বিয়ে রেজিস্ট্রি ২০২৬: কাবিননামা, কাজির ফি, ৩০ দিনের সময়সীমা, হিন্দু ও বিশেষ বিবাহ নিবন্ধন

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 21, 2026 | Family & Private Client, Insights | 0 comments

TRW Insight / বাংলাদেশ

কাবিননামা শুধু বিয়ের কাগজ নয়, দেনমোহর, তালাকের ক্ষমতা আর উত্তরাধিকারের ভিত্তি। কোন আইনে নিবন্ধন, কাজির ফি কত, ৩০ দিনের সময়সীমা ও শাস্তি, কাবিননামার কোন ঘরে কী লিখবেন, হিন্দু ও ভিন্ন ধর্মের বিয়ে, প্রবাসীদের বিয়ে এবং কপি তোলা ও ভুল সংশোধন, এক জায়গায়।

হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬আইনি বিশ্লেষণবাংলাদেশ22 মিনিটে পড়া

বিয়ে রেজিস্ট্রি ২০২৬: কোন আইন, কার দায়িত্ব, কী খরচ

বাংলাদেশে মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রি কোনো ঐচ্ছিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনের বাধ্যবাধকতা। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ৩ ধারা বলছে, অন্য কোনো আইন, প্রথা বা রীতিতে যা-ই থাকুক, মুসলিম আইনে সম্পন্ন প্রত্যেক বিয়ে এই আইন অনুযায়ী নিবন্ধন করতে হবে।[1] নিবন্ধন করেন সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার, যাকে আমরা কাজি বলি, আর নিবন্ধনের দলিল হলো কাবিননামা। পরে দেনমোহর আদায়, ভরণপোষণ, সন্তানের পরিচয়, উত্তরাধিকার, পাসপোর্ট বা বিদেশের ভিসা, প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রথম প্রশ্ন হয়: কাবিননামা কোথায়?

এই লেখায় পাবেন ১৯৭৪ সালের আইন ও ২০০৯ সালের বিধিমালা, ২০২৫ সালের সংশোধন, কাবিননামার কোন ঘরে কী লিখবেন, ফির হিসাব, সময়সীমা ও শাস্তি, হিন্দু ও বিশেষ বিবাহ নিবন্ধন, বাল্যবিবাহ, কপি তোলা ও ভুল সংশোধন, এবং প্রবাসী ও বিদেশি নাগরিকের বিয়ে। ইংরেজিতে বিস্তারিত তুলনামূলক বিশ্লেষণ চাইলে পড়ুন আমাদের Marriage registration in Bangladesh।

বিয়ে রেজিস্ট্রি — কাজির সামনে বর-কনের কাবিননামায় সই
সই করার আগে কাবিননামার প্রতিটি ঘর পড়ুন

সারসংক্ষেপ: মুসলিম বিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে পড়ালে তখনই নিবন্ধন করবেন; অন্য কেউ পড়ালে বরকে ৩০ দিনের মধ্যে এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানাতে হয়। না করলে দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড। নিবন্ধন ফি দেনমোহরের ওপর: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজারে ১৪ টাকা, তার ওপরে প্রতি লাখে ১০০ টাকা, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা। হিন্দু বিয়ের নিবন্ধন ঐচ্ছিক, আর ছেলের ২১ ও মেয়ের ১৮ বছরের কম বয়সে কোনো নিবন্ধকই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না।

মূল বিষয়: নিবন্ধন না হলেও শরিয়া মোতাবেক সম্পন্ন বিয়ে সাধারণত বাতিল হয় না, কিন্তু তখন বিয়েটাই সাক্ষী দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। বিয়ের দিনই নিবন্ধন করুন, সই করার আগে কাবিননামার প্রতিটি ঘর পড়ুন এবং সত্যায়িত কপি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরুন।

এক নজরে

01

বাধ্যতামূলক

১৯৭৪ সালের আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক মুসলিম বিয়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক; আইন প্রযোজ্য বিশ্বের যেখানেই থাকুন, সব মুসলিম বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর।

02

৩০ দিন

কাজি ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে পড়ালে বরকে ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানাতে হয়।

03

হাজারে ১৪ টাকা

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের প্রতি হাজারে ১৪ টাকা, তার ওপরে প্রতি লাখে ১০০ টাকা, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা।

04

১৮ নম্বর ঘর

স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দিচ্ছেন কি না, শর্তসহ বা শর্তহীন, তা লেখা হয় কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে।

05

২১ ও ১৮ বছর

ছেলের ২১ ও মেয়ের ১৮ বছরের কম হলে কোনো বিবাহ নিবন্ধক বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না; করলে কারাদণ্ড ও জরিমানা।

সূচিপত্র

মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন ১৯৭৪: বিয়ে রেজিস্ট্রি কেন বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশে বিয়ের বৈধতা ঠিক হয় প্রত্যেক ধর্মের ব্যক্তিগত আইনে, আর নিবন্ধন হয় আলাদা আলাদা আইনে। মুসলমানদের জন্য মূল আইন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সনের ৫২ নং আইন), যা ২৪ জুলাই ১৯৭৪ তারিখে প্রণীত।[1] আইনটির ১(২) ধারা অনুযায়ী এটি প্রযোজ্য বাংলাদেশের সব মুসলিম নাগরিকের ওপর, তারা যেখানেই থাকুন।[1] অর্থাৎ প্রবাসে থাকা একজন বাংলাদেশি মুসলমানের বিয়েও এই আইনের আওতার বাইরে নয়।

নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজি কে

৪ ধারায় সরকার নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নিকাহ রেজিস্ট্রারকে লাইসেন্স দেয়, এবং এক এলাকায় একজনের বেশি নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স পান না।[1] তাই "যেকোনো কাজি" নয়, বিয়ে যে এলাকায় হচ্ছে সেই এলাকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারই সঠিক ব্যক্তি। অসদাচরণ বা অযোগ্যতার জন্য সরকার তার লাইসেন্স বাতিল বা সাময়িক স্থগিত করতে পারে, তবে আগে তাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হয়।[1] কাজি নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানালে, অযথা দেরি করলে বা বাড়তি টাকা চাইলে অভিযোগ যায় জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে।

৩০ দিনের সময়সীমা: কার দায়িত্ব

৫ ধারা দায়িত্ব দুই ভাগে ভাগ করেছে। নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিয়ে পড়ালে তিনি তখনই নিবন্ধন করবেন। অন্য কেউ, যেমন মসজিদের ইমাম বা পরিবারের কোনো মুরুব্বি, বিয়ে পড়ালে বর বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি জানাবেন, আর রেজিস্ট্রার জানার পর সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন করবেন।[1] আইনের চোখে জানানোর দায় বরের, কনে বা কনের পরিবারের নয়। তবু বাস্তবে কনেপক্ষেরই বেশি সতর্ক থাকা উচিত, কারণ নিবন্ধন না হলে ক্ষতিটা সাধারণত স্ত্রীরই বেশি হয়।

একই নিকাহ রেজিস্ট্রার ৬ ধারায় তালাকও নিবন্ধন করেন; স্ত্রীর তালাক-ই-তাফউইজ নিবন্ধনে কাবিননামার সংশ্লিষ্ট এন্ট্রির সত্যায়িত কপি লাগে।[1] তালাকের নোটিশ, ৯০ দিন ও সালিশি পরিষদের প্রক্রিয়া আছে আমাদের তালাকের নিয়ম লেখায়।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৯ এবং ২০২৫ সালের সংশোধন

১৯৭৪ সালের আইনের ১৪ ধারা সরকারকে বিধি করার ক্ষমতা দিয়েছে, যার মধ্যে আছে নিকাহ রেজিস্ট্রারের যোগ্যতা এবং বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের ফি।[1] সেই ক্ষমতায় করা মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-ই ঠিক করে কাবিননামার ফরম, রেজিস্টার রাখার নিয়ম ও ফির তালিকা। আইন মন্ত্রণালয়ের গেজেটে বিধিমালার যে সংশোধন প্রকাশিত হয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০২৫-এ যার বিবরণ এসেছে, তাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে।[2]

অনলাইন নিবন্ধন ও ডিজিটাল ফি

সংশোধিত বিধিতে হাতে লেখা পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বর, কনে ও সংশ্লিষ্টরা ডিজিটাল বা সশরীরে সই দিতে পারবেন, যারা সই করতে পারেন না তারা টিপসই দেবেন, আর অনলাইনে নিবন্ধন সফল হলে প্রয়োজনীয় রেজিস্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। নিবন্ধন ফি ডিজিটাল মাধ্যমেও পরিশোধ করা যাবে।[2]

বয়স প্রমাণ, ছবি ও টিপসই

বয়স ও জন্মতারিখ যাচাইয়ে প্রথম অগ্রাধিকার জাতীয় পরিচয়পত্র। তা না থাকলে জন্মনিবন্ধন সনদ, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের সনদ, অথবা আইনগত অভিভাবকের হলফনামা।[2] কাবিননামায় (ফরম "ঘ") বর ও কনের পাসপোর্ট সাইজের ছবি এখন বাধ্যতামূলক, এবং দুজনকেই সইয়ের সঙ্গে টিপসই দিতে হয়।[2] কাবিননামার ৫ নম্বর ঘরে কনের পরিচয়ে "কুমারী" শব্দের বদলে এখন "অবিবাহিতা" লেখা হয়।[2]

বিয়ের সনদ: ফরম ঘ১

পক্ষগণ চাইলে নিকাহ রেজিস্ট্রার এখন ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য ও নিবন্ধনের বিবরণসহ একটি আলাদা বিয়ের সনদ (ফরম "ঘ১") দিতে পারেন; তালাকের জন্য একই রকম সনদ ফরম "ছ১"।[2] বিদেশে ব্যবহারের জন্য কাবিননামার সত্যায়িত কপি এবং এই সনদ, দুটোই নিয়ে রাখা ভালো, কারণ বিভিন্ন দূতাবাস বিভিন্ন দলিলকে প্রধান হিসেবে দেখে।

কাবিননামার ঘরগুলো: কোথায় কী লিখবেন

কাবিননামা একই সঙ্গে সরকারি রেজিস্টারের এন্ট্রি এবং স্বামী-স্ত্রীর চুক্তি। বিয়ের দিনের ভিড়ে অনেক ঘর ফাঁকা থাকে বা "প্রযোজ্য নয়" লেখা হয়, অথচ পরের বিরোধে ঠিক এই ঘরগুলোই নির্ধারক। দ্য ডেইলি স্টারের আইন পাতার একটি বিশ্লেষণে ঘরগুলোর যে বিন্যাস দেখানো হয়েছে, তা নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো।[4]

দেনমোহর: ১৩ থেকে ১৬ নম্বর ঘর

১৩ থেকে ১৬ নম্বর ঘরে দেনমোহরের পরিমাণ, তার কতটা তাৎক্ষণিক (চাওয়ামাত্র পরিশোধযোগ্য) আর কতটা বিলম্বিত, বিয়ের সময় কত পরিশোধ হলো (১৫ নম্বর ঘর) এবং দেনমোহরের পুরো বা আংশিক বদলে কোনো সম্পত্তি দেওয়া হলো কি না (১৬ নম্বর ঘর) লেখা হয়।[4] গয়না বা জমি দিয়ে আংশিক শোধ হলে বিবরণ ও মূল্য স্পষ্ট লিখুন, শুধু "উসুল" নয়। দেনমোহর আদায়ের মামলা কীভাবে চলে, তা বিস্তারিত আছে Dower recovery in Bangladesh লেখায়।

বিশেষ শর্ত: ১৭ নম্বর ঘর

১৭ নম্বর ঘরে আইনসম্মত যেকোনো বিশেষ শর্ত লেখা যায়, যেমন ভরণপোষণের পরিমাণ, দম্পতি কোথায় থাকবেন, স্ত্রীর চাকরি বা পড়াশোনার অধিকার, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, কিংবা একতরফা তালাকে ক্ষতিপূরণ।[4] শর্ত যত অস্পষ্ট, আদালতে তা কার্যকর করা তত কঠিন। "স্ত্রীর যথাযথ ভরণপোষণ দেবেন" না লিখে "প্রতি মাসে অন্তত এত টাকা" লিখুন।

১৮ নম্বর ঘর: তালাক-ই-তাফউইজ

১৮ নম্বর ঘরে লেখা হয় স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করেছেন কি না, অর্থাৎ তালাক-ই-তাফউইজ। এই ক্ষমতা শর্তহীন হতে পারে, আবার শর্তসাপেক্ষও হতে পারে, যেমন স্বামী অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করলে, নির্যাতন করলে বা নির্দিষ্ট সময় ভরণপোষণ না দিলে।[4] খোলা তালাকের মতো এখানে স্ত্রীকে দেনমোহর বা ভরণপোষণ ছেড়ে দিতে হয় না।[4] তাই এই ঘর ফাঁকা রাখা বা না জেনে "না" লিখে দেওয়া স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুলগুলোর একটি। পরে তালাক নিবন্ধনের সময় এই এন্ট্রির সত্যায়িত কপিই প্রমাণ হিসেবে লাগে।[1]

১৯ থেকে ২২ নম্বর ঘর

১৯ নম্বর ঘরে স্বামীর তালাকের অধিকারে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা লেখা হয়, যেমন তালাক দিলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ। ২০ নম্বর ঘরে ভরণপোষণ বা দেনমোহরের বদলে দেওয়া সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলের উল্লেখ থাকে। ২১ ও ২২ নম্বর ঘর স্বামীর আগের বিয়ে নিয়ে: বর্তমান স্ত্রী থাকলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না।[4] ২০২৫ সালের সংশোধনে এই তথ্য স্পষ্টভাবে লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।[2]

বিয়ে রেজিস্ট্রি — দেনমোহর ও বিশেষ শর্ত লেখা কাবিননামার পাতা
দেনমোহর, বিশেষ শর্ত ও ১৮ নম্বর ঘর পরের বিরোধে নির্ধারক

কাজি অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রির ধাপ

নিবন্ধন আধা ঘণ্টার কাজ, কিন্তু প্রস্তুতি শুরু করুন কয়েক দিন আগে। বিয়ে যেখানেই হোক, নিচের ধাপগুলো পরের বেশিরভাগ জটিলতা ঠেকায়।

ধাপ 01

এলাকার কাজি ঠিক করুন

বিয়ে যে এলাকায় হবে সেখানকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ঠিক করুন এবং লাইসেন্স দেখে নিন।

ধাপ 02

বয়স ও পরিচয়ের কাগজ

বর-কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, ছবি এবং সাক্ষী ও উকিলের পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখুন।

ধাপ 03

আগের বিয়ের তথ্য যাচাই

বরের বর্তমান স্ত্রী থাকলে সালিশি পরিষদের অনুমতিপত্র, আর আগের বিচ্ছেদ থাকলে তালাকের কাগজ দেখুন।

ধাপ 04

শর্তগুলো আগে ঠিক করুন

দেনমোহরের অঙ্ক, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত অংশ, বিশেষ শর্ত এবং ১৮ নম্বর ঘরের সিদ্ধান্ত পরিবারে চূড়ান্ত করুন।

ধাপ 05

কাবিননামা পূরণ ও পাঠ

প্রতিটি ঘর পূরণ হয়েছে কি না, নাম-তারিখ পরিচয়পত্রের সঙ্গে মেলে কি না দেখে তারপর সই ও টিপসই দিন।

ধাপ 06

সরকারি ফি ও রসিদ

দেনমোহর অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিন এবং অঙ্ক উল্লেখসহ রসিদ নিন।

ধাপ 07

সত্যায়িত কপি সংগ্রহ

সেদিনই বিনা মূল্যের সত্যায়িত কপি নিন, প্রয়োজনে ফরম ঘ১ বিয়ের সনদও চেয়ে নিন।

ধাপ 08

সংরক্ষণ ও বিদেশি ব্যবহার

মূল কপি ও স্ক্যান আলাদা রাখুন; বিদেশে লাগলে অনুবাদ ও ই-অ্যাপোস্টিল করিয়ে নিন।

যেসব কাগজ সঙ্গে রাখবেন

বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র, না থাকলে জন্মনিবন্ধন সনদ বা এসএসসি সনদ, এবং দুজনের পাসপোর্ট সাইজের ছবি।[2] এর সঙ্গে রাখুন সাক্ষী ও উকিলের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, বরের আগের বিয়ে থাকলে সালিশি পরিষদের অনুমতিপত্র, আর বর বা কনে তালাকপ্রাপ্ত হলে তালাক নিবন্ধনের কপি বা আগের স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুসনদ।

বিয়ে রেজিস্ট্রি ফি: দেনমোহরের প্রতি হাজারে কত টাকা

নিবন্ধন ফি ঠিক হয় দেনমোহরের অঙ্কের ওপর, কাজির ইচ্ছায় নয়। আইন ও বিচার বিভাগ ২১ ডিসেম্বর ২০২২ প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ২৯ ডিসেম্বর গেজেটে প্রকাশিত হয়। তাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের প্রতি ১ হাজার টাকা বা তার অংশের জন্য ১৪ টাকা, আর ৫ লাখের বেশি হলে পরবর্তী প্রতি ১ লাখ টাকা বা তার অংশের জন্য ১০০ টাকা ফি ধরা হয়েছে; তবে ফি কোনোভাবেই ২০০ টাকার কম হবে না।[3] আগে হার ছিল ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজারে সাড়ে ১২ টাকা।[3] ২০২৫ সালের সংশোধনেও প্রতি হাজারে ১৪ টাকা ও ৫ লাখের ওপরে প্রতি লাখে ১০০ টাকার একই কাঠামো বহাল আছে।[2]

হিসাবের উদাহরণ

দেনমোহর ৩ লাখ টাকা হলে ৩০০ হাজারের প্রতিটিতে ১৪ টাকা, অর্থাৎ ফি ৪,২০০ টাকা। দেনমোহর ১০ লাখ টাকা হলে প্রথম ৫ লাখে ৭,০০০ টাকা এবং পরের ৫ লাখে প্রতি লাখে ১০০ টাকা হিসাবে ৫০০ টাকা, মোট ৭,৫০০ টাকা। দেনমোহর ৫ লাখ ৫০ হাজার হলে ৫ লাখের অংশে ৭,০০০ টাকা আর বাকি ৫০ হাজার "লাখের অংশ" হিসেবে ১০০ টাকা, মোট ৭,১০০ টাকা। দেনমোহর ১০ হাজার টাকা হলে হিসাবে আসে ১৪০ টাকা, কিন্তু সর্বনিম্ন ফি হিসেবে দিতে হবে ২০০ টাকা।[3] অর্থাৎ ৫ লাখের পর ফি খুব ধীরে বাড়ে; আলাদা কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।

তালাক নিবন্ধন ফি ও কাজির লাইসেন্স ফি

একই প্রজ্ঞাপনে তালাক নিবন্ধনের ফি ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করা হয়েছে।[3] নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নিজেদের লাইসেন্স ফি ও বার্ষিক ফিও তখন বাড়ানো হয়, যেমন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বার্ষিক ফি ১০০ থেকে ২০০ টাকা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, যা প্রতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হয়।[3] এই খরচ কাজির, বর-কনের নয়।

বাড়তি টাকা চাইলে কী করবেন

বাড়িতে গিয়ে বিয়ে পড়ানোর যাতায়াত খরচ আগে থেকে লিখিতভাবে ঠিক করুন, কিন্তু সরকারি ফির বাইরে "কাবিনের খরচ" নামে মোটা অঙ্ক চাওয়া অবৈধ; দেনমোহর ও ফির অঙ্কসহ রসিদ নিন। ফি বাঁচাতে কাবিননামায় দেনমোহর কম লেখা আত্মঘাতী, কারণ আদালত কাবিননামার অঙ্ক থেকেই হিসাব শুরু করে। আবার লোক দেখানো বিশাল দেনমোহর লিখলে তা আসল দেনা হয়েই থাকে।

নিবন্ধন না করলে শাস্তি ও অনিবন্ধিত বিয়ের ঝুঁকি

৫ ধারা লঙ্ঘন একটি অপরাধ, যার শাস্তি দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড। ধারাটি ২০০৫ সালের ৯ নং আইনে প্রতিস্থাপিত, আর ৫ক ধারায় এই অপরাধের বিচার করেন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।[1] দায় পড়ে যিনি দায়িত্ব ভঙ্গ করেছেন তার ওপর: বিয়ে পড়িয়ে নিবন্ধন না করা কাজি, অথবা অন্যের পড়ানো বিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে না জানানো বর।

নিবন্ধন না হলে কি বিয়ে অবৈধ

১৯৭৪ সালের আইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে এবং না করলে শাস্তি দিয়েছে, কিন্তু অনিবন্ধিত বিয়েকে বাতিল ঘোষণা করেনি।[1] প্রস্তাব, কবুল ও সাক্ষীসহ শরিয়া মোতাবেক সম্পন্ন বিয়ে নিবন্ধন ছাড়াও বিয়েই থাকে। সমস্যা বৈধতায় নয়, প্রমাণে। কাবিননামা না থাকলে দেনমোহর বা ভরণপোষণ দাবি করা স্ত্রীকে আগে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়ে হয়েছিল, এমন সাক্ষী দিয়ে যারা হয়তো স্বামীরই আত্মীয়। বিধবা বা সন্তান উত্তরাধিকার দাবি করলে অন্য ওয়ারিশদের বিরুদ্ধেও একই বাধা আসে।

দেরিতে নিবন্ধন

বিয়ে হয়ে গেছে কিন্তু নিবন্ধন হয়নি, এমন ক্ষেত্রে বরের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানানো, যদিও ৩০ দিন পেরিয়ে জানানো নিজেই একটি লঙ্ঘন। স্বামী রাজি না হলে স্ত্রীর প্রতিকার সাধারণত পারিবারিক আদালতে দেনমোহর বা ভরণপোষণের মামলা, যেখানে সাক্ষ্য দিয়ে বিয়ে প্রমাণ করতে হয়, অথবা দেওয়ানি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা। বিজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে পারিবারিক বিরোধে মামলার আগে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার ধাপ রয়েছে; এই মামলাগুলো আমাদের ইসলামি পারিবারিক আইন প্র্যাকটিস নিয়মিত পরিচালনা করে।

বিয়ে রেজিস্ট্রি — নিবন্ধন না হলে আদালতে বিয়ে প্রমাণের নথি
নিবন্ধন না হলে লড়াই শুরু হয় বিয়ে প্রমাণ দিয়ে

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২

হিন্দু বিয়ের কোনো সরকারি নিবন্ধন ২০১২ সালের আগে ছিল না। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪০ নং আইন) ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে প্রণীত হয়, আর ২০১৩ সালে এর বিধিমালা আসে।[5] [6] আইনের ৩ ধারায় নিবন্ধন ঐচ্ছিক: চাইলে নিবন্ধন করা যায়, কিন্তু নিবন্ধন না হলেও শাস্ত্রমতে সম্পন্ন বিয়ে বৈধ থাকে।[6] মুসলিম ব্যবস্থার সঙ্গে এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য; নিবন্ধন না করার জন্য কোনো শাস্তি নেই।

নিবন্ধক, আবেদন ও ফি

আইনের ৪ ধারায় সরকার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ করে, ৬ ধারায় নিবন্ধনের পদ্ধতি, ৭ ধারায় ফি, আর ১২ ধারায় নিবন্ধনের কপি পাওয়ার বিধান আছে।[5] আইন মন্ত্রণালয় প্রায় সব উপজেলায় হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ দিয়েছে, আর ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিটি নিবন্ধনের ফি ১,০০০ টাকা।[6] আবেদনের আগে স্থানীয় নিবন্ধকের কাছে বর্তমান ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজ জেনে নিন।

বয়সের বাধা ও বাস্তব গুরুত্ব

৫ ধারা স্পষ্ট: অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের ১৮ বছরের কম হলে সেই হিন্দু বিয়ে এই আইনে নিবন্ধনযোগ্য নয়।[5] নিবন্ধন ঐচ্ছিক হলেও বাস্তবে এটি হিন্দু স্ত্রীর সবচেয়ে সহজ সুরক্ষা। নিবন্ধন না থাকায় স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা ডিপিএসের টাকা তুলতে পারেননি, এমন ঘটনাও প্রতিবেদনে এসেছে।[6] নিবন্ধন আইনটি বিবাহবিচ্ছেদ বা উত্তরাধিকারের নিয়ম বদলায়নি; শুধু প্রমাণ সংরক্ষণ করে।

বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ ও ভিন্ন ধর্মের বিয়ে

দুজন ভিন্ন ধর্মের মানুষ, অথবা যারা কোনো ধর্মই পালন করেন না, তারা সাধারণত বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২-এর অধীনে সরকারি রেজিস্ট্রারের সামনে বিয়ে করেন। শর্তগুলো হলো: কারও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকবে না, পক্ষরা রক্ত বা বিয়ের সূত্রে নিষিদ্ধ সম্পর্কের মধ্যে থাকবেন না, এবং ২১ বছরের কম হলে অভিভাবকের সম্মতি লাগবে।[7] আইনে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পক্ষদের ঘোষণা দিতে হয় যে তারা নির্দিষ্ট ধর্মগুলোর কোনোটি পালন করেন না; মিথ্যা ঘোষণা শাস্তিযোগ্য।[7]

প্রক্রিয়া

প্রথমে বিয়ের ইচ্ছা জানিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিশ দিতে হয়; অন্তত একজন পক্ষকে নোটিশের আগে নির্দিষ্ট সময় ওই এলাকায় বসবাস করতে হয়, আর নোটিশ প্রকাশের পর আপত্তির জন্য অপেক্ষার সময় থাকে। এরপর রেজিস্ট্রার ও তিনজন সাক্ষীর সামনে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সাক্ষীরা ফরম ও ঘোষণায় সই করেন। দুজনের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগে।[7] এই আইনে বিয়ের পর বিবাহবিচ্ছেদ হয় বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুযায়ী জেলা আদালতে, আর স্বামী-স্ত্রীর উত্তরাধিকার চলে উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী।[7]

মুসলিম পক্ষ থাকলে সতর্কতা

মুসলিম পক্ষ থাকলে বিষয়টি জটিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী মুসলমানরা এই আইন ব্যবহার করতে পারেন না, তারা ভিন্ন ধর্মের কাউকে বিয়ে করেন মুসলিম আইনে, আর এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায়ও রয়েছে।[7] ধর্মান্তর, কিতাবিয়া বিয়ে ও সম্পত্তির অধিকারসহ পূর্ণ আলোচনা আছে আমাদের Interfaith marriage in Bangladesh লেখায়।

কোন বিয়ে কোন আইনে, কোথায় নিবন্ধন
বিয়ের ধরনআইননিবন্ধনকে নিবন্ধন করেনমূল বিষয়
মুসলিম বিয়েমুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪বাধ্যতামূলকএলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি)৩০ দিনের মধ্যে জানানো; না করলে কারাদণ্ড বা জরিমানা
হিন্দু বিয়েহিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২ঐচ্ছিকউপজেলার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকনিবন্ধন না হলেও বিয়ে বৈধ
ভিন্ন ধর্মের বা ধর্মহীন দম্পতিবিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২রেজিস্ট্রারের সামনেই বিয়েসরকারি বিবাহ রেজিস্ট্রারনোটিশ, অপেক্ষার সময় ও তিন সাক্ষী
প্রবাসী পক্ষের বিয়ে১৯৭৪ সালের আইন (সব মুসলিম নাগরিকের ওপর প্রযোজ্য)বাধ্যতামূলকএলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারসত্যায়িত আম-মোক্তারনামায় প্রতিনিধির সই
অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়েবাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭নিবন্ধন নিষিদ্ধকেউ নননিবন্ধকের ছয় মাস থেকে দুই বছর কারাদণ্ড

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭: বয়স না হলে বিয়ে রেজিস্ট্রি নয়

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ৬ নং আইন) অনুযায়ী বিয়ের ন্যূনতম বয়স ছেলের ২১ ও মেয়ের ১৮ বছর।[7] এই বয়সের নিচে বিয়ে বাল্যবিবাহ, আর আইনটি বিয়ে করা প্রাপ্তবয়স্ক, অনুমতি দেওয়া বাবা-মা, বিয়ে পড়ানো ব্যক্তি ও নিবন্ধক, সবার জন্য আলাদা অপরাধ ঠিক করেছে।[8]

নিবন্ধকের শাস্তি

আইনের ১১ ধারায় যে বিবাহ নিবন্ধক বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করেন, তার শাস্তি অন্যূন ছয় মাস ও অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড, অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।[8] এই কারণেই একজন সতর্ক কাজি নির্ভরযোগ্য বয়সের কাগজ ছাড়া এগোবেন না, এবং পরিবারেরও তাকে চাপ দেওয়া উচিত নয়। ভুয়া জন্মসনদ দিয়ে বয়স বাড়ানো হলে দায়ে পড়েন সবাই।

বাল্যবিবাহ কি বাতিল

আইনটি বাল্যবিবাহ করা, অনুমতি দেওয়া, পড়ানো ও নিবন্ধন করাকে শাস্তিযোগ্য করেছে, কিন্তু বিয়েকে বাতিল ঘোষণা করেনি; বাংলাদেশে বাল্যবিবাহকে বাতিল ঘোষণা করা কোনো বিধিবদ্ধ বিধান নেই।[8] ফলে বিয়ে থেকে যায় কিন্তু নিবন্ধন সম্ভব নয়, আর মেয়েটির দেনমোহর ও ভরণপোষণের প্রমাণ দুর্বল হয়। জুন ২০২৬-এ সরকার প্রতিটি বিয়ে নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং বিশেষ প্রেক্ষাপটের বিধানের ফাঁক বন্ধ করতে আইনটির সংশোধনের খসড়া করছে বলে জানানো হয়; সংশোধন পাস না হওয়া পর্যন্ত ২০১৭ সালের পাঠই প্রযোজ্য।[9]

কাবিননামার সত্যায়িত কপি, হারানো কপি ও ভুল সংশোধন

৯ ধারা অনুযায়ী বিয়ে নিবন্ধনের পর নিকাহ রেজিস্ট্রার পক্ষগণকে রেজিস্টারের এন্ট্রির একটি সত্যায়িত কপি দেবেন, এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া যাবে না।[1] বিয়ের দিনই এই কপি নিন। প্রথম কপির জন্য টাকা চাওয়া হলে সেটি আইনবিরুদ্ধ।

পরে বা হারানো কপি

১৩ ধারায় যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত ফি দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রারের অফিসে রেজিস্টার দেখতে এবং এন্ট্রির কপি নিতে পারেন।[1] কাবিননামা হারালে বা নষ্ট হলে বিয়ের তারিখ, কাজির নাম ও এলাকা, সম্ভব হলে রেজিস্টারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজি অফিসে আবেদন করুন। ১২ ধারায় কাজি রেজিস্টার পূর্ণ হলে, অথবা জেলা ছেড়ে গেলে বা লাইসেন্স হারালে, রেজিস্টার রেজিস্ট্রারের হেফাজতে জমা দেন।[1] তাই পুরোনো কাজি মারা গেলে বা অবসরে গেলে খোঁজ শুরু করুন জেলা রেজিস্ট্রারের অফিসে।

কাবিননামায় ভুল সংশোধন

নিবন্ধিত এন্ট্রি কাজি পরে নিজের ইচ্ছায় কেটে বা ঘষে বদলাতে পারেন না, আর এমন কাটাকাটি পরে জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি করে। নামের বানান বা জন্মতারিখের মতো করণিক ভুলে দুই পক্ষ জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনে নোটারি হলফনামাসহ সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে যান; সমাধান না হলে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে। দেনমোহরের অঙ্ক, বিয়ের তারিখ বা ১৮ নম্বর ঘরের মতো বিষয়বস্তুতে বিরোধ থাকলে তা প্রশাসনিকভাবে বদলানো যায় না; সেখানে পারিবারিক আদালত বা দেওয়ানি আদালতের ঘোষণাই পথ। বিদেশে ব্যবহারের আগে পাসপোর্টের সঙ্গে প্রতিটি বানান মিলিয়ে নিন।

বিয়ে রেজিস্ট্রি — বিদেশে ব্যবহারের জন্য পাসপোর্ট ও বিয়ের সনদ
বিদেশে ব্যবহারের আগে নাম ও তারিখ পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে নিন

প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকের বিয়ে রেজিস্ট্রি

১৯৭৪ সালের আইন সব মুসলিম বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর প্রযোজ্য, তারা যেখানেই থাকুন।[1] প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে বর বা কনে বিদেশে থাকলে ফোন বা ভিডিও কলে বিয়ে নিয়ে। শুধু কলে মুখে "কবুল" বলা আইনি নিবন্ধনের জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ কাবিননামায় সই করা সম্মতি লাগে, যা বিদেশে বসে দেওয়া যায় না।[10]

আম-মোক্তারনামা দিয়ে বিয়ে

সমাধান হলো আম-মোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি। বিদেশে থাকা পক্ষ বিয়ের ঘোষণা ও প্রতিনিধি নিয়োগের দলিল সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করবেন; সেই আম-মোক্তার কাজির সামনে তার পক্ষে কাবিননামায় সই করবেন এবং সত্যায়িত দলিল কাবিননামার সঙ্গে জমা হবে। প্রবাসী পক্ষ পরে দেশে ফিরে নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করবেন।[10] আম-মোক্তারনামায় কনের বা বরের পূর্ণ নাম, দেনমোহরের অঙ্ক ও প্রতিনিধির ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট লিখুন, যাতে পরে কেউ বলতে না পারেন যে প্রতিনিধি সীমা ছাড়িয়েছেন।

বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে বিয়ে করলে

বিদেশি নাগরিকের জন্য আলাদা কোনো বিবাহ আইন নেই; প্রযোজ্য আইন ঠিক হয় পক্ষদের ধর্ম দিয়ে। বিদেশি মুসলিম বাংলাদেশি মুসলিমকে বিয়ে করলে কাজির কাছে ১৯৭৪ সালের আইনে নিবন্ধন হয়। ভিন্ন ধর্মের বা ধর্ম পালন না করা বিদেশি সাধারণত বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করেন, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশিরাও বসবাসের শর্ত মেনে অংশ নিতে পারেন।[7] বিদেশি পক্ষ বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা, বয়সের প্রমাণ ও অবিবাহিত থাকার প্রমাণ (প্রয়োজনে বিচ্ছেদের ডিক্রি বা মৃত্যুসনদ) অ্যাপোস্টিলসহ সঙ্গে রাখবেন। বিয়ের জন্য ইসলাম গ্রহণ করলে ধর্মান্তরের হলফনামা কাবিননামার সঙ্গে সংরক্ষণ করুন। বিদেশে স্থানীয় আইনে হওয়া বিয়ের সনদ বাংলাদেশে ব্যবহারের আগে সেই দেশে অ্যাপোস্টিল বা সত্যায়িত করিয়ে আনুন; আন্তঃসীমান্ত বিরোধে দেখুন আমাদের ক্রস-বর্ডার ফ্যামিলি ম্যাটার্স প্র্যাকটিস।

বিদেশে ব্যবহারের জন্য অ্যাপোস্টিল

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ই-অ্যাপোস্টিল সেবা দিচ্ছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২৯ লাখের বেশি অ্যাপোস্টিল সনদ ইস্যু হয়েছে, আর বিয়ের সনদ এর আওতাভুক্ত দলিলের মধ্যে আছে।[14] এই ব্যবস্থা নির্ভর করে মূল দলিল ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর, তাই ভুলভরা কাবিননামা যাচাইয়ের ধাপেই আটকে যায়। স্পাউস ভিসার আগে কাবিননামার নোটারি করা ইংরেজি অনুবাদও প্রস্তুত রাখুন।

ডিজিটাল নিবন্ধন: ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরিবর্তন

কয়েক দশক ধরে ব্যবস্থা চলেছে প্রত্যেক কাজির হাতে লেখা রেজিস্টারে, ফলে এক এলাকার বিয়ে গোপন রেখে আরেক এলাকায় বিয়ে করা সম্ভব হয়েছে। এখন বিধি, আদালত ও সরকার, তিন দিক থেকেই পরিবর্তন আসছে।

হাইকোর্টের ডিসেম্বর ২০২৫ রায়

১১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্দেশ দেন, সব বিয়ে ও তালাকের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটালি নিবন্ধন করতে হবে, তথ্য সরকারি ব্যবস্থায় সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং নাগরিক, বিশেষ করে নারীরা সহজে যাচাই ও ডিজিটাল কপি পাবেন। ২০২১ সালের রিটে বলা হয়েছিল, পুরোপুরি অ্যানালগ ব্যবস্থার কারণে আগের বিয়ে গোপন করা যায়।[11]

কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য: সেপ্টেম্বর ২০২৬ রুল

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন, কেন কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান, আগের সম্পর্কের ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে না। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।[12] রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই তথ্যগুলো নিজ উদ্যোগে ১৭ নম্বর ঘরে লিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

এনআইডি-যুক্ত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ

৩ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন অনলাইনভিত্তিক হবে, তথ্য থাকবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে এবং ধাপে ধাপে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে পাঁচ জেলার ২৭ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন।[13] সারা দেশে চালুর কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি, তাই আপাতত কাগজের কাবিননামা ও কাজির রেজিস্টারই প্রধান প্রমাণ।[13]

কাবিননামায় সই করার আগে যে ভুলগুলো এড়াবেন

ফাঁকা বা আধা-পূরণ কাবিননামায় কখনো সই করবেন না। আসলে যে দেনমোহর ঠিক হয়েছে সেটিই লিখুন, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত অংশ আলাদা করে। ১৮ নম্বর ঘরের সিদ্ধান্ত বিয়ের আগেই পারিবারিকভাবে নিন এবং পুরো বাক্যে লিখুন। মূল কপি ও স্ক্যান কপি আলাদা জায়গায় রাখুন।

বিয়ের আগে কাবিননামার শর্ত পর্যালোচনা, দেরিতে নিবন্ধন, হারানো কপি খোঁজা বা বিদেশে ব্যবহারের জন্য বিয়ের দলিল প্রস্তুত করতে TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে বিয়ে রেজিস্ট্রি কি বাধ্যতামূলক?

মুসলমানদের জন্য হ্যাঁ। ১৯৭৪ সালের আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক মুসলিম বিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।[1] হিন্দু বিয়ের নিবন্ধন ২০১২ সালের আইনে ঐচ্ছিক, নিবন্ধন না হলেও বিয়ে বৈধ।[6]

বিয়ের কত দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে হয়?

কাজি নিজে বিয়ে পড়ালে তখনই। অন্য কেউ পড়ালে বরকে ৩০ দিনের মধ্যে এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানাতে হয়, আর রেজিস্ট্রার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন করবেন।[1]

বিয়ে নিবন্ধন না করলে শাস্তি কী?

৫(৪) ধারায় দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড; বিচার করেন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।[1]

কাজির ফি কত, কীভাবে হিসাব হয়?

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশে ১৪ টাকা, ৫ লাখের ওপরে প্রতি লাখ বা তার অংশে ১০০ টাকা, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা। যেমন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে ফি ৭,৫০০ টাকা।[3]

কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে কী থাকে?

স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা (তালাক-ই-তাফউইজ) দিচ্ছেন কি না, শর্তহীন বা শর্তসাপেক্ষে। ক্ষমতা থাকলে স্ত্রী দেনমোহর না ছেড়েই তালাক দিতে পারেন।[4]

নিবন্ধন না হলে কি বিয়ে অবৈধ?

সাধারণত না। আইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে কিন্তু অনিবন্ধিত বিয়ে বাতিল করেনি। তবে তখন সাক্ষী দিয়ে বিয়ে প্রমাণ করতে হয়, যা দেনমোহর, ভরণপোষণ ও উত্তরাধিকারের দাবি দুর্বল করে।[1]

কাবিননামার সত্যায়িত কপি কীভাবে পাব?

নিবন্ধনের সময় প্রথম সত্যায়িত কপি বিনা মূল্যে পাওয়ার কথা। পরে নির্ধারিত ফি দিয়ে কাজি অফিস বা রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে কপি তোলা যায়; কাজি না থাকলে রেজিস্টার থাকে রেজিস্ট্রারের হেফাজতে।[1]

প্রবাসে থেকে কি বাংলাদেশে বিয়ে করা যায়?

যায়, তবে শুধু ফোনে কবুল বলা নিবন্ধনের জন্য যথেষ্ট নয়। দূতাবাস বা নোটারির মাধ্যমে সত্যায়িত আম-মোক্তারনামা দিয়ে প্রতিনিধি কাবিননামায় সই করেন।[10]

ভিন্ন ধর্মের দুজন কীভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করবেন?

সাধারণত বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিশ, অপেক্ষার সময় ও তিনজন সাক্ষীর সামনে ঘোষণার মাধ্যমে। মুসলিম পক্ষ থাকলে আগে আইনি পরামর্শ নিন।[7]

অনলাইনে কি বিয়ে নিবন্ধন করা যায়?

সংশোধিত বিধিমালায় অনলাইন নিবন্ধনের সুযোগ আছে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এখনো পাঁচ জেলার পাইলট পর্যায়ে। আপনার এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে জেনে নিন।[2] [13]

সূত্র তালিকা

প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র

উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।

  1. Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974), ধারা ১(২), ৩–৬, ৯, ১১–১৪ — Laws of Bangladesh
  2. BD Service Rules, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ — মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর সংশোধন: অনলাইন নিবন্ধন, ফি, ছবি ও বয়স প্রমাণ
  3. আজকের পত্রিকা, ৩ জানুয়ারি ২০২৩ — বিয়ে-তালাকের ফি বেড়ে দ্বিগুণ (আইন ও বিচার বিভাগের ২১ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন)
  4. The Daily Star, Law and Our Rights, 2 March 2023 — The intricacies of kabinnama
  5. হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪০ নং আইন), ধারা ৩–৭ ও ১২; ধারা ৫ (বিধি-নিষেধ) — বাংলাদেশ আইন
  6. Dhaka Tribune, 1 February 2020 — Hindu Marriage Registration Act: A protective shield for women
  7. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ — ভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে বিয়ের আইন কী, কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  8. The Daily Star, Law and Our Rights — Paradoxes in the punishment of registration of child marriages (Child Marriage Restraint Act 2017, s 11)
  9. UNESCAP CRVS, 30 June 2026 — Bangladesh to make digital birth certificates mandatory for marriage registration
  10. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৬ আগস্ট ২০২৫ — টেলিফোন বা ভিডিও কলে কি বিয়ে হয়, আইনে যা আছে
  11. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ — বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনের নির্দেশ হাইকোর্টের
  12. দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — কাবিননামায় আগের বিয়ে-সন্তানের তথ্য যুক্ত করতে হাইকোর্টের রুল
  13. যুগান্তর, ৩ অক্টোবর ২০২৬ — অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন, এনআইডি-পাসপোর্টে সংযোগ: আইনমন্ত্রী
  14. Dhaka Tribune, 15 September 2026 — Bangladesh moves to ensure global acceptance of documents (e-Apostille)

TRW-এর সহায়তা

তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে

TRW বিয়ের আগে কাবিননামার শর্ত পর্যালোচনা, দেরিতে নিবন্ধন, হারানো কাবিননামার কপি খোঁজা, প্রবাসীদের আম-মোক্তারনামায় বিয়ে এবং বিদেশে ব্যবহারের জন্য বিয়ের দলিল প্রস্তুতে সহায়তা করে। দেখুন আমাদের ইসলামি পারিবারিক আইন প্র্যাকটিস, অথবা আপনার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Message TRW on WhatsApp