বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা হলো অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর অধীনে একটি আবেদন, যেখানে গেজেটে প্রকাশিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি তার বাংলাদেশি মালিক, ওয়ারিশ বা স্বার্থাধিকারীকে ফেরত দিতে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের (Tribunal) কাছে প্রার্থনা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের ডিক্রি কার্যকর করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি), আপিল যায় আপিল ট্রাইব্যুনালে (জেলা জজ), এবং এরপর কেবল হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনের পথ খোলা থাকে।
আবেদন দাখিলের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে শেষ হয়েছে, তাই বর্তমানে চালু বিষয়গুলোর অধিকাংশই বিচারাধীন আবেদন, আপিল, ডিক্রি বাস্তবায়ন ও রিট।
- কোথা থেকে শুরু
- জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল (একজন যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ, বর্তমানে সিনিয়র সিভিল জজ নামে…
- মূল আইন
- অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ (২০০১ সালের ১৬ নং আইন), ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংশোধিত; সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ ও ১০৩
- সাধারণ সময়কাল
- সাধারণ চর্চায় আবেদন থেকে দখল হস্তান্তর পর্যন্ত নির্দেশক ২-৬ বছর, রিট হলে আরও বেশি, যদিও আইনে ৩০০ দিনে নিষ্পত্তির…
- কে মামলা করতে পারেন
- মূল মালিক, ওয়ারিশ বা স্বার্থাধিকারী (অথবা দখলে থাকা সহ-অংশীদার), যিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা; ধারা ৬-এর…
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · তালিকা ও সময়সীমা যাচাইগেজেটে প্রকাশিত ‘ক’ তফসিল যাচাই করুন
বাংলাদেশে যেকোনো অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলায় প্রথম প্রশ্ন হলো জমিটি ‘ক’ তফসিলে আছে কি না। এটি প্রত্যর্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তির মৌজাভিত্তিক তালিকা, যা সরকার ধারা ৯-এর অধীনে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করেছে। আইন কার্যকর হওয়ার সময় যে সম্পত্তি প্রকৃতপক্ষে সরকারের দখলে বা নিয়ন্ত্রণে ছিল, কেবল সেটিই এই তালিকায় থাকার কথা। পুরোনো ‘খ’ তফসিল ২০১৩ সালে এমনভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে যেন ওই সম্পত্তিগুলো কখনো তালিকাভুক্তই হয়নি, তাই ‘খ’ তফসিলের মালিককে কোনো প্রত্যর্পণ মামলাই করতে হয় না। গেজেটে প্রকাশিত ‘ক’ তালিকায় না থাকা সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি নয়, এবং অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তাতে সরকারের কোনো অধিকার নেই।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ধারা ২(ট) ও (ড); ধারা ৯(১), ৯(২) ও ৯(৬); ধারা ২৮ক (‘খ’ তফসিল বিলুপ্তি) · কাগজপত্র: মৌজার জন্য গেজেটভুক্ত ‘ক’ তফসিলের সার্টিফায়েড উদ্ধৃতি, সিএস/এসএ/আরএস/বিএস খতিয়ানের কপি, দলিলের কপি
পরামর্শ: অন্য কিছু করার আগে গেজেটের পুরোনো ও বর্তমান খতিয়ান এবং দাগ নম্বর আপনার রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। দাগ নম্বরের অমিল পরে অনেক বিরোধের কারণ হয়।
ধাপ ২ · তালিকা ও সময়সীমা যাচাইআবেদন সময়মতো হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন
আইনে তালিকা প্রকাশের পর মালিকদের ৩০০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, এবং ২০১৩ সালের সংশোধনীতে আবেদন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, এবং আপিলের সময় বাড়াতেও তামাদি আইনের ধারা ৫ ব্যবহার করা যায় না। দাবিহীন সম্পত্তি, অথবা যে সম্পত্তির দাবি ব্যর্থ হয়, তা ধারা ২৬ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। বাস্তবে আজ বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা বলতে সাধারণত বোঝায় ওই তারিখের মধ্যে দাখিল করা আবেদন চালিয়ে যাওয়া, আপিলে লড়া বা আপিল করা, ডিক্রি বাস্তবায়ন করা, অথবা ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পরে করা তালিকাভুক্তিকে রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১ সপ্তাহ · আইন: ধারা ১০(১) ও ১০(১ক); ধারা ১৮(৪); ধারা ২৬(১) · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ও দাখিলের রসিদ (বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে), গেজেট প্রকাশের তারিখ
পরামর্শ: সময়সীমা পেরিয়ে গেছে বলেই তালিকাভুক্তি উপেক্ষা করবেন না। ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পরে করা তালিকাভুক্তিকে সুপ্রিম কোর্ট বারবার বাতিল (void) বলে গণ্য করেছে, এবং তা রিটের পথ খুলে দিতে পারে।
ধাপ ৩ · তালিকা ও সময়সীমা যাচাইমালিকানার ধারাবাহিকতা ও নাগরিকত্বের প্রমাণ তৈরি
ট্রাইব্যুনাল কেবল কয়েকটি প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দেয়: সম্পত্তি তালিকায় আছে কি না, আবেদন সময়মতো হয়েছে কি না, আবেদনকারী সংজ্ঞা অনুযায়ী মালিক কি না, এবং তালিকাভুক্ত মালিক বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা কি না। তাই নথিতে রেকর্ডীয় প্রজা থেকে প্রতিটি মৃত্যু বা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আবেদনকারী পর্যন্ত মালিকানার ধারা দেখাতে হবে, সাকসেশন সার্টিফিকেট বা ওয়ারিশ সনদ, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল এবং রেকর্ড-অব-রাইটসের এন্ট্রিসহ। রেকর্ডীয় মালিক ও আবেদনকারী উভয়ের নাগরিকত্ব ও বসবাসের প্রমাণ মূল বিষয়, কারণ সরকার প্রায়ই যুক্তি দেয় যে মালিক ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে ভারতে চলে গিয়েছিলেন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-৮ সপ্তাহ · আইন: ধারা ২(ড) (‘মালিক’-এর সংজ্ঞা); ধারা ১০(৮)(ঘ); বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ, ১৯৭২ · কাগজপত্র: ওয়ারিশ সনদ (Warish certificate), রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ও বায়না দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি, নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ
পরামর্শ: আবেদনকারীদের স্বাক্ষরিত এবং ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ারিশ সনদ দ্বারা সমর্থিত বংশতালিকা শুনানির সময় বাঁচায়।
ধাপ ৪ · আবেদন ও গ্রহণট্রাইব্যুনালে আবেদন দাখিল
বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা শুরু করতে মালিক যে জেলায় জমি অবস্থিত সেই জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে সব সহায়ক কাগজপত্রসহ আবেদন করতেন। ২০১৩ সালের সময়সীমার আগে দাখিল করা যে আবেদনগুলো এখনো বিচারাধীন, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ধারা ১০(৪)-এর অধীনে আলাদা আবেদনে তালিকা থেকে অবমুক্তি চাওয়া হয়, যেখানে ধারা ৬ অনুযায়ী সম্পত্তিটি কখনো তালিকায় থাকারই কথা ছিল না; যেমন কোনো আদালত আগেই সেটিকে অর্পিত নয় বলে ঘোষণা করেছিল বা কাস্টোডিয়ান তা অবমুক্ত করেছিলেন। অধিগ্রহণ করা অর্পিত জমির জন্য জমা রাখা ক্ষতিপূরণের অর্থের দাবিও ধারা ১০(২)-এর অধীনে একইভাবে, সুদ ছাড়া, করা হয়।
আবেদনগুলো আলাদা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয় এবং প্রতিটি সম্পত্তির বিপরীতে নম্বর দেওয়া হয়।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: দাখিলে ১-২ দিন · আইন: ধারা ১০(১), ১০(২), ১০(৪) ও ১০(৫); ধারা ১৬(১), ১৬(৪) ও ১৬(৪ক); ধারা ৬ · কাগজপত্র: জমির তফসিলসহ আবেদন, ওকালতনামা, মালিকানা ও নাগরিকত্বের সব কাগজপত্র, গেজেট এন্ট্রির কপি
পরামর্শ: ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তি (দেবোত্তর, শ্মশান, মন্দির) ট্রাইব্যুনালে দাবি করা হয় না। সেবায়েত, মোহন্ত বা কমিটি ধারা ১৫-এর অধীনে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
ধাপ ৫ · আবেদন ও গ্রহণ৩০ দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা যাচাই
৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেয় আবেদনটি আইন অনুযায়ী রক্ষণীয় কি না এবং প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট কাগজপত্র দাখিল হয়েছে কি না, এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। সম্পত্তি তালিকায় না থাকলে ট্রাইব্যুনালকে ধারা ১৭(খ) অনুযায়ী সরাসরি আবেদন নাকচ করতে হবে। এই পর্যায়ে সংক্ষিপ্তভাবে নাকচের বিরুদ্ধে আপিল চলে, এবং এটিই একমাত্র পরিস্থিতি যেখানে আপিল ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য বিষয়টি ফেরত পাঠাতে পারে। ট্রাইব্যুনাল কেবল আইনে দেওয়া প্রশ্নগুলোরই সিদ্ধান্ত দিতে পারে, বৃহত্তর মালিকানা-বিরোধের নয়।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: সর্বোচ্চ ১ মাস (আইনগত); প্রায়ই ১-৩ মাস · আইন: ধারা ১০(৬)(ক); ধারা ১৭(ক)-(ঘ); ধারা ১৮(২)(ক); ধারা ২০(৩)-এর শর্তাংশ · কাগজপত্র: আদেশনামা (অর্ডার শিট), ট্রাইব্যুনালের নির্দেশিত অতিরিক্ত কাগজপত্র
ধাপ ৬ · আবেদন ও গ্রহণজেলা প্রশাসকের প্রতি নোটিশ
আবেদন গৃহীত হলে ট্রাইব্যুনাল সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসকের কাছে নোটিশ পাঠায়। ডিসি অফিস অর্পিত সম্পত্তি শাখা ও সরকারি কৌঁসুলির (জিপি) মাধ্যমে ভিপি মামলার নথি, লিজ মামলার রেকর্ড এবং কাস্টোডিয়ানের কাগজপত্র সংগ্রহ করে। এটি প্রায়ই মামলার সবচেয়ে ধীর অংশ, কারণ অনেক নথি ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের। একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে ট্রাইব্যুনাল সব দাবি একসঙ্গে শোনে এবং একটি রায়ে নিষ্পত্তি করতে পারে।
কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ১০(৬)(খ); ধারা ১৭(ঘ); ধারা ২(ঙ) (ডিসি বলতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত) · কাগজপত্র: নোটিশ, ভিপি মামলার নথি ও লিজ মামলার রেকর্ড (সরকারপক্ষ)
ধাপ ৭ · শুনানি ও রায়সরকারের জবাব ও বিচার্য বিষয়
সরকার লিখিত জবাব দাখিল করে। সাধারণ যুক্তিগুলো হলো: রেকর্ডীয় মালিক ১৯৬৫-১৯৬৯ সময়কালে দেশত্যাগ করেছিলেন বলে সম্পত্তি অর্পিত হয়েছে, সম্পত্তিটি একটি ভিপি মামলায় তালিকাভুক্ত হয়েছিল, সেটি লিজ দেওয়া হয়েছে, অথবা আবেদনকারী উত্তরাধিকার প্রমাণ করতে পারছেন না। ট্রাইব্যুনালের রায়ে ধারা ১০(৮)-এ উল্লিখিত বিষয়গুলো থাকতে হয়, তাই শুনানি সেই প্রশ্নগুলো ঘিরেই সাজানো হয়: তালিকাভুক্তি, সময়, মালিকানা ও নাগরিকত্ব। ভিপি মামলার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পরে শুরু হওয়া তালিকাভুক্তিকে বারবার বেআইনি বলে রায় দেওয়া হয়েছে।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ধারা ১০(৬)(গ); ধারা ১০(৮); ধারা ২২(২) · কাগজপত্র: সরকারের লিখিত আপত্তি, অনুমতি পেলে আবেদনকারীর জবাব
ধাপ ৮ · শুনানি ও রায়সাক্ষ্য ও সাক্ষী
দুই পক্ষই সাক্ষী হাজির করে এবং কাগজপত্র প্রমাণ করে। ট্রাইব্যুনাল পূর্ণ প্রতিলিপির বদলে প্রত্যেক সাক্ষীর সাক্ষ্যের সারাংশ লিপিবদ্ধ করে। সাক্ষী তলব এবং কাগজপত্র হাজিরের আদেশ দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা আছে, এবং নির্দেশ পেলে প্রাসঙ্গিক দলিল যার কাছে আছে তাকে তা হাজির করতে হবে। কার্যপদ্ধতিতে কেবল দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) ধারা ১১ (রেস জুডিকাটা) এবং আইন বা বিধিমালায় স্পষ্টভাবে প্রয়োগ করা বিধানগুলো প্রযোজ্য, তাই শুনানি সাধারণ স্বত্বের মোকদ্দমার চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং বেশি দলিলনির্ভর। সব শুনানি প্রকাশ্যে হয়।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: ধারা ২৪(১)-(৩); ধারা ৪; ধারা ২২(১) · কাগজপত্র: প্রদর্শনের জন্য মূল দলিল, রেকর্ড-অব-রাইটসের সার্টিফায়েড কপি, সাক্ষীর তালিকা
ধাপ ৯ · শুনানি ও রায়ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন হলে স্থানীয় তদন্ত
সরেজমিনে কিছু যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, যেমন কার দখলে আছে, কোন দাগের কথা বলা হচ্ছে বা জমিতে কোনো স্থাপনা আছে কি না, ট্রাইব্যুনাল একজন বিচারিক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারে। এরপর ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। পক্ষগুলো প্রতিবেদন সম্পর্কে মতামত দিতে পারে। কোনো কার্যপদ্ধতিগত বিষয়ে আইন বা বিধিমালায় বিধান না থাকলে ট্রাইব্যুনাল তা লিপিবদ্ধ করে ন্যায়বিচারে সহায়ক যেকোনো পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ১০(৬)(ঘ); ধারা ২৫ · কাগজপত্র: তদন্ত প্রতিবেদন, নকশা (স্কেচ ম্যাপ)
ধাপ ১০ · শুনানি ও রায়হাজিরা না দেওয়া ও একতরফা আদেশ
আবেদনকারী হাজির না হলে এবং অন্য কেউ শুনানি না চান, আবেদনটি আনুষ্ঠানিক রায় ছাড়াই খারিজ হয়, এবং সেই খারিজের বিরুদ্ধে আপিল চলে না। এটি কেবল একবারই পুনরুজ্জীবিত (restore) করা যায়। একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনও তার সঠিকতার ভিত্তিতেই নিষ্পত্তি করতে হয়, এবং একতরফা আদেশ পুনঃশুনানির জন্য কেবল একবারই বাতিল করা যায়। ২০১২-২০১৩ সালে দাখিল করা অনেক মামলা এভাবে হারিয়ে গেছে, যখন মূল আবেদনকারী মারা গেছেন এবং ওয়ারিশরা দ্রুত পক্ষভুক্ত হননি।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ২৩(১)-(৪); ধারা ১৮(৩) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ পুনরুজ্জীবনের আবেদন, মৃত আবেদনকারীর স্থলে প্রতিস্থাপনের আবেদন
পরামর্শ: প্রতিটি শুনানির তারিখের দায়িত্বে পরিবারের একজন নির্দিষ্ট সদস্যকে রাখুন, এবং কারও মৃত্যু হলে দ্রুত প্রতিস্থাপনের আবেদন করুন।
ধাপ ১১ · শুনানি ও রায়লিখিত রায়
বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলায় ট্রাইব্যুনালকে আবেদন পাওয়ার ৩০০ দিনের মধ্যে রায় দিতে হবে। কারণ লিপিবদ্ধ করে তা ৬০ দিন এবং তারপর চূড়ান্তভাবে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়, এবং সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সময় আরও বাড়াতে পারে। লিখিত রায়ে প্রত্যেক পক্ষের বক্তব্যের সারাংশ থাকে, এবং সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় সম্পত্তি তালিকায় আছে কি না, আবেদন সময়মতো হয়েছে কি না, আবেদনকারী মালিক কি না, এবং তালিকাভুক্ত মালিক বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা কি না। রায় শেষ হয় প্রত্যর্পণ, অবমুক্তি বা নামঞ্জুরের সুনির্দিষ্ট আদেশ দিয়ে।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: আইনগত ৩০০-৩৯০ দিন; বাস্তবে প্রায়ই ১-৪ বছর · আইন: ধারা ১০(৭) ও ১০(৭ক); ধারা ১০(৮)(ক)-(ছ); ধারা ২২(১) · কাগজপত্র: রায়
ধাপ ১২ · ডিক্রি, দখল হস্তান্তর ও রেকর্ডডিক্রি ও সার্টিফায়েড কপি
ট্রাইব্যুনাল রায়ের ভিত্তিতে ৭ দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রস্তুত করে। স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির আবেদন করতে পারে, এবং ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তা সরবরাহ করে। আপিলের ৪৫ দিনের সময় রায়ের তারিখ থেকে গোনা হয়, তাই অবিলম্বে কপির আবেদন করা উচিত। তালিকা থেকে সম্পত্তি অবমুক্তির ডিক্রি কেবল এটুকু নিষ্পত্তি করে যে সম্পত্তিটি ধারা ৬-এর আওতায় পড়ে। এতে কারও স্বত্ব বা দখল ঘোষিত হয় না, এবং অন্যান্য আইনগত অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-২ মাস · আইন: ধারা ১০(৯); ধারা ১০(১০); ধারা ১২; ধারা ২(ছ) · কাগজপত্র: ডিক্রি, রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১৩ · ডিক্রি, দখল হস্তান্তর ও রেকর্ডডিক্রি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ
ডিক্রি প্রস্তুতের পঁয়তাল্লিশ দিন পর ট্রাইব্যুনাল রায় ও ডিক্রির কপি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়, যিনি তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। সরকার আপিল করলে এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল তা শুনানির জন্য গ্রহণ করলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাস্তবায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত থাকে। ডিক্রিদারের উচিত ডিসি অফিসের অর্পিত সম্পত্তি শাখায় যোগাযোগ রাখা এবং প্রেরণপত্রের স্মারক নম্বর সংগ্রহ করা, কারণ ট্রাইব্যুনাল ও ডিসি অফিসের মধ্যে নথি ধীরে চলতে পারে।
কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ১১(১); ধারা ১১(২) · কাগজপত্র: প্রেরণপত্র, সার্টিফায়েড ডিক্রি, বাস্তবায়নের জন্য ডিসির কাছে আবেদন
ধাপ ১৪ · ডিক্রি, দখল হস্তান্তর ও রেকর্ডদখল হস্তান্তর
সম্পত্তি সরাসরি সরকারের দখলে থাকলে জেলা প্রশাসক অবিলম্বে তা ডিক্রিদারকে হস্তান্তর করেন, এবং অধিগ্রহণ করা জমির জমা রাখা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেন। কোনো লিজগ্রহীতা বা অন্য কেউ দখলে থাকলে ডিসি জায়গা ছাড়ার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিনের নোটিশ দেন। তারা না ছাড়লে ডিসি পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পুলিশের সহায়তায়, প্রয়োজনে স্থাপনা সরিয়ে, তাদের উচ্ছেদ করেন। দখল বুঝিয়ে দিলেই প্রত্যর্পণ সম্পূর্ণ হয়। ধারা ১৪-এর অধীনে ডিসির দেওয়া লিজও একইভাবে শেষ হয়।
কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় · সময়: ২-৬ মাস; দখলদার বাধা দিলে আরও বেশি · আইন: ধারা ১১(৩)-(৫); ধারা ১৪(১)-(২); ধারা ৩২(গ) · কাগজপত্র: দখলদারের প্রতি নোটিশ, দখল হস্তান্তরের স্মারক
পরামর্শ: ডিক্রি বাস্তবায়নে ডিসির নির্দেশ অমান্য করা অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা।
ধাপ ১৫ · ডিক্রি, দখল হস্তান্তর ও রেকর্ডঅবিভক্ত বা যৌথ সম্পত্তি
ফেরত দেওয়া জমি অবিভক্ত বা অবিভাজ্য জোতের অংশ হলে জেলা প্রশাসককে ডিক্রি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে, প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে খসড়া নকশা ও সুপারিশসহ। এরপর ট্রাইব্যুনাল দখল কীভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। ডিসি পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তা পালন করে দখল বুঝিয়ে দেন এবং প্রতিবেদন দেন। সহ-অংশীদারদের মধ্যে বাঁটোয়ারা তবুও সাধারণ দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
কোথায়: অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল · সময়: ১-৪ মাস · আইন: ধারা ১১(৭)-(৮); ধারা ১২(গ) · কাগজপত্র: ডিসির প্রতিবেদন ও নকশা, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা
ধাপ ১৬ · ডিক্রি, দখল হস্তান্তর ও রেকর্ডরেকর্ড-অব-রাইটস সংশোধন
দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক ট্রাইব্যুনালকে জানান এবং ৩০ দিনের মধ্যে রাজস্ব অফিসে ডিক্রিদারের নামে রেকর্ড-অব-রাইটস সংশোধনের ব্যবস্থা করে ডিক্রিদারকে একটি কপি দেন। বাস্তবে এটি এসি ল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে নামজারি হিসেবে হয়। কৃষিজমি ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ সাপেক্ষে ফেরত দেওয়া হয়। এরপর মালিকের উচিত নিজের নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে ডিসিআর সংরক্ষণ করা, কারণ ভবিষ্যৎ ক্রেতা ও ব্যাংক এই রেকর্ডই দেখবে।
কোথায়: এসি ল্যান্ড / রাজস্ব অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ধারা ১১(৬)(ক)-(খ); ধারা ৫(৩) · কাগজপত্র: সংশোধিত খতিয়ান, ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ), ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ
যদি এমন হয়…? অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
পরাজিত পক্ষ আপিল করলে কী হয়?
- 1অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ)
৪৫ দিনের মধ্যে আপিল
আবেদনকারী বা সরকার, যেকোনো পক্ষ জেলা জজের সভাপতিত্বে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারে; অতিরিক্ত জেলা জজদের অধীনে অতিরিক্ত আপিল ট্রাইব্যুনালও আছে। রায়ের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে, এবং তামাদি আইনের ধারা ৫ প্রযোজ্য নয়, তাই দেরিতে করা আপিল সাধারণত হারিয়ে যায়। কেবল ধারা ১৮(২)-এ তালিকাভুক্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল চলে, যদিও আপিলে রায়ের ভিত্তি হওয়া অন্তর্বর্তী আদেশগুলোকেও চ্যালেঞ্জ করা যায়।
৪৫ দিনের মধ্যেধারা ১৮(১), ১৮(২) ও ১৮(৪)ধারা ১৯(১)-(৩) - 2অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ)
তথ্য ও আইনের প্রশ্নে পুনঃশুনানি
আপিল ট্রাইব্যুনাল তথ্য ও আইন, দুই ধরনের প্রশ্নেরই সিদ্ধান্ত দেয়, এবং সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের পরে উদ্ভূত সাক্ষ্য হলেই কেবল অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে পারে। একই সম্পত্তি-সংক্রান্ত আপিলগুলো একসঙ্গে শুনানি হয়। ৩০০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয়, যা ৬০ দিন এবং তারপর চূড়ান্তভাবে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়। আইন অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং এটি ট্রাইব্যুনাল ও জেলা প্রশাসকের কাছে কপি পাঠায়।
আইনগত ৩০০-৩৯০ দিন; প্রায়ই ১-৩ বছরধারা ২০(১), ২০(২) ও ২০(৪)ধারা ১৮(৫)-(৬)ধারা ২২(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল ট্রাইব্যুনালের ডিক্রি ট্রাইব্যুনালের ডিক্রির স্থলাভিষিক্ত হয়, এবং হাইকোর্ট বিভাগে রিট না হলে জেলা প্রশাসক তা বাস্তবায়ন করেন।
মামলা কি নিচে ফেরত গিয়ে আবার ওপরে আসতে পারে?
- 1অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ)
আপিল ট্রাইব্যুনালের সীমিত ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা
আইন অনুযায়ী আপিল ট্রাইব্যুনাল পুনঃশুনানির জন্য মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারে না; নথির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দিতে হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো ট্রাইব্যুনাল শুনানি ছাড়াই সরাসরি আবেদন নাকচ করলে: আপিল ট্রাইব্যুনাল তা বাতিল করলে ট্রাইব্যুনালকে আবেদনটি শুনানির নির্দেশ দিতে পারে। তখন মামলাটি ট্রাইব্যুনালে ফেরত যায়, মূল বিষয়ে শুনানি হয়, এবং নতুন আপিলে আবার ওপরে আসতে পারে।
ভিন্ন ভিন্নধারা ২০(৩) ও শর্তাংশ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট আপিল ফেরত পাঠায়
হাইকোর্ট বিভাগ থেকেও মামলা ফেরত আসে। রিট পিটিশন নং ৫২৭০/২০১৯-এ হাইকোর্ট বিভাগ দেখতে পায় যে মূল তালিকাভুক্তি বাতিল বলে প্রতীয়মান এবং সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো ধারা ২০(৪) লঙ্ঘন করে আলাদাভাবে শোনা হয়েছে। আদালত চার দিনের বিলম্ব মার্জনা করে, তামাদিতে বারিত বলে আপিল নাকচের আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে, এবং ধারা ১৮(৫)-এর সময়ের মধ্যে মূল বিষয়ে শুনানির জন্য আপিলটি ফেরত পাঠায়। আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিলটি আবার শোনে, এবং তার নতুন সিদ্ধান্তও রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
ফেরত পাঠানোর পর শুনানি: ৬-১৮ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ধারা ১৮(৫)ধারা ২০(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: সংক্ষিপ্তভাবে নাকচ হওয়া আবেদন ট্রাইব্যুনালে ফেরত গিয়ে আপিলে আবার ওপরে আসে; রিটে ফেরত পাঠানো হলে আপিলটি আপিল ট্রাইব্যুনালে যায়, যার নতুন ডিক্রি আবার হাইকোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
হাইকোর্টে কি দেওয়ানি রিভিশন করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রিভিশন বারিত, রিট তার বিকল্প
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে কোনো দেওয়ানি রিভিশন চলে না। আইনের ধারা ৪ ধারা ১১ এবং আইন বা বিধিমালায় প্রয়োগ করা বিধান ছাড়া দেওয়ানি কার্যবিধি বাদ দিয়েছে। ধারা ১৮(১) আরও বলে, আইনগত আপিল ছাড়া অন্য কোনো আদালত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় অবশিষ্ট প্রতিকার হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশন, এই অভিযোগে যে সিদ্ধান্তটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া নেওয়া হয়েছে। যেমন ১৯৭৪-পরবর্তী বাতিল তালিকাভুক্তি উপেক্ষা করা, মালিকের সংজ্ঞা ভুলভাবে পড়া বা এখতিয়ার প্রয়োগে অস্বীকৃতি।
দ্রুত দায়ের করুন; রিটের নির্দিষ্ট তামাদি নেই, তবে বিলম্ব আবেদনকারীর বিপক্ষে যায়ধারা ৪ধারা ১৮(১)ধারা ২২(৩)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: চ্যালেঞ্জটি রিভিশন হিসেবে নয়, হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন হিসেবে চলে।
ট্রাইব্যুনাল কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারে?
- 1অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল
রিভিউর সাধারণ ক্ষমতা নেই
আইনে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালকে রিভিউর (review) কোনো সাধারণ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, এবং দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ আইনে প্রয়োগ করা বিধানগুলোর মধ্যে নেই। আইন যা অনুমোদন করে তা সীমিত: হাজিরা না দেওয়ার কারণে খারিজ হওয়া আবেদন একবার পুনরুজ্জীবিত করা যায়, এবং একতরফা সিদ্ধান্ত পুনঃশুনানির জন্য একবার বাতিল করা যায়। এর চেয়ে মৌলিক কিছুর জন্য আপিল, এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের পর রিট লাগে।
১-৩ মাসধারা ৪ধারা ২৩(২) ও ২৩(৪)ধারা ২৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ধারা ২৩-এর অধীনে পুনরুজ্জীবিত না হলে, অথবা আপিল বা রিটে বাতিল না হলে, রায় বহাল থাকে।
কোনো প্রশ্ন কি উচ্চতর আদালতে রেফার করা যায়?
- 1অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল
রেফারেন্স নেই; পরিবর্তে তদন্ত ও দেওয়ানি মোকদ্দমা
এই আইনে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩-এর মতো কোনো রেফারেন্স পদ্ধতি নেই। ট্রাইব্যুনাল নিজের সীমিত প্রশ্নগুলোর সিদ্ধান্ত নিজেই দেয় এবং ধারা ১০(৬)(ঘ)-এর অধীনে তথ্যগত বিষয় তদন্তে পাঠাতে পারে। স্বত্ব, উত্তরাধিকার বা বাঁটোয়ারার বৃহত্তর প্রশ্ন এর এখতিয়ারের বাইরে। সেগুলো যায় সাধারণ দেওয়ানি আদালতে, মূল্যমান অনুযায়ী সিভিল জজ (সাবেক সহকারী জজ), সিনিয়র সিভিল জজ (সাবেক সিনিয়র সহকারী জজ) বা যুগ্ম জেলা জজের আদালত থেকে শুরু করে, এবং ধারা ২৮ক(৪) সাবেক ‘খ’ তফসিলের সম্পত্তির জন্য সেই প্রতিকারগুলো খোলা রেখেছে।
তদন্ত: ১-৩ মাসধারা ১০(৬)(ঘ)ধারা ১২(খ)-(গ)ধারা ১৭(গ)ধারা ২৮ক(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ট্রাইব্যুনাল নিজের নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়, আর স্বত্বের বিরোধ যায় দেওয়ানি আদালতে।
মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রিট পিটিশন ও রুল নিশি
সংক্ষুব্ধ পক্ষ, প্রায়ই সরকার অথবা আপিল ট্রাইব্যুনালে হেরে যাওয়া লিজগ্রহীতা বা দাবিদার, অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশন দায়ের করে। বেঞ্চ বিবেচনাযোগ্য বিষয় পেলে রুল নিশি জারি করে এবং স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থার আদেশ দিতে পারে। রিট পিটিশন নং ১২৭৬১/২০২৩-এ বলা হয়েছে, সরকার নিজে যে ডিক্রি মেনে নিয়েছে, সরকারের লিজগ্রহীতা সাধারণত তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। পূর্ণ শুনানির পর রুলটি চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ করা হয়।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল)
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে, সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে, আপিলের অনুমতির জন্য সিভিল পিটিশন দায়ের করে। অনুমতি মিললে আইনের প্রশ্নে সিভিল আপিলের শুনানি হয়। অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে চূড়ান্ত রিভিউ কেবল নথিতে স্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে সম্ভব। আপিল বিভাগ বারবার বলেছে, ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পরে কোনো সম্পত্তিকে আইনসংগতভাবে অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায় না।
১-৪ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮, দ্বিতীয় খণ্ড
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং জেলা প্রশাসক ও ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলার নিজস্ব সংক্ষিপ্ত আদালত-কাঠামো আছে, যা সাধারণ দেওয়ানি মোকদ্দমা থেকে আলাদা, এবং ফোরাম নির্ধারণে সম্পত্তির মূল্যের কোনো ভূমিকা নেই। আবেদন শুরু হয় জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে, যার সভাপতিত্ব করেন একজন যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ (বর্তমানে সিনিয়র সিভিল জজ)। আপিল যায় আপিল ট্রাইব্যুনালে, অর্থাৎ জেলা জজের কাছে, অথবা অতিরিক্ত আপিল ট্রাইব্যুনাল হিসেবে বসা অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে। আপিল ট্রাইব্যুনাল তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনে, তবে ট্রাইব্যুনাল শুনানি ছাড়া আবেদন নাকচ করলে ছাড়া মামলা ফেরত পাঠাতে পারে না।
আইন আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করেছে এবং দেওয়ানি রিভিশন বারিত করেছে। তাই পরবর্তী ধাপ অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন, যেখানে সাক্ষ্য নতুন করে মূল্যায়ন না করে বৈধতা ও এখতিয়ার পর্যালোচনা করা হয়। সবশেষে অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতির আবেদন। ডিক্রি বাস্তবায়ন ও ভূমি রেকর্ড সংশোধন করেন জেলা প্রশাসক, কোনো আদালত নয়।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ)
- প্রথম দফার আদালতঅর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · জেলা প্রশাসকের কার্যালয় · এসি ল্যান্ড / রাজস্ব অফিস
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঅর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর অধীন অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত সম্পত্তি ফেরতের দাবি শুনানি করে; এর বিরুদ্ধে আপিল যায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে।
ঢাকা জাজশিপের প্রকাশিত আদালত তালিকায় এর নাম নেই; এই ট্রাইব্যুনালগুলো জেলার দেওয়ানি বিচারকদের নিয়ে গঠিত হয়, তাই নিশ্চিত এলাকা হিসেবে ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ দেওয়া হয়েছে। দাখিলের আগে আদালত নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রতিটি জেলায় এর সমতুল্য ট্রাইব্যুনাল আছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
এসি ল্যান্ড / রাজস্ব অফিস
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অর্পিত সম্পত্তি (Arpita Sampatti)
- অর্পিত সম্পত্তি: ১৯৬৫-১৯৭৪ সালের শত্রু সম্পত্তি ও অর্পিত সম্পত্তি আইনের অধীনে সরকারে ন্যস্ত হওয়া জমি।
- ‘ক’ তফসিল (‘Ka’ schedule)
- ২০০১ সালের আইন কার্যকর হওয়ার সময় সরকারের দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রত্যর্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তির গেজেটভুক্ত তালিকা।
- ‘খ’ তফসিল (‘Kha’ schedule)
- সরকারের দখলে না থাকা অর্পিত সম্পত্তির সাবেক তালিকা, যা ২০১৩ সালে এমনভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে যেন এর কখনো অস্তিত্বই ছিল না।
- প্রত্যর্পণ (Prattarpan)
- প্রত্যর্পণ: তালিকাভুক্ত সম্পত্তি তার বাংলাদেশি মালিক, ওয়ারিশ বা স্বার্থাধিকারীকে ফেরত দেওয়া।
- অবমুক্তি (Abomukti / release)
- ধারা ৬ অনুযায়ী যে সম্পত্তি কখনো তালিকাভুক্ত হওয়ারই কথা ছিল না, তালিকা থেকে তা বাদ দেওয়া।
- কাস্টোডিয়ান (Custodian)
- যে কর্মকর্তা (সাধারণত জেলা প্রশাসক ও তাঁর অধীন কর্মকর্তারা) অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করতেন।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন চ্যালেঞ্জকৃত সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
- ডিক্রিদার (Decree-holder)
- যে ব্যক্তির অনুকূলে ট্রাইব্যুনাল বা আপিল ট্রাইব্যুনালের ডিক্রি প্রস্তুত হয়েছে।
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
২০২৬ সালে কি এখনো বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলা শুরু করা যায়?
ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালে কারা বসেন?
‘খ’ তফসিলের কী হয়েছে?
আপিলের সময়সীমা কত, এবং তা কি বাড়ানো যায়?
মামলায় জিতলে কি আমি জমির স্বত্ব পাই?
ডিক্রি কে বাস্তবায়ন করেন?
আমি কি রিভিশন বা রিভিউ করতে পারি?
সরকার সম্পত্তিটি কাউকে লিজ দিয়ে থাকলে কী হয়?
আইন ও উৎস
- Arpita Sampatti Prattarpan Ain 2001 (consolidated text, laws.sayed.app mirror)
- Arpita Sampatti Prattarpan Ain 2001 (Laws of Bangladesh, Legislative and Parliamentary Affairs Division)
- Prodeep Kumar Sarker v Judge, Arpita Sampatti Pratyarpan Appellate Tribunal, Rajbari (HCD, Writ Petition 5270 of 2019, 11.06.2026)
- Gour Prashad Roy v Judge, Arpita Sampatti Prottorpon Appeal Tribunal, Habiganj (HCD, Writ Petition 12761 of 2023, 24.02.2026)
- Md. Humayun Kabir v Government of Bangladesh (HCD, Writ Petition 2983 of 2019, 23.01.2024)
- Speedy disposal of vested property cases remains a tough task (The Daily Star)
- Bribes of Tk 2270 cr for return of vested property (Prothom Alo English)
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 102, 103 and 105)
- Civil Courts (Amendment) Act 2026 (Act 12 of 2026), s.25A on the renamed civil judges (laws.sayed.app mirror)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।