বাংলাদেশে মানহানির মামলা: নালিশ থেকে আপিল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/ফৌজদারি

বাংলাদেশে মানহানির মামলা: নালিশ থেকে আপিল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে মানহানির মামলা সাধারণত দণ্ডবিধির (Penal Code) ধারা ৪৯৯ ও ৫০০ অনুযায়ী একটি ব্যক্তিগত নালিশি মামলা (সিআর মামলা) হিসেবে শুরু হয়, যা মানহানির শিকার ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায়ের করেন; এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলাও চলতে পারে। ২০২৫ সাল থেকে সাইবার মানহানির আলাদা কোনো অপরাধ নেই, তাই অনলাইন পোস্টের ক্ষেত্রেও দণ্ডবিধির অধীনেই মামলা হয়।

এই গাইডে নালিশ থেকে রায়, আপিল, রিভিশন, হাইকোর্ট বিভাগে কার্যধারা বাতিল এবং দেওয়ানি পথ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ দেখানো হয়েছে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
বক্তব্যটি আইনত মানহানিকর কি না যাচাই
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৭টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
নালিশি আবেদনের মাধ্যমে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (ঢাকা মহানগরে) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (মহানগর…
মূল আইন
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯-৫০২; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৯৮, ২০০-২০৪, ২৪১-২৫০, ৩৪৫, ৪০৮, ৪১৭, ৪৩৫-৪৩৯ক, ৫৬১ক; তামাদি আইন…
সাধারণ সময়কাল
ঢাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফৌজদারি নালিশে প্রথম স্তরে নির্দেশক ১.৫-৪ বছর; আপিল ও রিভিশনে আরও ১-৩ বছর যোগ হয় (ঢাকার…
কে মামলা করতে পারেন
কেবল মানহানির শিকার ব্যক্তি ('সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি') ফৌজদারি নালিশ দায়ের করতে পারেন, অথবা নাবালক বা হাজির হতে অক্ষম…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

বাংলাদেশে মানহানির মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. বাংলাদেশে মানহানির মামলা: ধাপ ১, বক্তব্যটি আইনত মানহানিকর কি না যাচাই
    ধাপ ১ · দায়েরের আগে

    বক্তব্যটি আইনত মানহানিকর কি না যাচাই

    আইনজীবী বক্তব্যটি দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৯-এর মানদণ্ডে যাচাই করেন: শব্দ, সংকেত বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে এমন কোনো অভিযোগ আরোপ করা বা প্রকাশ করা, যা শনাক্তযোগ্য কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করবে বলে উদ্দেশ্য থাকে বা জানা থাকে। শুরুতেই দশটি ব্যতিক্রম যাচাই করা হয়, বিশেষত জনকল্যাণে প্রকাশিত সত্য, জনসেবামূলক আচরণ নিয়ে ন্যায্য মন্তব্য, আদালতের কার্যধারার নির্ভুল প্রতিবেদন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে সরল বিশ্বাসে করা অভিযোগ। আইনজীবী এটিও ঠিক করেন যে ফৌজদারি নালিশ, ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলা, নাকি দুটোই করা হবে। দেওয়ানি মামলা প্রকাশের এক বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে (তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৪-২৫)।

    নালিশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তামাদি নেই, তবে ব্যাখ্যাহীন বিলম্ব নালিশকে দুর্বল করে।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ (সংজ্ঞা ও ব্যতিক্রম ১-১০); দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০০; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ২৪-২৫ · কাগজপত্র: প্রকাশনা, পোস্ট বা রেকর্ডিংয়ের অনুলিপি, ঘটনাক্রম, বক্তব্যদাতা ও প্রকাশকের বিবরণ

    পরামর্শ: কোনো শ্রেণির মানহানি (যেমন 'বাজারের সব ব্যবসায়ী') কদাচিৎ মামলাযোগ্য হয়; নালিশকারীকে দেখাতে হবে যে বক্তব্যটি তাকেই নির্দেশ করে।

  2. বাংলাদেশে মানহানির মামলা: ধাপ ২, অনলাইন কনটেন্টসহ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ
    ধাপ ২ · দায়েরের আগে

    অনলাইন কনটেন্টসহ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ

    পোস্ট দ্রুত মুছে ফেলা হয়, তাই নালিশকারী সবার আগে প্রমাণ সুরক্ষিত করেন। ছাপা মাধ্যমের ক্ষেত্রে মূল সংখ্যা বা সার্টিফায়েড কপি এবং পত্রিকার ডিক্লারেশনের তথ্য সংগ্রহ করুন। অনলাইন কনটেন্টের ক্ষেত্রে ইউআরএল, তারিখ, সময় ও অ্যাকাউন্টের বিবরণ সংরক্ষণ করুন, এবং সম্ভব হলে ফরেনসিক বা নোটারাইজড ক্যাপচারের ব্যবস্থা করুন, যাতে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য-সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ড প্রমাণ করা যায়। বক্তব্যটি পড়েছেন বা শুনেছেন এমন অন্তত দুজনকে চিহ্নিত করুন, কারণ তৃতীয় ব্যক্তির কাছে প্রকাশ একটি অপরিহার্য উপাদান। অনেক আইনজীবী বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে লিগ্যাল নোটিশও পাঠান।

    এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রত্যাখ্যান উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (ডিজিটাল রেকর্ড-সংক্রান্ত বিধান); দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ ('প্রণয়ন বা প্রকাশ করে') · কাগজপত্র: ইউআরএল ও সময়-চিহ্নসহ স্ক্রিনশট, পত্রিকার সার্টিফায়েড কপি, সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা, লিগ্যাল নোটিশ ও ডাক রসিদ (ঐচ্ছিক)

    পরামর্শ: কেবল স্ক্রিনশটের ওপর নির্ভর করবেন না; ডিভাইসটি সংরক্ষণ করুন এবং সেদিন আর কে কে পোস্টটি দেখেছেন তা লিখে রাখুন।

  3. বাংলাদেশে মানহানির মামলা: ধাপ ৩, নালিশি আবেদনের খসড়া
    ধাপ ৩ · নালিশ ও আমলে গ্রহণ

    নালিশি আবেদনের খসড়া

    মানহানি একটি আমলঅযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য অপরাধ, তাই পুলিশ এজাহার নিতে পারে না। ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ধারা ১৯৮ অনুযায়ী আদালত কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির নালিশের ভিত্তিতেই আমলে নিতে পারেন। আবেদনে হুবহু শব্দগুলো, কখন ও কোথায় তা প্রকাশিত হয়েছে, কে প্রকাশ করেছে, কোন সাক্ষীরা তা পড়েছেন বা শুনেছেন এবং সুনামের ক্ষতি কী হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়। প্রত্যেক আসামির নাম দেওয়া হয়, যেমন লেখক, সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক (দণ্ডবিধির ধারা ৫০০-৫০২)। ২০২৫ সাল থেকে সাইবার মানহানির অপরাধগুলো বিলুপ্ত।

    সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ ২০১৮ ও ২০২৩ সালের আইনের অধীনে বিচারাধীন ধারা ২৯-এর মামলাগুলো বাতিল করেছে, তাই অনলাইনে বাংলাদেশে মানহানির মামলা এখন দণ্ডবিধির অধীনেই দায়ের করা হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৯৮; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(১)(জ) (নালিশের সংজ্ঞা); দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০০-৫০২; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫০(৪)-(৫) · কাগজপত্র: নালিশি আবেদন, সাক্ষীর তালিকা, প্রকাশনার সংযুক্ত অনুলিপি, ওকালতনামা (vakalatnama)

    পরামর্শ: নালিশের সঙ্গেই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের তালিকা দিন; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৪(১ক) অনুযায়ী ওই তালিকা দাখিল না করা পর্যন্ত সমন জারি হতে পারে না।

  4. বাংলাদেশে মানহানির মামলা: ধাপ ৪, নালিশ দায়ের ও শপথের অধীনে জবানবন্দি
    ধাপ ৪ · নালিশ ও আমলে গ্রহণ

    নালিশ দায়ের ও শপথের অধীনে জবানবন্দি

    নালিশকারী ঢাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে, বা জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে নালিশ শাখায় আবেদন দাখিল করেন। আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে তৎক্ষণাৎ নালিশকারী এবং উপস্থিত যেসব সাক্ষীকে তিনি প্রয়োজনীয় মনে করেন তাদের শপথের অধীনে পরীক্ষা করতে হবে। এর সারমর্ম লিখে নালিশকারী ও ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষর করেন। ধারা ২০০-এর এই জবানবন্দি প্রায়ই নির্ণায়ক হয়। এতে মানহানির উপাদানগুলো সমর্থিত না হলে মামলা এখানেই শেষ হতে পারে। নালিশটিকে একটি সিআর মামলা নম্বর দেওয়া হয়।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: একই দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৯০(১)(ক); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২০০ · কাগজপত্র: নালিশি আবেদন, নালিশকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, কোর্ট ফি স্ট্যাম্প, সংযুক্তিগুলোর অনুলিপি

    পরামর্শ: মানহানিকর শব্দগুলো যেন হুবহু বলতে পারেন, সেভাবে নালিশকারীকে প্রস্তুত করুন; ধারা ২০০-এর শুনানিতে অস্পষ্ট স্মৃতি খারিজের একটি সাধারণ কারণ।

  5. ধাপ ৫: ধারা ২০২-এর অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত
    ধাপ ৫ · নালিশ ও আমলে গ্রহণ

    ধারা ২০২-এর অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত

    ম্যাজিস্ট্রেট তখনো সন্তুষ্ট না হলে প্রসেস জারি স্থগিত রেখে নিজে অনুসন্ধান করতে পারেন, অথবা অধস্তন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। উদ্দেশ্য হলো নালিশটি সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করা। বিচারিক অনুসন্ধানে সাধারণত অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পুলিশি অনুসন্ধানে একটি প্রতিবেদন তৈরি হয়। অনুসন্ধান প্রতিবেদন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত যায়, এবং তিনি তা ধারা ২০০-এর জবানবন্দির সঙ্গে মিলিয়ে পড়েন। ঢাকায় অনেক মানহানির নালিশ এই পর্যায় পেরোয়, বিশেষত আসামি সাংবাদিক বা জনপরিচিত ব্যক্তি হলে।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২০২(১), (২ক) · কাগজপত্র: ধারা ২০২-এর আদেশ, সাক্ষীদের জবানবন্দি, অনুসন্ধান প্রতিবেদন

    পরামর্শ: সাক্ষীদের হাজির রাখার ব্যবস্থা করুন; সাক্ষীরা হাজির হননি মর্মে অনুসন্ধান প্রতিবেদন এলে প্রায় সবসময়ই নালিশ খারিজ হয়।

  6. ধাপ ৬: খারিজ নাকি সমন
    ধাপ ৬ · নালিশ ও আমলে গ্রহণ

    খারিজ নাকি সমন

    ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২০০-এর জবানবন্দি ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন (যদি থাকে) বিবেচনা করেন। অগ্রসর হওয়ার মতো পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তিনি ধারা ২০৩ অনুযায়ী সংক্ষেপে কারণ লিপিবদ্ধ করে নালিশ খারিজ করেন। প্রাথমিকভাবে মামলা (prima facie) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি আমলে নিয়ে ধারা ২০৪ অনুযায়ী প্রসেস জারি করেন। দ্বিতীয় তফসিলে মানহানি একটি সমন মামলা, তাই আদালত সাধারণত পরোয়ানা নয়, সমন জারি করেন। এর সঙ্গে নালিশের একটি অনুলিপি যায় এবং প্রসেস ফি দিতে হয়। যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে ফি না দিলে ধারা ২০৪(৩) অনুযায়ী নালিশ খারিজ হতে পারে।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ১-৩ মাস পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২০৩; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২০৪(১), (১ক), (১খ), (৩); ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিল (দণ্ডবিধির ধারা ৫০০) · কাগজপত্র: খারিজের আদেশ বা সমন জারির আদেশ, নালিশের অনুলিপিসহ সমন, প্রসেস ফি পরিশোধের রসিদ

    পরামর্শ: নালিশ খারিজ হলে নালিশকারী নতুন করে দায়ের না করে দায়রা জজের কাছে রিভিশন চাইতে পারেন।

  7. ধাপ ৭: আসামির হাজিরা ও জামিন
    ধাপ ৭ · হাজিরা, জামিন ও আপস

    আসামির হাজিরা ও জামিন

    সমনের তারিখে আসামি ব্যক্তিগতভাবে, অথবা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হন। অপরাধটি জামিনযোগ্য হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৬ অনুযায়ী জামিননামা দিলে জামিন পাওয়া অধিকার। আদালত ধারা ৪৯৮(২) অনুযায়ী যুক্তিসংগত শর্ত আরোপ করতে পারেন, এবং যেখানে অনুমোদিত সেখানে এখন অনলাইনে বন্ড জমা দেওয়া যায়। পরবর্তী তারিখগুলোতে আদালত প্রায়ই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। আসামি সমন উপেক্ষা করলে ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা জারি করতে পারেন। নালিশকারীকেও হাজির থাকতে হবে। শুনানির তারিখে নালিশকারী অনুপস্থিত থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২৪৭ অনুযায়ী আসামিকে খালাস দিতে পারেন।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: ১টি শুনানি; এরপর প্রতি ১-২ মাস অন্তর তারিখ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৬; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৮(২) ও ধারা ৪৯৯(৩); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২০৫; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪৭ · কাগজপত্র: জামিননামা, জামিনদারের কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র, আসামিপক্ষের ওকালতনামা, ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন

    পরামর্শ: যে নালিশকারীরা তারিখে হাজির হন না তারা মামলা হারান; ধারা ২৪৭-এর খালাস পূর্ণাঙ্গ খালাস, মুলতবি নয়।

  8. ধাপ ৮: আপস বা প্রত্যাহার বিবেচনা
    ধাপ ৮ · হাজিরা, জামিন ও আপস

    আপস বা প্রত্যাহার বিবেচনা

    দণ্ডবিধির ধারা ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অপরাধ আদালতের অনুমতি ছাড়াই মানহানির শিকার ব্যক্তি আপস করতে পারেন। প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা, সংশোধনী প্রকাশ বা অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মামলা শেষ হতে পারে। আপস খালাস হিসেবে কার্যকর হয় (ধারা ৩৪৫(৬))। ২০২৫ সাল থেকে ধারা ৩৪৫(৮) অনুযায়ী আদালত পক্ষগুলোকে মীমাংসায় সহায়তা করতে পারেন, অথবা আপসের জন্য লিগ্যাল এইড অফিসার বা তাদের আইনজীবীদের কাছে পাঠাতে পারেন। আদালত লিখিত মীমাংসা নথিভুক্ত রাখতে এবং তা বাস্তবায়নে আদেশ দিতে পারেন। নালিশকারী ধারা ২৪৮ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে নালিশ প্রত্যাহারও করতে পারেন, যার ফলে আসামি খালাস পান।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: রায়ের আগে যেকোনো পর্যায়ে; আলোচনায় ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৪৫(১), (৬), (৮); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪৮; আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ · কাগজপত্র: আপসনামা (আপসের আবেদন), স্বাক্ষরিত মীমাংসাপত্র বা ক্ষমা প্রার্থনার বিবৃতি, প্রত্যাহারের আবেদন

    পরামর্শ: আপসনামায় স্বাক্ষরের আগে প্রকাশিতব্য সংশোধনীর হুবহু ভাষা, স্থান ও মেয়াদ নিয়ে একমত হয়ে নিন।

  9. ধাপ ৯: বিচারের জন্য বদলি, অব্যাহতির শুনানি ও অভিযোগ গঠন
    ধাপ ৯ · বিচার ও রায়

    বিচারের জন্য বদলি, অব্যাহতির শুনানি ও অভিযোগ গঠন

    ঢাকায় মামলাটি সাধারণত বিচারের জন্য একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়। ১৯৮২ সাল থেকে ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধির বিংশ অধ্যায়ের একক পদ্ধতিতে সব মামলার বিচার করেন। আসামি হাজির হলে ম্যাজিস্ট্রেট নথি বিবেচনা করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তাঁকে ধারা ২৪১ক অনুযায়ী কারণ লিপিবদ্ধ করে আসামিকে অব্যাহতি দিতে হবে। অন্যথায় তিনি ধারা ২৪২ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন এবং আসামি তা স্বীকার করেন কি না জিজ্ঞাসা করেন। স্বীকার করলে ধারা ২৪৩ অনুযায়ী তাঁকে দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। না করলে মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে যায়।

    তথ্য নিয়ে বিরোধ না থাকলে ধারা ৪৯৯-এর ব্যতিক্রমগুলো প্রায়ই অব্যাহতির শুনানিতেই তোলা হয়।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: হাজিরার ২-৬ মাস পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৯২; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪১ক; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪২-২৪৩ · কাগজপত্র: বদলির আদেশ, অব্যাহতির আবেদন (ধারা ২৪১ক), আদালত কর্তৃক গঠিত অভিযোগ

    পরামর্শ: সত্য ও জনকল্যাণের পক্ষে জোরালো দালিলিক প্রমাণ থাকলে তা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগেই ধারা ২৪১ক-এর অব্যাহতি শুনানিতে তোলাই সবচেয়ে ভালো; আপিল বিভাগ আশা করেন যে ধারা ৫৬১ক-এর আবেদনের আগে এই প্রতিকার ব্যবহার করা হবে।

  10. ধাপ ১০: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও জেরা
    ধাপ ১০ · বিচার ও রায়

    রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও জেরা

    প্রথমে নালিশকারী সাক্ষ্য দেন, এরপর যেসব সাক্ষী বক্তব্যটি পড়েছেন বা শুনেছেন তারা। প্রকাশের বিষয়টি প্রমাণ করা হয় মূল পত্রিকা, সার্টিফায়েড কপি, অথবা সমর্থনকারী সনদ বা বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যসহ ইলেকট্রনিক রেকর্ডের মাধ্যমে। আসামিপক্ষ শনাক্তকরণ, প্রকাশ, শব্দের অর্থ এবং ব্যতিক্রমগুলো নিয়ে জেরা করে, বিশেষত জনকল্যাণে সত্য প্রকাশ (প্রথম ব্যতিক্রম) এবং জনসেবামূলক আচরণ নিয়ে সরল বিশ্বাসে মতামত (দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যতিক্রম)। সমন মামলা দ্রুত এগোনোর কথা। বাস্তবে ঢাকায় মুলতবির কারণে এই পর্যায় বহু মাস ধরে চলে।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: ৪-১২ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪৪; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৯-৬৫, ১০১-১০৩ · কাগজপত্র: মূল বা সার্টিফায়েড প্রকাশনা, সনদসহ ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য, সাক্ষীর সমন

    পরামর্শ: প্রকাশ ও শনাক্তকরণ প্রমাণের দায় নালিশকারীর; কোনো ব্যতিক্রম প্রমাণের দায় আসামির (সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০৫)।

  11. ধাপ ১১: আসামি পরীক্ষা ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য
    ধাপ ১১ · বিচার ও রায়

    আসামি পরীক্ষা ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য

    রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হলে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৩৪২ অনুযায়ী আসামিকে প্রশ্ন করেন, যাতে তিনি প্রতিটি অভিযোগমূলক পারিপার্শ্বিক বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে পারেন। আসামি শপথের অধীন থাকেন না এবং উত্তর দিতে অস্বীকারও করতে পারেন। এরপর আসামিপক্ষ সাক্ষী ডাকতে বা দলিল উপস্থাপন করতে পারে। যেমন, দেখানো যেতে পারে যে বক্তব্যটি সত্য ও জনস্বার্থে করা, আদালতের কার্যধারার নির্ভুল প্রতিবেদন, অথবা কর্তৃপক্ষের কাছে সরল বিশ্বাসে করা অভিযোগ। একজন সাংবাদিক সম্পাদকীয় নোট ও উৎস-দলিল উপস্থাপন করতে পারেন। এরপর মামলা যুক্তিতর্কে যায়।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: ২-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৪২; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪৪(২)-(৩); দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯-এর ব্যতিক্রম ১, ২, ৩, ৪, ৮, ৯ · কাগজপত্র: ধারা ৩৪২-এর পরীক্ষার রেকর্ড, আসামিপক্ষের দলিলাদি, লিখিত যুক্তিতর্ক (ঐচ্ছিক)

    পরামর্শ: আসামিপক্ষের দলিল আগেভাগেই প্রকাশ করা উচিত; আসামিপক্ষের সাক্ষ্যের পর্যায়ে প্রথমবার উপস্থাপন করলে সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

  12. ধাপ ১২: রায়: দণ্ড, খালাস ও ক্ষতিপূরণ
    ধাপ ১২ · বিচার ও রায়

    রায়: দণ্ড, খালাস ও ক্ষতিপূরণ

    ম্যাজিস্ট্রেট কারণসহ রায় দেন। দণ্ডের ক্ষেত্রে ধারা ৫০০ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যায়। মানহানির মামলায় আদালত প্রায়ই কেবল অর্থদণ্ড দেন। খালাসের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি অভিযোগটিকে মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক মনে করেন, তবে ধারা ২৫০ অনুযায়ী এখন তিনি নালিশকারীকে কারণ দর্শাতে বলতে বাধ্য। এরপর তাঁকে আসামিকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা (তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে ২৫,০০০ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে হবে। ২০২৬ সালের সংশোধনীতে, ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকরভাবে, এই সীমা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে।

    ম্যাজিস্ট্রেটদের মামলা গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা, যদিও প্রায়ই তা পেরিয়ে যায়।

    কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · সময়: যুক্তিতর্কের ১-২ মাস পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪৫; দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৫০ (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৩৯গ(১) · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, ক্ষতিপূরণের আদেশ

    পরামর্শ: রায়ের দিনেই সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; আপিলের মেয়াদ দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে গণনা হয়।

  13. ধাপ ১৩: ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলা দায়ের
    ধাপ ১৩ · ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি দাবি

    ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলা দায়ের

    লিখিত বা মৌখিক মানহানির (libel বা slander) জন্য ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি দাবি একটি টর্ট মামলা, যা দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৭ অনুযায়ী আরজির মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয় (তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৪-২৫)। দাবিকৃত অর্থের ওপর মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি লাগে, এবং সেই মূল্যমানই আদালত নির্ধারণ করে। সিভিল জজ (পূর্বনাম সহকারী জজ) ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং সিনিয়র সিভিল জজ (পূর্বনাম সিনিয়র সহকারী জজ) ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা শোনেন। এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজের কাছে যায় (সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯)।

    মামলাটি দেওয়ানি কার্যবিধির স্বাভাবিক পথে চলে: সমন, লিখিত জবাব, বিচার্য বিষয় গঠন, ধারা ৮৯ক অনুযায়ী মধ্যস্থতা, সাক্ষ্য ও ডিক্রি। ফৌজদারি মানহানির মামলার পাশাপাশিই এটি চলতে পারে, কারণ বাংলাদেশে মানহানির মামলা ও দেওয়ানি মামলা পরস্পর স্বাধীন কার্যধারা।

    কোথায়: দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১.৫-৪ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৭ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ (২০২৬ সালের ১২ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ২৪-২৫; কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭ · কাগজপত্র: আরজি, দাবির মূল্যমানের ওপর কোর্ট ফি, প্রকাশনার অনুলিপি, ক্ষতির প্রমাণ (হাতছাড়া হওয়া চুক্তি, চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক নথি)

    পরামর্শ: অতিরঞ্জিত ক্ষতিপূরণ দাবিতে বিপুল কোর্ট ফি লাগে এবং কদাচিৎ পুরোটা মঞ্জুর হয়; প্রমাণ দিয়ে সমর্থন করতে পারবেন এমন অঙ্কই দাবি করুন।

  14. ধাপ ১৪: ডিক্রি ও জারি
    ধাপ ১৪ · ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি দাবি

    ডিক্রি ও জারি

    বাদী সফল হলে আদালত ক্ষতিপূরণ ও খরচের জন্য অর্থ-ডিক্রি দেন। বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারেন। বিবাদী অর্থ পরিশোধ না করলে ডিক্রিদার দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ অনুযায়ী জারির আবেদন করেন। আদালত দায়িকের সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম করতে পারেন, অথবা ব্যাংক হিসাব বা বেতন ক্রোক করতে পারেন। দেওয়ানি কারাবাস সর্বশেষ উপায়। অন্যদিকে ফৌজদারি অর্থদণ্ড রাষ্ট্র আদায় করে, এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৫ অনুযায়ী অর্থদণ্ড থেকে যে ক্ষতিপূরণের আদেশ হয় তা ভুক্তভোগী পান।

    কোথায়: দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ ও আদেশ ২১; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪৫ · কাগজপত্র: সার্টিফায়েড ডিক্রি, জারির আবেদন (ছক আকারে), দায়িকের সম্পত্তি বা ব্যাংকের বিবরণ

    পরামর্শ: জারির আবেদনের আগে বিবাদীর ক্রোকযোগ্য সম্পদ খুঁজে বের করুন; শনাক্তযোগ্য সম্পদ নেই এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা কঠিন।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে মানহানির মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · সিএমএম আদালত → দায়রা জজ

দণ্ডিত আসামি, বা খালাসের পর নালিশকারী আপিল করলে কী হয়?

  1. 1
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

    দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি আপিল

    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তি দণ্ডাদেশের ৩০ দিনের মধ্যে মহানগর দায়রা জজের কাছে আপিল করেন। একমাত্র দণ্ড ৫,০০০ টাকা বা তার কম অর্থদণ্ড হলে আপিল চলে না। মামলা খালাসে শেষ হলে নালিশকারী ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের কাছে আপিল করতে পারেন, তবে কেবল এমন আইনগত ভুলের ভিত্তিতে যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। আপিল আদালত নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন নতুন করে শোনেন এবং দণ্ড বহাল, বাতিল, পরিবর্তন বা হ্রাস করতে পারেন।

    ৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪০৮ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪১৩ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪১৭(২)(খ), (৩)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৩তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দায়রা জজের আপিল রায়ে আপিলের নিষ্পত্তি হয়; এরপর হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

রিভিশন · সিএমএম আদালত → দায়রা জজ → হাইকোর্ট

নালিশ খারিজ হলে, বা ভুলভাবে সমন জারি হলে কী হয়?

  1. 1
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

    দায়রা জজের কাছে রিভিশন

    ধারা ২০৩ অনুযায়ী মামলা খারিজ হওয়া নালিশকারী, অথবা যে আসামি মনে করেন সমন জারিই হওয়া উচিত ছিল না, দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করতে পারেন। আদালত আদেশের বৈধতা, শুদ্ধতা ও যথার্থতা যাচাই করেন। খারিজ হওয়া নালিশের ক্ষেত্রে ধারা ৪৩৬ অনুযায়ী অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা আমলে গ্রহণের আদেশ বাতিল করতে পারেন। কোনো পক্ষের রিভিশন দায়রা জজ নিষ্পত্তি করলে সেই পক্ষের জন্য তা চূড়ান্ত (ধারা ৪৩৯ক(২))।

    ৪-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৩৯ক
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী কার্যধারা বাতিল

    দায়রা জজের রিভিশনের পর, অথবা অন্য কোনো প্রতিকার উপযুক্ত না হলে, আসামি ধারা ৫৬১ক-এর অন্তর্নিহিত ক্ষমতাবলে কার্যধারা বাতিলের (quash) জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। সাধারণ যুক্তি হলো, নালিশটি হুবহু গ্রহণ করলেও কোনো অপরাধ প্রকাশ পায় না, অথবা অবিসংবাদিত তথ্যের ভিত্তিতে তা কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে। আপিল বিভাগ জোর দেন যে প্রথমে বিদ্যমান প্রতিকারগুলো, যেমন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অব্যাহতি বা খালাসের আবেদন, ব্যবহার করতে হবে।

    ৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১কমোহাম্মদ আমীর আলী মোস্তফা বনাম শাহ মো. নূরুল আলম (আপিল বিভাগ, ফৌজদারি আপিল নং ৩৮/২০১০)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হয় হাইকোর্ট বিভাগে কার্যধারা বাতিল হয়, নয়তো তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।

রিভিউ · সিএমএম আদালত → দেওয়ানি আদালত → আপিল বিভাগ

একই আদালত কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?

  1. 1
    চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

    ফৌজদারি বিচারিক আদালতে রিভিউ নেই

    ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি রায়ে স্বাক্ষর করার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ অনুযায়ী করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তিনি তা পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না। একমাত্র প্রতিকার হলো উচ্চতর আদালতে আপিল বা রিভিশন। দণ্ড বা খালাস পুনর্বিবেচনার জন্য একই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করলে তা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে নামঞ্জুর হবে।

    প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৯
  2. 2
    দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)

    দেওয়ানি ডিক্রির রিভিউ

    ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলায় পরাজিত পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ অনুযায়ী একই আদালতকে ডিক্রি রিভিউ করতে বলতে পারে। ভিত্তি হলো: যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ। ডিক্রির ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

    ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
  3. 3
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে রিভিউ

    ব্যবস্থার শীর্ষে আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন। ফৌজদারি বিষয়ে একমাত্র ভিত্তি হলো নথিতে সুস্পষ্ট ভুল। আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে, এবং কেবল একবারই রিভিউ করা যায়।

    ৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ সংশোধনের একটি সংকীর্ণ পথ; বেশির ভাগ চ্যালেঞ্জ আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমেই ওপরে নিতে হয়।

রেফারেন্স · দেওয়ানি আদালত → হাইকোর্ট → দেওয়ানি আদালত

কোনো আইনগত প্রশ্ন কি হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করা যায়?

  1. 1
    দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)

    দেওয়ানি আদালতের রেফারেন্স

    দেওয়ানি মামলায় যদি এমন কোনো আইন বা প্রবিধানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যার ওপর মামলাটি নির্ভরশীল, তবে অধস্তন আদালত বিষয়টি প্রস্তুত করে হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন। একটি সাধারণ উদাহরণ হলো বাকস্বাধীনতা সীমিতকারী কোনো বিধান। এর মধ্যে মামলাটি স্থগিত থাকে। ফৌজদারি দিকে মানহানির বিচারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোনো সাধারণ রেফারেন্স পদ্ধতি নেই, তাই আইনগত প্রশ্ন রিভিশনের মাধ্যমে ওপরে যায়।

    প্রস্তুত করতে ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ বিধি ১
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর

    হাইকোর্ট বিভাগ রেফারেন্স শুনানি করে আইনগত প্রশ্নের নিষ্পত্তি করেন। এরপর রায়ের একটি অনুলিপি রেফারকারী আদালতে ফেরত পাঠান, যাকে সেই উত্তর অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। মানহানির মামলায় রেফারেন্স বিরল, তবে এতে সাংবিধানিক প্রশ্ন সংক্ষিপ্ত বিচারের বাইরে থাকে।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩-৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলাটি দেওয়ানি আদালতে ফিরে যায় এবং হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর অনুযায়ী নিষ্পত্তি হয়।

রিমান্ড (ফেরত) · সিএমএম আদালত → দায়রা জজ → সিএমএম আদালত → দায়রা জজ

আপিল আদালত পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?

  1. 1
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

    দায়রা জজ দণ্ড বাতিল করে পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠান

    বিচারে ত্রুটি থাকলে দায়রা জজ ধারা ৪২৩(১)(খ) অনুযায়ী দণ্ড বাতিল করে উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। উদাহরণ: ধারা ৩৪২-এ আসামির সামনে অভিযোগমূলক সাক্ষ্য তুলে না ধরা, বা আসামিপক্ষের কোনো সাক্ষীকে তলব করতে অন্যায়ভাবে অস্বীকৃতি। সে ক্ষেত্রে আপিল আদালত নিজে দোষ নির্ধারণ করেন না। বরং কী কী আবার করতে হবে তার নির্দেশনাসহ নথি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফেরত পাঠানো হয়।

    আপিলের আদেশেফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৩(১)(ক)-(খ)
  2. 2
    চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

    ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন শুনানি

    ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় বিচার করেন, অথবা ফেরত পাঠানোর আদেশে চিহ্নিত অংশটুকুই করেন, এবং এরপর নতুন রায় দেন। আদেশে অনুমতি থাকলে আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য বহাল থাকতে পারে। বিচার শেষ করার জন্য ধারা ৩৩৯গ-এর সময়সীমা তখনো প্রযোজ্য। উভয় পক্ষের উচিত দ্রুত তারিখের জন্য চাপ দেওয়া, কারণ নইলে ফেরত আসা মামলা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই মাসের পর মাস কার্যতালিকায় পড়ে থাকতে পারে।

    ৪-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৩ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৩৯গ
  3. 3
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

    দ্বিতীয় আপিলে আবার ওপরে

    নতুন রায়ের বিরুদ্ধে নতুন দণ্ডাদেশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সার্টিফায়েড কপি নিয়ে আবার দায়রা জজের কাছে আপিল করা যায়। আপিল আদালত তখন নতুন নথি এবং ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা কীভাবে পালিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করেন। সেই আপিল নিষ্পত্তির পর বৈধতা ও যথার্থতার প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশনের সুযোগ থাকে।

    ৬-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪০৮তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিচে যায় এবং নতুন আপিলে আবার দায়রা জজের কাছে আসে।

আপিলের অনুমতি · দায়রা জজ → হাইকোর্ট → আপিল বিভাগ

মানহানির মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক

    দায়রা জজের আপিল সিদ্ধান্তের পর দণ্ডিত ব্যক্তি বা নালিশকারী হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন। কার্যধারা বাতিলের জন্য ধারা ৫৬১ক-এর আবেদনও করা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ পুরো মামলা নতুন করে না শুনে বৈধতা, এখতিয়ার এবং সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠ পরীক্ষা করেন; তিনি নিম্ন আদালতের নথি তলব করতে এবং এর মধ্যে দণ্ড স্থগিত রাখতে পারেন।

    ১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫, ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল)

    মানহানির বিষয়ে স্বয়ংক্রিয় কোনো আপিল নেই। পরাজিত পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন দাখিল করে। আপিল বিভাগ কেবল গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন থাকলেই অনুমতি দেন। অনুমতি মঞ্জুর হলে আপিল শুনানি হয় এবং সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

    ১-২ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

বাংলাদেশে মানহানির মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে ফৌজদারি মানহানির মামলা ফৌজদারি আদালতের সর্বনিম্ন স্তর থেকে শুরু হয়। ঢাকা মহানগরে নালিশ দায়ের হয় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, এবং একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করেন। মহানগরের বাইরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুরুর স্থান। অপরাধটির সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, তাই বাস্তবে বাংলাদেশে মানহানির মামলা দায়রা আদালতে না গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটই বিচার করেন। দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল যায় দায়রা জজের কাছে (ঢাকায় মহানগর দায়রা জজ), যিনি নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন নতুন করে শোনেন। এরপর বৈধতা ও যথার্থতায় সীমিত রিভিশন, অথবা হাইকোর্ট বিভাগে ধারা ৫৬১ক-এর অধীন কার্যধারা বাতিলের আবেদন করা যায়।

আপিল বিভাগ কেবল অনুমতি (লিভ) দিলে বিষয়টি শোনেন। ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলা দেওয়ানি আদালতের স্তরক্রম মেনে চলে। দাবির মূল্যমানই বিচারিক আদালত নির্ধারণ করে: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত (২০২৬ সালে সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ থেকে নাম পরিবর্তিত), আর যুগ্ম জেলা জজের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের আপিল যায় জেলা জজের কাছে। যুগ্ম জেলা জজের রায়ের আপিল মূল্যমান ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে জেলা জজের কাছে, এর বেশি হলে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা · জেলা জজ আদালত, ঢাকা
  4. প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।

মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

প্রথম দফার আদালত

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

দায়েরের আগে
০.৫–১ মাস
নালিশ ও আমলে গ্রহণ
১–৬ মাস
হাজিরা, জামিন ও আপস
১–৩ মাস
বিচার ও রায়
১০–৩০ মাস
ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি দাবি
১৮–৪৮ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৩০.৫–৮৮ মাস · সামগ্রিক: ঢাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফৌজদারি নালিশে প্রথম স্তরে নির্দেশক ১.৫-৪ বছর; আপিল ও রিভিশনে আরও ১-৩ বছর যোগ হয় (ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

সিআর মামলা (CR case)
পুলিশের এজাহারের (জিআর মামলা) পরিবর্তে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায়ের করা নালিশের মাধ্যমে শুরু হওয়া ফৌজদারি মামলা।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি (Person aggrieved)
যার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৮ অনুযায়ী সীমিত ব্যতিক্রম ছাড়া কেবল তিনিই মানহানির নালিশ করতে পারেন।
আমলে গ্রহণ (Cognizance)
কার্যধারা শুরুর জন্য ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচারিক বিবেচনা গ্রহণ।
সমন মামলা (Summons case)
যে মামলায় দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী আদালত প্রথমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বদলে সমন দিয়ে আসামিকে তলব করেন; দণ্ডবিধির ধারা ৫০০-এর মানহানি এর একটি।
আপস (Compounding)
মানহানির শিকার ব্যক্তি ও আসামির মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আপসযোগ্য অপরাধের মীমাংসা, যার ফলে আসামি খালাস পান।
ধারা ৪৯৯-এর ব্যতিক্রম (Exceptions to s.499)
দশটি আইনি প্রতিরক্ষা, যার মধ্যে আছে জনকল্যাণে সত্য প্রকাশ, জনসেবামূলক আচরণ নিয়ে ন্যায্য মন্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের কাছে সরল বিশ্বাসে অভিযোগ।
ধারা ৫৬১ক (Section 561A)
আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ফৌজদারি কার্যধারা বাতিলের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা।
ফৌজদারি রিভিশন (Criminal revision)
নিম্ন ফৌজদারি আদালতের আদেশের বৈধতা বা যথার্থতা পরীক্ষার জন্য উচ্চতর আদালতে আবেদন।
প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে মানহানির মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

মানহানির মামলা কি থানায় করা যায়?
না। দণ্ডবিধির ধারা ৫০০-এর মানহানি আমলঅযোগ্য অপরাধ, এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৮ অনুযায়ী আদালত কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির নালিশের ভিত্তিতেই আমলে নিতে পারেন। আপনাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি আবেদন দাখিল করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২০২ অনুযায়ী অনুসন্ধানের নির্দেশ দিলে তবেই পুলিশ যুক্ত হতে পারে।
অনলাইনে মানহানি কি এখনো সাইবার অপরাধ?
আলাদা অপরাধ হিসেবে নয়। সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬, যা ২১ মে ২০২৫ থেকে কার্যকরভাবে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের আইনের ধারা ২৯-এর অধীনে বিচারাধীন মানহানির মামলাগুলো বাতিল করেছে এবং এতে মানহানির নিজস্ব কোনো অপরাধ নেই। তাই অনলাইনে বাংলাদেশে মানহানির মামলা দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৯-৫০০ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আনা হয়।
আসামিকে কি গ্রেপ্তার করা হবে?
সাধারণত না। বাংলাদেশে মানহানির মামলা একটি জামিনযোগ্য সমন মামলা, তাই ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণত প্রথমে সমন জারি করেন, এবং হাজির হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৬ অনুযায়ী আসামি অধিকার হিসেবে জামিন পান। আসামি সমন উপেক্ষা করলেই কেবল পরোয়ানা জারি হয়। সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
মামলা দায়েরের কি কোনো সময়সীমা আছে?
ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে আছে: লিখিত মানহানিতে প্রকাশের এক বছর এবং মৌখিক মানহানিতে কথাগুলো বলার এক বছরের মধ্যে (তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৪-২৫)। ফৌজদারি নালিশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তামাদি নেই, তবে আদালত ব্যাখ্যাহীন বিলম্বকে সন্দেহের চোখে দেখেন। কোনো কারণ না দেখিয়ে কয়েক মাস পরে দায়ের করা নালিশ প্রায়ই অনুসন্ধান পর্যায়েই খারিজ হয়।
একজন সাংবাদিক কী কী আত্মপক্ষ সমর্থন তুলতে পারেন?
ধারা ৪৯৯-এ দশটি ব্যতিক্রম আছে। সংবাদমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনকল্যাণে সত্য প্রকাশ, সরকারি কর্মচারীর আচরণ বা জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সরল বিশ্বাসে মতামত, এবং আদালতের কার্যধারার মোটামুটি নির্ভুল প্রতিবেদন। আসামিকে সম্ভাব্যতার প্রাধান্যের ভিত্তিতে ব্যতিক্রমটি প্রমাণ করতে হবে। সম্পাদক ও প্রকাশকরা এই যুক্তিও দিতে পারেন যে মানহানিকর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাঁরা জানতেন না (ধারা ৫০১-৫০২)।
বাংলাদেশে মানহানির মামলা কি আপসে মীমাংসা করা যায়?
হ্যাঁ। ধারা ৫০০-৫০২-এর অপরাধ আদালতের অনুমতি ছাড়াই মানহানির শিকার ব্যক্তি আপস করতে পারেন। আপসনামা, প্রায়ই প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনাসহ, দাখিল করলে খালাসের মাধ্যমে মামলা শেষ হয়। ২০২৫ সাল থেকে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫(৮) অনুযায়ী মীমাংসায় সহায়তার জন্য পক্ষগুলোকে লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছেও পাঠাতে পারেন এবং সম্মত শর্তাবলি কার্যকর করতে পারেন।
আমার নালিশ মিথ্যা প্রমাণিত হলে কী হবে?
ম্যাজিস্ট্রেট খালাস দিয়ে যদি অভিযোগটিকে মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক মনে করেন, তবে ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুযায়ী তাঁকে নালিশকারীকে আসামির অনুকূলে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে হবে। নালিশকারী আলাদা ফৌজদারি মামলা বা বিদ্বেষপ্রসূত মামলার (malicious prosecution) জন্য দেওয়ানি মামলারও মুখোমুখি হতে পারেন।
ফৌজদারি নালিশ করব, নাকি দেওয়ানি মামলা?
দুটির উদ্দেশ্য ভিন্ন। ফৌজদারি নালিশ দায়েরে খরচ কম এবং আসামির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে এর ফল ক্ষতিপূরণ নয়, শাস্তি বা অর্থদণ্ড। দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়, কিন্তু মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি লাগে এবং এক বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। অনেক মক্কেল দুটোই করেন, কারণ দুটি কার্যধারা পরস্পর স্বাধীন।

আইন ও উৎস

  1. The Penal Code, 1860 (ss.499-502)
  2. The Code of Criminal Procedure, 1898 (as amended by Act XI of 2026)
  3. The Limitation Act, 1908
  4. The Civil Courts Act, 1887
  5. The Code of Civil Procedure, 1908
  6. Mohammad Amir Ali Mostafa v Shah Md. Nurul Alam, Appellate Division, Criminal Appeal No.38 of 2010
  7. Dhaka Tribune: Govt issues gazette of Cyber Security Ordinance
  8. Code of Criminal Procedure (Amendment) Act, 2026 (Act No. XI of 2026)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp