বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/দেওয়ানি

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর মানে দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) ধারা ২৪-এর অধীনে বিচারাধীন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা অন্য দেওয়ানি কার্যক্রম এক আদালত থেকে আরেক আদালতে সরিয়ে নেওয়া। সাধারণত কারণ হয়: কোনো পক্ষের পক্ষপাতের যুক্তিসংগত আশঙ্কা, অন্য কোথাও পক্ষ বা সাক্ষীদের বেশি সুবিধা, অথবা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমাগুলোর একসঙ্গে বিচারের প্রয়োজন। একই জেলার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেন জেলা জজ; অন্য জেলায় সরাতে হলে, বা জেলা জজের আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে হলে, যেতে হয় হাইকোর্ট বিভাগে।

স্থানান্তরের আবেদনে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া যায়, এবং পরাজিত পক্ষ অনুমতি সাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগে নিতে পারে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
স্থানান্তরের কারণ যাচাই করুন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৩টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
যে জেলায় মোকদ্দমা বিচারাধীন সেই জেলার জেলা জজ (ট্রান্সফার মিসকেলেনিয়াস মামলা); জেলা থেকে জেলায় স্থানান্তর বা জেলা…
মূল আইন
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, ধারা ২২, ২৩, ২৪, ২৪ক, ১১৩, ১১৪, ১১৫ ও ১৫১, আদেশ ৪৭ (দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬, অর্থাৎ ২০২৬…
সাধারণ সময়কাল
জেলা জজ: প্রায় ১-৩ মাস। হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন বা রিভিশন: কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোশন শুনানি, প্রায় ৩-১৮ মাসে চূড়ান্ত…
কে মামলা করতে পারেন
মোকদ্দমা বা কার্যক্রমের যেকোনো পক্ষ; জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও ব্যবস্থা নিতে পারেন, এবং…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৩টি ধাপ

দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: ধাপ ১, স্থানান্তরের কারণ যাচাই করুন
    ধাপ ১ · আবেদনের আগে

    স্থানান্তরের কারণ যাচাই করুন

    ধারা ২৪-এ কোনো কারণের তালিকা নেই; এটি জেলা জজ ও হাইকোর্ট বিভাগকে যেকোনো পর্যায়ে স্থানান্তরের সাধারণ ক্ষমতা দেয়। আদালত প্রকৃত কারণ খোঁজে: তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তিসংগত আশঙ্কা যে ন্যায্য শুনানি হবে না; পক্ষ ও সাক্ষীদের সুবিধা; একই পক্ষগুলোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমা, যেগুলো পরস্পরবিরোধী ডিক্রি এড়াতে একসঙ্গে বিচার হওয়া উচিত; অথবা এখতিয়ারহীন আদালত। হাইকোর্ট বিভাগ সতর্ক করেছে যে পক্ষপাত একটি গুরুতর অভিযোগ, যা প্রমাণ ছাড়া কারও তোলা উচিত নয়, তাই খসড়া করার আগে আইনজীবী তথ্যগুলো যাচাই করেন।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৭ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১); Golam Kibria Tapon বনাম White House Group, সিভিল রিভিশন নং ২৪/২০২৬, হাইকোর্ট বিভাগ (২০ মে ২০২৬) · কাগজপত্র: বর্তমান আদালতের আদেশনামা (অর্ডার শিট), যে তথ্যের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে তার প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমার বিবরণ

    পরামর্শ: সংক্ষিপ্ত মুলতবির তারিখ বা বিরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ, শুধু এগুলো পক্ষপাতের প্রমাণ নয়। ভুল আদেশকে বরং যথাযথ প্রতিকারের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করুন।

  2. দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: ধাপ ২, একাধিক আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যেত এমন ক্ষেত্রে দ্রুত আপত্তি দিন
    ধাপ ২ · আবেদনের আগে

    একাধিক আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যেত এমন ক্ষেত্রে দ্রুত আপত্তি দিন

    যেখানে মোকদ্দমাটি দুই বা ততোধিক আদালতের যেকোনোটিতে দায়ের করা যেত এবং বাদী একটি বেছে নিয়েছেন, সেখানে এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য আদালতে সরাতে চাইলে বিবাদীকে অন্য পক্ষগুলোকে নোটিশ দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব, এবং যেকোনো অবস্থায় বিচার্য বিষয় গঠনের সময় বা তার আগে, আবেদন করতে হবে। দুটি আদালতই একই আপিল আদালতের অধীন হলে আবেদন যায় সেই আদালতে, সাধারণত জেলা জজের কাছে; ভিন্ন আপিল আদালতের অধীন হলে যায় হাইকোর্ট বিভাগে।

    কোথায়: যে আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: বিচার্য বিষয় গঠনের আগে · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২২ ও ২৩ · কাগজপত্র: ধারা ২২-এর অধীনে আবেদন, অন্য পক্ষগুলোর প্রতি নোটিশ

    পরামর্শ: মোকদ্দমা দায়েরের স্থান নিয়ে প্রথম সুযোগে আপত্তি না তুললে তা সাধারণত হারিয়ে যায়, ধারা ২১ অনুযায়ী আপিল ও রিভিশনেও।

  3. দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: ধাপ ৩, সঠিক ফোরাম বেছে নিন
    ধাপ ৩ · আবেদনের আগে

    সঠিক ফোরাম বেছে নিন

    ধারা ২৪-এর অধীনে জেলা জজ তাঁর অধস্তন আদালতগুলোর মধ্যে মোকদ্দমা, আপিল বা কার্যক্রম স্থানান্তর করতে পারেন, যার মধ্যে জেলার অতিরিক্ত জেলা জজ, যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ অন্তর্ভুক্ত। জেলা জজ জেলার বাইরে মামলা পাঠাতে পারেন না, তাই বাংলাদেশে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে যেতে হয়।

    ফোরামকে এখতিয়ারসম্পন্নও হতে হবে: যে আদালতে মামলা যাবে তার আর্থিক ও বিষয়বস্তুগত এখতিয়ার থাকতে হবে, যা দেওয়ানি আদালত আইনের সীমা অনুযায়ী বিচার করা হয়: সিভিল জজের (সাবেক সহকারী জজ) জন্য ১৫ লাখ টাকা এবং সিনিয়র সিভিল জজের জন্য ২৫ লাখ টাকা।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১) ও (৩); দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ (২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত); দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৫ক (২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত) · কাগজপত্র: মূল্যমান দেখানো আরজি, জেলার এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের তালিকা

    পরামর্শ: প্রার্থনায় একটি নির্দিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বা আদালতের শ্রেণির নাম দিন; মামলা ‘যেকোনো জায়গায়’ পাঠানোর অনুরোধ দুর্বল।

  4. দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: ধাপ ৪, স্থানান্তরের আবেদনের খসড়া
    ধাপ ৪ · জেলা জজের কাছে আবেদন

    স্থানান্তরের আবেদনের খসড়া

    জেলা জজের কাছে আবেদনে মোকদ্দমা, তার পর্যায় ও পরবর্তী তারিখ, প্রস্তাবিত আদালত, এবং নির্দিষ্ট তারিখ ও ঘটনাসহ প্রতিটি কারণ উল্লেখ করা হয়। এর সমর্থনে হলফনামা এবং আদেশনামা ও আপত্তিকৃত আদেশগুলোর সার্টিফায়েড কপি থাকে। সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমা থাকলে সেগুলোর নম্বর ও পর্যায়সহ তালিকা দেওয়া হয়। আবেদনে স্থানান্তর এবং আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান আদালত যেন অগ্রসর না হয়, অন্তত রায় না দেয়, এমন অন্তর্বর্তী নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৭ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: স্থানান্তরের আবেদন, সমর্থনসূচক হলফনামা, আদেশনামার সার্টিফায়েড কপি, ওকালতনামা, কোর্ট ফি

    পরামর্শ: ভাষা সংযত রাখুন। প্রমাণ ছাড়া বিচারককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা আবেদন প্রায়ই খারিজ হয় এবং সমালোচিত হয়।

  5. ধাপ ৫: দাখিল ও নোটিশ জারি
    ধাপ ৫ · জেলা জজের কাছে আবেদন

    দাখিল ও নোটিশ জারি

    আবেদনটি জেলা জজ আদালতে দাখিল করা হয় এবং ট্রান্সফার মিসকেলেনিয়াস মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। জেলা জজ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা না নিলে ধারা ২৪ অনুযায়ী পক্ষগুলোকে নোটিশ দিতে হয় এবং যারা শুনানি চান তাদের শুনতে হয়। তাই আবেদনকারী অন্য সব পক্ষের ওপর নোটিশ জারির জন্য তলবানা দাখিল করেন। জেলা জজ মোকদ্দমার অগ্রগতি ও আদালত-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বিষয়ে বর্তমান আদালত থেকে নথি বা প্রতিবেদন তলব করতে পারেন।

    কোথায়: জেলা জজ আদালত · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫ বিধি ৯(৩) (২০২৬ সালে সংশোধিত; সাধারণ জারির পাশাপাশি ইলেকট্রনিক জারি) · কাগজপত্র: তলবানা ও নোটিশ জারির খরচ, আবেদনের নোটিশ, বর্তমান আদালতের প্রতিবেদন (তলব করা হলে)

    পরামর্শ: মোকাবিলা বিবাদীসহ প্রত্যেক পক্ষের ওপর নোটিশ জারি করুন; কোনো পক্ষকে নোটিশ না দিয়ে দেওয়া আদেশ বাতিল হতে পারে।

  6. ধাপ ৬: মোকদ্দমার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ
    ধাপ ৬ · জেলা জজের কাছে আবেদন

    মোকদ্দমার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ

    শুনানি চলাকালে জেলা জজ বর্তমান আদালতকে পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত রাখতে, অথবা সাক্ষ্য গ্রহণ চালিয়ে গেলেও রায় না দিতে নির্দেশ দিতে পারেন। স্থগিতাদেশ বিবেচনামূলক, এবং সাধারণত তখন দেওয়া হয় যখন শুনানি কাছে বা সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে আবেদনটি অর্থহীন হয়ে পড়বে। এরপর ভিন্ন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বর্তমান আদালতকে মোকদ্দমা স্থগিত রাখতে হয়। স্থগিতাদেশ সাধারণত স্বল্পমেয়াদি, কারণ স্থানান্তরের আবেদনটিই দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।

    কোথায়: জেলা জজ আদালত · সময়: একই দিন থেকে ২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী আদেশ, বর্তমান আদালতের জন্য সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: পরবর্তী তারিখের আগেই অন্তর্বর্তী আদেশের সার্টিফায়েড কপি বর্তমান আদালতে পৌঁছে দিন; মৌখিকভাবে জানানো যথেষ্ট নয়।

  7. ধাপ ৭: জেলা জজের সিদ্ধান্ত
    ধাপ ৭ · জেলা জজের কাছে আবেদন

    জেলা জজের সিদ্ধান্ত

    পক্ষগুলোকে শুনে জেলা জজ হয় মোকদ্দমাটি জেলার একটি নির্দিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে স্থানান্তর করেন, এখতিয়ার থাকলে নিজের কাছে প্রত্যাহার করে নিজেই বিচার করেন, অথবা কারণ উল্লেখ করে আবেদন নামঞ্জুর করেন। কোনো পক্ষের আবেদনে স্থানান্তর হলে আদেশেই নতুন আদালতে পক্ষগুলোর হাজিরার তারিখ ঠিক করা হয়। ধারা ২৪-এর অধীনে জেলা জজের আদেশ আপিলযোগ্য নয়, তাই প্রধান প্রতিকার হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন; একই আদালতে সীমিত রিভিউও সম্ভব।

    কোথায়: জেলা জজ আদালত · সময়: দাখিল থেকে ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১)(ক) ও (খ); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪ক(১) · কাগজপত্র: জেলা জজের আদেশ, সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: আদেশের দিনই সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন; রিভিশনের নব্বই দিনের চর্চাগত সময় তখন থেকেই শুরু হয়।

  8. ধাপ ৮: হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন
    ধাপ ৮ · হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন

    দুটি পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট বিভাগে যেতে হয়। প্রথমত, জেলা থেকে জেলায় স্থানান্তরের জন্য কোনো পক্ষ ধারা ২৪-এর অধীনে মূল আবেদন দাখিল করেন, যা সুপ্রিম কোর্টে সম্পাদিত হলফনামাসহ সিভিল মিসকেলেনিয়াস মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। দ্বিতীয়ত, জেলা জজের আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে সিভিল রিভিশন (revision) দাখিল করেন, এই যুক্তিতে যে আদেশে আইনের এমন ভুল আছে যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই বেঞ্চের কাছে রুল জারি এবং এর মধ্যে মোকদ্দমা স্থগিতের প্রার্থনা করা হয়। বাংলাদেশে জেলা থেকে জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত এখানে আসে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: প্রস্তুত ও দাখিলে ১-৩ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১)(খ)(২); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১); Al Haj Abdur Rashid Hawlader বনাম Noni Vhushon, সিভিল মিসকেলেনিয়াস মামলা নং ৩৬/২০২৩, হাইকোর্ট বিভাগ (২৭ নভেম্বর ২০২৫) · কাগজপত্র: ধারা ২৪-এর অধীনে আবেদন বা রিভিশনের দরখাস্ত, হলফনামা, আদেশনামা ও জেলা জজের আদেশের সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: কার্যক্রম সতর্কভাবে বেছে নিন: জেলা থেকে জেলায় সরাতে ধারা ২৪-এর মূল আবেদন, আর জেলা জজের আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে রিভিশন।

  9. ধাপ ৯: মোশন, রুল ও স্থগিতাদেশ
    ধাপ ৯ · হাইকোর্ট বিভাগ

    মোশন, রুল ও স্থগিতাদেশ

    মোশন শুনানিতে এ ধরনের বিষয় শোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বৈত বেঞ্চ বা একক বেঞ্চ দেখে বিবেচনাযোগ্য বিষয় আছে কি না। বেঞ্চ আবেদন নাকচ করতে পারে, অথবা মোকদ্দমাটি কেন প্রত্যাহার করে স্থানান্তর করা হবে না তার কারণ দর্শাতে প্রতিপক্ষকে রুল জারি করতে পারে, সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বর্তমান আদালতে কার্যক্রম স্থগিতের অন্তর্বর্তী আদেশসহ। প্রতিপক্ষ পাল্টা হলফনামা (affidavit-in-opposition) দাখিল করতে পারে। জবাব না দেওয়া তথ্যগত অভিযোগের গুরুত্ব অনেক: ২০২৫ সালের একটি মামলায় আদালত প্রতিপক্ষের অস্বীকার না করা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশন পর্যন্ত ১-৪ সপ্তাহ; শুনানি পর্যন্ত ২-৯ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: রুল জারির আদেশ, স্থগিতাদেশ, পাল্টা হলফনামা, জবাবি হলফনামা

    পরামর্শ: প্রতিটি তথ্যগত অভিযোগের জবাব হলফনামায় দিন। নীরবতাকে স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।

  10. ধাপ ১০: হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত আদেশ
    ধাপ ১০ · হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত আদেশ

    শুনানির পর হাইকোর্ট বিভাগ রুল চূড়ান্ত (absolute) করে একই বা অন্য জেলার একটি নির্দিষ্ট আদালতে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে পাঠায়, অথবা রুল খারিজ করে মোকদ্দমা যেখানে আছে সেখানেই চলতে দেয়। এটি নতুন আদালতকে দ্রুত, যেমন ছয় মাসের মধ্যে, মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করতে এবং মুলতবি এড়াতে নির্দেশও দিতে পারে। রিভিশনে এটি জেলা জজের আদেশ বাতিল করে নিজেই স্থানান্তর করতে পারে, অথবা যথাযথভাবে সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি জেলা জজের কাছে ফেরত পাঠাতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিল থেকে ৩-১৮ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১)(খ)(২) ও (৩); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১) · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: বিলম্ব এড়াতে আদেশেই নতুন আদালতে হাজিরার তারিখ ঠিক করে দিতে বেঞ্চকে অনুরোধ করুন।

  11. ধাপ ১১: নথি প্রেরণ ও পক্ষগুলোকে অবহিতকরণ
    ধাপ ১১ · স্থানান্তর ও বিচার চালু থাকা

    নথি প্রেরণ ও পক্ষগুলোকে অবহিতকরণ

    স্থানান্তরের আদেশদানকারী আদালত নতুন আদালতে পক্ষগুলোর হাজিরার তারিখ ঠিক করে এবং আদেশটি জানিয়ে দেয়। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্থানান্তর করলে পক্ষগুলো বর্তমান আদালতে তাদের পরবর্তী তারিখে হাজির হয়, এবং সেই আদালত তাদের স্থানান্তরের কথা জানিয়ে একই দিন বা যুক্তিসংগত নিকটতম দিনে নতুন আদালতে যেতে নির্দেশ দেয়। বর্তমান আদালত প্রদর্শনীসহ পূর্ণ নথি নতুন আদালতে পাঠায়।

    কোথায়: যে আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪ক(১) ও (২) · কাগজপত্র: স্থানান্তর আদেশের সার্টিফায়েড কপি, মামলার নথি ও প্রদর্শনী

    পরামর্শ: হাজিরার তারিখের আগে নথি সত্যিই পৌঁছেছে কি না যাচাই করুন, এবং দুই আদালতেই আদেশের কপি দাখিল করুন।

  12. ধাপ ১২: নতুন আদালতে মোকদ্দমা শুরু
    ধাপ ১২ · স্থানান্তর ও বিচার চালু থাকা

    নতুন আদালতে মোকদ্দমা শুরু

    ধারা ২৪(২) অনুযায়ী নতুন আদালত মোকদ্দমাটি নিবন্ধন করে এবং স্থানান্তর আদেশের বিশেষ নির্দেশনা সাপেক্ষে হয় নতুন করে বিচার করতে পারে, নয়তো যেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল সেখান থেকে এগোতে পারে। বাস্তবে সাধারণত আগে রেকর্ড করা সাক্ষ্য বহাল রাখা হয় এবং মোকদ্দমা তার পর্যায় থেকেই চলে। স্মল কজেস আদালত থেকে স্থানান্তরিত মোকদ্দমা সেই চরিত্র বজায় রাখে। হলফনামায় জবানবন্দি ও মুলতবি-সংক্রান্ত ২০২৬ সালের বিধানগুলো নতুন আদালতেও প্রযোজ্য থাকে।

    কোথায়: যে আদালতে মামলা যাবে (একই বা অন্য জেলার এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালত) · সময়: প্রথম কার্যকর তারিখ পর্যন্ত ১-২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(২) ও (৪); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালে সংযোজিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) (২০২৬ সালে সংশোধিত) · কাগজপত্র: মামলার নথি, নতুন শুনানির সূচি

    পরামর্শ: সাক্ষী পুনরায় তলবের প্রকৃত কারণ না থাকলে যে পর্যায়ে মামলা ছিল সেখান থেকে এগোতে নতুন আদালতকে অনুরোধ করুন।

  13. ধাপ ১৩: ডিক্রি ও সাধারণ আপিলের পথ
    ধাপ ১৩ · স্থানান্তর ও বিচার চালু থাকা

    ডিক্রি ও সাধারণ আপিলের পথ

    নতুন আদালত মোকদ্দমার বিচার করে ডিক্রি পর্যন্ত যায়। স্থানান্তরের ফলে আপিলের পথ বদলায় না; তা এখনো মোকদ্দমার মূল্যমান ও ডিক্রিদানকারী আদালতের ওপর নির্ভর করে: সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, আর যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জেলা জজের কাছে, এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। অর্থাৎ বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর আদালত বদলায়, রায়ের পরের প্রতিকারগুলো নয়।

    কোথায়: যে আদালতে মামলা যাবে (একই বা অন্য জেলার এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালত) · সময়: পর্যায় অনুযায়ী কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত) · কাগজপত্র: রায় ও ডিক্রি, আপিলের জন্য সার্টিফায়েড কপি

    পরামর্শ: নতুন আদালত নিজে ক্ষতির কারণ না হলে আপিলে স্থানান্তরের প্রশ্ন আবার তুলবেন না।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
বিকল্প পথ · জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

স্থানান্তর আদেশের বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    আপিল চলে না

    ধারা ২৪-এর আদেশ ধারা ১০৪ বা আদেশ ৪৩ বিধি ১-এ আপিলযোগ্য আদেশের তালিকায় নেই, তাই স্থানান্তর মঞ্জুর হোক বা নামঞ্জুর, এর বিরুদ্ধে আপিল চলে না। এ কারণেই জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে রিভিশন, আর হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন। স্থানান্তর আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মেমোরেন্ডাম ফেরত দেওয়া হবে।

    প্রযোজ্য নয়দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০৪দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৩ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: চ্যালেঞ্জটি আপিলের বদলে রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে যায়।

রিভিশন · জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → নতুন আদালত

জেলা জজ স্থানান্তর নামঞ্জুর করলে বা ভুলভাবে মঞ্জুর করলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন

    সংক্ষুব্ধ পক্ষ নব্বই দিনের চর্চাগত সময়ের মধ্যে ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে সিভিল রিভিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট বিভাগ দেখে জেলা জজ আইনের এমন ভুল করেছেন কি না যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে, যেমন অস্বীকৃত নয় এমন তথ্য উপেক্ষা করা বা এখতিয়ারহীন আদালতে স্থানান্তর করা। ২০২৬ সালের একটি মামলায় আদালত অভিযুক্ত পক্ষপাতের কোনো ভিত্তি পায়নি, তবুও একটি স্বত্বের মোকদ্দমা ব্যস্ত একটি বিশেষ আদালত থেকে সাধারণ দেওয়ানি আদালতে সরিয়ে দিয়েছে, কারণ মোকদ্দমাটির সেখানেই থাকার কথা।

    ৩-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)Golam Kibria Tapon বনাম White House Group, সিভিল রিভিশন নং ২৪/২০২৬, হাইকোর্ট বিভাগ (২০ মে ২০২৬)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ বহাল রাখে অথবা মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে পাঠায়।

রিভিউ · জেলা জজ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

স্থানান্তরের সিদ্ধান্তদানকারী আদালত কি নিজের আদেশ রিভিউ করতে পারে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ

    স্থানান্তর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না বলে কোনো পক্ষ নব্বই দিনের মধ্যে একই আদালতে রিভিউ (review) চাইতে পারে, যদি যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে পাওয়া যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবিষ্কৃত হয়, নথিতে স্পষ্ট ভুল থাকে, বা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকে। রিভিউ মঞ্জুরের আগে অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে হয়। রিভিউ পুনঃশুনানি নয়, এবং নতুন তথ্য থাকলে অনেক সময় কোনো পক্ষ সহজেই নতুন করে স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে।

    ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ এবং আদেশ ৪৭ বিধি ১ ও ৪তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: স্পষ্ট ভুল বা প্রকৃতই নতুন বিষয় দেখানো না গেলে আদেশ বহাল থাকে; তখন পক্ষটি রিভিশনে যায়।

রেফারেন্স · বর্তমান আদালত → জেলা জজ → নতুন আদালত

মোকদ্দমা শুনছেন এমন বিচারক কি মামলা সরানোর অনুরোধ করতে পারেন?

  1. 1
    যে আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    সভাপতিত্বকারী বিচারক নথি জেলা জজের সামনে উপস্থাপন করেন

    সভাপতিত্বকারী বিচারকের কোনো পক্ষ বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ থাকলে, অথবা তিনি মোকদ্দমা শুনতে অপারগ বোধ করলে, কারণ লিপিবদ্ধ করে বিষয়টি জেলা জজের সামনে উপস্থাপন করেন, যিনি কোনো পক্ষের আবেদন ছাড়াই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মোকদ্দমা স্থানান্তর করতে পারেন। এরপর পক্ষগুলো তাদের পরবর্তী তারিখে হাজির হয় এবং নতুন আদালতে যাওয়ার নির্দেশ পায়। ধারা ১১৩-এর অধীনে আইনগত প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স ভিন্ন বিষয়, যা কেবল সন্দেহজনক আইনগত প্রশ্নে ব্যবহৃত হয়।

    ২-৬ সপ্তাহদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১) (স্বতঃপ্রণোদিত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪ক(২)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ বিধি ১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ মোকদ্দমাটি জেলার অন্য একটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বণ্টন করেন।

রিমান্ড (ফেরত) · হাইকোর্ট বিভাগ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়টি জেলা জজের কাছে ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    নতুন সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত

    জেলা জজ কোনো পক্ষকে না শুনে, বা কারণগুলো বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত দিলে হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ বাতিল করে স্থানান্তরের আবেদনটি নতুন করে সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত পাঠাতে পারে, প্রায়ই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং স্থগিতাদেশ বহাল রেখে। নথি যথেষ্ট হলে সাধারণত হাইকোর্ট বিভাগ নিজেই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দেয়, ২০২৬ সালের এই নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে যে আপিল আদালতের ফেরত পাঠানোর বদলে নিজেই সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত।

    রায়ের সঙ্গে আদেশদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৪ (২০২৬ সালে সংশোধিত, সাদৃশ্যমূলকভাবে)
  2. 2
    জেলা জজ আদালত

    নতুন সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন

    জেলা জজ আবেদনটি আবার শুনে কারণসহ আদেশ দেন। মোকদ্দমা স্থানান্তরিত হলে তা নির্দিষ্ট আদালতে যায়। আবেদন আবার নামঞ্জুর হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ নতুন রিভিশনে আবার হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারেন, এবার একটি কারণসহ আদেশের বিরুদ্ধে, যা হাইকোর্ট বিভাগ গুণাগুণের ভিত্তিতে যাচাই করতে পারে। এর মধ্যে মোকদ্দমা সাধারণত যেখানে আছে সেখানেই থাকে।

    ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২৪(১)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত দেন, এবং বিষয়টি আবার হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারে।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ কি আপিল বিভাগে নেওয়া যায়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিলের অনুমতির জন্য সিভিল পিটিশন

    ধারা ২৪-এর মূল আবেদনে হোক বা রিভিশনে, হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতির (লিভ টু আপিল) জন্য সিভিল পিটিশন দাখিল করতে এবং চেম্বার জজের কাছে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চাইতে পারে। অনুমতি দেওয়া হয় কেবল আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বা গুরুতরভাবে ন্যায়বিচার ব্যাহত হলে; স্থানান্তর আদেশ তথ্য ও বিবেচনার ওপর নির্ভর করে, তাই অনুমতি কদাচিৎ মেলে।

    ৬-১৮ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ সাধারণত স্থানান্তর আদেশ বহাল রাখে, এবং মোকদ্দমা নির্দিষ্ট আদালতে চলে।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর দেওয়ানি আদালতের প্রশাসনিক স্তরবিন্যাস অনুসরণ করে। মোকদ্দমার বিচার করেন সিভিল জজ (১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত), সিনিয়র সিভিল জজ (২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত) বা যুগ্ম জেলা জজ (যেকোনো মূল্যমান), যাঁরা সবাই জেলার জেলা জজের অধস্তন; সিভিল জজ পদবিগুলোর নাম ২০২৬ সালে পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা জজ জেলার আদালতগুলোর মধ্যে মোকদ্দমা, আপিল ও কার্যক্রম স্থানান্তর করেন এবং কোনো মামলা নিজের কাছে প্রত্যাহার করতে পারেন। কেবল হাইকোর্ট বিভাগ এক জেলা থেকে আরেক জেলায় মামলা সরাতে পারে, এবং যেকোনো অধস্তন আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মামলাও স্থানান্তর করতে পারে।

কোনো ফোরামই মোকদ্দমার মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয় না; প্রশ্ন শুধু কোথায় বিচার হবে। স্থানান্তর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না। জেলা জজের আদেশ আইনের ভুলের ভিত্তিতে ধারা ১১৫-এর অধীনে রিভিশনে, আর হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ আপিল বিভাগে লিভের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। নতুন আদালতের ক্ষেত্রে মোকদ্দমার মূল্যমানভিত্তিক সাধারণ আপিলের পথই বহাল থাকে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
  4. প্রথম দফার আদালতযে আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · যে আদালতে মামলা যাবে (একই বা অন্য জেলার এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালত)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

প্রথম দফার আদালত

যে আদালতে মামলা যাবে (একই বা অন্য জেলার এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালত)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

আবেদনের আগে
০.২৫–১ মাস
জেলা জজের কাছে আবেদন
১–৩ মাস
হাইকোর্ট বিভাগ
৩–১৮ মাস
স্থানান্তর ও বিচার চালু থাকা
১–৩ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৫.২৫–২৫ মাস · সামগ্রিক: জেলা জজ: প্রায় ১-৩ মাস। হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন বা রিভিশন: কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোশন শুনানি, প্রায় ৩-১৮ মাসে চূড়ান্ত আদেশ। আপিল বিভাগে লিভ: আরও ৬-১৮ মাস (ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

স্থানান্তর (Transfer)
উচ্চতর আদালতের আদেশে বিচারাধীন মোকদ্দমা, আপিল বা কার্যক্রম এক আদালত থেকে আরেক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে সরানো।
প্রত্যাহার (Withdrawal)
উচ্চতর আদালত কর্তৃক অধস্তন আদালত থেকে মামলা নিয়ে নিজে বিচার করা বা অন্যত্র পাঠানো।
পুনঃস্থানান্তর (Retransfer)
প্রত্যাহার করা মামলা যে আদালত থেকে নেওয়া হয়েছিল সেখানে ফেরত পাঠানো।
যে আদালতে মামলা স্থানান্তরিত হয়েছে (Transferee court)
যে আদালতে মামলা পাঠানো হয়; মামলার বিচারের এখতিয়ার তার থাকতে হবে।
ট্রান্সফার মিসকেলেনিয়াস মামলা (Transfer Miscellaneous Case)
যে রেজিস্টারে জেলা জজের কাছে স্থানান্তরের আবেদন লিপিবদ্ধ হয়।
রুল (Rule)
হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যাতে অপর পক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন স্থানান্তর করা হবে না।
স্বতঃপ্রণোদিত (Own motion)
কোনো পক্ষের আবেদন ছাড়াই আদালতের ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন সভাপতিত্বকারী বিচারকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary jurisdiction)
কোনো আদালত কত টাকা পর্যন্ত মোকদ্দমার বিচার করতে পারে তার সীমা, যা নতুন আদালতকেও পূরণ করতে হবে।
প্রশ্নোত্তর

দেওয়ানি মামলা স্থানান্তর: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরের কারণগুলো কী?
ধারা ২৪-এ কোনো কারণের তালিকা নেই, তবে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরের জন্য আদালত প্রকৃত কারণ খোঁজে: নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পক্ষপাতের যুক্তিসংগত আশঙ্কা, পক্ষ ও সাক্ষীদের সুবিধা, একসঙ্গে বিচার হওয়া উচিত এমন সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমা, অথবা যথাযথ এখতিয়ারহীন আদালত। নিছক সন্দেহ, বা বিরূপ আদেশে অসন্তোষ যথেষ্ট নয়, এবং বিচারকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ সমালোচিত হয়।
স্থানান্তরের আবেদন কোথায় করব?
একই জেলার মধ্যে স্থানান্তরের জন্য জেলা জজের কাছে আবেদন করুন। অন্য জেলায় সরাতে হলে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করুন, কারণ জেলা জজের ক্ষমতা জেলার সীমানায় শেষ। বিবাদী যদি আপত্তি তোলেন যে মোকদ্দমাটি এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য আদালতে হওয়া উচিত, তাহলে কোন আদালত সিদ্ধান্ত দেবে তা ধারা ২২ ও ২৩ নির্ধারণ করে।
কোনো সময়সীমা আছে কি?
ধারা ২২-এর আপত্তির ক্ষেত্রে আছে: যত দ্রুত সম্ভব, এবং বিচার্য বিষয় গঠনের পরে নয়। ধারা ২৪-এর আবেদন যেকোনো পর্যায়ে করা যায়, তবে বিলম্ব একে দুর্বল করে, এবং রায়ের কাছাকাছি পৌঁছানো মোকদ্দমা সরাতে আদালত অনিচ্ছুক থাকে। জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন চর্চা অনুযায়ী নব্বই দিনের মধ্যে দাখিল করা উচিত।
আবেদন বিচারাধীন থাকার সময় কি আমার মোকদ্দমা বন্ধ থাকবে?
কেবল আদালত আদেশ দিলে। জেলা জজ বর্তমান আদালতকে কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বা রায় না দিতে নির্দেশ দিতে পারেন, আর হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারির সময় সাধারণত মোকদ্দমা স্থগিত করে। এমন আদেশ না থাকলে বর্তমান আদালত স্বাভাবিকভাবে মোকদ্দমার শুনানি চালিয়ে যায়।
আগে রেকর্ড করা সাক্ষ্যের কী হয়?
স্থানান্তর আদেশের নির্দেশনা সাপেক্ষে নতুন আদালত হয় নতুন করে বিচার করতে পারে, নয়তো যেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল সেখান থেকে এগোতে পারে। বাস্তবে আগে রেকর্ড করা সাক্ষ্য সাধারণত বহাল থাকে। আদেশে বলা না থাকলে ধারা ২৪ মোকদ্দমাকে শুরু থেকে আরম্ভ করায় না।
স্থানান্তর আদেশের বিরুদ্ধে কি আপিল করতে পারি?
না। স্থানান্তর আদেশ ধারা ১০৪ বা আদেশ ৪৩-এর অধীনে আপিলযোগ্য নয়। জেলা জজের আদেশ ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ কেবল ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতির জন্য সিভিল পিটিশনের মাধ্যমে আপিল বিভাগে নেওয়া যায়।
বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরে কত সময় লাগে?
জেলা জজের কাছে সাধারণত এক থেকে তিন মাস। হাইকোর্ট বিভাগে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোশন শুনানি হয় এবং সাধারণত তিন থেকে আঠারো মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি হয়, প্রায়ই এর মধ্যে স্থগিতাদেশসহ। নতুন আদালতে নথি পাঠাতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরের এই সময়সীমাগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক।
স্থানান্তরের ফলে কি পরে আমার আপিল কোথায় যাবে তা বদলায়?
না। আপিলের পথ নির্ভর করে মোকদ্দমার মূল্যমান ও ডিক্রিদানকারী আদালতের ওপর। সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে; যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জেলা জজের কাছে, আর এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে।

আইন ও উৎস

  1. Code of Civil Procedure 1908 (Act V of 1908), consolidated text — laws.sayed.app mirror of Laws of Bangladesh
  2. Code of Civil Procedure (Amendment) Act 2026 (Act XXXVI of 2026) — laws.sayed.app mirror
  3. Civil Courts Act 1887, consolidated text — laws.sayed.app mirror
  4. Civil Courts (Amendment) Act 2026 (Act 12 of 2026) — laws.sayed.app mirror
  5. High Court Division, Al Haj Abdur Rashid Hawlader v Noni Vhushon, Civil Miscellaneous Case No. 36 of 2023 (27 November 2025): inter-district transfer under s.24
  6. High Court Division, Golam Kibria Tapon v White House Group, Civil Revision No. 24 of 2026 (20 May 2026): revision against a District Judge's s.24 order
  7. Constitution of Bangladesh (Article 103) — laws.sayed.app mirror

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp