অনুচ্ছেদ ৬৪ বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল
অ্যাটর্নি-জেনারেল
সাংবিধানিক ও বাণিজ্যিক মামলায়, বিনিয়োগকারী ও বড় সরকারি প্রকল্পকে প্রভাবিত করে এমন মামলাসহ, অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রের পক্ষ সমর্থন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগ দেন। বাস্তবে নতুন সরকার সাধারণত দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নিজস্ব অ্যাটর্নি-জেনারেল নিয়োগ করে।
অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন, রাষ্ট্রের আইনজীবী দলের নেতৃত্ব দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে সরকারকে পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেলরা এই দপ্তরকে সহায়তা করেন এবং সুপ্রিম কোর্টে সরকারের বিপুল সংখ্যক মামলা পরিচালনা করেন।
বাংলাদেশের সকল আদালতে অ্যাটর্নি-জেনারেলের বক্তব্য পেশের অধিকার রয়েছে, এবং তিনি সাধারণত আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বড় সাংবিধানিক ও জনআইন সংক্রান্ত মামলায়, সংবিধান সংশোধনী চ্যালেঞ্জসহ, রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত হন।
অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত পারিশ্রমিক পান। বাস্তবে সরকার বদলালে পদটিও বদলায়, যেমনটি ২০২৪ সালের আগস্টের পর এবং আবার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ঘটেছে।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৬৪ কীভাবে কাজ করে
৬৪ অনুচ্ছেদ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি-জেনারেলের পদ সৃষ্টি করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এই পদে নিয়োগ দেন, যা সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটকে বোঝায়। অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন, যা বাস্তবে সরকারের পরামর্শে নির্ধারিত হয়, যেমন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব এবং আইনগত প্রশ্নে পরামর্শ দেওয়া। বাংলাদেশের সকল আদালতে অ্যাটর্নি-জেনারেলের বক্তব্য পেশের অধিকার রয়েছে। পদটি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী মেয়াদে ধারণ করা হয়, তাই অ্যাটর্নি-জেনারেলকে যেকোনো সময় পরিবর্তন করা যায়, এবং রাষ্ট্রপতি তাঁর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেন।
বাস্তবে
সন্তোষানুযায়ী মেয়াদের অর্থ হলো পদটি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর নিষ্পত্তি হওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিযুক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত হন এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার যেকোনো পুনর্বহাল ভবিষ্যৎমুখীভাবে প্রযোজ্য করার পরামর্শ দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সেই সাবেক অ্যাটর্নি-জেনারেল আইনমন্ত্রী হন, এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আপিলে একজন নতুন অ্যাটর্নি-জেনারেল উপস্থিত হন। অনুচ্ছেদটি মুদ্রিত পাঠ অনুযায়ী প্রযোজ্য এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের রায়গুলো এতে প্রভাব ফেলেনি।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৬৪-এ যা বলা আছে
৬৪। (১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৬৪: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেলকে কে নিয়োগ করেন?
৬৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেল নিয়োগ করেন, এবং ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। নিযুক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য হতে হয়।
অ্যাটর্নি-জেনারেলকে কি যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়?
হ্যাঁ। ৬৪(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকেন, তাই যেকোনো সময় নিয়োগের অবসান ঘটানো যায়, এবং রাষ্ট্রপতি পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেন। বাস্তবে সরকারের সঙ্গে পদটিও বদলায়।
উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 64 (Laws of Bangladesh)
- Supreme Court of Bangladesh, Appellate Division: Civil Appeal Nos. 112 and 113 of 2025 (judgment of 20 November 2025; full text March 2026)
- Prothom Alo English: Next parliamentary election under caretaker govt: Law Minister (9 July 2026)
- ConstitutionNet: In Bangladesh, supreme court restores caretaker government system and referendum provision (10 July 2026)
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ৬৪ অনুচ্ছেদ (বাংলা পাঠ, বাংলাদেশ আইন সংকলন)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৬৪ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।











