চেক ডিজঅনার মামলা: চেক ফেরত থেকে আপিল পর্যন্ত এনআই অ্যাক্টের মামলার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
চেক ডিজঅনার মামলা হলো হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instruments Act বা NI Act)-এর ধারা ১৩৮-এর অধীনে চেক ফেরত বা বাউন্স হলে ফৌজদারি প্রতিকারের পথ। এই মামলা তিনটি কঠোর সময়সীমার ওপর চলে: চেক উপস্থাপন, আইনি নোটিশ এবং নালিশ দায়ের। কোনো একটি তারিখ পেরিয়ে গেলে সাধারণত মামলাই টেকে না।
২০২৬ সালের সংশোধনীর পর ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেকের বিচার করেন যুগ্ম দায়রা জজ, আর এর কম অঙ্কের চেকের বিচার করেন ম্যাজিস্ট্রেট। দণ্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো আপিলের আগে চেকের অঙ্কের ৫০% জমা দিতে হয়।
- কোথা থেকে শুরু
- বাদীর আইনজীবী ও অদাতা (drawee) ব্যাংক; এরপর মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) (ঢাকা মহানগর এলাকায়) বা চিফ জুডিশিয়াল…
- মূল আইন
- হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১১৮, ১৩৮, ১৩৮ক, ১৪০, ১৪১ (১৯৯৪, ২০০০, ২০০৬ সালের সংশোধনী এবং হস্তান্তরযোগ্য দলিল (সংশোধন)…
- সাধারণ সময়কাল
- নালিশের আগের সময়সীমাগুলোতে প্রায় ৩ মাস, এরপর ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী বিচারে মোটামুটি ১ থেকে ৩ বছর; আপিল ও রিভিশনে…
- কে মামলা করতে পারেন
- কেবল চেকের প্রাপক (payee) বা যথাবিধি ধারক (holder in due course) নালিশ দায়ের করতে পারেন (ধারা ১৪১(ক)); কোম্পানির পক্ষে…
চেক ডিজঅনার মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · চেক ডিজঅনার ও বিধিবদ্ধ নোটিশসময়মতো চেক উপস্থাপন করুন
প্রাপক চেকটি নিজের ব্যাংকে জমা দেন অথবা চেক প্রদানকারীর (drawer) ব্যাংকে সরাসরি উপস্থাপন করেন। ধারা ১৩৮(১)-এর শর্তাংশ (ক) অনুযায়ী চেকে লেখা তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে, অথবা চেকের মেয়াদ এর চেয়ে কম হলে সেই মেয়াদের মধ্যে, চেক উপস্থাপন করতে হবে। দেরিতে উপস্থাপিত চেকের ভিত্তিতে চেক ডিজঅনার মামলা করা যায় না, যদিও টাকা আদায়ের দেওয়ানি দাবি টিকে থাকতে পারে। মেয়াদের মধ্যে চেক একাধিকবার উপস্থাপন করা যায়। ২০০০ সালের সংশোধনীর পর শুধু দেনা পরিশোধের জন্য নয়, জামানত হিসেবে দেওয়া চেকও ধারা ১৩৮-এর আওতায় পড়ে।
কোথায়: অদাতা (drawee) ব্যাংক · সময়: চেকের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে · আইন: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(১)-এর শর্তাংশ (ক); হস্তান্তরযোগ্য দলিল (সংশোধন) আইন, ২০০০ · কাগজপত্র: মূল চেক, জমা স্লিপ, মূল চুক্তি, ইনভয়েস বা ঋণের রেকর্ড
পরামর্শ: চেকের তারিখ এবং ব্যাংকের মেয়াদ-সিল খেয়াল করে লিখে রাখুন। অনেক নালিশ ব্যর্থ হয় শুধু এই কারণে যে চেক কয়েক দিন দেরিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
ধাপ ২ · চেক ডিজঅনার ও বিধিবদ্ধ নোটিশডিজঅনার স্লিপ সংগ্রহ করুন
ব্যাংক চেকের টাকা না দিয়ে ফেরত দিলে কারণ উল্লেখ করে একটি রিটার্ন মেমো দেয়, যাকে সাধারণত ডিজঅনার স্লিপ বলা হয়। হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে, অথবা চেকের অঙ্ক চেক প্রদানকারী ব্যাংকের সঙ্গে যে ব্যবস্থা করেছেন তার চেয়ে বেশি হলে, ফেরত হওয়া চেক ধারা ১৩৮-এর আওতায় পড়ে। অন্য কারণ, যেমন 'প্রদানকারী কর্তৃক পেমেন্ট স্থগিত' বা 'হিসাব বন্ধ', থাকলে ধারাটি প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে আইনি বিতর্ক ওঠে, তাই সেগুলোর ওপর ভরসা করার আগে পরামর্শ নেওয়া দরকার। প্রাপক যেদিন ডিজঅনারের খবর পান, সেদিন থেকে ৩০ দিনের নোটিশের মেয়াদ শুরু হয়।
কোথায়: অদাতা (drawee) ব্যাংক · সময়: একই দিন থেকে ১ সপ্তাহ · আইন: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(১) · কাগজপত্র: ডিজঅনার হওয়া মূল চেক, ব্যাংকের রিটার্ন মেমো বা ডিজঅনার স্লিপ, তারিখসহ প্রাপকের কাছে ব্যাংকের অবহিতিপত্র
ধাপ ৩ · চেক ডিজঅনার ও বিধিবদ্ধ নোটিশ৩০ দিনের মধ্যে আইনি নোটিশ পাঠান
ব্যাংকের কাছ থেকে ডিজঅনারের খবর পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রাপক, সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে, চেক প্রদানকারীকে চেকের টাকা পরিশোধের লিখিত দাবি পাঠান। ধারা ১৩৮(১ক) নোটিশ জারির তিনটি পদ্ধতি অনুমোদন করে: সরাসরি হাতে দেওয়া, সাধারণ বা সর্বশেষ জানা ঠিকানায় প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো, অথবা বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে প্রকাশ করা। কোম্পানির ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক বা কর্মকর্তাদেরও নোটিশ পাঠানো উচিত, কারণ ধারা ১৪০ অনুযায়ী তাঁরা কোম্পানির সঙ্গে দায়ী হতে পারেন।
কোথায়: বাদীর আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ডিজঅনারের খবর পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে · আইন: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(১)-এর শর্তাংশ (খ); হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(১ক); হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৪০ · কাগজপত্র: টাকা পরিশোধের দাবিসহ আইনি নোটিশ, রেজিস্ট্রি ডাকের রসিদ ও এডি কার্ড, প্রকাশিত হলে পত্রিকার কাটিং
পরামর্শ: শুধু চেকের অঙ্কটুকু দাবি করুন। যে নোটিশে সুদ বা অন্য পাওনা জুড়ে দেওয়া হয়, সেখানে যুক্তি ওঠে যে দাবিটি 'উক্ত পরিমাণ অর্থের' জন্য ছিল না।
ধাপ ৪ · চেক ডিজঅনার ও বিধিবদ্ধ নোটিশপরিশোধের জন্য ৩০ দিন অপেক্ষা করুন
নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে চেক প্রদানকারী ৩০ দিন সময় পান চেকের টাকা পরিশোধের জন্য। পুরো টাকা দিলে কোনো অপরাধ সম্পূর্ণ হয় না এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ। টাকা না দিলে শর্তাংশ (গ) অনুযায়ী ওই ৩০ দিন শেষ হওয়ার পরের দিন মামলার কারণ (cause of action) উদ্ভূত হয়। নোটিশ প্রকৃতপক্ষে পাওয়ার তারিখ, বা পেয়েছেন বলে গণ্য হওয়ার তারিখ থেকে বাদীকে এই দিনটি সাবধানে গুনতে হবে, কারণ এর আগে দায়ের করা নালিশ অকালীন। আবার পরবর্তী সময়সীমা পেরিয়ে দায়ের করা নালিশ তামাদিতে বারিত।
কোথায়: বাদীর আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩০ দিন · আইন: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(১)-এর শর্তাংশ (গ) · কাগজপত্র: নোটিশ জারির তারিখের প্রমাণ, প্রাপ্ত কোনো পরিশোধ
ধাপ ৫ · নালিশ ও আমলে গ্রহণএক মাসের মধ্যে লিখিত নালিশ দায়ের করুন
মামলার কারণ উদ্ভূত হওয়ার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে বাদী লিখিত নালিশি দরখাস্ত দায়ের করেন। ঢাকা মহানগর এলাকায় এটি যায় মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে, আর জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। প্রাপক বা যথাবিধি ধারকের লিখিত নালিশ ছাড়া কোনো আদালত মামলা আমলে নিতে পারে না। চেক ডিজঅনারের জন্য পুলিশ মামলা রেকর্ড করে না। নালিশে চেক প্রদানকারীর নাম থাকে, আর কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানি এবং এর ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নাম থাকে। সঙ্গে চেক, স্লিপ, নোটিশ ও জারির প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়।
কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত · সময়: ৩০ দিনের পরিশোধ-মেয়াদের পর ১ মাসের মধ্যে · আইন: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৪১(ক)-(খ); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০(১)(ক); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০ · কাগজপত্র: নালিশি দরখাস্ত, মূল চেক ও ডিজঅনার স্লিপ, আইনি নোটিশ ও জারির প্রমাণ, বাদী কোম্পানি হলে ক্ষমতাপত্র
পরামর্শ: ৩০ দিন শেষ হওয়ার পরের দিন থেকে মাস গুনুন। পরিশোধ-মেয়াদের ২৯তম দিনে দায়ের করলে তা অকালীন, আর মাস শেষ হওয়ার দুই দিন পর দায়ের করলে তা মেয়াদোত্তীর্ণ। ঢাকার বাইরে দেখে নিন আপনার জেলা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার জন্য প্রজ্ঞাপিত হয়েছে কি না; এটি ছোট অঙ্কের চেকের দাবিতে প্রযোজ্য হতে পারে।
ধাপ ৬ · নালিশ ও আমলে গ্রহণবাদীর জবানবন্দি, আমলে গ্রহণ ও সমন
ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০ অনুযায়ী বাদীকে শপথ করিয়ে জবানবন্দি নেন এবং এর সারমর্ম লিপিবদ্ধ করেন। কাগজপত্রে ধারা ১৩৮-এর সব উপাদান পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট মামলা আমলে নেন (cognizance) এবং ধারা ২০৪ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামি সমন উপেক্ষা করলে পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রসেস জারির আগে প্রসিকিউশন সাক্ষীদের তালিকা দাখিল করতে হয়। সুস্পষ্ট ত্রুটি থাকলে, যেমন নোটিশ না দেওয়া বা তামাদিতে বারিত নালিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২০৩ অনুযায়ী নালিশ খারিজ করতে পারেন।
কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত · সময়: ১-৬ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৪(১)-(১ক) · কাগজপত্র: ধারা ২০০ অনুযায়ী লিপিবদ্ধ জবানবন্দি, সাক্ষীর তালিকা, প্রসেস ফি
ধাপ ৭ · নালিশ ও আমলে গ্রহণচেকের অঙ্ক অনুযায়ী বিচারিক আদালতে বণ্টন
২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত ধারা ১৪১(গ) অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেকের মামলার বিচার করবেন মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ, অথবা মহানগর এলাকার বাইরে যুগ্ম দায়রা জজ। ধারা ১৩৮-এর বাকি সব মামলার বিচার করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট। বেশি অঙ্কের মামলা পাঠানো হয় মহানগর দায়রা জজ বা দায়রা জজের কাছে, যিনি বিচারের জন্য তা যুগ্ম দায়রা জজের কাছে পাঠান। কম অঙ্কের মামলা ম্যাজিস্ট্রেসির ভেতরেই বণ্টন করা হয়। এরপর চেক ডিজঅনার মামলা সেই বিচারিক আদালতে চলতে থাকে।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৪১(গ) (২০২৬ সালের ৬৫ নং আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ · কাগজপত্র: মামলার নথি, বদলি বা বণ্টন আদেশ
পরামর্শ: ২০২৬ সালের সংশোধনী কার্যকর হওয়ার সময় যে মামলা আগে থেকেই চলমান ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছু দাখিল করার আগে দেখে নিন মামলাটি এখন কোন আদালতে আছে সে বিষয়ে বিচারিক আদালতের আদেশ কী।
ধাপ ৮ · হাজিরা, জামিন ও অভিযোগ গঠনহাজিরা ও জামিন
আসামি স্বেচ্ছায় অথবা পরোয়ানামূলে হাজির হন। ধারা ১৩৮-এর অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা এক বছরের কারাদণ্ড, তাই ফৌজদারি কার্যবিধির তফসিল অনুযায়ী এটি জামিনযোগ্য, এবং ধারা ৪৯৬ অনুযায়ী জামিন পাওয়া অধিকার। আদালত এক বা একাধিক জামিনদারসহ মুচলেকা নির্ধারণ করেন এবং যুক্তিসংগত শর্ত যোগ করতে পারেন। ২০২৬ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনীর পর আদালত অনুমতি দিলে মুচলেকা অনলাইনে জমা দেওয়া যায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে জামিনদার যাচাই করা হয়। পরে হাজির না হলে আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি এবং মুচলেকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: হাজিরার দিনই · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৬; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯(১)-(৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৪ · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, জামিননামা ও জামিনদারের মুচলেকা, জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র
ধাপ ৯ · হাজিরা, জামিন ও অভিযোগ গঠনঅভিযোগ গঠন বা অব্যাহতির শুনানি
যুগ্ম দায়রা জজের আদালতে বাদীর আইনজীবী মামলার সূচনা বক্তব্য দেন এবং আদালত নথির ভিত্তিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে ধারা ২৬৫গ অনুযায়ী আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যথায় ধারা ২৬৫ঘ অনুযায়ী ধারা ১৩৮-এর অভিযোগ গঠন করে পড়ে শোনানো হয়। আসামি দোষ স্বীকার করলে আদালত ধারা ২৬৫ঙ অনুযায়ী তখনই দণ্ড দিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একই প্রক্রিয়া চলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক-২৪৩ অনুযায়ী। আসামিপক্ষের সাধারণ যুক্তি হলো দেরিতে চেক উপস্থাপন, ত্রুটিপূর্ণ নোটিশ, অথবা আগে বা পরে নালিশ দায়ের।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫খ-২৬৫ঙ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক-২৪৩ · কাগজপত্র: আদালত কর্তৃক গঠিত অভিযোগপত্র, অব্যাহতির দরখাস্ত, যদি থাকে
ধাপ ১০ · বিচার ও রায়প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য
প্রথমে বাদী সাক্ষ্য দিয়ে চেক, ডিজঅনার, নোটিশ ও টাকা না দেওয়ার বিষয় প্রমাণ করেন এবং তাঁকে জেরা করা হয়। রিটার্ন মেমো ও হিসাবের অবস্থা প্রমাণের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাকে ডাকা হতে পারে, আর ডাক বা পত্রিকার রেকর্ড দিয়ে নোটিশ জারি প্রমাণ করা হয়। এনআই অ্যাক্টের ধারা ১১৮ অনুযায়ী বিপরীত প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত ধরে নেন যে চেকটি প্রতিদানের (consideration) বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল। আসামিপক্ষ সাধারণত এই অনুমান খণ্ডন করার বা সময়সীমা নিয়ে আপত্তি তোলার চেষ্টা করে। আইন অনুযায়ী দায়রা আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫চ-২৬৫ছ; হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১১৮(ক); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯গ · কাগজপত্র: মূল চেক (প্রদর্শনী), রিটার্ন মেমো, নোটিশ, ডাকের রসিদ ও এডি কার্ড, দেনা প্রমাণকারী চুক্তি বা খতিয়ান-খাতা (লেজার)
ধাপ ১১ · বিচার ও রায়আসামির পরীক্ষা ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য
প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য শেষে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২ অনুযায়ী আসামিকে প্রশ্ন করেন, যাতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আসা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে পারেন। কোনো সাক্ষ্যই না থাকলে আদালত ধারা ২৬৫জ অনুযায়ী খালাসের আদেশ লিপিবদ্ধ করেন। অন্যথায় আসামি সাফাই সাক্ষী ডাকতে ও কাগজপত্র দাখিল করতে পারেন, যেমন দেনা শোধ হয়ে গেছে, চেকের অপব্যবহার হয়েছে, বা নোটিশ কখনো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি তা দেখাতে। আসামিকে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না। এখানে যে তথ্যগত বিষয় তোলা হয়নি, পরে হাইকোর্ট বিভাগে তা তোলা কঠিন।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫জ · কাগজপত্র: ধারা ৩৪২ অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য, দাখিল করা হলে, আসামিপক্ষের কাগজপত্র (রসিদ, চিঠিপত্র)
ধাপ ১২ · বিচার ও রায়যুক্তিতর্ক ও রায়
ধারা ২৬৫ঞ অনুযায়ী বাদীপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এবং আসামিপক্ষ জবাব দেয়। এরপর আদালত ধারা ২৬৫ট অনুযায়ী রায় দেন, দণ্ড বা খালাস। দণ্ড হতে পারে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, চেকের অঙ্কের তিন গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয়ই। অনেক আদালত চেকের অঙ্কের সমান অর্থদণ্ড দেন, কখনো সঙ্গে স্বল্প মেয়াদের কারাদণ্ড। রায়ের আগে আপস-মীমাংসা হওয়া খুব সাধারণ। ধারা ৩৪৫-এ ধারা ১৩৮ আপসযোগ্য অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়, তাই যেকোনো মীমাংসা আদালতে সাবধানে লিপিবদ্ধ করা উচিত।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ঞ; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ট; হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫ · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তিতর্ক, যদি থাকে, আপস-মীমাংসার চুক্তি, যদি থাকে
ধাপ ১৩ · দণ্ড, অর্থদণ্ড ও আদায়দণ্ড: হেফাজত বা সাজা পরোয়ানা
কারাদণ্ড দেওয়া হলে এবং দণ্ডিত ব্যক্তি উপস্থিত থাকলে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়, যদি না আদালত আপিলের জন্য দণ্ড স্থগিত করেন। অনুপস্থিত দণ্ডিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হয়। চেক মামলায় অনেক আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচার ও দণ্ড হয় এবং পরে পরোয়ানামূলে তাঁরা গ্রেপ্তার হন। এরপর আত্মসমর্পণ করে ৫০% জমা দিয়ে তাঁরা আপিল করতে পারেন। আপিলের জন্য রায়ের সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করা হয়।
কোথায়: কারাগার · সময়: তাৎক্ষণিক · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭১; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬; হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮ক · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, সাজা পরোয়ানা
ধাপ ১৪ · দণ্ড, অর্থদণ্ড ও আদায়অর্থদণ্ড আদায় ও বাদীকে পরিশোধ
আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায় করেন, প্রয়োজনে দণ্ডিত ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম করে। ধারা ১৩৮(২) অনুযায়ী আদায়কৃত অর্থদণ্ড চেকের অভিহিত মূল্য পর্যন্ত চেকধারীকে দেওয়া হয়। চেকের অঙ্কের কোনো অংশ তখনো অনাদায়ি থাকলে ধারা ১৩৮(৩) বাকি টাকার জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করার অধিকার সংরক্ষণ করে, ফলে ফৌজদারি মামলা ও অর্থ আদায়ের মামলা পাশাপাশি চলতে পারে। চেক ডিজঅনার মামলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কোথায়: যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬; হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(২)-(৩) · কাগজপত্র: অর্থদণ্ড থেকে টাকা পাওয়ার দরখাস্ত, বাদীর পরিচয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্যের প্রমাণ
যদি এমন হয়…? চেক ডিজঅনার মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
আসামি দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?
- 1যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক)
চেকের অঙ্কের ৫০% জমা দিন
ডিজঅনার হওয়া চেকের অঙ্কের অন্তত ৫০% প্রথমে দণ্ড প্রদানকারী আদালতে জমা না দিলে ধারা ১৩৮-এর দণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করা যায় না। ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা-ই থাকুক, এই বিধান প্রযোজ্য। জমার রসিদ আপিলের মেমোরেন্ডামের সঙ্গে দাখিল করা হয়। রসিদ ছাড়া আপিল গ্রহণই করা যায় না।
দায়েরের আগে; আপিল ৩০ দিনের মধ্যেহস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮কতামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৪ - 2মহানগর দায়রা জজের আদালত
দায়রা জজের আদালতে আপিল শুনানি
যুগ্ম দায়রা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় মহানগর দায়রা জজ বা দায়রা জজের কাছে, কারণ ধারা ১৩৮-এর দণ্ড এক বছরের বেশি হতে পারে না। আপিল আদালত তথ্য ও আইন উভয় দিক থেকে মামলাটি নতুন করে শোনেন। আদালত আপিল খারিজ করতে, খালাস দিতে বা দণ্ড পরিবর্তন করতে পারেন, এবং ইতিমধ্যে জামিন দিতে পারেন। খালাসের বিরুদ্ধে বাদী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারেন, তবে কেবল এমন আইনগত ভুলের জন্য যাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে: ম্যাজিস্ট্রেটের খালাসের বিরুদ্ধে দায়রা জজের কাছে, আর যুগ্ম দায়রা জজের খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে।
৬-২৪ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২)-(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দায়রা জজের আপিল রায় বিচারিক আদালতের রায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়। পরবর্তী ধাপ হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন।
আপিল রায়ের বিরুদ্ধে কি রিভিশন করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন
পরাজিত পক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ অনুযায়ী ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্তগুলোর শুদ্ধতা, বৈধতা ও যথার্থতা যাচাই করেন, সাধারণত তামাদি, নোটিশ বা সাক্ষ্যের ভুল পাঠের মতো আইনগত প্রশ্নে; তথ্য নতুন করে শোনেন না। রুল জারি হলে দণ্ড স্থগিত হতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের কাছেও রিভিশন করা যায়, কিন্তু ধারা ৪৩৯ক(২) অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত আবেদনকারীর জন্য চূড়ান্ত, তাই কোন আদালতে যাবেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক(২)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রুল খারিজ (discharged) হয়, অথবা রুল চূড়ান্ত (absolute) হয়ে দণ্ড বাতিল বা সংশোধিত হয়।
পুরো মামলা কি শুরুতেই বাতিল করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী বাতিল (কোয়াশমেন্ট)
নালিশ যেখানে সুস্পষ্টভাবে অচল, যেমন অকালীন বা তামাদিতে বারিত, বিধিবদ্ধ নোটিশ ছাড়া দায়ের করা, অথবা প্রাপক বা ধারক নন এমন কেউ দায়ের করেছেন, সেখানে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক-এর অন্তর্নিহিত ক্ষমতাবলে কার্যধারা বাতিলের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। এই পর্যায়ে আদালত বিতর্কিত তথ্য বিচার করেন না। পূর্ণ আপস-মীমাংসার পরও কার্যধারা বাতিল হতে পারে।
৬-১৮ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১কহস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৪১(ক)-(খ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হয় কার্যধারা বাতিল হয়ে মামলা শেষ হয়, নয়তো আবেদন নামঞ্জুর হয়ে বিচার চলতে থাকে।
বিচারিক আদালত কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন?
- 1যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক)
রিভিউ নেই, কেবল করণিক ভুল সংশোধন
ফৌজদারি আদালত রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তা পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না। তাই বিচারিক বা আপিল আদালতে দণ্ডের রিভিউ নেই; প্রতিকার হলো আপিল বা রিভিশন। হাইকোর্ট বিভাগও নিজের ফৌজদারি রায় রিভিউ করতে পারেন না। কেবল আপিল বিভাগের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউর ক্ষমতা আছে।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বা রিভিশনে পরিবর্তিত না হলে রায় বহাল থাকে।
উচ্চ আদালতে কি রেফারেন্সের সুযোগ আছে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
চেক মামলায় রেফারেন্সের পথ নেই
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর ডেথ রেফারেন্স কেবল মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর চেক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা এক বছর। বিচারিক আদালতের হাতে চেক মামলা হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করার কোনো সাধারণ ক্ষমতা নেই। কোনো পক্ষ ন্যায্য বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করলে প্রতিকার হলো ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬ অনুযায়ী মামলা বদলির দরখাস্ত। আইনগত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে যায় রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর আবেদনের মাধ্যমে।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আইন নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয় রিভিশন, ধারা ৫৬১ক বা মামলা বদলির মাধ্যমে, রেফারেন্সের মাধ্যমে নয়।
আপিল আদালত পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?
- 1মহানগর দায়রা জজের আদালত
দণ্ড বাতিল ও মামলা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
আপিল আদালত যদি গুরুতর পদ্ধতিগত ত্রুটি পান, যেমন অভিযোগ যথাযথভাবে গঠিত হয়নি, ধারা ৩৪২-এর পরীক্ষা বাদ পড়েছে, বা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে আদালত সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়ে ধারা ৪২৩(১)(খ) অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে আসামির পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারেন। আদালত ধারা ৪২৮ অনুযায়ী নিম্ন আদালতকে দিয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়ে নিজেও আপিল নিষ্পত্তি করতে পারেন।
আপিলের অংশ হিসেবেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮ - 2যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক)
পুনর্বিচার ও নতুন রায়
আপিল আদালত যে পর্যায় থেকে নির্দেশ দেন, বিচারিক আদালত সেখান থেকে পুনর্বিচার করে নতুন রায় দেন। আবার দণ্ড হলে আসামি আবার দায়রা জজের কাছে আপিল করতে পারেন। দায়েরের আগে আসামির দেখে নেওয়া উচিত আগের ৫০% জমা নতুন আপিলের জন্য বহাল থাকে, নাকি নতুন করে জমা দিতে হবে।
৬-১২ মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৩হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা বিচারিক আদালতে ফিরে যায় এবং নতুন আপিলে আবার উচ্চ আদালতে আসতে পারে।
মামলা কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির জন্য ফৌজদারি পিটিশন (লিভ টু আপিল)
রিভিশনে বা ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী দেওয়া হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিলের অনুমতি চেয়ে ফৌজদারি পিটিশন (criminal petition for leave to appeal) দায়ের করতে পারেন। কেবল আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বা ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যত্যয় দেখাতে পারলেই অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি মিললে আপিলের শুনানি হয়। আপিল বিভাগের রায় কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউ করা যায়।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
চেক ডিজঅনার মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
চেক ডিজঅনার মামলা শুরু হয় মুখ্য মহানগর হাকিম বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত নালিশ দিয়ে। কোন আদালতে বিচার হবে তা এখন চেকের অভিহিত মূল্যের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালে প্রতিস্থাপিত ধারা ১৪১(গ) অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেকের বিচার করেন যুগ্ম দায়রা জজ (ঢাকায় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ), আর এর কম অঙ্কের চেকের বিচার করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট। সর্বোচ্চ সাজা এক বছর হওয়ায় উভয় আদালতের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৮ অনুযায়ী দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজের কাছে যায়।
এই আপিল ৩০ দিনের মধ্যে এবং চেকের অঙ্কের ৫০% জমা দেওয়ার পরই দায়ের করতে হয়। এই আপিলে তথ্য ও আইন উভয় বিষয়ে পূর্ণ শুনানি হয়। এরপর হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ অনুযায়ী রিভিশনে এবং ধারা ৫৬১ক অনুযায়ী বাতিলের আবেদনে মূলত আইনগত প্রশ্নে কাজ করেন। আপিল বিভাগ মামলা শোনেন কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী অনুমতি দিলে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজের আদালত
- প্রথম দফার আদালতমুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত · মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চেক) · যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের আদালত (৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক)
- শুরু · আদালতের বাইরেঅদাতা (drawee) ব্যাংক · বাদীর আইনজীবীর চেম্বার · কারাগার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
অদাতা (drawee) ব্যাংক
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
বাদীর আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কারাগার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- ডিজঅনার স্লিপ (Dishonour slip)
- চেকের টাকা কেন দেওয়া হয়নি তা উল্লেখ করে ব্যাংকের রিটার্ন মেমো, যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল।
- যথাবিধি ধারক (Holder in due course)
- যে ব্যক্তি মূল্যের বিনিময়ে, সরল বিশ্বাসে, প্রদেয় হওয়ার আগে চেকটি নিয়েছেন। প্রাপকের পাশাপাশি তিনিও নালিশ দায়ের করতে পারেন।
- আমলে গ্রহণ (Cognizance)
- বাদীর জবানবন্দি নেওয়ার পর বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশ গ্রহণ।
- যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)
- দায়রা আদালতের একজন বিচারক, যাঁর পদমর্যাদা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিচে (ফৌজদারি কার্যবিধির কিছু পুরোনো বিধানে এখনো সহকারী দায়রা জজ বলা আছে)। ২০২৬ সাল থেকে এই আদালত ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক মামলার বিচার করেন।
- জামিনযোগ্য অপরাধ (Bailable offence)
- যে অপরাধে জামিন পাওয়া অধিকার, আদালতের বিবেচনার বিষয় নয়। চেক ডিজঅনার জামিনযোগ্য, কারণ এর সর্বোচ্চ সাজা এক বছর।
- ধারা ১৩৮ক-এর জমা (Section 138A deposit)
- ধারা ১৩৮-এর দণ্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো আপিলের আগে চেকের অঙ্কের অন্তত ৫০% বাধ্যতামূলক জমা।
- ফৌজদারি রিভিশন (Criminal revision)
- নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও যথার্থতা নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজের পরীক্ষা, মূলত আইনগত প্রশ্নে।
- ধারা ৫৬১ক (Section 561A)
- আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহারমূলক কার্যধারা বাতিল করতে বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা।
চেক ডিজঅনার মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
চেক ডিজঅনার মামলার সময়সীমাগুলো কী কী?
আমার চেকের মামলা কোন আদালতে বিচার হবে?
জামানত হিসেবে দেওয়া চেক দিয়ে কি ফৌজদারি মামলা করা যায়?
আসামির কি জেল হবে?
দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে কি টাকা জমা দিতে হয়?
টাকা আদায়ের জন্য কি দেওয়ানি মামলাও করা যায়?
কোম্পানির চেকের জন্য কি পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়?
মামলা দায়েরের পর আপস হলে কী হয়?
আইন ও উৎস
- The Negotiable Instruments Act 1881, Laws of Bangladesh
- The Negotiable Instruments Act 1881, mirror text
- The Code of Criminal Procedure 1898
- The Code of Criminal Procedure 1898, mirror text with 2026 amendment notes
- The Limitation Act 1908
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh
- Supreme Court of Bangladesh: judgments and cause lists
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।