দুদক মামলা: দুদকের অনুসন্ধান থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার পূর্ণ যাত্রা
দুদক মামলা শুরু হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (Anti-Corruption Commission বা ACC) ভেতরে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর তফসিলভুক্ত অপরাধের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার একক এখতিয়ার কেবল কমিশনের। কমিশন মামলার অনুমোদন দিলে ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ (Criminal Law Amendment Act, CLAA)-এর অধীনে বিশেষ জজ (Special Judge) মামলার বিচার করেন, আর আপিল সরাসরি যায় হাইকোর্ট বিভাগে এবং অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে।
- কোথা থেকে শুরু
- দুর্নীতি দমন কমিশনে পৌঁছানো কোনো অভিযোগ বা সূত্রভিত্তিক তথ্য, এরপর দুদকের একজন কর্মকর্তার অনুসন্ধান
- মূল আইন
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা: অনুসন্ধান থেকে বিশেষ জজের রায় পর্যন্ত ২ থেকে ৬ বছর; হাইকোর্ট বিভাগে…
- কে মামলা করতে পারেন
- যে কেউ দুদকে অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু তফসিলভুক্ত অপরাধের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনা কেবল কমিশনই করতে পারে (দুদক…
দুদক মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দুদকের অনুসন্ধানদুদক যোগাযোগ করামাত্র পরামর্শ নিন
বেশির ভাগ মানুষ প্রথম জানতে পারেন অভিযোগের কথা, যখন দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে একটি চিঠি আসে। এ পর্যায়ে আদালতে কিছুই দায়ের হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবী চিঠিটি পড়ে বোঝেন এটি কী: ধারা ১৯ অনুযায়ী হাজির হয়ে রেকর্ড দাখিলের নোটিশ, ধারা ২৬ অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ, নাকি মামলা দায়েরের নোটিশ। এরপর আইনজীবী আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও জমির দলিল সংগ্রহ করেন এবং অভিযুক্ত আচরণ আদৌ দুদক আইনের তফসিলে পড়ে কি না তা যাচাই করেন। শুরুতেই এ কাজ ঠিকভাবে করলে প্রায়ই পুরো দুদক মামলার গতিপথ নির্ধারিত হয়।
কোথায়: আসামিপক্ষের আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৭; দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর তফসিল; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩(১) (আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার অধিকার) · কাগজপত্র: দুদকের চিঠি বা নোটিশ, আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মালিকানা দলিল ও বিক্রয় দলিল, চাকরির রেকর্ড (সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে)
পরামর্শ: দুদকের চিঠি কখনো উপেক্ষা করবেন না, আবার পরামর্শ ছাড়া এর জবাবও দেবেন না। অনুসন্ধান পর্যায়ে আপনি যা লেখেন, তা প্রায়ই পরে অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়।
ধাপ ২ · দুদকের অনুসন্ধানঅভিযোগ যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান
কমিশনে আসা অভিযোগ প্রথমে এর যাচাই-বাছাই কমিটি ছেঁকে দেখে। কেবল প্রথম দৃষ্টিতে সত্য বলে মনে হওয়া অভিযোগই আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে যাওয়ার কথা; হাইকোর্ট বিভাগ ১৬ SCOB [২০২২] HCD ৭০ মামলায় এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন। দুদক আইন অনুসন্ধানকে সংজ্ঞায়িত করেছে তদন্তের জন্য মামলা রেকর্ড হওয়ার আগের প্রাথমিক তথ্য-অনুসন্ধানের পর্যায় হিসেবে। ধারা ২০ অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তা ব্যাংক, ভূমি অফিস ও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করেন এবং ধারা ২৩ অনুযায়ী সরকারি সংস্থার কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারেন। অনুসন্ধান শেষ হয় একটি প্রতিবেদনে, যাতে মামলা দায়ের, সম্পদ বিবরণীর আদেশ বা নথিভুক্তির (অব্যাহতি) সুপারিশ থাকে।
কোথায়: দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২(ক) (অনুসন্ধানের সংজ্ঞা); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২০ ও ২৩; দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ৩ · কাগজপত্র: অভিযোগ বা সূত্রভিত্তিক তথ্য, ব্যাংক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে তলব করা রেকর্ড, অনুসন্ধান প্রতিবেদন
পরামর্শ: কমিশন যাচাই-বাছাইয়ের ধাপ বাদ দিতে পারে না। এ ধাপ ছাড়া জারি করা নোটিশ কখনো কখনো রিট পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
ধাপ ৩ · দুদকের অনুসন্ধানহাজিরা ও কাগজপত্র দাখিলের নোটিশ
অনুসন্ধান বা তদন্তের সময় কমিশন কাউকে হাজির হতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে ও কাগজপত্র দাখিল করতে নোটিশ দিতে পারে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাজে বাধা দিলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দেশ অমান্য করলে ধারা ১৯(৩) অনুযায়ী তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ব্যক্তিটি নির্ধারিত তারিখে দুদক কার্যালয়ে হাজির হন, সাধারণত আইনজীবী বাইরে অপেক্ষা করেন, এবং বক্তব্য দেন যা কর্মকর্তা লিপিবদ্ধ করেন। ধারা ২২ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেবে তা ঠিক করার আগে কমিশনকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে হয়।
কোথায়: দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · সময়: প্রতিটি নোটিশ পালনে সাধারণত ৭-১৫ দিন · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৯(১)-(৩); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২২; দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ২০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ · কাগজপত্র: ধারা ১৯ অনুযায়ী নোটিশ, চাওয়া কাগজপত্রের তালিকা, সমর্থনকারী কাগজপত্রসহ লিখিত ব্যাখ্যা, হস্তান্তর করা সব কিছুর কপি, প্রাপ্তিস্বীকারসহ
পরামর্শ: হস্তান্তর করা প্রতিটি কাগজের একটি ক্রমিক সূচি এবং প্রাপ্তিস্বীকারসহ কপি রাখুন। কী দাখিল করেছেন তাতে ফাঁক থাকলে বিচারে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন।
ধাপ ৪ · দুদকের অনুসন্ধানধারা ২৬ অনুযায়ী সম্পদ বিবরণীর নোটিশ
অনুসন্ধানে যদি মনে হয় কারও কাছে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ আছে, কমিশন লিখিত আদেশে তাঁকে নির্ধারিত ফরমে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করতে বলতে পারে। কত দিন সময় পাওয়া যাবে তা আদেশেই উল্লেখ থাকে; ২০২৫ সালের হাইকোর্ট বিভাগের একটি মামলায় ২১ দিনের কথা দেখা গেছে। বিবরণী দাখিল না করা, বা মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা বিবরণী দাখিল করা, নিজেই একটি অপরাধ, যার সাজা তিন বছর পর্যন্ত। আপিল বিভাগ (৬০ DLR (AD) ১৭২) বলেছেন, এমন আদেশের আগে পূর্ণ তদন্তের প্রয়োজন নেই, এবং বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক আত্ম-অপরাধ স্বীকার নয়।
কোথায়: দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · সময়: আদেশে যেমন উল্লেখ থাকে (প্রায়ই ৩ সপ্তাহের কাছাকাছি); সময় বাড়ানো কমিশনের বিবেচনাধীন · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৬(১) ও (২); দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৭; ৬০ DLR (AD) ১৭২; রিট পিটিশন নং ৩৮৪২/২০২৫ (হাইকোর্ট বিভাগ) · কাগজপত্র: ধারা ২৬(১) অনুযায়ী আদেশ, নির্ধারিত সম্পদ বিবরণী ফরম, আয়কর রিটার্ন, জমি, ফ্ল্যাট ও গাড়ির মূল্যায়ন, চাওয়া হলে স্বামী/স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের বিবরণী
পরামর্শ: বিবরণী যেন আপনার আয়কর রিটার্নের সঙ্গে মেলে, নয়তো প্রতিটি পার্থক্যের লিখিত ব্যাখ্যা দিন। পরবর্তী ধারা ২৭-এর মামলার সবচেয়ে সাধারণ ভিত্তি হলো এই অমিল।
ধাপ ৫ · দুদকের অনুসন্ধানসম্পদ অবরুদ্ধ, ক্রোক ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন
সম্পদ সরিয়ে ফেলা ঠেকাতে দুদক সিনিয়র বিশেষ জজের কাছে, অথবা মামলা চলমান থাকলে বিচারিক বিশেষ জজের কাছে, সম্পত্তি অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) বা ক্রোকের আদেশের আবেদন করে। দুদক বিধিমালার বিধি ১৮ অনুযায়ী সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ ও প্রাথমিক ভিত্তি দেখাতে হয়। কমিশন নিজের চিঠি দিয়ে সম্পত্তি অবরুদ্ধ করতে পারে না। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও একইভাবে কাজ করে। দুদক বনাম জিবি হোসেন (৭৪ DLR (AD) ১) মামলায় আপিল বিভাগ বলেছেন, দেশত্যাগে নির্বাহী নিষেধাজ্ঞা তিন কর্মদিবসের মধ্যে উপযুক্ত আদালত দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদেশ পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।
কোথায়: সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা · সময়: আদেশ প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে হয়; প্রত্যাহারের আবেদনে ১-৬ মাস লাগে · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮; ফৌজদারি আইন সংশোধন অধ্যাদেশ, ১৯৪৪; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬; ৭৪ DLR (AD) ১ · কাগজপত্র: সম্পত্তির তফসিলসহ দুদকের আবেদন, অবরুদ্ধকরণ, ক্রোক বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আদালতের আদেশ, আদেশ পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের আবেদন
পরামর্শ: বিমানবন্দরে আটকে দিলে আদালতের আদেশ দেখতে চান। কোনো আদালত অনুমোদন করেনি এমন শুধু দুদকের চিঠি চ্যালেঞ্জ করা যায়।
ধাপ ৬ · মামলা দায়ের ও তদন্তকমিশনের অনুমোদন ও মামলা দায়ের (এজাহার)
অনুসন্ধান প্রতিবেদন মামলার পক্ষে থাকলে কমিশন মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়, এবং দুদকের একজন কর্মকর্তা আসামির নাম ও অভিযুক্ত ধারা উল্লেখ করে এজাহার (FIR) দায়ের করেন। সাধারণ ধারাগুলো হলো দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯, ৪২০ ও ৪৬৭-৪৭১, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ৫(২), এবং দুদক আইনের ধারা ২৬-২৭। ধারা ৩২ কমিশনের অনুমোদন (sanction) ছাড়া কোনো আদালতকে মামলা আমলে নিতে নিষেধ করে, এবং অনুমোদনের কপি দাখিল করতে হয়। বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ধারা ৩২ক মামলাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৭-এর সঙ্গে যুক্ত করে। হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৪ সালে বিধানটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এটি বাদ দিয়েছিল, কিন্তু অধ্যাদেশটি ২০২৬ সালে বাতিল হয়ে যায়, ফলে ধারা ৩২ক আবার আইনের পাঠে ফিরে এসেছে; এর বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।
কোথায়: দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · সময়: অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ১-৩ মাস পর · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩২(১)-(২); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩২ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৭ · কাগজপত্র: কমিশনের অনুমোদনপত্র, প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এজাহার), জব্দ তালিকা
পরামর্শ: এজাহার ও অনুমোদনপত্রের সার্টিফায়েড কপি দ্রুত সংগ্রহ করুন। অনুমোদনের ত্রুটি চ্যালেঞ্জের একটি স্বীকৃত ভিত্তি।
ধাপ ৭ · মামলা দায়ের ও তদন্তদুদকের তদন্ত
গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সমান ক্ষমতা থাকে। ধারা ২০ক একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে: ক্ষমতা পাওয়ার ১২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে, এবং যুক্তিসংগত কারণে কমিশন আরও ৬০ কর্মদিবস পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তবুও ব্যর্থ হলে নতুন কর্মকর্তাকে ৯০ কর্মদিবস দিতে হয় এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মকর্তা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন, রেকর্ড জব্দ করেন এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে পারেন। ধারা ২১ অনুযায়ী ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদধারী কাউকে কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার করতে পারেন।
কোথায়: দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · সময়: ১২০ কর্মদিবস (প্রায় ৬ মাস), বাড়ানো যায়; বাস্তবে প্রায়ই ৬-১৮ মাস · আইন: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২০(২)-(৩); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২০ক; দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ · কাগজপত্র: জব্দ তালিকা, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ অনুযায়ী সাক্ষীদের জবানবন্দি, ব্যাংক ও সম্পদের রেকর্ড, বিশেষজ্ঞ বা অডিট প্রতিবেদন
পরামর্শ: বাস্তবে ১২০ দিনের সীমা নির্দেশনামূলক, এবং তা পেরোলেই মামলা শেষ হয়ে যায় না, তবে বারবার বিলম্ব জামিনের আবেদনকে জোরালো করে।
ধাপ ৮ · মামলা দায়ের ও তদন্তগ্রেপ্তার, আদালতে হাজির ও রিমান্ড
তফসিলভুক্ত অপরাধের বিচার কেবল বিশেষ জজ করতে পারেন, আর সাধারণ অভিযোগগুলো, যেমন দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯ বা দুদক আইনের ধারা ২৭, জামিন-অযোগ্য। আসামি গ্রেপ্তার হলে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। ঢাকায় দুদকের আসামিদের সাধারণত সিনিয়র বিশেষ জজের সামনে হাজির করা হয়, যিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বা দুদকের হেফাজতে (রিমান্ড) দেওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ অনুযায়ী কোনো মামলাতেই পুলিশ হেফাজত মোট ১৫ দিনের বেশি হতে পারে না। আদালত হেফাজতের আগে ও পরে মেডিকেল পরীক্ষার আদেশ দিতে পারেন এবং নির্যাতনের যেকোনো লক্ষণে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।
রিমান্ডের পর জামিন না পাওয়া পর্যন্ত আসামি কারা হেফাজতে (হাজত) থাকেন।
কোথায়: পুলিশ হেফাজত বা কারাগার · সময়: হাজির করতে ২৪ ঘণ্টা; কয়েক দিনের রিমান্ড, কোনোভাবেই মোট ১৫ দিনের বেশি নয় · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(২) ও (২ক) (২০২৬ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১১(১); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৮ক; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩(২) · কাগজপত্র: ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদন, রিমান্ডের আবেদন ও আসামিপক্ষের লিখিত আপত্তি, মেডিকেল প্রতিবেদন, হেফাজত পরোয়ানা
পরামর্শ: রিমান্ডের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি দিন এবং এর বদলে আইনজীবীর উপস্থিতিতে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রার্থনা করুন।
ধাপ ৯ · অভিযোগপত্র, আমলে গ্রহণ ও জামিনবিশেষ জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে জামিন
জামিন সাধারণত আদালতের বিবেচনাধীন। ফৌজদারি আইন সংশোধন আইনের ধারা ১১ বিশেষ জজের বিচার্য অপরাধকে জামিন-অযোগ্য গণ্য করে, আর দুদক আইনের অধীন অপরাধের ক্ষেত্রে ধারা ২৮ক ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিল প্রয়োগ করে, যেখানে সাধারণ অভিযোগগুলোও জামিন-অযোগ্য। আসামিপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭ অনুযায়ী আবেদন করে, যেখানে বয়স, স্বাস্থ্য, বিলম্ব, ইতিমধ্যে জব্দ হওয়া দালিলিক সাক্ষ্য এবং জড়িত অর্থের পরিমাণ তুলে ধরা হয়। দুদক আইনের ধারা ৩৩(৫) অনুযায়ী যেকোনো জামিন আবেদনে কমিশনকে পক্ষ করতে হয় এবং শুনানির যুক্তিসংগত সময় দিতে হয়। জামিন নামঞ্জুর হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন।
গ্রেপ্তার হননি এমন ব্যক্তি সেখানে আগাম জামিন চাইতে পারেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন।
কোথায়: সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস; হাইকোর্ট বিভাগে জামিন প্রায়ই দাখিলের ১-৪ মাসের মধ্যে · আইন: ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১১; দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৮ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭ ও ৪৯৮; দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩৩(৫); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(৫) · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, এজাহার বা অভিযোগপত্রের সার্টিফায়েড কপি, মেডিকেল রেকর্ড, জামিননামা ও জামিনদারের কাগজপত্র
পরামর্শ: প্রতিটি জামিনের দরখাস্তের কপি দুদকের আইনজীবীকে দিন। কপি না দেওয়া দরখাস্তের শুনানি আদালত প্রায় সবসময় মুলতবি করেন।
ধাপ ১০ · অভিযোগপত্র, আমলে গ্রহণ ও জামিনঅভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
তদন্ত শেষে কর্মকর্তা কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দেন। সাক্ষ্য মামলা চালানোর পক্ষে থাকলে কমিশন অভিযোগপত্রের (charge sheet) অনুমোদন দেয়, যেখানে আসামি, ধারা, সাক্ষী ও কাগজপত্রের তালিকা থাকে। না থাকলে অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করে। বড় মামলায় অভিযোগপত্র শত শত পৃষ্ঠার হতে পারে, সঙ্গে বাজেয়াপ্তির জন্য সম্পত্তির তফসিল থাকে। বিচার শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে প্রসিকিউশনকে আসামির হাতে প্রসিকিউশন সাক্ষীদের পূর্ববর্তী জবানবন্দি দিতে হয়। কোনো আসামি স্পষ্টতই জড়িত না থাকলে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে আগেভাগে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
কোথায়: দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · সময়: তদন্ত শেষ হওয়ার ১-৩ মাস পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩২; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৬(৭) · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ অনুযায়ী পুলিশ প্রতিবেদন), অভিযোগপত্রের জন্য কমিশনের অনুমোদন, সাক্ষী ও কাগজপত্রের তালিকা, মামলা না হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন
পরামর্শ: অভিযোগপত্র এজাহারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এই পর্যায়ে প্রায়ই আসামি ও ধারা যোগ বা বাদ দেওয়া হয়।
ধাপ ১১ · অভিযোগপত্র, আমলে গ্রহণ ও জামিনসিনিয়র বিশেষ জজ কর্তৃক আমলে গ্রহণ ও মামলা বদলি
বিশেষ জজ পুলিশ প্রতিবেদন বা নালিশের ভিত্তিতে মামলা আমলে নেন। একই এলাকায় একাধিক বিশেষ জজ থাকলে, যেমন ঢাকায়, কেবল সিনিয়র বিশেষ জজ মামলা আমলে নিতে পারেন এবং এরপর বিচারের জন্য কোনো একটি বিশেষ জজ আদালতে পাঠান। আদালত দেখেন কমিশনের অনুমোদন নথিতে আছে কি না, এবং হেফাজতে নেই এমন আসামির বিরুদ্ধে প্রসেস জারি করেন। কোনো আসামি পলাতক থাকলে আদালত হাজির হওয়ার জন্য গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারেন। সিনিয়র বিশেষ জজ পরে মামলা এক বিশেষ জজের আদালত থেকে আরেকটিতে বদলি করতে পারেন।
কোথায়: সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৪(১)-(৩); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৬(১ক); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩২(১)-(২); দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৮ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র ও অনুমোদন, আমলে গ্রহণের আদেশ, পরোয়ানা বা সমন, পলাতক আসামির জন্য গেজেট প্রজ্ঞাপন
পরামর্শ: অনুপস্থিতিতে বিচার হলে আসামির বাস্তব বিকল্পগুলো হারিয়ে যায়। গেজেট প্রক্রিয়া চলতে না দিয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান।
ধাপ ১২ · বিশেষ জজ আদালতে বিচারঅভিযোগ শুনানি: অব্যাহতি বা অভিযোগ গঠন
যে বিশেষ জজ দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আছেন বা ছিলেন, তিনি দায়রা আদালতের পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অভিযোগ শুনানির দিনে আদালত নথি বিবেচনা করেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে কারণ লিপিবদ্ধ করে আসামিকে অব্যাহতি দেন। অন্যথায় লিখিত অভিযোগ গঠন করে পড়ে শোনান ও ব্যাখ্যা করেন, এবং আসামি দোষ স্বীকার করেন কি না জিজ্ঞেস করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির যৌথ বিচারের নিয়ম অনুযায়ী আদালত অন্য অপরাধও যুক্ত করতে পারেন। দুদক মামলা প্রায়ই এখানে মাসের পর মাস আটকে থাকে, মুলতবি আর অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে দরখাস্তের কারণে।
কোথায়: বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: ২-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৬(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ ও ২৬৫ঘ; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৫(৭) · কাগজপত্র: অব্যাহতির দরখাস্ত, আদালত কর্তৃক গঠিত অভিযোগ, আদেশের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: প্রসিকিউশনের নিজের কাগজপত্রের ওপর দাঁড় করানো জোরালো অব্যাহতির দরখাস্ত বিচার ছাড়াই মামলা শেষ করতে পারে, অথবা সংকীর্ণতর অভিযোগ গঠন করাতে পারে।
ধাপ ১৩ · বিশেষ জজ আদালতে বিচারপ্রসিকিউশনের সাক্ষ্য ও জেরা
প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের, সাধারণত দুদকের এজাহারকারী, তদন্ত কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসের কর্মচারীদের, জবানবন্দি ও জেরা হয়। সাক্ষ্যের বিশেষ কিছু নিয়ম প্রসিকিউশনের সহায়ক। আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদকে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য করা যায়। ঘুষের মামলায় বিপরীত প্রমাণিত না হলে আদালত ধরে নেন যে অবৈধ পারিতোষিক কোনো উদ্দেশ্য বা পুরস্কার হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। ধারা ২৭-এর মামলায় অসংগতিপূর্ণ সম্পদ প্রমাণিত হলে আসামি খণ্ডন না করা পর্যন্ত তাঁকে দোষী ধরে নেওয়া হয়। পূর্ণ সাক্ষ্য দিলে বিশেষ জজ সহযোগী আসামিকে ক্ষমা করতে পারেন। দায়িত্ব নেওয়া নতুন বিচারককে সাক্ষীদের আবার শুনতে হয় না।
কোথায়: বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী ১-৪ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫চ ও ২৬৫ছ; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৭; দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৭(২); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৬(২) ও ৮ · কাগজপত্র: জবানবন্দির শিট, প্রদর্শনী হিসেবে চিহ্নিত কাগজপত্র, জব্দকৃত রেকর্ড
পরামর্শ: ধারা ২৭(২)-এর অনুমানের কারণে আসামিপক্ষকে সাধারণত বেতন, ব্যবসায়িক আয়, উত্তরাধিকার ও ঋণের মতো বৈধ উৎস কাগজপত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হয়।
ধাপ ১৪ · বিশেষ জজ আদালতে বিচারআসামির পরীক্ষা ও আসামিপক্ষের মামলা
প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য শেষ হলে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২ অনুযায়ী আসামিকে পরীক্ষা করেন, যাতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আসা সাক্ষ্যের ব্যাখ্যা দিতে পারেন। কোনো সাক্ষ্যই না থাকলে আদালত ধারা ২৬৫জ অনুযায়ী তখনই খালাস দেন। অন্যথায় আসামিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ডাকা হয়। তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে পারেন, সাক্ষী ডাকতে পারেন, যেমন তাঁর হিসাবরক্ষক বা ব্যাংক কর্মকর্তা, এবং আদালতকে কাগজপত্র তলব করতে বলতে পারেন। হয়রানি বা বিলম্বের মতো লিপিবদ্ধ কারণ ছাড়া আদালত প্রসেস দিতে অস্বীকার করতে পারেন না। এরপর যুক্তিতর্ক হয়, এবং আসামিপক্ষ শেষে জবাব দেয়।
কোথায়: বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: ২-৮ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫জ, ২৬৫ঝ ও ২৬৫ঞ · কাগজপত্র: আসামির লিখিত বক্তব্য, আসামিপক্ষের কাগজপত্র (আয়কর নথি, ঋণের কাগজ, উত্তরাধিকারের রেকর্ড), লিখিত যুক্তিতর্ক
পরামর্শ: ধারা ৩৪২-এর পরীক্ষার জন্য সাবধানে প্রস্তুতি নিন। নীরবতা বা অস্পষ্ট উত্তর সম্পদ-সংক্রান্ত অনুমানের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনকে দুর্বল করতে পারে।
ধাপ ১৫ · রায় ও বাস্তবায়নরায়, দণ্ড ও বাজেয়াপ্তি
বিশেষ জজ ধারা ২৬৫ট অনুযায়ী রায় দেন। দণ্ড হলে ফৌজদারি আইন সংশোধন আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী আসামির অর্জিত লাভের চেয়ে কম নয় এমন অর্থদণ্ড দিতে হয়, কারাদণ্ড দেওয়া হোক বা না হোক। আদালত আসামির সম্পত্তির সবটা বা অংশবিশেষ বাজেয়াপ্তও করতে পারেন। দুদক আইনের ধারা ২৭ অনুযায়ী অসংগতিপূর্ণ সম্পদের জন্য ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা হয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তযোগ্য। দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯-এ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত সাজা হতে পারে। খালাস হলে আসামি মুক্তি পান এবং অবরুদ্ধ সম্পদ সাধারণত অবমুক্ত হয়, তবে দুদকের আপিল সাপেক্ষে।
বিচারিক আদালতের ৩৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা, যা খুব কমই মানা হয়।
কোথায়: বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: রায় সাধারণত যুক্তিতর্কের ২-৮ সপ্তাহ পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ট; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৯; দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৭(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯গ(২) ও (৪) · কাগজপত্র: রায় ও দণ্ডাদেশ, বাজেয়াপ্তির তফসিল, আপিলের জন্য সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: রায়ের দিনই সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করুন। আপিলের সময়সীমা রায় থেকে গণনা হয়, কপি সংগ্রহে লাগা সময় বাদ দিয়ে।
ধাপ ১৬ · রায় ও বাস্তবায়নবাস্তবায়ন: কারাগার, অর্থদণ্ড আদায় ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি
জামিনে থাকা দণ্ডিত আসামিকে হেফাজতে নেওয়া হয়, যদি না আদালত আপিল দায়েরের জন্য স্বল্পমেয়াদি জামিন দেন। অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম করে, অথবা সরকারি দাবি হিসেবে আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পরোয়ানা পাঠিয়ে, অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। আদেশ চূড়ান্ত হলে বাজেয়াপ্ত জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যাংক স্থিতি সরকারের কাছে চলে যায়। যে সম্পত্তি কখনো আসামির ছিল না, তা রক্ষায় তাঁর পরিবার আবেদন করতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড স্থগিত না করা পর্যন্ত বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল থাকে।
কোথায়: বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: রায়ের পরপরই; সম্পত্তি আদায়ে ৬-২৪ মাস লাগতে পারে · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১) · কাগজপত্র: সাজা পরোয়ানা, অর্থদণ্ড আদায়ের পরোয়ানা, বাজেয়াপ্তির আদেশ ও সম্পত্তির তফসিল
পরামর্শ: আপিল এবং দণ্ড স্থগিতের আবেদন একসঙ্গে দায়ের করুন, যাতে আপিল ঝুলে থাকার সময় অর্থদণ্ড ও বাজেয়াপ্তি কার্যকর না হয়।
যদি এমন হয়…? দুদক মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
আসামির দণ্ড হলে, বা দুদক হেরে গেলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিল
মাঝখানে দায়রা আদালতে কোনো আপিল নেই। যে বিশেষ জজ দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আছেন বা ছিলেন, তাঁর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। দণ্ডিত আসামি ৬০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন, সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহে লাগা সময় বাদ দিয়ে। খালাসের বিরুদ্ধে কমিশন দুদকের প্রসিকিউটরকে আপিল করার নির্দেশ দিতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগ পেপার বুকের ভিত্তিতে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে মামলাটি নতুন করে শোনেন।
৬০ দিনের মধ্যে দায়ের; শুনানি প্রায়ই ২-৬ বছর পরফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১)(ক) ও (২)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫৫তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আপিল চলাকালে জামিন ও দণ্ড স্থগিত
আপিল গ্রহণের সময় হাইকোর্ট বিভাগ লিপিবদ্ধ কারণে দণ্ড ও অর্থদণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারেন। আদালত সাধারণত দণ্ডের মেয়াদ, ইতিমধ্যে খাটা সাজা, স্বাস্থ্য এবং আপিলের যুক্তির জোর বিবেচনা করেন। দুদককে নোটিশ দিয়ে শুনতে হয়। স্বল্প মেয়াদের দণ্ডে আপিল চলাকালে জামিন তুলনামূলক সহজে মেলে।
দায়েরের ১-৩ মাস পরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১)দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩৩(৫)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড বা খালাস বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করেন, এবং পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চাইতে পারে।
রায়ের আগে বিচার চলাকালীন কোনো আদেশ কি চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ফৌজদারি রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর আবেদন
বিশেষ জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হাইকোর্ট বিভাগে যায় বলে এই বিভাগের রিভিশনের ক্ষমতাও আছে। আসামি অভিযোগ গঠন, অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর বা কোনো পদ্ধতিগত আদেশ ফৌজদারি রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। বিকল্পভাবে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী আবেদন করে আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহারমূলক কার্যধারা বাতিল করতে বলা যায়, যেমন বৈধ অনুমোদন ছাড়া মামলা। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত বিচার স্থগিত রাখতে পারেন।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রুল ও স্থগিতাদেশ; নিষ্পত্তি ৬-২৪ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১ক)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক - 2বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
বিচার আবার শুরু হয় বা শেষ হয়
রুল খারিজ হলে স্থগিতাদেশ উঠে যায়, নথি ফেরত আসে এবং বিশেষ জজ যেখানে থেমেছিলেন সেখান থেকে বিচার শুরু করেন। রুল চূড়ান্ত হলে অভিযোগ বা কার্যধারা বাতিল হয়, অথবা আদেশ সংশোধিত হয়ে সংশোধিত ভিত্তিতে বিচার চলে। এরপর আসামি বা দুদক যে কেউ লিভ পিটিশনের মাধ্যমে বিষয়টি আপিল বিভাগে নিতে পারেন।
আদেশ আদালতে পৌঁছানোর ১-২ মাসের মধ্যে বিচার আবার শুরু হয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হয় আদেশ বহাল বা সংশোধিত অবস্থায় বিশেষ জজের আদালতে বিচার চলে, নয়তো কার্যধারা বাতিল হওয়ায় বিচার শেষ হয়।
যে আদালত মামলার রায় দিয়েছেন, তিনি কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
বিশেষ জজ বা হাইকোর্ট বিভাগের রিভিউর সুযোগ নেই
ফৌজদারি আদালত রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তা পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না। এটি বিশেষ জজের ক্ষেত্রে এবং ফৌজদারি আপিল নিষ্পত্তিকারী হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। রায় ভুল মনে করলে আসামিকে আপিল করতে বা আপিলের অনুমতি চাইতে হবে। বিচারিক আদালতে রিভিউর আবেদন এর প্রতিকার নয়।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
কেবল আপিল বিভাগেরই নিজের রায় রিভিউ করার সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। ফৌজদারি কার্যধারায় আপিল বিভাগ এটি করেন কেবল নথির ওপর সুস্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে। রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে হয় এবং সম্ভব হলে একই বেঞ্চে শুনানি হয়। এটি আপিলের পুনঃশুনানি নয়।
৩০ দিনের মধ্যে দায়ের; নিষ্পত্তি ৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬, বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নথির ওপর সুস্পষ্ট ভুল দেখানো না গেলে আপিল বিভাগের রায় বহাল থাকে।
দুদক মামলায় কি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ডেথ রেফারেন্স বা স্টেটেড কেস নেই
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর ডেথ রেফারেন্স এখানে আসে না, কারণ দুদকের তফসিলের কোনো অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড নয়। হাইকোর্ট বিভাগের মতামতের জন্য বিচারিক আদালতের কোনো প্রশ্ন পাঠানোর (stated case) সাধারণ পদ্ধতিও ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই, কারণ ধারা ৪৩২-৪৩৩ বহু আগে বিলুপ্ত হয়েছে। জটিল আইনগত প্রশ্ন বরং আপিল, রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর মাধ্যমে ওপরে যায়। হাইকোর্ট বিভাগ এক বিশেষ জজের আদালত থেকে আরেকটিতে মামলা বদলিও করতে পারেন।
প্রযোজ্য নয়; বদলির আবেদনে ১-৬ মাস লাগেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩২-৪৩৩ (বিলুপ্ত)ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আইনগত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে পৌঁছায় কেবল আপিল, রিভিশন, ধারা ৫৬১ক বা বদলির আবেদনের মাধ্যমে।
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের জন্য মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দণ্ড বাতিল ও পুনর্বিচারের আদেশ
বিচারে ত্রুটি থাকলে, যেমন অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রমাণিত হয়নি, বা আসামিকে জেরা করার ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি, হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড বাতিল করে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। আসামিকে খালাস দেওয়ার পরিবর্তে আদালত এটি করেন। নির্দেশনাসহ নথি বিশেষ জজের কাছে পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হয়, প্রায়ই নিষ্পত্তির সময়সীমাসহ।
আপিলের শেষে রিমান্ডের আদেশফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১) - 2বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
বিশেষ জজের আদালতে পুনর্বিচার
হাইকোর্ট বিভাগ যে পর্যায় থেকে নির্দেশ দেন, বিশেষ জজ সেখান থেকে পুনর্বিচার করেন। প্রায়ই এর মানে শুধু বাদ পড়া সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা বা আসামিকে আবার পরীক্ষা করা, নতুন করে শুরু করা নয়। যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য নথিতে থেকে যায়। জামিন সাধারণত আগের শর্তেই চলে, এবং হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া সময়সীমা মানতে আদালত চেষ্টা করেন। এরপর নতুন রায় হয়, যার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতোই প্রতিকার পাওয়া যায়।
৬-২৪ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯গ - 3হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় দফা আপিল
নতুন রায়ের বিরুদ্ধে আবার ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়: দণ্ড হলে আসামি, খালাস হলে দুদকের নির্দেশে। এরপর মামলা প্রথমবারের মতো একই আপিল পথে চলে, এবং আগের রিমান্ড আদেশ ও নির্দেশনা নথির অংশ থাকে। হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিতীয় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন করা যায়।
আরও ১-৪ বছরফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১)(ক)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচারের পর নতুন আপিলে মামলা হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে আসে, এবং সেখান থেকে আপিল বিভাগে যেতে পারে।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির জন্য ফৌজদারি পিটিশন (লিভ টু আপিল)
হাইকোর্ট বিভাগে যে পক্ষ হারে, আসামি হোক বা দুদক, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন দায়ের করে। চেম্বার জজ বা পূর্ণ বেঞ্চ অনুমতি দেওয়া হবে কি না ঠিক করেন। অনুমতি দিলে আইনগত প্রশ্ন এবং সাক্ষ্য মূল্যায়নে গুরুতর ভুলের বিষয়ে ফৌজদারি আপিলের শুনানি হয়। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
৩০ দিনের মধ্যে দায়ের; অনুমতির পর্যায় ৩-১৮ মাস; আপিল ১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (ফৌজদারি লিভ পিটিশন)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী এর নিজের রিভিউ সাপেক্ষে।
মামলা দায়েরের আগেই কি দুদকের নোটিশ রিটে চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশন
ধারা ১৯ বা ধারা ২৬-এর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। ভিত্তি হতে পারে: নোটিশটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি হয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া জারি হয়েছে, অথবা দুদকের তফসিলের বাইরের বিষয়ে। আদালত ধারা ২৬-কে বৈধ বলে বহাল রেখেছেন (৬০ DLR (AD) ১৭২)। প্রতিকার মেলে কেবল সুস্পষ্ট বেআইনিতার ক্ষেত্রে, প্রকৃত অনুসন্ধান থামানোর জন্য নয়। কমিশনকে পক্ষ করতে হবে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রুল ও অন্তর্বর্তী আদেশ; চূড়ান্ত শুনানি ১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩৩(৫)৬০ DLR (AD) ১৭২১৬ SCOB [২০২২] HCD ৭০
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নোটিশটি হয় বাতিল হয়, নয়তো বহাল থাকে; যেকোনো পক্ষ আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে।
দুদক মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
সাধারণ ফৌজদারি মামলার চেয়ে দুদক মামলায় ধাপ কম। এখানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায় নেই, দায়রা আদালতে আপিলও নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং মামলা পরিচালনার অনুমোদন দেয়। ঢাকায় সিনিয়র বিশেষ জজ মামলা আমলে নিয়ে বিচারের জন্য একজন বিশেষ জজের কাছে পাঠান। কোন আদালতে বিচার হবে তা নির্ভর করে বিষয়ের ওপর, টাকার অঙ্কের ওপর নয়: দুদকের তফসিলের প্রতিটি অপরাধ, অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক, কেবল বিশেষ জজই বিচার করতে পারেন।
বিশেষ জজকে অবশ্যই দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা সহকারী দায়রা জজ হতে হবে বা হয়ে থাকতে হবে, এবং সহকারী দায়রা জজ দশ বছরের বেশি সাজা দিতে পারেন না। দায়রা পর্যায়ের বিশেষ জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। সেই আপিলে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পূর্ণ শুনানি হয়, এবং একই বিভাগের রিভিশন ও ধারা ৫৬১ক-এর ক্ষমতা আছে। এর ওপরে আপিল বিভাগ কেবল অনুমতি সাপেক্ষে আপিল শোনেন, মূলত আইনগত প্রশ্ন ও সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠের বিষয়ে, এবং এর সিদ্ধান্ত নিচের সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতসিনিয়র বিশেষ জজ আদালত, ঢাকা · বিশেষ জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
- শুরু · আদালতের বাইরেআসামিপক্ষের আইনজীবীর চেম্বার · দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় বা সমন্বিত জেলা কার্যালয়) · পুলিশ হেফাজত বা কারাগার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা
ঢাকার আদালত এলাকা, জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) দায়ের করা দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলার বিচার করে।
মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন (মূল ভবন, ৪০-৪৫ জনসন রোড)। নম্বরযুক্ত স্পেশাল জজ আদালতগুলোর এজলাসের অবস্থান প্রকাশিত নয়, এবং আলোচিত মামলায় অন্যত্র অস্থায়ী আদালতও বসেছে; কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় একজন সিনিয়র স্পেশাল জজ (দায়রা জজ) ও স্পেশাল জজ আছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধান কার্যালয়
সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর অধীন দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করে এবং স্পেশাল জজ আদালতে বিচারের জন্য মামলা দায়ের করে।
এলাকা নিশ্চিত (সেগুনবাগিচা, ঢাকা ১০০০), কিন্তু রাস্তার নম্বর সরকারি সাইটে যাচাই করা যায়নি, কারণ সাইটটি নিরাপদভাবে খোলা যায়নি। বিচার বিভাগীয় পোর্টালের ডিরেক্টরিতে চেয়ারম্যানের দপ্তরের ঠিকানা "১ম ১২ তলা সরকারি ভবন (৫ম তলা), ঢাকা-১০০০"। দুদক হটলাইন ১০৬।
পুলিশ হেফাজত বা কারাগার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অনুসন্ধান (Anusandhan / inquiry)
- দুদক তদন্তের জন্য মামলা রেকর্ড করার আগের প্রাথমিক তথ্য-অনুসন্ধানের পর্যায়।
- তদন্ত (Tadanta / investigation)
- মামলা দায়েরের পরের আনুষ্ঠানিক তদন্ত, যা দুদক আইনের ধারা ২০ক অনুযায়ী সাধারণত ১২০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করতে হয়।
- তফসিলভুক্ত অপরাধ (Scheduled offence)
- দুদক আইনের তফসিলে তালিকাভুক্ত অপরাধ, যেমন ঘুষ বা সরকারি কর্মচারীর অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, যার তদন্ত কেবল দুদক করতে পারে।
- বিশেষ জজ (Special Judge)
- ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী নিযুক্ত দায়রা পর্যায়ের বিচারক, যিনি এককভাবে তফসিলভুক্ত দুর্নীতির অপরাধের বিচার করেন।
- সিনিয়র বিশেষ জজ (Senior Special Judge)
- একাধিক বিশেষ জজ থাকা এলাকার জন্য মনোনীত বিশেষ জজ; কেবল তিনিই মামলা আমলে নেন এবং বিচারের জন্য মামলা বণ্টন করেন।
- অনুমোদন (Sanction)
- কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, যা ছাড়া কোনো আদালত দুদক আইনের অপরাধ আমলে নিতে পারে না (ধারা ৩২)।
- সম্পদ বিবরণী (Wealth statement)
- সম্পদ ও দায়ের বিবরণী, যা দাখিলের জন্য দুদক ধারা ২৬ অনুযায়ী কাউকে আদেশ দিতে পারে।
- জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ (Disproportionate assets)
- জ্ঞাত বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পত্তি; ধারা ২৭-এর অপরাধ, যার সাজা ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও বাজেয়াপ্তি।
- অভিযোগপত্র (Charge sheet)
- বিচারের সুপারিশসহ তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, যা কমিশনের অনুমোদনসহ দাখিল করা হয়।
দুদক মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
দুদকের অনুসন্ধান আর ফৌজদারি মামলা কি একই?
সময়মতো সম্পদ বিবরণী জমা না দিলে কী হয়?
দুদক কি নিজেই আমার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে বা বিদেশযাত্রা আটকাতে পারে?
দুদকের মামলায় কি জামিন পাওয়া যায়?
সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় কি সরকারের অনুমোদন লাগে?
দুদক মামলা শেষ হতে সাধারণত কত দিন লাগে?
ঢাকায় দুদকের মামলার বিচার কোথায় হয়?
সরাসরি কি আপিল বিভাগে আপিল করা যায়?
আইন ও উৎস
- Anti-Corruption Commission Act 2004 (Bangla text, Laws of Bangladesh)
- Criminal Law Amendment Act 1958 (Laws of Bangladesh)
- Code of Criminal Procedure 1898, as amended (Laws of Bangladesh)
- W.P. No. 3842 of 2025 (HCD) on s.26 wealth statement notices
- W.P. No. 4437 of 2021 (HCD) on ACC travel restrictions, applying 74 DLR (AD) 1
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
- The Daily Star: ACC won't need approval to sue govt officials
- TBS: ACC to get authority to probe corruption abroad, foreign nationals at home
- The Daily Star (23 June 2026): ACC working on draft law rolling back key reforms (2025 ordinance lapsed)
- Anti-Corruption Commission, Bangladesh (official site)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।