সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট হলো কোনো সংবিধিবদ্ধ কর্পোরেশন, কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমন একজন কর্মচারীর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন (writ petition), যাঁর নিয়োগকর্তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের (Administrative Tribunal) এখতিয়ারের বাইরে; এতে বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত, পদোন্নতি বা পেনশন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হয়।
প্রথম প্রশ্ন সব সময় ফোরাম নিয়ে: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কেবল প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর তফসিলে উল্লিখিত সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর কর্মচারীদের বিষয় দেখে, আর অনুচ্ছেদ ১১৭(২) ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে অন্য সব আদালতকে বারিত করে। কর্মচারীদের আগে কোনো বিভাগীয় আপিলের সুযোগ থাকলে তা ব্যবহার করতে হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে মামলার সঠিক স্থান শ্রম আদালত বা দেওয়ানি আদালত।
- কোথা থেকে শুরু
- চাকরি প্রবিধানমালার অধীনে নিয়োগকর্তার নিজস্ব শৃঙ্খলা বা আপিল কর্তৃপক্ষ; এরপর নিয়োগকর্তা যদি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের…
- মূল আইন
- বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ১০২(২) ও (৫), ১০৩, ১০৫, ১১২, ১১৭ ও ১৫২; প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ২(কক) ও ৪…
- সাধারণ সময়কাল
- বিভাগীয় আপিল: প্রায় ১-৩ মাস। রিট মোশন: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। রুলের চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ১-৪ বছর। আপিল…
- কে মামলা করতে পারেন
- কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মরত, সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, যাঁর চাকরি সংবিধিবদ্ধ…
সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · আদেশ ও ফোরামের প্রশ্নচ্যালেঞ্জকৃত আদেশ
বিরোধ শুরু হয় নিয়োগকারী সংস্থার একটি আদেশ থেকে: বিভাগীয় কার্যধারার পর বরখাস্ত বা অপসারণ, সাময়িক বরখাস্ত, পদোন্নতিতে ডিঙিয়ে যাওয়া, জ্যেষ্ঠতা তালিকা, অথবা পেনশন বা আনুতোষিক বন্ধ। কর্মচারীর উচিত আদেশটি কোন তারিখে দেওয়া হয়েছে এবং কোন তারিখে হাতে পেয়েছেন তা লিখে রাখা, কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত একটি কপি সংগ্রহ করা এবং কোন কর্মকর্তা বা বোর্ড আদেশটি দিয়েছে তা যাচাই করা। অনেক সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিজস্ব আইনের অধীনে প্রণীত চাকরি প্রবিধানমালা আছে, যেখানে বলা থাকে কে কোন দণ্ড দিতে পারবেন এবং কীভাবে। প্রবিধানমালায় উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের চেয়ে নিম্নপদস্থ কারও দেওয়া আদেশ প্রায়ই বাতিল (void) হয়।
কোথায়: নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড) · সময়: একই দিন · আইন: নিয়োগকারী সংস্থার আইন ও চাকরি প্রবিধানমালা; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ) · কাগজপত্র: চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ, জারির তারিখ দেখানো খাম বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র
পরামর্শ: যে তদন্ত প্রতিবেদন বা বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তার কপি লিখিতভাবে চেয়ে নিন। পরবর্তী প্রতিটি ধাপে এটি লাগবে।
ধাপ ২ · আদেশ ও ফোরামের প্রশ্নআগে ফোরাম ঠিক করুন
আইনজীবী চারটি প্রশ্ন করেন। নিয়োগকর্তা কি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর তফসিলে আছে? তফসিলে কেবল দশটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। থাকলে পেনশন ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীসহ সব বিষয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের একচ্ছত্র এখতিয়ার রয়েছে, এবং অনুচ্ছেদ ১১৭(২) রিট বারিত করে। নিয়োগকর্তা আদৌ সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, নাকি একটি কোম্পানি? আপিল বিভাগ বলেছে, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কার্যক্রম রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। চাকরি প্রবিধানমালা কি সংবিধিবদ্ধ? এবং কর্মচারী কি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীনে শ্রমিক? উত্তরগুলো হাইকোর্ট বিভাগের দিকে নির্দেশ করলেই কেবল সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট এগোয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১৭(২); প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ২(কক) ও ৪ এবং তফসিল; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(৫) ও ১৫২; মহাব্যবস্থাপক (শৃঙ্খলা ও আপিল), রূপালী ব্যাংক লি. বনাম মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, XII ADC (২০১৫) (AD) ২৯৪; মো. রোকনুজ্জামান বনাম বাংলাদেশ ব্যাংক, রিট পিটিশন নং ১২৭১৪/২০২৫ (২৯ জুলাই ২০২৬) · কাগজপত্র: নিয়োগকর্তার আইন ও চাকরি প্রবিধানমালা, নিয়োগপত্র, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর তফসিল
পরামর্শ: ফোরাম নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের ছয় মাসের সময়সীমা পার হতে দেবেন না। আইন যেখানে নির্দেশ করে, সেখানে সময়মতো মামলা করুন।
ধাপ ৩ · আদেশ ও ফোরামের প্রশ্নচাকরির রেকর্ড ও কার্যধারার কাগজ সংগ্রহ
রিট নিষ্পত্তি হয় দলিলের ভিত্তিতে, তাই আইনজীবী নিয়োগপত্র, গেজেটে প্রকাশিত চাকরি প্রবিধানমালা, কারণ দর্শানোর নোটিশ, তার জবাব, অভিযোগনামা, তদন্ত প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত শুনানির রেকর্ড, চূড়ান্ত আদেশ এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত সংগ্রহ করেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে গ্রেডেশন তালিকা, পদোন্নতি কমিটির কার্যবিবরণী ও মানদণ্ড; পেনশনের ক্ষেত্রে পেনশন প্রবিধানমালা ও হিসাব। দলিলগুলোতেই বেআইনি দিকটি স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে, কারণ হাইকোর্ট বিভাগ অসদাচরণ নিয়ে বিতর্কিত তথ্যের মীমাংসা করবে না।
কোথায়: নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড) · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: নিয়োগকারী সংস্থার চাকরি প্রবিধানমালা; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩১ · কাগজপত্র: চাকরি প্রবিধানমালা (গেজেট কপি), কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জবাব, অভিযোগনামা ও তদন্ত প্রতিবেদন, পদোন্নতি কমিটির কার্যবিবরণী বা পেনশনের হিসাব
পরামর্শ: প্রবিধানমালার গেজেট সংস্করণ সংগ্রহ করুন। অপ্রকাশিত অফিস আদেশের আইনের বল না-ও থাকতে পারে।
ধাপ ৪ · আদেশ ও ফোরামের প্রশ্নবিভাগীয় আপিল বা রিভিউ
বেশির ভাগ চাকরি প্রবিধানমালায় দণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে, প্রায়ই বোর্ড বা চেয়ারম্যানের কাছে, আপিলের সুযোগ থাকে; বোর্ড নিজে আদেশ দিলে রিভিউয়ের সুযোগ থাকে। অনুচ্ছেদ ১০২(২)-এর বিকল্প প্রতিকারের নীতি অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত আশা করে যে আগে সেই আপিল ব্যবহার করা হবে, যদি না আদেশটি সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে, অসৎ উদ্দেশ্যে, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন করে বা কোনো সাক্ষ্য ছাড়াই দেওয়া হয়ে থাকে। আপিলে প্রতিটি যুক্তি উল্লেখ করা হয়, দলিল সংযুক্ত করা হয় এবং প্রবিধানমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিলের প্রমাণসহ তা দায়ের করা হয়।
কোথায়: নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড) · সময়: প্রবিধানমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল; সিদ্ধান্ত ১-৩ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২) (সমান কার্যকর অন্য কোনো প্রতিকার না থাকা); মোশাররফ হোসেন বনাম অর্থঋণ আদালত নং ১, ১৯ SCOB [২০২৪] HCD ১২৬ (বিকল্প প্রতিকার নীতির ব্যতিক্রম) · কাগজপত্র: বিভাগীয় আপিল বা রিভিউ আবেদন, দাখিলের প্রমাণ, আপিলের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত
পরামর্শ: আপিল সংযত ও পূর্ণাঙ্গ রাখুন। এই পর্যায়ে বাদ পড়া যুক্তি পরে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তোলা কঠিন।
ধাপ ৫ · আদেশ ও ফোরামের প্রশ্ননিষ্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ
অভিযোগ যদি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হয়, যেমন পদোন্নতির জন্য কখনো বিবেচনা না করা, বকেয়া পরিশোধ না করা বা পেনশন ফাইল অনিষ্পন্ন ফেলে রাখা, তবে পরমাদেশ বা ম্যান্ডামাস (mandamus) রিটের জন্য সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে কর্মচারী আইনগত দায়িত্ব পালনের দাবি জানিয়েছিলেন এবং তা প্রত্যাখ্যাত বা উপেক্ষিত হয়েছে। আইনজীবী চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ (notice demanding justice) পাঠান, যেখানে দায়িত্ব সৃষ্টিকারী প্রবিধান এবং একটি যুক্তিসংগত সময়সীমা উল্লেখ থাকে। আপিল বিভাগ বলেছে, এ ধরনের সংস্থাকে অবসর-সুবিধার ক্ষেত্রে নিজস্ব আইন মানতে হবে, এবং আইনের বলহীন অফিস আদেশ ম্যান্ডামাসের মাধ্যমে বলবৎ করা যায় না।
কোথায়: নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড) · সময়: ২-৪ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ); সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় বনাম খ. মোসাদ্দেক হোসেন, সিভিল আপিল নং ৪৮-৫৪/২০১৭ (২ মে ২০১৯) · কাগজপত্র: ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ, প্রাপ্তির প্রমাণ, কোনো জবাব
পরামর্শ: সাধারণ কোনো সরকারি পরিপত্র নয়, সংস্থার নিজস্ব পেনশন বা পদোন্নতি প্রবিধান উদ্ধৃত করুন।
ধাপ ৬ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশরিট পিটিশনের খসড়া
পিটিশনে প্রথমে সেই তথ্যগুলো উল্লেখ করা হয়, যেগুলো মামলাটিকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বাইরে রাখে: নিয়োগকর্তার আইন, তফসিলে তার অনুপস্থিতি, চাকরি প্রবিধানমালার সংবিধিবদ্ধ চরিত্র এবং বিভাগীয় আপিল শেষ হওয়া। এরপর যুক্তিগুলো দেওয়া হয়: ক্ষমতাহীন কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড, প্রবিধানমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ বা তদন্ত না হওয়া, সাক্ষ্য ছাড়াই সিদ্ধান্ত, অসৎ উদ্দেশ্য বা বৈষম্য। প্রার্থিত প্রতিকার হলো আদেশটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া দেওয়া হয়েছে মর্মে ঘোষণা, এবং তার পরিণতিতে চাকরিতে পুনর্বহাল, পদোন্নতি বা পেনশন। সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট-এ সব যুক্তি একবারেই তুলতে হবে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও ১০২(২)(ক); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১ · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া ও সংযুক্তি, নিয়োগকর্তার আইন ও প্রবিধানমালা, বিভাগীয় আপিল ও তার সিদ্ধান্ত
পরামর্শ: ফোরাম-সংক্রান্ত তথ্য দলিলসহ পিটিশনেই উল্লেখ করুন। জবাবের জন্য রেখে দিলে সরাসরি খারিজ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ধাপ ৭ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশহলফনামা, দায়ের ও নোটিশ জারি
পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টে একজন হলফনামা কমিশনারের সামনে হলফনামা (affidavit) দ্বারা সত্যায়িত করে সংযুক্তি ও কোর্ট ফিসহ রিট শাখায় দায়ের করা হয়। কোনো মন্ত্রণালয় প্রতিপক্ষ হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এবং নিয়োগকারী সংস্থার কাছে কপি পাঠানো হয়; সংস্থাটির পক্ষে সাধারণত তার নিজস্ব প্যানেল আইনজীবী উপস্থিত থাকেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে সাধারণত থাকে চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে সংস্থাটি নিজে, শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় এবং পদোন্নতির মামলায় যেসব সহকর্মীকে আবেদনকারীকে ডিঙিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাঁরা।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ দিন · আইন: সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক (Chapter XIA); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) (বেঞ্চ) · কাগজপত্র: শপথকৃত হলফনামা, ওকালতনামা, নোটিশ জারির রসিদ
পরামর্শ: পদোন্নতির মামলায় যাঁদের আপনাকে ডিঙিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পক্ষভুক্ত করুন। পক্ষ না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিকার দেওয়া যায় না।
ধাপ ৮ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশমোশন শুনানি ও রক্ষণীয়তার আপত্তি
মোশন শুনানিতে অ্যাডভোকেট দেখান যে যুক্তিসংগতভাবে বেআইনি কিছু ঘটেছে, এবং কেন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালত বা দেওয়ানি আদালত নয়, হাইকোর্ট বিভাগই সঠিক ফোরাম। নিয়োগকর্তার আইনজীবী প্রায়ই সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি তোলেন যে নিয়োগকর্তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত, প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ নয়, অথবা কর্মচারী একজন শ্রমিক। বেঞ্চ কেবল দেখে যে রক্ষণীয়তা (maintainability) ও মূল বিষয় — উভয় ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য মামলা আছে কি না, এবং হয় পিটিশন খারিজ করে, নয়তো রুল নিশি (Rule Nisi) জারি করে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দায়েরের ১-২১ দিন পর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২ ও অনুচ্ছেদ ১১৭(২) · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, নিয়োগকর্তার আইন ও প্রবিধানমালার কপি
পরামর্শ: আইন ও তফসিল আদালতে সঙ্গে নিয়ে যান। ফোরাম নিয়ে স্পষ্ট উত্তর প্রায়ই মোশনের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
ধাপ ৯ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশরুল নিশি ও অন্তর্বর্তী আদেশ
সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে যে কেন আদেশটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া দেওয়া হয়েছে মর্মে ঘোষণা করা হবে না। চাকরির মামলায় অন্তর্বর্তী প্রতিকার দেওয়া হয় সতর্কতার সঙ্গে। আদালত বরখাস্ত আদেশ বা আবেদনকারীর পদে নতুন নিয়োগ স্থগিত করতে পারে, কোনো পদোন্নতি রুলের ফলাফলসাপেক্ষ হবে বলে নির্দেশ দিতে পারে, অথবা সাময়িক বরখাস্তকালে খোরাকি ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে, তবে অন্তর্বর্তী পর্যায়ে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ কদাচিৎ দেয়। যেকোনো স্থগিতাদেশ সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তা বাড়াতে হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনই · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২) · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ রুল নিশি জারির আদেশ
পরামর্শ: আপনার পদে যেকোনো পদোন্নতি বা নিয়োগ রুলের ফলাফলসাপেক্ষ করার আবেদন করুন। এতে সংস্থার কাজ না থামিয়েই প্রতিকারের সুযোগ সুরক্ষিত থাকে।
ধাপ ১০ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশনিয়োগকর্তার কাছে আদেশ পৌঁছানো
আইনজীবী আদেশের সার্টিফায়েড কপি নিয়োগকারী সংস্থার চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্মী/প্রশাসন বিভাগ এবং নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেন ও প্রাপ্তির সিল সংরক্ষণ করেন, এবং প্রত্যেক প্রতিপক্ষের কাছে রুলের নোটিশ যাওয়ার জন্য তলবানা (requisites) দাখিল করেন। আদেশে বরখাস্ত স্থগিত বা পদ সুরক্ষিত হলে কর্মচারীর উচিত সংস্থাকে লিখে জানতে চাওয়া যে তারা আদেশ মানবে কি না। আদেশ পৌঁছানোর পর তা লঙ্ঘন করে দেওয়া পদোন্নতি বা নিয়োগ পরে বাতিল হতে পারে এবং আদালত অবমাননার কার্যধারা শুরু হতে পারে।
কোথায়: নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড) · সময়: ১-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, প্রাপ্তির সিলসহ ফরোয়ার্ডিং চিঠি, নোটিশের তলবানা
পরামর্শ: চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কর্মী/প্রশাসন বিভাগেও আদেশ পৌঁছে দিন। পদায়ন ও পদোন্নতির কাজ সেখানেই হয়।
ধাপ ১১ · রুল শুনানি ও রায়জবাবি হলফনামা ও প্রত্যুত্তর
নিয়োগকর্তা শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত রেকর্ড সংযুক্ত করে হলফনামার মাধ্যমে রুলের জবাব দেয় এবং সাধারণত রক্ষণীয়তার আপত্তি পুনরায় তোলে। তারা যুক্তি দিতে পারে যে চাকরি প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ নয়, তাই সম্পর্কটি মালিক ও কর্মচারীর (master and servant), এবং একমাত্র প্রতিকার দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণ। আবেদনকারী প্রবিধানমালার গেজেট প্রকাশনা, যে সংবিধিবদ্ধ বিধানের অধীনে তা প্রণীত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কোনো সরকারি অনুমোদন দেখিয়ে প্রত্যুত্তর দেন। পদোন্নতির মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সহকর্মীরা নিজেরাও জবাব দাখিল করতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২; বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশন বনাম মাহবুব হোসেন চৌধুরী, ২৯ DLR (SC) ৪১ · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা (affidavit-in-opposition), প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply), সম্পূরক হলফনামা
পরামর্শ: প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ নয় — এই যুক্তির সরাসরি জবাব দিন। পুনর্বহালের প্রতিকার আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা এর ওপরই নির্ভর করে।
ধাপ ১২ · রুল শুনানি ও রায়শুনানির অপেক্ষা
চাকরি-সংক্রান্ত রুল চূড়ান্ত শুনানির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে পারে। এই সময়ে আবেদনকারী অন্তর্বর্তী আদেশ বহাল রাখেন, অবসর বা নতুন আদেশের মতো পরবর্তী ঘটনা নিয়ে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করেন এবং একই তথ্যের ভিত্তিতে সমান্তরাল কার্যধারা শুরু করা থেকে বিরত থাকেন। প্রবিধানমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জসহ প্রতিটি আইনি যুক্তি আগেই পিটিশনে থাকা উচিত: ২০২৬ সালের আগস্টে হাইকোর্ট বিভাগ গঠনমূলক রেস জুডিকাটার (constructive res judicata) ভিত্তিতে একটি রুল খারিজ করেছে, যেখানে কর্মচারীরা এমন একটি ক্ষমতাবহির্ভূততার (vires) যুক্তি তুলেছিলেন যা তাঁরা আগের রিটেই তুলতে পারতেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ বছর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩); মো. বেলায়েত হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৫০২৯/২০২১ (৯ আগস্ট ২০২৬) · কাগজপত্র: মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন, সম্পূরক হলফনামা
পরামর্শ: রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অবসরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হলফনামা দাখিল করুন, যাতে প্রতিকার পেনশন ও বকেয়ার আলোকে নির্ধারণ করা যায়।
ধাপ ১৩ · রুল শুনানি ও রায়চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ
চূড়ান্ত শুনানিতে বেঞ্চ প্রথমে রক্ষণীয়তার প্রশ্ন নিষ্পত্তি করে। নিয়োগকর্তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত হলে মূল বিষয় না দেখেই রুল খারিজ হয়; ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর মামলায় তা-ই করেছে, তবে নির্দেশ দিয়েছে যে ট্রাইব্যুনালে তাঁর উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে তামাদি বাধা হবে না। রিট রক্ষণীয় হলে এবং আদেশ বেআইনি হলে আদালত তা আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া দেওয়া হয়েছে মর্মে ঘোষণা করে এবং বকেয়াসহ পুনর্বহাল, পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা বা পেনশন প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে, অথবা সংস্থাকে নতুন করে আইনসম্মত তদন্ত করার স্বাধীনতা দিতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩টি শুনানির দিন; রায় একই দিনে বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক); মোহাম্মদ সোলায়মান বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৪১১৬/২০১০ (২৩ নভেম্বর ২০২৫); প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৪(২) ও (৩) · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: ফোরামের কারণে রুল খারিজ হলে একই শুনানিতে বেঞ্চের কাছে সঠিক ফোরামে যাওয়ার অনুমতি এবং অতিবাহিত সময় বাদ দেওয়ার আবেদন করুন।
ধাপ ১৪ · রায় বাস্তবায়ননিয়োগকর্তা কর্তৃক রায় বাস্তবায়ন
সফল কর্মচারী রায়ের সার্টিফায়েড কপি নিয়োগকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চান: পুনর্বহাল, বেতন ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, বকেয়া পরিশোধ, নতুন পদোন্নতির সিদ্ধান্ত বা পেনশন ছাড়। অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী সরকারি কর্তৃপক্ষগুলো সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য। এই পর্যায়ে সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট-এ প্রায়ই বারবার চিঠি দিতে হয়, এবং সংস্থা রায় উপেক্ষা করলে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার আবেদন করা যায়।
কোথায়: নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে চিঠি, রায় বাস্তবায়নে বোর্ডের সিদ্ধান্ত
পরামর্শ: কোনো প্রাপ্তিরসিদে সই করার আগে বকেয়ার লিখিত হিসাব চেয়ে নিন এবং নিজের বেতন স্কেলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
যদি এমন হয়…? সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
নিয়োগকর্তা বা কর্মচারী আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন
কর্মচারীকে পুনর্বহাল বা বকেয়া পরিশোধের আদেশ পাওয়া নিয়োগকর্তা প্রায়ই রায় স্থগিতের জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করে। চেম্বার জজ স্থগিত করতে পারেন, আবেদন নাকচ করতে পারেন অথবা বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে পাঠাতে পারেন। পুনর্বহালের স্থগিতাদেশ সাধারণ ঘটনা; স্বীকৃত পেনশন পরিশোধ স্থগিত হওয়া তুলনামূলক কম। কর্মচারীর উচিত হাজির হয়ে বিরোধিতা করা, অথবা আংশিক স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দেওয়া।
১-৮ সপ্তাহবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (চেম্বার জজ) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির আবেদন ও সিভিল আপিল
পরাজিত পক্ষ সাধারণত রায়ের ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন (civil petition for leave to appeal) দাখিল করে। আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে অনুমতি দেওয়া হয়, যেমন প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ কি না বা কোনো সংস্থা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত কি না। ২০১৯ সালে সরকারের আপিলে আপিল বিভাগ বলেছে, কর্পোরেশন ও জাতীয়করণকৃত ব্যাংকগুলোকে অবসর-সুবিধার ক্ষেত্রে নিজস্ব আইন মানতে হবে।
১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় বনাম খ. মোসাদ্দেক হোসেন, সিভিল আপিল নং ৪৮-৫৪/২০১৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে, পরিবর্তন করে বা উল্টে দেয়, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
আদালত বিষয়টি নিয়োগকর্তার কাছে ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড)
নিয়োগকর্তার নতুন তদন্ত বা পুনর্বিবেচনা
কারণ দর্শানোর নোটিশ না দেওয়া বা শুনানি ছাড়া তদন্তের মতো পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য বরখাস্ত আদেশ বাতিল হলে হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই সংস্থাকে তার প্রবিধানমালা অনুযায়ী নতুন তদন্ত করার স্বাধীনতা দেয়। পদোন্নতির মামলায় আদালত পদোন্নতি কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারে। সংস্থাকে যথাযথ শুনানি দিয়ে কারণসহ নতুন আদেশ দিতে হবে।
২-৬ মাসনিয়োগকারী সংস্থার চাকরি প্রবিধানমালাবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আবার হাইকোর্ট বিভাগে
নতুন আদেশটি একটি নতুন সিদ্ধান্ত। এর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় আপিলের পর কর্মচারী নতুন রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন, অথবা আদালত আগের কার্যধারা চালু রাখলে তাতেই আবেদন করে হাইকোর্ট বিভাগে ফিরতে পারেন। দ্বিতীয় শুনানি সাধারণত এই প্রশ্নে নিষ্পত্তি হয় যে নিয়োগকর্তা এবার আদালতের নির্দেশনা ও নিজস্ব প্রবিধানমালা মেনেছে কি না।
৬-২৪ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিয়োগকর্তা নিচের পর্যায়ে আবার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা চ্যালেঞ্জ হলে হাইকোর্ট বিভাগ নতুন আদেশটি পর্যালোচনা করে।
আদালত কি নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭-এর নীতি প্রয়োগ করে কোনো পক্ষ রিট বেঞ্চের কাছে তার রায়ের রিভিউ (review) চাইতে পারে কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুল থাকলে, অথবা এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য পাওয়া গেলে যা আগে উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না। রিভিউ শৃঙ্খলা মামলার পুনঃশুনানি নয়, এবং যে যুক্তি আগেই উপস্থাপন করা উচিত ছিল তা যোগ করতে এটি ব্যবহার করা যায় না।
১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী কোনো পক্ষ রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগের কাছে তার নিজের রায়ের রিভিউ চাইতে পারে, তবে সীমিত কারণে, যেমন নথিতে সুস্পষ্ট ভুল। আবেদনের সঙ্গে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের যুক্তিসহ সার্টিফিকেট এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত লাগে, এবং কেবল একবারই রিভিউ করা যায়। এটি কর্মচারীর চাকরির ইতিহাস নিয়ে দ্বিতীয় আপিল নয়।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয়, অথবা নির্দিষ্ট ভুলটি সংশোধন করে রায় সংশোধিত হয়।
বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারপতির কাছে প্রেরণ
রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারপতির সমন্বয়ে বসে। তাঁরা ভিন্ন রায় দিলে, যেমন একজন রিট রক্ষণীয় বলেন আর অন্যজন বলেন না, প্রধান বিচারপতি বিষয়টি একজন তৃতীয় বিচারপতির কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দিলে তৃতীয় বিচারপতির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত যেকোনো অন্তর্বর্তী আদেশ সাধারণত বহাল থাকে।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, ১২ SCOB [২০১৯] HCD ৩৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, এরপর যেকোনো পক্ষ আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে।
চাকরি প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ না হলে কী হয়?
- 1প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
ঘোষণা বা ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা
নিয়োগকর্তার প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ না হলে সম্পর্কটি মালিক ও কর্মচারীর সম্পর্ক হিসেবে গণ্য হয়, এবং সাধারণ প্রতিকার দেওয়ানি মামলা, যা সাধারণত পুনর্বহালের বদলে ক্ষতিপূরণের জন্য। মামলাটি মূল্যমান অনুযায়ী এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে দায়ের হয়; ২০২১ সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ অনুযায়ী (২০২৬ সালের সংশোধনীতে আদালতগুলোর নাম বদলানো হয়েছে) সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ সীমাহীন মূল্যমানের মামলা শোনেন।
২-৫ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭, দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিতবাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশন বনাম মাহবুব হোসেন চৌধুরী, ২৯ DLR (SC) ৪১ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
জেলা জজের কাছে আপিল, তারপর দেওয়ানি রিভিশন
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, অথবা যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির মূল্যমান ৫ কোটি টাকার বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। দ্বিতীয় আপিল বিলুপ্ত হয়েছে, তাই জেলা জজের আপিল সিদ্ধান্ত কেবল দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশনের (revision) মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে নেওয়া যায়, যদি আইনের এমন ভুল থাকে যার ফলে সিদ্ধান্তটি ভুল হয়েছে। সেখান থেকে আপিল বিভাগে অনুমতি চাওয়া যায়।
১-৩ বছরদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিরোধটি দেওয়ানি দাবি হিসেবে নিষ্পত্তি হয় এবং রিটের বদলে রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে পৌঁছায়।
কর্মচারী শ্রম আইনের অধীনে শ্রমিক হলে কী হয়?
- 1শ্রম আদালত (শ্রম আইনের অধীনে শ্রমিক হিসেবে গণ্য কর্মচারীদের জন্য)
অভিযোগপত্র ও শ্রম আদালতে নালিশ
রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মচারী বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীনে শ্রমিক। তাঁদের রিট দায়েরের বদলে ধারা ৩৩ অনুযায়ী ত্রিশ দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠাতে হয়, এবং তারপর নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা শেষ হওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে নালিশ করতে হয়। শ্রম আদালত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয় এবং পুনর্বহাল বা সুবিধা প্রদানের আদেশ দিতে পারে।
১-৩ বছরবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(১)-(৩)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৩ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, তারপর রিটে পর্যালোচনা
শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে। এর সিদ্ধান্ত পরে হাইকোর্ট বিভাগে রিটের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা যায়; ২০২৬ সালের মার্চে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস মামলা এভাবেই সেখানে পৌঁছায়: শ্রমিকেরা শ্রম আদালত ও ট্রাইব্যুনালে জয়ী হন, এবং তাঁদের পেনশন সুবিধা কমানোর পক্ষে কোম্পানির রুল হাইকোর্ট বিভাগ খারিজ করে।
১-৩ বছরবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৬) ও ধারা ২১৭সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লি. বনাম চেয়ারম্যান, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, রিট পিটিশন নং ২৫৩৬/২০২৪ (৩ মার্চ ২০২৬)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দাবিটি শ্রম ফোরামে নিষ্পত্তি হয়, আর হাইকোর্ট বিভাগ রিটের মাধ্যমে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে।
সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট শুরু হয় নিয়োগকর্তার ভেতরে, তারপর সরাসরি প্রথম স্তরে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, তবে কেবল ফোরামের প্রশ্নের উত্তর মেলার পর। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০-এর তফসিলভুক্ত সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের যেতে হয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে, তারপর প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে এবং তারপর আপিল বিভাগে, কারণ অনুচ্ছেদ ১১৭(২) অন্য সব আদালতকে বারিত করে। তফসিলের বাইরের সংবিধিবদ্ধ সংস্থার যেসব কর্মচারীর চাকরি সংবিধিবদ্ধ প্রবিধানমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাঁরা কোনো বিভাগীয় আপিল থাকলে তা ব্যবহার করে তারপর অনুচ্ছেদ ১০২-এর রিট এখতিয়ার ব্যবহার করেন।
শ্রম আইনের অধীনে শ্রমিকেরা যান শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে, আর অসংবিধিবদ্ধ শর্তে নিযুক্ত কর্মচারীরা দেওয়ানি মামলা করেন, যেখানে দেওয়ানি আদালত আইনের মূল্যমান-সীমা আদালত নির্ধারণ করে এবং ধারা ১১৫-এর রিভিশন হাইকোর্ট বিভাগে নিয়ে যায়। রিট আদালত হলফনামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয় এবং বৈধতা ও পদ্ধতি পর্যালোচনা করে, অসদাচরণের সত্যতা নয়। এর রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগে যায়, এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারে।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল · জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতশ্রম আদালত (শ্রম আইনের অধীনে শ্রমিক হিসেবে গণ্য কর্মচারীদের জন্য) · প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
৪৩ কাকরাইল, ৪ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোড, ঢাকা-১০০০বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৭-এর অধীন শ্রম আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে।
ঢাকায় অবস্থিত দেশের একমাত্র ট্রাইব্যুনাল। সরকারি যোগাযোগ: রেজিস্ট্রার, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল (ফোন ০২-৯৩৬১৮৫১)।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
শ্রম আদালত, ঢাকা (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রম আদালত)
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীন ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত শ্রম বিরোধ, মজুরি ও ক্ষতিপূরণ দাবি এবং অপরাধের বিচার করে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের গেজেট (শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সাইটে প্রকাশিত) প্রথম শ্রম আদালত, ঢাকা নিশ্চিত করে এবং থানাভিত্তিকভাবে ঢাকার প্রতিটি শ্রম আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে, কিন্তু কোনো সরকারি রাস্তার ঠিকানা পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও অন্যান্য কেন্দ্রেও শ্রম আদালত বসে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
নিয়োগকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (শৃঙ্খলা ও আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ (Statutory public authority)
- আইন দ্বারা বা আইনের অধীনে সৃষ্ট সংস্থা, যেমন কর্পোরেশন বা কর্তৃপক্ষ; অনুচ্ছেদ ১০২(৫) অনুযায়ী এটি এমন একটি ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে রিট জারি করা যায়।
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইনের তফসিল (Schedule to the Administrative Tribunals Act)
- যেসব সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের একচ্ছত্র এখতিয়ারভুক্ত, তাদের তালিকা; ১৯৮৮ সাল থেকে এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ দশটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম আছে।
- অনুচ্ছেদ ১১৭-এর বাধা (Article ১১৭ bar)
- সাংবিধানিক বিধান যে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত কোনো বিষয়ে কোনো আদালত কার্যধারা গ্রহণ করতে পারবে না।
- সংবিধিবদ্ধ চাকরি প্রবিধানমালা (Statutory service regulations)
- নিয়োগকর্তার আইনের অধীনে প্রণীত চাকরির বিধি, সাধারণত গেজেটে প্রকাশিত; এগুলো লঙ্ঘিত হলে রিটের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যায়।
- মালিক ও কর্মচারীর সম্পর্ক (Master and servant relationship)
- চুক্তি বা অসংবিধিবদ্ধ বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত চাকরি, যেখানে অন্যায় বরখাস্তের সাধারণ প্রতিকার পুনর্বহাল নয়, ক্ষতিপূরণ।
- বিকল্প প্রতিকারের নীতি (Alternative remedy rule)
- এই নীতি যে বিভাগীয় আপিলের মতো সমান কার্যকর কোনো প্রতিকার থাকলে সাধারণত রিট জারি হয় না।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- হাইকোর্ট বিভাগের এমন আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলা হয় যে কেন প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুর করা হবে না।
- গঠনমূলক রেস জুডিকাটা (Constructive res judicata)
- যে যুক্তি আগের মামলায় তোলা যেত এবং তোলা উচিত ছিল, পরবর্তী মামলায় তা তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা।
সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট: সাধারণ প্রশ্ন
সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট কে করতে পারেন?
আমার নিয়োগকর্তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আওতায় পড়ে কি না, কীভাবে বুঝব?
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীরা কি রিট করতে পারেন?
আগে কি বিভাগীয় আপিল করতেই হবে?
আদালত কি আমাকে সঙ্গে সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহাল করবে?
আমার চাকরি প্রবিধানমালা সংবিধিবদ্ধ না হলে কী হবে?
ভুল ফোরামে মামলা করলে কী হয়?
সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরির রিট-এ কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Administrative Tribunals Act 1980 — Laws of Bangladesh
- Constitution of Bangladesh (Articles 102, 117, 152) — Laws of Bangladesh
- High Court Division, Mohammad Solaiman v Government of Bangladesh, Writ Petition No 4116 of 2010 (23 November 2025)
- Appellate Division, Secretary, Ministry of Agriculture v Kh Mosaddeq Hossain, Civil Appeal Nos 48-54 of 2017 (2 May 2019)
- High Court Division, Md Rokanuzzaman v Bangladesh Bank, Writ Petition No 12714 of 2025 (29 July 2026)
- High Court Division, Sylhet Gas Fields Ltd v Chairman, Labour Appellate Tribunal, Writ Petition No 2536 of 2024 (3 March 2026)
- High Court Division, Md Belayet Hossain v Government of Bangladesh, Writ Petition No 5029 of 2021 (9 August 2026)
- Dalia Pervin, 'Contract and judicial review in Bangladesh: From Sharping to present', Dhaka University Law Journal 27(1) (2016)
- Dhaka University Law Journal — article on the jurisdiction of the Administrative Tribunals and the Schedule of statutory public authorities
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।