বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/দেওয়ানি

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় (permanent injunction suit) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫৩ থেকে ৫৬ অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের কাছে প্রার্থনা করা হয়, যেন বিবাদী আপনার জমি বা অন্য কোনো অধিকারে স্থায়ীভাবে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন। মামলাটি বছরের পর বছর চলে বলে শুরুর আসল লড়াই হয় দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-র আদেশ ৩৯-এর অধীনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে, যার সঙ্গে থাকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ, স্থিতাবস্থার নির্দেশ ও বিবিধ আপিল।

এই প্রক্রিয়া দুটো ধারাই অনুসরণ করে, প্রথম হুমকি থেকে চূড়ান্ত ডিক্রি, তা কার্যকরকরণ এবং আপিল বিভাগ পর্যন্ত যাওয়ার পথ।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
স্বত্ব, দখল ও হুমকি মূল্যায়ন করুন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৭টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত সেখানকার প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত: মামলার মূল্যমান অনুযায়ী সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ…
মূল আইন
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (ধারা ৫৩-৫৬); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (আদেশ ৩৯, আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ), ধারা ১১৫, আদেশ ২১ বিধি ৩২)…
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিষ্পত্তি ২ সপ্তাহ থেকে ৪ মাস; বিচার ২-৫ বছর; আপিলসহ…
কে মামলা করতে পারেন
এমন ব্যক্তি যিনি কোনো সম্পত্তির দখলে আছেন বা তাতে আইনগত অধিকার রাখেন, অথবা অন্য কোনো সুরক্ষিত অধিকারের অধিকারী, যা…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: ধাপ ১, স্বত্ব, দখল ও হুমকি মূল্যায়ন করুন
    ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগে

    স্বত্ব, দখল ও হুমকি মূল্যায়ন করুন

    আইনজীবী প্রথমে যাচাই করেন বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা আদৌ সঠিক প্রতিকার কি না। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান অধিকার রক্ষা করে, তাই বাদীকে অন্তত প্রাথমিকভাবে স্বত্ব এবং জমির ক্ষেত্রে বর্তমান দখল দেখাতে হয়। আইনজীবী ধারা ৫৬-এর বাধাগুলোও দেখেন: চলমান কোনো আদালতি মামলা বন্ধে, সরকারের জনদায়িত্বে হস্তক্ষেপে, সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয় এমন চুক্তিভঙ্গ ঠেকাতে, অথবা সমান কার্যকর অন্য প্রতিকার থাকলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। আপনি যদি ইতিমধ্যেই বেদখল হয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা ভুল হাতিয়ার; তখন আপনার দরকার দখল পুনরুদ্ধারের প্রতিকার।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫২-৫৬; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ · কাগজপত্র: স্বত্বের দলিল, খতিয়ান, হুমকির কাজের ছবি

    পরামর্শ: গত ছয় মাসের মধ্যে বেদখল হয়ে থাকলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৯-এর অধীনে দ্রুত একটি মামলা স্বত্ব প্রমাণ ছাড়াই দখল ফিরিয়ে দিতে পারে।

  2. বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: ধাপ ২, থানায় হুমকির বিষয়টি নথিভুক্ত করুন
    ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগে

    থানায় হুমকির বিষয়টি নথিভুক্ত করুন

    বিবাদী জমিতে প্রবেশ, গাছ কাটা, দেয়াল তোলা বা আপনাকে উচ্ছেদের হুমকি দিলে মালিক সাধারণত স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি কোনো মামলা নয় এবং স্বত্ব নির্ধারণ করে না, কিন্তু এটি তারিখযুক্ত, সমসাময়িক প্রমাণ, যা দেওয়ানি আদালত পরে দেখতে পারে। সহিংসতার ঝুঁকি থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-র ধারা ১৪৫ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও যাওয়া যায়, তবে সেটি শান্তিপূর্ণ দখল নিয়ে ফৌজদারি পর্যায়ের একটি পৃথক প্রক্রিয়া।

    কোথায়: স্থানীয় থানা · সময়: একই দিন · আইন: পুলিশ প্রবিধান, বেঙ্গল, ১৯৪৩ (সাধারণ ডায়েরি); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৪৪-১৪৫ · কাগজপত্র: জিডির আবেদন ও জিডি নম্বর, হুমকির সাক্ষীদের নাম

    পরামর্শ: জিডি তথ্যভিত্তিক ও সংক্ষিপ্ত রাখুন। অতিরঞ্জিত বক্তব্য বছর কয়েক পরে জেরায় আপনার সামনে তুলে ধরা হবে।

  3. বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: ধাপ ৩, স্বত্ব ও দখলের প্রমাণ সংগ্রহ করুন
    ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগে

    স্বত্ব ও দখলের প্রমাণ সংগ্রহ করুন

    আইনজীবী খতিয়ান, দলিল ও নামজারির রেকর্ডের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করেন, আর বাদী বর্তমান দখলের প্রমাণ জোগাড় করেন: ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ, ইউটিলিটি বিল, ভাড়াটিয়ার ভাড়ার রসিদ, ছবি এবং সাক্ষ্য দিতে পারেন এমন প্রতিবেশীদের নাম। বাংলাদেশের আদালত বারবার রায় দিয়েছে যে জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া বাদীকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত একটি জমিতে সুনির্দিষ্ট দখল প্রমাণ করতে হবে। অস্পষ্ট বা অমিলযুক্ত তফসিল মামলার জন্য মারাত্মক, তাই মৌজা ম্যাপে দাগ নম্বর ও চৌহদ্দি দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হয়।

    কোথায়: রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ২-৪ সপ্তাহ · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৪ক; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪-৭৭ · কাগজপত্র: খতিয়ানের সত্যায়িত কপি, মৌজা ম্যাপের উদ্ধৃতি, ডিসিআর রসিদ, ইউটিলিটি বিল ও ছবি

    পরামর্শ: দাগ নম্বরের পাশাপাশি চার চৌহদ্দি দিয়েও জমির বর্ণনা দিন; দুটোর মধ্যে বিরোধ হলে সাধারণত চৌহদ্দিই প্রাধান্য পায়।

  4. বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: ধাপ ৪, নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তসহ আরজি দাখিল করুন
    ধাপ ৪ · দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার

    নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তসহ আরজি দাখিল করুন

    আইনজীবী চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আরজি দাখিল করেন, যার মূল্যমান বাদী প্রতিকারের যে মূল্য নির্ধারণ করেন সেটাই, এবং সঙ্গে মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি দেন। এই মূল্যমানই আদালতও নির্ধারণ করে: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ এর বেশি। একই দিনে আইনজীবী হলফনামাসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (temporary injunction) জন্য আলাদা দরখাস্ত দাখিল করেন, যাতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে বিরত রাখার প্রার্থনা করা হয়।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১; কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(৪)(ঘ); মামলা মূল্যায়ন আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ৮; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৮-১৯ · কাগজপত্র: জমির তফসিলসহ আরজি, হলফনামাসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত, কোর্ট ফি, ওকালতনামা

    পরামর্শ: কম ফি দেওয়ার জন্য প্রতিকারের মূল্য কৃত্রিমভাবে কম ধরলে উল্টো ফল হতে পারে: আদালত যথাযথ মূল্যায়ন চাইতে পারে এবং বিবাদী বিষয়টি তুলবেন।

  5. ধাপ ৫: অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ
    ধাপ ৫ · দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার

    অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ

    অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের আগে আদালতকে সাধারণত বিবাদীকে দরখাস্তের নোটিশ দিতে হয়। বিলম্বে উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে এমন ক্ষেত্রে, যেমন কোনো ভবন নির্মাণ শুরু হতে যাচ্ছে, আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থার আদেশ দিতে পারে, সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য, এবং বিবাদীকে কারণ দর্শাতে বলে। জারি না হওয়া নোটিশ সাত দিনের মধ্যে ফেরত দিয়ে পুনরায় জারি করতে হয়। সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের জন্য আগে সরকারি উকিলকে (জিপি) নোটিশ দিতে হয়।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: একই দিন থেকে ২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ৩, ৩ক ও ৫ক; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫১ · কাগজপত্র: আদেশপত্র (অর্ডারশিট), বিবাদীকে নোটিশ, কারণ দর্শানোর আদেশ

    পরামর্শ: একতরফা আদেশ সাময়িক। আদালত কয়েক দিনের মধ্যেই বিবাদীর বক্তব্য শুনবে এবং জরুরি অবস্থা অতিরঞ্জিত হয়ে থাকলে আদেশ প্রত্যাহার করবে, এটি ধরে রাখুন।

  6. ধাপ ৬: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার শুনানি
    ধাপ ৬ · দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার

    অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার শুনানি

    বিবাদী হলফনামাসহ লিখিত আপত্তি দাখিলের পর আদালত উভয় পক্ষের শুনানি করে। আদালত তিনটি প্রশ্ন বিবেচনা করে: স্বত্ব ও দখলের প্রাথমিক মামলা (prima facie case) আছে কি না, সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে কি না, এবং নিষেধাজ্ঞা না পেলে বাদী অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবেন কি না। আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করতে পারে, অথবা উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিতে পারে। পরিস্থিতি বদলালে যেকোনো পক্ষ পরে আদেশ পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ১, ২ ও ৪ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ লিখিত আপত্তি, সম্পূরক হলফনামা, নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের ওপর আদেশ

    পরামর্শ: এই শুনানির মূল বিষয় দখল। সাম্প্রতিক, বাস্তব দখল দেখায় এমন কাগজপত্রই সাধারণত ফল নির্ধারণ করে।

  7. ধাপ ৭: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হলে ব্যবস্থা নিন
    ধাপ ৭ · দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার

    অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হলে ব্যবস্থা নিন

    বিবাদী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে, যেমন নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে, বাদী ছবি ও সাক্ষীসহ আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩)-এর অধীনে দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালত বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোক এবং ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটকের আদেশ দিতে পারে। আদালত আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশও দিতে পারে। লঙ্ঘন স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে হয়, এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালত বিবাদীর বক্তব্য শুনবে।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) ও (৪); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪(গ) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ লঙ্ঘনের দরখাস্ত, ছবি ও সাক্ষীদের বক্তব্য

    পরামর্শ: লঙ্ঘনের সঙ্গে সঙ্গে জানান। মাসের পর মাস অপেক্ষা করলে মনে হয় আপনি মেনে নিয়েছেন, এবং দরখাস্ত দুর্বল হয়।

  8. ধাপ ৮: লিখিত জবাব ও বিচার্য বিষয় গঠন
    ধাপ ৮ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা

    লিখিত জবাব ও বিচার্য বিষয় গঠন

    বিবাদী সমন জারির ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে, অথবা যুক্তিসংগত কারণে আদালতের অনুমতি নিয়ে পরে, মামলায় লিখিত জবাব দাখিল করেন। তিনি সাধারণত নিজের স্বত্ব বা দখল দাবি করেন, জমির পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এবং যুক্তি দেন যে মামলাটি ধারা ৫৬ দ্বারা বারিত, অথবা বাদীর স্বত্ব সন্দেহযুক্ত বলে শুধু নিষেধাজ্ঞার মামলা চলতে পারে না। এরপর আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করে, সাধারণত স্বত্ব, দখল, জমির পরিচিতি ও মামলার রক্ষণীয়তা নিয়ে।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ১ · কাগজপত্র: লিখিত জবাব, বিবাদীর কাগজপত্র, বিচার্য বিষয় গঠনের আদেশ

    পরামর্শ: বিবাদী স্বত্ব নিয়ে গুরুতর বিরোধ তুললে আরজি সংশোধন করে স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা যোগ করার কথা বিবেচনা করুন।

  9. ধাপ ৯: আদালত-সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতা
    ধাপ ৯ · আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা

    আদালত-সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতা

    লিখিত জবাবের পর আদালতকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হয়, অথবা পক্ষগুলোকে কোনো মধ্যস্থতাকারী, তাঁদের আইনজীবী বা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে পাঠাতে হয়। প্রতিবেশীদের সীমানা বিরোধ ও পারিবারিক জমির বিরোধ প্রায়ই এ পর্যায়ে মীমাংসা হয়, যেমন সীমানারেখা বা চলাচলের পথ নিয়ে সমঝোতা। ত্রিশ দিন বাড়ানো না হলে মধ্যস্থতা ষাট দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়। মীমাংসা হলে তা আপস ডিক্রিতে পরিণত হয় এবং কোর্ট ফি ফেরত দেওয়া হয়; ব্যর্থ হলে কোনো পক্ষের ক্ষতি ছাড়াই মামলা চলতে থাকে।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার প্রতিবেদন, আপসনামা (মীমাংসা হলে)

    পরামর্শ: আপসনামার সঙ্গে একটি স্পষ্ট নকশা যুক্ত করলে সম্মত রেখা কোথায় তা নিয়ে দ্বিতীয় বিরোধ এড়ানো যায়।

  10. ধাপ ১০: কমিশনারের মাধ্যমে স্থানীয় তদন্ত
    ধাপ ১০ · বিচার

    কমিশনারের মাধ্যমে স্থানীয় তদন্ত

    কোন জমি কোনটি, বা কে দখলে আছেন, তা নিয়ে পক্ষগুলোর বিরোধ থাকলে আদালত একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করে, প্রায়ই একজন সার্ভেয়ারসহ, যিনি মৌজা ম্যাপের সঙ্গে মিলিয়ে জমি মেপে সীমানা, স্থাপনা ও দখল বিষয়ে প্রতিবেদন দেন। পরিদর্শনের নোটিশ উভয় পক্ষকে দেওয়া হয়। প্রতিবেদন ও নকশা নথির অংশ হয় এবং এর বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করা যায়। নিষেধাজ্ঞার অনেক মামলায় কমিশনের প্রতিবেদনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক সাক্ষ্য।

    কোথায়: রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ৯-১০; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ৭ · কাগজপত্র: কমিশনের দরখাস্ত, প্রতিবেদন ও নকশা, আপত্তি

    পরামর্শ: নিজের সার্ভেয়ার নিয়ে পরিদর্শনে উপস্থিত থাকুন এবং নিজেই সীমানাচিহ্নগুলো দেখিয়ে দিন।

  11. ধাপ ১১: সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক
    ধাপ ১১ · বিচার

    সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক

    ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী বাদী হলফনামার মাধ্যমে জবানবন্দি দেন এবং তাঁকে জেরা করা হয়; প্রতিবেশী ও কমিশনারও সাক্ষ্য দিতে পারেন। এরপর বিবাদী সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। চূড়ান্ত শুনানির আগে যেকোনো পক্ষের অনুরোধে চারবারের বেশি মুলতবি দেওয়া যায় না; এর পরের মুলতবিতে খরচ দিতে হয় এবং তা কঠোরভাবে সীমিত। বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় নির্ধারক প্রশ্ন সাধারণত এটাই যে, মামলা দায়েরের তারিখে বাদী সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত জমিতে একচ্ছত্র দখল প্রমাণ করেছেন কি না। এরপর আইনজীবীরা সাক্ষ্য ও নজির নিয়ে যুক্তিতর্ক করেন।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৩ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ২-৪; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত, ৮ মে ২০২৫ থেকে কার্যকর); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) (২০২৬ সালে সংশোধিত); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০১-১০৩ · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনী (এক্সিবিট), লিখিত যুক্তি

    পরামর্শ: সহ-অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ দখল থাকলে সাধারণত অন্য সহ-অংশীদারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা টেকে না; সঠিক প্রতিকার বাটোয়ারা।

  12. ধাপ ১২: রায় ও ডিক্রি
    ধাপ ১২ · ডিক্রি ও কার্যকরকরণ

    রায় ও ডিক্রি

    আদালত প্রকাশ্য আদালতে, শুনানির সঙ্গে সঙ্গে বা সাত দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করে এবং ডিক্রি প্রস্তুত করে। বাদী জয়ী হলে ডিক্রির মাধ্যমে বিবাদী ও তাঁর মাধ্যমে দাবিকারীদের নির্দিষ্ট কাজ, যেমন জমিতে প্রবেশ, নির্মাণ বা হস্তান্তর, থেকে চিরস্থায়ীভাবে বিরত রাখা হয়। কোনো দায়িত্ব কেবল ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে রক্ষা করা গেলে আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা যোগ করতে পারে, যেমন বাদীর জমিতে তোলা দেয়াল সরানোর আদেশ। ডিক্রির সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১ দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ · আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫৩-৫৫; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১, ৬ ও ৭ · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি, সত্যায়িত কপি

    পরামর্শ: আদেশের কার্যকরী অংশ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা কেবল উল্লিখিত কাজগুলোই বন্ধ করে।

  13. ধাপ ১৩: ডিক্রি কার্যকর করা
    ধাপ ১৩ · ডিক্রি ও কার্যকরকরণ

    ডিক্রি কার্যকর করা

    বিবাদী ইচ্ছাকৃতভাবে ডিক্রি অমান্য করলে ডিক্রিদার জারির (execution) আবেদন করেন, যা ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর মূল মামলার মধ্যেই চলতে পারে। আদালত বিবাদীকে দেওয়ানি কারাগারে আটক, তাঁর সম্পত্তি ক্রোক, অথবা দুটোরই আদেশ দিতে পারে; অমান্যতা এক বছর চলতে থাকলে ক্রোককৃত সম্পত্তি বিক্রি করা যায়। বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আদালত বিবাদীর খরচে অন্য কাউকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিতে পারে। আদালত পুলিশকে সহায়তার নির্দেশ দিতে পারে। লঙ্ঘনের প্রতিকার নতুন মামলা দায়ের করে নয়, জারির মাধ্যমে।

    কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ৩ মাস থেকে ২ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩২; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪ (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৮২ · কাগজপত্র: জারির দরখাস্ত, লঙ্ঘনের প্রমাণ

    পরামর্শ: প্রতিটি লঙ্ঘনের তারিখযুক্ত ছবি ও নিরপেক্ষ সাক্ষী সংগ্রহ করুন; ইচ্ছাকৃত অমান্যতার জোরালো প্রমাণ আদালত চায়।

  14. ধাপ ১৪: রেকর্ড হালনাগাদ করুন ও জমি সুরক্ষিত রাখুন
    ধাপ ১৪ · ডিক্রি ও কার্যকরকরণ

    রেকর্ড হালনাগাদ করুন ও জমি সুরক্ষিত রাখুন

    নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি মালিকানার রেকর্ড বদলায় না, তবে এটি দখলের শক্তিশালী প্রমাণ। ডিক্রিদার ভূমি উন্নয়ন কর দিতে থাকেন, রেকর্ড তাঁর নামে না থাকলে এসি ল্যান্ডের কাছে নামজারির আবেদন করেন, এবং যেকোনো পুলিশি অভিযোগ বা ভবিষ্যৎ বিরোধের জন্য ডিক্রির সত্যায়িত কপি হাতে রাখেন। বিবাদী ডিক্রি লঙ্ঘন করে জমি বিক্রির চেষ্টা করলে ক্রেতা ডিক্রি সাপেক্ষেই জমি নেন, এবং ডিক্রিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ক্রেতার কাছে উপস্থাপন করা যায়।

    কোথায়: রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪৬; সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ৫২ (মামলা বা আপিল বিচারাধীন থাকাকালে হস্তান্তর); রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩ · কাগজপত্র: সত্যায়িত ডিক্রি, ডিসিআর রসিদ, নামজারির আবেদন (প্রয়োজনে)

    পরামর্শ: স্বত্বের দলিলের সঙ্গে ডিক্রির একটি সত্যায়িত কপি রাখুন; ভবিষ্যতে যেকোনো বিক্রয়ে এটি লাগবে।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · বিচারিক আদালত → জেলা জজ

নিষেধাজ্ঞার আদেশ বা চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল হলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)

    নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে বিবিধ আপিল

    অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে। সংক্ষুব্ধ পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলা জজের কাছে বিবিধ আপিল (Miscellaneous Appeal) দাখিল করেন, অথবা মামলাটি যুগ্ম জেলা জজের আদালতে থাকলে এবং মূল্যমান ৫ কোটি টাকার বেশি হলে নব্বই দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে। আপিল আদালত আদেশ স্থগিত, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে, এবং মূল মামলা অপেক্ষমাণ থাকে বলে প্রায়ই দ্রুত আপিল শুনানি করে।

    ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; ২-১২ মাসে নিষ্পত্তিদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৪দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২ ও ১৫৬
  2. 2
    জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)

    চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে স্বত্ব আপিল

    চূড়ান্ত ডিক্রির পর পরাজিত পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে নিয়মিত আপিল দাখিল করতে পারেন। এটি তথ্য ও আইনের পূর্ণাঙ্গ পুনঃশুনানি, সাধারণত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদালতে। সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, এবং জামানতের মতো শর্তে আপিল চলাকালে ডিক্রির জারি স্থগিত রাখতে পারে।

    ১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৬দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১, ৫ ও ২৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদেশ বা ডিক্রি বহাল রাখেন, পরিবর্তন করেন বা রদ করেন।

রিভিশন · বিচারিক আদালত → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ কি নিষেধাজ্ঞার আদেশ রিভিশন করতে পারে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)

    আপিলযোগ্য নয় এমন আদেশের রিভিশন

    কিছু অন্তর্বর্তী আদেশ, যেমন ধারা ১৫১-এর অধীনে স্থিতাবস্থার আদেশ, আপিলযোগ্য নয়। এগুলো জেলা জজের কাছে রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়, যিনি নথি তলব করে আইনের ভুল সংশোধন করতে পারেন। জেলা জজের রিভিশনাল আদেশের বিরুদ্ধে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কেবল হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে সেখানে আরেকটি রিভিশন চলে।

    ১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(২) ও (৪)
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    বিবিধ আপিলের পর দেওয়ানি রিভিশন

    বিবিধ আপিলে দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিল চলে না, তাই পরাজিত পক্ষ ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন (civil revision) করেন। বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থাসহ রুল জারি করতে পারে। আইনের ভুলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হলেই কেবল আদালত হস্তক্ষেপ করে। দ্বিতীয় আপিল না থাকায় স্বত্ব আপিলের পর আপিল ডিক্রির ক্ষেত্রেও একই পথ প্রযোজ্য।

    প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল; ৬ মাস থেকে ৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৪(২)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ রুল চূড়ান্ত করে বা খারিজ করে, এবং সেই ভিত্তিতে মামলা চলতে থাকে।

রিভিউ · বিচারিক আদালত

আদালত কি নিজের নিষেধাজ্ঞার আদেশ বা ডিক্রি রিভিউ করতে পারে?

  1. 1
    প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)

    একই আদালতে রিভিউ

    যে পক্ষ আপিল করেননি, তিনি যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও আগে পাওয়া যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, নথির ওপরেই স্পষ্ট কোনো ভুল, বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণে একই আদালতে রিভিউর (review) আবেদন করতে পারেন। ডিক্রি বা আদেশের নব্বই দিনের মধ্যে রিভিউ চাইতে হয়। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আদেশ ৩৯ বিধি ৪-এর অধীনে পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের আবেদনই সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত পথ।

    ৯০ দিনের মধ্যে দাখিলদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ৪তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আদালত রিভিউ নামঞ্জুর করে, অথবা বিষয়টি পুনরায় খুলে আবার শুনানি করে।

রেফারেন্স · বিচারিক আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ → বিচারিক আদালত

বিচারিক আদালত কি কোনো আইনি প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে পারে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ধারা ১১৩-এর অধীনে রেফারেন্স

    নিষেধাজ্ঞার মামলায় রেফারেন্স অস্বাভাবিক। এটি তখনই আসে যখন মামলাটি এমন কোনো আইনি প্রশ্নের ওপর নির্ভর করে, যে বিষয়ে আদালতের যুক্তিসংগত সন্দেহ আছে, বিশেষত কোনো আইন বা অধ্যাদেশের বৈধতা, যেমন যে আইনের অধীনে কোনো সরকারি সংস্থা জমি নেওয়ার অধিকার দাবি করে। আদালত বিষয়টি বিবৃত করে, হাইকোর্ট বিভাগ উত্তর দেয়, এবং বিচারিক আদালত সে অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি করে।

    ৬ মাস থেকে ২ বছরদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিচারিক আদালত উত্তর পায় এবং সেই অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি করে।

রিমান্ড (ফেরত) · বিচারিক আদালত → জেলা জজ → বিচারিক আদালত → জেলা জজ

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)

    আপিল আদালত বিষয়টি ফেরত পাঠায়

    বিচারিক আদালত তিনটি মানদণ্ড বিবেচনা না করেই নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত নিষ্পত্তি করলে, অথবা কোনো প্রাথমিক প্রশ্নে মামলা খারিজ করলে এবং আপিল আদালত তা প্রত্যাখ্যান করলে, আপিল আদালত নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন শুনানির জন্য বিষয়টি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত (remand) পাঠাতে পারে। ২০২৬ সাল থেকে নথি যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রে সীমিত। জেলা জজের ফেরত পাঠানোর আদেশ নিজে আপিলযোগ্য নয়, এবং তা দেওয়ানি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

    ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালে সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)
  2. 2
    প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)

    নতুন সিদ্ধান্ত ও পুনরায় আপিল

    বিচারিক আদালত আগের সাক্ষ্য নথিতে রেখে দরখাস্ত বা ফেরত পাঠানো বিষয়গুলো পুনরায় শুনানি করে এবং নতুন আদেশ বা ডিক্রি দেয়। সেই নতুন সিদ্ধান্ত আবার আপিলে জেলা জজের কাছে, এবং সেখান থেকে রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে নেওয়া যায়, তাই মামলাটি যে সিঁড়ি বেয়ে নেমেছিল সেটি বেয়েই আবার ওপরে ওঠে।

    ২-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিচারিক আদালত নতুন আদেশ বা ডিক্রি দেয়, যা আবার আপিলযোগ্য।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

বিরোধ কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিলের অনুমতি (লিভ)

    রিভিশন বা প্রথম আপিলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করেন। নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী আদেশও এভাবেই আপিল বিভাগে পৌঁছায়, প্রায়ই চেম্বার জজের কাছে জরুরি দরখাস্তসহ। কেবল আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠলেই অনুমতি দেওয়া হয়।

    ৬০ দিনের মধ্যে দাখিল; ৬ মাস থেকে ৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    অনুমতি মঞ্জুর হলে দেওয়ানি আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়, এবং সিদ্ধান্তটি সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। নথিতে স্পষ্ট ভুলের জন্য ত্রিশ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা যায়। এরপর মামলা বিচারিক আদালতে ফেরত যায়, যা আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী বিচার চালিয়ে যায় বা ডিক্রি জারি করে।

    ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ ও ১১১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের আদেশ চূড়ান্ত, এবং বিচারিক আদালত সে অনুযায়ী অগ্রসর হয়।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিটি মামলা শুরু হয় সেই দেওয়ানি আদালতে, যার আর্থিক এখতিয়ার বাদীর নির্ধারিত প্রতিকারের মূল্যমানের সঙ্গে মেলে: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ এর বেশি। এরপর দুটি ধারা সমান্তরালে চলে। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ) অনুযায়ী বিবিধ আপিল যায় জেলা জজের কাছে, অথবা যুগ্ম জেলা জজের মামলার মূল্যমান ৫ কোটি টাকার বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিলও একই মূল্যভিত্তিক পথে যায়। উভয় ধরনের আপিলে তথ্য ও আইন নতুন করে শোনা হয়।

দ্বিতীয় আপিল না থাকায় পরবর্তী ধাপ হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন, যা আইনের ভুলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার ক্ষেত্রে সীমিত। শীর্ষে আপিল বিভাগ, যা কেবল অনুমতি সাপেক্ষে মামলা শোনে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত (বা অতিরিক্ত জেলা জজ)
  4. প্রথম দফার আদালতপ্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · স্থানীয় থানা · রেকর্ড রুম, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর

৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।

জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।

শুরু · আদালতের বাইরে

জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা

ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)

জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

মামলা দায়েরের আগে
০.৫–২ মাস
দায়ের ও জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার
০.৫–৬ মাস
আরজি-জবাব ও মধ্যস্থতা
৩–৯ মাস
বিচার
১২–৩৬ মাস
ডিক্রি ও কার্যকরকরণ
১–২৪ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১৭–৭৭ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিষ্পত্তি ২ সপ্তাহ থেকে ৪ মাস; বিচার ২-৫ বছর; আপিলসহ ৫-১০ বছর বা তার বেশি
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual / permanent injunction)
ডিক্রিতে দেওয়া চূড়ান্ত আদেশ, যা বিবাদীকে নির্দিষ্ট কাজ থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখে (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৩-৫৪)।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunction)
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯-এর অধীনে অন্তর্বর্তী আদেশ, যা মামলা নিষ্পত্তি পর্যন্ত বা আদালতের ভিন্ন আদেশ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে।
অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা (Ad interim injunction)
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের শুনানি পর্যন্ত, বিবাদীর বক্তব্য শোনার আগেই দেওয়া স্বল্পমেয়াদি আদেশ।
স্থিতাবস্থা (Status quo)
পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত দখল বা প্রকৃতি না বদলে উভয় পক্ষকে সম্পত্তি যেমন আছে তেমন রাখার আদেশ।
বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory injunction)
লঙ্ঘনের প্রতিকারে কোনো ইতিবাচক কাজ, যেমন স্থাপনা অপসারণ, করতে বাধ্য করার আদেশ (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৫)।
বিবিধ আপিল (Miscellaneous appeal)
ডিক্রির বিরুদ্ধে নয়, আদেশের বিরুদ্ধে আপিল, যেমন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশ (দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩)।
প্রাথমিক মামলা (Prima facie case)
এমন মামলা যা কাগজপত্রে প্রথম দৃষ্টিতেই বিচারযোগ্য একটি গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
দেওয়ানি রিভিশন (Civil revision)
যেখানে আপিল চলে না, সেখানে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে আইনের ভুল সংশোধনে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম।
প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা কী সুরক্ষা দেয়?
বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা একটি বিদ্যমান আইনগত অধিকার, সাধারণত জমির দখল, বিবাদীর লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের হুমকি থেকে রক্ষা করে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৪ অনুযায়ী অর্থ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না হলে, ক্ষতি পরিমাপযোগ্য না হলে, অথবা বারবার মামলা ঠেকাতে আদালত এটি মঞ্জুর করতে পারে। ডিক্রি বিবাদী ও তাঁর মাধ্যমে দাবিকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক।
অস্থায়ী আর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য কী?
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯-এর অধীনে অন্তর্বর্তী আদেশ, যা মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থা অপরিবর্তিত রাখতে শুরুতেই হলফনামার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় কেবল মূল বিষয়ে পূর্ণ বিচারের পর ডিক্রিতে। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় জেতা বা হারা মামলার ফল নির্ধারণ করে না।
মামলা দায়েরের দিনই কি নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়?
কখনো কখনো। আদালতকে সাধারণত আগে বিবাদীকে নোটিশ দিতে হয়, তবে বিলম্বে উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে এমন ক্ষেত্রে, যেমন সেই সপ্তাহেই নির্মাণ শুরু হচ্ছে, আদালত নোটিশ ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়ে বিবাদীর শুনানির জন্য কাছাকাছি একটি তারিখ ধার্য করতে পারে। সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে আগে সরকারি উকিলকে নোটিশ দিতে হয়।
বিবাদী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী করবেন?
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩)-এর অধীনে দরখাস্ত দাখিল করুন; আদালত বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোক এবং ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটকের আদেশ দিতে পারে। চূড়ান্ত ডিক্রির ক্ষেত্রে আদেশ ২১ বিধি ৩২-এর অধীনে জারির আবেদন করুন। তারিখযুক্ত ছবি ও নিরপেক্ষ সাক্ষীর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিয়ে ইচ্ছাকৃত অমান্যতা প্রমাণ করতে হবে।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুর হলে কি আপিল করা যায়?
হ্যাঁ। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১(দ) অনুযায়ী বিবিধ আপিল চলে, সাধারণত ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলা জজের কাছে। সেই আপিল ব্যর্থ হলে পরবর্তী ধাপ ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন। নিষেধাজ্ঞার অনেক বিরোধ কার্যত এই অন্তর্বর্তী পর্যায়েই নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তাই দরখাস্তটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রস্তুত করুন।
নিষেধাজ্ঞার মামলায় কি স্বত্ব প্রমাণ করতে হয়?
আপনার অন্তত প্রাথমিক স্বত্ব এবং চিহ্নিত একটি জমিতে বর্তমান, একচ্ছত্র দখলের স্পষ্ট প্রমাণ দরকার। বিবাদী আপনার স্বত্ব নিয়ে গুরুতর বিরোধ তুললে আদালত প্রায়ই মনে করে শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয় এবং স্বত্ব ঘোষণা চাওয়া উচিত, তাই আপনাকে আরজি সংশোধন করতে হতে পারে।
বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় কত সময় লাগে?
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়, কিন্তু বাংলাদেশে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলার পূর্ণ বিচারে দুই থেকে পাঁচ বছর লাগে। আপিল ও রিভিশনসহ আট বছর বা তার বেশি লাগা সাধারণ ঘটনা। আদালত-সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতায় মীমাংসা হলে বিরোধ অনেক আগেই শেষ হতে পারে।
একজন সহ-অংশীদার কি আরেকজন সহ-অংশীদারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন?
সাধারণত না, কারণ বাটোয়ারা না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক সহ-অংশীদারেরই যৌথ জমি দখলের অধিকার থাকে। একজন সহ-অংশীদার নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন কেবল তখনই, যখন তিনি আপসমূলক ব্যবস্থার অধীনে কোনো নির্দিষ্ট অংশে একচ্ছত্র দখলে আছেন, অথবা অন্য সহ-অংশীদার তাঁকে উচ্ছেদ করছেন বা সম্পত্তি নষ্ট করছেন। অন্যথায় সঠিক প্রতিকার বাটোয়ারা মামলা।

আইন ও উৎস

  1. Specific Relief Act 1877
  2. Code of Civil Procedure 1908
  3. Civil Courts Act 1887
  4. Court-fees Act 1870
  5. Limitation Act 1908
  6. High Court Division, Civil Revision No. 3084 of 2024 (enforcing a permanent injunction decree under Order XXI rule 32)
  7. High Court Division, Civil Revision No. 6554 of 2023 (title and possession in injunction suits)
  8. High Court Division, Civil Revision No. 2271 of 2023 (temporary injunction)
  9. UNB: Govt moves to fast-track lower court cases (CPC Amendment Act 2026)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp