শ্রম আদালতে মামলা: বাংলাদেশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পূর্ণ যাত্রা
বাংলাদেশে শ্রম আদালতে মামলা সাধারণত শুরু হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (Bangladesh Labour Act 2006)-এর ধারা ৩৩-এর অধীনে একক অভিযোগ (individual grievance) হিসেবে: শ্রমিক ত্রিশ দিনের মধ্যে মালিককে লিখিতভাবে জানান, মালিককে ত্রিশ দিনের মধ্যে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দিতে হয়, এবং এরপর শ্রমিক ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের সভাপতিত্বে, মালিকপক্ষের একজন ও শ্রমিকপক্ষের একজন সদস্যসহ গঠিত শ্রম আদালত বকেয়া মজুরিসহ চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ দিতে বা শাস্তি লঘু করতে পারেন। আপিল যায় ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে, এবং এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল হাইকোর্ট বিভাগের সীমিত রিট এখতিয়ারসাপেক্ষে।
- কোথা থেকে শুরু
- রেজিস্ট্রি ডাকে মালিকের কাছে লিখিত অভিযোগ; এরপর আঞ্চলিক এখতিয়ারসম্পন্ন শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের (ঢাকায় একাধিক শ্রম…
- মূল আইন
- বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (ধারা ২৩-২৭, ৩৩, ২১৩-২২২, ৩২৯), বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৪৩ নং আইন) পর্যন্ত সংশোধিত…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: অভিযোগ পর্যায়ে ২ মাস; ৬০ দিনের বিধিবদ্ধ লক্ষ্য সত্ত্বেও শ্রম আদালতে ১-৩…
- কে মামলা করতে পারেন
- আইনের সংজ্ঞাভুক্ত একজন শ্রমিক, যাঁকে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্যভাবে চাকরির অবসান করা হয়েছে তিনিও…
শ্রম আদালতে মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মালিকের কাছে অভিযোগযোগ্যতা ও সময়সীমা যাচাই করুন
প্রথম প্রশ্ন হলো ব্যক্তিটি ধারা ২(৬৫) অনুযায়ী শ্রমিক কি না; লিখিতভাবে ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক বা তত্ত্বাবধানমূলক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মালিকের অংশ হিসেবে গণ্য হন এবং এর বাইরে পড়েন। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো কী ঘটেছে এবং শ্রমিক কবে তা জানতে পেরেছেন, কারণ পরবর্তী প্রতিটি সময়সীমা সেই তারিখ থেকে গণনা হয়। ধারা ৩৩ দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীন যেকোনো অভিযোগ কভার করে, যার মধ্যে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত ও অপসারণ রয়েছে।
ধারা ২৬-এর অধীনে নোটিশ দিয়ে সাধারণ চাকরি অবসান ধারা ৩৩-এর অধীনে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, যদি না অভিযোগ থাকে যে তা ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের কারণে বা অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, অথবা শ্রমিককে ধারা ২৬-এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
কোথায়: শ্রমিকের আইনজীবী বা ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা · সময়: কয়েক দিন · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯)(খ) ও (৬৫); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(১) ও (৯); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ · কাগজপত্র: নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও বেতনের স্লিপ, চাকরি অবসান, বরখাস্ত বা কারণ দর্শানোর চিঠি, সার্ভিস বই
পরামর্শ: চাকরি অবসানের চিঠি কবে পেয়েছেন সেই তারিখ লিখে রাখুন। এই তারিখ হারিয়ে ফেলাই মামলা ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
ধাপ ২ · মালিকের কাছে অভিযোগলিখিত অভিযোগ পাঠান
