TRW Insight / বাংলাদেশ
গাড়ি, এভিয়েশন, প্রতিরক্ষা, হোটেল ও অডিট—প্রতিটি খাতের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক, লাইসেন্স ও সময়সীমা আছে। কোন অনুমতি কখন লাগে এবং ২০২৬ সালে কী বদলেছে জানলে বিনিয়োগ আটকে যাওয়া ও জরিমানা এড়ানো যায়।
শিল্প খাতের আইন ২০২৬: চার খাত, চার নিয়ন্ত্রক
বাংলাদেশে শিল্প খাতের আইন বলতে কোনো একক আইন বোঝায় না; প্রতিটি খাতের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক, লাইসেন্স আর সময়সীমা আছে। গাড়ির ব্যবসায় লাগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতি, এনবিআরের শুল্ক আর বিআরটিএ নিবন্ধন; এয়ারলাইন বা প্রতিরক্ষা সরবরাহে বেবিচক ও প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর; হোটেল চালাতে জেলা প্রশাসক ও মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স; আর প্রায় সব কোম্পানির জন্য বছরে একবার স্বাধীন অডিট। একটি ধাপ বাদ পড়লে পুরো বিনিয়োগ আটকে যেতে পারে।[1] [11]
এই নির্দেশিকায় চারটি খাত এক জায়গায় আনা হয়েছে: গাড়ি ও মোবিলিটি, এভিয়েশন ও প্রতিরক্ষা, হোটেল ও পর্যটন এবং অডিট সেবা। প্রতিটি অংশে বলা হয়েছে কোন আইন প্রযোজ্য, অনুমতি কে দেয়, ২০২৬ সালে কী বদলেছে এবং বাস্তবে কোথায় ভুল হয়। কোম্পানি গঠন ও বার্ষিক কমপ্লায়েন্সের খুঁটিনাটি আমাদের কোম্পানি আইন ২০২৬ লেখায় এবং ট্রেড লাইসেন্স, কর ও ফায়ার লাইসেন্সের সাধারণ নিয়ম ব্যবসার আইন ২০২৬ লেখায় আছে, এখানে তা পুনরাবৃত্তি করা হয়নি।

সারসংক্ষেপ: অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য সংরক্ষিত, তবে বেশির ভাগ খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা চলে। গাড়ির খাতে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০২১, অর্থ আইন ২০২৬-এর ইভি ছাড় ও আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ মূল কাঠামো; সড়কে নামাতে বিআরটিএ নিবন্ধন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও প্রয়োজনে রুট পারমিট লাগে। বেবিচককে নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাকারী দুই সংস্থায় ভাগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্রয়ে ডিজিডিপির তালিকাভুক্তি ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র লাগে। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নিবন্ধন ও তিন বছর মেয়াদি হোটেল লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, আর অডিট সেবা দিতে পারেন কেবল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট।
মূল বিষয়: খাতভিত্তিক অনুমতি কোম্পানি নিবন্ধনের পরে ভাবার বিষয় নয়। তিন তারকা বা তার ওপরের হোটেলের জন্য নির্মাণ শুরুর আগেই সরকারের অনাপত্তিপত্র লাগে, প্রতিরক্ষা দরপত্রে অংশ নিতে আগে ডিজিডিপিতে তালিকাভুক্ত হতে হয়, আর এফআরসিতে নিবন্ধিত না হলে কোনো অডিটর জনস্বার্থ সংস্থার অডিট করার আইনি যোগ্যতাই রাখেন না।[12] [10] [21]
এক নজরে
গাড়ি নীতি ২০২১
দশ বছর মেয়াদি নীতি; ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অটোমোবাইল কেন্দ্র করার লক্ষ্য।
ইভিতে ছাড়
অর্থ আইন ২০২৬ ইভি উৎপাদন ও সংযোজনে ভ্যাট ছাড় দিয়েছে, চার্জার আমদানি করমুক্ত করেছে।
বেবিচক ভাগ
জানুয়ারি ২০২৬-এ নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাকারী আলাদা সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
হোটেল লাইসেন্স
হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা বেআইনি; লাইসেন্স তিন বছর মেয়াদি।
অডিট সেবা
কোম্পানি আইনের ধারা ২১০ ও ২১২, এফআরসির তালিকাভুক্তি ও আইসিএবির ডিভিএস মিলে অডিটের কাঠামো।
সূচিপত্র
সব খাতের অভিন্ন ভিত্তি: কে বিনিয়োগ করতে পারে
যে খাতেই হোক, প্রথম প্রশ্ন একটাই: এই ব্যবসায় বিদেশি বা বেসরকারি মালিকানা চলে কি না। বিডার তথ্য অনুযায়ী বেশির ভাগ খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানার অনুমতি আছে। তবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক শক্তি, নিরাপত্তা মুদ্রণ ও টাঁকশাল এবং সংরক্ষিত বনে বনায়ন বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য সংরক্ষিত খাত।[11] নিয়ন্ত্রিত খাতে বিনিয়োগ নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনাপত্তিপত্র নিতে হয়।[11]
আরেকটি নিয়ম সরাসরি প্রতিরক্ষা ও এভিয়েশনে প্রভাব ফেলে: ইনডেন্টিং এজেন্ট ও বায়িং হাউস ব্যবসায় স্থানীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক।[11] ফলে বিদেশি নির্মাতা নিজে স্থানীয় এজেন্ট হতে পারে না; তাকে বাংলাদেশি মালিকানার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে হয়। বিনিয়োগ অনুমোদনের সাধারণ ধাপ জানতে দেখুন আমাদের ইংরেজি বিশ্লেষণ Investment approvals in Bangladesh।
