বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়া: পুরো যাত্রাপথ, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/ফৌজদারি

বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়া: পুরো যাত্রাপথ, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি বা কোস্ট গার্ডের অভিযান বা গ্রেপ্তার দিয়ে, এরপর জব্দতালিকা, এজাহার এবং উদ্ধারকৃত দ্রব্যের রাসায়নিক পরীক্ষা। মামলার বিচার হয় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, হয় নির্ধারিত আদালতে, অথবা পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজার অপরাধে, যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে।

জামিন ধারা ৪৭ দ্বারা সীমিত, বিচার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, এবং আপিল ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
অভিযান, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৫টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৮টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
গ্রেপ্তার বা অভিযানের স্থান, তারপর থানা বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়, যেখানে এজাহার রেকর্ড হয়
মূল আইন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৬৩ নং আইন), ২০২০ সালে এবং ২০২৬ সালের ১০১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত; ফৌজদারি কার্যবিধি…
সাধারণ সময়কাল
নির্দেশক হিসেবে, ৯০ কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রা সত্ত্বেও ঢাকায় প্রথম ধাপে ১ থেকে ৪ বছর; হাইকোর্ট বিভাগে আপিলে প্রায়ই ২…
কে মামলা করতে পারেন
মামলা সাধারণত শুরু করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড বা কাস্টমসের অভিযানকারী…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৫টি ধাপ

মাদক মামলার প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. মাদক মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ১, অভিযান, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার
    ধাপ ১ · অভিযান, গ্রেপ্তার ও জব্দ

    অভিযান, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার

    বেশিরভাগ মাদক মামলা শুরু হয় অভিযান দিয়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC)-এর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-পরিদর্শক (এসআই) বা তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বা তার ঊর্ধ্বতন, বিজিবির ল্যান্স নায়েক বা তার ঊর্ধ্বতন, অথবা কোস্ট গার্ডের পেটি অফিসার কোনো স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, হচ্ছে বা হতে পারে বলে বিশ্বাস করলে পরোয়ানা ছাড়াই সেখানে তল্লাশি করতে পারেন। তাঁদের আগে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে, এবং রাতে তল্লাশির জন্য লিপিবদ্ধ বিশ্বাস থাকতে হবে যে অন্যথায় সাক্ষ্য নষ্ট হবে বা অপরাধী পালিয়ে যাবে। জনসমাগমের স্থান ও যানবাহনে লিপিবদ্ধ যুক্তিসংগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁরা তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারেন।

    পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তা কাউকে গ্রেপ্তার করলে তাঁকে দ্রুত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    কোথায়: থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস · সময়: কয়েক ঘণ্টা · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২১; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৩(১)-(২); মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৯(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ · কাগজপত্র: তল্লাশির লিখিত কারণ, দেহ তল্লাশির রেকর্ড

    পরামর্শ: পরিবারের সদস্যদের উচিত সঙ্গে সঙ্গে সময়, স্থান, সংস্থা ও কর্মকর্তাদের নাম লিখে রাখা। গ্রেপ্তারের সময় ও জব্দতালিকার সময়ের মধ্যে ফারাক আসামিপক্ষের একটি সাধারণ যুক্তি।

  2. মাদক মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ২, জব্দতালিকা ও নমুনা
    ধাপ ২ · অভিযান, গ্রেপ্তার ও জব্দ

    জব্দতালিকা ও নমুনা

    কর্মকর্তা একটি জব্দতালিকা তৈরি করেন, যেখানে কী পাওয়া গেছে, তার পরিমাণ বা ওজন, কোথায় পাওয়া গেছে এবং কার দখলে ছিল তা লেখা থাকে। তল্লাশির সময় উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের তালিকায় সই করতে হয়, এবং পরে তাঁরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে সিলগালা করা হয়। বড় আকারের বা বিপজ্জনক দ্রব্য নমুনা ও পরিমাণের প্রমাণ রেখে হস্তান্তর করা যায়। ২০২৬ থেকে ডিএনসি-র নিজস্ব মালখানা (আলামত ভান্ডার) আছে, এবং আদালতের বাজেয়াপ্তির আদেশের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জব্দকৃত মাদক ধ্বংস করতে হয়।

    কোথায়: থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস · সময়: অভিযান চলাকালে · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৯(৩); মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৮ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত) · কাগজপত্র: জব্দতালিকা, সিলগালা করা নমুনা, অভিযানের ছবি বা ভিডিও

    পরামর্শ: জব্দতালিকায় লেখা ওজনই প্রায়ই সাজার স্তর ও আদালত নির্ধারণ করে। মোড়কসহ ওজন করা হয়েছে কি না যাচাই করুন।

  3. মাদক মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ৩, থানায় এজাহার
    ধাপ ৩ · অভিযান, গ্রেপ্তার ও জব্দ

    থানায় এজাহার

    মাদক সংক্রান্ত সব অপরাধ আমলযোগ্য। অভিযানকারী কর্মকর্তা সাধারণত বাদী হিসেবে স্থানীয় থানায় এজাহার (FIR) দায়ের করেন। প্রতিটি থানায় এখন দ্রুত মাদক মামলা রেকর্ড করতে ও মাসিক ভিত্তিতে ডিএনসি-কে প্রতিবেদন দিতে একটি বিশেষ সেল আছে। ডিএনসি নিজে অভিযান চালালে তদন্তে তার কর্মকর্তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা পান। এজাহারে অভিযুক্ত, দ্রব্য ও পরিমাণের উল্লেখ এবং জব্দতালিকার সাক্ষীদের তালিকা থাকে। বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষের প্রথম কাজ এজাহারের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা।

    কোথায়: থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস · সময়: একই দিন · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৬; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৯(১ক); মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ · কাগজপত্র: এজাহার, জব্দতালিকা, গ্রেপ্তার স্মারক

    পরামর্শ: এজাহার, জব্দতালিকা ও গ্রেপ্তার স্মারক লাইন ধরে মিলিয়ে দেখুন। সময়, স্থান বা সাক্ষীর অসংগতিই খালাসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

  4. মাদক মামলার প্রক্রিয়া: ধাপ ৪, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির ও রিমান্ড
    ধাপ ৪ · প্রথম হাজিরা ও জামিন

    ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির ও রিমান্ড

    গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। সরবরাহকারীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রায়ই রিমান্ড চায়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর ২০২৫ সালের সংশোধনী, যা ২০২৬ সালের আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে, অনুযায়ী পুলিশ হেফাজত মোট পনেরো দিনের বেশি হতে পারে না, এবং এর পরের আটক হতে হবে কারাগারে। কোনো রিমান্ড মঞ্জুরের আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে কেস ডায়েরি ও কারণ পরীক্ষা করতে হবে। আসামিপক্ষের আইনজীবীর উচিত রিমান্ডের বিরোধিতা করা, কোনো আঘাত থাকলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চাওয়া এবং একই শুনানিতে জামিনের আবেদন করা।

    কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, ঢাকা · সময়: গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ (২০২৫/২০২৬ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ক; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩ · কাগজপত্র: ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদন, কেস ডায়েরি, রিমান্ডের আবেদন

    পরামর্শ: অভিযুক্ত আগে থেকেই অন্য মামলায় হেফাজতে থাকলে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আগে পুলিশকে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।

  5. ধাপ ৫: ছোট মামলায় মোবাইল কোর্ট
    ধাপ ৫ · প্রথম হাজিরা ও জামিন

    ছোট মামলায় মোবাইল কোর্ট

    সেবন বা খুব অল্প পরিমাণ বহনের মতো ছোট মাদক অপরাধ প্রায়ই মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই নিষ্পত্তি করেন। মোবাইল কোর্ট কেবল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত অপরাধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এবং মোবাইল কোর্ট আইনের সীমার মধ্যে কেবল অভিযুক্তের লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ড দিতে পারে। অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলে বিষয়টি নিয়মিত আদালতে যায়। আপিল প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এবং পরে দায়রা জজের কাছে যায়।

    কোথায়: থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস · সময়: একই দিন · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৭; মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬(১); মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭; মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৩ · কাগজপত্র: লিখিত স্বীকারোক্তি, মোবাইল কোর্টের আদেশ

    পরামর্শ: না বুঝে কখনো স্বীকারোক্তিতে সই করবেন না। স্বাক্ষরিত স্বীকারোক্তিই মোবাইল কোর্টের দণ্ড দেওয়ার একমাত্র ভিত্তি।

  6. ধাপ ৬: কঠোর ধারা ৪৭-এর অধীনে জামিন
    ধাপ ৬ · প্রথম হাজিরা ও জামিন

    কঠোর ধারা ৪৭-এর অধীনে জামিন

    বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়ায় জামিনই সবচেয়ে কঠিন ধাপ। ধারা ৪৭ অনুযায়ী কাউকে মুক্তি দেওয়ার আগে আদালতকে রাষ্ট্রপক্ষকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। মামলার শক্তিও বিবেচনা করতে হবে, যদিও নারী, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বেশি নমনীয়তা দেখানো হয়। অল্প পরিমাণের মামলায় প্রায়ই ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারিক আদালত থেকে জামিন মেলে। বেশি পরিমাণের ও ট্রাইব্যুনালের মামলায় সাধারণত হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হয়। তদন্তের পর আপিল আদালতসহ যেকোনো আদালত কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারেন, যদি তিনি জড়িত নন বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ পান।

    কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, ঢাকা · সময়: ১ দিন থেকে কয়েক মাস · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ (২০২৬ সালে সংশোধিত) · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, এজাহার ও জব্দতালিকা, অসুস্থ হলে চিকিৎসার কাগজপত্র, জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র

    পরামর্শ: নির্দিষ্ট দুর্বলতা তুলে ধরুন, যেমন অনুপস্থিত সাক্ষী, ব্যাখ্যাহীন ওজন বা দেরিতে আসা রাসায়নিক প্রতিবেদন। সাধারণ দুর্ভোগের কথা আদালতকে খুব কমই প্রভাবিত করে।

  7. ধাপ ৭: রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন
    ধাপ ৭ · তদন্ত ও রাসায়নিক প্রতিবেদন

    রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন

    সিলগালা করা নমুনা ডিএনসি-র রাসায়নিক পরীক্ষাগারে বা প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো সরকারি পরীক্ষাগারে যায়। রাসায়নিক পরীক্ষক পরীক্ষা করে দেখেন দ্রব্যটি মাদক কি না, তা শনাক্ত করেন এবং পরিমাণ নিশ্চিত করেন। রাসায়নিক পরীক্ষকের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন পরীক্ষককে তলব না করেই প্রতিটি পর্যায়ে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যদিও আসামিপক্ষ পরীক্ষককে তলবের আবেদন করতে পারে। ইতিবাচক রাসায়নিক প্রতিবেদন ছাড়া মাদক মামলা সাধারণত টেকে না, কারণ আদালত কেবল অভিযানকারী দলের বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে পারেন না।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাসায়নিক পরীক্ষাগার · সময়: ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাস · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১০ · কাগজপত্র: নমুনা প্রেরণ স্মারক, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন

    পরামর্শ: নমুনা প্রেরণ স্মারকের সিল নম্বর জব্দতালিকার সঙ্গে মেলে কি না যাচাই করুন। নমুনার হেফাজত-শৃঙ্খলে ছেদ পড়লে প্রতিবেদন দুর্বল হয়ে যায়।

  8. ধাপ ৮: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত
    ধাপ ৮ · তদন্ত ও রাসায়নিক প্রতিবেদন

    নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত

    অভিযুক্ত হাতেনাতে ধরা পড়লে গ্রেপ্তারের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। অন্য ক্ষেত্রে প্রথম তথ্য বা তদন্তের আদেশ থেকে সীমা ৬০ কর্মদিবস। তদন্তকারী কর্মকর্তা কারণ লিপিবদ্ধ করে আরও ১৫ কর্মদিবস নিতে পারেন। তবুও তদন্ত শেষ না হলে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা বা আদালত তা অন্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করতে পারেন, যিনি ১৫ বা ৩০ কর্মদিবস পান। ব্যাখ্যাহীন দেরি অদক্ষতা বা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়। ডিএনসি তদন্তভার নিজের কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের অনুরোধও করতে পারে।

    কোথায়: থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস · সময়: আইন অনুযায়ী ১-৪ মাস; প্রায়ই আরও বেশি · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩১; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ · কাগজপত্র: কেস ডায়েরি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, রাসায়নিক প্রতিবেদন

    পরামর্শ: তদন্তের সময়সীমা পার হলে মামলা শেষ হয় না, তবে তা জামিনের পক্ষে যুক্তি দেয় এবং প্রতিটি শুনানিতে তোলা উচিত।

  9. ধাপ ৯: আর্থিক অনুসন্ধান, হিসাব ও অনলাইন কারবার
    ধাপ ৯ · তদন্ত ও রাসায়নিক প্রতিবেদন

    আর্থিক অনুসন্ধান, হিসাব ও অনলাইন কারবার

    কারবারি বা পাচারের মামলায় তদন্তকারীরা ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব পরীক্ষা করেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে তা অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করতে পারেন। অভিযুক্তের সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। ২০২৬ সালের সংশোধনী সরকারকে ডিএনসি-র মধ্যে একটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সেল এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবসহ একটি মাদক-সংক্রান্ত সাইবার অপরাধ ইউনিট গঠনের সুযোগ দিয়েছে। এটি ধারা ৩৬ক-তে একটি নতুন অপরাধও যুক্ত করেছে: অনলাইনে মাদক বিক্রি, প্রস্তাব বা বিজ্ঞাপন দেওয়া, অথবা ই-ওয়ালেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ, যার সাজা যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা; এটি প্রমাণে অভিযুক্তের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার অপরিহার্য নয়।

    ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা যায়।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাসায়নিক পরীক্ষাগার · সময়: ১-৬ মাস · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৩; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৪; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৫ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত) · কাগজপত্র: ব্যাংক ও বিকাশ স্টেটমেন্ট, অবরুদ্ধকরণের আদেশ, ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন

    পরামর্শ: পরিবারের কোনো সদস্যের অবরুদ্ধ হিসাব অর্থের বৈধ উৎস দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

  10. ধাপ ১০: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
    ধাপ ১০ · তদন্ত ও রাসায়নিক প্রতিবেদন

    অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন

    তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত, পরিমাণ ও সাজার স্তর উল্লেখ করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন, অথবা অভিযোগ সমর্থিত না হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেন। আদালত প্রতিবেদন বিবেচনা করেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হলে তথ্যদাতা নারাজি দিতে পারেন, এবং আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। অভিযোগপত্রে নাম থাকা কিন্তু গ্রেপ্তার না হওয়া অভিযুক্তদের সমন বা পরোয়ানা জারি হয়। অভিযোগপত্রে উল্লিখিত পরিমাণ ও মাদকের শ্রেণি এখন কোন আদালতে বিচার হবে তাও নির্ধারণ করে।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত · সময়: শুনানি: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র, রাসায়নিক প্রতিবেদন, সাক্ষীর তালিকা

    পরামর্শ: অভিযোগপত্রের পরিমাণ রাসায়নিক প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এখানে ভুল হলে সাজার স্তর বদলে যায়।

  11. ধাপ ১১: কোন আদালতে বিচার হবে
    ধাপ ১১ · বিচার

    কোন আদালতে বিচার হবে

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী মামলা নির্ধারিত আদালতে পাঠায়। দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মুখ্য মহানগর হাকিম কেবল মাদক মামলার বিচারের জন্য আদালত নির্ধারণ করেন। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সরকার পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের জন্য মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে, যার প্রতিটিতে একজন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ থাকেন। কোনো এলাকায় ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে ওই মামলাগুলো যে পর্যায়ে আছে সেই পর্যায়েই সেখানে স্থানান্তরিত হয়। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা তার কম সাজার অপরাধের বিচার হয় সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৮(১); ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ · কাগজপত্র: বদলির আদেশ, মামলার নথি

    পরামর্শ: আপনার জেলায় ট্রাইব্যুনাল বাস্তবে কাজ শুরু করেছে কি না যাচাই করুন। তা না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত আদালতেই মামলা থাকে।

  12. ধাপ ১২: অব্যাহতি বা অভিযোগ গঠন
    ধাপ ১২ · বিচার

    অব্যাহতি বা অভিযোগ গঠন

    বিচারের আগে আদালত নথির ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে শোনেন। দায়রা পর্যায়ের আদালত বা ট্রাইব্যুনালে যথেষ্ট ভিত্তি না থাকলে ধারা ২৬৫গ অনুযায়ী অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; অন্যথায় ধারা ২৬৫ঘ অনুযায়ী অভিযোগ গঠন করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সমতুল্য বিধান ধারা ২৪১ক ও ২৪২। অভিযোগে মাদক, পরিমাণ এবং সাজা নির্ধারণকারী ধারা ৩৬(১)-এর সারণির ক্রমিক উল্লেখ থাকে। অভিযুক্ত দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করেন। বেশিরভাগ অভিযুক্ত দোষ অস্বীকার করেন, এবং মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত হয়।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫গ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ঘ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪২; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(১) · কাগজপত্র: অব্যাহতির দরখাস্ত, অভিযোগ (চার্জ)

    পরামর্শ: অভিযোগে পরিমাণ বা মাদকের শ্রেণি বাড়িয়ে দেখানো হলে এই পর্যায়েই সারণির ক্রমিক চ্যালেঞ্জ করুন।

  13. ধাপ ১৩: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য
    ধাপ ১৩ · বিচার

    রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য

    রাষ্ট্রপক্ষ অভিযানকারী কর্মকর্তা, জব্দতালিকার সাক্ষী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনে রাসায়নিক পরীক্ষককে সাক্ষী হিসেবে তলব করে। আইন অনুযায়ী মাদক বা মাদক তৈরির সরঞ্জামসহ পাওয়া ব্যক্তি অন্যথা প্রমাণ না করা পর্যন্ত অপরাধ করেছেন বলে অনুমান করা হয়। অপরাধের ভিডিও, ছবি ও ধারণকৃত কথোপকথন সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। বিচার একটানা চলার কথা, মুলতবি তিন কর্মদিবসের বেশি নয়, এবং ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে, যা সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন দিয়ে ৩০ এবং পরে ১৫ কর্মদিবস বাড়ানো যায়। বাস্তবে নিরপেক্ষ সাক্ষীরা প্রায়ই হাজির হন না বা বৈরী হয়ে যান।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত · সময়: বাস্তবে ৬-২৪ মাস · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫১; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৫; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৬; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ছ · কাগজপত্র: আলামত ও নমুনা, রাসায়নিক প্রতিবেদন, ভিডিও বা ছবির সাক্ষ্য

    পরামর্শ: ধারা ৫৫-এর অনুমান প্রযোজ্য হয় কেবল দখল প্রমাণিত হওয়ার পর। আগে দখলের প্রশ্নে আঘাত করুন, যেমন যৌথ কক্ষ, যানবাহন বা ব্যাগ।

  14. ধাপ ১৪: অভিযুক্তের পরীক্ষা ও আত্মপক্ষ সমর্থন
    ধাপ ১৪ · বিচার

    অভিযুক্তের পরীক্ষা ও আত্মপক্ষ সমর্থন

    রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হলে আদালত ধারা ৩৪২ অনুযায়ী সাক্ষ্যের বিষয়ে অভিযুক্তকে প্রশ্ন করেন। আসামিপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে পারে, যেমন যাঁরা গ্রেপ্তার অন্য জায়গায় হতে দেখেছেন, অথবা এমন কাগজ দাখিল করতে পারে যা দেখায় মাদক পাওয়া স্থানটি অভিযুক্তের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। দায়রা পর্যায়ের আদালতে কোনো সাক্ষ্য না থাকলে এই পর্যায়েই ধারা ২৬৫জ অনুযায়ী অভিযুক্ত খালাস পেতে পারেন। এরপর যুক্তিতর্ক হয়, যেখানে অভিযানকারী দলের মধ্যে অসংগতি, নিরপেক্ষ সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং নমুনার হেফাজত-শৃঙ্খলের ফাঁকের ওপর জোর দেওয়া হয়।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫জ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ঞ · কাগজপত্র: আসামিপক্ষের সাক্ষ্য, লিখিত যুক্তিতর্ক

    পরামর্শ: সাজানো আলামতের যুক্তিতে সাধারণ অস্বীকার নয়, নির্দিষ্ট তথ্য লাগে। সাক্ষীদের যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করুন।

  15. ধাপ ১৫: রায়, সাজা ও বাজেয়াপ্তি
    ধাপ ১৫ · রায় ও তার পর

    রায়, সাজা ও বাজেয়াপ্তি

    আদালত যুক্তিসহ রায় দেন। সাজা নির্ধারিত হয় মাদক ও পরিমাণ অনুযায়ী ধারা ৩৬(১)-এর সারণি মেনে। কিছু 'ক' শ্রেণির মাদকের ক্ষেত্রে ৫ গ্রাম পর্যন্ত এক থেকে পাঁচ বছর, ৫ থেকে ২৫ গ্রাম পাঁচ থেকে দশ বছর এবং ২৫ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, প্রতিটি ক্ষেত্রে জরিমানাসহ। জব্দকৃত মাদক, যানবাহন ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা যায়। ২০২৬ থেকে আদালত উপযুক্ত ক্ষেত্রে অপরাধীর বয়স, চরিত্র ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০ প্রয়োগ করতে পারেন। এখানেই বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হয়।

    কোথায়: মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত · সময়: সাধারণত যুক্তিতর্কের ১-৪ সপ্তাহ পর · আইন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(১); মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(৭) (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ট; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৭ · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন, বাজেয়াপ্তির আদেশ

    পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। ৩০ কর্মদিবসের আপিলের মেয়াদ থেকে কেবল কপি পেতে যে সময় লাগে সেটুকুই বাদ যায়।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? মাদক মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · মাদক ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ

দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ট্রাইব্যুনাল বা দায়রা আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল

    মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশ, রায় বা সাজায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন। সার্টিফায়েড কপি পেতে যে সময় লাগে তা বাদ যায়। নির্ধারিত দায়রা পর্যায়ের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও যথোপযুক্ত ফৌজদারি আপিল আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, ধারা ৫৩(১) অনুযায়ী একই ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে। আপিলে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পূর্ণ পুনঃশুনানি হয়। আপিল চলাকালে জামিন বা সাজা স্থগিতের জন্য আলাদা দরখাস্ত করতে হয়।

    ২-৬ বছরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৩(১)-(৩) (২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬
  2. 2
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

    ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আপিল

    নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সাধারণত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার হওয়া অল্প পরিমাণের মামলায়, আপিল ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে দায়রা জজের কাছে, ঢাকায় মহানগর দায়রা জজের কাছে, যায়। আপিল আদালত নথির ভিত্তিতে মামলাটি পুনরায় শোনেন এবং খালাস দিতে, সাজা কমাতে বা পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন।

    ১-৩ বছরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৩(১)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালতের রায় বিচারিক আদালতের রায়ের স্থান নেয়, এবং এরপর কেবল রিভিশন বা অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

রিভিশন · ম্যাজিস্ট্রেট → দায়রা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

অভিযোগ গঠন, জামিন নামঞ্জুর বা অন্তর্বর্তী আদেশ কোনো পক্ষ চ্যালেঞ্জ করলে কী হবে?

  1. 1
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

    ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন

    ম্যাজিস্ট্রেটের অন্তর্বর্তী আদেশ, যেমন অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি নামঞ্জুর বা বাজেয়াপ্তির আদেশ, দায়রা জজ বা ঢাকায় মহানগর দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়। কোনো পক্ষ এই পথ বেছে নিলে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত তার জন্য চূড়ান্ত, এবং হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন নিষিদ্ধ।

    ৩-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা মামলা বাতিল (কোয়াশ)

    ট্রাইব্যুনাল বা দায়রা পর্যায়ের আদালতের আদেশ কেবল হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশন করতে পারেন। কোনো পক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের কারণে কার্যধারা বাতিলের আবেদনও করতে পারে, যেমন রাসায়নিক প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে, তবে আদালত এই পর্যায়ে বিতর্কিত সাক্ষ্য মূল্যায়ন করেন না। বিষয়টি চলাকালে আদালত বিচার স্থগিত রাখতে পারেন।

    ৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিচারিক আদালতে বিচার আবার শুরু হয়, অথবা যে অভিযুক্তের মামলা বাতিল হয় তাঁর জন্য মামলা শেষ হয়।

রিভিউ · মাদক ট্রাইব্যুনাল → আপিল বিভাগ

বিচারিক আদালত কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?

  1. 1
    মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত

    বিচারিক আদালতে রিভিউ নেই

    মাদক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল রায়ে সই করার পর করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তা পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না। রায় ভুল মনে করলে পক্ষকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আপিল করতে হবে। তথাকথিত রিভিউ দরখাস্ত রক্ষণীয় নয় এবং তাতে আপিলের মেয়াদ থেমে থাকে না।

    প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৪
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে রিভিউ

    কেবল আপিল বিভাগ নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন, এবং ফৌজদারি মামলায় কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে। সার্টিফায়েড কপিসহ ত্রিশ দিনের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল করতে হবে। রিভিউ পুনঃশুনানি নয়। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি প্রায়ই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের আগে শেষ বিচারিক ধাপ।

    ৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ভুল সংশোধন হয় আপিলে; রিভিউ আছে কেবল আপিল বিভাগে।

রেফারেন্স · মাদক ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ

মৃত্যুদণ্ডের পর কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের রেফারেন্স (ডেথ রেফারেন্স)

    আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে, যেমন বিপুল পরিমাণ 'ক' শ্রেণির মাদকের জন্য বা ধারা ৩৬ক অনুযায়ী অনলাইনে মাদক কারবারের জন্য, নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হবে। ওই বিভাগ অনুমোদন না করলে সাজা কার্যকর করা যায় না। একটি বেঞ্চ সম্পূর্ণ সাক্ষ্য নতুন করে পরীক্ষা করেন এবং সাজা অনুমোদন করতে, যাবজ্জীবনে রূপান্তর করতে, খালাস দিতে বা অধিকতর অনুসন্ধান বা পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। দণ্ডিত ব্যক্তির নিজের আপিল রেফারেন্সের সঙ্গে একসঙ্গে শুনানি হয়।

    ২-৬ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৬মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৪
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    অনুমোদনের রায়

    রেফারেন্সে হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত বিচারিক আদালতে প্রত্যয়ন করে পাঠানো হয়, যিনি তখন অনুমোদিত সাজা কার্যকরের প্রয়োজনীয় পরোয়ানা জারি করেন, অথবা রূপান্তরিত সাজা বা খালাস অনুযায়ী নিজের নথি সংশোধন করেন। এরপর যেকোনো পক্ষ বিধিতে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে মামলাটি আপিল বিভাগে নিতে পারে।

    ১-৩ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৭ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত, রূপান্তরিত বা বাতিল হয়, এবং মামলা আপিল বিভাগে যেতে পারে।

রিমান্ড (ফেরত) · মাদক ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ → মাদক ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিল আদালত পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    দণ্ড বাতিল ও মামলা ফেরত

    হাইকোর্ট বিভাগ যদি কোনো গুরুতর ত্রুটি পান, যেমন রাসায়নিক পরীক্ষকের প্রতিবেদন যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি, জব্দতালিকার কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্যই নেওয়া হয়নি, বা ধারা ৩৪২ অনুযায়ী অভিযুক্তকে প্রশ্ন করা হয়নি, তাহলে দণ্ড বাতিল করে নির্দিষ্ট পর্যায় থেকে পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন।

    আপিলের মধ্যেইফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৭
  2. 2
    মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত

    বিচারিক আদালতে পুনর্বিচার

    নথি ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত আদালতে ফেরত যায়, যিনি কেবল হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ দেওয়া পর্যায়গুলো পুনরাবৃত্তি করেন, যেমন জব্দতালিকার সাক্ষীদের পুনরায় তলব বা রাসায়নিক পরীক্ষকের সাক্ষ্য গ্রহণ। অভিযুক্ত সাধারণত আগের মতোই জামিনে বা হেফাজতে থাকেন। এরপর বিচারিক আদালত আবার যুক্তিতর্ক শুনে নতুন, যুক্তিসহ রায় দেন।

    ৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫১
  3. 3
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আবার আপিলে ওপরে

    হেরে যাওয়া পক্ষ সার্টিফায়েড কপির সময় বাদ দিয়ে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। সম্ভব হলে উভয় পক্ষের উচিত আপিল আদালতকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮ অনুযায়ী অনুপস্থিত সাক্ষ্য নিজেই গ্রহণের অনুরোধ করা, যাতে আরেক দফা ফেরত পাঠানো এড়ানো যায় এবং বছরের পর বছর সময় বাঁচে।

    ২-৫ বছরমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৩(২)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুনর্বিচারের পর নতুন আপিলে মামলা আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসে।

আপিলের অনুমতি · মাদক ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মাদক মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন

    আপিল, রিভিশন বা ডেথ রেফারেন্সে হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন (লিভ পিটিশন) দাখিল করে। খালাসের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল ষাট দিন সময় পান। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে দণ্ডিত ব্যক্তির আপিল বিভাগে অধিকারবলে আপিলের সুযোগ আছে।

    ১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    অনুমতি মিললে অনুমোদিত বিষয়গুলোর ওপর আপিলের শুনানি হয়, এবং আপিল বিভাগের রায় অধস্তন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। অনুমতি নাকচ হলে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল থাকে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারেন।

    ১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউ এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সাপেক্ষে।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

মাদক মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

ফোরাম নির্ভর করে অপরাধের গুরুত্বের ওপর, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ মাদকের শ্রেণি ও পরিমাণ দিয়ে পরিমাপ করে। ছোট সেবনের মামলা লিখিত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টে নিষ্পত্তি হতে পারে। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা তার কম সাজার অপরাধের বিচার নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে হয়। গুরুতর অপরাধ যায় নির্ধারিত দায়রা পর্যায়ের আদালতে, অথবা ২০২৬ সালের জুলাই থেকে, সরকার যেখানে গঠন করেছে সেখানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের সভাপতিত্বে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে। ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় দায়রা জজের কাছে।

ট্রাইব্যুনাল বা দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, যেখানে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পূর্ণ পুনঃশুনানি হয়। মৃত্যুদণ্ড রেফারেন্সের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগকে অনুমোদন করতে হয়। অন্তর্বর্তী আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হয় রিভিশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়ার শীর্ষে আপিল বিভাগ, যা অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি সাপেক্ষে, অথবা হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে অধিকারবলে, মামলা শোনেন।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
  4. প্রথম দফার আদালতমুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, ঢাকা · মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বা নির্ধারিত দায়রা আদালত
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস · মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাসায়নিক পরীক্ষাগার
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।

মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।

প্রথম দফার আদালত

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

থানা বা ডিএনসি সার্কেল অফিস

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), প্রধান কার্যালয়

তেজগাঁও, ঢাকা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীন অপরাধের তদন্ত ও মামলা পরিচালনা করে, অভিযান ও জব্দ করে, নিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের লাইসেন্স দেয় এবং নিরাময় কেন্দ্র তদারক করে।

সরকারি সাইট নিশ্চিত করে যে সদর দপ্তর ঢাকায়, কিন্তু রাস্তার ঠিকানা যাচাই করা হয়নি। ঢাকা বিচার বিভাগীয় ডিরেক্টরিতে প্রকাশিত অফিসের ফোন: ০২-২২৬৬৬৪৪০২। প্রতিটি জেলায় ডিএনসির অফিস আছে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

অভিযান, গ্রেপ্তার ও জব্দ
০–০.১ মাস
প্রথম হাজিরা ও জামিন
০.১–৩ মাস
তদন্ত ও রাসায়নিক প্রতিবেদন
১–৬ মাস
বিচার
৬–৩০ মাস
রায় ও তার পর
০.৫–২ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৭.৬–৪১.১ মাস · সামগ্রিক: নির্দেশক হিসেবে, ৯০ কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রা সত্ত্বেও ঢাকায় প্রথম ধাপে ১ থেকে ৪ বছর; হাইকোর্ট বিভাগে আপিলে প্রায়ই ২ থেকে ৬ বছর লাগে
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

ডিএনসি (DNC)
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রয়োগ করে এবং রাসায়নিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করে।
জব্দতালিকা (Seizure list)
কী জব্দ হয়েছে, কোথায়, কার কাছ থেকে এবং কোন সাক্ষীদের সামনে, তার স্বাক্ষরিত রেকর্ড।
রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন (Chemical examination report)
পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, যা দ্রব্যটি শনাক্ত করে এবং তা মাদক বলে নিশ্চিত করে; ধারা ৬২ অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
নির্ধারিত আদালত (Designated court)
অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কেবল মাদক মামলার বিচারের জন্য ধারা ৪৪ অনুযায়ী নির্ধারিত আদালত।
মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল (Narcotics Offences Suppression Tribunal)
পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের জন্য ২০২৬ সালের সংশোধনীতে সৃষ্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary trial)
ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি, যা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা তার কম সাজার মাদক অপরাধে ব্যবহৃত হয়।
ধারা ৫৫-এর অনুমান (Presumption under s.55)
আইনগত অনুমান যে মাদক বা মাদকের সরঞ্জামসহ পাওয়া ব্যক্তি অন্যথা প্রমাণ না করা পর্যন্ত অপরাধ করেছেন।
ডেথ রেফারেন্স (Death reference)
অনুমোদনের জন্য মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানো।
প্রশ্নোত্তর

মাদক মামলার প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন

মাদক মামলায় কারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-পরিদর্শক বা তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, কাস্টমস কর্মকর্তা, ল্যান্স নায়েক বা তার ঊর্ধ্বতন বিজিবি সদস্য এবং পেটি অফিসার বা তার ঊর্ধ্বতন কোস্ট গার্ড সদস্য। র‍্যাব পুলিশের ক্ষমতাবলে কাজ করে। পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তা কাউকে গ্রেপ্তার করলে তাঁকে দ্রুত থানায় হস্তান্তর করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
মাদক মামলায় কি জামিন পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, তবে তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৭ দ্বারা সীমিত। আদালতকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে হয়, এবং সাক্ষ্যের শক্তি ঘনিষ্ঠভাবে বিবেচনা করা হয়। নারী, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বেশি নমনীয়তা দেখানো হয়। অল্প পরিমাণের মামলায় প্রায়ই বিচারিক পর্যায়ে জামিন মেলে। বেশি পরিমাণের মামলায় সাধারণত হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হয়।
আমার মামলার বিচার কোন আদালতে হবে?
তা নির্ভর করে মাদক ও পরিমাণের ওপর। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা তার কম সাজার অপরাধের বিচার নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে হয়। পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ যায় মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে, যেখানে তা আছে, নইলে নির্ধারিত দায়রা পর্যায়ের আদালতে। ছোট মামলা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টে নিষ্পত্তি হতে পারে।
রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়ায় এটি কেন্দ্রীয় বিষয়। প্রতিবেদন দ্রব্যটি শনাক্ত করে এবং তা মাদক বলে নিশ্চিত করে। ইতিবাচক প্রতিবেদন ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ খুব কমই সফল হয়। আসামিপক্ষের উচিত নমুনা প্রেরণ স্মারকের সিল নম্বর ও ওজন জব্দতালিকার সঙ্গে মেলে কি না যাচাই করা, এবং রাসায়নিক পরীক্ষককে সাক্ষী হিসেবে তলবের আবেদন করা যায়।
মাদক মামলার বিচার শেষ হতে কত সময় লাগে?
আইন অনুযায়ী মামলা পাওয়ার ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হয়, এবং সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন দিয়ে ৩০ ও ১৫ কর্মদিবস বাড়ানো যায়। ঢাকায় বাস্তবে সাধারণত এক থেকে চার বছর লাগে, কারণ জব্দতালিকার সাক্ষীরা হাজির হন না। তদন্তেরও ৩০ বা ৬০ কর্মদিবসের নির্দিষ্ট সীমা আছে, যা প্রায়ই অতিক্রম করা হয়।
আপিলের শেষ সময় কত দিন?
২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত ধারা ৫৩ অনুযায়ী রায়ের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে, আর নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় দায়রা জজের কাছে। সার্টিফায়েড কপি পেতে যে সময় লাগে তা বাদ যায়, তাই রায়ের দিনই কপির আবেদন করুন।
মাদক উদ্ধার না হলেও কি অনলাইনে মাদক বিক্রির জন্য সাজা হতে পারে?
হ্যাঁ। ২০২৬ সালের সংশোধনী ধারা ৩৬ক যুক্ত করেছে, যা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপ বা অন্য ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনা, বিক্রি, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন বা দালালি করা, অথবা এ উদ্দেশ্যে ই-ওয়ালেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ অপরাধ। অভিযুক্তের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার অপরিহার্য নয়, এবং সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা।
বাংলাদেশে মাদক মামলার প্রক্রিয়ায় পরিবারগুলো কী কী ভুল করে?
মাদক মামলার প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভুলগুলো হলো প্রথম জামিনের আবেদনে দেরি করা, শুরুতেই এজাহার ও জব্দতালিকা সংগ্রহ না করা, পরামর্শ ছাড়া মোবাইল কোর্টে স্বীকারোক্তিতে সই করা এবং ৩০ কর্মদিবসের আপিলের সময়সীমা পার করে ফেলা। আরেকটি ভুল হলো সময়, স্থান ও সাক্ষীর অসংগতি উপেক্ষা করা, যা বিচারে প্রায়ই আসামিপক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি।

আইন ও উৎস

  1. Narcotics Control Act 2018 (Act 63 of 2018), Bangladesh Laws
  2. Narcotics Control Act 2018, consolidated text, Laws of Bangladesh mirror
  3. Narcotics Control (Amendment) Act 2026 (Act 101 of 2026)
  4. Narcotics Control (Amendment) Act 2020 (Act 26 of 2020)
  5. Code of Criminal Procedure 1898, Bangladesh Laws
  6. Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act 11 of 2026)
  7. Department of Narcotics Control
  8. Supreme Court of Bangladesh

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp