বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তিনটি পথে চলে। একজন ভোক্তা ত্রিশ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে (DNCRP) লিখিত অভিযোগ করতে পারেন; এরপর কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করতে পারেন, যার এক-চতুর্থাংশ অভিযোগকারীকে দেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মামলা চালানো যায়, এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তা প্রমাণিত ক্ষতির সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত দাবি করে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করতে পারেন।
আপিল যায় যথাক্রমে দায়রা জজ ও হাইকোর্ট বিভাগে।
- কোথা থেকে শুরু
- জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে (ঢাকায় প্রধান কার্যালয়, অথবা…
- মূল আইন
- ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২৬ নং আইন), বিশেষত ধারা ২, ২০, ৫৪, ৫৭-৭১ ও ৭৬; ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ১৮৯৮…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: অধিদপ্তরে অভিযোগে ১-৩ মাস; ফৌজদারি মামলায় ৬-২৪ মাস; ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি…
- কে মামলা করতে পারেন
- একজন ভোক্তা, একই স্বার্থসম্পন্ন একাধিক ভোক্তা, নিবন্ধিত কোনো ভোক্তা সংগঠন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, সরকার বা…
ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · অভিযোগের আগেআপনার সমস্যা আইনের আওতায় পড়ে কি না যাচাই করুন
আইনটি ভোক্তাকে সুরক্ষা দেয়, অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যিনি পুনঃবিক্রয় বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়া মূল্য দিয়ে পণ্য কেনেন বা সেবা নেন; সঙ্গে ক্রেতার সম্মতিতে তা ব্যবহারকারী এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ব্যবহারকারী ব্যক্তিও। ধারা ২(২০)-এ তালিকাভুক্ত ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্য এর আওতায় পড়ে, যেমন নির্ধারিত মূল্যের বেশি নেওয়া, ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা না দেওয়া, এবং ওজন বা পরিমাপে কম দেওয়া। সেবার মধ্যে রয়েছে পরিবহন, টেলিযোগাযোগ, ইউটিলিটি, নির্মাণ, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্বাস্থ্যসেবা, তবে বিনা মূল্যের সেবা নয়।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: একই দিন · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ২(১৯), (২০) ও (২২) · কাগজপত্র: রসিদ, ইনভয়েস বা পরিশোধের রেকর্ড, পণ্য, মোড়ক ও লেবেল, যে বিজ্ঞাপন বা অফারের ওপর ভরসা করেছিলেন
পরামর্শ: রসিদ রেখে দিন। কেনার প্রমাণ ছাড়া অভিযোগে জেতা সবচেয়ে কঠিন।
ধাপ ২ · অভিযোগের আগেপ্রমাণ সংগ্রহ করুন, নিজস্ব পরীক্ষাসহ
অভিযোগ দায়েরের আগে কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করুন: রসিদ বা অনলাইন পরিশোধের নিশ্চিতকরণ, পণ্য ও মূল্য ট্যাগের ছবি, বিজ্ঞাপন বা লিস্টিংয়ের স্ক্রিনশট, ডেলিভারির রেকর্ড এবং বিক্রেতার সঙ্গে যেকোনো চ্যাট। ভেজাল বা নকল সন্দেহ হলে ধারা ৭৬(৬) অনুযায়ী আপনি নিজ উদ্যোগে সরকারি বা বেসরকারি পরীক্ষাগারে পণ্যটি পরীক্ষা করিয়ে ফলাফল অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারেন। অবশিষ্ট পণ্য সিল করা অবস্থায় রাখুন, কারণ পরে ফৌজদারি মামলায় সরকারি পরীক্ষার জন্য নমুনা লাগতে পারে।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: ১-১০ দিন · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(৬) · কাগজপত্র: ছবি ও স্ক্রিনশট, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, যদি নেওয়া হয়, ডেলিভারি ও কুরিয়ারের রেকর্ড
ধাপ ৩ · অধিদপ্তরে অভিযোগ ও শুনানিত্রিশ দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন
বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগের মূল ধাপ হলো জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ। ধারা ৬০ বলে, কারণ উদ্ভবের ত্রিশ দিনের মধ্যে না করলে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, তাই সময় গণনা শুরু হয় কেনার দিন বা যে ব্যর্থতা নিয়ে অভিযোগ, সেই দিন থেকে। অভিযোগে বিক্রেতার নাম ও ঠিকানা, কী সমস্যা হয়েছে তার বিবরণ এবং প্রমাণ সংযুক্ত থাকা উচিত। ধারা ২০(৪) ফ্যাক্স, ইমেইল বা অন্য উপায়ে মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ পাঠানোর সুযোগ দেয়, এবং অধিদপ্তর তার কার্যালয়ে ও অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ করে।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬০; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(১); ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ২০(৪) · কাগজপত্র: নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ লিখিত অভিযোগ, রসিদ ও প্রমাণের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
পরামর্শ: বিক্রেতার প্রতিশ্রুতির মেয়াদ ফুরানোর অপেক্ষা করবেন না। ত্রিশ দিন দ্রুত চলে যায়, আর দেরিতে করা অভিযোগ গ্রহণ করা হয় না।
ধাপ ৪ · অধিদপ্তরে অভিযোগ ও শুনানিবিকল্পভাবে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করুন
ঢাকার বাইরে, বা যেখানে সুবিধাজনক, একই অভিযোগ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও করা যায়। ধারা ৬৯ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজ জেলায় এই আইনের অধীন মহাপরিচালকের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে, যা মহাপরিচালকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই প্রয়োগ করা যায়, এবং তিনি তা কোনো এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে অর্পণ করতে পারেন। ধারা ৭১(২) নিশ্চিত করে যে একজন ভোক্তা মহাপরিচালক, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। গৃহীত যেকোনো ব্যবস্থার বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে মহাপরিচালককে জানাতে হয়।
কোথায়: জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় · সময়: কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৯; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭১(২) · কাগজপত্র: লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ
ধাপ ৫ · অধিদপ্তরে অভিযোগ ও শুনানিতদন্ত ও বিক্রেতাকে নোটিশ
লিখিত অভিযোগ পেলে ধারা ৭৬(২) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তা অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে হয়। বাস্তবে অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা যাচাই করেন অভিযোগটি সময়ের মধ্যে ও আইনের আওতায় কি না, তারপর বিক্রেতা ও অভিযোগকারীকে শুনানির তারিখ জানিয়ে নোটিশ পাঠান। আইনে কর্মকর্তাদের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা আছে: প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, নমুনা সংগ্রহ, পণ্য জব্দ, এবং ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্যের জন্য দোকান বা ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধের আদেশ। কর্মকর্তাদের বাধা দিলে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(২); ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ২১-২৮ · কাগজপত্র: শুনানির নোটিশ, বিক্রেতার লিখিত ব্যাখ্যা
ধাপ ৬ · অধিদপ্তরে অভিযোগ ও শুনানিশুনানি
শুনানিতে অভিযোগকারী ও বিক্রেতা প্রত্যেকে নিজের বক্তব্য দেন এবং কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। কর্মকর্তা পণ্য পরীক্ষা করতে, নির্ধারিত বা প্রদর্শিত মূল্যের সঙ্গে দাম মেলাতে এবং লেবেল, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও বিজ্ঞাপন যাচাই করতে পারেন। অনেক বিক্রেতা এই পর্যায়ে টাকা ফেরত বা পণ্য বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ হতে পারে। অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হতে পারে, তাই প্রয়োজনে লিখিতভাবে নতুন তারিখ চান। কপির পাশাপাশি মূল কাগজ নিয়ে যান, আর পণ্য বহনযোগ্য হলে সেটিও।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: এক বা দুটি বৈঠক · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(২)-(৩); ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭০(১) · কাগজপত্র: মূল রসিদ ও পণ্য, বিক্রেতার রেকর্ড
ধাপ ৭ · অধিদপ্তরে অভিযোগ ও শুনানিপ্রশাসনিক জরিমানা বা অন্য ব্যবস্থা
অভিযোগ প্রমাণিত হলে মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা না করে ধারা ৭০(১) অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ, ট্রেড লাইসেন্স বাতিল, অথবা ব্যবসা সাময়িক বা স্থায়ীভাবে স্থগিত করতে পারেন। ধারা ৭০(২) অনুযায়ী জরিমানা চতুর্থ অধ্যায়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সর্বোচ্চ জরিমানার বেশি হতে পারে না, এবং ধারা ৭০(৩) অনুযায়ী অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া যায় না। ব্যবসায়ীকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে স্বেচ্ছায় জরিমানা দিতে হয়। না দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬(১)(ক) অনুযায়ী ক্রোক ও বিক্রির মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়, সঙ্গে খরচ হিসেবে আরও পঁচিশ শতাংশ।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: শুনানিতে বা পরে সিদ্ধান্ত; ৫ কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭০(১)-(৫); ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(৩); ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৭-৫৬ · কাগজপত্র: জরিমানা আরোপের লিখিত আদেশ, পরিশোধের রসিদ
ধাপ ৮ · অধিদপ্তরে অভিযোগ ও শুনানিজরিমানায় আপনার ২৫ শতাংশ অংশ
ধারা ৭৬(৪) অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা আদায় হলে আদায়কৃত অর্থের পঁচিশ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে দিতে হয়। এই অংশ কেবল প্রকৃতপক্ষে আদায় হওয়া অর্থ থেকে দেওয়া হয়, তাই অভিযোগকারীর উচিত বিক্রেতা জরিমানা দিয়েছেন কি না যাচাই করে অধিদপ্তর থেকে, সাধারণত স্বাক্ষর ও পরিচয়পত্র দেখিয়ে, অংশটি নেওয়া। অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অভিযোগ করলে তিনি এই অংশ পান না। এই পুরস্কার ক্ষতিপূরণ থেকে আলাদা: এটি মূল্য ফেরত নয়, এবং ক্ষতিপূরণ চাইলে ভোক্তাকে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হবে।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: জরিমানা আদায় হলে · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(৪) · কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, জরিমানার আদেশের কপি, অংশ প্রাপ্তির রসিদ
ধাপ ৯ · ফৌজদারি মামলাফৌজদারি মামলা শুরু
এই আইনের অধীনে ভোক্তা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা করতে পারেন না: ধারা ৭১(১) তা নিষিদ্ধ করেছে। বরং অভিযোগ যায় অধিদপ্তর বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, এবং কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় জরিমানা না করে মামলা করা হবে কি না। ধারা ৬১ অনুযায়ী, ধারা ৬০-এর অভিযোগের নব্বই দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল না হলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারেন না। ভেজাল বা নকল ওষুধ এর বাইরে, এগুলোর বিচার করতে হয় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ২৫গ অনুযায়ী; আর বিশেষ আইনে কঠোরতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।
কোথায়: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · সময়: অভিযোগের ৯০ দিনের মধ্যে · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬১; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭১(১); ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭২ ও ৭৫ · কাগজপত্র: অভিযোগ, অভিযোগপত্র, জব্দ তালিকা ও নমুনার রেকর্ড
ধাপ ১০ · ফৌজদারি মামলাম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিচার
ধারা ৫৭ অনুযায়ী এই আইনের অপরাধের বিচার করেন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ধারা ৫৮ অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির ২২তম অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। ধারা ৫৯ অনুযায়ী এই আইনের সব অপরাধ জামিনযোগ্য, আমলযোগ্য ও আপসযোগ্য, তাই অনেক মামলা আপসে শেষ হয়। পণ্যের ত্রুটি প্রমাণ করতে হলে ম্যাজিস্ট্রেট নমুনা সিল করে পরীক্ষাগারে পাঠাতে পারেন, যাকে ধারা ৬২ অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হয়, এবং অভিযোগকারীকে পরীক্ষার ফি জমা দিতে বলতে পারেন।
কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৫৭-৫৯; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬২; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২২তম অধ্যায় · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি
ধাপ ১১ · ফৌজদারি মামলাদণ্ড, সাজা ও অভিযোগকারীর অংশ
বিক্রেতা দণ্ডিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৬৩ অনুযায়ী আইনে অনুমোদিত যেকোনো শাস্তি দিতে পারেন, ধারা ৫৭(২)-এ ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানার সাধারণ সীমা সত্ত্বেও। নকল করা বা অবহেলাজনিত সেবার মতো অপরাধে শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, এবং ধারা ৫৫ অনুযায়ী পুনরায় একই অপরাধে দ্বিগুণ শাস্তি। ধারা ৫৬ অনুযায়ী পণ্য বাজেয়াপ্ত করা যায়। নিয়মিত ফৌজদারি মামলায় আরোপিত জরিমানা আদায় হলে ধারা ৭৬(৫) অনুযায়ী অভিযোগকারী আবারও পঁচিশ শতাংশ পান। একই অপরাধে দ্বিতীয়বার বিচার করা যায় না।
কোথায়: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: রায়ের সময় · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৫৫, ৫৬, ৬৩ ও ৬৪; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭৬(৫) · কাগজপত্র: রায় ও দণ্ড, জরিমানা আদায়ের রেকর্ড
পরামর্শ: মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ নিজেই ধারা ৫৪ অনুযায়ী অপরাধ, তাই কেবল যা প্রমাণ করতে পারবেন তা-ই দায়ের করুন।
ধাপ ১২ · ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলাক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা দায়ের করুন
প্রশাসনিক ও ফৌজদারি পথে বিক্রেতার শাস্তি হয়, কিন্তু ভোক্তা ক্ষতিপূরণ পান না। ধারা ৬৬ নিশ্চিত করে যে ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তা দেওয়ানি প্রতিকারের জন্যও মামলা করতে পারেন, ফৌজদারি কার্যধারা শুরু হোক বা না হোক, বিক্রেতা দণ্ডিত হোক বা না হোক। উপযুক্ত আদালত হলো স্থানীয় এখতিয়ারসম্পন্ন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, মূল্য যা-ই হোক, কারণ ধারা ৬৬(৫) দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ওপর প্রাধান্য পায়। ক্ষতি টাকায় পরিমাপযোগ্য হলে ভোক্তা নিরূপিত ক্ষতির সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত · সময়: দায়েরে ১ দিন; সমনে ১-২ মাস · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৬(১)-(৩) ও (৫); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১ · কাগজপত্র: আরজি, দাবির ওপর কোর্ট ফি, ক্ষতির প্রমাণ, ওকালতনামা
ধাপ ১৩ · ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলাক্ষতিপূরণ মামলার বিচার
মামলাটি দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী চলে: সমন, লিখিত জবাব, বিচার্য বিষয় গঠন, উপযুক্ত ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা, সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক। ধারা ৬৬(৪) অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ আরজি, জবাব, সাক্ষ্য ও সব পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেন। বাদীকে ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্য, ক্ষতি এবং তার আর্থিক মূল্য প্রমাণ করতে হয়। চিকিৎসার বিল, মেরামতের ইনভয়েস, বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন এবং অধিদপ্তর বা ফৌজদারি কার্যধারার ফলাফল সহায়ক। অধিদপ্তরের জরিমানার আদেশ উপযোগী প্রমাণ, তবে তা দেওয়ানি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত · সময়: ১-৩ বছর · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৬(৪); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, বিচার্য বিষয়, প্রদর্শনী ও জবানবন্দি
ধাপ ১৪ · ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলারায় ও প্রতিকার
ধারা ৬৭ অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত বিবাদীকে ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের বদলে সঠিক পণ্য দিতে, ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ফেরত নিয়ে মূল্য ফেরত দিতে, প্রমাণিত আর্থিক ক্ষতির সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে এবং মামলার খরচ দিতে আদেশ দিতে পারেন। পাঁচ গুণের সীমার মধ্যে আদালত যে অঙ্ক ন্যায্য মনে করেন, তা-ই নির্ধারণ করেন। রায় ও ডিক্রি স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্তুত হয়, এবং আপিল ও জারি উভয়ের জন্য সার্টিফায়েড কপি লাগে।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত · সময়: রায়ের সময় · আইন: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৭; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি, সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১৫ · ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মামলাডিক্রি কার্যকর করা
বিক্রেতা টাকা না দিলে বা পণ্য না বদলালে ভোক্তা একই আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ অনুযায়ী ডিক্রি জারির আবেদন করেন। আদালত ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পত্তি ক্রোক করতে, নিলামে সম্পদ বিক্রি করতে এবং অপরিশোধিত অর্থ ডিক্রির ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর অনুসন্ধানের পর দেওয়ানি আটকের আদেশ দিতে পারেন। তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮২ অনুযায়ী জারির সাধারণ সময়সীমা তিন বছর। লক্ষ্য যখন শাস্তি নয়, ক্ষতিপূরণ, তখন এই ধাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৮২ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, সার্টিফায়েড ডিক্রি, সম্পদের বিবরণ
যদি এমন হয়…? ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কোনো পক্ষ ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?
- 1মহানগর দায়রা জজ / দায়রা জজ
দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি আপিল
আইনের ধারা ৬৫ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের রায় বা আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে স্থানীয় এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা জজের কাছে, ঢাকায় যার অর্থ মহানগর দায়রা জজ, আপিল করতে পারে। আপিল আদালত সাক্ষ্য ও আইন পর্যালোচনা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪২ক অনুযায়ী প্রতিপক্ষের ওপর নোটিশ জারির নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হয়, যদিও এই লক্ষ্য প্রায়ই ছাড়িয়ে যায়।
দায়েরে ৬০ দিন; ৩-১২ মাসভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৫ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৪২ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দায়রা জজ দণ্ড বা খালাস বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন।
আপিলের আদেশ কি রিভিশন করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন
দায়রা জজ আপিল নিষ্পত্তি করার পর কোনো পক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের আবেদন করতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত, দণ্ড বা আদেশের যথার্থতা, বৈধতা বা ঔচিত্য এবং নিম্ন আদালতের কার্যধারার নিয়মানুবর্তিতা পরীক্ষা করেন, তবে আপিলের মতো সাক্ষ্যের পুনঃশুনানি করেন না। ধারা ৪৪২ক অনুযায়ী রিভিশনও নোটিশের নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৪২ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ বহাল বা সংশোধন করে নিম্ন আদালতে পাঠান।
একই আদালত কি নিজের রায় পরিবর্তন করতে পারেন?
- 1যুগ্ম জেলা জজ আদালত
প্রতিটি পথে রিভিউর সীমা
ফৌজদারি পথে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন বা রিভিউ করতে আদালতকে বারিত করে, তাই রিভিউ কোনো প্রতিকার নয়। দেওয়ানি পথে আপিল দায়ের না হয়ে থাকলে যুগ্ম জেলা জজ নতুন সাক্ষ্য, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল বা অন্য পর্যাপ্ত কারণে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ অনুযায়ী নিজের ডিক্রি রিভিউ করতে পারেন। আবেদন করতে হয় নব্বই দিনের মধ্যে।
আবেদনে ৯০ দিনফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৯দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কেবল দেওয়ানি ডিক্রিই একই আদালত রিভিউ করতে পারেন; ফৌজদারি রায় যায় আপিলে।
কোনো আইনগত প্রশ্ন কি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
এখানে রেফারেন্সের সুযোগ নেই
বাংলাদেশে ফৌজদারি রেফারেন্সের পুরোনো বিধান, অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩২ থেকে ৪৩৪, বিলুপ্ত করা হয়েছে, তাই ম্যাজিস্ট্রেট ভোক্তা মামলা হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স করতে পারেন না। দেওয়ানি পথে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ অনুযায়ী রেফারেন্স কেবল আপিল-অযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে সীমিত, আর ধারা ৬৭-এর ডিক্রি হাইকোর্ট বিভাগে আপিলযোগ্য। তাই আইনগত প্রশ্ন রেফারেন্সের বদলে আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমে ওপরে যায়।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩২-৪৩৪ (বিলুপ্ত)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ বিধি ১ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আইনগত প্রশ্ন রেফারেন্সে নয়, আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমে তোলা হয়।
দায়রা জজ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?
- 1মহানগর দায়রা জজ / দায়রা জজ
দণ্ড রদ ও পুনর্বিচারের আদেশ
দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ) আপিল আদালতকে সিদ্ধান্ত ও দণ্ড রদ করে তার অধস্তন কোনো উপযুক্ত আদালতে অভিযুক্তের পুনর্বিচারের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। এমনটি হয় যখন, যেমন, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন কখনো যথাযথভাবে প্রমাণ করা হয়নি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে পরীক্ষা করা হয়নি, অথবা অভিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করার ন্যায্য সুযোগ পাননি।
রায়ের সময়ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৩(১)(খ) - 2মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পুনর্বিচার
মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত যায়, যিনি দায়রা জজের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বিচার করেন, প্রয়োজনে আবার সাক্ষ্য নেন এবং নতুন রায় দেন। অভিযোগকারীকে সাধারণত আবার সাক্ষী হিসেবে হাজির হতে হয়, তাই মামলা চলাকালে মূল রসিদ, সিল করা পণ্য ও পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন নিরাপদে রাখুন।
৩-৯ মাসভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৫৭-৫৮ - 3মহানগর দায়রা জজ / দায়রা জজ
নতুন রায়ের বিরুদ্ধে নতুন আপিল
নতুন রায়ের বিরুদ্ধে ধারা ৬৫ অনুযায়ী ষাট দিনের মধ্যে আবার দায়রা জজের কাছে আপিল করা যায়। ফলে চূড়ান্ত হওয়ার আগে মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নেমে আবার দায়রা জজের কাছে উঠতে পারে, এবং সেই আপিল নিষ্পত্তির পর হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের সুযোগও থাকে।
দায়েরে ৬০ দিনভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচার শেষে নতুন রায় হয়, যার বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করা যায়।
দেওয়ানি মামলা কীভাবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দেওয়ানি আপিল কেবল হাইকোর্ট বিভাগে
আইনের ধারা ৬৮ দেওয়ানি আদালত আইনের সাধারণ পথের ওপর প্রাধান্য পায়: ধারা ৬৭-এর অধীন যুগ্ম জেলা জজের রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দাবির মূল্য যা-ই হোক, নব্বই দিনের মধ্যে কেবল হাইকোর্ট বিভাগে চলে। হাইকোর্ট বিভাগ তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই আপিল শুনে ডিক্রি বহাল, পরিবর্তন বা রদ করতে পারেন।
দায়েরে ৯০ দিন; ১-৩ বছরভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬৮ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি
দেওয়ানি আপিলে বা ফৌজদারি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া পক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে পিটিশন দাখিল করতে পারে। আপিল বিভাগ কেবল গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে অনুমতি দেন, এবং এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
দায়েরে ৬০ দিন; ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং ডিক্রি যুগ্ম জেলা জজ আদালতে জারি হয়।
ব্যবসায়ী অধিদপ্তরের জরিমানা নিয়ে আপত্তি তুললে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আইনি আপিল নেই; বরং রিট পিটিশন
২০০৯ সালের আইনে ধারা ৭০ অনুযায়ী অধিদপ্তরের আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানার বিরুদ্ধে কোনো আপিলের বিধান নেই। যে ব্যবসায়ী মনে করেন জরিমানাটি বেআইনি, যেমন শুনানি দেওয়া হয়নি বা জরিমানা আইনি সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়েছে, তিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করতে পারেন। ২০২৫ সালের একটি খসড়া সংশোধনীতে অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তাব আছে; এর ওপর নির্ভর করার আগে তা পাস হয়েছে কি না যাচাই করুন।
দ্রুত দায়ের করুন; ৬-১৮ মাসভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭০বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ জরিমানা বহাল রাখেন অথবা বেআইনি ঘোষণা করেন।
ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ তিনটি আলাদা সিঁড়ি বেয়ে ওঠে। প্রশাসনিক পথ শুরু হয় এবং সাধারণত শেষও হয় অধিদপ্তর বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে; জরিমানার বিরুদ্ধে কোনো আইনি আপিল নেই, একমাত্র চ্যালেঞ্জ হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন। ফৌজদারি পথ শুরু হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, যাঁর জরিমানার ক্ষমতা এই আইনে কার্যবিধির সাধারণ সীমায় আবদ্ধ নয়; আপিল ষাট দিনের মধ্যে যায় দায়রা জজের কাছে, যেখানে তথ্য ও আইনের পুনঃশুনানি হয়, এরপর বৈধতার প্রশ্নে রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে।
দেওয়ানি পথ সাধারণ মূল্যসীমা মানে না: অঙ্ক যা-ই হোক, প্রতিটি ক্ষতিপূরণ মামলা যায় যুগ্ম জেলা জজের কাছে, এবং ধারা ৬৮ জেলা জজকে এড়িয়ে নব্বই দিনের মধ্যে আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠায়। হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানি আপিলে তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই পুনঃশুনানি করেন। তিনটি পথের ওপরে আছে আপিল বিভাগ, যেখানে যাওয়া যায় কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ / দায়রা জজ
- প্রথম দফার আদালতমেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · যুগ্ম জেলা জজ আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেজাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর · জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP), প্রধান কার্যালয়
টিসিবি ভবন, ১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর অধীন ভোক্তার অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে এবং প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করে।
সরকারি পাতা অনুযায়ী জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র এই ভবনের ১২ তলায় (ফোন ০২-৫৫০১৩২১৮, nccc@dncrp.gov.bd)। অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়েও অভিযোগ দেওয়া যায়।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- ভোক্তা অধিদপ্তর (DNCRP)
- জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ধারা ১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত, প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
- ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্য (Anti-consumer practice)
- ধারা ২(২০)-এ তালিকাভুক্ত যেকোনো কাজ, যেমন বেশি দাম নেওয়া, ভেজাল, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, ওজনে কম দেওয়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি।
- অভিযোগকারী (Complainant)
- অভিযোগ দায়েরকারী ভোক্তা, একাধিক ভোক্তা, ভোক্তা সংগঠন, পরিষদ, সরকার বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী (ধারা ২(৩))।
- প্রশাসনিক জরিমানা (Administrative fine)
- মামলা ছাড়াই ধারা ৭০ অনুযায়ী অধিদপ্তরের আরোপিত জরিমানা, যা সংশ্লিষ্ট অপরাধের সর্বোচ্চ জরিমানায় সীমাবদ্ধ।
- অভিযোগকারীর অংশ (Complainant's share)
- আদায়কৃত জরিমানার পঁচিশ শতাংশ, যা ধারা ৭৬(৪) ও (৫) অনুযায়ী অভিযোগকারীকে দেওয়া হয়।
- অভিযোগপত্র (Abhijog patra)
- যে অভিযোগপত্র অভিযোগের নব্বই দিনের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পৌঁছাতে হয় (ধারা ৬১)।
- আপসযোগ্য অপরাধ (Compoundable offence)
- যে অপরাধ আদালতের সংশ্লিষ্টতায় পক্ষগুলো মীমাংসা করতে পারে; এই আইনের সব অপরাধ আপসযোগ্য (ধারা ৫৯)।
- পাঁচ গুণ ক্ষতিপূরণ (Five-times compensation)
- প্রমাণিত আর্থিক ক্ষতির সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা (ধারা ৬৬-৬৭)।
ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার সময়সীমা কত দিন?
ভোক্তা অধিদপ্তরে কীভাবে অভিযোগ করব?
ভোক্তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কি আমার টাকা ফেরত পাব?
আমি নিজে কি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা করতে পারি?
ভোক্তার ক্ষতিপূরণ দাবির মামলা কোন আদালত শোনে?
২৫ শতাংশ অংশ কি প্রতিটি ক্ষেত্রে দেওয়া হয়?
বিক্রেতা কি অধিদপ্তরের জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন?
অভিযোগ করার জন্য কি আমার শাস্তি হতে পারে?
আইন ও উৎস
- Consumer Rights Protection Act 2009, Laws of Bangladesh
- Consumer Rights Protection Act 2009 (mirror text)
- Directorate of National Consumer Rights Protection
- Code of Criminal Procedure 1898, Laws of Bangladesh
- Code of Civil Procedure 1908, Laws of Bangladesh
- Daily Observer: DNCRP complaint and fine statistics (25 July 2026)
- Centre for Policy Dialogue: Draft consumer law shows progress but lacks fundamental reform (2025)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।