বাংলাদেশে জাহাজ আটক: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/অ্যাডমিরালটি ও শিপিং

বাংলাদেশে জাহাজ আটক: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে জাহাজ আটক (ship arrest) করাতে হয় অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর অধীনে অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে বসা হাইকোর্ট বিভাগ থেকে, ধারা ৩(২)-এ তালিকাভুক্ত কোনো সামুদ্রিক দাবির জন্য জাহাজের বিরুদ্ধে অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা (in rem) দায়ের করে। আরজি গ্রহণের দিনই আদালত আটকের আদেশ দিতে পারেন, এবং এরপর মালিক জামানত না দেওয়া পর্যন্ত বা আদালত নিলামে বিক্রির আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্শাল জাহাজটিকে চট্টগ্রাম, মোংলা বা যেখানে আছে সেখানে আটক রাখেন।

এরপর মামলাটি সাধারণ মোকদ্দমার মতো ডিক্রি, নিলামলব্ধ অর্থ বণ্টন এবং অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগ পর্যন্ত চলে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
আটকযোগ্য সামুদ্রিক দাবি নিশ্চিত করুন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৫টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকা, অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে (অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৮ অনুযায়ী একক…
মূল আইন
অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০ (২০০০ সালের ৪৩ নং আইন), ধারা ৩-৯; অ্যাডমিরালটি রুলস, ১৯১২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (CPC) (২০২৬…
সাধারণ সময়কাল
আটক: দাখিলের দিনই থেকে কয়েক দিনের মধ্যে। জামানতের বিনিময়ে মুক্তি: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। বিচার থেকে ডিক্রি…
কে মামলা করতে পারেন
আইনের ধারা ৩(২)-এর অধীনে সামুদ্রিক দাবি আছে এমন যেকোনো ব্যক্তি: পণ্যের মালিক ও বিমাকারী, চার্টারার, বাংকার ও…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৫টি ধাপ

বাংলাদেশে জাহাজ আটক: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. বাংলাদেশে জাহাজ আটক: ধাপ ১, আটকযোগ্য সামুদ্রিক দাবি নিশ্চিত করুন
    ধাপ ১ · দাখিলের আগে

    আটকযোগ্য সামুদ্রিক দাবি নিশ্চিত করুন

    জাহাজ-সংক্রান্ত প্রতিটি পাওনাই আটকের যুক্তি হয় না। আইনজীবী প্রথমে যাচাই করেন দাবিটি অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)-এর কোনো দফায় পড়ে কি না, যেমন পণ্যের ক্ষতি (ছ), চার্টারপার্টি বিরোধ (জ), উদ্ধার (ঝ), প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বাংকার (ঠ), মেরামত (ড), নাবিকদের মজুরি (ঢ) বা বন্ধক (গ)। এরপর ধারা ৪ নির্ধারণ করে জাহাজের বিরুদ্ধে in rem মোকদ্দমা করা যাবে কি না। এর জন্য প্রয়োজন সামুদ্রিক লিয়েন, মালিকানা বা বন্ধক-সংক্রান্ত দাবি, অথবা মোকদ্দমা দায়েরের সময় ব্যক্তিগতভাবে (in personam) দায়ী ব্যক্তি জাহাজটির বা কোনো সিস্টার শিপের প্রকৃত মালিক হওয়া।

    কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: ১-৫ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২); অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(২)-(৪) · কাগজপত্র: চুক্তি, বিল অব লেডিং বা চার্টারপার্টি, ইনভয়েস ও হিসাব বিবরণী, খেলাপ প্রমাণকারী চিঠিপত্র

    পরামর্শ: চার্টারারের বিরুদ্ধে দাবির ভিত্তিতে সাধারণত চার্টার করা জাহাজটি আটক করা যায় না, কারণ চার্টারার জাহাজের মালিক নন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত এমন এক বাংকার সরবরাহকারীর মোকদ্দমা খারিজ করেন, যার বাংকার চার্টারার অর্ডার করেছিলেন: দাবিটি তামাদিতে বারিত ছিল, in rem শর্ত পূরণ হয়নি, এবং মালিকের জামানত ফেরত দেওয়া হয়।

  2. বাংলাদেশে জাহাজ আটক: ধাপ ২, জাহাজের অবস্থান অনুসরণ করুন ও তামাদির মেয়াদ যাচাই করুন
    ধাপ ২ · দাখিলের আগে

    জাহাজের অবস্থান অনুসরণ করুন ও তামাদির মেয়াদ যাচাই করুন

    জাহাজ কেবল বাংলাদেশের জলসীমায় থাকা অবস্থায়ই আটক করা সম্ভব, সাধারণত চট্টগ্রাম বহির্নোঙর, মোংলা বা কোনো নদীঘাটে। আইনজীবী এজেন্টের আগমন ঘোষণা ও ট্র্যাকিং তথ্যের মাধ্যমে জাহাজের সম্ভাব্য আগমন নজরে রাখেন এবং আগেই কাগজপত্র প্রস্তুত করেন। একই সঙ্গে তামাদি যাচাই করা হয়, কারণ চুক্তিতে বিদেশি আইন বেছে নেওয়া থাকলেও আদালত ফোরামের আইন হিসেবে তামাদি আইন, ১৯০৮ প্রয়োগ করেন। সংঘর্ষজনিত দাবিতে দুই বছর, পরিবহনকারীর বিরুদ্ধে দাবিতে এক বছর এবং নাবিকদের মজুরিতে তিন বছর। প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো in rem মোকদ্দমা চলে না, এবং সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের জাহাজ আটক করা যায় না (ধারা ৯)।

    কোথায়: দাবিদারের আইনজীবী · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ, আগমনের সময় অনুযায়ী · আইন: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৩০, ৩১, ৩৬ ও ১০১; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৯ · কাগজপত্র: জাহাজের বিবরণ (আইএমও নম্বর, পতাকা, মালিক), সম্ভাব্য আগমনের সময়, তামাদির হিসাব

    পরামর্শ: তামাদির মেয়াদ পার হওয়ার পর দায়ের করা মোকদ্দমা গ্রহণের পর্যায়েই খারিজ হয়, এবং তামাদি আইনের ধারা ৫ একে রক্ষা করতে পারে না।

  3. বাংলাদেশে জাহাজ আটক: ধাপ ৩, আরজি ও আটকের আবেদন দাখিল করুন
    ধাপ ৩ · দাখিল ও আটক

    আরজি ও আটকের আবেদন দাখিল করুন

    আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী দেওয়ানি কার্যবিধি মোতাবেক লিখিত, স্বাক্ষরিত ও সত্যপাঠকৃত আরজির মাধ্যমে মোকদ্দমা শুরু হয়। in rem মোকদ্দমায় বিবাদীকে উল্লিখিত জাহাজের মালিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে বর্ণনা করা যায়, এবং সাধারণত মালিক, ম্যানেজার, মাস্টার ও স্থানীয় এজেন্টকে পক্ষভুক্ত করা হয়, সঙ্গে বন্দর ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে মোকাবিলা বিবাদী (pro forma) হিসেবে। হলফনামা-সমর্থিত একটি পৃথক আবেদনে আটকের পরোয়ানা চাওয়া হয়। কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে বা নগদে রেজিস্ট্রারের কাছে পরিশোধ করা হয়, সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৬; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৭; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৫ ও আদেশ ৭ বিধি ১; অ্যাডমিরালটি রুলস, ১৯১২-এর বিধি ৩ · কাগজপত্র: সত্যপাঠকৃত আরজি, আটকের আবেদন ও হলফনামা, বিদেশি দাবিদারের জন্য মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, কোর্ট ফি

    পরামর্শ: আপনার বিপক্ষে যায় এমন প্রতিটি তথ্য প্রকাশ করুন, যেকোনো সালিশ ধারা বা বিদেশে চলমান কার্যধারাসহ। তথ্য গোপন করা আটকাদেশ প্রত্যাহারের একটি চিরাচরিত কারণ।

  4. বাংলাদেশে জাহাজ আটক: ধাপ ৪, গ্রহণ শুনানি ও আটকাদেশ
    ধাপ ৪ · দাখিল ও আটক

    গ্রহণ শুনানি ও আটকাদেশ

    একক বিচারপতির অ্যাডমিরালটি বেঞ্চ আরজি গ্রহণের শুনানি করেন, প্রায়ই দাখিলের দিনই। বিচারক তামাদি এবং আরজিতে আইনের আওতাভুক্ত কোনো সামুদ্রিক দাবি প্রকাশ পায় কি না তা যাচাই করেন। প্রাথমিকভাবে মামলা (prima facie) প্রমাণিত হলে অ্যাডমিরালটি কোর্ট মোকদ্দমা গ্রহণ করেন, সমন জারি করেন এবং দাবির জামানত হিসেবে একতরফা আটকাদেশ দেন। তাই বাংলাদেশে জাহাজ আটক একটি আদালতের আদেশ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; বন্দর নিজে থেকে কোনো বেসরকারি পাওনাদারের জন্য জাহাজ আটকে রাখতে পারে না।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: একই দিন থেকে ৩ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৮; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৪); অ্যাডমিরালটি রুলস, ১৯১২ (হলফনামার ভিত্তিতে আটকের পরোয়ানা) · কাগজপত্র: গৃহীত আরজি, স্বাক্ষরিত আটকাদেশ

    পরামর্শ: আদেশটি দ্রুততম উপায়ে পৌঁছানোর আবেদন করুন; পণ্য খালাস শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাজ ছেড়ে যেতে পারে।

  5. ধাপ ৫: মার্শাল পরোয়ানা জারি করেন
    ধাপ ৫ · দাখিল ও আটক

    মার্শাল পরোয়ানা জারি করেন

    অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল আটকাদেশ কার্যকর করেন। আদেশটি বন্দর কর্তৃপক্ষ, হারবার মাস্টার, কাস্টমস ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরে পাঠানো হয় এবং জাহাজে মাস্টারের ওপর জারি করা হয়। তখন থেকে জাহাজটি আদালতের হেফাজতে থাকে: এটি ছেড়ে যেতে পারে না, এবং মুক্তির আদেশ না হওয়া পর্যন্ত পোর্ট ক্লিয়ারেন্স স্থগিত থাকে। আদালত জাহাজের নিবন্ধন সনদ মার্শালের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারেন। অনুমতি ছাড়া আটক জাহাজ সরানো আদালত অবমাননা।

    কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: একই দিন থেকে ২ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৪); অ্যাডমিরালটি রুলস, ১৯১২ (হলফনামার ভিত্তিতে আটকের পরোয়ানা) · কাগজপত্র: আটকের পরোয়ানা, বন্দর, কাস্টমস ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠি

    পরামর্শ: মার্শালের প্রতিটি যোগাযোগের কপি রাখুন; পরে বিরোধ প্রায়ই নির্ভর করে আদেশটি ঠিক কখন জাহাজে পৌঁছেছিল তার ওপর।

  6. ধাপ ৬: বন্দরে আটক জাহাজ
    ধাপ ৬ · দাখিল ও আটক

    বন্দরে আটক জাহাজ

    বাংলাদেশে জাহাজ আটকের পর জাহাজটি মার্শালের হেফাজতে নোঙরে বা জেটিতে থাকে। বন্দর মাশুল, নাবিকদের মজুরি ও রসদের খরচ চলতে থাকে, এবং নিরাপদ জনবল রাখার দায়িত্ব মালিকেরই থাকে। অপরিশোধিত মাশুলের জন্য জাহাজ আটক রাখা ও পোর্ট ক্লিয়ারেন্স না দেওয়ার পৃথক নিজস্ব ক্ষমতা বন্দর কর্তৃপক্ষের আছে, যা আদালতের আদেশের পাশাপাশি চলে। জাহাজ পরিত্যক্ত হলে নাবিক ও বন্দর প্রায়ই একই মোকদ্দমায় নির্দেশনার আবেদন করে, কারণ অপরিশোধিত মজুরি ও বন্দর চার্জ পরে নিলামলব্ধ অর্থ থেকে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য হবে।

    কোথায়: বন্দর কর্তৃপক্ষ ও হারবার মাস্টার (চট্টগ্রাম বা মোংলা) · সময়: জামানত দেওয়া বা নিলামের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত · আইন: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ধারা ২৯-৩০; অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৭) · কাগজপত্র: বন্দর মাশুলের বিবরণী, নাবিক তালিকা, মার্শালের হেফাজত প্রতিবেদন

    পরামর্শ: দীর্ঘ আটক জাহাজের মূল্য নষ্ট করে। অন্য কোনো জামানত না থাকলে দাবিদারের উচিত মোকদ্দমা চলাকালীন নিলামের (sale pendente lite) জন্য আগেভাগেই আবেদন বিবেচনা করা।

  7. ধাপ ৭: আটকাদেশ প্রত্যাহারে মালিকের আবেদন
    ধাপ ৭ · জামানত ও মুক্তি

    আটকাদেশ প্রত্যাহারে মালিকের আবেদন

    মালিক, ডিসপোনেন্ট মালিক বা জাহাজে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি হাজির হয়ে আটকাদেশ প্রত্যাহার বা রদের আবেদন করতে পারেন, কখনো কখনো আরজি ফেরত বা নাকচের জন্য আদেশ ৭ বিধি ১০ বা ১১ অনুযায়ী আবেদনসহ। সাধারণ কারণগুলো হলো দাবিটি সামুদ্রিক দাবি নয়, ধারা ৪-এর শর্ত পূরণ হয়নি, দাবিটি তামাদিতে বারিত, অথবা তথ্য গোপন করা হয়েছে। কেবল জাহাজ রক্ষা বা জামানত দেওয়ার জন্য হাজির হওয়া নিজে থেকে মূল বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার মেনে নেওয়া হিসেবে গণ্য হয় না।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ সপ্তাহ · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১০ ও ১১; আইল্যান্ড অয়েল লিমিটেড বনাম এম.টি. মান্দালা, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ২১/২০২৩ (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ প্রত্যাহারের আবেদন, লিখিত আপত্তি, মালিকানা ও চার্টার-সংক্রান্ত দলিল

    পরামর্শ: যে মালিক জাহাজ চালু রাখতে চান, তাঁর উচিত সাধারণত আটকাদেশের বিরোধিতা করার পাশাপাশি অধিকার ক্ষুণ্ন না করে (without prejudice) জামানত প্রস্তাব করা।

  8. ধাপ ৮: মুক্তির জন্য জামানত
    ধাপ ৮ · জামানত ও মুক্তি

    মুক্তির জন্য জামানত

    বেশির ভাগ আটক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, জামানতের মাধ্যমে শেষ হয়। আদালত একটি অঙ্ক নির্ধারণ করেন এবং মালিক মোকদ্দমার ফলাফল মেনে নেওয়ার শর্তে মার্শালের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি বা নগদ জমা দেন। অঙ্কটি কেবল দাবিকৃত অঙ্ক নয়: আদালত সুদ ও খরচসহ দাবিদারের সর্বোত্তম যুক্তিসংগতভাবে উপস্থাপনযোগ্য দাবি বিবেচনা করেন, এবং তা কমাতে বা বাড়াতে পারেন। ২০২৬ সালের মার্চে আদালত প্রায় ২৭.৮ লাখ মার্কিন ডলারের দাবিতে জামানত কমিয়ে ২,৫০,০০০ মার্কিন ডলার করেন। ২০২৬ সালের মার্চের আরেক মোকদ্দমায় ঋণদাতার কাছে বন্ধক রাখা একটি হাল বিমা পলিসি জামানত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

    কোথায়: গ্যারান্টি প্রদানকারী ব্যাংক · সময়: কয়েক দিন থেকে ৩ সপ্তাহ · আইন: অ্যাডমিরালটি রুলস, ১৯১২-এর বিধি ২৩ ও ৩১; এম.ভি. ইউ ব্যাং, ৫১ ডিএলআর (এডি) ৯০; গ্র্যান্ডি সেন্ট্রাল ইস্ট শিপিং বনাম এম.ভি. প্রিন্সেস জিয়া জিয়া, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৮/২০২৬; সাবেরা বেগম বনাম এম.ভি. টিটু ৫৪, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ১৩/২০২৬ · কাগজপত্র: মার্শালের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, মুক্তির আদেশের খসড়া

    পরামর্শ: বিদেশে পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের লেটার অব আন্ডারটেকিং প্রচলিত, তবে দাবিদার অন্যভাবে সম্মত না হলে বাংলাদেশের আদালত সাধারণত ব্যাংক গ্যারান্টিই চেয়েছেন।

  9. ধাপ ৯: মুক্তির আদেশ ও জাহাজের প্রস্থান
    ধাপ ৯ · জামানত ও মুক্তি

    মুক্তির আদেশ ও জাহাজের প্রস্থান

    গ্যারান্টি গৃহীত হলে আদালত মুক্তির আদেশ দেন এবং মার্শাল বন্দর, কাস্টমস ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে জানান, যাতে জাহাজটি ছেড়ে যেতে পারে। এখন জামানতই জাহাজের স্থলাভিষিক্ত, এবং দাবিদারের চূড়ান্ত ডিক্রি এখান থেকেই পরিশোধ হবে। আদালত শর্ত যোগ করতে পারেন, যেমন মোকদ্দমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মালিককে জাহাজ হস্তান্তর বা পরিবর্তন থেকে বিরত রাখার নিষেধাজ্ঞা, যেমনটি ২০২৬ সালের এক সংঘর্ষ মামলায় করা হয়েছিল।

    কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: ১-৩ দিন · আইন: অ্যাডমিরালটি রুলস, ১৯১২-এর বিধি ২৩ ও ৩১; সাবেরা বেগম বনাম এম.ভি. টিটু ৫৪, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ১৩/২০২৬ · কাগজপত্র: মুক্তির আদেশ, বন্দর ও কাস্টমসে মার্শালের চিঠি

    পরামর্শ: গ্যারান্টির ভাষা হুবহু আদালতের আদেশ অনুযায়ী কি না যাচাই করুন; ব্যাংক প্রায়ই এমন মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যোগ করে যা আদালত অনুমোদন করেননি।

  10. ধাপ ১০: লিখিত জবাব ও পাল্টা দাবি
    ধাপ ১০ · বিচার

    লিখিত জবাব ও পাল্টা দাবি

    বিবাদীরা লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং পাল্টা দাবি করতে পারেন, সবচেয়ে বেশি অন্যায় আটকের ক্ষতিপূরণের জন্য। বাংলাদেশ পুরোনো ইংরেজি মানদণ্ড অনুসরণ করে: কেবল দাবি পরে ব্যর্থ হলেই নয়, আটক অসৎ উদ্দেশ্যে বা চরম অবহেলায় করা হলে তবেই ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। আদালত আটককারী পক্ষকে পাল্টা জামানত দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। এক মোকদ্দমায় মালিকের ১ কোটি মার্কিন ডলারের জামানতের সুদ বাবদ ১০ লাখ মার্কিন ডলারের গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছিল, তবে পাল্টা দাবির বিপরীতে অতিরিক্ত জামানত নামঞ্জুর করা হয়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১ ও ৬; সাংহাই লিশেং অয়েল কো. বনাম এম.টি. গালা, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৮/২০২২ (১১ মার্চ ২০২৫) · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, পাল্টা দাবি, পাল্টা জামানতের আবেদন

    পরামর্শ: জামানত বাড়াতে দাবি অতিরঞ্জিত করলে দাবিদার জামানত হ্রাস এবং অন্যায় আটকের পাল্টা দাবি উভয়েরই ঝুঁকিতে পড়েন।

  11. ধাপ ১১: বিচার্য বিষয়, সাক্ষ্য ও শুনানি
    ধাপ ১১ · বিচার

    বিচার্য বিষয়, সাক্ষ্য ও শুনানি

    অ্যাডমিরালটি কোর্ট বিচার্য বিষয় গঠন করেন এবং দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচার চলে। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে জবানবন্দি হলফনামায় দেওয়া হয় এবং মুলতবির সংখ্যা সীমিত, যা সেসব সামুদ্রিক দাবির মোকদ্দমায় সহায়ক যেখানে সাক্ষীরা নাবিক বা বিদেশে থাকা ম্যানেজার। লগবুক, বিল অব লেডিং, সার্ভে রিপোর্ট ও ইনভয়েসের মতো দলিল সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়, এবং আদালত যৌথ সার্ভের আদেশ দিতে পারেন। বিদেশি দলিলের প্রত্যয়িত অনুবাদ লাগে, এবং বিদেশে থাকা সাক্ষীদের দূরবর্তীভাবে বা কমিশনের মাধ্যমে জেরা করা যেতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬-৩০ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ (কমিশন) · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনী (এক্সিবিট), সার্ভে রিপোর্ট

    পরামর্শ: বিদেশি প্রতিটি দলিল কীভাবে প্রমাণ করা হবে তা আগেভাগে পরিকল্পনা করুন। অপ্রমাণিত প্রদর্শনী বিচারে সামুদ্রিক দাবি ব্যর্থ হওয়ার একটি সাধারণ কারণ।

  12. ধাপ ১২: রায় ও ডিক্রি
    ধাপ ১২ · ডিক্রি, নিলাম ও বণ্টন

    রায় ও ডিক্রি

    আদালত জাহাজের বিরুদ্ধে in rem এবং মালিকদের বিরুদ্ধে in personam রায় দেন, সাধারণত দাখিল থেকে পরিশোধ পর্যন্ত সুদসহ। দাবি প্রমাণিত হলে ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিলামলব্ধ অর্থ থেকে ডিক্রি পরিশোধ হয়। দাবি ব্যর্থ হলে মোকদ্দমা খারিজ হয়, জামানত ফেরত দেওয়া হয় এবং অন্যায় আটকের কোনো পাল্টা দাবি থাকলে তার নিষ্পত্তি হয়। অনেক মোকদ্দমা এই পর্যায়ের আগেই আপসে নিষ্পত্তি হয় এবং আদেশ ২৩ বিধি ৩ অনুযায়ী আপস ডিক্রি হয়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির ১-৩ মাস পর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ ও ৬; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৪ (সুদ) · কাগজপত্র: রায়, স্বাক্ষরিত ডিক্রি

    পরামর্শ: দ্রুত সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; আপিল বিভাগে অনুমতি চাওয়ার সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

  13. ধাপ ১৩: মূল্য নিরূপণ ও আদালতের নিলাম
    ধাপ ১৩ · ডিক্রি, নিলাম ও বণ্টন

    মূল্য নিরূপণ ও আদালতের নিলাম

    কোনো জামানত দেওয়া না হলে আদালত জাহাজের মূল্য নিরূপণ করে মার্শালের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির আদেশ দেন, ডিক্রির পর অথবা আগেই, মোকদ্দমা চলাকালে (pendente lite), যদি জাহাজের অবনতি ঘটে বা খরচ বাড়তে থাকে। আদালতের নিলামে জাহাজ সব দাবিমুক্ত অবস্থায় হস্তান্তরিত হয়, এবং দাবিগুলো তখন নিলামের অর্থের ওপর বর্তায়। বাংলাদেশি জাহাজের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশে হস্তান্তরের অধিকারী একজন ব্যক্তির নাম থাকে, এবং সেই ভিত্তিতে নিবন্ধন বদলানো হয়।

    কোথায়: অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · সময়: ২-৬ মাস · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৭); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৩৯ · কাগজপত্র: নিলামের আদেশ, মূল্য নিরূপণ প্রতিবেদন, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, বিক্রয়পত্র (বিল অব সেল)

    পরামর্শ: আগ্রহী দাবিদারদের নিলামের শর্ত ঘনিষ্ঠভাবে নজরে রাখা উচিত; কম সংরক্ষিত মূল্য খরচের পরে অগ্রাধিকারে থাকা সবারই ক্ষতি করে।

  14. ধাপ ১৪: অগ্রাধিকার ও নিলামলব্ধ অর্থের বণ্টন
    ধাপ ১৪ · ডিক্রি, নিলাম ও বণ্টন

    অগ্রাধিকার ও নিলামলব্ধ অর্থের বণ্টন

    নিলাম তহবিল থেকে কে আগে পাবেন, তা একই আদালত নির্ধারণ করেন। একটি জাহাজের বিরুদ্ধে প্রায়ই একাধিক মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকে, তাই মার্শাল সব দাবি, পরিশোধ ও অবশিষ্ট অর্থের প্রতিবেদন দেন। ২০২৫ সালে একটি জাহাজের বিরুদ্ধে নয়টি মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর আদালত এক ডিক্রিদারকে কেবল আনুপাতিক অংশ দেন। মার্শালের কমিশন ও হেফাজত খরচ সবার আগে। নাবিকদের মজুরি অন্যান্য লিয়েনের আগে, তারপর মাস্টার, এবং নিবন্ধিত বন্ধক নিবন্ধনের তারিখ অনুযায়ী অগ্রাধিকার পায়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৩-২৪ মাস · আইন: অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪(৭); বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ধারা ৪০(৪), ৪৭৭-৪৭৯; মো. ইউসুফ আলী বনাম এম.ভি. হার্টি ফ্যালকন, জারি মামলা নং ১/২০২৫ · কাগজপত্র: মার্শালের প্রতিবেদন, দাবি ও ডিক্রি, অগ্রাধিকারের আবেদন

    পরামর্শ: জাহাজ আটক থাকা অবস্থায় দ্রুত নিজের মোকদ্দমা দায়ের করুন; যাঁরা অপেক্ষা করেন তাঁরা দেখতে পারেন তহবিল ইতিমধ্যে বণ্টন হয়ে গেছে।

  15. ধাপ ১৫: অ্যাডমিরালটি ডিক্রি জারি
    ধাপ ১৫ · ডিক্রি, নিলাম ও বণ্টন

    অ্যাডমিরালটি ডিক্রি জারি

    ডিক্রিদার মোকদ্দমা থেকে উদ্ভূত একটি জারি মামলা অ্যাডমিরালটি এখতিয়ারে দায়ের করে ব্যাংক গ্যারান্টি বা মার্শালের হিসাব থেকে পরিশোধ চান। ডিক্রিকৃত সামুদ্রিক দাবির তুলনায় জামানত কম হলে আদেশ ২১ অনুযায়ী বাংলাদেশে মালিকের অন্যান্য সম্পদের বিরুদ্ধে in personam ডিক্রি জারি করা যায়। কখনো কখনো অস্থায়ীভাবে পরিশোধ করে একই জাহাজের বিরুদ্ধে অন্য মোকদ্দমাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জারি মামলা চালু রাখা হয়, যাতে পরবর্তী দাবিদারেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০ ও ১১; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২-১৮৩ (ডিক্রির ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য যাচাই করুন) · কাগজপত্র: জারির দরখাস্ত, সার্টিফায়েড ডিক্রি, ব্যাংক গ্যারান্টি

    পরামর্শ: ব্যাংক গ্যারান্টি বহাল রাখুন। মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই নবায়নের নির্দেশ দিতে আদালতকে অনুরোধ করুন।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে জাহাজ আটক যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · অ্যাডমিরালটি কোর্ট → আপিল বিভাগ

পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হবে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    লিভ টু আপিল পিটিশন

    অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইনে নিজস্ব কোনো আপিলের বিধান নেই, তাই অ্যাডমিরালটি কোর্টের ডিক্রি বা গুরুত্বপূর্ণ আদেশ, যেমন আটক, মুক্তি বা জামানতের আদেশ, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ কোনো সাংবিধানিক প্রশ্ন প্রত্যয়ন না করলে পক্ষকে অনুমতি নিতে হয় এবং ষাট দিনের মধ্যে সিভিল লিভ টু আপিল পিটিশন দাখিল করতে হয়। ডিক্রি বা নিলামের আদেশ স্থগিতের আবেদন পৃথকভাবে চেম্বার জজের কাছে করা হয়।

    দাখিলে ৬০ দিন; অনুমতির জন্য ৬-১৮ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    দেওয়ানি আপিল ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    অনুমতি মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ দেওয়ানি আপিলের শুনানি করেন, মূলত আইনগত প্রশ্নে, যেমন এখতিয়ার, ধারা ৪-এ আটকের শর্ত বা জামানতের অঙ্ক। আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন, এবং এর রায় সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক। মুক্তির জন্য দেওয়া জামানত সাধারণত আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে।

    ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে বিরোধের অবসান হয়, এবং সে অনুযায়ী জামানতের অর্থ পরিশোধ বা ফেরত দেওয়া হয়।

রিভিউ · অ্যাডমিরালটি কোর্ট → অ্যাডমিরালটি কোর্ট → আপিল বিভাগ

একই আদালত কি নিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    অ্যাডমিরালটি কোর্টে রিভিউ

    নথিতে সুস্পষ্ট ভুল, যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন সাক্ষ্য, বা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকলে পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ অনুযায়ী একই অ্যাডমিরালটি বেঞ্চে রিভিউর (review) আবেদন করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের মূল এখতিয়ারের রায়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা মাত্র বিশ দিন। রিভিউ নতুন করে শুনানি নয়, এবং ব্যর্থ আবেদনকারী তবুও আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারেন, যিনি নিজেও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী ত্রিশ দিনের মধ্যে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।

    দাখিলে ২০ দিন; ১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৬২বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সীমিত বিষয়ে আদেশটি বহাল বা সংশোধিত হয়, এবং মামলা তবুও আপিল বিভাগে যেতে পারে।

বিকল্প পথ · অ্যাডমিরালটি কোর্ট → আপিল বিভাগ

আটকাদেশের বিরুদ্ধে কি দেওয়ানি রিভিশন চলে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    রিভিশন নয়; বরং প্রত্যাহার, রিভিউ বা অনুমতির আবেদন

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী রিভিশন অধস্তন আদালতের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে চলে। অ্যাডমিরালটি কোর্ট নিজেই হাইকোর্ট বিভাগ, তাই এর আটক, জামানত ও মুক্তির আদেশ রিভিশনযোগ্য নয়। বাংলাদেশে জাহাজ আটকে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিশনের বিকল্প পথগুলো ব্যবহার করেন: আটকাদেশ প্রত্যাহার বা সংশোধনের জন্য একই আদালতে আবেদন, সুস্পষ্ট ভুলের জন্য রিভিউ আবেদন, অথবা আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন।

    আদেশের পরপরইদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(১)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: চ্যালেঞ্জ অ্যাডমিরালটি কোর্টের মধ্যেই থাকে অথবা ওপরে আপিল বিভাগে যায়।

রেফারেন্স · অ্যাডমিরালটি কোর্ট → অ্যাডমিরালটি কোর্ট → আপিল বিভাগ

মামলাটি কি বৃহত্তর বেঞ্চে যেতে পারে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    প্রধান বিচারপতি কর্তৃক গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ

    অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা একক বিচারপতি শোনেন, তবে ধারা ৮-এর শর্তাংশ প্রধান বিচারপতিকে নির্দিষ্ট মোকদ্দমার জন্য দুই বা ততোধিক বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের অনুমতি দেয়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা বারবার উত্থাপিত প্রশ্ন উঠলে এটি ব্যবহার করা হয়, যেমন ধারা ৪-এর পরিধি বা অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সম্পর্ক, এবং একক বিচারপতি আদেশের জন্য নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। বৃহত্তর বেঞ্চের সিদ্ধান্তই তখন অ্যাডমিরালটি কোর্টের সিদ্ধান্ত।

    ৩-১২ মাসঅ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৮বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বৃহত্তর বেঞ্চ প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করেন, এবং মামলা চলতে থাকে অথবা অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগে যায়।

রিমান্ড (ফেরত) · অ্যাডমিরালটি কোর্ট → আপিল বিভাগ → অ্যাডমিরালটি কোর্ট → আপিল বিভাগ

আপিল বিভাগ মামলাটি ফেরত পাঠালে কী হবে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আদেশ বাতিল ও মোকদ্দমা ফেরত

    অ্যাডমিরালটি কোর্ট মূল বিষয় নিষ্পত্তি না করে এখতিয়ার বা তামাদির মতো প্রাথমিক প্রশ্নে আরজি ফেরত বা নাকচ করলে আপিল বিভাগ সেই আদেশ বাতিল করে মোকদ্দমাটি বিচারের জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন। পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরতের আদেশে অ্যাডমিরালটি কোর্টকে কী নিষ্পত্তি করতে হবে তা উল্লেখ থাকে, এবং আগের আটক বা জামানতের আদেশ পুনর্বহাল হতে পারে।

    আপিলের রায়ের সঙ্গেইবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১০ ও ১১
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    মূল বিষয়ে বিচার এবং আবার ওপরে যাওয়া

    অ্যাডমিরালটি কোর্ট মোকদ্দমাটি নথিতে পুনর্বহাল করেন, সাক্ষ্য শোনেন এবং সামুদ্রিক দাবির বিষয়ে নতুন রায় দেন। যেকোনো পক্ষ আবার আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারেন, এবার মূল বিষয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। ফেরত পাঠানোতে সময় বাড়ে, তাই পক্ষগুলো প্রায়ই সম্মত হন যে পুরো সময় জামানত বহাল থাকবে।

    ১-৩ বছরঅ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মোকদ্দমাটি নিচে মূল বিষয়ে নিষ্পত্তি হয় এবং অনুমতি নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।

আপস-মীমাংসা · অ্যাডমিরালটি কোর্ট → মার্শাল → অ্যাডমিরালটি কোর্ট

আটকের বিষয়টি কি আপসে মীমাংসা করা যায়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আপস-মীমাংসা ও আপস ডিক্রি

    জাহাজ আটক হলে বাণিজ্যিক পক্ষগুলো প্রায়ই আপস করে। পক্ষগুলো স্বাক্ষরিত আপস চুক্তিসহ যৌথ আবেদন দাখিল করে, এবং আদালত আদেশ ২৩ বিধি ৩ অনুযায়ী চুক্তির শর্তে ডিক্রি দেন, যেমনটি ২০২৫ সালে এক সরকারি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় হয়েছিল। এরপর আদালত জাহাজ বা ব্যাংক গ্যারান্টি মুক্ত করার আদেশ দেন, এবং মার্শাল বন্দরকে জানান।

    কয়েক দিন থেকে ২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জাহাজ ছেড়ে যায়, দাবিদার আপস অনুযায়ী অর্থ পান, এবং আপস ডিক্রির মাধ্যমে মোকদ্দমা শেষ হয়।

বিকল্প পথ · আইনজীবী → অ্যাডমিরালটি কোর্ট → মার্শাল

চুক্তিতে বিদেশে সালিশের শর্ত থাকলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    বিদেশি সালিশের জামানত হিসেবে আটক

    চার্টারপার্টি ও বিল অব লেডিং প্রায়ই বিরোধ লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে সালিশে পাঠায়। অ্যাডমিরালটি কোর্ট মেনে নিয়েছেন যে উপযুক্ত ক্ষেত্রে এমন সালিশের জামানত পেতে জাহাজ আটক করা যায়। তবুও ধারা ৪ পূরণ করে এমন সামুদ্রিক দাবি এবং সালিশের বিষয়ে পূর্ণ তথ্য প্রকাশ প্রয়োজন। ওই শর্ত ছাড়া কেবল চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চাওয়া একটি আটকাদেশ ২০২৬ সালে জামানত ছাড়াই প্রত্যাহার করা হয়।

    সাধারণ আটকের মতোইঅ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৪গ্লোব ওশান শিপিং বনাম এম.ভি. টেলেরিগ, অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা নং ৬১/২০২৫ (১৩ জানুয়ারি ২০২৬)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জাহাজ আটক থাকে বা জামানতের বিনিময়ে মুক্ত হয়, আর মূল বিষয় বিদেশের সালিশি ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তি করে।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

বাংলাদেশে জাহাজ আটক যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে জাহাজ আটক আদালত ব্যবস্থার শীর্ষ থেকে শুরু হয়। অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(১) হাইকোর্ট বিভাগকে অ্যাডমিরালটি কোর্ট করেছে, তাই কোনো নিম্ন আদালত, আর্থিক এখতিয়ারসীমা বা জেলা পর্যায়ের ফোরাম নেই। মামলা আনা যাবে কি না তা নির্ভর করে বিষয়বস্তুর ওপর: দাবিটি ধারা ৩(২)-এর আওতায় পড়তে হবে, এবং in rem আটকে ধারা ৪ পূরণ করতে হবে। ধারা ৮ অনুযায়ী একক বিচারপতি মোকদ্দমা শোনেন, এবং প্রধান বিচারপতি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করতে পারেন। অ্যাডমিরালটি কোর্ট বিচারিক আদালতের সব কাজই করেন: তথ্য ও আইনের প্রশ্ন নিষ্পত্তি, জাহাজ আটক ও মুক্তি, নিলামের আদেশ এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ।

এটি হাইকোর্ট বিভাগ বলে এর আদেশ ধারা ১১৫ অনুযায়ী রিভিশনযোগ্য নয় এবং আদালতের ভেতরে কোনো আপিল নেই। ওপরে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো একই বেঞ্চে রিভিউ এবং, অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি সাপেক্ষে, আপিল বিভাগ, যিনি মূলত আইনগত প্রশ্ন নিষ্পত্তি করেন এবং মামলা বিচারের জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. শুরু · আদালতের বাইরেদাবিদারের আইনজীবী · বন্দর কর্তৃপক্ষ ও হারবার মাস্টার (চট্টগ্রাম বা মোংলা) · অ্যাডমিরালটি কোর্টের মার্শাল · গ্যারান্টি প্রদানকারী ব্যাংক
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

শুরু · আদালতের বাইরে

দাবিদারের আইনজীবী

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)

বন্দর, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করে: জাহাজ ভেড়ানো, বন্দর মাশুল, পণ্য হ্যান্ডলিং ও সংরক্ষণ; বন্দরে থাকা জাহাজ আটক ও মুক্তির আদালতের আদেশ কার্যকর করে এবং অপরিশোধিত বন্দর মাশুলের জন্য পণ্য আটকে রাখতে পারে।

যাচাইয়ের সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি, তাই ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। অ্যাডমিরালটি আটকাদেশ বন্দর নয়, হাইকোর্ট বিভাগ জারি করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।

শুরু · আদালতের বাইরে

গ্যারান্টি প্রদানকারী ব্যাংক

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

দাখিলের আগে
০.১–১ মাস
দাখিল ও আটক
০.০৩–০.২৫ মাস
জামানত ও মুক্তি
০.২৫–৩ মাস
বিচার
৯–৩৬ মাস
ডিক্রি, নিলাম ও বণ্টন
৩–২৪ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১২.৩৮–৬৪.২৫ মাস · সামগ্রিক: আটক: দাখিলের দিনই থেকে কয়েক দিনের মধ্যে। জামানতের বিনিময়ে মুক্তি: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। বিচার থেকে ডিক্রি: প্রায় ১-৪ বছর। নিলাম ও বণ্টন: অনেক দাবি প্রতিযোগিতা করলে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

জাহাজের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা (Action in rem)
জাহাজকেই বিবাদী করে দায়ের করা মোকদ্দমা, যার মাধ্যমে আদালত দাবি পূরণে জাহাজ আটক ও নিলাম করতে পারেন।
ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোকদ্দমা (Action in personam)
মালিক বা চার্টারারের মতো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোকদ্দমা, যা সেই ব্যক্তির সম্পদের বিরুদ্ধে কার্যকরযোগ্য।
সামুদ্রিক দাবি (Maritime claim)
অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩(২)-এ তালিকাভুক্ত ধরনের দাবি, যেমন পণ্য, উদ্ধার, মজুরি বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
সামুদ্রিক লিয়েন (Maritime lien)
আইনবলে জাহাজের ওপর বর্তানো একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দাবি, যা বিক্রির পরও জাহাজকে অনুসরণ করে, যেমন নাবিকদের মজুরি।
মার্শাল (Marshal)
অ্যাডমিরালটি কোর্টের কর্মকর্তা, যিনি আটকের পরোয়ানা কার্যকর করেন, আটক জাহাজ হেফাজতে রাখেন, আদালতের নিলাম পরিচালনা করেন এবং নিলামলব্ধ অর্থ সংরক্ষণ করেন।
জামানত (Security)
আটক জাহাজ মুক্ত করার জন্য মার্শালের কাছে দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নগদ জমা; এটি জাহাজের স্থলাভিষিক্ত হয়।
সিস্টার শিপ (Sister ship)
দায়ী ব্যক্তির মালিকানাধীন অন্য একটি জাহাজ, যা সংশ্লিষ্ট জাহাজের পরিবর্তে আটকের অনুমতি ধারা ৪(৪)(খ) দেয়।
অন্যায় আটক (Wrongful arrest)
অসৎ উদ্দেশ্যে বা চরম অবহেলায় করা আটক, যার জন্য আটককারী পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
মোকদ্দমা চলাকালীন নিলাম (Sale pendente lite)
মোকদ্দমা নিষ্পত্তির আগেই আদালতের আদেশে আটক জাহাজের নিলাম, যাতে খরচে এর মূল্য ক্ষয়ে না যায়।
প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে জাহাজ আটক: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে জাহাজ আটকের আদেশ কোন আদালত দেন?
বেসরকারি সামুদ্রিক দাবির জন্য জাহাজ আটক করতে পারেন কেবল অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০-এর ধারা ৩ অনুযায়ী অ্যাডমিরালটি কোর্ট হিসেবে বসা হাইকোর্ট বিভাগ। জাহাজ চট্টগ্রাম বা মোংলায় থাকলেও বাংলাদেশে জাহাজ আটকের মোকদ্দমা ঢাকার সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়। এরপর মার্শাল সংশ্লিষ্ট বন্দর, কাস্টমস ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরে আদেশ পাঠান।
কত দ্রুত জাহাজ আটক করা যায়?
প্রায়ই আরজি দাখিলের দিনই। বিচারক আরজি গ্রহণের শুনানি করেন এবং প্রাথমিকভাবে সামুদ্রিক দাবি দেখানো গেলে ও মোকদ্দমা তামাদির মেয়াদের মধ্যে থাকলে একতরফা আটকের আদেশ দেন। মার্শাল একই দিনে বন্দরে আদেশ পৌঁছাতে পারেন, এ কারণেই বাংলাদেশে জাহাজ আটকের কাগজপত্র সাধারণত জাহাজ আসার আগেই প্রস্তুত রাখা হয়।
চার্টারারের দেনার জন্য কি জাহাজ আটক করা যায়?
সাধারণত না। ধারা ৪(৪) অনুযায়ী বেশির ভাগ দাবিতে in rem মোকদ্দমা চলে কেবল তখনই, যখন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ব্যক্তি জাহাজটির বা কোনো সিস্টার শিপের প্রকৃত মালিক। টাইম বা ভয়েজ চার্টারার জাহাজের মালিক নন; ২০২৬ সালে আদালত এই ভিত্তিতে in rem শর্ত পূরণ হয়নি বলে মালিকের জামানত ফেরত দেন। সামুদ্রিক লিয়েন-সমর্থিত দাবি এর ব্যতিক্রম।
মালিক কীভাবে জাহাজ মুক্ত করবেন?
জামানত দিয়ে, সাধারণত আদালত নির্ধারিত অঙ্কের মার্শালের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি। আদালত অঙ্কটি দাবিদারের সর্বোত্তম যুক্তিসংগতভাবে উপস্থাপনযোগ্য দাবি পর্যন্ত কমাতে পারেন। গ্যারান্টি গৃহীত হলে মুক্তির আদেশ বন্দর ও কাস্টমসে যায়। মালিক একই সময়ে দাবির বিরোধিতা করতে পারেন, তবে জামানত হিসেবে হাল বিমা পলিসির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
বাংলাদেশে জাহাজ আটকে খরচ কত?
কোর্ট ফি কোর্ট ফি আইন অনুযায়ী হিসাব করা হয়, তবে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা, এবং নাবিকের মজুরি দাবিতে মাত্র ১০০ টাকা। অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে আইনজীবীর ফি, নোটারাইজড ও অনূদিত দলিল, মার্শালের চার্জ এবং কখনো কখনো আদালতের আদেশে পাল্টা জামানত। দীর্ঘ আটকে হেফাজত খরচ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশে জাহাজ আটকের সর্বশেষ ফি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে যাচাই করুন।
অন্যায় আটকের জন্য মালিক কি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন?
হ্যাঁ, তবে মানদণ্ড কঠোর। দ্য ইভানজেলিসমস মামলার নীতি অনুসারে মালিককে দেখাতে হবে যে আটক অসৎ উদ্দেশ্যে বা চরম অবহেলায় করা হয়েছিল, কেবল দাবি ব্যর্থ হয়েছে তা নয়। দাবিটি সাধারণত একই মোকদ্দমায় পাল্টা দাবি হিসেবে তোলা হয়, এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে আদালত দাবিদারকে পাল্টা জামানত দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন।
কেউ টাকা না দিলে এবং জাহাজ আটকই থাকলে কী হয়?
দাবিদার মার্শালের মাধ্যমে জাহাজের মূল্য নিরূপণ ও নিলামের আবেদন করতে পারেন, জাহাজের অবনতি ঘটতে থাকলে রায়ের আগেই। আদালতের নিলামে ক্রেতা দায়মুক্ত স্বত্ব পান। এরপর প্রত্যেক দাবিদার নিলাম তহবিলের বিপরীতে নিজের দাবি প্রমাণ করেন, এবং আদালত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, যেখানে মার্শালের খরচ ও নাবিকদের মজুরি সবার আগে।
আটকাদেশের বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?
সাধারণ আপিল বা রিভিশন নয়, কারণ অ্যাডমিরালটি কোর্টই হাইকোর্ট বিভাগ। বাংলাদেশে জাহাজ আটকের আদেশের বিরুদ্ধে পক্ষ একই আদালতে আটকাদেশ প্রত্যাহার বা সংশোধনের আবেদন করতে পারেন, সুস্পষ্ট ভুলের জন্য বিশ দিনের মধ্যে রিভিউ চাইতে পারেন, অথবা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী ষাট দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন দাখিল করতে পারেন।

আইন ও উৎস

  1. Admiralty Court Act 2000 (Act 43 of 2000) — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  2. Bangladesh Merchant Shipping Ordinance 1983 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  3. Limitation Act 1908 — Laws of Bangladesh (laws.sayed.app mirror)
  4. High Court Division, Grandee Central East Shipping LLC v M.V. Princess Jia Jia, Admiralty Suit No. 8 of 2026 (10 March 2026)
  5. High Court Division, Globe Ocean Shipping Pte Ltd v M.V. Telerig, Admiralty Suit No. 61 of 2025 (13 January 2026)
  6. High Court Division, Shanghai Lisheng Oil Co v M.T. Gala, Admiralty Suit No. 8 of 2022 (11 March 2025)
  7. High Court Division, Island Oil Ltd v M.T. Mandala, Admiralty Suit No. 21 of 2023 (27 January 2026)
  8. High Court Division, Md. Yousuf Ali v M.V. Hearty Falcon, Execution Case No. 1 of 2025 (16 March 2025)
  9. High Court Division, Sabera Begum v M.V. Titu 54, Admiralty Suit No. 13 of 2026 (15 March 2026)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp