ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর: বাংলাদেশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পূর্ণ যাত্রা
বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর (criminal case transfer) মানে বিচারাধীন কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা আপিলকে এক ফৌজদারি আদালত থেকে আরেক ফৌজদারি আদালতে সরিয়ে নেওয়া, কারণ ন্যায্য বিচার পাওয়া সম্ভব নয়, কোনো জটিল আইনগত প্রশ্ন উঠেছে, অথবা পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সুবিধা কিংবা ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা প্রয়োজন।
একই দায়রা বিভাগের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ৫২৬খ অনুযায়ী আগে দায়রা জজের কাছে আবেদন করতে হয়; কেবল তিনি নামঞ্জুর করলে, অথবা মামলাটি বিভাগের সীমানা পেরিয়ে নিতে হলে, হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ৫২৬-এর অধীনে পদক্ষেপ নেন। হাইকোর্ট বিভাগ বিচার স্থগিত করতে, মামলা স্থানান্তর করতে বা নিজেই বিচার করতে পারেন, এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে অনুমতিসাপেক্ষে আপিল বিভাগে যাওয়া যায়।
- কোথা থেকে শুরু
- যে দায়রা বিভাগে মামলাটি বিচারাধীন সেখানকার দায়রা জজ (বা মহানগর দায়রা জজ); দায়রা জজ নামঞ্জুর করলে অথবা দায়রা…
- মূল আইন
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৩৯গ(২খ), ৩৫০(৩), ৫২৫ক, ৫২৬, ৫২৬খ, ৫২৮, ৩৬৯, ৪৩৫, ৪৩৯, ৫৬১ক (অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ পাঠ…
- সাধারণ সময়কাল
- দায়রা জজ পর্যায়: প্রায় ২-৮ সপ্তাহ। হাইকোর্ট বিভাগ: ১-৪ সপ্তাহের মধ্যে মোশন শুনানি, রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি প্রায়…
- কে মামলা করতে পারেন
- আসামি, বাদী বা সংবাদদাতা, পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা অ্যাটর্নি জেনারেল; বিচারিক আদালত নিজেও বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে জানাতে…
ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · আবেদনের আগেস্থানান্তরের কারণ যাচাই করুন
স্থানান্তর একটি ব্যতিক্রম: সাধারণ নিয়ম হলো, আইন যেখানে মামলা রেখেছে সেখানেই বিচার হবে। আইনজীবী ঘটনাগুলো ধারা ৫২৬(১)-এর পাঁচটি কারণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন: ন্যায্য ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া সম্ভব নয়; অস্বাভাবিক জটিল কোনো আইনগত প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা আছে; অপরাধস্থল পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে; স্থানান্তর পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধা নিশ্চিত করবে; অথবা ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা সমীচীন। পক্ষপাতের আশঙ্কা যুক্তিসংগত ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে, নিছক সন্দেহ বা প্রতিকূল আদেশে অসন্তোষ নয়। বিশেষ আইনে, যেমন বিশেষ জজদের জন্য ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ (Criminal Law Amendment Act 1958)-এ, স্থানান্তরের নিজস্ব বিধান থাকতে পারে।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৭ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(১)(ক)-(ঙ) · কাগজপত্র: এজাহার (FIR) বা নালিশি দরখাস্তের কপি, বিচারিক আদালতের অভিযোগপত্র ও আদেশনামা, নির্ভরযোগ্য ঘটনার প্রমাণ (চিঠি, ছবি, সংবাদ প্রতিবেদন, বিবৃতি)
পরামর্শ: জামিন নামঞ্জুর বা মুলতবিতে অসন্তোষ কোনো কারণ নয়। আদালত ভিত্তিহীন পক্ষপাতের অভিযোগের বিষয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক করেন।
ধাপ ২ · আবেদনের আগেবিচারিক আদালতকে জানান এবং মুলতবি চান
বিচার বা অনুসন্ধান ইতোমধ্যে চলমান থাকলে, যে পক্ষ স্থানান্তর চাইতে ইচ্ছুক তিনি আসামিপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হওয়ার আগে যেকোনো পর্যায়ে বিচারিক আদালতকে তা জানাতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার শর্তে পক্ষটি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার জামিনদারবিহীন মুচলেকা দিলে, আদালতকে আবেদন দাখিল ও নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট সময় মুলতবি দিতে হয়। প্রত্যেক পক্ষ এমন মুলতবি কেবল একবার পান, এবং আগে আবেদনের যুক্তিসংগত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পক্ষ তা না করলে দায়রা জজ মুলতবি নামঞ্জুর করতে পারেন। আপিলের ক্ষেত্রে যুক্তিতর্ক শুরুর আগে জানাতে হয়।
কোথায়: যে বিচারিক আদালতে মামলাটি বিচারাধীন (ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল) · সময়: একই দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৮), (৯) ও (১০); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৪৪ · কাগজপত্র: স্থানান্তরের আবেদনের অভিপ্রায় জানিয়ে লিখিত বিজ্ঞপ্তি, মুচলেকা (প্রয়োজন হলে)
পরামর্শ: এই অধিকার শুরুতেই প্রয়োগ করুন। একই পক্ষের দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে আদালত মুলতবি দিতে বাধ্য নন।
ধাপ ৩ · আবেদনের আগেম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে: চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন
মামলাটি কোনো মেট্রোপলিটন বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিচারাধীন থাকলে মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নিজে বিচার করতে বা অন্য কোনো উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে পারেন। একইভাবে দায়রা জজ যুগ্ম দায়রা জজের কাছ থেকে মামলা প্রত্যাহার করতে পারেন, অথবা বিচার শুরুর আগে অতিরিক্ত দায়রা জজের কাছ থেকে মামলা ফিরিয়ে নিতে পারেন। সমস্যা যদি মামলার চাপ বা নির্দিষ্ট বিচারকের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে এই প্রশাসনিক প্রত্যাহারই প্রায়ই সবচেয়ে দ্রুত পথ, এবং এতে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয় না।
কোথায়: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (বা জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৮(১), (১ক), (১খ), (২) ও (৫) · কাগজপত্র: প্রত্যাহারের আবেদন, আদেশনামার জাবেদা নকল
পরামর্শ: ধারা ৫২৮-এর অধীনে প্রত্যাহার একই জাজশিপের মধ্যে সীমিত; এর মাধ্যমে মামলা অন্য জেলায় নেওয়া যায় না।
ধাপ ৪ · দায়রা জজের কাছে আবেদনস্থানান্তরের আবেদন ও হলফনামার খসড়া তৈরি করুন
আনুষ্ঠানিক স্থানান্তরের আবেদন মোশনের মাধ্যমে করা হয়, এবং আবেদনকারী অ্যাটর্নি জেনারেল না হলে তা হলফনামা বা প্রত্যয়ন দ্বারা সমর্থিত হতে হয়। আবেদনে মামলা, যে আদালতে তা বিচারাধীন, যে আদালতে স্থানান্তর চাওয়া হচ্ছে, এবং তারিখ ও সুনির্দিষ্ট ঘটনাসহ প্রতিটি কারণ উল্লেখ করা হয়। হলফনামায় শপথকারী ব্যক্তিগতভাবে যা জানেন এবং যা তথ্যের ভিত্তিতে বলছেন, তা আলাদা করা উচিত। দায়রা জজ ও হাইকোর্ট বিভাগ উভয়ের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। অস্পষ্ট বা অতিরঞ্জিত হলফনামাই নামঞ্জুরের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৭ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৪); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খ(৩) · কাগজপত্র: স্থানান্তরের আবেদন, সমর্থনকারী হলফনামা, আপত্তিকৃত আদেশসমূহের জাবেদা নকল, ওকালতনামা
পরামর্শ: বিশেষণ নয়, দলিল সংযুক্ত করুন। তারিখসহ সুনির্দিষ্ট ঘটনা আদালতকে প্রভাবিত করে; প্রভাব খাটানোর সাধারণ অভিযোগ কদাচিৎ কাজে আসে।
ধাপ ৫ · দায়রা জজের কাছে আবেদনপাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ দিন
স্থানান্তরের আবেদনকারী আসামিকে কারণসমূহের কপিসহ আবেদনের লিখিত নোটিশ পাবলিক প্রসিকিউটরকে দিতে হয়। সেই নোটিশের অন্তত চব্বিশ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত গুণাগুণের ভিত্তিতে কোনো আদেশ দেওয়া যায় না। বাদী বা সংবাদদাতাকেও নোটিশ দেওয়া উচিত, কারণ আদালত স্থানান্তরের বিরোধিতাকারীর বক্তব্য শুনতে চাইবেন। আসামি আবেদন করলে আদালত তাঁকে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়া মুচলেকা দিতে বলতে পারেন, যাতে পরে আবেদনের বিরোধিতাকারীকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ হলে তা পরিশোধ করা হয়।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (বা জেলায় দায়রা জজ) · সময়: ১-৩ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৫) ও (৬); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খ(৩) · কাগজপত্র: কারণসমূহের কপিসহ পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ, নোটিশ জারির প্রমাণ, ক্ষতিপূরণের মুচলেকা (আদেশ দেওয়া হলে)
পরামর্শ: পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর থেকে প্রাপ্তিস্বীকারযুক্ত কপি সংরক্ষণ করুন। এটি ছাড়া গুণাগুণের ভিত্তিতে শুনানি এগোতে পারে না।
ধাপ ৬ · দায়রা জজের কাছে আবেদনদায়রা জজের কাছে আবেদন দাখিল
বর্তমান আদালত ও প্রস্তাবিত আদালত উভয়ই একই দায়রা বিভাগে হলে আবেদন প্রথমে দায়রা জজের কাছে যায়, ঢাকা মহানগরে মহানগর দায়রা জজের কাছে। ধারা ৫২৬খ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের স্বার্থে সমীচীন হলে দায়রা জজ বিভাগের মধ্যে যেকোনো নির্দিষ্ট মামলা এক ফৌজদারি আদালত থেকে আরেক আদালতে স্থানান্তর করতে পারেন। আবেদনটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। দায়রা জজ আবেদনের ভিত্তিতে, বিচারিক আদালতের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন, এবং নথি বা প্রতিবেদন তলব করতে পারেন।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (বা জেলায় দায়রা জজ) · সময়: প্রথম শুনানি পর্যন্ত ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খ(১) ও (২); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৩)-এর শর্তাংশ · কাগজপত্র: আবেদন ও হলফনামা, নোটিশের প্রমাণ, কোর্ট ফি
পরামর্শ: আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারিক আদালত যেন চূড়ান্ত আদেশ না দেন, সে নির্দেশনার জন্য দায়রা জজকে অনুরোধ করুন।
ধাপ ৭ · দায়রা জজের কাছে আবেদনদায়রা জজের সিদ্ধান্ত
আবেদনকারী, পাবলিক প্রসিকিউটর ও বিরোধী পক্ষের শুনানি শেষে দায়রা জজ হয় মামলাটি বিভাগের অন্য কোনো আদালতে স্থানান্তর করেন, নয়তো কারণ উল্লেখ করে আবেদন নামঞ্জুর করেন। আবেদন তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক হিসেবে খারিজ হলে আবেদনকারীকে বিরোধিতাকারীকে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া যেতে পারে। নামঞ্জুর মানেই শেষ নয়: একই বিভাগের মধ্যে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ধাপটিই হাইকোর্ট বিভাগের দরজা খুলে দেয়।
কোথায়: মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (বা জেলায় দায়রা জজ) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খ(১); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৬ক) (ধারা ৫২৬খ(৩) দ্বারা প্রযোজ্য) · কাগজপত্র: দায়রা জজের আদেশ, পরবর্তী ধাপের জন্য জাবেদা নকল
পরামর্শ: একই দিনে নামঞ্জুর আদেশের জাবেদা নকলের আবেদন করুন; হাইকোর্ট বিভাগ এটি সংযুক্ত দেখতে চাইবেন।
ধাপ ৮ · হাইকোর্ট বিভাগে আবেদনহাইকোর্ট বিভাগে আবেদন
ধারা ৫২৬-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা আরও ব্যাপক। তিনি বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন যেকোনো অধস্তন ফৌজদারি আদালতে মামলা পাঠাতে পারেন, অন্যথায় আঞ্চলিকভাবে এখতিয়ারহীন কোনো আদালতে অপরাধের বিচারের আদেশ দিতে পারেন, মামলাটি নিজের কাছে প্রত্যাহার করতে পারেন, অথবা আসামিকে নিজের বা কোনো দায়রা আদালতের সামনে বিচারের জন্য সোপর্দ করতে পারেন। একই দায়রা বিভাগের মধ্যে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ধারা ৫২৬(৩)-এর শর্তাংশ অনুযায়ী আগে দায়রা জজের কাছে আবেদন ও তার নামঞ্জুর হওয়া আবশ্যক। অন্য জেলা বা বিভাগে স্থানান্তরের জন্য সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা যায়, যা বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরের অধিকাংশ আবেদনের ফোরাম।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: প্রস্তুত ও দাখিলে ১-২ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(১)(i)-(iv) ও (৩); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৪) · কাগজপত্র: ধারা ৫২৬-এর অধীনে আবেদন, সুপ্রিম কোর্টে সম্পাদিত হলফনামা, দায়রা জজের আদেশের জাবেদা নকল, এজাহার, অভিযোগপত্র ও আদেশনামার কপি
পরামর্শ: একই বিভাগের মামলায় দায়রা জজকে এড়িয়ে যাওয়া একটি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল।
ধাপ ৯ · হাইকোর্ট বিভাগে আবেদনমোশন শুনানি ও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ
অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর ও পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ দিয়ে আবেদনটি ফৌজদারি বিবিধ বিষয় শুনানিকারী বেঞ্চে মোশন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ডেপুটি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। বেঞ্চ বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন, মামলাটি কেন স্থানান্তর করা হবে না মর্মে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে রুল জারি করতে পারেন, অথবা আবেদন নামঞ্জুর করতে পারেন। রুলের সঙ্গে প্রায়ই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিচারিক আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, যাতে যে আদালতের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে সাক্ষ্য না নেওয়া হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(১) ও (৩); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক · কাগজপত্র: আবেদন ও হলফনামা, রাষ্ট্রপক্ষের ওপর নোটিশ জারির প্রমাণ, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের খসড়া
পরামর্শ: স্থগিতাদেশের মেয়াদ কবে শেষ হবে তা ডায়েরিতে লিখে রাখুন এবং যথাসময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করুন; মেয়াদোত্তীর্ণ স্থগিতাদেশে বিচার আবার শুরু হয়ে যায়।
ধাপ ১০ · হাইকোর্ট বিভাগে আবেদনবিচারিক আদালতের প্রতিবেদন ও বিরোধিতা
হাইকোর্ট বিভাগ বিচারিক আদালতের কাছে মামলার অগ্রগতি ব্যাখ্যা এবং আদালত সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগের জবাবসহ প্রতিবেদন তলব করতে পারেন। বাদী বা সংবাদদাতা এবং রাষ্ট্রপক্ষ নির্ভরযোগ্য ঘটনাগুলো চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা হলফনামা (affidavit-in-opposition) দাখিল করতে পারেন, এবং আবেদনকারী জবাব দিতে পারেন। অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে কি না, বেঞ্চ তা লক্ষ করেন: সাম্প্রতিক স্থানান্তর মামলাগুলোতে খণ্ডন না করা সুনির্দিষ্ট ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, আর প্রমাণ ছাড়া কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের সাধারণ অভিযোগ নাকচ হয়েছে।
কোথায়: যে বিচারিক আদালতে মামলাটি বিচারাধীন (ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৩) · কাগজপত্র: বিচারিক আদালতের প্রতিবেদন, পাল্টা হলফনামা, জবাবি হলফনামা
পরামর্শ: বিরোধিতায় উত্থাপিত প্রতিটি তথ্যগত বিষয়ের জবাব হলফনামায় দিন; নীরবতাকে স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।
ধাপ ১১ · হাইকোর্ট বিভাগে আবেদনচূড়ান্ত শুনানি ও আদেশ
চূড়ান্ত শুনানিতে বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেন কারণটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না। তিনি রুল চূড়ান্ত করে সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন নির্দিষ্ট কোনো আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন, প্রায়ই দ্রুত বিচার শেষ করার নির্দেশনাসহ, অথবা নিজের কাছে বিচারের জন্য প্রত্যাহার করতে পারেন। নতুবা তিনি রুল খারিজ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন, এবং তুচ্ছ আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পারেন। বাংলাদেশে প্রতিটি ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরের আবেদন নিজস্ব ঘটনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়, তবে আদালত একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্ন করেন: আবেদনকারীর অবস্থানে থাকা একজন যুক্তিসংগত ব্যক্তি কি আশঙ্কা করবেন যে ন্যায়বিচার হবে না?
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: রুল জারি থেকে ২-১২ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(১)(ii) ও (iii); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৬ক); মো. কামাল হোসেন বনাম রাষ্ট্র, হাইকোর্ট বিভাগ, ফৌজদারি বিবিধ মামলা (২০ মে ২০২৪) (Md. Kamal Hossain v State): দায়রা জজের নামঞ্জুর আদেশ রদ করে সংশ্লিষ্ট দুটি মামলা একত্রে বিচারের জন্য একটি আদালতে পাঠানো হয় · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, জাবেদা নকল
পরামর্শ: মামলাটি কোথায় যাবে তা নিয়ে দ্বিতীয় দফা যুক্তিতর্ক এড়াতে বেঞ্চকে স্থানান্তরিত আদালতের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে অনুরোধ করুন।
ধাপ ১২ · স্থানান্তরের আদেশ ও নথি প্রেরণনথি নতুন আদালতে প্রেরণ
স্থানান্তরের আদেশদানকারী আদালতের দপ্তর উভয় আদালতকে আদেশটি জানায়, এবং মূল বিচারিক আদালত জবানবন্দি, প্রদর্শনী ও আদেশনামাসহ পূর্ণ মামলার নথি নতুন আদালতে পাঠায়। পক্ষগণ, মুচলেকায় থাকা সাক্ষীরা এবং আসামি হাজতে থাকলে কারা কর্তৃপক্ষকে নতুন আদালত ও তারিখ জানানো হয়। স্থানান্তরের আদেশে ভিন্ন কিছু না বললে ইতোমধ্যে মঞ্জুরকৃত জামিন বহাল থাকে। এই প্রশাসনিক ধাপেই অনেক মামলার কয়েক সপ্তাহ নষ্ট হয়, তাই উভয় আদালতে খোঁজ রাখা জরুরি।
কোথায়: যে বিচারিক আদালতে মামলাটি বিচারাধীন (ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল) · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(১)(ii); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খ(১) · কাগজপত্র: স্থানান্তর আদেশের জাবেদা নকল, মামলার নথি ও প্রদর্শনী, হাজির করার পরোয়ানা (হাজতে থাকলে)
পরামর্শ: আনুষ্ঠানিক প্রেরণের অপেক্ষা না করে উভয় আদালতে নিজেই আদেশের জাবেদা নকল দাখিল করুন।
ধাপ ১৩ · নতুন আদালতে বিচারনতুন আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু
নতুন আদালত মামলাটি নিবন্ধন করে তারিখ ধার্য করেন। ম্যাজিস্ট্রেটের মামলা স্থানান্তরিত হলে নতুন ম্যাজিস্ট্রেটকে পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের উত্তরসূরি গণ্য করা হয়, এবং তিনি ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে পারেন, অথবা ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে সাক্ষীদের পুনরায় তলব করতে পারেন। স্থানান্তরে বিধিবদ্ধ সময়গণনা নতুন করে শুরু হয় না: বিচার শেষ করার সময়সীমা এমনভাবে চলে যেন মামলাটি আগের জায়গাতেই আছে। তাই আদেশে ভিন্ন নির্দেশনা না থাকলে বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর ফোরাম বদলায়, মামলার পর্যায় নয়।
কোথায়: সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন যে আদালতে মামলা স্থানান্তরিত হবে · সময়: প্রথম কার্যকর তারিখ পর্যন্ত ২-৮ সপ্তাহ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৫০(১) ও (৩); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৩৯গ(২খ); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(২) · কাগজপত্র: মামলার নথি, নতুন সমন বা হাজির করার পরোয়ানা
পরামর্শ: বাকি সাক্ষীদের জন্য পরপর তারিখ ধার্য করতে নতুন আদালতকে অনুরোধ করুন, যাতে স্থানান্তরের কারণে হওয়া বিলম্ব পুষিয়ে নেওয়া যায়।
ধাপ ১৪ · নতুন আদালতে বিচারবিচার সমাপ্তি ও সাধারণ প্রতিকার
বিচার অভিযোগ গঠন (আগে না হয়ে থাকলে), সাক্ষ্য, আসামির পরীক্ষা, যুক্তিতর্ক ও রায়ের দিকে এগোয়। স্থানান্তর আপিলের পথে কোনো প্রভাব ফেলে না: কার্যবিধির সাধারণ নিয়মে নতুন আদালতের বিরুদ্ধে যে আদালত আপিল শুনতেন, আপিল সেখানেই যায়। হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি প্রত্যাহার করে নিজে বিচার করলে বিচারিক আদালত যে পদ্ধতি অনুসরণ করতেন, তিনিও তা-ই অনুসরণ করেন। তখন আপিল যায় আপিল বিভাগে: হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে অধিকার হিসেবে, অন্যথায় কেবল অনুমতিসাপেক্ষে।
কোথায়: সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন যে আদালতে মামলা স্থানান্তরিত হবে · সময়: ৬ মাস-৩ বছর · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(২); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪০৮, ৪১০ ও ৪১৭; বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ) ও (৩) · কাগজপত্র: রায়, আপিলের জন্য জাবেদা নকল
পরামর্শ: নতুন আদালত নিজে ক্ষতির কারণ না হলে আপিলে স্থানান্তরের বিরোধ আবার তুলবেন না।
যদি এমন হয়…? ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কোনো পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ চ্যালেঞ্জ করলে কী হবে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতির জন্য ফৌজদারি পিটিশন
স্থানান্তরের আদেশের বিরুদ্ধে অধিকার হিসেবে কোনো আপিল নেই। সংক্ষুব্ধ পক্ষ বা রাষ্ট্র আদেশের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতির জন্য ফৌজদারি পিটিশন (criminal petition for leave to appeal) দাখিল করেন। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিতের জরুরি আবেদন চেম্বার জজের সামনে উপস্থাপন করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন বা ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যত্যয় দেখানো গেলেই কেবল অনুমতি দেওয়া হয়, এবং আপিল বিভাগ পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো আদেশ দিতে পারেন।
২-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ অনুমতি নামঞ্জুর করেন, ফলে স্থানান্তরের আদেশ বহাল থাকে, অথবা অনুমতি দিয়ে মামলার বিচার কোথায় হবে তা নির্ধারণ করেন।
দায়রা জজের নামঞ্জুর আদেশ কি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
সাধারণ রিভিশন নয়, নতুন আবেদন
কার্যবিধি চ্যালেঞ্জের ব্যবস্থাটি ধারা ৫২৬-এর মধ্যেই রেখেছে। একই বিভাগের মধ্যে স্থানান্তরের আবেদন দায়রা জজ নামঞ্জুর করলে আবেদনকারী নামঞ্জুর আদেশ সংযুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগে ধারা ৫২৬-এর অধীনে নতুন আবেদন দাখিল করেন। হাইকোর্ট বিভাগ দায়রা জজের আদেশ রদ করে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন। ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯-এর অধীনে রিভিশন, অথবা ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে সহজাত ক্ষমতা, কেবল তখনই ব্যবহৃত হয় যখন আদেশে এমন কোনো বেআইনি বিষয় থাকে যা ধারা ৫২৬-এর আওতায় পড়ে না।
১-৬ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৩)-এর শর্তাংশফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ হয় নামঞ্জুর আদেশ বহাল রাখেন, নয়তো মামলাটি নতুন আদালতে পাঠান।
স্থানান্তরের সিদ্ধান্তদানকারী আদালত কি নিজের আদেশ রিভিউ করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ৩৬৯ রিভিউ নিষিদ্ধ করে
কোনো ফৌজদারি আদালত রায় বা চূড়ান্ত আদেশে স্বাক্ষর করার পর ধারা ৩৬৯ অনুযায়ী করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া সেই আদেশ পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারেন না। ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া স্থানান্তর আবেদনের রিভিউয়ের পেছনের দরজা নয়। প্রকৃত নতুন কোনো পরিস্থিতি থাকলে, যেমন নতুন আদালতের বিচারকের সঙ্গে পরে কোনো পক্ষের সম্পর্ক প্রকাশ পেলে, পক্ষটি সেই নতুন ঘটনার ভিত্তিতে নতুন স্থানান্তর আবেদন করেন।
তাৎক্ষণিকফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৯ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
এ বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ চাইতে পারেন। ফৌজদারি কার্যধারায় রিভিউ নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আবেদনে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর এবং রিভিউ যে যৌক্তিক তার কারণসহ সনদ থাকতে হয়। রিভিউ স্থানান্তরের যুক্তিতর্কের পুনঃশুনানি নয়।
২-৬ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১, ২, ৪ ও ৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: করণিক ভুল, অথবা আপিল বিভাগে নথিতে সুস্পষ্ট ভুল দেখানো না গেলে আদেশ বহাল থাকে।
বিচারিক আদালত নিজেই কি মামলা সরানোর অনুরোধ করতে পারেন?
- 1যে বিচারিক আদালতে মামলাটি বিচারাধীন (ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল)
বিচারিক আদালতের প্রতিবেদন
বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট দায়রা জজের কাছে, অথবা যথাযথ মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের কাছে, প্রতিবেদন পাঠিয়ে বলতে পারেন যে মামলাটির বিচার অন্যত্র হওয়া উচিত, যেমন বিচারক কোনো পক্ষের আত্মীয়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো সাক্ষী আদালতের কর্মচারী, অথবা কোনো জটিল আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। ধারা ৫২৬খ(২) ও ধারা ৫২৬(৩) উভয়ই উচ্চতর আদালতকে এমন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেয়। উচ্চতর আদালত তখন সিদ্ধান্তের আগে পক্ষদের শুনানি করেন।
২-৮ সপ্তাহফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৩)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খ(২)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়ে কোন আদালত মামলার বিচার করবেন তা নির্ধারণ করেন।
হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়টি দায়রা জজের কাছে ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
কারণসহ সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত
দায়রা জজ কারণগুলো বিবেচনা না করে, অথবা প্রতিপক্ষের শুনানি ছাড়া আবেদন নামঞ্জুর করলে, হাইকোর্ট বিভাগ আদেশটি রদ করে আবেদনটি নতুন করে নিষ্পত্তির জন্য দায়রা জজের কাছে ফেরত পাঠাতে পারেন, কখনো কখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং কী বিবেচনা করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনাসহ। এ সময় সাধারণত বিচার স্থগিত রাখা হয়।
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সঙ্গে আদেশফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক - 2মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (বা জেলায় দায়রা জজ)
নতুন সিদ্ধান্ত এবং আবার ওপরে যাওয়া
দায়রা জজ আবেদনটির পুনঃশুনানি করে কারণসহ আদেশ দেন। মামলা স্থানান্তরিত হলে তা বিভাগের নতুন আদালতে যায়। আবার নামঞ্জুর হলে আবেদনকারী ধারা ৫২৬-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে ফিরতে পারেন, এবার এমন একটি কারণসহ আদেশ নিয়ে, যা হাইকোর্ট বিভাগ গুণাগুণের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে পারেন।
১-৩ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬খফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(৩)-এর শর্তাংশ
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: দায়রা জজ যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত দেন, এবং মামলাটি হয় বিভাগের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়, নয়তো হাইকোর্ট বিভাগে ফিরে যায়।
হাইকোর্ট বিভাগ কি নিজেই মামলার বিচার করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে প্রত্যাহার
ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, যেমন কোনো অধস্তন আদালতের ওপর ন্যায্য বিচারের আস্থা রাখা না গেলে বা আইনগত প্রশ্নই প্রধান হলে, হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি নিজের কাছে স্থানান্তর করে বিচারের আদেশ দিতে পারেন, অথবা আসামিকে নিজের সামনে বিচারের জন্য সোপর্দ করতে পারেন। তখন বিচারিক আদালত যে পদ্ধতি অনুসরণ করতেন, তাঁকেও তা-ই অনুসরণ করতে হয়। আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে তাঁর রায়ের বিরুদ্ধে অধিকার হিসেবে আপিল বিভাগে আপিল চলে, অন্যথায় কেবল অনুমতিসাপেক্ষে।
১-৩ বছরফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২৬(১)(iii) ও (iv) এবং (২)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ) ও (৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ বিচারিক আদালত হিসেবে কাজ করেন, এবং পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে যান।
ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর ফৌজদারি আদালতের কাঠামোর অনুরূপ একটি ছোট সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে। ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে মুখ্য মহানগর হাকিম বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলা প্রত্যাহার করে পুনর্বণ্টন করতে পারেন, এবং দায়রা জজ যুগ্ম দায়রা জজদের কাছ থেকে মামলা প্রত্যাহার বা অতিরিক্ত দায়রা জজদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। একই দায়রা বিভাগের আদালতগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্থানান্তর প্রথমে ধারা ৫২৬খ-এর অধীনে দায়রা জজের কাছে যায়। দায়রা জজ নামঞ্জুর করলে, মামলাটি অন্য জেলা বা বিভাগে সরাতে হলে, অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিজেরই বিচার করা উচিত হলে, হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ৫২৬-এর অধীনে পদক্ষেপ নেন।
এখানে মূল্যভিত্তিক কোনো সীমা নেই; ফোরাম নির্ভর করে আদালতগুলো কোথায় অবস্থিত তার ওপর। কোনো আদালতই ফৌজদারি মামলার পুনঃশুনানি করেন না: তাঁরা কেবল হলফনামার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন বিচারের স্থান বা বিচারক বদলানো উচিত কি না। আপিল বিভাগ কেবল অনুমতিসাপেক্ষে চ্যালেঞ্জ শোনেন, এবং ধারা ৫২৫ক-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চগুলোর মধ্যেও মামলা স্থানান্তর করতে পারেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (বা জেলায় দায়রা জজ)
- প্রথম দফার আদালতযে বিচারিক আদালতে মামলাটি বিচারাধীন (ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল) · চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা (বা জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) · সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন যে আদালতে মামলা স্থানান্তরিত হবে
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
যে বিচারিক আদালতে মামলাটি বিচারাধীন (ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন যে আদালতে মামলা স্থানান্তরিত হবে
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- স্থানান্তর (Transfer)
- উচ্চতর আদালতের আদেশে বিচারাধীন কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা আপিল এক ফৌজদারি আদালত থেকে আরেক আদালতে সরিয়ে নেওয়া।
- প্রত্যাহার (Withdrawal)
- উচ্চতর বিচারক বা চিফ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অধস্তন আদালত থেকে মামলা ফিরিয়ে নিয়ে নিজে বিচার করা বা পুনর্বণ্টন করা।
- দায়রা বিভাগ (Sessions division)
- দায়রা আদালতের আঞ্চলিক একক, সাধারণত একটি জেলা, অথবা ঢাকা মহানগরে মেট্রোপলিটন এলাকা।
- স্থানান্তরিত আদালত (Transferee court)
- যে আদালতে মামলাটি পাঠানো হয়; এটিকে সমান বা উচ্চতর এখতিয়ারসম্পন্ন হতে হবে।
- রুল (Rule)
- প্রার্থিত প্রতিকার কেন মঞ্জুর করা হবে না মর্মে অপর পক্ষকে কারণ দর্শাতে বলে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ।
- কার্যক্রম স্থগিত (Stay of proceedings)
- স্থানান্তরের আবেদন বিচারাধীন থাকাকালে বিচারিক আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ।
- বিজ্ঞপ্তি (Intimation)
- স্থানান্তরের আবেদন করার অভিপ্রায় জানিয়ে বিচারিক আদালতকে দেওয়া কোনো পক্ষের নোটিশ, যার ফলে ধারা ৫২৬(৮)-এর অধীনে মুলতবি হয়।
- আপিলের অনুমতি (Leave to appeal)
- আপিল দায়েরের জন্য আপিল বিভাগের অনুমতি; হাইকোর্ট বিভাগের স্থানান্তর আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে এটি লাগে।
ফৌজদারি মামলা স্থানান্তর: সাধারণ প্রশ্ন
ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরের কারণ কী কী?
হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার আগে কি দায়রা জজের কাছে যেতেই হবে?
আবেদন বিচারাধীন থাকাকালে কি বিচার বন্ধ থাকবে?
আবেদনের কোনো সময়সীমা আছে কি?
শুধু আসামি, নাকি বাদী বা রাষ্ট্রপক্ষও স্থানান্তর চাইতে পারেন?
ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্যের কী হবে?
ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরে কত সময় লাগে?
হাইকোর্ট বিভাগ স্থানান্তর নামঞ্জুর করলে কি আপিল করা যায়?
আইন ও উৎস
- Code of Criminal Procedure 1898 (Act V of 1898), consolidated text — laws.sayed.app mirror of Laws of Bangladesh
- Code of Criminal Procedure (Amendment) Act 2026 (Act XI of 2026) — laws.sayed.app mirror
- Constitution of Bangladesh (Articles 103, 104 and 105) — laws.sayed.app mirror
- High Court Division, Md. Kamal Hossain v The State, Criminal Miscellaneous Case (20 May 2024), transfer under s.526 CrPC
- High Court Division, Debangshu Kumar Sarkar v The State, Criminal Miscellaneous Case (4 March 2025), transfer between tribunals
- Supreme Court of Bangladesh — official website (rules, cause lists and judgments)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।