সাধারণ অনুমতি বনাম খাতভিত্তিক অনুমতি
ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, ভ্যাট নিবন্ধন ও কোম্পানি নিবন্ধন সব খাতে প্রায় এক রকম। শিল্প খাতের আইন আসল পার্থক্য তৈরি করে দ্বিতীয় স্তরে: গাড়ির জন্য বিআরটিএ, এয়ারলাইনের জন্য বেবিচক, প্রতিরক্ষা সরবরাহের জন্য ডিজিডিপি, হোটেলের জন্য নিয়ন্ত্রক ও মন্ত্রণালয় এবং অডিটের জন্য এফআরসি ও আইসিএবি।
গাড়ি ও মোবিলিটি: শিল্প খাতের আইন কী বলে
গাড়ির খাতে তিনটি স্তর একসঙ্গে কাজ করে: উৎপাদন ও সংযোজনের জন্য শিল্প নীতি, গাড়ি আমদানি ও শুল্কের জন্য আমদানি নীতি আদেশ ও অর্থ আইন, আর সড়কে চালানোর জন্য সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮। এর যেকোনো একটি বদলালে গাড়ির দাম, বিক্রির মডেল ও ডিলার চুক্তির ঝুঁকি বদলে যায়।
অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০২১
মন্ত্রিসভা ১৪ জুন ২০২১ খসড়া অনুমোদনের পর শিল্প মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন দিয়ে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০২১ জারি করে। নীতিটি দশ বছর মেয়াদি এবং এর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অটোমোবাইল কেন্দ্রে পরিণত করা।[2] বিনিয়োগকারীদের গ্রিন-ফিল্ড, ব্রাউন-ফিল্ড ও গ্রিন-ফিল্ড খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন, এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।[2]
নীতিতে দেশে তৈরি বা সংযোজিত গাড়ি রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, গ্রিন-ফিল্ড বিনিয়োগকারীর মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে এককালীন শতভাগ কর অব্যাহতি এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি উৎপাদনে দশ বছরের কর অবকাশ, রোড ট্যাক্স মওকুফ ও কম নিবন্ধন ফির কথা আছে।[2] শর্ত হলো, নগদ প্রণোদনা পেতে মূল যন্ত্র নির্মাতাকে বছরভিত্তিক ক্রমবর্ধমান স্থানীয় উৎপাদনের হার পূরণ করতে হবে।[2] ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় স্থানীয়করণের সময়সূচি তাই প্রথম দিন থেকেই রাখা দরকার।
নীতির ধারাবাহিকতায় এনবিআর ১ জুন ২০২২ তিনটি প্রজ্ঞাপনে গাড়ি উৎপাদনের যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম আমদানিতে ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেয়; সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং বিডা ও বেজায় নিবন্ধন লাগে।[3] তখন অন্তত দশটি কারখানা আমদানি করা কিট থেকে গাড়ি সংযোজন করছিল।[3] আগস্ট ২০২৬-এ ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর অধীনে বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ একীভূত হয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কাজ শুরু করেছে, তাই নিবন্ধন ও প্রণোদনার আবেদন এখন কোন দপ্তরে যাবে তা আগে মিলিয়ে নিন।[25]
গাড়ি আমদানি: অর্থ আইন ২০২৬ ও আমদানি নীতি আদেশ
অর্থ আইন ২০২৬ গাড়ির কর কাঠামোকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঘুরিয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত ইভি উৎপাদন ও সংযোজনে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি বা ৫ শতাংশের বেশি ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে; চার ও তিন চাকার ইভি এবং বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাকের যন্ত্রাংশে ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত ব্যাপক শুল্ক ছাড় আছে।[5] ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানি করমুক্ত হয়েছে, আর একেবারে নতুন ইভি আমদানিতে নির্মাতার ইনভয়েস মূল্যই লেনদেন মূল্য হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।[5]
উল্টো দিকে, নির্দিষ্ট অ-বৈদ্যুতিক গাড়িতে অগ্রিম কর বেড়েছে এবং ইভিতে শিথিল হয়েছে; পিপিপি প্রকল্পে ব্যবহৃত গাড়ির আমদানি শুল্ক অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।[5] গাড়ি আমদানি শুল্কের স্তর ও হিসাবের উদাহরণ আমাদের Import duty in Bangladesh লেখায় বিস্তারিত আছে।
২৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, যদিও আগের নীতিতে এর সুযোগ ছিল। আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং আলোচনায় সাত বছর পর্যন্ত পুরোনো ইভির কথা উঠেছিল।[6] তাই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির আগে প্রতিটি চালানের জন্য সর্বশেষ আমদানি নীতি আদেশ ও প্রজ্ঞাপন মিলিয়ে দেখুন; আমদানি নিবন্ধনের ধাপ পাবেন Import and export licensing in Bangladesh লেখায়।
বিআরটিএ নিবন্ধন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৪৭ নং আইন) অনুযায়ী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ বিআরটিএ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির নিবন্ধন দেয়।[1] ধারা ১৬(১) অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া সড়ক, মহাসড়ক বা পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালানো বা চালাতে দেওয়া যায় না। ধারা ২৫ ফিটনেস সনদ, ধারা ২৬ ট্যাক্স টোকেন এবং ধারা ২৮ পরিবহণযানের জন্য রুট পারমিট বাধ্যতামূলক করেছে।[1]
চালকের দিকে, ধারা ৪(১) অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে গাড়ি চালানো নিষেধ; ধারা ৬(২) অনুযায়ী অপেশাদার লাইসেন্সে ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, পেশাদার লাইসেন্সে ২১ বছর।[1] ফ্লিট বা লিজিং ব্যবসায় তাই প্রতিটি গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ এবং প্রতিটি চালকের লাইসেন্সের শ্রেণি একটি রেজিস্টারে রাখা উচিত। ডিলার চুক্তিতে লিখে রাখুন নিবন্ধনের কাগজ তৈরি ও বিলম্বের ঝুঁকি কার।
ইলেকট্রিক গাড়ির নীতি ও বিআরটিএ নিবন্ধন
সড়ক পরিবহণ আইনের ধারা ১২৪-এর অধীনে প্রণীত ইলেকট্রিক মোটরযান নিবন্ধন ও চলাচল নির্দেশিকা ২০২৩ ইভির জন্য আলাদা কাঠামো দিয়েছে। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ মোটরযান বৈদ্যুতিক করা।[4] ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল ও ইজিবাইক এর আওতার বাইরে, আর কেবল সরকারি কমিটির অনুমোদিত মডেলই ইভি হিসেবে গণ্য হয়।[4]
প্রচলিত গাড়ির মতোই ইভির নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট লাগে। ডিলার, এজেন্ট, আমদানিকারক ও নির্মাতা নিবন্ধন ছাড়া বৈদ্যুতিক তিন চাকার গাড়ি বা মোটরসাইকেল ক্রেতাকে হস্তান্তর করতে পারেন না; সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের কম হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলা নিষেধ।[4] নিবন্ধনের মেয়াদ গাড়ির অর্থনৈতিক আয়ুর সঙ্গে বাঁধা; মেয়াদ শেষে নিবন্ধন বাতিল হয় এবং গাড়িটি স্ক্র্যাপ করতে হয়।[4] ব্যাটারি নিষ্পত্তি ও ওয়ারেন্টির দায় তাই বিক্রয় ও পরিবেশক চুক্তিতে শুরু থেকেই ঠিক করা জরুরি।

এভিয়েশন ও প্রতিরক্ষা খাতের আইন
শিল্প খাতের আইনে এভিয়েশন ও প্রতিরক্ষা দুটি আলাদা জগৎ, কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান সাধারণত স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজ করে এবং সরকারি অনুমোদনই ব্যবসার মূল চাবি। বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক, আর সশস্ত্র বাহিনীর কেনাকাটা করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর বা ডিজিডিপি।[7] [10]
বেবিচক, বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৭ ও ২০২৬ সালের সংস্কার
বেবিচক এতদিন একসঙ্গে দুটি ভূমিকা পালন করেছে: নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তদারকি, আর পরিচালনাকারী হিসেবে এয়ার নেভিগেশন সেবা ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা।[7] জানুয়ারি ২০২৬-এ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বেবিচককে ভেঙে আলাদা নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাকারী সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চিঠি দিয়ে জানায়। আইকাওর নিরীক্ষা এবং ১৮ অক্টোবর ২০২৫ শাহজালাল বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত কমিটিও এই পৃথকীকরণের সুপারিশ করেছিল।[7] প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন বা সংশোধনের পর নতুন সংস্থা গঠিত হবে।[7]
বিধির দিকেও বড় পরিবর্তন আসছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করার সভা হয়, যা ৪২ বছর পুরোনো ১৯৮৪ সালের বিধিমালার জায়গা নেবে।[9] খসড়ায় বেসরকারি এয়ারলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা সহজ করা, আন্তর্জাতিক মানের এমআরও, কেপটাউন কনভেনশন অনুযায়ী আইডেরা বিধান, প্রতি তিন মাসে বিমানবন্দরে অগ্নি-নিরাপত্তা মহড়া এবং বেসরকারি বিমানবন্দর স্থাপন সহজ করার প্রস্তাব আছে।[9]
বিদেশি এয়ারলাইন ও জিএসএ নিয়োগ
বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে চলাচলকারী বিদেশি এয়ারলাইনকে স্থানীয় জেনারেল সেলস এজেন্ট বা জিএসএ নিয়োগ দিতে হয়।[8] ২০২৫ সালে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে খাতসংশ্লিষ্টরা আপত্তি জানান; তাঁদের হিসাবে জিএসএগুলো সরাসরি পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে নিয়োগ দেয়।[8] বিষয়টি নীতিগতভাবে অমীমাংসিত, তাই নতুন রুট বা নতুন বাজারে ঢোকার আগে জিএসএ চুক্তির মেয়াদ, একচেটিয়া অধিকার ও অবসান-শর্ত সর্বশেষ আইনের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
প্রতিরক্ষা ক্রয়: ডিজিডিপিতে তালিকাভুক্তি
সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন সংরক্ষিত খাত হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এ খাতের মূল বাজার হলো সরকারকে সরবরাহ।[11] ডিজিডিপি তিন বাহিনী ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনে এবং উদ্বৃত্ত বা অচল সামগ্রী নিষ্পত্তি করে।[10]
প্রতিরক্ষা ক্রয়ে অংশ নিতে আগে ডিজিডিপিতে তালিকাভুক্তি লাগে। প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে চলে: প্রাথমিক আবেদন, নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য তালিকাভুক্তি ফরম জমা এবং গ্রুপভেদে জামানত বা তালিকাভুক্তি ফি জমা। এরপর বার্ষিক নবায়ন, প্রতিনিধির পরিচয়পত্র এবং অসদাচরণ ও খেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নীতি প্রযোজ্য; ডিজিডিপি নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাও প্রকাশ করে।[10] নিরাপত্তা ছাড়পত্রে সময় লাগে, তাই দরপত্র প্রকাশের অপেক্ষা না করে আগেই তালিকাভুক্তি সেরে রাখাই নিরাপদ।
প্রতিরক্ষা ক্রয়ে স্থানীয় এজেন্ট ও এজেন্সি চুক্তি
ইনডেন্টিং এজেন্ট ব্যবসায় স্থানীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক বলে বিদেশি নির্মাতাকে বাংলাদেশি মালিকানার এজেন্ট নিয়োগ দিতে হয়।[11] এজেন্সি চুক্তিতে কমিশনের হার ও পরিশোধের মাধ্যম, দুর্নীতিবিরোধী নিশ্চয়তা, ডিজিডিপির প্রতিনিধি পরিচয়পত্রের দায়, স্বার্থের সংঘাত এবং চুক্তি অবসানের শর্ত স্পষ্ট থাকা দরকার। এজেন্টকে দেওয়া কমিশন কর ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়মের অধীন, তাই অর্থ কোন চ্যানেলে যাবে তা চুক্তিতেই লিখুন। সাধারণ সরকারি ক্রয়ের নিয়ম জানতে দেখুন Public procurement amendments 2026।

হোটেল ও পর্যটন: হোটেল লাইসেন্স থেকে বার লাইসেন্স
আতিথেয়তা খাতে একটি হোটেলকে একসঙ্গে কয়েকটি আইনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়: হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, নিরাপদ খাদ্যের নিয়ম, অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা, পর্যটন সংক্রান্ত নিবন্ধন এবং বার থাকলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের বিধিমালা। এই অংশে শিল্প খাতের আইন সবচেয়ে বেশি দপ্তরে ছড়িয়ে আছে।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪: নিবন্ধন ও হোটেল লাইসেন্স
বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ প্রকাশিত হয় ২৭ নভেম্বর ২০১৪। আপিল বিভাগের সিভিল আপিল ৪৮/২০১১-এর রায়ের পর ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়ায় এই আইন আনা হয়।[12] আইনে জেলা প্রশাসক বা সরকারের প্রজ্ঞাপনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন, এবং নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া হোটেল বা রেস্তোরাঁ ব্যবসা বেআইনি।[12]
নিবন্ধনের পর হোটেলকে দুই বছরের মধ্যে এবং রেস্তোরাঁকে এক বছরের মধ্যে ব্যবসা শুরু করতে হয়; হোটেল লাইসেন্স তিন বছর মেয়াদি এবং এরপর নবায়ন লাগে। তিন তারকা বা তার ওপরের হোটেলকে নির্মাণ শুরুর আগেই সরকারের অনাপত্তিপত্র নিতে হয়, আর মালিকানা বদল হলে নিয়ন্ত্রককে জানাতে হয়।[12] আইনের সংজ্ঞায় রেস্তোরাঁ হলো যেখানে ৩০ বা তার বেশি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা আছে, আর হোটেলে অন্তত ১০টি অতিথিকক্ষ থাকতে হয়।[12]
বাস্তব চিত্র অবশ্য কঠিন। ঢাকা জেলা প্রশাসনের হিসাবে ২০২৪ সালের মার্চে সব অনুমতি ও লাইসেন্স থাকা রেস্তোরাঁ ছিল মাত্র ১৩৪টি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রথমে নিবন্ধন, পরে যাচাই শেষে লাইসেন্স নিতে হয়; লাইসেন্স পাওয়ার আগে খাবার বিক্রি করা যায় না, আর ফি নির্ভর করে আসনসংখ্যা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর।[14] কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ছাড়পত্রও লাগে; ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর পর এসব নিয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে।[14]
তারকা শ্রেণির হোটেল লাইসেন্স ও মন্ত্রণালয়
তারকা শ্রেণির হোটেলের লাইসেন্স দেয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেল। উদাহরণ হিসেবে, ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর নোটিশে একটি হোটেলকে তিন তারকা লাইসেন্স দেওয়া হয়, যা জারির তারিখ থেকে তিন বছর বৈধ এবং হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ ও সংশোধিত বিধিমালা, ২০১৬ মেনে চলার শর্তযুক্ত।[13] কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিদর্শন করতে পারে এবং আইন লঙ্ঘনে লাইসেন্স বাতিল করতে পারে।[13] ওই হোটেলের আবেদন জমা পড়েছিল মার্চ ২০২৫-এ, অর্থাৎ অনুমোদনে প্রায় নয় মাস লেগেছে; উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করার আগে এই সময় হিসাবে রাখুন।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন
হোটেল লাইসেন্সের বাইরে খাবারের ব্যবসার জন্য আরেকটি স্তর যোগ হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং) প্রবিধানমালা ১৬ জুলাই ২০২৬ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে; রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারারসহ বেশির ভাগ খাদ্য ব্যবসাকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে নিবন্ধন করতে হবে।[15] নিবন্ধন সাধারণত তিন বছর বৈধ, নিবন্ধন ফি শুরু ১,০০০ টাকা থেকে এবং নবায়ন ফি ৫০০ টাকা।[15]
পর্যটন বোর্ড, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৩৭ নং আইন) পর্যটন বোর্ড গঠন করেছে। ধারা ৭ অনুযায়ী বোর্ডের কাজ নীতি প্রণয়নে সহায়তা, পর্যটন এলাকা চিহ্নিত ও উন্নয়ন, প্রচার, গবেষণা ও সমন্বয়; আইনে বোর্ডকে হোটেল বা ট্যুর অপারেটরকে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।[16] ফলে বোর্ড প্রচার ও সমন্বয়ের প্রতিষ্ঠান, আর লাইসেন্সের কাজ অন্য আইনে হয়।
ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হয়েছে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১-এ; এর বিধিমালা প্রকাশিত হয় ২৮ মার্চ ২০২৪।[17] বিধিমালায় ৩ লাখ টাকা অফেরতযোগ্য আবেদন ফি, ১০ লাখ টাকার ব্যাংক সচ্ছলতা সনদ ও ৫০ হাজার টাকা জামানতের শর্ত নিয়ে ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন আপত্তি তুলেছে, এবং ২৬ মে ২০২৫ বিধিমালা পর্যালোচনায় ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়।[17] ট্রাভেল এজেন্সির জন্য আলাদা বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ আছে; নিবন্ধন ও নবায়ন অনলাইনে হয় এবং মে ২০২৬-এ মন্ত্রণালয় অনিবন্ধিত এজেন্সির সঙ্গে লেনদেন না করতে সতর্ক করেছে।[18]
বার ও মদের লাইসেন্স
হোটেলে বার চালাতে আলাদা লাইসেন্স লাগে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এর মদ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে প্রণীত। বিধিমালায় পাঁচ তারকা বা তার ওপরের হোটেলে সর্বোচ্চ সাতটি, চার তারকায় তিনটি, তিন তারকায় দুটি এবং দুই তারকায় একটি বার রাখার সুযোগ আছে; পারমিটের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর।[19] ফি, মেয়াদ ও দণ্ডসহ পূর্ণ বিশ্লেষণ পাবেন আমাদের Liquor license in Bangladesh লেখায়।

অডিট সেবা: কোম্পানি আইন, এফআরসি ও আইসিএবি
শিল্প খাতের আইনে উপরের সব খাতের কোম্পানির জন্য একটি বাধ্যবাধকতা অভিন্ন: বছরে একবার স্বাধীন নিরীক্ষা। কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট বা পাবলিক, ছোট বা বড়, প্রতিটি কোম্পানিকে অডিটর নিয়োগ দিতে হয়। জনস্বার্থ সংস্থা হলে এর ওপর যোগ হয় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বা এফআরসির নিয়ম।[20] [21] এজিএম, বার্ষিক রিটার্ন ও নিরীক্ষিত হিসাব দাখিলের সময়সীমা আমাদের কোম্পানি আইন লেখায় আছে; এখানে অডিট সেবার আইনি দিকটিই দেখা হলো।
বাধ্যতামূলক অডিট ও অডিটর নিয়োগ: ধারা ২১০
ধারা ২১০(১) অনুযায়ী প্রতিটি কোম্পানি প্রতি বার্ষিক সাধারণ সভায় এক বা একাধিক অডিটর নিয়োগ দেবে, যিনি পরের এজিএম শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। নিয়োগের সাত দিনের মধ্যে অডিটরকে জানাতে হয়, এবং তাঁর পূর্ব লিখিত সম্মতি ছাড়া নিয়োগ চলে না। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অডিটর নিবন্ধককে লিখিতভাবে জানান তিনি নিয়োগ গ্রহণ করছেন কি না।[20]
প্রথম অডিটর নিগমিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে পরিচালক পর্ষদ নিয়োগ দেয়। এজিএমে কাউকে নিয়োগ না দিলে সরকার উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারে; এ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার সাত দিনের মধ্যে কোম্পানিকে সরকারকে জানাতে হয়, না জানালে কোম্পানি ও দায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তার অনধিক এক হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।[20] মেয়াদের আগে অডিটর সরাতে হলে সাধারণ সভায় বিশেষ সিদ্ধান্ত লাগে, আর অবসরপ্রাপ্ত অডিটরের বদলে অন্য কাউকে নিয়োগের প্রস্তাব কেবল মৃত্যু, অক্ষমতা, অযোগ্যতা বা অসততার কারণে পাস করা যায়।[20]
কে অডিট সেবা দিতে পারেন: ধারা ২১২
ধারা ২১২(১) অনুযায়ী অডিটরকে বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অর্ডার, ১৯৭৩-এর অর্থে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হবে; কোনো ফার্মের সব অংশীদার যোগ্য হলে ফার্মের নামেও নিয়োগ দেওয়া যায়।[21] কোম্পানির কর্মকর্তা বা কর্মচারী, তাঁদের অংশীদার বা অধীনস্থ এবং কোম্পানির কাছে এক হাজার টাকার বেশি দেনাদার বা এমন দেনার জামিনদার অডিটর হতে পারেন না। নিয়োগের পরে অযোগ্য হলে পদ শূন্য হয়েছে বলে গণ্য হয়।[21]
ধারা ২১২(৫) অডিট সেবা বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান: জনস্বার্থ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির অডিট করতে পারবেন কেবল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫-এর ধারা ৩১ অনুযায়ী এফআরসিতে নিবন্ধিত অডিটর।[21] তাই অডিটর বাছাইয়ের আগে প্রথমে নিজের কোম্পানি জনস্বার্থ সংস্থা কি না, তা যাচাই করুন।
জনস্বার্থ সংস্থা ও এফআরসি তালিকাভুক্তি
তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানের বাইরে এফআরসি আকারের ভিত্তিতেও জনস্বার্থ সংস্থা নির্ধারণ করে। ২০২৩ সালের হিসাবে বার্ষিক রাজস্ব ৫০ কোটি টাকা, সম্পদ ৩০ কোটি টাকা বা দায় ১০ কোটি টাকা অথবা অন্তত ৫০ জন কর্মী থাকলে প্রতিষ্ঠানটি জনস্বার্থ সংস্থা; আগে এই সীমা ছিল ৫, ৩ ও ১ কোটি টাকা।[22] তখন প্রায় ৫,৫০০ জনস্বার্থ সংস্থা এফআরসির আওতায় ছিল, আর দেশে প্রায় ২৫০টি অডিট ফার্ম ও ৮০০ জন একক অডিটর ছিলেন।[22]
অর্থাৎ বড় পোশাক কারখানা, বড় হোটেল, গাড়ি সংযোজন কারখানা বা প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী প্রাইভেট কোম্পানিও কর্মী বা রাজস্বের কারণে জনস্বার্থ সংস্থা হতে পারে, এবং তখন সাধারণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নয়, এফআরসিতে তালিকাভুক্ত অডিটর লাগবে। নিয়ম ভাঙার দায়ে তখন ১৩ জন অডিটরের প্র্যাকটিস সনদ বাতিল এবং ৩০টি ফার্মকে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে অডিট প্রতিবেদন দাখিলে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানা যায়।[22]
আইসিএবি ও ডিভিএস যাচাই
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পেশাগত সংগঠন আইসিএবি নিরীক্ষিত প্রতিবেদন যাচাইয়ে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বা ডিভিএস চালু করেছে, যার লক্ষ্য এক কোম্পানির জন্য একটিই নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নিশ্চিত করা। ২০২০ সাল থেকে এনবিআরে রিটার্নের সঙ্গে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের প্রত্যয়িত বিবরণী জমায় এটি বাধ্যতামূলক, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২১ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এটি ব্যবহার করতে বলেছে।[23] কর অডিটের প্রস্তুতি জানতে দেখুন Tax audit in Bangladesh।
২০২৬ সালের কোম্পানি আইন সংশোধনী খসড়া
কোম্পানী আইনের তৃতীয় সংশোধনীর ২০২৬ সালের খসড়া নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এফবিসিসিআইয়ে মতবিনিময় হয়। খসড়ায় অডিটর পরিবর্তন সহজ করার একটি বিধানের বিরোধিতা করে আইসিএবির এক সদস্য সতর্ক করেন, এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা কোম্পানিকে অডিটর বদলাতে চাপ দিতে পারে। সেখানে জানানো হয়, প্রায় তিন লাখ নিবন্ধিত কোম্পানির মধ্যে ২০২০ সালের পর মাত্র ৫৭ থেকে ৫৮ হাজারের অডিট হয়েছে।[24] খসড়াটি এখনো আইন হয়নি, তবে কঠোর প্রয়োগের দিকটি স্পষ্ট।[24]
শিল্প খাতের আইন এক নজরে: চার খাতের তুলনা
নিচের সারণিতে প্রতিটি খাতের মূল আইন, নিয়ন্ত্রক ও প্রধান অনুমতি পাশাপাশি দেওয়া হলো। একই কোম্পানি একাধিক খাতে কাজ করলে, যেমন হোটেল চালানো প্রতিষ্ঠান যদি ট্রাভেল এজেন্সিও চালায়, প্রতিটি সারির অনুমতি আলাদাভাবে লাগবে।
| খাত | মূল আইন ও নীতি | নিয়ন্ত্রক | প্রধান অনুমতি | ২০২৬ সালের পরিবর্তন |
|---|---|---|---|---|
| গাড়ি ও মোবিলিটি | অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০২১; সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮; ইভি নির্দেশিকা ২০২৩ | শিল্প মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বিআরটিএ | নিবন্ধন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট | অর্থ আইন ২০২৬-এর ইভি ছাড়; রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ |
| এভিয়েশন | বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭; বিধিমালা ১৯৮৪ | বেবিচক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় | এয়ারলাইন অনুমোদন; বিদেশি এয়ারলাইনের জিএসএ | বেবিচক ভাগের সিদ্ধান্ত; বিধিমালা ২০২৬-এর খসড়া |
| প্রতিরক্ষা | বিডার সংরক্ষিত খাতের তালিকা; ডিজিডিপির তালিকাভুক্তি নীতি | প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিজিডিপি | তালিকাভুক্তি, নিরাপত্তা ছাড়পত্র, বার্ষিক নবায়ন | প্রতিনিধি পরিচয়পত্র ও খেলাপি নীতি প্রযোজ্য |
| হোটেল ও পর্যটন | হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪; পর্যটন বোর্ড আইন, ২০১০; ট্যুর অপারেটর আইন, ২০২১ | জেলা প্রশাসক, মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেল, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ | নিবন্ধন, তিন বছর মেয়াদি লাইসেন্স, তিন তারকায় অনাপত্তিপত্র, বার লাইসেন্স | নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন প্রবিধানমালা, জুলাই ২০২৬ |
| অডিট সেবা | কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ ধারা ২১০ ও ২১২; ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ | এফআরসি, আইসিএবি, আরজেএসসি | চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অডিটর; জনস্বার্থ সংস্থায় এফআরসি তালিকাভুক্তি | কোম্পানি আইন সংশোধনী খসড়ায় অডিটর পরিবর্তনের বিধান |
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
গাড়ির খাতে সবচেয়ে বড় ভুল হলো পুরোনো আমদানি নীতির ভরসায় চালান খোলা; রিকন্ডিশন্ড ইভির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে ঠিক এটাই ঘটেছে।[6] এভিয়েশনে বিদেশি সরবরাহকারীরা প্রায়ই ধরে নেন বেবিচকের বর্তমান কাঠামো স্থায়ী, অথচ প্রতিপক্ষ সংস্থাই বদলে যেতে পারে; চুক্তিতে উত্তরসূরি সংস্থার কাছে অধিকার হস্তান্তরের ধারা রাখুন।[7] প্রতিরক্ষা ক্রয়ে সাধারণ ভুল হলো দরপত্র প্রকাশের পর তালিকাভুক্তির আবেদন করা।[10]
হোটেলে সাধারণ ভুল হলো ট্রেড লাইসেন্স আর ফায়ার লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা শুরু করা, অথচ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স না থাকলে পুরো ব্যবসাই বেআইনি।[12] অডিটে সাধারণ ভুল হলো নিজেকে জনস্বার্থ সংস্থা না ভেবে অ-তালিকাভুক্ত অডিটর দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করানো, যা পরে এফআরসি, ব্যাংক বা এনবিআরের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়ে।[21] [22] শিল্প খাতের আইন মেনে চলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিটি অনুমতির মেয়াদ ও নবায়নের তারিখ এক তালিকায় রাখা।
খাতভিত্তিক অনুমতি পাওয়ার ধাপ
খাত যা-ই হোক, নিচের ক্রম মেনে চললে বিলম্ব ও জরিমানার ঝুঁকি কমে।
মালিকানার সীমা যাচাই
খাতটি সংরক্ষিত, নিয়ন্ত্রিত বা স্থানীয় মালিকানার কি না দেখুন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রের আবেদন করুন।
কোম্পানি ও সাধারণ নিবন্ধন
কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, ভ্যাট ও আমদানি নিবন্ধন সম্পন্ন করে বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষে নিবন্ধন নিন।
প্রথম অডিটর নিয়োগ
নিগমিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে পর্ষদ সভায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অডিটর নিয়োগ দিন; জনস্বার্থ সংস্থা হলে এফআরসি-তালিকাভুক্ত কাউকে।
নির্মাণ বা আমদানির আগের অনুমতি
তিন তারকা হোটেলের অনাপত্তিপত্র, ডিজিডিপি তালিকাভুক্তি বা সর্বশেষ আমদানি নীতি আদেশ যাচাই কাজ শুরুর আগেই সারুন।
খাতভিত্তিক লাইসেন্স
হোটেল ও রেস্তোরাঁ লাইসেন্স, নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন, ট্যুর অপারেটর বা ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন, অথবা বিআরটিএ নিবন্ধন নিন।
চুক্তি সাজানো
ডিলার, এজেন্ট, জিএসএ ও লিজ চুক্তিতে লাইসেন্সের দায়, কমিশন, দুর্নীতিবিরোধী শর্ত ও উত্তরসূরি সংস্থার ধারা রাখুন।
মেয়াদ ও নবায়ন তালিকা
ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, হোটেল লাইসেন্স, বার লাইসেন্স ও ডিজিডিপি নবায়নের তারিখ এক রেজিস্টারে রাখুন।
বার্ষিক অডিট ও দাখিল
প্রতি এজিএমে অডিটর নিয়োগ, ডিভিএস কোডসহ নিরীক্ষিত হিসাব এবং এনবিআর ও আরজেএসসিতে দাখিল সময়মতো সম্পন্ন করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশে কি বিদেশি কোম্পানি শতভাগ মালিকানায় গাড়ি কারখানা বা হোটেল করতে পারে?
সাধারণত পারে; বিডার তথ্য অনুযায়ী বেশির ভাগ খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা চলে। তবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন সংরক্ষিত, আর ইনডেন্টিং এজেন্ট ব্যবসায় স্থানীয় মালিকানা লাগে।[11]
অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০২১-এ কী প্রণোদনা আছে?
রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, গ্রিন-ফিল্ড বিনিয়োগে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে এককালীন শতভাগ কর অব্যাহতি এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি উৎপাদনে দশ বছরের কর অবকাশ। নগদ প্রণোদনার জন্য স্থানীয় উৎপাদনের হার পূরণ করতে হয়।[2]
রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি কি আমদানি করা যায়?
আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে; বারভিডা এর প্রত্যাহার চেয়েছে। চালান খোলার আগে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন দেখুন।[6]
বিআরটিএ নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি চালালে কী হয়?
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৬(১) অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া সড়কে মোটরযান চালানো বা চালাতে দেওয়া নিষিদ্ধ; ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিটের জন্যও আলাদা ধারা আছে, এবং লঙ্ঘন দণ্ডনীয়।[1]
ইজিবাইক কি ইলেকট্রিক মোটরযান নির্দেশিকার আওতায় পড়ে?
না। নির্দেশিকা ২০২৩ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল ও ইজিবাইককে আওতার বাইরে রেখেছে; কেবল সরকারি কমিটির অনুমোদিত মডেলই ইভি।[4]
বিদেশি এয়ারলাইনকে কি বাংলাদেশে জিএসএ নিয়োগ দিতে হয়?
বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী স্থানীয় জিএসএ নিয়োগের বাধ্যবাধকতা আছে। এটি শিথিল করার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক চলছে, তাই সর্বশেষ সংশোধনী মিলিয়ে নিন।[8]
প্রতিরক্ষা ক্রয়ের দরপত্রে অংশ নিতে কী লাগে?
ডিজিডিপিতে তালিকাভুক্তি: প্রাথমিক আবেদন, নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য ফরম জমা এবং গ্রুপভেদে জামানত বা তালিকাভুক্তি ফি; এরপর বার্ষিক নবায়ন।[10]
হোটেল লাইসেন্স কত দিন বৈধ থাকে?
হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী লাইসেন্স তিন বছর বৈধ, এরপর নবায়ন লাগে। তিন তারকা বা তার ওপরের হোটেলে নির্মাণের আগে সরকারের অনাপত্তিপত্রও লাগে।[12]
কোন কোম্পানির অডিট এফআরসি-তালিকাভুক্ত অডিটর দিয়ে করাতে হয়?
নতুন কোম্পানির প্রথম অডিটর কে, কবে নিয়োগ দেয়?
ধারা ২১০(৬) অনুযায়ী নিগমিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে পরিচালক পর্ষদ প্রথম অডিটর নিয়োগ দেয়, যিনি প্রথম এজিএম পর্যন্ত দায়িত্বে থাকেন; পর্ষদ ব্যর্থ হলে সাধারণ সভা নিয়োগ দিতে পারে।[20]
সূত্র তালিকা
প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র
উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।
- সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৪৭ নং আইন): ধারা ৪, ৬, ১৬, ২৫, ২৬ ও ২৮ — বাংলাদেশের আইন
- The Financial Express, September 2021 — Govt issues automobile policy with fiscal perks
- The Daily Star, 13 November 2022 — Auto policy utility yet to be realised
- The Daily Star, 5 April 2023 — Electric Vehicles: Govt finally makes guideline for registration, operation
- PwC Bangladesh, 2026 — Finance Act 2026: Key Amendments
- The Financial Express, 10 September 2026 — Lift reconditioned EV import ban: BARVIDA
- বিডিনিউজ২৪, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ — বেবিচককে ভেঙে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত
- The Daily Star, 12 August 2025 — Aviation stakeholders oppose move to scrap mandatory GSA provision
- প্রথম আলো, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ
- Directorate General Defence Purchase (DGDP), Ministry of Defence — About us and enlistment
- BIDA — Frequently asked questions (reserved and controlled sectors, local ownership)
- OGR Legal — Bangladesh Hotel and Restaurant Act 2014
- Bangladesh Monitor, 6 January 2026 — The Empyrean Hotel granted three-star license
- প্রথম আলো, ২৭ মার্চ ২০২৪ — ঢাকায় বৈধ রেস্তোরাঁ আছে মাত্র ১৩৪টি
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২২ জুলাই ২০২৬ — সব খাবারের ব্যবসায় লাগবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন
- বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৩৭ নং আইন) — এমসিসিআই ঢাকার প্রকাশিত পাঠ
- The Business Standard, 30 July 2025 — TOAB demands revision of tour operators, guides rules
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১০ মে ২০২৬ — অনিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে লেনদেনে সতর্ক থাকতে বলল সরকার
- The Daily Star, 18 February 2022 — Alcohol Control Rules 2022 in place
- কোম্পানী আইন, ১৯৯৪, ধারা ২১০ (নিরীক্ষকগণের নিয়োগ ও তাহাদের পারিশ্রমিক) — বাংলাদেশের আইন
- কোম্পানী আইন, ১৯৯৪, ধারা ২১২ (নিরীক্ষকের যোগ্যতা ও জনস্বার্থ সংস্থার অডিট) — বাংলাদেশের আইন
- The Business Standard, 20 March 2023 — Only FRC-listed auditors can audit listed firms
- The Business Standard, 5 November 2022 — ICAB document verification system
- The Business Standard, 8 September 2026 — Auditor safeguards in Companies Act draft
- Invest Bangladesh, 23 August 2026 — Invest Bangladesh begins operations
TRW-এর সহায়তা
তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে
TRW গাড়ি সংযোজন ও আমদানি, এয়ারলাইন ও জিএসএ চুক্তি, ডিজিডিপি তালিকাভুক্তি ও এজেন্সি চুক্তি, হোটেল ও বার লাইসেন্স এবং অডিটর নিয়োগ ও এফআরসি কমপ্লায়েন্সে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেয়। আমাদের করপোরেট ও বাণিজ্যিক পরামর্শ, কাস্টমস ও বাণিজ্য কমপ্লায়েন্স এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স সেবা দেখুন, অথবা আপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।