বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া: সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত
বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া সাধারণত শুরু হয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) একটি সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দিয়ে। বিএফআইইউ হিসাব স্থগিত করতে পারে এবং মূল অপরাধের তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাছে গোয়েন্দা তথ্য পাঠাতে পারে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলার বিচার করেন কেবল একজন স্পেশাল জজ। অবরুদ্ধকরণ, বাজেয়াপ্তকরণ ও চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের জন্য আইনে মাত্র ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সময়সীমা রাখা হয়েছে।
- কোথা থেকে শুরু
- কোনো ব্যাংক বা অন্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট, অথবা সম্পৃক্ত অপরাধ নিয়ে…
- মূল আইন
- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১৫ সালে সংশোধিত); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: প্রথম অবরুদ্ধকরণ থেকে স্পেশাল জজের রায় পর্যন্ত ২ থেকে ৬ বছর; হাইকোর্ট…
- কে মামলা করতে পারেন
- কেবল নির্ধারিত তদন্তকারী সংস্থা (দুর্নীতি-সংক্রান্ত সম্পৃক্ত অপরাধে দুদক; পুলিশের তদন্তযোগ্য বেশিরভাগ সম্পৃক্ত অপরাধে…
মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যব্যাংকের সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা প্রতিষ্ঠান, মানি চেঞ্জার, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, ব্রোকার, আবাসন ব্যবসায়ী ও অন্যান্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে হিসাব বন্ধ হওয়ার পর অন্তত পাঁচ বছর গ্রাহকের পরিচিতি ও লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হয়। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা লেনদেনের চেষ্টা দেখলে তাদের নিজ উদ্যোগে, বিলম্ব না করে, বিএফআইইউকে জানাতে হয়। গ্রাহককে জানানো হয় না, কারণ তথ্য ফাঁস (tipping off) নিষিদ্ধ। এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে ৫০,০০০ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যায়, এবং এর লাইসেন্সও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কোথায়: ব্যাংক বা অন্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা · সময়: শনাক্ত হওয়ামাত্র · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৫(১)(ক)-(ঘ); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৫(২); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৬ · কাগজপত্র: সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম রিপোর্ট (STR/SAR), কেওয়াইসি ফাইল, হিসাব বিবরণী, নগদ লেনদেন রিপোর্ট
পরামর্শ: এসটিআর একটি গোয়েন্দা তথ্য, অভিযোগ নয়। অনেক এসটিআর কখনো মামলায় রূপ নেয় না, তবে হঠাৎ হিসাব স্থগিত হলে সাধারণত বোঝা যায় যে একটি রিপোর্ট দাখিল হয়েছে।
ধাপ ২ · আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যবিএফআইইউর বিশ্লেষণ ও হিসাব স্থগিতকরণ
বিএফআইইউ এসটিআর ও নগদ লেনদেন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাগুলো থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ফলাফল ভাগ করে। কোনো হিসাবে অপরাধলব্ধ অর্থ জমা হয়েছে, অথবা হিসাবটি অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন সন্দেহের যুক্তিসংগত কারণ থাকলে বিএফআইইউ ব্যাংককে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য লেনদেন স্থগিত বা অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারে। এই নির্দেশ ৩০ দিন করে সর্বোচ্চ সাতবার দেওয়া যায়, মোট প্রায় সাত মাস। এরপর আরও দীর্ঘ অবরুদ্ধকরণের জন্য আদালতের আদেশ লাগে।
কোথায়: বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) · সময়: প্রতিবার ৩০ দিন, সর্বোচ্চ ৭ বার · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৩(১)(ক)-(গ); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৩(২); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ২৬ · কাগজপত্র: ব্যাংকের কাছে বিএফআইইউর স্থগিতকরণ বা অবরুদ্ধকরণ পত্র, সংস্থার কাছে বিএফআইইউর গোয়েন্দা প্রতিবেদন
পরামর্শ: ব্যাংক নিজে থেকে বিএফআইইউর অবরুদ্ধকরণ তুলতে পারে না। অর্থের বৈধ উৎস দেখানো কাগজপত্রসহ আপনার আইনজীবীকে দিয়ে বিএফআইইউকে চিঠি লেখান।
ধাপ ৩ · আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যপরামর্শ নিন এবং অর্থের উৎসের ফাইল তৈরি করুন
বেশিরভাগ মক্কেল বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন যখন কোনো হিসাব অবরুদ্ধ হয়, নোটিশ আসে বা পত্রিকায় অনুসন্ধানের খবর ছাপা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী শনাক্ত করেন কোন সম্পৃক্ত অপরাধ (predicate offence) সন্দেহ করা হচ্ছে, যেমন দুর্নীতি, প্রতারণা, চোরাচালান, কর ফাঁকি, মানবপাচার বা বাণিজ্যভিত্তিক কারসাজি, এবং সে অনুযায়ী কোন সংস্থা জড়িত। এরপর আইনজীবী বৈধ উৎসের প্রমাণ জোগাড় করেন: আয়কর রিটার্ন, নিরীক্ষিত হিসাব, এলসি ও রপ্তানির কাগজ, রেমিট্যান্স সনদ এবং ঋণের কাগজপত্র। মনে রাখবেন, এই মামলার জন্য আগে সম্পৃক্ত অপরাধে দণ্ড হওয়া জরুরি নয়।
কোথায়: আসামিপক্ষের আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২ (মানিলন্ডারিং ও সম্পৃক্ত অপরাধের সংজ্ঞা); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৫) · কাগজপত্র: বিএফআইইউ বা ব্যাংকের চিঠি, আয়কর রিটার্ন, নিরীক্ষিত হিসাব, এলসি, ইনভয়েস ও কাস্টমসের কাগজপত্র, রেমিট্যান্স ও নগদায়ন সনদ
পরামর্শ: অবরুদ্ধকরণের পর টাকা সরাবেন না বা সম্পত্তি বিক্রি করবেন না। অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ লঙ্ঘন একটি পৃথক অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছর।
ধাপ ৪ · অনুসন্ধান, মামলা ও অবরুদ্ধকরণনির্ধারিত তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধান
কোন সংস্থা পদক্ষেপ নেবে তা নির্ভর করে সম্পৃক্ত অপরাধের ওপর, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিলে তালিকাভুক্ত। দুদক দুর্নীতি ও ঘুষ দেখে। বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি প্রতারণা, জালিয়াতি, মানবপাচার ও চাঁদাবাজিসহ বাকি বেশিরভাগ অপরাধ দেখে। এনবিআর কর-সংক্রান্ত অপরাধ, কাস্টমস চোরাচালান, ডিএনসি মাদক, বিএসইসি ইনসাইডার ট্রেডিং এবং পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশগত অপরাধ দেখে। সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিএফআইইউ কয়েকটি সংস্থা নিয়ে যৌথ তদন্ত দল গঠন করতে পারে। অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু করলে তদন্তকারী সংস্থাকে বিএফআইইউকে জানাতে হয়।
কোথায়: তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: ২-৯ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২(ঠ); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৯(১) ও (৪); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিল, তালিকা ১ এবং বিধি ৫১, ৫৩-৫৪ · কাগজপত্র: বিএফআইইউর রেফারেল, অনুসন্ধানের আদেশ, ব্যাংক, আরজেএসসি, ভূমি অফিস ও কর অফিস থেকে তলব করা রেকর্ড
পরামর্শ: দুদক-পরিচালিত মামলায় কমিশনের অনুমোদনসহ দুদক আইনের পদ্ধতিও অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি নোটিশে কোন সংস্থা স্বাক্ষর করেছে তা যাচাই করুন।
ধাপ ৫ · অনুসন্ধান, মামলা ও অবরুদ্ধকরণব্যাখ্যা ও তথ্য দাখিলের নোটিশ
তদন্ত চলাকালে সংস্থা সন্দেহভাজনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য দিতে লিখিত নোটিশ দিতে পারে। বক্তব্যটি মামলার নথিতে যুক্ত হয়। সংস্থাগুলো ব্যাংক ও কোম্পানির কাছেও তলবপত্র পাঠায়। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বাধা দেওয়া, বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রতিবেদন বা তথ্য দিতে অস্বীকার করা অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা। অর্থের উৎস, নিজের পরিচয়, অথবা কোনো হিসাবের সুবিধাভোগী বা নমিনি সম্পর্কে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের শাস্তি।
কোথায়: তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: নোটিশে উল্লিখিত সময়, সাধারণত ৭-১৫ দিন · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫১(৯)-(১০); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৭; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৮ · কাগজপত্র: বিধি ৫১(৯) অনুযায়ী নোটিশ, সংযুক্ত কাগজপত্রসহ লিখিত বক্তব্য, দাখিলের প্রাপ্তিস্বীকার
পরামর্শ: এই পর্যায়ে ব্যাংক-সত্যায়িত কাগজপত্রসহ সময়মতো দাখিল করা একটি স্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যাই প্রায়ই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
ধাপ ৬ · অনুসন্ধান, মামলা ও অবরুদ্ধকরণসংস্থা কর্তৃক মামলা দায়ের (এজাহার)
মানিলন্ডারিং অপরাধ আমলযোগ্য, আপস-অযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য, তাই তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা এজাহার (FIR) দায়ের করতে এবং পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারেন। কোনো ব্যক্তি সরাসরি আদালতে মানিলন্ডারিংয়ের নালিশ করতে পারেন না। কেউ সংস্থাকে দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আদালত নালিশটি গ্রহণ করে কোনো সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। এজাহারে সাধারণত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ৪(২)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধের উল্লেখ থাকে। একটি সংস্থা সম্পৃক্ত অপরাধ ও মানিলন্ডারিং একসঙ্গে তদন্ত করতে পারে।
কোথায়: তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ১-৩ মাস পর · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১১; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(২); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫২(৩); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ · কাগজপত্র: প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এজাহার), জব্দ তালিকা, বিএফআইইউর গোয়েন্দা সারসংক্ষেপ (সাধারণত প্রকাশ করা হয় না)
পরামর্শ: অপরাধটি আপসযোগ্য না হওয়ায় ব্যাংক বা ভুক্তভোগীর সঙ্গে মীমাংসা হলেও মামলা শেষ হয় না, তবে জামিন ও দণ্ডের ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে।
ধাপ ৭ · অনুসন্ধান, মামলা ও অবরুদ্ধকরণআদালতের অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ
বিএফআইইউর সাময়িক স্থগিতকরণের বাইরে কেবল আদালতই সম্পত্তি অবরুদ্ধ বা ক্রোক করতে পারেন। সম্পত্তির বিবরণ, প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং হস্তান্তরের ঝুঁকি উল্লেখ করে তদন্তকারী সংস্থার লিখিত আবেদনে আদালত বাংলাদেশে বা বিদেশে থাকা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে বা জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার ও যানবাহন ক্রোক করতে পারেন। অপরাধলব্ধ সম্পত্তি শনাক্ত করা না গেলে সমমূল্যের অন্য সম্পত্তি ক্রোক করা যায়। আদেশটি সরকারি গেজেটে এবং দুটি জাতীয় দৈনিকে, একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি, প্রকাশ করা হয়। আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা দায়বদ্ধ করা যায় না।
কোথায়: সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা · সময়: আবেদনের প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে আদেশ · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৪(১)-(৬); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৫; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫০(১)-(২); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২১ · কাগজপত্র: সংস্থার অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোকের আবেদন, সম্পত্তির তফসিল, আদালতের আদেশ, গেজেট ও পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি
পরামর্শ: সম্পত্তিতে স্বার্থ আছে এমন তৃতীয় পক্ষ, যেমন সহ-মালিক বা বন্ধকগ্রহীতা ব্যাংক, তা ফেরত চেয়ে আবেদন করার জন্য প্রকাশের তারিখ থেকে মাত্র ৩০ দিন সময় পায়।
ধাপ ৮ · তদন্ত, অভিযোগপত্র ও জামিনতদন্ত ও আন্তর্জাতিক অনুরোধ
তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগের ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়। তত্ত্বাবধায়ক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লিপিবদ্ধ কারণে তা সর্বোচ্চ ৪৫ কার্যদিবস বাড়াতে পারেন, এরপর কেবল আদালত আরও যুক্তিসংগত সময় দিতে পারেন। কর্মকর্তা দৈনিক কেস ডায়েরি রাখেন, সম্পদের খোঁজে সংস্থার নিজস্ব আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা বিএফআইইউর গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বিদেশের ব্যাংক রেকর্ড সংগ্রহ করতে পারেন। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে সংস্থাকে এ বিষয়ে নিজস্ব আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটরের পরামর্শ নিতে হয়।
কোথায়: তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: ৬০ কার্যদিবস, ৪৫ দিন বাড়ানো যায়, এরপর আদালত সময় দেন; বাস্তবে ৬-২৪ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫১(২)-(৮); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৯(৩); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৬; অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ · কাগজপত্র: কেস ডায়েরি, ব্যাংক ও সম্পদের রেকর্ড, পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ, ফরেনসিক হিসাব প্রতিবেদন
পরামর্শ: আন্তঃসীমান্ত সাক্ষ্য সংগ্রহ ধীরগতির। বিদেশি ব্যাংক জড়িত তদন্ত প্রায়ই বিধিমালার সময়সীমা ছাড়িয়ে যায়।
ধাপ ৯ · তদন্ত, অভিযোগপত্র ও জামিনগ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জামিনের বিশেষ মানদণ্ড
গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকায় দুদক ও অন্যান্য মানিলন্ডারিং মামলার অভিযুক্তকে সাধারণত সিনিয়র স্পেশাল জজের সামনে হাজির করা হয়, যিনি মোট সর্বোচ্চ ১৫ দিন পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দিতে পারেন। সাধারণ মামলার চেয়ে এখানে জামিন পাওয়া কঠিন। আদালত কেবল তখনই জামিন দিতে পারেন, যখন রাষ্ট্রপক্ষকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত সন্তুষ্ট নন যে অভিযুক্ত দোষী বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ আছে। বিকল্পভাবে, ন্যায়বিচার ব্যাহত না হলে নারী, শিশু বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া যায়।
কোথায়: সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা · সময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস; হাইকোর্ট বিভাগে জামিনে প্রায়ই ১-৪ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৩; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(২) (২০২৬ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭-৪৯৮ · কাগজপত্র: জামিনের আবেদন, এজাহার ও আদেশের সার্টিফায়েড কপি, চিকিৎসার কাগজপত্র, অর্থের উৎসের কাগজপত্র
পরামর্শ: ধারা ১৩ অনুযায়ী আসামিপক্ষকে কেবল দুর্ভোগের কথা বললে চলবে না, সাক্ষ্যের দুর্বলতা দেখাতে হবে। বৈধ উৎসের কাগজপত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করুন।
ধাপ ১০ · তদন্ত, অভিযোগপত্র ও জামিননির্ধারিত অনুমোদনসহ অভিযোগপত্র
তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আগে কর্মকর্তাকে তদন্তকারী সংস্থার পূর্বানুমোদন নিতে হয়। দুদকের ক্ষেত্রে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কমিশন, অন্য সংস্থার ক্ষেত্রে সংস্থার প্রধান। অভিযোগপত্রের সঙ্গে অনুমোদনপত্রের কপি দাখিল করতে হয়, তা ছাড়া কোনো আদালত অপরাধ আমলে নিতে পারেন না। সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত হলে সংস্থা এর পরিবর্তে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। অভিযোগপত্রে সাধারণত অভিযুক্ত, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, সম্পৃক্ত অপরাধ, সম্পত্তির লেনদেন-সূত্র এবং বাজেয়াপ্তির জন্য প্রস্তাবিত সম্পত্তির তালিকা থাকে।
কোথায়: তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর) · সময়: তদন্ত শেষ হওয়ার ১-৩ মাস পর · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১২(১)-(২); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫২(১)-(২) ও (৪); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র (পুলিশ প্রতিবেদন), অনুমোদনপত্র, সাক্ষী ও প্রদর্শনীর তালিকা, সম্পত্তির তফসিল
পরামর্শ: অনুমোদনটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসেছে কি না যাচাই করুন। অনুমোদন না থাকা বা ত্রুটিপূর্ণ অনুমোদন চ্যালেঞ্জের একটি স্বীকৃত ভিত্তি।
ধাপ ১১ · তদন্ত, অভিযোগপত্র ও জামিনসিনিয়র স্পেশাল জজের আমলগ্রহণ
মানিলন্ডারিং অপরাধের বিচার কেবল ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ অনুযায়ী নিযুক্ত স্পেশাল জজ করতে পারেন। ঢাকায় সিনিয়র স্পেশাল জজ অপরাধ আমলে নিয়ে মামলাটি কোনো স্পেশাল জজ আদালতে বদলি করেন। আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন, তবে তখন নতুন প্রতিবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হয়। আদালত অনুপস্থিত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রসেস জারি করেন এবং গেজেট বিজ্ঞপ্তির পর পলাতকদের বিরুদ্ধে বিচার চালাতে পারেন। কোম্পানির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোম্পানিকেও অভিযুক্ত করা যায়।
কোথায়: সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা · সময়: ১-৩ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৯(২); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১০(১)-(২); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৪(১)-(৩); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৬(১ক); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৭ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র ও অনুমোদন, আমলগ্রহণের আদেশ, পরোয়ানা, সমন ও গেজেট বিজ্ঞপ্তি
পরামর্শ: আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিলে ছয় মাসের সময়সীমা লিখে রাখুন এবং মেয়াদ শেষ হলে শুনানির জন্য চাপ দিন।
ধাপ ১২ · স্পেশাল জজের সামনে বিচারঅভিযোগ শুনানি: অব্যাহতি বা অভিযোগ গঠন
স্পেশাল জজ দায়রা আদালতের পদ্ধতি অনুসরণ করেন। নথির ভিত্তিতে উভয় পক্ষের শুনানির পর পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন। প্রাথমিকভাবে মামলা প্রতিষ্ঠিত হলে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ৪(২) ও যেকোনো সম্পৃক্ত অপরাধে লিখিত অভিযোগ গঠন করে তা পড়ে শোনান এবং অভিযুক্তের জবাব চান। আসামিপক্ষ প্রায়ই যুক্তি দেয় যে লেনদেনগুলো বৈধ ব্যবসা ছিল, অথবা কথিত সম্পৃক্ত অপরাধের আগেই সম্পত্তি অর্জিত হয়েছিল। বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়ায় এই পর্যায়ে কয়েকটি শুনানি লাগতে পারে।
কোথায়: স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: ২-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৬(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ ও ২৬৫ঘ; ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৫(৭) · কাগজপত্র: অব্যাহতির আবেদন, গঠিত অভিযোগ, আদেশের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: অব্যাহতির যুক্তি রাষ্ট্রপক্ষের নিজস্ব কাগজপত্রের ওপর ভিত্তি করে দিতে হবে। এই পর্যায়ে আদালত আসামিপক্ষের নতুন সাক্ষ্য বিবেচনা করেন না।
ধাপ ১৩ · স্পেশাল জজের সামনে বিচাররাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও আসামিপক্ষের সাফাই
ব্যাংক কর্মকর্তা, বিএফআইইউর বিশ্লেষক, তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিদেশি সাক্ষ্য, যদি থাকে, উপস্থাপন করা হয় এবং জেরা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষকে প্রমাণ করতে হয় যে সম্পত্তিটি অপরাধলব্ধ এবং অভিযুক্ত জেনেশুনে তা রূপান্তর, হস্তান্তর, গোপন বা অর্জন করেছেন। সম্পৃক্ত অপরাধে আগে দণ্ড হওয়ার প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২ অনুযায়ী অভিযুক্তকে পরীক্ষা করা হয়, এবং তিনি নিরীক্ষক ও ব্যবসায়িক অংশীদারের মতো নিজের সাক্ষী হাজির করতে পারেন। এরপর চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক হয়, যেখানে আসামিপক্ষ শেষে বক্তব্য দেয়।
কোথায়: স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী ১-৪ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫চ-২৬৫ঝ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৫); ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৮ · কাগজপত্র: জবানবন্দি, প্রদর্শিত ব্যাংক ও বাণিজ্যিক রেকর্ড, আসামিপক্ষের কাগজপত্র, লিখিত যুক্তিতর্ক
পরামর্শ: অর্থের লেনদেন-সূত্র ব্যাখ্যা করে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য প্রায়ই নির্ণায়ক হয়। সাফাই পর্যায়ের অনেক আগেই এটি প্রস্তুত করুন।
ধাপ ১৪ · রায়, বাজেয়াপ্তকরণ ও কার্যকরকরণরায়, দণ্ড ও বাজেয়াপ্তকরণ
দণ্ডিত হলে একজন ব্যক্তির ৪ থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের দ্বিগুণ বা ১০ লাখ টাকা, যেটি বেশি, জরিমানা হয়। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের জরিমানা মূল্যের অন্তত দ্বিগুণ বা ২০ লাখ টাকা, যেটি বেশি, এবং এর নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। আদালত বাংলাদেশে বা বিদেশে অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি, সমমূল্যের অন্য সম্পত্তি বা মিশ্র তহবিল বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। পরোয়ানা জারির পর অভিযুক্ত ছয় মাস পলাতক থাকলে, অথবা অভিযোগপত্রের পর মারা গেলে, তবুও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যায়।
কোথায়: স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: যুক্তিতর্কের পর সাধারণত ২-৮ সপ্তাহের মধ্যে রায় · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(২)-(৪); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৭(১)-(৮); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ট · কাগজপত্র: রায় ও দণ্ড, সম্পত্তির তফসিলসহ বাজেয়াপ্তির আদেশ, আপিলের জন্য সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ২২ অনুযায়ী আপিলের সময় মাত্র ৩০ দিন, অনেক ফৌজদারি আপিলে প্রযোজ্য ৬০ দিন নয়। অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন।
ধাপ ১৫ · রায়, বাজেয়াপ্তকরণ ও কার্যকরকরণবাজেয়াপ্তকরণ কার্যকর করা ও তৃতীয় পক্ষের দাবি
বাজেয়াপ্তির নোটিশ রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠানো হয় এবং গেজেট ও দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হয়। এরপর মালিকানা রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত হয়, এবং দখলকারীকে দখল হস্তান্তর করতে হয়। সম্পত্তি যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসক আদেশ কার্যকর করেন। স্বত্ব বা স্বার্থ আছে এমন তৃতীয় পক্ষ শেষ পত্রিকা বিজ্ঞপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারেন। আদালত তখন বিবেচনা করেন সম্পত্তিটি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল কি না এবং দাবিদার তা বৈধভাবে অর্জন করেছেন কি না। আদালতের অনুমতি নিয়ে সরকার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে পারে।
কোথায়: স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত) · সময়: ৬-২৪ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৭(৬)-(৭); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৮; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২০; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ৫০(৫) · কাগজপত্র: বাজেয়াপ্তির নোটিশ, স্বত্বের দলিলসহ তৃতীয় পক্ষের আবেদন, নিলাম বিজ্ঞপ্তি
পরামর্শ: মূল্য পরিশোধ করে সরল বিশ্বাসে কেনা ক্রেতারা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত না করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে বিক্রয়মূল্য জমা দেওয়ার আদেশ দিতে আদালতকে অনুরোধ করতে পারেন (ধারা ১৭(৪))।
যদি এমন হয়…? মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
অভিযুক্ত দণ্ডিত হলে, বা রাষ্ট্রপক্ষ হেরে গেলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
এই আইনের অধীন কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডে সংক্ষুব্ধ যেকোনো পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। এটি অন্যান্য আইনের দীর্ঘতর মেয়াদের ওপর প্রাধান্য পায়। হাইকোর্ট বিভাগ তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই সাক্ষ্য পুনর্বিবেচনা করেন। আপিল গ্রহণের সময় ধারা ১৩-এর মানদণ্ড প্রয়োগ করে লিপিবদ্ধ কারণে দণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারেন। আদালত দণ্ড, জরিমানা ও বাজেয়াপ্তকরণ বহাল, হ্রাস বা রদ করতে পারেন।
৩০ দিনের মধ্যে দায়ের; শুনানি প্রায়ই ২-৫ বছর পরমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২২ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১)(ক)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত স্পেশাল জজের রায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়, আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি সাপেক্ষে।
বিচারের আগে কি অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোকের বিরুদ্ধে আইনি আপিল
আদালতের অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্ন আদেশ না দিলে আপিল চলাকালে অবরুদ্ধকরণ বহাল থাকে। বাজেয়াপ্তির আদেশের বিরুদ্ধেও পৃথকভাবে ৩০ দিনের আপিল চলে। তৃতীয় পক্ষ এর পরিবর্তে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যেই সম্পত্তি ফেরতের জন্য বিচারিক আদালতে আবেদন করতে পারে।
৩০ দিনের মধ্যে দায়ের; শুনানি ৩-১৮ মাসমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৬(১)-(৩)মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৯মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫ - 2সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা
আবার প্রথম আদালতে
হাইকোর্ট বিভাগ অবরুদ্ধকরণ পরিবর্তন করলে, যেমন বেতন হিসাব ছেড়ে দিলে বা শর্তসাপেক্ষে ব্যবসায়িক হিসাব চালুর অনুমতি দিলে, বিচারিক আদালত তা পালনের তত্ত্বাবধান করেন। এর মধ্যে তদন্ত ও বিচার চলতে থাকে। আপিল খারিজ হলে রায় পর্যন্ত, বা পরবর্তী কোনো মুক্তির আবেদন সফল না হওয়া পর্যন্ত, সম্পত্তি অবরুদ্ধ থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৪(৫)-(৬)মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ফৌজদারি মামলা চলাকালে সম্পত্তি অবরুদ্ধ থাকে, অথবা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্পেশাল জজের অন্তর্বর্তী আদেশ কি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ফৌজদারি রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী কার্যধারা বাতিল
স্পেশাল জজের আপিল আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনের ক্ষমতাও আছে। অভিযুক্ত অভিযোগ গঠন, অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর, অথবা ধারা ১২-এর অনুমোদন ছাড়া অপরাধ আমলে নেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। যে কার্যধারায় কোনো মানিলন্ডারিং অপরাধ প্রকাশ পায় না বা যা আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, তা বাতিলের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক অনুযায়ীও আবেদন করা যায়। রুলের শুনানি চলাকালে বিচার স্থগিত থাকতে পারে।
কয়েক সপ্তাহে রুল ও স্থগিতাদেশ; নিষ্পত্তি ৬-২৪ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(১ক)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১কমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১২ - 2স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
বিচার আবার শুরু হয় বা শেষ হয়
রুল খারিজ হলে স্থগিতাদেশ উঠে যায় এবং স্পেশাল জজ যে পর্যায়ে ছিলেন সেখান থেকে বিচার চালান; ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ সাক্ষীদের আবার শুনতে হয় না। রুল চূড়ান্ত হলে কার্যধারা বা অভিযোগ বাতিল হয়, অথবা আদেশটি সংশোধন হয়। এরপর যেকোনো পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগের অনুমতি চাইতে পারে।
নথি ফেরত আসতে ১-২ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৮সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (ফৌজদারি লিভ পিটিশন)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সংশোধিত ভিত্তিতে বিচার চলতে থাকে, অথবা হাইকোর্ট বিভাগ কার্যধারা বাতিল করলে শেষ হয়।
একই আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারেন?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
নিম্ন আদালতে রিভিউ নেই; আপিল বিভাগে সীমিত রিভিউ
ফৌজদারি আদালত করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না, তাই স্পেশাল জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ কেউই মানিলন্ডারিং মামলার রায় রিভিউ করেন না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী আপিল বিভাগ নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন। ফৌজদারি বিষয়ে এটি নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের মধ্যে সীমিত, এবং দরখাস্ত ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়।
আপিল বিভাগের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে দায়েরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬, বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ নথিতে সুস্পষ্ট ভুল না পেলে রায় বহাল থাকে।
হাইকোর্ট বিভাগে কি কোনো রেফারেন্স হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ডেথ রেফারেন্স বা স্টেটেড কেস নেই
মানিলন্ডারিংয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছর, তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্সের প্রশ্ন ওঠে না। ধারা ৪৩২-৪৩৩ বিলুপ্ত হওয়ায় বিচারিক আদালতের পক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে আইনগত প্রশ্ন পাঠানোর কোনো পদ্ধতি ফৌজদারি কার্যবিধিতে আর নেই। আইনগত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে যায় আপিল, রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর মাধ্যমে, এবং হাইকোর্ট বিভাগ এক স্পেশাল জজ থেকে অন্য স্পেশাল জজের কাছে মামলা বদলি করতে পারেন।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(২)ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ১০(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কোনো রেফারেন্স পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়; মামলা ওপরে যায় কেবল আপিল, রিভিশন, ধারা ৫৬১ক বা বদলির মাধ্যমে।
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
দণ্ড রদ এবং মামলা ফেরত
বিদেশি ব্যাংকের রেকর্ড যথাযথ প্রমাণ ছাড়া গৃহীত হলে, বাজেয়াপ্তির তফসিল অস্পষ্ট হলে, বা অভিযুক্ত ন্যায্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পেলে হাইকোর্ট বিভাগ খালাস না দিয়ে দণ্ড রদ করে পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। আদালত নির্দেশনাসহ নথি স্পেশাল জজের কাছে ফেরত পাঠান, প্রায়ই নির্দিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে।
আপিলের শেষেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২২ - 2স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
পুনর্বিচার ও নতুন রায়
স্পেশাল জজ অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন বা হাইকোর্ট বিভাগের চিহ্নিত অংশগুলোর পুনঃশুনানি করেন, এবং আগে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য সাধারণত বহাল থাকে। হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্ন কিছু না বললে অবরুদ্ধকরণ ও ক্রোক আদেশ সাধারণত বহাল থাকে। এরপর আদালত দোষ ও বাজেয়াপ্তকরণ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্তসহ নতুন রায় দেন।
৬-২৪ মাসফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৮মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৪(৫) - 3হাইকোর্ট বিভাগ
আবার হাইকোর্ট বিভাগে নতুন আপিল
নতুন রায়ের বিরুদ্ধে ধারা ২২ অনুযায়ী আবার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়: দণ্ডিত হলে অভিযুক্ত, আর খালাস হলে প্রসিকিউটরের মাধ্যমে তদন্তকারী সংস্থা। দ্বিতীয় আপিলের শুনানি হয় পুনর্বিচারের নথি এবং আগের ফেরত-সংক্রান্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে। হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের পর হেরে যাওয়া পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে অনুমতির আবেদন করতে পারে।
আরও ১-৪ বছরমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২২সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচারের পর মামলা আবার হাইকোর্ট বিভাগে ওঠে এবং এরপর আপিল বিভাগে যেতে পারে।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে যায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন (লিভ পিটিশন)
হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ, তা অভিযুক্ত, কোম্পানি, তৃতীয় পক্ষ দাবিদার বা রাষ্ট্র যে-ই হোক, ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন দাখিল করতে পারে। অনুমতি মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ মূলত আইনগত প্রশ্ন, আইনের ব্যাখ্যা এবং সাক্ষ্যের গুরুতর ভুল পাঠের বিষয়ে ফৌজদারি আপিলের শুনানি করেন। এর রায় বাংলাদেশের সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
৩০ দিনের মধ্যে দায়ের; অনুমতিতে ৩-১৮ মাস; আপিলে ১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (ফৌজদারি লিভ পিটিশন)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, কেবল নিজস্ব রিভিউ সাপেক্ষে।
মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়ায় আদালতের ধাপ কম। গোয়েন্দা তথ্য আসে ব্যাংক ও বিএফআইইউ থেকে, যারা আদালত নয়। তদন্তকারী সংস্থা নির্ধারিত হয় বিষয় অনুযায়ী: দুর্নীতি-সংক্রান্ত সম্পৃক্ত অপরাধে দুদক, পুলিশের তদন্তযোগ্য বেশিরভাগ সম্পৃক্ত অপরাধে সিআইডি, এবং নিজ নিজ বিষয়ে এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর। সংস্থা যা-ই হোক এবং অঙ্ক যত-ই হোক, কোনো আর্থিক সীমা নেই, এবং বিচারের ফোরাম সবসময় ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ অনুযায়ী নিযুক্ত একজন স্পেশাল জজ। ঢাকায় সিনিয়র স্পেশাল জজ অপরাধ আমলে নেন এবং বেশিরভাগ অবরুদ্ধকরণ ও রিমান্ডের আবেদনও নিষ্পত্তি করেন। কোনো ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায় নেই, দায়রা আদালতে আপিলও নেই।
প্রতিটি আপিল, তা অবরুদ্ধকরণ আদেশ, বাজেয়াপ্তির আদেশ বা চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে হোক, ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, যেখানে তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই পুনঃশুনানি হয় এবং আদালতের রিভিশন ও ধারা ৫৬১ক-এর ক্ষমতাও আছে। আপিল বিভাগ কেবল অনুমতি সাপেক্ষে, মূলত আইনগত প্রশ্নে আপিল শোনেন, এবং এর সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতসিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা · স্পেশাল জজ আদালত (বিচারিক আদালত)
- শুরু · আদালতের বাইরেব্যাংক বা অন্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা · বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) · আসামিপক্ষের আইনজীবীর চেম্বার · তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা
ঢাকার আদালত এলাকা, জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) দায়ের করা দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলার বিচার করে।
মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন (মূল ভবন, ৪০-৪৫ জনসন রোড)। নম্বরযুক্ত স্পেশাল জজ আদালতগুলোর এজলাসের অবস্থান প্রকাশিত নয়, এবং আলোচিত মামলায় অন্যত্র অস্থায়ী আদালতও বসেছে; কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় একজন সিনিয়র স্পেশাল জজ (দায়রা জজ) ও স্পেশাল জজ আছেন।
ব্যাংক বা অন্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর অধীন সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন গ্রহণ করে, হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করে এবং আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে।
বিএফআইইউ (BFIU) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে কাজ করে; bfiu.org.bd ও bb.org.bd খোলা যায়নি, তাই ঠিকানা কেবল পরোক্ষ সূত্র থেকে নেওয়া।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
তদন্তকারী সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- বিএফআইইউ (BFIU)
- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, যা সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে এবং ৩০ দিন করে হিসাব স্থগিত রাখতে পারে।
- এসটিআর (STR)
- রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা কর্তৃক বিএফআইইউতে দাখিল করা সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট।
- সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate offence)
- যে মূল অপরাধ থেকে অর্থের উৎপত্তি, যেমন দুর্নীতি, প্রতারণা, চোরাচালান বা কর ফাঁকি।
- তদন্তকারী সংস্থা (Investigating agency)
- সম্পৃক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সংস্থা (দুদক, সিআইডি, এনবিআর, কাস্টমস, ডিএনসি, বিএসইসি বা পরিবেশ অধিদপ্তর), যারা এককভাবে তদন্ত ও মামলা পরিচালনা করতে পারে।
- অবরুদ্ধকরণ ও ক্রোক (Freezing and attachment)
- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৪ অনুযায়ী আদালতের আদেশ, যা মামলা চলাকালে সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রি বা দায়বদ্ধ করা বন্ধ রাখে।
- বাজেয়াপ্তকরণ (Confiscation)
- কার্যধারার পর, বা কিছু ক্ষেত্রে চলাকালে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়া।
- অনুমোদন (Sanction)
- অপরাধ আমলে নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন (দুদকের ক্ষেত্রে কমিশন, অন্যদের ক্ষেত্রে সংস্থার প্রধান)।
- স্পেশাল জজ (Special Judge)
- ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী নিযুক্ত দায়রা পর্যায়ের বিচারক, যাঁর মানিলন্ডারিং অপরাধের বিচারের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে।
- যৌথ তদন্ত দল (Joint investigation team)
- জটিল মামলার জন্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিএফআইইউ কর্তৃক গঠিত কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তাদের দল।
মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন
আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই আমার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এটা কি বৈধ?
বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত কে করে?
আগে কি সম্পৃক্ত অপরাধে দণ্ড হতে হবে?
মানিলন্ডারিং মামলায় জামিন পাওয়া কতটা কঠিন?
দণ্ডিত হলে শাস্তি কী?
আপিল করার জন্য কত দিন সময় পাব?
পরিবারের কোনো সদস্য কি অবরুদ্ধ সম্পত্তি ছাড়িয়ে নিতে পারেন?
বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং মামলার প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Money Laundering Prevention Act 2012 (Bangla text, Laws of Bangladesh)
- BFIU: Acts and Rules (MLPA 2012 and MLP Rules 2019)
- Criminal Law Amendment Act 1958 (Laws of Bangladesh)
- Code of Criminal Procedure 1898, as amended (Laws of Bangladesh)
- Anti-Corruption Commission Act 2004 (Laws of Bangladesh)
- The Financial Express (22 January 2026): Amending Money Laundering Prevention Act
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।