বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল: কে আপিল করতে পারেন, সময়সীমা, শুনানি ও আপিল বিভাগ, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের (appeal against acquittal) মাধ্যমে সরকার, এবং নালিশি মামলায় নালিশকারী, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)-এর ধারা ৪১৭ ও ৪২৩ অনুযায়ী অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ার আদেশ উল্টে দিতে উচ্চতর আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন। সরকারের হাতে ছয় মাস সময় থাকে, আর নালিশকারীর মাত্র ৬০ দিন, এবং নালিশকারীকে দেখাতে হয় যে আইনের ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।
আপিল আদালত দোষী সাব্যস্ত করতে, পুনর্বিচারের আদেশ দিতে বা আপিল খারিজ করতে পারে, তবে খালাসের আদেশে সহজে হস্তক্ষেপ করে না।
- কোথা থেকে শুরু
- দায়রা জজ, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেটের খালাসের আদেশ; দায়রা আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল হয় ঢাকায়…
- মূল আইন
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৪৭, ২৫০, ২৬৫জ, ৪১৭, ৪১৭ক, ৪১৮-৪২৩, ৪২৭, ৪২৯-৪৩১ ও ৪৩৯(৪) (২০২৬ সালের সংশোধনী, অর্থাৎ ২০২৬ সালের…
- সাধারণ সময়কাল
- আপিলের সিদ্ধান্ত ও দাখিল: ১ থেকে ৬ মাস। গ্রহণ ও নোটিশ: ১ থেকে ৬ মাস। পেপারবুক ও শুনানি: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী…
- কে মামলা করতে পারেন
- যেকোনো খালাসের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউটরের মাধ্যমে সরকার; নালিশের ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলায় নালিশকারী, কেবল আইনের…
বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · খালাস ও কে আপিল করতে পারেনবিচারিক আদালত কর্তৃক খালাস
প্রক্রিয়া শুরু হয় খালাসের আদেশ দিয়ে। দায়রা বিচারে অভিযুক্ত অপরাধ করেছেন এমন কোনো সাক্ষ্য না থাকলে দায়রা জজ ধারা ২৬৫জ অনুযায়ী খালাস দেন, অথবা আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার পর চূড়ান্ত রায়ে খালাস দেন। ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২৪৫ অনুযায়ী খালাস দেন, এবং নালিশি মামলায় নালিশকারী যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া হাজির না হলে ধারা ২৪৭ অনুযায়ী তাঁকে খালাস দিতেই হয়। অন্য মামলায় আটক না থাকলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট যদি অভিযোগটি মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা হয়রানিমূলকও মনে করেন, তাহলে এখন তাঁকে নালিশকারী বা এজাহারকারীকে কারণ দর্শাতে বলতে হয়, এবং সন্তুষ্ট হলে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত, বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত, ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে হয়।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত · সময়: রায়ের দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫জ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৫(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০(১)-(২) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত) · কাগজপত্র: খালাসের রায় বা আদেশ, সত্যায়িত কপির আবেদন
ধাপ ২ · খালাস ও কে আপিল করতে পারেনকে আপিল করতে পারেন
ফৌজদারি কার্যবিধিতে দুটি পথ আছে। মামলা পুলিশ প্রতিবেদন বা নালিশ, যেভাবেই শুরু হোক, সরকার যেকোনো খালাসের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউটরকে আপিল করার নির্দেশ দিতে পারে। নালিশকারী আপিল করতে পারেন কেবল যখন মামলাটি নালিশের ভিত্তিতে দায়ের হয়েছে, কেবল মূল খালাসের বিরুদ্ধে, এবং কেবল যখন খালাসে আইনের এমন ভুল আছে যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। পুলিশি মামলার এজাহারকারীর কার্যবিধির অধীনে আপিলের কোনো অধিকার নেই। কিছু আইন এই অধিকার প্রসারিত করেছে। দুর্নীতির মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আপিলের নির্দেশ দেয়, আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যেকোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সুযোগ দেয়।
কোথায়: নালিশকারীর আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(১)-(২); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮ · কাগজপত্র: খালাসের রায়ের সত্যায়িত কপি, নালিশ বা এজাহারের (FIR) কপি
পরামর্শ: কোন পথ প্রযোজ্য তা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করুন। সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকলে নালিশকারী নিজের আপিলের ৬০ দিনের সময়সীমা হারাতে পারেন।
ধাপ ৩ · সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দাখিলসরকার আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়
রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বিচার পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আপিলের সম্ভাবনা বিষয়ে মতামতসহ খালাসের বিষয়ে প্রতিবেদন দেন। সিদ্ধান্ত সরকারের, এবং বাস্তবে সেই প্রতিবেদন ও মামলার কাগজপত্রের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী বা এজাহারকারী উপেক্ষিত সাক্ষ্য উল্লেখ করে আপিলের অনুরোধ জানিয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিতে পারেন। সরকার আপিলের সিদ্ধান্ত নিলে পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দেয়, এবং হাইকোর্ট বিভাগে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তারা মামলা পরিচালনা করেন। তামাদি আইন খালাসের তারিখ থেকে ছয় মাস সময় দেয়।
কোথায়: পাবলিক প্রসিকিউটর ও আইন মন্ত্রণালয় · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(১); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ · কাগজপত্র: পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রতিবেদন, রায়ের সত্যায়িত কপি, এজাহারকারীর আবেদনপত্র
ধাপ ৪ · সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দাখিলনালিশকারীর আপিল: আইনের ভুল ও ৬০ দিন
দায়রা আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে নালিশকারীর আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে, আর ম্যাজিস্ট্রেটের খালাসের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে। ধারা ৪১৭(৩) অনুযায়ী খালাসের ৬০ দিনের মধ্যে এটি দাখিল করতে হয়, এবং আদালত এই মেয়াদ কঠোরভাবে প্রয়োগ করে। আপিলের কারণগুলোতে আইনের ভুল দেখাতে হয়, যেমন ভুল আইনি মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য বাদ দেওয়া, অথবা সাক্ষ্যের এত গুরুতর ভুল পাঠ যে তা আইনের প্রশ্নে পরিণত হয়, এবং দেখাতে হয় যে এর কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী নিয়ে বিচারকের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে শুধু দ্বিমত যথেষ্ট নয়।
কোথায়: নালিশকারীর আইনজীবী · সময়: খালাসের ৬০ দিনের মধ্যে · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২)-(৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৯ · কাগজপত্র: কারণসহ আপিলের দরখাস্ত (মেমো অব আপিল), রায়ের সত্যায়িত কপি, জবানবন্দি ও প্রদর্শনী
ধাপ ৫ · সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দাখিলহাইকোর্ট বিভাগে আপিল দাখিল করুন
রায়ের কপি ও ক্রমিক নম্বরযুক্ত কারণসহ আপিলের দরখাস্ত ফৌজদারি আপিল শাখায় দাখিল করা হয়। সরকারি আপিল রাষ্ট্রের নামে দাখিল হয়। নালিশকারীর আপিলে রাষ্ট্র ও খালাসপ্রাপ্ত অভিযুক্তকে প্রতিপক্ষ করা হয়। দরখাস্তে সাধারণত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারির, বা অন্তত তাঁকে হাজির হয়ে জামিন দিতে বাধ্য করার, এবং নিম্ন আদালতের নথি তলবের প্রার্থনা করা হয়। মেয়াদের পরে দাখিল করা বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিলে বিলম্বের ব্যাখ্যা দিতে হয়, এবং নালিশকারীদের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৭; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ · কাগজপত্র: আপিলের দরখাস্ত, রায়ের সত্যায়িত কপি, ওকালতনামা, ধারা ৪২৭-এর অধীনে দরখাস্ত
ধাপ ৬ · গ্রহণ, নোটিশ ও অভিযুক্তআপিল গ্রহণের শুনানি
বাংলাদেশের আইনে খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য আলাদা কোনো অনুমতির (লিভ) ধাপ নেই, তবে আপিল গ্রহণের ধাপটি ছাঁকনির কাজ করে। বেঞ্চ আপিলকারীর বক্তব্য শোনে এবং হস্তক্ষেপের পর্যাপ্ত কারণ না দেখলে সংক্ষিপ্তভাবে আপিল খারিজ করতে পারে। প্রত্যাখ্যানের প্রভাব স্থায়ী। ধারা ৪১৭(৪) অনুযায়ী খালাসের বিরুদ্ধে কোনো আপিল গ্রহণ প্রত্যাখ্যাত হলে সেই খালাসের বিরুদ্ধে আর সরকারি আপিল করা যায় না। ফলে নালিশকারীর দুর্বল আপিল রাষ্ট্রের শক্তিশালী আপিলের পথ বন্ধ করে দিতে পারে। আপিল গৃহীত হলে বেঞ্চ অভিযুক্তকে নোটিশ দেওয়ার এবং নথি তলবের আদেশ দেয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিল থেকে ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(৪); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১) · কাগজপত্র: আপিলের দরখাস্ত, কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তি
পরামর্শ: নিজের দুর্বল আপিল দাখিলের আগে নালিশকারীর ভেবে দেখা উচিত রাষ্ট্র আপিল করতে চায় কি না, কারণ আপিল গ্রহণ প্রত্যাখ্যাত হলে রাষ্ট্রের আপিলের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
ধাপ ৭ · গ্রহণ, নোটিশ ও অভিযুক্তখালাসপ্রাপ্ত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার বা জামিন
খালাসের বিরুদ্ধে আপিল উপস্থাপিত হলে ধারা ৪২৭ অনুযায়ী আপিল আদালত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে তার সামনে বা কোনো অধস্তন আদালতের সামনে হাজির করার জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারে। সেই আদালত তখন আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে পাঠাতে বা জামিন দিতে পারে। বাস্তবে হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই হেফাজতের আদেশ না দিয়ে অভিযুক্তকে বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত বিদেশে থাকলে বা পলাতক হলেও নোটিশের পর আপিল চলতে পারে।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত · সময়: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯(৩) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন) · কাগজপত্র: ধারা ৪২৭-এর অধীনে পরোয়ানা বা নির্দেশ, জামিননামা ও জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র
ধাপ ৮ · গ্রহণ, নোটিশ ও অভিযুক্তঅভিযুক্তকে নোটিশ
ধারা ৪২২ অনুযায়ী ধারা ৪১৭-এর অধীনে প্রতিটি আপিলে আপিল আদালতকে অভিযুক্তকে শুনানির সময় ও স্থানের নোটিশ দিতে হয়। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। ক্রিমিনাল রিভিশন নং ৩৪৭/২০২১ মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ দায়রা জজের খালাস উল্টে দেওয়ার একটি আদেশ রদ করে, কারণ খালাসপ্রাপ্ত অভিযুক্তকে কোনো নোটিশ জারি করা হয়নি। প্রতিপক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করে খালাসের পক্ষে যুক্তি দিতে পারেন। আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকলে আইনগত সহায়তা পাওয়া যায়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২২; মো. নাজমুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র, হাইকোর্ট বিভাগ, ক্রিমিনাল রিভিশন নং ৩৪৭/২০২১ · কাগজপত্র: শুনানির নোটিশ, নোটিশ জারির প্রতিবেদন, প্রতিপক্ষের ওকালতনামা
ধাপ ৯ · শুনানি ও রায়নথি ও পেপারবুক
নিম্ন আদালত তার নথি পাঠায়, এবং হাইকোর্ট বিভাগের দপ্তর এজাহার বা নালিশ, অভিযোগ গঠন, জবানবন্দি, প্রদর্শনী, ধারা ৩৪২-এর অধীনে অভিযুক্তের পরীক্ষা এবং রায় নিয়ে একটি পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আপিলের শুনানি হতে পারে না। ধারা ৪৪২ক নোটিশ জারির পর ৯০ কার্যদিবসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তবে আদালত এটিকে নির্দেশনামূলক হিসেবে গণ্য করে। বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল সাধারণত দণ্ডিতদের আপিলের পেছনে অপেক্ষায় থাকে, কারণ অভিযুক্ত মুক্ত অবস্থায় আছেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪২ক · কাগজপত্র: নিম্ন আদালতের নথি, পেপারবুক
ধাপ ১০ · শুনানি ও রায়শুনানি ও হস্তক্ষেপের মানদণ্ড
আপিলের শুনানি তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই হয়, এবং বেঞ্চ সব সাক্ষ্য নতুন করে পড়তে পারে। কিন্তু খালাস অভিযুক্তের নির্দোষিতার অনুমানকে আরও শক্তিশালী করে, এবং প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো আপিল আদালত তা উল্টে দেবে কেবল যখন বিচারিক আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত বা অযৌক্তিক। অর্থাৎ আদালত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ভুল পড়েছে বা উপেক্ষা করেছে, ভুল আইনি মানদণ্ড প্রয়োগ করেছে, অথবা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যা কোনো যুক্তিসংগত আদালত পৌঁছাতে পারত না। সাক্ষ্যের দুটি যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা সম্ভব হলে অভিযুক্তের পক্ষের ব্যাখ্যাটিই বহাল থাকে। আপিলকারীকে দেখাতে হয় কেন খালাস টিকতে পারে না, শুধু দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব ছিল তা নয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ শুনানি দিবস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(ক) · কাগজপত্র: পেপারবুক, লিখিত যুক্তি, নজিরের তালিকা
ধাপ ১১ · শুনানি ও রায়রায়
আপিল ব্যর্থ হলে খালাস বহাল থাকে। সফল হলে বেঞ্চ খালাস উল্টে দিয়ে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করতে এবং আইন অনুযায়ী দণ্ড দিতে পারে। এর বদলে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ, পুনর্বিচারের আদেশ, বা অভিযুক্তকে বিচারের জন্য সোপর্দ করতে পারে। ওই অপরাধে বিচারিক আদালত যে দণ্ড দিতে পারত, তার চেয়ে কঠোর দণ্ড দিতে পারে না। দুই বিচারপতি সমানভাবে বিভক্ত হলে তৃতীয় বিচারপতি সিদ্ধান্ত দেন। আপিল বিচারাধীন থাকাকালে অভিযুক্ত মারা গেলে আপিলের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির দিন থেকে কয়েক মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(ক); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)-এর দ্বিতীয় শর্তাংশ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১ · কাগজপত্র: রায়, রায়ের সত্যায়িত কপি
ধাপ ১২ · রায়ের পররায় বিচারিক আদালতে প্রত্যয়িত করে পাঠানো
হাইকোর্ট বিভাগ তার রায় প্রত্যয়িত করে বিচারিক আদালতে পাঠায়, যা সে অনুযায়ী আদেশ দেয় এবং নিজের নথি সংশোধন করে। অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হলে বিচারিক আদালত পরোয়ানা জারি করে, যাতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন বা দণ্ড ভোগের জন্য গ্রেপ্তার হন। পুনর্বিচারের আদেশ হলে বিচারিক আদালত তারিখ ধার্য করে এবং অভিযুক্তকে হাজির হতে হয়। আপিল খারিজ হলে ধারা ৪২৭-এর অধীনে নেওয়া জামিননামা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং নতুন কোনো দরখাস্ত না হলে মামলা শেষ হয়।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত · সময়: ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৫ · কাগজপত্র: হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সত্যায়িত কপি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা কারাগারে প্রেরণের পরোয়ানা
ধাপ ১৩ · রায়ের পরপরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত
এবার উভয় পক্ষ আপিল বিভাগের কথা বিবেচনা করে। আপিলে দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্ত লিভ পিটিশন করতে পারেন, অথবা হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে অধিকারবলে আপিল করতে পারেন, এবং দ্রুত স্থগিতাদেশ বা জামিন চাওয়া উচিত, কারণ তিনি এখন হেফাজতে আছেন বা গ্রেপ্তারের মুখে। সরকারের আপিল ব্যর্থ হলে লিভ পিটিশন দাখিলের জন্য তার হাতে ৬০ দিন থাকে, আর নালিশকারীর ৩০ দিন। সময় কম, তাই রায়ের দিনই সত্যায়িত কপির আবেদন করা উচিত।
কোথায়: পাবলিক প্রসিকিউটর ও আইন মন্ত্রণালয় · সময়: ৩০ বা ৬০ দিনের মধ্যে · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩; আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২ · কাগজপত্র: হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সত্যায়িত কপি, পরবর্তী আপিল বিষয়ে মতামত
যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস দিলে কী হবে?
- 1মহানগর দায়রা জজ আদালত
দায়রা আদালতে আপিল
ম্যাজিস্ট্রেটের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল হাইকোর্ট বিভাগে নয়, দায়রা আদালতে যায়। সরকার মূল বা আপিল পর্যায়ের খালাসের বিরুদ্ধে ছয় মাসের মধ্যে আপিলের নির্দেশ দিতে পারে। নালিশি মামলার নালিশকারী আইনের ভুলের কারণে মূল খালাসের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারেন। দোষী সাব্যস্ত করা, পুনর্বিচারের আদেশ দেওয়া বা খারিজের ক্ষেত্রে দায়রা জজের হাইকোর্ট বিভাগের মতোই ক্ষমতা আছে, এবং তাঁকে অভিযুক্তকে নোটিশ দিতে হয়।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(১)(খ) ও (২)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২২তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
দায়রা জজের আপিল রায় রিভিশন ছাড়া চূড়ান্ত। দায়রা জজ খালাস উল্টে দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করলে অভিযুক্ত হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল রিভিশন দাখিল করেন। দায়রা জজ খালাস বহাল রাখলে সরকার তবুও সেই আপিল আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। নালিশকারী কেবল রিভিশন চাইতে পারেন, এবং রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগ নিজে খালাসকে দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে না।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩০ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(১)(ক)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা দায়রা আদালতে শেষ হয়, অথবা সরকারি আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে যায়।
পুলিশি মামলার এজাহারকারী কি খালাস চ্যালেঞ্জ করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
এজাহারকারীর ক্রিমিনাল রিভিশন
পুলিশি মামলার এজাহারকারী ধারা ৪১৭-এর অধীনে আপিল করতে পারেন না, তাই আপিল করতে পারতেন এমন ব্যক্তির রিভিশনের ওপর ধারা ৪৩৯(৫)-এর বাধা প্রযোজ্য হয় না। এজাহারকারী খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল রিভিশন (criminal revision) দাখিল করতে পারেন। বিচার ত্রুটিপূর্ণ হলে বা সাক্ষ্য উপেক্ষিত হলে হাইকোর্ট বিভাগ খালাস রদ করে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারে। এটি খালাসকে দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে না, এবং আগে অভিযুক্তের বক্তব্য শুনতে হয়।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯(২), (৪) ও (৫)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: খালাস বহাল থাকে বা পুনর্বিচারের জন্য রদ হয়; রিভিশনে এজাহারকারী দণ্ড আদায় করতে পারেন না।
হাইকোর্ট বিভাগ কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নিচে রিভিউ নেই; ওপরে অনুচ্ছেদ ১০৫
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ অনুযায়ী কোনো ফৌজদারি আদালত করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া নিজের স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারে না। তাই কোনো পক্ষই খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের মূল বিষয় পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কাছে আবেদন করতে পারে না। প্রতিকার আপিল বিভাগে, যা পরে অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী নিজের রায় রিভিউ করতে পারে, ফৌজদারি মামলায় কেবল নথির ওপরেই স্পষ্ট ভুলের জন্য, ৩০ দিনের মধ্যে।
হাইকোর্ট বিভাগে প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের রায় কেবল আপিল বিভাগই সংশোধন করতে পারে।
উচ্চতর আদালতে কি কোনো রেফারেন্স হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগ দোষী সাব্যস্ত করলে রেফারেন্স হয় না
ধারা ৩৭৪-এর অধীনে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের রেফারেন্স (ডেথ রেফারেন্স) কেবল তখনই আসে, যখন দায়রা আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাইকোর্ট বিভাগ খালাস উল্টে দিয়ে নিজেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে কোথাও কিছু রেফার করা হয় না। এর বদলে রক্ষাকবচ হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ) অনুযায়ী আপিল বিভাগে অভিযুক্তের অধিকারবলে আপিল, যার নথি সরকারি খরচে প্রস্তুত হয়। নিম্ন আদালত খালাস-সংক্রান্ত প্রশ্ন ওপরে রেফার করতে পারে না।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ১ ও ৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিলে দেওয়া গুরুতর দণ্ড রেফারেন্সে নয়, অধিকারবলে আপিলের মাধ্যমে আপিল বিভাগে যায়।
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
পুনর্বিচারের জন্য খালাস রদ
ত্রুটিপূর্ণ বিচারের পর বিচারিক আদালত খালাস দিয়ে থাকলে, যেমন অকালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য বন্ধ করে দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তলবে অস্বীকৃতি, বা যথাযথভাবে অভিযুক্তকে পরীক্ষা না করেই সিদ্ধান্ত দেওয়া, হাইকোর্ট বিভাগ প্রায়ই দোষী সাব্যস্ত না করে পুনর্বিচারের আদেশ দেয়। আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ দিতে পারে, এবং পুনর্বিচারের জন্য অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হয় বা হেফাজতে রাখা হয়।
রায়ের সঙ্গেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(ক)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৫ - 2মহানগর দায়রা জজ আদালত
পুনর্বিচার ও আবার ওপরে যাওয়ার পথ
বিচারিক আদালত নির্দেশিত পর্যায় থেকে মামলা আবার শুনানি করে নতুন রায় দেয়। দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন। নতুন খালাসের বিরুদ্ধে নতুন সরকারি আপিল, বা আইনের ভুলের কারণে নালিশকারীর আপিল হতে পারে। বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে প্রতিটি নতুন আপিলের সময়সীমা নতুন রায় থেকে আলাদাভাবে গণনা শুরু হয়।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা বিচারিক আদালতে ফেরত যায় এবং নতুন আপিলে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসতে পারে।
আপিল বিভাগে যাওয়ার চূড়ান্ত পথ কী?
- 1আপিল বিভাগ
লিভ পিটিশন বা অধিকারবলে আপিল
হাইকোর্ট বিভাগ খালাস বহাল রাখলে তার বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিলের জন্য সরকারের হাতে ৬০ দিন থাকে, আর অন্য পক্ষগুলোর ৩০ দিন। খালাসের বিরুদ্ধে পিটিশনে লিভ মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ প্রতিপক্ষকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে আটক রাখার আদেশ দিতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগে দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তকে লিভ পিটিশন শুনানির আগে আত্মসমর্পণ করতে হয়। মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে তিনি অধিকারবলে আপিল করতে পারেন।
১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ) ও (৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২, ৮ ও ৯আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে এর রিভিউ ক্ষমতা সাপেক্ষে।
বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল নির্ভর করে কোন আদালত খালাস দিয়েছে তার ওপর। ম্যাজিস্ট্রেটের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল ধারা ৪১৭(১)(খ) বা (২)(খ) অনুযায়ী দায়রা আদালতে যায়। দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, বা দায়রা ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ আদালত, যেমন স্পেশাল জজ বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে। এখানে কোনো আর্থিক মূল্যমানের প্রশ্ন নেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো বিচারিক আদালত কোনটি, মামলা নালিশ না পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে, এবং কে আপিল করছেন। সরকার যেকোনো কারণে ছয় মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। নালিশকারী কেবল আইনের ভুলের কারণে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারেন।
পুলিশি মামলার এজাহারকারী আপিল করতে পারেন না; তাঁকে সরকারের কাছে অনুরোধ করতে বা রিভিশন চাইতে হয়। আপিল আদালত তথ্য ও আইন নতুন করে শোনে, কিন্তু বিচারিক আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত বা আইনগতভাবে ভুল না হলে খালাস বহাল রাখে। হাইকোর্ট বিভাগের ওপরে আপিল বিভাগ লিভ পিটিশন শোনে, খালাসের বিরুদ্ধে সরকারের জন্য ৬০ দিন সময়সহ, এবং মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে অধিকারবলে আপিল শোনে।
- আপিল বিভাগআপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতমুখ্য মহানগর হাকিমের (CMM) আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেনালিশকারীর আইনজীবী · পাবলিক প্রসিকিউটর ও আইন মন্ত্রণালয়
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
নালিশকারীর আইনজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
পাবলিক প্রসিকিউটর ও আইন মন্ত্রণালয়
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- খালাস (Acquittal)
- অভিযুক্ত দোষী নন মর্মে আদালতের সিদ্ধান্ত, যা তাঁর পক্ষে বিচারের অবসান ঘটায়।
- নালিশি মামলা (Complaint case)
- পুলিশ প্রতিবেদনের বদলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্তের মাধ্যমে শুরু হওয়া মামলা।
- পুলিশি মামলা (Police case)
- থানায় এজাহারের মাধ্যমে শুরু হওয়া এবং পুলিশ কর্তৃক তদন্তকৃত মামলা।
- এজাহারকারী (Informant)
- পুলিশি মামলায় যিনি এজাহার দায়ের করেছেন; ধারা ৪১৭(২)-এর নালিশকারীর সঙ্গে এক নন।
- আইনের ভুলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়া (Error of law occasioning failure of justice)
- নালিশকারীকে যে মানদণ্ড পূরণ করতে হয়: এমন আইনগত ভুল যা প্রকৃতপক্ষে অন্যায় ফলাফল ঘটিয়েছে।
- নির্দোষিতার দ্বৈত অনুমান (Double presumption of innocence)
- এই ধারণা যে খালাস নির্দোষিতার অনুমানকে আরও শক্তিশালী করে, তাই আপিল আদালত কেবল জোরালো কারণেই হস্তক্ষেপ করে।
- আপিল গ্রহণ (Admission)
- সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ না করে পূর্ণ শুনানির জন্য আপিল চালু রাখার আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত।
- আপিলের অবসান (Abatement)
- অভিযুক্তের মৃত্যুতে খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের স্বয়ংক্রিয় অবসান।
বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল কে করতে পারেন?
আপিল করতে কি অনুমতি (লিভ) লাগে?
সময়সীমা কত?
পুলিশি মামলা খালাসে শেষ হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার কী করতে পারে?
খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কি আবার গ্রেপ্তার করা হবে?
খালাস কত ঘন ঘন উল্টে যায়?
আপিল চলাকালে অভিযুক্ত মারা গেলে কী হবে?
২০২৬ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনী কি খালাসের বিরুদ্ধে আপিলে পরিবর্তন এনেছে?
আইন ও উৎস
- Code of Criminal Procedure 1898, ss.417-431, as amended (Laws of Bangladesh)
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act No. XI of 2026), ss.14-15 amending ss.247 and 250
- Limitation Act 1908, First Schedule Article 157 (Laws of Bangladesh)
- Criminal Law Amendment Act 1958, s.10 (Laws of Bangladesh)
- Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000, s.28, as amended by Act No. 85 of 2026 (Laws of Bangladesh)
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 103 and 105)
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988, Orders XXIII, XXIV and XXVI
- Md. Nazmul Islam v State, HCD, Criminal Revision No. 347 of 2021 (reversal of acquittal without s.422 notice set aside)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।