হাইকোর্টে জামিন: নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর থেকে জামিন শুনানি, মুক্তি, চেম্বার জজ ও জামিন বাতিল পর্যন্ত ধাপে ধাপে
ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা জজ তদন্ত বা বিচার চলাকালে জামিন নামঞ্জুর করলে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)-এর ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী হাইকোর্টে জামিন চাওয়া হয়; আর দণ্ডিত ব্যক্তির আপিল বিচারাধীন থাকলে আবেদন হয় ধারা ৪২৬ অনুযায়ী। বেঞ্চ অন্তর্বর্তী জামিন (ad-interim bail) দিয়ে রুল জারি করতে পারেন, আবেদন নামঞ্জুর করতে পারেন, অথবা শর্ত আরোপ করতে পারেন, যা ২০২৬ সালের সংশোধনী এখন স্পষ্টভাবে অনুমোদন করে।
রাষ্ট্র বা বাদী আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আদেশটি স্থগিত করার আবেদন করতে পারেন, এবং পরে জামিন বাতিলও হতে পারে।
- কোথা থেকে শুরু
- ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা জজ (অথবা বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল) জামিন নামঞ্জুর করার পর; আবেদন দাখিল হয় সুপ্রিম কোর্টের…
- মূল আইন
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৬, ৪৩৫, ৪৩৯, ৪৯৬-৫০২ ও ৫৬১ক, সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ১১ নং আইন…
- সাধারণ সময়কাল
- দাখিল থেকে প্রথম শুনানি: ১ থেকে ৬ সপ্তাহ। অন্তর্বর্তী জামিনের আদেশ সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয়, যেমন ছয় মাস…
- কে মামলা করতে পারেন
- অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে, সাধারণত পরিবারের নির্দেশনায়; অ্যাটর্নি…
হাইকোর্টে জামিন: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর ও প্রস্তুতিম্যাজিস্ট্রেট জামিন নামঞ্জুর করেছেন
বেশির ভাগ জামিন আবেদন নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগে আসে। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত প্রথমে সেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন, যাঁর কাছে পুলিশ তাঁকে হাজির করে। জামিন-অযোগ্য অপরাধে, অভিযুক্ত মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিতে পারেন না। তবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, নারী অথবা অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তিকে আদালত তবুও জামিন দিতে পারেন। জামিন নামঞ্জুরের বিরুদ্ধে কোনো আপিল নেই। অভিযুক্ত উচ্চতর আদালতের নিজস্ব ক্ষমতার অধীনে সেখানে নতুন করে আবেদন করেন।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: কয়েক দিন থেকে ২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭(১)-(৩); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, এজাহার (FIR) ও ফরোয়ার্ডিং রিপোর্ট, নামঞ্জুরের আদেশ
ধাপ ২ · নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর ও প্রস্তুতিদায়রা জজ জামিন নামঞ্জুর করেছেন
পরবর্তী ফোরাম হলো দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজ, যাঁর ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী সমান্তরাল ক্ষমতা রয়েছে। মামলা বিচারের জন্য পাঠানো হলে বিচারিক আদালত নিজেই জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। ধারা ৪৯৮ হাইকোর্ট বিভাগকেও সরাসরি ক্ষমতা দিলেও, হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত আশা করেন যে অভিযুক্ত আগে দায়রা জজের কাছে চেষ্টা করেছেন এবং নামঞ্জুরের আদেশটি দাখিল করবেন। এই ধাপ বাদ দিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া বেঞ্চের শুনানি গ্রহণে অস্বীকৃতির একটি সাধারণ কারণ। কিছু বিশেষ আইনে নিজস্ব শর্ত আছে, যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রধান অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার আগে বাদীর বক্তব্য শোনা।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৯(২)-(৪) · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, ম্যাজিস্ট্রেটের নামঞ্জুরের আদেশ, দায়রা জজের নামঞ্জুরের আদেশ
ধাপ ৩ · নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর ও প্রস্তুতিসঠিক ধারা বেছে নিন
আইনজীবী মামলার পর্যায় চিহ্নিত করেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে হাইকোর্টে জামিন চাওয়া হয় ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী, যা হাইকোর্ট বিভাগকে যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন দিতে বা নিম্ন আদালতের নির্ধারিত জামিনের অঙ্ক কমাতে ক্ষমতা দেয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জামিন চাওয়া হয় ধারা ৪২৬ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, অথবা অধস্তন আদালতে বিচারাধীন আপিলে। গ্রেপ্তারের আগে আগাম জামিন ধারা ৪৯৮-এর একটি পৃথক ও ব্যতিক্রমী প্রয়োগ। আইনজীবী এমন প্রতিটি মামলাও যাচাই করেন যেখানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, কারণ একটি মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলাগুলো থেকে তিনি মুক্ত হন না।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১)-(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ক (২০২৬ সালের ১১ নং আইন) · কাগজপত্র: বিচারাধীন সব মামলার তালিকা, কারাগার থেকে আটকের বিবরণ
ধাপ ৪ · নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর ও প্রস্তুতিসার্টিফায়েড কপি ও তথ্য সংগ্রহ করুন
হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ নথিপত্রের ভিত্তিতে জামিনের সিদ্ধান্ত দেন, তাই নথি সম্পূর্ণ হতে হবে। দরখাস্তের সঙ্গে এজাহার বা নালিশি দরখাস্ত, ফরোয়ার্ডিং রিপোর্ট, অভিযোগপত্র (থাকলে) এবং আদেশনামার সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা জজের নামঞ্জুরের আদেশও সংযুক্ত করা হয়। হলফনামায় গ্রেপ্তারের তারিখ, হেফাজতে মোট সময়, তদন্ত বা বিচারের পর্যায়, অভিযুক্তের বয়স, স্বাস্থ্য, পেশা ও স্থায়ী ঠিকানা এবং আগের জামিন আবেদন ও তার ফলাফল উল্লেখ করা হয়। ওকালতনামা সাধারণত কারাগারে স্বাক্ষর করানো হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩ দিন থেকে ৩ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ · কাগজপত্র: এজাহার, ফরোয়ার্ডিং রিপোর্ট ও আদেশনামার সার্টিফায়েড কপি, নিম্ন আদালতের নামঞ্জুরের আদেশ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, কারাগারে স্বাক্ষরিত ওকালতনামা (vakalatnama), হলফকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র
পরামর্শ: আগের জামিন আবেদন ও তার ফলাফল সব সময় প্রকাশ করুন। তথ্য গোপন করলে আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে এবং পরবর্তী আবেদনেরও ক্ষতি হতে পারে।
ধাপ ৫ · দাখিল ও শুনানির তালিকাভুক্তিফৌজদারি বিবিধ মামলা দাখিল করুন
জামিনের দরখাস্তটি হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি শাখায় ফৌজদারি বিবিধ মামলা (criminal miscellaneous case) হিসেবে দাখিল করা হয়, যা হলফনামা দ্বারা সমর্থিত এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন অ্যাডভোকেট স্বাক্ষরিত। এর একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্দেশনা নিতে পারেন এবং প্রয়োজনে পুলিশের কাছ থেকে কেস ডায়েরি বা প্রতিবেদন আনাতে পারেন। নালিশি মামলায়, অথবা বাদী ক্যাভিয়েট দাখিল করে থাকলে বা আগে হাজির হয়ে থাকলে, বাদীকেও নোটিশ দেওয়া উচিত।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ জামিনের দরখাস্ত, সংযুক্ত সার্টিফায়েড কপি, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কপি পৌঁছানোর প্রমাণ
ধাপ ৬ · দাখিল ও শুনানির তালিকাভুক্তিজামিন বেঞ্চে তালিকাভুক্তি
কোন বেঞ্চ কোন বিষয় ও কোন জেলার জামিন মামলা শুনবেন, তা প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করেন, এবং এই তালিকা সময়ে সময়ে বদলায়। আইনজীবীকে বর্তমানে এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চেই দাখিল করতে হবে এবং মামলাটি সেই বেঞ্চের কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করাতে হবে। গুরুতর অসুস্থতার মতো জরুরি বিষয় দ্রুত তালিকাভুক্তির জন্য মেনশন করা যায়। ব্যস্ত বেঞ্চে নতুন জামিন মামলা আসতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে, আর যে মামলা ডাকা হয়নি তা পরের দিনে চলে যায়। তাই দাখিলের দিনেই হাইকোর্টে জামিন পাওয়া খুবই বিরল।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ সপ্তাহ · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: কার্যতালিকা (কজলিস্ট), জরুরি হলে মেনশনের আবেদন
ধাপ ৭ · জামিন শুনানিবেঞ্চে শুনানি
আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা জবাব দেন, প্রায়ই কেস ডায়েরি বা পুলিশ প্রতিবেদনসহ। বেঞ্চ অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুত্ব, এজাহার ও কেস ডায়েরিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, জামিনপ্রাপ্ত সহ-আসামিদের তুলনায় তাঁর ভূমিকা এবং হেফাজতে কাটানো সময় বিবেচনা করেন। পালিয়ে যাওয়া বা সাক্ষীকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি এবং বয়স ও স্বাস্থ্যও বিবেচনায় আসে। ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ধারা ৪৯৭-এর নিষেধাজ্ঞা দ্বারা সীমিত নয়, তবে বাস্তবে একই নীতি অনুসরণ করা হয়, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১টি শুনানি, কখনো কখনো প্রতিবেদনের জন্য মুলতবি · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(১); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭(১) · কাগজপত্র: জামিনের দরখাস্ত, কেস ডায়েরি বা পুলিশ প্রতিবেদন, নতুন তথ্য থাকলে সম্পূরক হলফনামা
ধাপ ৮ · জামিন শুনানিআদেশ: অন্তর্বর্তী জামিন, রুল অথবা নামঞ্জুর
বেঞ্চ দরখাস্তটি খারিজ করতে পারেন, অথবা প্রতিবেদনের জন্য মুলতবি রাখতে পারেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাইকোর্টে জামিন প্রথমে নির্দিষ্ট মেয়াদের অন্তর্বর্তী জামিন হিসেবে দেওয়া হয়, এবং বেঞ্চ একটি রুল জারি করে রাষ্ট্রকে কারণ দর্শাতে বলেন কেন মামলার বাকি সময়ের জন্য অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে না। বেঞ্চ কম নিশ্চিত হলে অন্তর্বর্তী জামিন ছাড়াই রুল জারি করতে পারেন। আদেশে উল্লেখ থাকে কোন আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে বন্ড দিতে হবে, সাধারণত বিচারিক আদালত অথবা চিফ মেট্রোপলিটন বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: শুনানির দিনই · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(১) · কাগজপত্র: হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, আদেশের সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ৯ · জামিন শুনানিজামিনের সঙ্গে আরোপিত শর্ত
ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর পর থেকে ধারা ৪৯৮(২) বলে, অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেকোনো আদালত পলায়ন রোধ বা সদাচরণ নিশ্চিত করতে যুক্তিসংগত ও ন্যায্য শর্ত আরোপ করতে পারেন। সাধারণ শর্তের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া, অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ না করা, প্রতিটি ধার্য তারিখে হাজিরা দেওয়া, থানায় হাজিরা দেওয়া এবং সাক্ষী বা ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ না করা। ধারা ৪৯৮(১) অনুযায়ী বন্ডের অঙ্ক তবুও অতিরিক্ত হতে পারবে না। কোনো শর্ত ভঙ্গ করা জামিন বাতিলের একটি কারণ।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: জামিন আদেশে নির্ধারিত · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(১)-(২) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত) · কাগজপত্র: শর্ত উল্লেখসহ আদেশ, পাসপোর্ট, যদি জমা দিতে হয়
ধাপ ১০ · বন্ড, মুক্তি ও রুলনিম্ন আদালতে বন্ড ও জামিনদার
পরিবার হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের সার্টিফায়েড কপি আদেশে উল্লিখিত নিম্ন আদালতে নিয়ে যায়; সেই আদালত আদেশটি সঠিক কি না যাচাই করে জামিননামা (বেইল বন্ড) ও জামিনদারের বন্ড গ্রহণ করেন। ২০২৬ সাল থেকে ধারা ৪৯৯(৩) অনুযায়ী বন্ড সশরীরে, আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা আদালত অনুমতি দিলে অনলাইনে জমা দেওয়া যায়, এবং জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে যাচাই করা হয়। আদালত জামিনদারদের সম্পত্তি বা আয়ের প্রমাণ চাইতে পারেন। বন্ড গৃহীত হলে আদালত কারাগারে মুক্তির আদেশ (রিলিজ অর্ডার) পাঠান।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত · সময়: ১-৫ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯(১)-(৩) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০০ · কাগজপত্র: হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের সার্টিফায়েড কপি, জামিননামা (বেইল বন্ড), জামিনদারের বন্ড, জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র
ধাপ ১১ · বন্ড, মুক্তি ও রুলকারাগার থেকে মুক্তি
মুক্তির আদেশ পেলে জেল সুপার অভিযুক্তকে মুক্তি দেন, তবে কেবল সেই মামলায়। অভিযুক্তকে অন্য মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হলে প্রতিটি মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তিনি হেফাজতেই থাকেন। মুক্তির আদেশ কারাগারে না পৌঁছালে বা কারাগার যাচাই চাইলে প্রায়ই দেরি হয়। একজন আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যের উচিত আদেশটির পেছনে কারাগার পর্যন্ত লেগে থাকা এবং বিচারাধীন মামলার তালিকা যাচাই করা, যাতে হঠাৎ নতুন করে আটক না হতে হয়।
কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার · সময়: একই দিন থেকে ৩ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০০(১)-(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ক (২০২৬ সালের ১১ নং আইন) · কাগজপত্র: মুক্তির আদেশ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সব মামলার তালিকা
ধাপ ১২ · বন্ড, মুক্তি ও রুলঅন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি ও রুল শুনানি
মেয়াদ না বাড়ালে অন্তর্বর্তী জামিন নির্ধারিত তারিখে শেষ হয়ে যায়, তাই আইনজীবীকে সময়মতো আবেদন করতে হবে। রুল শুনানির সময় বেঞ্চ রুলটি চূড়ান্ত (absolute) করতে পারেন, যাতে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত জামিনে থাকেন, অথবা রুল খারিজ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অভিযোগপত্র দাখিল হয়ে গেলে বা বিচার শুরু হলে বেঞ্চ অভিযুক্তকে বিচারিক আদালতে পরবর্তী জামিন চাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। মেয়াদ শেষের তারিখ পার হয়ে গেলে পরোয়ানা জারি হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৩ মাস থেকে ২ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ · কাগজপত্র: জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন, আদেশ পালনের হলফনামা, অভিযোগপত্রের কপি, দাখিল হয়ে থাকলে
পরামর্শ: অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। মেয়াদ পার হওয়ার পর মেয়াদ বৃদ্ধি চাইলে তা পাওয়া কঠিন, এবং এর মধ্যে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতে পারেন।
ধাপ ১৩ · চ্যালেঞ্জ ও জামিন বাতিলচেম্বার জজের কাছে রাষ্ট্রপক্ষের চ্যালেঞ্জ
রাষ্ট্র, এবং কখনো কখনো বাদী, হাইকোর্ট বিভাগের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি লিভ টু আপিল পিটিশন দাখিল করতে পারেন, সঙ্গে আদেশ স্থগিতের আবেদন। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদেশটি স্থগিত করতে পারেন, হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন, অথবা বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে পাঠাতে পারেন। স্থগিতাদেশ হলে লিভ পিটিশনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত হেফাজতে থাকেন। আপিল বিভাগ যেসব জামিন আদেশকে ভুল মনে করেছেন সেগুলো বাতিল বা সংশোধন করেছেন, যেমন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত বহাল আগাম জামিন।
কোথায়: আপিল বিভাগ (চেম্বার জজ) · সময়: ১ সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস · আইন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩); আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪, বিধি ১-২ ও ৮; রাষ্ট্র বনাম জয়নুল আবেদীন, আপিল বিভাগ, ফৌজদারি লিভ টু আপিল পিটিশন নং ২৮৩৫/২০২৩ · কাগজপত্র: ফৌজদারি লিভ টু আপিল পিটিশন, স্থগিতাদেশের আবেদন, হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
ধাপ ১৪ · চ্যালেঞ্জ ও জামিন বাতিলজামিন বাতিল
অপব্যবহার করলে হাইকোর্টে জামিন স্থায়ী থাকে না। ধারা ৪৯৭(৫) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত জামিনে মুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করিয়ে হেফাজতে পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্র বা বাদী সাধারণত এমন সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আবেদন করেন যে অভিযুক্ত সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছেন, পলাতক হয়েছেন, শর্ত ভঙ্গ করেছেন বা নতুন অপরাধ করেছেন। জামিন বাতিলের আগে অভিযুক্তের বক্তব্য শুনতে হবে। দায়রা জজের কাছে জামিন বাতিলের আবেদনে হেরে গেলে বাদী হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন চাইতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭(৫); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(২); ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ জামিন বাতিলের আবেদন, অপব্যবহারের সাক্ষ্য, অভিযুক্তের জবাবি হলফনামা
যদি এমন হয়…? হাইকোর্টে জামিন যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
অভিযুক্ত দণ্ডিত হয়ে আপিল করলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ৪২৬ অনুযায়ী আপিল বিচারাধীন অবস্থায় জামিন
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ধারা ৪৯৮-এর জামিন শেষ হয়ে যায় এবং প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায় দণ্ড স্থগিতের। হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিলে বেঞ্চ ধারা ৪২৬(১) অনুযায়ী কারণ উল্লেখ করে দণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারেন। ধারা ৪২৬(২) অনুযায়ী অধস্তন আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকলেও জামিন দিতে পারেন। বেঞ্চ দণ্ডের মেয়াদকে শুনানির আগে সম্ভাব্য বিলম্ব ও ইতিমধ্যে ভোগ করা কারাবাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। জামিনে কাটানো সময় দণ্ডের মেয়াদে গণনা হয় না।
আপিল গ্রহণের সময় বা কয়েক মাসের মধ্যেফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(১)-(৩)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১০
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ডিত ব্যক্তি জামিনে থাকেন, অথবা জামিন নামঞ্জুর হলে কারাগারেই থাকেন।
কখন রিভিশনই সঠিক পথ?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নিম্ন আদালতের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি রিভিশন
নিম্ন আদালতের জামিন আদেশ কেবল নামঞ্জুর নয়, বরং বেআইনি হলে রিভিশন (revision) ব্যবহার করা হয়। বাদী দায়রা জজের জামিন মঞ্জুরের আদেশ বা জামিন বাতিলে অস্বীকৃতির আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আপিল বিভাগ ২০২৩ সালে বলেছেন, আপিল দায়েরের জন্য ধারা ৪২৬(২ক) অনুযায়ী জামিন নামঞ্জুর হওয়া স্বল্পমেয়াদি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ধারা ৫৬১ক নয়, ধারা ৪৩৫ অনুযায়ী রিভিশন করতে হবে। রুল জারির সময় হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত করতে পারেন।
কয়েক সপ্তাহ থেকে ২ বছরফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬(২ক)সাজ্জাদ হোসেন বনাম মো. লুৎফুল হাসান, আপিল বিভাগ, ফৌজদারি পিটিশন নং ৫৫-৫৮/২০২৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতের জামিন আদেশ বহাল, বাতিল বা সংশোধিত হয়।
নামঞ্জুর হওয়া জামিন আবেদন কি আবার করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন আবেদন
জামিন আদেশ রায় নয়, তাই স্বাক্ষরিত রায় পুনর্বিবেচনায় ধারা ৩৬৯-এর নিষেধাজ্ঞা নতুন আবেদনে বাধা দেয় না। হাইকোর্ট বিভাগ বাস্তব কোনো পরিবর্তন আশা করেন, যেমন অভিযোগপত্র দাখিল, সহ-আসামিদের জামিন, হেফাজতে আরও দীর্ঘ সময়, ধীরগতির বিচার বা গুরুতর অসুস্থতা। নতুন দরখাস্তে আগের নামঞ্জুরের কথা প্রকাশ করতে হবে। আনুষ্ঠানিক রিভিউ (review) ক্ষমতা কেবল আপিল বিভাগের আছে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী।
কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নতুন কারণে জামিন মঞ্জুর হয়, অথবা আবার নামঞ্জুর হয় এবং পরবর্তী ধাপ হয় আপিল বিভাগ।
জামিনের বিষয়ে কি রেফারেন্স হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রেফারেন্স নয়; বরং সমান্তরাল ক্ষমতা
জামিনের প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করার কোনো বিধান ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজের জন্য নেই। ধারা ৩৭৪-এর ডেথ রেফারেন্স কেবল মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের বিষয়ে। এর বদলে হাইকোর্ট বিভাগের ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী নিজস্ব সমান্তরাল ক্ষমতা আছে এবং তিনি নতুন আবেদন শোনেন। নিম্ন আদালতে ন্যায্য শুনানি অসম্ভব মনে হলে যথাযথ পদক্ষেপ হলো ধারা ৫২৬ অনুযায়ী মামলা স্থানান্তরের আবেদন।
প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জামিনের প্রশ্ন রেফারেন্সের মাধ্যমে নয়, নতুন আবেদনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে আসে।
হাইকোর্ট বিভাগ জামিনের বিষয়টি নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নিম্ন আদালতকে নির্দেশ
নিজে জামিনের সিদ্ধান্ত না দিয়ে বেঞ্চ বিচারিক আদালত বা দায়রা জজকে গুণাগুণের ভিত্তিতে নতুন জামিন আবেদন শুনানির নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশও দিতে পারেন। অভিযোগপত্র দাখিল হলে বা বিচার চলমান থাকলে, যখন সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচারিক আদালতের সামনেই থাকে, তখন এটি সাধারণ।
আদেশের সঙ্গেইফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক - 2মহানগর দায়রা জজ আদালত
নিম্ন আদালতে নতুন শুনানি, তারপর আবার ওপরে
নিম্ন আদালত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনটি শুনে কারণসহ আদেশ দেন। আবার জামিন নামঞ্জুর হলে অভিযুক্ত নতুন ফৌজদারি বিবিধ মামলা নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে আসতে পারেন। নতুন দরখাস্তে আরও পূর্ণাঙ্গ নথি এবং নিম্ন আদালতের কারণগুলো তুলে ধরার সুযোগ থাকে।
নিম্ন আদালতে ১-৪ সপ্তাহ; তারপর পুনরায় তালিকাভুক্তিতে ১-৬ সপ্তাহফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৭ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জামিনের প্রশ্ন কারণসহ সিদ্ধান্তের জন্য নিচে যায় এবং আবার হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে আসতে পারে।
আপিল বিভাগে যাওয়ার চূড়ান্ত পথ কী?
- 1আপিল বিভাগ (চেম্বার জজ)
অভিযুক্ত বা রাষ্ট্রের লিভ পিটিশন
হাইকোর্ট বিভাগে জামিন নামঞ্জুর হলে অভিযুক্ত ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি লিভ টু আপিল পিটিশন দাখিল করতে পারেন। জামিন মঞ্জুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রও একই পথ ব্যবহার করে। চেম্বার জজ পর্যায়ের পর পূর্ণ বেঞ্চ লিভ নামঞ্জুর করতে পারেন, জামিনের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, অথবা নির্দেশনা দিতে পারেন, যেমন নির্দিষ্ট মেয়াদের জামিন এবং তারপর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ। এর সিদ্ধান্ত সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী রিভিউ কেবল নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রেই সম্ভব।
১-৬ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪, বিধি ২সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের আদেশই চূড়ান্ত।
হাইকোর্টে জামিন যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
হাইকোর্টে জামিন হলো এমন একটি সিঁড়ির তৃতীয় ধাপ, যেখানে কোনো আপিল নেই, আছে কেবল নতুন আবেদন। প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৪৯৬ ও ৪৯৭ অনুযায়ী জামিনের সিদ্ধান্ত দেন, তারপর দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজ ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী, অথবা মামলা বিচারের জন্য পাঠানো হলে বিচারিক আদালত। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নিজ নিজ আইন অনুযায়ী জামিনের সিদ্ধান্ত দেন। হাইকোর্ট বিভাগের ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং ধারা ৪২৬ অনুযায়ী আপিল বিচারাধীন দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমান্তরাল ক্ষমতা আছে, তবে সাধারণত আশা করা হয় যে আগে দায়রা জজের কাছে চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে টাকার অঙ্কের কোনো ভূমিকা নেই।
ফোরাম ও বিবেচনার মানদণ্ড নির্ভর করে মামলার পর্যায়, অপরাধের গুরুত্ব, সর্বোচ্চ দণ্ড এবং কোনো বিশেষ আইনের ওপর। হাইকোর্ট বিভাগ কেবল আইনগত ভুল নয়, পুরো নথি নতুন করে দেখেন, এবং রুলসহ অন্তর্বর্তী জামিন দিতে, শর্ত আরোপ করতে বা নিম্ন আদালতকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারেন। শীর্ষে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ এবং তারপর পূর্ণ বেঞ্চ অভিযুক্ত বা রাষ্ট্রের লিভ পিটিশন শোনেন, এবং তাঁদের আদেশ সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।
- আপিল বিভাগআপিল বিভাগ (চেম্বার জজ)
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতচিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · কেন্দ্রীয় কারাগার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কেন্দ্রীয় কারাগার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অন্তর্বর্তী জামিন (Ad-interim bail)
- রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য দেওয়া অস্থায়ী জামিন।
- রুল (Rule)
- মামলার বাকি সময়ের জন্য অভিযুক্তকে কেন জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে রাষ্ট্রকে দেওয়া আদেশ।
- ফৌজদারি বিবিধ মামলা (Criminal miscellaneous case)
- যে আকারে হাইকোর্ট বিভাগে জামিন আবেদন দাখিল ও নম্বরভুক্ত হয়।
- সমান্তরাল ক্ষমতা (Concurrent power)
- ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী যেকোনো মামলায় জামিন দেওয়ার যে ক্ষমতা দায়রা জজ ও হাইকোর্ট বিভাগ উভয়ের রয়েছে।
- দণ্ড স্থগিত (Suspension of sentence)
- আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জামিনসহ দণ্ড কার্যকর হওয়া বন্ধ রাখার জন্য ধারা ৪২৬ অনুযায়ী আদেশ।
- চেম্বার জজ (Chamber Judge)
- আপিল বিভাগের একক বিচারপতি, যিনি জামিন আদেশ স্থগিতের আবেদনসহ জরুরি আবেদন শোনেন।
- গ্রেপ্তার দেখানো (Shown arrest)
- ইতিমধ্যে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হিসেবে লিপিবদ্ধ করা, যা এখন ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- জামিন বাতিল (Cancellation of bail)
- ধারা ৪৯৭(৫) অনুযায়ী জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আবার হেফাজতে পাঠানোর আদেশ, সাধারণত স্বাধীনতার অপব্যবহারের কারণে।
হাইকোর্টে জামিন: সাধারণ প্রশ্ন
হাইকোর্টে জামিনের আবেদন কখন করা যায়?
অন্তর্বর্তী জামিন কী?
কত সময় লাগে?
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনযোগ্য অপরাধে জামিনের নিষেধাজ্ঞা কি প্রযোজ্য?
হাইকোর্ট বিভাগ কী কী শর্ত আরোপ করতে পারেন?
রাষ্ট্র কি আমার মুক্তি আটকাতে পারে?
পরে কি জামিন বাতিল হতে পারে?
দণ্ডিত হওয়ার পর কি হাইকোর্টে জামিন পাওয়া যায়?
আইন ও উৎস
- Code of Criminal Procedure 1898, ss.426 and 496-502, as amended (Laws of Bangladesh)
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act No. XI of 2026), ss.24-25 amending ss.498-499
- Code of Criminal Procedure 1898, mirror text with 2026 amendment notes
- Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000, s.19 (Laws of Bangladesh)
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Articles 103, 105, 107 and 111)
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988, Order XXIV
- State v Zainul Abedin, AD, Criminal Petition for Leave to Appeal No. 2835 of 2023 (anticipatory bail until police report modified)
- Sajjad Hossain v Md. Lutful Hasan, AD, Criminal Petition Nos. 55-58 of 2023 (bail of convicts: ss.426 and 435)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।