ডেথ রেফারেন্স মামলা: মৃত্যুদণ্ড থেকে অনুমোদন, আপিল বিভাগ ও প্রাণভিক্ষা পর্যন্ত, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/ফৌজদারি

ডেথ রেফারেন্স মামলা: মৃত্যুদণ্ড থেকে অনুমোদন, আপিল বিভাগ ও প্রাণভিক্ষা পর্যন্ত, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স মামলা হলো দায়রা জজ বা কোনো ট্রাইব্যুনালের দেওয়া প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭৪-এর অধীন অনুমোদনের (confirmation) জন্য বাধ্যতামূলকভাবে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো। হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রেফারেন্সের পাশাপাশি আপিল করতে পারেন, এরপর আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল, রিভিউ এবং সবশেষে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারেন।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৫টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা দায়রা আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড; কার্যধারা পাঠানো…
মূল আইন
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩১(২), ৩৭১(৩), ৩৭৪-৩৭৯, ৩৮১-৩৮২ ও ৪২০ (ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১১…
সাধারণ সময়কাল
দণ্ড থেকে হাইকোর্ট বিভাগের রায় পর্যন্ত: সাধারণত ৩ থেকে ৮ বছর। আপিল বিভাগ: আরও ১ থেকে ৫ বছর। রিভিউ ও প্রাণভিক্ষা: কয়েক…
কে মামলা করতে পারেন
বিচারিক আদালত নিজেই রেফারেন্স পাঠান; কাউকে তা দাখিল করতে হয় না। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি এর সঙ্গে আপিল বা জেল আপিল যোগ…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৫টি ধাপ

ডেথ রেফারেন্স মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. ডেথ রেফারেন্স মামলা: ধাপ ১, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড
    ধাপ ১ · মৃত্যুদণ্ড ও রেফারেন্স প্রেরণ

    বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড

    কেবল দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ, অথবা নিজস্ব আইনে দায়রা আদালতের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিতে পারেন। যুগ্ম দায়রা জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা পারেন না। এ ধরনের প্রতিটি দণ্ড হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষ। দণ্ড দেওয়ার সময় বিচারককে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে জানাতে হয় কত দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে, এবং রায়ের একটি বিনা মূল্যের কপি দিতে হয়। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধের সময় শিশু ছিলেন এমন কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না।

    কোথায়: দায়রা জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: রায়ের দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩১(২)-(৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭১(১) ও (৩); শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৩(১) · কাগজপত্র: রায় ও মৃত্যুদণ্ড, রায়ের বিনা মূল্যের কপি

  2. ডেথ রেফারেন্স মামলা: ধাপ ২, অনুমোদন সাপেক্ষে কারাগারে প্রেরণ
    ধাপ ২ · মৃত্যুদণ্ড ও রেফারেন্স প্রেরণ

    অনুমোদন সাপেক্ষে কারাগারে প্রেরণ

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয় এবং জেল কোড অনুযায়ী সাধারণত কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে হাইকোর্ট বিভাগ রায় দেন যে দণ্ড চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের আগে বন্দিদের কনডেম সেলে রাখা বেআইনি, এবং জেল কোডের সংশ্লিষ্ট বিধি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের ১৫ মে রাষ্ট্রের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ ২৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ওই রায় স্থগিত করে বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে পাঠান। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়নি, তাই পরিবারগুলোর উচিত এর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা। যা-ই হোক, এই পর্যায়ে দণ্ড কার্যকর করা যায় না।

    কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার (কনডেম সেল) · সময়: একই দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪; জেল কোড (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি); কনডেম সেল বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের ১৩ মে ২০২৪ তারিখের রায়, যা পূর্ণ বেঞ্চে নিষ্পত্তি সাপেক্ষে ১৫ মে ২০২৪ তারিখে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ স্থগিত করেন · কাগজপত্র: কারাগারে প্রেরণের পরোয়ানা, কারাগারে নিবন্ধনের বিবরণ

  3. ডেথ রেফারেন্স মামলা: ধাপ ৩, হাইকোর্ট বিভাগে কার্যধারা প্রেরণ
    ধাপ ৩ · মৃত্যুদণ্ড ও রেফারেন্স প্রেরণ

    হাইকোর্ট বিভাগে কার্যধারা প্রেরণ

    বিচারিক আদালতকে কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়, যেখানে তা নম্বর ও সালসহ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নিবন্ধিত হয়। এ জন্য কাউকে কিছু দাখিল করতে হয় না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালকে অবিলম্বে নথি পাঠাতে হয়, এবং দায়রা আদালতগুলোর কাছেও একই রকম তৎপরতা প্রত্যাশিত। আপিলের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা কোনো আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড অনুমোদন করতে পারেন না। তাই বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স মামলা সাধারণত বন্দির নিজের আপিলের সঙ্গে একসঙ্গে চলে।

    কোথায়: দায়রা জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬-এর শর্তাংশ; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৯ · কাগজপত্র: মামলার সম্পূর্ণ নথি, রায় ও দণ্ড, বিচারিক আদালতের অগ্রায়নপত্র

  4. ডেথ রেফারেন্স মামলা: ধাপ ৪, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির আপিল ও জেল আপিল
    ধাপ ৪ · মৃত্যুদণ্ড ও রেফারেন্স প্রেরণ

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির আপিল ও জেল আপিল

    রেফারেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরে গেলেও বন্দির আপিল করা উচিত, যাতে আইনজীবী সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য দণ্ড থেকে মাত্র সাত দিন সময় পাওয়া যায়। বন্দি আইনজীবী বা ফি ছাড়াই কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিলও দিতে পারেন। দেরিতে আপিল সাধারণত বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ দাখিল করা হয় এবং রেফারেন্সের সঙ্গে শোনা হয়। কম দণ্ড পাওয়া সহ-আসামিরা সাধারণ ফৌজদারি আপিল করেন, যা একই রেফারেন্সের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

    কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার (কনডেম সেল) · সময়: দণ্ডের ৭ দিনের মধ্যে · আইন: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫০; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০ · কাগজপত্র: আপিলের আবেদন, জেল আপিলের আবেদন, দেরি হলে বিলম্ব মার্জনার আবেদন, কারাগারে স্বাক্ষরিত ওকালতনামা

    পরামর্শ: শুধু রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করবেন না। আপিল দাখিল করা থাকলে আপনার আইনজীবী যুক্তি দিতে ও দ্রুত শুনানির আবেদন করতে পারেন; আপিল না থাকলে নথি সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যাখ্যাই প্রাধান্য পেতে পারে।

  5. ধাপ ৫: পেপার বুক প্রস্তুত
    ধাপ ৫ · পেপার বুক ও অপেক্ষা

    পেপার বুক প্রস্তুত

    রেফারেন্সের শুনানির আগে সুপ্রিম কোর্ট একটি পেপার বুক প্রস্তুত করে: এজাহার (FIR), সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগ গঠন, প্রতিটি সাক্ষ্য, প্রদর্শনী, আসামির পরীক্ষা ও রায়ের মুদ্রিত কপি। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় তা রাষ্ট্রীয় খরচে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে ছাপা হয়, বিচারপতি ও উভয় পক্ষের জন্য কপিসহ। সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, শুধু এতেই অন্তত ছয় মাস লাগে, আর বহু আসামির বড় মামলায় প্রায়ই আরও অনেক বেশি। কারা কর্মকর্তারা রেফারেন্স বছরের পর বছর অনিষ্পন্ন থাকার জন্য পেপার বুকের দেরিকে দায়ী করেছেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬ মাস থেকে ৩ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩ · কাগজপত্র: পেপার বুক, নিম্ন আদালতের নথি

  6. ধাপ ৬: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ও রাষ্ট্রের আইনজীবী
    ধাপ ৬ · পেপার বুক ও অপেক্ষা

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ও রাষ্ট্রের আইনজীবী

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে নিযুক্ত অ্যাডভোকেট থাকতে পারেন। কেউ না থাকলে হাইকোর্ট বিভাগ রাষ্ট্রীয় খরচে একজন অ্যাডভোকেট নিযুক্ত করেন, যাঁকে প্রায়ই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী বলা হয়, যাতে বন্দির পক্ষে কেউ যুক্তি না দিয়ে কখনো রেফারেন্সের শুনানি না হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিনিধিত্ব করেন। পরিবারগুলোর উচিত বন্দির বয়স, স্বাস্থ্য, পটভূমি ও কারাগারে আচরণ সম্পর্কে যেকোনো তথ্য আসামিপক্ষের আইনজীবীকে দেওয়া, কারণ দণ্ড নির্ধারণে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির তালিকায় ওঠার আগে · আইন: রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের অ্যাডভোকেট নিয়োগের হাইকোর্ট বিভাগের রীতি; আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ · কাগজপত্র: ওকালতনামা, বয়সের কাগজপত্র, চিকিৎসা ও কারাগারে আচরণের রেকর্ড

  7. ধাপ ৭: বেঞ্চের অপেক্ষা
    ধাপ ৭ · পেপার বুক ও অপেক্ষা

    বেঞ্চের অপেক্ষা

    পেপার বুক প্রস্তুত হলে রেফারেন্সটি প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ডেথ রেফারেন্সের জন্য নির্ধারিত দ্বৈত বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে রেফারেন্স নিষ্পত্তির কোনো সময়সীমা নেই। জট অনেক বড়: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুনে হাইকোর্ট বিভাগে ১,৪৬৭টি ডেথ রেফারেন্স অনিষ্পন্ন ছিল, কিছু বহু বছর ধরে। পুরোনো বা জরুরি মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বা আসামিপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারেন। এই স্তরে বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তিতে সাধারণত তিন থেকে আট বছর লাগে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ বছর · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ · কাগজপত্র: অগ্রাধিকার শুনানির আবেদন

  8. ধাপ ৮: আপিলসহ রেফারেন্সের শুনানি
    ধাপ ৮ · হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি

    আপিলসহ রেফারেন্সের শুনানি

    রেফারেন্স, বন্দির আপিল, কোনো জেল আপিল এবং সহ-আসামিদের আপিল একসঙ্গে শোনা হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাক্ষ্য পড়ে শোনান এবং অনুমোদনের পক্ষে যুক্তি দেন, আর আসামিপক্ষ জবাব দেয়। আপিল দাখিল হোক বা না হোক, বেঞ্চকে পুরো নথি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করতে হয় এবং নিশ্চিত হতে হয় যে যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অপরাধ প্রমাণিত এবং মৃত্যুদণ্ডই যথাযথ দণ্ড। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে সাধারণত আদালতে হাজির করা হয় না, তবে তাঁর আইনজীবী লিখিত যুক্তি দাখিল করতে পারেন। বড় মামলায় শুনানি অনেক দিন চলতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১ দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮ · কাগজপত্র: পেপার বুক, লিখিত যুক্তি, নজিরের তালিকা

  9. ধাপ ৯: অধিকতর তদন্ত বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য
    ধাপ ৯ · হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি

    অধিকতর তদন্ত বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য

    দোষ বা নির্দোষিতার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে অধিকতর তদন্ত বা আরও সাক্ষ্যের প্রয়োজন আছে বলে বেঞ্চ মনে করলে নিজেই সাক্ষ্য নিতে পারেন অথবা দায়রা আদালতকে তা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। বেঞ্চ ভিন্ন নির্দেশ না দিলে এ সময় বন্দির উপস্থিতি মওকুফ করা যায়। বিচারিক আদালত সাক্ষ্য নিলে ফলাফল সত্যায়িত করে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠান, এবং পূর্ণতর নথির ভিত্তিতে শুনানি আবার শুরু হয়।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫(১)-(৩) · কাগজপত্র: অধিকতর তদন্তের আদেশ, সত্যায়িত অতিরিক্ত সাক্ষ্য

  10. ধাপ ১০: অনুমোদন, দণ্ড হ্রাস, পুনর্বিচার বা খালাস
    ধাপ ১০ · হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি

    অনুমোদন, দণ্ড হ্রাস, পুনর্বিচার বা খালাস

    বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে পারেন, অথবা আইনসম্মত অন্য যেকোনো দণ্ড দিতে পারেন, সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বেঞ্চ দণ্ডাদেশ বাতিল করে বিচারিক আদালত যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারতেন এমন ভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে, নতুন বিচারের আদেশ দিতে বা খালাস দিতে পারেন। যেকোনো অনুমোদন বা নতুন দণ্ড অন্তত দুজন বিচারপতিকে দিতে ও স্বাক্ষর করতে হয়। ২০১৮ সালের ডেথ রেফারেন্স নং ৭২-এ, ২ জুন ২০২৫ তারিখের অগ্রিম আদেশে, বেঞ্চ রেফারেন্স নামঞ্জুর করে আপিল মঞ্জুর করেন এবং বন্দির মুক্তির আদেশ দেন।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির দিনই থেকে কয়েক মাস পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬(ক)-(গ); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৭; রাষ্ট্র বনাম মো. ইউসুফ সিকদার, হাইকোর্ট বিভাগ, ডেথ রেফারেন্স নং ৭২/২০১৮ · কাগজপত্র: রায়, মুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রিম আদেশ

  11. ধাপ ১১: দায়রা আদালতে আদেশ প্রেরণ
    ধাপ ১১ · হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি

    দায়রা আদালতে আদেশ প্রেরণ

    হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা আদেশের সিলমোহরযুক্ত ও সত্যায়িত কপি দায়রা আদালতে পাঠান। তা পেয়ে বিচারিক আদালত পরোয়ানা বা অন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দিয়ে তা কার্যকর করেন। বন্দি খালাস পেলে বা দণ্ড কমলে কারাগার সেই আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। দণ্ড অনুমোদিত হলেও আপিল বিভাগে আপিল বা পিটিশন, রিভিউ বা প্রাণভিক্ষার আবেদন অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় দণ্ড কার্যকর করা যায় না।

    কোথায়: দায়রা জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: কয়েক সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৯; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮১ · কাগজপত্র: হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের সিলমোহরযুক্ত কপি, পরোয়ানা বা মুক্তির আদেশ

  12. ধাপ ১২: আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল
    ধাপ ১২ · আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল

    হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে, অথবা নিজেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে, বন্দি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ)-এর অধীন অধিকারবলে আপিল করতে পারেন। রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করতে হয়। কারাগারে থাকা বন্দি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা দিতে পারেন। নথি সরকারি খরচে প্রস্তুত হয়, এবং আদালত সরকারি খরচে আসামির জন্য অ্যাডভোকেট নিয়োগের নির্দেশ দিতে পারেন। আপিল চলাকালে আদালত দণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে পারেন।

    কোথায়: আপিল বিভাগ · সময়: ৩০ দিনের মধ্যে; শুনানি পর্যন্ত ১-৫ বছর · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ); আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ১, ২, ৩, ৬, ৭ ও ১১ · কাগজপত্র: আপিলের স্মারকলিপি, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি, ছয় সেট কপি

  13. ধাপ ১৩: আপিল বিভাগের রায়
    ধাপ ১৩ · আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগের রায়

    আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ নথির ভিত্তিতে আপিল শোনেন এবং তা খারিজ করতে, দণ্ড হ্রাস করতে, পুনর্বিচারের আদেশ দিতে বা খালাস দিতে পারেন। আসামি লিখিত যুক্তিও দাখিল করতে পারেন, এবং আদালত তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারেন। নিষ্পত্তির পর রেজিস্ট্রার রায়ের কপি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠান, যা বিচারিক আদালত ও কারাগারে পাঠানো হয়। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।

    কোথায়: আপিল বিভাগ · সময়: শুনানির দিনই থেকে কয়েক মাস পর · আইন: আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ৮-১০; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১ · কাগজপত্র: আপিল বিভাগের রায়

  14. ধাপ ১৪: রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন
    ধাপ ১৪ · রিভিউ, প্রাণভিক্ষা ও দণ্ড কার্যকর

    রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন

    আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন, যাঁর ক্ষমা, দণ্ড স্থগিত ও বিলম্বিত করার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা আছে। আবেদনটি কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যায়। অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন। জেল কোড আবেদন জমার জন্য খুব অল্প সময় দেয়, তাই পরিবার ও আইনজীবীর উচিত রিভিউ নিষ্পত্তির আগেই তা প্রস্তুত রাখা।

    কোথায়: রাষ্ট্রপতি (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রাণভিক্ষার আবেদন) · সময়: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) · কাগজপত্র: প্রাণভিক্ষার আবেদন, সহায়ক বিবৃতি ও রেকর্ড

  15. ধাপ ১৫: দণ্ড কার্যকর বা দণ্ড হ্রাস
    ধাপ ১৫ · রিভিউ, প্রাণভিক্ষা ও দণ্ড কার্যকর

    দণ্ড কার্যকর বা দণ্ড হ্রাস

    প্রাণভিক্ষা নামঞ্জুর হলে কারা কর্তৃপক্ষ জেল কোড অনুযায়ী তারিখ ঠিক করে এবং দায়রা আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করা হয়। এর আগে পরিবারকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি দণ্ড হ্রাস বা মওকুফ করলে বন্দি কনডেম সেল থেকে সরে নতুন দণ্ড ভোগ করেন। তাই বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স মামলা মুক্তি, কারাদণ্ড বা দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে, এবং প্রতিটিই নির্ভর করে ওপরের ধাপগুলো সময়মতো নেওয়ার ওপর।

    কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার (কনডেম সেল) · সময়: প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্তের কয়েক সপ্তাহ পর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮১; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ · কাগজপত্র: দণ্ড কার্যকরের পরোয়ানা, দণ্ড হ্রাসের আদেশ (মঞ্জুর হলে)

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? ডেথ রেফারেন্স মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড হ্রাস করলে বা খালাস দিলে কী হয়?

  1. 1
    আপিল বিভাগ

    উভয় পক্ষের আপিল বিভাগে আপিল

    দণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে হ্রাস করা হলেও বন্দি অধিকারবলে আপিল করতে পারেন, কারণ হাইকোর্ট বিভাগ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের জন্য রাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে, অথবা খালাসের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে, ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করতে পারে। খালাসের বিরুদ্ধে লিভ মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ রেসপনডেন্টকে গ্রেপ্তার করে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন।

    দাখিলে ৩০ বা ৬০ দিন; নিষ্পত্তিতে ১-৪ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ) ও (৩)আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২ ও ৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ দণ্ড পুনর্বহাল, বহাল বা হ্রাস করেন, অথবা খালাস বহাল রাখেন।

বিকল্প পথ · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

রেফারেন্সের রায় কি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগের ওপরে কোনো রিভিশন নেই

    ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯-এর অধীন রিভিশন চলে কেবল অধস্তন আদালতের বিরুদ্ধে, এবং হাইকোর্ট বিভাগই সর্বোচ্চ রিভিশনাল আদালত। ডেথ রেফারেন্সে এর রায় রিভিশন করা যায় না। রেফারেন্স নিজেই হাইকোর্ট বিভাগকে রিভিশনের চেয়ে ব্যাপকতর ক্ষমতা দেয়, সাক্ষ্যের পূর্ণ পুনঃপরীক্ষাসহ। হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ আপিল বা লিভ পিটিশনের মাধ্যমে আপিল বিভাগে যায়।

    প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিশনের জায়গা নিয়েছে রেফারেন্স নিজেই এবং আপিল বিভাগে আপিল।

রিভিউ · আপিল বিভাগ

আপিল বিভাগ কি তাঁর রায় রিভিউ করতে পারেন?

  1. 1
    আপিল বিভাগ

    অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন রিভিউ

    ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯-এর কারণে হাইকোর্ট বিভাগ রেফারেন্সে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন না, তবে আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন তাঁর রায় রিভিউ করতে পারেন। ফৌজদারি মামলায় একমাত্র ভিত্তি হলো নথিতে প্রকাশ্য ভুল। আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়, একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর ও কারণসংবলিত সার্টিফিকেটসহ, এবং কেবল একবারই রিভিউ করা যায়। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি সাধারণত প্রাণভিক্ষার আগে সর্বশেষ বিচারিক ধাপ।

    ৩০ দিনের মধ্যে; কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসে নিষ্পত্তিসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১, ২, ৪, ৫ ও ৮

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয় বা দণ্ড সংশোধিত হয়; এরপর মামলা প্রাণভিক্ষার পর্যায়ে যায়।

রেফারেন্স · হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    তৃতীয় বিচারপতির কাছে রেফারেন্স

    ডেথ রেফারেন্স শুনানিকারী বেঞ্চের মত সমানভাবে বিভক্ত হলে মামলা ও উভয় মতামত হাইকোর্ট বিভাগের আরেকজন বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান বিচারপতি সেই বিচারপতিকে মনোনীত করেন, যিনি যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন পক্ষদের শুনে নিজের মতামত দেন। এরপর রায় বা আদেশ সেই মতামত অনুযায়ী হয়। এতে কয়েক মাস যোগ হতে পারে, তবে অন্তত দুজন বিচারপতি আদেশে স্বাক্ষর না করলে মৃত্যুদণ্ড তবুও অনুমোদিত হতে পারে না।

    ৩-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৭

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত হবে কি না, তৃতীয় বিচারপতির মতামতই তা নির্ধারণ করে।

রিমান্ড (ফেরত) · হাইকোর্ট বিভাগ → দায়রা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ নতুন বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    দণ্ডাদেশ বাতিল ও পুনর্বিচারের আদেশ

    বিচারে গুরুতর ত্রুটি থাকলে, যেমন অনুচিতভাবে স্বীকারোক্তি রেকর্ড, ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগ গঠন বা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অস্বীকার, হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ডাদেশ বাতিল করে একই বা সংশোধিত অভিযোগে নতুন বিচারের আদেশ দিতে পারেন। বন্দি আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় থাকেন না, আবার বিচারাধীন আসামি হন। জামিনের প্রশ্ন নতুন করে নির্ধারিত হয়।

    রায়ের সঙ্গেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬(খ)
  2. 2
    দায়রা জজ আদালত (বিচারিক আদালত)

    পুনর্বিচার ও নতুন রেফারেন্স

    বিচারিক আদালত মামলাটি পুনর্বিচার করে নতুন রায় দেন। আবার মৃত্যুদণ্ড দিলে ধারা ৩৭৪-এর অধীন নতুন ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্ট বিভাগে যায়, বন্দির নতুন আপিলসহ। কম দণ্ড দিলে বা খালাস দিলে সাধারণ আপিলের পথ প্রযোজ্য হয়। হেফাজতে ইতোমধ্যে কাটানো সময় যেকোনো কারাদণ্ড থেকে বাদ যায়।

    পুনর্বিচারে ১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা বিচারিক আদালতে ফেরত যায় এবং নতুন রেফারেন্স হিসেবে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসতে পারে।

বিকল্প পথ · দায়রা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

বন্দি গর্ভবতী হলে বা অপরাধের সময় শিশু থাকলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    বিশেষ সুরক্ষা

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নারী গর্ভবতী প্রমাণিত হলে হাইকোর্ট বিভাগকে দণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখতে হয় এবং দণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে হ্রাস করতে পারেন। আলাদাভাবে, শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৩ অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, শিশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। সাক্ষ্যে দেখা গেলে যে অপরাধের সময় বন্দির বয়স ১৮ বছরের কম ছিল, আসামিপক্ষের উচিত জন্ম নিবন্ধন বা স্কুলের রেকর্ড দিয়ে অবিলম্বে বিষয়টি তোলা।

    যেকোনো পর্যায়ে তোলা যায়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩৩(১)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দণ্ড কার্যকর স্থগিত হয় অথবা দণ্ডটি আইনসম্মত দণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

ডেথ রেফারেন্স মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স মামলা শুরু হয় দায়রা আদালত বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মতো দায়রা আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ট্রাইব্যুনালে, কারণ কেবল এসব আদালতই মৃত্যুদণ্ড দিতে পারেন। কোনো মূল্য বা বিষয়ভিত্তিক সীমা প্রযোজ্য নয়; দণ্ডই এই পথ চালু করে। বিচারিক আদালতকে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়, যা অনুমোদনকারী আদালত হিসেবে কাজ করে। এটি কেবল আইনগত ভুল যাচাই করে না; বন্দি কখনো আপিল না করলেও সব সাক্ষ্য পুনঃপরীক্ষা করে নিজেই নির্ধারণ করে অপরাধ প্রমাণিত কি না এবং মৃত্যুদণ্ডই সঠিক দণ্ড কি না। বন্দির আপিল ও জেল আপিল রেফারেন্সের সঙ্গে শোনা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে, অথবা নিজেই বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে, যেমন দণ্ড হ্রাস করে, আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল চলে। দণ্ড হ্রাস বা খালাস চ্যালেঞ্জ করতে রাষ্ট্রের লিভ লাগে। আপিল বিভাগের পর কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন রিভিউ এবং অনুচ্ছেদ ৪৯-এর অধীন রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিশেষাধিকার অবশিষ্ট থাকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই পথের বাইরে, নিজস্ব আইনের অধীন সেখান থেকে আপিল সরাসরি আপিল বিভাগে যায়।

  1. আপিল বিভাগআপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়দায়রা জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
  4. প্রথম দফার আদালতনারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বা অন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
  5. শুরু · আদালতের বাইরেকেন্দ্রীয় কারাগার (কনডেম সেল) · রাষ্ট্রপতি (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রাণভিক্ষার আবেদন)
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।

মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।

প্রথম দফার আদালত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার, এসিড-সংক্রান্ত ও অন্যান্য অপরাধের বিচার করে।

ঢাকায় ১ থেকে ৯ নং ট্রাইব্যুনাল আছে; প্রতিটিতে জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সভাপতিত্ব করেন এবং এগুলো ঢাকা জাজশিপের তালিকাভুক্ত। ঢাকার আদালত এলাকায় এগুলোর সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি এমন ট্রাইব্যুনাল আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

কেন্দ্রীয় কারাগার (কনডেম সেল)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

রাষ্ট্রপতি (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রাণভিক্ষার আবেদন)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

মৃত্যুদণ্ড ও রেফারেন্স প্রেরণ
০.২৫–১ মাস
পেপার বুক ও অপেক্ষা
১২–৬০ মাস
হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি
১–১২ মাস
আপিল বিভাগ
১২–৬০ মাস
রিভিউ, প্রাণভিক্ষা ও দণ্ড কার্যকর
১–১২ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ২৬.২৫–১৪৫ মাস · সামগ্রিক: দণ্ড থেকে হাইকোর্ট বিভাগের রায় পর্যন্ত: সাধারণত ৩ থেকে ৮ বছর। আপিল বিভাগ: আরও ১ থেকে ৫ বছর। রিভিউ ও প্রাণভিক্ষা: কয়েক মাস। এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়; অনেক মামলায় আরও বেশি সময় লাগে
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

ডেথ রেফারেন্স (Death reference)
বিচারিক আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ, যা কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগকে অবশ্যই অনুমোদন করতে হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি (Condemned prisoner)
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাঁর দণ্ড এখনো কার্যকর বা পরিবর্তন হয়নি।
অনুমোদন (Confirmation)
মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যাতে অন্তত দুজন বিচারপতির স্বাক্ষর থাকে।
দণ্ড হ্রাস (Commutation)
আদালত বা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের বদলে কম দণ্ড, সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, প্রদান।
জেল আপিল (Jail appeal)
আইনজীবী বা ফি ছাড়াই বন্দি কর্তৃক কারা কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া আপিল, যা আদালতে পাঠানো হয়।
পেপার বুক (Paper book)
রেফারেন্সের শুনানির আগে বিচারপতিদের জন্য প্রস্তুত সাক্ষ্য ও রায়ের মুদ্রিত সেট।
স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী (State defence lawyer)
আইনজীবীহীন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির পক্ষে যুক্তি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত অ্যাডভোকেট।
প্রাণভিক্ষার আবেদন (Mercy petition)
অনুচ্ছেদ ৪৯-এর অধীন দণ্ড মার্জনা, স্থগিত বা হ্রাসের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন।
প্রশ্নোত্তর

ডেথ রেফারেন্স মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

ডেথ রেফারেন্স মামলা কী?
এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর অধীন মৃত্যুদণ্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো। হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যায় না। বিচারিক আদালত নিজেই নথি পাঠান, তাই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি কখনো আপিল না করলেও ডেথ রেফারেন্স মামলা থাকে। এরপর হাইকোর্ট বিভাগ পুরো মামলা পুনঃপরীক্ষা করে দণ্ড অনুমোদন, দণ্ড পরিবর্তন, পুনর্বিচারের আদেশ বা খালাস দিতে পারেন।
মামলা এমনিতেই ওপরে গেলে বন্দির কি আপিল করার দরকার আছে?
হ্যাঁ, বাস্তবে আছে। বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স মামলা নথির ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়, কিন্তু আপিল থাকলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির আইনজীবী সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরতে, সাক্ষ্য চ্যালেঞ্জ করতে ও দ্রুত শুনানির আবেদন করতে পারেন, এবং আপিলটি রেফারেন্সের সঙ্গে একসঙ্গে শোনা হয়। তামাদি আইন মৃত্যুদণ্ড থেকে মাত্র সাত দিন সময় দেয়। তা পেরিয়ে গেলে সাধারণত বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ আপিল করা হয়, আর কারাগারের মাধ্যমে বিনা খরচে জেল আপিল দেওয়া যায়।
ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে এত সময় লাগে কেন?
পুরো নথি সরকারি মুদ্রণালয় থেকে পেপার বুক হিসেবে ছাপতে হয়, যাতে কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে, এবং হাইকোর্ট বিভাগে মামলার জট বিশাল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুনে ১,৪৬৭টি ডেথ রেফারেন্স অনিষ্পন্ন ছিল, কিছু বহু বছর ধরে। কার্যবিধিতে নিষ্পত্তির কোনো সময়সীমা নেই, তাই দ্রুত তালিকাভুক্তি সাধারণত বেঞ্চে আবেদনের ওপর নির্ভর করে।
আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই এমন বন্দির পক্ষে কে লড়েন?
হাইকোর্ট বিভাগ রাষ্ট্রীয় খরচে একজন অ্যাডভোকেট নিযুক্ত করেন, যাতে রেফারেন্সে সব সময় বন্দির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপিত হয়। আপিল বিভাগে আদালত সরকারি খরচে অ্যাডভোকেট নিয়োগের নির্দেশ দিতে পারেন, এবং মৃত্যুদণ্ডের মামলায় রেজিস্ট্রার তালিকা থেকে একজনকে নিযুক্ত করেন। পরামর্শ প্রয়োজন এমন পরিবারকে আইনগত সহায়তা কমিটিও সাহায্য করতে পারে।
আপিল ছাড়াও কি হাইকোর্ট বিভাগ খালাস দিতে পারেন?
হ্যাঁ। ধারা ৩৭৬(গ) অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেকোনো মামলায়, আপিল হোক বা না হোক, আদালত আসামিকে খালাস দিতে পারেন। দণ্ড হ্রাস, কম গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা পুনর্বিচারের আদেশও দিতে পারেন। অনুমোদনের আগে বেঞ্চকে নিজে নিশ্চিত হতে হয় যে যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অপরাধ প্রমাণিত।
রেফারেন্স চলাকালে কি বন্দিকে কনডেম সেলে রাখা হয়?
প্রথাগতভাবে হ্যাঁ, জেল কোড অনুযায়ী। ২০২৪ সালের ১৩ মে হাইকোর্ট বিভাগ রায় দেন যে দণ্ড চূড়ান্ত হওয়ার আগে বন্দিদের কনডেম সেলে রাখা বেআইনি, এবং জেল কোডের সংশ্লিষ্ট বিধি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের ১৫ মে রাষ্ট্রের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ ওই রায় স্থগিত করে বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে পাঠান। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়নি, তাই আইনজীবী বা কারাগারের কাছ থেকে বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।
আপিল বিভাগের পর আর কী পথ থাকে?
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির দুটি পথ থাকে। প্রথমত, অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন, যা ফৌজদারি মামলায় নথিতে প্রকাশ্য ভুলের মধ্যে সীমিত এবং একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষরসহ দাখিল করতে হয়। দ্বিতীয়ত, অনুচ্ছেদ ৪৯-এর অধীন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন, যা কারাগার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়। অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেন।
আপিল অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় কি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়?
না। হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড অনুমোদন না করা পর্যন্ত ধারা ৩৭৪ দণ্ড কার্যকর নিষিদ্ধ করে, এবং আপিলের মেয়াদ চলাকালে বা আপিল অনিষ্পন্ন থাকলে ধারা ৩৭৬ অনুমোদন নিষিদ্ধ করে। আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় লিভ পিটিশন দাখিল করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দণ্ড কার্যকর স্থগিত হয়, এবং আপিলে আদালত দণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে পারেন। বাস্তবে দণ্ড কার্যকরের জন্য রিভিউ ও প্রাণভিক্ষার নিষ্পত্তিরও অপেক্ষা করা হয়।

আইন ও উৎস

  1. Code of Criminal Procedure 1898, ss.31, 371 and 374-382 (Laws of Bangladesh)
  2. Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 48, 49, 103 and 105)
  3. Limitation Act 1908, First Schedule Article 150 (Laws of Bangladesh)
  4. Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000, ss.28-29, as amended by Act No. 85 of 2026 (Laws of Bangladesh)
  5. Children Act 2013, s.33 (mirror text)
  6. Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988, Orders XXIII, XXIV and XXVI
  7. Prothom Alo: 1,700 convicts in condemned cells (death references pending, July 2019)
  8. The Daily Star: Next legal steps to take 3 years (paper books through the Government Press)
  9. Daily Observer: HC declares keeping convicts in condemned cells before final verdict illegal (14 May 2024)
  10. The Financial Express: SC stays HC order on condemned cells till August 25 (15 May 2024)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp