হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল: দণ্ড থেকে জামিন, পেপার বুক, শুনানি ও আপিল বিভাগ, ধাপে ধাপে
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল হলো দায়রা জজ, পাঁচ বছরের বেশি দণ্ড দেওয়া যুগ্ম দায়রা জজ বা কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)-এর ধারা ৪১০ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে ঘটনা ও আইন উভয় দিক থেকে পুনরায় শুনানির জন্য দণ্ডিত ব্যক্তির অধিকার। সাধারণত এটি ৬০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়, কারাগার থেকেও দাখিল করা যায়, এবং আপিল বিচারাধীন থাকাকালে ধারা ৪২৬-এর অধীনে আপিলকারী জামিন চাইতে পারেন।
২০২৬ সালের সংশোধনীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আপিলের সময় কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে এবং আদালতকে জামিনে শর্ত আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- কোথা থেকে শুরু
- দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, যুগ্ম দায়রা জজ (পাঁচ বছরের বেশি দণ্ড) বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দণ্ডাদেশের রায়; আপিল…
- মূল আইন
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪০৮, ৪১০, ৪১২-৪১৫ক, ৪১৭ক, ৪১৮-৪৩১ ও ৪৪২ক (ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬, অর্থাৎ ২০২৬ সনের…
- সাধারণ সময়কাল
- দাখিল ও গ্রহণ: ১ থেকে ৩ মাস। আপিল বিচারাধীন অবস্থায় জামিন: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। পেপার বুক ও শুনানি: ঢাকার…
- কে মামলা করতে পারেন
- দণ্ডিত ব্যক্তি, আইনজীবীর মাধ্যমে বা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে; একই বিচারে দণ্ডিত প্রত্যেক ব্যক্তি, যদি তাঁদের কারও…
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · দণ্ডাদেশ ও আপিলের সময়সীমাবিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ
দায়রা বিচারের শেষে দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিলে এই যাত্রা শুরু হয়। রায়ে বিচার্য বিষয়, সিদ্ধান্ত ও তার কারণ উল্লেখ থাকতে হবে, এবং দণ্ডিত ব্যক্তি বিনা মূল্যে রায়ের একটি কপি পাওয়ার অধিকারী। এসব আদালত থেকে আপিল ধারা ৪১০ অনুযায়ী সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়, পাঁচ বছরের বেশি দণ্ড দেওয়া যুগ্ম দায়রা জজের রায়ের আপিলও তাই। অনেক বিশেষ আদালত দায়রা আদালতের ক্ষমতা নিয়ে বসে, এবং সংশ্লিষ্ট আইন সেগুলোর আপিল হাইকোর্ট বিভাগে পাঠায়। যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং দুর্নীতির মামলায় বিশেষ জজ।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত · সময়: রায়ের দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭১(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮-এর শর্তাংশ (a); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০ · কাগজপত্র: দণ্ডাদেশের রায় ও আদেশ, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
ধাপ ২ · দণ্ডাদেশ ও আপিলের সময়সীমাপরোয়ানামূলে কারাগারে প্রেরণ
কারাদণ্ডের পর আদালত পরোয়ানা জারি করেন এবং দণ্ডিত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়, অথবা তিনি জামিনে থেকে অনুপস্থিত থাকলে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার চলাকালে দেওয়া জামিন দণ্ডাদেশের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়। দণ্ড এক বছর বা তার কম হলে এবং আপিল চললে, বিচারিক আদালত নিজেই আপিল দাখিল ও আপিল আদালত থেকে জামিন চাওয়ার মতো যথেষ্ট সময়ের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন। এর চেয়ে দীর্ঘ দণ্ডে আপিল আদালত ভিন্ন আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দণ্ডিত ব্যক্তি হেফাজতে থাকেন।
এই স্বল্পমেয়াদি জামিন নাকচ হলে, আপিল বিভাগের মতে প্রতিকার হলো ধারা ৪৩৫-এর অধীনে রিভিশন, ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে আবেদন নয়।
কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার · সময়: একই দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(২ক); সাজ্জাদ হোসেন বনাম মো. লুৎফুল হাসান, আপিল বিভাগ, ফৌজদারি পিটিশন নং ৫৫-৫৮/২০২৩ · কাগজপত্র: কারাগারে প্রেরণের পরোয়ানা, যোগ্য হলে ধারা ৪২৬(২ক)-এর অধীনে আবেদন
ধাপ ৩ · দণ্ডাদেশ ও আপিলের সময়সীমাসময়সীমা ও আপিলের ভিত্তি যাচাই
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৫ অনুযায়ী দণ্ডের ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দাখিল করতে হয়, এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহে যে সময় লাগে তা বাদ দেওয়া হয়। বিশেষ আইনে সময় কম হতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এখন ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়; ২০২৬ সালের একটি সংশোধনী, যা ২৫ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর, সময় ৬০ দিন থেকে কমিয়েছে। দেরিতে আপিলের জন্য তামাদি আইনের ধারা ৫-এর অধীনে বিলম্ব মওকুফের আবেদন লাগে। দণ্ডিত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করে থাকলে আপিলে কেবল দণ্ডের পরিমাণ বা বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যায়।
অন্যথায় হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিলে আইনের পাশাপাশি ঘটনার প্রশ্নও তোলা যায়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৬০ দিনের মধ্যে (নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৩০ দিন) · আইন: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৫; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২(২); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮ (২০২৬ সনের ৮৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮ · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, তারিখসহ নকলের আবেদনের রসিদ
পরামর্শ: পুরোনো গাইডে এখনো নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আপিলে ৬০ দিনের কথা বলা আছে। সময় এখন ৩০ দিন, তাই রায়ের তারিখ থেকে এখনই গণনা শুরু করুন।
ধাপ ৪ · দণ্ডাদেশ ও আপিলের সময়সীমাআপিলের আরজির খসড়া তৈরি
আইনজীবী রায়, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও প্রদর্শনীগুলো পর্যালোচনা করে ক্রমিক নম্বরযুক্ত ভিত্তিসহ আপিলের আরজির খসড়া করেন। সাধারণ ভিত্তিগুলো হলো: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা, স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত বা সত্য নয়, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে, তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ, এবং দণ্ড অত্যধিক। সহ-দণ্ডিতরা আপিলে যোগ দিতে পারেন। ধারা ৪১৫ক অনুযায়ী একই বিচারে দণ্ডিত কারও আপিলযোগ্য দণ্ড থাকলে প্রত্যেকেই আপিল করতে পারেন। আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দিলে আরজির সঙ্গে রায়ের কপি দিতে হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৫ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮ · কাগজপত্র: ভিত্তিসহ আপিলের আরজি, রায়ের সার্টিফায়েড কপি, জবানবন্দি ও প্রদর্শনী
ধাপ ৫ · দাখিল ও গ্রহণফৌজদারি আপিল দাখিল
আপিলকারী বা তাঁর আইনজীবী হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি আপিল শাখায় আপিলের আরজি দাখিল করেন। এর সঙ্গে থাকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি, কারাগারে সই করা ওকালতনামা, এবং জামিন বা বিলম্ব মওকুফের আবেদন (যদি থাকে)। শাখা তামাদি ও কাগজপত্র যাচাই করে আপিলের একটি নম্বর দেয়। ফৌজদারি বিষয়ে কোর্ট ফি নামমাত্র, তাই মূল খরচ কপি ও আইনজীবীর ফি। বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডও দিয়ে থাকলে আপিলটি ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যাতে দুটির শুনানি একসঙ্গে হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬-এর শর্তাংশ; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ · কাগজপত্র: আপিলের আরজি, রায়ের সার্টিফায়েড কপি, ওকালতনামা, জামিনের আবেদন, দেরি হলে বিলম্ব মওকুফের আবেদন
ধাপ ৬ · দাখিল ও গ্রহণকারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল
কারাগারে থাকা দণ্ডিত ব্যক্তি আপিলের আরজি ও রায়ের কপি কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাতে দিতে পারেন, যিনি তা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে বাধ্য। এটিই জেল আপিল। এতে কোনো খরচ নেই, এবং পরিবার সময়মতো আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে এটি কাজে আসে। হাইকোর্ট বিভাগ এটি নিবন্ধন করে নথি তলব করে। আপিলকারীর আইনজীবী না থাকলে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে আইনজীবী দেওয়া যায়। একই দণ্ডিত ব্যক্তির জেল আপিল ও নিয়মিত আপিলের শুনানি সাধারণত একসঙ্গে হয়।
কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার · সময়: আদালতে পৌঁছাতে ১-৪ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০; আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ · কাগজপত্র: জেল আপিলের আরজি, রায়ের কপি
ধাপ ৭ · দাখিল ও গ্রহণগ্রহণ শুনানি
ফৌজদারি আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বেঞ্চে আপিলটি গ্রহণ শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়। বেঞ্চ আরজি ও রায় পড়ে আপিলকারীর আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন। হস্তক্ষেপের যথেষ্ট কারণ না পেলে বেঞ্চ আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন, তবে কেবল আপিলকারী বা তাঁর আইনজীবীকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়ার পর। উল্লেখযোগ্য দণ্ডের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ আপিলই গৃহীত হয়। গ্রহণের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং নিম্ন আদালতের নথি তলব করা হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিলের ২-৮ সপ্তাহ পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১) · কাগজপত্র: আপিলের আরজি, কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তি
ধাপ ৮ · আপিল বিচারাধীন অবস্থায় জামিনআপিল বিচারাধীন অবস্থায় জামিন
গ্রহণের সময় বা পরে আপিলকারী ধারা ৪২৬(১)-এর অধীনে দণ্ড স্থগিত করে জামিনে মুক্তি দিতে হাইকোর্ট বিভাগের কাছে আবেদন করতে পারেন, এবং বেঞ্চকে এর কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়। বেঞ্চ শুনানির আগে সম্ভাব্য বিলম্বের সঙ্গে দণ্ডের মেয়াদ, ইতিমধ্যে ভোগ করা সময়, ভিত্তিগুলোর জোর এবং আপিলকারীর স্বাস্থ্য ও বয়স বিবেচনা করেন। স্বল্প নির্দিষ্ট মেয়াদের দণ্ডে প্রায়ই গ্রহণের সময়েই জামিন হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে জামিনের জন্য সাধারণত দীর্ঘ হেফাজত বা আইনের জোরালো প্রশ্ন লাগে। মুক্তিপ্রাপ্ত আপিলকারী বিচারিক আদালতের সন্তুষ্টি অনুযায়ী বন্ড সই করেন। ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে জামিনে শর্ত আরোপ করা যায় এবং অনলাইনে বন্ড দাখিল করা যায়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১) ও (৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(২) (২০২৬ সনের ১১ নং আইন); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯(৩) (২০২৬ সনের ১১ নং আইন) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ জামিনের আবেদন, কারাগারের হেফাজত সনদ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজ (নির্ভর করলে), জামিননামা ও জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র
পরামর্শ: জামিন শুনানির আগে কারাগার থেকে হেফাজত সনদ নিন। ইতিমধ্যে ভোগ করা সময়ই প্রায়ই সবচেয়ে শক্ত যুক্তি।
ধাপ ৯ · পেপার বুক ও শুনানিপেপার বুক প্রস্তুত
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিলের শুনানির আগে দপ্তর একটি পেপার বুক প্রস্তুত করে। এটি এজাহার (FIR), সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগ গঠন, জবানবন্দি, প্রদর্শনী, ধারা ৩৪২-এর অধীনে আসামির পরীক্ষা এবং রায়ের একটি বাঁধাই করা সংকলন, বিচারপতি ও আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত কপিসহ। আগে নিম্ন আদালতের নথি পৌঁছাতে হয়। বিলম্বের বড় অংশ এই ধাপেই হয়। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রীয় খরচে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে পেপার বুক ছাপায়। আপনার আপিলে কোনো খরচ প্রযোজ্য কি না, শাখায় জিজ্ঞেস করুন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬ মাস থেকে ২ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১); বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ · কাগজপত্র: নিম্ন আদালতের নথি, পেপার বুক
ধাপ ১০ · পেপার বুক ও শুনানিশুনানির তালিকার অপেক্ষা
পেপার বুক প্রস্তুত হলে আপিলটি সংশ্লিষ্ট ধরন ও বছরের আপিল শুনানিকারী বেঞ্চের তালিকায় ওঠার অপেক্ষায় থাকে। ধারা ৪৪২ক নোটিশ জারির ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে আদালত এই সীমাকে নির্দেশনামূলক (directory) হিসেবে দেখেন। দীর্ঘ দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল সাধারণত কয়েক বছর অপেক্ষা করে। আপিলকারী দণ্ডের বড় অংশ ভোগ করে থাকলে, অসুস্থ বা বয়স্ক হলে তাঁর আইনজীবী দ্রুত শুনানির আবেদন করতে পারেন। শুনানির তারিখ আলাদা নোটিশে নয়, কার্যতালিকায় প্রকাশিত হয়, তাই কাউকে নিয়মিত তালিকা দেখতে হবে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪২ক(১) ও (৩) · কাগজপত্র: দ্রুত শুনানির আবেদন, হেফাজত সনদ
ধাপ ১১ · পেপার বুক ও শুনানিআপিলের শুনানি
আপিল ঘটনা ও আইন উভয় প্রশ্নে চলে, তাই বেঞ্চ নতুন করে সাক্ষ্য পড়েন। আপিলকারীর আইনজীবী সাক্ষী ও প্রদর্শনীগুলো ধরে ধরে বেঞ্চকে দেখান, আর একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দণ্ডাদেশের পক্ষে যুক্তি দেন। আরও সাক্ষ্যের প্রয়োজন হলে বেঞ্চকে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়, এবং বেঞ্চ নিজে তা নিতে পারেন অথবা দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটকে তা গ্রহণ করে প্রত্যয়ন করার নির্দেশ দিতে পারেন। দণ্ডিত ব্যক্তির নিজের আপিলে বেঞ্চ দণ্ড বাড়াতে পারেন না। ২০২১ সালে আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের এমন একটি রায় বাতিল করেন, যেখানে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই দণ্ডাদেশ পরিবর্তন করে দণ্ড বাড়ানো হয়েছিল।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ শুনানি দিবস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(b); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮; মো. মুজিবুর রহমান বনাম রাষ্ট্র, আপিল বিভাগ, ফৌজদারি পিএলএ নং ৫২৭/২০১৭ · কাগজপত্র: পেপার বুক, নিম্ন আদালতের নথি, নজিরের তালিকা
ধাপ ১২ · রায় ও তার পরহাইকোর্ট বিভাগের রায়
বেঞ্চ আপিল খারিজ করতে পারেন, অথবা আপিল মঞ্জুর করে আপিলকারীকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারেন। এর বদলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে, দণ্ড বহাল রাখতে বা কমাতে, অথবা না বাড়িয়ে দণ্ডের প্রকৃতি বদলাতে পারেন। উপযুক্ত অধস্তন আদালতে পুনর্বিচারের আদেশও দিতে পারেন। দুই বিচারপতি সমানভাবে বিভক্ত হলে ধারা ৪২৯ অনুযায়ী তৃতীয় একজন বিচারপতি সিদ্ধান্ত দেন। আপিল বিচারাধীন থাকাকালে আপিলকারী মারা গেলে আপিল বাতিল (abate) হয়ে যায়, তবে অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ছাড়া। এরপর রায় প্রত্যয়নসহ বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির দিন থেকে কয়েক মাসের মধ্যে · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(b); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৫(১) · কাগজপত্র: রায়, রায়ের সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১৩ · রায় ও তার পরমুক্তি, আত্মসমর্পণ বা দণ্ড ভোগ
বিচারিক আদালত হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যয়নপত্র পেয়ে সে অনুযায়ী আদেশ দেন। খালাসপ্রাপ্ত আপিলকারী কারাগারে থাকলে অন্য কোনো মামলায় আটক না থাকলে মুক্তির আদেশে মুক্তি পান। আপিল খারিজ হলে জামিনে থাকা আপিলকারীকে বাকি দণ্ড ভোগের জন্য আত্মসমর্পণ করতে হয়, এবং জামিনে কাটানো সময় দণ্ড থেকে বাদ যায় না। দণ্ড কমানো হলে কারাগার মুক্তির তারিখ নতুন করে হিসাব করে। মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌঁছেছে কি না পরিবারের যাচাই করা উচিত, কারণ সেখানে প্রায়ই দেরি হয়।
কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার · সময়: কয়েক দিন থেকে ২ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৫(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(৩) · কাগজপত্র: হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি, মুক্তির আদেশ বা নতুন পরোয়ানা
যদি এমন হয়…? হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
রাষ্ট্র দণ্ড বাড়ানোর জন্য আপিল করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল
সরকার কোনো দণ্ডকে অপর্যাপ্ত মনে করলে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের জন্য পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারে, এবং দণ্ডাদেশের ৬০ দিনের মধ্যে বাদী বা অভিযোগকারীও তা করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ তখন দণ্ড বাড়াতে পারেন, তবে কেবল দণ্ডিত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়ার পর। কারণ দর্শানোর সময় দণ্ডিত ব্যক্তি খালাস বা কম দণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিতে পারেন। এমন আপিলের শুনানি সাধারণত দণ্ডিত ব্যক্তির নিজের আপিলের সঙ্গে হয়।
দাখিলের জন্য ৬০ দিন; মূল আপিলের সঙ্গে শুনানিফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১)-(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(bb)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: একটি সম্মিলিত শুনানিতে দণ্ড বহাল, হ্রাস বা বৃদ্ধি করা হয়।
আপিল যদি দায়রা জজের কাছে যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নিচে আপিল, ওপরে রিভিশন
ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা পাঁচ বছর বা তার কম দণ্ড দেওয়া যুগ্ম দায়রা জজের দ্বারা দণ্ডিত ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের কাছে আপিল করেন, হাইকোর্ট বিভাগে নয়। ধারা ৪৩০ অনুযায়ী দায়রা জজের আপিল রায় চূড়ান্ত, কেবল রিভিশন সাপেক্ষে। এরপর পরাজিত পক্ষ ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন দাখিল করেন। সেই আদালত ঘটনার পুনঃশুনানি না করে বৈধতা এবং সাক্ষ্যের কোনো ভুল পাঠ হয়েছে কি না তা যাচাই করেন।
রিভিশন সাধারণত প্রায় ৬০ দিনের মধ্যে; শুনানি পর্যন্ত ১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩০ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা আপিলে নয়, রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে পৌঁছায়।
হাইকোর্ট বিভাগ কি আপিলের রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ নেই
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ কোনো ফৌজদারি আদালতকে স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন বা রিভিউ করতে নিষেধ করে, কেবল করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া, এবং ধারা ৪৩০ আপিল রায়কে চূড়ান্ত করেছে। তাই কোনো পক্ষ একমত না হলেই হাইকোর্ট বিভাগ আপিলের পুনঃশুনানি করতে পারেন না। প্রতিকার হলো আপিল বিভাগে পিটিশন। এরপর আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে ৩০ দিনের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারেন, ফৌজদারি মামলায় কেবল নথিতে স্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে।
হাইকোর্ট বিভাগে প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩০সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সারবস্তুগত যেকোনো সংশোধন আপিল বিভাগ থেকেই আসতে হবে।
বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আপিলের সঙ্গে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি
হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না। দায়রা জজ বা ট্রাইব্যুনাল, যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ধারা ৩৭৪-এর অধীনে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথি পাঠায়, এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির যেকোনো আপিল বা জেল আপিলের শুনানি এর সঙ্গে হয়। কোনো আপিল দাখিল না হলেও হাইকোর্ট বিভাগ সম্পূর্ণ সাক্ষ্য পরীক্ষা করেন। আপিলের মেয়াদ শেষ না হওয়া বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত দণ্ড অনুমোদন করতে পারেন না, এবং অন্তত দুজন বিচারপতিকে আদেশে সই করতে হয়।
সাধারণত ৩-৮ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬-এর শর্তাংশফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৭নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৯তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫০
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল ও ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্ট বিভাগের একটি একক রায়ে নিষ্পত্তি হয়।
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
পুনর্বিচারের আদেশ
বিচার গুরুতরভাবে ত্রুটিপূর্ণ হলে, যেমন অভিযোগ ভুলভাবে গঠিত হলে, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে পরীক্ষা না করলে, বা ধারা ৩৪২-এর অধীনে আসামিকে যথাযথভাবে পরীক্ষা না করলে, হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ডাদেশ বাতিল করতে পারেন। এরপর উপযুক্ত অধস্তন আদালতে, প্রায়ই নির্দিষ্ট একটি পর্যায় থেকে, পুনর্বিচারের আদেশ দেন। আপিলকারী আবার অভিযুক্ত হন, এবং পুনর্বিচার চলাকালীন জামিনের বিষয় নতুন করে নির্ধারিত হয়।
রায়ের সঙ্গেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(b)(১)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৫ - 2মহানগর দায়রা জজ আদালত
পুনর্বিচার ও নতুন আপিল
বিচারিক আদালত নির্দেশ অনুযায়ী মামলার পুনঃশুনানি করে নতুন রায় দেন। আসামি আবার দণ্ডিত হলে সেই রায়ের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে নতুন করে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল করা যায়। পুনর্বিচারের আদেশের বিরুদ্ধেই কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে তাঁকে লিভ পিটিশন নিয়ে আপিল বিভাগে যেতে হয়, কারণ হাইকোর্ট বিভাগের আপিল রায় সেই আদালতে চূড়ান্ত।
পুনর্বিচারে ১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩০সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা বিচারিক আদালতে ফিরে যায় এবং নতুন আপিলে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসতে পারে।
আপিল বিভাগে যাওয়ার চূড়ান্ত পথ কী?
- 1আপিল বিভাগ
অধিকার হিসেবে আপিল বা লিভ পিটিশন
হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে, অথবা নিজেই আপিলকারীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে, অধিকার হিসেবে আপিল চলে, যা ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়। নিচের আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল কেবল খারিজ হলে এই অধিকার জন্মায় না। অন্য ক্ষেত্রে পরাজিত পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে, অথবা খালাসের বিরুদ্ধে সরকারের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে, ফৌজদারি লিভ টু আপিলের পিটিশন দাখিল করে। পিটিশন বিবেচনার আগে দণ্ডিত ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করতে হয়। বিশেষ লিভ মঞ্জুর হলে হাইকোর্ট বিভাগ আপিল বিচারাধীন থাকাকালে দণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারেন।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ) ও (৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২ ও ৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(২খ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত, কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে তার নিজের রিভিউ সাপেক্ষে।
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল চলবে কি না, তা নির্ধারিত হয় কে মামলার বিচার করেছেন এবং কী দণ্ড দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে, কোনো টাকার অঙ্ক দিয়ে নয়। ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের আপিল যায় দায়রা জজের কাছে, যুগ্ম দায়রা জজের পাঁচ বছর বা তার কম দণ্ডের আপিলও তাই। দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজের দণ্ডাদেশ, যুগ্ম দায়রা জজের পাঁচ বছরের বেশি দণ্ড এবং দায়রা ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায় ধারা ৪১০ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইন অনুযায়ী সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। হাইকোর্ট বিভাগ ঘটনার প্রশ্নে প্রথম ও একমাত্র আপিল শোনেন।
আদালত সম্পূর্ণ সাক্ষ্য নতুন করে পড়েন এবং খালাস দিতে, দণ্ড কমাতে, পরিবর্তন করতে বা পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন, কিন্তু দণ্ডিত ব্যক্তির নিজের আপিলে দণ্ড বাড়াতে পারেন না। মৃত্যুদণ্ড ডেথ রেফারেন্স হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এখানে আসে। এর ওপরে আপিল বিভাগ। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে বা নিজে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে সেখানে অধিকার হিসেবে আপিল চলে; অন্যথায় কেবল লিভ নিয়ে, মূলত আইনের প্রশ্নে বা সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠের ক্ষেত্রে।
- আপিল বিভাগআপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতবিশেষ ট্রাইব্যুনাল (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল)
- শুরু · আদালতের বাইরেকেন্দ্রীয় কারাগার · আইনজীবীর চেম্বার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকানারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার, এসিড-সংক্রান্ত ও অন্যান্য অপরাধের বিচার করে।
ঢাকায় ১ থেকে ৯ নং ট্রাইব্যুনাল আছে; প্রতিটিতে জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সভাপতিত্ব করেন এবং এগুলো ঢাকা জাজশিপের তালিকাভুক্ত। ঢাকার আদালত এলাকায় এগুলোর সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি এমন ট্রাইব্যুনাল আছে।
কেন্দ্রীয় কারাগার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- ফৌজদারি আপিল (Criminal appeal)
- দণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ঘটনা ও আইনের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ, যা উচ্চতর আদালতে শুনানি হয়।
- জেল আপিল (Jail appeal)
- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০ অনুযায়ী কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে, আইনজীবী বা ফি ছাড়াই দাখিল করা আপিল।
- পেপার বুক (Paper book)
- আপিল শুনানির আগে বিচারপতি ও আইনজীবীদের জন্য প্রস্তুত করা সাক্ষ্য ও রায়ের কপির বাঁধাই করা সংকলন।
- দণ্ড স্থগিত (Suspension of sentence)
- আপিল বিচারাধীন থাকাকালে দণ্ড কার্যকর বন্ধ রাখার জন্য ধারা ৪২৬-এর অধীনে আদেশ, সাধারণত জামিনসহ।
- পুনর্বিচার (Retrial)
- দণ্ডাদেশ বাতিল করে মামলাটি নতুন করে বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠানোর আদেশ।
- নিম্ন আদালতের নথি (Lower court records)
- বিচারিক আদালতের মূল নথি, যা আপিলের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়।
- আপিলের অবসান (Abatement)
- আপিলকারীর মৃত্যুতে আপিলের অবসান, অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ছাড়া।
- বিলম্ব মওকুফ (Condonation of delay)
- যথেষ্ট কারণ থাকলে সময়সীমার পরে দাখিল করা আপিল শুনানির জন্য তামাদি আইনের ধারা ৫-এর অধীনে আদালতের অনুমতি।
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল: সাধারণ প্রশ্ন
হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল করার সময়সীমা কত দিন?
আপিল বিচারাধীন থাকাকালে কি জামিন পাওয়া যায়?
জেল আপিল কী?
শুনানি হতে এত দেরি হয় কেন?
হাইকোর্ট বিভাগ কি আমার দণ্ড বাড়াতে পারেন?
হাইকোর্ট বিভাগ কি সাক্ষ্য আবার পর্যালোচনা করেন?
দোষ স্বীকার করলে কি আপিল করা যায়?
হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের পর কী হয়?
আইন ও উৎস
- Code of Criminal Procedure 1898, ss.404-431 and 442A, as amended (Laws of Bangladesh)
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act No. XI of 2026)
- Limitation Act 1908, First Schedule Articles 150, 154 and 155 (Laws of Bangladesh)
- Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000, s.28, as amended by Act No. 85 of 2026 (Laws of Bangladesh)
- Criminal Law Amendment Act 1958, s.10 (Laws of Bangladesh)
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 103 and 105)
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
- Md. Mujibur Rahman v State, AD, Criminal Petition for Leave to Appeal No. 527 of 2017 (no enhancement without show-cause notice)
- Sajjad Hossain v Md. Lutful Hasan, AD, Criminal Petition Nos. 55-58 of 2023 (bail under s.426(2A) and revision)
- The Daily Star: Next legal steps to take 3 years (death reference, appeals and paper books)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।