ, ক্রোকের আদেশ
পরামর্শ: মোকদ্দমা চলাকালে মালিক গাড়ি বিক্রি করতে থাকলে আদেশ ৩৮ বিধি ৫ অনুযায়ী রায়ের আগে ক্রোকের আবেদন করুন।
ধাপ ১৫ · বিচার, ডিক্রি ও আদায়নির্ভরশীলদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বণ্টন
মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন অনুযায়ী আদালত নির্দিষ্ট করে দেন স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ কীভাবে ভাগ হবে। নাবালক সন্তানদের অর্থ প্রায়ই বিনিয়োগ করতে বা আদালতের তত্ত্বাবধানে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সম্পত্তির ক্ষতি হিসেবে আদায় হওয়া অংশ মৃত ব্যক্তির সম্পদের অংশ হয় এবং উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী হস্তান্তরিত হয়। তাই বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দাবির শেষ ধাপটি প্রায়ই হয় অর্থ কীভাবে দেওয়া ও সুরক্ষিত হবে সে বিষয়ে আদালতে আরেকটি আবেদন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ মাস · আইন: মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন, ১৮৫৫-এর ধারা ১, ২; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ · কাগজপত্র: বণ্টনের আদেশ, নাবালকদের জন্য ব্যাংক বিনিয়োগের কাগজপত্র
পরামর্শ: নাবালকদের অংশ এমন স্থায়ী আমানতে রাখার আবেদন করুন, যা কেবল আদালতের অনুমতি নিয়ে তোলা যায়।
যদি এমন হয়…? সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
পরাজিত পক্ষ দেওয়ানি ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?
- 1জেলা জজ / দায়রা জজ
জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে। যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির ক্ষেত্রে মোকদ্দমার মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, আর তার বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। জেলা জজের কাছে আপিলের সময়সীমা ৩০ দিন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৯০ দিন। প্রথম আপিলে ক্ষতিপূরণের অঙ্কসহ তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পুনঃশুনানি হয়।
৩০ বা ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল; ১-৩ বছরে নিষ্পত্তিদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২০, ২১দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৬ ও আদেশ ৪১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২, ১৫৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন
বাংলাদেশে ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় আপিল বিলুপ্ত হয়েছে, তাই জেলা জজের আপিল ডিক্রিতে অসন্তুষ্ট পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশনের (revision) আবেদন করেন; এতে তথ্যের পুনঃশুনানি নয়, বরং ন্যায়বিচার ব্যাহতকারী আইনের ভুল সংশোধন করা হয়। আবেদনে নির্দিষ্ট আইনি ভুলটি চিহ্নিত করা উচিত, যেমন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ভুল মানদণ্ড।
১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০০-১০৩ (১৯৭৮ সালে বিলুপ্ত) - 3সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে অনুমতির আবেদন
হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চাইতে পারেন। অনুমতি মূলত আইনের প্রশ্নে দেওয়া হয়, যেমন নির্ভরশীলতার ক্ষতি নির্ধারণের সঠিক পদ্ধতি, অথবা মালিক বা বীমাকারীর দায়। এর মধ্যে ডিক্রি জারি স্থগিত রাখতে আবেদনকারী চেম্বার জজের কাছেও আবেদন করতে পারেন।
অনুমতিতে ৩-১২ মাস; আপিলে ১-২ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সর্বশেষ সিদ্ধান্তদানকারী আদালত ক্ষতিপূরণের অঙ্ক চূড়ান্ত করেন, আর চূড়ান্ত ফোরাম আপিল বিভাগ।
চালক খালাস পেলে বা দণ্ড খুব লঘু মনে হলে কী হবে?
- 1জেলা জজ / দায়রা জজ
দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি আপিল বা রিভিশন
দণ্ডিত চালক ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮ অনুযায়ী দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজের কাছে আপিল করতে পারেন। ভুক্তভোগীর পরিবার অধিকারবলে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে না, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ক অনুযায়ী দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশনের আবেদন করতে পারে, অথবা রাষ্ট্রকে আপিল করার অনুরোধ জানাতে পারে। রিভিশনাল আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও যথার্থতা যাচাই করেন।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮, ৪১৭, ৪৩৫, ৪৩৯ক - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে পরবর্তী রিভিশন
এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ অনুযায়ী রিভিশনে, অথবা আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন, অথবা নির্দেশনাসহ মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত পাঠাতে পারেন। যেকোনো পুনর্বিচার তখন বিদ্যমান পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয়।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯, ৫৬১ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ফৌজদারি মামলার ফলাফল বহাল, সংশোধিত বা পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হয়; দেওয়ানি দাবি আলাদাভাবে চলতে থাকে।
তহবিলের নাকচ হওয়া দাবি বা আদালতের সিদ্ধান্ত কি পুনর্বিবেচনা করা যায়?
- 1ট্রাস্টি বোর্ড, আর্থিক সহায়তা তহবিল (বিআরটিএ)
তহবিলের সিদ্ধান্তের রিভিউ, আপিল ও সালিস
ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে রিভিউর আবেদন করতে পারেন, এরপর রিভিউ সিদ্ধান্তের ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করতে পারেন। তাতেও সন্তুষ্ট না হলে বিধিমালা অনুযায়ী নিযুক্ত সালিসকারীর কাছে আবেদন করতে পারেন, যাঁর রোয়েদাদ ট্রাস্টি বোর্ডের জন্য বাধ্যতামূলক। ২০২২ সালের বিধিমালার বিধি ১৫৩ অনুযায়ী সালিসকারীকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয়।
প্রতিটি পর্যায়ে ৩০ দিনসড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬১(১)-(৩)সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৫২, ১৫৩ - 2যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা)
দেওয়ানি রায়ের রিভিউ
কোনো পক্ষ ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ অনুযায়ী বিচারিক আদালতকে তার নিজের ডিক্রি রিভিউ (review) করতে বলতে পারেন, এই কারণে: আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, নথির মুখে স্পষ্ট ভুল, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ। রিভিউ মামলায় নতুন করে যুক্তি দেওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ নয়।
৯০ দিনের মধ্যে দাখিল; ১-৩ মাসে নিষ্পত্তিদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: স্পষ্ট ভুল দেখানো গেলে তহবিলের সিদ্ধান্ত বা দেওয়ানি রায় সংশোধিত হয়; নইলে তা বহাল থাকে।
হাইকোর্ট বিভাগ কি মামলাটি নিজের কাছে নিতে বা মূল প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অনুচ্ছেদ ১১০ অনুযায়ী প্রত্যাহার বা ধারা ১১৩ অনুযায়ী রেফারেন্স
কোনো মামলায় সাধারণ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত থাকলে হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১০ অনুযায়ী অধস্তন আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে নিজেই নিষ্পত্তি করতে পারেন, অথবা প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন। তারেক মাসুদের দাবির ক্ষেত্রে এটিই ঘটেছিল; ২০১৪ সালে মামলাটি মানিকগঞ্জ থেকে হাইকোর্ট বিভাগে আনা হয়। বিচারিক আদালতও দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ অনুযায়ী আইনের সংশয়পূর্ণ প্রশ্ন রেফার করতে পারেন।
৬-২৪ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১০দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ - 2যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা)
মামলা বিচারিক আদালতে ফেরত
হাইকোর্ট বিভাগ কেবল আইনের প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করলে নিজের রায়সহ মামলাটি ফেরত পাঠান, এবং বিচারিক আদালতকে সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংগতি রেখে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করতে হয়। চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে পক্ষগুলোর স্বাভাবিক আপিলের অধিকার বহাল থাকে। এতে মূল আইনি প্রশ্ন একবারেই মীমাংসা হয়, আর মোকদ্দমা স্থানীয় আদালতেই থাকে।
ফেরত পাওয়ার পর বিচার আবার শুরুসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১০(খ)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ হয় নিজেই দাবিটি নিষ্পত্তি করেন, নয়তো বিচারিক আদালতের প্রয়োগের জন্য আইনের প্রশ্ন মীমাংসা করে দেন।
আপিল আদালত মোকদ্দমাটি ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1জেলা জজ / দায়রা জজ
ডিক্রি রদ এবং পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
বিচারিক আদালত তামাদি বা মালিকানার মতো প্রাথমিক প্রশ্নে মোকদ্দমা খারিজ করলে, অথবা যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ না করলে, জেলা জজ ডিক্রি রদ করে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩ বা ২৫ অনুযায়ী পুনর্বিচারের জন্য, বা নির্দিষ্ট বিচার্য বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য, সাধারণত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মোকদ্দমাটি নিম্ন আদালতে ফেরত (remand) পাঠাতে পারেন।
আপিল নিষ্পত্তির সময়দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৫ - 2যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা)
পুনর্বিচার এবং আবার উচ্চ আদালতে ওঠা
বিচারিক আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিয়ে নতুন ডিক্রি দেন। পরাজিত পক্ষ আবার জেলা জজের কাছে আপিল করতে, তারপর হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন এবং আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারেন, ফলে মামলাটি আবার পুরো আদালত-কাঠামো বেয়ে ওপরে উঠতে পারে। আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য সাধারণত বহাল থাকে।
পুনর্বিচারে ৬-১৮ মাস; পরবর্তী ধাপে ২-৫ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৬দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দাবিটির পুনর্বিচার হয় এবং তা আবার হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে উঠতে পারে।
মালিক বা বীমাকারী আপস করতে চাইলে কী হবে?
- 1যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা)
আপস ডিক্রি
মধ্যস্থতায় বা সরাসরি হওয়া সমঝোতা আদালতে দাখিল করা হয়, আর আদালত তা লিপিবদ্ধ করে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩ অনুযায়ী আপস ডিক্রি দেন, যা অন্য যেকোনো ডিক্রির মতোই জারি করা যায়। নির্ভরশীলদের মধ্যে কোনো নাবালক থাকলে আদেশ ৩২ বিধি ৭ অনুযায়ী আদালতকে আপসটি নাবালকের স্বার্থে বলে অনুমোদন করতে হয়।
১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি ৭দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জারিযোগ্য আপস ডিক্রির মাধ্যমে দেওয়ানি দাবি শেষ হয়, আর ফৌজদারি মামলা নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে।
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দাবি আলাদা আলাদা সিঁড়ি বেয়ে চলে। আর্থিক সহায়তা তহবিলের দাবি শুরু হয় ট্রাস্টি বোর্ডে, এরপর বোর্ডের রিভিউ, সরকারের কাছে আপিল এবং শেষে সালিস; এটি সাধারণ নিয়মে আদালতে যায় না। ফৌজদারি মামলা শুরু হয় থানায়, বিচার করেন ম্যাজিস্ট্রেট, আর আপিল বা রিভিশনে তা দায়রা জজ এবং পরে হাইকোর্ট বিভাগে ওঠে। দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ মোকদ্দমা শুরু হয় মূল্য অনুযায়ী এখতিয়ারসম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, আর এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ।
আপিল যায় জেলা জজের কাছে, তবে ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের যুগ্ম জেলা জজের মোকদ্দমার আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। প্রথম আপিলে তথ্য ও আইনের পুনঃশুনানি হয়। দ্বিতীয় আপিল বিলুপ্ত হওয়ায় এরপর হাইকোর্ট বিভাগ আইনের প্রশ্নে দেওয়ানি রিভিশনের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করেন, আর আপিল বিভাগ কেবল অনুমতি সাপেক্ষে শুনানি করেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ / দায়রা জজ
- প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · যুগ্ম জেলা জজ আদালত (ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা)
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · থানা · ট্রাস্টি বোর্ড, আর্থিক সহায়তা তহবিল (বিআরটিএ) · বীমা কোম্পানি / আইডিআরএ
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর
৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকাঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।
জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।
আর্থিক সহায়তা তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ)
বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়, বনানী, ঢাকাসড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর অধীন আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি বা নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের আর্থিক সহায়তার (ক্ষতিপূরণ) আবেদন নিষ্পত্তি করে।
ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি বিআরটিএ (BRTA) চেয়ারম্যান এবং বোর্ড বিআরটিএ থেকেই কাজ করে। সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী দুর্ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়; বর্তমান সময়সীমা নিশ্চিত হয়ে নিন। বোর্ডে আবেদন করলে ফৌজদারি মামলা বা দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের মামলা বন্ধ হয় না। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
বীমা কোম্পানি / আইডিআরএ
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- আর্থিক সহায়তা তহবিল (Financial Assistance Fund)
- সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৩ অনুযায়ী গঠিত তহবিল, যা সড়ক দুর্ঘটনার ভুক্তভোগী ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের নির্ধারিত অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেয়।
- ট্রাস্টি বোর্ড (Trustee Board)
- বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে গঠিত বোর্ড, যা তহবিলের দাবিগুলো নিষ্পত্তি করে।
- এজাহার (FIR)
- প্রাথমিক তথ্য বিবরণী; থানায় লিপিবদ্ধ আমলযোগ্য অপরাধের রেকর্ড।
- মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন (Fatal Accidents Act)
- ১৮৫৫ সালের আইন, যা অন্যায় কাজ বা অবহেলায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণের মামলা করার সুযোগ দেয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক দায় (Vicarious liability)
- চাকরির দায়িত্ব পালনরত চালকের অবহেলার জন্য মালিক বা নিয়োগকর্তার দায়।
- নির্ভরশীলতার ক্ষতি (Loss of dependency)
- মৃত ব্যক্তি বেঁচে থাকলে পরিবার তাঁর কাছ থেকে যে আর্থিক সহায়তা পেত।
- আংশিক অবহেলা (Contributory negligence)
- দুর্ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে এমন ভুক্তভোগীর অসতর্কতা, যা ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কমাতে পারে।
- আপস ডিক্রি (Compromise decree)
- সমঝোতা লিপিবদ্ধ করে দেওয়া আদালতের ডিক্রি, যা অন্য যেকোনো ডিক্রির মতোই জারিযোগ্য।
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রধান পথগুলো কী কী?
তহবিল থেকে কত টাকা পাওয়া যায়?
তহবিলে আবেদনের শেষ সময় কবে?
দেওয়ানি মোকদ্দমার সময়সীমা কত?
মৃত্যুর ক্ষেত্রে কে মামলা করতে পারেন?
দেওয়ানি মোকদ্দমা কোন আদালতে চলে?
আপস করলে কি চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শেষ হয়ে যায়?
বাসমালিকের বীমা থেকে কি দাবি করা যায়?
আইন ও উৎস
- Road Transport Act 2018 (Act No. 47 of 2018)
- The Fatal Accidents Act, 1855
- The Limitation Act, 1908 (Arts 21, 22, 152, 156, 173)
- The Civil Courts Act, 1887 (as amended to 2026)
- The Code of Civil Procedure, 1908
- The Daily Star: Compensatory provisions for road accident victims (Road Transport Rules 2022)
- Prothom Alo: Road accident victims yet to receive compensation as funds remain unused (April 2026)
- The Daily Star: A landmark compensation suit (Catherine Masud case)
- Banglanews24: HC orders Tk 4.61 crore compensation to Tareque Masud's family
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।