ব্যবসার আইন ২০২৬: কাঠামো, ট্রেড লাইসেন্স, কর, ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি ও ফায়ার লাইসেন্সের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 21, 2026 | Corporate & Commercial, Insights | 0 comments

TRW Insight / বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ব্যবসা চালাতে একটি নয়, কয়েকটি আইন একসঙ্গে মানতে হয়। কাঠামো, লাইসেন্স, কর, চুক্তি, শ্রম, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশ ও ভোক্তা সুরক্ষার মূল দায়গুলো এক জায়গায় জানলে জরিমানা, মামলা ও ব্যবসা বন্ধের ঝুঁকি অনেক কমে।

হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬আইনি বিশ্লেষণবাংলাদেশ22 মিনিটে পড়া

ব্যবসার আইন ২০২৬: শুরু থেকে প্রতিদিনের দায়

বাংলাদেশে ব্যবসার আইন কোনো একক আইনের নাম নয়; এটি এমন কয়েকটি আইনের সমষ্টি, যা দোকান খোলা থেকে শুরু করে কারখানা চালানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রযোজ্য। কোন কাঠামোতে ব্যবসা করবেন, কোন লাইসেন্স নেবেন, কর-নিবন্ধন কবে করবেন, পরিবেশক বা ডিলারের সঙ্গে চুক্তি কীভাবে লিখবেন, কর্মী নিয়োগে কী মানবেন, ভবনে ফায়ার লাইসেন্স লাগবে কি না, পরিবেশগত ছাড়পত্র কখন বাধ্যতামূলক এবং ক্রেতার অভিযোগ এলে কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর ছড়িয়ে আছে চুক্তি আইন, অংশীদারি আইন, প্রতিযোগিতা আইন, শ্রম আইন, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে।[1] [6]

এই লেখায় আমরা সেই আইনগুলোকে একজন উদ্যোক্তার চোখে সাজিয়েছি: শুরুতে কী লাগে, চালু অবস্থায় কী মানতে হয় এবং কোথায় ভুল হলে জরিমানা, মামলা বা ব্যবসা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়। কোম্পানি গঠনের খুঁটিনাটি আমাদের কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ২০২৬ এবং নিবন্ধনের পরের দায়িত্ব কোম্পানি আইন ২০২৬ লেখায় আলাদাভাবে আছে, তাই এখানে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করিনি।

ব্যবসার আইন — ঢাকায় নতুন ব্যবসার কাগজপত্র নিয়ে উদ্যোক্তারা আলোচনা করছেন
সঠিক কাঠামো ও লাইসেন্স দিয়েই আইনসম্মত ব্যবসার শুরু

সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে প্রথমে কাঠামো বেছে নিতে হয়: একক মালিকানা, অংশীদারি ফার্ম বা কোম্পানি। এরপর স্থানীয় সরকার থেকে ট্রেড লাইসেন্স, এনবিআর থেকে টিআইএন এবং প্রযোজ্য হলে ভ্যাটের বিআইএন নিতে হয়। ব্যবসা চলার সময় চুক্তি আইন, প্রতিযোগিতা আইন, শ্রম আইন, ভোক্তা-অধিকার আইন মানতে হয়; দাহ্যবস্তু রাখা বা প্রক্রিয়াকরণের জায়গায় ফায়ার লাইসেন্স এবং শিল্প প্রকল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। ফায়ার লাইসেন্স প্রতি অর্থবছরে নবায়ন করতে হয় এবং ১ মে ২০২৬ থেকে আবেদন শুধু অনলাইনে।

মূল বিষয়: ব্যবসার আইনে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি অনেকে যেখানে আশা করেন না সেখানে: লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভবন বা স্থানকে দাহ্যবস্তুর গুদাম বা কারখানা হিসেবে ব্যবহার করলে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী অন্যূন তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে, এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিচালক ও ব্যবস্থাপকও দায়ী গণ্য হন।[1]

এক নজরে

০১

কাঠামো আগে

একক মালিকানা, অংশীদারি ফার্ম না কোম্পানি, এই সিদ্ধান্তই দায়, কর ও বিনিয়োগের সুযোগ ঠিক করে।

০২

লাইসেন্স ও কর

ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও প্রযোজ্য হলে বিআইএন; ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ভ্যাট রিটার্ন আবার মাসিক।

০৩

চুক্তি ও প্রতিযোগিতা

চুক্তি আইন, ১৮৭২ এবং প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২ মিলে ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তির এক্সক্লুসিভিটি ও টার্মিনেশন নিয়ন্ত্রণ করে।

০৪

ফায়ার লাইসেন্স

দাহ্যবস্তুর গুদাম বা কারখানায় বাধ্যতামূলক; প্রতি অর্থবছর নবায়ন, ১ মে ২০২৬ থেকে অনলাইনে আবেদন।

০৫

কর্মী, পরিবেশ, ভোক্তা

নিয়োগপত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ভোক্তা-অধিকার আইনের দায় ব্যবসার প্রথম দিন থেকেই চালু।

সূচিপত্র

ব্যবসার আইন কেন শুরুতেই জানা দরকার

অধিকাংশ উদ্যোক্তা আইনের মুখোমুখি হন সমস্যা হওয়ার পরে: ব্যাংক ঋণের ফাইল আটকে যায় কারণ ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন হয়নি, পরিবেশকের সঙ্গে বিরোধে দেখা যায় চুক্তিতে টার্মিনেশনের কোনো ধারা নেই, কিংবা অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে বেরিয়ে আসে ভবনটির ফায়ার লাইসেন্সই ছিল না। ব্যবসার আইন আগে থেকে জানা থাকলে এই ঝুঁকিগুলোর বেশিরভাগই সস্তায় ও সহজে এড়ানো যায়।

ব্যবসার কাঠামো নির্বাচন: একক মালিকানা, অংশীদারি না কোম্পানি

ব্যবসার আইনে প্রথম এবং সবচেয়ে কঠিন-ফেরানো সিদ্ধান্ত হলো কাঠামো। এটি ঠিক করে ব্যবসার দেনার দায় কার ঘাড়ে পড়বে, কর কীভাবে হবে, ব্যাংক কতটা ঋণ দেবে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারী আনা যাবে কি না। পরে কাঠামো বদলাতে গেলে সম্পদ, চুক্তি, লাইসেন্স ও কর্মী নতুন সত্তায় হস্তান্তর করতে হয়, যা সময় ও খরচসাপেক্ষ।

একক মালিকানা (সোল প্রোপ্রাইটরশিপ)

একক মালিকানায় মালিক ও ব্যবসা আইনের চোখে একই ব্যক্তি। আরজেএসসিতে আলাদা নিবন্ধন লাগে না; ট্রেড লাইসেন্স, মালিকের টিআইএন এবং প্রযোজ্য হলে বিআইএনই মূল আনুষ্ঠানিকতা। খরচ কম ও সিদ্ধান্ত দ্রুত, কিন্তু ব্যবসার প্রতিটি দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী এবং বাইরের বিনিয়োগকারীকে মালিকানার অংশ দেওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। ছোট দোকান, পরামর্শ সেবা বা বাজার যাচাই করছেন এমন অনলাইন বিক্রেতার জন্য এটি উপযুক্ত।

অংশীদারি ফার্ম: অংশীদারি আইন, ১৯৩২

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি লাভ ভাগাভাগির জন্য একসঙ্গে ব্যবসা করলে অংশীদারি আইন, ১৯৩২ (Partnership Act, 1932) প্রযোজ্য। আইনের ধারা ৫৮ অনুযায়ী ফার্মের নিবন্ধন যেকোনো সময় করা যায়; নির্ধারিত বিবরণী সব অংশীদারের স্বাক্ষরে রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে হয়, এবং সন্তুষ্ট হলে রেজিস্ট্রার ধারা ৫৯ অনুযায়ী ফার্মটিকে ফার্মসমূহের রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত করেন।[5] অর্থাৎ নিবন্ধন আইনত ঐচ্ছিক, কিন্তু বাস্তবে প্রায় অপরিহার্য।

কারণটি ধারা ৬৯-এ। ফার্ম নিবন্ধিত না হলে এবং মামলাকারী ব্যক্তি ফার্মসমূহের রেজিস্টারে অংশীদার হিসেবে লিপিবদ্ধ না থাকলে চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার বলবৎ করার জন্য আদালতে মামলা করা যায় না।[5] অনিবন্ধিত ফার্ম তাই পাওনা আদায়ে বা চুক্তিভঙ্গের প্রতিকারে নিজেকে নিরস্ত্র অবস্থায় পায়। তার ওপর অংশীদারদের দায় সীমিত নয়: ফার্মের দেনার জন্য প্রত্যেক অংশীদারের ব্যক্তিগত সম্পদ ঝুঁকিতে থাকে। অংশীদারি দলিলে মূলধন, লাভ-ক্ষতির অনুপাত, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, নতুন অংশীদার গ্রহণ, অবসর ও বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়ম স্পষ্ট লিখুন।

প্রাইভেট লিমিটেড ও এক ব্যক্তি কোম্পানি

সীমিত দায়, আলাদা আইনি সত্তা এবং বিনিয়োগকারী আনার সুবিধা চাইলে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বা এক ব্যক্তি কোম্পানি (ওপিসি) সাধারণত সঠিক পছন্দ। শেয়ারহোল্ডারের দায় তার শেয়ারের অপরিশোধিত মূল্য পর্যন্ত সীমিত, আর কোম্পানি নিজের নামে সম্পদ রাখতে, চুক্তি করতে ও মামলা করতে পারে। আরজেএসসির ধাপ, ফি ও কাগজপত্র দেখুন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন লেখায়, আর পুরো প্রতিষ্ঠার ক্রম ইংরেজিতে আমাদের How to start a business in Bangladesh গাইডে।

কোনটি বেছে নেবেন: তিনটি প্রশ্ন

প্রথম প্রশ্ন, আপনি ছাড়া আর কেউ কি কখনো মালিকানার অংশ পাবেন? হ্যাঁ হলে কোম্পানি। দ্বিতীয়, ব্যবসার দেনা কি আপনার ব্যক্তিগত সম্পদকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, যেমন বড় সরবরাহ চুক্তি বা ব্যাংক ঋণ? হ্যাঁ হলে সীমিত দায়ের কাঠামো। তৃতীয়, আপনার খাতের নিয়ন্ত্রক কি কেবল কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়? তাহলে একক মালিকানা বা অংশীদারি কোনো বিকল্পই নয়। শুরুতে সামান্য বেশি খরচ করে সঠিক কাঠামো নেওয়া পরে বাধ্যতামূলক পুনর্গঠনের চেয়ে অনেক সস্তা।

ব্যবসার আইন — অংশীদারি দলিল ও কোম্পানির নিবন্ধনের কাগজে স্বাক্ষর
অংশীদারি ফার্ম নিবন্ধিত না হলে চুক্তিভিত্তিক মামলা করা যায় না

ট্রেড লাইসেন্স ও স্থানীয় নিবন্ধন

কাঠামো যা-ই হোক, প্রতিটি ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স লাগে। লাইসেন্স দেয় যে এলাকায় ব্যবসা চলে সেই এলাকার সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ, এবং প্রতি অর্থবছর তা নবায়ন করতে হয়। নতুন ট্রেড লাইসেন্সের জন্য এখন টিআইএনই যথেষ্ট, তবে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নবায়নের সময় আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (পিএসআর) লাগে।[13] তাই ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরেই রিটার্ন দাখিলের অভ্যাস তৈরি করুন।

ট্রেড লাইসেন্স জায়গাভিত্তিক। ঢাকায় অফিস আর গাজীপুরে গুদাম থাকলে দুই জায়গার জন্য দুই কর্তৃপক্ষ থেকে আলাদা লাইসেন্স লাগবে। ফি নির্ভর করে ব্যবসার শ্রেণি, কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের তফসিলের ওপর; এর সঙ্গে সাইনবোর্ড কর ও ভ্যাট যুক্ত হয়। ক্যাটাগরিভিত্তিক ফি ও নবায়নের বিলম্ব মাশুলের হিসাব দেখুন আমাদের Trade licence in Bangladesh গাইডে।

টিআইএন, বিআইএন ও ভ্যাট: করের প্রথম ধাপ

ব্যবসার আইন মানার দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো কর-পরিচিতি। একক মালিকানায় মালিকের ব্যক্তিগত ই-টিআইএন, আর কোম্পানির নিজস্ব ই-টিআইএন এনবিআরের অনলাইন ব্যবস্থায় নিতে হয়। কোম্পানির পরিচালক বা উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হতে হলে পিএসআর বাধ্যতামূলক, ফলে যে পরিচালক কখনো রিটার্ন দেননি তিনি নিবন্ধনই আটকে দিতে পারেন।[13]

ভ্যাটের জন্য নিবন্ধন বা টার্নওভার করের তালিকাভুক্তির প্রমাণ হলো বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন)। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর অধীনে নির্ধারিত টার্নওভার সীমা পেরোলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, আর আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের সাধারণত টার্নওভার নির্বিশেষে বিআইএন লাগে। সীমা ও হার প্রায় প্রতি বাজেটে বদলায়, তাই নিবন্ধনের আগে চলতি অর্থবছরের অর্থ আইন মিলিয়ে নিন।

২০২৬ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মনে রাখুন। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ গেজেটভুক্ত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ ত্রৈমাসিক রিটার্নের ব্যবস্থা বাতিল করে মাসিক রিটার্ন ফিরিয়ে এনেছে; অধিকাংশ ব্যবসাকে প্রতি কর মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে হবে।[14] বেতন, ভাড়া ও ঠিকাদারের বিলে উৎসে কর কাটার দায়ও প্রথম পরিশোধ থেকেই শুরু হয়, প্রথম মুনাফা থেকে নয়।

চুক্তি আইনের মূল নিয়ম যা প্রতিটি ব্যবসায় লাগে

সরবরাহকারী, ক্রেতা, বাড়িওয়ালা, পরিবেশক বা সেবাদাতা, প্রতিটি ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভিত্তি চুক্তি আইন, ১৮৭২ (Contract Act, 1872)। ধারা ১০ অনুযায়ী চুক্তি করার যোগ্য পক্ষগুলোর স্বাধীন সম্মতিতে, বৈধ প্রতিদান ও বৈধ উদ্দেশ্যে করা সব সমঝোতাই চুক্তি, যদি না আইন সেটিকে স্পষ্টভাবে বাতিল ঘোষণা করে।[6] মৌখিক চুক্তিও বৈধ হতে পারে, কিন্তু বিরোধ হলে প্রমাণের ভার অনেক বেশি, তাই গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন লিখিত হওয়া উচিত।

ক্ষতিপূরণ ও ব্যবসা-নিয়ন্ত্রণের সীমা

চুক্তিভঙ্গ হলে ধারা ৭৩ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ভঙ্গকারীর কাছ থেকে চুক্তিভঙ্গজনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পান, তবে দূরবর্তী ও পরোক্ষ ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না।[6] তাই চুক্তিতে ক্ষতির সীমা, বিলম্বের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ও পরোক্ষ ক্ষতি বাদ দেওয়ার ধারা লিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

দ্বিতীয় নিয়মটি অনেক ব্যবসায়ীকে অবাক করে। ধারা ২৭ অনুযায়ী কোনো বৈধ পেশা, ব্যবসা বা বাণিজ্য চালানো থেকে কাউকে বিরত রাখার যেকোনো সমঝোতা সেই পরিমাণে বাতিল; একমাত্র বড় ব্যতিক্রম হলো ব্যবসার সুনাম (গুডউইল) বিক্রেতা যুক্তিসংগত স্থানীয় সীমার মধ্যে একই ব্যবসা না করার অঙ্গীকার করতে পারেন।[6] চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও প্রতিযোগী পণ্য না বেচার শর্ত, বা কর্মীর চাকরি ছাড়ার পর একই খাতে কাজ না করার শর্ত, এই ধারার কারণে প্রায়ই টেকে না। চুক্তি বলবৎকরণের বিস্তারিত দেখুন আমাদের Contract law in Bangladesh গাইডে।

ডিস্ট্রিবিউশন ও ডিলারশিপ চুক্তি: এক্সক্লুসিভিটি, টার্মিনেশন ও বিরোধ

বাংলাদেশে ডিস্ট্রিবিউশন বা ডিলারশিপের জন্য আলাদা কোনো আইন নেই। পরিবেশক নিয়োগ, এলাকা ভাগ, বিক্রয় লক্ষ্য, মূল্য ও সম্পর্ক শেষ করার নিয়ম সবই চুক্তি আইন, পণ্য বিক্রয় আইন ও প্রতিযোগিতা আইনের কাঠামোর মধ্যে চুক্তিতে লিখে ঠিক করতে হয়। এ কারণেই ব্যবসার আইনে ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি সবচেয়ে বেশি খসড়া-নির্ভর বিষয়: যা লেখা নেই, বিরোধের সময় তা প্রমাণ করা কঠিন।

এজেন্ট না ডিস্ট্রিবিউটর: পার্থক্যটা আইনি

ডিস্ট্রিবিউটর বা ডিলার পণ্য কিনে নিজের নামে, নিজের ঝুঁকিতে আবার বিক্রি করেন; পণ্যের মালিকানা, বাকির ঝুঁকি ও মুনাফা তার। এজেন্ট পণ্যের মালিক হন না, প্রিন্সিপালের পক্ষে ক্রেতার সঙ্গে লেনদেন করেন এবং সাধারণত কমিশন পান; তার করা চুক্তি প্রিন্সিপালকে বাধ্য করে। চুক্তির শিরোনামে কী লেখা আছে তা নয়, বাস্তবে পক্ষগুলো কীভাবে কাজ করে সেটিই ঠিক করে সম্পর্কটি কোন ধরনের।

এক্সক্লুসিভিটি ও প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২

একচেটিয়া পরিবেশক নিয়োগ বৈধ, তবে সীমাহীন নয়। প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫(১) পণ্য বা সেবার উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণসংক্রান্ত এমন চুক্তি নিষিদ্ধ করে যা প্রতিযোগিতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে বা ফেলতে পারে। ধারা ১৫(৩) অনুযায়ী টাই-ইন ব্যবস্থা, এক্সক্লুসিভ সরবরাহ চুক্তি, সরবরাহ সীমিত বা আটকে রাখে এমন এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি, লেনদেনে অস্বীকৃতি এবং পুনর্বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ, বিরূপ প্রভাব থাকলে প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি হিসেবে গণ্য হয়।[7]

পরীক্ষাটি প্রভাবভিত্তিক। একটি ছোট ব্র্যান্ড এক জেলার জন্য একজন একচেটিয়া পরিবেশক নিয়োগ করলে আর বাজারের প্রভাবশালী ব্র্যান্ড সব খুচরা দোকানকে প্রতিযোগীর পণ্য রাখতে নিষেধ করলে, দুটির ঝুঁকি একেবারে আলাদা। মেধাস্বত্ব রক্ষার যুক্তিসংগত শর্ত এবং কেবল রপ্তানিসংক্রান্ত চুক্তি ধারা ১৫(৪)-এর ব্যতিক্রমে পড়ে, আর ধারা ১৬ প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার, যেমন অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বিক্রয়শর্ত, আলাদাভাবে নিষিদ্ধ করে।[7] লঙ্ঘনে কমিশন আগের তিন অর্থবছরের গড় টার্নওভারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানা করতে পারে।[7] কমিশনের কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক প্রয়োগ দেখুন আমাদের Competition law in Bangladesh 2026 বিশ্লেষণে।

টার্মিনেশন: নোটিশ, স্টক ও পাওনা

বাংলাদেশে বিদেশের মতো পরিবেশকের সুনামের জন্য কোনো বিধিবদ্ধ ক্ষতিপূরণ নেই; পরিবেশকের অধিকার মূলত চুক্তির ওপর নির্ভর করে। চুক্তিতে নির্ধারিত নোটিশ না দিয়ে সম্পর্ক শেষ করলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চুক্তি আইনের ধারা ৭৩ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন, যা সাধারণত পাওয়ার কথা ছিল এমন নোটিশকালের হারানো মুনাফার ভিত্তিতে হিসাব হয়।[6] তাই চুক্তিতে নোটিশের মেয়াদ, কোন কোন কারণে তাৎক্ষণিক টার্মিনেশন চলবে, বিক্রয় লক্ষ্য পূরণ না হলে কী হবে এবং অবশিষ্ট স্টক ফেরত নেওয়ার দাম স্পষ্ট লিখুন।

মেয়াদ শেষের পর প্রতিযোগী পণ্য না বেচার শর্ত ধারা ২৭-এর ঝুঁকিতে থাকে; এর বদলে গোপনীয়তা, গ্রাহক তালিকা ও ট্রেডমার্ক ব্যবহারের সীমা নিয়ে শক্ত ধারা রাখুন।

বিরোধ নিষ্পত্তি

পরিবেশক-বিরোধ সাধারণত পাওনা, এলাকা লঙ্ঘন বা হঠাৎ টার্মিনেশন নিয়ে হয়। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ২৩ নং আইন) বাণিজ্যিক বিরোধের জন্য বিশেষায়িত আদালত চালু করেছে, যা কার্যকর হলে দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমার কথা; বিস্তারিত দেখুন আমাদের Commercial Courts Act বিশ্লেষণে। বিদেশি সরবরাহকারী থাকলে সালিশ ধারা, সালিশের আসন, প্রযোজ্য আইন ও ভাষা আগেই ঠিক করুন। সরবরাহ, এজেন্সি ও পণ্য বিক্রয় চুক্তির পূর্ণ খসড়া-চেকলিস্ট আছে আমাদের Supply agreements in Bangladesh গাইডে।

ব্যবসার আইন — গুদাম থেকে পরিবেশকের কাছে পণ্য পাঠানো হচ্ছে
ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তিতে এলাকা, এক্সক্লুসিভিটি ও টার্মিনেশন লিখিত থাকা চাই

শ্রম আইনের দায়িত্ব: প্রথম কর্মী নিয়োগ থেকেই

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ প্রথম কর্মী নিয়োগের দিন থেকেই প্রযোজ্য। ধারা ৫ অনুযায়ী কোনো মালিক নিয়োগপত্র না দিয়ে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করতে পারবেন না এবং প্রত্যেক নিয়োজিত শ্রমিককে ছবিসহ পরিচয়পত্র দিতে হবে।[8] ধারা ৪ শ্রমিকদের শিক্ষাধীন, বদলী, সাময়িক, অস্থায়ী, শিক্ষানবিশ, স্থায়ী ও মৌসুমী, এই সাত শ্রেণিতে ভাগ করে, আর প্রতিটি শ্রেণির অধিকার ও চাকরি অবসানের নিয়ম আলাদা।[8]

প্রতিষ্ঠান নিজস্ব চাকরি বিধি করতে পারে, তবে শ্রম আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী তা পরিদর্শন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হয় না।[8] শ্রমিক, হাজিরা, মজুরি ও ছুটির রেজিস্টার শুরু থেকেই রাখতে হবে, এবং কর্মী ব্যবস্থাপক না শ্রমিক, সেই পার্থক্য নিয়োগপত্রে স্পষ্ট করতে হবে, কারণ আইনের সুরক্ষা দুই শ্রেণিতে আলাদাভাবে কাজ করে।

২০২৬ সালের সংশোধনী

বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রণীত হয়েছে। এটি জবরদস্তিমূলক শ্রম, যৌন হয়রানি ও কর্মস্থলে সহিংসতার সংজ্ঞা যুক্ত করেছে, শারীরিক আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমনভাবে কাজ চালানো বা পণ্য রাখা নিষিদ্ধ করে নতুন ধারা ৬১ক যোগ করেছে, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধার মেয়াদ ও হিসাব পদ্ধতি বদলেছে এবং কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিলের বিধান এনেছে।[9] পুরোনো নিয়োগপত্র, চাকরি বিধি ও হয়রানি প্রতিরোধ নীতি এই সংশোধনী অনুযায়ী হালনাগাদ করুন। বিস্তারিত দেখুন আমাদের Labour law in Bangladesh গাইডে।

ফায়ার লাইসেন্স: কার লাগে, আবেদন, ফি ও নবায়ন

অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবসার আইনের সবচেয়ে উপেক্ষিত অথচ সবচেয়ে কঠোর অংশ। ফায়ার লাইসেন্স দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এবং অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিধিমালা, ২০১৪-এর অধীনে। আইনের ধারা ৪(১) অনুযায়ী কোনো ভবন বা স্থানকে মালগুদাম বা কারখানা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে মহাপরিচালকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।[1]

কার ফায়ার লাইসেন্স লাগে

আইনে মালগুদাম মানে দাহ্যবস্তু সংরক্ষণ, মজুদ, সংকোচন, বাছাই বা কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত ভবন বা স্থান, আর কারখানা মানে দাহ্যবস্তু প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত ভবন বা স্থান।[1] তাই নির্ধারক হলো আপনি কী রাখেন বা কী প্রক্রিয়া করেন, ট্রেড লাইসেন্সে কী লেখা আছে তা নয়। রাসায়নিক গুদাম, প্লাস্টিক কারখানা, ছাপাখানা বা জ্বালানি ডিপো সবই এর আওতায় পড়তে পারে। ফায়ার লাইসেন্স অহস্তান্তরযোগ্য: ধারা ৬ অনুযায়ী মালিকানা বদলালে নতুন মালিককে নিজের নামে লাইসেন্স নিতে হয়।[1]

ভবনের শ্রেণি ও অগ্নিঝুঁকির মাত্রা

ভবনের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রণ আছে। আইনে বহুতল ভবন মানে অন্যূন সাত তলাবিশিষ্ট ভবন, আর বাণিজ্যিক ভবন মানে ব্যাংক, বিমা বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স বা ব্যবসা-বাণিজ্য বা সরকারি কাজে ব্যবহৃত ভবন; বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে উচ্চতার কোনো সীমা নেই। ধারা ৭ অনুযায়ী মহাপরিচালকের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো বহুতল বা বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদন বা সংশোধন করা যায় না, আর ধারা ৮(৪) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সময়মতো না নিলে ভবনকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা যায়।[1]

লাইসেন্সের ফরমে প্রতিটি স্থাপনার অগ্নিঝুঁকি ছয় ধাপে শ্রেণিবদ্ধ হয়: লাইট-১, লাইট-২, নরমাল-১, নরমাল-২, নরমাল-৩ ও এক্সট্রিম।[2] এই শ্রেণিই পরিদর্শনের কঠোরতা ও ফি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, তাই আবেদনে দাহ্যবস্তুর তালিকা, পরিমাণ ও অবস্থান বাস্তবের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র

৩০ এপ্রিল ২০২৬ ফায়ার সার্ভিস ই-ফায়ার লাইসেন্স সেবা উদ্বোধন করেছে; ১ মে থেকে নতুন লাইসেন্স, নবায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের সব আবেদন অনলাইনে হচ্ছে এবং ম্যানুয়াল আবেদন বন্ধ।[3] নতুন শিল্প ভবনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি তিন ধাপের: নির্মাণের আগে ফায়ার ফাইটিং ফ্লোর প্ল্যানের অনুমোদন (এনওসি), অগ্নিনিরাপত্তা কাজ শেষে কার্যকারিতা সনদ (ইফেক্টিভনেস সার্টিফিকেট), তারপর ফায়ার লাইসেন্স।[2]

ফায়ার সার্ভিসের অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক মানক কার্যপ্রণালীতে লাইসেন্সের মূল কাগজপত্র হিসেবে অনলাইন আবেদন ফরম, জমির লিজ বা ভাড়ার চুক্তি, ট্রেড লাইসেন্স, নিগমন সনদ ও সংঘস্মারক-সংঘবিধি, অনুমোদিত ফায়ার ফাইটিং ফ্লোর প্ল্যান এবং কার্যকারিতা সনদের কথা বলা আছে।[2] ফ্লোর প্ল্যানের প্রতিটি পাতায় কারখানার মালিক, তালিকাভুক্ত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রকৌশলী বা স্থপতি এবং ফায়ার সার্ভিসে অন্তত তিন বছর চাকরি করা প্রথম শ্রেণির সাবেক কর্মকর্তা একজন ফায়ার প্রফেশনালের সই ও সিল লাগে।[2]

আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী আবেদন পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক লাইসেন্স দেবেন; সন্তুষ্ট না হলে আবেদনকারীকে শুনানি দিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।[1] অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘোষিত সেবামান আরও দ্রুত: পূর্ণাঙ্গ আবেদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে লাইসেন্স।[2]

ফায়ার লাইসেন্সের ফি

ফায়ার লাইসেন্সের ফি নির্দিষ্ট অঙ্কের নয়। আইনের ধারা ৪(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত ফি জমা না দিলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় না এবং লাইসেন্স ফি জমা না দিলে লাইসেন্স দেওয়া হয় না।[1] ফির পরিমাণ দাহ্যবস্তুর প্রকৃতি ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে; অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যপ্রণালীতে সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা এবং নবায়নেও একই অঙ্কের কথা বলা আছে, আর ফ্লোর প্ল্যান অনুমোদন ও কার্যকারিতা সনদ বিনা মূল্যে।[2] অঞ্চলের বাইরে পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিস যে ডিমান্ড নোট দেয়, সেটিই প্রকৃত দেয় অঙ্ক। বিধিমালা ২০১৪ সংশোধনের কাজ চলছে, তাই নতুন তফসিল গেজেট হলে ফি বদলাতে পারে।

নবায়ন: ৩০ জুনের আগে

ধারা ৪(১২) অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিয়ে প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করা যায়।[1] লাইসেন্স চলে অর্থবছর ধরে, ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন, এবং নবায়ন ফি অগ্রিম লাইসেন্স ফি হিসেবে প্রতি বছর ৩০ জুনের আগে জমা দিতে হয়।[2] অর্থাৎ মার্চে প্রথম লাইসেন্স পেলেও পরের ৩০ জুনের আগে নবায়ন করতে হবে। নবায়ন কেবল টাকা জমা নয়; পরিদর্শক স্থাপনা দেখে প্রয়োজনে সংশোধনমূলক কাজের নোটিশ দেন। নতুন তলা, মেজানাইন, মজুদের স্থান বদল বা নতুন দাহ্যবস্তু যোগ হলে আগে অনুমোদন নিন।

শাস্তি ও পরিচালকের ব্যক্তিগত দায়

এই আইনের শাস্তি সর্বনিম্ন মেয়াদে নির্ধারিত। লাইসেন্স ছাড়া মালগুদাম বা কারখানা চালালে ধারা ১৭ অনুযায়ী অন্যূন তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং মালামাল বাজেয়াপ্তযোগ্য; লাইসেন্সের শর্ত না মানলে ধারা ১৮ অনুযায়ী অন্যূন ছয় মাস; আর আইন ভেঙে দাহ্যবস্তু মজুদ বা প্রক্রিয়াকরণে ধারা ২১ অনুযায়ী অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ড।[1] ধারা ২৩ অনুযায়ী কোম্পানির অপরাধে পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দায়ী গণ্য হন, যদি না প্রমাণ করেন যে লঙ্ঘন তাদের অজ্ঞাতে হয়েছে বা তারা তা ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।[1]

প্রয়োগও কঠোর হচ্ছে। ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ১০,৫৩৩টি ভবন ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৩,৩১৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলেছে; পরিদর্শিত ৯১টি রাসায়নিক গুদামের মধ্যে মাত্র ১১টি সন্তোষজনক ছিল। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ফায়ার লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স না থাকাই একটি ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে ফেলতে পারে।[4] ফায়ার লাইসেন্সের পূর্ণ বিশ্লেষণ ইংরেজিতে দেখুন আমাদের Fire licence in Bangladesh গাইডে।

ব্যবসার আইন — কারখানায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও ফায়ার লাইসেন্সের পরিদর্শন
ফায়ার লাইসেন্স প্রতি অর্থবছরে ৩০ জুনের আগে নবায়ন করতে হয়

পরিবেশগত ছাড়পত্র

ব্যবসার আইনে শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের আগে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ১২ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। ধারা ১২ লঙ্ঘনের শাস্তি অন্যূন দুই বছর ও অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অন্যূন এক লক্ষ ও অনধিক পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।[10]

পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ (এসআরও নং ৫৩) শিল্প প্রকল্পকে তাদের কার্যক্রম, দূষণের মাত্রা এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই চার শ্রেণিতে ভাগ করে, এবং ছাড়পত্র ও অবস্থানগত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।[11] শ্রেণি যত উঁচু, তত বেশি কাগজপত্র, যেমন প্রাথমিক পরিবেশগত পরীক্ষা বা পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ। জমি কেনা বা ভাড়ার আগেই শিল্পের শ্রেণি যাচাই করুন। ছাড়পত্র পাওয়ার পরের দায়িত্ব দেখুন আমাদের Environmental compliance in Bangladesh গাইডে।

ভোক্তা অধিকার আইন: ক্রেতার অভিযোগ ও জরিমানা

পণ্য বা সেবা সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ প্রতিদিনের আইন। কোনো ভোক্তাবিরোধী কাজের বিষয়ে কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরোপিত জরিমানা আদায়ের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পান।[12] ফলে ক্রেতার অভিযোগ করার আর্থিক প্রণোদনা আছে, আর ব্যবসার জন্য একটি অভিযোগই প্রশাসনিক জরিমানা ও সুনামহানির কারণ হতে পারে।

সবচেয়ে সাধারণ লঙ্ঘনগুলো সহজেই এড়ানো যায়: মোড়কে ওজন, উপাদান, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না লেখা; দোকানে মূল্য তালিকা না টাঙানো; নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া; মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন। ই-কমার্স বিক্রেতার ক্ষেত্রে টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়াও একই আইনের আওতায় পড়ে। ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযোগে সাড়া দেওয়ার কৌশল ও আপিলের বিষয়ে আমাদের ভোক্তা সুরক্ষা দল পরামর্শ দেয়।

ব্যবসার আইন মানার ধাপে ধাপে পরিকল্পনা

নিচের ক্রমটি TRW নতুন ব্যবসা দাঁড় করানোর সময় অনুসরণ করে; ক্রম ভাঙলে প্রায়ই একই আবেদন দুবার করতে হয়।

ধাপ 01

কাঠামো ঠিক করুন

মালিকানা, দায়, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক লাইসেন্সের প্রয়োজন বিবেচনা করে একক মালিকানা, অংশীদারি বা কোম্পানি বেছে নিন।

ধাপ 02

নিবন্ধন সম্পন্ন করুন

অংশীদারি দলিল করে ফার্ম নিবন্ধন করুন, অথবা আরজেএসসিতে কোম্পানি নিবন্ধন করুন।

ধাপ 03

কর-পরিচিতি নিন

ই-টিআইএন নিন, পরিচালকদের পিএসআর যাচাই করুন এবং প্রযোজ্য হলে বিআইএন করুন।

ধাপ 04

প্রতিটি স্থাপনার ট্রেড লাইসেন্স

অফিস, গুদাম ও আউটলেটের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার থেকে আলাদা ট্রেড লাইসেন্স নিন।

ধাপ 05

ঝুঁকিভিত্তিক অনুমোদন

দাহ্যবস্তু থাকলে ফায়ার লাইসেন্স, শিল্প প্রকল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং খাতের লাইসেন্স নিন।

ধাপ 06

চুক্তিগুলো লিখিত করুন

সরবরাহকারী, পরিবেশক, বাড়িওয়ালা ও কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আইন মেনে লিখিত চুক্তি করুন।

ধাপ 07

শ্রম আইন মেনে নিয়োগ

নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র ও রেজিস্টার চালু করুন; ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী নীতিমালা হালনাগাদ করুন।

ধাপ 08

নবায়নের ক্যালেন্ডার

মাসিক ভ্যাট রিটার্ন, ফায়ার লাইসেন্সের ৩০ জুন এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের তারিখ লিখে দায়িত্ব ভাগ করুন।

নিচের সারণিতে প্রধান লাইসেন্স ও নিবন্ধনগুলো পাশাপাশি রাখা হলো। ফোনে সারণিটি পাশে স্ক্রল করুন।

ব্যবসার প্রধান লাইসেন্স ও নিবন্ধন এক নজরে
বিষয়মূল আইনকর্তৃপক্ষকার লাগেমেয়াদ ও নবায়ন
অংশীদারি ফার্ম নিবন্ধনঅংশীদারি আইন, ১৯৩২ফার্মসমূহের রেজিস্ট্রারঅংশীদারি ব্যবসাএকবার; পরিবর্তন জানাতে হয়
ট্রেড লাইসেন্সস্থানীয় সরকার আইন ও কর তফসিলসিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদপ্রতিটি ব্যবসার প্রতিটি স্থাপনাপ্রতি অর্থবছর
টিআইএন ও বিআইএনআয়কর আইন, ২০২৩; ভ্যাট আইন, ২০১২জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসব করদাতা; সীমা পেরোনো বা নির্দিষ্ট ব্যবসারিটার্ন মাসিক (ভ্যাট) ও বার্ষিক (আয়কর)
ফায়ার লাইসেন্সঅগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩, ধারা ৪ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সদাহ্যবস্তুর মালগুদাম বা কারখানাঅর্থবছর; ৩০ জুনের আগে নবায়ন
ভবনের অগ্নি ছাড়পত্রএকই আইন, ধারা ৭ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসাত তলা বা তার বেশি এবং বাণিজ্যিক ভবননকশা অনুমোদনের আগে
পরিবেশগত ছাড়পত্রপরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, ধারা ১২পরিবেশ অধিদপ্তরশিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পশ্রেণি অনুযায়ী বিধিমালা, ২০২৩

ব্যবসার আইনে সাধারণ ভুল যা বিপদ ডেকে আনে

যে ভুলগুলো আমরা বারবার দেখি, তার প্রায় সবই কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে এড়ানো যায়।

  • অনিবন্ধিত অংশীদারি: পাওনা আদায়ের মামলার সময় দেখা যায় ফার্ম নিবন্ধিত নয়, ফলে চুক্তিভিত্তিক মামলাই করা যায় না।[5]
  • মৌখিক বা ক্রয়াদেশনির্ভর ডিস্ট্রিবিউশন: লিখিত চুক্তি ছাড়া এলাকা, এক্সক্লুসিভিটি ও টার্মিনেশনের নোটিশ প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব, আর প্রতিযোগিতা আইনের ঝুঁকিও থাকে।
  • মেয়াদ-পরবর্তী নন-কম্পিট: চুক্তি আইনের ধারা ২৭-এর কারণে এমন শর্ত প্রায়ই বাতিল হয়; এর ওপর ব্যবসার সুরক্ষা দাঁড় করাবেন না।[6]
  • ৩০ জুন ভুলে যাওয়া: ফায়ার লাইসেন্স প্রথম দেওয়ার তারিখ যা-ই হোক, নবায়ন ফি ৩০ জুনের আগে দিতে হয়।[2]
  • এনওসিতে থেমে যাওয়া: ফ্লোর প্ল্যানের এনওসি পেয়ে কার্যকারিতা সনদ ছাড়াই ভবন ব্যবহার শুরু করা।
  • পুরোনো নিয়োগপত্র: ২০২৬ সালের শ্রম সংশোধনীর পরেও আগের নিয়োগপত্র ও চাকরি বিধি চালিয়ে যাওয়া।[9]
  • দ্বিতীয় স্থাপনার কথা ভুলে যাওয়া: নতুন গুদাম বা আউটলেটের জন্য আলাদা ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনে ফায়ার লাইসেন্স না নেওয়া।

২০২৬ সালে যা নজরে রাখবেন

তিনটি পরিবর্তন সামনের মাসগুলোতে ব্যবসার আইনের চেহারা বদলাতে পারে। প্রথমত, ভ্যাট রিটার্ন আবার মাসিক হওয়ায় অক্টোবর ২০২৬ থেকে হিসাব বিভাগের কাজের চাপ বাড়বে।[14] দ্বিতীয়ত, ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থায় আপলোড করা নকশা ও দাহ্যবস্তুর তালিকা এখন স্থায়ী রেকর্ড, যার সঙ্গে পরবর্তী যেকোনো পরিদর্শন বা তদন্ত মিলিয়ে দেখা হবে।[3] তৃতীয়ত, বাণিজ্যিক আদালত চালু হওয়ায় ডিস্ট্রিবিউশন ও সরবরাহ বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাই চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ধারা নতুন করে পড়ার এখনই সময়।

প্রতিটি নবায়ন ও রিটার্নের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঠিক করুন। TRW-এর করপোরেট ও বাণিজ্যিক পরামর্শ দল ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, চুক্তি খসড়া ও লাইসেন্সিং একসঙ্গে পরিচালনা করে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে কোন কোন আইন জানা জরুরি?

মূলত কাঠামোর জন্য অংশীদারি আইন, ১৯৩২ ও কোম্পানী আইন, ১৯৯৪; লেনদেনের জন্য চুক্তি আইন, ১৮৭২ ও প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২; আর পরিচালনার জন্য শ্রম আইন, ২০০৬, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯। এর সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স ও কর আইন প্রযোজ্য।[1] [6]

অংশীদারি ফার্মের নিবন্ধন কি বাধ্যতামূলক?

আইনত নয়; ধারা ৫৮ অনুযায়ী যেকোনো সময় নিবন্ধন করা যায়। কিন্তু ধারা ৬৯ অনুযায়ী অনিবন্ধিত ফার্ম বা অনিবন্ধিত অংশীদার চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার বলবৎ করতে মামলা করতে পারেন না, তাই বাস্তবে নিবন্ধন প্রায় অপরিহার্য।[5]

নতুন ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কি আয়কর রিটার্নের প্রমাণ লাগে?

নতুন লাইসেন্সে টিআইএনই যথেষ্ট। তবে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নবায়নের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (পিএসআর) লাগে।[13]

ভ্যাট রিটার্ন কত দিন পরপর দিতে হয়?

১৪ অক্টোবর ২০২৬ গেজেটভুক্ত সংশোধনী অধ্যাদেশের পর আবার মাসিক। অধিকাংশ ব্যবসাকে প্রতি কর মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে হবে।[14]

একচেটিয়া (এক্সক্লুসিভ) ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি কি বৈধ?

হতে পারে। প্রতিযোগিতা আইনের ধারা ১৫(৩) এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউশনকে তখনই প্রতিযোগিতাবিরোধী গণ্য করে যখন তা প্রতিযোগিতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই বাজারে আপনার অবস্থান ও শর্তের ব্যাপ্তিই নির্ধারক।[7]

এজেন্ট আর ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে পার্থক্য কী?

ডিস্ট্রিবিউটর পণ্য কিনে নিজের নামে ও ঝুঁকিতে আবার বিক্রি করেন। এজেন্ট পণ্যের মালিক হন না; প্রিন্সিপালের পক্ষে লেনদেন করে কমিশন পান, আর তার করা চুক্তি প্রিন্সিপালকে বাধ্য করে।

পরিবেশককে বাদ দিলে কি ক্ষতিপূরণ দিতে হয়?

বাংলাদেশে পরিবেশকের জন্য কোনো বিধিবদ্ধ সুনাম-ক্ষতিপূরণ নেই। তবে চুক্তির নোটিশ না মেনে সম্পর্ক শেষ করলে চুক্তি আইনের ধারা ৭৩ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি হতে পারে।[6]

সব ব্যবসার কি ফায়ার লাইসেন্স লাগে?

না। ধারা ৪ অনুযায়ী দাহ্যবস্তুর মালগুদাম বা কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত ভবন বা স্থানের জন্য ফায়ার লাইসেন্স লাগে। তবে সাত বা তার বেশি তলার ভবন এবং বাণিজ্যিক ভবনের নকশায় ধারা ৭-এর ছাড়পত্র আলাদাভাবে লাগে।[1]

ফায়ার লাইসেন্সের ফি কত এবং কবে নবায়ন করতে হয়?

ফি দাহ্যবস্তুর প্রকৃতি ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে; অর্থনৈতিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা, নবায়নেও একই। লাইসেন্স অর্থবছরভিত্তিক, তাই নবায়ন ফি প্রতি বছর ৩০ জুনের আগে দিতে হয়। ১ মে ২০২৬ থেকে আবেদন শুধু অনলাইনে।[2] [3]

ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করার সময়সীমা কত?

কারণ উদ্ভবের ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ করতে হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদায় করা জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পান।[12]

সূত্র তালিকা

প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র

উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।

  1. অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৭ নং আইন): ধারা ২, ৪, ৬, ৭, ৮, ১৭, ১৮, ২১ ও ২৩ — বাংলাদেশের আইন
  2. Fire Service and Civil Defence — SOP for fire clearances in economic zones (forms FL-01 to FL-09: documents, fees, timelines, risk classes)
  3. যুগান্তর, ১ মে ২০২৬ — ফায়ার সার্ভিসের ই-ফায়ার লাইসেন্স সেবা চালু
  4. The Business Standard, 4 October 2026 — Fire Service identifies 3,938 fire-risk buildings
  5. Partnership Act 1932, Chapter VII (sections 58, 59 and 69: registration and effect of non-registration) — Laws of Bangladesh
  6. Contract Act 1872 (Act No. IX of 1872), sections 10, 27 and 73 — Laws of Bangladesh
  7. Competition Act 2012, authentic English text (sections 15, 16 and 20), S.R.O. No. 48-Law/2017 — Bangladesh Gazette
  8. বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন): ধারা ৩, ৪ ও ৫ — বাংলাদেশের আইন
  9. বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন), ১০ এপ্রিল ২০২৬ — বাংলাদেশের আইন
  10. বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (ধারা ১২ ও ১৫) — বাংলাদেশের আইন
  11. UNEP Law and Environment Assistance Platform — Environment Conservation Rules 2023 (SRO No. 53)
  12. The Daily Star, Law & Our Rights — Filing complaint by consumers (Consumer Rights Protection Act 2009, sections 60 and 76)
  13. The Daily Star, 11 June 2025 — Where will you still need to submit proof of tax return filing?
  14. The Daily Star, 16 October 2026 — Govt restores monthly VAT returns

TRW-এর সহায়তা

তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে

TRW ব্যবসার কাঠামো নির্বাচন, অংশীদারি দলিল ও কোম্পানি নিবন্ধন, ডিস্ট্রিবিউশন ও সরবরাহ চুক্তির খসড়া, ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং শ্রম আইনের কমপ্লায়েন্সে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেয়। আমাদের করপোরেট ও বাণিজ্যিক পরামর্শ এবং শ্রম আইন কমপ্লায়েন্স সেবা দেখুন, অথবা আপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Message TRW on WhatsApp