ধারা ৩৩(১) অনুযায়ী কারণ জানার ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রমিককে রেজিস্ট্রি ডাকে মালিকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠাতে হয়। মালিক সরাসরি গ্রহণ করে লিখিতভাবে প্রাপ্তি স্বীকার করলে রেজিস্ট্রি ডাকের প্রয়োজন নেই। চিঠিতে শ্রমিকের পরিচয়, যে পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বিবরণ, তা কেন ভুল, যেমন ধারা ২৪ অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত হয়নি, এবং প্রার্থিত প্রতিকার, যেমন বকেয়া মজুরিসহ পুনর্বহাল বা পাওনা পরিশোধ, উল্লেখ করা উচিত। ডাকের রসিদ ও প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংরক্ষণ করুন।
কোথায়: মালিকের দপ্তর · সময়: কারণ জানার ৩০ দিনের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(১); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৪ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র, রেজিস্ট্রি ডাকের রসিদ, প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা স্বাক্ষরিত প্রাপ্তি রসিদ
পরামর্শ: ত্রিশ দিনের সময়সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে আগেভাগে অভিযোগ পাঠান।
ধাপ ৩ · মালিকের কাছে অভিযোগমালিকের তদন্ত ও শুনানি
অভিযোগ পৌঁছানোর পর ধারা ৩৩(২) অনুযায়ী মালিককে ত্রিশ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে, শ্রমিককে শুনানির সুযোগ দিতে এবং লিখিত সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। শ্রমিকের উচিত যেকোনো শুনানিতে উপস্থিত থাকা, দলিলপত্র নিয়ে যাওয়া এবং লিখিত সিদ্ধান্ত চাওয়া। মালিক পদক্ষেপটি প্রত্যাহার করলে বা পাওনা পরিশোধ করলে বিষয়টি এখানেই শেষ হতে পারে। মালিক ত্রিশ দিনের মধ্যে কিছু না করলে বা শ্রমিকের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিলে শ্রম আদালতের পথ খুলে যায়। শুনানির রেকর্ড, অথবা মালিকের নীরবতার রেকর্ড, পরে সাক্ষ্য হয়।
কোথায়: মালিকের দপ্তর · সময়: সর্বোচ্চ ৩০ দিন · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(২) · কাগজপত্র: শুনানির নোটিশ, মালিকের লিখিত সিদ্ধান্ত, শুনানি নিয়ে শ্রমিকের নোট
ধাপ ৪ · মালিকের কাছে অভিযোগঅর্থ দাবির জন্য অন্যান্য পথ বিবেচনা করুন
কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি দাবির জন্য ধারা ৩৩-এর পথ লাগে না। ধারা ২১৩ অনুযায়ী শ্রমিক, মালিক, যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি এবং ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে ট্রেড ইউনিয়নও আইন, রোয়েদাদ, নিষ্পত্তি, চুক্তি বা প্রচলিত প্রথার অধীন যেকোনো অধিকার বলবৎ করতে শ্রম আদালতে আবেদন করতে পারেন। ২০২৬ সালের একটি রিট রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ অর্জিত পেনশন অধিকার বলবৎ করতে একক শ্রমিকদের ধারা ২১৩ ব্যবহার বহাল রেখেছেন। কোন পথ ঘটনার সঙ্গে মেলে আইনজীবী তা ঠিক করেন, কারণ ফরম, সময়সীমা ও প্রতিকার ভিন্ন।
কোথায়: শ্রমিকের আইনজীবী বা ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৩ (২০২৬ সালে সংশোধিত); রিট পিটিশন নং ২৫৩৬/২০২৪ (হাইকোর্ট বিভাগ, ০৩.০৩.২০২৬) · কাগজপত্র: অপরিশোধিত পাওনার হিসাব, নির্ভরযোগ্য নিষ্পত্তি বা রোয়েদাদ, চাকরি বিধিমালা বা পেনশন বিধিমালা
ধাপ ৫ · অভিযোগ দায়ের ও জবাবশ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের
মালিক ত্রিশ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে, বা শ্রমিক সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে, ধারা ৩৩(৩) অনুযায়ী মালিকের সময়সীমা শেষ হওয়া বা মালিকের সিদ্ধান্তের ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রমিক শ্রম আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এটিই বাংলাদেশে শ্রম আদালতে মামলার আনুষ্ঠানিক সূচনা। অভিযোগটি নির্ধারিত ফরমে হতে হবে এবং এতে পক্ষগণ, কারণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, প্রার্থিত প্রতিকার, নির্ভরযোগ্য বিধান, বিরোধ উদ্ভবের তারিখ এবং আদালতের এখতিয়ার কেন আছে তা উল্লেখ করতে হবে। কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: মালিকের সময়সীমা বা সিদ্ধান্তের ৩০ দিনের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৩) ও (৭); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৯; বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২২০ · কাগজপত্র: নির্ধারিত ফরমে অভিযোগ, অভিযোগপত্র ও ডাকের রসিদের কপি, মালিকের সিদ্ধান্ত, যদি থাকে, প্রতিনিধির ক্ষমতাপত্র
ধাপ ৬ · অভিযোগ দায়ের ও জবাবনোটিশ ও মালিকের লিখিত জবাব
শ্রম আদালত জারিকারক, বিশেষ বাহক বা রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে মালিকের ওপর নোটিশ জারি করেন, এবং ধারা ২১৬(৩) অনুযায়ী দায়েরের অনধিক দশ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব বা আপত্তি দাখিলের নির্দেশ দেন। কারণ লিপিবদ্ধ করে আদালত এই সময় মোট সর্বোচ্চ সাত দিন বাড়াতে পারেন। মালিক এই সময়ের মধ্যে কিছু দাখিল না করলে ধারা ২১৬(৫) অনুযায়ী মামলাটি একতরফা শুনানিতে যায়। মালিকেরা সাধারণত জবাব দেন যে তদন্তের পর শ্রমিককে আইনসম্মতভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, অভিযোগটি তামাদিতে বারিত, অথবা ব্যক্তিটি শ্রমিক নন।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: আইনে ১০-১৭ দিন; বাস্তবে প্রায়ই ১-৩ মাস · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(৩)-(৫); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৪) · কাগজপত্র: প্রতিপক্ষকে নোটিশ, লিখিত জবাব বা আপত্তি, জারির ফেরত প্রতিবেদন
ধাপ ৭ · অভিযোগ দায়ের ও জবাবমামলার শুনানি কারা করেন
প্রতিটি শ্রম আদালতে একজন চেয়ারম্যান থাকেন, যাঁকে সরকার কর্মরত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়, এবং দুজন সদস্য থাকেন, একজন মালিকপক্ষের ও একজন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি, যাঁরা গেজেটে প্রকাশিত তালিকা থেকে বাছাই করা হন। অপরাধের বিচার এবং দশম ও দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীনে মজুরি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে চেয়ারম্যান একাই বসেন। সদস্যরা পরামর্শ দেন, লিখিত মতামত দিতে পারেন, এবং রায়ে তাঁদের মতামত লিপিবদ্ধ করতে হয়। শ্রম আদালত শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের অধীন, যা এর তত্ত্বাবধান করে এবং শ্রম আদালতগুলোর মধ্যে মামলা স্থানান্তর করতে পারে।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: আদালত গঠনের সময় নির্ধারিত · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৪(৩), (৩ক), (৪), (৬)-(৯) ও (১৩); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৮(১৪)-(১৫) · কাগজপত্র: সদস্যদের গেজেট তালিকা
ধাপ ৮ · বিচারশুনানি ও মুলতবি
অপরাধ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে ধারা ২১৬(১) শ্রম আদালতকে দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর ক্ষমতাসম্পন্ন দেওয়ানি আদালত করেছে, যার মধ্যে সাক্ষী তলব, দলিল উপস্থাপনের আদেশ, কমিশন জারি এবং মামলা সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আইনে মুলতবির সীমা বাঁধা: এক পক্ষের অনুরোধে মোট সাত দিনের বেশি নয়, অথবা উভয় পক্ষ চাইলে দশ দিন। শুনানির তারিখে শ্রমিক অনুপস্থিত থাকলে মামলা খারিজ হয়, তবে তিন মাসের মধ্যে আবেদন করলে আদালত তা পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন। মালিক অনুপস্থিত থাকলে মামলা একতরফাভাবে শুনানি হয়।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: কয়েক মাস · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(১) ও (৬)-(৮) · কাগজপত্র: শুনানির নোটিশ, মুলতবির আবেদন, প্রয়োজনে পুনরুজ্জীবনের আবেদন
ধাপ ৯ · বিচারবরখাস্ত নিয়ে সাক্ষ্য
বেশির ভাগ বরখাস্তের মামলায় মূল প্রশ্ন হলো অসদাচরণের শাস্তি দেওয়ার আগে মালিক ধারা ২৪ অনুসরণ করেছেন কি না। এর মানে লিখিত অভিযোগ, জবাবের জন্য অন্তত সাত দিন, শুনানি, মালিক ও শ্রমিকের সমান প্রতিনিধিত্বসহ গঠিত কমিটির মাধ্যমে ষাট দিনের মধ্যে সম্পন্ন তদন্ত, এবং মালিক বা ব্যবস্থাপকের বরখাস্ত অনুমোদন। শ্রমিক সাক্ষ্য দেন এবং নিয়োগ ও চাকরি অবসানের কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। মালিক কারণ দর্শানোর নোটিশ, জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন ও অনুমোদন উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষ জেরা করেন। মালিকের নথিতে ফাঁক, যেমন শুনানির রেকর্ড না থাকা, প্রায়ই মামলার ফল নির্ধারণ করে।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩-২৪; বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(১)(ক)-(গ) · কাগজপত্র: অভিযোগনামা ও জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন ও কার্যবিবরণী, হাজিরা ও মজুরির রেকর্ড, সাক্ষীদের বিবৃতি
ধাপ ১০ · বিচারযেকোনো পর্যায়ে আপস-নিষ্পত্তি
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে অনেক মামলা আপসে নিষ্পত্তি হয়। সব পক্ষ মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে, বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে মর্মে সন্তুষ্ট হয়ে উভয় পক্ষের শুনানির পর শ্রম আদালত যেকোনো পর্যায়ে তা অনুমোদন করতে পারেন। লিখিত নিষ্পত্তিতে অর্থের পরিমাণ, পরিশোধের তারিখ, চাকরির সুবিধাগুলো কীভাবে বিবেচিত হবে এবং কোনো প্রত্যয়নপত্র বা অব্যাহতিপত্র দেওয়া হবে কি না, তা উল্লেখ থাকা উচিত। ধারা ২২২(২) অনুযায়ী সমঝোতার মাধ্যমে হওয়া নিষ্পত্তি এর পক্ষদের জন্য বাধ্যতামূলক, এবং মালিক পরে খেলাপ করলে ধারা ৩২৯ অনুযায়ী নিষ্পত্তির অধীন পাওনা শ্রম আদালতের মাধ্যমে আদায় করা যায়।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: রায়ের আগে যেকোনো সময় · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(১০); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২২২; বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩২৯ · কাগজপত্র: নিষ্পত্তি চুক্তি, যৌথ প্রত্যাহারের আবেদন
ধাপ ১১ · রায় ও পাওনা আদায়রায়
শ্রম আদালতকে প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে রায় ঘোষণা করতে এবং প্রত্যেক পক্ষকে একটি কপি দিতে হয়। ধারা ২১৬(১২) ও (১৩) অনুযায়ী দায়েরের ষাট দিনের মধ্যে রায় দিতে হয়, যা লিপিবদ্ধ কারণে নব্বই দিন বাড়ানো যায়, যদিও ঢাকায় শ্রম আদালতে মামলা প্রায়ই এই লক্ষ্যের চেয়ে বেশি সময় নেয়। রায়ে সদস্যদের মতামত লিপিবদ্ধ করতে হয়। ধারা ৩৩(৪) অনুযায়ী আদালত পরিস্থিতিতে যা ন্যায্য সেই আদেশ দেন। দ্রুত জাবেদা নকল সংগ্রহ করুন, কারণ আপিলের সময় কম।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: আইনে ৬০ দিন, সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯০ দিন; বাস্তবে প্রায়ই ১-৩ বছর · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(১১)-(১৩); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৪(৩ক) ও (১১) · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, জাবেদা নকল
ধাপ ১২ · রায় ও পাওনা আদায়আদালত কী আদেশ দিতে পারেন
ধারা ৩৩(৫) অনুযায়ী শ্রম আদালত অন্যান্য প্রতিকারের পাশাপাশি বকেয়া মজুরিসহ বা ছাড়া শ্রমিককে পুনর্বহালের নির্দেশ দিতে পারেন, এবং বরখাস্ত, অপসারণ বা ডিসচার্জের আদেশকে ধারা ২৩(২)-এ তালিকাভুক্ত কোনো লঘু শাস্তিতে রূপান্তর করতে পারেন। পুনর্বহাল উপযুক্ত না হলে আদালত সাধারণত চাকরি অবসানের ধরন অনুযায়ী আইনে নির্ধারিত সুবিধা ও ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন, যেমন ধারা ২০, ২৩ বা ২৬-এর অধীনে। ২০২৬ সালের সংশোধনী ধারা ২৭(৪)-এর অধীনে পদত্যাগকারী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণও সংশোধন করেছে, যা পদত্যাগ নিয়ে বিরোধ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: রায়ের সঙ্গে · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৫); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩(২); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৭(৪) (২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত) · কাগজপত্র: বকেয়া মজুরি ও সুবিধার হিসাব, পুনর্বহাল বা অর্থ পরিশোধের আদেশ
ধাপ ১৩ · রায় ও পাওনা আদায়পাওনা আদায়
শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আদেশকৃত অর্থ মালিক পরিশোধ না করলে শ্রমিক ধারা ৩২৯-এর অধীনে শ্রম আদালতে আবেদন করেন। শ্রমিকের পছন্দ অনুযায়ী আদালত সরকারি পাওনা হিসেবে, প্রথমে অস্থাবর ও পরে স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রির মাধ্যমে, অথবা দেওয়ানি আদালতের অর্থ-ডিক্রির মতো করে অর্থ আদায় করতে পারেন। অর্থ পাওনা হওয়ার এক বছরের মধ্যে সাধারণত আবেদন করতে হয়, যদিও পর্যাপ্ত কারণ থাকলে আদালত দেরিতে করা আবেদনও গ্রহণ করতে পারেন। আইন শ্রমিকের পাওনা আদায়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: ১ বছরের মধ্যে; আদায়ে ৩-১২ মাস · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩২৯; সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩ (Public Demands Recovery Act 1913) · কাগজপত্র: ধারা ৩২৯-এর অধীনে আবেদন, রায়ের জাবেদা নকল, পাওনা অর্থের বিবরণী
ধাপ ১৪ · রায় ও পাওনা আদায়বাস্তবে পুনর্বহাল
পুনর্বহালের আদেশ হলে এবং মালিক ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল না করলে শ্রমিকের উচিত লিখিতভাবে কাজে যোগদানের কথা জানানো এবং তার প্রমাণ রাখা। আদেশ পালনে অস্বীকারকারী মালিক শ্রম আদালতে আরও কার্যধারার মুখোমুখি হতে পারেন, এবং আদেশ অনুযায়ী বকেয়া মজুরি জমতে থাকে। ধারা ২২২(১) অনুযায়ী রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত পক্ষগণ ও মালিকের উত্তরাধিকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক। মালিক আপিল করলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার বিষয়ে দ্রুত ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করুন, কারণ আপিল নিষ্পত্তিতে এক বছর বা তারও বেশি লাগতে পারে।
কোথায়: মালিকের দপ্তর · সময়: ১-৩ মাস · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২২২(১); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৫) · কাগজপত্র: যোগদানপত্র, পৌঁছানোর প্রমাণ, মালিকের জবাব
ধাপ ১৫ · রায় ও পাওনা আদায়প্রতিশোধমূলক আচরণ ও পরিদর্শক-পরিচালিত দাবি
২০২৬ সালের সংশোধনী শ্রম আদালত ঘিরে নতুন সুরক্ষা যোগ করেছে। নতুন ধারা ৩১৯ক অনুযায়ী পরিদর্শকদের অভিযোগের উৎস গোপন রাখতে হয়, এবং পরিদর্শকের কাছে অভিযোগ করার কারণে মালিক তাঁকে হয়রানি করছেন বলে যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাস করলে শ্রমিক সেই অভিযোগ শ্রম আদালতে তুলতে পারেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শকেরা ধারা ৩১৭(৪)(খ)-এর অধীনে নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশও দিতে পারেন, এবং আদেশ উপেক্ষিত হলে শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এই পথগুলো ধারা ৩৩-এর একক মামলার পাশাপাশি চলতে পারে।
কোথায়: শ্রম আদালত · সময়: ক্ষেত্রভেদে ভিন্ন · আইন: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩১৯ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩১৭(৪)(খ) (২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত); বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩১৯(৫) · কাগজপত্র: পরিদর্শকের কাছে অভিযোগ, পরিদর্শকের আদেশ, প্রতিশোধমূলক আচরণের প্রমাণ
যদি এমন হয়…? শ্রম আদালতে মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কোনো পক্ষ শ্রম আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হবে?
- 1শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল
ধারা ৩৩-এর অধীনে শ্রম আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি ধারা ৩৩(৬) অনুযায়ী আদেশের ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। ধারা ২১৭-এ আপিলের সাধারণ মেয়াদ ষাট দিন, তবে ধারা ৩৩-এর সংক্ষিপ্ত মেয়াদকেই নিয়ন্ত্রক হিসেবে ধরা উচিত। কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না। ট্রাইব্যুনালের সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, এবং এটি বেঞ্চে বসতে পারে।
৩০ দিনের মধ্যেবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৬) ও (৭)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৭বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৮(১)-(৬) - 2শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
প্রথম আপিলের মতো শুনানি
ট্রাইব্যুনাল যতদূর সম্ভব মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনানিকারী দেওয়ানি আপিল আদালতের পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাই এটি ঘটনা ও আইন উভয়ই পর্যালোচনা করতে পারে। এটি শ্রম আদালতের আদেশ বহাল, পরিবর্তন বা রদ করতে পারে। আপিলের ষাট দিনের মধ্যে রায় দিতে হয়, যা নব্বই দিন বাড়ানো যায়। ধারা ৩৩-এর আপিলে এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে ঘোষিত।
আইনে ৬০-১৫০ দিন; প্রায়ই ১-২ বছরবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৮(৭), (১০), (১১) ও (১১ক)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং পাওনা আদায় বা পুনর্বহালের জন্য মামলাটি শ্রম আদালতে ফিরে আসে।
শ্রম আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কি দেওয়ানি রিভিশন চলে?
- 1শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
রিভিশনের বদলে ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন দেওয়ানি আদালতের জন্য প্রণীত, এবং শ্রম আইন শ্রম আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে কোনো রিভিশনের বিধান রাখেনি। বরং প্রতিটি শ্রম আদালত শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের অধীন, যার সব শ্রম আদালতের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আছে এবং যা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা আবেদনের ভিত্তিতে মামলা স্থানান্তর করতে পারে। অন্তর্বর্তী পর্যায়ের গুরুতর কোনো ভুলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ তা ট্রাইব্যুনালের কাছে, অথবা চূড়ান্ত আপিলে, উত্থাপন করেন।
১-৩ মাসবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৪(১৩)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৮(১৪) ও (১৫)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অন্তর্বর্তী পর্যায়ের অভিযোগ রিভিশনের বদলে ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধানে নিষ্পত্তি হয়।
শ্রম আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করতে পারেন?
- 1শ্রম আদালত
পুনরুজ্জীবন ও একতরফা আদেশ রদ
আইনে দ্বিতীয়বার দেখার সুযোগ সীমিত। অনুপস্থিতির কারণে মামলা খারিজ হলে শ্রমিক তিন মাসের মধ্যে খারিজাদেশ রদের আবেদন করতে পারেন, এবং আদালত ধারা ২১৬(১)(ঙ)-এর অধীনে একতরফা সিদ্ধান্ত রদ করতে পারেন। অনুপস্থিতির কারণে খারিজের পর তিন মাস পেরিয়ে দায়ের করা এবং অন্যথায় বারিত নয় এমন হলে একই কারণে নতুন মামলা বারিত নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রায়ের রিভিউয়ের স্পষ্ট বিধান আইনে নেই, তাই ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিরাপদ প্রতিকার হলো ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল।
৩ মাসের মধ্যেবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(১)(ঙ)-(চ), (৭) ও (৯)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: একই শ্রম আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন বা একতরফা আদেশের পর পুনঃশুনানি করেন।
কোনো আইনগত প্রশ্ন কি উচ্চ আদালতে রেফার করা যায়?
- 1শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
রেফারেন্স নেই; প্রশ্ন আপিলের মাধ্যমে ওপরে যায়
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬-এর রেফারেন্স পদ্ধতি অধস্তন দেওয়ানি আদালতকে সন্দেহজনক আইনগত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করার সুযোগ দেয়, কিন্তু শ্রম আইন শ্রম আদালতকে সেই পদ্ধতির অধীনে নয়, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের অধীনে রেখেছে, এবং একক অভিযোগের জন্য কোনো রেফারেন্সের ব্যবস্থা রাখেনি। যৌথ শিল্পবিরোধে সরকারের রেফারেন্স ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া। ধারা ৩৩-এর মামলায় সন্দেহজনক আইনগত প্রশ্ন শ্রম আদালত নিষ্পত্তি করেন এবং প্রয়োজনে আপিলে ট্রাইব্যুনাল তা সংশোধন করে।
আপিলের সঙ্গেবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৪(১৩)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৬)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রেফারেন্সের বদলে ট্রাইব্যুনালে আপিলের মাধ্যমে আইনগত প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়।
ট্রাইব্যুনাল মামলা ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
পুনঃশুনানির জন্য ফেরত
ধারা ২১৮(১০) অনুযায়ী আপিলে ট্রাইব্যুনাল শ্রম আদালতের রায় বহাল, সংশোধন, পরিবর্তন বা রদ করতে পারে, অথবা পুনঃশুনানির জন্য মামলাটি শ্রম আদালতে ফেরত পাঠাতে পারে। শ্রম আদালত সাক্ষ্য দিতে না দিলে, সদস্যদের মতামত লিপিবদ্ধ না করলে, অথবা গুণাগুণ না শুনে প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দিলে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল সাধারণত পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠায়।
রায়ের সময়বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৮(১০) - 2শ্রম আদালত
শ্রম আদালতে পুনঃশুনানি
শ্রম আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে ট্রাইব্যুনালের চিহ্নিত বিষয়গুলোতে পুনঃশুনানি করেন, নির্দেশ থাকলে আরও সাক্ষ্য নেন। পুনঃশুনানিতেও রায়ের জন্য ষাট দিনের বিধিবদ্ধ লক্ষ্য প্রযোজ্য, এবং আদালতকে ট্রাইব্যুনালের আইনগত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হয়। ট্রাইব্যুনাল পুনঃশুনানি অন্য কোনো শ্রম আদালতেও স্থানান্তর করতে পারে।
৩-১২ মাসবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৬(১২)-(১৩)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৮(১৪) - 3শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
নতুন আপিলে আবার ওপরে
নতুন রায়টি ধারা ৩৩-এর অধীনে একটি নতুন আদেশ, তাই তখনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আবার ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল তখন সেই আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে। ফলে শ্রমিকের প্রতিকার শেষ পর্যন্ত শ্রম আদালতে কার্যকরযোগ্য হওয়ার আগে মামলাটি দুবার ওঠানামা করতে পারে।
আপিলে ৩০ দিন; ১-২ বছরবাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৩(৬)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনঃশুনানির পর ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মামলা শেষ হয়।
মামলা কি ট্রাইব্যুনালের বাইরে যেতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশন
আইন অনুযায়ী শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, তাই আর কোনো বিধিবদ্ধ আপিল নেই। তবুও কোনো পক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন, কিন্তু আদালত কেবল দেখেন ট্রাইব্যুনাল এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে, স্বাভাবিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘন করে বা নথিতে সুস্পষ্ট আইনগত ভুল করে কাজ করেছে কি না। আদালত সাক্ষ্য নতুন করে মূল্যায়ন করেন না। ২০২৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগ একজন মালিকের রিট খারিজ করে শ্রম আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
দ্রুত দায়ের করুন; ১-২ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২রিট পিটিশন নং ২৫৩৬/২০২৪ (হাইকোর্ট বিভাগ, ০৩.০৩.২০২৬) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে অনুমতি
হাইকোর্ট বিভাগের রিট রায়ের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষ সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করতে পারেন। অনুমতি মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ আপিলের শুনানি করেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। ট্রাইব্যুনালের আদেশের স্থগিতাদেশ প্রতিটি স্তরে আলাদাভাবে চাইতে হয়।
দাখিলে ৬০ দিন; ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে মামলা শেষ হয়, এবং শ্রম আদালতে পাওনা আদায় বা পুনর্বহাল কার্যকর হয়।
শ্রম আদালতে মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে শ্রম আদালতে মামলা সাধারণ দেওয়ানি আদালত বা দেওয়ানি আদালত আইনের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার মধ্য দিয়ে যায় না। শ্রম আদালত একটি বিশেষ প্রথম দৃষ্টান্তের আদালত, যার সভাপতিত্ব করেন একজন জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ; আইনের অধীন বিরোধে এর একচেটিয়া এখতিয়ার রয়েছে এবং কোনো আর্থিক সীমা নেই। এর ওপরে রয়েছে সারা দেশের জন্য একটিমাত্র শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, যার সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। ধারা ৩৩-এর আপিলে এটি ঘটনা ও আইন উভয়ের পুনঃশুনানি করে, প্রথম আপিলের পদ্ধতি অনুসরণ করে, পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারে, এবং এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে ঘোষিত।
দ্বিতীয় আপিল বা দেওয়ানি রিভিশন নেই। হাইকোর্ট বিভাগ কেবল অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে, এখতিয়ার, স্বাভাবিক ন্যায়বিচার বা সুস্পষ্ট আইনগত ভুলের প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করতে পারেন, সাক্ষ্যের প্রশ্নে নয়। আপিল বিভাগ কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে অনুমতি দিলে বিষয়টি শোনেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
- প্রথম দফার আদালতশ্রম আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেশ্রমিকের আইনজীবী বা ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা · মালিকের দপ্তর
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
৪৩ কাকরাইল, ৪ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোড, ঢাকা-১০০০বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২১৭-এর অধীন শ্রম আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে।
ঢাকায় অবস্থিত দেশের একমাত্র ট্রাইব্যুনাল। সরকারি যোগাযোগ: রেজিস্ট্রার, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল (ফোন ০২-৯৩৬১৮৫১)।
শ্রম আদালত, ঢাকা (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রম আদালত)
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীন ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত শ্রম বিরোধ, মজুরি ও ক্ষতিপূরণ দাবি এবং অপরাধের বিচার করে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের গেজেট (শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সাইটে প্রকাশিত) প্রথম শ্রম আদালত, ঢাকা নিশ্চিত করে এবং থানাভিত্তিকভাবে ঢাকার প্রতিটি শ্রম আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে, কিন্তু কোনো সরকারি রাস্তার ঠিকানা পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও অন্যান্য কেন্দ্রেও শ্রম আদালত বসে।
শ্রমিকের আইনজীবী বা ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
মালিকের দপ্তর
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- শ্রমিক (Worker)
- দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক বা করণিক কাজে মজুরির বিনিময়ে নিযুক্ত ব্যক্তি, শিক্ষানবিশসহ, তবে লিখিতভাবে ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক বা তত্ত্বাবধানমূলক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন (ধারা ২(৬৫), ধারা ২(৪৯)(খ)-এর সঙ্গে পঠিত)।
- অভিযোগ (Grievance)
- ধারা ৩৩(১)-এর অধীনে মালিকের কাছে শ্রমিকের লিখিত অভিযোগ, যা শ্রম আদালতে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলক প্রথম ধাপ।
- শ্রম আদালত (Labour Court)
- ধারা ২১৪-এর অধীনে গঠিত বিশেষ আদালত, যার সভাপতিত্ব করেন জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ, সঙ্গে দুজন পরামর্শক সদস্য।
- শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল (Labour Appellate Tribunal)
- ধারা ২১৮-এর অধীনে জাতীয় আপিল সংস্থা, ধারা ৩৩-এর আপিলে যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
- পুনর্বহাল (Reinstatement)
- ধারা ৩৩(৫)-এর অধীনে বকেয়া মজুরিসহ বা ছাড়া শ্রমিককে চাকরিতে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ।
- বকেয়া মজুরি (Back wages)
- যে সময় শ্রমিককে কাজের বাইরে রাখা হয়েছিল সেই সময়ের মজুরি, যা আদালত পুনর্বহালের সঙ্গে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন।
- সাধারণ চাকরি অবসান (Termination simpliciter)
- ধারা ২৬-এর অধীনে নোটিশ দিয়ে বা নোটিশের পরিবর্তে মজুরি দিয়ে চাকরির অবসান, যা হয়রানি বা সুবিধা থেকে বঞ্চনার অভিযোগ না থাকলে ধারা ৩৩-এর আওতায় পড়ে না।
- সরকারি পাওনা (Public demand)
- সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩-এর সার্টিফিকেট পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য অর্থ, যা ধারা ৩২৯-এর আদায়ের বিকল্পগুলোর একটি।
শ্রম আদালতে মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
শ্রম আদালতে মামলা করার সময়সীমা কত?
আদালতে যাওয়ার আগে কি মালিককে লিখতেই হবে?
মামলার সিদ্ধান্ত কে দেন?
মামলা দায়ের করতে কি কোনো খরচ লাগে?
আদালত কি মালিককে আমাকে কাজে ফিরিয়ে নিতে আদেশ দিতে পারেন?
শ্রম আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
হেরে গেলে কি আপিল করা যায়?
২০২৫-২৬ সালের সংশোধনীতে কী পরিবর্তন এসেছে?
আইন ও উৎস
- Bangladesh Labour Act 2006 (consolidated), Laws of Bangladesh
- Bangladesh Labour (Amendment) Act 2026 (Act No. 43 of 2026), Laws of Bangladesh
- Sylhet Gas Fields Ltd v Chairman, Labour Appellate Tribunal, Writ Petition No. 2536 of 2024 (HCD, 03.03.2026)
- Dhaka Tribune: National Parliament passes labour bill (April 2026)
- The Business Standard: Gazette on labour law changes (November 2025)
- Department of Inspection for Factories and Establishments
- Supreme Court of Bangladesh
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।











