বাংলাদেশে মানব পাচার মামলা: ২০২৬ সালের আইনে উদ্ধার, তদন্ত, ট্রাইব্যুনালে বিচার ও আপিল
বাংলাদেশে মানব পাচার মামলা এখন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৫৫ নং আইন) দ্বারা পরিচালিত। এই আইন ২০১২ সালের আইন রহিত করেছে, এবং ২০১২ সালের আইনে বিচারাধীন মামলাগুলো নতুন আইনের অধীনে চলবে। মামলা শুরু হয় থানায় এজাহার (FIR) দিয়ে অথবা সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নালিশ করে, এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত হয়।
বিচার করেন জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একটি ট্রাইব্যুনাল, যাকে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিতে হয়, এবং ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।
- কোথা থেকে শুরু
- যেকোনো থানায় এজাহার, অথবা সরাসরি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা নালিশ (ধারা ২৮)
- মূল আইন
- মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৫৫ নং আইন), যা ২০১২ সালের আইনের স্থলাভিষিক্ত; ফৌজদারি…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: তদন্ত ৩ থেকে ৯ মাস; ১৮০ কার্যদিবসের লক্ষ্য সত্ত্বেও বিচার ১ থেকে ৪ বছর…
- কে মামলা করতে পারেন
- ভুক্তভোগী, পরিবারের সদস্য, এনজিও বা পুলিশসহ যেকোনো ব্যক্তি থানায় বা ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন; নালিশকারীর পরিচয়…
মানব পাচার মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও অভিযোগ দায়েরবিদেশ থেকে উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন
অনেক মামলা শুরু হয় বিদেশে, যেমন ভুয়া চাকরির প্রস্তাবের পর জবরদস্তিমূলক শ্রম বা যৌন শোষণে আটকে পড়া শ্রমিকদের দিয়ে। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার হিসেবে চিহ্নিত হলে সরকারকে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে, প্রয়োজনে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায়, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি ভুক্তভোগী আটক আছেন জানতে পারলে মিশনকে উদ্ধার ও প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পরিবারের উচিত মিশন ও পুলিশকে ভুক্তভোগীর পাসপোর্টের কপি, রিক্রুটারের নাম এবং প্রতিটি অর্থ পরিশোধের রেকর্ড দেওয়া।
কোথায়: বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন) · সময়: গন্তব্য দেশের ওপর নির্ভর করে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ (মানব পাচার আইন, ২০২৬)-এর ধারা ৫০; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৯; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ (রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে প্রয়োগ) · কাগজপত্র: পাসপোর্টের কপি, ভিসা ও চাকরির প্রস্তাবের কাগজপত্র, রিক্রুটিং এজেন্টের বিবরণ, টাকা পরিশোধের রসিদ ও ব্যাংক ট্রান্সফার, ভুক্তভোগীর পাঠানো বার্তা
পরামর্শ: প্রতিটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও টাকা পাঠানোর স্লিপ সংরক্ষণ করুন। যথাযথভাবে সংগৃহীত বিদেশি ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য (ধারা ৪৭-৪৮)।
ধাপ ২ · উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও অভিযোগ দায়েরশনাক্তকরণ, আশ্রয় ও পুনর্বাসন
উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের ভুক্তভোগীবান্ধব উপায়ে শনাক্ত ও সহায়তা করা হয়, নারী ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নসহ। ভুক্তভোগীকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তাঁকে সরকারি বা বেসরকারি আশ্রয় বা পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়। কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে জানাতে হবে এবং প্রতি ছয় মাসে প্রতিবেদন দিতে হবে। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা এবং আইনগত ও কাউন্সেলিং সেবা পাওয়ার অধিকার আছে। বিদেশে অবৈধ প্রবেশ, অবৈধ অবস্থান বা ভুয়া ভ্রমণ দলিল যদি পাচারের সরাসরি ফল হয়, তবে এর জন্য ভুক্তভোগীকে এই আইনে বিচারের মুখোমুখি করা যায় না।
কোথায়: আশ্রয় বা পুনর্বাসন কেন্দ্র · সময়: উদ্ধারের পর থেকে; আশ্রয় প্রায়ই ১-৬ মাস · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৯ ও ৫২-৫৩; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৪(১)-(২); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৫ (শিশু ভুক্তভোগী) · কাগজপত্র: উদ্ধার প্রতিবেদন, চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন, আশ্রয়কেন্দ্রে ভর্তির রেকর্ড
পরামর্শ: শিশু ভুক্তভোগীদের সর্বোত্তম স্বার্থের নীতি ও শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দেখতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে শিশু-বিশেষায়িত কেসওয়ার্কার চান।
ধাপ ৩ · উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও অভিযোগ দায়েরথানায় এজাহার দায়ের করুন
বাংলাদেশে মানব পাচার মামলায় কেবল ভুক্তভোগী নন, যেকোনো ব্যক্তি থানায় পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের অপরাধের অভিযোগ জানাতে পারেন। পুলিশকে অভিযোগকারীকে সুরক্ষা দিতে হবে এবং কার্যধারার প্রয়োজনে প্রকাশ না করা পর্যন্ত তাঁর পরিচয় গোপন রাখতে হবে। এই আইনের সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য। পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে, জামিন আদালতের বিবেচনাধীন, এবং পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে মামলা মীমাংসা করতে পারে না। জানা থাকলে এজাহারে রিক্রুটার, সাব-এজেন্ট, পরিবহনকারী এবং যারা ভুক্তভোগীকে আটকে রেখেছিল তাদের নাম উল্লেখ করা উচিত।
কোথায়: থানা বা নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট · সময়: একই দিন · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৮; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬-৭ · কাগজপত্র: লিখিত এজাহার, ভুক্তভোগী বা পরিবারের বিবৃতি, নিয়োগ ও অর্থ পরিশোধের কাগজপত্র, ছবি বা কল রেকর্ড
পরামর্শ: পুলিশ এজাহার নিতে অস্বীকার করলে অপেক্ষা না করে নালিশি দরখাস্ত নিয়ে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে যান (পরের ধাপ)।
ধাপ ৪ · উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও অভিযোগ দায়েরঅথবা সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নালিশ দায়ের করুন
ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা-ই থাকুক, নালিশকারী সরাসরি ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল নালিশকারী ও কাগজপত্র পরীক্ষা করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ মনে করা যেকোনো স্বতঃপ্রণোদিত অনুসন্ধান করেন। সন্তুষ্ট হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নালিশটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেন। সন্তুষ্ট না হলে কারণসহ নালিশ খারিজ করেন। উপযুক্ত ক্ষেত্রে নালিশটি তখনই এজাহার হিসেবে তদন্তে পাঠাতে পারেন। জেনেশুনে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা নিজেই একটি অপরাধ, যার শাস্তি দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩০(২)-(৩); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৫; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৮(১) · কাগজপত্র: নালিশি দরখাস্ত, সমর্থনকারী দলিল, তদন্তের নির্দেশ বা নালিশ খারিজের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ
পরামর্শ: দলিল ও সাক্ষীদের নামসহ বিস্তারিত নালিশ দিলে ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ না করে তদন্তে পাঠানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ধাপ ৫ · তদন্ত৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত
বাংলাদেশে মানব পাচার মামলা সবচেয়ে বেশি আটকে যায় তদন্ত পর্যায়ে, তাই আইন কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সাব-ইন্সপেক্টরের নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। ঊর্ধ্বতনের আদেশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি সরকার-অনুমোদিত বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা বা ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করতে পারেন, যার কর্মকর্তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পুলিশের পূর্ণ ক্ষমতা আছে। তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তা সম্ভব না হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মেয়াদ শেষের অন্তত তিন কার্যদিবস আগে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার কাছে, অথবা ট্রাইব্যুনাল তদন্তের আদেশ দিয়ে থাকলে ট্রাইব্যুনালের কাছে, সর্বোচ্চ আরও ৪৫ দিনের জন্য আবেদন করতে হবে।
আন্তঃসীমান্ত তদন্তে কেবল ট্রাইব্যুনালই আরও দীর্ঘ যুক্তিসংগত সময় দিতে পারেন।
কোথায়: থানা বা নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট · সময়: ৯০ দিন ও আরও ৪৫ দিন; আন্তর্দেশীয় মামলায় আরও বেশি · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩০(১) ও (৪)-(৬); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩০(৮)-(৯); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ · কাগজপত্র: কেস ডায়েরি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জব্দ তালিকা, মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন
পরামর্শ: প্রতিটি মেয়াদ বৃদ্ধি লিপিবদ্ধ করতে আদালতকে অনুরোধ করুন। আইনি মেয়াদের বাইরে ব্যাখ্যাহীন বিলম্ব জামিনের আবেদন এবং মনিটরিং সেলে অভিযোগের পক্ষে সহায়ক।
ধাপ ৬ · তদন্তপ্রতিরোধমূলক তল্লাশি ও জব্দ
পাচার প্রতিরোধে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতনের অনুমোদন নিয়ে কোনো স্থানে তল্লাশি চালাতে এবং অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সরঞ্জাম, সাক্ষ্য বা দলিল জব্দ করতে পারেন। পরোয়ানা নিতে দেরি হলে অপরাধ সংঘটিত হতে বা সাক্ষ্য নষ্ট হতে পারে, এমন ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি করা যায়। সাক্ষী হিসেবে এলাকার দুই বা ততোধিক সম্মানিত বাসিন্দাকে উপস্থিত থাকতে হবে, এবং কোনো নারীর দেহ তল্লাশির সময় একজন নারী কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে হবে। তল্লাশির প্রতিবেদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্রাইব্যুনালের কাছে পৌঁছাতে হবে।
কোথায়: থানা বা নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট · সময়: তদন্ত চলাকালে · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩১(১)-(৫); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩ · কাগজপত্র: সাক্ষীদের স্বাক্ষরিত তল্লাশি ও জব্দ তালিকা, ৭২ ঘণ্টার তল্লাশি প্রতিবেদন
পরামর্শ: আসামিপক্ষের জন্য, স্বাধীন সাক্ষী ছাড়া তল্লাশি বা দেরিতে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার প্রতিবেদন জেরায় যাচাই করার মূল বিষয়।
ধাপ ৭ · হেফাজত, জামিন ও অভিযোগপত্রগ্রেপ্তার, রিমান্ড ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি
গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত (রিমান্ড) মঞ্জুর করতে পারেন, এবং নির্যাতনের কোনো চিহ্ন থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত সাক্ষ্য সংরক্ষণের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে যেকোনো উপযুক্ত স্থানে ভুক্তভোগী বা প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে অনুরোধ করতে পারেন। ওই সাক্ষী পরে মারা গেলে বা তাঁকে খুঁজে পাওয়া না গেলে ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দিটি গ্রহণ করতে পারেন, তবে কেবল এর ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন না।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: হাজির করতে ২৪ ঘণ্টা; কয়েক দিনের রিমান্ড, মোট সর্বোচ্চ ১৫ দিন · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(২) ও (২ক) (২০২৬ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৪; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১ · কাগজপত্র: ফরোয়ার্ডিং রিপোর্ট, রিমান্ডের আদেশ, লিপিবদ্ধ জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট
পরামর্শ: রিক্রুটারের পরিবার চাপ দেওয়ার আগেই ভুক্তভোগীদের যত দ্রুত সম্ভব ধারা ৪৪-এর জবানবন্দি দেওয়া উচিত।
ধাপ ৮ · হেফাজত, জামিন ও অভিযোগপত্রহিসাব জব্দ, হস্তান্তর রোধ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
তদন্তকারী কর্মকর্তার লিপিবদ্ধ কারণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল ব্যাংক, কর ও সম্পদের রেকর্ড পরীক্ষা এবং হিসাব জব্দের (ফ্রিজ) অনুমতি দিতে পারেন। অপরাধে ব্যবহৃত ভবন, জমি বা যানবাহন আটক রাখার অনুমতিও দিতে পারেন। সন্দেহভাজন অপরাধলব্ধ সম্পদের বিক্রি, বন্ধক বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করতে পারেন, এবং বিদেশে থাকা সম্পত্তি জব্দ ও ক্রোকের জন্য সরকারকে অনুরোধ করতে পারেন। পাচার একটি সম্পৃক্ত অপরাধ (predicate offence) হওয়ায় অর্থের লেনদেনের সূত্র মানিলন্ডারিং হিসেবেও অনুসরণ করা যায়। সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়, যা আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়, এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তা পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: কয়েক দিনের মধ্যে আদেশ; বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ৬০ + ৩০ দিন · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩২-৩৪; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২; অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা আইন, ২০১২ · কাগজপত্র: লিপিবদ্ধ কারণসহ আবেদন, ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের প্রতি ট্রাইব্যুনালের আদেশ, বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন
পরামর্শ: রিক্রুটারের সম্পত্তি হস্তান্তর নিষিদ্ধের আদেশ আগেভাগেই চান। এটি ভুক্তভোগীর পরবর্তী ক্ষতিপূরণের দাবি রক্ষা করে।
ধাপ ৯ · হেফাজত, জামিন ও অভিযোগপত্রজামিন ও ভুক্তভোগীর নিরাপদ হেফাজত
জামিন সীমিত। ট্রাইব্যুনাল কেবল রাষ্ট্রপক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে এবং মুক্তি ন্যায়বিচারে বাধা সৃষ্টি করবে না মর্মে সন্তুষ্ট হয়ে অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে পারেন, এবং কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে। জামিন নামঞ্জুর হলে অভিযুক্ত হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল, অথবা অভিযোগ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট, ভুক্তভোগীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি বা বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে, অথবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মতো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রাখতে পারেন। ভুক্তভোগী নারী হলে আদালত তাঁর ইচ্ছা বিবেচনা করতে পারেন।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস; হাইকোর্ট বিভাগে জামিনে প্রায়ই ১-৪ মাস · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৯(৫); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৯(৩)-(৪); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি, নিরাপদ হেফাজতের আদেশ
পরামর্শ: ভুক্তভোগী ও তাঁদের আইনজীবীদের জামিন শুনানিতে উপস্থিত থেকে যেকোনো হুমকির কথা আদালতকে জানানো উচিত, যাতে আদালত শর্ত আরোপ বা জামিন নামঞ্জুর করতে পারেন।
ধাপ ১০ · হেফাজত, জামিন ও অভিযোগপত্রঅভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
তদন্ত শেষে কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেন। এটি হয় অভিযুক্ত, ধারা ও সাক্ষীদের নামসহ অভিযোগপত্র (চার্জশিট), অথবা সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট)। প্রতিবেদনে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ না থাকলেও ট্রাইব্যুনাল লিপিবদ্ধ কারণে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারেন। নালিশকারী চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে অধিকতর তদন্ত চাইতে পারেন, যা ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করার আদেশ দিতে পারেন। কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত করা যায়।
কোথায়: থানা বা নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট · সময়: তদন্তের মেয়াদ শেষে · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩০(৭); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪০; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৬ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন, নালিশকারীর আপত্তি (নারাজি), সাক্ষী ও প্রদর্শনীর তালিকা
পরামর্শ: ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের আগেই নালিশকারীর উচিত পুলিশ প্রতিবেদনের কপি নিয়ে দ্রুত আপত্তি দাখিল করা।
ধাপ ১১ · ট্রাইব্যুনালে বিচারঅপরাধ আমলে গ্রহণ ও অভিযোগ গঠন
কেবল এই আইনের অধীন ট্রাইব্যুনালই এসব অপরাধ আমলে নিতে ও বিচার করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল হলেন একজন জেলা ও দায়রা জজ বা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, অথবা পর্যাপ্ত ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। অপরাধ বা এর অংশ যেখানে সংঘটিত হয়েছে, ভুক্তভোগী যেখানে উদ্ধার হয়েছেন, অথবা ভুক্তভোগী যেখানে বাস করেন, সেখানে মামলার বিচার হতে পারে। নাগরিক, বাসিন্দা বা বাংলাদেশি কোম্পানি কর্তৃক বিদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার হয় যেখানে অভিযুক্ত বাস করতেন বা কোম্পানি নিবন্ধিত। দায়রা আদালতের পদ্ধতি অনুসরণ করে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন বা অভিযোগ গঠন করেন।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-৪ মাস · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৬; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৮(১)-(৫); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৯(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ-২৬৫ঘ · কাগজপত্র: অপরাধ আমলে গ্রহণের আদেশ, অব্যাহতির দরখাস্ত, গঠিত অভিযোগ
পরামর্শ: বাংলাদেশে মানব পাচার মামলায় ভ্রমণ দলিল জালিয়াতির মতো সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো একই ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে বিচার করা যায় (ধারা ৩৮(৪))।
ধাপ ১২ · ট্রাইব্যুনালে বিচারবিচার: সাক্ষ্য, গোপনীয়তা ও ১৮০ দিনের লক্ষ্য
অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে বিচার শেষ করতে হবে। তা না হলে বিচারককে দশ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে লিখিত ব্যাখ্যা পাঠাতে হবে। নারী বা শিশু ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) বিচার করা যায়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কমিশন বা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া যায়। সরকারি কর্মচারীদের দাপ্তরিক প্রতিবেদন গ্রহণ এবং ইশারা ভাষাসহ দোভাষী নিয়োগ করা যায়। প্রমাণীকৃত বিদেশি দলিল ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। কারও হেফাজতে ভুক্তভোগীকে পাওয়া গেলে বিপরীত প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত পাচার হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: লক্ষ্য ১৮০ কার্যদিবস; বাস্তবে ১-৪ বছর · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪১; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪২; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৯(২); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৫, ৪৭-৪৮; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৯ · কাগজপত্র: সাক্ষীদের জবানবন্দি, দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়িত বিদেশি দলিল, অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ইলেকট্রনিক রেকর্ড
পরামর্শ: ভুক্তভোগী বিদেশে থাকলে বা অভিযুক্তের মুখোমুখি হতে ভয় পেলে দূরবর্তী সাক্ষ্যের আবেদন করুন। আইন এটি স্পষ্টভাবে অনুমোদন করে।
ধাপ ১৩ · ট্রাইব্যুনালে বিচারভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা; অনুপস্থিতিতে বিচার
হুমকির মুখে থাকা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা পুলিশি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী, আদালতে যাতায়াত বা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সময়সহ। শিশু ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা সর্বোত্তম স্বার্থের নীতি ও শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সুরক্ষিত। গণমাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা অপরাধ। অভিযুক্ত পলাতক থাকলে এবং শিগগির গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা না থাকলে ট্রাইব্যুনাল পুলিশ প্রতিবেদন পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি জাতীয় দৈনিকে ও অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারেন। জামিনের পর পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তেরও অনুপস্থিতিতে বিচার হতে পারে।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: পুরো বিচার চলাকালে · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৪(৩); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৫; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৩ · কাগজপত্র: সাক্ষী সুরক্ষার আবেদন, পলাতক অভিযুক্তের প্রতি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি
পরামর্শ: প্রতিটি হুমকির কথা লিখিতভাবে ট্রাইব্যুনাল ও পুলিশকে জানান। লিপিবদ্ধ হুমকি জামিন নামঞ্জুর বা বাতিলের পক্ষে সহায়ক।
ধাপ ১৪ · রায়, ক্ষতিপূরণ ও কার্যকরকরণরায়, দণ্ড ও ক্ষতিপূরণ
ধারা ৬ অনুযায়ী মানব পাচারের শাস্তি অন্যূন পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫০,০০০ টাকা জরিমানা। ধারা ৭ অনুযায়ী সংঘবদ্ধ পাচারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা অন্যূন সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এবং অন্যূন ৫ লাখ টাকা জরিমানা। জবরদস্তিমূলক শ্রম ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো অন্যান্য অপরাধের নিজস্ব শাস্তি আছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ট্রাইব্যুনাল চিকিৎসা, যাতায়াত, অস্থায়ী আবাসন, আয়ের ক্ষতি ও ভোগান্তি বাবদ যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণের আদেশও দিতে পারেন। অপরাধলব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে প্রতিরোধ তহবিলে জমা করতে পারেন।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: সাধারণত যুক্তিতর্কের ২-৮ সপ্তাহ পর · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬-৭; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৬(১)-(২); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৩(৪); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ট · কাগজপত্র: রায় ও দণ্ড, ক্ষতিপূরণের আদেশ, বাজেয়াপ্তির আদেশ, আপিলের জন্য সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ বা ভুক্তভোগীর আইনজীবীর উচিত যুক্তিতর্কের আগেই চিকিৎসার বিল ও হারানো মজুরির প্রমাণ দাখিল করা।
ধাপ ১৫ · রায়, ক্ষতিপূরণ ও কার্যকরকরণক্ষতিপূরণ আদায় ও ভুক্তভোগীদের সহায়তা
জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না হলে ট্রাইব্যুনাল জেলা কালেক্টরকে অপরাধীর সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত, ক্রোক ও নিলাম করে লব্ধ অর্থ ভুক্তভোগীর জন্য জমা রাখার নির্দেশ দিতে পারেন। অপরাধী ভবিষ্যতে যে সম্পত্তি অর্জন করবেন, তার ওপরও অন্যান্য দাবির আগে এই দাবি বর্তায়। পৃথকভাবে ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা করতে পারেন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। রহিতকরণের সময় ২০১২ সালের আইনে বিচারাধীন মামলাগুলো যতদূর সম্ভব ২০২৬ সালের আইনে নিষ্পত্তি হয়। বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এর অধীনে চলতে থাকে।
কোথায়: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৬(২)-(৩); মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৬; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫৭; মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬৪(২)-(৩) · কাগজপত্র: ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ, নিলামের কাগজপত্র, দেওয়ানি মোকদ্দমার আরজি (দায়ের করা হলে), আর্থিক সহায়তার আবেদন
পরামর্শ: বাংলাদেশে মানব পাচার মামলায় ফৌজদারি আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেও ভুক্তভোগী দেওয়ানি দাবি চালাতে পারেন। দুটি পথ সম্পর্কেই আপনার আইনজীবীর কাছে জানতে চান।
যদি এমন হয়…? মানব পাচার মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত বা খালাস পেলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
ট্রাইব্যুনালের যেকোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। দণ্ডিত অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্তকরণ ও দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। রাষ্ট্র, অথবা আইন অনুমতি দিলে নালিশকারী, খালাস বা অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে সাক্ষ্য পুনরায় বিবেচনা করেন। লিপিবদ্ধ কারণে দণ্ড স্থগিত করে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জামিন দিতে পারেন।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; শুনানি প্রায়ই ২-৫ বছর পরেমানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৭ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০ ও ৪১৭ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, যা আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষ।
ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স
ধারা ৭ অনুযায়ী সংঘবদ্ধ পাচারে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য, তাই হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না। নথিটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে ওপরে পাঠানো হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির যেকোনো আপিলের সঙ্গে একত্রে শুনানি হয়। হাইকোর্ট বিভাগ অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে, অধিকতর অনুসন্ধানের আদেশ দিতে, দণ্ড অনুমোদন করতে, লঘুতর দণ্ড দিতে বা খালাস দিতে পারেন।
সাধারণত আপিলের সঙ্গে শুনানি, প্রায়ই ২-৫ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫-৩৭৬মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৫(১)মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৯(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত, লঘু বা বাতিল হয়, এবং অনুমোদিত হলে আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল করা যায়।
রায়ের আগে কি ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তী আদেশ চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক
ট্রাইব্যুনাল দায়রা পর্যায়ের, তাই এর আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন (revision) কেবল হাইকোর্ট বিভাগে চলে। অভিযুক্ত অভিযোগ গঠন বা অব্যাহতি নামঞ্জুরের আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। নালিশকারী চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বা নালিশ খারিজের আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এমন কার্যধারা বাতিলের জন্য যেকোনো পক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক অনুযায়ীও আবেদন করতে পারেন। ধারা ৩৭ ট্রাইব্যুনালের যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিলেরও সুযোগ দেয়, যা প্রায়ই এর বদলে ব্যবহৃত হয়।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রুল; নিষ্পত্তি ৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১কমানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৭ - 2মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল
আবার ট্রাইব্যুনালে
হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দিলে নথি ফেরত আসে। এরপর ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা অনুযায়ী বিচার চালিয়ে যান, নালিশটি আবার গ্রহণ করেন, অথবা মামলার অবসান ঘটান। হাইকোর্ট বিভাগ মামলা স্থগিত রাখার সময়টুকু সাধারণত ১৮০ কার্যদিবসের লক্ষ্যে গণনা হয় না, তবে সামগ্রিক বিলম্বের ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনালকে তবুও দিতে হয়।
নথি ফেরত আসতে ১-২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪২মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সংশোধিত ভিত্তিতে বিচার চলতে থাকে, অথবা হাইকোর্ট বিভাগ মামলা বাতিল করলে তার অবসান ঘটে।
ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্ট বিভাগ কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
রিভিউ কেবল আপিল বিভাগে
ফৌজদারি আদালত করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না, তাই ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্ট বিভাগ কেউই পাচার মামলার রায় রিভিউ করতে পারেন না। একমাত্র ব্যতিক্রম বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ, যা ট্রাইব্যুনাল নিজেই ধারা ৩৪(৩) অনুযায়ী আবেদনের ভিত্তিতে পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করতে পারেন। আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করা পিটিশনে নিজের ফৌজদারি রায় রিভিউ (review) করতে পারেন।
আপিল বিভাগের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৪(৩)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নথিতে সুস্পষ্ট ভুল দেখানো না গেলে আপিল বিভাগের রায় বহাল থাকে।
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দোষী সাব্যস্তকরণ বাতিল ও পুনর্বিচারের আদেশ
গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ভুলভাবে গৃহীত হলে, কোনো বিদেশি দলিল যথাযথভাবে প্রমাণীকৃত না হলে, অথবা প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার হলে হাইকোর্ট বিভাগ দোষী সাব্যস্তকরণ বাতিল করতে পারেন। খালাস না দিয়ে ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন, প্রায়ই কোন সাক্ষ্য নিতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা ও শেষ করার সময়সীমাসহ।
আপিল বা ডেথ রেফারেন্সের শেষেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৭ - 2মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল
ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিচার
ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পুনর্বিচার করেন, একেবারে শুরু থেকে নয়, বরং হাইকোর্ট বিভাগের চিহ্নিত পর্যায় থেকে। সাক্ষীদের পুনরায় তলব বা নতুন সাক্ষী যোগ করেন, বিদেশি দলিল যথাযথভাবে প্রমাণ করান অথবা পলাতক অভিযুক্তকে বিজ্ঞপ্তি দেন। রুদ্ধদ্বার শুনানি ও দূরবর্তী সাক্ষ্যের মতো ভুক্তভোগী-সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলো আবার প্রযোজ্য হয়। এরপর দোষী সাব্যস্তকরণ, দণ্ড ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে নতুন রায় হয়।
৬-১৮ মাসমানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৯ ও ৪২-৪৩মানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪৭-৪৮ - 3হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে নতুন আপিল
নতুন রায়ের বিরুদ্ধে ধারা ৩৭ অনুযায়ী আবার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়। পুনর্বিচারে মৃত্যুদণ্ড হলে নতুন ডেথ রেফারেন্স ওপরে যায়। হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিভ পিটিশনের মাধ্যমে, অথবা দণ্ড মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে অধিকারবলে আপিলের মাধ্যমে, আপিল বিভাগে যাওয়া যায়।
আরও ১-৪ বছরমানব পাচার আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩৭ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচারের পর মামলা আবার হাইকোর্ট বিভাগে ওঠে এবং এরপর আপিল বিভাগে যেতে পারে।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
অধিকারবলে বা অনুমতি নিয়ে আপিল
হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে, অথবা নিজেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে, অভিযুক্ত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিল করতে পারেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে পরাজিত পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি লিভ টু আপিল পিটিশন দাখিল করেন। আপিল বিভাগ তখন মূলত আইনগত প্রশ্ন ও সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, এবং এর রায় সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; শুনানি ১-৪ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ)সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (ফৌজদারি আপিল ও লিভ পিটিশন)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, যা রিভিউ এবং মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সাপেক্ষ।
মানব পাচার মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে মানব পাচার মামলা সাধারণ ম্যাজিস্ট্রেট-থেকে-দায়রা সিঁড়ি নয়, একটি বিশেষায়িত আদালতের মধ্য দিয়ে চলে। থানা ও নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট তদন্ত করে। ম্যাজিস্ট্রেট কেবল রিমান্ড, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধকরণ এবং অভিযোগ গঠনের আগে নিরাপদ হেফাজতের আদেশ নিয়ে কাজ করেন। বিচারের ফোরাম নির্ধারিত হয় বিষয়বস্তু দিয়ে, মূল্য দিয়ে নয়: ২০২৬ সালের আইনের প্রতিটি অপরাধ কেবল মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য। এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ বা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার এবং দায়রা আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন।
পৃথক ট্রাইব্যুনাল না থাকলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বা জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়িত্বে বসেন। আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারিত হয় অপরাধের স্থান, উদ্ধারের স্থান বা ভুক্তভোগীর বাসস্থান দিয়ে। ট্রাইব্যুনালের যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল চলে। ওই আদালত তথ্য ও আইন পুনরায় বিবেচনা করেন, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন এবং ১৮০ কার্যদিবসের বিচার-লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ট্রাইব্যুনালগুলোর তত্ত্বাবধান করেন। আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন মামলায় অধিকারবলে আপিল শোনেন, অন্যথায় কেবল অনুমতি সাপেক্ষে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল
- শুরু · আদালতের বাইরেবিদেশে বাংলাদেশ মিশন (উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন) · আশ্রয় বা পুনর্বাসন কেন্দ্র · থানা বা নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকামানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর অধীন অপরাধের বিচার করে।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জাজশিপের অধীনে তালিকাভুক্ত, জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সভাপতিত্ব করেন; সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। অন্য বিভাগগুলোতে নিজস্ব মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল আছে।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
আশ্রয় বা পুনর্বাসন কেন্দ্র
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
থানা বা নির্ধারিত তদন্ত ইউনিট
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- মানব পাচার (Human trafficking)
- যৌন, শ্রম বা অন্য কোনো শোষণের উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ, প্রতারণা বা অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যক্তিকে সংগ্রহ, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় বা আটকে রাখা (ধারা ৫); শিশুদের ক্ষেত্রে উপায় প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
- অভিবাসী চোরাচালান (Migrant smuggling)
- আর্থিক বা অন্য সুবিধার জন্য কোনো ব্যক্তির অন্য দেশে অবৈধ প্রবেশের ব্যবস্থা করা; ২০২৬ সালের আইনে একটি পৃথক অপরাধ।
- সংঘবদ্ধ পাচার (Organised trafficking)
- সাধারণ উদ্দেশ্যে কর্মরত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দুই বা ততোধিক সদস্যের দ্বারা পাচার, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (ধারা ৭)।
- ট্রাইব্যুনাল (Tribunal)
- মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, যার সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক।
- স্বতঃপ্রণোদিত অনুসন্ধান (Proactive inquiry)
- সরাসরি ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা নালিশের বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব অনুসন্ধান।
- আপস-অযোগ্য (Non-compoundable)
- পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে মামলা মীমাংসা করতে পারে না; কেবল আদালতই এর অবসান ঘটাতে পারেন।
- ডেথ রেফারেন্স (Death reference)
- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে উপস্থাপন।
- প্রত্যাবাসন (Repatriation)
- সরকার ও এর মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভুক্তভোগীকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা (ধারা ৫০)।
মানব পাচার মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
পাচারের মামলায় এখন কোন আইন প্রযোজ্য?
ঢাকায় মানব পাচার মামলা কোথায় করব?
তদন্তে কত সময় লাগে?
পাচারের মামলা কি আদালতের বাইরে আপস করা যায়?
অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কি ভুক্তভোগীর শাস্তি হবে?
অভিযুক্ত পাচারকারী কি জামিন পেতে পারে?
বাংলাদেশে মানব পাচার মামলা শেষ হতে সব মিলিয়ে কত সময় লাগে?
ভুক্তভোগী কি ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন?
আইন ও উৎস
- Prevention and Suppression of Human Trafficking and Smuggling of Migrants Act 2026 (Act No. 55 of 2026), mirror text
- Prevention and Suppression of Human Trafficking Act 2012 (repealed), Laws of Bangladesh
- Prevention and Suppression of Human Trafficking and Smuggling of Migrants Ordinance 2026 (repealed by the 2026 Act), mirror text
- Code of Criminal Procedure 1898, as amended (Laws of Bangladesh)
- Mutual Legal Assistance in Criminal Matters Act 2012 (mirror text)
- TBS: Advisory Council approves four draft ordinances, including on human trafficking and migrant smuggling (27 November 2025)
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।